সায়মা ওয়াজেদ ‘অটিজম চ্যাম্পিয়ন’

Posted on by 0 comment
16

সায়মা হোসেনের নজিরবিহীন উদ্যোগ ও ত্যাগের ফলে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার, মানসিক ও অন্যান্য নিউরো- ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারসহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সিয়ারোভুক্ত বিভিন্ন দেশ তথা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয়া সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অটিজম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব অটিজম দিবসের প্রাক্কালে গত ১ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল বিশ্ব অটিজম দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এক বাণীতে বলেন, সায়মা হোসেনের নজিরবিহীন উদ্যোগ ও ত্যাগের ফলে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার, মানসিক ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারসহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সিয়ারোভুক্ত বিভিন্ন দেশ তথা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ৬২ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। এ ধরনের একটি শিশুর পেছনে সারা জীবনে ১.৪ থেকে ২.৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।
নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা সুচিকিৎসা ও যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পায় না। তারা সামাজিকভাবে নানা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়। এ সমস্যায় আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
ড. পুনম ক্ষেত্রপাল বলেন, সিয়ারোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অটিজম নিয়ে সর্বাগ্রে কাজ শুরু করে। এক্ষেত্রে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অগ্রপথিক হিসেবে বিষয়টিকে সিয়ারোভুক্ত দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নজরে এনেছেন।
তার উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য খাতে খাতভিত্তিক কর্মসূচিতে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত ডিজঅর্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করে। নিউরো ডেভেলপমেন্ট ও অটিজম নামে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনের পাশাপাশি ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজে শিশুদের এ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করতে বিশেষ ইউনিট চালু করে।
‘অনন্য ছবি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরকে নিয়ে ২৬০টি ছবি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অতিথির সামনে সায়মা হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘অনন্য ছবি’র বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রঙিন বিশ্ব নির্মাণে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুশিল্পীর ২৬০টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে বইটিতে।
সায়মা হোসেনসহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং। এ সময় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আইপিইউ সম্মেলনে আগত বিদেশি অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী পশলা ও ধ্রুপদ।
স্পিকার বলেন, সমাজের শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে সংসদ সদস্যগণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ বিষয়ে সারাবিশ্বের সংসদ সদস্যগণ ভূমিকা পালন করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আইপিইউ অ্যাসেম্বলির মতো মর্যাদাপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে বিদেশিদের উপস্থিতিতে এমন একটি আর্ট পুস্তকের মোড়ক উন্মোচন বিদেশিদের এ কাজের প্রতি সংহতির বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের কাজে সম্মিলিত প্রয়াস নিতে হবে।
তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষমদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এই আর্ট পুস্তকের রঙিনের মতো আমরা সারা পৃথিবীর সাথে একইভাবে রঙিন বিশ্ব বিনির্মাণে কাজ করে যাব। তিনি এ ধরনের কাজে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন স্কুল সাইকোলজিস্ট সায়মা ওয়াজেদ চিত্রকর্ম সংগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের যথাযথ সহযোগিতা প্রদান ও তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম সমাজের এসব ব্যক্তির জন্য আমাদের অনেক কিছুই করার রয়েছে। তাদের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ মানবতার প্রতি দায়িত্ব পালন।
সায়মা হোসেন বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে ২৬০টি চিত্রকর্ম আছে। তাই বইটি এসব শিল্পীর স্বপ্ন। এই বইয়ের মাধ্যমে তারা পুরো বিশ্বকে দেখছে। এসব ছবিতে তাদের চিন্তার জগতকে চেনা যাবে। তারা কী করে প্রকৃতিকে দেখে, উৎসবকে দেখে, কী করে আমাদের ইতিহাসকে দেখে তা এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব অটিস্টিক শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্ম সংবলিত যেসব গিফট কার্ড ছেপেছেন, সেখান থেকে বইয়ের অনেক ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।
বই বিক্রির টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম সমাজের ব্যক্তিদের এসব মানুষের জন্য অনেক কিছু করার রয়েছে। আমরা যেন অটিজমদের অসাধারণ এসব দিক দিয়েই তাদের দেখি। তারা অটিস্টিক। এই অসুস্থতা দিয়ে যেন তাদের বন্দী না করি। একটু সুযোগ পেলেই অটিস্টিকরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Category:

Leave a Reply