সিঙ্গাপুরে শেখ হাসিনা অর্কিড ও থাইল্যান্ডে বঙ্গবন্ধু চেয়ার উদ্বোধন

Posted on by 0 comment

4-5-2018 c-25-46 PMরাজীব পারভেজ: ১৩ মার্চ ২০১৮, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো বিশ্ব হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত সিঙ্গাপুর বোটানিক গার্ডেনের ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেনে তার নামের একটি অর্কিড উন্মোচন করেছেন। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে অর্কিডটির নাম ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুল অর্কিডের যে প্রজাতির নাম ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ রাখা হয়েছে, বোটানিক বাগানের কর্মকর্তারা ‘সানপ্লাজা পার্ক’ ও ‘সেলেটার চকোলেট’ প্রজাতির শঙ্করায়নের মাধ্যমে সেটি উদ্ভাবন করেন।
সিঙ্গাপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের পরিচালক ড. নাইজেল টেইলর সি হর্ট সকালে এখানে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা অর্কিডটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। নতুন অর্কিডটির শঙ্করায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাগানের ব্যবস্থাপক ডেভিড লিম বলেন, ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা অর্কিডটির শঙ্করায়ন এবং পত্র-পল্লবে বিকশিত হতে সাড়ে চার বছর সময় লেগেছে। এই হাইব্রিড অর্কিড ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতিটি গাছেরই ১৫টি ফুলের থোকা ধরে। প্রতিটি প্রস্থে ৫ সেমি হয়। প্যাঁচানো প্রতিটি ফুলের গোড়া গাঢ় পিঙ্গল রঙের এবং ফুলের মাঝখানে হালকা বাদামি ও ধবধবে সাদা প্রান্ত থাকে।
সিঙ্গাপুরের রীতি অনুসারে ১৯৫৭ সাল থেকে দেশটিতে সফরকারী বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াইশ’ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নামে স্থানীয় অর্কিডের নামকরণ করা হয়েছে। তাদের সফরকে স্মরণীয় করে রাখতেই এটা করা হয়। ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ অর্কিডটি এখন থেকে গার্ডেনের ভিআইপি গ্যালারির শোকেসে শোভা পাবে। প্রধানমন্ত্রী পুরো অর্কিড বাগানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বাগানটিতে ১ হাজার প্রজাতি ও ২ হাজার শঙ্করায়নকৃত উদ্ভিদ রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই সফর করেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন। উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমান সংস্থা ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স’র মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী সফররত অবস্থায় তার শোক প্রকাশ করেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন, দুর্ঘটনার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতির কথা বলেন এবং সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফর একটি বার্তা বহন করে, সেটি হলোÑ লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন কৌশলগুলো নজরে এনে আমাদের দেশে প্রয়োগ করা। দারিদ্র্যপীড়িত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার গৌরবোজ্জ্বল কাহিনি লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরের আছে। লি কুয়ান ইউয়ের ছেলে লি সিয়েন লোং সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। লি কুয়ান ইউ যাকে সাধারণভাবে এলকেওয়াই হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তিনি অর্থাৎ লিকুয়ান ইউ হচ্ছেন সিঙ্গাপুরের মহান স্থপতি। তিনি ছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এক নাগাড়ে তিন দশক তিনি শাসন করে সিঙ্গাপুরকে তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে প্রথম বিশ্বের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন।

থাইল্যান্ডে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ স্থাপন
থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি চেয়ার উদ্বোধন হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি ও থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদউইনাই ১৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এই চেয়ারের উদ্বোধন করেন। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. জয়াশ্রী রায় বঙ্গবন্ধু চেয়ারের প্রফেসর নির্বাচিত হয়েছেন। তার অধীনে প্রথম ডক্টরেট করবেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় চেয়ার প্রফেসরশিপ ও ডক্টরাল রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য ৮ লাখ ডলারের চার বছর মেয়াদি তহবিল গঠন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার বিষয়ক জাতীয় কমিটির নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও এআইটি এই তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি মার্বল স্মারক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এর উদ্বোধন করেন বলে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে থাই ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বক্তব্য দেন অধ্যাপক জয়াশ্রী রায়। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর চেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ভিসা ছাড়াই কূটনীতিকদের সফরের অনুমোদন দিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’কে বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মধ্যকার বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াবে। এ চেয়ার থেকে পিএইচডি ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের জন্য টেকসই এবং সমন্বিত স্মার্ট জ্বালানি মডেলিংয়ের ওপর গবেষণা করতে এই চেয়ার প্রণোদনা প্রদান দেবে।

Category:

Leave a Reply