সুন্দলপুর ২ নম্বর কূপে পরীক্ষামূলক গ্যাস তোলা শুরু

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকে গত ২০ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে বাপেক্স। এখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করছে সরকারি এই সংস্থা।
বাপেক্স কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন এই কূপ থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন (৮০ লাখ) ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। তবে এই কূপে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে তা জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবীবপুর গ্রামে পড়েছে এই কূপ। সুন্দলপুরের গ্যাসফিল্ডে এর আগে লোহারপুরে ১ নম্বর কূপে ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিল বাপেক্স। সেটি এখন বন্ধ রয়েছে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম বলেন, এটি আমাদের দ্বিতীয় মূল্যায়ন কূপ। আমরা আশাবাদী, এই কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে পারব। তবে কী পরিমাণ এবং কত সময় পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মাটির নিচে আমরা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছি। আশা করি, অল্প কিছুদিনের মধ্যে তা জানা যাবে।
সুন্দলপুর গ্যাসফিল্ডের প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, এর আগে ১ নম্বর কূপে পানি নিঃসরণের কারণে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই কূপ থেকে ২ হাজার ২০০ মিটার দূরে হাবীবপুর গ্রামে গত ১০ জানুয়ারি দ্বিতীয় কূপ খনন করা হয়। সেখানে তারা ১ হাজার ৪০০ মিটার খননের পর গ্যাসের সন্ধান পেলেও বেশি গ্যাসের আশায় ৩ হাজার ২৩৫ মিটার গভীরে খননকাজ চালান। কিন্তু ওই গভীরে খননকাজ ফলপ্রসূ না হওয়ায় আবার ১ হাজার ৪০০ মিটার থেকেই গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু করেন।
প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০ এপ্রিল আগুন জ্বালিয়ে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পরীক্ষা শুরু হয়। দুদিন এই পরীক্ষা চলবে। তবে মাঝে ১২ ঘণ্টা বন্ধ রেখে বিভিন্ন ধরনের ডায়ামিটারের পাইপ ব্যবহার করে পরীক্ষা চলবে।
আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই কূপ থেকে ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করেছেন। এই কূপে কী পরিমাণ গ্যাস আছে তা এখনই জানা না গেলেও ১ নম্বর কূপের চেয়ে এখানে বেশি গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্যাস উত্তোলন শুরুর সময় বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নওশাদ ইসলাম, উপ-মহাব্যবস্থাপক ও সুন্দলপুর গ্যাসফিল্ডের প্রকল্প পরিচালক আলমগীর হোসেন ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম এবং বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আমরা আশা করব, এই গ্যাস এ অঞ্চলের মানুষ যেন ব্যবহার করতে পারে সরকার সে ব্যবস্থা করবে।

Category:

Leave a Reply