সৌদি আরব হবে মডারেট ইসলামি রাষ্ট্র

29সাইদ আহমেদ বাবু: পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় আরব দেশ সৌদি আরব। ইসলাম ধর্মের সূতিকাগার। মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নগরী। এ দুটি শহরই সৌদি আরবে অবস্থিত। ইসলামের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বে অদ্বিতীয়। আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সৌদি রাজবংশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
১৮৮০ সালের পূর্বে সে সময়ের আরবীয়দের মধ্যে ছিল সত্যের উজ্জীবিত আদর্শ, নিয়মনীতি, সাম্য, মৈত্রীর এক অভিনব কানুন-শৃঙ্খলার বিস্ময়কর পরিবেশ। আরবীয়দের আদর্শের জাগরণের সৌরভে সুশোভিত হয় সারাবিশ্ব। তারাই ছিল সারা মুসলিম বিশ্বের পরিচালক ও সংস্কারক। কেননা, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সংবিধান রচনা হয়েছিল হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আলোকিত সত্যের আদর্শ থেকে এবং তিনি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তার উম্মতগণকে ইসলামি শরীয়ত শিক্ষা দিয়েছেন সারা আরব ভূ-খ-ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবহনের পুরস্কার স্বরূপ ক্ষমতাসীন সৌদি বংশ ‘জাজিরাতুল আরব’ আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ১৮ শতকে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদের নাম থেকে এ নামটি এসেছে। আল সৌদ ৩টি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে। এগুলো যথাক্রমে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র, দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র ও আধুনিক সৌদি আরব। প্রথমত; সৌদি রাষ্ট্রকে ওয়াহাবিবাদের বিস্তার হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয়ত; সৌদি রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে চিহ্নিত হয়। আধুনিক সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী।
মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদের মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হন। ১৯৩০ সালের পর সৌদিতে ক্ষমতায় আসেন আবদুল আজিজ। পরবর্তীকালে তারই ছয় ছেলে একে একে সৌদির রাজ্যপাট সামলান। এ প্রজম্মের শেষ রাজা হলেন সালমান বিন আবদুল আজিজ। তিনি এবার সৌদির শাসনভার ৩২ বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে তুলে দিতে চলেছেন। সেদিক থেকে এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বটে। কেননা ৬৪ বছর পর এই প্রথম এক প্রজম্ম থেকে আরেক প্রজম্ম ক্ষমতা হস্তান্তরিত হতে চলেছে।
সৌদি আরবের বর্তমান প্রজম্ম শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমণকারী। ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৭১ সৌদি নাগরিক দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য (সন্তান, স্ত্রী বা গৃহস্থালি সদস্য)। সৌদিতে শিক্ষার হার ৯৫ শতাংশ, তন্মধ্যে পুরুষ ৮৪ শতাংশ, মহিলা ৭০.৮০ শতাংশ। সৌদি আরবের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সৌদি পরিচয় বহনকারী প্রায় সবাই মুসলমান। ভাষা আরবি, তবে আরবির পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাপক হারে ইংরেজির ব্যবহার লক্ষণীয়।
সৌদি কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।

কে এই মোহাম্মদ বিন সালমান
১৯৮৫ সালের ৩১ আগস্ট যুবরাজ বিন সালমানের জন্ম। মা ফাহদাহ বিনতে ফালাহ বিন সুলতান তৎকালীন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের তৃতীয় স্ত্রী। রাজধানী রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পর বিন সালমান সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২০১৫ সালের আগে সৌদি আরবের বাইরে খুব কম লোকই প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম শুনেছিল। ওই বছর তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশাহর সিংহাসনে আরোহণ করেন। সেই থেকে নানা তৎপরতার মধ্য দিয়ে ৩১ বছর বয়সী প্রিন্স বিন সালমান বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
সৌদি আরবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রকাশিত তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা ভিশন ২০৩০ নামে পরিচিত। ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে তেল-নির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে একটি মডারেট সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞা করেন। তিনি অতি দ্রততার সাথে সৌদি সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চান। নতুন এই যুবরাজ সৌদিদের কাছে অন্যতম একটি রোল মডেল হয়ে উঠছেন। ‘মিশন-২০৩০’ সালের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের ভিতরে বাইরের বিনিয়োগ নিয়ে আসা। বাইরে থেকে বিনিয়োগ আনতে গেলেই দেশটিকে কট্টর রূপ থেকে উদার রূপের দিকে যেতে হবে। সৌদি আরবের যুব সম্প্রদায়ের তারুণ্যকে অর্থনীতির প্রগতিতে সংযুক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষিত করে তোলা সৌদির প্রিন্সের স্বপ্ন। যুবরাজ সালমান দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনুধাবন করে ২০১৬ সালে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দেশটির খরচের বড় একটি খাত হলো সৌদি নাগরিকের বিদেশ ভ্রমণ, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের নানান আধুনিক সুবিধা উপভোগ করার জন্য দেশটির যুবসমাজের বড় একটি অংশ প্রতিবছর ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি দেয়। এতে রাষ্ট্রটির বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হয়। ক্রাউন প্রিন্স দেশের ভিতরেই বিনোদন ব্যবস্থার আয়োজন করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সিনেমা হলসহ নানা বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প খুব দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে।
সালমান বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন ‘সংবিধান ও ইসলামের সাথে সহনশীল অবস্থান রেখে আধুনিক পদ্ধতির জীবন তৈরি করা।’ ২০৩০-এর অধীনে ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্য ৪৫০টির বেশি নিবন্ধিত অপেশাদার ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে দেশটির বিনোদন ক্ষেত্র গড়ে তোলার জন্য বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ তহবিল রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি গড়তে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। যে এন্টারপ্রাইজ গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে আড়াই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এতে হাজার হাজার মানুষের চাকরির সুযোগও সৃষ্টি হবে। সৌদি আরবের মতো রক্ষণশীল দেশের নাগরিকরা যেন কিছুটা হলেও আনন্দ বিনোদনের সুযোগ পায় তা নিয়েও এর আগে ভেবেছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সৌদি আরবের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যার প্রভাব শুধু দেশটির জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও ব্যাপক সাড়া পড়বে। ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নতুন সামাজিক চুক্তির কথা বলছেন, যেখানে আগের মতো স্থবির আমলাতন্ত্র থাকবে না। তেলের বাজারে যাই হোক না কেন, যেখানে থাকবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাময় বেগবান অর্থনীতি। তিনি ৫০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর শহর স্থাপনের পরিকল্পনা কথা বলছেন, তেলভিত্তিক অর্থনীতির একটি দেশ থেকে সৌদি আরবকে একটি বহুমুখী অর্থনীতির দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেছেন।
বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে সমানুপাতিক হারে ইউটিউবে সৌদি নারীদের এগিয়ে আসা হোক সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির আমূল এই পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর এবং সামনের দিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন। টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবর্তন আসা শুরু হয়েছে। সৌদি নারীরা রাজধানী রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের ৩টি স্টেডিয়ামে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। সৌদি নারীদের আগামী বছর থেকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ার পর স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি মেলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবকে উদারপন্থি দেশে পরিণত করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন। ইসলামে সর্বপ্রধান দেশ সৌদি আরবে ধর্মীয় নিয়ম ও রক্ষণশীল নীতি এভাবেই ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। দেশটিতে সম্প্রতি দেশের মহিলাদের জন্য আইন শিথিল করা হয়েছে। সৌদি আরবে এখন থেকে মহিলারাও ফতোয়া জারি করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শুরা কাউন্সিল। পূর্ববর্তী নারীনীতি পরিবর্তন করে নারীদের শিক্ষা, স্ব^াস্থ্যসেবা, বিয়ে, বিদেশ ভ্রমণ, সরকারি চাকরি এবং ব্যবসায়ে অংশগ্রহণে উদারতার পক্ষে নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ২২ থেকে ৩০ শতাংশে উত্তীর্ণ করা সৌদি আরবের ২০৩০ সালের লক্ষ্যের মধ্যে একটি। এ বছরের ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবের পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এবং প্রার্থী হবেন সৌদি নারীরা।
সম্প্রতি দেশটির যুবরাজ সালমান জানান, উত্তর-পশ্চিমের উপকূলে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানাবেন। আর সেই উপকূলে চলাফেরা ও পোশাকে নারীরা থাকবেন স্বাধীন। মি. সালমান বলেন, সৌদি আরব একটি মধ্যপন্থি ইসলামিক দেশ হবে যেখানে সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা থাকবে। ৫০টি দ্বীপকে বিশেষভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানকার আল-মদিনা প্রদেশের মাদাইন সালেহ নামের প্রতœতাত্ত্বিক অঞ্চলটিও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সবচেয়ে উচ্চাকাক্সক্ষী কিছু প্রকল্পের মধ্যে লোহিত সাগরও আছে। একটি মেগাসিটি তৈরি হতে চলেছে সৌদি আরব। ২৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মিসর আর জর্ডান অবধি বিস্তৃত। সেখানে থাকবে না শরিয়া আইন, কর্তৃত্ব থাকবে সৌদি আরবের এখতিয়ারে। থাকবে আধুনিক পরিকাঠামো, খোলামেলা পরিবেশ, বিনোদনের সম্ভার। এক কথায় পৃথিবীর উন্নত দেশের যে কোনো একটি উন্নত চকচকে শহরের মতোই একটা শহর, উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সারাবিশ্বের পর্যটকরাই এদিকে আকৃষ্ট হবেন। যেখানে বিনিয়োগ আসতে পারে অবাধে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজন উদার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, সেখানে ইসলামি শরিয়া আইন অনুপযোগী, তবে মূল নীতিমালা থাকবে অটুট। ব্যবসায় অংশীদারিত্বে নারীদেরও মূল্যায়ন করা হবে এবং হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রসারিত, মুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সৌদি প্রশাসন।
সৌদি যুবরাজের উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোগকারীদের নিয়ে যে বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, সালমান দুর্নীতি দমন করে বৈদেশিক কালাকানুন অনুযায়ী বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা ব্যক্ত করেন এবং দুর্নীতির বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধেও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য একটি কমিশনও তৈরি করেন। কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল জনতার অর্থ যাতে অপচয় না হয়, তা দেখা। দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি দেওয়া এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন রাজ পরিবারের সদস্য, মন্ত্রীরাও। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান খালিদ বিন আবদুল মোহসেন আল-মেহাইসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই ধরপাকড়ের প্রতি সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল এক টুইট বার্তায় বলেছে, দুর্নীতি দমন অভিযান সৌদি আরবের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যে ডিক্রিবলে কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে আমাদের দেশ টিকে থাকতে পারবে না।’ সৌদি আরবে সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কথিত দুর্নীতির অভিযোগে আটক রাজপরিবারের সদস্য ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের তারা বলেছেন, সরকারকে নগদ অর্থ দিয়ে তারা মুক্তি পেতে পারেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশটির রাজনীতি বর্তমানে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই শুদ্ধি অভিযানের সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে যুবরাজ মোহাম্মদের দেশ শাসনের সক্ষমতার বিষয়টি। তিনি মনে করেন, গুণগত পরিবর্তন আনা না গেলে সৌদি অর্থনীতি সমস্যার চোরাবালিতে নিমজ্জিত হবে, যা উসকে দিতে পারে অস্থিরতাকে। নতুন ক্রাউন প্রিন্স ‘ভিশন-২০৩০’ সালের মধ্যে যেসব পরিবর্তন আনতে চাইছেন, সেটি দেশটির ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ রাজপরিবারের ভিতরের সদস্যদেরও প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে পারে। এমতাবস্থায় এটি সহজেই বলা যায়, দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক, নতুন ক্রাউন প্রিন্সকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। পুরো প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে সামনে এগোতে হবে। যুবরাজের এসব কার্যাবলি লৌহ প্রাচীরের সীমানা অতিক্রম করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকমহলে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ এমনিতেই রাজনৈতিক অধিকারবঞ্চিত। তারা আরও বেশি নিপীড়ন, হয়রানি ও মিথ্যাচারের কবলে নিপতিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সৌদি আরব গোটা মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি সম্মানীয় অবস্থানে রয়েছে। একজন যুবরাজের সিদ্ধান্ত এবং অন্যায্য পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। অবিলম্বে ইসলামের পবিত্র ভূমিতে শান্তির বারতা প্রতিষ্ঠিত হোকÑ এই আমাদের প্রার্থনা।

Category:

Leave a Reply