স্বপ্নের মেট্রোরেল নির্মাণে সংসদে বিল পাস

উত্তরণ প্রতিবেদন : রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে বহুল আলোচিত স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের পর্দা উঠল। মেট্রোরেল আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার। গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’ নামের বহুল আলোচিত বিলটি পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের মাধ্যমে রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর কাজ আরও একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিলটি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের এবং বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প হচ্ছে দেশের ইতিহাসে প্রথম এ মেট্রোরেল স্থাপন প্রকল্প। পদ্মা সেতুর মতো বর্তমান সরকার স্বপ্নের এ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাইকা জানিয়েছে পাঁচ বছর আগেই অর্থাৎ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৯ সালেই। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ নির্মিতব্য এই মেট্রোরেলের স্টেশন হবে ১৬টি। ভ্রমণ সময় হবে মাত্র ২৮ মিনিট। ঘণ্টায় এই মেট্রোরেল প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে আর মেট্রোরেল জাইকার সহযোগিতায় হচ্ছে। বিলটি পাসের আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং জনসাধারণকে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ প্রথম মেট্রোরেল চালু হবে। তাই মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। সেজন্য এ বিলটি আনা হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা ও অনুমোদন ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই রেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলে চলাচলকারী সকলের বীমা থাকবেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিলে এই রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ১০ বছর কারাদ- ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। বিলে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বীমার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

Category:

Leave a Reply