স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ

Posted on by 0 comment

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ: বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে, সামাজিক উন্নয়নও। অবশ্য এই অর্জন সহসা হয়নি। অনেকদিন ধরে বিশেষ করে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশক দুটিতে বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি হয়েছে, তবে তা সম্ভাবনার তুলনায় সীমিত এবং তাতে সার্বিক ধারাবাহিকতাও ছিল না। কিন্তু ২০০৯ থেকে উন্নয়নে ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় উৎপাদের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ শতাংশের ওপরে ছিল এবং ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে ৭ শতাংশের ওপরে ছিল। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জনগণের গড় সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সফল দেশ। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য উন্নয়নশীল অনেক দেশ থেকে এগিয়ে গেছে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি বিগত কয়েক বছরে অনেক চাঙ্গা হয়েছে। কৃষি এবং কৃষি বহির্ভূত খাতসমূহে গ্রামের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রত্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তাদের আশাবাদ জেগেছে। এদিকে রপ্তানি আয় অব্যাহতভাবে বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল অনেক উচ্চতায় (৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
বিভিন্ন খাতে উল্লিখিত ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ অবশ্যম্ভাবীভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ৩টি শর্তই পূরণ করেছে। উল্লেখ্য, এগুলো হচ্ছে মাথাপিছু আয় (যা ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার হলেই চলত, এক্ষেত্রে ১ হাজার ২৭২-এ পৌঁছেছে বাংলাদেশ), মানবদক্ষতা (যা ৬৬ শতাংশ হলেই চলত; কিন্তু বাংলাদেশের অর্জন ৭২.৮ শতাংশের ওপর) এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি (যা ৩২ শতাংশ হলেই চলত; কিন্তু বাংলাদেশের অর্জন ২৫ শতাংশ)। আরও উল্লেখ্য, যে সমস্ত স্বল্পোন্নত দেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে এসেছে বা বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে, তাদের কোনোটিই ৩টি শর্ত পূরণ করেনি। বিধি অনুযায়ী দুটি শর্ত পূরণ করাই যথেষ্ট। বাংলাদেশের অর্জন তাই তুলনামূলকভাবে উন্নততর মাত্রার।
জাতিসংঘ সম্প্রতি স্বীকৃতি দিয়েছে যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে আসার সড়কে উত্তরণ ঘটিয়েছে। এ রকম স্বীকৃতি প্রদান জাতিসংঘের একটি নিয়মিত কাজ। অর্জন বাংলাদেশের। অবশ্যই তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যথাসময়ে এই দায়িত্ব পালনের জন্য এবং আশা করতে চাই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উন্নত বিশ্ব ন্যায্যভাবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সহযোগী হিসেবে থাকবে।
বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হলো তখন আমরা জানি আন্তর্জাতিক পরিম-লের অনেকেই এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্ধিহান ছিলেন। কিন্তু বাঙালি জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন যে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না (‘৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’)। এই মন্ত্র এ দেশের মানুষের প্রাণের মন্ত্র। এটি মুক্তিযুদ্ধে ছিল প্রেরণার উৎস এবং এখন দেশ গড়ার ক্ষেত্রেও তাই। তিনি দেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন সকল মানুষের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু বেশিদূর যাবার সময় পাননি। ১৯৭৫-এর আগস্টে স্বাধীনতার দেশি-বিদেশি শত্রুচক্র তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তার এই ঘৃণিত ও পাশবিক হত্যার পর দেশকে ভিন্নস্রোতে পরিচালনার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যে জাতি তার ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে সেই জাতি যে ঘুরে দাঁড়াবে তা বলাই বাহুল্য। দেখা যাচ্ছে, দেশ শুধু ঘুরে দাঁড়ায় নি, দৃপ্ত পদক্ষেপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এগিয়ে যাচ্ছে। ঐ ৭ মার্চের ভাষণে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে : “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। এ উদাত্ত ঘোষণার দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে অর্থাৎ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু মুক্তির সংগ্রাম চলছে, চলবে। মুক্তি মানে সব মানুষের বঞ্চনা থেকে মুক্তি, নানা প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি যাতে তারা স্বাধীন মানুষ হিসেবে মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন জীবনযাপন করতে পারেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তার এই চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে এ দেশকে বৈষম্যমুক্ত করা হবে, সকলের সব মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং প্রত্যেকের মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ উন্নয়ন ঘটাতে হবে মানুষকে কেন্দ্র করে, কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচি নয়। বিভিন্ন শ্রেণির এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাস্তবতা এবং আশা-আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে, তাদের সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নই মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
এই কেন্দ্রীয় ধারণার আঙ্গিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করে। এটি রূপকল্প ২০২১ নামে সমধিক পরিচিত। পরবর্তীকালে নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ বা বাস্তবায়ন সময়ে সময়ে পরিবর্তিত জাতীয় এ আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ধারণ করলেও, মূল সুর দেখা যাবে রূপকল্প ২০২১ থেকেই উৎসারিত। তাই দারিদ্র্য নিরসন, পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সম্পৃক্ততা অথবা তাদের জীবনযাপনের কষ্ট লাঘব করার লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম পরিচালনা ও নানাবিধ ভাতা প্রদান করা হয়েছে, হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে উন্নতির পারিপার্শ্বিকতা তৈরিতে নীতি ও আইন গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। কাজেই আমরা লক্ষ্য করছি ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত অনেক শক্ত হয়েছে। বিশেষ করে, গ্রামীণ অর্থনীতির কথা উল্লেখযোগ্য, (কৃষি ও কৃষি বহির্ভূত বিভিন্ন খাতে)। বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামষ্টিক ও বেস্টিক অর্থনীতিতে মূল বিষয়গুলো বর্তমানে সঠিক অবস্থানে অথবা সঠিক পথেই রয়েছে।
কেউ কেউ বলে থাকেন বাজার অর্থনীতির এই যুগে রাষ্ট্রের ভূমিকা গৌণ থাকতে হবে। অর্থনীতির এগিয়ে চলা না চলা এবং এর বিন্যাস বাজারের গতি-প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাজার সঠিকভাবে কাজ করতে হলেও অনুকূল আইন, নীতিমালা ও পারিপার্শ্বিকতা প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন সব গোষ্ঠী ন্যায্যভাবে অংশীদার হতে পারছে কি না তা নিশ্চিত করা। এই সমস্ত কাজ রাষ্ট্রকেই করতে হয়। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন খাতের মানুষ অবদান রেখেছেন, রাখছেন। এক্ষেত্রে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, অন্যান্য শ্রমিক, উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিতদের অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২২ মার্চের সম্বর্ধনায় প্রদত্ত বক্তৃতায় জনগণের ব্যাপক অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এই অবদান তারা কার্যকর রাখতে পেরেছেন এবং পারছেন মূলত রাষ্ট্র অনুকূলনীতি-কাঠামো ও পারিপার্শ্বিকতা নিশ্চিত করেছে বলে।
দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে বর্তমানে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে পরিগণিত। এগুলোর মধ্যে নেপাল এবং ভুটান ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। প্রচলিত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ২০২৪-এ বেরিয়ে আসার কথা। তার মানে এই, ২০২১-এর পর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান স্বল্পোন্নত দেশ থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ভিত ও অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে অবস্থান অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশ থেকে অনেকটাই অগ্রগামী ও দৃঢ়। এছাড়াও মর্যাদার বিবেচনা অবশ্যই রয়েছে। আমি মনে করি, অনেক দিন থেকে যেমন বলা হয়ে আসছিল ২০২১ সালের পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থাকার প্রয়োজন নেই। তাই আমার প্রস্তাব : ২০২১ সালে স্বেচ্ছায় স্বল্পোন্নত দেশের তকমা ঝেড়ে ফেলা উচিত বাংলাদেশের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মাসেতু নিজেদের টাকায় করার ঘোষণায় বাংলাদেশের মর্যাদা যেভাবে দেশে এবং বিদেশে অনেক উচ্চতায় উঠেছে, সেভাবে তিনি ২০২১ সালে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা করবেন এবং দেশের মর্যাদায় আরও একটি উজ্জ্বল পালক সংযোজন করবেন এই আশা রাখছি।
স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে এলে বাংলাদেশ নানা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন বলে অনেকে হিসাব কষছেন। অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু বিরোপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। বৈদেশিক সাহায্য ও স্বল্প সুদে ঋণের বিষয়ে অতি সামান্যই বিরোপ অবস্থা দেখা দিতে পারে, কেননা বৈদেশিক সাহায্য জাতীয় আয়ের ২ শতাংশেরও কম। ইতোমধ্যেই নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে বেরিয়ে আসার পর ঋণ নিতে চাইলে উৎসের সংখ্যা অনেক বাড়বে। দ্বিপাক্ষিক ও বহুপ্রাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে অনুকূল সুযোগ সৃষ্টি করার প্রয়াস নেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, যখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা উঠে যাচ্ছিল তখন অনেকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়বে, পড়েনি বরং রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। আবার যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য জিএসপি ব্যবস্থা উঠিয়ে দেয় তখন অনেক ক্ষতি হবে বলে অনেকে অভিমত দিয়েছিলেন, সেরকম কিছু হয়নি। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাক রপ্তানি শুল্কযুক্ত সময়ই। তারপরও সেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পর্যায়ের অর্জন ধারাবাহিকভাবে এসেছে; বিশেষ করে বিগত ৮-১০ বছরে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর অন্যদিকে জনগণের পরিশ্রমের কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এখন এই অগ্রগতিকে সুসংহত ও ত্বরান্বিত করা জরুরি। এবং ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখা ও বেগবান করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে প্রয়োজন অনুসারে দক্ষ জনবল তৈরি করা, বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে তা দূর করা, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা, দুর্নীতি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, আয়কর হার বৃদ্ধি করা, উন্নয়ন প্রশাসনকে গণমুখী করা, ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়নের আঙ্গিকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না এই নীতির কার্যকর অনুসরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করা এবং প্রয়োজন অনুসারে পুনর্গঠন করা, আন্তর্জাতিক পরিম-লে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনেও শক্তিশালীকরণে তৎপরতা বৃদ্ধি করা, অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। এছাড়া ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এসব কাজে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশের অগ্রগতির জন্যে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সেই ধারাবাহিকতায় উল্লিখিত চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে আমার বিশ্বাস। ফলে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে ২০২১ সালে বেরিয়ে আসার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে সকলকে ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

Category:

Leave a Reply