‘স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে’

Posted on by 0 comment

a উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতাকে যারা ব্যর্থ করে দিতে চায় তারা যেন কোনোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা যেন ব্যর্থ হয়ে না যায়। আর যারা স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে চায় তারা যেন কোনোদিন এ দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে। বাংলাদেশে কোনোদিন জঙ্গি-সন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধীদের স্থান হবে না, বাংলাদেশ অবশ্যই হবে মুক্তিযোদ্ধাদের, মুুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুফল আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবই।
গত ২৭ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারান্তরীণের কথা তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেত্রী ভোগবিলাসে ব্যস্ত ছিলেন, দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। এমনকি এতিমের টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছেন। এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে মামলা হলে বিচারে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি পেয়েছেন।
ওয়ান ইলেভেনের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের কারণেই এ দেশে ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হয়। তখন আমি বিরোধী দলের নেতা হওয়ার পরও আমাকে আগে গ্রেফতার করা হয়। এর সঙ্গে কে কে জড়িত আজ আমরা তা জানি, এর হিসাবটা আমরা পরে নেব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া যারাই ক্ষমতায় থেকেছেন তারা সবাই নিজেদের ভোগবিলাস ও অর্থ সম্পদের মালিক হতে ব্যস্ত থেকেছে। দেশের মানুষের দিকে তাদের তাকানোর কোনো সময় ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশ ওই সময়টায় আর এগোতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপিকা সাদেকা হালিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা তো বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চেই দিয়ে গেছেন। জনগণের bভোটে ম্যান্ডেট নিয়েই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অধিকার বঙ্গবন্ধু অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার মেসেজও আগেই তৈরি ছিল। হানাদারদের হামলার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মেসেজ ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সব জায়গায় পৌঁছে দেয়া হয়। আর বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইনও বঙ্গবন্ধু করে দিয়েছিলেন। জাতীয় সংগীত কী হবে সেটাও বঙ্গবন্ধু ঠিক করে দিয়ে যান। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়।
তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে এ মর্যাদা অর্জন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো নেতা এটা করতে পারেনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ যেখানে মিত্রবাহিনী ফেরত গেছে। পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে মিত্রবাহিনী ফেরত যায়নি। বাংলাদেশ একমাত্র ব্যতিক্রম। স্বাধীনচেতা নেতা ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

গণহত্যা দিবস : পাকিপ্রেমীদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের গণহত্যাকারী ও তাদের দোসর-মদদদাতাদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করে বলেছেন, একাত্তরের গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধীদের যারা (বিএনপি) প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে পুরস্কৃত করেছে, মদদ দিয়েছে তারাও সমান অপরাধী। উভয়েই সমান দোষে দোষী। যুদ্ধাপরাধীদের মতো তাদেরও সমানভাবে বিচার হওয়া উচিত। আর পাকিপ্রেমে যারা হাবুডুবু খাচ্ছে, একাত্তরের গণহত্যাকারীর মদদদাতাদেরও উপযুক্ত জবাব বাংলার মানুষকে দিতে হবে। তাদেরকেও শাস্তি দিতে হবে। তাদের পাকিপ্রেম ভুলিয়ে দিতে হবে। বাঙালি যদি এটা না পারে, তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব থাকবে না। ব্যর্থ নয়, বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমরা পাকিপ্রেমীদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারব। দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা একাত্তরের গণহত্যার প্রতিশোধ নেব।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তার পক্ষে এমন কথা বলাই স্বাভাবিক। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেন না। তার স্বামীও (জিয়াউর রহমান) মানুষ খুন করেছে, আর বিএনপি নেত্রীও পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ খুন করিয়েছেন। মানুষের জীবনের কোনো মূল্যে নেই তাদের কাছে। এরা দুজনই (জিয়া-খালেদা জিয়া) একাত্তরের গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। একাত্তরের গণহত্যাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীরাই তাদের কাছে পেয়ারে বান্দা। কারণ তাদের হৃদয়ে রয়েছে পেয়ারে পাকিস্তান। বাঙালি জাতিকে তাদের পাকিপ্রেম ভুলিয়ে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসর আলবদর, আলশামস, রাজাকারদের অপকর্মের কথা যেন জাতি ভুলে না যায়। আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখে এই দেশে গণহত্যা ঘটিয়েছিল কারা, কেন এবং তাদের বিচার যেন এই মাটিতে চলতেই থাকে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর পুরো ইতিহাসই বদলে গিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী; এটাও বলা যাবে না। পাকিস্তান যে হানাদার ছিল সেটাও ভুলিয়ে দেয়ার জন্য শুধু হানাদার বাহিনী বলা হতো। পাকিপ্রেম এমন পর্যায়ে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ জহির বীরপ্রতীক, কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বিএনপি-জামাত দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের সবকিছু ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশের পথ ধরে বাংলাদেশ আগামীতে আরও দ্রুত উন্নত-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে এক কদম সামনের দিকে এগোতে দেয়নি। কারণ একাত্তরের গণহত্যাকারী ও পঁচাত্তরের খুনিরা একই বৃন্তের ফুল। এদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এরাই ক্ষমতায় থেকে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। যারা বাংলাদেশকে করুণার চোখে দেখত, বটম লেস বাস্কেট (তলাবিহীন ঝুড়ি) বলত, তাদের আমরা দেখিয়ে দিয়েছি বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, উন্নয়নশীল দেশ।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে উৎফুল্ল প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে জাতিসংঘের এ স্বীকৃতি জাতির জন্য এক বিরাট অর্জন ও গৌরবের। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে ১৯৭৫ সালে প্রথম বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি এনে দিয়েছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তবে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ এবং ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারতেন। আগামী ২৬ মার্চ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করব। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আমাদের একটাই প্রতিজ্ঞা, এ দেশকে নিজেদের সবকিছু ত্যাগের বিনিময়ে হলেও উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব।
গত ১৮ মার্চ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ, আশা-আকাক্সক্ষা কিংবা পদের জন্য নয়, দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আর এটাকে আমি কর্তব্য বলেও মনে করি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য cঅ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা দীর্ঘ ২১টি বছর ক্ষমতায় ছিল তারা এ অর্জন আনতে পারল না কেন? কারণ তারা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার-আলবদর, একাত্তরের গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। এরা তো দেশের স্বাধীনতাই চায়নি। এরা কোনোদিনই চাইবে না বাংলাদেশের মানুষ দু’বেলা খেয়ে ভালো থাকুক, দেশের উন্নত হোক, অর্থনৈতিকভাবে দেশ স্বাবলম্বী হোক। ক্ষমতায় থেকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছে আর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে যা যা করার তার সবই করেছে। এই দীর্ঘ সময় তারা দেশকে একদমও সামনের দিকে এগোতে না পারে সেই চেষ্টাই করেছে। কিন্তু ৩৭ বছর পর হলেও বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ওই সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তারই কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা, স্বাধীন রাষ্ট্র ও বিশ্বের বুকে স্বাধীন জাতির মর্যাদা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এসব হতো কি না সেটাই আজ বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির সমস্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুই শুরু করেছিলেন। তখনও অনেক নেতা ছিলেন যারা পাকিস্তানের একটু ডাক পেলেই ছুটে যেতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনও মাথানত করেন নি, বঙ্গবন্ধুকে কোনো লোভ দেখিয়ে কেউ কিনতে পারেনি, তার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি।

Category:

Leave a Reply