হাঁটছেন, কথা বলছেন স্বাভাবিক এখন চিকিৎসকের ফলোআপে

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-12-02 PMআরিফ সোহেল: হেঁটে হেঁটে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। কারও সাহায্য ছাড়াই হেঁটে গিয়ে চড়লেন গাড়িতে। আগমুহূর্তে স্বভাবসিদ্ধ নেতার মতো আবার হাত নাড়লেন। এমন এক আবেগঘন পরিবেশেই ওবায়দুল কাদের দীর্ঘ এক মাস পার করে হাসপাতালের চৌহদ্দির বাইরে গেলেন। এ-সময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেসা। ছিল আওয়ামী লীগের অসংখ্য স্থানীয় এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নেতাকর্মীরা।
গত ৫ এপ্রিল বিকাল ঠিক সোয়া ৩টায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল ছেড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আরও কিছুদিন তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ সূর্যফোটা ভোরে হঠাৎ করেই শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের। সময়ক্ষেপণ না করে তাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। প্রথমে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা বলেছেনÑ ‘ঠিক মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি বেঁচে এসেছেন।’ এনজিওগ্রামে হার্টে ৩টি ব্লক ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎকসক দেবি প্রসাদ শেঠিকে ডেকে পাঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার পরামর্শক্রমে ৪ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামির নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়েছে গত ২০ মার্চ। প্রায় সাত দিন আইসিইউ’তে ছিলেন এই জনপ্রিয় নেতা। ২৬ মার্চ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।
৩ এপ্রিল ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. ফিলিপ কোহ খোলামেলা প্রথম দফা কথা বলেছিলেন। এ-সময় বোর্ডের অন্য সদস্যরাও তার সঙ্গে ছিলেন। ডা. আবু নাসার রিজভী বোর্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদেরের সব প্যারামিটারসগুলো দিন দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে। উনার কিডনি এখন খুব স্ট্যাবল আছে। ইনফেকশন অনেক কমে গেছে। ওবায়দুল কাদেরের ব্লাড টোন এখন ১২ হাজারে চলে এসেছে, ইউরিন আউটপুটও ভালো আছে। হার্ট কন্ডিশন, প্রেসার এবং হার্টবিট খুব ভালো আছে। মেডিকেল বোর্ড গত ৪ এপ্রিল ওবায়দুল কাদেরের গায়ে যে আর্টিফিসিয়াল ডিভাইসগুলো আছে সেগুলো খুলে ফেলে।
এর আগে ১ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি জানিয়েছিলেন, সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কেবিনে তিনি ভালোই আছেন। ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। কথা বলছেন। তার রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসও বেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কথা বলছেন। হালকা হাঁটাচলা করছেন। তাকে পাশে থেকে ছায়া দিচ্ছেন সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেসা। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এবং নিওরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী ও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি তার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। সেতুমন্ত্রীকে আপাতত নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে তার জন্য একটি বাসা ভাড়া করা হয়েছে। সেখানে থেকে তিনি ফলোআপ সেবা নেবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী-জনপ্রিয় নেতা উজ্জীবনী প্রাণশক্তিতে জেগে উঠছেন। বাংলাদেশের অসংখ্য গুণগ্রাহী তার জন্য অধীর অপেক্ষায়। অপেক্ষায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও।

Category:

Leave a Reply