হৃদয়স্নাত ভালোবাসায় শিল্পাচার্য জয়নুল জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

Posted on by 0 comment

48উত্তরণ প্রতিবেদন : একদিকে এঁকেছেন স্বদেশ ও সমষ্টির জীবনচিত্র, অন্যদিকে গড়েছেন শিল্পের শিক্ষালয়। এভাবেই দেশের চিত্রশিল্পের জনক থেকে হয়েছেন চারুশিল্প চর্চার ভিত্তিভূমি রচনাকারী। সেই কিংবদন্তি শিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শততম জন্মবর্ষ ছিল গত ২৯ ডিসেম্বর। পৌষের হিমেল সকাল থেকেই পথিকৃৎ শিল্পীকে জানানো হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি।
দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবার জয়নুলের জন্মদিনটি হাজির হয়েছে অনেক বেশি আবেদন আর রংময়তায়। জন্মের শুভক্ষণের শততম বর্ষ পাড়ি দেওয়ার আনন্দ ধরা পড়েছে পরতে পরতে। জাতীয় পর্যায়ে তার জন্মশতবর্ষ উদযাপন যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। শিল্পাচার্যকে নিবেদন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে বর্ষব্যাপী বহুমাত্রিক কর্মসূচি। জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে শিল্পাচার্যের আঁকা ১০০ ছবি নিয়ে শুরু হলো প্রদর্শনী। অন্যদিকে এই শিল্প দিশারীর গড়া চারুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চারুকলা অনুষদ আয়োজিত জয়নুল মেলায় দিনভর চলেছে নানা আনুষ্ঠানিকতা কিংবা আয়োজন। সকাল থেকে রাত অবধি বর্তমান চারুশিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেকদের জমজমাট আড্ডার সঙ্গে ছিল সংগীত পরিবেশনা, সেমিনারসহ মন মাতানো নানা আয়োজন। শিল্পপিপাসুদের অনেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে। এখানে চলছে জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহ থেকে নির্বাচিত নকশিকাঁথার প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় ছিল জয়নুলের শিল্পকর্ম উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর বিশেষ আয়োজন। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালায় শুরু হবে পাঁচদিনের অনুষ্ঠানমালা। আর আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের মাসব্যাপী মেলাটি উৎসর্গ করা হয়েছে শিল্পাচার্যকে।
দিনের প্রথম প্রভাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জয়নুলের সমাধিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ চৌধুরী এবং জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদফতরের পরিচালক ওদুদুল বারী চৌধুরীর নেতৃত্বে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পাশাপাশি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, কপিরাইট অফিস, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও জয়নুল আবেদিনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে শিল্পাচার্যের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নেওয়া হয়েছে বছরব্যাপী কর্মসূচি। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে শুরু হলো জয়নুল আবেদিনের আঁকা ১০০ ছবির প্রদর্শনী। জাদুঘরে সংগৃহীত জয়নুলের ৮০৭টি চিত্রকর্ম থেকে বাছাইকৃত ছবি নিয়ে সাজানো হয়েছে এ প্রদর্শনী। পরবর্তী এই শিল্পকর্মগুলো নিয়ে প্রকাশ করা পাঁচ খ-ের অ্যালবাম। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত চার দিনের জয়নুল মেলার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। লোকজ আঙ্গিকে সজ্জিত মেলার সমাপনী দিনে প্রদান করা হয় জয়নুল সম্মাননা। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা পেয়েছেন ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ শেখ ও বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী। সকালে অনুষদের বকুলতলায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পাচার্যের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন।
এশীয় চারুকলা উৎসব
বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বসংস্কৃতির সম্পর্কের বন্ধন তৈরির প্রত্যয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাসব্যাপী ১৬তম এশীয় দ্বি-বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ১ ডিসেম্বর ২০১৪ সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্মারক ডাকটিকিটের উন্মোচন করেন অর্থমন্ত্রী।
এতে বাংলাদেশসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩২টি দেশের শিল্পীদের রংতুলির ক্যানভাসে শিল্পসুষমায় শোভিত হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজার প্রতিটি গ্যালারি। দেশ-বিদেশের ১০৪ শিল্পীর ২০৪টি শিল্পকর্মে অনিন্দ্য সৌন্দর্য্যে শিল্পময় হয়ে উঠেছিল একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজা।
সদ্যপ্রয়াত দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী আয়োজনের কার্যক্রম। সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। প্রদর্শনীর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন জুরিবোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এশিয়ার সংস্কৃতির দর্পণ হিসেবে এই প্রদর্শনী ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির বন্ধন তৈরি হবে।
এবার গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ও সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড এ দুই ক্যাটাগরিতে ৯ চিত্রশিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেনÑ বাংলাদেশের গুলশান হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মোমেন মিল্টন ও কাতারের হেসা আহমেদ খল্লা। সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ বাংলাদেশের নুরুল আমিন, কামরুজ্জামান স্বাধীন, মাইনুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ গোস্বামী, ওমানের হামেদ আল জাবেরি ও ড. ফখরিয়া আল ইয়াহিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক 49অঙ্গনে কাইয়ুম চৌধুরীর অবদানের কথা তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন এদেশের সকল সংস্কৃতিকর্মীর অভিভাবক। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, পূর্ব তিমুর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, জাপান, কুয়েত, কাজাখস্তান, লেবানন, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩২টি দেশ এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে।
এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ এই প্রদর্শনী উপলক্ষে ব্রোশিউর ও পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রদর্শনীটিকে উৎসবমুখর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের কদম ফোয়ারা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বিদেশি চারুশিল্পী, শিল্প সমালোচক ও জুরি কমিটির সদস্যরা জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে প্রতিদিন বিকেলে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ৩১ ডিসেম্বর প্রদর্শনী শেষ হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই প্রদর্শনী ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলচ্চিত্র উৎসব
বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে ঢুলি কমিউনিকেশনস আয়োজিত এবং ভার্সেটাইল মিডিয়া নিবেদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৪’ গত ২৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে দিনব্যাপী প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মাটির ময়না’।
১৯ ডিসেম্বর সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন হয় বলাকা প্রেক্ষাগৃহে। উৎসব উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চার বীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে ঢুলি কমিউনিকেশনস এবং ভার্সেটাইল মিডিয়ার পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় বিশেষ সম্মাননা। এদিকে উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিক ‘ওরা ১১ জন’।
এরপর যথাক্রমে ২০ ডিসেম্বর ‘আগুনের পরশমণি’, ২১ ডিসেম্বর ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ২২ ডিসেম্বর ‘জয়যাত্রা’, ২৩ ডিসেম্বর ‘গেরিলা’, ২৪ ডিসেম্বর ‘মেঘের পরে মেঘ’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আর উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’।
‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা
বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সাইফিন রুবাইয়াত, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, আবৃত্তিকার সামিউল ইসলাম। প্রথম পর্বের বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. ফারুক হোসেন।
দ্বিতীয় পর্বেও প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনজুরুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুরমা জাকারিয়া চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ।
শুদ্ধ সংগীত উৎসবে রাতভর সুরের অনুরণন
গত ১৯ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ছায়ানট আয়োজিত দুদিনব্যাপী শুদ্ধ সংগীত উৎসব শেষ হয় ১৯ ডিসেম্বর। পুরো দুদিনই ছিল দর্শক-শ্রোতাদের উপচেপড়া ভিড়। তাই সন্ধ্যা পেরুনো নিশি পার করে ভোর পর্যন্ত সংগীতপিপাসু শ্রোতায় পরিপূর্ণ ছিল মিলনায়তন। আর মিলনায়তনের বাইরে বড় পর্দায় দেখানো হয় ভেতরকার আয়োজনটি। এখানে বসেও সুরের আস্বাদন নিয়েছেন সমঝদার অনেক শ্রোতা। সমাপনী দিনে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় অধিবেশনের সূচনা হয়। এ পর্বে কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করে ঢাকার দুই শিল্পী সুমন চৌধুরী ও আমিন আখতার সাদমানী। কণ্ঠের চমৎকার কারুকার্যে শ্রোতার মন রাঙিয়ে তোলেন সিলেটের শিল্পী সুপ্রিয়া দাশ। বাঁশিতে সুর ছড়ান ঢাকার শিল্পী মর্তুজা কবীর মুরাদ। ছায়ানটের শিল্পীদের বৃন্দ সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় দ্বিতীয় অধিবেশন।

Category:

Leave a Reply