৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের গত ৩০ জুন অধিবেশনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বাজেট পাস হয়। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম বাজেট।
৩০ জুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয় সকাল ১০টায়। দুপুরে অর্থমন্ত্রী বাজেট পাস করার জন্য উপস্থাপন করেন। সংসদে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। এ ব্যয় মেটাতে অনুদান ব্যতীত আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় ধরা হয় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতি ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ধরা হয়।
নতুন বাজেটে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া কর ব্যতীত আয় ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বাজেটে। বাজেটের সামগ্রিক ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাস : নতুন অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৮ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতনও অন্তর্ভুক্ত।
মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব : বাজেটের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ৪৮৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব এবং ৫৯টি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে আসা দাবি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। আলোচনা শেষে সব প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
প্রসংগত, ১৩ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর মোট ২৫৫ জন সংসদ সদস্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নেন।

জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে অভিহিত করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে এই বাজেট। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটের ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এফসিসিসিআই আরও বলেছে, তারা বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করবে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাব পরে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির দ্রুত রোগমুক্তির জন্য আরোগ্য কামনা করা হয়। গত ১৫ জুন দুপুরে মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে এফবিসিসিআিই। ওই সময় সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম মূল বক্তব্য পাঠ করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট, জমি ও শিল্পে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত বাজেটের একটি ভালো দিক। এ কারণে যে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি হলে বেসরকারি খাত বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, অবকাঠামো তহবিল, অবকাঠামো বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। তবে হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা ও সঠিক অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি থাকবে না। ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বৃদ্ধি পাবে না। ব্যবসা সহজীকরণের কোনো বাধা থাকবে না। এতে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং করের আওতা বৃদ্ধি পাবে।

Category:

Leave a Reply