৭ই মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা দেবে

Posted on by 0 comment

মেমোরিয়াল ট্রাস্টের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

36উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভয়াবহ অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নাশকতা, জঙ্গিবাদসহ অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদা পেয়েছে। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।
গত ১২ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশে করে বলেন, আজ নতুন প্রজন্মের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা বীরের জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই আমরা প্রত্যেকে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আজও জাতিকে মাথা উঁচু করে চলার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শত্রুকে মোকাবিলা করার অনুপ্রেরণা দেয়। যুগ যুগ ধরে তাই বঙ্গবন্ধুর এই যাদুকরি কালজয়ী ভাষণ জাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।
মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর কালোত্তীর্ণ ভাষণ : প্রস্তুতি ও প্রভাব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাসুরা হোসেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী হাশেম খান ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রনির্ঘোষ ৭ই মার্চের ভাষণের রঙিন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ জাতিকে পথ দেখিয়ে গেছে। এই ভাষণের প্রত্যেকটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই আমাদের সেই চেতনাটা এনে দেয়। মাথা উঁচু করে পথ চলার মনোবল দেয়। যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করার, শত্রুকে দমন করার পথ শেখায়। তাই এই ভাষণের আবেদন কোনোদিন শেষ হবে না, শেষ হয়নি। ভাষণটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই ভাষণের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার কারণে একটি প্রজন্ম সত্য জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কালজয়ী এই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ঐতিহাসিক এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের পথের দিশারী, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। যুগ যুগ ধরে এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে, যার আবেদন আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। এই আবেদন কখনও শেষ হয় না, হবেও না। একটি মাত্র ভাষণে বঙ্গবন্ধু দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, যা সত্যিই এক বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, পরাজিত পাকিস্তানের সাথে সংস্কৃতিসহ কোনো কিছুতেই এদেশের সাথে মিল ছিল না। তারা শুধু এদেশকে শোষণ, শাসন করছিল। তাই বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই এদেশকে স্বাধীন করতে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করে গেছেন। আর ৭ই মার্চের একটি মাত্র ভাষণে স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আর তার পথ বেয়েই আসে আমাদের স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের আগে পাকিস্তানিরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু একটা কিছু বলবেন, যার সূত্র ধরে তারা এদেশে গণহত্যা চালাবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর যাদুকরী এই ভাষণে পাকিস্তানিরাও ভিরমি খেয়ে যান। বঙ্গবন্ধু তার কালজয়ী ভাষণে একদিকে যেমন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করলেন, অন্যদিকে শত্রুরা এ ব্যাপারে সবকিছু বুঝতেই পারল না। পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ যুগ যুগ ধরে কোনো জাতিকে অনুপ্রেরণা বা নতুন করে উজ্জীবিত করতে পারেনি, যেটি এখনও করে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।
বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষণ দেওয়ার আগে থেকে দলের নেতাসহ অনেকে অনেক পয়েন্ট লিখে দিচ্ছে, বলছে এটি না বললে হবে না। বস্তায় বস্তায় কাগজ জমা পড়তে লাগল ৩২ নম্বরে। কিন্তু আমার মায়ের দূরদৃষ্টির কোনো তুলনা হয় না। যখনই কোনো বড় কিছু ঘটনা ঘটে, তার আগে আমার মা বঙ্গবন্ধুকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগেই এদেশের নাম বাংলাদেশ, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ সবই নির্ধারণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা হিসেবে ওই সময় পাশে থেকে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পরামর্শ প্রদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ দেওয়ার আগে আমার মা পিতা বঙ্গবন্ধুকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে নিয়ে ঘরে গেলেন। আমি তখন বঙ্গবন্ধুর মাথার কাছে বসা। মা বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘তোমাকে অনেকেই অনেক কথা বলবে। সামনে লাখ লাখ মানুষ থাকবে। তাই কারোর কোনো কথা শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষের জন্য তোমার যা মনের কথা সেটিই ভাষণে বলবে।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ঠিকই এক যাদুকরী ভাষণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং গেরিলাযুদ্ধের জন্য যা যা করার তারই সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনে আমাদের স্বাধীনতা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা পরবর্তী ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসবের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন ’৮১ সালে দেশে ফিরে আসি তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে নির্যাতনসহ জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, পরাজিত শত্রুরা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়, চেতনাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলে। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলে। ওই সময় একটি প্রজন্ম জানতেই পারেনি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের পদলেহন করে স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা দেশবাসী দেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের নতুন প্রজন্মের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয়ী বীরের জাতি। আমরা মাথা নত করে চলব না। সারাবিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে চলব। বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক সেই ভাষণে সেই পথই আমাদের দেখিয়ে গেছেন। আমার বিশ্বাস, দেশের নতুন প্রজন্ম বারবার জাতির জনকের সেই কালজয়ী ভাষণটি শুনে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।
মূল প্রবন্ধে লেখক-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, কালোত্তীর্ণ শিল্পকর্ম ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর অপূর্ব বাগ্মীতার এক অমর কীর্তি। এই ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, স্বাধীনতার প্রেরণা। একটিমাত্র ভাষণে বঙ্গবন্ধু চিরদিনের পদানত থাকা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতাকামী জনগণকে জাগ্রত করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আজও দেশের মানুষের কাছে সর্বজনীন প্রতীক। ভাষণটি শুনলে আজও দেশের মানুষ অনুপ্রাণিত হয়।

জাতির পিতার জন্মদিন শিশু দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী
যতদূর পার শিক্ষা অর্জন কর
শিশু-কিশোরদের মন দিয়ে পড়াশোনা করা, মা-বাবা ও শিক্ষকদের কথা শোনা এবং বড়দের মান্য করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমরা যতদূর পারো শিক্ষা অর্জন করবে। শিক্ষা হবে তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই শিক্ষা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তোমরা এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ গড়ে তুলবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, মেধা-জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিগত জ্ঞানÑ সব দিকেই তোমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতাও চেয়েছিলেন এদেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষিত হোক। আমরা সেই চেষ্টা করছি। প্রত্যেকটা শিশুর মাঝে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে, তা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিশু রাফিয়া তুর জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিশু ও মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে শিশু ঋত্বিক জিদান। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভাই ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ৫৪ বছর বয়সে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে ১০ বছর বয়সে। আজ তাদের ছবির দিকে তাকিয়ে ভাবি, বাবা বেঁচে থাকলে আজকে দেখতে কেমন হতেন। রাসেল বেঁচে থাকলে দেখতে কেমন হতো!
জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে শিশুদের এগিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। শিশু-কিশোররাই হবে সোনার বাংলা গড়ার প্রধান শক্তি।
শিশু সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী হাতের লেখা ও ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে শিশু ও মহিলা অধিদফতরের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর গোপালগঞ্জের শিশু শিল্পীরা ‘শুধু তোমার জন্য’ শীর্ষক কাব্য নৃত্য গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও দর্শক এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র আয়োজিত দিনব্যাপী গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে আসেন। ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ধীর পায়ে সমাধি সৌধের বেদীর দিকে এগিয়ে যান। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি গোটা জাতির পক্ষ থেকে স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ বেদী পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর পবিত্র ফাতেহা পাঠ করেন। তারা বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

Category:

Leave a Reply