৭, ১৭, ২৬ মার্চ উদযাপিত

Posted on by 0 comment

11সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: বাঙালির জীবনে নানা কারণে মার্চ মাস অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস। এ মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতির পর এবারের মার্চ মাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনে যোগ হবে নতুন মাত্রা। আবার এই মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে ব্যাপক ও আনন্দমুখর কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। সর্বত্র নানা আয়োজনে নেমেছিল মানুষের ঢল। অন্যদিকে এ মাসেই জাতি এবার পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর। এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল গোটা দেশ। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ গত ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কনসার্ট, শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৭তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো। গত ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় এবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবসটি উপলক্ষে ঐদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগৎখ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে দিনের প্রথম প্রহর থেকে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে মাইকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিনাশী ভাষণ “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশের সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলাসমূহের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ একযোগে প্রচার এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ৭ মার্চ উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন এবং ভাষণ দেন। এদিকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ’ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) উদ্যোগে ডিএফপি চত্বরে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐহিত্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক উৎসব’র আয়োজন করা হয়। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন গত ১৭ মার্চ কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করল বাংলাদেশ নামক ভূখ-ের স্বাপ্নিক স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে। দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের দৃপ্ত শপথে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। একই সঙ্গে জাতি দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবেও উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে সারাদেশে ব্যাপক ও আনন্দমুখর কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। সর্বত্র নানা আয়োজনে নেমেছিল মানুষের ঢল। সারাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে অংশ নেন। দেশজুড়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে আরও ছিল জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জন্মদিনের কেক কাটা, র‌্যালি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত, প্রার্থনা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইমেলা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা, পুরস্কার বিতরণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারসহ নানা কার্যক্রম। জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণেও মানুষের ঢল নেমেছিল। সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল অভিবাদন জানায়। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। বেশ কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন তিনি। জাতীয় শিশু দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বিকেল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করে। বঙ্গবন্ধু রুহের মাগফিরাত কামনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। সারাদেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও মক্তবে অনুরূপ কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভায় জাতির পিতার আত্মার শান্তি ও সদ্গতি কামনা করা হয়। বিভিন্ন মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ স্বাস্থ্য সেবাদান কর্মসূচির পাশাপাশি রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ছিল জন্মদিনের কেক কাটা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সংগীতানুষ্ঠান প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ আবাসিক হল, হোস্টেল, মসজিদ ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন : রং ছড়ানো আলো, লাল-সবুজের বাংলাদেশে থাকবে শিশু ভালো’ শিরোনামের আলোচনা আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে টিএসসি ক্যাফেটোরিয়ায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এক অন্যরকম স্বস্তি, আনন্দ ও শপথে জেগে উঠেছিল বাঙালি। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের স্বীকৃতি সারাদেশেই অভূতপূর্ব গণজাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা হাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা। কালরাতের আঁধার পেরিয়ে আত্মপরিচয় অর্জন ও পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিনটি বাঙালি জাতি হৃদয়ের গভীরতা থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই উদযাপন করেছে নানা অনুষ্ঠানমালায়। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে স্বাধীনতা দিবসে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম থেকে গ্রামে, দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে লেগেছিল লাল-সবুজের উৎসব। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের দেশের সকল স্বাধীনতা স্তম্ভের বেদি ভরে ওঠে ফুলে ফুলে। ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির সূর্যসন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে জাতীয় সংগীত গেয়েছে কোটি কণ্ঠ। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’Ñ প্রাণের এই সুরে এককণ্ঠ হয়েছে সারাদেশ। এর আগে ভোরে মিরপুর সেনানিবাসে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সুসজ্জিত করা হয় জাতীয় পতাকায়। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনেও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সড়কে অলঙ্করণ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে উৎসবমুখর পরিবেশে। বিকেলে বঙ্গভবনে বিশেষ সম্বর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে অংশ নেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর মিলন মেলায় পরিণত হয় এই সম্বর্ধনার আয়োজন। এছাড়া সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মোহাম্মদপুরে শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। বিকেলে গণভবনে একটি স্মারক ডাকটিকিট, একটি উদ্বোধনী খাম ও একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। আনন্দ, বেদনা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক স্বনির্ভর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এদিন বাঙালি জাতি অন্যরকম স্বস্তি ও উৎসবের আমেজে পালন করল মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্তি ও জাতীয় দিবস।

Category:

Leave a Reply