৯০টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ ও ভুটান

Posted on by 0 comment

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

33উত্তরণ ডেস্ক : বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ঢাকায় ভুটানের দূতাবাস নির্মাণে প্লট বরাদ্দে দেশটির সঙ্গে দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী আন্তঃবাণিজ্যে ৯০টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে দুই দেশ। আর ঢাকায় দূতাবাস নির্মাণে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় ভুটানকে প্লট দেওয়া হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিতিতে গত ৬ ডিসেম্বর এ দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গত ৬ ডিসেম্বর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীসহ ১০ সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধি দলসহ ভুটানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেরিং তোবগে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে ভুটানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ এবং ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক এ বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তির পরে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আগের চুক্তিতে ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া ছিল। এখন এ সংখ্যাটি বাড়িয়ে ৯০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমরা পদ্মা সেতুর জন্য ভুটান থেকে বোল্ডার আনতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেব। ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা উভয় উভয়কে সহায়তা করব। এ ছাড়াও বৈঠকে বিদ্যুৎ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তঃযোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে তোফায়েল আহমদ জানান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগেকে গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী রয়্যাল ভুটানিজ এয়ারলাইন্সের ‘ড্রুক এয়ার’-এর বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ট্যারম্যাকে শেরিং তোবগেকে অভ্যর্থনা জানান। তোবগে সেখান সকাল ১০টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং সেখানে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশের মহান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেওয়ার পর তিনি সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখান থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওঠেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলের হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় তিনি শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করেন। জাদুঘর পরিদর্শনের পর তিনি তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে কালিয়াকৈরের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় হোটেলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথকভাবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরের শেষদিন ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেলে তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। সকাল ১১টায় এফবিসিসিআইর একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। দুপুর আড়াইটায় তিনি ঢাকাস্থ ভুটান দূতাবাস পরিদর্শনে করেন।

Category:

Leave a Reply