এবারের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত

Posted on by 0 comment

11বিদ্যুৎ খাতে বিগত পাঁচ বছরে আমাদের নিরন্তর কর্মপ্রয়াসের সুফল জনগণের কাছে আজ দৃশ্যমান। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে ১০৩৪১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, ২০০৯ সালে যা ছিল মাত্র ৪৯৩১ মেগাওয়াট। জনগণ লোডশেডিংয়ের দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে এখনও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্বলতার ফলে এবং কিছু বহু পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকরী উৎপাদন কমে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই দুরবস্থা থেকে আশু পরিত্রাণের জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। একই সাথে জ্বালানি খাতেও আমরা পেয়েছি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দৈনিক ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুটে অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ : বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের অগ্রগতির ধারা এ মেয়াদেও অব্যাহত থাকবে। আমাদের নেওয়া মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আপনাদের জানা আছে, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমানে ২৪০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। সংশোধিত এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা বিভিন্ন মেয়াদে বেশ কটি মাইলফলক স্থির করেছি, ২০১৭ সালের হিসাব দিয়েছি এজন্য যে, যেসব কেন্দ্রের জন্য চুক্তি হয়েছে সেগুলো ওই সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাবেÑ
12b জ্বালানি : আমরা প্রাকৃতিক গ্যাসের যুক্তিসঙ্গত উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করব। দেশীয় সংস্থা বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। জোর দেব নতুন গ্যাস ও তেলক্ষেত্র অনুসন্ধানে। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সমুদ্র উপকূল ও গভীর সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করব। পাশাপাশি উদ্যোগ নেব ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ মোট ২১টি কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির। আমরা গ্যাস ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপচয় হ্রাসের উদ্যোগ নেব। এ ছাড়াও বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে। এজন্য মহেশখালী দ্বীপে এলএনজি টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
বাজেট ঘোষিত কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ : রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের সাথে প্রাথমিক কার্যাদির জন্য State Export Credit চুক্তি এবং Nuclear Industry Information Centre স্থাপন বিষয়ক আরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ২ অক্টোবর ২০১৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন : ১০৮৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে পার্থক্য দূরীকরণ : বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০৩৪১ মেগাওয়াট। আগামী ২০১৭ সালে প্রায় ১৮৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে বিধায় চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।
ধানের তুষ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন : ইডকলের অর্থায়নে ধানের তুষ থেকে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।
২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া : ৫৩টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, ১৪টি প্রক্রিয়াধীন, আরও ২০০টি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সমুদ্র উপকূলে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা : সাঙ্গু গ্যাসফিল্ড হতে দৈনিক প্রায় ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। দুটি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কনোকো ফিলিপসের সাথে স্বাক্ষরিত উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির (Production Sharing Contract, PSC) ভিত্তিতে জরিপকাজ শেষ হয়েছে। মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে ৩টি কূপ খনন শেষে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে ৬টি কূপের মধ্যে ৪টিতে খননকাজ শুরু হয়েছে। বাপেক্স কর্তৃক মোট ৫২৬ কিমি ২ডি সাইসমিক জরিপ এবং ১১৫০ বর্গকিমি ৩ডি সাইসমিক জরিপকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অনশোর/অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু : বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রেক্ষিতে অগভীর সমুদ্র অঞ্চলের ৯টি ব্লক এবং গভীর সমুদ্র অঞ্চলের ৩টি ব্লকসহ মোট ১২টি ব্লক অন্তর্ভুক্ত করে অফসোর বিডিং রাউন্ড ২০১২ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
12বাপেক্সের কাপাসিয়া/মোবারকপুর/সুন্দলপুর/শ্রীকাইলে অনুসন্ধান কূপ খনন : কাপাসিয়া, সুন্দলপুর ও শ্রীকাইলে মোট প্রায় ১ হাজার মিটার কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের পশ্চিম/দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সুবিধা সম্প্রসারণে ৩৫৬ কিমি লাইন নির্মাণ : এডিবি ও জিওবির অর্থায়নে ৪টি পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।
বাপেক্সে শক্তিশালীকরণ : বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনবলকে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে কাতার থেকে দৈনিক ৫০০ ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি : কাতার থেকে দৈনিক ৫০০ ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা ৩ গুণ বৃদ্ধি : ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এলএনজিভিত্তিক ১০৮৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

Category:

Leave a Reply