Blog Archives

ঋণের ফাঁদে পড়বে না বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: বিদেশি অর্থায়নে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে যেন বাংলাদেশ না পড়ে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন ‘আমার সময়ে বাংলাদেশ কখনই ঋণের ফাঁদে পড়বে না’। গত ২ জুলাই চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে ‘ডব্লিউইএফ অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স-২০১৯’ বা সামার ডাভোস সম্মেলনে ‘কো-অপারেশন ইন দ্য প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় শেখ হাসিনা এ-কথা বলেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।
শ্রীলংকার বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে পড়ার পর বাংলাদেশ নিয়েও প্রশ্ন আসছে বিভিন্ন মহল থেকে; যদিও বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ গড় মাত্রার অনেক নিচে রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘উনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি যে বড় বড় মেগা প্রকল্প করছেন, আপনি কি মনে করেন না যে এই ঋণ বাংলাদেশের জন্য একটা ফাঁদ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে?’ ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ জিডিপির ১৪ দশমিক ৩ শতাংশের মতো। এর আগের বছর ১২ শতাংশ ছিল। শ্রীলংকার বৈদেশিক ঋণ জিডিপির ৬৬ শতাংশ এবং ভারতের ঋণ ৩৪ শতাংশ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যেসব প্রকল্প নিয়েছি, তা যদি জনগণের স্বার্থে নিয়ে থাকি, ঋণের বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন যদি ঠিকমতো আসে এবং নেগোসিয়েশন যদি ঠিকমতো হয়, তাহলে ঋণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ৩টি বিষয় আমি নিশ্চিত করি।’ শেখ হাসিনার টানা ১০ বছরের শাসনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা আসছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছেন তিনি। টানা কয়েক বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে ধরে রেখে প্রশংসিত বাংলাদেশ; এই হার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। আলোচনায় ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শহীদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভূ-রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার জন্য প্রয়োজন দেশের জনগণের উন্নতি। দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জনগণের উন্নয়নই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’ আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাপানের একজন উদ্যোক্তা বলেন, তারা এখন বাংলাদেশ ও ভারতে বিনিয়োগ বাড়াবেন। চীন ও ভারতের সঙ্গে একই পর্যায়ের বন্ধুত্ব কীভাবে রাখেনÑ এমন প্রশ্নের মুখোমুখিও হন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান করে নিতে যাওয়া শেখ হাসিনা। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সহযোগিতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্যানেল আলোচনায় ৫টি প্রস্তাব রাখেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ সব দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করা; টেকসই উন্নয়নের পুরো দিকগুলোতে আলোকপাত করা; পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করা; অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং সবার জন্য সম্পদ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া; প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন শেখ হাসিনা। এরপর বিকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লস সয়াবের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

Category:

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: অবশেষে রাজধানীর চাঁনখারপুলে স্থাপিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে’র সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক চালু হয়েছে। গত ৪ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় ১৮ তলাবিশিষ্ট এই বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপি। তিনি ইনস্টিটিউটের লবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। গত বছর ২৪ অক্টোবর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এই ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুবিধার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ইনস্টিটিউটের সেবাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম, জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরুদ্দিন আহমেদ। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। পরিদর্শন শেষে একটি উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। আলোচনায় দেশের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগুনে পোড়া চিকিৎসার লক্ষ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ থেকে রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়া হবে। এই ইনস্টিটিউটে আরও পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল। ১৮ তলাবিশিষ্ট ইনস্টিটিউটের মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটটিতে ৫০০টি শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড রয়েছে। ভবনটিকে ৩টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকছে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে একাডেমিক ভবন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকছে।

Category:

৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলিবর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছর সশ্রম কারাদ- এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এ আদেশ দেন। এ সময় মোট ৫২ আসামির মধ্যে ৩৩ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজন আসামি মারা গেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পর এ রায় দেওয়া হলো।
মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন : জেলার ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান, পৌর বিএনপির সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, শামসুল আলম, শহিদুল ইসলাম অটল, রেজাউল করিম শাহীন ও আজিজুর রহমান শাহীন। এর মধ্যে আটজন কারাগারে আছেন। জাকারিয়া পিন্টু পলাতক।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন : আমিনুল ইসলাম (পলাতক), আজাদ হোসেন ওরফে খোকন, ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান শিমু, আনিসুর রহমান সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, মো. রবি (পলাতক), মো. এনাম, আবুল কাশেম হালট (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন (পলাতক), মামুন (পলাতক), সেলিম, কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও একেএম ফিরোজুল ইসলাম পায়েল।
এছাড়া ১০ বছর করে সাজা প্রদান করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা রন রিয়াজী (পলাতক), আজমল হোসেন ডাবলু, মুক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, হুমায়ুন কবির দুলাল, তুহিন বিন সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামূল কবির, জামরুল (পলাতক) ও বরকতকে।
মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাবার সময় ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে দুর্বৃত্তরা ট্রেনে তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নামে একটি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের হওয়ার পরের বছরে এ মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিল। কিন্তু আদালত ঐ রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে। পরে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে গত ৩০ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ জন নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। গত ২ জুলাই এ মামলার আরও দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করে। অন্যদিকে পুলিশ ওইদিন রাতেই এ মামলার আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৩৩ জন আসামি জেলহাজতে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১৪ জন এবং মারা গেছে পাঁচজন। এ মামলায় আদালতে ১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবনার পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা ও অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনাইন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম গেদা ও অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট একেএম শামসুল হুদা।
পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা বলেন, রায় ঘোষণার পর বিচারক আদালতে উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের পর থেকে রায়ের কার্যকারিতা শুরু হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, এ রায়ে সন্তুষ্ট নন তারা। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত রায় দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, রায় নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কোনো কর্মসূচিও নেই। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবিলা করা হবে।
আনন্দ মিছিল : এদিকে রায় ঘোষণার খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ঈশ্বরদী শহরে পৃথক দুটি আনন্দ মিছিল বের করে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্যতম সাক্ষী সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও এ রায় প্রমাণ করে যে দেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায় যথার্থ। এতে সাধারণ মানুষের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা ফিরে আসবে।

Category:

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন আশ্বস্ত করেছে

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দেয়ার মার্কিন কংগ্রেসম্যান শ্যারনের প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার (বাংলাদেশ) যে সীমানা আছে, আমার যে দেশটা আমরা তাতেই খুশি। অন্যের জমি নিয়ে আসা বা অন্যের কোনো প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, এটা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। এটা আমরা কখনই নেব না। প্রত্যেক দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইন স্টেট জুড়ে দিতে চায় কেন? এ ধরনের কথা বলা অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় বলে আমি মনে করি।
সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সব দেশেই হয়। কিন্তু একটা ভালো দিক যে এখন নির্যাতিত মেয়েরা সাহসের সঙ্গে সবকিছু বলছে, অতীতে মান-সম্মানের কারণে বলত না। তবে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এসব ঘটানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ধরনের জঘন্য কাজ যারা করছে তারা মানুষ নয়। এদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার, তা নেব এবং নিচ্ছি। তিনি এ ব্যাপারে দেশের পুরুষ সমাজকে নারী-শিশু নির্যাতনকারী ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের পুরুষ সমাজকেও বলব ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে। তাই পুরুষ সমাজেরও বোধ হয় একটা আওয়াজ তোলা উচিত। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে তাদেরও কিছু করা উচিত। খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে না-কি? নির্যাতনকারী ও তাদের স্বজাতীয় যারা আছে তাদের ব্যাপারে সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত।
গত ৮ জুলাই বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে তুলে ধরেছি। চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন এবং এই সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এটি একটি সুখবর।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। এ সময় সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (চীন) বলেছেন, বিষয়টা তারা বিবেচনা করবেন, দেখবেন। এটা কী সুখবর মনে হচ্ছে না? না দুঃখের খবর মনে হচ্ছে? এটা ঠিক যে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সব সময় আছে। এই যে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে, এটা যে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সমস্যাÑ এই কথাটা তো তারা নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারছে। সে জন্যই চীনও মনে করছে এই বিষয়টার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এজন্য তারা যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবেন বলে দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন, চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে হরতাল এবং ১৪ দলের কিছু নেতার সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ইস্যুতে বাম আর ডান (বিএনপি) মিলে গেছে। এক সুরে কথা বলছে, এটা তো খুব ভালো কথা। তবে আমার প্রশ্ন, আমাদের কি গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি নেই? দেশের যদি আমরা উন্নয়ন করতে চাই, তবে এনার্জি একটা বিষয়। এলএনজির জন্য খরচ যথেষ্ট বেশি পড়ে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও বছরে সরকারকে ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাহলে আমি এক কাজ করি, যে দামে কিনব সে দামে বিক্রি করি?
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে আন্দোলন করছে আবার বলেছে, ভারতে দাম কমিয়েছে। এ সময় ভারত ও বাংলাদেশে গ্যাসের দামের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে খরচ বাড়ায় ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪-০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাস নিতে চীন ও জাপান বিনিয়োগ করেছিল। ভারত সেই গ্যাস বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপ লাইনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা হতে দেয়নি। আমি হলে ভারতে গ্যাস নিতে তো দিতাম, আমার ভাগটাও রেখে দিতাম। সেই গ্যাসটা যদি পেতাম, তাহলে আজ এলএনজি আমদানি করতে হতো না।
বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতিই হচ্ছেÑ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। কার সঙ্গে কার কী সমস্যা, কার সঙ্গে কার কী যুদ্ধÑ সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এক সময় চীন আমেরিকার বড় বন্ধু ছিল। এখন আবার তাদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ। আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে যাই না। আমরা কারোর ঘরে আগুন লাগলে আলু পোড়া দিয়ে খাব, এটা চিন্তা করি না। বরং কোন্ দেশের সঙ্গে আমরা কতটুকু অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাব, সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবÑ সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চলি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা খুব সতর্ক ও সচেতন। আমাদের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ তত বেশি নয়। জিডিপির মাত্র ১৪ ভাগ বৈদেশিক ঋণ। আমরা ঋণ নিয়ে আবার সময়মতো পরিশোধ করি। বাজেটের ৯৯ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা বাস্তবায়ন করছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছে। সকল ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করছি বলেই আমরা দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। নিজের দেশের ভালো কাজগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এবারের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। যা বিশ্বের মধ্যে অনেকটাই রেকর্ড। নিজ দেশের এমন ভালো কাজগুলো ভালোভাবে তুলে ধরা উচিত। বাস্তবে দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না, তাদের চোখে কোনো কিছুই ধরা পড়ে না।

‘মুসলমান মুসলমানদের রক্ত নিচ্ছে এটা বন্ধ করতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দ্রুত অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয় এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে চান তিনি। তাই জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। আজ দেশ সব ধরনের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সম্মিলিত শক্তিতেই এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।
দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ও লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ হোক, কাল হোক এক সময় তার শাস্তি কার্যকর হবেই। মিয়ানমারের আপত্তি ও অসহযোগিতার কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই চায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাক। কিন্তু মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ-বিষয়ে তারাই আগ্রহী নয়। গত ৯ জুন বিকেলে গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি টানা ১২ দিনের জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফরের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, কূটনৈতিক সম্পর্ক, জঙ্গি-সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের অসংখ্য প্রশ্নের সাবলীল উত্তর হাসিমুখে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় মঞ্চে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেখি আমাদের অনেকের দরদ একেবারে উথলে ওঠে। কিন্তু আপনারা এটা ভুলে যান কীভাবে? ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা। কীভাবে আমরা বেঁচে গেছি। বাঁচারই কথা নয়। এতগুলো মানুষের জীবন তারা নিল ক্ষমতায় থাকতে। একবার না, বারবার এইভাবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বা বাইরে থাকতে হামলা করে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের নিয়ে এত মায়াকান্না কেন?
তিনি বলেন, সেই হত্যাকারী তারপর আবার এতিমের হক আত্মসাৎকারী। দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি এদের জন্য অনেকের মায়াকান্না দেখলে তাহলে আর এদেশের অপরাধীর বিচার হবে কীভাবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। আমরা আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে। এত বেশি টাকা-পয়সা বানিয়ে ফেলেছে তারা, সেখানে খুব বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। আর যখনই যাই তখনই একটা সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে আজ হোক, কাল হোকÑ এক সময় শাস্তি কার্যকর হবেই। সেটুকু বলতে পারি।
ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নরেন্দ্র মোদি আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করি আমাদের সমস্যাগুলো একে একে সমাধান হবে। শুধু তিস্তা, তিস্তা করে না। আপনারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন, আমাদের মেরিটাইম বাউন্ডারির মতো কঠিন একটা সমস্যা আমরা সমাধান করেছি। আমরা আমাদের যে ছিটমহল বিনিময় করেছি। পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ বেঁধে যাচ্ছে এই ছিটমহল নিয়ে। আমরা একটা উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অনেক কঠিন সমস্যা সমাধান করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। কারণ আমাদের এটা হচ্ছে ডেল্টা। হিমালয় থেকে নদীগুলো যদি আসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যেতেই হবে। পানিটা আমরা কতটা ধরে রাখতে পারব সেই ব্যবস্থা যদি আমরা করি তাহলে পানি পানি করে আমাদের চাইতে হবে না। আমরা নিজেরাই ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারব। আমরা তাই করব।
এবারের ঈদেও জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল : এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ঈদ জামাতের সময় জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করে। কোথাও কোনো ধরনের তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সবাই জানেন যে, নানা নামে নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের থ্রেট কিন্তু দিতেই থাকে। সারাক্ষণ কিন্তু এগুলো আসছে। সবটা আমি বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। কিন্তু যতদূর পারি, এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি।
এবার ঈদের আগেও তেমন হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের জামাতের সময় আমি সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলাম। কারণ এমন এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তা যেন কোনোমতে না ঘটে। তিনি বলেন, তিনি দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, দেশে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ থাকে। এবারও বিভিন্ন ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ‘মেসেজ’ চলে গেছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের পুলিশ বাহিনী, আমাদের র‌্যাব থেকে শুরু করে সকলেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সেজন্য খুব সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের কাছে সব সময় আমার আবেদন থাকবে, তারা যেন এ ব্যাপারে সজাগ থাকেন, সচেতন থাকেন। কারণ এসব ঘটনা আমাদের উন্নয়নের গতিধারাটা ব্যাহত করবে। দেশের দ্রুত অগ্রযাত্রা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
খুন করে কেউ কি বেহেশত থেকে মেসেজ দিয়েছে : সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মানুষ খুন করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধারণা করা হতো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গি হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রদেরও হঠাৎ মনে হলো, বেহেশতে যেতে হবে, মানুষ খুন করতে হবে। কোথায় লেখা আছে মানুষ খুন করলে বেহেশতে পাঠানো হবে? কেউ কি মানুষ খুন করে বেহেশতে পৌঁছে মেসেজ দিয়েছে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসি সম্মেলনে আমার লিখিত বক্তব্যে অনেক কিছু ছিল না। আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরেও অনেক কথা বলেছি। আমি বলেছি, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো দ্বন্দ্ব থাকে, কেন আমরা আলোচনা করে এসবের সমাধান করতে পারছি না? ওআইসির এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আমাদের সমস্যাগুলো যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি, তাহলে আত্মঘাতী সংঘাত আর রক্তপাত হয় না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশেও মানুষ খুন করে খুনিরা বলে, এই তো আমরা বেহেশতের কাছে পৌঁছলাম। বেহেশতে কে পৌঁছতে পেরেছে? যারা মানুষ খুন করেছে, তারা কি একজনও বেহেশতে পৌঁছতে পেরেছে? এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বহু মেসেজ দেয়, কেউ কি পাঠিয়েছে যে, আমি মানুষ খুন করে এখন বেহেশতে বসে আঙ্গুর ফল খাচ্ছি? দেখা যাচ্ছে, মুসলমানই মুসলমানদের হত্যা করছে। শেষ বিচার আল্লাহ করবেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে ভালো মুসলমান, কে ভালো মুসলমান না, কে সঠিক, কে সঠিক না, কে ভালো কাজ করছে, কে করছে নাÑ তার বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ ও রাসূল আমাদের দেননি। কেন মানুষ আল্লাহর ক্ষমতা কেড়ে নেবে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, শেষ বিচার তিনি করবেন। সেখানে নিরীহ মানুষ মারলে বেহেশত পাওয়া যাবে, সেটা তো কোথাও লেখা নেই। আল্লাহ কি কাউকে মানুষ মারার ক্ষমতা দিয়েছেন?
মুসলমান দেশগুলোর মধ্যেই খুনোখুনি হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আত্মঘাতী হচ্ছি। লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র বানাচ্ছে, তারা। যারা অস্ত্র দিচ্ছে, তারা। ওআইসি’কে বলেছি, মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে। এটা ওআইসি’কে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে আমার বাবাও মাথানত করেন নি, আমিও করব না। যা সত্য তা-ই বলে যাব।

Category:

সময় এখন শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশের

Posted on by 0 comment

মুহম্মদ শফিকুর রহমান: যে সংসদের নেতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা সেই সংসদ কার্যকর হবে, প্রাণবন্ত হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। যে বা যারা এটি স্বীকার করে না সে বা তারা দৃষ্টি প্রতিবন্দি। এরা তারাই যারা নিজেরা নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়ে সংসদে এসেই শপথ ভঙ্গ করেছেন। সংসদকে ‘অনির্বাচিত’ ‘অবৈধ’ বলা তো শপথ ভঙ্গেরই শামিল। প্রকারান্তরে তারা সংসদের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছেন। এমন কী এরা বিদেশি শঙ্কর প্রজন্ম হিসেবে পরিচিতিতেও অপমানবোধ করে না। এরা হতভাগা। এদের জন্য করুণা হয়। বেশি করুণা হয় ঐ শঙ্কর প্রজন্মের জন্য এই কারণে যে, এরা শহিদের রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলায় বিচরণ করেও এর কাদামাটির সোঁদাগন্ধ নিতে পারে না।
পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা ১৭ কোটি মানুষের বর্ণাঢ্য মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন মূলধারার পথে। মধ্যম আয়ের দুর্গম পথ অতিক্রমণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সমাপ্ত করে উন্নত সোনালি ভবিষ্যৎ রচনা করে চলেছেন। পঁচাত্তরের খুনিদের বিচার; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আয়োজন সম্পন্ন করে এগিয়ে চলেছেন। তার আগে আরেকটি বড় কাজে হাত দিয়েছেন। এ বছরের মধ্যে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সবই করছেন জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টকে আস্থায় নিয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে। এভাবে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অভিযাত্রী হিসেবে বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনেতা।
গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়ে গেল। বিগত অর্থবছরের ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে। এটি ছিল এক প্রাণবন্ত অধিবেশন। খুবই ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাজেট পেশ করতে পারছিলেন না। ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা পড়লেন। স্পিকার ড. শিরিন শারমিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেনÑ আপনি ইচ্ছে করলে পঠিত বলে গণ্য করার আবেদন করতে পারেন। কিন্তু না প্রধানমন্ত্রী পুরা বক্তৃতা পড়লেন। এমন কী রেওয়াজ অনুযায়ী অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনও করলেন একজন দক্ষ অর্থমন্ত্রীর মতো। যেন এই মন্ত্রণালয়টি তিনিই চালাচ্ছেন। আসলেও তাই, সবই তিনি চালাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতার লেভেলটা এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, তাকে জাতীয়-আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক যেখানেই ডাকা হবে তার পারফরমেন্স হবে সবার সেরা। এমন কী ক্রিকেটের ধারাভাষ্যও তিনি সবার চেয়ে ভালো করবেন। আর তাই সময় এখন শেখ হাসিনার, সময় বাংলাদেশের।
বাজেট আলোচনার পুরোটা সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কাটান। কিছু সময় সংসদের কার্যালয়ে বসে জরুরি সাক্ষাৎকারসহ রাষ্ট্রীয় কাজ সারেন। তারপর বেশির ভাগ সময়ই অধিবেশনে সংসদ নেতার আসনে বসেনÑ সামনে থাকে ফাইলের স্তূপ। সংসদে সকলের বক্তৃতা যেমন অবজারভ করেন তেমনি একটার পর একটা ফাইল ডিজপোজ-অফ করেন। ভালোভাবে পড়ে তারপরই। এই আমাদের সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম এমপি তার বাজেট বক্তৃতায় ট্রেজারি বেঞ্চের হয়েও যখন বলেন, “ঋণখেলাপিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। কঠোর হাতে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।” ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল যখন বলেন, “তার এলাকায় একটি পুলের কাজ পাঁচ বছর আগে শুরু হয়েছে, আজও শেষ হয়নি। এই সুযোগে বরাদ্দ বেড়েই চলেছে। কবে শেষ হবে জানেন না, এলাকার জনগণকে জবাব দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় পদ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া তার কিইবা করার আছে।” প্রধানমন্ত্রী সবই ফলো করেন। এমনকি বিএনপির রুমিন ফারহানা যখন সংসদকে ‘অবৈধ’ বলেন এবং ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য নো নো বলে হৈচৈ করেন কিংবা অপর বিএনপি সদস্য হারুনুর রশীদ নাকে-মুখে মিথ্যে বলতে থাকেন, সংসদ উত্তেজিত হয়। তখন তিনি সকলকে হৈচৈ করা থেকে নিবৃত্ত করেন। অথচ রুমিন ফারহানা যখন বলেন কৃষক দাম না পেয়ে ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে, আত্মহত্যা করছে। এই অসত্য তথ্য দেবার পরও তাকে বাধা দেওয়া হয়নি।
এবারের বাজেটের বিশেষত্ব সর্বজনীনতা। ‘সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাবার’ বাজেট এটি। এতে যেমন কৃষক-শ্রমিক; ছাত্র-শিক্ষক; কামার-কুমার; ব্যবসায়ী-শিল্পপতি; পাহাড়-সমতল; পিছিয়ে পড়া এবং এগিয়ে যাওয়া; শিশু-কিশোর; যুবা-বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সকল পেশাজীবী-কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে। এমনকি আদি যুগ থেকে পেছনে পড়ে থাকা সামাজিকভাবে অবহেলিত বেদে, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে পর্যন্ত মর্যাদা সহকারে বাজেট নিয়ে আসা হয়েছে।
৫,২৩,১৯০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ক’জনেরই বা মাথায় ছিল? কারও কারও কাছে অস্বাভাবিক বড়, পেটমোটা। সার্জারি করতে গেলে ফেটে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আবুল বারাকাতের মতে দেশে যদি কর ফাঁকি দেওয়া বন্ধ হতো এবং করের আওতাধীন প্রতিটি নাগরিক যথাযথভাবে কর প্রদান করত তাহলে বাজেটের আকার হতো সাড়ে ১২ লাখ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্কের ক্ষেত্রেও ফাঁকির অবাধ ব্যবস্থা বছরের পর বছর চলে আসছে।
বাংলাদেশ আজ স্বপ্ন বাস্তবায়নের সক্ষমতার এমন স্তরে উঠে এসেছে যে, নিজস্ব অর্থায়নেই সব করা সম্ভবÑ এখন আর গৌরীসেনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। হবেও না। সরকার এবার রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়কর খাতকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আয়করের রেট বৃদ্ধি করে নয়, কারও গলাটিপেও নয়। বরং করদাতার ক্ষেত্রটাকে সম্প্রসারিত করে। অর্থাৎ যারা কর প্রদানের যোগ্য অথচ কর দিচ্ছেন না তাদের করের আওতায় আনাই এবারের বাজেটের কৌশল। যেমন বর্তমানে আয়কর প্রদানকারীর সংখ্যা ২০,০০,০০০ (বিশ লাখ)। এখানে এবারের বাজেটে করদাতার সংখ্যা ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষিজীবীদের করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ যারা কর প্রদানের যোগ্য। তবে কৃষিজীবীদের করের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতার আশ্রয় নিতে হবে। কে না জানে আয়করের খাতায় একবার নাম লেখালে আর রক্ষা নেই। ঘুষঘোর আয়কর কর্মচারী-কর্মকর্তা, অসৎ আইনজীবী জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলার ভূরি ভূরি নজির রয়েছে। ধরুন, আপনি একজন বড় কৃষক। গত বছর আপনার ফসল ভালো হয়েছে, ভালো দামও পাওয়া গেছে। হিসাব করে করও দিয়েছেন। পরের বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল মার গেল এবং আয় কম হলো। কাজেই আয়করও কম হবার কথা। আয়কর কর্মকর্তারা বলবেন, আপনি গোপন করেছেন এবং এবারও আগেরবারের সঙ্গে টেন পার্সেন্টের একটা অঙ্ক বসিয়ে দেবেন। এবার আপনি যতই ধন্না দেন না কেন কাজ হবে না। তবে হবে, মোটা অঙ্কের ঘুষ দিলে। ধরুন স্বাভাবিক নিয়মে আপনি কর দিতে চান, কিন্তু আপনার আইনজীবী বাধা দেবে। তারও যুক্তি আছে, আগেই বলেছি, এবারে বেশি দিয়ে পরেরবার (ফসলেহানির কারণে) কম দিতে গেলে কর্মকর্তারা মানবে না। অযৌক্তিক বাড়তি কর, ঘুষÑ সব মিলিয়ে আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে।
আরেকটি জায়গায় সরকারকে কঠোর হবার সময় এসেছে। তা হলো ঋণখেলাপিদের বিষয়টি। এক্ষেত্রে সরকার ছাড় দেবেন না। ঋণখেলাপিরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পলিটিক্যাল পার্টিকে চাঁদা দেয়। কী করে তাদের গায়ে হাত দেবেন? এসব কথা সংসদে বলার কথা আমাদের বিরোধী দলের, তাও আবার দুটি, সাংবিধানিক এবং নয়াপল্টনের। প্রথমটি জাতীয় পার্টি। অপরটি মূলত নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ের বিরোধী দল তথা বিএনপি। তারা অবশ্য দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়েই নির্বাচন করেছে। জাতীয় পার্টি সংখ্যায় বিএনপির চেয়ে বেশি, অতএব তারা সাংবিধানিক বিরোধী দল। কাজেই এই গ্রুপটি সংসদে এবং সংসদের বাইরে ‘গঠনমূলক’ বিরোধিতা করছেন। বাকি থাকে দ্বিতীয় গ্রুপ বিএনপি। তারা সংসদে ঢুকে জনগণের কথা, আইন প্রণয়নের কথা না বলে কেবল তাদের দলের পক্ষে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে কথা বলেনÑ প্রথমত; মিথ্যে বলেন তাদের দল, দলের নেতা-নেত্রীদের চ্যাম্পিয়ন বানানোর জন্য। দ্বিতীয়ত; ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলতে থাকেন, তাও ৯৮ শতাংশই মিথ্যের ওপর। যেমনÑ বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের (লন্ডনে লেখাপড়া করেছেন) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রথম দিন শপথ গ্রহণ করে সংসদে ঢুকেই বললেন এই সংসদ ‘অনির্বাচিত’ ‘অবৈধ’।
বিএনপির আরেক সদস্য হারুনুর রশীদ। এই ভদ্রলোক ‘মি. পাপিয়া’ নামে পরিচিত, এক সময় পাপিয়া নামের এক নেত্রী নয়াপল্টনের সামনে পুলিশের সাথে ঝগড়াঝাটি করতে করতে সংসদ সদস্যও (২০০১) হয়েছিলেন এবং সংসদে মিথ্যা-অশ্রাব্য বক্তব্য দিয়ে বিখ্যাত-কুখ্যাত হয়েছিলেন। এবার বিএনপি তার জামাইকে নমিনেশন দিয়েছে, পাসও করেছে, পাপিয়াকে বদলে রুমিন ফারহানাকে সংরক্ষিত আসনে দিয়েছে। অবশ্য প্রচলিত ধারণা হলো রুমিন ফারহানার নমিনেশন পাওয়ার পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমানÑ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পঞ্চাশ-ষাটের দশকের ব্যর্থ রাজনীতিক অলি আহাদের কন্যা। এই ভদ্রলোক সাংগঠনিক নেতৃত্বের দৌড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে হেরে গিয়ে সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছেন। নিজের কোনো সংগঠন ছিল না। তাতে কী? সাপ্তাহিক ‘ইত্তেহাদ’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন এবং তাতে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যা খুশি লিখতেন। বঙ্গবন্ধু ঐসব বিরোধিতা কানেও তুলতেন না। পাত্তাও দিতেন না। আর অলি আহাদ মূল ধারা থেকে ছিটকে পড়ে অলিগলিতে হাঁটতে হাঁটতে একদিন চোরাগলিতে হারিয়ে যান। এমন কী এই অলি আহাদ এত নিচে নেমেছিলেন যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনি ফারুক-রশীদদের পক্ষে সাফাই গাইতেও তার বাধেনি। দীর্ঘদিন এই ধারা অব্যাহত থাকে। টিভির টক-শোওয়ালারা রুমিনকে পেলে খুশি হয় এ জন্য যে, তিনি চিৎকার করে মিথ্যে বলতে পারেন। এতে টিভি ম্যানেজমেন্ট খুশিই হন। রুমিন বেশ কিছুদিন লন্ডনে ছিলেন। শোনা যায়, ঐ সময় তারেক রহমানের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হন। যে কারণে দলীয় নেত্রী সেলিমা রহমান, শ্যামা ওবায়েদ, নিতা রায়, পাপিয়াদের পেছনে ফেলে নমিনেশন দৌড়ে ফাস্ট হয়ে যান।
আমি দৈনিক জনকণ্ঠে চতুরঙ্গ পাতায় আমার নিয়মিত কলাম-এ (টক শোর মতো সংসদে মিথ্যে বলে পার পাওয়া যায় না।) তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছু কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম “সংসদ অবৈধ হলে তিনি কি বৈধ? সংসদ সদস্যরা যদি সংসদের সন্তান হয় তাহলে তিনিও ‘অবৈধ সন্তান’ এবং ‘অবৈধ সন্তান’-এর প্রতিশব্দ মোটেই সুশ্রাব্য নয়, তাই ব্যবহার করিনি। তবে রুমিন ফারহানা পরিচয় দিতে গিয়ে তার বাবার পরিচয় তুলে ধরেছিলাম। পরে সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে রুমিন বলেছেন এসব লেখা না-কি কোনো সভ্য মানুষ লিখতে পারে না।”
আমি সংসদে এর জবাব দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ভাবে দিতে পারিনি। আমি বাজেট বক্তৃতায় আমার এলাকার কথা বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। কেননা বাংলাদেশ গত ১০ বছরে যেভাবে অনুন্নত দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশ এবং স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল এবং মধ্যম আয়ের দেশ-এ পরিণত হয়েছে, যার ছায়া বাংলার গ্রামে গ্রামে পড়েছে দৃশ্যমানভাবে; কিন্তু ফরিদগঞ্জে তার ছিটেফোঁটাও পড়েনি। এর কারণ ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বিগত ৪৩ বছরে এই প্রথম আমিই নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করে সংসদে এসেছি। আমাকে ৪৩ বছরের পিছিয়ে পড়া ফরিদগঞ্জকে টেনে তুলতে হচ্ছে। কে না জানে বিএনপির উন্নয়ন আর গণতন্ত্র জিহ্বার আগায়, ৫৮ হাজার বর্গমাইলের কোথাও নেই। নেই ফরিদগঞ্জে, এই রুমিন ফারহানা যখন বলেন, খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক (দুজনই দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে একজন দেশের কারাগারে আরেকজন দ- মাথায় নিয়ে লন্ডনে পলাতক) সবচেয়ে জনপ্রিয়। তখন তো জবাব দিতেই হয়। এতিমের টাকা মেরে খালেদা কারাগারে, তাকে জনপ্রিয় বলে রুমিন বাংলাদেশের জনগণকে অপমান করেছেন। জনগণ কি ‘হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবনে’র নাম ভুলে গেছে? বিএনপির হারুনুর রশীদ কথায় কথায় পবিত্র কোরআনের রেফারেন্স টানেন। সময় পেলে বাজেট বক্তৃতায় তাকে জিজ্ঞেস করতাম সংসদে কোথায় মিথ্যা বলা যাবে? কোরআনের কোথায় আছে? বরং আমি জানি কোরআন শরিফের সুরা আল ইমরানের ৬১নং আয়াতের শেষাংশ ‘মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লা’নত।’ (লা’নাতাল্লাহি আ’লাল কাজেবিন)। এই লা’নত শব্দের অর্থ বাংলা ভাষাভাষী মানুষও জানে। আর ব্যারিস্টার ফারহানা যখন বলেন, তারেক রহমান সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা (?) হাসি পায়। রুমিন ফারহানার বাংলা জ্ঞান সীমিত বলে মনে হয়। বলতে চেয়েছেন জনধিকৃত বলে ফেলেছেন উল্টোটা।
আমি এবারের সংসদে ফরিদগঞ্জের কিছু দুঃখের কথা তুলে ধরেছি :
এক. ফরিদগঞ্জে জরুরিভিত্তিতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন। অবস্থা এমন হয়েছে যে, আগুন লাগলে চাঁদপুর বা লক্ষ্মীপুর থেকে ফায়ার ফাইটারদের আসতে হয় এবং অকুস্থলে পৌঁছার আগেই প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায়। ঠিক যেমনটি ছোটবেলায় ইংরেজি গ্রামারে পড়েছিলামÑ ঞযব চধঃরবহঃ যধফ ফরবফ নবভড়ৎব ঃযব ফড়পঃড়ৎ পধসব-এর মতো।
দুই. ফরিদঞ্জে জমি আছে অথচ শিল্পকলা একাডেমি, উন্মুক্ত মঞ্চ তথা শিল্পাঙ্গন নেই, যা অতীব প্রয়োজন। ফরিদগঞ্জ সদরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ৩ একর সম্পত্তি আছে। এই জমিতে শিল্প-সংস্কৃতির কেন্দ্র হতে পারে।
তিন. ফরিদগঞ্জ সদরে একটি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুল মাঠগুলোকে খেলার মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা।
চার. বিকেএসপির আদলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
পাঁচ. ফরিদগঞ্জ ডাকবাংলোটি মজবুত সিকিউরিটি বাউন্ডারি ওয়ালসহ নির্মাণ।
ছয়. যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাকা ঘর নেই, সেগুলোতে পাকা বিল্ডিং করা। যেমনÑ বালিথুবা আবদুল হামিদ হাই স্কুল, গল্লাক আদর্শ কলেজ, বালিথুবা অদুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা ইত্যাদি।
সাত. ডাকাতিয়া নদী পুনঃখনন করে নাব্য ফিরিয়ে আনা। এককালে এই নদী ছিল গলদা চিংড়িসহ মিষ্টি পানির মাছের ভা-ার। বড় বড় মহাজনী নৌকা, মালবাহী জাহাজ চলত। দুই পাড়ের ভূমিদস্যু আর ইটভাটার মালিকদের দখল-অত্যাচারে এখন শীর্ণকায়। নৌকাও চলে না। অবিলম্বে ড্রেজিং করা না হলে ডাকাতিয়া ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে। বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আট. ডাকাতিয়ার ওপর উটতলি ব্রিজ নির্মাণ। এটি ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর এই চার থানার সরাসরি কানেকটভিটি এনশিয়র করে।
নয়. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (বেডিবাঁধের) সকদি রামপুর, খাড়খাদিয়া, কৃষ্ণপুর, সরলাল, মূলপাড়া, বাচপাড়, বদরপুর, মনতলা, ঘনিয়া, মানুরী, বাশারা, মুন্সীরহাট, বৈচাতলি, শ্রীকালিয়া, সুরঙ্গচাইল প্রভৃতি বেড়িবাঁধের গ্রাম বর্ষায় পুরো সময় পানির নিচে থাকে। মূল ভূখ-ের সাথে পাকা রাস্তা নেই। পাকা রাস্তা নির্মাণ জরুরি। কয়েকদিন আগে একটি কাঁচা রাস্তার কাজ পরিদর্শনকালে বদরপুরের এক ভদ্রলোক বললেন, ‘স্যার আমাদের রাস্তাগুলো পাকা করে দিন। পাকা পুল নির্মাণ করে দিন। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। ভালো বিয়েও দিতে পারি না মেয়েদের। সম্বন্ধ আসে; কিন্তু যাতায়াতের করুণ অবস্থা দেখে বরপক্ষ ফিরে যায়।’
সার্বিক বিবেচনায় বলতে পারি। এবারের সংসদ আইন প্রণয়নের, জনগুরুত্বসম্পন্ন প্রস্তাবাবলী আলোচনায়, প্রশ্নোত্তরে, বিশেষ করে মাননীয় সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা সময়ের সবচেয়ে মেধাবী, সাহসী, দক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নোত্তর পর্ব সংসদকে প্রাণবন্ত করে চলেছে। তিনি সর্বক্ষণ সংসদে থেকে একে অর্থবহ করে তুলেছেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সংসদ সদস্য; সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়; সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জাতীয় প্রেসক্লাব

Category:

সাকিব-মোস্তাফিজে বাংলাদেশ রঙিন

Posted on by 0 comment

আরিফ সোহেল: বিশ্বকাপের বাংলাদেশ = সাকিব + মোস্তাফিজ। শুনতে কি খারাপ লাগছে। হিসাব-নিকাশ-সংখ্যাতত্ত্বে তাই তো প্রমাণ করে। সাকিবের সঙ্গে মোস্তাফিজের মেলবন্ধনে বিশ্বকাপে আলোকিত বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান বলছেÑ সাকিব বিশ্বকাপরে ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ৫ ফিফটিতে ৬০৬ রান করেছেন। নিয়েছেন ১১ উইকেট। এক কথায় অবিশ্বাস্য পারফরমেন্স। সেই খুশির দিগন্ত মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে, যখন ভাবছেন বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করেছে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে। বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনালে যেত, সাকিবের রানটা নিশ্চিত আরও বাড়ত। হয়তো বাড়ত উইকেট সংখ্যা। কাটার মোস্তাফিজও আরও ভেলকি দেখানোর সুযোগ পেতেন। শুধু তাদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বলই হতো না। করতে পারতেন আরও অনেক অনেক রেকর্ড।
সংখ্যাতত্ত্বে বৃত্তায়নে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ৮ ম্যাচে পেয়েছেন ২০ উইকেট। এর মধ্যে শেষ দুই ম্যাচে ৫ উইকেট করে নিয়েছেন ১০ উইকেট। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বিরল ও গৌরবের। প্রথম খেলতে নেমেই লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন। হতাশার বোলিংয়ে মোস্তাফিজ যা একটু খুশির উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। মোস্তাফিজ লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠালেন তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে।
এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন সাকিব আল হাসানের উত্থান। টেস্ট ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ওডিআই বা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে সাকিব শীর্ষ অলরাউন্ডারের আসনেই আসীন ছিলেন। থাকবেন সামনেও। সাকিবের আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একই আসরে ৫০০ রান ও ১০ উইকেট কেউ কখনও নিতে পারেন নি। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিবই প্রথম এই বিরল কৃতীর অধিকারী হলেন। বিশ্বকাপটি হয়তো চার বছর পরপর হাতবদল হবে; কিন্তু সাকিব আল হাসানের রেকর্ড সহজে ভাঙবে বলে মনে হয় না। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছেন। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বললেন, ‘ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের কথা যদি বলেন, খুবই খুশি। যে ধরনের ইচ্ছা, মন-মানসিকতা নিয়ে এসেছিলাম, সেদিক দিয়ে আমি খুশি, তৃপ্ত। তবে দল সেমিফাইনালে গেলে আরও ভালো লাগত।’
সাকিব আল হাসান যথারীতি আপন আলোয় আলোকিত। শেষ ২ ম্যাচে ৫টি করে উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজ সামনে এগিয়ে এসেছেন। নইলে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপটা যেন একাই খেললেন সাকিব! প্রথম ২ ম্যাচে ফিফটি। পরের ২ ম্যাচে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ৬০৬ রানের সঙ্গে ১১ উইকেট। অবশ্য শ্রীলংকার বিপক্ষে বৃষ্টিভাসির গল্পটা সাকিব-মোস্তাফিজকে কিছুটা হতাশ করেছে। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে গেলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার দাবিটা নিশ্চিতভাবেই আরও জোরালো হতো সাকিবের।
৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে সাবিক-মোস্তাফিজদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট দলের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও সামগ্রিক পারফরমেন্সে আমি খুশি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিকেট ভালোবাসেন। ক্রিকেট দলের খোঁজ নিয়মিত রাখেন অভিভাবকের মতোই। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কিন্তু খেলা দেখেছি। অনেক রাত পর্যন্ত। অফিসিয়াল কাজ যেমন করেছি, খেলাও দেখেছি। হয়তো একবার দেখতে পেরেছি, একবার পারিনি। যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলা দেখেছি। আমি তো আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাব, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কিন্তু এসেছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে।’
ক্রিকেটপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করেছে, ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও আছে। আমরা যে এতদূর যেতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কিছু খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমানÑ এরা বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না। খেলা এমন একটা জিনিস, অনেক সময় কিন্তু ভাগ্যও লাগে। সব সময় যে সবকিছু ঠিকমতো হবে, একই রকম হবে, সেটা নয়। ক্রিকেটাররা সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পেরেছে, আমি এটার প্রশংসা করি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত, তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের ছেলেরা খেলতে পেরেছে। তাদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব তো আমি দেখি না। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ কিন্তু ভালো করছে। এগিয়ে যাচ্ছে।’
দেশে ফিরে মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপে সাকিব-মোস্তাফিজ আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ এর বাইরে যাননি। সামগ্রিকভাবে দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে বলেছেন, ‘তারপরও দলের পারফরমন্সে ইতিবাচক অনেক দিকই আছে। বিশেষ করে সাকিব অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। মোস্তাফিজও কম যায়নি। বিশ্বকাপে অনেক ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন।’ তাদের সঙ্গে অধিনায়ক মুশফিক ও সাইফউদ্দিনের কথাও উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে অনেকের মুখেই তালা লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। কারণ অনেক বোদ্ধা বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করে বলেছিলেন, ‘সাকুল্যে বাংলাদেশ একটি ম্যাচে জিতবে।’ কিন্তু সাকিব-মোস্তাফিজ-মুশফিক-সাইফউদ্দিনে বিশ্বকাপে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পারফরমেন্স দেখে শচীন-মিয়াদাদ-ভনরা বেজায় মুগ্ধ। তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেনÑ বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের নতুন একটি অধ্যায়ের নাম। তারা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।

Category:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে নারী নেতৃত্ব

Posted on by 0 comment

7-4-2018 6-10-40 PMঅধ্যক্ষ গোলসান আরা বেগম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্নের ৭৭ বছর পেরিয়ে এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্ববৃহৎ দল। প্রগতিশীল, উদার সংস্কৃতি, বিজ্ঞানমনস্ক ও আদর্শিক চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করেছিল রাজনীতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ দলটিই ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিকে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেয়। অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার বিচক্ষণতা, মেধা, দক্ষতা ও সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছে।
আওয়ামী লীগকে দেশের সর্ববৃহৎ দল হিসেবে গড়ে তোলার মূলে পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে। যুক্তফ্রন্টেই প্রথম। আমেনা বেগম, বদরুন্নেছা বেগম, বেগম আনোয়ারা খাতুনসহ কয়েকজন নারী প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার আগে, বিশেষতঃ ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনে দলের সকল নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আমেনা বেগম। এছাড়া আমেনা বেগম, বদরুন্নেছা বেগম, বেগম আনোয়ারা খাতুন, অধ্যাপিকা নূরজাহান মোরশেদ, দওলতুন্নেছা খাতুন-সহ প্রমুখ নারী নেতৃত্ব সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর আওয়ামী কার্যক্রমে নেমে আসে স্থবিরতা। ম্রিয়মাণ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দলটির মূল দায়িত্বে আনা হয় নারী নেত্রী সাজেদা চৌধুরী ও জোহরা তাজউদ্দীনকে। কিন্তু তারাও ষড়যন্ত্রের শিকার হন। নেতৃত্ব ক্রাইসিসে পড়ে আওয়ামী লীগ। ১৯৮১ সালে ১৭ মে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে নেতৃত্ব অর্পণ করা হয় দলটির চরম বিপর্যয় ঠেকানোর স্বার্থে। তিনি সুদৃঢ়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির চেয়ারকে শক্তিশালী করেন। সেই থেকে অদ্যাবধি ৩৭ বছর ধরে পার্টির কর্ণধার হিসেবে আওয়ামী মতাদর্শের রাজনীতিকে বলিষ্ঠ হাতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। সপ্তম, নবম, চলমান দশম জাতীয় সংসদে তিন টার্মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি হয়েছেন জননন্দিত। বর্তমান বিশ্বে ১০০ জন মর্যাদাসম্পন্ন নেতাদের মাঝে ৪৭তম অবস্থানে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নের জোয়ারে প্রবাহিত করে বিশ্ব অঙ্গনে সফল নারী নেত্রী হিসেবে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সুদক্ষ নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ও অর্জন করেছেন বহু মূল্যবান খেতাব, পদবি ও পুরস্কার। আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিল সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে। তখন ৭৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১০ জন নারী সদস্য ছিলেন। অতঃপর ২০১৬ সালে অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ২০তম সম্মেলনে সদস্য সংখ্যা ৮১-তে উন্নীত করা হয়।
নারীবান্ধব এই নেত্রীর পাশাপাশি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, যিনি বর্তমান ও বিগত সরকারের সফল কৃষিমন্ত্রী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. দীপু মনি। তিনিও নবম জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জাতীয় সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন যিনি নবম সংসদে স্বরাষ্ট্র, পরবর্তী পর্যায়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন, তিনিও প্রেসিডিয়াম সদস্য। মেহের আফরোজ চুমকি এমপি দশম জাতীয় সংসদে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একই সংসদে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারানা হালিমকে পেয়েছি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে। উজ্জ্বল নেতৃত্বের স্বাক্ষর বহন করে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কৃষিবিষক দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদুন্নাহার লাইলী। মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফজিলাতুন্নেচ্ছা ইন্দিরা। ডা. রোকেয়া সুলতানা, শামসুন্নাহার চাঁপা যথাক্রমে স্বাস্থ্য ও জনশক্তি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির ৬টি সাধারণ সদস্যপদ অলঙ্কৃত করেছেন সিমিন হোসেন রিমি, তিনি জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে। বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, তিনি নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী ছিলেন, পারভীন জামান কল্পনা তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কামারুজ্জামানের মেয়ে, মেরিনা জাহান তিনি বদরুন্নেছা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন, ড. শাম্মী আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু সহচর মহিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে, মারুফা আক্তার পপি, সাবেক ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। ২০তম কাউন্সিল অধিবেশনের পর ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিসহ ১৫ জন নারী সদস্য রয়েছে, যা শতকরা হারে ২০.২৭ শতাংশ, পূর্বের কমিটির তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। সভাপতিসহ চারজন নারী প্রেসিডিয়াম সদস্য, চারজন নারী সম্পাদকীয় সদস্য রয়েছে। ২৮ জনের সদস্য পরিষদে রয়েছে ছয়জন নারী সাধারণ সদস্য, যা শতকরা হারে ২১ শতাংশ। তবে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে রয়েছে নারী সদস্য ১৯ শতাংশ। এসব সফল নেতৃবৃন্দ নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল বাতিঘর হিসেবে প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারী সমাজকে।
নারীরা পারে না, পারবে নাÑ এই অপবাদ থেকে বেরিয়ে এসে আজকাল বহু নারী রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় করছে বিচরণ। কিন্তু এখানে টিকে থাকা ও জায়গা করে নেওয়া সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তবে না নারী নেতৃত্বের তিলক সংগ্রহ করতে হয়। তাই সেলুট জানাই যারা হাজারো প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে অতীতের ন্যায় বর্তমানেও রাজনীতি কর্মী হিসেবে আওয়ামী রাজনীতিতে সফলভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল কমিটিতে বৃদ্ধি করার জন্য নানা প্রস্তাব চলছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ’৯০-এর খ-এর খ(২) অনুচ্ছেদে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরেই ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধন প্রথা ২০০৮ সালে চালু করার পর নির্বাচন কমিশন সতর্ক করে দিয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নিবন্ধিত দলসমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুখের খবর হলো এই অধ্যাদেশ জারি করার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২০২০ সালের মধ্যে শর্ত পূরণ করবে। তাহলে নতুন কমিটিতে ১২ জন নারী সদস্য যুক্ত করতে হবে। তখন নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৭-এ। আগামী দুবছরের মধ্যে আদৌ কি এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হবে? বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০২০ সালের মধ্যে একটি কাউন্সিল অধিবেশন করার সুযোগ পাবে।
রাজনীতি করার প্রক্রিয়াটি নারীর জন্য মসৃণ নয়। নারীর চারপাশ কখনও চায় না নারীরা রাজনীতিতে আসুক। তারপরও প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে তবে না নারীরা রাজনীতিতে রাখে পা। পা রাখলেও টিকে থাকতে পারে না। যারা টিকে থাকে তাদের কত ঝড়-ঝাপটা সহ্য করতে হয় কেবল তারাই জানে। রাজনীতির মূল দায়িত্বে জননেত্রী শেখ হাসিনা থাকায় নারীর সুভাগ্যের চাকাটি গড়িয়ে যাচ্ছে সম্মুখ পানে। তবে পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে সংস্কার আনতে হবে। বদলাতে হবে আচার-আচরণে কার্যকারিতার চিন্তা-চেতনা। রাজনৈতিক নারী কর্মীদের জন্য সুসংবাদ হলোÑ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষে রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারণী কমিটির সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি উদার হয়েছে। আওয়ামী লীগের ৬৪টি জেলা, ১২টি মহানগর সর্বমোট ৭৮টি সংগঠনিক জেলা কমিটির ৭১ সদস্যের কমিটিতে মহিলা সম্পাদক পদ ছাড়াও অনেক পদে নারীরা রয়েছেন। কিন্তু সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে নারী সদস্যদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। ৪৯০টি উপজেলা, ৩২৩টি পৌরসভা, ৪৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন কমিটি রয়েছে। রয়েছে ইউনিয়নের ওয়ার্ড ও পৌরসভা কমিটি। এসব কমিটিতে যদি শর্ত মোতাবেক পদে নারীকে জায়গা করে দেওয়া হতো, তাহলে বিপুল সংখ্যক নারী রাজনীতি করার সুযোগ পেত। কিন্তু না বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী বিপুল পরিমাণ নারী রাজনৈতিক কর্মীকে নানা অজুহাত দেখিয়ে সরিয়ে রাখা হয়। এর পিছনে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নারী বলেই হয়তো অথবা সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন বিকাশের লক্ষ্যে সব সময় নারীদের রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে উৎসাহ দেন। এ কারণেই ধারাবাহিকভাবে শুধু কেন্দ্র নয়, তৃণমূল পর্যায়েও বিভিন্ন কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সূচনালগ্নে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদে ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনের পদ সৃষ্টি করে দিয়ে নারীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এই আসন সংখ্যা দশম জাতীয় সংসদে ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে। চলমান দশম সংসদে বিচক্ষণতা ও সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের বর্তমান নারী সমাজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচন দাবি করছে। নানা অজুহাত তুলে কেউ কেউ সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করছে। অথচ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ইত্যাদি পর্যায়ে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেই নারীকে নিজেদের নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটাতে হয়। তাহলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের অসুবিধাটা কোথায়? নারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করছে এই আসনে সরাসরি নির্বাচন হলে যোগ্য ও প্রকৃত নারী রাজনৈতিক কর্মী জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ব্যক্তি পরিচয়ে অযোগ্য নারীরা পেছন দরজা দিয়ে জাতীয় নীতি-নির্ধারণের পবিত্র জায়গায় যেতে পারবে না। তৃণমূল পর্যায়ের ও রাজপথের নারী রাজনৈতিক কর্মীদের কদর বাড়বে। নারীরা রাজনীতিকে সেবা ও পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে। আসুন আমরা নারীদের প্রতি আন্তরিক হই। নারী নেতৃত্বকে স্বাগতম জানাই ও নারীকে রাজনীতি করার ক্ষেত্র তৈরি করে দেই। বলিÑ নারী তুমি এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে।

লেখক : অধ্যক্ষ, আরএস আইডিয়েল কলেজ, কিশোরগঞ্জ

Category:

বাসাবাড়িতে মাছ চাষ

Posted on by 0 comment

7-4-2018 6-05-37 PMরাজিয়া সুলতানা: সেই কবে মজা করে কবি যোগীন্দ্রনাথ সরকার লিখেছিলেনÑ ‘ডাঙায় চরে রুই-কাতলা!’ বিজ্ঞানের কল্যাণে এবার সত্যি সত্যি পুকুর, খাল-বিলের বদলে মাছের চাষ হচ্ছে ডাঙায়, একেবারে ঘরের ভেতর। অর্থাৎ পুকুর কেটে বড় আয়োজন করে মাছ চাষ, আর বহু রকমের ঝুট-ঝামেলা পোহানোর দিন শেষ। পেশাদার মনোভাব নিয়েই দেশে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে ইনডোর ফিশ ফার্মিং বা ঘরোয়া মাছ চাষ।

ঘরের ভেতরে শখের অ্যাকুরিয়ামে চোখ ধাঁধানো মাছ দেখেই এতদিন আমরা অভ্যস্থ ছিলাম। এবার চাইলে ঘরেই হবে মৎস্য চাষ। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিএসআইআর, সেন্টার ফর টেকনোলজির আওতায়-২০১৫ সালে নিয়ে এসেছে তেমন একটি প্রযুক্তিÑ নাম ইনডোর ফিশ ফার্মিং। প্রযুক্তিটি পূর্ব থেকেই চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খুব জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে চাষ করা যায়Ñ পাবদা, গুলশা, শিং, কৈ মাগুরসহ কার্প জাতীয় নানা মাছ। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছের পেশাদারি উৎপাদন শুরু হয়েছে। সরকারি পর্যায়ের বাইরেও হাতে-কলমে চলছে বেসরকারি প্রকল্প। চাইলে আপনিও হতে পারেন এই প্রকল্পের একজন উদ্যোক্তা-মালিক। মাছের এই ঘরোয়া চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণে আপনাকে সার্বিক কারিগরি সহায়তা দেবে বাংলাদেশ শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

বিসিএসআইআর তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ধাতব পাতের বড় এক কক্ষ তৈরি করে সেখানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চালিয়ে যাচ্ছে মাছ চাষ। মোটা টিনের তৈরি ২ হাজার বর্গফুটের এই কক্ষটিতে ১১টি ট্যাংকে বিস্ময়কর দ্রুততায় বেড়ে উঠছে নানা প্রজাতির মাছ। এই পদ্ধতিতে প্রথম একটি বড় ঘরের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এরপর ঘরটিকে দুটি আন্তঃঘরে ভাগ করা হয়েছে। একটিতে থাকে পানির ট্যাংকি, যাতে থাকে মাছ আর অন্যটিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, যা পানিকে প্রতিনিয়ত রিসার্কুলেটেড সিস্টেমে পরিবর্তন করে। প্রতিটি ট্যাংকিতে পানি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার লিটার। রয়েছে ৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ ফেজের বিদ্যুৎ।

বিসিএসআইআর সূত্রে জানা গেছেÑ এই প্রকল্প কার্যকর করার জন্য কম-বেশি ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন। আর প্রতিমাসে খরচ হবে প্রায় ২৫-৩০ হাজার। ২-৩ বছর পর হতেই লাভ আসা শুরু হবে। প্রকল্পটি নিরবচ্ছিন্নভাবেই চলবে প্রায় ৮-১০ বছর। এই পদ্ধতিতে জু প্লাংটন বা ফাইটোপ্লাংটন প্রয়োজন হয় না। দিতে হয় নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান-সমৃদ্ধ ভাসমান ফিড। সিংকিং ফিড দেওয়া যাবে না। পরিমাণের চেয়ে বেশি ফিডও দেওয়া যাবে না। তা সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে। মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে অক্সিজেনের লেভেল রাখতে হয় ৮-এর ওপরে এবং এফসিআর অর্থাৎ ফিড কনভারশন অ্যান্ড পারফরমেন্স লেভেল রাখতে হবে ১.২। এতে ১ কেজি খাবার দিয়ে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম মাছ পাওয়া সম্ভব। সাধারণভাবে পুকুরে ২ কেজি খাবার দিয়ে পাওয়া যায় ১ কেজি মাছ। পাবদা মাছের ক্ষেত্রে ইনডোর ফিশ ফার্মিং পদ্ধতিতে ১ কেজি মাছ উৎপাদনে খরচ পড়বে ১৮০ টাকা, যা কমপক্ষে বিক্রি হবে ৩০০ টাকা। বিজ্ঞানীদের দাবি, ওই পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন হার প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছ চাষের চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি। ফলে লাভও হবে প্রায় ৩ গুণ বেশি। এই প্রযুক্তিতে ১ হাজার ঘনলিটার পানির ঘনত্বে ১০০ কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়। অন্যদিকে পুকুরে এই পরিমাণ পানিতে মাত্র ১০ থেকে ২০ কেজি মাছ উৎপাদন সম্ভব। তাও যদি গ্রোথ প্রমোটর ব্যবহার করা হয়। বড় এক আয়োজন সামলাতে এখানে নামমাত্র শ্রমিক কাজ করছে। মাত্র দুজন শ্রমিক দিয়েই সমগ্র প্রক্রিয়াটা পরিচালনা সম্ভব। মাছ চাষে বিনিয়োগকারীদের লাভের নিশ্চয়তা প্রায় শতভাগ। কারণ মাছের মৃত্যুর হার ১ ভাগেরও কম। বড় ধরনের কোনো রোগবালাই নাই বললেই চলে। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ সুস্বাদু, এন্টিবায়োটিক ফ্রি ও রাসায়নিকমুক্ত। স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই মাছ ভোক্তাদের কাছে অধিক জনপ্রিয়।
বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচারের জনক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম এক সেমিনারে বলেছেন, দেশে ইনডোর ফিশ ফার্মিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। এটা খুবই লাভজনক একটি প্রকল্প। কারণ অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন, কোনো ধরনের সংক্রমণ না হওয়া এবং শতভাগ নিরাপদ হওয়ায় বিশ্বে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়; বরং আধুনিক ও দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে ময়মনসিংহে এই প্রযুক্তিতে মৎস্য উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রাথমিক চর্চা চলছে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলেও। এই পদ্ধতিতে ক্যাটফিশ জাতীয় মাছের (পাবদা, গুলসা, শিং, মাগুর) চাষই বেশি ফলপ্রসূ হবে। ৮টি ট্যাংকে হচ্ছে পাবদা-গুলসা মাছের চাষ। ফিশ হ্যাচারি ও কালচার ফার্ম অ্যাগ্রো থ্রি নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে ৮টি ট্যাংকে ৮৫ হাজার পাবদা, গুলশা ও মাগুরের চাষ করছে। জানা গেছেÑ ওই দুই প্রতিষ্ঠানই চলতি বছর তাদের উৎপাদিত মাছ বাজারজাত করবে।
প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহী উদ্যোক্তা-বিজ্ঞানীরা বিসিএসআইআর-র প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন। ক্রমে ক্রমে বাড়ছে এই প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ। ফলে এই প্রকল্প হতে পারে মাছ চাষে বাংলাদেশের এক বিশাল অর্জনের স্মারক। কারণ গ্রামের পুকুর-ডোবা-খাল-বিলগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু মাছ উৎপাদন হয়। একসময় বছরের মাছের চাহিদা পূরণ হতো বাড়ির এসব উৎস থেকেই। এসব উৎসে প্রাকৃতিকভাবেই সারাবছর মাছের প্রজনন হতো। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে কমে গেছে পুকুর-খাল-বিল, নদী-নালা। ফলে মাছের চাহিদা পূরণের জন্য দেশে নানা উৎসে উৎপাদিত হচ্ছে হাজার হাজার টন মাছ। কৃত্রিমভাবে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ দারুণভাবেই সফল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী সারাবিশ্বে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ‘ইনডোর ফিশ ফার্মিং’ পদ্ধতি জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে হাজির করবে নতুন এক উচ্চতায়।

Category:

দিনপঞ্জি : জুন ২০১৮

Posted on by 0 comment
7-4-2018 5-59-41 PM

গত ২৬ জুন গণভবনে নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান আজিজ আহমদকে জেনারেলের র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়

৩ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ও আন্তরিকতা থাকলে দেশের সমৃদ্ধি সম্ভব। আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে বলেই বাংলাদেশ উন্নতি করতে পেরেছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে যে উন্নয়ন করা যায় তা আমরা করে দেখিয়েছি। শেখ হাসিনা তার দৃঢ় আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। কেউ এই অগ্রগতিকে রুখতে পারবে না। এদিন ধরলা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তার নামে নবনির্মিত এই শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

৪ জুন
* ধারাবাহিক ইফতার মাহফিলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। তিনি বলেন, এদেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে, আমাদের নিজস্ব সাবমেরিনও আছে। এখন আমরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহাকাশে চরাচরের যোগ্যতা অর্জন করেছি। এই উন্নয়ন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের তালিকায় নেওয়া তার লক্ষ্য বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ইফতারের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন টেবিল ঘুরে আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

৫ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভিড মিলিব্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

৬ জুন
* বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পর দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে সংসদকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়ে বলেন, একটি স্যাটেলাইট তৈরি করতে ৫-৬ বছর লেগে যায়। সেজন্য বঙ্গবন্ধুু-২ স্যাটেলাইট তৈরি করতে এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটা থাকলে আরেকটি যেন চালু হয়ে যেতে পারে সেটা মাথায় রেখেই ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। দ্বিতীয়টির টাইম শেষ হয়ে এলে আমরা বঙ্গবন্ধুু-৩ এ যাব। এভাবে পর্যায়ক্রমে আমাদের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাব।

৭ জুন
* ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রাখা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই শ্রদ্ধা জানান। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকটি ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

১১ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন হয় না। স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিদের মদতদানকারীরা ক্ষমতায় এলে দেশ আবার রসাতলে যাবে। আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বলেই জি-সেভেন আউটরিচ সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত করা হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখছে। টরন্টোর মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে কানাডা আওয়ামী লীগের দেওয়া সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত আনতে তার সরকার কানাডার আদালতে লড়বে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছে, গ্রাম পর্যন্ত যে উন্নয়ন হচ্ছে, এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছি। আন্দোলন-সংগ্রাম করে নির্বাচনের সুষ্ঠু ধারা প্রতিষ্ঠিত করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে দিনবদলের সনদ ঘোষণা করে তার বাস্তবায়ন শুরু করে। ২০১৪ সালে তার দলের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন অব্যাহত রাখা। এখন তার দল নতুন রূপকল্প নির্ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে এবং অনেক আগে এই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের নির্বাচনী ইশতেহারের নিরিখে সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকা- ও বার্ষিক বাজেট তৈরি হয়। এটা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় না।

১২ জুন
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির তিন নেতার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মাথাব্যথা নেই। ক্ষমতায় কারা যাবে তা নির্ধারণ করবে জনগণ, ভারত নয়। বিএনপি আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত সফর নিয়ে অভিযোগ করেছে। তবে আওয়ামী লীগের কোনো অভিযোগ নেই। রাজধানীর ধানমন্ডির হোয়াইট হল কনভেনশন সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে বিএনপি নেতারা কার কার সঙ্গে আলাপ করলেন, কী আলাপ করলেনÑ এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মাথাব্যথা নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে জনগণই কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে, ভারত নয়। বিদেশি কেউ নয়।

১৪ জুন
* সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি গত ৯ বছরে ৯ মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেনি। এটি তাদের ব্যর্থতা। তারা রোজার ঈদের পর, কোরবানির পর, পরীক্ষার পর আন্দোলন করবে বলেÑ এটা আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন। তাদের আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি, দেবেও না। মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক পরিদর্শন শেষে জেলার ময়নামতি এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ নেই, তাদের উদ্বেগ হচ্ছে রাজনীতি, তারা রাজনীতির কোনো ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না, জনগণ কোনো ইস্যুতে সাড়া দিচ্ছে না। এখন তারা বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে নিয়ে নতুন করে ইস্যু খুঁজছে। এটা এখন রাজনৈতিক বিষয়, এখানে এখন চিকিৎসার বিষয় নেই। চিকিৎসার বিষয় যদি প্রধান হতো, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবে সবচেয়ে ভালো যেখানে চিকিৎসা হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তারা যেত।

১৬ জুন
* প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন সুরক্ষিত। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। আমরা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার মতো জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, পেশাজীবী, বিচারক এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে উন্নত। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার হার এবং জনগণের গড় আয়ু বেড়েছে এবং সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সাফল্য অর্জন করতে দেশকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি ২০২১ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণ একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবে। তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং আমরা দেশকে সেই পথে এগিয়ে নিয়ে যাব। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ সেই পথে এগিয়ে যাবে।

২০ জুন
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেই নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও এর ব্যবহার বন্ধু করে যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত হতে রক্ষা করতে সক্ষম হব বলে আমি আশাবাদী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, মাদক অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোনো আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/কর্তৃত্বে/অধিকারে মাদকদ্রব্য পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ কম। এই মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়।

২৪ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে কানেকটিভিটি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের সঙ্গে একটি রেল যোগাযোগ উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যেটি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধু হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. চোপ লাল ভূশাল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

২৭ জুন
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়, অব্যাহত থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি, আমরা কারোর কাছে কেন হাত পেতে চলব? আমরা কারোর কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমরা নিজেরা যে দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি তা আমরা প্রমাণ করেছি। বর্তমান সরকার টানা দুই মেয়াদে ৯ বছর পূর্ণ করে ১০ বছরে পা দিয়েছে। মানুষের সত্যিই দিনবদলের পরিবর্তন হয়েছে। যেহেতু সরকারের ধারাবাহিকতা আছে, একটানা সাড়ে ৯ বছর আমরা ক্ষমতায় রয়েছি বলেই সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আজ দৃশ্যমান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাদক একটি দেশকে, সমাজকে ও সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। এদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখব, যে যা-ই বলুক তাতে কিছু আসে যায় না। দেশকে আমরা মাদকমুক্ত করবই। দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

৩০ জুন
* নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামে-গঞ্জে, ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ সুখে থাকলে দুঃখের কথা ভুলে যায়। তাই উন্নয়নের কথা তাদের কাছে গিয়ে বলতে হবে। দেশের উন্নয়নে ও জনগণের কল্যাণে আমরা যেসব কর্মসূচি নিয়েছি, সেগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরবেন।’ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের ভেতরে সবুজ মাঠে বিশেষ বর্ধিত সভা ২০১৮ দ্বিতীয় পর্যায়ে এই নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মহানগরের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। শেখ হাসিনার ভাষ্য, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। জনসমর্থনও বাড়ানো দরকার। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। কোনোরকম দলীয় কোন্দল যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে, তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা প্রয়োজন।’

গ্রন্থনা : আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category:

বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-কিম বৈঠক বিশ্ববাসীর স্বাগত

Posted on by 0 comment

7-4-2018 5-55-18 PMসাইদ আহমেদ বাবু: কিছুদিন আগেও মনে হচ্ছিল, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসানের পর অবশেষে গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এই ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়। উত্তর কোরিয়ার নেতা ও কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-দিনের শুরুটা হলো দুই নেতার ঐতিহাসিক করমর্দনের মাধ্যমে। দুই নেতা যখন পরস্পরের দিকে করর্মদনের জন্য এগিয়ে যায়, বিশ্ববাসী তখন অধীর আগ্রহে এই বিরল দৃশ্য অবলোকন করে।

এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা।
ট্রাম্প ও কিম শীর্ষ বৈঠকের পর একটি চুক্তিতে সই করেছেন যাতে বলা হয়েছে, দুদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে। অন্যদিকে, কোরিয়া উপদ্বীপকে পরিপূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য উত্তর কোরিয়া এ চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছিল, যা উত্তর কেরিয়াকে ক্রমশ ক্ষুব্ধ করে তুলছিল। এ মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার ওপর সামরিক আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হতো। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে নির্বিঘœ করতে ব্যয়বহুল ও খুবই উসকানিমূলক মহড়ার অবসান ঘটানো হবে।

এই সমঝোতাপত্রে আমেরিকা এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল হোটেল ক্যাপেলায় সেই একান্ত বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার বিশ্বাস, আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে শিগগিরই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটা হবে বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন কিম। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে এখনই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে না বলেই জানান। উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের এই প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তারপরেও সমস্ত সংকট কাটিয়ে যে তারা আলোচনায় বসেছেন, তাতে তিনি খুশি। তাদের মধ্যে কথা হয়েছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে। দুই নেতার একান্ত বৈঠক শেষে দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প ও কিম।

ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও বেশ সুসংহত। এটি স্বাক্ষর করতে পেরে সম্মানিত বোধ করেছেন বলেও জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম বলেছেন, তারা একটি ঐতিহাসিক বৈঠক করেছেন ও অতীতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈঠককে সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
চুক্তিতে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিম। যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া নতুনভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে, যাতে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নতির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া যুদ্ধবন্দিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে যেসব যুদ্ধবন্দি চিহ্নিত হয়েছেন তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু হবে।

উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন, অবিশ্বাস্য একটি দেশ হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করার সম্ভাবনা আছে তাদের। কিমের সঙ্গে আমার বৈঠক আন্তরিক, গঠনমূলক ও খোলামেলা ছিল। পরিবর্তন আসলেই সম্ভব। কিম এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মূল ঘাঁটি ধ্বংস শুরু করছেন। কিমের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কিম খুবই প্রতিভাবান। তিনি খুব কম বয়সে একটি দেশের ক্ষমতায় এসেছেন এবং কঠোরভাবে দেশ পরিচালনা করেন। অপেক্ষাকৃত সংক্ষেপে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও কিমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবন্দি মার্কিন সেনাসদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি এবং আশানুরূপ উত্তর পেয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা যখন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হব, তখন উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। আমি আসলে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাই। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া এই পদক্ষেপ নিতে চাই না।

দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কিমের সঙ্গে তার শীর্ষ পরামর্শকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেনÑ পিয়ংইয়ংয়ের শীর্ষ কূটনীতিক কিম ওং কোল, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ওং হো, কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রি সু ওং। আর ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি।
তবে, শুরুও শুরু থাকে। সেই যুক্তিতে, আশায় বুক বাঁধাই বোধকরি এখন বিশ্বের কর্তব্য। ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং যে মুখোমুখি বসতে পারবে, কয়েক মাস আগে পর্যন্ত এটা নেহাত কল্পকথা ছিল। সেই অভাবিত ঘটনা যে শেষ পর্যন্ত ঘটল, কম কথা নয়। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সক্রিয় প্রচেষ্টা ছাড়া এটি সম্ভব হত না। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর সরকারের বিরাট কৃতিত্ব : দক্ষিণ-পূর্ব চীন সমুদ্র অঞ্চলে শান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্থিতি বজায় রাখবার লক্ষ্যে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা। এমন অসাধারণ কূটনৈতিক প্রয়াস প্রমাণ করে, শুভ সংকল্পে কত কী হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদের চার মিনিটের একটি ভিডিও দেখানো হয়। এটি খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। ভিডিওটি ছিল কোরীয় এবং ইংরেজি ভাষায়। সংবাদ সম্মেলনে মি. ট্রাম্প বলেছেন যে এই ভিডিওটি তিনি কিম জং-আনকে দেখিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সই হওয়া চুক্তি হয়তো আমেরিকা মানবে না, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ অনেক দেশের সঙ্গে আমেরিকা যা করেছে এক্ষেত্রেও তাই করতে পারে। ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন আমেরিকার খ্যাতিমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল জোন্স। শেষ পর্যন্ত তার এই আশা বাস্তবায়িত হয় কি না, সে কথা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। তবে আপাতত কোরীয় উপদ্বীপে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা কমেছে, পৃথিবীর সব মানুষই তাকে স্বাগত জানাচ্ছে।

Category: