Blog Archives

দিনপঞ্জি : সেপ্টেম্বর ২০১৮

Posted on by 0 comment

১ সেপ্টেম্বর
* শিল্প সংস্কৃতি চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, এ চর্চা দেশ ও জাতিকে গৌরব দিতে পারে। বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই শিল্পমনা ও সংস্কৃতিমনা। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এদেশের শিল্পীসমাজ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছেন। দেশ কাল সংস্কৃতিভেদে শিল্পীর স্বরূপ ও কর্মকা- ভিন্নতর হতে পারে। তবে শিল্পের নান্দনিকতা ও আবেদন সীমাহীন ও চিরন্তন। দেশের সবচেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিক আয়োজন দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

২ সেপ্টেম্বর
* একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ সঙ্গে থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচন ঠেকানোর মতো কারও কোনো শক্তি নেই। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আসার জন্য আমি সবসময় পক্ষেই ছিলাম, এখনও আছি। তবে এটাও ঠিক, এটা তাড়াহুড়া করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ একটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার আছে। বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

৪ সেপ্টেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমানের বহরে যোগ হওয়া অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘আকাশ বীণা’ উদ্বোধনকালে বলেছেন, ‘আমি চাই, বিমানে যারা কর্মরত, প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন, যেন কোনো বদনাম না হয়। আমাদের দেশের যেন সুনাম হয়। বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজটি; ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে পারে। ড্রিমলাইনারে জ্বালানি খরচ ২০ শতাংশ কম। ৪টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে, বোয়িং-৭৭৭ এর নাম পালকি, অরুণ আলো, আকাশপ্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত এবং বোয়িং-৭৩৭ এর নাম ‘ময়ূরপঙ্খী’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রিমলাইনারের ‘আকাশবীণা’ নামকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই নতুন বিমান এসেছে, চেষ্টা করেছি তারই একটা নতুন নাম দিতে।

* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনিয়ম-দুর্নীতি করলে যে দলেরই হন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস এবং অসামাজিক কর্মকা- বরদাশত করবে না। এক্ষেত্রে কেউই রেহাই পাবেন না। সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে রাজশাহী এবং সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়াতেÑ এটাই প্রমাণিত হয় দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর
* আরও বহু দূর যাওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি সপ্তাহ। সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে নবযুগের সূচনা হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। এই যাত্রার এখানেই শেষ নয়। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ২৪০০০ মেগাওয়াট করতে হবে। আর ২০৪১-এ উৎপাদন করতে হবে ৬০০০০ মেগাওয়াট। বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির সংস্থান করবে জ্বালানি বিভাগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেন, দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বিদ্যুৎ জ্বালানির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

১২ সেপ্টেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার-দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

১৩ সেপ্টেম্বর
* মানুষ যাতে সুস্থ থাকতে পারে, সেজন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গবেষণা বাড়াতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতালের নির্মাণ কাজের ভিত্তি স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্সের আওতায় আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। ডাক্তার, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিতে নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবেন সে আহ্বান আমি জানাই। আপনাদের আরও গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে এবং মানুষের যাতে রোগ না হয় সে ব্যাপারেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আর সেজন্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অধীনে বাংলাদেশে প্রথম এই ‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায়। ১৩ তলা ভবনে অত্যাধুনিক এই হাসপাতালে এক ছাদের নিচেই মিলবে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা।

১৫ সেপ্টেম্বর
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জাতিসংঘে গিয়ে কান্নাকাটি করে বিএনপি নিজেদের দেউলিয়া দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে বিদেশিদের কাছে নালিশ করে তারা দেশ ও জনগণকে অসম্মান করেছে। এটা বিএনপির সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। আর দেশের মানুষ ভোট না দিলে কোনো বিদেশি প্রভু বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপ-কমিটির ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ-কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচাররোধ ও আওয়ামী লীগের উন্নয়নমূলক কর্মকা- তুলে ধরতে দলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়। ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের সঠিক তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরতেই এই ওয়েবসাইট কাজ করবে। দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকগণ এই সাইটে যুক্ত থাকবেন।

১৬ সেপ্টেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ নৌকায় ভোট দিলেই কেবল উন্নয়ন দেখতে পায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই শুধু দেশের উন্নতি হয়, এটা এখন প্রমাণ করেছি। সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দুটি সেতু উদ্বোধনকালে এ-কথা বলেন। উদ্বোধনের পরই সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। যার একটি হচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ওপর ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ এবং অপরটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদীর ওপর নির্মিত ওয়াই আকৃতির ‘শেখ হাসিনা তিতাস সেতু’।

১৬ সেপ্টেম্বর
* জাতিসংঘ সদর দফতরে মির্জা ফখরুলের বৈঠক জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে এ-কথা বলে বিএনপি তথা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি দেশের জনগণের কাছে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণামূলক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

২১ সেপ্টেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির দোসর ’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে খাটো করার ধারাবাহিক অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে তৎকালীন পাকিস্তানের গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টগুলোই সে চেষ্টাকে ভেস্তে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেওয়া ওইসব রিপোর্টই সাক্ষ্য দিচ্ছে বঙ্গবন্ধুই ছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। বাঙালির অধিকার নিয়ে বঙ্গবন্ধু কখনও আপস করেন নি। স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২৪ সেপ্টেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে ‘অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়, সেজন্য তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ-কথা বলেন। জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে জেরেমি হান্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক হয়। আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে বলতে গিয়ে জেরেমি হান্ট বলেন, তারা বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

২৭ সেপ্টেম্বর
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ শক্তির পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপিসহ তাদের সাম্প্রদায়িক দোসররা আন্দোলনের নামে নাশকতা ও সহিংসতার ছক আঁটছে। সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আন্দোলনের নামে লাফালাফির পরিণতি শুভ হবে না। হুমকি-ধমকি দিলে আমরা ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাব, তা হবে না। এটাই আমাদের মেসেজ, ইনফরমেশন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকালে দলটির সম্পাদকম-লীর যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

২৮ সেপ্টেম্বর
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামাতের যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ। বিএনপির পাল্টা কোনো কর্মসূচি আমরা দেব না। তবে যারা দেশের শান্তি বিনষ্ট ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা জিম্মি করে মাঠ দখল করবে জনগণ তাদের অচল করে দেবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আগামী অক্টোবরে বিএনপি মাঠ দখলের রঙিন স্বপ্ন দেখছে। নেতিবাচক কর্মকা-ের জন্য বিএনপির রাজনীতি মরাগাঙ্গের রূপ নিয়েছে। কিন্তু মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না।
গ্রন্থনা : আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category:

বাংলাদেশে নির্বাচন পরিবেশ সুন্দর

Posted on by 0 comment

ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

PMউত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন করার জন্য ‘যথেষ্ট সুন্দর পরিবেশ আছে’ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও সেটাই থাকবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভয়েস অব আমেরিকা জানতে চেয়েছিল শেখ হাসিনা নিজে যদি এখন বিরোধী দলে থাকতেন, আজকের বাংলাদেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি তিনি কীভাবে দেখতেন। নির্বাচন কমিশনকে কেমন ধারার মনে হতো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে তার মনে হতো কি না। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আগের সরকারগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো নির্বাচন কমিশন করত। আর তার সময়ে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে ‘এই স্বচ্ছতা’ আনতে পেরেছে। গত ১০ বছরে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার নির্বাচন হয়েছে এবং সেখানে মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি যাচাই-বাছাই করেন, অবশ্যই আপনাকে স্বীকার করতে হবে, অবশ্যই বর্তমানে ইলেকশন করার মতো সুন্দর একটা পরিবেশ আছে এবং নির্বাচন কমিশন সে নির্বাচন করতে পারবে।’ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে সাম্প্রতিক নির্বাচনের উদাহরণ টানেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলেও খুলনায় বিএনপি প্রার্থীর জয় পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই দেখলেন, আমাদের প্রার্থী মাত্র আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেল। এত কম ভোটে যে হারল, কই আমরা তো ওই ভোট পরিবর্তন করা বা হাত দেয়া আমরা তো কিছু বলিনি। আমাদের প্রার্থীও সেভাবে নিয়েছে। এটা কি প্রমাণ করে না যে এখন ইলেকশন করার মতো যথেষ্ট সুন্দর পরিবেশ আছে?’ আগামী নির্বাচনেও সেই পরিবেশ থাকবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা আপনাদের মনে রাখতে হবে। আমার রাজনীতি কিসের জন্য, আমি কেন রাজনীতি করি, আমি ক্ষমতায় থেকে কি কাজ করছি আমি আমার নিজের ভাগ্য গড়ছি? আমার ছেলেমেয়ের ভাগ্য গড়ছি? আমি দেশের মানুষের ভাগ্য গড়ছি।’ সামরিক সরকারের সময় দেশে নির্বাচনকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছেÑ সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে বেসরকারি খাত একা কিছু করতে পারে না। বেসরকারি খাতে কাজ করার সুযোগ সরকারকেই করে দিতে হয়। তার সরকার সেটাই করে দিয়েছে। গত ১০ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের পরও যারা ‘উন্নয়ন হয়নি’ বলে অভিযোগ করে তাদের সমালোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘চোখ থাকলেও যদি অন্ধ হয়, তাকে কি আপনি কিছু দেখাতে পারবেন? আমার মনে হয় না।’ দেশের মানুষ ওরকম ভাবে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা কিন্তু খুশি।’ দেশে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন একটা গ্রামের মেয়ে আমাকে বলে, আপা আমি এখন রাইস কুকারে ভাত রাঁধি, এই যে একটা পরিবর্তন, গ্রামে যাতে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে যায়, আমি সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ ভারতের আসামে সংশোধিত নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া ৪০ লাখের বেশি মানুষকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা তাদের বের করে দেয়ার যে হুমকি দিচ্ছেনÑ তা নিয়ে ‘বিচলিত’ কি নাÑ তা শেখ হাসিনার কাছে জানতে চায় ভয়েস অব আমেরিকা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা হয়তো ওদের নিজস্ব পলিটিক্স। আমি তো মনে করি না যে কোনো অবৈধ বাংলাদেশি সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী, যথেষ্ট মজবুত, সেখানে গিয়ে কেন অবৈধ হবে?’ তিনি বলেন, ‘এখন তাদেরই নাগরিক, তারা যদি কাউকে অবৈধ বলে আর বৈধ বলে, এটা তাদের ব্যাপার।’ এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কিছুটা কথা বলেছি, প্রাইম মিনিস্টারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বলেছেন যে না, তাদের ফেরত পাঠানো বা এ ধরনের কোনো চিন্তা তাদের নেই।’ রোহিঙ্গা সংকটে সবচেয়ে বেশি কাদের সহযোগিতা পেয়েছেন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। ‘অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে কক্সবাজারের মানুষগুলো। কারণ তাদের জমি। তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিটি সংস্থা। সারাবিশ্বই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করতে কাজ করছে। ‘আমরা চাইছি যে প্রথমে আমরা কিছু পাঠাব, তাদের সঙ্গে ওরা কি রকম ব্যবহার করে এটা দেখব, ইতোমধ্যে আমরা ভাসানচরে তাদের জন্য ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি, তারা থাকতে পারবে।’

Category:

পরিপূর্ণ বাংলাদেশ : ব-দ্বীপ পরিকল্পনা

Posted on by 0 comment

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় হটস্পটগুলোর এসব চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নিল সরকার। অনুমোদন পেল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদীভাঙন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু হলে প্রথম পর্যায়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সামনে পরিকল্পনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন, পরিকল্পনা কমিশন ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং আইএমইডির সচিব মফিজুল ইসলাম।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক পরিকল্পনা। পৃথিবীর কোথাও এত দীর্ঘ পরিকল্পনা হয়নি। বাংলাদেশে এটিই প্রথম। পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ পানিসম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করা হবে। তাছাড়া হট স্পটে যেসব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো মোকাবিলা করা হবে। তখন আর ঝুঁকি থাকবে না। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কন্যা ও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, সুযোগ পেলে নেদারল্যান্ডস ঘুরে এসো। পরবর্তীতে তিনি অনেকবার নেদারল্যান্ডস ঘুরেছেন। তারই নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই দীর্ঘ পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনায় নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং এবং পরবর্তীতে মেইটেন্যান্স ড্রেজিং করা হবে। ফলে নতুন ভূমি পাওয়া যাবে। নদীপথের ব্যবহার বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা হবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০১৮-২০৩০ সাল পর্যন্ত মোট ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আসবে সরকারি, বেসরকারি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং জলবায়ু তহবিলসহ বিভিন্নভাবে। এজন্য গঠন করা হবে একটি ডেল্টা তহবিল। তাছাড়া ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ডেল্টা নলেজ ব্যাংক। এতে আরও জানানো হয়, দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে দেশটি। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি সাজানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছরে পরিকল্পনাটির অনুমোদন পেল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। নেদারল্যান্ডসের বাইরে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হয়েছে।
পরিকল্পনায় পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভূ-প্রতিবেশ খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার প্রচেষ্টা রয়েছে পরিকল্পনায়। সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপর করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ প্রয়োজন হবে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এজন্য জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থায়ন সম্বলিত বাংলাদেশ ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যার মধ্যে ২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে। জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরকারি তহবিল হতে এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে আসবে।
ড. শামসুল আলম বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ২০১৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে পরিকল্পনায়। এগুলো হচ্ছেÑ উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩টি প্রকল্পের জন্য ৮৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। বরেন্দ্র এবং খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৯টি প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। হাওড় এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ৬টি প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য ৮ প্রকল্পের অনুকূলে ৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। নদী এবং মোহনা অঞ্চলে ৭টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪৮ হাজার ২৬১ কোটি টাকা এবং নগরাঞ্চলের জন্য ১২টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকি বিবেচনায় ৬টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে এই পরিকল্পনায়। সেসঙ্গে এসব হটস্পটে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। হটস্পটগুলো হচ্ছেÑ উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওড় ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, নদী ও মোহনা অঞ্চল এবং নগরাঞ্চল। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সে অঞ্চলের পানিবিজ্ঞান ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে দেশের ৮টি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মাত্রার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাগুলোকে একেকটি গ্রুপের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পানি ও জলবায়ুজনিত অভিন্ন সমস্যায় কবলিত এই অঞ্চলগুলোকে হটস্পট হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় হটস্পটগুলোর এসব চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ বন্যার ঝুঁকি কমাতে নদী ও পানিপ্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা; পানিপ্রবাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীগুলোকে স্থিতিশীল রাখা; পর্যাপ্ত পরিমাণে ও মানসম্মত স্বাদু পানি সরবরাহ করা; নদীগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা; নদীগুলোতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যথাযথ পলি ব্যবস্থাপনা; টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা; বন্যা ও জলাবদ্ধতাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানো; পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করা; হাওড় ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় জলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করা; বন্যা থেকে কৃষি ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা; সুপেয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সঠিক নদী ব্যবস্থাপনা; টেকসই হাওড় প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা; সমন্বিত পানি ও ভূমিসম্পদ ব্যবস্থাপনা; বন্যা ও ঝড় বৃষ্টি থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শহর রক্ষা; সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা; পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা; টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বহুমুখী সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বিকাশ; নগর অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ানো ও নগর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি কমানো; পানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো; নগরে কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন গড়ে তোলা; নতুনভাবে জেগে ওঠা চর এলাকায় নদী ও মোহনা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা; জলাভূমি ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ, অক্ষুণœ রাখা ও তাদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা; বিদ্যমান পোল্ডারের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা অনুপ্রবেশের মোকাবিলা করা; পানির জোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা; উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা নতুন জমি উদ্ধার এবং সুন্দরবন সংরক্ষণ করা।

Category:

ইলিশের জীবনরহস্য আবিষ্কার : বাড়বে উৎপাদন

Posted on by 0 comment

PMরাজিয়া সুলতানা: সুস্বাদু রুপালি ইলিশ বাংলাদেশের জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। ইলিশ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গৌরবের অংশীদার। অথচ এতদিন অজানাই ছিল ইলিশের জীবনরহস্য। ইলিশ নিয়ে; ইলিশের জীবনরহস্য নিয়ে এন্তার গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন। অবশেষে সুপার মুন খ্যাত সেই ইলিশ মাছের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য বা জেনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কৃত হয়েছে। বাকৃবি’র ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ও তার সহযোগী গবেষকরা উন্মোচন করেছেন ইলিশের জীবনরহস্য। এরই মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের মৎস্য সেক্টর প্রবেশ করল গবেষণার এক নতুন যুগে।
ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। এরা ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে আসে। বিচরণ করে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মোহনায়। মৎস্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী পৃথিবীর মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে হয়। তাই এর উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী এবং লাভবান হবে দেশ। জিনোমই জীবের সব জৈবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। আর এ কারণেই বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে এই জিনোম সংক্রান্ত গবেষণা শুরু হয়। দুই বছর গবেষণাকালে তারা দেশের বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা থেকে পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস জেনেটিক্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি এবং পোল্ট্রি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জিনোমি ল্যাবরেটরি থেকে সংগৃহীত ইলিশের উচ্চ গুণগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করেন। প্রসংগত, ডিএনএ প্রধানত দুই প্রকার। প্লাজমিড ডিএনএ ও জিনোমিক ডিএনএ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জিনউইজ নামের জিনোম সিকুয়েন্সিং সেন্টার থেকে সংগৃহীত ইলিশের পৃথক প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য এবং ডি নোভো অ্যাসেম্বলি সম্পন্ন করেন। ইলিশের জিনোমে ৭৬ লাখ ৮০ হাজার নিউক্লিওটাইড রয়েছে, যা মানুষের জিনোমের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এছাড়াও ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ২১ হাজার ৩২৫টি মাইক্রোস্যাটেলাইট (সিম্পল সিকুয়েন্স রিপিট সংক্ষেপে এসএসআর) ও ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০০টি সিঙ্গেল নিউক্লিওটাইড পলিমরফিজম (এসএনপি) পাওয়া  গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ইলিশ জিনোমে জিনের সংখ্যা জানা যায়নি। প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রয়েছে। গবেষণা চলাকালে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যভা-ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের (এনসিবিআই) স্বীকৃতি পায়। ২০১৭ সালের ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এবং ২০১৮ সালের ১৩-১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ড. মো. সামছুল আলম এবং তার সহযোগীরা গবেষণার বিষয় উপস্থাপন করেন।
জেনোম সিকুয়েন্স একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা। জীবের জিনোম (Genome) অর্থাৎ, জীবের জীবন রহস্য হলো এর সমস্ত বংশগতিক তথ্যের সামষ্টিক রূপÑ যা ডিএনএ (কোনো কোনো ভাইরাসের ক্ষেত্রে আরএনএ) দ্বারা সংকেতাবদ্ধ। সাধারণভাবে কোনো জীবের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্থানান্তরিত বৈশিষ্ট্যগুলো জিনোমে লুকায়িত থাকে। জিন হলো জীবের ক্রোমোসোমের অন্তর্গত একক, যা ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
জিনের রহস্য নিয়ে গবেষণার সূত্রপাত ১৮০০ সাল থেকেই। কিন্তু তখন এটা গবেষণার ধরন ছিল ভিন্ন। তবে ১৯২০ সালে জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক হান্স ভিংক্লার জিন ও ক্রোমোজোম শব্দ দুটির অংশবিশেষ জুড়ে দিয়ে জিনোম শব্দটি উদ্ভাবন করেন। আর জেনোম সিকুয়েন্স হলো কোষের সম্পূর্ণ ডিএনএ বিন্যাসের ক্রম, যার মাধ্যমে জিনোমের সম্পূর্ণ তথ্য জানা যায়। জীবদেহে বহুসংখ্যক কোষ থাকে। প্রতিটি কোষে থাকে ক্রোমোজোম। যাতে থাকে সুসজ্জিত ডিএনএ। ডিএনএ হচ্ছে ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড। এটি বংশগতির ধারক ও বাহক। অর্থাৎ পিতামাতা থেকে বৈশিষ্ট্য ডিএনএ ধারণ ও বহন করে। একইভাবে, পিতামাতাও তাদের ডিএনএ-তে তাদের পিতামাতার বৈশিষ্ট্য ধারণ ও বহন করে। এক কথায় ডিএনএ, যা বংশগতির মৌলিক তথ্য বহন করে। যা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। বংশগতির একক হলো জিনÑ যা  ডিএনএ দিয়ে তৈরি। ডিএনএ প্রতিটি জীবের জন্য স্বতন্ত্র আর জিন হচ্ছে বৈশিষ্ট্য, যা বংশানুক্রমে স্থানান্তরিত হয়। ডিএনএ নিউক্লিওটাইড দিয়ে তৈরি। এই নিউক্লিওটাইড আবার ক্ষার দিয়ে তৈরি। ক্ষারগুলো হলো- এডেনিন (A), গুয়ানিন (G), সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T)। ডিএনএ-এর আকার হলো দ্বৈত-সর্পিলাকার (ডাবল-হেলিক্স)। আসলে জীবের ক্রোমোজোমে এই ৪টি ক্ষার ঘুরে-ফিরে সাজানো থাকে। এদের কম্বিনেশন ও বিন্যাসের ওপরেই নির্ভর করে জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। তাই কোনো জীবের এই জিনোম ডিকোড অথবা উন্মোচন বলতে এই ATGC-এর পারস্পরিক বিন্যাসটা আবিষ্কার করাকেই বোঝায়। আর এর মাধ্যমে সেই জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম সম্বন্ধে একটা ধারণা পাওয়া যায়।
জিনোম সিকুয়েন্স সাধারণভাবে একটি জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে। জীবের বিন্যাস ও যাবতীয় তথ্য জানা যায় জিনোম সিকুয়েন্সিং করে। ফলে ভবিষ্যতে জিন সংযোজন-বিয়োজন বা বিন্যাস পরিবর্তন করে আরও উন্নত প্রজাতির জীব উৎপাদন করা সম্ভব। যা হবে রোগবালাই মুক্ত ও প্রতিকূল পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সক্ষম। এভাবে যদি ধীরে ধীরে সকল জীব তথা উদ্ভিদ, প্রাণী, রোগ জীবাণুর জিনের বৈশিষ্ট্যগুলো জেনে নেওয়া যায়। তবে এর মাধ্যমে উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবন করা সম্ভব। বিজ্ঞানীরা ডিএনএ বিন্যাস বা জিনোম সিকুয়েসিং বের করে এবং কম্পিউটারের বিশেষ সফটওয়্যার তাদের মিল বের করে। পরবর্তীতে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জীবনরহস্য আবিষ্কারের ফলে জাতীয় মাছ ইলিশের ক্ষেত্রে যা পাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা; তা হলোÑ
*    বিস্তারিতভাবে জানা যাবে ইলিশের জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়;
*    জানা যাবে ইলিশ মাছ কখন ও কোথায় ডিম দেবে;
*    বছরে দুবার ইলিশ প্রজনন করে থাকে। এই দুই সময়ের ইলিশ জিনগতভাবে পৃথক কি না;
*    কোনো নির্দিষ্ট নদীতে জন্ম নেওয়া পোনা সাগরে যাওয়ার পর বড় হয়ে প্রজননের জন্য আবার একই নদীতেই ফিরে আসে কি না;
*    ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই রাখার জন্য গৃহীত কর্মসূচি ফলপ্রসূ করতে মাছের জৈবিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে;
*   বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের মোট সংখ্যা-পরিমাণ;
*    বিভিন্ন মোহনায় প্রজননকারী ইলিশ কি ভিন্ন ভিন্ন; না-কি মোট ইলিশের একটি অংশ;
*    বাংলাদেশের ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জেনেটিক্যালি স্বতন্ত্র কি না অর্থাৎ স্টক একই কি না;
*   অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা ইত্যাদি সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে হচ্ছে কি না;
*    ইলিশ সাগর থেকে নদীতে কেন আসে, আবার প্রজননের পর আদৌ সাগরে ফিরে যায় কি না;
*    বাংলাদেশের ইলিশের একটি রেফারেন্স জিনোম প্রস্তুত করা এবং
*    ইলিশের জিনোমিক ডাটাবেস স্থাপন করা।

এমন অনেক তথ্যই আমরা আবিষ্কৃত জিনোম সিকুয়েন্স থেকে জানতে পারব, যা ইলিশের টেকসই আহরণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। সার্বিক অর্থে ইলিশ অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি মাছ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই সরকারের পাশাপাশি দেশের গবেষকরাও ইলিশ নিয়ে গবেষণা করছেন, এগিয়ে এসেছেন। দেশের বাইরেও ইলিশ নিয়ে কাজ করছে আর একটি টিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খানের নেতৃত্বে এ দলে রয়েছেন কয়েকজন গবেষক। এর মধ্যে দুজন প্রবাসে রয়েছেন। যদিও জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে ইলিশ গবেষণার একটি প্রশস্ত দরজা খুলে গেছে। তবে এটি জানতে ও বুঝতে আমাদের আরও সময় লাগবে। এ থেকে সুফল পেতে আরও ধারাবাহিক গবেষণা প্রয়োজন।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিদ্যা
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
raziasultana.sau52@gmail.com

Category:

আওয়ামী লীগ-বিরোধী প্রচারের ৬ দশক ঢেউয়ের ওপর দিয়ে পালের নৌকা

Posted on by 0 comment

PMশেখর দত্ত: (দ্বিতীয় পর্ব : বঙ্গবন্ধু আমল)
পাকিস্তানি কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ২৫ দিন পর যুদ্ধবিধ্বস্ত নবজাত স্বাধীন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন। সমাজতন্ত্র-ধনতন্ত্র ঠা-া যুদ্ধের সেই কঠিন ও জটিল বিশ্বপরিস্থিতিতে খাদ্য, অর্থ, পুনর্বাসন, যোগাযোগসহ নানামুখী তীব্র সমস্যা-সংকটে জর্জরিত ছিল দেশটি। রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যকর ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র-চীন-পাকিস্তান অক্ষশক্তি এবং দেশবিরোধী ঘাতক-দালালরা ছিল পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে নানামুখী তৎপরতায় লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রে উত্তরণ’-এর ঘোষণা দিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশ গড়ার সংগ্রাম শুরু হয়।
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, নবজাত দেশে জনগণ বঙ্গবন্ধু সরকারের পক্ষে নিরঙ্কুশ ও সুদৃঢ় আস্থা-বিশ^াস-সমর্থন নিয়ে থাকলেও কমিউনিস্ট পার্টি (মণি সিংহ) ও ন্যাপ (মোজাফফর) ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়ায় নি। একসময় ন্যাপও (মোজাফফর) বিরোধী অবস্থান নেয়। পরে অবশ্য আবারও অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ‘ত্রিদলীয় জোট’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যান্য প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলগুলো সর্বতোভাবে সরকারের বিরোধিতায় নামে। আর ‘রাতের বাহিনী’ গোপন উগ্রবাম চীনপন্থি সশস্ত্র গ্রুপগুলো নাশকতামূলক কাজ অব্যাহত রাখে। সরকার ও সরকারি দলের মধ্যে সৃষ্টি হয় বঙ্গবন্ধুর ভাষায় সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী ও লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানপন্থিদের নিয়ে ‘চাটার দল’।
গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে উল্লিখিত বিরোধী সব দল ও গ্রুপগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গণতন্ত্র তথা জাতীয় চার নীতিকে আঘাত করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিতর্কিত ও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে এরা তৎপরতা ও প্রচার চালায়। এই বিরোধিতা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ১৯৬৬ সালে যখন ৬-দফা উত্থাপিত হয় এবং ৭ জুন হরতাল পালিত হয়, তখনও উল্লিখিত দল ও গ্রুপগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই দাবির বিরোধিতা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীনপন্থি গ্রুপগুলোর কোনো কোনোটি ‘দুই কুকুরের লড়াই’ সেøাগান তুলে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে, যা কার্যত হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর শান্তি কমিটি ও রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীকে সাহায্য করে। এই পটভূমি বিবেচনায় নিয়েই স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু আমলে সরকারবিরোধী অপতৎপরতা ও অপপ্রচার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

নবজাত দেশে প্রথম ২৫ দিন
বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ২৫ দিন সময়কালকে একটি পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা চলে। রাজধানী ঢাকা মুক্ত হলেও প্রথম কয়েকদিন দেশের কোনো কোনো অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়নি। বঙ্গোপসাগর থেকে ২৪ ঘণ্টা পথের দূরত্বে মার্কিন সপ্তম নৌবহর এবং এর পাশে ২০টি সোভিয়েত রণতরীর অবস্থান তখন নানা গুজব ও শঙ্কার জন্ম দিয়ে যাচ্ছিল। বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি তখন ছিল স্বজন হারানোর বিশেষত শহিদ বুদ্ধিজীবীদের হারানোর শোক ও বেদনা। শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানিরা অর্থনীতিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ১০০ কোটি টাকার নোট জ্বালিয়ে দেয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এ অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে ফিরে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার কাজকর্ম শুরু করে।
তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত-বিরোধী প্রকাশ্য প্রচার সম্ভব ছিল না। তবে ওই দিনই বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনীর প্রধান ঘোষণা করেন, ভারতীয় বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বাংলাদেশে অবস্থান করবে না। এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে অনেক কিছুই প্রমাণ করে। ২২ ডিসেম্বর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের মন্ত্রীরা ঢাকা আসেন। ওই দিনই সুদূর পাকিস্তানে কারাগার থেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গৃহবন্দী করা হয়। পাকিস্তানের প্রসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলতে থাকেন, পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের ‘অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ’। ‘অখ- পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে’ তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় আগ্রহী। বঙ্গবন্ধু তখন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের কথা জানতেন না। ২৭ ডিসেম্বর মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়।
এই আলোচনা নিয়েও স্বাধীনতাবিরোধী নানা গুজব ছড়ানো হতে থাকে। গুজব কারা ছড়াচ্ছে, তার উৎস না জানা গেলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না কারা গুজব ছড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ জানুয়ারি ঢাকা ফিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভার ভাষণে ‘স্বাধীনতা অপরিবর্তনীয়’, ‘পূর্বতন সম্পর্ক আর পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয়’ ঘোষণা দিলে এবং পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক বাতিল করলে তখনকার মতো গুজবের অবসান হয়।
সেই দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তেমন স্বাভাবিক হচ্ছিল না। নানা স্থানে নানা কারণে অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছিল। হানাদার বাহিনীর সশস্ত্র দালাল কোথাও কোথাও ভোল পাল্টিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছিল। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনায় নানামুখী প্রচারে মুক্তিযোদ্ধারা অভিযুক্ত হচ্ছিল। কিন্তু সরকার কর্তৃক অস্ত্র প্রত্যর্পণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো অবস্থা ছিল না। এদিকে প্রথমে জিনিসপত্রের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়লেও কিছুদিনের মধ্যেই দ্রব্যমূল্য কমতে শুরু করেছিল। ওই দিনগুলোতে নবজাত দেশের শাসন পদ্ধতি কী রূপ নিয়ে দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত ছিল না। বঙ্গবন্ধু কবে, কখন ফিরে আসবেন কিংবা আসবেন কি নাÑ এ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজমান ছিল। সরকার ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে তখন অনভিপ্রেতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান ও মতামত নিয়ে অস্থিরতা বিরাজমান ছিল।
এ অবস্থায় ২১ ডিসেম্বর ন্যাপ মোজাফফরের পক্ষ থেকে ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের সমাজসেবা সম্পাদক কেএম ওবায়েদুর রহমান (পরবর্তীতে খুনি মোশতাকের সহযোগী) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। এই বিরোধিতার ফলে ন্যাপের পক্ষ থেকে প্রচার হতে থাকে যে, আওয়ামী লীগ একা চলার নীতি গ্রহণ করেছে। প্রসংগত, তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডান ও দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রচার ছিল না। সরাসরি ভারত-বিরোধী প্রচারও ছিল না। চীন প্রথমেই বাংলাদেশে দূতাবাস বন্ধ করে দেয় এবং চীনপন্থি বিভিন্ন গ্রুপগুলো সরকারকে রুশ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের ‘দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ভেতরে ভেতরে সরকারবিরোধী প্রচারে শামিল হয়। এ অবস্থায় ন্যাপের উল্লিখিত আওয়ামী লীগের একলা চলার নীতি প্রচার রাজনৈতিক সচেতনমহলকে আলোড়িত করে। ২৫ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা করেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের পাঁচ-দলীয় পরামর্শদাতা কমিটি বহাল থাকবে।
সময় যত এগুতে থাকে, ততই বিভিন্নধর্মী গুজব পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। প্রচারিত হয়ে যায় যে, মুক্তিবাহিনীকে নিরস্ত্র করা হবে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিক্ষুব্ধ মনোভাব জাগ্রত হয়। এদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণকারী ৮৯ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে এবং ৫ হাজার জনকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে নানা গুজব পল্লবিত হয়। এসব গুজব নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, মুক্তিবাহিনীকে নিরস্ত্র করার প্রশ্নই ওঠে না। সরকার তালিকাভুক্ত ও তালিকাবিহীন সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতামতের ওপর ভারত কোনো ভূমিকা রাখবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশতাক তখন ভারতের সাথে সম্পর্ক ‘উত্তরোত্তর ঘনিষ্ঠ’ হবে, জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ‘গ্রহণ করা’ হবে প্রভৃতি কথা বলতে থাকেন। এটা যে ছিল অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ তা অনুধাবন করা যায়, যখন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হয় এবং খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে আবদুস সামাদ আজাদকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এবং সদ্যজাত দেশে নানামুখী অশুভ তৎপরতার ফলশ্রুতিতেই যে খুনি মোশতাককে ওই পদ থেকে সরানো হয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আজ ৪৭ বছর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্মের উৎসমুখের সেই কঠিন ও জটিল দিনগুলোতে পর্দার অন্তরালে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী অপতৎপরতা ও গুজবের ধরন বিবেচনায় নিলে অনুধাবন করা যাবে যে, পরবর্তীতে সরকার কোন কোন দিক থেকে বিরোধী অপতৎপরতা ও অপপ্রচারের মুখোমুখি হবে।

বঙ্গবন্ধুর শাসনামল : সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সময়কাল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার সাথে সাথেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার অনুযায়ী নবজাত দেশের লক্ষ্য ও পথ স্থির হয়ে যায়। দেশ সংসদীয় পদ্ধতিতে চলবে, বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হবে অবারিত, লক্ষ্য হবে সমাজতন্ত্র প্রভৃতি ঘোষিত হয়। পুনর্গঠন, পুনর্বাসন ও খাদ্য সংকটের সমাধান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হতে থাকে। আটক বাংলাদেশিদের পাকিস্তান থেকে দেশে আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলতে থাকে। প্রথম অবস্থায়ই ভারত খাদ্য ঘাটতি বিবেচনায় ৭ লাখ টন খাদ্য সাহায্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন পরিষ্কার করার কাজে নামে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে থাকে। ভারতীয় বাহিনী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১৯ মার্চ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত হয়ে উঠলে তাদের দমনে ভারতীয় বাহিনীকে আবার তলব করা হয়।
নতুন সরকারের প্রয়োজনীয় সব প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ গঠন এবং পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সরকারি অফিসগুলোতে বিলাসদ্রব্য বর্জন তথা কৃচ্ছ্র-সাধন করার আদেশ দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় মূলনীতিতে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র-র সাথে জাতীয়তাবাদ যুক্ত করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন বাহিনীসহ মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র সমর্পণ করতে থাকে। সকল বাহিনীকে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথম স্বাধীনতা দিবসে প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার অনুযায়ী কল-কারখানা, ব্যাংক ও বীমা জাতীয়করণ এবং জমির সিলিং নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ করার জন্য ন্যায্যমূল্যের দোকান খোলা ও রেশন-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গণপরিষদ গঠন করা হয়।
এতসব সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে তেমন উদ্দীপনা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। ১৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের সদস্য ও একীভূত হওয়ার জন্য সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গুলিবিনিময়, ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসে শহিদ মিনারে গ-গোল প্রভৃতি ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এদিকে দুর্নীতি-লুটপাট, ঘেরাও-ধর্মঘট, চোরাচালান-মজুতদারি, দখল-দাপট প্রথম থেকেই পরিস্থিতিকে নাজুক করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ব্যাংকের টাকা লুটপাটের সত্য-মিথ্যা ঘটনার সাথে তখনকার দুর্নীতির ঘটনা একত্রিত হয়ে গল্পকেচ্ছার মুখোরোচক কাহিনির জন্ম দিতে থাকে। দুর্নীতির দায়ে সেই দিনগুলোতে ৪২ জন গণপরিষদ সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হতে থাকে। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘট ও ঘেরাও নিষিদ্ধ করা হয়। শহরে সান্ধ্য আইন জারি করে ভুয়া রেশনকার্ড খুঁজে পেতে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো, চোরাচালান ও মজুতদারি রোধে সীমান্তে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রেরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ সেনাবাহিনীর অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
ইতোমধ্যে ১৯৭২ সালের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ ও উগ্রবাম সেøাগান তুলে ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়। এরা প্রথমে গণপরিষদ ভেঙে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই সরকার গঠনের আওয়াজ তোলে। পরে সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্যতার প্রশ্ন তুলে সরকারের বিরুদ্ধে উগ্র প্রচারে নামে। এ দিনগুলোতে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়। প্রশাসনে স্বাধীনতাবিরোধীদের কর্মকা- এ দিনগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মন্ত্রীদের কথাবার্তায় ব্যাপক অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ৯ মাসের বেতন এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বালিকাদের বেতন মওকুফের প্রেক্ষিতে বালিকা বিদ্যালয়গুলোতে বেতন প্রভৃতি ঘটনা নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে সমস্যার সমাধান হয় ঠিকই; কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট বিশেষত মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে সংকটাপন্ন করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে মওলানা ভাসানী ৫ সেপ্টেম্বর ভুখা মিছিলের নামে সরকারবিরোধী সেøাগান তুলে জনসভা ও মিছিল করেন। প্রকাশ্যে যখন সরকারবিরোধী এসব তৎপরতা চলছিল, তখন মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘দুই কুকুরের লড়াই’ সেøাগান তুলে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সেসব গোপন মাওপন্থি ও নকশালপন্থি গ্রুপগুলো বিভিন্ন এলাকায় গুপ্তহত্যাসহ নাশকতামূলক কাজ শুরু করে।
এই সাথে বিরোধী শক্তিগুলো প্রকাশ্যে সোভিয়েত ও ভারত-বিরোধী সেøাগান তোলে। ভারতের সাথে ২৫ বছরের চুক্তিকে মূলত টার্গেট করে বঙ্গবন্ধুর সরকারকে ভারত-সোভিয়েতের ‘পুতুল সরকার’ আখ্যায়িত করে উৎখাতের আওয়াজ তীব্রতর করে তোলে। এ অবস্থায় সরকার বাধ্য হয়ে প্রথমে ৫টি পত্রিকার ওপর রাষ্ট্রবিরোধী সংবাদ পরিবেশনের জন্য শোকজ নোটিস জারি করে এবং পরে ‘হক কথা’, ‘মুখপত্র’ ও স্পোকসম্যান’ পত্রিকার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করে। এ অবস্থায় অক্টোবরে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জন্ম হয়। এ দিনগুলোতে ন্যাপ মোজাফফর ‘সকল দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের’ আহ্বানের সাথে সাথে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারে নামে।
ইতোমধ্যে ৩ নভেম্বর গণপরিষদে চারনীতি সম্বলিত সংবিধান গৃহীত এবং ৭ মার্চ ’৭৩ প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়। এই সংবিধানকে কমিউনিস্ট পার্টি ‘কল্যাণকর’ বলে অভিহিত করে। কিন্তু ন্যাপ মোজাফফর আওয়ামী লীগ-বিরোধী অবস্থান নিয়ে এই সংবিধানের সমালোচনা করে এবং গণপরিষদে ন্যাপের একমাত্র সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্বাক্ষরদানে বিরত থাকেন। নির্বাচন সামনে রেখে ডিসেম্বর মাস থেকে ন্যাপ মোজাফফর বঙ্গবন্ধু সরকারের বিপরীতে বিকল্প সরকার গঠনের আওয়াজ তোলে। ন্যাপ ভাসানী, চীন ও নকশালপন্থি উগ্র গ্রুপগুলো ও জাসদের সাথে মোজাফফর ন্যাপের পার্থক্য ছিল যে, এই দল বঙ্গবন্ধু সরকারকে রুশ-ভারতের ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেনি। বাস্তবে নির্বাচনের আগে সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতার সমালোচনা করলেও কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া আর কোনো দল সরকারের পক্ষে ছিল না।
১৯৭৩ সালের প্রথম দিনটি ছিল রক্তাপ্লুত। ওই দিন ছাত্র ইউনিয়ন আহূত ভিয়েতনাম সংহতি দিবসের মিছিল বিশ^বিদ্যালয় থেকে তোপখানাস্থ মার্কিন তথ্যকেন্দ্র ও মোজাফফর ন্যাপ অফিসের সামনে এলে অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের গুলিবর্ষণে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দুজন ছাত্র মতিউল-কাদের নিহত হয়। পরদিন ২ ডিসেম্বর ডাকসু, ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ হরতাল আহ্বান করে। পল্টনের সভা থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকসুর আজীবন সদস্যপদের সার্টিফিকেট ছিড়ে ফেলে। ছাত্র ইউনিয়ন সরকার পদত্যাগের আওয়াজ না তুললেও ন্যাপ সরকারের পদত্যাগ দাবি করে। এ সময় ‘জাতির পিতার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হচ্ছে’Ñ এই অভিযোগ তুলে ঢাকাসহ প্রায় সব জেলায় ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন অফিস এবং কোথাও কোথায় কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে কমিউনিস্ট পার্টি উদ্যোগ নিলে জটিলতা ও উত্তেজনা হ্রাস হয়।
তবে আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য বিরাজমান থাকে। এ ঘটনার মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ‘বামবিচ্যুতি, পেটি বুর্জোয়াসুলভ হটকারিতা, ছেলেমানুষিপনা ও বামপন্থি বিপদ সম্পর্কে বাম ও কমিউনিস্টদের সতর্ক ও হুঁশিয়ার’ থাকার আহ্বান জানানো হয়। প্রসংগত, এই অনভিপ্রেত ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের সুযোগ গ্রহণ করে জাসদ, ভাসানী ন্যাপ ও উগ্র বামপন্থি গোপন গ্রুপগুলো। এসব দলগুলো সরকার এবং ভারত-সোভিয়েতবিরোধী প্রচার আরও জোরদার করে। বঙ্গবন্ধুকে টার্গেট করে যে প্রচার আগে থেকেই চলছিল, নির্বাচন সামনে রেখে তা আরও বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে ৭ মার্চ নির্বাচন এসে যায়।
এই নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারে কয়েকটি ধারা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের কর্মসূচি প্রচার করে। কমিউনিস্ট পার্টি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। ন্যাপ তীব্রভাবে ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রচার চালায় এবং বিকল্প সরকারের আওয়াজ তোলে। ভাসানী ন্যাপ ও মাওবাদী উপদলের ঐক্যজোট ভারত-সোভিয়েত ‘দালাল সরকারকে পরাজিত’ করার আহ্বান জানায়। জাসদ উগ্রভাবে আওয়ামী লীগ-বিরোধী প্রচার চালায় এবং সরকার উৎখাতের আওয়াজ অব্যাহত রাখে। ভাসানী ন্যাপের সাথে জাসদও নির্বাচনী প্রচারে সাম্প্রদায়িক ও ভারত-সোভিয়েতবিরোধী প্রচার চালায়।
এ সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে জামাতে ইসলাম ও মুসলিম লীগ প্রভৃতি নিষিদ্ধ সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও মহল প্রধানত জাসদ ও ভাসানী ন্যাপের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে এবং ভেতরে ভেতরে এরা সংগঠিত হয়। পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টি নির্বাচন সময়কালীন প্রচারের মূল্যায়ন করে বলে যে, তীব্র সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণে ন্যাপ প্রগতিশীল ‘অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি’ গুরুত্বসহকারে প্রচার করেনি। ন্যাপ ‘ভাসানী ন্যাপ ও জাসদের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রের মুখোশ উন্মোচন করে না, অথচ বঙ্গবন্ধু তখন সঠিকভাবেই শত্রুদের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালায়।’ মূল্যায়নে প্রচার তৎপরতার পর্যালোচনা করে বলা হয়, পার্টিও যথাযথভাবে ‘নির্বাচনী নীতি কার্যকর করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করিতে’ পারেনি।
নির্বাচনের সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচারের ধারা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সরকারি দল আওয়ামী লীগ সরকারের বিপুল কর্মকা- ও সাফল্য এবং দলীয় কর্মসূচি ও নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। কর্মসূচি ও রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে যতটুকু প্রচার করা হয়েছে, তা করেছেন মূলত ও প্রধানত বঙ্গবন্ধু নিজে। কমিউনিস্ট পার্টির মূল্যায়নে ‘প্রধান প্রচারকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই।’ উল্টোদিকে বিরোধী দলগুলো সরকার বিরোধিতায় জনগণকে শামিল করাতে না পারলেও প্রচারে সরকারের দুর্নীতি-ব্যর্থতা সামনে আনতে অনেকটাই সফল হয়। সরকার ভারত ও সোভিয়েতের ‘দালাল’Ñ এই প্রচার আরও সামনে আসে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আগ্রহ-উদ্দীপক বিষয় হলো, যে গণতন্ত্র বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণকে উপহার দিল, সেই গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরকারবিরোধী তৎপরতা ও প্রচার চালায় এবং পুরোপুরি ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত করতে সচেষ্ট থাকে।

বঙ্গবন্ধু আমল : জরুরি আইন জারি পর্যন্ত সময়কাল
নির্বাচনের পর জাতির গণতান্ত্রিক পথে জাতীয় চারনীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষাভিমুখী অগ্রসর হওয়ার যেমন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়, অন্যদিকে তেমনি গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে গণতন্ত্র, আইন ও গণবিরোধী অপতৎপতা ও নাশকতামূলক কাজ করারও সুযোগ অবারিত হয়। প্রশাসনে একদিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের আর অন্যদিকে সুবিধাবাদী- সুযোগসন্ধানীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। এসব গণতন্ত্র ও আইনবিরোধী অপতৎপরতা রোধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বিরোধীরা সরকারকে একদিকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যায়িত করে প্রচার জোরদার করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দল থেকে বাধা আসে এবং তাতে দল ও সরকারে নানামুখী টানাপড়েন ও অস্থিরতা দেখা দেয়। এই সময়কালে বিদেশেরও সরকারবিরোধী প্রচার বেড়ে যায়। সরকার উভয় সংকটে পড়ে। এ সময়কালের শেষদিকে আমেরিকান সরকারি মহল ও বিদেশি প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ সরকারবিরোধী প্রচারে নামে।
এ সময়কালে বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় চারনীতি বিশেষত জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী সাম্প্রদায়িক প্রচার জোরদার হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শূন্য থেকে শুরু করা একটি দেশকে লক্ষাভিমুখে অগ্রসর করার জন্য সরকার যেসব কাজ করে এবং তাতে যেসব সাফল্য আসে, তা দল ও সরকারের পক্ষে জনগণের কাছে তুলে ধরা নানাবিধ কারণে সম্ভব হয়নি। সাধারণভাবে পত্রপত্রিকা বিশেষভাবে গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় পত্রিকাগুলো সত্য-মিথ্যা, তিল-তাল প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ করার অশুভ পথ গ্রহণ করে। প্রসংগত, নির্বাচনে একক দল হিসেবে ২৯২টি আসনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয়। নতুন সরকার গঠনের পর একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া আওয়ামী লীগের বন্ধু রাজনৈতিক দল কেউ ছিল না। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নতি না হওয়া, জাতীয়করণকৃত কল-কারখানায় অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার প্রকোপ বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার পটভূমিতে মোজাফফর ন্যাপ তার অবস্থান পরিবর্তন করে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ন্যাপ ও সিপিবি’র মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পটভূমিকায় ন্যাপ সরকারবিরোধী অবস্থান পরিবর্তন করে। ‘ত্রিদলীয় ঐক্যজোট’ গঠিত হয়। কিন্তু ওই জোট তেমন কার্যকর হতে পারে না। বরং বিরোধীরা দুই দল মোজাফফর ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টিকে আওয়ামী লীগের ‘বি টিম’ হিসেবে প্রচার চালিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা চালায়।
নির্বাচনের পর থেকে নতুন সংসদে বাজেট পেশ পর্যন্ত সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকার রেশনে চাল-গমের বরাদ্দ বাড়ানো, দখলদার আমলে ইস্যুকৃত সকল আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল, খাদ্য সরবরাহ তরান্বিত করতে বিভিন্ন বন্দরে সেনা নিয়োগ, অসৎ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স ও ডিলারশিপ বাতিল, খাদ্য ঘাটতি ও সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কাছে সাহায্যের আবেদন, পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের সাথে আটক বাঙালিদের বিনিময় চুক্তি, বিনামূল্যে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টন, ভারতে ছাপা টাকার নোট প্রত্যাহার, প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, দৈনিক স্বদেশ-এর প্রকাশনা বন্ধ ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ত্রাণমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর (পরবর্তীতে মিজান আওয়ামী লীগ গঠন করেন এবং এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন) পদত্যাগ এ সময়ের উল্লেখ করার মতো ঘটনা। ইতোমধ্যে শুরু হয় বেসরকারি কলেজ ও শিক্ষকদের ধর্মঘট। মওলানা ভাসানী তিন-দফা দাবিতে অনশন শুরু করেন এবং ২১ মে ভাসানী ন্যাপ প্রকাশ্য ও গোপন চীনপন্থি গ্রুপগুলোকে নিয়ে হরতাল আহ্বান করে। এই দিনগুলোতে পাকিস্তানে আটক বাঙালি নির্যাতনের ভয়াবহ সব খবর আসতে থাকে। এরই মধ্যে বিরোধী দলগুলো ভারত-সোভিয়েতবিরোধী প্রচার আরও জোরদার হয়ে ওঠে। তবে পাকিস্তানি নির্যাতনের ব্যাপারে সরকারবিরোধী দলগুলো কার্যত নীরব থাকে।
ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায় গণবাহিনী ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র অপতৎপরতা। সাথে ‘দুই কুকুরের লড়াইপন্থি’ উগ্র বাম ‘রাতের বাহিনী’ সশস্ত্র গ্রুপগুলোর তৎপরতা আগে থেকেই ছিল। এ দিনগুলোতে এমপিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাদের গুপ্তহত্যা করার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সংসদের প্রথম ও বাজেট অধিবেশন শুরু হতে না হতেই ১২ জুন খুলনার ফকিরহাট থানার বেতাগী ফাঁড়িতে হামলার মধ্যদিয়ে থানা-ফাঁড়ি, হাট-বাজার, গ্রাম-বন্দর আক্রমণ, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উৎপাটন, রেল-লঞ্চ ডাকাতি, কারখানায় আগুন, ব্যাংক লুট প্রভৃতি হিংসাত্মক নাশকতামূলক কাজ চলতে থাকে। অসংখ্য থানা ও ফাঁড়ি সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণের শিকার হয়। খাদ্য ঘাটতি ও সংকটের মধ্যে রেশনকার্ড নিয়ে দুর্নীতি এবং অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাচালানীদের তৎপরতা চরমে ওঠে। সাথে সাথে চলতে থাকে ধর্মঘট-ঘেরাও ইত্যাদি। সেনাবাহিনী তলব, সান্ধ্য আইন জারি করে চিরুনি তল্লাশি প্রভৃতি চালানো হয়। রক্ষীবাহিনীও নামানো হয়।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বে-আইনি সশস্ত্র হিংসাত্মক নাশকতামূলক কাজ হলে যদি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী নামানো হয়, তবে কম-বেশি অনেক কিছুই হতে পারে। এক কথায় বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন গণতন্ত্র দিয়ে আর গণতন্ত্র ব্যবহার করে চালানো হয় প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য হিংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজ এবং উগ্র উসকানিমূলক প্রচার। সরকার এসব হীন উদ্দেশ্যমূলক ও বে-আইনি প্রচার ও তৎপরতা বন্ধ করতে নামলে সরকারি পদক্ষেপকে বলা হতে থাকে স্বৈরাচারী কাজ। আগস্ট মাসে সরকার দেশ বাংলা (চট্টগ্রাম) বন্ধ করে। সরকার পাকিস্তানি আমলের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন আইন বাতিল করে নতুন অর্ডিনেন্স জারি করে। দেশ বাংলা পত্রিকা বন্ধ করার কারণে সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করে। মওলানা ভাসানী ২৯ আগস্ট এবং পরে ১২ অক্টোবর হরতাল আহ্বান করে। অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়।
১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাসদ ও ভাসানী ন্যাপসহ চীনপন্থি গ্রুপগুলো সরকারবিরোধী তীব্র ও উগ্র প্রচার আরও জোরদার করে। এই দুই দল তখন খোলাখুলিভাবে ভারত ও সোভিয়েত-বিরোধী প্রচারের সাথে চীনের পক্ষে ওকালতি শুরু করে। এমন প্রচার নানাভাবে চলতে থাকে যে, ‘চীনের সমর্থনে অস্ত্রের সাহায্যে সরকারকে উচ্ছেদ করলে’ দেশের প্রকৃত মুক্তি আসবে। এমন প্রচারের সাথে হুমকি দেওয়া হতে থাকে যে, সময় এলে সামরিক বাহিনী, পুলিশ প্রভৃতি তাদের সাথে থাকবে। মওলানা ভাসানী তীব্রভাবে ভারত বিরোধিতায় নেমে পল্টনের জনসভায় ভারতের পণ্য বর্জন এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় প্রভৃতি নিয়ে ‘বৃহত্তর বাংলা’ গঠনের আওয়াজ তোলেন। এ সময়ে খবর রটে যে, চীন তাদের প্রভাবে এই অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেছে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের চীন ও নকশালপন্থি গ্রুপগুলোকে একত্র কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এ সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক বে-আইনি গোষ্ঠীগুলো পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘মুসলিম বাংলা’ গঠনের আওয়াজ তোলে। সরকারবিরোধী দলগুলোর কেউ কেউ ভারত বিরোধিতার সাথে সাম্প্রদায়িক প্রচারণাও চালায়। দ্রব্যমূল্য ও ঘুষ-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, চোরাচালানী-মজুতদারি প্রভৃতির ফলে জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, তাতে পরাজিত শক্তি উল্লিখিত প্রচারের পরিবেশ পায়। বঙ্গবন্ধু একদিকে সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানীদের ‘চাটার দল’, অন্যদিকে উগ্র সশস্ত্র বাম ‘রাতের বাহিনী’ এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার পক্ষে প্রচার চালাতে থাকেন। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে এসে দেখা যায়, পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয় না। গুপ্ত হত্যা ও নাশকতামূলক কাজের সাথে সরকার ও ভারত-সোভিয়েতবিরোধী প্রচারণা চলতেই থাকে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার ১৩ জানুয়ারি এক ঘোষণাবলে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সকল জনসভা নিষিদ্ধ করেন।
এই দিনগুলোতে প্রচার চলতে থাকে যে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের সাথে গোপন চুক্তি হয়েছে, যাকে বলা হতে থাকে ‘দাসখত’। ফারাক্কার কারণে পদ্মার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পত্রিকাগুলোতে চাপা হয়। ভারতীয় বাহিনী যাওয়ার সময় সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গেছে প্রচারও জোরদার হয়। ভারত উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করছে না বলে অভিযোগ সামনে আসে। ১৩ জানুয়ারি সংসদে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের সাথে কোনো গোপন চুক্তি হয়নি। ১৫ মার্চ ভারতের লোকসভায় সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়, ফারাক্কা ব্যারেজ সম্পর্কে দু-পক্ষের গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে। সমাধানের আগে ফারাক্কা ব্যারেজ বন্ধ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়। ১৭ জুন সংসদে তথ্য দেওয়া হয় যে, পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বৃহদাংশ ভারত ফিরিয়ে দিয়েছে। ১৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব ঘোষণা ও তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও ভারত-বিরোধী প্রচারণা এবং সরকার ভারতের দালাল প্রচার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ১৮-২০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ছিল এ সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে লাহোরে ইসলামি দেশসমূহের (ওআইসি) সম্মেলন সামনে চলে আসে। ৫ ফেব্রুয়ারি ইসলামি কনফারেন্সের সেক্রেটারি ঢাকা সফরে আসেন। মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। সর্বোপরি তখন পেট্রোডলার পদ্ধতির উত্থান শুরু হয়েছে। তেল উৎপাদনকারী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে তাই তখন সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা সরকার যথাযথ মনে করেছিল। সরকার এই সম্মেলনে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু পাকিস্তান স্বীকৃতি না দিলে বাংলাদেশের পক্ষে যোগদান করা সম্ভব ছিল না। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কতক বিষয় মীমাংসা করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষত মুসলিম প্রধান দেশগুলোর তীব্র তৎপরতা ও চাপ ছিল। পাকিস্তানে ছিল আটক বাঙালি এবং তারা বিভিন্নভাবে নিপীড়নের মধ্যে ছিল আর বাংলাদেশে ছিল যুদ্ধবন্দি ও আটকেপড়া পাকিস্তানি। তাছাড়া পাকিস্তানের কাছে ন্যায্য পাওনার বিষয়টিও ছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভুট্টো তখন বলতে থাকেন, বাংলাদেশ যদি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারকার্য স্থগিত রাখে, তবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আলজেরিয়া, লিবিয়াসহ কতক দেশ এ ব্যাপারে দূতায়ালি করে। ২২ ফেব্রুয়ারি ইরান ও তুরস্কের সাথে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তবে তখনও সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় না। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরদিন ওই দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তান তখনও প্রকাশ্যে বাংলাদেশ-বিরোধী চক্রান্ত চালিয়ে অন্তত কনফেডারেশনের আওতায় বাংলাদেশকে আনার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
[অসমাপ্ত]

Category:

হেরেও এশিয়া কাপে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

PMক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলবে, খেলবে নাÑ এমন কল্পনা-আশা দুটিই ছিল। তবে তামিম-সাকিবের দলের বাইরে চলে যাওয়ার পরও তা ছিল এক অভাবিত স্বপ্ন। কিন্তু সুপার ফোরে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নরথ রচিত হয়েছিল।
টস শেষে ব্যাটিং ইনিংসের সূচনার পর শতভাগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল ফাইনাল ম্যাচ শুরুর পর থেকে। বিশেষ করে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড রান; লিটন-মিরাজের অসাধারণ পার্টনারশিপ। যেনÑ সব সম্ভাবনাই ঝুঁকে পড়েছিল আবেগপ্রবল ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালিদের ওপর। কিন্তু সেই বাংলাদেশ মধ্য ইনিংসে ভারতীয়দের কালো থাবায় রঙিন স্বপ্ন ফানুস হতে লাগল। বাংলাদেশ এক ব্যাটিং-নায়ক লিটন দাশ সৌম-মিরাজে ২২২ রানে থিতু হয়েছিল। যা নিয়ে ভারতের প্রলম্বিত ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখা ছিল অবিশ্বাস্য। রোহিত-ধনি-ধাওয়ানরা এই রানের পর হয়তো ঘুমের জয়ের স্বপ্ন বিভোরই ছিলেন। অথচ ওই রান নিয়েই বাংলাদেশ ভারতকে শাসন করেছে শেষ বল পর্যন্ত। ভাগ্যদেবী বাংলাদেশের আসনে নেমে এলে নাম লেখা হতো দুঃস্বপ্ন জয়ের আখ্যানে। এশিয়া কাপটা ধরা নেমে এসেও যেন আসছে না। এ নিয়ে তিনবার ফাইনালে বাংলাদেশের স্বপ্ন-প্রত্যাশা ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গেল। এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ফাইনালে গিয়েও শিরোপার দেখা পায়নি।
বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন এবং মিরাজ অসামান্য শুরু করেছিলেন। যেভাবে তারা খেলছিলেন, একসময় মনে হচ্ছিল ৩০০ রান সহজেই উঠবে। কিন্তু, তখনই নামে ধ্বংসের প্রবলতা। তবে রূপকথার ইনিংস খেলেছেন লিটন দাশ। দলকে দারুণ একটা শুরুই শুধুই দেয় নি, করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানও (১২১)। মুস্তাফিজ-রুবেল-মাশরাফিতে ভারতের ইনিংসে নেমে এসেছিল আশঙ্কার মেঘ।
বাংলাদেশ হেরে গেলেও এমন হারে লজ্জার ছিটোফোঁটাও নেই। এই হার গৌরবের। এই হার বাংলাদেশের ওপর আইসিসির চাপিয়ে দেওয়া হার। লিটন দাশের আউটটি কতটা অন্যায়Ñ তা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এখনও তোলপাড় চলছে। এশিয়া কাপে ভারতকে কাঁপিয়ে-নাচিয়ে শেষ হাসি হাসতে না পারলেও এমন ম্যাচ বাংলাদেশের প্রতি আসরে, প্রতি ম্যাচে অনুপ্রাণিত করবে।
ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা নতুন নয়। বাঙালিদের চিরায়ত আনন্দ-বিনোদনের সঙ্গে ক্রিকেট কতটা মিশে আছে; তা এবারও প্রমাণিত হয়েছে এশিয়া কাপে। গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ খেলে আউট তামিম, ফাইনালের আগেই নেই সাকিব। তারপরও বাংলাদেশ পাকিস্তান-শ্রীলংকা-আফগানদের হটিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। আর ফাইনালে ভাগ্যের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপের প্রাপ্তি সহজভাবে রানার্সআপ। কিন্তু আসলে কী তাই! যখনই এশিয়ার আসর ফিরে আসবে; ফিরে আসবে দুর্দান্ত বাংলাদেশের নাম। তবে তার চেয়েও বেশিÑ বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সুপার ফ্লপ, লোয়ার মিডল অর্ডারেও ধস, লিটন দাশ তৃতীয় বিচারকের অন্যায় আউটের শিকার, ৪৮তম ওভারে রুবেল দুর্দান্ত বলে ‘আনারি’ ভুবনেশ্বরের ছক্কা, শেষ ওভারে লেগ বাইÑ এসব রাজ্যের ‘যদি-কিন্তু’র যোগফলের সমীকরণ ঠঁাঁই করে নেবে ক্রিকেট উৎসাহী বাংলাদেশের সমর্থকদের স্মৃতির মণিকোঠায়।

Category:

মেয়েদের নৈপুণ্যে আবারও আলোকিত ফুটবল

Posted on by 0 comment

PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররাÑ বুদ্ধিমত্তা, ক্ষিপ্রতা, অসীম ধৈর্য, অদম্য ইচ্ছেশক্তি, দুর্দান্ত টেকনিক-ট্যাকটিস, আর দুরন্ত গতি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে একে একে চার প্রতিপক্ষকেই। যদিও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম নিয়ে ভয় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কিশোরীরা সেই ভয়কে অবলীলায় জয় করেছে। করেছেন স্বপ্ন পূরণ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামকে হারিয়েছে টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন আঁখি-তহুরারা। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা বাহরাইনকে ১০-০ গোলে, এরপর লেবাননকে ৮-০ গোলে এবং সবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্ন-প্রত্যাশার ঘুড়ি উড়িয়েছিল। আর অলিখিত ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা রাঙিয়েছে ঘুড়ির আকাশ।
বাংলাদেশ-ভিয়েতনামÑ আগের তিন ম্যাচে সব সমীকরণেই ছিল সমপর্যায়ে। দু-দলেরই ২৫টি গোল ছিল ঝুড়িতে। তাই জয় ভিন্ন পথ খোলা ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলের হয়ে গোলের সূচনা করেছেন তহুরা খাতুন। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন আঁখি খাতুন।
২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। গতবারের চেয়ে এবার দলসংখ্যা বেড়েছে বাছাইপর্বে। তাই গত আসরের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্সআপ দলকে খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার লড়াই।
এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই এশিয়ার বড় বড় দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ৮টি দল, ৪টি গতবারের চার সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও চীন। আর থাইল্যান্ড খেলবে সরাসরি স্বাগতিক দল হিসেবে। পাশাপাশি বাছাই থেকে আসবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দল। তাই ওই সেরা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারা হবে বাংলাদেশের কিশোরীদের বড় অর্জন।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণই মেয়েদের ফুটবলে প্রতিভাবান প্রজন্ম তৈরি করছে। স্বপ্নের ডালাপালা খুঁজে ফিরছে আকাশ উচ্চতা। উল্লেখ্য, মেয়েরা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ছাতার নীচে অনুশীলন করে যাচ্ছে। মেয়েদের হাত ধরেই নতুন করে আলোকিত হচ্ছে ফুটবল। বিপুল জনপ্রিয় ফুটবলে আবারও সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনার ইতিবাচক বাতাবরণ।

Category:

সাংবাদিকদের ‘নৈতিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে’

Posted on by 0 comment
PM

ফসেবুক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজদে জয়

উত্তরণ প্রতিবেদন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিরোধীদের সমালোচনা করে এই সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।
কিছু মহল থেকে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করা হচ্ছে। তাদের মূল আপত্তির জায়গা আইনটির বিশেষ কিছু ধারা। আইসিটি ডিভিশন যখন আইনটির খসড়াগুলো তৈরি করে তখন সেগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। সকলের সুবিধার্থে এ বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরছিÑ
সরকারি অফিসের কম্পিউটারে হ্যাকিং এবং গোপনে নজরদারির ক্ষেত্রে আইনের দরকার জনগণের তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই। এই আইনের আগে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো আইনি ভিত্তি দেশে ছিল না। তাহলে এই আইনের সাহায্য ছাড়া কীভাবে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিচার হবে? সরকারি কম্পিউটারে জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিকদের অনেক রকম তথ্য সংগৃহীত থাকে। ব্যাংক হিসাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, জমির রেকর্ড সবকিছুই আজকাল ডিজিটাইজ করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এগুলো যদি হ্যাক করা হয়, তার দায়ভার কে নেবেন? দায় কিন্তু তখন সরকারের উপরই আসবে। তাই, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আমি এই আইন প্রণয়নের সুপারিশ করি হ্যাকিং ঠেকানোর জন্য।
শুধু তাই নয়, সরকারি অফিসে ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে জনগণের তথ্য সম্বলিত বিভিন্ন দলিল বা নথির ছবি বা ভিডিও তোলাও সম্ভব। গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমেও নাগরিকদের অনেক সংবেদনশীল তথ্যের আলোচনা শুনে ফেলা সম্ভব, এমনকি ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডও। এর মাধ্যমে হয়তো একজন সাংবাদিকের কাজ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কারও দুর্নীতি ফাঁস করার জন্য একজন সাংবাদিকের কি সরকারি অফিসের কম্পিউটার হ্যাক করে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য চুরির অধিকার থাকা উচিত? পৃথিবীর কোনো দেশই কিন্তু বে-আইনিভাবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ দেয় না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও না। সরকারি অফিসে গোপনে নজরদারি করা সবদেশেই আইনবহির্ভূত, সাংবাদিকদের জন্যও। সাংবাদিকদের তাদের তথ্য অন্যান্য সূত্র থেকে জোগাড় করতে হয়। যেইসব কূটনৈতিক মিশন এই আইনটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তাদেরকে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই : সাংবাদিকরা কি আপনাদের দূতাবাসের ভেতরে গোপনে নজরদারি করার যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে পারবেন? আরেকটি আপত্তির জায়গা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ নিয়ে যে ধারাটি, সেটি নিয়ে। আমরা দেখেছি কীভাবে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫-এর পর বিএনপি-জামাত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ঘটনাবলিকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই বিকৃতিকরণের পেছনে কারণ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতিষ্ঠিত করা। এইসবের বিরুদ্ধে কি কোনো আইন থাকা উচিত নয়? আমরা কি ভবিষ্যতে আবারও এই অপরাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই? আইনটির এই ধারার বিরুদ্ধে যারা বলছেন তারা আসলে বাঙালি নন। তারা গোপনে জামাত সমর্থক রাজাকার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইনের উপর ভিত্তি করেই এই ধারাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৬টি ইউরোপিয়ান দেশে হলোকাস্টে “স্বীকৃত সংখ্যা” থেকে কম মানুষ মারা গেছে এই কথা বললেও কারাদ- দেয়া হয়। এর মধ্যে অনেক দেশ আছে যাদের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশে আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছে। যেইসব ইউরোপিয়ান দূতাবাসগুলো আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন : আপনাদের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইন থাকতে পারলে আমাদের কেন একইরকম আইন থাকতে পারবে না? আমাদের আইন যদি জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকারের মানদ-ের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে আপনাদেরগুলো কীভাবে হয়? এই ধারাটিতে কোনো ধরনের সংশোধন সম্ভব না। এই আইনের কিছু অংশ অনলাইনে মিথ্যা বা গুজবের মাধ্যমে সহিংসতা বা ধর্মীয় উন্মাদনা উসকে দেয়ার বিরুদ্ধে। আপনাদের মনে আছে, রামুতে, ফেসবুকে পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দেয়ার মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে পুরো একটি বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে একাধিকবার ঘটেছে। অতি সম্প্রতি ছাত্রদের আন্দোলনের সময়ও আমরা দেখেছি কীভাবে অনলাইনে গুজব রটানোর মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেয়া হচ্ছিল। এই আইন ছাড়া আমরা এই ধরনের সহিংসতা উসকে দেয়ার ঘটনাগুলো কীভাবে প্রতিহত করব? আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে এই বিষয়ে কিছুটা বিধান আছে। সেই আইনের আওতায় আপনি যদি এমন কিছু বলেন বা লিখেন, যার কারণে কেউ অন্য কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করে, তখন আপনার বিরুদ্ধে সেই আইনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না থাকলে আপনাকে আসলেই কেউ হতাহত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের কি হতাহতের ঘটনা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত? না-কি এই ধরনের ঘটনা যাতে ঘটতেই না পারে সেই দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত? এই ধরনের আইন পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যমান, যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। অনেক ইউরোপিয়ান দেশে, বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতা উসকে দেয়ার বিরুদ্ধে আইন আছে, আমাদের এই আইনও সেই রকমই। আরেকটি আপত্তির বিষয় যা শোনা যাচ্ছে তাহলে এই আইনের আওতায় অপরাধমূলক কর্মকা-ের জন্য যে কাউকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে ও তল্লাশি চালানো যাবে। ওয়ারেন্ট-এর প্রয়োজন তখনই পরে যখন অপরাধ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার ও তল্লাশি চালানো যায়। এটা ফৌজদারি আইনের মৌলিক বিষয় আমাদের দেশসহ সব দেশেই। আপনি যদি কোনো চুরির বিষয়ে অভিযোগ করতে পুলিশকে ফোন করেন, পুলিশ কি তখন ওয়ারেন্টের জন্য বসে থাকে না-কি তাৎক্ষণিকভাবে চোরকে গ্রেফতার করে চুরির মালামালের খোঁজে তল্লাশি চালাবে? ঠিক সেভাবেই পুলিশ যদি অনলাইন হ্যাকিং সম্পর্কে তথ্য পায় ও হ্যাকারের অবস্থান খুঁজে পায়, তাহলে ওয়ারেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত না-কি তাৎক্ষণিক তাকে থামানো উচিত? যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ দেশেই পুলিশ যদি কাউকে অপরাধমূলক কর্মকা-ের সময় অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারে, তাহলে তাকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে ও তল্লাশি চালাতে পারে। শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পর যদি গ্রেফতার বা তল্লাশি চালাতে হয়, তখন ওয়ারেন্টের প্রয়োজন পড়ে। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ধরা পড়লে কখনোই ওয়ারেন্টের প্রয়োজন পরে না। সর্বশেষ, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা নিয়ে যে ধারা সেটা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। আমি একমত, এখানে আসলে আদালতকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সত্য আর মিথ্যা নির্ণয় করার। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস। প্রেসক্লাব, সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনই কিন্তু তাদের নিজেদের নৈতিকতার সনদ বা আচরণবিধি প্রয়োগ করতে পারেন নি। সম্পাদক পরিষদের বর্তমান প্রধান মাহফুজ আনাম, যিনি টেলিভিশনের পর্দায় স্বীকার করেছেন ১/১১-এর সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচারের কথা।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে হলে তাকে বাধ্য করা হতো সাংবাদিকতা পেশা থেকে পদত্যাগ করতে। শুধু তাই নয়, তাকে আর কোনোদিন সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতো না। বাংলাদেশে কিন্তু সম্পাদক পরিষদ উল্টো তার পক্ষ নিয়েই তাকে তাদের জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত করেছে। বিষয়টি আমাকে অবাক করে। যেহেতু, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র মিশন এই আইন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে, আমি আশা করব তারা মাহফুজ আনামের স্বীকারোক্তির পরেও একটি প্রথমসারির পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত থাকা নিয়েও তাদের মতামত জানাবেন। তা না হলে, তাদের কার্যকলাপ হবে একপেশে ও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার শামিল। এ বিষয়টি থেকে আমরা সম্পাদক পরিষদের নৈতিকতা সম্পর্কে কি ধারণা পাই? পরিষ্কারভাবেই, তাদের নৈতিকতা বলে কিছু নেই। বস্তুত সম্পাদক পরিষদ বলতে চায়, তাদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে নোংরা, মিথ্যা প্রচারণা চালাতে দিতে হবে এবং সত্য অবলম্বন না করেই তাদের অপছন্দের রাজনীতিকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে দিতে হবে। তারা যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পনা করেন, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? যেহেতু গণমাধ্যমের সম্পাদকেরা তাদের নিজেদের তৈরি নৈতিক নির্দেশনাই মানতে রাজি নন, তাহলে আমরা সত্য-মিথ্যা নির্ধারনের ভার আদালতের হাতেই তুলে দেই। গ্রেফতার মানেই জেল নয়। সরকারের প্রমাণ করতে হবে যে আসামি জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রমাণের দায়ভার সরকারের। যে সকল সাংবাদিকের মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর উদ্দেশ্য নেই, তাদের ভয়েরও কিছু নেই। সম্পাদক পরিষদ যদি এ সকল ধারার সংশোধন চান, তাহলে তাদের নিজেদের নৈতিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সম্পাদক বা সংবাদকর্মী মিথ্যা সংবাদ ছেপেছেন, তাকে অবশ্যই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনোদিন সংবাদ তৈরি বা প্রচারের কাজ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

Category:

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০০০০ মেগাওয়াট

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: ২০০৯ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৯৪২ মেগাওয়াট। মাঝখানের ৯ বছর সেই উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে এখন হয়েছে ২০১৩৩ মেগাওয়াট। ৯ বছরে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে ৩০৭ গুণ, যা এখন ২০১৩৩ মেগাওয়াট। এই অগ্রগতি বিস্ময়কর। ৯ বছরের ব্যবধানে বিদ্যুতের সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ। আগামী জুনের মধ্যে দেশের সব উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে ১২৪ বিদ্যুতকেন্দ্রের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ১৭০৪৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো থেকে আরও ২৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে পায়রায় : সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি
৩৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রায়। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই কেন্দ্র যৌথভাবে নির্মাণ করবে জার্মানির সিমেন্স এজি এবং বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)। আমদানি করা এলএনজি-নির্ভর হবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এ প্রকল্পের ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন আসবে ঋণ থেকে। বাকি ৪০০ মিলিয়ন ডলার থাকবে মূলধন হিসেবে। দুই সংস্থা সমানভাবে সরবরাহ করবে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিমেন্স ও নর্থওয়েস্টের মধ্যে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (জেডিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে সই করেন সিমেন্সের পক্ষে কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট (গ্যাস এবং ওয়ার) রিচার্ড ক্লেটন রেজিং এবং নর্থওয়েস্টের কোম্পানি সচিব দীপক কুমার ঢালী। এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই সংস্থা।

Category:

দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের পছন্দ শেখ হাসিনা

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠা বিএমআই রিসার্চের পর এবার ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য নানা দিক। আন্তর্জাতিক এ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইড অ্যান্ড সার্ভের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে আস্থাশীল অধিকাংশ মানুষ। তারা সন্তুষ্ট দেশের গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের পর এ প্রতিবেদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইড অ্যান্ড সার্ভে। প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ শতাংশ নাগরিক। জরিপের ফলের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। ৬৯ শতাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৬৮ শতাংশ মানুষ দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন আগামী দিনগুলোতে দেশ আরও নিরাপদ হবে। ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
এছাড়া অধিকাংশ মানুষ আস্থার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ওপর। ৬৬ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থাশীল, ৬৪ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর আস্থাশীল, ৪৯ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। ৫১ শতাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সন্তুষ্ট। বর্তমান সংসদের ওপর আস্থাশীল ৫১ শতাংশ মানুষ। ৪৯ শতাংশ মানুষ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল। ৬৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সন্তুষ্ট। ৬৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ মানুষ। আর ৮১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ শতাংশ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ শতাংশ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে।
দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ শতাংশ জানান, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এ জরিপ চালানো হয়। সেখানে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রব্যাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেওয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়; যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া গিয়েছিল। তাদের প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৬৪ শতাংশ নাগরিক মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ আয়োজনে হওয়া পরিসংখ্যানেও তেমনটাই বলা হয়। ওসব প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৫ শতাংশ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অন্য এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন।
আইআরআইয়ের জরিপ রিপোর্ট শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার কারণেই দল জনপ্রিয় বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া বলা হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে স্বৈরশাসন এবং ধর্মীয় চরমপন্থার জন্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পিছিয়ে থাকবে বিএনপি ও জামাতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থানে তারেক রহমান।
অন্যদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের (বিএমআই) প্রতিবেদনেও উঠে আসে বাংলাদেশের রাজনীতির নানা দিক। আইআরআইয়ের মতো বিএমআইয়ের প্রতিবেদনেও বলা হয়, জনসমর্থনে বিএনপির তুলনায় এগিয়ে আওয়ামী লীগ। বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনসমর্থনে এগিয়ে থাকবে। ‘দুর্বল নেতৃত্বের’ বিএনপি আওয়ামী লীগের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাগারে যাওয়ার পর দলটির শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েক মাস ধরে অনশন, মানববন্ধনের মতো যেসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন, তাতে চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।
বিএনপিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটের কারণে ‘দুর্বল নেতৃত্বের বিএনপি’ হিসেবে মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলটির শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে এবং দেশে বহু নেতা গ্রেফতার থাকায় বিএনপির নেতৃত্বে শক্তিশালী নেতার সংকট তৈরি হয়েছে।

Category: