Blog Archives

দিনপঞ্জি : আগস্ট ২০১৮

utta১ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিলেন বলেই তিনি আত্মস্বীকৃত খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন। তবে জিয়াউর রহমানের যে পরিণতি হয়েছিল তা অবধারিত। কিন্তু আমার দুঃখ একটাই, তার (জিয়াউর রহমান) বিচারটা আমি করতে পারলাম না। তার আগেই সে মারা গেল। বিকেলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর বাসভবন স্মৃতি জাদুঘর সংলগ্নে শোকাবহ ১৫ আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা দিনে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ-কথা বলেন।

৮ আগস্ট
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সব ধর্মের মানুষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ-কথা বলেন।
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, দেশে এ মুহূর্তে নানা অশুভ খেলা চলছে। ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বিএনপি। তাদের এ ধরনের হীন ষড়যন্ত্র কখনও সফল হবে না। ঢাকার আজিমপুরের সলিমুল্লাহ এতিমখানা মাঠে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে দুস্থ, এতিম ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, দেশে এ মুহূর্তে আন্দোলন হওয়ার মতো বস্তুগত পরিস্থিতি নেই।

৯ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার দেশে গণতন্ত্র সুসংহত এবং উন্নয়ন কর্মকা- ত্বরান্বিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ-কথা বলেন। এ-সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ব্যাপারে তার সংস্থা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বিগত সাড়ে ৯ বছরে উপনির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

১১ আগস্ট
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেছেন, রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের বেলায় কোথায়, কারা, কার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে সবই আমরা জানি। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, টেমস নদীর পাড়ে কখন কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে; ব্যাংকক, দুবাইয়ে বসে কারা কোন গডফাদারের সঙ্গে বৈঠক করছেনÑ সেগুলোও আমাদের নলেজে আসে। ধৈর্য ধরে আছি, মনিটর করছি।

১২ আগস্ট
* আগামী সাধারণ নির্বাচন দেশের সংবিধান মোতাবেক অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেখানে বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, বর্তমান সংসদে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু-এর সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
* জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গোপনে টাকা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ভাই মামুন। জয় তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ-কথা বলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কিছু তথ্য আমার কাছে এসেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিন্দিত সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা সম্প্রতি নিউইয়র্ক এসেছিলেন। সেখানে তিনি গোপনে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ভাই মামুনের সাথে দেখা করেন। আমরা জানতে পেরেছি মামুনের কাছ থেকে তিনি বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। টাকাটা তাকে দেওয়া হয়েছে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। তাদের এই আলাপ দেখেছে ও শুনেছে এরকম সাক্ষীও আছে।’ বিডিনিউজের মতামতের একটি প্রবন্ধ স্ট্যাটাসে সংযুক্ত করা হয়।

১৪ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমি জানি, আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয়। বারবার মৃত্যুর হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প : জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) চার-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী জেলায় ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ-কথা বলেন।

১৫ আগস্ট
* শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া, মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
১৭ আগস্ট
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, গোপন বৈঠক চলছে, দেশে-বিদেশে ব্যাংককে বসে বৈঠক চলছে। গত সাত দিনে কারা ঘনঘন যাতায়াত করেছে, সেই খবর আমরা জানি। ব্যাংককে এখন ঘাঁটি করেছে। কারা কারা যাচ্ছেন, কি কি কথা হচ্ছে মনে করেছেন আমরা জানি না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঢাকা অচল হবে না। বাংলাদেশ অচল করা যাবে না; বরং বিএনপি অচল হয়ে যাবে। বিএনপি অচল হওয়ার সব উপাদান তারা যুক্ত করে ফেলেছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ-কথা বলেন।

১৯ আগস্ট
* বস্তিবাসীর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীতে আর কোনো বস্তি থাকবে না। বস্তিগুলোকে বহুতল ভবনে পরিণত করা হবে। ২০-তলা করে ভবন গড়ে তোলা হবে। এখন বস্তিবাসী ভাড়া দিয়ে থাকে, তেমনি তারা ওইসব ভবনে দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে থাকবে। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দাসেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
* একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় বিচারিক আদালতের রায় চলতি সেপ্টেম্বরে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা, যুদ্ধাপরাধীÑ সবার বিচার হয়েছে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারও হবে। এমনকি বিএনপি চাইলে জিয়াউর রহমানের হত্যার বিচারও করা হবে।

২১ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আবারও তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, এ হত্যাযজ্ঞে খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমান সরাসরি জড়িত, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগকে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করাই ছিল তাদের পূর্বপরিকল্পনা। এরা (বিএনপি-জামাত) শুধু রক্ত নিতেই জানে। এদের উত্থানই হচ্ছে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্যদিয়ে। এদের চরিত্র কখনও বদলাবে না। তারা কেবল সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মানি লন্ডারিং, এতিমের অর্থ আত্মসাৎই করতে জানে, নিজেরা কেবল ভোগ করতে জানে। মানুষকে দিতে জানে না। কাজেই তাদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২২ আগস্ট
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদুল আজহা উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে কোরবানির ত্যাগের মহিমা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বঙ্গভবনে সকালে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি কুশল ও মতবিনিময় করেন।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শোকের ব্যথা বুকে নিয়েও দেশের সমৃদ্ধি আর মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষকে ভালো রাখাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। জনগণ যেন শান্তি এবং উন্নত জীবন লাভ করতে পারে সেটাই আমার কামনা। গত সাড়ে ৯ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের যে উন্নয়ন করেছে, তার খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নেতা-কর্মীদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে আমরা ক্ষমতায় যাব। তারা খুশি হলে ভোট দেবে, না দিলে নাই। কোনো অসুবিধা নেই। তবে উন্নয়ন কর্মকা-ে জনগণ সন্তুষ্ট হয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলে, আবারও নৌকা ক্ষমতায় আসবে।

২৮ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার জন্য পুনরায় বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তাদের মদদ ছাড়া এ ধরনের জঘন্য হামলা সংঘটিত হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন ক্ষমতাসীন ছিল বিএনপি-জামাত জোটের পৃষ্ঠপোষকতাতেই এই হামলা হয়েছিল। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ-কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহৃত আর্জেজ গ্রেনেড সেখানে ব্যবহার হয়েছিল। কারণ আওয়ামী লীগকে একবারে নিশ্চিহ্ন করে দেয়াই এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সভা করতে গিয়ে সেখানে গ্রেনেড হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছিল আমাদের আওয়ামী লীগের আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী এবং দুজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। আহত হয়েছিল শত শত নেতাকর্মী। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা সে অবস্থা থেকে দেশকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে এসেছি যেখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে তাদের ধর্মকর্ম করতে পারছে। দেশে প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান পূজাম-পের সংখ্যার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটা অবস্থায় দেশকে আনতে পেরেছি যেখানে প্রতিটি উৎসবই আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। কারণ আমাদেরও সেøাগান ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, এদেশে আর কেউ যেন কোনোদিন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তার সরকার ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম-অধিকারে বিশ্বাসী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও নিজেদের অধিকার নিয়ে চলবেন, কারণ এই দেশটা আপনাদেরও। সরকারপ্রধান হিসেবে সকলের সম-অধিকার নিশ্চিত করা তার কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতারও মূল লক্ষ্য ছিল সকল ধর্মের মানুষ এদেশে তার সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে। এ জন্যই জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলে রক্ত দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা এনেছিল।

২৯ আগস্ট
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার দল জনগণের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করে, তাদের ভোটের জন্য নয়। ক্ষমতা কোনো ভোগের বস্তু নয়, এটা হলো দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করি জনগণের জন্য। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। ভোট দেওয়া না দেওয়া এটা জনগণের অধিকার। কিন্তু জনসেবা করব, জনগণকে একটু সুখ-শান্তি দেব, তাদের রোগে চিকিৎসা দেব, তাদের একটু উন্নত জীবন দেব, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবÑ এটা তো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমাদের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গোপালগঞ্জের পার্শ্ববর্তী আট জেলার ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

৩০ আগস্ট
* আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম প্রচলনের দাবি আমাদের দলের। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে প্রমাণসহ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনের কাছে এ দাবি করেছিল। এতে দ্রুত গণনা হয়, স্বচ্ছ ভোট হয়, ফলাফল দ্রুত দেওয়া যায়। তাই আওয়ামী লীগ ইভিএম চায়। সিলেটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

৩১ আগস্ট
* জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পথ ধরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আদর্শ নিয়ে নিজেকে গড়ে তুললেই ইতিহাসে তোমরা মূল্যায়ন পাবে, স্থান পাবে। কিন্তু ধন-সম্পদের দিকে গা ভাসালে হারিয়ে যাবে। ছাত্রলীগের অনেক নেতাই আদর্শচ্যুত হয়ে হারিয়ে গেছে। অনেকেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিসহ নানা দলে চলে গেছে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার তো বয়স হয়ে গেছে। তোমরাই হবে ভবিষ্যৎ। তোমরা নেতৃত্ব দেবে। তোমাদেরই আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার আলো জ্বেলে প্রগতির পথ ধরে শান্তির মশাল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। আমার যতটুকু করার তা করে যাব, তারপর তো তোমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।
গ্রন্থনা : আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category:

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theory)

‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত ও উচ্চারিত। বিশ্ব রাজনীতিতেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। সূত্রাবদ্ধভাবে এই প্রপঞ্চটির প্রচলন খুব বেশি দিনের না। বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি’ সূত্রাকারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানে লিপিবদ্ধ করা হয়। অক্সফোর্ড অভিধানে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, “কোনো গ্রুপ বা মহল বিশেষের বে-আইনি ও ক্ষতিকর গোপন পরিকল্পনা যা অসৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। তা-ই ষড়যন্ত্র। যেমন গোপনে চক্রান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, সরকার উৎখাত, একাধিক গ্রুপ বা মহলের অপ্রকাশ্য আঁতাত; যার লক্ষ্য অবৈধ কোনো উদ্দেশ্য সাধন, হত্যা, বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা সৃষ্টি ইত্যাদিও ষড়যন্ত্রের অংশ।”
অক্সফোর্ড অভিধানে প্রথম এই শব্দটির ব্যবহারকারী হিসেবে দি আমেরিকান হিস্ট্রিক্যাল রিভিয়্যু-এর ১৯০৯ সালের একটি নিবন্ধের কথা উদ্ধৃত করা হয়।
সূত্রাকারে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কথা চালু হওয়ার অনেক আগে থেকেই ষড়যন্ত্র ধারণাটি বিশ্বের দেশে দেশে প্রচলিত ছিল। বলা হয়ে থাকে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত এই শব্দটিকে একটি নেতিবাচক ধারণা হিসেবে গণ্য করা হতো। শুরুতে ‘ষড়যন্ত্র’ কথাটি নিরপেক্ষ অর্থে ব্যবহৃত হলেও এটি একটি নিন্দাসূচক ধারণা বা প্রত্যয় হিসেবে সংজ্ঞায়িত শুরু হয় ১৯৬০ সালের দিকে। কনস্পেরেসি থিওরি ষাটের দশকে প্রথম প্রচলন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকা-কে ঘিরে অন্যান্য তত্ত্বকে বরবাদ করে এই কনস্পেরেসি তত্ত্ব চালু করে সিআইএ। পরবর্তীকালে দেশে দেশে এই তত্ত্বের প্রয়োগ করেছে সিআইএ। হত্যা, অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, হস্তক্ষেপ এবং এমনকি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পেছনেও ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব কার্যকর ছিল।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বৈধ-অবৈধ, নৈতিক বা অনৈতিক যে কোনো পন্থায় এক বা একাধিক ব্যক্তিগোষ্ঠী গোপনে সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল অথবা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এবং অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূত উপায়ে সকলের অজ্ঞাতে নিজেদের গোপন রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকা-কেই আমরা ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। যেমন সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল। ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা কৃত্রিম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় সংকট সৃষ্টি করা প্রভৃতিকে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে। রাজনৈতিক হত্যাকা-Ñ প্রকাশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, গোপন চক্রান্তের ফল স্বরূপ ক্ষমতাশীল বা ক্ষমতাবহির্ভূত প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হত্যা করার পরিকল্পিত কর্মকা-Ñ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রায়োগিক প্রমাণ। সিরাজ-উদ-দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মীরজাফর ও রবার্ট ক্লাইভের গোপন আঁতাত এবং তদুনাসারে সিরাজকে পরাজিত ও হত্যা করা যেমন ষড়যন্ত্রের অংশ, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার পেছনে কতিপয় ব্যক্তি গোষ্ঠীর তৎপরতা ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের বৈধ শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা এবং ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যার পেছনেও ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। মধ্যযুগে রাজাকে বিষ প্রয়োগে হত্যার ঘটনা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় প্রচুর ঘটেছে। সাধারণভাবে এসব কারণে ষড়যন্ত্রকে একটি নেতিবাচক বা অপরাধমূলক তৎপরতা হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু ইতিবাচক লক্ষ্য অর্জনের জন্যও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রয়োগ ইতিহাসে কম নয়। দাসপ্রথার কঠোর নিগড় ভাঙার জন্য স্পার্তাকাশ যখন গোপনে কৃতদাসদের বিদ্রোহের জন্য সংগঠিত করেন, তাকে কী বলব? ইতিহাসের বিচারে এটি ছিল ইতিবাচক ঘটনা। ঔপনিবেশিক যুগে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে বহু দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীরা গোপনে সংগঠিত হয়েছে,  প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুলেছে, যুদ্ধ করেছে এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, ঔপনিবেশিক শাসকদের ভাষায় এসবগুলোই হলো তথাকথিত ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা। স্বাধীনতা প্রত্যাশী মানুষের কাছে যা ছিল বিপ্লবী, দেশপ্রেমিক কর্মকা-, শাসকগোষ্ঠীর ভাষায় তা-ই ছিল রাষ্ট্রবিরোধী, সংবিধান বা আইনবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকা-।
রুশ বিপ্লবের নেতা ভøাদিমির ইলিচ লেনিন রুশ বিপ্লবের জন্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে ইতিবাচক এবং ন্যায্য উপায় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘অনুশীলন’, ‘যুগান্তর’ ও ‘গদর’ পার্টির গোপন সশস্ত্র তৎপরতা এবং ব্যক্তি-হত্যাকে ‘ভুল’ পথ হিসেবে দেখা হলেও সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের কিন্তু পরম দেশপ্রেমিক হিসেবে জনচিত্তে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে।
ষড়যন্ত্র কেবল রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এটি প্রসারিত। পারিবারিক জীবনে, যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিপক্ষকে জব্দ করার জন্য ‘ষড়যন্ত্র’ অনুঘটক বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও অংশীদার অথবা প্রতিপক্ষ কোম্পানির প্রতিযোগিতা অবস্থানের কারণে ষড়যন্ত্র হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। পরিবারের মধ্যেও স্বামী বা স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে একে অপরকে কোনো অপরাধমূলক ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানোর জন্য চক্রান্তের আশ্রয় নেয়। এমনকি গোপন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য যে হত্যা পরিকল্পনা করে থাকে, তা-ও ষড়যন্ত্রমূলক।
তবে শেষ কথা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র শব্দটি আখেরে কোনো মহৎ কাজ হিসেবে গণ্য হয় না। ষড়যন্ত্র শব্দটি কার্যত একটি অগ্রহণযোগ্য, অবৈধ, নিন্দনীয়, অনৈতিক বা নেতিবাচক কাজেরই সমার্থক হয়ে উঠেছে। রাজনীতিতেই এই শব্দটির বা এই প্রত্যয়টির সর্বাধিক ব্যবহার হয়ে থাকে।

নূহ-উল-আলম লেনিন

Category:

সরকারি হলো আরও ২৭৯ বেসরকারি কলেজ

উত্তরণ ডেস্ক: দেশের ২৭১ বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি আদেশ জারি হয়েছে। গত ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাসিমা খানমের স্বাক্ষরে এ আদেশ জারি করা হয়। গত ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ১২ আগস্ট এ আদেশ জারি করা হলো। এ নিয়ে এখন দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৯৮।
এতদিন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ সরকারি কলেজের সংখ্যা ছিল ৩২৭। জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের মর্যাদা কি হবে তা নিয়ে গত ৩১ জুলাই একটি নতুন বিধিমালাও জারি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সরকারি হওয়া শিক্ষকদের অবস্থান, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী।
সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪, মানিকগঞ্জের ৪, নারয়ণগঞ্জের ৩, মুন্সিগঞ্জের ৩, গাজীপুরের ৩, নরসিংদীর ৪, রাজবাড়ির ২, শরীয়তপুরের ৪, ময়মনসিংহের ৮, কিশোরগঞ্জে ১০, নেত্রকোনার ৫, টাঙ্গাইলে ৮, জামালপুরে ৩, শেরপুরে ৩, চট্টগ্রামে ১০, কক্সবাজারে ৫, রাঙ্গামাটি ৪, খাগড়াছড়িতে ৬, বান্দরবানে ৩, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতে ১টি করে, কুমিল্লায় ১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬, চাঁদপুরে ৭, সিলেটে ৯, হবিগঞ্জে ৫, মৌলভীবাজারের ৫, সুনামগঞ্জে ৮, রাজশাহীতে ৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২, নাটোরে ৩, পাবনায় ৭, সিরাজগঞ্জে ৩, নওগাঁ জেলায় ৬, বগুড়ায় ৬, জয়পুরেহাটে ১, রংপুরে ৭, নীলফামারীতে ৪, গাইবান্ধায় ৪, কুড়িগ্রামে ৭, দিনাজপুরে ৯, লালমনিরহাটে ৩, ঠাকুরগাঁওয়ে ১, পঞ্চগড়ে ৪, খুলনায় ৫, যশোরে ৫, বাগেরহাটে ৬, ঝিনাইদহে ১, কুষ্টিয়ায় ২, চুয়াডাঙ্গায় ২, সাতক্ষীরায় ২, মাগুরায় ৩, নড়াইলে ১, বরিশালে ৬, ভোলায় ৪, ঝালকাঠিতে ৩, পিরোজপুরে ২, পটুয়াখালীতে ৬ ও বরগুনায় ৩টি করে কলেজ রয়েছে।
এই ২৭১ বেসরকারি কলেজ সরকারি হওয়ার পর দেশে মোট সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮। এই ২৭১ কলেজে রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। ১২ আগস্ট থেকেই তারা সরকারি বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা পাবেন। পরে আরও ৮টি কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়।

Category:

বাংলাদেশের দুই বন্ধু পরলোকে

সাইদ আহমেদ বাবু:

uttaঅটল বিহারী বাজপেয়ী
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। গত ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে মৃত্যু হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতরতœ অটল বিহারী বাজপেয়ীর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। ১৭ আগস্ট দিল্লির স্মৃতিস্থল শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। চোখের পানিতে অটলজিকে বিদায় জানায় লাখ লাখ মানুষ।
প্রায় চার দশকের এই সংসদ সদস্য ছিলেন ভারতের প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী যিনি পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন। প্রথম দফায় ১৩ দিন, দ্বিতীয় দফায় ১৩ মাস ও পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো মেয়াদ úূর্ণ করেন। প-িত জওহরলাল নেহ্রুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরপর দুবারের জন্য জনাদেশ পেয়ে এই পদে আসীন হন। বাজপেয়ী লোকসভায় ৯ বার নির্বাচিত হন এবং রাজ্যসভায় দুবার নির্বাচিত হন। তার ভাষণ এতটাই জোরদার ছিল, যা প্রভাবিত করেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহ্রুকেও।
আর্য সমাজের যুব শাখা আর্য কুমার সভা থেকে সমাজসেবায় অংশ নেওয়া শুরু বাজপেয়ীর। ১৯৪৪ সালে তিনি আর্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। এসবের মাঝে ১৯৩৯ সালে আরএসএসে যোগ দেন তিনি। ১৯৪৭ সালে পূর্ণ সময়ের আরএসএস কর্মী হন বাজপেয়ী। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন তথা রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় বাজপেয়ীর। সেই সময়ে ২৩ দিন গ্রেফতার করে রাখা হয়েছিল বাজপেয়ী ও তার দাদা প্রেমকে। পরে মুচলেখা শর্তে ছাড়া পান। ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮। নাথুরাম গডসের হাতে গান্ধীর হত্যার পর দেশজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয় আরএসএস-কে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনসংঘে যোগ দেন বাজপেয়ী। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর জনসংঘের দায়িত্ব নেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু লালকৃষ্ণ আদভানি।
১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময়ে গ্রেফতার হন বাজপেয়ী। ১৯৭৭ সালে ছাড়া পাওয়ার পরে জয়প্রকাশ নারায়ণের আহ্বানে কংগ্রেসবিরোধী জোট, যা জনতা পার্টি নামে পরিচিত ছিল, তাতে জনসংঘ নিয়ে বাজপেয়ী যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে জনতা পার্টি জোটের সরকার হলে প্রধানমন্ত্রী হন মোরারজি দেশাই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত হন অটল বিহারী বাজপেয়ী। প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে জনতা পার্টির সরকার পড়ে গেলেও ততদিনে বাজপেয়ী নিজেকে জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন।
১৯৮০ সালে আরএসএস’র প্রচারক বাজপেয়ী দীর্ঘদিনের বন্ধু লালকৃষ্ণ আদভানি, ভৈরো সিং শেখাওয়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি তৈরি করেন। তিনি হন বিজেপির প্রথম সভাপতি।
১৯৮৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজেপি মাত্র দুটি লোকসভা আসনে জয়ী হন। তবুও সংসদে কংগ্রেসের বিরোধী নেতা বলতে সবার আগে বাজপেয়ীর নাম লোকের মুখে মুখে ঘুরত। ধীরে ধীরে অযোধ্যা ও রাম জন্মভূমি ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিকভাবে সারাদেশে বিজেপি ছড়িয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে জয়ের পরে বিজেপি অনেক শক্তিশালী হয়ে যায়।
১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি দেখা দিয়েছিল। দুই পরমাণু অস্ত্রধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত। হয়নি। কারণ পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলার অনুমতি দেননি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী।
১৯৯৯ সালে পুনরায় লোকসভা নির্বাচন হয়। কারগিল যুদ্ধ ও পোখরানে পরমাণু নিরীক্ষণের পরের এই ভোটে বিজেপি ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩০৩টি আসনে জেতে। ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে বাজপেয়ী তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সময়কাল সরকার চালানো হয়। আটের দশকে তার দুই সাংসদের দল আজ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দিল্লির মসনদে। গোটা ভারতের ২১টি রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি। এমন দিনের ভবিষ্যদ্বাণী সেই কবে করে গিয়েছেন বাজপেয়ী। বলেছিলেন, ‘অন্ধেরা ছাটেগা, কমল খিলেগা।’
অটল বিহারী বাজপেয়ী, জাতীয় রাজনীতির আঙিনার সর্বাপেক্ষা শালীন, শিষ্টাচারে বিশ্বাসী, প্রজ্ঞাবান, সুবক্তার নাম। বাজপেয়ীজির উদারতা, বহুত্ববাদী মানসিকতা, কবিত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক বোধ, সাংগঠনিক দাপট এ মুহূর্তে প্রায় কিংবদন্তি।
আরএসএসের বীজমন্ত্রই সারাজীবন জপে এসেছেন বাজপেয়ী। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই হিন্দুবাদী রাষ্ট্রদর্শনকেই সার্বজনীন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, নিজের ইমেজকে এতটুকুও কালিমালিপ্ত না করে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের জন্য তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কানপুরে পড়াশোনা করেছিলেন মি. বাজপেয়ী। তারপরে আইন পড়েছেন।
গুজরাট গণহত্যার পর গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজধর্ম পালনের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। বলেছিলেন ভারত যদি ধর্মনিরপেক্ষ না হয়, তাহলে ভারত ভারতই নয়। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এ উক্তি স্মরণীয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯২। উন্মত্ত সংঘ সেবকদের হাতে ধ্বংস হয়ে গেল বাবরি মসজিদ। দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেলে দাঙ্গা। প্রাণ গেল অসংখ্য নিরীহ মানুষের। বাবরি মসজিদের ধ্বংস করার সেদিনের কা- কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। সেই ঘটনার জন্য গোটা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। দশকের পর দশক ধরে তিনি বিশেষ শ্রদ্ধাভাজন এক নেতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন, তার উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপসে যে তিনি রাজি নন, এই বার্তা ছড়িয়ে যায় গোটা দেশে।
২০১৫ সালে ভারত সরকার অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সম্মান ভারতরতœ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৯২ সালে তিনি পদ্মবিভূষণ পান। এছাড়া ১৯৯৪ সালে লোকমান্য তিলক পুরস্কার, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুরস্কারের মতো বহু দেশি-বিদেশি সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।
বাজপেয়ী বরাবরই এক অজাতশত্রু, ঘোর রাজনৈতিক বৈরিতা ছিল যে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে, ’৭১-এর যুদ্ধে ভারতের অভূতপূর্ব বিজয়ের পর সেই ইন্দিরাকেই সংসদে দাঁড়িয়ে ‘মা দুর্গা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্টে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন, দেরিতে হলেও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সামনে ইতিহাস বদলের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়তি এই সংসদ এবং দেশকে এমন মহান কাজে রেখেছে, যেখানে আমরা শুধু মুক্তিসংগ্রামে জীবন দিচ্ছি না; বরং ইতিহাসকে একটি পরিণতির দিকে নিতে চেষ্টা করছি। বাংলাদেশে নিজেদের সংগ্রামের জন্য লড়াই করা মানুষ এবং আমাদের রক্ত একসঙ্গে বইছে। এই রক্ত এমন সম্পর্ক তৈরি করবে, যা কোনোভাবে ভাঙবে না। কোনো ধরনের কূটনীতির শিকার হবে না। বিরোধী দলনেতা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সম্পৃক্ততাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন এ মানুষটি।
জনজীবনে শ্রী বাজপেয়ীর উত্থান, একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের মহিমাতেই তা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাকে বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কফি আনান
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই। ৮০ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এই নোবেলজয়ী। অল্প কিছুদিন ধরে অসুস্থ হয়ে সুইজারল্যান্ডে ছিলেন তিনি। কফি আনান ছিলেন সারাবিশ্বের। জীবনভর তিনি শান্তির জন্য কাজ করে গেছেন।
১৯৩৮ সালের এপ্রিলে ঘানার কুমাসির এক অভিজাত পরিবারে জন্ম কফি আনানের। বাবা ছিলেন প্রাদেশিক গভর্নর। এক যমজ বোনও ছিল তার। প্রথমে মিনেসোটার কলেজে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। পরে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়েন। তারও পরে ম্যাসাচুসেটসের ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা। ফরাসি, ইংরেজিসহ অনেকগুলো ভাষায় দক্ষ ছিলেন আনান। ১৯৬২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জে যোগ দেন তিনি, ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনে। দু-পক্ষের তিন সন্তান রয়েছে আনানের।
কফি আনান জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ছিলেন। প্রথম আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ওই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কর্মী হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দিয়ে তিনিই প্রথম সংস্থাটির শীর্ষ পদে আসীন। অবসরের পর তিনি সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেন। তার নেতৃত্বেই আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় সাড়ে সাত বছরের গৃহযুদ্ধের ইতি টানার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়পরায়ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় জীবনভর সংগ্রাম করেছেন তিনি। যেখানেই দুর্ভোগ বা মানবিক আর্তি সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি। গভীর সমবেদনা ও সমানুভূতিতে হৃদয় ছুঁয়েছেন বহু মানুষের। নিজের বদলে অন্যদের কথাই আগে ভেবেছেন তিনি, যা করেছেন তার সবকিছুই দ্যুতি ছড়িয়েছে সত্যিকারের মমতা, আন্তরিকতা আর মেধার।
বিশ্ব সংস্থাটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ও মানবাধিকার ইস্যুগুলো অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ২০০১ সালে আনান ও জাতিসংঘকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০১ সালে নোবেল পুরস্কারজয়ী কফি আনান মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়েও কাজ করছিলেন।
অনেকভাবেই কফি আনান ছিলেন জাতিসংঘ। বিভিন্ন পদমর্যাদার মধ্যদিয়ে তিনি সংস্থাটির নেতৃত্ব পর্যায়ে এসে নতুন সহস্রাব্দে তুলনাবিহীন সম্মান ও দৃঢ়তার সঙ্গে এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেনÑ এক বিবৃতিতে বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অবসানে কয়েক দশক ধরে প্রচেষ্টা চালানোর পর তার জীবনাবসান হলো। রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিকে ‘মানবাধিকার সংকট’ বলল কফি আনান কমিশন। ২০০৭ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক নেতাদের গ্রুপ দ্য এলডারস’র প্রতিষ্ঠা হলে এর সদস্য হন কফি আনান। ২০১৩ সালে ওই গ্রুপের চেয়ারম্যান হন তিনি।
ইরাকে মার্কিন অভিযানের সময় বিপক্ষে অবস্থান নেয় সংস্থাটি। ওই অভিযানকে ‘অবৈধ’ অভিযান বলে বর্ণনা করেছিলেন মি. আনান।
কফি আনানের ভাষায় তার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ‘সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ নির্ধারণÑ দারিদ্র্য আর শিশুমৃত্যু কমাতে বিশ্বব্যাপী প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি ছিলেন বৈশ্বিক কূটনীতিক ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। সমসাময়িক বিশ্বের উজ্জ্বল এই নক্ষত্রের বিদায়ে শোক জানিয়েছেন জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকার কমিশনার জায়েদ রা’দ আল হোসেনসহ বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ।
নোবেল জয়ের বছরে বাংলাদেশে এসেছিলেন, এবার রোহিঙ্গাদের দেখার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, কিন্তু… ইরাকযুদ্ধের শুরু থেকেই কফি আনান নামটি খ্যাতি পায় বিশ্বজুড়ে। যুদ্ধ বন্ধে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে দৌড়ঝাঁপসহ নানা পদক্ষেপ ছিল তার। তখন তিনি জাতিসংঘের প্রধান নির্বাহী।
নোবেল জয়ের বছরেই তিনি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। জাতিসংঘের কোনো প্রধান নির্বাহীর এটি ছিল তৃতীয় বাংলাদেশ সফর। কফি আনানের সফরের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আরও দুজন মহাসচিব বান কি মুন (২০০৮ ও ২০১১) এবং বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফর করেছেন।
২০১৬ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের বর্বরতার মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে তাদের প্রবেশে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন কফি আনান। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং রাখাইন রাজ্যের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ, মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠক করেন কফি আনানের সঙ্গে। সেখানে ২০১৬ সাল থেকে রাখাইনে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন ড. আনান।
৮০ বছরে জীবনাবসানে কফি আনান যে পৃথিবী হতে বিদায় নিলেন, সেই পৃথিবীতে এই গণতান্ত্রিক রীতি, সম্মেলক কাজ করার দৃষ্টান্ত, শান্তভাবে অন্যপক্ষের যুক্তি শুনবার বহু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা ও সমষ্টিগত অপারগতা সত্ত্বেও, বিশ্বময় সম্মেলক সক্রিয়তার লক্ষ্যটি যে অনর্থক নয়, সেই বিশ্বাস তিনি আবারও ফিরিয়ে আনলেন। এই ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করার জন্য দরকার ছিল যথার্থ নেতৃত্বগুণ। আনানের মধ্যে তা ছিল। ২০১৩ সালে কফি আনান ‘দ্য এলডার্স’-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এ সংগঠনটি বিশ্বের প্রবীণ রাজনীতিকদের একটি সংগঠন, যারা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে। ২০০৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

Category:

দেশি ফলের পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ

uttaআলমগীর আলম: এই বাংলায় বারো মাস বিভিন্ন রকম ফল হয়, আমাদের দেশে ঋতু ভিন্নতায় ফল জন্মায়, স্থান ভেদে বিভিন্ন রকমের ফল আমরা খেয়ে থাকি। প্রত্যেক ফলের মধ্যেই রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ এবং ঔষধিগুণ। আমরা বাংলাদেশে প্রাপ্ত ফলসমূহের পুষ্টিগুণ, ঔষধিগুণ এবং অন্যান্য ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করার চেষ্টা করব।

আম
পুষ্টিগুণ : প্রচুর ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালোরি আছে।
ঔষধিগুণ : আয়ুর্বেদীয় ও ইউনানী পদ্ধতির চিকিৎসায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক বা শক্তি বৃদ্ধির জন্য খেয়ে থাকি। লিভার বা যকৃতের জন্য উপকারী। এককাপ পাকা আমে ১০০ ক্যালরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, দৈনন্দিন প্রয়োজনের ভিটামিন এ ৩৫ শতাংশ, ভিটামিন বি ৬ শতাংশ। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল বলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পথ্য স্বরূপ। আমে বিদ্যমান ভিটামিন এ ত্বক ও চুলের টিস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। বিটা ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস আম। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটাক্যারোটিনয়েড-সমৃদ্ধ ফল খেলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকের রং উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। নিয়মিত আম খেলে শরীরের আয়রন ঘাটতি পূরণ হবে এবং হিমোগ্লোবিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। হিমোগ্লোবিনের অভাবে ডার্ক সার্কেল, চুল পড়া, ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পানিসমৃদ্ধ ফল হিসেবে হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শুধু ত্বকের যতেœই নয়; হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রোক প্রতিরোধ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায় আম। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কারণে আমের আধিপত্য অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি।
যারা পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন, আম তাদের জন্য ঔষধ। তাছাড়া পুষ্টিহীনতা, গায়ের রং মলিন হয়ে যাচ্ছে, ফ্যাটি লিভার ও ঘুমজনিত সমস্যা, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা এবং কাঁচা, উভয় প্রকার আমই মহৌষধ। শুধু ফল নয়, এর পাতা ও গাছের ছালও বেশ উপকারী। যেমনÑ রক্ত পড়া বন্ধকরণে আমগাছের ছালের রস উপকারী। কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশমকারী। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরাতন আমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালাযন্ত্রণা উপশম করে। গাছের আঠা পায়ের ফাটা ও চর্মরোগে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহৃত হয়। আম খালি পেটে সাধারণ খাওয়ার পরিবর্তে খেলে উপকার হয়। অনেকে ডায়াবেটিসের জন্য আম খাওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাদের জন্য পরামর্শ ডায়াবেটিসের জন্য আম কোনো ক্ষতির কারণ নয়। খালি পেটে এক কেজি আম খেলেও কোনো ক্ষতি হবে না।
আম খেলে ঘুম ভালো হয়, আবার অনেকের পেট পাতলা হয়ে যায়, তাদের জন্য আম খাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে নাস্তার পরিবর্তে। আবার যারা রাতে খাওয়ার পরে আম খেয়ে থাকেন তারা এ কাজটি ভুল করেন। আম দুপুরের মধ্যেই খাওয়ার উত্তম সময়।

কাঁঠাল
পুষ্টিগুণ : প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ক্যারোটিন আছে।
ঔষধিগুণ : কাঁঠালের শাঁস ও বীজকে চীন দেশে শক্তির টনিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের গ্রামগঞ্জে এখনও মানুষ সকালে নাস্তা ও দুপুরের ভাত খাওয়ার পরিবর্তে শুধু কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। এটা অতি উত্তম। কাঁঠালের পুষ্টিগুণ পেতে হলে কাঁঠাল একক ফল হিসেবে খেতে হবে। কাঁঠালে রয়েছে এমন কিছু খাদ্যগুণ, যা সারাবছর মানুষ তার ফল উপভোগ করতে পারে। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের কোয়া ৯৫ ক্যালরি শক্তি, ২৩ শতাংশ ভিটামিন সি, ১০ শতাংশ ভিটামিন এ প্রদান করে। এছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। সুক্রোজ ও ফুট্রোজে ভরপুর কাঁঠালকে শক্তি উৎপাদিত ফল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফাইবার হজম শক্তি বাড়িয়ে পরিপাকে সহায়তা করে দূষিত পদার্থ অপসারণ করে ত্বককে রাখে সুস্থ। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলবে। শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিক করে দেয়, শরীরে শক্তি দেওয়ার সাথে প্রচুর আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার হয়ে যায়, সেসঙ্গে ত্বক, হাড়ের মধ্যে জড়তা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে দেয়, অস্ট্রোপ্রোসিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। মৌসুমি এই ফল খালি পেটে খাওয়া উত্তম, ভরা পেটে খেলে অনেকের পেটের সমস্যা হয়। তাই সকালে অন্য কোনো নাস্তা না করে শুধু কাঁঠাল খেয়ে নাস্তা করলে তা হবে ঔষধিগুণে ভরা একটি আহার। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি আর কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই কাঁঠাল শুধু ফলের রাজাই নয়, পুষ্টির আঁধারও।

পেয়ারা
পুষ্টিগুণ : প্রচুর ভিটামিন সি আছে। ১০০ গ্রাম তাজা পেয়ারায় ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, তাই একে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল বলা হয়। ভিটামিন সি’র গুণাগুণ নতুন করে বলার কিছু নেই। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে ত্বকের সৌন্দর্যে ভিটামিন সি’র ভূমিকা অনস্বীকার্য। যারা কোলেস্টেরল কমাতে চান তারা মৌসুমি ফল পেয়ারার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। প্রতিদিন সকালে নাস্তা পেয়ারা খান, পেয়ারা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে। আর যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা নিশ্চিন্তে পেয়ারাকে বেছে নিতে পারেন, পেয়ারা লো জিআই ফল, তাই ধীরে ধীরে হজম হয়। সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ ফল। যারা কঠিন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়ম করে এক মাস পেয়ারা খান। সেক্ষেত্রে পাকা পেয়ারা বেশি উপকারী। কোষ্ঠবদ্ধতা এক মাসে দূর হয়ে যাবে। অনেকে পেয়ারা শুকনো মরিচ ও লবণ দিয়ে খেয়ে থাকেন। সেটি ভুল করে থাকেন। পেয়ারার সাথে লবণ মিশালে পেয়ারার সাধারণ খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পেয়ারা ফল খালি খান, কোনো কিছু না মিশিয়ে যদি ঔষধিগুণ পেতে চান।
ঔষধিগুণ : পেয়ারা শিকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ব ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘা-এ থেঁতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারার কচি পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়।

জাম
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, লৌহ ও ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ। মিষ্টি, সরস ও রঙিন ফলটি শিশুদের ভীষণ প্রিয়। ত্বক, চুল ও নখের সুস্বাস্থ্যের জন্য এর ভূমিকা অপরিসীম। প্রথমত; এই ফলের ৮৫ শতাংশই পানি, যা সুস্থ ও প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য অপরিহার্য। অলিফেনল ও অ্যালথোসায়ানাইড এ দুই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোলাজেন বৃদ্ধিতে যৌথ ভূমিকা পালন করে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করার কারণে জামকে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন বলা হয়। স্বল্প ক্যালরি ও অধিক ফাইবারÑ এ দুটো গুণের সংযোজনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে জামের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ জাম প্রেগনেন্সিতে আদর্শ ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঔষধিগুণ : জামের কচি পাতা পেটের পীড়া নিরাময়ে সাহায্য করে। জামের বীজ থেকে প্রাপ্ত পাউডার বহুমূত্র রোগের ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। পাকা জাম সৈন্ধব লবণ মাখিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে চটকিয়ে ন্যাকড়ার পুঁটলি বেঁধে টানিয়ে রাখলে যে রস বের হয়, তা পাতলা পায়খানা, অরুচি, বমিভাব দূর করে। জাম ও আমের রস একত্রে পান করলে ডায়াবেটিস রোগীর তৃষ্ণা প্রশমিত হয়।

বরই বা কুল
পুষ্টিগুণ : বরই অ্যান্টি অ্যাজিং খাদ্য। বরই-এ আছে হরেক রকমভেদ। তবে সব কুলেই ভিটামিন সি আছে। কোনোটা মিষ্টি আবার কোনোটা টক। ওজন কমানো, রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ অনেক গুণাগুণ রয়েছে বরই-এ। ফাইবারে পরিপূর্ণ বরই কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নখ ও চুলের জন্য বিশেষ কার্যকর। অ্যান্টি অ্যাক্সিডেন্ট ত্বকের কালো দাগ ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে, তাই তো একে অ্যান্টি অ্যাজিং খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঔষধিগুণ : কুল ও কুলের পাতা বাটা বাতের জন্য উপকারী। ফল রক্ত পরিষ্কার এবং হজম সহায়ক। পেটে বায়ু ও অরুচি রোধে ফুল থেকে তৈরি ঔষধ ব্যবহার করা হয়। শুকনো কুলের গুঁড়া ও আখের গুড় মিশিয়ে চেটে খেলে মেয়েদের সাদাস্রাবের কিছুটা উপকার হয়।

কলা
পুষ্টিগুণ : কলায় ক্যালরি, শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি আছে। কলা ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা সারাবছরই সহজেই পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয় ফলটি সুষম খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলার হরেকরকম শ্রেণিভেদ থাকলেও সাগর, শরবি, চিনিচাম্পা বেশি সমাদৃত। কলা একটি ভালো প্রবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এর এই যাদুকরি ক্ষমতা পরিপাকে ক্রিয়া বৃদ্ধি ও শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন একটি কলা খেলে হিমোগ্লোবিন ঘাটতি হবে না। এছাড়া অ্যানিমিয়া রোগীর জন্য আদর্শ খাদ্য কলা। যারা অনিদ্রা ও বিষণœতায় ভুগছেন, সকালে ও দুপুরে অবশ্যই দুটি কলা খাবেন। কারণ, এর ট্রিপটোফ্যান ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ। পর্যাপ্ত ঘুম দূর করবে চেহারার ডার্ক সার্কেল ও অবসন্নতা। কলার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাবে চুল পড়া, আগা ফাটাসহ নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।
ঔষধিগুণ : পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে ব্যবহার করা হয়। কলার থোড় বা মোচা এবং শিকড় ডায়াবেটিস, আমাশয়, আলসার, পেটের পীড়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। আনাজি কলা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা বীচিকলার বীজ কৃমিনাশক।

আমড়া
পুষ্টিগুণ : ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও শর্করা আছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যায়, তাই এর ফল পেতে হলে নির্দিষ্ট সময় প্রতিদিন একটি করে আমড়া খাওয়া উচিত। বিশেষ করে শরীরে যাদের এসিডিটি আছে তাদের জন্য এটা ফল আদর্শ, অনেকে অভিযোগ করেন যে টক খেলে পেটে গ্যাস হয়। কথাটি আংশিক সত্য, টক ফল ভরাপেটে খেলে গ্যাস হতে পারে; কিন্তু খালি পেটে খেলে তা হবে গ্যাস নিরাময়ের ঔষধ।
ঔষধিগুণ : কফ নিবারণ করে, আমনাশক ও কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করে। অরুচিতে, দাঁতের যতেœ আমড়া অনেক কার্যকর ফল। এক মাস খেলে দাঁতের বহু সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।

পেঁপে
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ। পেঁপে এমন একটি ফল যা পুরোটাই ঔষধের গুণে ভরা। এর পুষ্টিগুণ বর্ণনায় শত পাতার বইও কম পড়বে। পেটের অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলির ক্যানসার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে পেঁপে বিশেষ উপকারী। কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ ক্রিমিনাশক ও প্লীহা, যকৃতের জন্য উপকারী।
পেঁপে মহৌষধ মাখনের মতো তুলতুলে নরম পাকা পেঁপেকে রোগের পথ্য বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, পর্তুগাল, স্পেন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডে সারাবছরই পেঁপের চাষ হয়।
ঔষধিগুণ : পেঁপের গুণাগুণগুলোর সাথে একে একে পরিচিত হই। প্রথমত; পেঁপেতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকায় এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস পেঁপে। বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের মৃত কোষ সারিয়ে তুলে ত্বককে রাখে দাগ ও বলিরেখামুক্ত। ফাইবারযুক্ত পেঁপে এমনই একটি ফল, যা সহজেই শরীরের ওজন কমিয়ে ওজনকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। হজম প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে শরীরের টক্সিন বের করে দেয়। তাই ডায়েট চার্টে সকালের দিকে খেতে পারেন। ফলে সারাদিনের কাজের শক্তি জোগাবে। ইনটেস্টাইনে কৃমি থাকলে দেখা দেয় এলার্জি, চুলকানি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। কিন্তু আপনি জানেন কি পেঁপেতে বিদ্যমান এনজাইম কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। নিজেকে রোগমুক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় চাই মহৌষধ পেঁপে।

আনারস
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে।
ঔষধিগুণ : আনারসে পাকা ফলের সদ্য রসে ব্রোমিলিন নামক এক জাতীয় জারক রস থাকে বলে এটি পরিপাক ক্রিয়ার সহায়ক হয় এবং এর রস জন্ডিস রোগে প্রতিকার রয়েছে, জ্বর বা ফ্লুতে সারাদিন আনারস খেলে জ্বর ফ্লু থাকবে না। আধুনিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, আনারসে এমন কিছু ঔষধিগুণ রয়েছে যা চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু, নিপাহ ভাইরাসজনিত রোগে কোনো সাধারণ আহার গ্রহণ না করে শুধু আনারসের জুস খেয়ে তিন দিন থাকলে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই ভাইরাস দমন হয়ে যায়। আনারস খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিক হয়ে যায়, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য আনারসে রয়েছে প্রচুর ফাইবার।
কচি ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বাতাবি লেবু বা জাম্বুরা
পুষ্টিগুণ : ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক শুধু রুচিবর্ধকই নয়, লেবু বা জাম্বুরাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মহান উৎস এই ফলগুলো ত্বক, নখ ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ কার্যকর। নিয়মিত জাম্বুরা খেলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়ে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ। জাম্বুরা শরবত শুধু রিফ্রেশিং পানীয়ই নয়, উষ্ণ পানি ও জাম্বুরা মিশ্রণ ওজন কমানোর জন্য আদর্শ টনিক। ডায়েটেশিয়ানরা ডায়েট চার্টে জাম্বুরাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। ভিটামিন ই, ফোলেট, কপার, জিংক, ফসফরাস, পটাসিয়াম-সমৃদ্ধ লেবু ও জাম্বুরা ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজমসহ অনেক সমস্যার মহৌষধ। খাবারের পর এক টুকরো জাম্বুরা চুষে খেলে মুখগহ্বরে জীবাণুর সংক্রমণ হয় না। নিজেকে সুস্থ ও তারুণ্যকে ধরে রাখতে প্রতিদিন বেশি বেশি জাম্বুরা খাবেন।
ঔষধিগুণ : পাতা, ফুল ও ফলের খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করলে মৃগী, হাত-পা কাঁপা ও প্রচ- কাশি রোগীর প্রশান্তি আনয়ন করে এবং সর্দি-জ্বর উপশম হয়।
আমাদের দেশে আরও অনেক ফল আছে যা ঔষধিগুণে ভরা, নিয়মিত এবং মৌসুমের সাথে ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে কোনো রোগই কাছে আসবে না। আর যদি রোগ থেকে থাকে তাহলে তাও দূর হবে। মৌসুমি ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছেÑ সকালে নাস্তার পরিবর্তে মিক্সড ফল দুপুর পর্যন্ত খাওয়ার অভ্যাস করলে ৯০ দিনের মধ্যে জটিল এবং কঠিন রোগও নির্মূল হয়ে যাবে। অনেকে ভাবেন খালিপেটে ফল খেলে গ্যাস হয়! কথাটি ভুল। খালিপেটে কোনো ফল খেলে গ্যাস করে না, ভরাপেটে ফল খেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস তৈরি হয়। আবার অনেকে ভাবেন ডায়াবেটিস রোগী বেশি ফল খেলে সমস্যা হয়, এ কথাটাও ঠিক না। নিয়ম মেনে ফল খেলে ডায়াবেটিসও ভালো হয়Ñ এ সম্বন্ধে চায়না স্ট্যাডি বলে একটি ফর্মুলা রয়েছে।
দেশি ফল নির্দিষ্ট মৌসুমেই খেতে পারলে ভালো, অসময়ে ফল খেলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখক : ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞ

Category:

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ : জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা

উত্তরণ ডেস্ক: দেশের সীমানা পেরিয়ে এবার প্রতিবেশী দেশ নেপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। দেশটির জলরাশিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১০ আগস্ট কাঠমান্ডুতে দুই দেশ এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী খাদগা প্রসাদ অলি বলছেন, এই সহযোগিতা বাংলাদেশ নেপালের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
দেশের বাইরে নেপাল এবং ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। জলবিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন হওয়ায় এক্ষেত্রে ঋণ প্রাপ্তিও সহজ। বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছর ধরেই নেপালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে। প্রতিবেশী দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশের জ্বালানি শক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়। আঞ্চলিক সহযোগিতার বড় ক্ষেত্র সার্কে বিষয়টি উত্থাপন এবং একটি ফ্রেমওয়ার্ক সৃষ্টি করে বাংলাদেশ জ্বালানি সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি এবং নেপালের পক্ষে দেশটির জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচবিষয়ক মন্ত্রী বর্ষমন পণ অনন্ত স্বাক্ষর করেন।
বলা হচ্ছে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ সমঝোতার মূল লক্ষ্য বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ খাতে উভয়পক্ষের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
এর আগে প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে উভয় দেশ এর মধ্যে আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ, বিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এছাড়া ভারতে বাংলাদেশ যৌথ মালিকানায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ভারত তার দেশের ভূ-খ- ব্যবহার এর প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকল্পে দেশটির (ভারত) অংশীদারিত্ব থাকার কথা উল্লেখ করে নীতিমালা করেছে। এক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা ছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সম্ভব নয়। এই জটিলতা নিরসনে নেপাল এবং বাংলাদেশ মিলে ভারতকে অনুরোধ করা হবে। এই অনুরোধে ভারতের ভূ-খ- ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ভারতের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য হুইলিং চার্জ (সঞ্চালনের অর্থ) পেতে পারে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী এমওইউ সই করার পরও ভারতের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার কথাই জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে ভারত সরকার তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনলে বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে সহযোগিতা ফলপ্রসূ হবে। অন্যথায় ভারতের সরকারি বা বেসরকারি কোনো কোম্পানিকে প্রকল্পের অংশীদারিত্ব দিতে হবে।
এমওইউ সই হওয়ার পর ভারতের মতো নেপালের সঙ্গে যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। ফলে দেশটির বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
নেপালে জিএমআর নামে ভারতীয় একটি কোম্পানি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাবও দিয়েছে সরকারকে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার অথবা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

Category:

নীতির প্রশ্নে আমি কখনও আপস করব না

uttaran

জাতীয় শোক দিবসে ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মারা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছিল, দেশকে উল্টো পথে নিয়ে গিয়েছিল সেসব প্রেতাত্মারা এখনও সক্রিয়। তাদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু নীতির প্রশ্নে আমি কখনও আপস করিনি, করবও না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ বেয়েই আমরা দেশকে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবই।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ৩১ আগস্ট বিকেলে গণভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বিভ্রান্ত ও উসকানি দিয়ে একটি মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টায় নেমে পড়ে। ছোট্ট ছোট্ট ছাত্রদের ঘাড়ে পা রেখে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। এদের অনেকে না-কি আবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। আমার প্রশ্নÑ অনেক জ্ঞানী-গুণী ও খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ওই সময় কী করেছেন? আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। সেই প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনে উসকানি দেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই উসকানি ও গুজবের ফলে কত শিশুর প্রাণ যেতে পারত, কত শিশুর ক্ষতি হতে পারত কেউ কী তা ভেবে দেখেছে? তিনি বলেন, আমরা যখন গুজব সৃষ্টিকারী ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলাম তখন দেখলাম অনেকের হাহাকার! আন্তর্জাতিক কত চাপ। কিন্তু আমি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করি। দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নেই। আমার বাবা-মা’র কাছ থেকে শিখেছি নীতির প্রশ্নে কোনো আপস নেই, করবও না। দেশে-বিদেশের সবাইকে তা মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে গ্রেনেড হামলা, গুলি, বোমা হামলাসহ অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আমাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। আমি কোনো কিছুর পরোয়া করিনি। কারণ আমার আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও তাদের মুখে হাসি ফোটানোই আমরা রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকে কেউ আমাকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরে নিজেদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলে ন্যায়-প্রগতি ও শান্তির পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলেছি, স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের কাতারে। আমরা আর বেশিদিন থাকব না। তোমরাই (ছাত্র) দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদেরই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নিজেদের একেকজন আদর্শিক নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আদর্শ নিয়ে নিজেকে গড়ে তুললে ইতিহাসে তোমরাই মূল্যায়ন পাবে, স্থান পাবে। কিন্তু ধন-সম্পদের দিকে গা ভাসালে হারিয়ে যাবে। ছাত্রলীগের অনেক নেতাই আদর্শচ্যুত হয়ে হারিয়ে গেছে, অনেকেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিসহ নানা দলে চলে গেছে।
শিক্ষাই একমাত্র সম্পদ এ-কথাটি সবসময় মনে রাখার জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছাত্রলীগের বিরাট অবদান রয়েছে। আইয়ুব-ইয়াহিয়া, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া-বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে শহিদের তালিকা দেখলে দেখা যাবে, এক্ষেত্রে শহিদের তালিকায় ছাত্রলীগেরই বেশি সদস্য রয়েছে। তাই ছাত্রলীগকে আদর্শিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না, কেউ সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু শিক্ষাই একমাত্র সম্পদ, যা কেউ কোনোদিন কেড়ে নিতে পারে না। তাই ছাত্রলীগের প্রতিটি সদস্যকে সর্বাগ্রে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নানা ষড়যন্ত্র ও ইতিহাস বিকৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১৫ আগস্টের মাত্র ১৫ দিন আগে শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর চাকরিস্থল জার্মানিতে গিয়েছিলেন। এর কয়েকদিন পরেই এক রাতে আমরা সব হারিয়ে এতিম হয়ে গেলাম। কিন্তু আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার করা হয়নি। উল্টো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়া ইনডেমনিটি দিয়ে বিচারের পথ বন্ধ করে দেয় এবং খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাকে দেশে ফিরতে দেয়নি জিয়া। রিফিউজি হিসেবে আমাদের দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতাকেই হত্যা করা হয়নি, এ হত্যাকা-ের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ইতিহাসকে হারিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু খুনিদের দোসরদের কোনো ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ সত্যকে কখনও মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, তাদের কল্যাণ ও ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। নিজে কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেই হিসাবের অঙ্ক কষার আমার কোনো সময় নেই। দেশের মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা। যারা দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে, কল্যাণে কাজ করে, একদিন ইতিহাসই তাদের মূল্যায়ন করে। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই আমরা বাংলাদেশকে তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবই।

Category:

সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন

uttaran আরিফ সোহেল: ৩১ আগস্ট ২০১৮। সাফজয়ী ফুটবলারদের মিলনমেলা। তাদের শুভ কামনায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তাদের উত্তরসূরিরা। তারা পণ করেছেনÑ এবার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের। তাতে অভ্যাগতরা আবারও সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৮। এই আসরের উন্মাদনা-আবেদন-নিবেদন ছড়িয়ে দিতেই দীর্ঘ ১৫ বছর পর এমন আয়োজন। আয়োজক বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি [বিএসপিএ]। সেখানে সম্বর্ধিত হয়েছেন ২০০৩ সালে সাফজয়ী ফুটবলাররা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে ওই শিরোপা জয়ই সবচেয়ে বড় মর্যাদার অর্জন বাংলাদেশের। পুরনো-নতুনের বেগ-আবেগের আবীর ছড়ানো পরিবেশে শিরোপাজয়ী জয়-রজনী-মামুন-মনি-কাঞ্চন-আমিনুলরা ফুটবলের সোনালি অতীতের কথা রোমন্থন করেছেন। তা মুগ্ধতার সঙ্গে শুনেছেন বর্তমান সাফ শিরোপা প্রত্যাশী বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। ফলে আবেশের রং ছড়ানো সুর-মূর্ছনায় সেখানে বেজে উঠছে ফুটবলের নতুন সম্ভাবনার আলো। ভিন্নমাত্রার পরিবেশে পুরনোদের স্মৃতিকথা, দৃঢ়তা, দেশের প্রতি কমিটমেন্টÑ সবমিলিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা আরও একবার উসকে দিয়েছে এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ‘টিম বাংলাদেশকে’।
বাংলাদেশ ফুটবলের হতাশার সময়ে এবারের এশিয়ান গেমস স্বস্তি এনে দিয়েছে। নতুন ইংলিশ কোচ জেমি ডের হাত ধরে অনূর্ধ্ব-২৩ দল এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ড্র করে শক্তিশালী থাইল্যান্ডের সঙ্গে। আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতারের মতো ‘বিগ জায়ান্ট’কে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে আরেকটি ইতিহাসের পাতা খুলেছে বাংলাদেশ। পরের লড়াইয়ে এশিয়ার পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও বাংলাদেশের তরুণদের সাহসী পারফরমেন্স নজর কেড়েছে সবার। ফলে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের আসরকে ঘিরে নতুন আলোর দ্রুতি সঞ্চারিত হচ্ছে। নিরাশার ফুটবলে হঠাৎ করেই আশার বাতি জ্বলে উঠছে। সেই বাতি জ্বালিয়েছে এশিয়ান গেমসে অনবদ্য সাফল্য।
uttaran2বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন আবর্তিত-বিবর্তিত ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই। বড় আসরে কাতারকে হারানো যায়, সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন নয়। ইংল্যান্ডের উয়েফা লাইসেন্সধারী এই কোচ প্রথম আসরেই কিছু একটা দিতে পারেন; অনেকেই ভেবে ফেলেছেন। তবে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে বারবারই সেই আশায় রাশ টেনে ধরেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত তিন আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেÑ সেই পুরনো কথা। স্বাগতিক হয়ে সেই লজ্জার আবরণ সরিয়ে ব্রিটিশ কোচ কি পারবেন বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য বদলাতে! এমন আলোচনার পারদ ছুঁয়ে দেখছে আকাশ সীমানা। স্বপ্ন জয়Ñ এক কঠিন লড়াই। তাই জেমি ডেÑ দল নির্বাচনে তারুণ্যের জয়গান গাইলেও অভিজ্ঞদের রেখেছেন ‘ভারে কাটার জন্য’। একটি হিসাব তাকে বেশ পোড়াচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন জাতীয় ফুটবল দলের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। ২০১৭ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একটি ম্যাচও খেলেন নি সিনিয়ররা। তারা সময় পার করেছেন ক্লাবের হয়ে খেলেই। ম্যাচ না খেলায় র‌্যাংকিংয়েও অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্যস্ত ছিল বয়সভিত্তিক দল। বড় কোনো ট্রফি না জিতলেও বয়সভিত্তিক বাংলাদেশের হয়ে তারুণ্যের পতাকাবাহীরা মাঠে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। যার শেষ প্লট এশিয়ান গেমসে রূপায়িত করেছেন জুনিয়ররা।
প্রস্তুতি শেষ। চলছে আসর আয়োজনের ব্যাপক তোড়জোড়। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সেই কাক্সিক্ষত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৪-১৫ সেপ্টেম্বর এই আসর অনুষ্ঠিত হবে জাতির পিতার নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সাত জাতির এই আসরে বাংলাদেশ খেলছে ‘এ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ ভুটান। এর আগে ১২তম এই আসরের পর্দা উঠছে নেপাল-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে। এই আসরের আগে বাংলাদেশ আরও দুবার সাফ আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ২০০৩ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেমিফাইলে হেরেছে ভারতের কাছে। এবার তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান থাকছে বাংলাদেশের পক্ষেই। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ এগিয়েই থাকে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল আসরকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ। সার্ক গোল্ডকাপ নামে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের লাহোর থেকে। চার দল নিয়ে হয়েছিল ওই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ প্রথম আসরে অংশ নেয়নি। দুই বছর পর শ্রীলংকায় এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের দুই আসরে বেহাল বাংলাদেশ। তবে ১৯৯৯ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়েছে। ফাইনালে হেরে যায় সেই ভারতের কাছেই। আর ২০০৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আসরে স্বপ্নপূরণ হয় বাংলাদেশের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে রজনী-মামুন-কাঞ্চনরা উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। এরপর থেকেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পরিণত হয় আন্ডারডগে। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলেও পরের আসরগুলোতে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরে সেমিফাইনালে ওঠাটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় কিছু।
এ মুহূর্তে ফুটবলের র‌্যাংকিংয়ের চরম তলানীতে বাংলাদেশ। কিন্তু সবুজ-শ্যামলা বাংলাদেশে এখনও তা মরে যায়নি। ২৮ আগস্ট নীলফামারীতে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সাফের প্রস্তুতি ম্যাচে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ‘শেখ কামালের’ নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে রোদ মাথায় উপচেপড়া ভিড়, সত্যিই ধাঁধিয়ে দিয়েছে ফুটবল যাত্রাপথকে। নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে ফুটবলের উৎসব-গল্প। বাঙালি হৃদয়ে এখনও ফুটবল প্রেম-ভালোবাসা জাগরূক মহীরুহের মতোই। এখনও উচ্ছ্বাস-আনন্দ-উদযাপনে ফুটবলের জয়-জয়কার। নীলফামারীতে ৪টা ম্যাচ; অথচ দুটায়ই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল নাÑ তাতে সেই সত্যই ভেসে উঠেছে মাঠের ক্যানভাসে।
এশিয়াডে খেলা নিয়মিত একাদশের ১০ জনকে বাইরে রেখে অভিজ্ঞদের নিয়ে নবীন শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে এই ম্যাচে একটু হসপচ মনে হয়েছে। দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে র‌্যাংকিংয়ের নিচের দল শ্রীলংকার কাছে হেরেও গেছে। তারপরও এখানে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করেÑ এখানে হার বড় কথা নয়, জয় হয়েছে ফুটবলেরই।
বাংলাদেশের ফুটবলে হঠাৎ করেই বর্ণিল রং লেগেছে। এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর ফুটবল নিয়ে নতুন আশা জেগেছে। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শুধু ফেভারিটই নয়, হট ফেভারিট হয়েই শুরু করবেÑ এমন স্বপ্ন-প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন বাঙালিরা।

Category:

ড্রাগন ফল : আয়ের নতুন সম্ভাবনার উৎস

uttaranরাজিয়া সুলতানা: নামটি একটু অন্যরকমÑ পিটাইয়া বা ড্রাগন ফল। ফলটি দেখতে ড্রাগনের চোখের মতো বলেই এমন নাম। ভিটামিন সি’র মাত্রা বেশি, তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, মানসিক অবসাদ দূর করে এবং ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। ফলটি আমাদের দেশীয় নয়। কিন্তু আমাদের আবহাওয়ায় অভিযোজিত। বাণিজ্যিকভাবেও সফল। এই ফল উৎপাদন করে একজন তৃণমূলের প্রান্তিক কৃষকও হয়ে উঠতে পারেন সাম্বলম্বী।
ড্রাগন এক ধরনের ফণীমনসা (ক্যাকটাস) প্রজাতির ফল। গাছের কোনো পাতা নেই। ফুল হয় সাদা রঙের। দেখতে অনেকটাই নাইট কুইন ফুলের মতো। এই ফুল মূলত রাতের বেলা ফোটে। এই ফুলে দারুণ সুগন্ধ রয়েছে। ফুল থেকে লাল রঙের ডিমের আকৃতির ফল গঠিত হয়। ড্রাগন ফলের খোসা বেশ নরম। পাকা ফলের শাঁস খুব নরম ও ভেতরে কালো জিরার মতো ছোট ছোট বিচি থাকে। ড্রাগন ফল খেতে হালকা মিষ্টি।
যদিও ড্রাগন ফলটি থাইল্যান্ডের জাতীয় ফল। তবে ড্রাগন ফল এসেছে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। তবে বর্তমানে এগুলো পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়ায় ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এছাড়া ওকিনাওয়া, হাওয়াই, ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন, উত্তর অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ গণচীনেও ড্রাগন চাষ চোখে পড়ে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে।
ড্রাগন ফল দুই প্র্রকার। যথাÑ টক স্বাদের ও মিষ্টি স্বাদের। মিষ্টি স্বাদের ফলবিশিষ্ট ড্রাগন ফলের আবার ৩টি প্র্রজাতি রয়েছেÑ লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া। ফলের খোসার রং লাল, শাঁস সাদা। এই প্র্রজাতির ফল বেশি দেখা যায়। কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। ফলের খোসা ও শাঁসের রং লাল। হলুদ ড্রাগন ফল। ফলের খোসা হলুদ রঙের ও শাঁসের রং সাদা। ড্রাগন ফল স্বাদে টক, এগুলো টক ড্রাগন ফল বা ‘গাওয়ার পিটাইয়া’ নামে পরিচিত। আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে এগুলো পাওয়া যায়। খুব টক বলে মেক্সিকো ও আমেরিকার লোকেরা ওই ড্রাগন ফলের রসে বিভিন্ন শরবত তৈরি করে।
উপযোগী জাত বাণিজ্যিকভিত্তিতে সফলভাবে চাষ করার জন্য বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টার থেকে অবমুক্তায়িত বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা), বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল) চাষ করা ভালো। এছাড়া হলুদ ড্রাগন ফল ও কালচে লাল ড্রাগন ফলও চাষ করা যায়। প্র্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলের সাদা বা লাল অংশে ২১ মিগ্রা ভিটামিন সি, ৩ গ্রাম আঁশ, জলীয় শতাংশ ৮৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.১ গ্রাম, ফ্যাট ০.৪ গ্রাম (বলতে গেলে ফ্যাট নেই) এবং কার্বোহাইড্রেট ১১.০ গ্রাম পাওয়া যায়। প্র্র্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে যে পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া যায় তা একটি কমলার সমান বা ৩টি গাজরের চেয়ে বেশি। এই ফলের কালো বীজে থাকে ল্যাক্সেটিভ ও পলিআনস্যাচুরেইটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হজমে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়াও রয়েছে প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ০.০৪ মিগ্রা ভিটামিন বি ১, ০.০৫ মিগ্রা ভিটামিন বি-২, ০.০১৬ মিগ্রা ভিটামিন বি-৩, ১.৯ মিগ্রা আয়রন, ক্যালসিয়াম ৮.৫ মিগ্রা এবং ফসফরাস ২২.৫ মিগ্রা। এক কথায় ড্রাগন ফল হলো স্টোর হাউস অব ভিটামিন। ক্যালোরি এবং ফ্যাট কিন্তু খুবই কম। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরাও খেতে পারেন। শুধু তাই নয়Ñ নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতি উত্তম। ড্রাগনে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় রক্ত শূন্যতায় এবং পানি শূন্যতায় খুবই কার্যকরী। প্রচুর ফাইবার থাকায় পেটের পীড়া এবং লিভারের জন্যও উত্তম।
ড্রাগন আমাদের দেশীয় নয়। তবে অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন। আমাদের দেশে বেলে দোআঁশ থেকে নোনা মাটিÑ সব জায়গায় সফলভাবে জন্মে। সফল চাষাবাদের জন্য এর চাষ পদ্ধতিটা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। ফণীমনসা বা ক্যাকটাস জাতীয় গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই প্র্র্রথমেই উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে। শুষ্ক জলবায়ু দরকার ও মাঝারি বৃষ্টিপাত ভালো। তবে অধিক বৃষ্টি হলে ফুল ঝরে যায় ও ফলে পচন ধরে। রোদ, খোলামেলা জায়গা প্র্রচুর জৈবসারে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। ড্রাগন ফলের চারা তৈরি খুব সহজ। বীজ দিয়ে চারা তৈরি করা যায়। তবে সেসব চারায় ফল ধরতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই কাটিং করে শাখা কলম করে চারা তৈরি করা উত্তম। বয়স্ক ও শক্ত শাখা এক থেকে দেড় ফুট লম্বা ও তেরছা করে কেটে বালি বা বেলে দোআঁশ মাটিতে বগিয়ে দিলে ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা থেকে শিকড় গজায়। তবে কাটিং রাখার জায়গায় শেড বা ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মাটিতেও রস থাকতে হবে। কাটিং সাধারণত মরে না, তাড়াতাড়ি ফল ধরে। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। জমি ভালোভাবে চাষ ও সমান করে ৩ মিটার পরপর সবদিকে সারি করে চারা লাগাতে হবে। চারা রোপণের মাসখানেক আগে গর্ত তৈরি করতে হবে। প্র্র্রতি গর্তে ৪০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমওপি সার, ১০ গ্রাম করে জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট ও বোরাক্স সার দিতে হবে। বছরের যে কোনো সময় চারা লাগানো যেতে পারে। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাগালে ভালো হয়। প্র্রতি গর্তে ৪টি করে চারা লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। চারা লাগানোর পর খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে ড্রাগন ফল গাছ বেঁধে দিতে হবে। কেননা ড্রাগনের গাছের কা- লতানো প্রকৃতির। ৩টি পদ্ধতিতে খুঁটি দিয়ে গাছটি সাপোর্ট দিতে হয়।
ক. ভিয়েতনাম পদ্ধতি
খ. ফ্লোরিডা পদ্ধতি
গ. শ্রীলংকা পদ্ধতি।
ভিয়েতনাম পদ্ধতিতে পিলারের চারদিকে কাটিংকৃত কলম চারা লাগিয়ে পিলারের সঙ্গে বেঁধে দিতে হয়। ফ্লোরিডা পদ্ধতিতে দুই পাশে দুটি খুঁটি পুঁতে মোটা তারের ওপর জাংলার মতো তৈরি করে গাছ জাংলায় তুলে দিতে হবে। আর শ্রীলংকা পদ্ধতিতে পিলার পুঁতে দিয়ে চারা লাগিয়ে দিয়ে পিলারের সঙ্গে বেঁধে দিতে হয়। পিলারের চারদিকে বাঁশের ম্যাচারের ওপরে মোটর গাড়ির পুরাতন টায়ার দিয়ে তার ওপর গাছের শাখাগুলোকে বাড়তে দেওয়া হয়। ড্রাগন ফলগাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। একটি এক বছর বয়সী গাছ ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে। চার বছর বয়সী গাছ প্র্রায় ১৩০টি শাখা তৈরি হয়। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এক একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১২-১৮ মাস পর একটি গাছ ফল ধারণ করে। ফল সংগ্রহের পর ৪০-৫০টি প্রধান শাখায় প্রত্যেকটিতে এক-দুটি সেকেন্ডারি শাখা রেখে বাকিগুলো কেটে দিতে হয়। গাছের আকার ও শাখা-প্রশাখা কর্তনের কার্যক্রম দিনের মধ্যভাগে করাই ভালো। কর্তন করার পর অবশ্যই যে কোনো ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই আক্রমণ করতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে মাটি শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে। দুই সারির মাঝে পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নালা রাখতে হবে। এসব নালার মুখ আটকে মাঝেমধ্যে পানি ভরে রেখে দিলে সেখান থেকে গাছের শিকড় পানি পাবে। ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫ থেকে ২০টি ফল পাওয়া যায়; কিন্তু পূর্ণবয়স্ক একটি গাছে ২৫ থেকে ১০০টি ফল পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি ফলন ২০ থেকে ২৫ টন। নতুন আসা এই ফলের গাছে তেমন কোনো রোগ ও পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায় না। তবে কখনও কখনও শিকড় পচা, কা- ও গোড়া পচা রোগে গাছ আক্রান্ত হয়। গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে গেলে মূলে পচন দেখা দেয়। তখন গাছকে টান দিলে মূল ছাড়া গাছ উঠে আসে। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এই রোগ হয়। এই রোগ দমনের জন্য ছত্রাকনাশক যেমনÑ বেভিস্টিন, রিডোমিল, থিওভিট ইত্যাদির যে কোনো একটি ২ গ্রাম প্র্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে প্র্রয়োগ করতে হবে। ড্রাগন ফলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খুব একটা চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে এফিড ও মিলিবাগের আক্রমণ দেখা যায়। এরা গাছের কচি শাখা ও পাতার রস চুষে খায়। ফলে রং ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পোকা দেখা দিলে সুমিথিয়ন বা ম্যালাথিয়ন প্র্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলি ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
একবার বাগান স্থাপন করলে অনায়াসেই ২০-২৫ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। সাধারণত বছরে একবার ফলন পাওয়া যায়। তবে শীতের সময়টায় যদি দিনের আলোর পর প্রায় ৪ ঘণ্টা করে প্রতি গাছের খুঁটিতে লাইট ব্যবহার করা গেলে সারাবছরই ফল পাওয়া সম্ভব। লাভ খরচের প্রায় দ্বিগুণ। তাই রপ্তানিযোগ্য এই ফলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। ইচ্ছে করলে বাড়ির ছাদে বা টবে সৌখিনভাবেও ড্রাগন ফলের চাষ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে প্রফেসর ড. এমএ রহিম গবেষণার উদ্দেশ্যে ড্রাগন ফলের কয়েকটি জাত নিয়ে আসেন থাইল্যান্ড থেকে ২০০৭ সালে। সেসব গাছ দিব্যি ফল দিচ্ছে। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে সেন্টার থেকে এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন আমাদের কৃষিবান্ধব সরকার। তবে প্রচারেই প্রসার এই ধারাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের সামনে ফলটিকে নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই ফলটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারবে।

লেখক : পিএইচডি গবেষক, শেরে বাংলা কৃষি ইউনির্ভাসিটি, প্ল্যান্টপ্যাথলজি, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
raziasultana.sau52@gmail.com

Category:

মহান শিক্ষা দিবসের আলোকেই আজকের শিক্ষানীতি

uttaranরায়হান কবির: ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে শিক্ষা আন্দোলন এক অনন্য মাইলফলক। পৃথিবীর আর কোনো জাতিকে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালি জাতির ন্যায় এত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়নি। বাঙালি জাতির প্রায় সকল অধিকারই রক্তঝরা আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৪৭ সালের অবৈজ্ঞানিক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর পূর্ববাংলার জনগণ শিক্ষা, অর্থনীতি, সামরিক-বেসামরিক চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে চরম বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন, রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় নিষেধাজ্ঞা, নজরুলের কবিতার বিকৃতি যেমনÑ ‘মহাশ্মশান’-এর পরিবর্তে ‘গোরস্তান’, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’Ñ এর পরিবর্তে ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি, সারাদিন যেন আমি নেক হয়ে চলি’ ইত্যাদি অপতৎপরতা শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিসেবীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর সামরিক শাসক আইয়ুব খান তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসএম শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন। গঠিত ওই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এতে শিক্ষা বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা ছিল তা প্রকারান্তরে শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে গিয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সস্তায় শিক্ষা ক্রয় করা যায় বলে যে ভুল ধারণা রয়েছে তা ত্যাগ করতে হবে। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বেতন বর্ধিত করার প্রস্তাব ছিল। এই তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’তে যেসব বিষয় সুপারিশ করা হয়েছিল তা ছিলÑ শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যের মতো শুধু উচ্চবিত্তের সন্তানদের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষাকে সীমিত করা এবং সাধারণের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত করে ফেলার ষড়যন্ত্র। শিক্ষা ব্যয় পুঁজিবিনিয়োগ হিসেবে দেখে শিক্ষার্থীরা তা বহন করা, যে অভিভাবক বেশি বিনিয়োগ করবেন তিনি বেশি লাভবান হবেন; অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উল্লেখ; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ইংরেজি পাঠ বাধ্যতামূলক; উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করা; সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলে জিইয়ে রাখার চেষ্টা ইত্যাদি।
ওই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষè নজর রাখার প্রস্তাব করে। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়। রিপোর্টের শেষ পর্যায়ে বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব ছিল। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আইয়ুবের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব দাবির ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আন্দোলন চলতে থাকে। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাতিল করে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ছাত্রদের সাথে সাধারণ মানুষও হরতালে অংশ নেয়। ওই দিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়। মিছিল নবাবপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু হাইকোর্টের সামনে পুলিশ এতে বাধা দেয়। তখন মিছিলকারীরা সংঘাতে না গিয়ে আবদুল গনি রোডে অগ্রসর হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলের পেছন থেকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে। ওই দিন পুলিশের গুলিতে বাবুল, মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ শহিদ হন। ওই দিন শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে মিছিলের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এদিন টঙ্গীতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিকেরও হত্যার খবর রয়েছে। বহু ছাত্র-জনতা পুলিশ ও ইপিআরের নির্যাতন ও গুলিতে সারাদেশে আহত হন।
১৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছাত্র আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। ছাত্রসমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাধারণ জনগণ ছাত্রসমাজের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। সারাদেশে তিন দিনব্যাপী শোকের কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে এক ছাত্র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের সমর্থিত ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়ে আইয়ুবের সামরিক সরকার তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এবং একটি গণমুখী সার্বজনীন আধুনিক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও শহিদদের আত্মদান তথা শিক্ষার ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক ১৭ সেপ্টেম্বরকে সেদিন ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা ছিল জাগরণের মন্ত্র।
গৌরবময় সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করেন। কুদরত-ই-খুদা কমিশন দেড় বছর কঠোর পরিশ্রম করে ব্যাপক জরিপ ও পর্যালোচনাভিত্তিক বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে একটি রিপোর্ট ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট দাখিল করেন। কমিশন রিপোর্টের অপেক্ষা না করে তিনি কতিপয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মার্চ ’৭১ থেকে ডিসেম্বর ’৭১ পর্যন্ত সময়কালের ছাত্রদের সকল বকেয়া টিউশন ফি মওকুফ করেন; শিক্ষকদের ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন; আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ করেন এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানে শিক্ষা মৌলিক অধিকার এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শিক্ষা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে তিনি দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের স্বায়ত্তশাসন প্রদান। বঙ্গবন্ধু অফিস-আদালতে বাংলা প্রচলনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। সেনাবাহিনীসহ সকল অফিসে বাংলা চালু করা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা একাডেমিতে সাঁটলিপি, মুদ্রাক্ষর ও নথি লেখার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। কিন্তু ড. কুদরত-ই-খুদা কমিশন স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি আধুনিক গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ১৫ আগস্টের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী প্রায় অর্ধডজন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও তার অনেক কিছুই ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা-পরিপন্থী। রাজনীতির নামে ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া, সেশন জট সৃষ্টি, ছাত্রসমাজকে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত করা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায় ’৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও তাদের উত্তরসূরিরা।
১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করলে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দর্শন বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শিক্ষার মান্নোনয়ন ঘটে। এ সময় একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষা খাতে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। সাক্ষরতার হার বিএনপি আমলের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষার হার ৬৫ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায়। বর্তমান শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মৌল চেতনা এবং একটি কল্যাণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম যতটুকুই বাস্তবায়িত হয়েছে তা আওয়ামী লীগ আমলেই হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার, একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণের মধ্যদিয়ে ধনী-গরিব সকলের জন্য শিক্ষাগ্রহণের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রভৃতি কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করা, দেশের প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা, ট্রেনিং ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়ক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা, ছাত্রী উপবৃত্তির পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে দরিদ্র ছাত্রদের জন্য উপবৃত্তি চালু, যুবশক্তিকে অধিক হারে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কোর্স চালুসহ শিক্ষাক্ষেত্রে যতটুকু অগ্রগতি সবই অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

Category: