Blog Archives

ফুলকোর্ট সভায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া

uttaranউত্তরণ ডেস্ক: সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের যেসব সদস্য নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় দোয়া পরিচালনা করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে গত ৮ আগস্ট বিকেলে এই ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Category:

গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন

uttaran

আন্ডারপাস ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সুশিক্ষার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা, গুজব ও অপপ্রচারের জন্য নয়। আর যাই হোক, প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো কখনও সহ্য করা যায় না। কাজেই সবাইকে বলব কেউ গুজবে কান দেবেন না। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।
গত ১২ আগস্ট ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কে পথচারী আন্ডারপাস প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এটি নির্মাণ করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাঙালিরা একটু হুজুগে মাতি। সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ তো আমি করে দিয়েছি। সকলের হাতে এখন মোবাইল ফোন। আধুনিক প্রযুক্তি ফোরজি এসে গেছে। একটা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেসবুক করা যায়, ইউটিউব দেখা যায়, সেটা আমরা করে দিয়েছি। এই যে প্রযুক্তির ব্যবহার, এর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে, গুজব ছড়িয়ে, একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা; এমনকি অনেক বয়স্ক লোক, এমন এমন লোক আছেÑ যাদের ভালো কাজের জন্য একসময় পুরস্কার দিয়েছি, অথচ তারাই এখন এ ধরনের গুজব ছড়াতে শুরু করল। তাই কেউ চট করে গুজবে কান দিবেন না। আমার প্রশ্ন, গুজব ছড়ালেই তা বিশ্বাস করতে হবে কেন? কিছু শুনলে আগে বুদ্ধির প্রয়োগ করে তা বিচার-বিবেচনা করতে হবে।
রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কোনোদিনই ক্ষমা করা যায় না, এটা ক্ষমার অযোগ্য। কারণ ওই বাস ড্রাইভার যেভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়িটা চালাচ্ছিল, ছেলে-মেয়েদের ওপর দিয়ে চলে গেল। অনেক ছেলেমেয়ে আজ আহত। এদের আমরা কখনই ক্ষমা করব না। এ দুর্ঘটনায় যারা জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি অবশ্যই হবে, আমরা তা দেব।
শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে চোখে আঙুল দিয়ে অনেক অনিয়ম দেখিয়ে দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারপরও দেখছি, আমাদের কিছু লোক এখনও অন্ধ। আমরা সরকারে ফিরে দেখেছি, বিআরটিসি বাস বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা ছিল, আমরা চালু রেখেছি। ড্রাইভারদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক, ড্রাইভাররা ট্রেনিংও করে না, হেলপারের ওপর গাড়ি ছেড়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছিল। ঘটনা ঘটার পর যেভাবে শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছিল, তারা যে প্রতিবাদ করেছেÑ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সবাইকে বলেছি ধৈর্য ধরতে। আমরা দেখেছি, তোমরা অস্থির হয়ে যাচ্ছ, তবুও ধৈর্য ধরতে বলেছি। আমাদের ছেলেমেয়েরা রাস্তায়, তাদের যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। দুটি দিন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। যখন আমাদের (ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়) অফিস আক্রান্ত হলো, তখন সেখান থেকে ফোন আসছিল, বলা হচ্ছিলÑ আমরা তো টিকে থাকতে পারছি না, শুধু পাথর ছোড়া হচ্ছে। তখন বলেছি শুধু ধৈর্য ধরতে। আমার প্রশ্নÑ কারা করল এটা? সেসময় ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে।
আন্দোলনের তৃতীয় দিন রাস্তায় স্কুল ড্রেস পরিবর্তনের দৃশ্য দেখা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যখন দেখলাম ব্যাগের ভেতর থেকে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল বের হচ্ছে, পাথর বের হচ্ছেÑ তখন আমরা চিন্তিত হয়ে গেলাম। আমি তখনই আহ্বান করলাম, তোমরা ঘরে ফিরে যাও। অভিভাবক-শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানালামÑ তৃতীয়পক্ষ ঢুকে পড়েছে, তাদের ঘরে ফিরিয়ে নেন। সময়মতো তারা শিক্ষাঙ্গনে ফিরে গেছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মার খেয়েছে, অপমানিত হয়েছে, তাদের মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কিছু করেনি। কিন্তু দেখা গেলÑ এরা ছাত্র না, ছাত্র নামধারী কিছু লোক। দর্জির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রচুর পরিমাণে স্কুল ড্রেস তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীসহ সবাইকে রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাস্তা পারাপার করার জন্য ডানে বা বামে তাকাতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার জন্য যেসব জায়গা আছেÑ আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ কিংবা যেখানে জেব্রা ক্রসিং সেখান দিয়ে রাস্তা পার হতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তায় যখন গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করছিল, একাধিক মন্ত্রীর পথ আটকেছিল, তখন মন্ত্রীরা তাকে ফোন করে করণীয় জানতে চান। আর তিনি তাদের বলেন, ছাত্ররা যা বলছে, তাই যেন তারা করেন। আমি বলেছি, ওরা যাই বলে তাই শোনেন। মনে করেন আপনার সামনে আমাদের নাতিপুতি বলছে। নিজের নাতির কথা শুনেন না? নাতি-নাতনিদের কথা তো নানা-নানি, দাদা-দাদিরা শুনে থাকেন, যেটা বলে, সেটা শুনবেন। প্রত্যেকে কিন্তু শুনেছে।
বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করার বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সেটা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, শাস্তি দিতে হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। তিনি বলেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেশি মানুষের চলাফেরা যেখানেÑ প্রতিটি জায়গায় আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ করে দিতে হবে। পর্যাপ্ত লাইট ও গোপনভাবে সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে এবং তা মনিটরিং করতে হবে। ছোট্ট সোনামণিদের বলব, ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে, মন দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। এত কষ্ট করছি, তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
সরকারপ্রধান হিসেবে সমস্যাটি অবহিত হওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়ে গেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই প্লানটা তৈরি করে বসে আছে। তাই সবার প্রতি অনুরোধ করবÑ আপনারা যদি কোনো সমস্যা সমাধান করতে না পারেন, আমি তো ২৪ ঘণ্টাই আছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হয়তো ৫-৬ ঘণ্টা আমার নিজের থাকে। বাকি সময় আমাকে পাবেন। যখনই চান, আমার মোবাইল ফোন আছে, ফোন দিলেও পাবেন। আপনারা যদি একটু খবর দেন বা বলেন যে, এই সমস্যা। তাহলে একটা সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি। কিন্তু এই কাজগুলোর যেন কালক্ষেপণ না হয়। আজকে যদি এই কালক্ষেপণটা না হতো, তাহলে হয়তো এ দুর্ঘটনাটা হতো না। এভাবে দুইটা জীবন যেত না।
চালকদের লাইন দিয়ে বাস চালাতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথাও যদি ওভারটেক করতে যায়, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিতে হবে। পুলিশের এটা দায়িত্ব। আইজি সাহেব, এখানে উপস্থিত আছেন। সেভাবেই আপনাকে নির্দেশ দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে রাস্তায় কেউ কোনোরকম অনিয়ম করছে কি না, সেটার দেখার ব্যবস্থা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে রাস্তা পারাপার হতে পারে সেজন্য শিক্ষক ও ট্রাফিকদের বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাবা-মা সন্তান হারিয়েছেন, তার ক্ষতিপূরণ দেয়া যায় না। কারণ আমি তো সব হারিয়েছি, আমি জানি হারাবার বেদনা কি? তবু আমি চেষ্টা করেছি। যারা এখনও আহত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।
সরকারি কর্মচারীদের তাদের দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে প্রজন্মের আকাক্সক্ষানুযায়ী পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, বিবেককে জাগ্রত করেছে। তাই আমি আশা করব, জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আকাক্সক্ষানুযায়ী সকলেই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবেন। তিনি শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম এবং আব্দুল করিম রাজিবের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ও সেনাবাহিনী-প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনের এই আন্ডারপাস ছাড়াও ঢাকায় আরও ৩টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। এর মধ্যে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত একটি এবং সংসদ সদস্য ভবন থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত অরেকটি আন্ডারপাস হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে এলেঙ্গার পথে আরও ৫টি আন্ডারপাস নির্মাণ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

uttaranউত্তরণ ডেস্ক: বরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পথিকৃত, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। বাংলাদেশে সংবাদপত্র জগতে অন্যতম সফল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের হাত ধরেই দৈনিক যুগান্তর ও সমকাল প্রকাশিত হয়েছে। তার আগে দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ আগস্ট, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার কিছু আগে মৃত্যুবরণ করেন মুক্তি সংগ্রামী ও একুশে পদকজয়ী গোলাম সারওয়ার। ৭৫ বছর বয়সী এই সম্পাদক স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক জানিয়েছেন।

লেখক সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার
uttaran2ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কুলদীপ নায়ার আর নেই। গত ২২ আগস্ট, বুধবার গভীর রাতে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ২৩ আগস্ট দুপুরে নয়াদিল্লির লোধি রোডের শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বরেণ্য এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বহু মানুষ শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। কুলদীপ নায়ারের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে; শিয়ালকোট বর্তমানে পাকিস্তানের অংশে রয়েছে। তার বাবা নামকরা চিকিৎসক ছিলেন।
সাংবাদিকতার বিরতিতে কুলদীপ নায়ার সরকারি চাকরি করেছেন। তিনি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন; ১৯৯৭ সালে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
ধর্মীয় উগ্রবাদের পাশাপাশি উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরোধিতায় সরব এই কলামিস্ট শেষ বয়সে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য। তিনি মনে করতেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও ভারতের দূরত্ব কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

Category:

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল

uttaran

আওয়ামী লীগের আলোচনায় ওবায়দুল কাদের এমপি

উত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপি ও তাদের দোসরদের যে কোনো চক্রান্ত ও আন্দোলন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আমরা জানি এরকম আন্দোলন করার চক্রান্ত আছে। গোপন বৈঠক হচ্ছে দেশে-বিদেশে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্ক ও আমরাও প্রস্তুত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অফিস সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন আমরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করি। কোনো বিষয়ে আমাদের যদি ঘাটতি থাকে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই এবং এগিয়ে যাই।
গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘গুজব সন্ত্রাস-অপপ্রচার রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সরকার উৎখাতের নামে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র, আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও গুজব-অপপ্রচার নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দিতে সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থী নিহতের গুজবকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনের সময় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সেই দিনের নির্দেশনার বিষয়টি তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের এমপি। তিনি বলেন, বারবার অফিস থেকে ফোন করেছিলাম, নেত্রী পার্টি অফিসের গেটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসছে। ওরা আক্রমণ করবে, আমরা কি করব? নেত্রী বললেন, মার খাও কিন্তু উত্তেজিত হওয়া চলবে না। নেত্রী যদি এই ধৈর্য ধরার পরামর্শ না দিতেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা যাবে না। পুলিশকে যদি এই নির্দেশনা না দিতেন তাহলে কি পুলিশ ধৈর্য ও সংযম দেখাতে পারত? যথাযথভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোকাবেলা করেছেন যোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি আন্দোলনকে হিংসাত্মকভাবে ভয়াবহ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার যে বিপজ্জনক এজেন্ডা, সেই এজেন্ডাকে প্রধানমন্ত্রী সৎ সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে একজন স্ট্রেটসম্যান, চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়কের মতো মোকাবেলা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পার্টি এখন প্রো-অ্যাকটিভ পার্টি। আমাদের পার্টি যদি প্রো-অ্যাকটিভ না হতো তাহলে আমরা হেরে যাওয়া ৪টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জিততে পারতাম না।
ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলনের ওপর বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা ভর করেছিল। লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। ভয়ঙ্কর আরও কিছু হতে পারত; কিন্তু সেটা সরকার অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেছে এবং সেটা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আমরা এখনও প্রস্তুত। আমরা জানি দেশে-বিদেশে আন্দোলনের নানা চক্রান্ত চলছে। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ যথেষ্ট সতর্ক ও প্রস্তুত।
নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় গুজব রটনাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কোনো কোনো গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেনি, উল্টো সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য নিয়ে সম্প্রতি ওসব গণমাধ্যমে নানা সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবকিছুর একটা সীমা আছে। ধরা পড়ল। তারপরও কোনো কোনো পত্রিকায় কোনো নিউজ নেই। আর আমার বিরুদ্ধে তো লেগেই আছে। একটা দিনও বাদ নাই। আমি বুঝি কেন এটা হচ্ছে? আমি জানি এটা রাজনৈতিক আক্রমণ। ইন্টারভিউ দিতে আমাকে চিঠি লিখেছে, অনুরোধ করেছে। আমার দলের সিদ্ধান্ত, এখানে ইন্টারভিউ দেওয়া যাবে না। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনেছি। সেজন্য আমাকে আক্রমণ করছে কেন? এ সময় বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনকার মতো উন্নয়ন কবে হয়েছিল এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।
বিএনপি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বলছে নির্বাচন প্রক্রিয়াই না-কি বাদ দিতে হবে! তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে? নির্বাচন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ আগামী নির্বাচনের আগে নেই। এ ধরনের দাবি ‘মামা বাড়ির আবদার’ ছাড়া কিছুই নয়।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ এমপির সভাপতিত্বে ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন একাত্তরের সিইও মোজাম্মেল বাবু, ভিকারুন-নেসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী জাফরিন আহমেদ রূপন্তী, সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মানরাজ হোসেন শামীম, সিটি কলেজের সহকারী শিক্ষক আহসান হাসীব রাজা, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

Category:

রংপুর ও রাজশাহীতে ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনার

uttaranমো. রাজীব পারভেজ: ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১-এর আলোকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে মনে করে উন্নয়ন রোডম্যাপ বাস্তবসম্মত, স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা ও জনগণের আকাক্সক্ষা অনুসারে হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ করে কার্যকর উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রস্তুতে পরামর্শপত্র প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে অলোচনার মাধ্যমে সরাসরি এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সারাদেশের বিভাগভিত্তিক মতামত গ্রহণ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ পরামর্শপত্র তৈরি করা হবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৭ আগস্ট রংপুর এবং ৯ আগস্ট রাজশাহী বিভাগে দুই ধাপে দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর বিভাগ
রংপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং চাহিদা নিয়ে দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রংপুর বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনার গত ৭ আগস্ট রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটি সদস্য সচিব টিপু মুনশি এমপির সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ড. মসিউর রহমান। বিভাগীয় সেমিনারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির  মো. রাজীব পারভেজ। ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রংপুর বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন।
সেমিনারে রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, দ্রুত গ্যাস সংযোগ, স্বল্প মূল্যে বিদ্যুৎ, ফার্নেস অয়েলে ভর্তুকি, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা শিল্প, কর, ভ্যাট, শুল্ক ও ঋণনীতি ঘোষণা, ট্যাক্স হলিডের মেয়াদ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য রিসার্চ সেন্টার স্থাপন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া-রংপুর হাইওয়ের পাশ দিয়ে রেললাইন নির্মাণ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধাসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন, জ্ঞানভিত্তিক শিল্প প্রসারের উদ্যোগ, কুড়িগ্রাম-ফুলছড়ি-জামালপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণ, আন্তঃনগর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক রংপুর অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার প্রচলন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগে জনসংখ্যার অনুপাতে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত স্থাপন, রংপুর বিভাগ থেকে দ্রুতগতির ইলেক্ট্রনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুকরণ, রংপুর বিভাগের উন্নয়নের স্বার্থে নর্থবেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি গঠন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুকরণ, বেনাপোল স্থলবন্দরের ন্যায় রংপুর বিভাগে অবস্থিত সকল স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রংপুর অঞ্চলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কম্প্রিহেনসিভ ইনভেস্টমেন্ট পলিসি গ্রহণ, প্রতি জেলায় স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য বিশেষ স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং পণ্যভিত্তিক শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি তুলে ধরেন রংপুর অঞ্চলের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাবৃন্দ।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এবং নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কাশেম, এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, হারাগাছ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও রংপুর চেম্বারের পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ মামুন, রংপুর চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন, অ্যাডভোকেট ইন্দ্র নাথ রায়, রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদ বাবু, সাংবাদিক রফিক সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ম-ল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার লক্ষ্যে আজকের এই সেমিনারের আয়োজন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতে রংপুর অঞ্চলকে সম্পৃক্ত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। কেননা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসন একান্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সেমিনারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে যেসব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে তা নিরসনের ব্যাপারে তিনি সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরবেন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, রংপুর বিভাগের আট জেলার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-পরিচালকবৃন্দ, সুধীজন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

রাজশাহী বিভাগ
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও চাহিদা নিয়ে রাজশাহীতে ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত গত হয় ৯ আগস্ট। দিনব্যাপী রাজশাহী চেম্বার ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা প্রয়োজন। এটি ছাড়া রাজশাহীর উন্নয়ন হবে না। তাই এ ব্যাপারে সরকারকেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। উত্তরাঞ্চল বরাবরই বঞ্চনার শিকার। রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাবে এ অঞ্চল পিছিয়ে গেছে। নানা দাবি নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এসবের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশও এখন হুমকির মুখে। গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা। সৃষ্টি হয়নি কর্মসংস্থান। অথচ ভিন্ন চিত্র দক্ষিণাঞ্চলে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভাগগুলোতে উন্নয়নের এমন তফাৎ থাকলে সেটাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। সুষমভাবে সব বিভাগের উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নয়ন হবে। শরীরের একটা অঙ্গ রোগাক্রান্ত থাকলে যেমন সুস্থ থাকা যায় না, তেমনি দেশের একটা অংশকে পেছনে ফেলে দিয়ে ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই রাজশাহীকেও উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা।
সেমিনারের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সরকার সুষমভাবে দেশের সব স্থানের উন্নয়ন করতে চায়। রাজশাহীর ব্যাপারেও সরকার খুব আন্তরিক। এই সেমিনার থেকে উঠে আসা এ অঞ্চলের নানা সমস্যা ও দাবির কথা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের কোনো অঞ্চলই পিছিয়ে থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন সাধিত করা সম্ভব। ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ লক্ষ্য রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে তা কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের রোডম্যাপে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
বিভাগীয় সেমিনারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সাইফুল্লাহ আল মামুন ও মো. রাজীব পারভেজ। ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রাজশাহী বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ কবীর লিখন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক টিপু মুনশি এমপির সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অপার সম্ভাবনার এলাকা রাজশাহী অঞ্চল। দেশের খাদ্য চাহিদার বড় একটি অংশ জোগান দেয় এই অঞ্চল। এ অঞ্চলের কৃষজ পণ্যের পেছনে আমাদের এলাকার নারীদের যে অবদান তা খাটো করে দেখার অবকাশ নাই। তারপরও এই নারীরাই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবের কারণে কর্মতৎপরতা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের এলাকায় কৃষিপণ্য মজুদের কোনো পর্যাপ্ত ও আধুনিক ব্যবস্থা নেই। কৃষিভিত্তিক শিল্প নেই। নেই গার্মেন্ট শিল্প। ঈশ্বরদীতে একটি মাত্র ইপিজেড রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একসময় রেশম শিল্প ছিল জগৎ বিখ্যাত। সেই রেশম কারখানা আজ বন্ধ, সরকারের উদ্যোগে মাত্র কয়েকদিন আগে তা আংশিক চালু হয়েছে। সরকার আম রপ্তানিতে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি আর এই অঞ্চলে ক্রেতার অভাবে আম নষ্ট হয়েছে। কৃষক এবার আম রাস্তায় ফেলে গেছে। আমাদের এখনই প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের কৃষজ পণ্য প্রসেসিং জোন করে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যাতে কর্মসংস্থানের অভাব মেটে। একসময় কৃষক লাক্ষা চাষে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিল, এই অঞ্চলেই খয়ের উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তার মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিবছর কাজের সন্ধানে নারী-পুরুষ সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। এর মধ্যে কেউ নিরাপদভাবে কেউবা আবার অনিরাপদ প্রক্রিয়ায়। অঞ্চলভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এ প্রবণতা হ্রাস পাবে। কৃষি পণ্য সংরক্ষণাগার, কৃষজ পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা যেমন নিতে হবে তেমনি এই এলাকায় চামড়া, মৎস্যভিত্তিক ইত্যাদি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোপরি জেলাভিত্তিক মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। রাজশাহী থেকে আবদুলপুর ডুয়েল রেললাইন, নদী ড্রেজিং করে খুলনার সাথে নৌপথ চালু, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে কার্গো বিমানের ব্যবস্থা করা, ভারতের মালদার সাথে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করে রপ্তানি বাড়ানো, সার কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন বক্তারা।

Category:

বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা, শক্তি এবং সাহসের উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা

বঙ্গমাতাকে প্রধানমন্ত্রী স্বামী-সংসার অন্তঃপ্রাণ বাঙালি নারী এবং শোষিত-নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তির চেতনায় জাগিয়ে তোলার সংগ্রামে স্বামীর পাশে থাকা সহযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জেলখানায় দেখা করতে গেলে আব্বা তার মাধ্যমেই দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর পেতেন।

uttaran

বেগম মুুজিবের জন্মদিনের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনসহ জাতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বঙ্গমাতার পরামর্শ জাতির পিতাকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্য প্রেরণা, শক্তি এবং সাহসের এক উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা। স্বামীর সকল সিদ্ধান্তে মনস্তাত্ত্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফলতার পেছনে শেখ ফজিলাতুন্নেছার অবদান ছিল। জাতির পিতা আমার মায়ের মতো একটা সাথী পেয়েছিলেন বলেই সংগ্রাম করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছিলেন। কারণ যে কোনো ক্রাইসিসে বঙ্গমাতার সিদ্ধান্ত দেয়ার অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল।
গত ৮ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতা সম্পর্কে আরও বলেন, বঙ্গমাতার সম্পর্কে মানুষ খুব সামান্যই জানে। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও প্রচারবিমুখ ছিলেন। তাই বঙ্গমাতার অবদান লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, বেগম মুজিব খুব অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারান। আমার দাদা-দাদির কাছে বেড়ে ওঠার সময় অল্প বয়সেই তার মধ্যে সাহস, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা গড়ে উঠেছিল।
বঙ্গমাতাকে প্রধানমন্ত্রী স্বামী-সংসার অন্তঃপ্রাণ বাঙালি নারী এবং শোষিত-নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তির চেতনায় জাগিয়ে তোলার সংগ্রামে স্বামীর পাশে থাকা সহযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জেলখানায় দেখা করতে গেলে আব্বা তার মাধ্যমেই দলীয় নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর পেতেন। আব্বার দিক-নির্দেশনা আম্মা নেতা-কর্মীদের পৌঁছে দিতেন। আব্বা কারাবন্দি থাকলে সংসারের পাশাপাশি সংগঠন চালানোর অর্থও আমার মা জোগাড় করতেন।
বাবার (বঙ্গবন্ধু) কোনো কাজেই মা প্রতিবন্ধক নয় বরং সহায়ক ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা চাইলে স্বামীকে সংসারের চার দেয়ালে আবদ্ধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কখনও ব্যক্তিগত-পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে তাকান নি। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করে এ সময় আক্ষেপের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবাকে কখনও টানা দু-বছরও আমাদের মাঝে পাইনি। আমার মা এবং বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একে অপরের পরিপূরক ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনের একটি বড় সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার অবর্তমানে একদিকে যেমন সংসারের দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনাসহ প্রতিটি কাজে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন শুরুর পর দেশমাতৃকার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতার সহযোদ্ধা বেগম মুজিবের রাজনৈতিক দূরদর্শিতারও কিছু উপাখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বেগম মুজিবের একটি সিদ্ধান্ত বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে যায় পাক-সামরিক সরকার। ছয় মাস পর্যন্ত তার কোনো হদিস ছিল না, আমরা জানতেও পারিনি তিনি বেঁচে আছেন কি না। এরপরে কোর্টেই বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখার সুযোগ হয়। তখন পাকিস্তান সরকার আম্মাকে ভয় দেখান, বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তি না নিলে তিনি বিধবা হবেন। আম্মা সোজা বলে দিলেন, কোনো প্যারোলে মুক্তি হবে না। নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কোনো মুক্তি হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মায়ের সিদ্ধান্তের কথা কোর্টে যখন বঙ্গবন্ধুকে জানালাম তখন অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকেও দেখেছি তারা বলেছেন, তুমি কেমন মেয়ে? বাবার মুক্তি চাও না? আম্মাকে বলেছেÑ ভাবী আপনি কিন্তু বিধবা হবেন।’ তিনি বলেন, আমার মা তখন কঠিন স্বরেই বলেছেন, প্যারোলে মুক্তি নিলে মামলার আর ৩৩ জন আসামির কী হবে? বঙ্গবন্ধু প্যারোলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। গণ-অভ্যুত্থানে পাকিস্তান সরকার আব্বাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এর আগে, ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা করে জনমত সৃষ্টির জন্য সারাদেশে জনসভা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আটবার গ্রেফতার হন। তখন কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার ৬-দফাকে ৮-দফায় রূপান্তরের চেষ্টা বেগম মুজিবের জন্য ভেস্তে যায়। ৬-দফা আন্দোলনের সময় সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারাবন্দিদের মুক্তির জন্য ৭ জুনের হরতাল সফল করা, সেটাও সফল হয়েছিল বেগম মুজিবের প্রচেষ্টায়। তিনি নিজ বাসা থেকে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেখান থেকে স্যান্ডেল আর বোরখা পরে জনসংযোগে বেরিয়ে পড়তেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বেগম মুজিব পুলিশ ও গোয়েন্দা চক্ষুর আড়ালে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। বিচক্ষণতার সঙ্গে ছাত্রদের তিনি নির্দেশনা দিতেন এবং অর্থ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেন। এমনকি নিজের গহনা বিক্রি করেও অর্থ জুগিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের স্পেশাল ব্রাঞ্চের রিপোর্ট নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি ১৪ খ-ের প্রকাশনা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এসবি’র ৪৭টি ফাইল পাওয়া গেলেও বেগম মুজিবের গোপন তৎপরতা নিয়ে কোথাও কোনো রিপোর্ট নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম মুজিব প্রকৃতই একজন গেরিলা ছিলেন।
ইউনেস্কো কর্তৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই দিন নানা জনে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। আম্মা তখন তাকে একটি ঘরে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে মোড়া টেনে মাথার কাছে বসে বঙ্গবন্ধুকে কিছুক্ষণ চোখটা বন্ধ করে রাখতে বললেন। তারপর আম্মা বললেন, ‘তোমার যা মনে আসে তাই তুমি বলবে। তুমি রাজনীতি করেছ, কষ্ট সহ্য করেছ, তুমি জান কি বলতে হবে। কারও কথা শোনার দরকার নাই।’ তিনি সেদিন এ ভাষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘এই লাখো জনতা যেন হতাশ হয়ে না যায়। আবার পাকিস্তানিরা যেন গোলাগুলি করে এদের শেষ করে দিতে না পারে।’ বঙ্গবন্ধুকে বেগম মুজিব যখন এই পরামর্শ দেন তখন সেই ঘরে শেখ হাসিনাই কেবল সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলেও বঙ্গবন্ধু-কন্যা জানান।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস আম্মার যে মনোবল দেখেছি, তা ছিল কল্পনাতীত। স্বামীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গেছে। দুই ছেলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। তিন সন্তানসহ তিনি গৃহবন্দি। যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন কিন্তু আম্মা মনোবল হারান নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ‘মা’ নিজের জন্য কখনও কিছু চাননি। অথচ সারাজীবন এই দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি এ দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। আব্বার সঙ্গে থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেনÑ এদেশের মানুষ ভালো থাকবে, সুখে-শান্তিতে বাস করবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাবার পাশে থেকে সে স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করেছেন। তার মায়ের আত্মত্যাগ বাবাকে এগিয়ে নিয়েছে বলেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছেন। কাজেই এ স্বাধীনতায় তার মায়ের অবদান অবিস্মরণীয়Ñ বলেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দলের কাজকর্ম, আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতেন মা। মা-বাবা কখনও আমাদের অভাব বুঝতে দেননি। কৌশলে সেসব অভাব মেটাতেন আর আমাদের ভিন্নভাবে বোঝাতেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বা বারবার কারাগারে যাবার ফলে এমনও দিন গেছে যে বাজার করতে পারেন নি। আমাদের বলেন নি, আমার টাকা নাই। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে আচার দিয়ে বলতেন, চলো আমরা আজ খিচুড়ি খাব। তিনি বলেন, বাবা জেলে, সংসার ও সংগঠনের জন্য টাকার জোগাড় করতে গিয়ে মা বাড়ির ফ্রিজটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছেন অথচ বললেন, ঠা-া পানি খাওয়া ভালো নয়। শরীর খারাপ হতে পারে। কাজেই এর আর দরকার নেই। কারাগারে বঙ্গবন্ধুর কাছে দেশের অবস্থা বর্ণনা, সংগঠনের অবস্থা অবহিত করা এবং বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে এসে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে তা হুবহু পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অসাধারণ স্মরণ শক্তির অধিকারী বেগম মুজিবকে ‘জীবন্ত টেপ রেকর্ডার’ বলেও এ সময় শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব ভালো ছিল। বাবাকে কোনো পরামর্শ দিতে হলে আমিই চলে যেতাম মা’র মিশন নিয়ে। বাবা ভিড়ের মধ্যেও আমাকে একবার দেখলেই বুঝতে পারতেন ‘জরুরি কোনো মেসেজ আছে’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গমাতাই বোধহয় সবচেয়ে আগে জানতেন, এই দেশ একদিন স্বাধীন হবে। স্কুল-কলেজের প্রথাগত শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও বেগম মুজিব স্বশিক্ষিত ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আম্মার উৎসাহেই জাতির পিতা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লিখেছিলেন এবং জাতির পিতার ডায়েরিগুলো বঙ্গমাতাই সংরক্ষণ করে রাখেন, যা পরবর্তীতে পুস্তকাকারে প্রকাশ হয়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গমাতার অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনোদিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকতে চাননি, যদি ছেলে-মেয়েদের চোখ উপরে উঠে যায়। বঙ্গমাতা বিলাসিতাকে কখনও প্রশ্রয় দেন নি। ছেলে-মেয়েদের সেই আদর্শেই গড়ে তোলেন। আব্বা পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কিন্তু আমাদের মধ্যে বিত্ত-বিলাসিতার মোহ কখনও তৈরি হয়নি। আমার মায়ের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বাবার আকাক্সক্ষা ছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Category:

কবিতা

32(C) copy33(C) copy

Category:

ফেসবুকে নিষিদ্ধ মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

উত্তরণ ডেস্ক: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংসহ দেশটির সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফেসবুকে।
রাখাইনে গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতায় এসব সেনা কর্মকর্তার ভূমিকার বিষয়টি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে আসার পর তাদের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে ফেসবুক। আর এটাই প্রথমবারের মতো ফেসবুক কোনো দেশের সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিষিদ্ধ করল।
গত ২৯ আগস্ট বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ফেসবুকই সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যার ব্যবহারকারী রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৮টি অ্যাকাউন্ট ও ৫২টি পেজ সরিয়ে ফেলেছে ফেসবুক। অথচ এদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী মনে করেন ফেসবুক মানেই ইন্টারনেট। এটাই ঘৃণা ছড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেখানে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ছয় সামরিক কর্মকর্তার নাম উঠে আসে আর এ ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংসহ। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে গত বছর বলা হয়েছিল, তারা অন্তত ১ হাজার পোস্ট, কমেন্টস ও ছবি পেয়েছে ফেসবুকে যেখানে রোহিঙ্গা ও মুসলিমদের আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি বিবিসির ফেসবুক পোস্টগুলোতেও অনেকে রোহিঙ্গাবিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য করেছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হদ্মায়িংয়ের দুটি অ্যাকাউন্ট ছিল ফেসবুকে। এএফপি বলছে, একটি অ্যাকাউন্টে অনুসারী ছিল ১৩ লাখ আর অন্যটিতে ২৮ লাখ।
মিয়ানমারের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেনাপ্রধান খুবই প্রভাবশালী। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি রোহিঙ্গাদের, ‘বাঙালি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে রোহিঙ্গা শব্দটি একটি বানানো শব্দ।
ফেসবুক বলছে নিষিদ্ধ অন্য পেজগুলোর মতো সেনাপ্রধানের পেজও জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনাকে উসকে দিয়েছে।
২০১৪ সালেই মিয়ানমারে ঘৃণা ছড়ানোর কাজে ফেসবুক ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বছর মার্চেই জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তার মুখেও বিষয়টি উঠে আসে।
জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে ফেসবুকের ব্যবস্থা নেয়ার গতি ধীর ও অকার্যকর। এতে বৈষম্য ও সহিংসতায় ফেসবুক পোস্ট ও ম্যাসেজ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে তার স্বাধীন ও বিস্তারিত তদন্তের কথাও বলা হয়েছে।

Category:

জনগণের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

uttaranউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করে, ভোটের জন্য নয়। ভোট দেয়া-না দেয়া জনগণের অধিকার। মানুষের সেবা করাটাই আমাদের কাজ। ক্ষমতা আমাদের কাছে কোনো ভোগবিলাসের বস্তু নয়। ক্ষমতা হচ্ছে দায়িত্ব পালন। কাজেই এ দায়িত্বটাই পালন করতে চাই। জাতির পিতা সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। আমি সবসময় এটা মনে রাখি, আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই জনগণের সেবা করাটাই হচ্ছে আমার প্রথম কর্তব্য। আজীবন মানুষের সেবা করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত ২৯ আগস্ট গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী আট জেলার ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসেবা করব, জনগণকে একটু সুখ শান্তি দেব, তাদের রোগে চিকিৎসা দেব, তাদের একটু উন্নত জীবন দেব, তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবÑ এটা তো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমাদের অঙ্গীকার। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি, ক্ষমতায় আসলো বিএনপি-জামাত জোট। কি অদ্ভুত চরিত্র বিএনপি-জামাত জোট ২০০১ সালের পর ক্ষমতায় এসেই এই হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু এই একটা অজুহাতে যে এই ক্লিনিকে যারা কাজ করবে এবং যারা স্বাস্থ্যসেবা পাবে, তারা সব নৌকায় ভোট দেবে। তাই তারা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার। এ জন্যই জাতির পিতা স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে প্রতিগ্রামে অন্তত ১০ শয্যার একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এই স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কমিউনিটি ভিশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর আওতায় হতদরিদ্র রোগীদের চক্ষু চিকিৎসার জন্য ২০ কোটি টাকার একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনেরও ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা থেকে যে লাভ আসবে তা দিয়ে সারাদেশের দরিদ্র জনগণের চোখের চিকিৎসা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের চোখে ছানি পড়া, গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক চক্ষু রোগী, রেটিনোপ্যাথি, কিশোর চক্ষু রোগ, চোখের আঘাতসহ অন্যান্য চক্ষু রোগ শনাক্ত করা এবং এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া হবে এসব সেন্টারে। এরপর আরও উন্নত সেবার জন্য তারা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে। এ-সময় প্রধানমন্ত্রী চক্ষু রোগে আক্রান্তদের সচেতনতা ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী চক্ষু চিকিৎসকসহ এ সেবায় জড়িতদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়ে এসেছি অন্ধজনে দাও আলো। এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। একজন মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে, সে তার আপনজনকে দেখবে, এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখবে, এটা অনেক বড় মানবতার কাজ।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবসময় মনে রাখি যে আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই জনগণের সেবা করাটাই আমার প্রথম কর্তব্য। মানুষের সেবা করাটাকে আমি কর্তব্য হিসেবে নেই। নতুন নতুন যেসব হাসপাতাল হচ্ছে সেগুলোতে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নার্স আছে। তারা ভালো মানের সেবা দিতে পারছে। হাসপাতালের পাশাপাশি আরও ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ নার্স তৈরির কাজ চলছে। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য এখন বিদেশ থেকে নার্স এবং ডাক্তারদের ট্রেনিং দিয়ে আনা হচ্ছে। প্রতি জেলা-উপজেলায় আরও মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। অনেক ডাক্তার-নার্সকে বিদেশ থেকে ট্রেনিং দিয়ে এনেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মানও বেড়েছে। চোখ, গলা, নাক ও কানসহ দেহের প্রতি অঙ্গের বিষয়ে দেশে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। এ-সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চান যেন, আগামী দিনে দেশের মানুষের সেবা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ২০ উপজেলার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এবং ভারতের মুম্বাইয়ের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান আর.ডি. রবীন্দ্রান, গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জ থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
গণভবনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচির আওতায় গ্রাম বাংলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ন্যাশনাল আই কেয়ার যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এর অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে এই চক্ষু হাসপাতাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ২০ উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। অরবিন্দ আই কেয়ার সিস্টেম ভারত থেকে সরবরাহকৃত আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারগুলোতে চক্ষু চিকিৎসা পাবে জনগণ। কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপিত ২০ উপজেলা হচ্ছেÑ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কোটালিপাড়া, কাশিয়ানী এবং মকসুদপুর, বাগেরহাটের ফকিরহাট, নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া, মোল্লারহাট, চিতলমারি, রামপাল, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, সদরপুর, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারি, খুলনার রূপসা, দিঘলিয়া, তেরোখাদা, মাদারীপুরের রাজৈর, পিরোজপুরের নাজিরপুর ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ।

Category:

বিএনপি ভোট পাওয়ার সকল যোগ্যতা খুইয়েছে

uttaranমুহম্মদ শফিকুর রহমান: অল্পদিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন। আশা করা যায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হবে। সবচে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ১৯৯৬-২০০১ পাঁচ বছর এবং ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি রাষ্ট্র পরিচালনাকালে সকল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সূচকে দেশকে বদলে দিয়েছেন কেবল তা নয়, বঙ্গবন্ধুর মতো “সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না” এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামী নির্বাচনেও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের নেতৃত্ব দেবেন। পক্ষান্তরে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি দুর্নীতিপরায়ণ এবং সাজাপ্রাপ্ত নেতৃত্ব নিয়ে নির্বাচনে যাবে কি যাবে না এখনও বোঝা যাচ্ছে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও মহাজোট নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা যেখানে বিশ্বের অল্প ক’জন সৎ সাহসী ও মেধাবী রাষ্ট্রনেতার অন্যতম, যিনি “Mother of Humanity”, “Champions of the Earth” এমনি অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ অভিধায় সিক্ত সেখানে বিএনপি তথা স্বাধীনতা-বিরোধী জামাত-শিবির-মুসলিম লীগের ২০-দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দ-িত হয়ে কারাভোগ করছেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি (১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল) দেশটাকেই সন্ত্রাস ও লুটপাটের আখড়া বানিয়েছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পতন কাশিমবাজার কুঠি ‘হাওয়া ভবনের’ প্রতিষ্ঠাতা জিয়া-খালেদার পুত্র তারেক রহমানও দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। শোনা যায়, লন্ডনের একটি অভিজাত এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। প্যালোসিয়াল বাড়ি, দামি গাড়ি, সিকিউরিটি, কর্মচারী নিয়ে ব্যয়বহুল জীবনযাপন তার। লেখাপড়ার দিক দিয়ে অর্ধশিক্ষিত, মায়ের মতো সশিক্ষিতের একটু ওপরে নয়, তারপরও মাঝেমধ্যে টিভি পর্দায় গলাবাজি করায় জাতিকে সবক দেবার চেষ্টা করেন, তাকেই খালেদা জিয়ার অলটারনেটিভ ভাবা হচ্ছে। তারেক রহমানের ব্যয়বহুল জীবনযাপনের অর্থ কোত্থেকে আসে তা একটি রহস্য। তবে তারা মাতাপুত্র দুজনই দুর্নীতির দায়ে সাজাভোগ করছেন। একবার শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া ১৪৮টি, মতান্তরে আরও অধিক, সুটকেস নিয়ে হজ করতে যান। সুটকেসগুলোতে কি ছিল তা আজও রহস্যাবৃত। অল্পদিনের জন্য গিয়েছে, নিশ্চয়ই কেবল পরিধেয় বস্ত্র ও অন্যায় প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য নিয়ে গেছেন। তাহলে কি ছিল সুটকেসগুলোতে। কাস্টমস কিংবা ইমিগ্রেশন জানেন কি না জানি না, তবে বাজারে অনেক মুখরোচক গল্প আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তাদের গণমুখী রাজনীতি ও অর্থনীতির অভূতপূর্ণ অগ্রগতি পুঁজি করে ভোট চাইতে নামবেন। সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো দুর্বল অসম প্রতিপক্ষ। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার কাল বিশ্লেষণ করলে যা উঠে আসে তা হলো :
১.    বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ব্যবস্থা করেন;
২.    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেন;
৩.    বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থে দেশের সবচে’ বড় সেতু ‘পদ্মাসেতু’ নির্মাণ করে চলেছেন। এরই মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ হয়েছে। কাজ এগিয়ে চলেছে;
৪.    ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ সার্থকভাবে সম্পন্ন করেছেন;
৫.    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশে বাংলাদেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন;
৬.    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে;
৭.    নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লাট নির্মাণ করছেন;
৮.    এ মুহূর্তে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮ হাজার মেগাওয়াট;
৯.    কর্ণফুলি টানেলের নির্মাণকাজ চলছে;
১০.    পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ;
১১.    রাজধানী ঢাকায় একটার পর একটা ফ্লাইওভার নির্মাণ;
১২.    ঢাকার রাস্তায় মেট্রোরেল-এর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে;
১৩.    পদ্মার ওপারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন;
১৪.    জেলায় জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল;
১৫.    হাইওয়েগুলো চার-লেন থেকে আট-লেনে উন্নীত করা হচ্ছে;
১৬.    আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বছরে উৎপাদন ৪ কোটি টন খাদ্য;
১৭.    মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ তৃতীয়;
১৮.    ইলিশ উৎপাদনে প্রথম;
১৯.    সবজি উৎপাদন চতুর্থ;
২০.    এখন বাংলাদেশে সবরকম ফল উৎপাদন হচ্ছেÑ আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা বিশ্বকে তাক লাগানোর মতো গবেষণা করে চলেছেন;
২১.    এখন শিক্ষার হার ৭২ শতাংশ;
২২.    গড় আয়ু ৭১ বছর;
২৩.    বছরে পাঁচ মাস পশ্চাদপদ এলাকাসমূহে ১০ টাকা সের দরে চাল বিক্রয়;
২৪.    এখন মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৬২ মার্কিন ডলার;
২৫.    বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার;
২৬.    জিডিপি ৭.৬৮ শতাংশ;
২৭.    মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে;
২৮.    এর মধ্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সবরকম সহযোগিতা দান;
২৯.    বাংলাদেশ নেভি’র জন্য যুদ্ধজাহাজ ক্রয়;
৩০.    বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন;
৩১.    বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা;
৩২.    ভারতের সাথে বর্তার এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন;
৩৩. রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে বিশ্বের সমর্থন আদায়Ñ

এর জন্যই শেখ হাসিনা বিশ্বের অল্প ক’জন সফল এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার অন্যতম এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল পর্যায়ে বিশ্বের রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শেখ হাসিনার জীবনের ওপর ২০ বার আক্রমণ হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে রক্ষা করেছেন এবং জাতির নেতৃত্ব দেবার শক্তি দিয়েছেন।
বিশ্বের বড় বড় দেশের রাষ্ট্র ও প্রধান বাংলাদেশের অগ্রগতির দেখে প্রশ্ন করেনÑ
প্রশ্ন : আপনার ম্যাজিকটা কী?
শেখ হাসিনা : কোনো ম্যাজিক নেই। আমরা একটা আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। সে আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যা আমাদের জাতির পিতা স্বাধীন জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন।
এ লেখা যখন লিখছি তখন প্রেসক্লাবে তাদের একটা সমাবেশ চলছিল। সমাবেশ না বলে টেবিল বৈঠক বলাই শ্রেয়। কানে এলো এক বড় নেতা বলছেন, আওয়ামী লীগ জানে নির্বাচন এলে তাদের ভরাডুবি হবে, তাই দলটি সরকারকে দিয়ে দেশব্যাপী নির্যাতন চালাচ্ছে। গণতন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। কথাটা যে মিথ্যা তা তারা নিজেরাও জানে, তবু বলছে। সেই কবে কোন এক মিথ্যুক বলেছিল, ‘একটা মিথ্যাকে বারবার বলতে থাকলে তা সত্য-এ পরিণত হয়।’ বিএনপি নেতারা জানেন না সময়টা অনেক আগে পার হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি জেনারেশন চলে গেছে এবং আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্যাটেলাইট যুগে বসবাস করছি। হাঁটছি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মহাসড়কে। সামনে উন্নত বাংলাদেশ-এর সিঁড়ি। শিক্ষার হার এখন ৭২ শতাংশ। এখনকার জেনারেশনকে বোকা বানানো অত সহজ নয়। বানানো যাবে না। মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ফটোব্যবসায়ী শহীদুল আলমকে নামানো হয়েছিল। সফল হয়নি।
দলটির জন্মই মিথ্যের ওপর। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে একজন আর্মি অফিসার হিসেবে জিয়াকে দিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানো হয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা জহুর হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এবিএম মহিউদ্দিন, আবদুল হান্নান প্রমুখ তাকে দিয়ে এ ঘোষণা পাঠ করান। অথচ জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বানিয়ে বিএনপি গঠন করা হলো। জন্মটাই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দ্বিতীয় মিথ্যাÑ যিনি মেট্রিক পাস করতে পারেন নি তাকে বানালেন দলের ‘চেয়ারপারসন’, ডাকছেন ‘ম্যাডাম’ বলে। কাকের গায়ে ময়ূরপুচ্ছ লাগানো হলো দুটি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে।
তৃতীয় মিথ্যাÑ কোনোরকমে মেট্রিক পাস তারেক রহমানকে বাঘা বাঘা নেতাদের ‘ভাইয়া’ ডাকা। নিশ্চয়ই ভয়ে।
চতুর্থ মিথ্যেÑ যত উন্নয়ন হয়েছে সব করেছে বিএনপি। যদি প্রশ্ন করা হয় একটি দৃশ্যমান উদাহরণ দিন। দিতে পারেন না।
পঞ্চম মিথ্যেÑ জন্ম মিলিটারি ছাতার নিচে। দাবি করে বহুমত পথ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার।
ষষ্ঠ মিথ্যাÑ খালেদা জিয়ার একাধিক জন্ম তারিখ। এমনকি বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে তার বানোয়াট জন্ম তারিখ বানিয়ে কেক কাটেন।
নির্বাচন এলে বিএনপি অংশ নেয় না, গণতন্ত্রের কথা বলে/নির্বাচন প্রতিরোধ করতে আগুন সন্ত্রাসী রাজপথে নামায়/পেট্রলবোমা মেরে বাস-ট্রেনযাত্রী, রিকশা-ভ্যানযাত্রী হত্যা করে, কর্তব্যরত পুলিশ হত্যা করে, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা করে, নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয় জ্বালিয়ে ছাই করে। পেট্রলবোমা মেরে গরু পুড়িয়ে ছাই করে/সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট না দেয়, দেশত্যাগ করে, সেজন্য তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়/দেশ অচল করার টার্গেট নিয়ে গাছ কেটে রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি/মানুষ যাতে ভোটকেন্দ্রে না যায় ভোটদানে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে ভয়ভীতি প্রচার-প্রচারণা চালায়/শাপলা চত্বরে বিরাট সমাবেশ ও গোটা মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করা। এমনকি বায়তুল মোকাররম বই মার্কেট (বেশিরভাগই ধর্মীয় গ্রন্থাদি) পুড়িয়ে দেওয়া হয়/স্বপ্ন ছিল বঙ্গভবন দখলের উদ্দেশ্যে রাতভর শাপলা চত্বরে রাত কাটিয়ে কাকডাকা ভোরে অভিযান শুরু করবে/‘একই মায়ের পেটের দুই সহোদর ছাত্রদল-ছাত্রশিবির’ নামিয়ে উল্লিখিত নাশকতা চালানো হয়। খালেদা জিয়া রাজপথে না নামলেও জঙ্গিগোষ্ঠী ছাত্রদল-শিবিরের ছদ্মবেশে তারই নির্দেশে নাশকতা চালায়/বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে এনেও কান্নাকাটি করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দেশরতœ শেখ হাসিনার সমাবেশে লাগাতার গ্রেনেড গুলি হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের গোটা নেতৃত্বকে নিশ্চিন্ন করার চক্রান্ত, যাতে শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলেও তার এক কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকশ। কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকার প্রথম সরাসরি নির্বাচিত মেয়র মুহম্মদ হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক, শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রেনেডের স্পিøন্টার নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস চত্বর ছিল রক্তের বন্যা। যাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছিল এবং যারা এখনও বেঁচে আছেন, কী যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন সে কেবল তারাই জানেন। তখন ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া, বিচার করা তো দূরের কথা বরং পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটনা (?)’ এমনই মিথ্যের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ম্যাডাম।
২০০১-এর নির্বাচনে কারচুপি করে (১ কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট) নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে দেশব্যাপী অত্যাচার-নির্যাতন এমন মাত্রায় চালিয়েছিল যে, সংখ্যালঘুদের ওপর তো বটেই, নৌকায় ভোট দেওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, পুকুরের মাছÑ গোয়ালের গরুÑ বনের গাছ-গাছালি লুট, নারী নির্যাতন, কী অত্যাচার না করেছিল। যা বর্ণনারও অতীত। চোখ তুলে ফেলা হয়েছে, হাতের কবজি কেটে ফেলা হয়েছে, কী ভয়ঙ্কর ছিল সেগুলো। যা পাকিস্তানি বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। তারপরও বাংলার মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেনি খালেদা জিয়া। বরং শেখ হাসিনার টার্গেট অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে এবং গত সাড়ে চার বছরের অধিককাল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তথা জাতি-রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন, যা বিশ্বব্যাপী ঈষর্ণীয় এবং রোলমডেল। ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়, বাসস্থান, অন্ন-বস্ত্র দিয়ে এক মানবিক বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী উপহার দিয়েছেন। তিনি আজ মা, Mother of Humanity, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত কিংবা সর্বজন শ্রদ্ধেয় কবি বেগম সুফিয়া কামালের উত্তরসূরি হিসেবে এক এবং অদ্বিতীয়। কেবল যে মেধাবী তা নয়, এখনও রাত জেগে পড়েন। পোশাক-আশাকে, কথাবার্তা, আচার-আচরণে, ধর্মাচারে একেবারেই বঙ্গনারী, ধার্মিক সেকুলার মুসলিম। তার প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা বিএনপির অলীক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। লেখাপড়া ছাড়া ব্যবসা করা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়তে হলে অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থাকতে হবে। যে কারণে দেখা যায় খালেদা জিয়ার পরিবার ব্যবসা করতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিলেন এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো, দুর্নীতির দায়ে সাজাও হলো। লেখাপড়া জানলে তিনিও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে অন্তত একটা হলেও মনে রাখার মতো উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারতেন। কথাবার্তা বলতেও সাবধান হতে পারতেন। বস্তুত ভদ্রমহিলা জ্ঞানের দীনতার কারণেই অনেক সময় অসংলগ্ন কথা বলে ফেলেন, যেমনÑ ২০০১-এর ইলেকশনের আগে বললেন : আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে/মসজিদে আজান হবে না, উলুধ্বনি হবে/মসজিদে তালা ঝুলবে/আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে টুপি মাথায় দেওয়া যাবে না। এসব ডাহা মিথ্যা জনগণ ধরে ফেলেছে বলেই কাঁদলেও রাস্তায় নামে না।
খালেদা জিয়া আগে যেমন বহুবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেন নি, এবারও পারবেন না। হ্যাঁ, তবে একটা ব্যাপার ভালোই পারেন। এই তো ক’দিন আগে হাইকোর্টের পাশে প্রিজনভ্যান থেকে তাদের তিনজন আটক নেতাকর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল তার জঙ্গিকর্মীরা। যেভাবে ২০১৩-১৪ সালে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছিল। এবারও দেখলাম একইভাবে ফ্লাইয়িং কিক মারতে। তবে কি তিনি জঙ্গিদের আবার মাঠে নামালেন? কিন্তু ২০১৩ আর ২০১৮ এক নয়। এরই মধ্যে জামাত-শিবির-জঙ্গি ও জঙ্গি সঙ্গীদের শক্তি অনেক কমেছে, গত চার-পাঁচ বছরে প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা অনেক অনেক বেশি বেড়েছে। শিক্ষার দীনতার কারণে অনেক বেফাঁস কথা বলে ফেলেন। যেমনÑ
* জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, কেউ উঠবেন না, রিস্ক আছে। কিন্তু তিনি জানেন না নির্মাণশৈলীই হলো মেগা প্রজেক্টগুলো জোড়া দিয়েই হয়। একটা পার্টের সাথে আরেকটা পার্ট। কিন্তু তালি এলো কীভাবে? এটা হাস্যকর নয় কি? তবে পদ্মাসেতু দিয়ে চলাচল না করার তার আহ্বানের একটা পজিটিভ দিক আছে এবং তা হলো পদ্মাসেতু নির্মাণকাজ শেষ হতে হতে বিএনপি নামক দলটির মৃত্যু ঘটবে। তখন খালেদা জিয়া ‘নৌকা’য় চড়বেন।
সম্প্রতি তিনি আরেকটি কথা বলছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের অর্থ খরচ করে দুটি সাবমেরিন কিনে এনেছেন। উদ্বোধনের পর দুটিই ডুবে গেছে। তিনি জানেনই না, সাবমেরিন পানির নিচ দিয়ে চলে।
একটা ইংরেজি প্রবাদ শুনেছিলাম “You can be fool all the people for some time; some people for all time, but you can not be fool all the people for all the time” এই আলোকেই আজকের লেখার শিরোনাম করলাম। এর অর্থ মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। বিএনপি কতগুলো মিথ্যে বলে দেশের সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে চেয়েছিল। কিছু সময়ের জন্য কিছু মানুষকে বোকা বানাতে পেরেছিলও। সব জেনারেশনকে পারেনি। যেমন সাম্প্রতিককালে দেশে দুটি উল্লেখ করার মতো আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যখন দেখল বিএনপি এবং তাদের বুদ্ধি-ফড়িয়ারা পেছন থেকে ‘ফুঁ’ দিতে শুরু করেছে তখন তারা রাজপথ ছেড়েছে। সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিশ্বাস করেছে। কারও ‘ফুঁ’-তে নয়। একটি ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’, আরেকটি ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন’। আন্দোলন দুটির প্রথমটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং নিরাপদ সড়ক চাই একেবারেই শিশু-কিশোরদের আন্দোলন। প্রশ্ন হলো শিশু-কিশোররা যা বুঝতে পারে, পাকা চুল বা কালি মেরে ঢেকে রাখা বুড়ো-বুড়িরাও তা বুঝতে পারে না। কাজেই এটা পরিষ্কার যে, বিএনপি বা খালেদা ভোট চাইবার সকল যোগ্যতা খুইয়েছেন। একদিকে দুর্নীতির দায় অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা খালেদাকে বরং জনরোষে পড়তে হচ্ছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি মানুষও আজ না খেয়ে থাকে না, গ্রামে-শহরে প্রত্যেকটি মানুষ জুতো-স্যান্ডেল পরেন, হাতে হাতে মোবাইলÑ এই যন্ত্র দিয়ে শুধু যোগাযোগ নয়, ছাত্রবৃত্তির টাকাও মা’দের কাছে চলে যাচ্ছে, কেনাকাটা করছে, মানুষ এসব বিবেচনা করে, ভোট দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লেখক : সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
balisshafiq@gmail.com

Category: