Blog Archives

‘ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে’

11-6-2018 6-34-03 PMউত্তরণ ডেস্কঃ বিশ্বব্যাংকের নতুন ‘মানবপুঁজি সূচক’ বলছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে আছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। এই সূচকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো। বিশ্বব্যাংকের সদস্য ১৫৭ দেশের মধ্যে সবার পেছনে রয়েছে শাদ আর দক্ষিণ সুদান। শিশুদের আরও সম্ভাবনাময় করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এশিয়ার দেশগুলো। সূচকের শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকং।
গত ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে (মানবপুঁজি সূচক) বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন শহর বালিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রথমবারের মতো এ সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে, পরিণত বয়সে তাদের উৎপাদনশীলতা হবে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ। ধনী দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুরা বড় হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকা-ে যতটা সফল হবে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর শিশুরা ততটা হবে না। এজন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকরভাবে বিপুল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আজ যে কন্যাশিশুটি জন্ম নিচ্ছে, দেশের বিদ্যমান পুরো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ভোগ করে যখন সে বড় হবে, তখন তার উৎপাদনশীলতা হবে ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশের ছেলেশিশুদের তুলনায় কন্যাশিশুদের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা বেশি হবে। মেয়েশিশুদের উৎপাদনশীলতার সম্ভাবনা যেখানে ৪৯ শতাংশ, সেখানে ছেলেশিশুদের সম্ভাবনা ৪৭ শতাংশ।
বর্তমান সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা কোন দেশে কীভাবে বেঁচে থাকে, তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেমন, তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজকে জন্ম নেওয়া শিশু বড় হয়ে কতটা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হবেÑ প্রতিবেদনটিতে তার বিশ্নেষণ রয়েছে। কোনো দেশ তার শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করলে ওই দেশের স্কোর বা নম্বর ১ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর এক্ষেত্রে দশমিক ৪৮। অর্থাৎ শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ যে মানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থাকা দরকার, বাংলাদেশে তার অর্ধেকও নেই।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল দশমিক ৪৯ ও শ্রীলংকা দশমিক ৫৮ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে আছে। এছাড়া ভারত দশমিক ৪৪, পাকিস্তান দশমিক ৩৯ ও মিয়ানমার দশমিক ৪৭। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ চীনের স্কোর দশমিক ৬৭। ধনী দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর দশমিক ৮১। এরপর কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেনের স্কোর দশমিক ৮০। ফ্রান্স, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির স্কোর দশমিক ৭৫ থেকে দশমিক ৭৯-এর মধ্যে।
বালির ওয়েস্টিন হোটেলে গত ১১ অক্টোবর আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টিন লাগার্ডে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাতিরে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূল চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না। আমি আশা করছি, দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য আরও কার্যকরভাবে আরও বেশি অর্থ এ দুটি খাতে বিনিয়োগ করবে। তিনি আরও বলেন, সবার জন্যই প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে। বিশ্বে বাণিজ্য বিরোধ বাড়ছে, বাড়ছে পরিবেশ ঝুঁকি। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো সক্ষম করে বিভিন্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর হিউম্যান ক্যাপিটাল গড়ে তোলা সব দেশের জন্যই কঠিন কাজ। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টিন লাগার্ডেও মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশের শিশুদের ৩৬ শতাংশই শরীরের প্রতি যতœশীল নয়Ñ এ কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে শারীরিক দুর্বলতা ও অক্ষমতা নিয়ে তাদের সারাজীবন বেঁচে থাকতে হয়। বাংলাদেশে আজ যে শিশুটি জন্ম নিল, তার পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, ৩ শতাংশ শিশু পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। যে শিশুটি ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচল, ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ, ১৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন রোগে তাদের ১৩ শতাংশই মারা যায়।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, বিশ্বব্যাপী জন্ম নেওয়া শিশুদের ৫৬ শতাংশই উপযুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে তাদের অর্ধেক সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুরা সাড়ে ছয় বছর বয়সে স্কুলে যায় এবং স্কুল শিক্ষা (১১ ক্লাস পর্যন্ত) সম্পন্ন করতে ১৮ বছর লেগে যায়।

Category:

সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় নারীর ক্ষমতায়ন

11-6-2018 6-32-33 PMমফিদা আকবরঃ নারী এবং পুরুষ। উভয়েই মানুষ। কিন্তু আমাদের সমাজে নারীকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ একটি দেশ অথবা জাতির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই নারী। সেই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে যদি অবরুদ্ধ বা কর্মহীন রাখা হয় তাহলে কোনো দেশ বা জাতিই উন্নয়নশীল সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হতে পারে না। এ বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করে দেশ ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নারীকে কাজে লাগিয়ে যেমন মর্যাদা দিয়েছেন তেমনি সমতা এনেছেন নারী-পুরুষের জীবনে। তার সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তিনি আন্তর্জাতিক পরিম-লে রাষ্ট্র পরিচালনা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারীর অধিকার এবং ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫-এর পর সবই থমকে দাঁড়িয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যেসব কাজ শুরু করে শেষ করতে পারেন নি, ক্রমপর্যায়ে সেসব কাজই করছেন তারই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ১৯৯৬-এর আগে বাংলাদেশে কোনো নারী সচিব, ডিসি, এসপি, ইউএনও ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারী বলেই নয়, তিনি পিতার মতো সাহসী এবং প্রজ্ঞাবান নারী হিসেবে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন বিবেচনা করে পুরুষের পাশাপাশি নারীর মেধা-দক্ষতাকে সমানভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই বিবেচনা থেকেই আজ বাংলাদেশে নারী সচিব, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সে প্রথম নারী সদস্যদের আওয়ামী লীগ সরকারই নিয়োগ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, মহিলা বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের বিচারপতি হিসেবেও নারীদের নিয়োগ দেওয়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম নারী ভিসি নিয়োগ দিয়েছে এই সরকার।
নারী ও শিশুদের জন্য বর্তমান সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে এবং দৃশ্যমান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে, তা নিম্নরূপÑ
* বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী আজ স্বাবলম্বী হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে পেশাদারিত্ব কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মেধা-মননের বিকাশ ঘটাচ্ছে।
* নারী অধিকার সুরক্ষাসহ নারীকে দেশের সকল উন্নয়নের স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
* নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল বিশ্বে রোল মডেল। এর স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউএন উইমেন ‘প্লানেট ৫০:৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ প্রদান করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর ‘পিস ট্রি’ পুরস্কার পান। এবং এ বছর এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে-২০১৮ এ ভূষিত হন।
* এই সরকারের সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো নারী স্পিকার নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি সংসদ নেতা, উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নারীগণ দায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্ব সহকারে। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ মোট পাঁচজন নারী মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
* জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
* বর্তমানে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য ২১ জন। সংরক্ষিত আসনসহ বর্তমানে জাতীয় সংসদে সর্বমোট ৭১ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।
* ২০১৫ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে।
* উপজেলা পরিষদে একটি করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য ৩টি করে সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে।
* বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৪০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সেই হিসাবে সংরক্ষিত আসনে সর্বমোট ১৩ হাজার ৬২০ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
* বর্তমানে সচিব পদে সাতজন নারী এবং ৭৮ জন নারী অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
* বর্তমান সরকার সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে একজন নারী অধ্যাপককে নিয়োগ প্রদান করেছে।
* আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম সচিব পদে নারীকে নিয়োগ প্রদান করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদে একজন নারী দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী প্রো-ভিসি নিয়োগ।
* আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম রাষ্ট্রদূত, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে নারী বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে নারী নিয়োগ করেছে।
* প্রথমবারের নারী ‘নির্বাচন কমিশনার’ হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদেও ইতোপূর্বে একজন নারী দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে।
* দুস্থ, নির্যাতিত, অসহায়, দরিদ্র ও তালাকপ্রাপ্ত ৭১ লাখ ভিজিডি নারী উপকারভোগীদের প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলের জন্য মাসে ৩০ কেজি পুষ্টি চাল প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ১০.৪০ লাখ দুস্থ, নির্যাতিত, অসহায়, দরিদ্র ও তালাকপ্রাপ্ত নারীকে সময় বৃদ্ধি করে ৩৬ মাস সাইকেলের জন্য মাসে ৩০ কেজি পুষ্টি চাল প্রদান করা হচ্ছে।
* গর্ভবতী দরিদ্র ২৭.৭৬ লাখ মহিলাকে মা ও শিশুর পুষ্টি ঘাটতি নিবারণে প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলে মাসে ৫০০ টাকা হারে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে গর্ভবতী দরিদ্র ৭ লাখ গর্ভবতী দরিদ্র মহিলাদের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা এবং ২৪ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস করা হয়েছে।
* দুগ্ধবতী উপকারভোগী ১১.০৯ লাখ মাকে প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ল্যাকটেটিং মা ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা এবং সময় ২৪ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস করা হয়েছে।
* নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২২ উপজেলায় ৫০ হাজার অতিদরিদ্র মহিলাকে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩০ হাজার বর্গা/প্রান্তিক চাষিকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা করে জীবিকায়নের জন্য অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
* ওহাবংঃসবহঃ ঈড়সঢ়ড়হবহঃ ভড়ৎ ঠঁষহবৎধনষব এৎড়ঁঢ় উবাবষড়ঢ়সবহঃ (ওঈঠএউ) প্রকল্পের আওতায় সাত জেলার আট উপজেলায় ৮ হাজার উপকারভোগী মহিলাকে স্বাবলম্বীকরণে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাথাপিছু এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
* “শেখ হাসিনার বারতা, নারী-পুরুষ সমতা” বিষয়ক সেøাগানটি ব্রান্ডিংকরণে মন্ত্রণালয়ের চিঠি, খাম, প্যাড ও ফোল্ডারে ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে।
* নারী ক্ষমতায়নে কার্যক্রমসমূহকে ব্রান্ডিংকরণ ও বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
* নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়ন কার্যক্রমকে ব্র্যান্ডিংকরণে জয়িতা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে।
* জয়িতার মাধ্যমে ১৮০টি স্টলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ১৮ হাজার নারী উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেছে, ১৪ হাজার ৯৬০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, ২৩ হাজার ৫০০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* জয়িতা অন্বেষণে ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যা ৩১,৩১৮ এবং উপজেলা হতে মনোনীত জয়িতার সংখ্যা ৯,২৩৪। জেলা পর্যায়ে সম্মাননা প্রদানকৃত জয়িতার সংখ্যা ১,৩৪২ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মাননা প্রদানকৃত জয়িতা ১৯৫ জন।
* দেশে-বিদেশে ৭৯৯ জন নারী উদ্যোক্তার উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩১ হাজার ২৫০ জন তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* ৮টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের মাধ্যমে ১৯ হাজার ৯২৯ জন কর্মজীবী নারীকে আবাসিক হোস্টেল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* কর্মজীবী নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য ৭৪টি ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে ৩৬ হাজার ১৮৩ জন শিশুকে দিবাযতœ সেবা প্রদান করা হয়েছে।
* ভিজিডি উপকারভোগী ৬৩.৫০ লাখ মহিলাকে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, আয়বর্ধক ও সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* মাতৃত্বকাল ভাতাভোগী ২২ লাখ মহিলাকে বছরে ১০ দিন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* ল্যাকটেটিং ভাতাপ্রাপ্ত ৭.২৯ লাখ মাকে দারিদ্র্য নিরসন, মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস, মাতৃদুগ্ধ পানের হার বৃদ্ধি, গর্ভাবস্থায় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ, ইপিআই, প্রসব ও প্রসবোত্তর সেবার গুরুত্ব ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নির্যাতন প্রতিরোধে ৩৩.৪৩ লাখ মহিলাকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আওতাধীন জাতীয় মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি কর্তৃক পরিচালিত ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১.৮৪ লাখ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্প ও শিক্ষিত মহিলাকে আবাসিক ও অনাবাসিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দদের সক্ষমতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* গার্মেন্টসে কর্মরত ৩৮৪ নারীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ১১ হাজার ৬৩৬টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৭৭ জনকে সচেতন করা হয়েছে।
* ৬৪টি উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১৫ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬৩ জন শিশু বাল্যবিবাহ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে।
* দুস্থ ও প্রশিক্ষিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকা-ে সহায়তার উদ্দেশ্যে ১৭ হাজার ৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
* ৬০টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার হতে ৩৩ হাজার ৫০৩ জন নির্যাতিত নারী ও শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে।
* ৪০টি সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল হতে ৪০ হাজার ৮৪৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
* ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে ৪ হাজার ৬১৯টি মামলার শিশুর পিতৃ পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
* ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টার হতে ১ হাজার ৪৭০ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়েছে।
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
* রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সিলিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
* নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে নির্যাতিতা, দুস্থ ও অসহায় ১ হাজার ৪৩০ জন মহিলাকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া এবং মোকদ্দমা দায়েরের লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিতে ১২৩টি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। মোহরানা ও খোরপোষ বাবদ বিবাদীর কাছ থেকে বাদিনীকে ৩৭.৮৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
* ১০.২৫ কোটি টাকা ক্রমপুঞ্জিত হয়ে ৬৯.১৪০২ কোটি টাকা ৬৪ জেলার ৪৯১ উপজেলায় ০.৬৩ লাখ দুস্থ ও অসহায় মহিলার মধ্যে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
* দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দরিদ্র, বেকার ও অসহায় মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২.৫১ লাখ মহিলার মাঝে ৩৪৯০.৬২ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
* দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের জন্য ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কর্মসূচির আওতায় ৫৭.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় ৭০০ উপকারভোগী মায়ের স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনসহ আবাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
* অসহায়, নির্যাতিত ও দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে অসহায় মহিলা ও শিশুদের সহায়তার জন্য ১১ হাজার ৮৪১ জন মহিলাকে ৫ কোটি টাকা তহবিলের লভ্যাংশ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
* নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
* আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
* বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধ বিষয়ের ওপর সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৪ উপজেলায় ৫২৯টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহিলাদের তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে সচেতনকরণে ১৩টি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
* গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের ২৫ লাখ মহিলাকে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এপ্রিল ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২২ মেয়াদে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* দুস্থ মহিলাদের উৎপাদনে উৎসাহ ও বিক্রয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সদর কার্যালয়ের নীচতলায় রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘অঙ্গনার’ ২০০৯-১০ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৮.১৮ লাখ টাকার সামগ্রী ক্রয়, ৭১.৬০ লাখ টাকার সামগ্রী বিক্রয় এবং ৩.৪২ লাখ টাকা মুনাফা হয়।
* জয়িতা ফাউন্ডেশন : জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ঢাকায় ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত শপিংমল রাপা প্লাজায় ‘জয়িতা’ নামে বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ১৪টি মহিলা সমিতির উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করে প্রায় ১৮ হাজার জন নারী স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।
* তথ্য আপা : তথ্য আপা প্রকল্পের ১৩ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে আয়োজিত উঠান বৈঠকসমূহে নারী নির্যাতনের শিকার মহিলাদের বিভিন্ন আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য তথ্যসেবা দেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া তথ্যকেন্দ্রে এসে মহিলারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তথ্যসেবা পেয়ে থাকেন। ১ কোটি মহিলাকে তথ্যসেবা প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
* কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন : সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রান্তিক ও অসহায় কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড্ ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করার জন্য ৬৪ জেলার ৪৮৯ উপজেলায় ৫ হাজার ২৯২টি ক্লাবের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছে।
* ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভিটিস (আইজিএ) ট্রেনিং অব উইমেন অ্যাট উপজেলা লেভেল : ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪২৬টি উপজেলায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত দুস্থ মহিলাকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* মাতৃত্বজনিত ছুটি : মাতৃত্বজনিত ছুটি তিন মাস হতে চার মাস এবং চার মাস হতে ছয় মাসে উন্নীত করা হয়েছে।
* সর্বস্তরে পিতার নামের পাশাপাশি মাতার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ : সর্বস্তরে পিতার নামের পাশাপাশি মাতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
* হেল্পলাইন : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
* মোবাইল অ্যাপস : নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় জয় মোবাইল অ্যাপস ২৯ জুলাই ২০১৮ সালে চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপসে ৩টি মোবাইল নম্বর এফঅ্যান্ডএফ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
* ‘শেখ হাসিনার বারতা, নারী-পুরুষ সমতা’ বিষয়ক সেøাগানটি ব্রান্ডিংকরণে মন্ত্রণালয়ের চিঠি, খাম, প্যাড ও ফোল্ডার ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে।
* প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে : বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ‘স্বপ্নরাঙা’ নামে প্র্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে দুজন প্রশিক্ষক প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী ৩টি শাখায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিনা বেতনে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতাল কার্যক্রম
* মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিস এন্ডোক্রিন ও মেটাবলিক হাসপাতাল স্থাপন।
* ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু ও মহিলা কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপন।
* ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রিন ও মেটাবলিক হাসপাতাল স্থাপন, উত্তরা, ঢাকা।
* ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে নার্সেস হোস্টেল স্থাপন।
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন/বিধি, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। যেমনÑ
* জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১;
* নারী উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫;
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫;
* পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০;
* জাতীয় শিশু নীতি ২০১১;
* শিশু আইন ২০১৩;
* পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩;
* ডিএনএ আইন ২০১৪;
* বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭;
* বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে;
* এছাড়া নিম্নবর্ণিত আইন/বিধিমালা খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে;
* জাতীয় সাইকোলজি কাউন্সিলিং পলিসি ২০১৪ (খসড়া);
* বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৭ (খসড়া);
* জাতীয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি আইন ২০১৬ (খসড়া);
* যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৭ (খসড়া)।

শ্রম ও কর্মসংস্থান
শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য গঠিত হয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিগত ১০ বছর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বর্ণ যুগ অতিক্রম করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ-সময়ে মন্ত্রণালয়ের দুটি পরিদফতর অধিদফতরে রূপ পেয়েছে। জনবল বেড়েছে অনেক গুণ। কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে সেবার গতি। এ-সময়ে বেশ কয়েকটি আইন, বিধি, নীতিমালা প্রণিত হয়েছে, সংশোধিত হয়েছে। নতুন নতুন সেক্টরে মজুরি কমিশন গঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ অনেকাংশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের কল্যাণে নতুন তহবিল গঠিত হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক অসন্তোষ নেই বললেই চলে।

আইন, বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন
শিশু শ্রম নিরসন নীতিমালা ২০১০, বাংলাদেশ শ্রমনীতিমালা ২০১২, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন ২০১৩, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা ২০১৩, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ইউপিজেড আইন এবং শ্রম আইন সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে।

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা
২০১৩ সালের রানা প্লাজার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পরে তৈরি পোশাক খাতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বের ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে আজ বাংলাদেশেরই ৭টি। নতুন নতুন যত গার্মেন্ট কারখানা তৈরি হয়েছে সবগুলোই অত্যাধুনিক কারখানা। বর্তমানে শত শত গ্রিন ফ্যাক্টরির দেশ বাংলাদেশ। নতুন সব কারখানাই কমপ্লায়েন্স কারখানা। প্রতিটি কারখানায় সেফটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গার্মেন্ট শিল্পের কারখানার সংস্কার কাজ তদারকির জন্য রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল-আরসিসি কাজ শুরু করেছে। এ কাজে সম্প্রতি ৬০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষায়িত হাসপাতাল
শ্রমিকের পেশাগত অসুখের চিকিৎসার জন্য পিপিপি’র মাধ্যমে প্রায় ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম ৩০০ শয্যার পেশাগত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ আগামী মাসেই শুরু হবে। গত ২২ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এএফসি হেলথ কেয়ার ও ভারতের ফোর্টিজ হেলথ লিমিটেডের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ওএসএইচ ডে পালন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে ৫ একর জমির ওপর নিজস্ব জায়গায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি-ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মহিলা হোস্টেল নির্মাণ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় নারী শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য ২ হাজার ৭০০ আসনের ডরমেটরির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যেখানে যেখানে শ্রম অধিদফতরের নিজস্ব জায়গা আছে শ্রমঘন এলাকায় মহিলা শ্রমিকদের জন্য আরও হোস্টেল নির্মাণ করা হবে।

শ্রমিকদের ডাটাবেইজ তৈরি
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-র প্রতিটি শ্রমিককে ডাটাবেইজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ট্রেড ইউনিয়ন লাইসেন্স সহজিকরণ
শ্রমিকদের সেবা প্রাপ্তি সহজকরণে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন সহজিকরণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধনের আগে তৈরি পোশাক শিল্পে যেখানে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল ৮২, আজ সেখানে ৬৯০।

শিশুশ্রম নিরসন
এসডিজি’কে সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ২৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্প প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিমাসে দেওয়া হবে ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

দক্ষ নারী শ্রমিক তৈরিতে প্রশিক্ষণ
দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মেয়েদের গার্মেন্টসে দক্ষ কর্মী তৈরিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডে থাকা-খাওয়া, সম্মানিসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল
প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের কল্যাণের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল রয়েছে। এই তহবিলে বর্তমানে জমার পরিমাণ প্রায় ৩১০ কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি টাকার মতো অসহায় শ্রমিকদের সহায়তা করছে।

কেন্দ্রীয় তহবিল
মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে গত ২০১৬ সালে গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানির ০.০৩ শতাংশ সরাসরি এই তহবিলে জমা হচ্ছে। গত দুবছরে এই তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
গত এক-দেড় দশক আগেও নারীকে নানা বৈরিতা ও প্রতিকূলতার মধ্যদিয়েই পথ চলতে হতো। নারীর মর্যাদা, দক্ষতা, যোগ্যতা, মেধা-মননের বিষয়টি পরিলক্ষিত হতো না। যে কোনো কর্মক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্তই নারীকে আটকে রাখা হতো। কিন্তু একজন নারীও যে সর্বত্র চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেকে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারে, তা আজ প্রমাণিত। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সাহস ও সুযোগ করে দিয়েছে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী আজ পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে সর্বত্র। মাটি কাটা থেকে শুরু করে পাহাড়ে ওঠা।
অথচ গত এক দশক আগেও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল ভূমিকায় নিজেকে উত্তীর্ণ করা নারীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। একজন নারীকে পরিবারের গৃহস্থালি কাজে এবং সন্তান লালন-পালনেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই ছিল শেষ কথা। আর এসব কাজ অর্থনৈতিক বিবেচনায় ছিল মূল্যহীন। যদিও একজন নারী দিনমান গৃহস্থালি কাজে নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে কাজ করত, তারপরও পরিবারে তার মতামতের কোনো গুরুত্ব ছিল না। পুরুষ উপার্জনক্ষম বলে পরিবারে তার কথাই ছিল শেষ কথা। আজ দিন বদলেছে। নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। সমাজে নারীর গুরুত্ব বেড়েছে।

Category:

টুসির ‘মীনালাপ’ এবার জিতল ‘ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড’

11-6-2018 6-22-54 PM

তাজিকিস্তানে অষ্টম ডিডোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

উত্তরণ ডেস্ক: কাজাখস্তানে ১৪তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গ্রান্ডপিক্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির পর এবার তাজিকিস্তানেও অনুষ্ঠিত অষ্টম ডিডোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে বাংলাদেশি নির্মাতা সুবর্ণা সেঁজুতি টুসি’র স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মীনালাপ’। গত ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পাঁচ দিনব্যাপী তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশাম্বে-তে অনুষ্ঠিত অষ্টম ডিডোর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৮ আসরের সমাপণী দিনে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। পুরস্কারের Citation–এ এই পুরস্কার প্রদানের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, “For the cinematic reflection of the idea of humanism.”  ফিল্ম     এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা করেছেন সুবর্ণা সেঁজুতি টুসি।
11-6-2018 6-23-51 PMপরিচালক সুবর্ণা সেঁজুতি জানান, ২৮ মিনিট দৈর্ঘ্যরে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মীনালাপ’ চলচ্চিত্রটির গল্প গড়ে উঠেছে বাঙালি এক দম্পতিকে ঘিরে এবং আশায় আবর্তিত শহুরে নিঃসঙ্গ জীবনের মুহূর্তগুলো নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পুনে শহরে আসা গার্মেন্টসে কর্মরত একটি বাঙালি দম্পতির অনাগত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ-মুহূর্তগুলো চলচ্চিত্রটিতে উঠে এসেছে। ভাগ্যের অন্বেষণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পরিবারটি পুনে শহরে চলে যায়। সেখানে এক গার্মেন্ট কারখানায় এই দম্পতি কাজ নেয়। নতুন শহরে তাদের নতুন সংগ্রাম, নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন।
এর আগেও চলতি বছরের ৬ জুলাই কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত ১৪তম ইউরেশিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে গ্রান্ডপিক্স পুরস্কার অর্জন করে ‘মীনালাপ’ চলচ্চিত্রটি। যা ছিল প্রথম এই উপমহাদেশের কোনো নির্মাতার চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হওয়া।
‘মীনালাপ’ চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ করেছেন অর্চনা গাঙ্গরেকর। শব্দগ্রহণে স্বরূপ ভাত্রা, শিল্প নির্দেশনায় হিমাংশী পাটওয়াল এবং সম্পাদনায় ছিলেন ক্ষমা পাডলকর। চলচ্চিত্রটি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া’র প্রযোজনায় নির্মিত। ‘মীনালাপ’ চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিতাস দত্ত, প্রমিত দত্ত, বিবেক কুমার এবং দেভাস দীক্ষিত।
সুবর্ণা সেঁজুতি, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে টুসি নামেই বেশি পরিচিত। ছোটবেলা থেকে জড়িত ছিলেন মঞ্চ নাটকের সঙ্গে। সাংবাদিকতা করেছেন। টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা আর গ্রন্থনার কাজ করেছেন। তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টও লিখেছেন। বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছেন অর্থনীতি বিষয়ে। ভারতে পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ফিল্ম ডিরেকশন ও স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন। সুবর্ণা সেঁজুতি এর আগে আরও কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। ছবিগুলো হলোÑ জাদু মিয়া (২০১১), পারাপার (২০১৪) ও পুকুরপার (২০১৮)। তার নতুন ছবির নাম ‘মীনালাপ’।

Category:

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে ফিলিস্তিন চ্যাম্পিয়ন

11-6-2018 6-20-46 PMঅনিন্দ্য আরিফ : ইতিহাসের রেকর্ড বুকে স্বর্ণখোদাই অক্ষরে ছাপা বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। গ্রামে-বিলে-ঝিলের কোণায়, স্টেডিয়াম-মাঠে-ঘাটে-উঠানে ফুটবল জড়িয়ে আপন মহিমায়। সেই মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখতেই অতিথি দেশ নিয়ে ফুটবল আসরের আয়োজন নতুন নয়। ফিফা-এএফসির পাশাপাশি নিজস্ব আঙিনায় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের বিষয়টি একটি দেশের জন্য গৌরবের। সেই কারণে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। তবে নানা কারণে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্বাগতিক হয়েও সেমিফাইনালেই আটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে নতুন করে ফুটবল উৎসব-গল্প সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নবজাগরণ। ছয় জাতির আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ফিলিস্তিন টপ ফেভারিট হিসেবে আসর শুরু করেছিল।
ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ট্রফি ও ৫০ হাজার ডলারের চেক গ্রহণ করেছেন বিজয়ী ফিলিস্তিন। আর রানার্স-আপ তাজিকিস্তানকে প্রাইজমানি হিসেবে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই আসরে সেমিফাইনাল থেকে সিটকেপড়া বাংলাদেশের বিপুল আহমেদ হয়েছেন টুর্নামেন্টের উদীয়মান খেলোয়াড়। পাশাপাশি ফেয়ার প্লে ট্রফিও ঘরে তুলছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পুরস্কার মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে আমি যখনই সুযোগ পাই, খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়ামে ছুটে যাই। আসলে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা খেলাধুলা করতেন। স্কুলজীবনে তিনি ছিলেন একজন সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তারা অনেক দক্ষতা দেখিয়েছেন। আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য সুলতানা কামাল খুকুও ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে বিপথে গমন থেকে রক্ষা করে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখে। আমার বিশ্বাস, যুবসমাজকে যদি আমরা ক্রীড়া কর্মকা-ের মাধ্যমে সক্রিয় রাখতে পারি, তাহলে সহজেই এদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারব। যুবসমাজ এদেশের সম্পদ। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

Category:

পরলোকে ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু

11-6-2018 6-18-39 PMফারুক শাহ্: ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। গত ১৮ অক্টোবর সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি।
তার স্বজনরা জানান, সকালে ধানমন্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
মৃত্যুর আগে এই রকস্টারের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তাকে ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট বলা হয়ে থাকে। আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেও তার গান ও গিটারের ছয় তারের সুর বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে ধ্বনিত হবে আজীবন। ব্যান্ড দল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং প্লে­ব্যাক শিল্পী।
আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজোয়ার কানাডায় পরিসংখ্যান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। দুজনেই দেশে আসেন বাবাকে শেষ দেখা দেখতে।

আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা
১৯ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে কিংবদন্তি ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারও মানুষ অংশ নেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় জানাজা হয় তার গানের স্টুডিও মগবাজারে ‘এবি কিচেন’-এর সামনে। এরপর তৃতীয় জানাজা হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ের সামনে। তৃতীয় জানাজা শেষে ব্যান্ড সংগীতের এ কিংবদন্তির মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে আসেন সংগীত ও অভিনয় ভুবনের অনেক তারকা। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শুনে স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে যান তার শুভানুধ্যায়ী ও ভক্ত-অনুসারীরা।

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় বাচ্চু
অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। ২০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর চৈতন্যগলি কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
দেশবরেণ্য ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রয়াত শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সংসদে শোক
দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিকেলে অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সদ্যপ্রয়াত ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত ও গৃহীত হয়।

Category:

তারেককে ফেরত দিতে এখনই যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা উচিত

উত্তরণ ডেস্ক: বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও জাতিসংঘ সনদের শর্ত মেনে সাজাপ্রাপ্তদের যুক্তরাজ্য ফেরত দিতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
সেক্ষেত্রে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে এখনই অনুরোধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে সপরিবারে থাকছেন।
১৪ বছর আগের ওই হামলার ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণার পর নিজের ফেসবুক পাতায় এক স্ট্যাটাসে জয় বলেন, ‘আমাদের সরকারের উচিত এখনই তারেক রহমানের নামে আবার নতুন করে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা, এবার খুন ও সন্ত্রাসবাদের জন্য। তাকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করাও উচিত আমাদের।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের কোনো  বহিঃসমর্পণ চুক্তি নেই। কিন্তু জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী অন্য কোনো সদস্য দেশের অনুরোধে শাস্তিপ্রাপ্ত আসামিদের সমর্পণ করতে পারে। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি চারজন সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে মৃত্যুদ- হতে পারে জেনেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে।’ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদ-।
এছাড়া এই মামলার আসামি ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জয় তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, আজ ১৪ বছর পরে, আমার মা ও আইভি রহমানসহ আমার আরও অনেক কাছের মানুষদের হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার পেতে যাচ্ছি আমরা।

Category:

শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ সালমান

11-6-2018 6-10-04 PMউত্তরণ প্রতিবেদন:  সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি বাদশার বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সৌদি বাদশার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং সকল ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি বাদশাহ তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা উচ্চারণ করেন। এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এদিন দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

সৌদি বাদশার সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সৌদি বাদশাহ নিজে রাজপ্রসাদের প্রবেশ দ্বারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এটি আপনার ঘর এবং আপনাকে সবসময় এখানে স্বাগতম। বাদশাহ বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং ধর্মের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একই বন্ধনে বাঁধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদশার আথিয়েতার জন্য ধন্যবাদ জানালে সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বলেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে এবং উল্লেখ করেন যে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। বাদশাহ বলেন, আমরা যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটা অব্যাহত থাকবে এবং এটি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জনগণের অভিন্ন আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব করলে বাদশাহ প্রস্তাবগুলো যথাযথ বলে অভিহিত করেন। বাদশাহ বলেন, আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনার পর এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তাদের দেখাশোনা করার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সৌদি বাদশাহ সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সৌদি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে উল্লেখ করে বলেন, তাদের দেখভাল করা আমার দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাদশাহ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং ‘আমরা এটি কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পন্ন করব বলে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, বাদশাহ ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় মুসলিম উম্মার প্রশ্নে লড়াই করে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে।’ বাদশাহ বলেন, ‘এ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় সম্মানজনক এবং এজন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ’র আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াদ পৌঁছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি কেউ থামাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ অক্টোবর রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নয়নের যে কাজটা করার দরকার ছিল আমরা তা করেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সামনে নির্বাচন এবং জনগণ ভোট দিলে তিনি আবার সরকারে আসবেন, নচেৎ নাই এবং বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারায় সেজন্য তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি যে আমাদের স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তাই নয়, বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের নিজেদের জায়গায় নিজস্ব দূতাবাস হবে সে প্রক্রিয়াটিও শুরু করে যান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবনটি আজকে উদ্বোধনের সময় আমার বারবারই মনে পড়ছিল আজ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতো।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় হজযাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাজিদের সুবিধার্থে তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার হজ অফিস মক্কাতে নিয়ে গিয়েছে এবং হজ মৌসুমে হাজিদের সুবিধার্থে মক্কা এবং মদিনাতেও নিজস্ব জায়গায় অফিস তৈরির উদ্যোগ নেবে। তিনি সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কেএসএ গোলাম মসীহ বক্তৃতা করেন। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ৫১০ বর্গমিটারের একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ব্যাপারে তার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। গত ১৭ অক্টোবর বাদশাহ সৌদ রাজপ্রাসাদে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সৌদি চেম্বার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পারস্পরিক স্বার্থেই আপনাদের বাংলাদেশে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা যাতে আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একে অপরের হাতে হাত রেখে চলতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোক্তাদের দেশের বিভিন্ন উদীয়মান খাত যেমন পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, ব্লু ইকোনমি, গবেষণা এবং উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পানি এবং সমুদ্রসম্পদ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্পে এবং সেবামূলত খাত যেমন ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি, লজিস্টিক এবং মানবসম্পদ খাতেও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলো (ইপিজেড) শতভাগ রপ্তানিনির্ভর। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, আমরা সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছি, যেগুলো বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক তারা ব্যবহার করতে পারবেন।

ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব গত ১৭ অক্টোবর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। রিয়াদে বাদশাহ সৌদ প্রসাদে সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বৈঠকের পর স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। সমঝোতা স্মারকগুলো হলো : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সহযোগিতার নীতিমালা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ও সৌদি আরবের হানওয়াহ্ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে নির্মাণ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী ও সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও সৌদি আরবের আল বাওয়ানী কো. লি.-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বাংলাদেশের পক্ষে সকল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চান সৌদি যুবরাজ
সৌদি যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, তিনিও এ উন্নয়নের অংশীদার হতে চান। গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সালমানের বৈঠক সম্পর্কে জেদ্দা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সৌদি যুবরাজকে উদ্ধৃতি করে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, তিনি (যুবরাজ) বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, সে-সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এই উন্নয়নের বিকাশে আমিও তার অংশীদার হতে চাই।
শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ দেখে আসা এবং বাংলাদেশে উন্নয়নের কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গত ১৭ অক্টোবর রাতে রিয়াদের রয়্যাল প্যালেসে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে এই বৈঠক হয়। শহীদুল হক বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে তিনি (মোহাম্মদ বিন সালমান) খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, তখন তিনি (যুবরাজ) অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন, আমি শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করব। শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ করব না; বরং আমরা আমাদের যে কোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব। প্রধানমন্ত্রী যখন জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ছয়বার সৌদি আরব সফর করেছেন, তখন সৌদি যুবরাজ তাকে (শেখ হাসিনা) ‘হাফ সৌদি’ বলে বর্ণনা করেন।
‘এটিও আপনার বাড়ি’ এ-কথা উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, আপনি অনেকবার সৌদি আরব সফর করেছেন, তাই আপনি ‘হাফ সৌদি’ হয়ে গেছেন। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে যুবরাজ বলেন, আমরাও এটা চাই এবং আমরা সবাই একত্রে শান্তিতে বসবাস ও উন্নয়ন করতে চাই।
যুবরাজ বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের চমৎকার সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও তা বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। এর একটি হচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত।
শহীদুল হক বলেন, আমরা আশা করছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সৌদির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্র বাংলাদেশ সফর করবে এবং দেশটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য খুবই উৎসাহী।

Category:

১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড: ১৯ জনের যাবজ্জীবন

11-6-2018 6-07-02 PM

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়

আনিস আহামেদ : ১৪ বছর পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হলেও নিহত স্বজনদের চোখের পানি মুছেনি। কান্নায় ক্ষোভে ফুঁসেছেন তারা। মামলার রায় পেয়েও তারা পাননি স্বজন হারানোর সান্ত¦না। আহতরা পাননি শরীরে বয়ে বেড়ানো গ্রেনেডের স্পিøন্টারের যন্ত্রণা ভোলার সান্ত¦না; বরং বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের যন্ত্রণা। তারা পায়নি তাদের কাক্সিক্ষত রায়। মৃত্যুদ- হয়নি এ হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের। বহুল আলোচিত বর্বরোচিত ভয়াবহ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১১ আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা ১২টায় পিনপতন নীরবতার মধ্যে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা আলোচিত দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। কারাদ-ের আসামিদের হাজতবাসকালীন সময় সাজা থেকে বাদ যাবে। এবং ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। ফাঁসির দ-ের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধানও রয়েছেন। এছাড়া সাবেক তিন আইজিপিসহ আট পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনার মূল হোতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়া উচিত ছিল। কারণ তিনি ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পর আমরা চিন্তা-ভাবনা করব, আপিল করব কি না? রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এ রায় পর্যালোচনা করে পরে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আমরা রায় ও আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। প্রসিকিউশন টিম আছে সেখানে পর্যালোচনা করে আসামিদের সাজা বাড়াতে আপিল করব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএনপি-জামাতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। দীর্ঘ ১৪ বছর ২ মাস ১৯ দিনের মাথায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

’৭৫-এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস : গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার যে ষড়যন্ত্র, তার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২৩ বছর ২ মাস পর জাতি, জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে কলঙ্কমুক্ত হয় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির পিতাকে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে ‘হালকা নাশ্তা’ করানো হবে : এই উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা করে। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রীয় সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখে যুদ্ধে ব্যবহৃত স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র, আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয়, দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে। এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেও গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য গত ১০ অক্টোবর তারিখ ধার্য করে দেন আদালত। সে অনুযায়ী ১০ অক্টোবর জনাকীর্ণ রায় ঘোষণা করেন আদালত। কার্যক্রম শুরুর আগেই কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে এজলাসে হাজির করা হয়। ১৮ আসামি পলাতক।

যাদের মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে : আদালত ১৯ আসামিকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন। তারা হলেনÑ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), বিএনপি-জামাত জোটের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), হুজির সাবেক আমির মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), কাশ্মীরী জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান (উপস্থিত), মহিবুল্লাহ ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহম্মেদ তামিম (্উপস্থিত), মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল (উপস্থিত), মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মো. উজ্জ্বল (উপস্থিত), এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (উপস্থিত), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (উপস্থিত) ও হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ (উপস্থিত)। এই আসামিদের দ-বিধি ৩০২, ১২০খ, ৩৪ ধারায় হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ-বিধির ৩০৭ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৬ ধারায় হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের ৪ ও ৬ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার দায়ে ২০ বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ১৯ আসামির ক্ষেত্রে কেবল মৃত্যুদ-ের শাস্তিই কার্যকর হবে। মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের দ- কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে।

যাদের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে : এই মামলায় ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। যাদের যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে তারা হলেনÑ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (পলাতক), খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ আহম্মেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), আবুবকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার (উপস্থিত), আরিফুল ইসলাম আরিফ (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত) মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)। তাদের দ-বিধি ৩০২, ১২০খ, ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। দ-বিধি ৩০৭, ১২০খ, ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জনিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় যাবজ্জীবন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরক আইনের ৪ ও ৬ ধারায় ২০ বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সব সাজা একযোগে কার্যকর হবে বলে এই ১৯ আসামির ক্ষেত্রে কেবল যাবজ্জীবন কারাদ- কার্যকর হবে।

১১ জনকে ভিন্ন মেয়াদে কারাদ- : এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা (উপস্থিত) ও শহুদুল হক (উপস্থিত), খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (উপস্থিত), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার (পলাতক), মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (পলাতক), ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান (পলাতক), আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান (পলাতক), সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী (উপস্থিত), সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার রুহুল আমিন (উপস্থিত), সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ (উপস্থিত), সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান (উপস্থিত) দুই বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আরেক ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। চৌদ্দ বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করে তা পর্যালোচনা, সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণের আলোকে এই মামলার রায় ও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়।

১৪ বিবেচ্য বিষয় : ১৪ বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করে তা পর্যালোচনা, সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণের আলোকে এই মামলার রায় ও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়। এ বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে : ১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা ফ্লাটে বাড়ি নং ম-৩০ পশ্চিম মেরুল বাড্ডায় মৃত জয়নাল আবেদিনের তিনতলা বাড়ির গ্যারেজ সংলগ্ন পূর্ব পার্শে¦র তিন কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটে থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হামলার জন্য আসামিরা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে কি না ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীরা এই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করে কি না; ২) অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিনের বাড়ি হোল্ডিং নম্বর ২/৫ আনন্দনগর বাড্ডা, আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি উক্ত বািড় ভাড়া নিয়ে অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে জঙ্গি কর্মে নিযুক্ত ছিল কি না; ৩) মেরুল বাড্ডার রাউজক প্লট নং-৫৩ লে. কর্নেল গোলাম রাব্বানী (অব.)-এর চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার উত্তর অংশের ফ্ল্যাট আসামিগণ ভাড়া নিয়ে গ্রেনেড সংরক্ষণ করত কি না। এবং বিভিন্ন গ্রেনেড হামলায় উক্ত বাড়ি থেকে গ্রেনেড সরবরাহ হয়েছে কি না; ৪) রোড নং-৫/এ, বাড়ি নং-৬১, ধানমন্ডির আবাসিক এলাকার বাড়িটি বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর দ্বিতল সরকারি বাসভবন, উক্ত বাসভবনে ১৮.০৮.০৪ইং তারিখে আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, আসামি মুফতি হান্নান মুন্সি, আসামি আহসান উল্লা কাজল, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিনগণ ২১.০৮.০৪ইং তারিখে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করে কি না। ১৮.০৮.০৪ তারিখে পরিকল্পনা গ্রহণ করে গ্রেনেড প্রাপ্তি, অর্থবল, প্রশাসনিক সহায়তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক ২০.০৮.০৪ তারিখে আসামি আহসান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসা থেকে আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের সরবরাহকৃত ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড এবং নগদ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন কি না; ৫) প্লট নং-৩, সেকশন-১, ব্লক-সি, মিরপুর মসজিদ-ই-আকবর আসামি আবু তাহের শিক্ষকতা করতেন কি না। ১৯.০৮.০৪ তারিখে আসামি আহসান উল্লা কাজল, মাওলানা আবু তাহের, আবদুস সালাম পিন্টু, মুফতি মঈন পরিকল্পনা ও অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় শলাপরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেন কি না; ৬) ৩/১১ আলী অ্যান্ড নুর রিয়াল এস্টেট সাত মসজিদ রোড মোহাম্মদপুর বাড়ির নিচতলায় হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো কি না; ৭) গুলশান থানাধীন লালাসরাই মৌজাস্থিত রোড নং-১৩, ব্লক নং-ডি, বাড়ি নং-৫৩, বনানী মডেল টাউনস্থ জনৈক আশেক আহম্মেদ পিতা আবদুল খালেকের বাসা, যে বাসাটি হাওয়া ভবন নামে পরিচিত, উক্ত হাওয়া ভবন বিএনপি-জামাত ঐক্য জোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কি না। উক্ত ঘটনাস্থলে পলাতক তারেক রহমান অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে কি না। ও জঙ্গি নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মিটিং করে কি না; ৮) মোহাম্মদপুর থানাধীন আলী অ্যান্ড নুর রিয়েল এস্টেট এলাকাধীন সাত গম্বুজ মসজিদে ঘটনার পূর্বে আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আবদুর রউফ, আবদুল মাজেট ভাট, অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে কি না; ৯) মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে জেহাদ আল ইসলামীর অফিসে ও খিলগাঁও থানা এলাকায় হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় আসামিগণ অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ অপরাধমূলক সভা ও ষড়যন্ত্র করে কি না; ১০) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ পরিচালনার সুবিধার্থে ও অপরাধীদের রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে মামলার ঘটনার ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পর ও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি গ্রহণ না করে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও আলামত নষ্ট করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১২) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সভা ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্বিঘেœ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তীতে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১৩) প্রকৃত আসামিগণের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১৪) উল্লেখিত ঘটনাস্থলসমূহে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও পূর্ব পরিকল্পনা করে পরবর্তীতে মূল ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখে ঘটনার তারিখ ও সময় আর্জেস গ্রেনেড হামলার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীসহ                ২৪ জনকে হত্যা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও                  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত               করার অপরাধে আসামিগণকে দ-বিধির ১২০বি/৩২৪/৩২৬/ ৩০৭/৩০২/১০৯/২০১/২১২/২১৭/২১৮/২৩০ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি প্রদান করা যায় কি না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ : রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার যে ষড়যন্ত্র, তার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২৩ বছর ২ মাস পর জাতি, জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে কলঙ্কমুক্ত হয় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির পিতাকে হত্যা করার পর চার জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২১ আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে হালকা নাশতা করানো হবে : এই উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা করে। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রীয় সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখে যুদ্ধে ব্যবহৃত স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র, আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয় দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে। এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষমতাসীদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। সাধারণ জনগণ রাজনীতি চায় না। সাধারণ জনগণ চায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশে যোগ দিয়ে সেই দলের নীতি, আদর্শ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ধারণ করা। আর সেই সভা সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে হত্যার এ ধারা চালু থাকলে পরবর্তীতে দেশের সাধারণ জনগণ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়বে। অত্রাদালত চায় না সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগা শরিফের ঘটনার সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়ার ওপর নৃশংস হামলার, রমনা বটমূলে সংঘটিত বোমা হামলার এবং অত্র মোকদ্দমার ঘটনার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পুনরাবৃত্তি।
অত্রাদালত সাক্ষীর কাঠগড়ায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত মাকে দুর্বিষহ কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ প্রত্যক্ষ করা পিডাব্লিউ ১৯৭ নাজমুল হাসান পাপনের ও তৎ স্ত্রী পিডাব্লিউ ১৯৮ রোকসানা হাসানের কষ্ট প্রত্যক্ষ করেছেন, আরও প্রত্যক্ষ করেছেন পিডাব্লিউ ১৭৫ মোসাম্মাৎ উম্মে কুলসুম রেনুকা, নুজহাত এ্যানী, রাশেদা আক্তার রুমা, নীলা চৌধুরী ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে যারা গ্রেনেড হামলার মারাত্মকভাবে জখম হয়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসার পরও এখনও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তাদের চোখে ঘুম নেই গ্রীষ্ম বা শীত সব সময়ই শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পিøন্টারের তীব্র যন্ত্রণার কুঁকড়ে যাচ্ছেন। যাদের পরিবারের সুস্থ সদস্যগণ প্রাণহীনভাবে বেঁচে রয়েছেন তাদের আদালত গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। পিডাব্লিউ অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, কাজী জাফরুল্লাহ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপির আদালতে সাক্ষ্য, ঘটনার তারিখে সময়ে ঘটনাস্থলেই যে মারাত্মক ও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সে মর্মে বক্তব্য। আদালত গভীরভাবে পিডাব্লিউ ১২৭ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, নাক কান, গলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যিনি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর কানের চিকিৎসা করেন। তার জবানবন্দি পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনার সময় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ফলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর ডান কানে গুরুতর জখম হয়। আসামিগণকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লেখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব বলে আদালত মনে করেন।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল ঘটনার পূর্বে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে অত্র মোকদ্দমার আসামিগণ অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করে পরিকল্পিতভাবে অত্র মোকদ্দমার ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে ঘটনার তারিখ ও সময় মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা করে ও শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে মর্মে আসামিগণের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আসামিগণকে শাস্তি প্রদান করা যুক্তিসংগত বলে অত্রাদালত মনে করেন।

Category:

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি

উত্তরণ ডেস্কঃ জাতীয় বেতন কাঠামোর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড (আগের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল ধরনের কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। গত ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের পর ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। যদিও সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে ৩ অক্টোবর রাত থেকে আন্দোলন করছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা।
জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চের পরিপত্রের কোটা পদ্ধতি নিম্নোক্তভাবে সংশোধন করেছেÑ নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেওয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশ জমা দেয়। কমিটি নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করে। সেই প্রস্তাবটি ৩ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করায় এখন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগ হবে মেধা ভিত্তিতে। তবে আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (বর্তমান ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেড) নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বহাল রয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কোটা রাখার প্রয়োজন দেখা দেয় তখন সরকার তা করতে পারবে।

Category:

মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই আমার কাম্য

11-6-2018 6-03-34 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি বাংলার মানুষের জন্য। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, বাংলার মানুষের উন্নত জীবন দেয়া এটাই আমার কাম্য। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। ২১ আগস্ট খুনি খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করেছে। আল্লাহর রহমত আমি বেঁচে গেছি। ওরা কি করেছে : বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী দেশ করেছে। বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। মানি লন্ডারিং করেছে। বিএনপি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ওরা বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। তার একটাই কারণ, তারা স্বাধীনতায় বিশ^াস করে না। তারা মানুষের উন্নতিতে বিশ^াস করে না। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে, এতিমদের না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করে। যে কারণে আজ সাজা ভোগ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। আবারও নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌকা জয়লাভ করলে মানুষ সুখী-সমৃদ্ধশালী হয়ে বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। আমার তো জীবনের চাওয়া-পাওয়া নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, আমার ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল ও ছোট্ট শিশু রাসেলকেসহ আমার পরিবারের সকলকে হত্যা করেছে। আমার আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করেছে। আমি বিদেশে ছিলাম বিধায় বেঁচে গেছি। সব হারিয়েছি। স্বজন হারিয়ে ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে এসে সারাদেশে ঘুরেছি, দেখেছি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। বাংলার মানুষের পেটে খাবার ছিল না। পরনে ছিল ছেঁড়া কাপড়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত। রাস্তার পাশে পড়ে থাকত। আপনাদের মাঝেই খুঁজে পাই আমার হারানো স্বজনদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই দেশ উন্নত হয়েছে। যখনই ক্ষমতায় এসেছি। তখনই বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছি। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছেন। আমার বাবা চেয়েছেন এদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকুক। আমিও বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। মানুষ সুন্দর থাকবে যেটা ছিল আমার বাবার আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছি। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের স্থান বাংলাদেশে হবে না। ইতোমধ্যে আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করা হবে, যাতে যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে। খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা ও যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলকে লেখাপড়া শিখতে হবে। লেখাপড়ার বিকল্প নেই। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন করেছি। দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এ অঞ্চলেই। আমরা আরেকটি দ্বীপ খুঁজছি। সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলব। সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় আকাশপথে বরগুনার তালতলীর জনসভা মঞ্চে আসেন এবং বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে লাখো জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় জনসভা মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সানন্দচিত্রে স্বাগত জানান। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। দুপুর গড়াতেই জনসভা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা মাঠসহ উপজেলা শহরের সর্বত্র মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আজকের জনসভা তালতলীর ইতিহাসে ঐতিহাসিক জনসভা। এত লোক তালতলীর ইতিহাসে কোনো জনসভায় হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণের পূর্বে বরগুনা সদর হাসপাতাল ৫০ শয্যা            থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বরগুনা জেলা গ্রন্থাগার, বরগুনা পুলিশ লাইনের মহিলা ব্যারাক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল নির্মাণ,                 ঘূর্ণিঝড়, বরগুনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন                   ভূমি অফিস, বুড়িরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, হোসনাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সিডর ও আইলায় উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ                 বাঁধ পুনর্বাসন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-কাঠালতলী-পাদ্রীশিবপুর-সুবিদখালী সড়ক, হাজারবিঘা-কামরাবাদ-পুরাকাটা ফেরিঘাট সড়কের চেইনেজ ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, বরগুনা সদরের গৌড়িচন্না ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলার বদনাখালী খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা পরিষদ ভবন, আমতলী থানা ভবন, আমতলী ইউনুস আলী খান কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমি ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, এম বালিয়াতলী ডিএন কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, তালতলী প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র, তালতলী ও বামনা উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকুর উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, নৌ পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, তালতলী উপজেলার আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জোমাদ্দার, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. তৌফিকুজ্জামান তনু।

Category: