Blog Archives

Posted on by 0 comment

49(C)

Category:

একটি গল্পের অপমৃত্যু!

Posted on by 0 comment

41অঞ্জন আচার্য: নিতান্ত একটা সুখী সমাপ্তি ঘটতে পারতো আমার জীবনে। যেমনটা ঘটে রূপকথার গল্পে : ‘অবশেষে রাজা-রানি সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো’। কিন্তু বিধি বাম। সেই কপাল নিয়েই জন্মাই নি যে! আমি বড়ো কপালে বিশ্বাসী মেয়ে। কিংবা বলা যায়, ওই সুখী পরিণতি কি আমি আদৌ চেয়েছি কখনও? আর সবার মতোই আমার বেড়ে ওঠা। টানাপড়েন সংসারের মধ্যবিত্ত ঘরের সাদামাটা জীবন আমার। লেখাপড়ায় বলতে গেলে অনেকটা বুদ্ধদেব বসুর মতো; সহজাতভাবেই মেধাবী। স্কুলের গ-ি পেরিয়ে গেছি অনায়াসে বন্ধুদের ঈর্ষার কারণ হয়ে। কলেজেও তাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠেও সেই একই দশা। হঠাৎ এ সময় এসে আর অনেকের মতো আমার জীবনের বাঁক-বদল হয়। শুরুতে এমনটা অনুভব করিনি। মনে করার মতো তেমন কারণও ছিল না। খুব ছোট্টবেলা থেকেই নিজের রূপের বর্ণনা শুনতে শুনতে ভেতরে ভেতরে অহঙ্কারী হয়ে উঠেছি কবে, টেরই পাই নি। অথচ স্বভাবে আমি নিরহঙ্কারী। আমাকে জেনেছে যে খুব কাছ থেকে, অনুভব করেছে নিবিড়ভাবে, সে-ই জানে, আমি মানুষটা নারকেলের মতো। বাইরে মরুভূমি, ভেতরে অথৈ সাগর।
যা-ই হোক, অরুণাভ এলো। পাল্টে গেল আমার প্রতিদিনের ছকবাঁধা জীবন। নিয়ত তাকে প্রত্যাখ্যান একদিন আমাকে শেখালো ভালোবাসা কাকে বলে। বর্ণমালার মতো অরুণাভ শেখাল কী করে ভালোবাসতে হয়। জীবনে সেই প্রথমবার জানলামÑ ভালোবাসাও শেখার বিষয়; যেমনটা একদিন হারমোনিয়ামের রিড চেপে শিখেছিলাম গান। তবে এর আগেও সেই নরম অনুভূতি বুদবুদ করেছিল আমার মনের কুয়োয়। সেটা একান্ত একপেশে, নিজস্ব গোপনে। সেসব অতীত। ডায়েরির পাতার ভাঁজে যেমন শুকনো পাতা থাকে কিংবা গোলাপের পাপড়ি, অতীতের সেই দিনগুলো আজও রাখা আছে আমার ডায়েরির ভাঁজে ভাঁজে। কারণ, আমার অতীত কখনও ধূসর হয় না। এক এক করে স্মৃতি হয়ে ধরে দেয় এক একটা দিনে, নয়তো নির্ঘুম রাতে। তবে আজ যে সংকটের ভেতর দিয়ে আমি যাচ্ছি, তা কাউকেই বলতে পারছি না। না আমার কোনো বন্ধুকে, না কোনো স্বজনকে।
অরুণাভকে আমি আর ভালোবাসতে পারছি না। তাকে দেখলে বরং বড্ড করুণা হয় আজকাল। ছেলেটা পাগলের মতো এখনও ভালোবেসে যাচ্ছে আমাকে। অথচ কবেই ছিঁড়ে গেছে আমাদের ভেতরকার তানপুরার তারটি। দুজনার হাতে ধরা থার্মোমিটারটি হাত ফসকে কবে কখন মাটিতে পড়ে ভেঙে গেছে, পারদ তার ছিটকে পড়েছে এদিক-ওদিকÑ দুজনার কেউ তা টের পাইনি। এই পুরুষবাদী সমাজে হয়তো এতে করে সবাই আমাকেই মন্দ বলবে। পুরো দোষটা চাপিয়ে দেবে আমারই ওপর। আমার পরিবার, আমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাই আমাকে ছিঃ ছিঃ করবে। ঘেন্নায় মুখ ঘুরিয়ে নেবে। হয়তো সবাই বলবে, তবে কেন এই মিছে স্বপ্ন-স্বপ্ন খেলা? গ্রিক একটা মিথের কাহিনি আজকাল বড়ো মনে পড়ে। ভালোবাসার চোখে কোনো নারী-পুরুষ যদি একে অপরের দিকে তাকায় তবে স্বর্গে একটি শিশুর নামকরণ করা হয়। আমাদের সেই শিশুর জন্ম আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। আজ তার স্কুলে পড়ার বয়স। অথচ জানি, তার জন্ম কখনোই হবে না এই পৃথিবীতে। এ হওয়ার নয়। কেননা, আমি আর অরুণাভকে ভালোবাসি না। অনেক চেষ্টা করেও পারছি না। আমি যাকে আজ ভালোবাসি, তাকে কোনোদিনই পাওয়ার নয়। তবুও তাকে ভালোবাসি। সমাজ-সংসার-ধর্ম বলে কথা! আমার ও অরুণাভের প্রেম পর্বে যে মানুষটির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি, সেই শুভ্র মামাকে আমি ভালোবাসি। মায়ের মেসতুতো ভাইটিই আজ আমার কাক্সিক্ষত প্রেমিক পুরুষ। দিন শেষে আমি যে একজন নিতান্ত মানুষ। ভালোবাসার কাঙ্গাল!
শুভ্র মামা আমাকে ভালোবাসে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। কিন্তু আমি তো সেই ভালোবাসা চাই না। আমি চাই তার কাছ থেকে অরুণাভের মতো কিছু। অথচ তা পাওয়ার নয়। সমাজ আমাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে শিখিয়েছে মামা-সম্পর্কের কাউকে ভালোবাসার বাঁধনে বাঁধতে নেই। আমি বাঁধছিও না। ছেড়ে দিয়েছি নিজেকে। সমুদ্রে ভাসিয়েছি একা ডিঙি নৌকো। কেবল মনে মনে ভেসে যাচ্ছি, ভালোবেসে যাচ্ছি। এইটুকু অধিকার তো আমার আছে, না-কি?
আজ মামা আমাদের বাড়িতে এসেছিল তার বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে। আমি মামার দিকে তাকিয়েছিলাম। মামাও আমায় দেখে ¯েœহের হাসি হেসে বললÑ ‘তোর পড়াশোনা কেমন চলছে রে মৃদু?’ আমি আমার নামের মতো মৃদু হেসে ছোট্ট করে বললামÑ ভালোই। কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে কেন জানি হঠাৎ আমার খুব কান্না পেল। দু-হাতে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করল মামাকে। মামার বুকে মুখ রেখে খুব কাঁদতে ইচ্ছে করল। কেন এমনটা অনুভূত হলো, ঠিক জানি না। দোতলার বারান্দার এক কোণে দাঁড়িয়ে আমি শুভ্র মামার চলে যাওয়া দেখলাম। শুভ্র মামা হেঁটে যাচ্ছে। রাস্তা পেরিয়ে বড় রাস্তায়। পেছন থেকে মামাকে খুব ডাকতে ইচ্ছে করছিল। এমনিতেই। আরেকটিবার মুখখানা খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল তার। কিন্তু ডাকিনি। কিংবা সাহস হয়নি। শুনেছি, পেছন থেকে ডাকা না-কি অমঙ্গল। আমি তো আর শুভ্র মামার কোনো অমঙ্গল চাইতে পারি না।

Category:

ইন্টারপোলের রেড নোটিস অকার্যকর! যুদ্ধাপরাধী মঈনুদ্দীন লন্ডনে প্রকাশ্যে

Posted on by 0 comment

39উত্তরণ ডেস্ক: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাবেক আলবদর কমান্ডার চৌধুরী মঈনুদ্দীনের নামে রয়েছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস। কিন্তু সেই নোটিস কোনো কাজে আসছে না। মঈনুদ্দীন বর্তমানে উত্তর লন্ডনে আয়েশী জীবনযাপন করছেন। অথচ তাকে খুঁজেই পাচ্ছে না ইন্টারপোল! সংস্থাটি খুঁজে না পেলেও সহজেই এই যুদ্ধাপরাধীকে শনাক্ত করা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা দ্য সান। এতে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করা ৬৯ বছর বয়সী মঈনুদ্দীনের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর লন্ডনের উপকণ্ঠ সাউথগেটে মঈনুদ্দীন একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন। তার মূল্য প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড। একাত্তরে আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া ও ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার দায়ে ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদ- দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে বিদেশের মাটিতে আরাম-আয়েশেই দিন পার করছেন তিনি। উল্টো ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সাবেক পরিচালক মঈনুদ্দীন সেই রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করেন। এ ছাড়া বিচারককেও তিনি ‘রাবিশ’ বলে উল্লেখ করেন। তার আইনজীবীও রায়কে ‘শো ট্রায়াল’ বা ‘লোক দেখানো বিচার’ বলে আখ্যা দেন।
ইন্টারপোলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ব্রিটিশ ফিউগিটিভ’-এর তালিকায় রয়েছে মঈনুদ্দীন। তালিকায় থাকা ২৫ জনই ‘পলাতক’। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধেই মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করেছিল সংস্থাটি। তাকে গ্রেফতারে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ।
ব্রিটিশ দৈনিকটি গত ২৬ ডিসেম্বরের ওই প্রতিবেদনে আরও জানায়, সাজাপ্রাপ্ত মঈনুদ্দীন লন্ডনে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান, স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। তিনি নিয়মিত শপিংয়ে ও মসজিদে যান।
এ বিষয়ে মঈনুদ্দীনের এক প্রতিবেশী মন্তব্য করেন, হয়তো ইন্টারপোল কঠোরভাবে তাকে খুঁজছে না। তিনি জানান, তারা এখানে ১৮ বছর ধরে আছে। মঈনুদ্দীনের যুদ্ধাপরাধ কিংবা ইন্টারপোলের পরোয়ানার বিষয়ে কিছুই জানি না। তার বাড়িতে কয়েকবার পুলিশ দেখার কথা জানিয়েছেন অন্য প্রতিবেশী। তবে মঈনুদ্দীন তার বাড়িতে বসেই দাবি করেছেন, তিনি ইন্টারপোলের রেড নোটিসের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এদিকে, সম্প্রতি এক সকালে সাউথগেটে মঈনুদ্দীনের বিলাসবহুল বাড়িতে গিয়ে হাজির হন যুক্তরাজ্যের আরেক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের সাংবাদিক। সেখানে বাড়ির দরজা সামান্য খুলে কথা বলেন এক নারী। মঈনুদ্দীনের বিষয়ে জানতে চাইলে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই নারী জানান, তিনি বাড়িতে নেই এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই। আর কোনো কথা না বলে তিনি দরজা বন্ধ করে দেন।
১৯৩০ সালের দিকে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ির প্রাঙ্গণে দামি বিএমডব্লিউ ফাইভ সিরিজের কালো রঙের এক গাড়ি দেখেছেন ডেইলি মেইলের সাংবাদিক। সেখানে আরও অন্তত দুটি গাড়ি রাখার মতো জায়গাও রয়েছে।
মঈনুদ্দীনের সঙ্গে একই রায়ে আরেক বদর নেতা আশরাফুজ্জামান খানেরও সাজা হয়েছিল। আশরাফ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। জামায়াতে ইসলামীর তখনকার সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের এ দুই কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষক, ৬ সাংবাদিক, ৩ চিকিৎসকসহ ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যা করেন। রায়ের পর এক সাক্ষাৎকারে মঈনুদ্দীন দম্ভভরে বলেছিলেন, বিচারক ও তাদের চ্যালাচামু-ারা নিজেরা উল্টো ঝুলে পড়লেও তাকে ঝোলাতে পারবে না।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। ব্রিটিশ নাগরিকত্বও পান। তার ৫৭ বছর বয়সী স্ত্রী ফরিদা ও চার সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশে সাজা হলেও মঈনুদ্দীনকে ফাঁসিতে ঝোলানোটা অসম্ভবই হবে বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী বিনিময়ের চুক্তি নেই। এ ছাড়া ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামিকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ব্রিটেনের নীতিবিরুদ্ধ।

Category:

প্যারিস অন প্লানেট সম্মেলন

Posted on by 0 comment

43সাইদ আহমেদ বাবু: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্যারিসে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় সারাবিশ্ব। ২০০৯-এ ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে যা সম্ভব হয়নি। উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর দায় কোন দেশ কতটা নেবে, সেই প্রশ্নে কোপেনহেগেনের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ভেস্তে গিয়েছিল। পারল প্যারিস। ১৯৬টি দেশ ১৩ দিন ধরে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন ২০১৭ আলোচনা করে সামনে নিয়ে এলো এক চূড়ান্ত খসড়া। যাতে বলা হলো, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেন বর্তমানের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে সেটি নিশ্চিত করাই হোক বিশ্বের লক্ষ্য। তবে সকলের ইচ্ছে উষ্ণায়নকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমায় বেঁধে রাখা। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এজন্য যথেষ্ট অনুদান দেওয়া ও পাঁচ বছর অন্তর উষ্ণায়নের পরিস্থিতি বারবার দেখার কথাও বলা রয়েছে খসড়ায়। ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সব দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। সবাই মোটামুটি একটা মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছে। মনে হয়, সবাই বুঝতে পেরেছে এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন কম-বেশি সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন ‘মনুমেন্টাল সাকসেস’Ñ এ কথার একটা গুরুত্ব আছে। প্রতিটি দেশের বিভিন্ন প্রকার ধ্যান-ধারণা, মত-পথ ছিল। সবাইকে মতৈক্যে আনা সত্যি একটা কঠিন কাজ। বাংলাদেশের দাবি ছিল বেশি অর্থ পাওয়ার। এই শতাব্দীতে যেন তাপমাত্রা না বাড়ে, তাপমাত্রার বৃদ্ধি যেন দেড় ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ থাকে। শিল্পোন্নত দেশের কার্বন নিঃসরণের ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সে জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।
উষ্ণায়ন থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে এটাই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক খসড়ায়, যাতে সায় দিয়েছে ভারত, চীন এবং জি-৭৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোও। কার্বন নির্গমনের প্রশ্নে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় এই প্রথম মধ্যপন্থা দেখাল প্যারিসের সম্মেলন। ১৩ দিনের মাথায় এখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন ফঁব পেশ করলেন খসড়া প্রস্তাব। আহ্বান জানালেন খনিজ তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে রোধ করা এই ‘ঐতিহাসিক’ খসড়া গ্রহণ করুক প্রতিটি দেশ।
তবে শুধু ভারত, বাংলাদেশ, চীন বা সৌদি নয়, পৃথিবীকে বাঁচাতে পৃথিবীর প্রতিটি দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ওলাঁদ। তিনি জানান, এ রিপোর্টের পরিকল্পনা দেশগুলো গ্রহণ করলে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে অনেকটাই রোধ করা যাবে। আর তা না হলে পুনরায় ব্যর্থ হবে পৃথিবীকে বাঁচানোর এই উদ্যোগ। ২০০৯ সালে কোপেনহাগেনের জলবায়ু সম্মেলন ভেস্তে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ওলাঁদ বলেন, ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে এই খসড়াই যে এ মুহূর্তে একমাত্র আশার আলো তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বান কি মুনও। তার কথায়, কোটি কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে। জাতীয় স্বার্থের খাতিরেই এবার আমাদের বিশ্বজুড়ে এক হওয়ার সময় এসেছে। প্যারিস চুক্তির ভিন্নতা অন্য চুক্তিগুলোর চেয়ে প্যারিস চুক্তির প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এর সময়কাল বেশি। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর ২০২০ সালের মধ্যে চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়া দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন নির্দিষ্ট সীমায় নামাতে হবে।
এই চুক্তির ভিত্তিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করবে ধনী দেশগুলো। বাংলাদেশ ছিল জি-৭৭ গ্রুপে। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ, শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ, দ্বীপরাষ্ট্রের গ্রুপ ইত্যাদি। বাংলাদেশ জি-৭৭ গ্রুপের মাধ্যমে মতামত তুলে ধরেছে। কোপেনহেগেনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের তাপমাত্রা যেন দেড় ডিগ্রির বেশি বৃদ্ধি না পায় সেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্যারিস চুক্তিতে বিষয়টি বিভিন্নভাবে এসেছে। এটা আমাদের একটা সফলতা বলা যেতে পারে। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের আওতায় জলবায়ু সনদ তৈরি হয়। বাংলাদেশসহ ১৯৫টি দেশ এতে স্বাক্ষর করে। এই সনদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ১৯৯৭ সালে আরেকটা সনদ তৈরি হয়, একে কিয়োটো প্রটোকল বলে। এখানেও বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। কিয়োটো প্রটোকলে পৃথিবীর জন্য কিছু কল্যাণকর বিষয় ছিল।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন, তাতে এই পরিবর্তনের জন্য বিশ্বের ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ছে দরিদ্র দেশগুলোয়। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) এই বৈষম্যের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়।
বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এই সম্মেলনে মিলিত হন বিশ্ব নেতারা। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অংশ নিয়েছেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।
ফ্রান্সের প্যারিসে ওয়ান প্লানেট সামিটে নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রতি আমি আহ্বান জানাতে চাই, জলবায়ু সংকটে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিহাসের দায় মেটাতে তারা যেন তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। কেবল যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এই পৃথিবীকে নিরাপদ করতে পারি।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জলবায়ু প্রশ্নে আমাদের যৌথ অঙ্গীকার ও উদ্যোগ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে, সাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় উদ্যোগ গ্রহণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। গত সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের উদ্যোগে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল প্যাক্ট ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট’ চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ এ ভয়াবহ আপদের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতিরোধ ও অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে আমাদের টেকসই উন্নয়ন কৌশলে এটিকে মূল ধারায় রাখা হয়েছে।
এই সম্মেলন থেকে শেখ হাসিনা বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ২ শতাংশ বনাঞ্চল বৃদ্ধি করে বিদ্যমান ২২ থেকে ২৪ শতাংশে উন্নীতে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের মোট আয়তনের ২২ শতাংশ বনভূমিকে আগামী পাঁচ বছরে ২৪ শতাংশে নিয়ে যেতে সরকার প্রয়োজনীয় বনায়ন কর্মসূচি নেবে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন সংরক্ষণে ৫ কোটি সাড়ে ৭ লাখ ডলারের প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষিকে আমরা জলবায়ু সহিষ্ণু করছি। আমরা শহরে পানি সরবরাহে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কাজ করছি।
সহিংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল সংখ্যক জনগণকে আশ্রয় দিতে গিয়ে দেশের উপকূল অঞ্চলের জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়টি ‘বিরাট’ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি নাগরিক আশ্রয় নেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে কক্সবাজারে ১ হাজার ৭৮৩ একর বনভূমিতে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। প্রলম্বিত এই উদ্বাস্তু সমস্যা ওই অঞ্চলে আমাদের বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে পরিবেশ সুরক্ষা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
এ শীর্ষ সম্মেলনে ১০০ বিশ্ব নেতাসহ বেসরকারি সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে তার অঙ্গীকারের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

Category:

বিসিআইএম করিডর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা চাই : ওবায়দুল কাদের

Posted on by 0 comment

38উত্তরণ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডর নির্মাণের জন্য মিয়ানমারকে রাজি করাতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন। গত ৭ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা চান।
আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণে চীনের এ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑ চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকোনমিক করিডর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ রাস্তা নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী। কিন্তু এই রাস্তা নির্মাণের জন্য মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এই সহযোগিতা করছে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চায়।
ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

Category:

রোবট এবং নাগরিক ‘সোফিয়া’

Posted on by 0 comment

36অনিন্দ্য আরিফ: আলোচনা বেশ জমাট বেঁধেছিল ২০১৭ সালের শেষ লগ্নে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এসেছিল রোবট সোফিয়া। সেই সোফিয়াকে জানার আগে রোবটিক ব্যাপার-স্যাপারগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নিলে মন্দ কীÑ
রোবট (জড়নড়ঃ) এমন একটি ইলেট্রো-যন্ত্রের নাম যা যান্ত্রিকভাবে তৈরি, তবে কাল্পনিক-কৃত্রিম কার্য সম্পাদন করতে সক্ষম। রোবটের কাজকর্ম, অবয়ব ও চলাফেরা দেখে মনে হবে এটি নিজ থেকেই কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবট সংবেদনশীল নয় এমন কাজে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন কী এটার আচরণ নির্ধারিত ক্ষেত্রে কখনও কখনও মানুষের মতোও হতে পারে।
রোবট শব্দটির উৎপত্তি এসেছে চেক শব্দ রোবোটা থেকে, যার অর্থ শ্রমিকÑ মানুষের দাসত্ব কিংবা ধারাবাহিকভাবে কার্য সম্পাদন করতে পারে এমন যন্ত্র। চতুর্থ প্রজন্মের রোবট কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা মানুষ যেভাবে পরিচালিত করবে ঠিক সেভাবেই কাজ করতে পারে। রোবটের কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে। সহজ ভাষায়Ñ যে যন্ত্র নিজে নিজে মানুষের কাজে সাহায্য করে এবং নানাবিধ কাজে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা-ই রোবট। এমন কী রোবটের পরিবেশ অনুভব করার ক্ষমতা আছে। ফলে বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আদিতেও সংস্কৃতির পৌরাণিক কাহিনিতে স্বয়ংক্রিয় বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেওয়া আছে। সভ্যতার উষালগ্নে মানুষ এবং প্রাণীর আদলে চীন, গ্রিস এবং মিসরের প্রকৌশলী এবং আবিষ্কারকগণ স্বয়ংক্রিয় বস্তু নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে আর্কাইসের কৃত্রিম ঘুঘু, কৃত্রিম মোজি, পাখি, আলেক্সজান্দার হিরো, বাইজেন্টিয়ামের ফিলো এবং মানব লি জি অন্যতম। এছাড়া কৃত্রিম মানুষ, গ্রিক-রোমানদের দেবতা, ইহুদিদের কাদামাটির গুলেমস, দৈত্য, ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মূর্তিও প্রাচীন ইতিহাসের ‘রোবট’ হিসেবে বিবেচিত।
বিস্ময়করভাবে রেনেসাঁ যুগে রোবট সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দিয়েছেন কিংবদন্তি চিত্রকর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (১৪২৫-১৫১৯)। ১৪৯৫ সালে তিনি একটি মানুষের আদলে রোবট বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। যা নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালে। ওই সময় দ্য ভিঞ্চির বিস্ময়কর নোটবুক থেকে জানা গেছে রোবটের কথা। তবে ফ্রান্সের জ্যাকস দে ভ্যাকানসন ১৭৩৮-১৭৩৯ সালে একটি বাঁশি বাদক, একটি পাইপ বাদক এবং একটি হাঁসের রোবট তৈরি করে আলোচনায় আসেন। মানুষকে আনন্দ-বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৭৯৬ সালে আধুনিক বিশ্ব রোবটের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন জাপানের কারাকুরি জুইয়ের মাধ্যমে। তিনি পরিসেবা দিতে পারে এমন একটি যান্ত্রিক পুতুল আবিষ্কার করেন। এই পুতুলটি মানবকল্যাণে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো। আধুনিক বিশ্বে এটাই ছিল বিজ্ঞানতাত্ত্বিক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিজ্ঞানীরা রোবটের ধরন-কর্ম সম্পাদনের উপযোগিতা চিন্তা করে আধুনিক রোবট সৃষ্টি করেছেন। যাদের মধ্যে সংবেদনশীলতাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপিত প্রশ্ন কিংবা কাজের সমাধানও দিতে পারছে। সোফিয়া এদের মধ্যে অন্যতম একটি রোবট মানব। সোফিয়া মানুষের ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ও শিখতে পারে। প্রয়োজনে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারে। সোফিয়ার বৈশ্বিক বুদ্ধিমত্তা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এক ঘটা আয়োজনে সোফিয়াকে ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব আমিনা জে মোহাম্মদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিসিয়েটিভ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় সোফিয়াকে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। ইতিহাসে এটাই প্রথম কোনো রোবটকে কোনো দেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবের মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
সোফিয়া হচ্ছে মানুষের মতো দেখতে রোবট। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস সোফিয়ার আবিষ্কারক। সোফিয়ার জন্ম ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল। হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের আদলে তৈরি করা হয়েছে সোফিয়াকে। মানুষের মতো বানানোর কারণেই সোফিয়াকে নিয়ে বাড়তি হৈচৈ পড়েছে। প্রস্তুতকারী ডেভিড হ্যানসন জানিয়েছেনÑ সোফিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, প্রকৃত তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মুখে বিন্যাস বা ফেসিয়াল রেকজনাইজেশন করতে পারে। সোফিয়া মানুষের অঙ্গভঙ্গি-অভিব্যক্তি নকল করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথোকপথন চালিয়ে যেতে পারে। সোফিয়ার কণ্ঠে আলফাবেট ইনকর্পোরেটেড ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে এমন ইনপুট দেওয়া হয়েছে যাতে সে চতুরতার সঙ্গে সময় অতিবাহিত করতে পারে। সোফিয়ার বুদ্ধিমত্তার জন্য সিংগুলারিটিনেট সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। যা বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রম কথোপকথন এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে তার তাৎক্ষণিক মেধাসম্পন্ন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। সোফিয়ার মধ্যে এলিজার মতো কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে নির্মিত রোবট এলিজার মানুষের মতো কথোপকথনের ক্ষমতা রয়েছে। সোফিয়াকে পরিসেবাকারী হিসেবে অনুষ্ঠান-আয়োজনে সহযোগিতা করতে পারে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মনে করেÑ সোফিয়া মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ সামাজিক দক্ষতা অর্জন করবে।
বাংলাদেশে সোফিয়া
গত ৫ ডিসেম্বর রোবট কন্যা সোফিয়া বাংলাদেশের সফরে এসেছিল। হংকং থেকে থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওই দিন রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সোফিয়া। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোফিয়া উপস্থিত ছিল। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সোফিয়ার নির্মাতা ড. ডেভিড হ্যানসন উপস্থিত ছিলেন। আগারগাঁওয়ে তথ্যপ্রযুক্তির প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর উদ্বোধনী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যন্ত্রমানবী সোফিয়া নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পরপরই মঞ্চে আসে যন্ত্রমানবী সোফিয়া। তার পরনে ছিল হলুদ-সাদা জামদানির টপ আর স্কার্ট। শুরুতেই সম্ভাষণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ ‘হ্যলো সোফিয়া, কেমন আছো।’ জবাব দেয় সোফিয়াÑ ‘হ্যালো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আমি ভালো, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে আজকের এই সাক্ষাৎ সত্যিই বেশ আনন্দের।’ অপর প্রশ্নের উত্তরে সোফিয়া বলেÑ ‘আমি জানি, আপনি বাংলাদেশের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। আপনাকে বিশ্বে এখন মাদার অব হিউম্যানিটি বলা হচ্ছে। আমার নামে আপনার একজন নাতনি আছে, সোফিয়া।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, সুবীর কিশোর চৌধুরী প্রমুখ। পাশাপাশি সোফিয়া পলিসি মেকার, সাংবাদিক, তরুণ অ্যাপ ডেভেলপার, গেম ডেভেলপার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রোবট সোফিয়াকে সৌজন্যমূলক গোল্ড মেম্বারশিপ কার্ড প্রদান করেছে।
সোফিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডিভাইসে সমৃদ্ধ। সেই কারণে তিনি প্রশ্নকারীর উত্তর ঝটপট দিতে পারেন। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গভীরতা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। যন্ত্রবিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং ১৯৫০ সালে একটি মেশিনের বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা করতে সক্ষম হন। দুর্বল কম্পিউটেশনাল পাওয়ারের কারণে একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। তবে কম্পিউটারের প্রসেসিং পাওয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আবার গবেষণা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে ফেসবুক, গুগুল এবং আমজন মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গবেষণা করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
আমরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করি। মঙ্গলে মানুষের কলোনি বানানোর স্বপ্ন দেখছে। এর সবটাই ভাবছি এই মস্তিষ্কটাকে কাজে লাগিয়ে। মহাকাশ অনেক দূরে হয়েও আমরা অনেক কিছু জানতে পারি। কিন্তু মস্তিষ্কটাকে কীভাবে কাজ করে, এখনও ঠিকমতো আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। যতটুকু বুঝে উঠেছি আমরা, ততটুকু ব্যবহার করেই আমরা বুদ্ধিমান সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করছি। মানুষের মস্তিষ্ক নিউরন দ্বারা গঠিত। আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে। এগুলো একটা একটার সঙ্গে নেটওয়ার্কের মতো কানেক্টেড। এই জৈবিক নিউরাল নেটওয়ার্কের অণুকরণ করেই বিজ্ঞানীরা আর্টিফিসিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন। আর্টিফিসিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা অংশ মাত্র। মূলত এটি হচ্ছে মেশিন লার্নিং-এর একটা শাখা। আর মেশিন লার্নিং হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের একটি শাখা। সাধারণভাবে কম্পিউটার বা কোনো মেশিনকে যে ইন্সস্ট্রাকশন দেওয়া হয়, কম্পিউটার বা মেশিনগুলো সে অনুযায়ী কাজ করে। আবার কখনও কখনও মেশিনও নিজ থেকে কিছু কাজ সম্পাদন করতে পারে। এটা সম্ভব হচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের মাধ্যমে। একটি রোবট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতেই নিজেকে পরিচালিত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এটি হতে পারে বিস্ময়কর কিছু। আবার হতে পারে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিবর্তন। এমনকি আমাদের অস্তিত্বও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আমরা মানুষরা বুদ্ধিমান, কিউরিয়াস। আমরা দেখতে চাই কি হবে ফিউচারে। এটাই হচ্ছে বুদ্ধি। প্রায়োগিক চিন্তা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে তারা কম্পিউটার বা কম্পিউটারাইজ যন্ত্রগুলো যাতে মানুষের মতো বুদ্ধিমান করে তোলা যায় সেই গবেষণা অব্যাহত রাখছে। সোফিয়াকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
রোবট সোফিয়া ইতোমধ্যেই মানুষকে ভালোবাসতে শিখে গেছে। বাংলাদেশ সফরকালে সোফিয়া সন্তান গ্রহণের কথা বলেছেন। পরিবারও গঠন করতে চায়। এটা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সোফিয়া প্রায় মানুষের মতোই মুখভঙ্গি করতে পারে। তবে তার এমন প্রতিক্রিয়া আগে থেকেই নির্ধারিত নয়। আলাপচারিতার সময় মেশিন লার্নিং পদ্ধতির মাধ্যমে শেখা ও সংরক্ষিত তথ্য থেকেই প্রতিক্রিয়া জানায় রোবটটি। সোফিয়া বলেছেনÑ ‘আমি মনে করি, আপনার যদি একটি সুখী পরিবার থাকে, তবে আপনি সৌভাগ্যবান। আমি রোবট এবং মানুষের জন্য তা একই মনে করি।’ সন্তান হিসেবে কন্যাসন্তানই পেতে চায় সোফিয়া। আর তার নাম কী রাখা হবে, এমন প্রশ্নে সোফিয়া বলেÑ ‘সোফিয়া’। সোফিয়ার এমন চমৎকার আলাপচারিতার ক্ষমতা থাকলেও তার এখনও কোনো চেতনাবোধ নেই। আগামীতে সোফিয়ার আরও উন্নয়ন সম্ভব এমনটাই জানিয়েছে রোবটটির নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন।
৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই যন্ত্রমানবী ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সে কণ্ঠ ও চেহারা শনাক্ত করতে পারে; বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে ক্রমাগত বাড়িয়ে নিতে পারে নিজের জ্ঞানও। দুদিনের সফর শেষে ৭ ডিসেম্বর সোফিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন।

Category:

গৌরবে উৎসবে আনন্দে মুখর বিজয় দিবস

Posted on by 0 comment

45উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকেই যেন চিত্রশিল্পীর রঙিলা ক্যানভাস হয়ে ওঠে শহর ঢাকা। নগরের চারপাশে দেখা গেছে বর্ণময়তার দৃশ্যকাব্য। নগরবাসী পথিকের সূত্র ধরে পথে পথে বয়ে গেছে আনন্দের ফল্গুধারা। আর এমন আনন্দের উপলক্ষ্য ছিল মহান বিজয় দিবস। সেই সুবাদে বাঙালির জাতিসত্তা প্রকাশের দিনটিতে দারুণ সরব ছিল নগরের সংস্কৃতি ভুবন। সেসব আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ সঁপে দেওয়া শহীদদের। ভালোবাসা জানানো হয়েছে পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠানো নতুন দেশের স্বপ্ন আঁকা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। দিনভর উচ্চারিত হয়েছে জয় বাংলার গান আর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। দিনটিতে যেন নতুন করে খোঁজা হয়েছে স্বাধীনতা শব্দটির তাৎপর্য। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসায় বর্ণিল হয়েছে ঢাকার পথ-প্রান্তরসহ নানা মঞ্চ কিংবা মিলনায়তন। আর এসব আয়োজনে বিশিষ্টজনদের আলোচনা, নৃত্য, গীত ও কবিতার ছন্দে, নাটকের সংলাপে কিংবা শিল্পীর মনন আশ্রিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে জাতির সূর্য-সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আট মঞ্চে সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সে আয়োজনের অংশ হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘৭ মার্চ মুক্তি ও স্বাধীনতার ডাক বাংলার ঘরে ঘরে/৭ মার্চ সম্পদ আজ বিশ্ব-মানবের তরে’। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও রামেন্দু মজুমদার।
শোভাযাত্রা-পূর্ব বক্তৃতায় জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা স্বাধীন হয়েছি। কিন্তু এখনও পরাধীনতা ও সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত হইনি। অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকেও মুক্ত হয়নি। অসম্পূর্ণ যে কাজগুলো আছে তা আমাদের পূর্ণ করতে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ করবে।
শোভাযাত্রায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জোটভুক্ত শতাধিক সংগঠনে কয়েক হাজার সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্ত হয় শোভাযাত্রা। বিজয়ের আনন্দ ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে নাটক, গান, আবৃত্তি ও নৃত্যাঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টরা অংশ নেয় শোভাযাত্রায়। শোভাযাত্রা জুড়ে ছিল জাতীয় পতাকা ও একাত্তরের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পোস্টার। ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকে ঐতিহাসিক ২৪টি বাণী সম্বলিত ফেস্টুন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এসে শেষ হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী উৎসবের শেষ দিন ছিল বিজয় দিবস। এদিন সকালে আগারগাঁওয়ের জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় কার্যক্রম। এরপর অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

শিল্পকলা একাডেমি
বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কামাল লোহানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। সাংস্কৃতিক পর্বে প্রখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা দেশের গান, নাচ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল ঠিক সেভাবেই প্রতীকী আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতা অবলম্বনে একটি নাটক পরিবেশন করে যশোরের একটি নাট্য দল। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

বাংলা একাডেমি
বিজয় দিবসের বিকেলে একাডেমির নজরুল মঞ্চে প্রবন্ধ পাঠ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। এতে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি, বিজয় ও বিজয়ের মহানায়ক শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন রামেন্দু মজুমদার, খুশী কবির ও নাদীম কাদির। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

শিশু একাডেমি
বিজয় দিবসের বিকেলে ‘আমার ভাবনায় ৭ মার্চ’ শীর্ষক শিশুদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিশু একাডেমি। এ অনুষ্ঠানে শেখ রাসেল আর্ট গ্যালারি উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির চেয়ারম্যান কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন।
ছায়ানট
ছায়ানটের আয়োজনে বসেছিল দেশের গানের আসর। এর যৌথ আয়োজক ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সবাই জাতীয় পতাকার লাল-সবুজের পোশাকে রাঙিয়ে তুলেছিল। সবাই একসাথে গেয়ে ওঠে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। শিল্পীরা আসেন লাল শাড়ি আর পাঞ্জাবি গায়ে। দর্শকরা এসেছিলেন সবুজ শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে। বেলা পৌনে ৪টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন ও দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় দেশবরেণ্য শিল্পীদের পাশাপাশি রাজধানীর কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী শিল্পীরা।

কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা
সেগুনবাগিচার কচি-কাঁচা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কচি-কাঁচার মেলা। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা শোনান স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মেলার ক্ষুদে সদস্য আদিবা কিবরিয়া।

বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম সোসাইটি
১৫ ডিসেম্বর বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম সোসাইটি। রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টার অডিটোরিয়ামে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ফোরামের উপদেষ্টা মনজারে হাসিন মুরাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যখনই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করা হয়েছে তখনই সংস্কৃতিকর্মীরা সিনেমাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবাদ করেছে। পরে জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র মেঘমল্লার এবং তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ নির্মিত মুক্তির গান প্রদর্শিত হয়। বিজয় দিবসের দিনে দেখানো হয় ইয়াসমিন কবিরের স্বাধীনতা, নাসির উদ্দিন ইউসুফের গেরিলা এবং মানজারে হাসিন নির্মিত এখনও ’৭১।
বিজয়ের ৪৬ বছর উদযাপনে দিনটি রাজধানীর সংস্কৃতি অঙ্গন ছিল আনন্দমুখর। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সাভারের স্মৃতিসৌধ অভিমুখে ছিল মানুষের স্রোত। শিশু-কিশোররা ছুটেছে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। অনেকে ভিড় করেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে। জাতীয় জাদুঘরের দ্বার ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। নগরীর মঞ্চে মঞ্চে ছিল একাত্তরের প্রেরণা সঞ্চারী সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নাচসহ নানা আয়োজন।

Ñ সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল

Category:

নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিএনপির আর কী বিকল্প আছে!

Posted on by 0 comment

33ভাষ্যকার: ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি কি যোগ দেবে? দিলে কি হবে আর না দিলে?’ এ ধরনের প্রশ্ন এখন সবখানে। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা নতুন বছর হচ্ছে নির্বাচনের বছর আর দেশের মানুষ হচ্ছে নির্বাচন-পাগল। এমনটা হওয়ার পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ দিনের প্রতিবাদী সংগ্রামী ঐতিহ্য। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালি জাতিসত্তার ওপর আঘাত এলে দেশবাসী সংগ্রামের ভেতর দিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোটাধিকার আদায় করে এবং ভোটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই বিচারে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের সাথে নির্বাচন ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। আর ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন তথা জনগণের জীবন-জীবিকা ও দেশের উন্নতি অগ্রগতির পথ নির্ধারিত হয় বিধায় দেশবাসী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে ভোটের প্রয়োজন ও গুরুত্ব বুঝে নিয়েছে। অর্জন প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় দেশবাসী ভোটকে মনে করে পবিত্র আমানত এবং নির্বাচনকে উৎসব হিসেবে বিবেচনায় নেয়।
প্রসঙ্গত বলতেই হয়, বিএনপি-জামাতের ২০-দলীয় জোট বিগত নির্বাচন বয়কট আর সেই সাথে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কাজ যুক্ত করায় দেশবাসী বিগত নির্বাচনের সময় ভোট-উৎসবে শামিল হতে পারে নি। এতে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপিরও সর্বনাশ হয়েছে। এটা সবারই জানা যে বিগত নির্বাচনের সময় কার্যত যে দাবি সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছিল, সেই তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবি এবারেও পূরণ হবে না। কারণ বিএনপি গতবারের মতো এবারেও এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রদান করতে পারে নি। লন্ডনে সুদীর্ঘ সময় নীরব থেকে দেশে ফিরে আসার পর খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা প্রথমে জোরগলায় বলে যাচ্ছিল, দ্রুতই দেওয়া হবে ওই রূপরেখা। কিন্তু এখন আর ওই ব্যাপারে কোনো তোড়জোর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নির্বাচন সামনে রেখেও যেখানে নিজেরাই নির্বাচনকালীন সহায়ক বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দিতে পারছে না আর সর্বোপরি রাজনীতির মাঠেও যেখানে বিএনপি নেই, সেখানে এই দাবি আদায় হবে এমনটা মনে করার বিন্দুমাত্র কোনো কারণ নেই। এ অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ভিন্ন বিএনপির আর কোনো পথ-বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। প্রকৃত বিচারে বিএনপি-জামাত জোটের গৃহযুদ্ধ বাধানোর অসৎ পরিকল্পনা ও অপতৎপরতা সত্ত্বেও বিগত নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী সংঘটিত করে এবং সংসদ অব্যাহত রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট সরকার যে সাহস দুরদর্শিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে, সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের যে সুযোগ এখনও বহাল রয়েছে, এবারে সেই সুযোগ গ্রহণ করে আত্মহত্যার পথ থেকে বের হয়ে আসতে পারে বিএনপি। যদি যুদ্ধাপরাধী জামাত ও মুরব্বি পাকিস্তানের অনুপ্রেরণা ও মদদে পরিচালিত গতবারের পথ ও পন্থা পরিহার করে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে দেশের যেমন মঙ্গল, তেমনি সর্বনাশের পথ থেকে নিজেকে তুলে আনার প্রচেষ্টা এবারে বিএনপি নিতে পারে।
কিন্তু যুদ্ধাপরাধী দল জামাতসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থি দলগুলোকে ২০-দলীয় জোটে রেখে এবং দেশের চিরশত্রু পাকিস্তানকে মুরব্বি হিসেবে রেখে বিএনপি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ আদৌ নিতে পারবে কি না এটাই নতুন ও নির্বাচনী বছরের শুরুতে রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! যদি পারে তবে তা হবে অপমৃত্যু থেকে বিএনপির সর্বনাশের পথ এড়ানোর একমাত্র আশু সুযোগ। বিএনপির থিংক ট্যাংক ও হাইকমান্ডকে এটা স্মরণে রাখতে হবে যে, বিগত নির্বাচনের আগে পরে দু-দুবার বিএনপি সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কাজ চালালে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এর আগে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকায় ওঠে। দেশে ‘বাংলাভাই ও মুফতি গং’দের আর বিদেশে দাউদ ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ রেখে বিএনপি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে দেশবাসীর অর্জন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। এখন সরকারের বিরুদ্ধে থেকে যদি আবার সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী ওই ঘৃণ্য পথ গ্রহণ করে, তবে যে এবারে সন্ত্রাসী দলের তালিকায় স্থায়ীভাবে নাম উঠবে বিএনপির, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এ বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য রেখেই খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা বারবার বলে যাচ্ছেন, বিএনপি একটি নিয়মতান্ত্রিক দল।
কিন্তু কথা অনুযায়ী অবস্থান কি নিতে পারবে দলটি? পারবে বলে মনে হয় না। কেননা পুতুল খেলার মতো দলের ওপর যে রয়েছে পরাজিত দেশি-বিদেশিদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সুতার নানামুখী টান। তাই উল্লিখিত রিক্সের কথা দলের বাস্তব সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিবেচনায় রাখতে পারছে না। দলটি এখন রয়েছে ত্রিভঙ্গ রূপ ধারণ করে। গত ৭ ডিসেম্বর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দল এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আর প্রথম থেকেই খালেদা জিয়া বলে আসছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। আন্দোলনই একমাত্র পথ। এদিকে মওদুদ বলছেন নির্বাচনে যোগ দেওয়ার কথা আর ড. মোশাররফ বলছেন উল্টো কথা। রিজভী একটা বলেন তো গয়েশ^র বলেন অন্য কথা। সবশেষে অবশ্য খালেদা জিয়া দলের সভায় নেতাদের এ বিষয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবেই তাই দেশবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, নেতাদের চুপ থাকার পরামর্শ কেন দিলেন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে সুদীর্ঘ ৯ বছর বিএনপি ক্ষণে ক্ষণে চুপ থাকা এবং চুপ থাকা অবস্থায় দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ অনভিপ্রেত নানা ঘটনা সংঘটিত হতে থাকায় জনগণ অভিজ্ঞতা থেকে মনে করছে, নির্বাচন সামনে রেখে আরও বড় ধরনের মারাত্মক কোনো চক্রান্ত ও নাশকতামূলক ঘটনা সংগঠিত করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি-জামাত জোট! যদি সেটি হয় তবে দলটির মুখোশ আরও উন্মোচিত হবে এবং জনগণের উল্লিখিত ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত হবে। তাতে দলের সমূহ ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্তি ঘটবে না। মাইনাসে আরও অনেক মাইনাস পয়েন্টস যোগ হবে। তাই এ ব্যাপারে সরকার ও দেশবাসীর সতর্ক থাকা ভিন্ন কোনো পথ নেই। একটু খেয়াল করলেই এটা দেখা যাবে যে, সম্প্রতি চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উগ্র জঙ্গি সন্ত্রাসীদের ধরপাকড় করছে, আস্তানা ভেঙে দিচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বোমা বিস্ফোরণের নায়ক আবু সাইদ ওরফে শ্যামল শেখকে বগুড়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার চুপ করে থাকার নির্দেশ বিবেচনায় নিয়ে ওই ধরনের অভিযানকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা ভিন্ন সরকারের বিকল্প আর কিছু নেই।
অবস্থাদৃষ্টে চুপ করে থাকার নির্দেশ দেওয়ার আরও একটি কারণ থাকতে পারে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত অনলাইন খবরে জানা যাচ্ছে, ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা ড. মঈন খানের সাথে ভারতীয় দূতাবাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে না-কি ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে ভারত সমর্থন করে না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এই নিয়ম থাকতে পারে না। এই দাবি ছাড়া আর কোন শর্ত পূরণ করলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। উত্তরে ওই বিএনপি নেতা না-কি বলেছেন, বেগম জিয়া যদি দুর্নীতির দুই মামলায় গ্রেফতার হন, তবে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার পথ থাকবে না। এদিকে আবার রয়েছে সৌদি আরবসহ বিদেশে লুণ্ঠিত সম্পদ পাচারের অভিযোগ। বেগম জিয়াকে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে। এটাই বিএনপির প্রথম শর্ত। আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার। প্রকাশ্যে নির্বাচন প্রশ্নে চুপ থেকে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বহাল রেখে ভেতর ভেতরে ওই দুই শর্ত কার্যকর করার পথ বিএনপি খুঁজছে বলে জনগণের মনে করার তাই যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উল্লিখিত খবরটি যদি সত্য হয়, তবুও কিন্তু আত্মসন্তুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। কেননা মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সাথে সাথে দেশে অরাজকতা বিশৃঙ্খলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে তৎপর থাকবে বিএনপি ও জামাতের ২০-দলীয় জোট। কেননা নিজের নাক কেটে পরের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ গতবারের মতো এবারেও বন্ধ করতে চাইতে পারে বিএনপি-জামাতের ২০-দলীয় জোট। যে দলের জন্ম সেনা ছাউনিতে আর যে দল সামরিক ফরমানে সংবিধান সংশোধন ও ‘হ্যাঁ ভোট’ ‘না ভোট’ করে ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল, যে দলের ‘আত্মার আত্মীয়’ ও সঙ্গী পাকিস্তানিদের দালাল-ঘাতকরা, সেই দলের এমন নীতি ও কৌশল থাকাটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এক্ষেত্রে নির্বাচন বয়কট ও আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসের লাইনেই যদি যায় বিএনপি, তবে গতবারের চাইতে আরও বেশি সর্বনাশের পথে পা দেবে দলটি। গতবার বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচন বয়কটের লাইনে দেশের কয়েকটি বাম ও ডান দলকে রাখতে পেরেছিল। সেই সাথে এরশাদদের জাতীয় পার্টিকেও টালমাটাল অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু এবারে নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কয়েকটি জোট গঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অগণিত দল নিয়ে জোট বেঁধে কার্যত নির্বাচনের মাঠে নেমেছে এবং রংপুর সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঘোষণা করেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকল্প ধারা, জাসদ (রব), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য জোট গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে বাম জোট কোথায় কোন প্রার্থী দাঁড়াবে, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসব জোটগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবি এবারে আর সামনে আনছে না। নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু আসন পেতে পারে বিবেচনায় ওই সব জোট যে বিএনপি-জামাত জোট ভোট বয়কট করলেও নির্বাচনে যোগ দেবে, তা অবস্থা বিবেচনায় প্রায় নিশ্চিত। এদিকে বিএনপির সাথে জামাতের ঐক্য থাকলেও ওই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির লক্ষণ সুস্পষ্ট। খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে বিএনপির পক্ষের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামবে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে কোর্টের রায়ে বের হয়ে আসার সময়ও কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বিন্দুমাত্র সক্রিয়তা দেখাতে পারেনি। এসব দিক বিচারে ফাঁটা বাঁশের চিপায় পড়া বিএনপির নির্বাচন বয়কট করার সম্ভাবনা একেবারেই কম। যদি করে তবে বিএনপির অবস্থা হবে পিপিলিকার পাখা ওড়ে মরিবার তরে প্রবাদের মতো।
ইতোমধ্যে অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, বিএনপির দুই নম্বর নেতা তারেক জিয়া না-কি টেলিফোনে নেতাদের বলছেন, সরকারের সাথে সমঝোতা হলো কি না কিংবা কে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এলো সেটি বড় কথা নয়। মূল কথা হলো, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিএনপিকে মিত্র দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনে যোগ দিতে হবে। এমনটা বলার কারণ যে রয়েছে, তা অবস্থা পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। বিএনপি কখনও গণসম্পৃক্ত আন্দোলনের দল নয়। ইস্যুভিত্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন পর্যন্ত গড়ে তুলতে পারে না দলটি। জনসভা বা মিছিল করতে নেতা-কর্মীদের রাস্তায় নামতে পারে না। সর্বোপরি গ্রেফতারের রিক্স নেওয়ার সাহস খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়ার নেই। যদি থাকত তবে মামলায় আদালতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী কেঁদে দিলেন কেন? আর তারেক রহমানই বা মামলা মোকাবিলা করতে দেশে ফিরে আসছে না কেন? কেন নেতাদের ‘আঙ্গুল চোষা’ বলতে হয় নেত্রী খালেদা জিয়ার। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, বিএনপির দুই নম্বর নেতা তারেক রহমানের উল্লিখিত টেলিফোন বয়ান সত্য।
এটা সত্য হওয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। বিএনপি এটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে, আন্দোলন করে তাদের পক্ষে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তীব্র আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে বিএনপি যেভাবে পালিয়ে বেঁচেছিল, সেই অবস্থা কখনও গণভিত্তিসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের হবে না। গতবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করেছিলেন খালেদা জিয়াকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য। এমনকি নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনেরও প্রস্তাব করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এবারে যে ওই লাইনে ক্ষমতাসীন জোট যাবে না, তা অবস্থা পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। সংবিধানের বাইরে গিয়ে সমঝোতায় যাবে কেন ক্ষমতাসীন দল-জোট। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন যে, আলোচনার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। বিএনপি নিজেদের প্রয়োজনে নির্বাচনে অংশ নেবে। কার সাথে আলোচনা? ঝাড়ি খাওয়ার জন্য কিংবা মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা এবাবে ঘটবে না। সংশ্লিষ্ট দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচনে আসবে কি না। নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। এর কোনো অন্যথা হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা নির্বাচন হচ্ছে রাজনৈতিক-সাংবিধানিক যুদ্ধ। যুদ্ধে একবার সুযোগ হারালে আর সুযোগ ফিরে পাওয়া যায় না।
বিএনপির যদি দল হিসেবে টিকে থাকার কোনো ইচ্ছে থাকে, তবে নির্বাচনে যোগ দিতেই হবে। ক্ষমতায় থেকে ‘হাওয়া ভবন’ সৃষ্টি করে অপশাসন দুঃশাসন চালানো, হত্যা-ক্যু করে পাকিস্তানি আমলের মতো সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতার রাজনীতিতে টেনে আনা, যুদ্ধাপরাধী জামাতসহ সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে রাজনৈতিক দল করতে দেওয়া ও সাথে রাখা, সংবিধানকে সামরিক ফরমান বলে এক কলমের খোঁচায় সংশোধন করা প্রভৃতির দায় মাথায় নিয়ে বিএনপি যদি জামাতকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের লাইনে আসে তবে দলটি যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশবাসীও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে বাধাবিঘœহীন ও অবারিত করার সুযোগ পাবে। নতুন বছরে কোনো পথে যাবে বিএনপি, এটাই এখন দেখার বিষয়।

Category:

কৃষির উপখাত প্রাণিসম্পদে বৈপ্লবিক সাফল্য

Posted on by 0 comment

50রাজিয়া সুলতানা: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষির অন্যতম উপখাত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ। সরকার কৃষি খাতের উৎকর্ষ-উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর নীতি, ভর্তুকি সহায়তা ছাড়াও ঋণ কার্যক্রম ও সম্প্রসারণসেবা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি করছে। ফলে কৃষি খাতে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে প্রাণিসম্পদ খাত সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও স্পর্ট লাইটে আসছে না। তারপরও নীরব এক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশজ উৎপাদন বিবেচনায় কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে ২ শতাংশ অবদান প্রাণিসম্পদ খাতের। সরকারিভাবে এখন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ঢেলে সাজাতে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর এজন্য বাড়তি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে শুধু কৃষি খাতে। তবে উপখাতগুলো আরও গুরুত্ব দিলে দেশের সমৃদ্ধির পথ মসৃণ থাকত।
কৃষির অন্যতম উপখাত পশুসম্পদ দেশের জনগণের শুধু মাংসের চাহিদাই মিটায় না। কৃষকের জমি আবাদে লাঙল টানাসহ পণ্য পরিবহনের কাজেও ব্যবহার হয়। একসময় মাংসের চাহিদার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ গরু আদমানি করা হতো। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারত বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশীয় চাহিদা মেটাতে সরকার পশুসম্পদের উৎপাদন-প্রজননের ওপর জোর দিয়েছে। চাহিদার পুরোটা উৎপাদন করতে না পারলেও আমদানি-নির্ভরতা অনেকটাই কমে গেছে। সঙ্গে বাড়ছে গরুর দুধ উৎপাদনও। উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আমদানির চাহিদা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মাংস উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন। পাশাপাশি দুধ উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন। অন্যদিকে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪৯ কোটি ৩৩ লাখ। দুধ উৎপাদনে এখনও কিছুটা ঘাটতি থাকলেও মাংস ও ডিমের ক্ষেত্রে প্রায় স্বয়ম্ভরতার কাছাকাছি চলে এসেছে বাংলাদেশ। সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণে সাফল্যের পথ দেখাচ্ছে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে গত বছর তরল দুধের চাহিদা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ দেশে গত বছর দুধের ঘাটতি ছিল ৫৫ লাখ ৮২ হাজার টন।
চলতি অর্থবছরে দেশে গরু উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার, মহিষ ১৪ লাখ ৭৮ হাজার, ভেড়া ৩৪ লাখ এবং ছাগল ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার। এছাড়া উৎপাদন হয়েছে ২৭ কোটি ৫২ লাখ মুরগি ও ৫ কোটি ৪০ লাখ হাঁস। গত বছর দেশে প্রাণিসম্পদ খাতে মোট পশু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মোট পশু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ কোটি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি।
পশুসম্পদে বাংলাদেশ ক্রমেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, দেশের বৃহদায়তনের গরুর খামারের সংখ্যা খুবই কম। এক থেকে ৫টি গরুর মালিক, এ ধরনের পরিবারের কাছেই রয়েছে দেশের ৯০ শতাংশ গরু। ৬-১০টি গরুর মালিক পরিবারে রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ গরু। অন্যদিকে ১০টি বা তার বেশি সংখ্যক গরুর মালিক পরিবারের কাছে গরু রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।
কোরবানির বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সারাদেশে মোট পশু কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ। চলতি বছর দেশের বাজারে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩৩ লাখ ৩০ হাজার, মহিষ ১১ লাখ ২৭ হাজার এবং ছাগল ও ভেড়া প্রায় ৭১ লাখ। অর্থাৎ দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর পরিমাণ বাড়ছে প্রতিবছরই। ২০১৫ সালে এ ধরনের পশুর সংখ্যা ছিল ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখে। এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ লাখ।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩১টি করিডর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ২০ লাখ গরু। তবে পরের অর্থবছর থেকেই দেশে গরু প্রবেশের সংখ্যা কমতে থাকে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলতি বছর দেশে প্রবেশকৃত গরুর সংখ্যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে গরু প্রবেশ করেছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার।
দুধের ঘাটতি মেটানোয় অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনও চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সরকারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক দুধ গ্রহণের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনি¤েœ বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে থাকা পাকিস্তানে মাথাপিছু দৈনিক গড় দুধ গ্রহণের পরিমাণ ৫২০ মিলিলিটার। ভারতে এই পরিমাণ ২২৭ মিলিলিটার। আর বাংলাদেশে মাথাপিছু দুধ গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৫৬ মিলিলিটার। তবে বর্তমানে এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। দেশে কয়েক বছর ধরে দুধ উৎপাদন বাড়ছে। ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে দুধ উৎপাদন ২৩-২৪ লাখ টনের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখান থেকে বেড়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে তা প্রায় ৩০ লাখ টন, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৫ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫১ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭০ লাখ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৩ লাখ টনে উন্নীত হয়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন দুধ। দেশে দুধের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টন। অর্থাৎ দেশে দুধের ঘাটতি প্রায় ৫৬ লাখ টন।
দুগ্ধ উৎপাদন সক্ষমতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় একটি গাভীর দুধ উৎপাদনক্ষমতা বার্ষিক ৪ হাজার ৯২৬ কেজি হলেও বাংলাদেশের গাভীর ক্ষমতা মাত্র ২০৭ কেজি। অন্যদিকে নেপালের গাভীগুলোর ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা ৪১৫ কেজি, ভারতের ৯৮৭ ও পাকিস্তানের ১ হাজার ১৯৫ কেজি। পাশাপাশি দেশের মাংস উৎপাদনকারী গরুগুলোকে বিশ্বের অনান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ঘাস বা খাদ্য খেতে দিতে হয়। অথচ তারা মাংস দিচ্ছে কম। উন্নত বিশ্বে যেখানে সাড়ে তিন-চার কেজি খাদ্য দিলে এক কেজি মাংস উৎপাদন করতে সক্ষম, সেখানে বাংলাদেশের গরুকে দিতে হয় ৭-৮.৫ কেজি। আর সেটি হচ্ছে একমাত্র উন্নত প্রযুক্তি না আসায়। গরুর জাত প্রজননে দেশে এখন ৩০ বছরের আগের ব্রিড নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর যে ৪টি জাত দেশে ছাড়া হয়েছিল, এরপর আর দেশে জাত আনা হয়নি। এসব গরুর মধ্যে শতভাগ দেশি জাতের গরুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বেশির ভাগই সংকর জাতের। দেশের প্রায় ১০ শতাংশ গরু বিদেশি জাত দ্বারা সংকরায়িত। অনেক গরুরই এখন ইনব্রিড শুরু হয়ে গেছে। আর এ কারণে মাংস বা দুধ উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে।
এ খাতের উন্নয়ন করতে আরও উন্নত জাতের ব্রিড আনতে হবে। দেশে মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য ৪০-৫০ বছর ধরে যে জাত ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। উন্নত জাত আনা সম্ভব না হলে যে জাত আছে, সেগুলো আর্টিফিসিয়াল সিমেন বা ফার্টাইল এমব্রয় সিমেন দিয়ে উন্নত করা যেতে পারে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্র্যাকের আড়ং, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রোডাক্ট লিমিটেড, আবুল মোনেম গ্রুপসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে। মানুষের আয় বাড়ার কারণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হচ্ছে। পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। ফলে দেশের তরল দুধসহ দুগ্ধ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালন করার জন্য খামার গড়ে তুলছে। গবাদিপ্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ এসব প্রাণী কৃষি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজের চালিকাশক্তি, চামড়া ও সারের জোগান দেয়। এই প্রাণিসম্পদই দেশে মাংস ও দুধের প্রধান উৎস। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত এবং মসৃণ করতে গত অর্থবছর থেকে সরকার দুগ্ধ ও পশুপালন খাতের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে থোক বরাদ্দ রেখেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপির) প্রায় ২.৯ শতাংশ জোগান দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ খাত এবং এটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ গবাদি প্রাণী ও হাঁস-মুরগি পালন ও প্রজনন কর্মসূচির আওতায় জীবিকা নির্বাহ করে। জমি চাষ, ভারবহন এবং গোবরের সার ও জ্বালানি সরবরাহে প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পাশাপাশি প্রাণীর চামড়া, হাড়, নাড়িভুঁড়ি ও পালক ইত্যাদি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ভূমিহীন মানুষের জীবিকার হিসেবে প্রাণিসম্পদ প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেখক : শিক্ষক, গবেষক এবং সমাজকর্মী

Category:

কম্বোডিয়ার সঙ্গে ১০ সমঝোতা স্মারক ও এক চুক্তি

Posted on by 0 comment

31উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাণিজ্য-বিনিয়োগ, পর্যটন ও তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এই স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৪ ডিসেম্বর সকালে নমপেনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের কার্যালয় পিস প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এবং হুন সেন কম্বোডিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। খবর বাসস’র।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতার আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে এবং দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর শেখ হাসিনা ও হুন সেন যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিলের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া।
বাকি সমঝোতা স্মারকগুলো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার খাতে সহযোগিতা, শ্রম ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রসারে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কাউন্সিল ফর দি ডেভেলপমেন্ট অব কম্বোডিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে। আর চুক্তি হয়েছে দুই দেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি এবং কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে।
এক যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক ৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে, তা আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সম্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম এবং বিআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অন্যদিকে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানগণ কম্বোডিয়ার পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শেখ হাসিনাকে বোন ডাকলেন হুন সেন
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোন ডেকেছেন। পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পিস প্যালেসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র সচিব কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, আপনি আমার বোনও। এ কারণে আপনাকে আমি আমার বোন হিসেবে সম্বোধন করলাম।
পররাষ্ট্র সচিব হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, এশিয়ার এ দুটি দেশের মধ্যে এ যেন একটি বিশেষ সম্পর্ক এবং এ সম্পর্ক আগামীতে বিভিন্নভাবে আরও এগিয়ে যাবে।

Category: