Blog Archives

রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে ঢাকা-বেইজিং মতৈক্য

Posted on by 0 comment

PfcMউত্তরণ ডেস্ক: ঢাকা ও বেইজিং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সম্মত হয়েছে। গত ৫ জুলাই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মতৈক্য হয়। এদিন সন্ধ্যায় দিয়াওউয়াতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, দুই নেতা প্রথমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সম্মত হয়ে বলেন, এটি অমীমাংসিত রাখা যাবে না। চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। রোহিঙ্গারা অবশ্যই তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে।
শহীদুল হক বলেন, উভয় নেতা উল্লেখ করেন যে এ ব্যাপারে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তারা মিয়ানমারের ওপর ‘গুডউইল’ কাজে লাগাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসি নেতার সাক্ষাৎ
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং তাও নিশ্চিত করেছেন যে, তার দল কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। গত ৫ জুলাই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের দিয়াওউনতাই রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সিপিসি নেতা এ আশ্বাস দেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদান এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী গত ১ জুলাই চীন সফরে যান। সিপিসি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
সং তাও বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আমরা অং সান সু চি-সহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সিপিসি নেতা বাংলাদেশের অত্যন্ত বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের উল্লেখ করে একে ‘বিশ্বে দুর্লভ’ বলে বর্ণনা করেন।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিগত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সিপিসি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে সং তাও আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতেই সিপিসি নেতা চীন সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সিপিপির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি ১৯৯৩ সালে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে চীনে তার প্রথম সফরকে স্মরণ করে বলেন, সফরের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। তিনি বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করব যাতে আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের লক্ষ্য একÑ দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার লক্ষ্য অর্জনে অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন।
সিপিপি নেতা এই বইটি চীনা ভাষাতে অনুবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রকাশ করার পর চীনা জনগণের মধ্যে বইটি বিতরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনা জনগণ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে তার আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ জুলাই তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনা বিপ্লবের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
চীন সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান করেন এবং ‘কো-অপারেশন ইন দি প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখক মো. নজরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিকে থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ চীনের ‘গুড উইল’ কামনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ এর আগেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
পররাষ্ট্র সচিব চীনের প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমরা চাই রোহিঙ্গারা ফেরত যাক।’
জিনপিং বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারে যেসব মন্ত্রী কাজ করেন তারা আবারও বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। আশা করা যায়, এতে এ সংকট নিরসনের আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে এ সংকটের বিষয়টি সুন্দরভাবে অবহিত করেন। ভোজ সভায়ও এ আলোচনা উঠে আসে।
শহীদুল হক বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন ছিল। আর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টকে তাদের ‘গুড উইল’ ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
জিনপিং বলেন, যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টির সামনে উঠছে সেহেতু এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ সংকট সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুদেশই আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের কাছে দুদেশই সমান, কেউ কম বা বেশি নয়।’
চীনের প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটিই যেহেতু উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু তারা (চীন) দুদেশের স্বার্থই দেখবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠকটি খুবই সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ও উন্মুক্ত, যা বিভিন্ন সমীকরণ ও রসায়নের বহিঃপ্রকাশ।
বৈঠক চলাকালে দুই নেতার অঙ্গভঙ্গি উৎসাহব্যঞ্জক ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব।’ তিনি বলেন, ‘অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে।’
শহীদুল হক বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা দেখতে পাই যে দুদেশের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পরিণত আখ্যান এসেছে।’
চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে চীনের বন্ধপ্রতিম প্রতিবেশী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’
জিনপিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, দুদেশ পরস্পরের উন্নয়ন থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই নেতা গুরুত্বারোপ করে বলেন যে তাদের গন্তব্য হলো জনগণের উন্নয়ন।
তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট জাতীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন বোঝাপড়া রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জিনপিং দুদেশ পরস্পরের চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকারসমূহ বুঝতে পারে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি সম্পর্কের পরিপক্বতার বহিঃপ্রকাশ।’
চীনের প্রেসিডেন্ট তার দেশ সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আশা করি এটি ভবিষ্যতে আরও গভীর ও জোরদার হবে।’
দুই নেতা বলেন, তারা দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

ঢাকা-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ৯ চুক্তি স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গত ৫ জুলাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওসি (লেটার অব এক্সচেঞ্জ) এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি, পর্যটন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক।
বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ওই ৫টি চুক্তির পাশাপাশি ৩টি সমঝোতা স্মারক এবং একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হয়। বৈঠক শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে উভয় দেশের মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এতে স্বাক্ষর করেন। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ-কথা জানান। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরাতে মিয়ানমারকে বলবে চীন। যেসব বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হয়েছে সেগুলো হলোÑ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সাহায্য বিষয়ক এলওসি (এর আওতায় মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য চীন ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করবে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানান), স্বাক্ষরিত অপর চুক্তিগুলো হচ্ছেÑ সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক, ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদের তথ্য বিনিময় সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক, পিজিসিবি ঢাকা-বেজিং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ৯ চুক্তি স্বাক্ষর প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এ্যাগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এ্যাগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে প্রিফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এ্যাগ্রিমেন্ট।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে ৫টি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪টি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ১৪০ কোটি ডলার পাবে। একটি চুক্তির আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পাবে ২৮ কোটি ৪ লাখ ডলার। এছাড়া অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার পাবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, ১৬৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ডিপিডিসির একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ওই ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং চীন সরকার ৩৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দেবে। বাকি ১০২ কোটি ডলার চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে পাওয়া যাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের আওতায়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ১৪টি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণ এবং ৪০টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া ডিপিডিসির জন্য কিছু উঁচু ভবন নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে হাতিরপুল এলাকায় একটি টুইন টাওয়ার এবং হাতিরঝিলে ২০ তলা একটি ভবন রয়েছে বলে জানান তিনি। আর পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি চীনের কাছ থেকে পাওয়া ঋণে সঞ্চালন লাইনের সম্প্রসারণসহ ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পিজিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই পাঁচ চুক্তি ছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা এবং ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদের তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে। সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে হয়েছে আরও একটি সমঝোতা স্মারক। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আড়াই হাজার মেট্রিক টন চাল কিনতে একটি লেটার অব একচেঞ্জ বিনিময় হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে।
চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জুলাই বেলা পৌনে ১১টার দিকে বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং তাকে স্বাগত জানান। অভ্যর্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভাতেও অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Category:

অ্যালবাম

Posted on by 0 comment

12 copy 13 (c) copy 14 copy 27 copy 28 copy

Category:

সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা

Posted on by 0 comment

সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এমপি। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতায় গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা উন্নীত করে সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৪.২১ শতাংশ এবং জিডিপির ২.৫৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এটি ছিল ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, ২০১৮ সালে তা ২১.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ১২.৩০ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৪.৫০ নামিয়ে আনার ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করছে সরকার।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাই হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। বর্তমান বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাড়ে ৭৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র          (পিআরএসপি) ১৪টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চিহ্নিত করেছে। এসব কর্মসূচিতে বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে বাজেটে ১২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমাসে সম্মানী ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া তাদের উৎসব ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা, নববর্ষ ভাতা হিসেবে ২ হাজার টাকা এবং বিজয় দিবস ভাতা ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।
বয়স্ক ভাতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪০ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ২৪০ কোটি টাকা বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪৪ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার বিষয়েও প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে বয়স্ক ভাতাভোগীর মতো এ ভাতারও পরিধি ও বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৪ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ১৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৭ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৭০০ টাকা হারে এ ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাতার হার প্রতিমাসে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯০ হাজার উপকারভোগী বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থী বিভিন্ন হারে এ ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা : আগামী বাজেটে এ কর্মসূচিতে সহায়তাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ হাজার উপকারভোগী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। সহায়তাভোগীর সংখ্যাও দ্বিগুণ করে ৩০ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী ও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪০ হাজার উপকারভোগী জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। সহায়তাভোগীর সংখ্যাও বাড়িয়ে ৫০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ দুস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতার আওতা ও বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ লাখ উপকারভোগী তিন বছর মেয়াদে প্রতিমাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। ২০১৯-২০ সালে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৭৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কর্মজীবী মা’র সহায়তা তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৫০ হাজার উপকারভোগী তিন বছর মেয়াদে প্রতিমাসে ৮০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৪০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২৬৪ কোটি টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও বাড়িয়ে ২ লাখ ৭৫ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভিজিডি কার্যক্রমে তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমে তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫১ উপকারভোগী দৈনিক ২০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্যক্রমে তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ লাখ উপকারভোগী প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল পাচ্ছেন (বছরে পাঁচ মাস)। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ও সুবিধাভোগী একই রাখার প্রস্তাব করা হয়। বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ২০১৯-২০ সালে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে শুধু বেদে জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে ১০ হাজার নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ   খাতের আওতায় ৭১ হাজার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

Category:

‘জনবান্ধব উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট’

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উন্নয়নের গতিধারা ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবই।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৯ জুন বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা এবং ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করে বলেন, অতীতের সকল সরকারের আমলের বাজেট ছিল বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর। উন্নয়ন বাজেটও ছিল বিদেশনির্ভর। কিন্তু আমরা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিবার বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছি বলেই এবারের বাজেটে বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ। আর উন্নয়ন বাজেটও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। এর মাধ্যমে আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং আত্মমর্যাদাশীলতা প্রমাণ করেছে। প্রতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও আমাদের অন্যতম সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধির আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশেরÑ শিরোনামে এবার ৫ লাখ ২৩ লাখ ১৯০ কোটি টাকার সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে সারাদেশেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের হিসাব অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জনে যে ২০টি দেশ অবদান রাখছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।
টানা দুই মেয়াদে দেশের উন্নয়ন-সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মানুষের গড় আয়ু ৬৫ থেকে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় ৫৪৩ থেকে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি, ৪৫ ভাগ দারিদ্র্যকে ২১ ভাগের নিচে নামিয়ে আনতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, দারিদ্র্যের হার আগামীতে ১৬-১৭ ভাগে নামিয়ে আনব।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। মূল্যস্ফীতি আমরা ৫ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যখন একটি দেশের প্রবৃদ্ধি উচ্চহারে বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতি নিচে থাকেÑ সেই অর্থনীতির সুফল দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করে থাকে। এ-কারণে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন সমৃদ্ধ, বাজেটের জিডিপির ৫ ভাগ ঘাটতিও সহনীয়।
আগামী ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংসদ নেতা বলেন, ওই সময়ের মধ্যে মাথা পিছু আয় ২ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হবে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে। কওমি মাদ্রাসাকে মূল শিক্ষার ধারায় ফিরে এনেছি। এরাও শিক্ষা শেষে দেশে-বিদেশে চাকরির পাবে। কারণ এরাও এদেশেরই সন্তান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়াতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যুব সমাজের উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব অত্যন্ত যুগোপযোগী। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে শতকরা ২ ভাগ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, এতে প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে। তিনি বলেন, দেশের মোট শ্রম শক্তির বড় অংশই কৃষি খাতে নিয়োজিত। এক দশকে কৃষি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি এবং এ খাতে ব্যাপক সাফল্যে এসেছে। ২ কোটি ৮ লাখ কৃষক কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণের ভর্তুকি পাচ্ছে। ব্যাপক গবেষণার কারণেই দেশের কৃষি খাতে ফসলের উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়েছে।
প্রতি গ্রামে শহরের আধুনিক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দেশের সকল জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন দেশের ৯৩ ভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
দেশের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি, মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে দ্রুত রেল, নৌসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রামে দ্রুতগামীর ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে তার সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়েছি। এখন ফোর-জি চলছে, ফাইভ-জি আনার পরিকল্পনা চলছে। আর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনা খাত তৈরি পোশাক খাতে ১ ভাগ প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওই শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা (সামরিক স্বৈরশাসক) ক্ষমতায় থেকে শুধু নিজেরা দুর্নীতি করেনি, দুর্নীতিকে সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান বা নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের প্রচেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা যুগোপযোগী। আর ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। কারণ ব্যাংকে উচ্চহারে সুদ থাকলে শিল্প খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিকশিত হয় না। আর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য অনেক প্রণোদনা রয়েছে, যা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে বর্তমান সরকারের আমলে প্রস্তাবিত এই প্রথম বাজেট অত্যন্ত জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট। এই বাজেট দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন চায়। দেশের মানুষের কল্যাণ ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবই ইনশাল্লাহ।
কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষের অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ আসে। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত অর্থটা কোনো কাজে লাগানো যায় না। তাদের যদি একটা সুযোগ দেয়া হয়, যেন এই টাকাটা মূল ধারায় চলে আসে এবং সেটা জনগণের কাজে দেবে। কোথায় গুঁজে রাখবে বা বিদেশে পাচার করছে সেটাও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সেজন্য সুযোগটা দেয়া হচ্ছে। তবে যদি দেখি সেখানে দুর্নীতি বাড়ছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং সেটার সুযোগ আছে। দুর্নীতিটা কখনও প্রশ্রয় দেব না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে।

Category:

৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের গত ৩০ জুন অধিবেশনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বাজেট পাস হয়। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম বাজেট।
৩০ জুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয় সকাল ১০টায়। দুপুরে অর্থমন্ত্রী বাজেট পাস করার জন্য উপস্থাপন করেন। সংসদে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। এ ব্যয় মেটাতে অনুদান ব্যতীত আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় ধরা হয় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতি ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ধরা হয়।
নতুন বাজেটে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া কর ব্যতীত আয় ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বাজেটে। বাজেটের সামগ্রিক ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাস : নতুন অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৮ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতনও অন্তর্ভুক্ত।
মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব : বাজেটের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ৪৮৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব এবং ৫৯টি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে আসা দাবি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। আলোচনা শেষে সব প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
প্রসংগত, ১৩ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর মোট ২৫৫ জন সংসদ সদস্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নেন।

জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে অভিহিত করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে এই বাজেট। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটের ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এফসিসিসিআই আরও বলেছে, তারা বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করবে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাব পরে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির দ্রুত রোগমুক্তির জন্য আরোগ্য কামনা করা হয়। গত ১৫ জুন দুপুরে মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে এফবিসিসিআিই। ওই সময় সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম মূল বক্তব্য পাঠ করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট, জমি ও শিল্পে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত বাজেটের একটি ভালো দিক। এ কারণে যে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি হলে বেসরকারি খাত বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, অবকাঠামো তহবিল, অবকাঠামো বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। তবে হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা ও সঠিক অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি থাকবে না। ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বৃদ্ধি পাবে না। ব্যবসা সহজীকরণের কোনো বাধা থাকবে না। এতে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং করের আওতা বৃদ্ধি পাবে।

Category:

ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজ করছে সরকার

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: এক যুগে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ৮৭৪ গুণ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে স্বস্তিদায়ক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এরপর ২০০৯-১০ অর্থবছর ছিল ২ হাজার ৬৪৪ কোটি ২৬ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫ হাজার ৯৮১ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭ হাজার ২০৮ কোটি ১০ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৮ হাজার ৮০৩ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৯২৮ কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৭৬ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬ হাজার ২১৭ কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৯৪৭ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৪ হাজার ২১২ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
গত ১০ বছরে সরকারের যে পরিসংখ্যান তাতে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭ থেকে বেড়ে এখন ১৩০ হয়েছে। এই সময় উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভসহ)। সরকার বলছে, ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট আর ২০১৯ সালে এসে বেড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সঞ্চালন লাইন ৮ হাজার কিলোমিটার থেকে ১১ হাজার ৪৯৩ মেগাওয়াট অর্থাৎ ৩ হাজার ৪৯৩ মেগাওয়াট বেড়েছে। বিতরণ লাইন ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার কিলোমিটার। এই সময়ে গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭৬ এমভিএ। বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২০০৯ সালে ছিল ৪৭ শতাংশ, যা এখন ৯৩ শতাংশ। সরকার বলছে, এ বছরের মধ্যেই শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। যদিও সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ২০২১ সাল নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সব সূচকে উন্নয়ন ঘটার পর এখন গ্রাহকের চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।

Category:

সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয়

Posted on by 0 comment
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা

উত্তরণ প্রতিবেদন: দ  ক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিয়ে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেটে তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে গুরুত্ব দিয়ে একটি দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। এজন্য তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথাই শুধু বলেন নি, জাপানকে অনুকরণের বিষয়টি তুলে এনেছেন। তার আশা, হয়তো জাপানের অগ্রগতির কৌশল রপ্ত করতে পারলে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বদরবারে অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। অর্থমন্ত্রীর স্বপ্ন অনেক। সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে তার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। তিনি বলছেন, ‘সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’। এমন উদ্দেশে তিনি নিয়েছেন কিছু পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থের সংস্থান করতে তিনি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছেন। এমন কী রাজস্ব আদায়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে তার বাজেট বক্তৃতায়। একই সঙ্গে তিনি সহনীয়ভাবে ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে রাজস্ব প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেছেন। যেমনটি তিনি তার বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সমন্বয় সাধন ঘটিয়েছেন। অনন্য উপস্থাপনায় বাজেটকে তুলে ধরার বিষয়টিও ছিল প্রশংসনীয়। তবে শারীরিক অসুস্থতায় তিনি কিছুটা হোঁচট খেয়েছেন। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাজেট বক্তৃতার কিছু অংশ সংসদে পড়ে শোনান।
মোট ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুসহ নানা প্রস্তাব করেছেন। অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ এবারে বিস্তৃত হয়েছে। তবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও তা বাড়ান নি। জীবনযাত্রার ব্যয় মিটিয়ে এই সীমা ৫ লাখ টাকা হওয়ার সুপারিশ করেছিলেন অনেকেই। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার কর দ্বিগুণ করেছেন। মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়বে। মোবাইল কোম্পানির ন্যূনতম কর বাড়ানো হয়েছে। সব ধরনের রপ্তানি কর বাড়ানো হয়েছে ৪ গুণ। ৫০ কোটি টাকার সম্পদের ওপর সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। এভাবে অন্যান্য খাতেও কর বাড়িয়ে তিনি রাজস্ব বাবদ মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন। তার প্রস্তাবিত ব্যয় বরাদ্দ মেটাতে রাজস্ব আদায়ে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে কারদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আয়কর খাতে এনবিআর’র মোট আদায় ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। যদিও সরকারি প্রকল্পের ভ্যাট বাদ দিলে আয়কর থেকে এখনও বেশি আদায় হয়ে থাকে। এবারে গ্রামাঞ্চলেও আয়কর কর্মকর্তারা হানা দেবেন, এমন আভাসও রয়েছে। দেশীয় শিল্পে বিশেষত হালকা মাঝারি শিল্পে কিছুটা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃষি, তৈরি পোশাকসহ কিছু খাত পাচ্ছে প্রণোদনা। তবে দেশকে ভারী শিল্পসমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের চাহিদার বিষয়টি অনুধাবন করেছেন, সে আলোকে কিছু কর্মপরিকল্পনাও দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়
আসছে অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে ছিল ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন আয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবার ফি, হাসপাতালের টিকিট মূল্য, সেতুর টোলসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যয়ের খাত
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ কোট টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বা ৩১.৪৬ শতাংশ, যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন খাতে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৩.৬৩ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সুদ পরিশোধ বাবদ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০.৯১ শতাংশ। নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ০.২৪ শতাংশ।

ঘাটতি
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। ঋণের অর্থের এই পরিমাণ বিদায়ি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ঋণের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। এবার বৈদেশিক উৎস থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধে খরচ হবে। ফলে সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে।

সম্পূরক বাজেট
বাজেট উপস্থাপনার শুরুতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব আয় প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হবে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত আহরিত রাজস্বের পরিমাণ ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি ব্যয় হয় বার্ষিক বরাদ্দের ৪৪.৪ শতাংশ। সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। মূল লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল লক্ষ্যের চেয়ে ২২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সর্বমোট সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ ব্যয় ২২ হাজার ৩২ কোটি টাকা হ্রাস করে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা হতে ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয়ের প্রাক্কলন হ্রাস করা হয়েছে ১৬ হাজার ৩২ কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি অর্থায়ন
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। মূল বাজেটে ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের প্রাক্কলন ছিল ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৮৪ কোটি টাকায়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র হতে অর্থায়ণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

Category:

‘দলকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে’

Posted on by 0 comment

আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মুজিব আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে বলে জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতি অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের নাম এখনও সমুজ্জ্বল। আওয়ামী লীগের শিকড় এতই গভীরে প্রোথিত যে, শত ষড়যন্ত্র করে কেউ উপড়ে ফেলতে পারেনি; বরং আওয়ামী লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছেÑ আওয়ামী লীগ ততই শক্তিশালী হয়েছে। তাই গত ৭০ বছরের ইতিহাসে উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের নামই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগকে হীরার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর যত আঘাত এসেছে, ততই দলটি উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই বারবার আঘাত ও নির্যাতনের পরও শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেই বারবার আঘাত আসা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তা ধরে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তাই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মুজিবাদর্শে দীক্ষিত হতে হবে, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।
গত ২৪ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে। এই মীরজাফর তো গালিতেই পরিণত হয়েছে। এরপর ২০০ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখ-। ২০০ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই ২০০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ইতিহাসবিদ-কলামিস্ট বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত। সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
আওয়ামী লীগের জন্মদিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে দেশের মানুষের কল্যাণ, মুক্তি, স্বাধীনতা ও সকল অর্জনের ইতিহাস জড়িত। একটি দেশের জন্য আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিশাল আত্মত্যাগ করেছেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নেই যে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এত আত্মত্যাগ যেটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে বারবার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ হচ্ছে হীরের টুকরার মতো। হীরাকে যতই টুকরো করা হয় ততই উজ্জ্বল হয়, তেমনি আওয়ামী লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে ততই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ও উজ্জ্বল হয়েছে। যত বেশি আঘাত এসেছে আওয়ামী লীগ ততবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মনে রাখতে হবে, এ দলটির উত্তরসূরিরা যেভাবে আত্মত্যাগ করে গেছেন, সকলকে তাদের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, উচ্চমানের চিন্তা-ভাবনা করবে, আর সাধারণভাবে জীবনযাপন করবে। যে কোনো মহৎ অর্জনের পেছনে বড় ত্যাগের ঘটনা জড়িত আছে। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতি মেনে কাজ করে যাচ্ছি বলেই দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হয়েছে।
বারবার নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ প্রদানের জন্য ভোটারসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। বারবার নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলেই আমরা দেশের এত উন্নয়ন করতে পেরেছি। তাই আমরা কোনো অহমিকা করব না, দেশের মানুষ সারাবিশ্বে যেন মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারেÑ সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও জনগণের দলে পরিণত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, মওলানা ভাসানী যখন আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাপ করেছিল, তখন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন। দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে জাতির পিতা মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহণ করেন এবং সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়ে তিনি দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন, গোটা জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের শোষণ-বঞ্চনার কথা বলেছেন, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণে সংগ্রাম করে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশসেবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা দেশকে শুধু উন্নতিই করছি না, আমরা শত বছরের পরিকল্পনা দিয়েছি। আগামী ১০০ বছরের জন্য ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছি। আমরা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০৭১ সাল পর্যন্ত আমরা কেউ বেঁচে থাকব না। তবুও আগামী প্রজন্মের জন্য ও দেশের উন্নয়নে আমরা এক শ’ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, পাকিস্তান রচিত হয়েছিল সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প দিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বে। সেই সাম্প্রদায়িকতাকে পরিহার করে অসাম্প্রদায়িক মন্ত্রে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশে এমন একটি পরিবার নেই যেই পরিবারে আওয়ামী লীগ নেই। এ কারণেই ২১ বছর ধরে নানা চক্রান্ত করেও কেউ আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারেনি।
আরেক আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল। একটি স্বাধীনতা, অন্যটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, আর তার কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের মধ্যে ৩৮ বছরই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আজ বটবৃক্ষ। সমস্ত ষড়যন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে জনগণের হৃদয় জয় করে আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে, যাচ্ছে এবং যাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরেই বাংলাদেশের মানুষকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ চিরদিন ছিল, আছে এবং থাকবে। আওয়ামী লীগ শুধু গরিবদের নয়, পুরো জনগণের আস্থার দলে পরিণত হয়েছে। সাহসের সময় সাহস, সংযমের সময় সংযম এবং বিনয়ের সময় বিনয় দেখিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে শক্তিশালীভাবে টিকে আছে। সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা দুবার ফাঁসির মঞ্চে গেছে, ৪ হাজার ৩৬৮ বার কারাগারে গেছেন এদেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য। পাকিস্তানের কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সাহস পায়নি। হত্যা করেছে মুশতাক ও জিয়া। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের নাগরিক নয়, পাকিস্তানের নাগরিক। জিয়ার পিতা-মাতার কবরও পাকিস্তানে। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে জিয়াকে ’৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পোস্টিং দেয়া হয়। মুশতাক ও জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি বলেই ইনডেমনিটি দিয়েছিল।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, দেশে কোটি কোটি মানুষের আস্থার বড় পরিবার হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরিবার। চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতন সহ্য করেছে; কিন্তু কখনও বেইমানি কিংবা মাঠ ছেড়ে চলে যায়নি। ১৯৬৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের বাসায় গিয়ে আমার কান ধরে বলেছিলেন, মনসুর আলীর পুত্র কেন ছাত্র ইউনিয়ন করবে? আজ থেকে তুই (নাসিম) ছাত্রলীগ করবি। সেই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্রলীগে যুক্ত হয়ে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছি, আমৃত্যু থাকব।
সূচনা বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ আমাদের শপথ নিতে হবে যে কোনো মূল্যে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। নেতৃত্বে সততা বজায় রেখে আমাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সব সময় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই আদর্শের পতাকা আমাদেরই বহন করতে হবে।

Category:

জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত ভারসাম্যপূর্ণ ও গণকল্যাণমুখী

Posted on by 0 comment
আওয়ামী লীগের বাজেট প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগের বাজেট প্রতিক্রিয়া

উত্তরণ প্রতিবেদন: আ ওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও গণকল্যাণমুখী’ উল্লেখ করে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন সব সময়ই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নতুন সরকার নতুন স্পিরিট নিয়ে, নতুন উদ্যম নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে। দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার
বাজেট এটা। তবে বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনাকে মনগড়া, গতানুগতিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত ১৫ জুন রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি ১০ বছর ধরে বাজেট সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ করেছে, ঠিক একই মন্তব্য এবারও করেছে। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মিথ্যাচার ও অপপ্রচার শুরু করেছে। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতির নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাজেটের বিস্তৃতি অনুধাবনের ক্ষমতা নেই। তবে আওয়ামী লীগ বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রমণ করে প্রতিবছরই যেভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়, এবারও তা করা হবে বলে তিনি জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট এক বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়নি। আর এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। বাজেট নিয়ে হতাশার কিছু নেই। বাজেটে কোথাও নেগেটিভ কোনো বিষয় নেই। এ বাজেট একটি অনন্য সাধারণ দলিল। এ বাজেট নেতিবাচক তাদের দৃষ্টিতে যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করে। যুক্তিসংগত প্রস্তাব গ্রহণের মতো উদারতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত দেশ গঠনের সব উদ্যোগ ও লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর বাজেট এটি। ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ বাজেট বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট। তিনি বলেন, এ বছরের বাজেটও দলের ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটেছে। এ বাজেটের বিস্তৃতি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বাজেটে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন, ২১০০ সাল ডেল্টা প্লানের বিস্তৃতি রয়েছে। সময়োপযোগী এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বাজেটে বেসরকারি খাতকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের আয়ের ওপর প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাজেট শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বাজেট নয়, এটি একটি মানবিক বাজেট। প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে প্রস্তাবিত এই বাজেটে। তিনি বলেন, তারুণ্যের শক্তি দেশের সমৃদ্ধি। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবায়নের জন্য গ্রামে সকল নাগরিক সুবিধা বাড়ানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত এ বাজেট বাস্তবায়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, দেশের সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় হয়। আর সেজন্যই দেশ উন্নয়নের সকল সূচকে কাক্সিক্ষত উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। নব উদ্যম, নব উদ্যোগের এবারকার বাজেট। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে সাফল্যের সম্ভাবনাময় বাজেট এটা। দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট এটা। এই বাজেট দেশের জনগণের জন্য অনন্য এক সাফল্যের দলিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সরকার এ বাজেট নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১১টা বাজেট দিয়েছে। আর ১০ বাজেটের ফসল হিসেবে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাজেট সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Category:

দিনপঞ্জি : জুন ২০১৯

Posted on by 0 comment

PM০১ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিকূল অর্থনৈতিক, প্রতিবেশ ও নিরাপত্তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে ওআইসি’কে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা রুজুর বিষয়েও সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, প্রতিবেশ এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এই বিশ্বে ওআইসি’কে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এদিন পবিত্র মক্কা নগরীতে ১৪তম ওআইসি সম্মেলনে এশীয় গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাষণে এ-কথা বলেন। সম্মেলনের এবারের শিরোনাম ‘মক্কা আল মোকাররমা শীর্ষ সম্মেলন : ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে’।
* তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামাত মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি করেছে। আর তাদের পেট্রলবোমায় পোড়া মানুষ ও পরিবহনের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আমরা শেখ হাসিনার সরকার। বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশন আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

০৫ জুন
* আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় এবার সরাসরি ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন নি তিনি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই পর্বে এ শুভেচ্ছা বিনিময় চলে। প্রথম পর্বে কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং দ্বিতীয় পর্বে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামাত দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষ করে আওয়ামী লীগ কর্মীদের এসব ষড়যন্ত্র কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ধ্যায় ফিনল্যান্ডের রাজধানীতে প্রবাসীদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

০৭ জুন
* নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে এ-সময় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি ও তোফায়েল আহমেদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি ও লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা। ৬-দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ৭ জুনের হরতাল এবং পরবর্তীতে ঊনসত্তরের বিক্ষুব্ধ বাংলার গণবিস্ফোরণ ১১-দফা আন্দোলন। যারা স্বাধীনতার মাইলফলক ৭ জুনকে অস্বীকার করে তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে না।

১১ জুন
* নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত হয়েছে। এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাত থেকে কারামুক্তির ১১তম বার্ষিকীতে গণভবনে শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

১২ জুন
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না। অসুস্থ প্রতিযোগিতা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। শিশুদের পড়াশোনা অথবা অন্যান্য কোনো বিষয়ে চাপ না দিতে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের জন্য অভিভাবকদের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৯’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। শুধু জিপিএ ৫-এর পেছনে না ছুটে শিশুদের জন্য প্রকৃতি থেকে শিক্ষা লাভের এবং প্রয়োজনীয় মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টির জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
* দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘুষ গ্রহণকারীর পাশাপাশি ঘুষ প্রদানকারীও ছাড় পাবে না। ঘুষ দেয়া ও নেয়াÑ দুটোই অপরাধ। তাই সব অপরাধীকেই শাস্তি পেতে হবে। পুলিশের কেউ দুর্নীতি করলে সেও ছাড় পাবে না। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অর্থশালী-বিত্তশালীদের বিরুদ্ধেও আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিন জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
১৬ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে এর নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে। ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯-এর সভায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা ও আনুগত্য বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দিতে প্রধানমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

১৭ জুন
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বাজেট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। সারাবিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানেই যাচ্ছি সেই কদরটা পাচ্ছি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি বাজেট বাস্তবায়নই করতে না পারি তাহলে ২০০৮ সালের ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট থেকে এখন কীভাবে ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে বাজেট দিলাম? এই টাকা এলো কোথা থেকে? এর উন্নয়নটা তো সারাদেশের মানুষ পাচ্ছে। কাজেই অযথা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো।
* আওয়ামী লীগ সুবিধাভোগীদের পার্টি নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, দলের দুঃসময়ে সুবিধাভোগী, বসন্তের কোকিলদের হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বেলেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই নতুন কর্মী সৃষ্টি করতে হবে। কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। তারাই দুঃসময়ে দলকে বাঁচিয়ে রাখে। ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের এমপি এসব কথা বলেন। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৯ জুন
* জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার স্বাস্থ্য বীমা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাইলট প্রকল্পের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলায় দরিদ্র কমিউনিটিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্য বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্য বীমা চালুর পরিকল্পনা করছে।
* ৩০ লাখ গণশহিদকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ গণশহিদকে চিহ্নিত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, একাত্তরের ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধে সারাদেশে ৩০ লাখ গণশহিদকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকার-দলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।

২০ জুন
* নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে ও বাসস্থানে কিছুু গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সন্তানদেরও পরিবেশবাদী এ কাজ শেখানোর পরামর্শ দেন। সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২২ জুন
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি বারবার আন্দোলনের কথা বলে বেড়াচ্ছে। বিএনপির যদি সেই সক্ষমতা থাকে, সাহস থাকেÑ আন্দোলন করে দেখাক। ১০ বছরে তো ১০ মিনিটের একটি আন্দোলনও দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

২৩ জুন
* বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাঙালি জাতি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাঙালি জাতি যে মর্যাদা হারিয়েছিল, তা আওয়ামী লীগ সরকারই ফিরিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগই দেশকে দেয়, মানুষকে দেয়। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে বঙ্গবন্ধু ভবন ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

২৫ জুন
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও ধারক-বাহক। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদ্বোধনকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মসূচির সমাপনী দিনে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ রাজপথে থেকে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় যেমন আন্দোলন করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও ধারক-বাহক এ দলটি।

২৮ জুন
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, দেশে বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বিএনপি। যে দল দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। যে দলের প্রধান দুর্নীতির কারণে জেলে বন্দী। যে দলের গঠনতন্ত্র দুর্নীতির পক্ষে তৈরি করা হয়েছে, সেই দলের মুখে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা শোভা পায় না। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

২৯ জুন
* অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হতে পিছপা হবে না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৭’ অনুষ্ঠানে তিনি সম্প্রতি ভেজাল ও নিম্নমানের বেশ কিছু পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারে হাইকোর্ট নির্দেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে আজ সৎ ও ভালো ব্যবসায়ীদের সুনামও নষ্ট হচ্ছে। আপনাদেরই এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবেÑ পণ্য ও সেবা উৎপাদনে আপনারা কখনও গুণগত মানের সঙ্গে আপস করবেন না, ক্রেতাদের ঠকাবেন না, ভেজাল ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকবেন। সৎ ও ভালো উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের সহযোগিতার দ্বার সব সময় উন্মুক্ত থাকবে। পক্ষান্তরে অসৎ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা ও অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন সুপার স্টোরে পণ্যের গায়ে যখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখি তখন গর্বে আমাদের বুক ভরে ওঠে।

গ্রন্থনা : আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category: