Blog Archives

দিনপঞ্জি : জানুয়ারি ২০১৯

2-6-2019 8-51-19 PM০১ জানুয়ারি
* বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন বই। ভোট উৎসবের পরপরই বই উৎসবে মেতে উঠল পুরোদেশ। এবার ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি বিনামূল্যের বই বিতরণ করা হয়। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। এবারও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টি ভাষায় বই বিতরণ করা হচ্ছে আর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণ করা হচ্ছে ব্রেইল বই।

০২ জানুয়ারি
* একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেছে। বিকেলে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে আসা বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সেবা করাটা একটি বড় কাজ এবং আমি যত দিন বেঁচে থাকব এটা অব্যাহত রাখব। এ সময় তিনি জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে যাওয়ারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

০৩ জানুয়ারি
* চতুর্থবার এবং টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনি আবারও সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়ে তিনি ক্ষমতাকে অর্থ অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে এবং ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার না করার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন।

০৯ জানুয়ারি
* মেধাবী তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ-তরুণী সাফল্যের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা শেষ করে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি খুব জরুরি। বিকেলে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে রাষ্ট্রপতি মাসব্যাপী ‘ডিআইটিএফ-২০১৯’ উদ্বোধন করেন।

১০ জানুয়ারি
* বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্যঃসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্দোলনে যারা ব্যর্থ, তারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপি নিজেদের কারণেই নির্বাচনে হেরেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রীতিমতো তা অকশনে পরিণত হয়। সকাল-বিকাল প্রতিটি আসনে কয়েকজনকে প্রার্থী ঘোষণা দেয় তারা। যখন যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। একটা দল যখন সিট অকশনে দেয় সেখানে আর কী হবে? জয়ের আশা করে কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) জামায়াত ইসলামীকে মনোনয়ন দিয়েছে, স্বাধীনতা-বিরোধীদের দলকে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা তাদের ভোট দেয়নি। এ পরাজয়ের কারণ তাদেরই (বিএনপি) খুঁজে বের করতে হবে।

১২ জানুয়ারি
* আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের স্বার্থে সংসদে এসে জনগণের কথা বলতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নিজেদের দোষেই তারা সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরেছে। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে, তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জেতার কথা চিন্তা করতে পারে? তারপরও যে কয়টা সিটে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের পার্লামেন্টে আসা প্রয়োজন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৫ জানুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের পুনরুল্লেখ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। শহরের নাগরিক সুবিধা দিয়ে দেশের প্রতিটি গ্রাম গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

১৬ জানুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এই উম্মাহ’র ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সংঘাতে ওই দেশগুলোর জনগণকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এজন্য মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

১৭ জানুয়ারি
* সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার লক্ষ্যে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এ জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি না করে, সে জন্য সরকার তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের প্রয়োজন সরকার মিটিয়েছে। তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? এখন মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশাসনকে জনবান্ধব ও গতিশীল করতে হবে। দুর্নীতি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
* বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সংস্থাটির ডেলিগেশন প্রধান ও দূত রেন্সজে তেরিঙ্ক নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই বার্তা দিয়েছেন।

২০ জানুয়ারি
* মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধীরা কেন অপরাধে সম্পৃক্ত হয়, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তবে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই যে তারা ভালো হয়ে যাবে, তা নয়। বরং তাদের সমাজের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর পরিদর্শনের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
২১ জানুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করার জন্য মন্ত্রিসভা সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় সহ্য করা হবে না। দায়িত্ব পালনের বেলায় অনিয়ম ও অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেউই তদারকির বাইরে নন। প্রধানমন্ত্রী টানা তিনবার সরকার গঠনের পর এদিন তার কার্যালয়ে বর্তমান মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের প্রারম্ভিক ভাষণে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের উদ্দেশে আরও বলেছেন, যে কোনো মূল্যে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো আপস নেই।

২২ জানুয়ারি
* প্রতিটি শিল্পনগরীতে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইটিপি ছাড়া শিল্পনগরী স্থাপনের কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এমনটি জানান প্রধানমন্ত্রী। সভায় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীতকরণসহ ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করা হবে।

২৭ জানুয়ারি
* সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে এসে যেন রোগী দেখতে না হয় সেজন্য হাসপাতালগুলোতেই ‘বিশেষ ধরনের সেবা’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মস্থলে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। চিকিৎসকদের যেখানে বদলি করা হবে, তারা যদি সেখানে কাজ না করে তাহলে তাদের ওএসডি করে দিতে হবে। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিক ওএসডি করতে হবে। আর নার্সরা যদি সেবা দিতে না চায়, তাহলে তাদেরও চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশ দেন।
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তারা নির্বাচনে হেরেছে। বিপরীতে তারা আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, সেই সম্মানের উপযুক্ত প্রতিদান দেওয়া হবে।
২৯ জানুয়ারি
* ফসলি জমি রক্ষায় আইন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি হাওড় এলাকার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া, সংযোজন শিল্পের সম্প্রসারণ, সব রেললাইন ব্রডগেজে উন্নীতকরণ, যাতায়াত সেবার উন্নয়ন ও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

৩০ জানুয়ারি
* একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ী রূপ পেতে পারে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবার ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি আরও বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় জীবনে প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।
* রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে ভিয়েতনামসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই এখান থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। তাদের প্রত্যাবর্তনে আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চাই। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী জুয়্যান কুউক দেজং সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

৩১ জানুয়ারি
* এদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। নাগরিকদের সব অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এদিন তার কার্যালয়ে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

Category:

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল : কিংবদন্তি সংগীতকার

2-6-2019 8-50-11 PMমাসুদ পথিক: আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি। শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার মৃত্যুতে, সংগীত ও শিল্পাঙ্গনে। তার অকালে চলে যাওয়া সহকর্মীসহ অনেক ভক্ত স্রোতা মেনে নিতে পারছেন না। অনেকেই শোকে স্তব্ধ।
বাংলাদেশের এই সংগীত ব্যক্তিত্বের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫৬; ঢাকা। মৃত্যু ২২ জানুয়ারি ২০১৯ (৬৩ বছর); ঢাকা।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর গাওয়া বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে তার নিয়মিত গান করা। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এবং আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংগীতকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে। অনেক গান মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। তার মধ্যে কিছু গান হলোÑ
১. সব কটা জানালা খুলে দাও না (সাবিনা ইয়াসমিন)
২. সেই রেল লাইনের ধারে (সাবিনা ইয়াসমিন)
৩. আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি (এন্ড্রু কিশোর)
৪. আমার বুকের মধ্যেখানে (এন্ড্রু কিশোর ও                  সামিনা চৌধুরী)
৫. আম্মাজান আম্মাজান (আইয়ুব বাচ্চু)
৬. পড়ে না চোখর পলক (এন্ড্রু কিশোর)
৭. যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে (খালিদ হাসান মিলু                   ও কনকচাঁপা)
৮. তুমি মোর জীবনের ভাবনা (এন্ড্রু কিশোর)
৯. চিঠি লিখেছে বউ আমার (মনির খান)
১০. আমার দুই চোখে দুই নদী (সামিনা চৌধুরী)
১১. একাত্তরের মা জননী (আগুন ও রুনা লায়লা)
১২. জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে (এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা)
১৩. আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন (এন্ড্রু কিশোর)
১৪. আমি জীবন্ত একটা লাশ (কুমার বিশ্বজিৎ)
১৫. অনেক সাধনার পরে (খালিদ হাসান মিলু                       ও কনকচাঁপা)
‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘আয় রে মা আয় রে’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে, ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’Ñ এমন বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা এই শিল্পী।
তিনি প্রেমের জন্য লিখেছেনÑ ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘ভাড়া কইরা আনবি মানুষ’, ‘প্রেমের তাজমহল’সহ আরও বহু জনপ্রিয় গান। ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক ছিলেন বুলবুল। তার ছেলে সামির আহমেদ।
বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুলবুল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।
গত ২২ জানুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। জাতীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দেশবরেণ্য এই শিল্পীর মরদেহ শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Category:

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

2-6-2019 8-48-48 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আবার চীন, ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ার মতো রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের সবার চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা-২০১৯ নামে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতিবেদনটি গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ইউএন-ডেসা), বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আঙ্কটাড এবং এসকাপ-সহ ৫টি আঞ্চলিক কমিশন যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন বৈশ্বিক এজেন্ডা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের নিরিখে প্রণীত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্বাভাস বলতে অর্থবছর ২০১৮-১৯ অর্থবছর বোঝানো হয়েছে। বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি বলতে পঞ্জিকাবর্ষ অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরোনোর পর কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, শক্তিশালী বিনিয়োগ, বেসরকারি ভোগ ব্যয় এবং সংকুলানমুখী মুদ্রানীতির কারণে কয়েক বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অবশ্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৯ সালে অন্তত ১০টি দেশে ৭ শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ভারত, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ঘানা, ইথিওপিয়া এমনকি সিরিয়াও। রয়েছে দক্ষিণ সুদান। তবে সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদানে বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আগের কয়েকটি বছরে অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাদের দুর্বল ভিত্তির কারণে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। যেমনÑ চীনের প্রবৃদ্ধি এ বছর কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কম্বোডিয়ায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেরই প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের চেয়ে কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বহুলাংশে ইতিবাচক। এসব দেশে নিকট মেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি তেজি থাকবে। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিতে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’-এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। বাংলাদেশ চীন, শ্রীলংকাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা করছে। তবে এলডিসির আওতায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
মতামত জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সদস্য ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ভোগের ক্ষেত্রে, সম্পদের ক্ষেত্রে ও আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। বৈষম্য বাড়লে উচ্চ প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না।
এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এর আগে যারা এলডিসি থেকে বের হয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে বিশেষ যতœ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান মনোযোগের বিষয় হলো, রপ্তানি টেকসই রাখা। বাজার সুবিধা কমে গেলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে তা কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

Category:

পদ্মাসেতুর নতুন নকশা অনুমোদন

2-6-2019 8-47-17 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: জটিলতা কাটিয়ে বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারের (পিলার) নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পিলার দুটির চূড়ান্ত নকশা গত ১৫ জানুয়ারি অনুমোদন পেয়েছে। শিগগির শুরু হবে এ দুই পিলারের নির্মাণকাজ। মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নির্মাণাধীন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২। দুটি পিলার নদীর দুই প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৪০ পিলার নির্মাণ করা হচ্ছে নদীগর্ভে। এর অধিকাংশের নির্মাণকাজ শেষের পথে। কিন্তু ৬ ও ৭ নম্বরসহ কয়েকটি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা যায়নি পানির তলদেশে দুর্বল মাটির স্তরের কারণে। এসব পিলার যেসব স্থানে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মাটির তলদেশে কাদার স্তর রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ক্ষেত্রে এ সমস্যা ছিল। পদ্মাসেতুর নদীগর্ভের এ পিলারগুলো নির্মাণের কথা ছিল ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার গভীর পাইলের ওপর। কিন্তু পানির তলদেশে মাটির স্তর দুর্বল হওয়ায় সংশোধন করা ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের পাইল নির্মাণের সময় তা দেবে যায়। আটকে যায় ১৪টি পিলারের কাজ।
সংশোধিত নকশা অনুযায়ী, ৬ ও ৭ নম্বরের দেবে যাওয়া পাইলের ওপরই পিলার নির্মাণ করা হবে। তবে বাড়বে একটি পাইল। অন্যান্য পিলার ৬টি পাইলের ওপর নির্মাণ করা হলেও দুর্বল মাটির স্তর রয়েছেÑ এমন স্থানে নির্মাণাধীন ১৪টি পিলারে থাকবে ৭টি করে পাইল।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘স্কিন গ্রাফটিং’ পদ্ধতি থাকবে এই ১৪টি পিলারে। পাইলের বাইরের অংশে দেওয়া হবে খাঁজকাটা। ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই ইউকে লিমিটেড সংশোধিত নকশা অনুমোদন করেছে। এসব পিলারে খাঁজকাটা পাইল বসিয়ে বিশেষ ধরনের সিমেন্টের মিশ্রণ ব্যবহার করে পানির তলদেশের কাদামাটি শক্ত করা হবে।
পদ্মাসেতুর বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, সংশোধিত নকশা অনুযায়ী ৬টি পাইলের মাঝে অতিরিক্ত আরেকটি পাইল বসানো হবে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুতে সব ধরনের কারিগরি জটিলতার অবসান হলো।

Category:

খাদ্যে পুষ্টিগুণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ

2-6-2019 8-45-34 PMরাজিয়া সুলতানা: খাদ্য মানুষের একটি মৌলিক চাহিদা। তবে খাদ্য হলেই হবে না, তা হবে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন। আজকাল এই খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টিমূল্য অক্ষুণœ রেখে মানুষের প্লেটে পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের জন্য।
বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে ৪ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং চাল, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে আছে।
দেশে খাদ্য পর্যাপ্ততা থাকা সত্ত্বেও অপুষ্টিজনিত রোগের আধিক্য অনেক বেশি। দেশে অপুষ্টিতে ভুগছে আড়াই কোটি মানুষ। মাত্রাতিরিক্ত অপুষ্টিজনিত খর্বতা ৩৬.১ শতাংশ; কম ওজন ৩২.৪ শতাংশ; রক্তশূন্যতায় ভুগছেন ৪৪ শতাংশ নারী।
যে কোনো দেশের জনগণের পুষ্টি অবস্থানির্ভর করেÑ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির ওপর।
খাদ্যের পুষ্টিমূল্য সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য চাষ জমি থেকে শুরু করে খাবার প্লেটে যাবার আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপ গুরুত্ব ও দক্ষতার সাথে পার করতে হবে।
খাদ্যের পুষ্টিমান অনেকভাবে নষ্ট হতে পারে, যেমনÑ
ষ    মাটি : যে মাটিতে যে ফসল ভালো হয় সেই মাটিতে সেই ফসল চাষ না করলে উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিমান কমে যায়।
ষ    বীজ : ভালো মানের বীজ ব্যবহার করতে হবে পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য।
ষ    পরিচর্যা : ফসলের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হবে। ফসলের জন্য উপযুক্ত সূর্যের আলো, বাতাস, পর্যাপ্ত পানি, পরিমিত কীটনাশক, প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
ষ    কৃষকের দক্ষতা : অদক্ষ কৃষকের দ্বারা ফসলের পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে।
ষ    ফসল সংগ্রহ : পরিপক্ব ও পূর্ণাঙ্গ বয়স হলে সঠিক পদ্ধতিতে দক্ষ হতে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। অপরিপক্ব ফসলে সঠিক পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না।
ষ    রাসায়নিক পদার্থ : রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যের গুণাগুণ নষ্ট করে।
ষ    চধপশধমরহম : সংগৃহীত ফসল সঠিকভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে, অন্যথায় পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে।
ষ    ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ : ফসল পরিবহনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ষ    ঝঃড়ৎধমব : ফসল সঠিকভাবে গুদামজাতকরণ জরুরি, অন্যথায় খাদ্যের গুণগতমানের অপচয় হয়।
ষ    রক্ষণাবেক্ষণ : সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হলে পুষ্টিমান নষ্ট হয়।
ষ    রান্না করা : সঠিকভাবে কাটা, ধোয়া, রান্না করার ওপর পুষ্টিমান অনেকাংশ নির্ভর করে।

একটা সময় দেশে দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা-মন্দা, দারিদ্র্যের প্রাদুর্ভাব ছিল অনেক। এখন দেশের খাদ্য খাতের ব্যাপক সাফল্যের ফলে দেশের খাদ্য ঘাটতি কমে গেছে। তবে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্যের পুষ্টিমানের নিশ্চয়তা। অতিরিক্ত সার, রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও খাদ্যমূল্য কমিয়ে ফেলছে, যা দেশের জন্য বড় হুমকি।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিদ্যা
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Category:

দেশের নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা

2-6-2019 8-44-36 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানব জাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী। নাব্য সংকট ও বেদখলের হাত থেকে নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশ তথা মানব জাতি সংকটে পড়তে বাধ্য। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে নদীকে বেদখলের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। নদী রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে জাগরণ শুরু হয়েছে। এখন সবারই ভাবনাÑ পরিবেশের জন্য নদী রক্ষা করতে হবে।
রায়ে হাইকোর্ট তুরাগ নদকে লিগ্যাল পারসন (আইনগত ব্যক্তি) ঘোষণা করে বলেন, অবৈধ দখলদাররা প্রতিনিয়তই কম-বেশি নদী দখল করছে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে নদী। এসব বিষয় বিবেচনা করে তুরাগ নদকে লিগ্যাল/জুরিসটিক পারসন হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩০ জানুয়ারি নদী নিয়ে এক রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইট অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিট মামলায় এই রায় দেওয়া হচ্ছে। আদালত ৩০ জানুয়ারি রায় দেওয়া শুরু করেছেন। নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে ৩১ জানুয়ারি অবশিষ্ট রায় ঘোষণা করা হয়। ৩০ জানুয়ারি আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
গাজীপুরের তুরাগ নদের টঙ্গী কামারপাড়া সেতুর দুই পাশে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখল করাকে কেন্দ্র করে এইচআরপিবি’র করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট একই এলাকায় তুরাগ নদ ভরাট ও সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্তে তুরাগ দখলদারদের নাম ও ৩৬টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা উঠে আসে। এরপর তুরাগ নদের টঙ্গী কামারপাড়া সেতুর দুই পাশে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। যদিও আপিল বিভাগ গত বছরের ১৪ জানুয়ারি এক আদেশে স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।
নদী রক্ষায় বিভিন্ন দেশের আদালতের দেওয়া রায়ের উদাহরণ দিয়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমাদের দেশের সব নদীকে রক্ষা করার সময় এসেছে। যদি তা না করতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
রায়ে বলা হয়, ঢাকার চারপাশে বহমান চার নদী রক্ষায় এর আগে আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া না হলে এত দিনে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর হয়তো বহুতল ভবন দেখা যেত। অথবা তুরাগ নদে অবৈধ দখলদারদের হাউজিং এস্টেট থাকত।
আদালত আক্ষেপ করে বলেন, এত রায় ও নির্দেশনার পরও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে বিবাদীরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন হলে তুরাগ নদ রক্ষায় হাইকোর্টে আরেকটি মামলা করতে হতো না।
আদালত বলেন, ‘শুধু যে তুরাগ নদই আক্রান্ত তা নয়; গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনাসহ দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৪৫০টি নদ-নদীও অবৈধ দখলদারদের দ্বারা আক্রান্ত। এখন এসব নদী রক্ষায় আমরা (আদালত) কি হাজারখানেক মামলা করার ব্যাপারে উৎসাহ/অনুমতি দেব? না-কি অবৈধ দখলের হাত থেকে সব নদী রক্ষায় এই মামলা ধরে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেব? যে নির্দেশনার আলোকে নদী দখলমুক্ত করার মামলা আর আদালতের সামনে আসবে না?’

Category:

ব্রেক্সিট নিয়ে গৃহবিবাদে ব্রিটেন

2-6-2019 8-43-22 PMসাইদ আহমেদ বাবু: ব্রেক্সিট হলো ব্রিটিশ এক্সিটের সংক্ষেপিত রূপ। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিল যুক্তরাজ্যবাসী। তাতে ৬৭ শতাংশ ইইসি’র পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ওই ইইসি-ই পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ’তে রূপ নেয়, যার সদস্য সংখ্যা এখন যুক্তরাজ্যকে নিয়ে ২৮। ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড অঞ্চলগুলো নিয়ে গঠিত দেশ যুক্তরাজ্য। প্রত্যেকটি ভূ-খ-ের নিজস্ব ভৌগোলিক অবস্থান-ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি রয়েছে। একেক ভূ-খ-ের মানুষের চাহিদার মধ্যেও ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। ১৯৯৩ সালে ইইউ নিজস্ব মুদ্রা, নীতিমালা, নাগরিকদের জন্য সীমানামুক্ত বিচরণসহ বেশ কয়েকটি আইনে পরিবর্তন আনে। কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিক ইইউর বিধিনিষেধ মেনে চলা নিয়ে বিপক্ষে অবস্থান নিলে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট আয়োজন করে যুক্তরাজ্য। এই অনুষ্ঠিত গণভোটে অঞ্চলভিত্তিক ভোটের ফলাফলে পার্থক্য দেখা যায়। নাগরিকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। গণভোটে প্রায় ৫২ শতাংশ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ২৮ জাতির ইইউ জোটের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন পথে হাঁটার প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের এই গণভোটকে সংক্ষেপে বলা  হচ্ছে ‘ব্রেক্সিট’।
ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের স্বপ্ন নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে ব্রিটেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। এ নিয়ে দেশটিতে তৈরি হয় জটিলতা। অনেকে এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ব্রিটেনে এক ধরনের গৃহবিবাদ চলছে। দেশটির বিরোধী দল এই প্রস্তাবের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। প্রায় এক বছর কেটে গেলেও এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ব্রিটেন। ফলে ব্রেক্সিট ব্রিটেন ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে একটি চুক্তির ভিত্তিতে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু ব্রিটেনের এই প্রস্থান কীভাবে হবে সে-বিষয়ে দেশটির সংসদ সদস্যরা একমত হতে পারছেন না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে না চাওয়ার কারণ
ক. ভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা : ইইউ’র সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা ইউরো ব্রিটেনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই তারা স্রোতের বিপরীতে অর্থাৎ ইউরোর পরিবর্তে পাউন্ড-স্টার্লিং নিয়ে আছে।
খ. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব : ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষ তাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক (মুদ্রা পাউন্ড-স্টার্লিং, জাতীয় পতাকা ও ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টে প্রণীত আইনের)-এর ওপর কারও হস্তক্ষেপ চান না।
গ. জাতীয় ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য : ইইউ’র আইনকানুন সবক্ষেত্রে ব্রিটেনের সঙ্গে সমগামী নয়। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে অতিমাত্রায় সম্পৃক্ততার কারণে ব্রিটেন তার জাতীয় ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য হারাতে চায় না।
ঘ. নাগরিক স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা : ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধাকেই বড় করে দেখে। তারা চায় না ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা কোনোভাবে বিঘিœত হোক।
ঙ. শুধু ব্যবসা : ব্রিটিশরা ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে চায়; কিন্তু এর বেশি কিছু নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চাওয়ার কারণ
ক. রাজনৈতিক দলের দ্বিমত : ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার ব্যাপারে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা-নেত্রী ও সদস্যরা মোটামুটি একমত এবং না থাকার বিষয়ে রক্ষণশীল দলের নেতা-নেত্রী ও সদস্যরা বিভক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার ব্যাপারে লন্ডন মহানগরীর নাগরিকরা মোটামুটি সংখ্যাগরিষ্ঠ বলা চলে।
খ. ইউরোপ বাদ দিয়ে ব্রিটেন নয় : ইউরোপকে বাদ দিয়ে ব্রিটেন নয়। এমনকি যে স্কটল্যান্ড গত বছর ব্রিটেন ত্যাগ করে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীন হতে চেয়েছিল, তারাও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে নয়।
গ. অর্থনৈতিক স্বার্থ : ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ্যেই বলেছেন, লন্ডনের শক্তিশালী অর্থনীতি ইইউ ত্যাগ করার ফলে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া এই নগরীতে চাকরি হারাতে পারে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডস। হাউস অব কমন্সের সদস্য সংখ্যা ৬৫০। যারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি। আর হাউস অব লর্ডসে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০০-র মতো। এই সদস্যরা মনোনীত হন একটি সিলেকশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে যুক্তরাজ্যের রানি তাদের মনোনীত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার আর মাত্র দু-মাস বাকি রইলেও এখনও ব্রিটিশ সরকার ঠিক করতে পারেনি তারা কোন শর্তে বেরিয়ে আসবে। সম্প্রতি পার্লামেন্ট ভোটাভুটির পর এ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ব্রিটেনে। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ব্রেক্সিটের বিষয়ে একটি বড় অগ্রগতি হয়েছিল। ব্রিটেনের সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রেক্সিটের শর্ত ঠিক করার জন্য আলোচনা শুরু করে। সেই আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি চুক্তির বিয়য়ে একমত হয়েছিল। তেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে ব্রিটেনের জনগণ আর সময় অপচয় করতে চায় না। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে-র জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল সেই চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন করানো। অনুষ্ঠিত সেই ভোটাভুটিতে তেরেসা মে-র সরকারের বড় পরাজয় হয়েছিল। এরপর ২৯ জানুয়ারি দিন শেষে ৭টি সংশোধনীর ওপর ভোট হয়। অধিকাংশ সংশোধনী বাতিল হয়ে যায় ভোটের মাধ্যমে। আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়ে নতুন আলোচনা ও চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট না হওয়া। তেরেসা মে-র কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে অনেক প্রভাবশালী সদস্য রয়েছেন, যারা এর বিপক্ষে। তারা চান ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সীমান্ত সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে। ফলে তেরেসা মে যে চুক্তি করেছিলেন সেটি বাস্তবায়নের ক্ষীণ হয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, তেরেসা মে-র প্রস্তাবটি বাতিলের পক্ষে ৪৩২ সংসদ সদস্য এবং প্রস্তাবের পক্ষে ২০২ সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোটাভুটিতে ১১৮ এমপি বিরোধী দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মে-র চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে এই প্রথমবার দেশটির কোনো ক্ষমতাসীন সরকার পার্লামেন্টে এত বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখোমুখি হলো।
ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রশস্ত করতে তেরেসা মে-র চুক্তি বাস্তবায়নের জন্যই ছিল এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান। তেরেসা মে-র প্রস্তাবিত চুক্তিটি অধিকাংশ সংসদ সদস্যরা বাতিল করায় তার সামনে এখন দুটো পথ খোলা আছে। প্রথমত, চুক্তির নতুন খসড়া তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের সময় বাড়িয়ে নেওয়া। তা না হলে কোনো রকমের চুক্তি ছাড়াই ২৭টি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে ব্রিটেনকে। এতে বেশ বড়সড় সংকটে পড়বে দেশটির অর্থনীতি তথা সামাজিক অবস্থা। ২৯ মার্চের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল ওই চুক্তিতে।
সাধারণ ক্ষেত্রে এ ধরনের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ওপর বিশাল পরাজয়ের পর আশা করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন। তবে ভোটাভুটির পরেই তেরেসা মে আভাস দিয়েছেন, তিনি সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখবেন। ভোটাভুটিতে ব্যর্থ মে এখন সব দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্রেক্সিটের বিষয়ে করণীয় ঠিক করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ব্রিটেনের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোনো দলের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পরাজয় বলে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেরেসা মে-র এই পরাজয়ের পর ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। ইতোমধ্যে বিরোধী নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
এই চুক্তি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের বিতর্ক, সমঝোতার সবকিছুই ভেস্তে গেল। আর অনিশ্চিত হয়ে গেল ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ। এখন সরকারকে নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে হবে। এই বিশাল ধকল সামাল দিয়ে তেরেসা মে সরকারে টিকে থাকতে পারবেন কি না তা নিয়েও শুরু হয়েছে তোড়জোর।
মানুষের আশার চেয়েও বড় পরাজয় এবং এই ফলাফলের মাধ্যমে তেরেসা মে-র ব্রেক্সিট চুক্তির মৃত্যু ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর পার্লামেন্টের বাইরে আনন্দ মিছিল করেছে যুক্তরাজ্যের সাধারণ জনগণ। এদিকে ভোটের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারকে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তেরেসা মে-র দল কনজারভেটিভ পার্টির অনেক এমপি ব্রেক্সিট চুক্তিতে সমর্থন না দিলেও তারা সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী নয়। মে’র ডিইউপি জোটের অংশীদার দলগুলো ব্রেক্সিট চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিলেও আস্থা ভোটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পাশেই থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ব্রেক্সিট চুক্তির অন্যতম বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আলোচিত ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ কীভাবে পরিশোধ করবে যুক্তরাজ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত জোটের অন্য দেশগুলোর প্রায় ৩২ লাখ মানুষের অবস্থান কী হবে কিংবা ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৩ লাখ নাগরিকের ভবিষ্যৎই বা কী হবে এগুলোও চুক্তির মধ্যে ছিল। এগুলো ছাড়া নর্দান আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সমস্যার বিষয়টি তো ছিলই। এসব বিষয়ে চুক্তিতে যেসব সমাধান দিয়েছেন তেরেসা মে, তার বেশির ভাগই সদস্যদের পছন্দ হয়নি।
ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিম-লে ব্রিটেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ হচ্ছে। দেশটির অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতা বলয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডুবে গেছে ব্রিটেন। ব্রেক্সিট সংকট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশটিকে।
তেরেসা মে-র ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আগামী ২৯ মার্চ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাবেক উপনিবেশবাদী দেশ ব্রিটেনের। কিন্তু এই পরাজয়ের ফলে এ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।
চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে কী ঘটতে পারে সে-বিষয়ে বিবিসি জানায়, তেমন কিছু হলে রাতারাতি ইইউ-র সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটবে ব্রিটেনের। যদিও মে’র সরকার এবং আরও অনেকেই এর বিরুদ্ধে। দেশটির অধিকাংশ এমপি বলেছেন, কোনোরকম চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা ঠিক হবে না। এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনীর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। তারা চান ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্ন হতে। কিন্তু পার্লামেন্ট বর্তমান ব্রেক্সিট চুক্তি মেনে নিতে নারাজ থাকলে এবং নতুন কোনো বিকল্প পাওয়া না গেলে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হয়ে যাবে ব্রিটেনের। তখন আর ইইউ-র বিধিনিষেধ মানতে হবে না দেশটিকে।
তবে মেনে চলতে হবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মকানুন। আমদানি-রপ্তানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপ হবে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ব্রিটেনে আসতে দেরি হবে। সেজন্য ব্রিটেনের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, যুক্তরাজ্য এখন সবদিক থেকেই চাপে রয়েছে। আমাদের উচিত তাদের বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বের এই জটিল সময়টিতে তাদের সাথে মধ্যস্ততা করা। কেননা, ব্রিটেন পরিস্থিতি ঠিকঠাক সামাল দিতে পারছে না।
আয়ারল্যান্ডের সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ভোটাভুটি অযথার্থ ব্রেক্সিট চুক্তির আশঙ্কাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী ওলাফ স্কলজ বলেন, ইউরোপের জন্য একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার দিন ছিল। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে, কঠোর কোনো চুক্তি ইইউ ও যুক্তরাজ্যের জন্য মোটেও শুভ ফল বয়ে আনবে না।
ব্রেক্সিট চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়া যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত এই পরিবর্তন ব্রেক্সিট ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা মাথায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে সরকারের কেবিনেট। এজন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ২ বিলিয়ন পাউন্ড স্টারলিং অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাতে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। এছাড়া, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা মাথায় রেখে পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেবে সরকার। এ-রকম একটি নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকার কিংবা পার্লামেন্ট কেউই দিতে পারছে না সঠিক সমাধান। অথচ ব্রেক্সিট ইস্যু কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এর সাথে জড়িত রয়েছে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ।
ইইউ ত্যাগ করে একলা চলো নীতিতে ফেরা ব্রিটেনের জন্য কতটা সহজ বা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মতো, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা প্রয়োজন। তেমনিভাবে ইইউ-র সঙ্গে থেকে গেলে প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হবে বা আদৌ ব্রিটেনের জন্য ভালো কিংবা স্বস্তিদায়ক হবে কি না তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ জরুরি। সেই সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
না হলে দিন দিন এই সংকট বাড়বে, তবে কমবে না। সমাজের ভেতর থেকে উঠে আসা প্রথম সারির দেশটির মনোযোগ ঘুরিয়ে দিতে পারে অন্যদিকে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ আলোচনার পর অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে তেরেসা মে-র সরকারের প্রতি সমর্থন জানান ৩২৫ সংসদ সদস্য। আর অনাস্থা জানান ৩০৬ জন। এরপর তেরেসা মে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সব সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটস এবং প্লেড সাইমরু নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। এখন বিকল্প পন্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্যের সরকার।

Category:

বিক্রমপুরে বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ আবিষ্কৃত

2-6-2019 8-41-35 PMআরিফ সোহেল: প্রাচীন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র বিক্রমপুরের মুন্সিগঞ্জে এবার আবিষ্কৃত হয়েছে বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ। গত ২২ জানুয়ারি রামপালের বল্লালবাড়িতে আবিষ্কৃত মৃৎ পাত্র, ইট, কাঠ-কয়লা ও ইটের টুকরো তার সাক্ষ্য বহন করে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতœতত্ত্ব খননের মাধ্যমে সূচিত হয়েছে আরেকটি নব ইতিহাসের। এর আগে নাটেশ্বর এবং রঘুরামপুরেও প্রতœস্থান খুঁজে পেয়েছে এই সংগঠনটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ও চীনের একদল প্রতœতাত্ত্বিক যৌথভাবে এই কাজে সম্পৃক্ত। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’ যাত্রা শুরু করে। রামপালের বল্লাল বাড়িতে আবিষ্কৃত রাজা বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ ও মন্দির রয়েছে। দুদিনের পরীক্ষামূলক খননেই মাটির নিচে চাপা থাকা ৮০০ বছরের পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন খননকারীরা।
মুন্সিগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নের বল্লালবাড়ি এলাকাটি বাংলার সেন রাজাদের রাজধানী বিক্রমপুর হিসেবে পরিচিত থাকলেও সেখানে রাজবাড়ির কোনো চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল না। দখল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিতে চারদিকে পরিখাবেষ্টিত এমন বিশাল বাড়িটি আবিষ্কারের জন্য এর আগে কোনো প্রতœতাত্ত্বিক খনন হয়নি। ড. নূহ-উল-আলম লেনিনের নেতৃত্বে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই অঞ্চলের প্রাচীন নিদর্শন ও প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ উদ্ধারে ২০১১ সাল থেকে প্রতœতাত্ত্বিক দেশের খ্যাতিমান প্রতœতত্ত্ববিদ ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে জরিপ ও খননকাজ শুরু হয়। এতে রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে আবিষ্কৃত হয় হাজার বছরের বৌদ্ধবিহার ও টঙ্গিবাড়ীর নাটেশ্বরে বৌদ্ধমন্দির। আর এবার একই ইউনিয়নের বল্লালবাড়ি এলাকায় আবিষ্কৃত হলো সেন আমলের রাজবাড়ি। বল্লালবাড়িতে খননকাজ শুরুর আগে জমি দখল অধিকারে থাকা মালিকদের অনুমতি নিয়েই খননকাজ শুরু করা হয়েছে।
সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা বিজয় সেন ও বিলাস দেবীর ছেলে বল্লাল সেন ১১৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাবার মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ২০ বছর রাজত্ব করেন। তিনি তার নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিক্রমপুরের রামপালে। কিন্তু সেই রাজধানীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে মুন্সিগঞ্জে বল্লালবাড়ি একটি জায়গা রয়েছে। সেখানের একটি স্পটে খনন করেই মূল মাটির ২-৩ ফুট নীচে প্রাচীন ইট, ইটের টুকরো, মাটির পাত্রের টুকরো, কাঠ-কয়লা পাওয়া গেছে। প্রথমে খননকাজ শুরু হলে প্রাচীন প্রতœস্থানের নিদর্শনস্বরূপ এসব জিনিসই পাওয়া যায়। পরে বিস্তৃত আকারে খনন করলে মূলত দেয়াল বেরিয়ে আসে। যেমনটি পাশর্^বর্তী রঘুরামপুরে ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে পাওয়া গেছে। খননকাজটি চালিয়ে যেতে পারলে বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ, মন্দির, রাস্তাঘাট সবকিছুই পাওয়া যাবে। ভূ-প্রাকৃতিক বিবর্তনের ফলে রাজা বল্লাল সেনের প্রাসাদ বা দুর্গ হারিয়ে গেছে বহুকাল আগেই। একটি ক্ষুদ্র অংশ আবিষ্কৃত হওয়ায় প্রাচীন বিক্রমপুরের ইতিহাসের নতুন দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে বলেন, প্রায় ৮০০ বছর প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল এই বিক্রমপুরে। তাই এখানে ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু কখনও এই রাজধানী বা রাজপ্রাসাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজকের খননের মধ্য দিয়ে যে সম্ভাবনা লক্ষ করছি, তা আমাদের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। উল্লেখ্য, খননকাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এবং চীনের অধ্যাপক চাই হোয়াংবো।
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, সেন বংশের রাজধানী ছিল বিক্রমপুর। খননের মধ্য দিয়ে সেন বংশের ইতিহাস ও তৎকালীন বাংলার রাজধানী বিক্রমপুরের ইতিহাস বৈজ্ঞানিকভাবে বের হয়ে আসছে। যা বিক্রমপুর তথা বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। খুঁজে পাওয়া নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করা হবে। এগুলো থেকে প্রাচীন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বল্লালবাড়িতে পরীক্ষামূলক খনন শুরু হয়েছে। ২১ জানুয়ারি মাত্র ৯ বর্গমিটার খননেই বেরিয়ে আসে প্রাচীন বসতির গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য স্থাপত্যের চিহ্নরেখা। প্রথম দিনই উন্মোচিত হয় সেন রাজবাড়ির প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন পাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা।
মাত্র দুদিনে পরীক্ষামূলকভাবে ২১-২২ জানুয়ারি খনন করে এই বল্লালবাড়ি আবিষ্কার করা হয়েছে। একটি পানের বরজের মাটি খুঁড়ে দলটি এই প্রতœনিদর্শন পায়। এখান থেকে পাওয়া চারকোল দিয়েও তাই সহজেই এটার বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব। সংগ্রহকৃত চারকোলটি আমেরিকান ল্যাবরেটরি বেটাতে পাঠানো হবে। সেখানে কার্বন পরীক্ষা শেষে সংগ্রহ করা নমূনা কত বছর আগের তা জানা যাবে।
প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সন্ধান করে জানা গেছে, বল্লালবাড়ি এলাকাটি একটি দুর্গ। এটি বর্গাকার, প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ২৭২ মিটার। দুর্গের চারদিকে যে পরিখা [নালা] ছিল তা প্রায় ৬০ মিটার প্রশস্ত। রামপাল কলেজের পাশে এখনও একটি পরিখা দৃশ্যমান। অন্যগুলো ভরাট করে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। আবিষ্কৃত নিদর্শনের সময়কাল নির্ণয়ে এখন গবেষণা করা হবে।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, এই খননে প্রাচীন নিদর্শনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিক্রমপুরের ইতিহাস-সমৃদ্ধ ছাড়াও প্রতœতত্ত্বনগরী মুন্সিগঞ্জে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে পর্যটকদের।
উল্লেখ্য, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সিগঞ্জের বজ্রযোগিনী ও রামপাল অঞ্চলে প্রাচীন নিদর্শন ও প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ উদ্ধারে ২০১১ সাল থেকে প্রতœতত্ত্ব জরিপ ও খননকাজ হাতে নেয়। বৌদ্ধ ধর্মের প-িত অতীশ দীপঙ্করের বাস্তুভিটার কাছে ২০১৩ সালে প্রাচীন বৌদ্ধবিহারটি আবিষ্কার হয়। বিহারটি বিক্রমপুর বিহার নামে পরিচিত। আবিষ্কৃত বৌদ্ধবিহারের ৫টি ভিক্ষু কক্ষ ইতোমধ্যে উন্মোচিত হয়েছে। একেকটি কক্ষের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩ দশমিক ৫ মিটার করে। ধারণা করা হচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্মের জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্করের সঙ্গে এই বিহারের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া টঙ্গিবাড়ীর নাটেশ্বর গ্রামে দেড় হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধনগরীও আবিষ্কার করেছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন। সেখানে খননে বেরিয়ে এসেছে বৌদ্ধমন্দির, অষ্টকোণাকৃতি স্তূপ, ইট নির্মিত নালা, রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এই খননে দেড় হাজার বছর আগের বৌদ্ধযুগের নগরীর নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।
শ্রীনগরের বালাসুরে জমিদার যদুনাথ রায়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে অগ্রসর বিক্রমপুর সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েই বিক্রমপুর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৩ সালের ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। বিক্রমপুর জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালের ২৪ এপ্রিল।

Category:

গ্রামকে শহরের সুবিধা দিতে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

2-6-2019 8-39-39 PMউত্তরণ ডেস্ক: দেশের পাঁচ বিভাগের ১৮০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো তথা সড়ক উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ২০ কোটি ডলারের (১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে ও অবশিষ্ট ১০ কোটি ডলার নিয়মিত হারে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে এডিবি। ফলে ২০১৭ সালের বন্যায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাওয়া ২১ জেলার পল্লি এলাকার সড়ক ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১৩ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের আওতায় আসছে।
গত ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও এডিবির পক্ষে সংস্থার ঢাকা আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার আলী আকতার হোসেন। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় দেওয়া অর্থ সফল ব্যবহারের মাধ্যমে পরবর্তীতে চুক্তি করবে এডিবি।
ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে গ্রামকে শহর বানানো। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেটি পূরণে সহায়ক হবে। সেই সঙ্গে এসডিজি ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মনমোহন প্রকাশ বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের এ যাবতকালের সর্বোচ্চ এবং এডিবির সদস্য দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কার বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। সাধারণত সড়ক তৈরি হলেও অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার বা ব্যবস্থাপনা করা হয়। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো এ প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গেই সব কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের পাঁচ বিভাগের ৩৪ জেলার মোট ১৮০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ হবে। এর ২ হাজার ২১০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক সংস্কার করা হবে। সংস্কারের আওতায় আসবে ৪৯৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক। বৃক্ষরোপণ করা হবে ২৫০ কিলোমিটার সড়কে। ২০২৩ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা (২৮৫.৩১ মিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে এডিবি ঋণ হিসেবে দেবে ১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। ১০ কোটি ডলার সহজ শর্তে (অর্ডিনারি অপারেশন্স লোন-সিওএল), যার সুদের হার ২ শতাংশ। বাকি ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে নয়, নিয়মিত (রেগুলার ওসিআর ভিত্তিতে সুদের হার) হিসেবে প্রদান করা হবে। এছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ হারে ম্যাজরিটি প্রিমিয়াম ও অব্যয়িত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ হারে কমিটমেন্ট চার্জ ওসিআর ঋণের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। গত ৯ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। উৎপাদনশীল কৃষি এলাকায় উচ্চ আয় সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক কেন্দ্রে যাতায়াত সুগম করতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সংযোগ উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, জলবায়ু সহিষ্ণু ও আবহাওয়া উপযোগী করতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর কাজ শেষ হলে ৫ কোটি ১৫ লাখ কৃষিনির্ভর মানুষ সুফল পাবে বলে ধারণা দিয়েছে এডিবি। এ বিষয়ে এডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাবছর সড়ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ। পল্লীর মাত্র ২৮ শতাংশ সড়ক বর্ষায় ব্যবহারের উপযুক্ত থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ের ৮৪ শতাংশ সড়ক এখনও কাঁচা। উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা সড়কের হার ৩৩ শতাংশ। যাতায়াত অবকাঠামো ত্রুটিতে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত গ্রামের মানুষ। ২০২৩ সালের মধ্যে গ্রামের ৮০ শতাংশ সড়ক সারাবছর ব্যবহারযোগ্য করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে সংস্থাটি।
কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে পল্লী সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি খাতের হাত ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ এলেও এ খাতে মোট শ্রমশক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে প্রকল্পটি সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নেওয়া পল্লী সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। ফলে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আয় বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নতিতে কৃষির অবদান বাড়াতে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও পল্লিতে বাস করেন। তাদের অধিকাংশই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পল্লীর নাজুক পরিবহন ব্যবস্থা, বাজারে অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কয়েকটি দুর্বলতায় দেশের কৃষি খাত পিছিয়ে আছে।
প্রকল্পের আওতায় ৩৪ জেলা নির্বাচনে ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এডিবি। জনসংখ্যা, কৃষির সম্ভাবনা, কৃষি ফার্মের সংখ্যা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্বাচন করা হয়েছে। এসব সড়কে বিভিন্ন ট্রাফিক চিহ্ন, পাহারা চৌকি, স্পিড ব্রেকার বানানোর উদ্যোগও থাকবে। কাজ শেষে পাঁচ বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের শর্তে সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী); ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলা (ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর); খুলনা বিভাগের ছয় জেলা (চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর ও নড়াইল); রাজশাহী বিভাগের ছয় জেলা (বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী) এবং রংপুর বিভাগের আট জেলার (রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও) মোট ১৮০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

Category:

দশকের সেরা চিন্তাবিদের তালিকায় শেখ হাসিনা

2-6-2019 8-35-14 PM

“এর আগে ২০১৫ সালেও ফরেন পলিসির তৈরি করা বছরের ‘শত চিন্তাবিদের’ তালিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য তালিকায় ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।”

উত্তরণ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরেন পলিসি দশকের ‘সেরা ১০০ চিন্তাবিদের’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত শেখ হাসিনাকে ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ বিভাগে সেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় রেখেছে ফরেন পলিসি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ফরেন পলিসি বলেছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি মোকাবেলা করেছেন শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে যে উদারতা তিনি দেখিয়েছেন, তা সব সময় তিনি নিজের দেশের বিরোধীদের প্রতি দেখান না।
ফরেন পলিসি প্রতি বছর ‘১০০ লিডিং গ্লোবাল থিংকার্স’ শিরোনামে তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকা প্রণয়নের দশক পূর্তি উপলক্ষে এবার ১০টি বিভাগে ১০ জন করে দশকের ‘সেরা শত চিন্তাবিদদের’ তালিকা করেছে তারা। ‘স্ট্রংম্যান’ ক্যাটাগরিতে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, চীনের ব্যবসায়ী গ্রুপ আলিবাবার চেয়ারম্যান জ্যাক মা, বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মি টু আন্দোলনের নারীরা, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিনে লগার্দ, ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর কম্পিটিশন মার্গারেটে ভেস্টারজার, পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও টিভি উপস্থাপক ফরিদ জাকারিয়া, বিল ও মেলিন্ডা গেটস ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে রেখেছে ফরেন পলিসি।
‘ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি’ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাশেম সুলেইমানি, জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডার লেয়েন, মেক্সিকোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলগা সানচেজ করডেরো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, স্পেসএক্স-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গিনে শটওয়েল, প্যালানটিয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প, বেলিংক্যাট-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক এলিয়ট হিগিনস, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সহযোগী ভøাদিসøাভ সুরকভ এবং ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রী সুশি পুদজিয়াৎসু। প্রয়াত সেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, নোবেলজয়ী লেখক ভি এস নাইপল, বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনকে রেখেছে ফরেন পলিসি।
এর আগে ২০১৫ সালেও ফরেন পলিসির তৈরি করা বছরের ‘শত চিন্তাবিদের’ তালিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য তালিকায় ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

Category: