Blog Archives

শেখ হাসিনার অনন্য রেকর্ড

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের ইতিহাসে একসঙ্গে ৩টি রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান, চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘমেয়াদি দলীয়প্রধান। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্বের বিচারে দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও তিনি আসীন হলেন অনন্য উচ্চতায়। বিশ্বে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নারী নেতা হিসেবে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠনের ইতিহাস এখন শুধু তারই হাতের মুঠোয়। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটানা ক্ষমতার দিক থেকে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড। এই মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হলেই আধুনিক সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার বিশ্ব-ইতিহাসে একটানা ক্ষমতায় থাকার দিক থেকে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন। তাছাড়া দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে টানা ৩৮ বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব রাজনীতিতে এটিও বিরল ঘটনা। এবার নিয়ে চারবার প্রধানমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করলেন তিনি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংসদীয় সরকারের প্রধান হিসেবে সংখ্যায় অল্প হলেও দেখা গেছে প্রভাবশালী নারী মুখ। তাদের হাত ধরে এগিয়েছে নারীমুক্তির আন্দোলনও। বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস হয়ে আছেন শ্রীলংকার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক। তিনি মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে পৃথক তিন মেয়াদে। নারী রাজনীতিক হিসেবে বিশ্বে গুরুত্বসহকারে উচ্চারিত নাম ইন্দিরা গান্ধী। তিনি ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হলে তার অপূর্ণ মেয়াদে এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে পরের বছর প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৭১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে প্রথম বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব বাদ দিলে তিনি বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে টানা দুবার সরকার গঠন করেছিলেন। আরেকবার প্রধামন্ত্রী হন ১৯৮০ সালে। এই হিসাবে নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধীর সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে তিনি হতে চলেছেন বিশ্বে অদ্বিতীয়।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ও সুদান, সোয়াজিল্যান্ডের মতো সাম্রাজ্যিক শাসন বাদ দিলে আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দিন প্রায় ৩১ বছর টানা ক্ষমতায় ছিলেন সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ। তার কাছাকাছি আছেন মালয়েশিয়ার প্রবাদপ্রতিম নেতা মাহাথির মোহাম্মদ। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার পর গত বছর মে মাসে শতবর্ষী এই নেতা আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে তাদের মতো একহাতে এত লম্বা শাসনের ইতিহাস নেই। এদিক থেকে ভারত-পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশের সব নেতার মধ্যে এগিয়ে থাকছেন শেখ হাসিনা।
38 PM১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বছরের ২৩ জুন তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নবম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগসহ মহাজোট। ৬ জানুয়ারি শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করেন। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি।
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেক দফা নিরঙ্কুশ বিজয় হয় আওয়ামী লীগের। এর ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে ও মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ছেন শেখ হাসিনা। এই হিসাবে সব মিলিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এ রেকর্ড আর কারও নেই। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বমোট তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের কিছু বেশি সময়।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার রেকর্ড : বাংলাদেশের ৩টি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয় আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনেও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ হিসাবে শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে ১২ বছরের ওপরে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, যেটিও মেয়াদ ও সময়কালের দিক থেকে রেকর্ড। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে এবং ১০ বছরের মতো বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে রেকর্ড : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই দেশে ফেরেন। এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। সে-সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গেলেও তাদের দেশে ফিরতে দেয়নি তৎকালীন জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে এবং টানা অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। এই সময়ে অনুষ্ঠিত সব কাউন্সিলেই সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

Category:

নির্ভার শেখ হাসিনা, নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থন

38 PM উত্তরণ ডেস্ক: ‘বিশাল ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়ে অভিনন্দন জোয়ারে ভাসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক অভিনন্দন বার্তার কারণে তিনি নির্বাচনী “অনিয়মের অভিযোগ” তদন্তের বিষয়ে খুব একটা ভাবছেন না।’ বাংলাদেশের নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থার এভাবেই বর্ণনা দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে।
‘নির্ভার শেখ হাসিনা, নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সমর্থন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট ঐতিহাসিক জয় পেলেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীরা। শপথ নেননি বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত বিএনপি ও গণফোরামের সাত আইনপ্রণেতা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। এমন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক অভিনন্দন বার্তার কারণে তদন্তের প্রশ্নে চাপমুক্ত থাকতে পারছেন শেখ হাসিনা। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুভেচ্ছার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রধানমন্ত্রীকে নির্ভার রেখেছে।
একজন সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষককে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা 38 2PMহয়েছে, এক দশকের শাসনে অর্জিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, প্রভাবশালী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই সমর্থন আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট। প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র ৭টি আসন। টানা তৃতীয় দফায় চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ৩ জানুয়ারি সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে মন্ত্রিসভা গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ সোমবার। বিশাল ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়ে অভিনন্দন জোয়ারে ভাসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে খুব একটা ভাবছেন না তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ছিল না। তবে ভারত আর চীনের অভিনন্দন বার্তা পরিস্থিতি বদলে দেয়। একে একে বার্তা পাঠায় সৌদি আরব, রাশিয়া, কাতার, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভুটান ও পাকিস্তান। অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানালেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি আসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে।
২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর সতর্কতার সঙ্গে ভারত, চীন, রাশিয়া ও সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের সফল সূচনা ঘটান শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে তা অব্যাহত রাখেন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নামে গড়ে ওঠা সৌদি নেতৃত্বাধীন ৩৪ জাতির একটি সামরিক জোটে যোগ দেয় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে মিলে শুরু হয় প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। চীনের কাছ থেকে কেনা হয় দুটি সাবমেরিন। জাপানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের বিনিয়োগে।
সস্তা শ্রমের কারণে চীনের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। এপি বলছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি করা তৈরি পোশাক থেকে বাংলাদেশের বার্ষিক আয় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের আমদানির শীর্ষ দুই উৎস চীন ও ভারত। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে আমদানি করি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে রপ্তানি করি।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক কবির মনে করেন, বাণিজ্যের বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আরও একটি সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। মূল্যবোধ হিসেবে আমরাও তাদের মতো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সুতরাং সেই প্রশ্নেও আমরা তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসীদের সূত্রেও পশ্চিমের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন কবির। ওই দেশগুলোর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী এক বিবৃতিতে সহিংসতা, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানালেও সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অভাবনীয় রেকর্ডের সঙ্গে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয় আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয় উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার কাজকে আরও এগিয়ে নিতে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিবাচক বার্তা এসেছে সৌদি আরবের তরফ থেকেও। বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও মানবাধিকার হরণের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ এর মানবাধিকার কমিশন। তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকেও অনিয়মের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে চিন্তিত নন শেখ হাসিনা।
বিশ্লেষক কবির বলছেন, বিগত ১০ বছরের শাসনে শেখ হাসিনা প্রভাবশালী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সফল সম্পর্ক গড়তে সক্ষম হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন তিনি। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির প্রশ্নে বাংলাদেশ এখন একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নিরঙ্কুশ বিজয় বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হয়েছে ভোটারদের রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে।
হুমায়ুন কবির মনে করছেন, ভোটের ফলাফলের পর বাংলাদেশের কীর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলছে আর দুর্দান্ত ফলের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। এপির প্রতিবেদনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ১২ জনেরও বেশি নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আলোচনায় এসেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার প্রসঙ্গও। তবে হুমায়ুন কবিরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে স্থিতিশীল দেখতে চায়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের শ্রম খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, অবকাঠামোতে অধিকতর উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো যুগোপযোগী করার দৃষ্টান্ত প্রয়োজন আমাদের। কারণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এই ইস্যুগুলো খেয়াল করে। এসব কারণেই তারা বাংলাদেশকে এখন ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।

Category:

নতুন বছরের প্রথম দিনে ৪ কোটি শিক্ষার্থী পেল ৩৫ কোটি বই

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যেও সফল এক উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই দিয়ে নতুন বছর শুরু করল সরকার। বছরের প্রথম দিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া দেশজুড়ে স্কুলে স্কুলে উৎসবের মধ্য দিয়ে ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী হাতে পেল ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি নতুন ঝকঝকে পাঠ্যবই। শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে শামিল হয় উৎসবে। যুগান্তকারী এ কর্মযজ্ঞের হিসাব বলছে, ১০ বছরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৯৬ কোটি ৮ লাখ বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করেছে সরকার। যে দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। এ এক অন্যরকমের উৎসব। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এ এক অন্যরকম দিন। বছরের প্রথম দিন খালি হাতে স্কুলে যাওয়া, আর সহপাঠীদের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে শামিল হয়ে হাতে পাওয়া পুরো এক সেট ঝকঝকে নতুন বই।
জানা গেছে, নির্বাচনের কারণে এবার বইয়ের কাজ আগে শেষ করার টার্গেট নির্ধারণ করেছিল সরকার। ভালোভাবে কাজ হয়েছে। তাই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের মধ্যেও বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের নতুন ঝকঝকে পাঠ্যবই পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। উৎসবে শামিল হয়ে শিক্ষার্থীরা তাই হাতে পেল সকল পাঠ্যবই। রাজধানী থেকে শুরু করে উৎসব চলছে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের স্কুলে স্কুলে।
এদিকে সরকারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের তথ্য দেখলেই স্পষ্ট হয় প্রায় প্রতিবছরই বেড়েছে বিনামূল্যের বইয়ের সংখ্যা। বেড়েছে শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনেছে। যা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। তথ্য বলছে, গত ১০ বছর আগে দেশে বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের হার ছিল ৮০ শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু ১০ বছরের মাথায় আজ প্রায় শতভাগ শিশু আসছে বিদ্যালয়ে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর উপস্থিতিকে বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
শতভাগ বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের প্রথম বছর বইয়ের সংখ্যা ছিল ২০১০ সালে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১ কপি, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪ কপি, ২০১২ সালে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩ কপি, ২০১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬ কপি, ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৬ কপি, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩ কপি, ২০১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ কপি, ২০১৭ সালে বই ছিল ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ কপি। গত বছর বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি। আর এবার ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি। এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক রতন সিদ্দিকী বলছিলেন, গত ১০ বছরে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বইয়ের পরিমাণ ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২ কপি। যাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এ কাজ যুগান্তকারী। পৃথিবীতে এটা একটি নজির। তিনি আরও বলছিলেন, ২০১০ সালের আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনই ছাত্রছাত্রীরা যেমন পায়নি শতভাগ বিনামূল্যের বই তেমনি বছরের প্রথম দিনও পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

Category:

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও বিএনপির পরাজয় প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে এবং বিএনপির কেন পরাজয় ঘটেছে, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
ঊঢ়ৎড়ঃযড়স অষড় ফেসবুক স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট বলছে ভয়ভীতির কথা। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নিই, আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ বিএনপির এই আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সঙ্গে সমানতালে গলা মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু কথা বলতে চাই।’
বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে জয় লিখেছেন, ‘তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যধিক। তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের” অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল, কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।’
বিএনপির উদ্দেশে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ না-কি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের জন্য সর্বোচ্চ না। কারণ, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। তখন যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার পেছনে আছে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ।’
আওয়ামী লীগ জয় পাওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘প্রথম কারণটি খুবই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার অর্ধেক করা হয়েছে। মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, তা এখন দৃশ্যমান।’
জয় বলেন, ‘আমাদের সুশীল সমাজ সব সময়ই বলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের ভোটাররা না-কি পরিবর্তন চায়। এসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায়Ñ আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, এমনকি ধনী ব্যবসায়ীও হন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সুফল আপনিও পাচ্ছেন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে, যাদের আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?’
দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচার কিন্তু গত বছর শুরু হয়নি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম। জনগণের কাছে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করিনি। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, যা উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে, তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে আছে আমাদের দলের ভিশন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিশ্রম। যার কৃতিত্ব আমাদের দলীয় মন্ত্রী, সাংসদ, কাউন্সিলরসহ সবার। যখন আমাদের বিরোধী পক্ষ ও সুশীল সমাজ ব্যস্ত ছিল সমস্যা ও নালিশ নিয়ে, আমরা ব্যস্ত ছিলাম জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুশীল সমাজের একটি বড় অপপ্রচার হচ্ছে, নতুন ভোটাররা রাজনৈতিক দল নিয়ে মাথা ঘামায় না ও তাদের বেশির ভাগই না-কি পরিবর্তন চায়। তারা বুঝতে পারেনি যে এই নতুন ভোটাররা আমাদের আমলের উন্নয়নের মধ্যে বড় হয়েছে, যা তাদের জীবনকে করেছে আরও সহজ ও উন্নত। তারা কেন আমাদের ভোট দেবে না?’
আওয়ামী লীগের জনমত জরিপের কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে এবার কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোনো জরিপ আসেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে কিন্তু তারা ঠিকই একের পর এক জরিপ প্রকাশ করছিল, দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অবস্থা কত খারাপ। আসলে বাংলাদেশে খুব কম ব্যক্তি বা সংগঠনই সঠিকভাবে জনমত জরিপ করতে পারে। হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের ওপর পড়াশোনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি, তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সঙ্গে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি, নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।’
জরিপ বিষয়ে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে আমাদের জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি, আওয়ামী লীগ পাবে ৫৭ থেকে ৬৩ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে ১৯ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট। তাহলে আমরা ৭২ শতাংশ ভোট কীভাবে পেলাম? আমাদের জরিপের জন্য স্যাম্পল নেওয়া হয় ৩০০ আসন থেকে। অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে। কিন্তু ভোট দেওয়ার হার কখনোই ১০০ শতাংশ হয় না, আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছিল ২৯৮টি আসনে। ২৯৮টি আসনে ১০ কোটি ৩৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ ৮ কোটি ২৮ লাখ। আওয়ামী লীগ পেয়েছে প্রায় ৬ কোটি ভোট। ১০ কোটি ৩৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি মানে ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের জরিপের সঙ্গে এই বিষয়টি মিলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট কেন এত কম ভোট পেল? কিছু যৌক্তিক কারণে। বিএনপির চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে দ-িত হয়ে জেলে আছেন। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনও দ-িত আসামি, আছেন দেশের বাইরে পালিয়ে। তাদের সংগঠনের অবস্থা করুন। তার থেকেও বড় আরেকটি কারণ আছে, যা আমাদের সুশীল সমাজ সহজে বলতে চায় না। যেই কারণটি বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি।’
বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘জনমত জরিপগুলো থেকে খেয়াল করেছি যে, বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যে অগ্নিসন্ত্রাস চালায়, তারপর থেকেই তাদের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের আগে জরিপগুলোয় বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রিয়তায় ১০ শতাংশ পিছিয়ে থাকত। কিন্তু রাজনীতির নামে সন্ত্রাসবাদের কারণে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যবধান ৩০ শতাংশ হয়ে যায়, আর তারপর থেকেই বাড়তেই থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া তাদের আত্মঘাতী নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কমতি ছিল পরিষ্কারভাবেই। তার ওপর তারা তারেক রহমানের মাধ্যমে নিজেদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়। আর মানুষের মনে ভেসে ওঠে হাওয়া ভবন আমলের দুর্নীতি ও সহিংসতার দুঃসহ সব স্মৃতি। তারেক রহমান আবার মনোনয়ন দেন একাধিক চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীকে। এর মাধ্যমে কি তাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে, না কমবে?’ বিএনপির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থকদের তারা ইঙ্গিত দেয় যে তারা নির্বাচন থেকে সরে আসবে। আপনি যদি মনে করেন আপনার দল নির্বাচনেই আসবে না, তাহলে কি আপনি ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন? এই কারণে তাদের নিজেদের সমর্থকদেরও ভোট দেওয়ার হার কম ছিল, যার ফলশ্রুতিতে তারা ভোট পায়ও কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বার্তাই ছিল আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই বার্তা গ্রহণ করেনি। কারণ, তারা নিজেরাই দেখেছে কীভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে।’
ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেন নি। কারণ, তিনি জানতেন, তিনি কোনো আসন থেকে জিততে পারবেন না। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম একটি নয়, দুটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতোই, তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি, তারা কীভাবে দুটি আসনে জেতে?’
স্ট্যাটাসের শেষে জয় বলেন, ‘সত্য আসলে বেশি জটিল না। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণেরা, দেখছে কীভাবে শেখ হাসিনার মতো একজন ডাইনামিক নেত্রী দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বিরোধী পক্ষের শত অপবাদ, অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি কোনো কাজে আসেনি। কারণ, দিন শেষে মানুষ তাকেই বেছে নেয়, যে তাকে উন্নত জীবন দিতে পারবে।’
ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ফেসবুক স্টেটাসে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশ সময় ১২ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে তিনি এই স্টেটাস দেন।

Category:

২০১৮ : ক্রিকেটময় একটি বছর

38 2PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশ নতুন স্বপ্ন-সম্ভাবনার রথে চড়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন বছরের। এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশÑ সমানতালে এগিয়ে যাবে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনও। ক্রীড়াঙ্গনে ২০১৮ সালে সাফল্য রয়েছে, রয়েছে তেমনি ব্যর্থতাও। সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ক্রিকেটে। প্রাপ্তি মেহেদি মিরাজ। তার তিন ফরম্যাটেই প্রাণবন্ত উপস্থিতি ক্রিকেটে নতুন আলোর বার্তা এনে দিয়েছে। তরুণ টেস্টে স্পিনার নাঈম হাসান সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। ক্রিকেট পাগল বাঙালিরা ২০১৮ বছরটিকে গভীরভাবেই মনে রাখবে অনেক দিন। সঙ্গে মেয়েদের ফুটবল, আর শুটিংয়ের অর্জন ছিল উল্লেখ করার মতো ক্রীড়াঙ্গনের ঘটনা।
পেছন ফিরে তাকালেই ভিড় করে একঝাঁক স্মৃতির মরীচিকা। পাওয়া না পাওয়ার যোগ-বিয়োগ। আর স্মৃতির অ্যালবামে শুধু বেদনাই থাকে না, থাকে আনন্দেরও উপলক্ষ। তাই যুগপৎভাবে ফিরে ফিরে আসে আনন্দ-বেদনার কাব্যকথা। আর এই আনন্দ-বেদনার হলাহল পান করেই এগিয়ে যেতে হয় অনিশ্চিত আগামীর পথে। ক্রিকেট এবং ফুটবলে নতুন প্রজন্ম আলোর মশাল হাতে তুলে নেওয়ার নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৪৪টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছে। তিন ফরম্যাটে জিতেছে ২১টি ম্যাচ। বড় প্রাপ্তি খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। ওয়ানডেতে ২০টি ম্যাচে খেলে ১৩টিতেই জয় পেয়েছে মাশরাফি বাহিনী। ব্যর্থতা ছিল টি-২০ ও টেস্ট ম্যাচে। ৮টি টেস্টের জয় এসেছে মাত্র ৩টিতে, ড্র একটি। ১৬টি টি-২০তে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৪টিতে। সর্বাধিক ওয়ানডে খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫টি। জিতেছে সবকটিই। এবারও সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে।
শ্রীলংকার বিপক্ষেও চার ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। আফগানিস্তান আর ভারতের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। আফগানদের একটি ম্যাচে জিতলেও এশিয়া কাপের ফাইনাল এবং গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে দুটি ম্যাচই হেরেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছে দুটি করে। ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে দুটিতে জিতলেও দুটি হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে একটিতে পরাজয় আর অপরটিতে ড্র করে সাকিবরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ টেস্ট সিরিজের একটি ম্যাচে হারলেও অন্যটি জিতেছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে টাইগাররা মোট ১৬টি টি-২০ খেলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬টি ম্যাচ খেলেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর মধ্যে ৩টিতে জয়, ৩টিতে হার ছিল বাংলাদেশের। শ্রীলংকার বিপক্ষে চার ম্যাচের দুটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। আফগানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। যা ছিল খুবই দুঃখজনক। আর ভারতের বিপক্ষেও এশিয়ার কাপ ক্রিকেটের ফাইনালসহ ৩টি ম্যাচের সবকটিই হেরেছে বাংলাদেশ।
টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ মিলিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে মোট ১৪ ক্রিকেটারের। তারা হলেনÑ সানজামুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিঠুন, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান, সাদমান ইসলাম অনিক, আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, আফিফ হোসেন, জাকির হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
ক্রিকেটে নাঈমের বিশ্বরেকর্ডটি ছিল বছরের শেষ বড় প্রাপ্তি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান। ১৭ বছর বয়সে এই মাইলফলক অর্জন করে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বছরের শেষ টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে ‘জয়’ পাওয়ার ক্লু। যা স্বপ্নের পাথেয় হয়ে স্পট লাইটে চলে আসতে পারে।
অন্যদিকে নারী ক্রিকেট দলের এই বছর সাফল্য মাত্র একটি। জুনে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ছয় জাতির এশিয়া কাপে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল রুমানা-জাহানারারা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-২০ নারী বিশ্বকাপের ক্যাম্পেইনটা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। এ বছর ২৪টি টি-২০ খেলে ১২টিতে জয় পেয়েছে নারী ক্রিকেট দল।
২০১৮ সালে পুরুষ ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ৮টি। জিতেছে ৩টি, হেরেছে ৪টি, ড্র করেছে একটি। বছরের শুরুতে ফিফা র‌্যাংকিং ছিল ১৯৭, আর শেষ করে ১৯২-এ অবস্থান করে। বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ জাতীয় দল অংশ দেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। প্রমীলা ফুটবল দল বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় স্থান পোক্ত করে নিয়েছে। তবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। অক্টোবরে ভুটানেও সাফল্য আসে, সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা ফাইনালে ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। বছরের শেষ দিকে মেয়েরা অংশ নেয় মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিক গেমস বাছাইপর্বে। তবে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। চার দলের গ্রুপে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট।
এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল প্রথম ম্যাচে হেরে বসেছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। পরের ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে রুখে দেয় ১-১ গোলে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে দেয় ১-০ গোলে। যা বাংলাদেশের ফুটবলে এ বছরের অন্যতম এক প্রাপ্তি। শেষ ষোলোয় বিশ্বকাপ খেলা শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার জালে ম্যাচ হারলেও দিয়েছিল ১ গোল।
গত বছর হকিতে সব থেকে বড় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের গেল আসরে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে জিমি-চয়নরা। আগামী এশিয়ান গেমস হকিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে নারী হকিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ২০১৮ সালে। নতুন করে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ নারী হকি দলের। ফেলে আসা বছরে আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণ করে কলকাতা অ্যাথলেটিক ওয়ারিওর্সের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পায় বাংলাদেশের প্রমীলা হকি দল।
এ বছর সব থেকে বড় ব্যর্থতা এশিয়ান গেমসে। ১৪ ডিসিপ্লিনে ১১৭ ক্রীড়াবিদ অংশ নিলেও পদকশূন্য থেকেই ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশের ফিরে বাংলাদেশ। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও গত বছর খুব একটা সাফল্যের ছাপ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। পুরুষ ক্রিকেট দল, বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল দলের সাফল্য ছাড়া উল্লেখযোগ অর্জন শুধু শুটিংয়েই।
এছাড়াও বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত যেসব খেলা হয়, তার মধ্যেÑ ভারোত্তোলন, হ্যান্ডবল, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ভলিবল, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, জিমন্যাস্টিকস, খো খো, শরীর গঠন, ক্যারম, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার, মার্শাল আর্ট, সাইক্লিং, ব্রিজ, রোলার স্কেটিং। এসব খেলার মধ্যে কোনো কোনো খেলা দীর্ঘদিন চর্চা হলেও আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই। আবার কোনো খেলা থেকে সাফ গেমসে ছিটেফোঁটা পদক পাওয়া গেছে।
শুটিংয়ে এশিয়ান গেমসে কিছু দিতে পারেনি। তবে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে দুটি রুপা এনে দিয়েছে শুটিং। দুটিতেই অবদান ছিল আবদুল্লাহ হেল বাকির। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ব্যক্তিগত ইভেন্টে অল্পের জন্য স্বর্ণ হাতছাড়া হয়েছে দেশসেরা এই শুটারের। দলগত ইভেন্টেও শাকিল আহমেদের সঙ্গে রৌপ্য জিতেছেন বাকি।
ক্রীড়াবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায়, তখনই এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি রচিত হয়েছে। অর্জিত হয়েছে সাড়া জাগানিয়া সাফল্য। ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-শুটিং-ভারোত্তোলন-আরচারি-সাঁতার-ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসর থেকে লেগেছে বাঙালি জাতির মাথায় গৌরবের পালক। জাতির পিতার মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা-পাগল। সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান স্টেডিয়ামে। অনুপ্রাণিত করেন খেলোয়াড়দের। শেখ হাসিনা দেশ গঠনের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১-এ ক্রীড়াঙ্গনকে আলাদা মর্যাদার জায়গায় রেখেছেন।
সাফল্য ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের একটি বছর শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। যেখানে সহজ-সরল প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গেলেও অঙ্কের হিসাব মিলতে চায় না। থাকে একটা আশা-নিরাশার দোলাচল। শুরু হওয়া নতুন বছর তার ব্যতিক্রম হবে তা ভাবার অবকাশ নেই। তবে ২০১৯ সাল সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক ক্রীড়াঙ্গনÑ আসুন সেই স্বপ্নে বুক বাঁধি।

Category:

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

উত্তরণ প্রতিবেদন: শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের জন্য তাকে (শেখ হাসিনা) এবং তার দল ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান। টেলিফোনে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আওয়ামী লীগের এ বিজয় হচ্ছে আপনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জিত অসামান্য উন্নয়নের প্রতিফলন। প্রেস সচিব জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অতীতের মতো তার দেশের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি ৩১ ডিসেম্বর দুটি পৃথক টুইট বার্তায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ও বাংলাদেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।
টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি ও তার দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা টেলিফোন করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিশাল বিজয়ের পর তিনিই প্রথম রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান যিনি তাকে টেলিফোন করেছেন।
ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির অভিনন্দন : চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। প্রণব মুখার্জি টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে গত ১০ জানুয়ারি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রণব মুখার্জির ছেলে ও কংগ্রেস নেতা অভিজিৎ মুখার্জি। অভিনন্দনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি। অন্যদিকে শেখ হাসিনার জয়কে বাংলাদেশের উন্নয়নের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখার্জি।
শেখ হাসিনাকে সোনিয়া গান্ধীর অভিনন্দন : ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে ভারতীয় কংগ্রেস দলের নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত এক বার্তায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এছাড়াও ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পক্ষ থেকে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং।
ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝুও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়িত হবে এবং এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী কর্মসূচির কারণে শিগগিরই বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার শূন্যে নেমে আসবে। ঝাং ঝুও আশা করেন, দুই দেশের কৌশলগত ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। চীনা দূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে বিশ্বের মহান নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নাগমায়েল ওয়াংচুক একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভুটানের রাজা ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠান। জিগমে খেসার আশা করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী পাঁচ বছরের শাসনকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার দলের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের জন্য তাকে (শেখ হাসিনাকে) আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : নেপালের প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা ওলি প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফোন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনাকে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি গেজেট জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর এক বার্তায় তিনি অভিনন্দন জানান।
অভিনন্দন বার্তায় সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফলতা এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখতে শুভ কামনা জানান। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একই বার্তা পাঠিয়েছেন।
কাতারের আমীরের অভিনন্দন : গত ১ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যাপক বিজয় অর্জনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামীম বিন হামাদ আল থানি। বার্তায় কাতারের আমীর বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের : একাদশ জাতীয় নির্বাচন সফল করার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে নির্বাচন নিয়ে সব ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটারের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সব দলকেও ধন্যবাদ জানায়। ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কট পরিস্থিতির পর এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে।
সফলভাবে নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গভীরভাবে বিনিয়োগ করতে চায়। পালাদিনো বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, অনেক বাংলাদেশিও মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন : গত ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রাসেলস অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ফল প্রকাশের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনে ভোটারদের সমাবেশ এবং ১০ বছরে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
তবে যাই হোক না কেন, নির্বাচনের দিন সহিংসতার জন্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন এসব অনিয়মের অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশা হচ্ছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জনগণের স্বার্থে আমরা (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাব।
নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেখ হাসিনাকে রাশিয়া ও ইরানের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি। গত ২ জানুয়ারি পুতিন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে একই দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান বলে ঢাকায় ইরানি দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ভোটে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ এই সাফল্যকে সম্ভবপর করেছে। এতে আপনার নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার প্রকাশ ঘটেছে। ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে ড. রুহানি আশা প্রকাশ করেন, মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হবে। শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের কল্যাণ সফলতা কামনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
শেখ হাসিনাকে জাপানের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাপান। গত ৫ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব তাকাশি ওসুগা।
ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় দেওয়া এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা স্বাগত জানাই যে, বাংলাদেশের সব প্রধান দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রকৃত রায় দিতে পেরেছেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাপান আশা করে যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখবে। আর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে জাপান তাদের সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
ভোটের দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে জাপান সরকার অবহিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শুভেচ্ছা : গত ৫ জানুয়ারি কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সিপিসি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। সিপিসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা সম্পর্ক চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সিপিসি সহযোগিতার হাত বাড়াতে সর্বদা প্রস্তুত আছে। যাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আদান-প্রদানের সম্পর্ক প্রসারিত হয়ে চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও অনেক উচ্চতায় যেতে পারে।
স্বাগত জানাল পাকিস্তান : বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। গত ৩ জানুয়ারি ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী জোটকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মুহাম্মদ ফয়সাল। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
গত ৩ জানুয়ারি নিয়মিত ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মুহম্মদ ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, নতুন সরকারের সঙ্গে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
ডি-৮ মহাসচিবের অভিনন্দন : উন্নয়নশীল-৮ (ডি-৮)-এর মহাসচিব দাতো কু জাফর কু শারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গত ৪ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে, এই ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয় শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ সুগম করবে। ডি-৮ হলো বাংলাদেশ, মিসর, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই ৮টি দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য গঠিত সংস্থা।
শারি বলেন, ডি-৮ সচিবালয়ে আমরা একই চেতনা লালন করি এবং এই নির্বাচনের ফল উদযাপনে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শামিল হচ্ছি। এই সুনিশ্চিত বিজয় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান ও অধিকতর দৃঢ় ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে উন্নয়নের সকল স্তরে বাংলাদেশকে উৎকর্ষতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সুদানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : সুদানের প্রধানমন্ত্রী মুতাজ মুসা আবদাল্লা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে আমি অতীব সম্মানিত বোধ করছি।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং : চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং। বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। লী লুং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগার অভিনন্দন : নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও-র অভিনন্দন : মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শেখ হাসিনাকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন জুয়ান ফুক। গত ৯ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বাংলাদেশের অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এক অভিনন্দন বার্তায় ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন জুয়ান ফুক বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ গঠন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের জনগণ আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়ন সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের এবং এর জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নিতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।
ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গত ৭ জানুয়ারি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন ওমানের সুলতান।
সুলতান কাবুস তার বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শেখ হাসিনাকে ফিজির প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা।
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট থ্রিমাইসিলা সিরিসেনার ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্র রাজাপাকসে। গত ১ জানুয়ারি বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট এবং ১টায় শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Category:

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

38 2PM উত্তরণ প্রতিবেদন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর গত ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সে বছরের ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার দল আওয়ামী লীগ পরাজয়বরণ করে। শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর ওই সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদীয় নির্বাচনের আয়োজন করে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ৩টি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই নির্বাচনের পরই দেশ থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।
১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন।
১৯৯৬ সালে বিএনপির ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে তিনি গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই 38 PMআন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।
মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপসহীন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে এবং রায় কার্যকর করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণ-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা সে-সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই তিনি শাসকগোষ্ঠীর রোষাণলে পড়েন। তাকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। তাকে হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাকে দুবার গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাকে আটক করে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে এক মাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হয়ে গৃহবন্দি হন। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবন চত্বরে সাবজেলে পাঠায়। প্রায় এক বছর পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তিলাভ করেন।
বিএনপি সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোড়া হয়। লোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ তার দলের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন এবং ৫০০-র বেশি মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান। শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে।
১৯৮৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো ছিল : ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। এছাড়া তিনি কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ভূমিহীন, দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুস্থ মহিলা ও বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প।
২০০৯-১৩ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষিদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারাদেশে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮.৪ থেকে ২০১৩-১৪ বছরে ২৪.৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ ইত্যাদি।
২০১৪ সালের পর এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১,৩১৪ ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মাসেতুর বাস্তবায়ন শুরু ইত্যাদি। শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিপ্লোমা প্রদান করে। সামাজিক কর্মকা-, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্ত পুরস্কারে ভূষিত করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাসূচক ‘Pearl S. Buck 99’ পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ মেডেল প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে ‘মাদার টেরেসা’ পদক প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন তাকে Paul Haris ফেলোশিপ প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে তাকে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক প্রদান করে। আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক ১৯৯৬-৯৭ সালে তিনি ‘Medal of Distinction’ পদক ও ১৯৯৬-৯৭ সালে ‘Head of State’ পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার এবং দুবার সাউথ-সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘শান্তিরবৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে।
জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য International Telecommunication Union (ITU) শেখ হাসিনাকে ICTs in Sustainable Development Award-2015 অধিৎফ-২০১৫ প্রদান করে।
শেখ হাসিনা কয়েকটি গ্রন্থের রচিয়তা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : শেখ মুজিব আমার পিতা, ওরা টোকাই কেন?, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে, Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes)।
শেখ হাসিনা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। প্রযুক্তি, রান্না, সংগীত এবং বই পড়ার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তার স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশারদ। তার একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা ৭।

Category:

‘আমি সবার প্রধানমন্ত্রী’

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের নির্বাচন ছিল প্রশংসাযোগ্য এবং স্বচ্ছ। তবে নিজেদের ভুল এবং দুর্বলতার কারণে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। যাই হোক, আমি সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আগামী পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করব। গত ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে গণভবনে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আসা ১১ পর্যবেক্ষক ও ৪০ জন বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। বিএনপির নেতৃত্ব-শূন্যতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ছিল তাদের প্রধানতম দুর্বল দিক। কারণ তাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আদালত তারেককে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ জানেই না বিরোধী দলের নেতা কে, যদিও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বিরোধী ঐক্যজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যাদের মূল শরিক বিএনপি। তাছাড়া, তারা প্রতিটি আসনে টাকার বিনিময়ে চার থেকে পাঁচজন প্রার্থী দিয়েছে। এ কারণে দলের আসল প্রার্থী নিয়ে জনগণের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয় এবং তাদের অধিকাংশ প্রার্থীই জনগণের কাছে ছিল অপরিচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের প্রধান কারণ ছিল গত ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন। দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি। জনগণ সরকারের ধারাবাহিকতা চেয়েছিল, উন্নয়ন চেয়েছিল। যে কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমি সবারই প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে ইসি নির্বাচন বন্ধ করে দিত। আল জাজিরার এক প্রতিবেদক বলেন, এবার বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। ভিসা জটিলতায় অনেকেই আসতে পারেন নি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই তাদের আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়নি।

Category:

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ

38 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রবীণ রাজনীতিক ও সততার মূর্ত প্রতীক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (৬৭)। গত ৫ জানুয়ারি রাতে বেইলি রোডের ২১ নম্বর বাড়িতে কফিনে ফুল দিয়ে শেষবারের মতো প্রয়াত এ রাজনীতিককে শ্রদ্ধা জানান তারা। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ব্যাংকক থেকে বিমান বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি-০৮৯) সৈয়দ আশরাফের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। কফিনে শুয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন আশরাফ। মরদেহের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও দেশে ফিরেছেন।
ক্যানসারের কাছে হার মেনে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে গত ৩ জানুয়ারি রাত পৌনে ১০টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নিথর দেহ দেখে কাঁদলেন সবাই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে তার মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় পতাকা ও আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা দিয়ে তার কফিন মোড়ানো হয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে বাসভবনে আনা হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো দেখতে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো নেতাকর্মী।
সৈয়দ আশরাফের কফিনের পাশে একটি শোক বই খোলা হয়। শোক বইয়ে অনেকে তাদের নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। নেতাকর্মীরা সৈয়দ আশরাফকে হারানোর বেদনা লিখেছেন শোক বইতে। মরদেহ আসার পর কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অনেকের হাতে ছিল ফুল। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন সৈয়দ আশরাফ। সেখানে মানুষের ঢল নামে। গত ৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাঁ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের তৃতীয় জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাঁ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং বাদ আছর বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত নেতার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের শেষকৃত্যে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

38 2PMপ্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি
গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবাণী পাঠ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি। যা উত্তরণ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোÑ

বাংলাদেশ আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। মহান জাতীয় সংসদ ভবনের সবুজ প্রান্তরের দুর্বাঘাস আর উদ্যানের ফুল-রেণুতে কান্নার রেখাÑ জানাজায় উপস্থিত সকলের শোকাতুর দীর্ঘশ^াসে নিঃশব্দ কান্নার সকরুণ আর্তনাদ। শোকে বিহ্বল সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের আদর্শিক-সহোদর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো একজন রাজনৈতিক কর্মীকে চিরকালের বিদায় জানাবার কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের চারপাশে কেবল শোকসন্তপ্ত বাক-রুদ্ধতাÑ কেবলই শূন্যতা।
আশরাফ শব্দের অর্থ ভদ্রলোক, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা, দক্ষতা, বিচক্ষণ-দৃঢ়চেতা দূরদর্শী নেতৃত্বের কীর্তিগাঁথা গৌরবময় বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি ছিলেন একজন নম্র-ভদ্র নিরহঙ্কারী-নির্লোভ নির্ভিক ও সত্যভাষী মানুষ। তার ছিল বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি প্রবল ভালোবাসা।
একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চার অগ্রদূত। আত্মপ্রচার, স্বজনপ্রীতি, কোটারি, দুর্নীতি, ভেদ-বৈষম্য কখনও তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। উদার নৈতিক-মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন। দল গোষ্ঠী ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে সকলের কাছেই ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মহৎপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাঙালি জাতি আজ তার শোকে গভীর শোকাহত। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নীতি-আদর্শ বিনয় ও মার্জিত চরিত্রের গুণাবলি আমাদের জন্য চির পাথেয় হয়ে থাকবে। সৈয়দ আশরাফ এক মৃত্যুহীন প্রাণ। কোটি প্রাণের আবেগ ও অনুভূতির নাম আজ সৈয়দ আশরাফ।
সৈয়দ আশরাফের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি। তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি ছিলেন তদানীন্তন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য গমন করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর জেলখানায় তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতা নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হন। চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখিন হন সৈয়দ আশরাফ। পরবর্তীতে দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন মেধাবী এই নেতা। এরপর টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান রাজনীতিককে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কা-ারি। ওয়ান ইলেভেনের চরম বৈরী পরিবেশেও স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক আওয়ামী লীগের হাল ধরে বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুক্তির বন্দরে। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। সংকটকালে নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্য ও সাহসী নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন মুজিবাদর্শের একজন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক ব্যক্তি। চেতনা মূল্যবোধ বিশ^াস ও অনুভূতির গভীরতম স্পর্শে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পরম আপনজন। আজও ওই মহাসিন্ধুর ওপর থেকে ভেসে আসেÑ ঐতিহাসিক সেই অমোঘ বাণী :
“আওয়ামী লীগ তো আওয়ামী লীগই, আমি এটা দল কোন দিনই ভাবি নাই, আওয়ামী লীগকে ভাবছি একটা অনুভূতি। একটা অনুভূতির নাম আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর রক্ত, হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগে, আন্দোলন-সংগ্রামে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই অনুভূতির নামই হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের আমি সন্তান। আওয়ামী লীগের ঘরেই আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায় তখন আমারও হৃদয়ে ব্যথা লাগে। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী যদি ব্যথা পায়, সেই ব্যথা আমিও পাই।”

আজ আওয়ামী লীগ পরিবারের গর্বিত সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অন্তিম বিদায় জানাতে সমবেত হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য কতটা বেদনার, কতটা কষ্টের তা বোঝানো যাবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হৃদস্পন্দন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা-নিষ্ঠাবান সহকর্মী, প্রাণপ্রিয় ছোট ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ শোকে মুহ্যমান।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী ও বাংলার গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ের অনুভূতিতে চিরকাল বেঁচে থাকবেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার পবিত্র স্মৃতির প্রতি জ্ঞাপন করছি বিনম্র শ্রদ্ধা। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আপনাকে অভিবাদন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

Category:

উদ্দীপ্ত-প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- লক্ষ্যে অবিচল আওয়ামী লীগ: গণবিচ্ছিন্ন-বিধ্বস্ত- দিক-নির্দেশহীন বিএনপি

ভাষ্যকর: একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনপর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম দিনের শুরুতেই রক্তস্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং তারপর বাসযোগে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দ্বিতীয় দিন বাসযোগেই মন্ত্রিসভার সদস্যরা যান টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে। নতুন মানেই সুন্দর ও মঙ্গলের আবাহন। নতুন সরকার কাজ শুরু করার বিশেষ ক্ষণে মন্ত্রিসভার সদস্যদের একত্রে বাসযোগে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের শোকবিজড়িত ও গৌরবম-িত স্মৃতিস্মারকসমূহে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করাটা ছিল বেশ চিত্তাকর্ষক এবং বিশেষভাবে তাৎপর্যম-িত।

আওয়ামী লীগ বলেই সম্ভব হলো
সার্বিক বিচারে এটাই সত্য যে, নতুন সরকার যদি আমাদের জাতীয় মূলধারা আন্দোলনের প্রধান গণ-আস্থাসম্পন্ন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের না হয়ে বিরোধী শিবিরের হতো, তবে নতুন সরকারের কাজ শুরু করার ক্ষণটা এমন চিত্তাকর্ষক ও তাৎপর্যম-িত হয়ে উঠত না। প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে দেশের রাজনীতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছোট ছোট গণসমর্থনহীন দল নিয়ে গঠিত বামজোট বাদে এন্টি আওয়ামী লীগ এ টু জেড সব শক্তি একত্রিত হয়েছিল। বাম থেকে ডান, বিপ্লবী থেকে যুদ্ধাপরাধীÑ সব দল বিএনপির নেতৃত্বে জগাখিচুরি মার্কা ঐক্যে শামিল হয়েছিল। এসব দলের কোনোটা মনে করে মেজর জিয়া ‘স্বাধীনতার ঘোষক’, কোনোটা স্বাধীনতা স্বীকারই করে না, কোনোটা আবার মুক্তিযুদ্ধের ধারার বিপরীত রাজনীতিতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে ভেক ধরে বঙ্গবন্ধুর নাম জপ করে।
বিরোধী এই শিবির যদি বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠন করত, তবে টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর সমাধি কিংবা ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য যেতই না। সাভার স্মৃৃতিস্তম্ভে হয়তো বা যেত; কিন্তু তখন জাতির ওই পবিত্র স্মৃতিস্মারকে অপবিত্র করতে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদেরও সাথে নিয়ে যেত। এই নির্বাচনের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠন করার ফলে জাতি এই কলঙ্কের কালিমা থেকে রেহাই পেয়েছে। ওই কলঙ্কের মধ্যে জাতিকে যেন আর পড়তে না হয়, সেটাই দেশবাসীর কাম্য। বলাই বাহুল্য, এই প্রাপ্তির মূল্য অপরিসীম এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জাতিসত্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নতুন মন্ত্রিসভা বাসে করে শোকবিজড়িত ও গৌরবম-িত স্মৃতিস্মারকসমূহে যাওয়ার ফলে প্রাপ্তির এই তাৎপর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথম কাজ শুরুর সূচনায় গণপরিবহনে একত্রে মন্ত্রিসভার সব সদস্যরা গেলেন। এটা তো ঠিক যে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রগণ্য টিম হচ্ছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার সাফল্য হচ্ছে সরকারের সাফল্য এবং জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। এভাবে একত্রে যাওয়ার ভেতর দিয়ে নিঃসন্দেহে মন্ত্রীদের পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হবে; চিন্তার ঐক্য, প্রতিজ্ঞার ঐক্য, কাজের ঐক্য প্রতিষ্ঠা পাবে। সর্বোপরি প্রথম দিনে গণপরিবহনে যাত্রার কথাটা যদি মন্ত্রিসভার সবাই স্মরণে রাখেন, তবে তা গণসম্পৃক্ততা অক্ষুণœ এবং আরও বিস্তৃত ও গভীর করার সহায়ক হবে।
একটা জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, ‘যে যায় লংকা সে হয় রাবণ।’ সাধারণভাবে অভিজ্ঞতাও বলে, ক্ষমতা পদাধিকারীদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের জনগণের উত্থান ও নিরঙ্কুশ বিজয় এবং জামাত-বিএনপি-যুক্তফ্রন্টের মাঠে না নামা ও ভরাডুবির ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়Ñ আওয়ামী লীগ দল গণবিচ্ছিন্ন হয়নি। গণসম্পৃক্ততা থাকাটাই যে নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের গ্যারান্টি তা বিবেচনায় নিয়েই আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা বাসযাত্রার আয়োজন করেছিল বলে ধারণা করা চলে। সকালই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে। শোকবিজড়িত ও গৌরবম-িত স্মৃতিস্মারকসমূহে একত্রে বাসযাত্রা শুরুতেই বলে দিচ্ছে, ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রাজনীতিতে সহিষ্ণুতার সংকেত
স্বাধীনতাবিরোধী শিবিরকে সম্পূর্ণভাবে ধরাশায়ী করে এত বড় ভূমিধস বিজয়ের পরও আওয়ামী লীগ বিজয় মিছিল করেনি। এটা তো ঠিক যে, এলাকায় এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীরা নির্বাচনী কাজ ও প্রচারে জনগণের মধ্যে না নামলেও চোরাগোপ্তা আক্রমণে ছিল তৎপর। ওই গোষ্ঠী ১১ জন আওয়ামী কর্মীকে হত্যা করেছে, একাধিক অফিস ভাঙচুর করেছে এলাকায় যে অর্থ প্রেরণ করা হয়েছিল, তা দুবাই থেকে আসা টাকা ঢাকার মতিঝিল থেকে ধরা পড়ার ভেতর দিয়েই প্রমাণিত হয়। যদি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিজয় মিছিল বের করা হতো, তবে সংঘাত-রক্তপাত-অরাজকতা-বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা ছিল। পরাজিত বিরোধী শিবির ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারের অসৎ উদ্দেশ্যে সেটাই চাইছিল। নিজের নাক কেটে হলেও পরের যাত্রা ভঙ্গ করে অবৈধ শক্তিকে উসকানি দিতে ওই শক্তি সব সময়ই সচেষ্ট।
উপরন্তু, ২০০১ সালে সা-ল-শা সরকারের চক্রান্তে ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি-জামাত জোটের ক্যাডার-সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নিরীহ ভোটার ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাতে দলটি এখনও রয়েছে সমালোচনা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে। পরাজিত শক্তির চাওয়াটা ছিল, যাতে একই অভিযোগে সরকার ও আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করা যায়। তবে আওয়ামী লীগ তো আর বিএনপি-জামাতের মতো প্রতিহিংসাপরায়ণ দল নয়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের জানমাল সুরক্ষায় আওয়ামী লীগ ওয়াদাবদ্ধ। সবদিক বিবেচনায় নিয়েই বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ গণরায়ে ক্ষমতায় বসার মুহূর্তটিকে বিএনপি-জামাত জোটের মতো অসুন্দর অশুভ ও অপবিত্র করতে চায়নি। এটা ছিল শুরুর সহিষ্ণুতার সংকেত। প্রকৃত বিচারে এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও জনগণের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন। এ সিদ্ধান্তকে জনগণ অভিনন্দিত করেছে।

মন্ত্রিসভা গঠনে দূরদর্শিতার স্বাক্ষর
নির্বাচনী পর্বের শেষ অঙ্কে মন্ত্রিসভা গঠনে কুশলতা বা চমক দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি ও তার বাম-ডান সঙ্গীদের মুখ একেবারে বন্ধ এবং বাস্তবে আরও বিপর্যস্ত করে দিয়েছেন। নিরপেক্ষ দাবিদার ছিদ্রান্বেষী সুশীল সমাজ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা গঠনের প্রশংসা করেছে। প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতো সমালোচনার সব উৎসমুখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে বন্ধ করে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা থেকে অনেক নেতার যেমন প্রস্থান, তেমনি কয়েকজন নেতার অবস্থান এবং অনেক নেতার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। প্রস্থান-অবস্থান-প্রবেশ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কুশলতা ও দূরদর্শিতার সাথে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পন্ন করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর তিনি বলেছেন, ‘নতুনদের মন্ত্রী বানিয়েছি, এর মানে এই নয় যে পুরনোরা ব্যর্থ ছিল। পুরনোরা সফল ছিল বলেই দেশ আজ অনেক দূর এগিয়েছে। নতুনদের বানিয়েছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার জন্য।’ আসলে বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সাফল্য ও অর্জন ছিল আকাশচুম্বী। এর ওপর ভিত্তি করেই ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবে প্রথম দিনে সেই বার্তা মন্ত্রিসভার সদস্য ও দেশবাসীকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
এটা সকলেরই জানা যে, সময়ের গতিপথে সাফল্য ও অর্জনকে হাতের মুঠোয় আনার জন্য প্রস্থান-অবস্থান-প্রবেশ অপরিহার্য। এতে হয় অভিজ্ঞতা ও গতির সংমিশ্রণ। নতুন মন্ত্রিসভায় তেমন সংমিশ্রণই হয়েছে; যা জনগণকে দেওয়া প্রদত্ত অঙ্গীকার ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ অর্জনে সার্বিকভাবে সরকারকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সব কাজ বুঝে অগ্রসর হতে হবে। পুরনোদের সফলতাকে এগিয়ে নিতে হবে। সবাইকে আমি কঠোর নজরদারিতে রাখব। কে কি করে তা আমি দেখতে চাই। কারও বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা কর্তব্যে অবহেলা সহ্য করা হবে না।’ বলাই বাহুল্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার, নেতৃত্ব ও সাযুজ্যপূর্ণ নীতিমালা এবং অদম্য সাহস, উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও দূরদৃষ্টি প্রভৃতির সবকিছুর সমাবেশ ঘটেছে যে নেতার মধ্যে; যিনি সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ^সমাজের রোল মডেল; তিনি যখন নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্তে এমন ধরনের কথা বলেন; তখন দেশবাসীর মধ্যে প্রচ- আত্মবিশ^াস ও উৎসাহ-উদ্দীপনা সঞ্চারিত হয়।
প্রসংগত, নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮-তে বলা হয়েছে, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনী অঙ্গীকার রূপকল্প ২০২১ আমরা নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে উৎসর্গ করেছিলাম। ২০১৪ সালের নির্বাচনী অঙ্গীকার রূপকল্প ২০৪১ আমরা প্রাণ প্রাচুর্যে ভরা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। আজ তরুণ যুবকরা মুক্তিযুদ্ধের মতো আবারও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এবারের নির্বাচনী অঙ্গীকার তাই নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামরত তরুণ-তরুণীরাই এই অঙ্গীকারকে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ নতুন মন্ত্রিসভা বাস্তব বিচারে ইশতেহারের উল্লিখিত বক্তব্যেরই যথার্থ প্রতিফলন।

শুরুতেই সব শুভ সংবাদ
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথেই পত্র-পত্রিকায় বিশ^ ও উপমহাদেশের দেশগুলোর সাথে আমাদের দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি সম্পর্কে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের পাঁচ বছরের সময়কাল ভালোই যাবে। বিশ^ব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়া হলো বিশে^র সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই অঞ্চলে বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। পাকিস্তানের কর্তাব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশ যে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে গেছে, তা সচরাচর বলে যাচ্ছেন। ১৯১৮-১৯ অর্থবছরে সারাবিশ্বে মাত্র ৯টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, এর মধ্যে রয়েছে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ। আর ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য গার্ডিয়ান-এর ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলে দিয়েছে, বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৯।
এদিকে গণতন্ত্র সূচকে (এর মাপকাঠি নির্ধারিত হয় নির্বাচন পদ্ধতি ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারের কার্যকারিতা, মানুষের অংশগ্রহণ, জনগণের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রভৃতি দিয়ে) চার ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৬৫ দেশের মধ্যে ৫.৫৭ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশের স্থান ৮৮, গতবার ৫.৪৩ পেয়ে ছিল ৯২তম স্থানে। বর্তমান বিশে^র ৪১তম অর্থনীতির দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ এবং ২০২৩ সালে হবে ৩৬তম। কেবল তা-ই নয়, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সংস্থা দ্য গ্লোবাল ইকোনমিস্ট ফোরাম বলেছে, ২০১৯ সাল বাংলাদেশের জন্য সুখের বছর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই বিনিয়োগ আসবে। উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানিও বাড়বে। এসব শুভ সংবাদে মনে হচ্ছে, নতুন বছরে নতুন সরকারের নবযাত্রা সফল হবেই হবে।

বিএনপি কি আবারও যাবে বয়কটের সর্বনাশা পথে
বর্তমানে জাতির সামনে বড় একটি প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপি ও তার ডান-বাম সঙ্গীরা কি আবারও যাবে বয়কটের লাইনে? প্রসংগত, সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়ে পরাজিতরা নির্বাচনকে ‘প্রত্যাখ্যান’ এবং নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ‘পুনর্নির্বাচন’ দাবি করেছে। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় যারা জিতেছে, তারা শপথগ্রহণ করেন নি। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছেÑ বিএনপি কি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর যেমন মনে করেছিল, তেমনটা এখনও মনে করছে? যদি করে তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করবে। বিগত নির্বাচনের পর বিশে^র সব দেশই বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহবোধ করেছে, এবারে সব দলের অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে নির্বাচন হওয়ায় এর মাত্রা আরও বেড়েছে। গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হওয়ার পর এর ভিন্নতা হওয়ার কোনো উপায় নেই। বাস্তবে ড. কামালের প্রেসক্রিপশন নির্বাচনে যেমন নিস্ফলা হয়েছে, তেমনি পুনর্নির্বাচন ইস্যুতেও অষ্টরম্ভা প্রসব করবে। বিএনপিকে এটা মনে রাখতে হবে যে নির্বাচনে তারা অংশ নিয়ে হেরেছে, এর চাইতে বেশি কিছু বাইরের কোনো দেশ দেখবে না।
বিএনপির থিংক ট্যাংক যদি নাও বুঝে, তবুও তো ড. কামালের অন্তত এটা বুঝার কথা যে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে সরকার গঠন ও স্বীকৃতি দিয়ে দিলে কারোই আর কিছু করার থাকে না। আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়া কীভাবে কতটুকু নাক গলিয়েছিল, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতা কতটুকু ব্যবহার হয়েছিল কিংবা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড একমুখী করতে পুঁজিপতিরা অর্থ দিয়ে কোন দলকে সাহায্য করেছিল, পুতিন কীভাবে সুচতুরতার সাথে সংবিধান ব্যবহার করে ক্ষমতায় বসেছে, চীনে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় প্রভৃতি শেষ বিচারে ক্ষমতার প্রশ্নে কোনো বিষয় নয়।
এ বিবেচনায় সংসদে যোগদানের প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের কোন নেতা কি বলেছেন তা নিয়ে আলোচনায় না গিয়ে অবস্থাদৃষ্টে বলা যায়, অন্তত গণফোরামের দুই বিজয়ী প্রার্থী (একজন জিতেছে নিজ দলের মার্কা সূর্য নিয়ে আর অন্যজন ধানের শীষ ধার করে) শপথ নিয়ে সংসদে যেতে ইচ্ছুক। অনুমান করা যায়, নেতৃত্বহীন ও বহুধাবিভক্ত বিএনপি রয়েছে শাঁখের করাতের মধ্যে, সংসদে গেলে দল ভাঙবে আর না গেলে বিগত পাঁচ বছরের মতো বাইরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াবে। এদিকে ভোটের পরও মহাজোটের কৌশলের কাছে তারা আরও কোণঠাসা ও পরাজিত হয়ে বসে আছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে বলে অবস্থান গ্রহণ করায় বিএনপির প্রধান বিরোধী পক্ষ হওয়ার আর সুযোগ নেই। ক্ষমতার সোনার চামচ মুখে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠিত এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুবার ক্ষমতায় যাওয়া দলটির জন্য এমন অবস্থা হচ্ছে যথার্থভাবে স্বর্গ থেকে পতন।

কর্মফলেই বিচ্ছিন্ন ও বিরাগভাজন বিএনপি
বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন, সংসদ ও গণতন্ত্র নিয়ে নানামুখী অনভিপ্রেত ঘটনার পর এবারে সংলাপ সফল হওয়ার ভেতর দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আওয়ামী লীগে মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যতটা উৎসব করে কেন্দ্রীয় অফিসে গেছে, তার চাইতে একটুও কম উৎসব দিয়ে শুরু হয়নি বিএনপি মনোনয়ন পর্ব। কিন্তু অবাধ অধিকারের সুযোগ নিয়ে শুরুতেই বিএনপি নেতৃত্ব মারাত্মক এক ভুল করে বসে। বিএনপির এক বড় নেতার মিছিল থেকে অহেতুক কোনো উসকানি ছাড়া নয়া পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা হলে পুলিশের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। এই হামলা ২০১৪ ও ২০১৫ সালে নির্বাচন বয়কট ও সরকার পতনের আন্দোলনের সময় আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুলিশ হত্যার নৃশংসতার স্মৃতিকে জাগ্রত করে দেয়। ড. কামালের ‘জানোয়ার লাঠিয়াল বাহিনী’ বক্তব্য ছিল পুলিশকে আরও বৈরী করারই নামান্তর। সর্বোপরি পুলিশ যখন আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে, তখন তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আর্মির নিয়োগের প্রশ্নটি বিএনপি সামনে আনে। সিভিল প্রশাসন সম্পর্কেও নানা বিরূপ কথা বলা শুরু করে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বিএনপি এটা লক্ষ্য করেনি যে ২০০১-০৬ শাসনামলে ‘হাওয়া ভবন’ করে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল অংশকে এবং এমনকি ‘ক্যান্টনমেন্টের দল’ বিএনপি ক্যান্টনমেন্টকেই ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। আরও লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করার কারণে বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলে। ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চ এবং ২০০৬ সালে তারেকের কার্যত মুচলেকা দিয়ে বিদেশ যাওয়া এর প্রমাণ। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেছেন, এই নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল তাদের প্রতিপক্ষ। আসলে অতীত ও বর্তমান কর্মকা- দিয়ে বিএনপি নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ বানিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
সর্বোপরি রাষ্ট্র ও সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে ধিকৃত দ-িত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল করে। নির্বাচনী মাঠে নেমেই মারমুখী হয়ে আওয়ামী লীগের চারজনকে খুন করে। কোথায় তারা রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার জনগণের প্রতি স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ ও সুকৌশলী অবস্থান নেবে তা নয়, তীব্র বিরোধী ও গরম মারমুখী অবস্থান ও নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামে। বিএনপি এটা বুঝেনি যে অতীতের কৃতকর্মের ফলে প্রশাসনবিরোধী ট্রেক রেকর্ড নিয়ে তারা নির্বাচনে নেমেছে। কাচের ঘরে বসে কেউ কি কখনও ঢিল দেয়? এবারের নির্বাচনে জামাতের সাথে সখ্যতা, কথাবার্তা ও কাজকর্ম, নাশকতার জন্য এলাকায় এলাকায় টাকা পাঠানো প্রভৃতি উগ্র ও বে-আইনি কাজের ভেতর দিয়ে সেই কাটা জায়গাগুলোকেই খুঁচিয়ে দগদগে করে তোলে বিএনপি। ‘তাই যেমন কর্ম তেমন ফল’ প্রবাদটা বিএনপির জন্য সত্য হয়ে দাঁড়ায়।

ভুল সবই ভুল বিএনপির
হাওয়া ভবনের দুঃশাসন প্রেক্ষাপটে রেখে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে ২০০৬ সালে। ১৮ বছর ধরে দলটি ক্ষমতার বাইরে। ক্ষমতায় থাকতে যেমন তেমনি ক্ষমতার বাইরে গেলেও বিএনপি কেবলই করতে থাকে ভুল। এমন ভুল করা দলটির জন্মফল বলা যায়। ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠা পাওয়া দলটি এই সময়কালে নিজ কৃতকর্মের জন্য বিপদের মাঝে থেকে যা কিছু করেছে, তা সবই গেছে দলটির বিরুদ্ধে। সংসদ-টেলিফোন-নির্বাচন বয়কট, দু-দুবার আগুন সন্ত্রাস প্রভৃতি সবই ছিল দেশ ও জনগণের জন্য নেতিবাচক ও ক্ষতিকর কাজ। উগ্রসন্ত্রাসী অপতৎপরতায় যখন বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পেশার মানুষ মরছে, বিএনপি তখন ওইসব কাজের প্রতিবাদ করেনি। হেফাজতকে ব্যবহার করতে চেয়েছে ক্ষমতা দখলের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশে। কিন্তু হেফাজত যখন শাপলা চত্বরে বিপদে পড়েছে, তখন পাশে এসে দাঁড়ায় নি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি জামাতকে ২০-দলীয় জোটে রেখে পাকিস্তানি মদদে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে, দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লিখিতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিএনপির সংগঠন হয়েছে কার্যত স্থবির ও ছত্রখান। বিএনপির নেতৃত্ব দলের ক্যাডারদের আগুন সন্ত্রাসের দিকে দুবার ঠেলে দিয়েছিল; কিন্তু যখন ক্যাডাররা ওইসব বে-আইনি ও অবৈধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ার কারণে মামলায় পড়ে, তখন পাশে এসে দাঁড়ায় নি। নেতা তারেক রহমান থাকবেন মামলা এড়িয়ে আরামে লন্ডনে, সেখান থেকে বলবেন নানা বিরূপ কথা এবং জীবনযাপনের নানা উচ্ছৃঙ্খল গল্পকথা শোনা যাবে, আর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভুল রাজনীতির পরিণতিতে শাস্তি ভোগ করবে, এমনটা বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারেনি।
বাস্তবে ব্যর্থতা সবৈবভাবে গ্রাস করে বিএনপিকে যখন ড. কামালের সাথে ঐক্যফ্রন্ট করে। বিএনপি হচ্ছে জিয়ার পার্টি। ভুল ইতিহাস হলেও এটাই বাস্তব, জিয়া হচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’। এমন একটি বড় দল যদি এ বিষয়ে গোজামিল দিয়ে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে কোনো প্রস্তুতি ও মোটিভেশন ছাড়া হঠাৎ করে ড. কামালের সাথে ঐক্য করে এবং বিএনপির মঞ্চ থেকে যদি ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শব্দ উচ্চারিত হয়, তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়ই হয়ে যাওয়ার কথা। ‘জামাত থাকবে জানলে ঐক্যফ্রন্টে যেতাম না’Ñ এ কথা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বলে জামাত-বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের পায়ে কুড়াল মেরেছেন ড. কামাল। জামাত সম্পর্কে বিএনপির উল্টাপাল্টা বিভ্রান্তিকর অবস্থান এবং শহিদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কটূক্তি বিএনপির সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ড. কামাল এখন মড়া বিএনপির উপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো।

বিএনপি কি উঠে দাঁড়াতে পারবে?
বিএনপির জগাখিচুরি মার্কা ঐক্যের কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ছিল না। তবুও দলটি যতটুকু সচল হতে পারত, তারেক রহমানের মনোনয়ন বাণিজ্য সেই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেয়। সুদীর্ঘ বছর বিভক্ত ছত্রখান ও অচল থাকার পর যদি মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিস আক্রমণ করে, তবে সেই দল আদৌ নির্বাচনে সব শক্তি নিয়ে নামতে পারে না। এমনিতেই অর্থ আত্মসাৎ-লুটপাট, বিদেশে অর্থপাচার, হত্যা-খুনসহ হাওয়া ভবনের অপকর্ম-দুষ্কর্ম প্রভৃতির ফলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নৈতিক শক্তি তছনছ হয়ে যায়। নৈতিক বল হারালে কোনো দল আন্দোলনে মাঠে নামা দূরে থাক, জনগণের সামনে দাঁড়াতেও পারে না। বিএনপির স্থবির ভগ্ন ও বিপর্যস্ত দশার উৎস হলো নৈতিক শক্তি হারানো। এ কারণে খালেদা জিয়াকে যখন বিচারের রায়ে জেলে যেতে হয়, তখন সংগঠন সামান্যতম প্রতিক্রিয়া দেখাতেও ব্যর্থ হয়। একই কারণে দলটি নির্বাচনের মাঠে থাকতেও ব্যর্থ হয়। তাই ফলাফল যা হওয়ার তেমনটাই হয়েছে। এখন জয়ী প্রার্থীদের শপথগ্রহণ করতে না দিয়ে সংসদ বয়কট করতে চাইছে। যদি সেই ভ্রান্ত পথে যায় বিএনপি তবে দল হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

নতুন সরকার নতুন প্রত্যাশা
সার্বিক বিচারে নির্বাচন ও নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রাপ্তি হচ্ছে : দলটি গণসমর্থনের বিস্তৃতি ঘটিয়ে পক্ষভুক্ত জনগণকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে সক্রিয় করতে যেমন সক্ষম হয়েছে, তেমনি গণসম্পৃক্ত প্রবীণ-নতুন নেতা, যাকে বলে ‘গ্যালাক্সি অব লিডার্স’, জনগণের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছে যে, বিগত ১০ বছরে ‘বিশ^স্ততার সাথে কাজ’ করা ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের’ ফলে ‘সৃষ্টি হয়েছে সরকার, আওয়ামী লীগ ও জনগণের মেলবন্ধন, যাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত করতে হবে।’ নেতা-জনতার এই পবিত্র মেলবন্ধনকে যদি সরকার ও দলের কর্মকা-ের ভেতর দিয়ে অগ্রসর করে নিতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সব চ্যালেঞ্জকেই মোকাবিলা সম্ভব। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার সব সদস্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ বাস্তবায়নের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এটাই জনগণকে শক্তি ও সাহস জোগাচ্ছে।
এটা তো ঠিক যে, বিজয় যত বড় জনগণের প্রত্যাশা তত বেশি, দায়িত্ব তত বিশাল। কবিগুরু গেয়েছিলেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি।’ শক্তির প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ তিনবারের শাসনামলে দেখিয়েছে। সাফল্য ও অর্জন এমনি এমনি আসেনি, বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই ছিনিয়ে আনতে হয়েছে। তাই সঞ্চিত শক্তি ও সামর্থ্যকে সবক্ষেত্রে যথাযথভাবে ব্যবহার করে অগ্রসর হওয়া ভিন্ন আওয়ামী লীগের অন্য কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবে বিরাট জয়ের কারণে মানুষ এখন থাকবে প্রতিনিয়ত কিছু প্রাপ্তির জন্য উন্মুখ এবং অনভিপ্রেত কিছুর জন্য হবে স্পর্শকাতর। সরকার ও দলের পক্ষ থেকে কোনো বিঘœ-বিপত্তি ও অনভিপ্রেত কিছু ঘটলে বা প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি না হলে বা মন্ত্রী-নেতারা বাড়তি বেফাঁস কথা বললে এবারে মানুষের প্রতিক্রিয়া হবে বেশি।
সবশেষে এটুকুই বলতে হয়, বিরোধী শিবির যখন গণবিচ্ছিন্ন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, বিধ্বস্ত ও দিক-নির্দেশহীন, তখন আওয়ামী লীগই প্রকৃত বিচারে আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। কতটুকু পারবে আওয়ামী লীগ? পারবে কি বাংলার মাটিকে সম্পূর্ণরূপে একাত্তরের পরাজিত শক্তিমুক্ত করতে? ইশতেহারের শেষে বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,/এ বিশ^কে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ/নব জাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ উল্লিখিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নেত্রীর আবেগ-অনুভূতি-অঙ্গীকারের সাথে কতটুকু থাকতে পারবে আওয়ামী লীগ, তার ওপরেই নির্ভর করবে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ সামনের পাঁচ বছরে কতটুকু অগ্রসর হবে।

Category: