Blog Archives

দিনপঞ্জি : মার্চ ২০১৯

Posted on by 0 comment

০২ মার্চ
* সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের মান বজায় রেখে এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি যতœশীল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের গুরুভার আপনাদেরই। কাজেই আমি চাইব, আপনারা পরিবেশ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই যে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আইইবি’র ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

০৩ মার্চ
* দেশের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘পবিত্র সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা তথা অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’ রাজশাহী সেনানিবাসের শহিদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৭ম, ৮ম, ৯ম এবং ১০ম রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সেবা করার জন্য সেনাবাহিনীকে সরকার সব সময় পাশে পেয়েছে। আর সামনে যখনই প্রয়োজন হবে তখনই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়াবে।’ তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’ সেনা সদস্যদের দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্তপ্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদারিত্বের কাক্সিক্ষত মান অর্জনের জন্য দক্ষ, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৎ এবং মঙ্গলময় জীবনের অধিকারী হতে হবে।’

০৫ মার্চ
* নতুন করে আর কোনো মহাসড়কের অনুমোদন দেবে না সরকার। নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণের প্রয়োজন নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের এবার রেলপথ-নদীপথের দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সারাদেশের নদী রক্ষা করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নদী রক্ষার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পুকুর-জলাশয় রক্ষা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের নিদের্শনাও দেন সরকারপ্রধান। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। একনেক সভায় মোট ৬ হাজার ২৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করবে প্রায় ৩ হাজার ৩১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণে ২ হাজার ৯৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় তিনি বলেন, রেল, সড়ক ও নৌপথের সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

০৬ মার্চ
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাটের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। ফলে পাটে লোকসান হওয়ার কথা নয়। সরকার পাটে লোকসানের কথা শুনতে চায় না। পাটশিল্পকে লাভজনক করতে হবে। নতুন পণ্যের উদ্ভাবনার মাধ্যমে এই খাতকে লাভজনক করা সম্ভব। সরকার সব সময় এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা দিচ্ছে। সরকার চায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ খাতে আরও গুরুত্ব দিক। বেসরকারি খাত যত বেশি গুরুত্ব দেবে, পাটশিল্প ততই বিকশিত হবে। তিনি বলেন, অন্যান্য রপ্তানিমুখী পণ্য যে প্রণোদনা পাচ্ছে, পাটপণ্যের ক্ষেত্রেও সেরূপ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাটপণ্য দিয়ে বিশ্ববাজার দখল করতে হবে। জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঝে পাটের কিছুটা মন্দ সময় গেলেও এখন নতুন করে সুদিন ফিরে আসছে। সারাবিশ্বের মানুষ আবার পাটের মতো প্রাকৃতিক আঁশের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। এ খাতে গবেষণা বাড়াতে হবে। পাটের রপ্তানি বাড়াতে নতুন নতুন বাজার ধরতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যকে বহুমুখী করার বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রায় ৬৫০ জন বেসরকারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। এসব উদ্যোক্তা প্রায় ২৮০ ধরনের পাটের পণ্য তৈরি, বাজারজাত এবং রপ্তানি করছে।

০৭ মার্চ
* যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। দিনটি পালনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনসহ দেশব্যাপী সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। দলটির গবেষণা সংস্থা সিআরআই’র পক্ষে সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ‘জয় বাংলা’ কনসার্ট। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

০৯ মার্চ
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে সমাজের সর্বস্তরে পুরুষের পাশাপাশি তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে দেশের নারী সমাজকে নিজের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদিও ক্ষমতা দিয়েছি (স্থানীয় সরকারে) তবুও তারা সব জায়গায় ক্ষমতাটি প্রয়োগ করতে পারেন না। যারা দায়িত্বে আছেন (স্থানীয় সরকারে) তাদের নিজেদের ক্ষমতাটা নিজেদের অর্জন করে নিতে হবে। কেউ ক্ষমতা কখনও হাতে তুলে দেয় না, এটা হলো বাস্তবতা। ধর্ষকের প্রতি যেন সবার ঘৃণা জন্মায়, সেজন্য তাদের নাম-পরিচয় ভালোভাবে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকাল আমরা দেখি প্রায়ই শিশু ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণ। এটা অত্যন্ত গর্হিত একটা কাজ। যারা করে তারা সমাজের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা। যারা এ ধরনের কাজ করে, তাদের নাম-ধাম-চেহারা ভালোভাবে প্রচার করা এবং নির্যাতিত নারী নয়, যে ধর্ষক তার পরিচয়, তার চেহারা এমনভাবে প্রচার করতে হবে যে সমাজের প্রতি স্তরের মানুষ যেন তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। এভাবে তাকে একেবারে সমাজ থেকে বের করে দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

১০ মার্চ
* রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের মুখোশ উন্মোচনে একটি গণতদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, নেপথ্যের নায়কদের বিচার না হলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পরিপূর্ণ বিচার অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। জেনারেল জিয়া ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা ও পুরস্কৃত করার কারণে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। কারণ এরাও বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের রণ সেøাগান ‘জয় বাংলা’কে সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় সেøাগান ঘোষণারও দাবি জানান তারা। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

১১ মার্চ
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের রায়। জঙ্গি-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণ আর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-অগ্নিসন্ত্রাস দেখতে চায় না, নির্বাচনে তাই প্রমাণ হয়েছে। তাই বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত নেতাদের বলব, জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংসদে আসুন, যত কথা বলার আছে বলুন, আমরা কোনো বাধা দেব না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি, তা রক্ষা করাই আমাদের কাজ। দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি। দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্নীতি দূর করে উন্নয়ন করতে। দুর্নীতি যথেষ্ট কমাতে পেরেছি বলেই এত উন্নয়ন-সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেতনা সৃষ্টি করছি। কারণ অসৎ উপায়ে বিরিয়ানি খাওয়ার চেয়ে সৎভাবে বসবাস করে নূন খেলেও তৃপ্তি। আলোচনা শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়।

১২ মার্চ
* নির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব শেষ করে সরকারি হাসপাতালে বসে ফি’র বিনিময়ে রোগী দেখার সুযোগ পাবেন সরকারি চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের হাসপাতালমুখী রাখতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের জন্য এ সুযোগ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। এখন এ সুযোগ রাখা হবে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে। এ লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালে বিশেষ কর্নারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এদিকে সব সরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ চালু করা হলে কম খরচে আইসিইউর সেবা পাবে সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের মানোন্নয়নেরও তাগিদ দিয়েছেন।

১৩ মার্চ
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রাথমিকের কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার জন্য যেন অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হয়। তাহলে তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। এতে তাদের শিক্ষার ভিতটা শক্তভাবে তৈরি হবে। লেখাপড়ার জন্য শিশুদের কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে এক ধরনের ‘মানসিক অত্যাচার’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তারা যেন হাসি-খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করতে পারে। সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সাত বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠানো হয় না। আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা স্কুলে যায়। তবে তারা যেন হেসে-খেলে মজা করতে করতে পড়াশোনা করতে পারে, সে-ব্যবস্থা করা উচিত। সেখানে অনবরত ‘পড়’, ‘পড়’, ‘পড়’ বলাটা বা ধমক দেওয়া বা আরও বেশি চাপ দেওয়া হলে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহ কমে যাবে, একটা ভীতির সৃষ্টি হবে। শিক্ষার প্রতি যেন ভীতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

১৬ মার্চ
* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় গণভবনে ডাকসু ও হল সংসদে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য স্কুল পর্যায়ে কেবিনেট চালু হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে রাজনীতির পরিবেশ এত সুষ্ঠু ছিল না। এখন সুন্দর পরিবেশ ফিরেছে। নেতৃত্ব তুলে আনতে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা ও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে ভোট দিল, কে দিল নাÑ এটা নয়। যে নির্বাচিত হয়েছে, সে সব শিক্ষার্থীর জন্যই কাজ করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। গুলি-বোমা ছিল প্রতিদিনকার ব্যাপার। এক দলের নেতাকর্মীরা অন্য দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে চিন্তা করল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লেখাপড়ার জায়গা, সেখানে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা কেন থাকবে? এটা স্বস্তির বিষয় যে, গত ১০ বছরে ঢাবিতে অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই। ২০০৮-১৮ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকারের ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

১৭ মার্চ
* কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করল বাংলাদেশ নামক ভূখ-ের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে। দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের দৃপ্ত শপথে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। নানা অনুষ্ঠানামালায় এবং বাঙালি জাতির হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় দেশব্যাপী পালিত হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দরে দিনভর বেজেছে বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়া জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি। জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও মাজারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনীতির এই কবির জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবসও পালিত হলো। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দিবসটি উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইমেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ওপর তৈরি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি প্রতিবারের মতো এবারও দেশব্যাপী শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছেÑ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন।

২৩ মার্চ
* আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল এমপি আহমেদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছে। স্বাধীনতা-বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছে। খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় থেকে। স্বাধীনতা-বিরোধীদের গাড়িতে পতাকা দিয়েছে। দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় দিনের মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলা ধনিয়া ও চরসামাইয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এমপি এসব কথা বলেন।
* বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কোথাও তাদের (বিএনপি) ঠাঁই নেই। সবাই সজাগ থাকবেন, বিএনপি-জামাত আমাদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এই বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। যেভাবে জামাত আস্তে আস্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে, ঠিক সেভাবেই বিএনপিও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সে-কারণে তারা সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই সমস্ত বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মী থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা এসে আমাদের কাঁধে ভর করে, আমাদের মাঝে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠনে তাদের কেউ যেন ঠাঁই না পায়, সে-ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

২৫ মার্চ
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারি, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং আর্থ-সামাজিকভাবে যেন আমরা উন্নত হতে পারি, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে যেন একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যার সুফল দেশবাসী পেয়েছে।’ বাংলাদেশকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর দুর্যোগের দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে অবমাননা করার কথা স্মরণ করে এজন্য দেশবাসীর মতো তার নিজেরও মনঃকষ্ট ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে-কারণেই আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, চেষ্টা করেছে কত দ্রুত দেশটার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা যায় এবং উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ’৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। এরই মধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি, যেন এই দিনটা গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

২৬ মার্চ
* স্বাধীনতার ৪৮তম বার্ষিকীতে লাখো মানুষের জনস্রোতে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। লাল-সবুজ পোশাকে জাতীয় পতাকা হাতে সমবেত হয়েছিলেন সব বয়সের এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করা জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পস্তবক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। এবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে স্মৃতিসৌধে দলে দলে এসেছেন বিশেষত কিশোর এবং তরুণ বয়সীরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে বীর শহিদদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ রুখে দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তোমাদের। তোমরাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ, এই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকের শিশুদের মধ্য থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, বড় বড় চাকরি করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা আমাদের শিশুদের সেভাবে গড়ে তুলতে চাই। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশকে ভালোবেসে তারা কাজ করবে।’ সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

২৮ মার্চ
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিক্ষার মানের সঙ্গে কোনো আপস না করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। ফলে শিক্ষার গুণগতমানের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। তিনি রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ২০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।

২৯ মার্চ
* বিল্ডিং কোড মেনেই বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছেন, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। অগ্নিদুর্ঘটনাসহ সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে ভবন মালিক ও ব্যবহারকারীদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়াতে হবে। সে-সঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর বৈঠকে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বনানীতে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের প্রেক্ষাপটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

৩১ মার্চ
* রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যর্থতা সম্পর্কে বিএনপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার দাবি করে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, সরকার গত ১০ বছরে ফায়ার সার্ভিসের দ্বিগুণ উন্নতি করেছে। ক্ষেত্র বিশেষে এ উন্নতি তিন গুণ। এই অগ্নিকা-ের পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দক্ষভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেছেন। গোটা জাতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে হানিফ বলেন, ফায়ার সার্ভিসের জন্য নতুন অনেক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৯৮টি ফায়ার সার্ভিস প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

হ আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category:

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে কাজ করতে হবে

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-16-43 PM

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ইতিমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিÑ যেন এই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ গত ২৫ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ-কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চিন্তা থেকেই বাকশাল করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা যে পদ্ধতিটা নিয়েছিলেন, এটা যদি কার্যকর করা যেত তাহলে বাংলাদেশে আর কখনও জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে পারত না। জনগণ তার পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।’
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে জাতির পিতার কর্মসূচি ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনই একটি অবস্থার মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাড়াতে হবে এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। যেটাকে সংক্ষিপ্ত রূপে বাকশাল নামে পরিচিত করানো হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পর এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবময় ও অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করেন। গত ১০ মার্চ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকার। পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিগণ হচ্ছেনÑ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহিদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), একেএম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. কাজী মিসবাহুন নাহার, আব্দুল খালেক (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মোহাম্মাদ খালেদ (মরণোত্তর), শওকত আলী খান (মরণোত্তর), চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজসেবায় ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক ড. হাসিনা খাঁন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারকে (বিআইএনএ) এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের পরিচিতি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এক দশকের প্রচেষ্টার ফলে এই অর্থবছরের শেষ নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ ভাগে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
পঁচাত্তরের পরে নির্বাচন ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির অনুপ্রবেশের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য আলোচনায় তুলে ধরেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা দলগুলো ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না সেসব রাজনৈতিক দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গড়েছিলেন। এটি একটি জাতীয় ঐক্যভিত্তিক প্লাটফর্ম ছিল। যেখানে ঐক্যের মধ্য দিয়ে সকলেই দেশের কাজ করবে এবং সেখানে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে তিনি উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেই ব্যবস্থাটা নিয়েছিলেন সেটা কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ খেলতে পারত না। নিজের মনের মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করতে পারত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সে-সময় নির্বাচনের যে পদ্ধতি করেছিলেন সে অনুযায়ী যার যার নির্বাচন সে সে করতে পারবে। নির্বাচনের খরচ প্রতিটি প্রার্থীকে দিয়ে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে। প্রতি আসনের জন্য পৃথক একটি করে পোস্টারে সকল প্রার্থীর নাম ছাপিয়ে দেওয়া হবে, কাজেই জনগণের সাথে যার যোগাযোগ আছে, সম্পৃক্ততা আছে তারা নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ ভোটের অধিকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায়, তারা যেন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগ তিনি করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি নির্বাচন হয়েছিল সে-সময়। এর একটি কিশোরগঞ্জে অপরটি পটুয়াখালীতে। সেখানে বড় কোনো দলের কেউ নয়, সাধারণ একজন স্কুলমাস্টার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। অর্থাৎ অর্থ-বিত্ত দিয়ে কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার একটা কথা ছিল একটা বিপ্লবের পর সমাজে একটা বিবর্তন আসে। যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে সেসব দেশেই এমনটি হয়, পরিবর্তন বা বিবর্তনের পরে কিছু লোক আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে যায়। সেটা যেন সমাজে স্থান না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি এই বাকশাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের জনসংখ্যা বেশি এবং চাষের জমি কম থাকায় সেখানে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সমবায়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা মালিকের কাছেই থাকবে। কোনো মালিকানা নেওয়া হবে না। কিন্তু জমিটি সমবায়ের মাধ্যমেই চাষাবাদ হবে। উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ যারা শ্রম দেবে তারা পাবে, একটা অংশ মালিক পাবে আর একটা অংশ পাবে সমবায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নকালেই ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করায় সেই রিপোর্ট আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘তিনি বেঁচে থাকলে আর পাঁচ-সাত বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে গড়ে উঠতে পারত।’
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিগণ, সংসদের সদসগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Category:

বাংলার নির্যাসে নির্মিত হবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-15-12 PM

বাংলাদেশের জল-হাওয়ায় শেখ মুজিবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তাই বাংলার মাটির নির্যাসে নির্মিত হবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটি। আর এ কারণেই ছবিটি নির্মিত হবে বাংলা ভাষায়।

উত্তরণ ডেস্ক : নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর বায়োপিক। এই ছবির সূত্র ধরে উঠে আসবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নির্মম ট্র্যাজেডি। এই দুই ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাবে সিনেমার কাহিনি। গত শতকের চল্লিশের দশক থেকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ধরা হবে ফ্রেমে। ফলে তারুণ্য থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং পরবর্তী সময়ের মুজিবের দেখা মিলবে ছবিতে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করবেন দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। ছবি নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে এই নির্মাতা এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়। গত ২ এপ্রিল সকালে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন এদেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত সে বৈঠক শেষে শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। আলাপচারিতায় এই নির্মাতা জাতির জনকের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এ বিষয়ে আরও কথা হয় বৈঠকে অংশ নেয়া চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম ও নাট্যজন মামুনুর রশীদের সঙ্গে।
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটি কেমন হবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে শ্যাম বেনেগাল বলেন, বাংলাদেশের জল-হাওয়ায় শেখ মুজিবের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তাই বাংলার মাটির নির্যাসে নির্মিত হবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটি। আর এ কারণেই ছবিটি নির্মিত হবে বাংলা ভাষায় বাংলার মাটি-পানি-ঘাসে।।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে শ্যাম বেনেগাল বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায়। চলচ্চিত্রটির উপজীব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ কাজই হবে বাংলাদেশকে নির্ভর করে। সেই সুবাদে বাংলাদেশের প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। বেশিরভাগ শুটিংও হবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। কারিগরি সহায়তাসহ কলাকুশলীরাও থাকবেন এদেশেরই। যে কারণে এখান থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, সেটাই আলোচনায় উঠে এসেছে। যৌথ প্রযোজনার ছবি হলেও ছবির প্রাথমিকসহ বেশিরভাগ কাজ হবে বাংলাদেশে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি।
প্রসঙ্গক্রমে শ্যাম বেনেগাল বলেন, আজ (২ এপ্রিল, মঙ্গলবার) দুপুরে আমি ছবির দৃশ্যায়নসহ কতটা কারিগরি সুবিধা পাওয়া যাবে তা দেখতে যাব সাভারের কবিরপুরের বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতে। ৩ এপ্রিল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। বর্তমানে ছবির কাজ একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমি ছাড়াও যৌথ প্রযোজনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেখক, গবেষক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনে কাস্টিং ডিরেক্টর সম্পৃক্ত হবেন ছবির সঙ্গে।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য প্রসঙ্গে এই নির্মাতা বলেন, এটি এখনও তৈরি হয়নি। চিত্রনাট্য তৈরির ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের সহায়তা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর সময়কাল থেকে বাংলাদেশের জন্মকালÑ এ সময়গুলোকে যারা অবলোকন করেছেন, তাদের সহযোগিতা নেব আমরা। সত্যি কথা বলতে, এখনও অনেক কাজ বাকি। এখন চলছে প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্বের কাজ।
চলচ্চিত্রটিতে বাংলাদেশ থেকে কোনো সহ-পরিচালক নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতেই একটি চলচ্চিত্র অনেক মানুষের চিন্তা ও সৃষ্টির ফসল। তবে একটি প্রাণীর দুটি মাথা থাকতে পারে না। সেই বিবেচনায় সহকারী পরিচালক গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর একটি ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে দুটি মাথা একসঙ্গে কাজ করলে, সেটা ভালো কিছু হবে না বলে আমি মনে করি। বিএফডিসির জহির রায়হান ল্যাবরেরির সভাকক্ষে শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, বিটিভির মহাপরিচালক হারুন-অর-রশিদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজাহারুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটি কেমন হবেÑ সে প্রসঙ্গে মামুনুর রশীদ বলেন, শ্যাম বেনেগাল গুণী নির্মাতা। সাড়া জাগানো অনেক ছবি নির্মাণ করেছেন তিনি। বায়োপিক ধারার ছবি নির্মাণেও তার রয়েছে বিস্তর অভিজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তিনি যে ছবিটি তৈরি করবেন, আশা করি সেটিও উচ্চমানের হবে। এছাড়া ছবিটির প্রযোজনায় রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। তাই ছবিটির বাজেটও বড় হবে। প্রাথমিকভাবে ছবিটির চিত্রনাট্য নিয়ে গবেষণা শুরু হবে। সেই প্রেক্ষাপটে বলতে পারি ছবিটির নির্মাণ করতে সময় লাগবে। এ চলচ্চিত্রে গত শতকের চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- পর্যন্ত নানা ঘটনা উঠে আসবে। যুক্ত হবে দেশভাগ, দাঙ্গা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এসব ঘটনাপ্রবাহকে একসঙ্গে যুক্ত করে চিত্রনাট্য তৈরি করাটাও জটিল কাজ। ছবির অধিকাংশ শূটিং বাংলাদেশেই হবে। তবে ছবির প্রয়োজনে ভারত ও পাকিস্তানেও দৃশ্যায়ন হবে।
মোরশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শ্যাম বেনেগাল ছবিটি চেয়েছিলেন ইংরেজি ভাষায় নির্মাণ করতে। তবে  বৈঠকে আমরা তাকে চলচ্চিত্রটি বাংলা ভাষায় নির্মাণের প্রস্তাব দিই। তিনিও এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে কে অভিনয় করবেন জানতে চাইলে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী এখনও ঠিক হয়নি। এমনকি চিত্রনাট্যও তৈরি হয়নি। তিনি চিত্রনাট্য রচনার ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের সহায়তা নেবেন। এছাড়াও যেহেতু বাংলাভাষায় নির্মিত হবে, সেহেতু তিনি ভাষাবিদদেরও সহায়তা নেবেন। ক্যামেরার সামনের মুখগুলোয় বাংলাদেশের মানুষকেই বেশি দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় ছবিটির চিত্রগ্রাহক দেশের বাইরের কেউ হতে পারেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবিটির বাজেট নিয়ে এখনও দুই দেশের সরকারের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ছবিটির বিষয় নিয়ে আজ (৩ এপ্রিল বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন শ্যাম বেনেগাল। ছবিটির নির্মাণ ও কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে জানতে চাইলে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ছবিটি হয়তো আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তৈরি হবে। কিন্তু সে-সময় ছবির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও ছবিটি প্রদর্শন উপযোগী করতে সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে ২০২১ সালের মার্চ মাসে ছবি মুক্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন শ্যাম বেনেগাল।
বাংলায় ছবিটি নির্মাণ প্রসঙ্গে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি বাংলা ভাষা তেমন বোঝেন না। তাই ভাষার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। ছবিটির শূটিং কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে হলে সেই সময়ের ঢাকাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। এ জন্য আলাদা করে সেট তৈরি করতে হবে। এসব কারণেই ছবিটির নির্মাণ খুব চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। এ বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হয়নি।
সূত্র : জনকণ্ঠ

Category:

সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনে একযোগে কাজ করতে হবে

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-12-25 PM

শেখ হাসিনাকে জাস্টিন ট্রুডোর ফোন

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সন্ত্রাস উচ্ছেদে একযোগে কাজ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১৮ মার্চ সকালে দুনেতার মধ্যে               অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপে তারা এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৮ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচাচের্র মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার  তীব্র নিন্দা জানান।
প্রায় ২০ মিনিট তাদের মধ্যে কথোপকথন অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ট্রুডো তার ফোনকলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেননা শুক্রবারের (১৫ মার্চ) সেই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অল্পের জন্য রক্ষা পায়। যে হামলায় চারজন বাংলাদেশিসহ ৫০ জন নিহত এবং বহু আহত হয়। ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের রক্ষা পাওয়ার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেন’, বলেন প্রেস সচিব। জাস্টিন ট্রুডো নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৫০ ব্যক্তি নিহত হওয়ায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রেস সচিব বলেন, জাস্টিন ট্রুডোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এজন্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। এর উত্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভিমত সমর্থন করেন এবং বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনে একযোগে                   কাজ করতে হবে।’
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রেই              সন্ত্রাসকে নিন্দা জানায়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং আমরা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সকল তীর্থ স্থান যেমনÑ মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডা রক্ষার জন্য সতর্ক করে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামে কোনোভাবে এবং কোনো ধরনেরই সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই ও সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই এবং ভৌগোলিক সীমারেখা নেই।’ প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সমাজ থেকে সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সকলকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় কানাডায় অবস্থানরত জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘নূর চৌধুরী বর্তমানে ন্যায়বিচার থেকে পলাতক থেকে কানাডায় অবস্থান করছে। এটি আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একটি বড় কাজ হবে, যদি কানাডা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, যাতে সে ন্যায়বিচারের সম্মুখীন হতে পারে।’ এর উত্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটি আইনি বিষয় এবং আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।’
শেখ হাসিনা এ সময় দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কানাডা ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতা, হৃদ্যতা ও সম্মানজনক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং কানাডার আসন্ন নির্বাচনে তার সাফল্য কামনা করেন। জাস্টিন ট্রুডো এ সময় বিগত নির্বাচনে তার বিপুল বিজয়ে এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণে শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

Category:

খেলা-পুরস্কার ছাপিয়ে স্পটলাইটে মমতাময়ী শেখ হাসিনা

Posted on by 0 comment

4-9-2019 7-11-16 PMঅনিন্দ্য আরিফ দিব্য: গত ৪ এপ্রিল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। আবেগঘন মুহূর্ত। সে এক বিরল দৃশ্য। বালিকাদের ফাইনালে হেরে কাঁদছে টেপুগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট মেয়েরা। থামছে না তাদের কষ্টের কান্না। ব্যর্থ সবাই। ট্রফি আনতে মঞ্চে গিয়েও গড়িয়ে পড়ছিল তাদের অশ্রু। আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কী করবেন ভেবেÑ কান্না থামাতে তাদের মমতাময়ী মায়ের আদরে বুকে টেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনে ফাইনাল ম্যাচের জম্পেশ উত্তেজনার মোহ-মুগ্ধতা ছাপিয়ে গেল এ ঘটনায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে ছাত্রীরা পেল মায়ের স্নেহ। ভুলে গেল ট্রফি না পাওয়ার বেদনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আদর ও ভালোবাসায় রাঙিয়ে দিলেন। মেয়েদের গলায় পদক পরিয়ে বুকে টেনে নিলেন। মুছে দিলেন চোখের পানি। বড় পর্দায় ভেসে এই আবেগঘন দৃশ্য পুরো স্টেডিয়ামকে উদ্বেলিত করল। প্রধানমন্ত্রী সান্ত¦না দিলেন; দিলেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও। এবার বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে যথাক্রমে সিলেটের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়মনসিংহের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ৩ লাখ, রানার্সআপ দলকে ২ লাখ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ১ লাখ টাকা করে প্রাইজমানি ও ট্রফি দেওয়া হয়। এ-সময় টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সেরাদের হাতেও অর্থ ও ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ স্কুল টুর্নামেন্টের ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। এ-সময় বিপুল করতালী দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। তিনি স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বসে খেলা উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিতে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন প্রমুখ।
বালক বিভাগের ফাইনালে হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সালমান আহমেদের দেওয়া একমাত্র গোলে রংপুর বিভাগের নীলফামারীর দক্ষিণ কানিয়ালখাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারায়। অন্যদিকে জান্নাতুল মাওয়ার একমাত্র গোলে ময়মনসিংহের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লালমনিরহাটের টেপুরগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়েছে।
পুরস্কারপর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের মেধা-মননের যথার্থ বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় আগ্রহী করে তুলতে অভিভাবক-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা ফুটবলসহ খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে এবং তাদের শরীর স্বাস্থ্য এবং মন ভালো থাকবে। তারা শৃঙ্খলা শিখবে এবং আগামী দিনে এই বাংলদেশকে তারা নেতৃত্ব দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছি। যার ফলে এখন খেলাধুলায় আমাদের ছেলেমেয়েরা পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। আমাদের নারী অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ এবং জাতীয় দলের ৫০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ৩৬ জন খেলোয়াড়ই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব গোল্ডকাপ আন্তঃবিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে এসেছে। তারা ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের অবস্থান করে নিচ্ছে। এজন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ এএফসি কাপে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ফুটবল আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, মাঠে-ঘাটে এবং গ্রাম পর্যায়েও এই খেলা চলে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই ফুটবল দল গঠিত হয়। বিশেষ করে আমি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছি যেখানে আমার দাদা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও ফুটবল খেলতেন। আমার ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালও ফুটবল খেলত। এখন আমার নাতি-নাতনীরাও ফুটবল খেলছে। তিনি বলেন, আমার ছেলেমেয়ে জয় এবং পুতুলের ছেলেমেয়েরা এমনকি শেখ রেহানার ছেলে ববির সন্তানেরাও ফুটবল খেলার সঙ্গে জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এত বিশাল সংখ্যায় টুর্নামেন্ট, এত খেলোয়াড় নিয়ে পৃথিবীর আর কোনো দেশ আর কখনও আয়োজন করতে পেরেছে কি না সন্দেহ। সেজন্য তিনি যারা এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকে যারা খেলাধুলায় অত্যন্ত পারদর্শিতা দেখাচ্ছে, আগামীতে তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও সম্মান দেশের জন্য বয়ে আনবে। আমাদের দেশে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের যেন আরও উন্নতি হয় আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাই সারাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় আমরা একটা করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করে দিচ্ছি। ছেলেমেয়েরা যাতে সব সময় খেলাধুলাটা অনুশীলন করতে পারে, সেজন্য এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি। উল্লেখ্য, এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ৬৫ হাজার ৭৯৫টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ ছাত্র এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ৬৫ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ছাত্রী অংশ নিয়েছে। কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টে এতগুলো দল ও খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ বিশ্বে নতুন ইতিহাস।
খেলাপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং রাসার্সআপসহ যারা অংশগ্রহণ করেছেন, সকল শিক্ষার্থী-খেলোয়াড় এবং অবিভাবকÑ সকলকে আমি অভিনন্দন জানাই। আজকে একটি দল শিরোপা জিতেছে, আগামীতে হয়তো অন্য কেউ আসবে; কিন্তু এই প্রতিযোগিতা সুন্দরভাবে যেন চলতে পারে তার ব্যবস্থাটা নিতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এবং আজকের যারা শিশু তাদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ আমরা গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে তারা যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, সুন্দর জীবন পায় এবং জীবনের সাফল্য অর্জন করে।

Category:

দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-08-53 PM

শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্স

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ গত ১১ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় মোদি বলেন, দুই দেশের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত এক দশকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাত, যেমনÑ নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্যে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত, যেমনÑ ব্লু ইকোনমি ও মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি, সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে।
এদিন ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যে ৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, সেগুলো হলোÑ ভারত থেকে দোতলা বাস, একতলা এসি ও নন-এসি বাস ও ট্রাক আমদানি, ভারতীয় আর্থিক অনুদানে জামালপুর, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, ভারতীয় অনুদানে পিরোজপুরের ভা-ারিয়ায় ১১টি পানি শোধনাগার স্থাপন এবং সার্কভুক্ত দেশে ভারতের ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এই নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করেন। ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা একসঙ্গে সুইচ চেপে প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে ৪টি প্রকল্পের ওপরই অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি পোষণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না। দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী এ সময় গত মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম ভিডিও কনফারেন্স। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বিজয় ঘোষণার পরপরই আমাকে এবং আমার দলকে অভিনন্দন জানানোর জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ৬০০ বাস (৩০০ দোতলা বাস, ২০০ একতলা এসি বাস ও ১০০ একতলা নন-এসি বাস), ৫০০ ট্রাক (৩৫০টি ১৬ টন ও ১৫০টি ১০ টন ট্রাক) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। আশা করি, এর ফলে বাংলাদেশের যাত্রী-সাধারণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে এবং মহাসড়কগুলোর যানজট খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অন্যান্য প্রকল্পের জন্যও নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের আরও বহু প্রকল্পের সাফল্যজনক সমাপ্তি উদযাপনের আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নতি ভারতের জন্য সব সময়ই একটি আনন্দের বিষয়। সেইসঙ্গে আমাদের জন্য তা প্রেরণারও উৎস। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল লক্ষ্য স্থির করেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা ও ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তার রূপকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’
মোদি বলেন, গত পাঁচ বছরে একসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়ের জন্য কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমার পুরো বিশ্বাস রয়েছে, আগামী পাঁচ বছর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় আসীন হবে।
মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার এটি ষষ্ঠ ভিডিও কনফারেন্স। এতটা সরলতার সঙ্গে এতবার দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে যোগাযোগ সাধন নিজে থেকেই বলে দিচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর ও মজবুত।
ভিডিও কনফারেন্সের সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. মসিউর রহমান, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি, ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে সফররত সংসদ সদস্যরা।

Category:

কৃষি জমি নষ্ট না করে শিল্পায়ন করতে হবে

Posted on by 0 comment

4-9-2019 7-02-11 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: রোজার মাসে কোনো নিত্যপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের সমস্যা বা দাম বৃদ্ধি না হয় এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ফসলি কৃষি জমি নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমি যেন নষ্ট না হয় সেজন্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমার খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশে কখনও উন্নয়ন হয় না। তাই কৃষি জমি নেয়ার দরকার নেই। যা নেয়া আছে সেগুলো আগে ভরুক, তারপর দেখা যাবে। ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। ফসলি জমি আপনারা নিয়েন না, আমরাও নেব না। তবে যারা জমির মালিক তারা যেন জমির দাম সঠিক সময়ে পায়। মানুষের জন্য আমরা কাজ করি। তাই মানুষের যেন কষ্ট না হয়। যাদের জমি তাদের পরিবারের সদস্যরা যেন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায় সেদিকেও খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্প স্থাপনের উপযোগী ১১ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, নতুন ১৩ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ১৬ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন এবং নতুন ২০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপনসহ ৬৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এমন অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী গত ৩ এপ্রিল তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ, স্থানীয় গণপ্রতিনিধি, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ-সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।
৬৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তার সূচনা বক্তব্য দেশি-বিদেশি-প্রবাসী যারাই আসবে তারা যেন বিনিয়োগ করতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টি করার জন্যই অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমাদের খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ কখনও উন্নয়ন হয় না। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কিন্তু সেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে কৃষি আমাদের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমাদের শিল্পায়নও প্রয়োজন। সে কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা সারা বাংলাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলব।

Category:

গ্রীষ্মের ফলের পুষ্টিগুণ

Posted on by 0 comment

4-9-2019 7-00-03 PMরাজিয়া সুলতানা: প্রকৃতির কৃপায় বাংলাদেশে সারাবছরই প্রচুর ফল উৎপাদন হয়। তবে এখানকার আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি গ্রীষ্মম-লীয় ফল উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী। উৎপাদনের দিক থেকে গ্রীষ্মপ্রধান ফলগুলো ৭৯ শতাংশ জমি দখল করে আছে। অবশিষ্ট ২১ শতাংশ জমিতে হচ্ছে অন্য ফল। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য একজন মানুষের কমপক্ষে দৈনিক মাথাপিছু ৮৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। পরিসংখ্যানতাত্ত্বিক হিসাবে পাচ্ছে মাত্র ৩৫ গ্রাম। এর মধ্যে বেশির ভাগই গ্রীষ্মকালীন ফল।
‘মধু মাস বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ’র সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। আর নামটি এসেছে সুমিষ্ট, সুস্বাধু ফল উৎপাদনের নিরিখেই। মোট ফল উৎপাদনের ৫৪ শতাংশই উৎপাদন শুরু হয় বৈশাখে। শেষ হয় প্রায় শ্রাবণ মাসে, অর্থাৎ বর্ষায়। বাকি ৪৬ শতাংশ ফলের উৎপাদন হয় অবশিষ্ট আট মাসে।
ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশ উষ্ণপ্রধান হওয়ায় তাপমাত্রা সাধারণত থাকে ১০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বছরব্যাপী কম-বেশি বৃষ্টিপাত, মাটিও উর্বর। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত ফল চাষের জন্য অনুকূল। তাই ফলের আধিক্যও বেশি। ফলের প্রকারভেদ প্রায় ১৩০ রকমের। এর মধ্যে ৭০ রকম প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলের আবাদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ রং, রূপ, ঘ্রাণ ও মিষ্টতার জন্য সাধারণত ২৮-৩৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত প্রয়োজন, যা গ্রীষ্মকালে থাকে। আর এ জন্যই এ-সময় ফলের প্রাচুর্যতা অনেক বেশি। এক নজরে আমাদের চারদিকের কিছু গ্রীষ্মকালীন ফলÑ আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আনারস, পেঁপে, তরমুজ, বাঙ্গি, জামরুল, পেয়ারা, সফেদা, আতা, শরিফা, কামরাঙা, নারিকেল, বেল, তাল, তালশাঁস, লেবু, খেজুর, প্যাশন ফল, গোলাপজাম, গাব, ডেউয়া, বেতফল, মুড়মুড়ি, ফলসা, হামজাম, বৈঁচি, লুকলুকি, তৈকর, আঁশফল ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু ফল সারাবছর পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মে এদের আধিক্য থাকে বেশি।
নাম-জানা না-জানা অনেক ফল আমরা হারাতে বসেছি। আবার অনেক ফলের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন গবেষণারত আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা। ফল ভেষজ বা ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ সবল জীবন লাভ করা যায়। এত পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফলের প্রার্চুযতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক পুষ্টিহীনতার শিকার। বাংলাদেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ‘এ’, ৯০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ‘সি’, ৯৩ শতাংশ মানুষ ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুগছে। একটু সচেতন হলেই আমরা এই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারি আমাদের স্বল্পমূল্যের ফলের মাধ্যমে। নিম্নের আলোচনা হতেই বুঝতে পারব পুষ্টিগুণ বিচারে আমাদের দেশি ফল অতুলনীয়। বাংলাদেশের কিছু প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফলের পুষ্টিগুণÑ
আম
পুষ্টির কথা বলতে গেলে প্রথমে যে ফলটির নাম চোখের কাছে জলজল করে ওঠে, তা হলো আম। আমার তো জিভে পানি চলে এলো, অন্যদেরও এলো কি না আমার জানতে ইচ্ছে করছে। আদি ভারতবর্ষের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন উষ্ণম-লীয় ফল আম। যা চাষ করা হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার বছর ধরে। জাত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে আমের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলো জন্মে। জাত ভেদে ফলের ওজন ১০০ থেকে ১ হাজার গ্রাম। ফসল উত্তোলনের সময় জুন-আগস্ট।

পুষ্টিগুণ
®    আম ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সহজপাচ্য সুমিষ্ট ফল।
®    আমের আকার ও ধরনের ওপর এর ক্যালরির পরিমাণ নির্ভর করে।
®    একটা মাঝারি আকারের আমে ৫০ থেকে ১০০ ক্যালরি আছে।
®    পাকা আমে ক্যারোটিনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ।
®    কাঁচা আমে আছে পেকটিন, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।

তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আমে আছেÑ
®    প্রায় ৪০০ ইউনিট ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
®    ১২ গ্রাম শর্করা।
®    ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’র সাথে আছে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রাখে অক্ষুণœ।
®    টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড রয়েছে আমে, যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আমে আরও আছে ভিটামিন ‘বি’, খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম ও প্রচুর খাদ্যশক্তি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলোÑ আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কি না ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলনসহ প্রোস্টেট ক্যানসারও প্রতিরোধেও সহায়তা করে আম। এতে প্রচুর এনজাইমও পাওয়া যায়, যা শরীরের প্রোটিন অণু ভেঙে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আম খেলে কিছুটা ওজন বাড়লেও কোলেস্টেরল কমে যায়, তা আবার রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন। সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য সুখবর হলোÑ ত্বকের যতেœও আমের তুলনা হয় না। ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবে ত্বককে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে আম। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে আম। তাই অতি সহজেই পাকা আমের প্যাক ব্যবহার করতে পারবেন ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে। ফলে মুক্তি পেতে পারেন ব্রণের সমস্যা থেকে।

জাম
জাম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। এটি কালোজাম হিসেবে অধিক পরিচিত। জামগাছ বড় আকারের বৃক্ষ। পরিপক্ব ফল কালো, লম্বাটে। ফলের অর্ধেকটাই বীজ। ফল পাকে জুলাই মাসে। খুবই অল্প সময় এটি বাজারে দেখা যায়।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম জামেÑ
®    শর্করার পরিমাণ ১.৪ গ্রাম।
®    ক্যালরির পরিমাণ ১১ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ৪.৩ মিলিগ্রাম আর
®    ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে ৬০ গ্রাম।

মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়। এছাড়া শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করে। প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে জামে। রক্তশূন্যতার রোগীদের তাই জাম খেতে বলা হয়। এতে শর্করা খুবই কম। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে জাম খেতে পারেন। জামে জৈব অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। তাই কখনও কখনও পেটে গ্যাস হতে পারে। জাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত ও মাড়ি শক্ত এবং মজবুত হয়। দাঁতের মাড়ির ক্ষয়রোধ করে। তাছাড়া কালোজাম টিস্যুকে টানটান হতে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেইন অ্যালারট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জামে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকে বলে পানি শূন্যতাকে রোধ করে ত্বককে স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করে। ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে জাম। জাম কেমোপ্রোটেক্টিভ। এর নির্যাস রেডিওপ্রোটেক্টিভ এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‌্যাডিকেলের কাজে এবং বিকিরণে বাধা দেয়। কাঁচা জামের পেস্ট পেটের জন্য উপকারী। বর্তমানে কিছু দেশে জাম দিয়ে বিশেষ ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে, যা ব্যবহারে চুল পাকা বন্ধ হবে। গলার সমস্যার ক্ষেত্রে জাম ফলদায়ক। জাম গাছের ছাল পিষে পেস্ট তৈরি করে তা পানিতে মিশিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে গলা পরিষ্কার হবে, মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে, মাড়িতে কোনো সমস্যা থাকলে তাও কমে যাবে।

কাঁঠাল
কাঁঠাল খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এই ফল বেশ রসালো ও সুস্বাদুও বটে। তবে এটি সহজপাচ্য নয়। পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে। ক্যারোটিনসমৃদ্ধ এই ফল রুচি ও শক্তিবর্ধক। এটি আমাদের জাতীয় ফল। উৎপত্তিস্থল ভারতের পশ্চিমঘাট। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্রই দেখা যায়। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না গাছটি। কাঁঠাল উদ্ভিদ জগতের সর্ববৃহৎ ফলের একটি। ওজন ৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালেÑ
®    খাদ্যআঁশ ২ গ্রাম।
®    আমিষ ১ গ্রাম।
®    শর্করা ২৪ গ্রাম।
®    চর্বি ০.৩ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম।
®    ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম।
®    পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম।
®    ম্যাঙ্গানিজ ০.১৯৭ মিলিগ্রাম।
®    লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন ‘এ’ ২৯৭ গ্রাম আইইউ।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৬.৭ মিলিগ্রাম।
®    থায়ামিন (ভিটামিন বি-১) ০.০৩ মিলিগ্রাম।
®    রিবোফেবিন (ভিটা বি-২) ০.১১ মিলিগ্রাম।
®    নায়াসিন (ভিটা বি-৩) ০.৪ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন বি-৬ ০.১০৮ মিলিগ্রাম।
কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন আছে। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত দরকার। অন্যদিকে চর্বির পরিমাণ কম। ফলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বললেই চলে। কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কাঁঠালে ভিটামিন ‘এ’-এর আধিক্যের কারণে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। মানব দেহে ভিটামিন ‘সি’ তৈরি হয় না। আবার রান্না করা সবজিতেও ভিটামিন ‘সি’ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে। আর এই ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম উৎস হচ্ছে কাঁঠাল। কাঁঠালে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস; যা আলসার, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম। কাঁঠালে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। এছাড়া সর্দি-কাশি, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী।

কলা
গ্রীষ্মম-লীয় এলাকার এক সুপরিচিত সুস্বাদু ফল কলা। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দ নাগাদ ভারতে আসে। এরপর থেকে উষ্ণম-লীয় বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। এমনকি খ্রিষ্টপূর্ব ২০০-৩০০ অব্দেও প্রশান্ত মহাসাগরের কতিপয় দ্বীপে এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ভাগ এলাকায় কলা বিস্তার লাভ করেছিল বলে ধারণা করা হয়।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় রয়েছেÑ
®    পানি (জল) ৭০.১ শতাংশ।
®    আমিষ ১.২ শতাংশ।
®    ফ্যাট (চর্বি) ০.৩ শতাংশ।
®    খনিজ লবণ ০.৮ শতাংশ।
®    আঁশ ০.৪ শতাংশ।
®    শর্করা ৭.২ শতাংশ।
®    মোট ১০০.০ শতাংশ।

খনিজ লবণ এবং ভিটামিনের পরিমাণÑ
®    ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম।
®    ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’, অল্প ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ৮ মিলিগ্রাম।
®    মোট ক্যালরি ১১৬।

এই ফলে শর্করার পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। তাই যখন খুব দ্রুত শক্তির দরকার হয় তখন কলা খেয়ে নেওয়া হয়। কলা থেকে উৎপন্ন রস অতি পুষ্টিকর ও উপাদেয়। পাকা অবস্থায় এই ফল খুব সুস্বাদু। কাঁচা কলা উত্তম সবজি। এছাড়াও কলা গাছের থোড় সবজি হিসেবেও খাওয়া হয়।

লিচু
উনিশ শতকের শুরুর দিকে চীন থেকে ভারতবর্ষে লিচুর অনুপ্রবেশ ঘটে। লিচু গাছ অধিক শাখাযুক্ত ও চিরসবুজ। বাংলাদেশের সর্বত্র ভালোভাবে জন্মে। তবে উন্নতমানের ফল উৎপন্ন হয় দিনাজপুর, রাজশাহী, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে। ফল পাকার সময় জুন ও জুলাই।

পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম লিচুতেÑ
®    শর্করা রয়েছে প্রায় ১৩.৬ গ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ১০ মিলি গ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলি গ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর ক্যালরি মূল্য ৭৯ কিলোক্যালরি। লিচুর ক্যালরি মূল্য বেশি বলে ডায়াবেটিক মানুষের পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া ভালো। টসটসে এই ফলে জলীয় অংশ অনেক। তাই এই ফল শরীরের পানির চাহিদা ও পিপাসা মেটায়। এছাড়া লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার, ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

তরমুজ
একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। ঠা-া তরমুজ গ্রীষ্মকালে বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে। এই ফলে ৬ শতাংশ চিনি এবং ৯২ শতাংশ পানি এবং অনন্য উপাদান ২ শতাংশ। এটি ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় ফল।
পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছেÑ
®    ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম পানি।
®    আঁশ ০.২ গ্রাম।
®    আমিষ ০.৫ গ্রাম।
®    চর্বি ০.২ গ্রাম।
®    ক্যালরি ১৫ থেকে ১৬ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ৭.৯ মিলিগ্রাম।
®    কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম।
®    খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম।
®    ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম।
®    নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম।

আরও রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’ ও ভিটামিন ‘বি-২’। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায়। এছাড়াও নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। তরমুজে আছে ক্যারোটিনয়েড। আর তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যারটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

বাঙ্গি
ফুটি, বাঙ্গি বা কাঁকুড় এক রকমের শশা জাতীয় ফল। ছোট এবং লম্বাটে জাতকে চিনাল বলা হয়। ফুটি আকারের বেশ বড়, কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে হলুদ এবং ফেটে যায়। খেতে তেমন মিষ্টি নয়, বেলে বেলে ধরনের। এর ভেতরটা ফাঁপা থাকে।
পুষ্টিগুণ
এ ফলটি খুব রসালো। এর পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চিনির পরিমাণ কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন। বাঙ্গি ভিটামিন ‘সি’, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিনসমৃদ্ধ।

পেয়ারা
বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। আমেরিকার নিরক্ষীয় অঞ্চল এর আদি নিবাস। পেরু থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হাওয়াই, ফিলিপাইন, ফ্লোরিডা প্রভৃতি দেশে ব্যাপকভাবে পেয়ারার চাষ হয়।

পুষ্টিগুণ
®    পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’ এবং পেকটিনের অন্যতম উৎস।
®    পেয়ারায় ৮০-৮৩ শতাংশ পানি।
®    অমø ২.৪৫ শতাংশ।
®    বিজারিত চিনি ৩.৫০-৪.৪৫ শতাংশ।
®    অবিজারিত চিনি ৩.৯৭-৫.২৩ শতাংশ।
®    দ্রবনীয় শুষ্ক পদার্থ ৯.৭৩ শতাংশ।
®    পটাশিয়াম ০.৪৮ শতাংশ।
®    ২৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে ১০০ গ্রাম পেয়ারায়।

মৌসুম, পরিপক্বতা ও জাতভেদে এর পুষ্টিগুণের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। পেয়ারা পরিণত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। টাটকা অবস্থায় পরিপক্ব ফল থেকে সালাদ, পুডিং এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সুস্বাদু জেলি, শরবত, পাউডার, আচার ও আইসক্রিম তৈরি করা হয়।

লেখক : শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি
শেরে বাংলা কৃষি ইউনিভার্সিটি, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১১০০
raziasultana.sau52@gmail.com
[চলবে]

Category:

আগরতলায় বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-56-33 PMউত্তরণ ডেস্ক: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একদল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। লেখক-শিক্ষাবিদ ড. দেবব্রত দেব রায়ের নেতৃত্বে গঠিত বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন কমিটি গত ১০ জানুয়ারি আগরতলার সুকান্ত মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে লেখক, কবি, গায়ক-গায়িকা, আবৃত্তিকার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। ভারতের কলকাতা ও দিল্লি থেকেও অনেকে অংশ নেয়। উল্লেখ্য যে, দেশ-বিদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের প্রথম অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায়। সদ্য একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মঙ্গলদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। আরও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রোকেয়া সুলতানা রাকা, মোশতাক আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক বুলবুল মহালানবীশ, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, রূপশ্রী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জনা সাহাসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রধান অতিথি নূহ-উল-আলম লেনিনসহ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আগরতলাবাসীর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
আমন্ত্রিতরা অনুষ্ঠানের পরে দুদিন ত্রিপুরার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতি ত্রিপুরাবাসীর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাদের মুগ্ধ করে। গত ২ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রথমে আগরতলা থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত মেলাঘর এলাকায় নীরমহল পরিদর্শন করেন। ত্রিপুরার সর্বশেষ রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য ১৯৩৮ সালে তার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে মুঘল ও হিন্দু স্থাপত্যের আদলে জলাশয়ের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন।

Category:

সৌদি আরবের সঙ্গে দুই চুক্তি, চার এমওইউ সই

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-54-25 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বিদ্যুৎ ও জনশক্তিসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এসব চুক্তি ও এমওইউ’র আওতায় দেশে বড় ধরনের সৌদি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এসব চুক্তি ও এমওইউ সই হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাভি এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন মাজিদ আল-তাওজরি। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী মাজিদ জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে সৌদি আরবের ৫২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ৬ মার্চ রাতে ঢাকায় পৌঁছায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দলের এই সফরে বিভিন্ন খাতে দেড় থেকে ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাক্ষরিত চুক্তি ও এমওইউ : ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র (সোলার আইপিপি) নির্মাণে সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানি এবং ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। ইজিসিবির পক্ষে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার সাহা এবং আলফানার কোম্পানির পক্ষে সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট খালিদ বিন কাবেল আল সুলামি এ চুক্তিতে সই করেন।
ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনে সৌদি কোম্পানি ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। জেনারেল ইলেকট্রিকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আহমেদ ভূইয়া এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন নাজিব আল হাজী চুক্তিতে সই করেন।
অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সৌদি আরবের আল মাম ট্রেডিং এস্টেটের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে একটি এমওইউ সই হয়েছে। বিএমইটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এসকে রফিকুল ইসলাম এবং আল মামের চেয়ারম্যান ইউসুফ আবদুল্লাহ আল মুশির এতে সই করেন।
ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্ল্যান্ট নির্মাণে সৌদি আরবের ইউসুফ আল রাজি কনস্ট্রাকশন এস্টেটের সঙ্গে এমওইউ সই করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানির ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ আল রাজি এই সমঝোতায় সই করেন।
‘সৌদি-বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব বায়ো-মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সৌদি আরবের আল আফালিক গ্রুপ (এএইচ গ্রুপ) এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের মধ্যে একটি এমওইউ সই হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং এএইচ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এস আলফালেক এতে সই করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) এবং রিয়াদ ক্যাবলস গ্রুপ অব কোম্পানির মধ্যে বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনের বিষয়ে একটি এমওইউ সই হয়েছে। শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এবং রিয়াদ ক্যাবলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুস্তাফা মোহাম্মদ রাফিয়া এতে সই করেন।
বাংলাদেশকে এশিয়ার টাইগার হিসেবে বর্ণনা করে মজিদ বলেন, সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে আসার আগে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করার কথাও উল্লেখ করে মজিদ বলেন, সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করতে চাই। জায়গা কম হলেও আমাদের জনসংখ্যা অনেক। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিনিয়োগকারীদের জমি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিরাট অভ্যন্তরীণ বাজারের কথাও তিনি তুলে ধরেন। লালমনিরহাটে এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আইন পাস হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এমপি, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Category: