Blog Archives

‘আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলুন’

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ক্লাস ওয়ানে ভর্তির জন্য ছাপানো প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটি বাতিল করতে হবে। যদি ছাপানো প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা দিতে পারে, তাহলে আর ক্লাস ওয়ানে শিখতে যাবে কী? স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্কুলে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে হবে। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাবে শিখতে, তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না। শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করে তুলে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের যথাযথ বিকাশের বদলে শিশু অবস্থাতেই তাদের পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গত ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি এটুকুই বলব, কোনোমতেই যেন কোমলমতি শিশুদের কোনো অতিরিক্ত চাপ না দেয়া হয়। তাহলেই দেখবেন তারা ভেতরে একটা আলাদা শক্তি পাবে। আর তাদের শিক্ষার ভিতটা শক্তভাবে তৈরি হবে।
কোমলমতি বয়সে লেখাপড়ার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ করাকে ‘এক ধরনের মানসিক অত্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুরা প্রথমে স্কুলে যাবে এবং হাসি খেলার মধ্য দিয়েই লেখাপড়া করবে। তারা তো আগে থেকেই পড়ে আসবে না, পড়ালেখা শিখতেই তো সে স্কুলে যাবে। শিশুদের পাঠদান সম্পর্কে নিজস্ব অভিব্যক্তি সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সাত বছরের আগে শিশুদের স্কুলে পাঠায় না। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক ছোটবেলা থেকেই বাচ্চারা স্কুলে যায়। কিন্তু তারা যেন হেসে খেলে মজা করতে করতে পড়াশোনাটাকে নিজের মতো করে করতে পারে সেই ব্যবস্থাটাই করা উচিত। সেখানে অনবরত ‘পড়’, ‘পড়’, ‘পড়’ বলাটা বা ধমক দেয়াটা বা আরও বেশি চাপ দিলে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহটা কমে যাবে, একটা ভীতির সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রতি সেই ভীতিটা যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি আমাদের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করব। অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতাটা শিশুদের মধ্যে না হলেও বাবা-মায়ের মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। এটাকেও আমি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে মনে করি। সকল শিক্ষার্থীর সমান মেধা থাকবে না এবং সকলেই সবকিছু একরকম করায়ত্ত করতে পারবে না। তবে, যার যেটি যেভাবে সহজাতভাবে আসবে তাকে সেটি গ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে, যেন শিক্ষাটাকে সে আপন করে নিয়ে শিখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাটা যেন আরও উন্নত এবং মানসম্মত হয় তার প্রতি দৃষ্টি রাখছে সরকার। সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৮-২৩ মেয়াদের জন্য ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ে সরকারের কোনো কার্পণ্য নেই উল্লেখ করে তিনি তার সরকারের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের কল্যাণমূলক কার্যক্রমও আলোচনায় তুলে আনেন। তিনি বলেন, শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু, ঝরেপড়া রোধকল্পে বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে স্কুলের পোশাকসহ সকল শিক্ষা উপকরণ প্রদান, শিক্ষা ভাতা ও ক্ষেত্র বিশেষে পরীক্ষার ফি প্রদান করাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজেদের ভাষায় শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্যও বই প্রদান ও হেয়ারিং এইড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার এজন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের জন্য এই মিনি স্টেডিয়াম ইউনিয়ন পর্যায়েও করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব স্টেডিয়ামগুলোতে সারা বছরই যেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলার আয়োজন থাকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিটি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় তার সরকার উদ্যোগ প্রহণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেই শিক্ষাকে আমরা সর্বজনীন ও বহুমুখী করে দিচ্ছি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এমপি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ বিতরণ করেন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকা-ের ওপর একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

Category:

অগ্নিদুর্ঘটনা : প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-51-16 PMউত্তরণ ডেস্ক: সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্নিনিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বনানীতে অগ্নিকা-েÑ হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে গত ১ এপ্রিল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ-কথা বলেন। এছাড়া মন্ত্রীদের আবারও হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। না হলে ছিটকে পড়বেন। কে কী করছেন সব খবর আছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যখন ভবন তৈরি করা হবে, তখন ফায়ার সার্ভিস একটি ক্লিয়ারেন্স দেয়, এ ক্লিয়ারেন্স যথেষ্ট নয় এর সঙ্গে পরিদর্শন করে এটা ‘ভায়াবল’ কি না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ফায়ার সেফটির বিষয়টি নিয়মিত ইন্সপেকশন (পরিদর্শন) করা। ফায়ার সার্ভিস যে অনুমোদনটা দেয়, এটা ইন্ডাস্ট্রির মতো প্রতি বছর একবার করে নবায়ন করা যায় কি নাÑ সেটা দেখা।
প্রধানমন্ত্রী বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ফ্রিকোয়েন্টলি এক থেকে তিন মাসের মধ্যে বা সুবিধামতো সময়ে অগ্নিমহড়া করা। যাতে সবাই সচেতন হয়। ধোঁয়ায় শ্বাসবন্ধ হয়ে অনেকে মারা যায়, ধোঁয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিছু বিকল্প ব্যবস্থা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে। ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আগুনে মৃত্যুর হার অনেকটা কমে যাবে। ধোঁয়া বন্ধ করার টেকনিক যেটা আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয় সেটা আমরা কীভাবে নিতে পারি তা দেখাতে হবে। তিনি বলেন, পানির অভাবে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে পারে না। পানির অভাবজনিত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ঢাকায় যে খাল, ডোবা, ঝিল ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে যেখানে সম্ভব জলাধার তৈরি করে পানির অভাব পূরণ করতে হবে। ভরাট হয়ে যাওয়া লেকগুলো সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ও গুলশান লেক এগুলো যাতে কেউ দখল করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। এখন ফায়ার সার্ভিসের সাকুল্যে ৩টি ল্যাডার আছে, যেগুলো ২৩ তলা পর্যন্ত যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও ল্যাডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
পরিবেশ ও বাস্তবতার দিকে চিন্তা করে যাতে স্থপতিরা প্ল্যানটা করেন। ঘর যেগুলো তৈরি করা হয় তা অনেকটা ম্যাচ বাক্সের মতো। এখানে কোনো দরজা-জানালা থাকে না, গ্লাস দিয়ে ব্লক, এসি করা। এবার এটা ভেঙে বেরোতে হয়েছে। এজন্য দরজা, জানালা বা বারান্দা থাক, তবে বের হওয়ার একটা সুযোগ যেন থাকে। ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা। শুধু হাইরাইজ নয়; প্রতিটি দালানে শতভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা, যাতে সবাই যেতে পারে।
অনেক স্থানে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিটগুলো সবসময় ওপেন থাকবে। এটা ইলেকট্রনিক সিস্টেম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করলে যখন ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেইল করবে বিদ্যুৎ থাকবে না তখন এটা চলবে না। এজন্য এটা যাতে ম্যানুয়ালি হ্যান্ডেল করা যায় এভাবে রাখতে হবে। তিনি বলেন, অনেক দেশে আছে তারপলিনে ঝুলে মানুষ নামতে পারে। এ সিস্টেমটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। শুধু ফায়ার সার্ভিস করবে তা নয়। তারপলিনে ঝুলে একসঙ্গে অনেক লোক উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। লাফ দিয়ে পড়ার কারণে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে, মারাও গেছে। তারপলিন থাকলে এটা করা লাগবে না। অনেক জায়গায় নেট সিস্টেম আছে। সেটা ধরে ধরে নামা যায়। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্কুলগুলো যেখানে লোক সমাগম বেশি হয়, ওখানে অবশ্যই বারান্দা বা খোলা জায়গা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর’ যারা করে তারা অনেক সময় এগুলো ব্লক করে দেয়, এটা যেন না করে। আগুন লাগার সময় অনেকে লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু সারাবিশ্বেই আগুন লাগার সময় লিফট ব্যবহার করা নিষেধ। এ জিনিসগুলো ট্রেনিং কিংবা সচেতনতার অভাব আছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেকটি ভবনে যেন কমপক্ষে একাধিক বের হওয়ার পথ থাকে। অনেক সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে মারা যায়। এটা যেন না হয়Ñ সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Category:

বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুতবর্ধনশীল ৫টির একটি হবে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-49-49 PMউত্তরণ ডেস্ক: চলতি অর্থবছরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী পাঁচ দেশের একটি হবে বাংলাদেশ, এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, এ বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতিতে মোটামুটি স্থিতিশীলতা থাকায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বিরাজমান থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর এ মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির চুম্বকাংশ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সদ্য নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট জে সাওম ও প্রতিবেদনটি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতির সার্বিক মূল্যায়নে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যদিও কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। এই উপাত্ত ব্যবহার করে প্রবৃদ্ধি হিসাব করা সত্ত্বেও সরকারের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড. জাহিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রবৃদ্ধিতে যেসব বিষয় ভূমিকা রাখেÑ ব্যক্তি খাত ও সরকারি বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, শিল্পোৎপাদন, ভোগের উপাত্ত অর্থনীতির তত্ত্বের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে তারা এ পরিমাণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন দিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, রপ্তানি, আমদানি, রাজস্ব আদায়, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি বিনিয়োগসহ অর্থনীতির সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে চলতি অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা ধারণা করছি। গত অর্থবছর ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পাওয়ার পর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যে প্রাক্কলন করেছে, তাতে অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি ৩ এপ্রিল তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা সরকারের প্রাক্কলন থেকে সামান্য কম হলেও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। এডিবি মনে করছে, রপ্তানি ও সরকারি বিনিয়োগে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ এবার ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

Category:

আগামীতে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-48-05 PMউত্তরণ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দেশে শান্তি ফিরিয়েছি, সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার লেগেছে। জনগণ উন্নয়ন চায়। শান্তি চায়। সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। আমরা দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। পরিকল্পিত কাজ করে আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করেছে। এজন্যই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয় এসেছে।
গত ৫ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে কোনো মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যাসহ নানা অপকর্মে সম্পৃক্ত ছিলÑ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। এখন শুনছি, বিএনপি থেকে চিৎকার করা হচ্ছে তাদের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। একটাও মিথ্যা মামলা হয়নি। যারা অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেনেড হামলা, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে অগণিত নেতাকর্মী হত্যাÑ এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা তো হবেই। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। এতিমের টাকা খেয়ে পার পেয়ে যেতে পারেন নি, তাদেরই পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া মামলায় তিনি জেলে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা। দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। এদের অপকর্মে দেশটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছিল। শান্তিতে চলাফেরা করতে পারত না মানুষ। চুরি-ডাকাতি বা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এমনকি মাদকের বিস্তার ছিল দেশে। আয়ের তুলনায় ব্যয় ছিল বেশি মানুষের। যে কারণে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তাদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হলে, দেশ লুট করে খাবেÑ এটা বুঝতে পেরেছে জনগণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের পরিচালনায় দেশে শান্তি ফিরেছে। মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। ক্রমবর্ধমান উন্নয়নশীল দেশের শীর্ষ পাঁচে থেকে আমরা কথা বলছি। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে এখন। প্রবৃদ্ধিতে অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছি। আগামীতে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে আমাদের। সেভাবেই আমরা দেশ পরিচালনা করছি।
আওয়ামী লীগ প্রধান বিএনপি-জামাত জোট সরকারের চরম দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপির আমলে আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনে বাড়িঘরে থাকতে পারেন নি নেতাকর্মীরা। এমনকি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের নগদ টাকাসহ অনেক সম্পদ লুট করে নিয়ে গিয়েছিল বিএনপি। আমাদের নামে হাজার হাজার মামলা দেয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে এমন একটা অবস্থা ছিল আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে পর্যন্ত যেতে পারতাম না। আমাদের দলীয় কার্যক্রমের কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু আমরা বিএনপির নামে কোনো মিথ্যা মামলা দিচ্ছি না। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা আমরা করিনি। এতিমের টাকা মেরে খেয়ে পার পেয়ে যেতে পারেন নি, তাদেরই লোকের দেয়া মামলায় তিনি এখন জেলে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ সালে আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। যেভাবে তারা জনগণকে নির্যাতন করেছে, বিদ্যালয়-সরকারি অফিস, বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দিয়েছে। শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই হলো বিএনপির অপকর্ম। এসব অপকর্মে যারা জড়িত ছিল, বিশেষ করে অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হবেই। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা, সেটা তার পছন্দের লোকদের হাতেই হয়েছে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তারা (বিএনপি) যে ব্যাপক দুর্নীতি করে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছে সেটা এখনও বোঝা যায়। এবারের নির্বাচনের সময়ও তাদের দুর্নীতির চিত্র দেখেছি। বিএনপি নির্বাচন করতে আসেনি। নির্বাচনকে তারা বাণিজ্যক্ষেত্র বানিয়েছিল। একেকটা আসনের পেছনে যে টাকা, তাদের যে নমিনেশন বাণিজ্য। ৩০০ আসনে ৬৯২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এক আসনে দুই থেকে চারজনকেও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সকালে একজন বিকেলে আরেকজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর যাদের নমিনেশন দিলে জিতত, তাদের না দিয়ে যারা মোটা অংকের টাকা দিয়েছে তাদেরই নমিনেশন দেয়া হয়েছে। টাকা খেয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রচারে আগ্রহ ছিল না তাদের। নির্বাচন উপলক্ষে বাণিজ্য করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির। নির্বাচনের আগে বিএনপির এসব কর্মকা- জনগণ মেনে নিতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে তাদের ন্যূনতম আগ্রহ দেখা যায়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে, কিন্তু তারা জিততে পারেনি। লন্ডন থেকে ওহি নাজিল হয়। তারা জানে যে, জনগণ তাদের (বিএনপি) ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। যে কারণে নির্বাচনের নামে বাণিজ্য করাকেই তারা মুখ্য বলে মনে করেছিল, সেটা তারা করে গেছে। জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা আবার সরকার গঠন করেছি। আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে উন্নয়নের ছোঁয়া সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল। সেটা আমরা করে যাচ্ছি। তবে একটা কথা বলব, দেশ এখন দ্রুত উন্নতি করছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছি। কিন্তু একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের উন্নয়ন চায়নি। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা আগেও চক্রান্ত করেছে। এখনও তারা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন জরিপ বলেছিল, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসছে। আমাদেরও বিশ্বাস ছিল জনগণ আমাদের বারবার চায়। সে বিশ্বাস আমরা বাস্তবে দেখেছি। আর নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ২০০৮-এর নির্বাচনেও কোনো প্রশ্ন ছিল না। এছাড়া জনগণের সেবা করতেই আমরা নির্বাচন করি। মনোনয়ন বাণ্যিজের কারণেই বিএনপি নির্বাচনে জিততে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লন্ডন থেকে ওহি আসে, আর সে হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন বিপুল টাকার বিনিময়ে। এভাবে ক্ষমতায় আসা যায় না, চোর হওয়া যায়।
সেলফি না তুলে কয়েক বালতি পানি আনলেই হয় : সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আগুনের সময় উৎসুক জনতার ভিড়ের সমালোচনা করে খামাখা কিছু লোক অহেতুক ভিড় করে। এদের কারণে ফায়ার সার্ভিস ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এরা দাঁড়িয়ে থেকে সেলফি তোলে। এখানে সেলফি তোলার কী আছে বুঝলাম না। সেলফি না তুলে তারা কয়েক বালতি পানি আনলেই পারে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। বেশ কিছু লোক হতাহত হয়েছেন। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। কিছুদিন পরপরই আগুন। যদিও ছোটবেলা থেকে আমরা জানি চৈত্র-বৈশাখ মাসে আগুন লাগার প্রবণতা বেশি। তবে একটা কথা বলব, উত্তেজিত লোক ফায়ার সার্ভিসের একটা গাড়িও ভেঙে দিয়েছে। একটি গাড়ি কিনতে ৯-১০ কোটি টাকা খরচ পড়ে। ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হচ্ছে কেন সেজন্য ফায়ার সার্ভিসের লোকদের মারছে। সেটা না করে এক বালতি পানি এনে নেভানোর চেষ্টা করত তাহলে ভালো কাজ হতো।
শেখ হাসিনা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের আহত একটা অল্প বয়সী ছেলে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। অকারণে সেখানে ভিড় করে। ফায়ার সার্ভিস যেতে পারে না। ছবি তোলে, সেলফি তোলে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করুক, উদ্ধার কাজ করুক। তা না করে সেলফি তোলে। আমি অবাক হয়ে যাই। এ ধরনের ঘটনায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটা না। পরে আমি আইজিপি’কে বললাম, সবাইকে যেন আহ্বান করা হয় তারা রাস্তা থেকে যেন লোকজনকে সরিয়ে দেয়। পরে তারা সেটা করেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় মিডিয়ারও ভূমিকা আছে। মিডিয়া যখন সরাসরি সম্প্রচার করে তখন মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। ভিড় বাড়ে। এ কারণে মিডিয়াকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। আরেকটা সমস্যা হলো পানির সমস্যা। যদিও ওয়াসার পানি আছে, কোনো সমস্যা হলে ওয়াসার পানি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এই যে গুলশান লেক। এটি এখন যেমন আছে, এক সময় দ্বিগুণ ছিল। একেকজন ক্ষমতায় আসে, জিয়া ক্ষমতায় এলো গুলশান লেক অর্ধেক দখল করে প্লট বানিয়ে দিয়েছে। এরশাদ এসেছে প্লট বানিয়েছে। খালেদা জিয়া এসে প্লট বানিয়েছে। এভাবে বানাতে বানাতে লেকের অর্ধেক এখন আছে। আর বনানী লেকটা তো বন্ধই। এছাড়া ঢাকায় অনেক পুকুর ছিল, সেগুলো এখন নেই। এভাবে জলাধারগুলো একে একে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্তত যারা বাড়ি করছেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে প্রত্যেকটা জায়গায় অন্তত একটা করে জলাধার যেন থাকে।
তিনি বলেন, দালানগুলো এমনভাবে বানানো হয় যে তার ফায়ার এক্সিট, ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশন করতে গিয়ে ফায়ার এক্সিট বন্ধ। সেখান দিয়ে কারও ওঠার উপায় নেই, নামারও উপায় নেই। মার্কেটগুলো ফায়ার এক্সিটে মাল রাখার জন্য বা স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আগুন লাগলে ফায়ার ব্রিগেট আগুন নেভাবে। কিন্তু আগুন যাতে না লাগে যারা দালানগুলো বানায়, যারা বসবাস করে, যারা ব্যবহার করে তাদেরও দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটাই পালন করা হয় না। আর সবকিছু হলে দোষ হলো সরকারের। আমরা বারবার বলি, যখন ডিজাইন দেয়া হয় তখনও বলি। কিন্তু অনেকেই তা মানে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি আনাচে-কানাচে পৌঁছে যায়, আমরা সেই কাজগুলো করে যাচ্ছি। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, এগুলো শেষ হলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। হতদরিদ্র বলে কেউ থাকবে না, তৃণমূলের মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এখন কেউ চাইলে কিন্তু অর্থ উপার্জন করতে পারে, চাইলে কাজ করতে পারছে লোকজন।
সভাপতি আরও বলেন, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। মানুষ যেহেতু বিশ্বাস রেখেছে, সেই বিশ্বাস রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। ২০৭১ সালে আমরা হয় তো থাকব না, যারা থাকবে, উন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে তারা স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে।
আমেরিকার রেড অ্যালার্টের সমালোচনা : আমেরিকার সিকিউরিটি অ্যালার্টের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ দেখলাম আমেরিকা একটা সিকিউরিটি অ্যালার্ট দিয়েছে। কী কারণে তারা অ্যালার্টটা দিল তারা সেটা কিন্তু আমাদের কাছে বলেওনি, ব্যাখ্যাও দেয়নি। যদিও আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি গোয়েন্দাদের যে, কী কারণে অ্যালার্ট দিয়েছে তাদের কাছে কোনো তথ্য আছে কি না। যদি কোনো তথ্য থাকে, কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তাদের (আমেরিকা) একটা দায়িত্ব আছে আমাদের অন্তত সেই বিষয়টা জানানো। কিংবা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানানো, যেন আমরা তা মোকাবেলা করার ব্যবস্থা নিতে পারি। তিনি বলেন, হঠাৎ আগুন লেগেছে, আগুন তো সব দেশেই লাগে। ওই আমেরিকাতেও একটা সার কারখানা থেকে শুরু করে হাসপাতাল সবই পুড়ে শেষ। কতজন মারা গেছে সেই খবর কেউ জানেও না। এ-রকম বহু ঘটনা ঘটেছে। লন্ডনে আগুন লেগে ৭০ জন মারা গেল। আরও যে কত লোক মারা গেছে সেটার হিসাবও নেই। সেখানে হিসাবও হয় না। উদ্ধার কাজও আমাদের মতো এতদিন কেউ চালায় না। তাই এই অ্যালার্টটা কেন দিল সেটা আমাদের জানার বিষয়। কী কারণে দিল? যদি আগামীতে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে তবে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের জানানো। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস একটা সমস্যা। এই সন্ত্রাস শুধু আমাদের দেশে না, সারাবিশ্বের সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশ অন্তত সফলতার সঙ্গে এই জঙ্গিবাদ দমন করতে পেরেছে। আমাদের ইন্টেলিজেন্স সব সময় সজাগ। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা সবসময় সতর্ক এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। আর এখন যদি তাদের (আমেরিকা) কাছে কোনো তথ্য থাকে, তবে তাদের কর্তব্য আমাদের জানানো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি। বৈঠকে আলোচনা করে আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ইকরামুল হক টিটুকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়। দীর্ঘ বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ছাড়াও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে আট বিভাগের জন্য ৮টি শক্তিশালী সাংগঠনিক টিমের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

Category:

একাত্তরে আমার ক’দিন

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-45-18 PMবিষ্ণু বিশ্বাস: আমি তখন ক্লাস ফোরে উঠেছি। ১৯৭১। মার্চ মাস। একদিন সকালবেলা রান্নাঘর থেকে খেয়ে উঠোনে এসেছি। রেডিওতে কে যেন কথা বলছে! কণ্ঠের সে কি আওয়াজ, আমার গায়ের রোম শিউরে উঠেছে, আমি পা ফেলে আর নড়তে পারি না। কথা বলা শেষ হলে দাদু বললো, শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ, রেডিও তার রেকর্ড বাজিয়েছে। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকে খানসেনাদের সাথে বাঙালির যুদ্ধ হবে বলাবলি ছেয়ে যেতে থাকে। ঝিনেদার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিষয়খালী আসতে থাকেন এ-বেলা ও-বেলা। বিষয়খালী বাজারের পাশে আমাদের বাড়ি খড়িখালীতে। নদী আছে একটি তার এপারে। ওপারে ইপিআর-রা বাংকার খুঁড়তে শুরু করেছে। ব্রিজের এপারের মুখে স্থানীয়রা খাদ কাটছে। ব্রিজের মুখের পাশে হাজার বছর বয়সের কড়–ই গাছÑ তার একটা বিশাল ডাল কেটে খাদের ঠিক সামনে রাস্তার উপরে আড়াআড়ি করে রাখা হয়েছেÑ খানসেনারা যাতে কোনোভাবেই ব্রিজ পেরিয়ে ঝিনেদা, কুষ্টিয়া, উত্তরবঙ্গ এবং ঢাকায় যেতে না পারে। স্কুল বন্ধ। রোড দিয়ে গাড়ি চলাচল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র ঝিনেদা থেকে নেতা-কর্মীদের জিপ-ট্রাক বিষয়খালী বাজার পর্যন্ত আসে। যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ কী রকম জানা নেইÑ অল্প বয়েস। আমরা অল্প বয়েসীরা এটাকে উৎসবের মতো দেখেছি। সকালে খেয়েই বাজারে চলে আসি। আম দেবদারু বনে বাংকার খোঁড়া হয়েছেÑ তাতে নামি উঠি, রাইফেল কী রকম তা দেখি। ব্রিজের দক্ষিণ দিকে রাস্তার উপরে গাছ কেটে রাখা হচ্ছে তা দেখে বেড়াই।
এপ্রিলের কাছাকাছি। আমের গুটি বড় হয়েছে, খেয়ে বেড়াচ্ছি আর লোকজন যা বলাবলি করছে তা শুনছি। ঢাকায় খানসেনারা রাতে গুলি চালিয়ে লোক মেরে ফেলেছে তা শুনেছি। ভয় এসেছে। আমরা রাত জেগে বারান্দায় বসে থাকিÑ কখন খানসেনারা যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এদিকে মারতে মারতে আসেÑ বাড়ির বড়রা আর পাড়ার বড়রা ভয় পেয়ে গেছেÑ বুঝেছি।
ঢাকায় খানসেনারা জনগণকে গুলি করে মারবার পরে দেশের শহরবাসীরা গ্রামে যেতে শুরু করে। এই সময় খুলনা যশোরের লোকেরা পায়ে হেঁটে রাস্তার পাশে গ্রামের পাড়ার ভিতর দিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে থাকে। আমাদের পাড়ার ভিতর দিয়ে আমাদের ছোট গাঙ পেরিয়ে লোকেদের যাওয়া আর ফুরোয় না। যেতে যেতে তারা বলতো যুদ্ধ এসেছে, জল খেতে চাইতো। আমরা ছোটরা কুয়ো থেকে বালতিতে জল তুলে জগে করে নিয়ে গিয়ে তাদের জল খাইয়েছি। মাঠে তখন পাকা গম আর পাকা ছোলা; ঘরে তুলে আনতে কিছু বাকি। সকালে খাওয়ার পরে আমি মামার সাথে ছোলা তুলতে গেছি। ছোলা তুলছি ছোলা তুলছিÑ এমন সময় খট খট, খট খট খট আওয়াজ আসছে কয়ারগাছির দিক থেকেÑ কয়ারগাছি বিষয়খালী থেকে দেড় মাইল দূরে দক্ষিণ দিকে। প্রথমবার আওয়াজের পরে আমি ভাবছি কাঠঠোকরা পাখি বুঝি গাছ ঠোকরাচ্ছে। দ্বিতীয়বার আওয়াজ হলে মামা বললো, মেশিনগানের গুলির শব্দ! খানেরা মারতে মারতে আসছেÑ চল্, বাড়ি চল্ তাড়াতাড়ি।
মাঠ থেকে বাড়ির দূরত্ব অল্প। এক দৌড়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বাড়ির এবং পাড়ার সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়ে গিয়েছে। বাজার থেকে পাড়ার নেতৃত্বস্থানীয়রা দৌড়ে পাড়ায় এসে ঢুকেছে। তারা বললোÑ খানসেনারা রাস্তার দু-পাশের গ্রামের ওপর গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে, তাতে মরছে, পুড়ছেÑ এসব হচ্ছে, এখনই দূরের গ্রামের দিকে চলে যেতে হবেÑ বলে কয়েকজন শিশুকে কোলে কাঁধে তুলে নিয়ে তারা দৌড়াতে শুরু করলো। আমরা সবাই তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলাম। সাগরকলা বাগানের ভিতর দিয়ে গাঙ পার হয়ে আমরা আমাদের পুবের দিকের গ্রাম গড়েলা পৌঁছালাম।
এখানটি কতখানি নিরাপদ তা নিয়ে এখানকার লোকের সাথে আমাদের লোকের আলোচনা হলো। আমাদের লোকেরা আরও দূরের গ্রামে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো। সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা বড় মাঠের ভিতর দিয়ে আরও দূরের গ্রামে যেতে থাকলাম। আরও লোক আমাদের পিছে পিছে আসছে তা দেখলাম। পিছনে রাস্তার দিকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ। বাড়িঘরে আগুন লেগেছে, ধোঁয়া আকাশে উঠছে চোখে পড়ছে। আমাদের কুকুরটা আমাদের সঙ্গ নিয়েছে। আরও অনেক কুকুর লোকের সঙ্গ নিয়েছে চোখে পড়ছে।
প্রায় বারোটার দিকে আমরা তেঁতুলবেড়ে গ্রামে পৌঁছালাম। ওখানে শুনলাম, খানসেনারা গুলি চালাতে চালাতে বিষয়খালী ব্রিজের কাছাকাছি এসেছেÑ ইপিআররা ওদের বিরুদ্ধে পাল্টা গুলি ছুড়ছেÑ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমরা কিছুক্ষণ বসলাম ওখানে। জল খেলাম। একটা গুলি এসে কার গায়ে বিঁধেছে খবর রটলো। এ গ্রামের লোকেরা এখানে নিরাপদ বোধ করছে নাÑ তা বললো আমাদেরকে। তারা আমাদের আরও পুবের দিকের গ্রামের দিকে যেতে বললো।
আমরা আরও পুবের দিকের গ্রামে যেতে থাকলাম। আমরা পুবের দিকের আরও এক গ্রাম পেরিয়ে পরের গ্রামে গিয়ে উঠলাম। গ্রামটির নাম নারাণপুর। এখানে কুঠিবাড়ি। আমরা কুঠিবাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বাড়ির উঠোন পেরোলে দক্ষিণের দিকে পুকুর। আমরা পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ায় গিয়ে বসলাম। সবুজ দূর্বা ঘাসে ছাওয়া পুকুর পাড়টি। দুপুর পেরিয়ে গেছে। এই প্রথম দুপুরের ওয়াক্তে খাওয়া নেই। যুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। আমাদের ঘরবাড়িতে আগুন লেগে পুড়ে গেছেÑ সে খবর এসেছে। আমার জামা-প্যান্ট, বইপত্র, বইয়ের পৃষ্ঠার ভাঁজে যতেœ রাখা একটি পাঁচ টাকার নোট পুড়ে গেছে বুঝে দুঃখে ভরে গেছে আমার হৃদয়।
বেলা প্রায় চারটের দিকে পুকুর পাড়ের দিকে গুলি আসতে লাগলো। দাদু পুকুর পাড়ের ঢালুতে তাড়াতাড়ি উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তে বললো। আমরা তাই করলাম। গুলি আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যেতে থাকলো। ভয়ে মাটিতে শরীর মিশিয়ে দিয়ে চোখ বুজে শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর গুলি যাওয়া বন্ধ হয়েছে, চোখ খুলে পশ্চিমের মাঠের দিকে তাকিয়েছি, দেখি মাঠের পাশে কিছু বাড়িÑ তাতে আগুন লেগেছে। খানসেনাদের কিছু এ পর্যন্ত এসেছে। দেখলাম মাঠের ভিতরে সামনাসামনি বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। তাতে একজন মরলো বলে মনে হচ্ছে। আমি অবাক হয়ে যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে থেকেছি। ছ’টার দিকে যুদ্ধ শেষ হলো। আমরা উঠে দাঁড়ালাম। হতাহতের খবর আসতে শুরু করেছে। ব্রিজ উড়িয়ে দেবার কথা আগেই শোনা গিয়েছিল। খানসেনারা ব্রিজ পেরিয়ে আর সামনের দিকে যেতেই পারেনি। তাদের সরাসরি রুখে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। আমাদের পরিচিত কয়েকজনের মৃত্যু সংবাদ এসেছে। খানসেনারা না-কি অনেক মরেছে। তারা তাদের লাশ তুলে নিয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে ফেরত গেছেÑ তারা হেরে গেছে।
সন্ধ্যায় আমাদের খিচুড়ি ভাত খেতে দেয়া হলো। আমরা খেলাম। তারপর শুয়ে পড়লাম। কুঠিবাড়িতে রাত কাটিয়ে আমরা ভোরে উঠে কুলাবাজারের কাছে আমাদের আত্মীয় বাড়ি গ্রাম খালকুলো গেলাম। সেখানে পনেরো দিন মতো ছিলাম। আত্মীয়রা পালা করে আজ এ-বাড়ি কাল ও-বাড়ি করে খাওয়ালোÑ শুতে দিলো।
যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। দেশ স্বাধীন হতে অনেক দিন লাগবেÑ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের গ্রামে গিয়ে বাড়ি তুলতে পারবো নাÑ বড়রা বলাবলি করে শরণার্থী হয়ে ইন্ডিয়া যেতে মন স্থির করলো। যে পনেরো দিন ওই গ্রামে থাকা হলো, ওই গ্রামের আমার বয়েসী ছেলে-মেয়েদের সাথে দাড়িপাল্লা নামের আমবাগানে কাঁচামিঠে আম খেয়ে বেড়ানো, বৈচী ফল খাওয়া, মৌচাক ভাঙার পদ্ধতি শিখে ক্ষুদে মৌমাছির চাক ভেঙে মধু খাওয়া ইত্যাদির মধুর স্মৃতি ঘটলোÑ যাবার আগে কান্নায় চোখ ভাঙলো।
পশ্চিম বাংলা যাবার পথে আমরা আমাদের গ্রাম হয়ে গেলাম। আমাদের পাড়ায় ঢুকে দেখলামÑ আমাদের ঘরবাড়ির কোনো চিহ্ন নাই। পাড়ায় যে দুটি বাড়ি টিকে আছে তার একটিতে আমরা খেলাম। এই বাড়িতে একটি ঝুট শালিক খাঁচায় পোষা। সে দুপুরেÑ স্নান করতে যাবি তো চল্, চল্Ñ বলেÑ আমাদের বললো। আমরা স্নান না করে ভয়ে ভয়ে কোনো রকমে খেয়ে রাস্তা পার হয়ে পশ্চিমের গ্রামের দিকে যেতে থাকলাম। যারা থাকলোÑ তারা খুব ভয়ে ভয়ে আছেÑ স্নান রান্না খাওয়া- দাওয়াÑ সব লুকিয়ে লুকিয়ে করছে। আবার খানসেনারা আসবার আগেই তারাও ইন্ডিয়া যাবেÑ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সৌজন্য : যুক্ত
মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য ছিলাম। মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার বাঘমারা থানার সীমান্তবর্তী মালিকোনা নামক স্থানে বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ইয়থ ক্যাম্প ছিল। আমি ঐ ক্যাম্পের দায়িত্ব পালনকালে সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের সাথে আমার যোগাযোগ হয় এবং গেরিলা বাহিনীর ইয়থগণ যখন ক্যাম্পে না থাকে তখন ঐ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সীমান্তে আমি কাজ করি। ফলে স্থানীয় বিএসএফ-র অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মুরারীর সাথেও আমার পরিচয় হয়। ক্যাপ্টেন মুরারী একজন বাঙালি-প্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি খুবই দরদি এবং রসিক মানুষ ছিলেন। মাঝে মধ্যে কথাবার্তা হলে আমাদের উৎসাহ দিতেন, সাহস দিতেন। নানারকম কথাবার্তা বলে হাস্যরস করতেন। ফলে তিনি ছিলেন সবার কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব।
বাঘমারা সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে পাকবাহিনীর রানীখং নামক স্থানে ক্যাম্প ছিল। প্রায়ই পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করত এবং বিএসএফ বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিউত্তর দিয়ে পাকবাহিনীকে জবাব দিত। এসব ঘটনার সময় ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাথী বাঙালি জাতির বন্ধু ক্যাপ্টেন মুরারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং মনোবল জোগাতেন।
তখন সন্ধ্যার পর হতে ভোর পর্যন্ত সমস্ত বাঘমারা এলাকায় কারফিউ জারি থাকত। বাঘমারা সীমান্তের অদূরে পাহাড়ের ওপর বিএসএফ ক্যাম্প ছিল। ক্যাপ্টেন মুরারী ঐ ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন এবং তিনি সেখানে থাকতেন।
যে পাহাড়ে বিএসএফ ক্যাম্প ঐ পাহাড়েই ওঠার পথে নিচে গাছ দিয়ে বেরিকেড দেওয়া হতো এবং নিচে পালাক্রমে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। একদিন রাত ৮-৯টার সময় ক্যাপ্টেন মুরারী জিপ নিয়ে পাহাড়ে ওঠার সময় ঐ বেরিকেডের কাছে এসে গাড়ি থামিয়ে হর্ন বাজান।
তখন কর্তব্যরত বীর মুক্তিযোদ্ধা চিৎকার দিয়ে বলেন, কেলা গো? ক্যাপ্টেন মুরারী গাড়ি থেকে নামলে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাকে স্যালুট করেন। মুরারী সাহেব গাড়িতে উঠলে বেরিকেড উপরে উঠালে গাড়ি পাহাড়ের ওপর চলে যায়।
পরদিন সকালে আমি আমাদের ইয়থ ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তখন ক্যাপ্টেন মুরারী মর্নিংওয়াক করে ফিরছিলেন। তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনÑ
ব্যাটা বাতাওতো কেলা গো কিয়া হে। আমি প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তখন ক্যাপ্টেন সাহেব ঘটনাটি বর্ণনা করলে আমি বুঝতে পারি এবং বলি যে, স্যার ও লোক আপকে পূছা হে-আপ কোন হু? এই কথা শুনে ক্যাপ্টেন সাহেব হাসতে হাসতে আমার পিট চাপড়ালেন এবং বললেন এঁহিবাতÑ আচ্ছা হ্যায় আচ্ছে হ্যায়। আমি উনাকে স্যালুট করলাম, তিনি চলে গেলেন।
ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নেত্রকোনা বা কিশোরগঞ্জ মহকুমায় ছিল। এরপর ঘটনাটি মুখে মুখে প্রচার হলে ঐ মুক্তিযোদ্ধার নাম পড়ে যায় ‘কেলা গো’।
আজ অনেক বছর পরে একটি স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার চেহারা হৃদয়পটে ভাসছে; কিন্তু কেলা গো ছাড়া তার আসল নাম কোনোভাবেই মনে করতে পারছি না। জয়তু বীর মুক্তিযোদ্ধা।

Category:

কবিতা

Posted on by 0 comment

32(C) copy

Category:

সারাদেশে উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-39-28 PMআনিস আহামেদ: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঠিক ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদযাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেন উদযাপিত হয় তারই উদ্যোগ আমরা নেব। মানুষ যেন সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয় এবং বাংলাদেশকে যেন আমরা সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারি। আমাদের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
গত ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম যৌথসভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে; আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। আসলে সত্যকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনও না কখনও উদ্ভাসিত হবেই, আর তার স্থানটা সে করে নেবে। আজকে আমরা সেটার প্রমাণ পাচ্ছি।
সরকার জাতির মহান এই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, ২০ মার্চ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা, থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসটা আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করব। উদযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কী করণীয়? আমাদের সমাজের বিশিষ্টজন যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং আমরা একটি ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছি। হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম আমাদের এই কমিটিতে থাকা দরকার, সেখানে থাকলে আমরা তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করব।
তিনি বলেন, এছাড়া ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আলাদা একটি কমিটি করে দিয়েছি। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাজ করবে। এছাড়া ভাগে ভাগে যে কমিটি করা প্রয়োজন সে-ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ নেব। কারণ, এটা আমরা জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য করেছি। এক্ষেত্রে আপনাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের একটা আলাদা কমিটি করেছি। দলের পক্ষ থেকেও আমরা কী কী করব, তা ঠিক করা হবে।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এদেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন আমাদের জাতির পিতা। সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার (বঙ্গবন্ধু) জন্মশতবার্ষিকী আমরা ভালোভাবে উদযাপন করব। আমাদের হাতেও সময় খুব বেশি নেই। কারণ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য আমাদের বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নেই। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেন নি। এসব তাকে ব্যথিত করেছে। জাতির পিতা আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, এটা কাদের জন্য? এদেশের মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।
যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

Category:

ক্রাইস্টচার্চে নৃশংসতা রুখে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডবাসী ‘উই আর ওয়ান’

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-36-30 PMসাইদ আহমেদ বাবু: নিউজিল্যান্ড শান্তির দেশ হিসেবে পরিচিত। এলাকাটি ছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বহু দেশ থেকে অভিবাসী এসে মিশ্র জনগোষ্ঠীরই দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। লোকসংখ্যা মাত্র ৫০ লাখ। নিউজিল্যান্ড কুক প্রণালি দ্বারা দ্বিধাবিভক্ত। প্রণালির পূর্বপ্রান্তের দক্ষিণ পাশে ক্রাইস্টচার্চ শহর আর উত্তর প্রান্তে ওয়েলিংটন শহর। ক্রাইস্টচার্চ শহরে ১৮৫০ সালে এসে প্রথম মুসলমানরা বসতি স্থাপন শুরু করে। এই ক্রাইস্টচার্চ শহরে মুসলমানরা দুটি মসজিদ গড়ে তোলেনÑ আল নুর ও লিনউড। ২০১৮ সালে বিশ্বের মধ্যে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের তালিকায় নিউজিল্যান্ড ছিল দুই নম্বরে। বিশ্বের অনেক দেশেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও নিউজিল্যান্ড ছিল ব্যতিক্রম। নিউজিল্যান্ডকে বরাবরই একটি ‘শান্তির দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ৯/১১-এর ঘটনাবলির পর বিশ্বের অনেক দেশেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও নিউজিল্যান্ড ছিল ব্যতিক্রম। এতদিন দেশটার মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছিল। কিন্তু এই শান্তির দেশটিও এখন অশান্ত হয়ে উঠেছে? গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালায় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী। হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হন। নিউজিল্যান্ডের মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হিসেবেই বেশি পরিচিত। অথচ সেই দেশেই শুক্রবার (১৫ মার্চ) মসজিদের ভেতর ঘটে গেল নারকীয় হামলা। হত্যাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং হামলার শিকার হতাহত ব্যক্তিরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা। যাদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর, জর্ডান এবং সোমালিয়া আছে। ২০১৩ সালের আদমশুমারি অনুসারে নিউজিল্যান্ডে মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ৪৬ হাজার, ওই হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তবে প্রাণ হারান ৫ বাংলাদেশি। ১৯৪৩ সালের পর নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের নারকীয় হামলা এই প্রথম। এই হত্যাকা- কেবল নিউজিল্যান্ডকে ভারাক্রান্ত করেনি, বিশ্বজুড়ে মানুষকে আলোড়িত করেছে। নিউজিল্যান্ডবাসীসহ গোটা বিশ্বের মানুষ এ বর্বর হত্যাকা-ে বিস্মিত, হতবাক। ঘাতক-সন্ত্রাসী টারান্ট এই হত্যাকা-ের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছে। সে এর আগে ৭৪ পৃষ্ঠাব্যাপী একটি বিবৃতিও প্রচার করেছে। হত্যাকা-টি যে সুপরিকল্পিত ও চরম হিংসাত্মক, সে-বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। দেখা গেছে, আহতদের অনেকের ওপর বারবার গুলি চালিয়ে সে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তাকে আটক করে পুলিশ।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিবৃতি প্রদানের জন্য হাজির হলেন, তখন শুধু নিউজিল্যান্ডই তার বক্তব্য শুনতে উদগ্রীব ছিল, তা নয়। সারাবিশ্বের মনোযোগ ছিল সেদিকে। এই সংকটকালে সমগ্র দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন তিনি। অতি দ্রুত এবং স্পষ্টভাবে এই বন্দুক হামলাকে তিনি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেন। ঐক্য সংহতি ও পরস্পরের জন্য সহমর্মিতাই পারে একটি বহুজাতিক সমাজে সহিংস উগ্রবাদের বিস্তার রোধ করতে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন ১৫ মার্চের চরম বিদ্বেষমূলক অন্যায় আক্রমণের পর, মুসলমানরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামি উগ্রপন্থিদের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিশোধ নিতে পারে। সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্র্ন মুসলমানদের সান্ত¦না প্রদানের জন্য বিরল সংহতি প্রকাশ করলেন। এদেশটির জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী একযোগে মুসলমানদের পাশে এসে দাঁড়ান। দেশের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা মসজিদ দুটোর কাছে গেলেন এবং হতাহত লোকদের ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মুসলিমদের পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে সান্ত¦না ও সমবেদনা জানান তিনি। সে-সময় মাথায় কালো রং এর স্কার্ফ পরেন তিনি, যা তাদের প্রতি শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে। তাদের অভয় দেন। তিনি অকণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, হামলার ঘটনাটি আমাদের ইতিহাসের কালো অধ্যায় তাই সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা রয়েল কমিশনই এর তদন্ত করবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। হামলাটি প্রতিরোধে কী করা উচিত ছিল, তাও খাতিয়ে দেখবে রয়েল কমিশন। আমরা সকলে মিলে এই আক্রমণকারীকে প্রতিহত করব। ক্রাইস্টচার্চে নৃশংস হত্যাকা-ের প্রেক্ষিতে সংসদের বিশেষ সভায় গত ১৯ মার্চ নিউজিল্যান্ডে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হয়েছিল একজন মাওলানার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে যা এই প্রথম। অধিবেশনের শুরুতে কিউই পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে আমি ইমাম নিজাম উল হক থানভিকে সংসদে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আরবিতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করবেন এবং তাহির নেওয়াজ সেটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে শোনাবে। কোরআন তেলাওয়াতের পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন  ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে পার্লামেন্টে তার বক্তব্য শুরু করেন। ক্রাইস্টচার্চ সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় বন্দুকধারীর নাম উচ্চারণ না করার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সে একজন সন্ত্রাসী। সে একজন চরমপন্থি। এ হামলাকারীকে ‘আইনের সর্বোচ্চ সাজা’ ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তার এই সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পক্ষে সে অনেক কিছু ভাবতে পারে। কিন্তু সে কুখ্যাতি ছাড়া আর কিছুই পায়নি। তিনি সন্ত্রাসকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন মুসলমানেরা সাধারণ এই প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ ভূমিকায় সাহস ফিরে পাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা মসজিদে মুসল্লিরা যাতে শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারে তা নিশ্চিতে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। গোটা দেশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দেশের বন্দুকনীতি কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সামাজিক মাধ্যমে যে ঘৃণা ছড়ানো হয় তা প্রতিহত করা হবে। নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা এটা আবার সামনে নিয়ে আসে যে সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গত ১৫ মার্চের হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৪০ জনের বেশি মুসল্লি আহত হন। হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানাতে ২২ মার্চ এক সপ্তাহ পূরণ হলে দেশটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয়। ক্রাইস্টচার্চের সামনে আল নূর মসজিদের সামনে হেগলি পার্কে স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে। শোক পালনে হ্যাগলি পার্কে দেখা গেছে অভূতপূর্ব সব দৃশ্য। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। সেদিন জুমার নামাজের আগে ওই সংকটকালে পুরো দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মানসে স্মরণসভায় সমবেত নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উই আর ওয়ান’ আমরা সবাই এক, নিউজিল্যান্ডের সবাই আপনাদের সঙ্গে ব্যথিত। জাসিন্ডা আরডের্ন আরও বলেন, ‘মোহাম্মদ (স.) বলেছেন পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতি দিয়ে একটি শরীরের মতো থাকবেন। যখন শরীরের কোনো অঙ্গে ব্যথা হয় তখন পুরো শরীরের ব্যথা হয়।’
এ-বিষয়ে জাসিন্ডা বলেছেন, অপ্রত্যাশিত সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পুরো দেশে বেদনা ও ভালোবাসায় ভরে গেছে। স্মরণসভা আয়োজন করার মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা আরেকবার দেখাতে চায়, তারা সহানুভূতিশীল, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে চায়, এখানকার সমাজ বৈচিত্র্যময়। আর আমরা সেই মূল্যবোধকে সুরক্ষিত রাখব। হাজার হাজার মানুষ বাইরে বেরিয়ে এসে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেছেন। নিউজিল্যান্ডের জাতীয় টিভি ও রেডিওতে জুমার নামাজের আজান প্রচার করা হয়। ঐদিন পুরো নিউজিল্যান্ডই মুসলমান সম্প্রদায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, অমুসলিম নারীরাও মাথায় কাপড় দিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন : শুধু মুসলিমরা নন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নানা জাতি-ধর্মের মানুষের ঢল নেমেছিল সেখানে। এ-সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গায়ে ছিল মুসলিম রীতির পোশাক, মাথায় ছিল হিজাবের মতো ওড়না দেওয়া। হিজাব পরে আরডের্ন এবং তার দেশের নারীরা বার্তা দেন মুসলিম নারীদের। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’Ñ সেই চিরায়ত উচ্চারণ দীপ্তকণ্ঠে ফিরে আসে আরডের্নের মুখে। জুমার নামাজের পর মুসলমানদের সঙ্গে গণপ্রার্থনায় অংশগ্রহণ করে আক্রান্ত মুসলিম সম্প্রদায়কে অভয় দিলেন, আল নূর মসজিদে হাজার হাজার মানুষের সামনে ইমাম জামাল ফাওদা যে বক্তৃতা দেন, সেটি আলোড়িত করেছে সব মানুষকে।
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি। এতে আরও লাখ লাখ মানুষের হৃদয় ভরে গেছে, যারা আমাদের সঙ্গে এখানে শারীরিকভাবে নেই; কিন্তু তাদের আত্মা আমাদের সাথেই আছে।
সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে; কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না।
এই হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে বলছি আপনাদের স্বজনের মৃত্যু বৃথা যায়নি। আপনাদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ঐক্য ও শক্তি জোরদার হয়েছে। কিন্তু আপনাদের চলে যাওয়াটা যেন নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্ব মানবতার জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল।
ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ হন্তারক। মুসলমানেরা আগেও এর শিকার হয়েছে। কানাডা, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষ খুবই বাস্তব। এ মতাদর্শ মানুষের মানবতা ভুলে অযৌক্তিকভাবে মুসলমানদের সম্পর্কে ভীতি ছড়ায়। আমরা নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাই হেটস্পিচ বা হিংসাত্মক বক্তৃতা ও ভয়ের রাজনীতির ইতি টানার জন্য যেন উদ্যোগ নেওয়া হয়। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের উত্থান এবং ডানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীলতা বিশ্ব মানবতার জন্য বিরাট এক হুমকি এবং এর অবসান এক্ষুণি হতে হবে। ইমাম তার বক্তব্যে ১৫ মার্চের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি নিউজিল্যান্ডের মুসলমান ও অমুসলমানদের ভালোবাসা এবং চোখের জলের জন্য ধন্যবাদ জানান। নিউজিল্যান্ডের মানুষ মুসলমানদের সাথে সংহতি জানিয়ে যে ঐতিহ্যবাহী হাকা নৃত্যের আয়োজন করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান।
আরডের্ন মনে করেন, তার দেশে সন্ত্রাসবাদের এই বাজে দৃষ্টান্তের মাধ্যমে অস্ত্র আইনের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। তিনি আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। যাতে দেশটির নাগরিকরা সেখানে বসবাস করতে নিরাপদ বোধ করে।
প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডার কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, জাসিন্ডার মতো একজন নেতা দরকার যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বের দেশ-বিদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীরা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাসিন্ডার কার্যক্রমের। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান থেকে সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমে এক প্রশংসিত নাম আরডের্ন। আরডের্নের প্রশংসা করে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, আতঙ্ক কীভাবে সামাল দিতে হয়, তা আরডের্নের কাছ থেকে শেখা উচিত বিশ্বের। অন্যদিকে, গার্ডিয়ানে লেখা হয়েছে সত্যিকারের নেতা।
ফরাসি সাইটে লেখা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বিয়োগান্তক ঘটনার পর উপযুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন, আমরা আশা করি আগামীতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তার হাতে তুলে দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি সাইটে এই আবেদনটির উদ্যোক্তা ফরাসি কবি ড. খাল তোরাবুলি।
পশ্চিমা সমাজে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অশ্বেতাঙ্গ ও অভিবাসীদের ওপর যত সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটিয়েছে, তার তালিকা দীর্ঘ। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকে সেই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন বলা যেতে পারে। তবে ঘটনাটি যে হঠাৎ করেই ঘটেনি, তা বহু পর্যবেক্ষকই স্বীকার করেন। পশ্চিমা রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এ ঘৃণা ছড়িয়ে আসছে। ইসলামভীতি তৈরিতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তারা। সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে এক হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তারপর নিউজিল্যান্ড ও এদেশের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দিয়েছেন তাতে ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা পেয়েছেন তিনি। অভিবাসনের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্ণবাদ বেড়ে যাচ্ছেÑ বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন জাসিন্ডা আরডের্ন।
উগ্র কট্টরপন্থি জাতীয়তাবাদী মনোভাবের উত্থানের বিষয়ে প্রশ্ন করলে আরডের্ন বলেন, নিউজিল্যান্ডে আমরা এ-ধরনের মতাদর্শে বিশ্বাস করি না। তবে আমি বিশ্বব্যাপী একটি আহ্বান জানাতে চাই। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় এখানকার মানুষ এমন এক ব্যক্তির সহিংসতার ভুক্তভোগী হয়েছে যে নিউজিল্যান্ডের বাইরে তার কট্টরপন্থি মতাদর্শের সাথে পরিচিত হয়েছে এবং সেখানেই এর অনুশীলন করেছে।
শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে আরডের্ন বলেন, আমাদের দেশে মানুষকে স্বাগত জানানো হয়।
কট্টর দক্ষিণপন্থি বর্ণবাদী মতাদর্শের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে বিশ্বের সব দেশের একত্রিত হয়ে লড়াই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্ন।
বিবিসির সাথে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্ব থেকে বর্ণবাদ ‘বিতাড়িত’ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ‘সীমানা দিয়ে ভাবলে আমাদের চলবে না’। আরডের্নের প্রথম বক্তব্যের সূত্র ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের পর্যবেক্ষকরা তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানে সুজানে মুর লিখেছেনÑ ‘মার্টিন লুথার কিং বলেছেন সত্যিকারের নেতারা ঐক্য খোঁজে না, তারাই ঐক্য তৈরি করে, আরডের্ন ভিন্ন ধরনের ঐক্য তৈরি, কর্ম, অভিভাবকত্ব ও একতার প্রদর্শন করেছেন।’
‘সন্ত্রাসবাদ মানুষের মাঝে ভিন্নতাকে দেখে এবং বিনাশ ঘটায়। আরডের্ন ভিন্নতা দেখেছেন এবং তাকে সম্মান করতে চাইছেন, তাকে আলিঙ্গন করছেন এবং তার সাথে যুক্ত হতে চাইছেন।’
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডের্নকে সম্প্রতি টুইটারে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের সম্মানে এমনই একটি ছবি এঁকেছেন অস্ট্রেলিয়ান কার্টুনিস্ট ক্যাম্পবেল। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আঁকা তার এ ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। তিনি বলেন, রুপালি ফার্ন পাতা নিউজিল্যান্ডের জাতীয় জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমি জানি। সে ধারণা থেকেই নিহতদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে এটি আঁকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মার্টিন লুথার কিং প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন অনেক কারণেই। এর প্রধান ও মুখ্য কারণ হিসেবে বলা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা। সারাবিশ্বে ক্রমবর্ধমান কট্টর ও উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থানের ঢেউ আমেরিকায় প্রবেশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে। তিনিই নিয়ে আসেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শব্দবন্ধটি।
মুখে বললেন পুরনো ঐতিহ্য ও শক্তিমত্তা ফিরিয়ে আনার কথা। কিন্তু কাজে টানলেন বিভাজনের রেখা। তার এই নীতি বলার অপেক্ষা রাখে না, সারাবিশ্বেই বড় প্রভাব ফেলেছে। ঠিক এই প্রাসঙ্গিকতাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তার সেই স্বপ্ন ও আশার কথা আরও জোর দিয়ে বলার সময় এখনই, যেখানে কোনো বিভাজন থাকবে না, থাকবে না কোনো বৈষম্য।

Category:

বিএনপি কোন পথে হাঁটছে?

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-34-46 PMকুদ্দুস আফ্রাদ: ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে একদা এদেশেরই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ। প্রায় একই পথে হেঁটে মুসলিম লীগের উত্তরসূরি বিএনপির দশাও অনেকটা একই রকম। রাজনীতি হচ্ছে বিজ্ঞান। চলার পথের সঠিক দিক-দর্শন আঁকতে হয়। অভীষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হয় বিজ্ঞানের মতো ছক এঁকে। তার ব্যতিক্রম হলেই পতন! শুধুই কী পতন? বিলীনও হয়ে যেতে হয়। এ উপমহাদেশে এমন উদাহরণ অনেক। প্রসঙ্গটি এলো এ কারণেই, একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট শেষে গেজেট প্রকাশ হয়েছে প্রায় তিন মাস হলো। দলটি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গত তিন মাসেও শপথ নেননি। শপথ নেওয়াকে ঘিরে সরকারের সামনে ‘মুলো’ ঝুলানোর খবর বেরিয়েছে। খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বায়না ধরা হয়েছে।
এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে যে ৩টি দল পালাক্রমে দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, আর যে দুটি দল রয়েছে তারা মূলত একই ধারার ও অভিন্ন সত্তার। একটি হচ্ছে বিএনপি, অন্যটি জাতীয় পার্টি। এ দুটি দলের অবস্থাই এখন করুণ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী এ দুটি দল পালাক্রমে ২৬ বছর শাসন করলেও দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অর্জনের ঘর একেবারেই শূন্যের কোটায়। এই শূন্যতা পূরণ করেই জনগণের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
পক্ষান্তরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে জায়গা করে নিতে চলেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও তাদের আরেক সহযোগী জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই পর্যবেক্ষকরা এমন মতামত দিয়েছেন। তাদের কথায়, যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অবজ্ঞা করে যখন দেশকে পরাজিত পাকিস্তানি শক্তির ভাবধারার গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি জনগণ। ফলে, ’৭৫ সালের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের জনতার অভ্যুত্থানে। আর জনতার এই অভ্যুত্থানের স্থায়ী রূপ নেয় ২০০৮ সালের ভোটে। মূলত, জনগণের চেতনাবোধের জায়গা অনুভব করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট দল বিএনপি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের মতো ভুল সিদ্ধান্তের পরেও এ দলটির কাছে যাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, তারা ২০১৮ সালের ভোট নিয়ে নেতৃত্ব পর্যায়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি লন্ডনে বসে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতিকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। একটি আসনের জন্য একাধিক প্রার্থী বাছাই করা এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ‘নয়-ছয়’ অবলম্বনের ঘটনাও দলটিকে বিপর্যয়ে নিয়ে গেছে। জাতীয় পার্টির গায়েও একই ছাপ্পা রয়েছে।
বর্তমানে বিএনপির অবস্থা তথৈবচ। না আছে নেতৃত্ব, না আছে ভবিষ্যৎ। দলটির প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লোপাটের মতো নিম্নস্তরের দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে বাস করছেন। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে যার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এ দলের নেতৃত্ব। সেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে আরও সব জঘন্যতর অভিযোগ। বেশ কয়েকটি মামলার তিনিও সাজাপ্রাপ্ত। লন্ডনে স্বেচ্ছায় ফেরার বাস করছেন। এ অবস্থায় এ-দলটি এখন চতুর্মুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাতে কাবু। মাঠ পর্যায়ে ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে এসেছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হালুয়া-রুটির জন্য যারা দৌড়াদৌড়ি করতেন, লম্বা সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তারাও সটকে পড়েছেন অনেক আগেই। দলের এই করুণ অবস্থা পার করতে হায়ার করা হয় গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে। ড. কামালের নেতৃত্বে গত নির্বাচনের মাসখানেক আগে গঠন করা হয় ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামের এক মোর্চা। মূলত, জামাতকে আড়াল করতেই নেওয়া হয়েছিল এ পদক্ষেপ। কিন্তু তাতেও পার পাওয়া যায়নি। ভোটের আগে জামাতকে দলের প্রতীকসহ ২৫ আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচন করায় ভোটের মাঠে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বিএনপি। এই বিপর্যয়ের মধ্যে আবার বিপত্তি দেখা দেয় দলের প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া সংসদ সদস্যদের শপথকে ঘিরে। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ থেকে মনোনয়ন নিয়ে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের শপথ নিতে বাধা দেওয়ার পরেও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বিএনপি তথা ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। নতুন প্রশ্ন সামনে, বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ কবে?
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে লন্ডন টু গুলশান দফতরে দফায় দফায় চলছে বৈঠক। বিদেশিদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ। কঠিন এ দুঃসময়ে তৃণমূল ও কেন্দ্র মিলিয়ে শতাধিক নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ভোটের আগে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবার বেঁকে বসেছেন ২০-দলের জোটের পুরনো মিত্ররাও। দলের অভ্যন্তরীণ এসব সংকটের মুখে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ফিকে হয়ে এসেছে। দিন যত গড়াচ্ছে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে বিএনপির ঘাড়ে ভর করছে চতুর্মুখী চাপ।
বিএনপির শীর্ষনেতারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শিগগিরই কারামুক্ত করতে আন্দোলন করার কথা বলা হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। মূলত, নেতা-কর্মীদের একাংশ এখন আর ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেগী খেলায় মাততে নারাজ। নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা দরকার। দরকার বিশ্বাসী নেতার। বিএনপির বড় দুর্বলতা হচ্ছে, নেতারা একে অপরকে বিশ্বাস করেন না। এমনকি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার দলের অন্য কোনো নেতাকে বিশ্বাস করেন না। যে কারণে, দুর্নীতির মামলার চূড়ান্ত রায়ের আগে জেলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে হঠাৎ করে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নিজের সন্তানের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তার কথায়Ñ সময় তো একটু লাগবেই। দলীয় বৈঠক-পরিকল্পনা সবই চলছে। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বিএনপির সামনে। তবে কতটুকু সম্ভব তা ভব্যিষ্যৎই বলে দেবে।’
এদিকে আপাতত বিএনপির মাথায় বড় চাপ হলোÑ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। যিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয় ইতোমধ্যে কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, বিএনপির সংসদে না যাওয়া আপাতত সঠিক সিদ্ধান্ত। তার কথায়, ‘মাস শেষে কয়েকটা পয়সা পাওয়ার জন্য শুধুই সংসদে গিয়ে লাভ কী? আদতে দেশের জন্য তো কিছু হবে না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, সরকার যদি খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি ও নেতা-কর্মীদের মামলা তুলে না নেয়, তাহলে কোন যুক্তিতে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন?’ তবে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরপরই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগ দিয়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বলেছিলেন।

Category:

ব্যাপকভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপনের আহ্বান

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-33-03 PM

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আর যেন বাংলার মাটিতে খুনি-সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধী, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে। তারা আর যেন দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন সমুন্নত থাকে। বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা মানেই বঙ্গবন্ধু। তাই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২১ ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ আমরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন।
নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। ওই নির্বাচনে ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বিএনপি ওই নির্বাচনে মাত্র ২৮ আসন পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ আসনে মেজরিটি পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামাত জোট ঠেকাতে চেয়েছিল; কিন্তু জনগণ তাদের প্রতিহত করেছিল। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনের সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ দেশে ধারাবাহিক যে অসামান্য উন্নতি করেছে, অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, তৃণমূল পর্যন্ত জনগণ উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করেছে বলেই দেশের জনগণ বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।
সরকারপ্রধান প্রশ্ন রেখে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বিএনপি এবারও নির্বাচনে গেছে। আর নির্বাচনের আগে জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা তারা (বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্ট) দেখাতে পারেনি। কারণ হত্যা-দুর্নীতির কারণে তাদের নেতারা জেলে কিংবা বিদেশে পলাতক। নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জামাত একটি আসনও পায়নি। নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে যারা (বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্ট) ৮০০ প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, তারা নির্বাচনে ভোট পাবে কী করে?
অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করতে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। অথচ স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই নির্বাচন নিয়ে এমন এক পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যাতে প্রার্থীরা খুব কম খরচে নির্বাচন করতে পারেন, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতারাই যেন নির্বাচিত হতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই পদ্ধতিতে ছিল সরকারি খরচে একটি মাত্র পোস্টার হবে, সেখানে সব প্রার্থীর ছবি ও মার্কা থাকবে। নির্বাচন অর্থ ও লাঠির কাছে জিম্মি না হয় সেই জন্যই এ পদ্ধতি চালু করেছিলেন। এ পদ্ধতিতে দুটি নির্বাচনও হয়েছিল। যদি জাতির পিতা নির্বাচনের এই পদ্ধতি কার্যকর করে যেতে পারতেন তবে মাঠের জনপ্রিয় নেতারাই নির্বাচিত হতে পারতেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সামরিক স্বৈরাচারের আমলে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ’৭৫-পরবর্তী সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয় জেনারেল জিয়া। হ্যাঁ-না ভোট, রাষ্ট্রপতি ভোটের নামে অবৈধভাবে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে গঠিত দলকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী দেখানো হয়। কারণ সংবিধান সংশোধন করে জেনারেল জিয়া অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করতে ওই এক-তৃতীয়াংশ আসনেরই প্রয়োজন ছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ভাঁওতাবাজি করে মূলত জিয়াউর রহমান কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল। জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখল, জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলেও এসব করা হয়। আর সামরিক স্বৈরাচারের আমলেই ঋণখেলাপি সংস্কৃতি, ঘুষ, দুর্নীতি ও ছাত্রদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিয়ে বিপথে ধাবিত করা হয়। এই ধারা ’৯৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
নির্যাতিন ও নিপীড়িত বাঙালির মনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি নির্যাতন ও নিপীড়ন সইতে সইতে তারা ভুলেই গিয়েছিল তাদের অধিকারের কথা। বঙ্গবন্ধু তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি আন্দোলনের জন্য জেলে গেছেন। তিনি নির্যাতিত বাঙালির মনে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, খোকা নামের সেই ছোট্ট শিশুটির (বঙ্গবন্ধু) নাম আজ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তার একটিই কারণ, তিনি (বঙ্গবন্ধু) একটি জাতিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছেন। গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে একটি দেশকে স্বাধীন করেছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর একটিই লক্ষ্য ছিল গরিব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আর এ লক্ষ্য অর্জনেই বঙ্গবন্ধু আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য বাঙালি জাতিকে সাহসী করে তুলেছিলেন।
আগামী বছর জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২০-২১ একটি বছর ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালন করব। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে পালন করা হবে। জন্মশতবার্ষিকী পালনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। মুজিবের বাংলাদেশকে আমরা তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবই ইনশাআল্লাহ।

Category: