Blog Archives

দিনপঞ্জি : এপ্রিল ২০১৯

Posted on by 0 comment

PM2 ০২ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে এখন ১৪ লাখ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী রয়েছে। বর্তমানে সরকার ১০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করছে। আগামী বাজেট থেকে দেশের সব প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হবে। সরকারপ্রধান বলেন, পিতামাতা ও অভিভাবকহীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী মেয়েদের জন্য সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বগুড়ায় ৫০ আসনের পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে বৃহৎ পরিসরে এ-ধরনের পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, খেলাধুলাসহ সব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে প্রতি জেলায় এ-ধরনের কেন্দ্র তৈরি করা হবে। দ্বাদশ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

০৩ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘সামনে রোজা। এই সময় তেল, ছোলা, চিনি, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত সরবরাহ যেন থাকে, সে-বিষয়টিও আপনাদের দেখতে হবে।’ গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন এবং ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এ-কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আওতাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন, ২০টি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ৫টি চলমান কাজেরও উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

০৪ এপ্রিল
* মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তারা আমাদের একবারে প্রতিবেশী, সেহেতু আমরা তাদের সঙ্গে সংঘাতে যাব না। বরং তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের যেন তারা ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই প্রচেষ্টাই আমাদের অব্যাহত থাকতে হবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব যেন, সেভাবে সবাই দায়িত্ব পালন করেন।’
০৫ এপ্রিল
* কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন কায়েম হয়েছে। জনগণকে নিয়ে আমরা দেশ পরিচালনা করছি। যেদিন জনগণ আমাদের থেকে মুখ সরিয়ে নিবে সেদিন আমরাও ক্ষমতায় থাকব না। দেশে অবশ্যই গণতন্ত্র আছে এবং বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার। যারা বলছে দেশে এক দলীয় শাসন চলছে, তারা এ-কথা কীভাবে বলছে। দেশে মিডিয়ার অবাধ তথ্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সেদেশে এক দলীয় শাসন কীভাবে হয়। কাজেই এটা মিথ্যাচার এবং অপবাদ। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা ২০০৬ সালে নিজেদের কবর খুঁড়েছিল। তাদের অপশাসন, দুঃশাসনে দেশের মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন টাঙ্গাইলের মধুপুর শাখার আয়োজনে দুপুরে সংগঠনের শ্রমিক সদস্যদের সন্তান যারা শিক্ষাক্ষেত্রে মেধাবী তাদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

PM3০৮ এপ্রিল
* খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি নয়, তার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি। তার প্যারোলে মুক্তির জন্য যদি আবেদন করা হয়, তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটি আয়োজিত ‘ভবনের কর্মদক্ষতাভিত্তিক অগ্নি সুরক্ষা : বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

১০ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অধিকতর গবেষণার জন্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সব ক্ষেত্রে গবেষণাই হচ্ছে একমাত্র পথ। গবেষণার মধ্য দিয়েই সমাজকে আমরা গড়ে তুলতে পারি। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা আরও ভালো করে গবেষণা করুন, কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও বেশি উৎকর্ষ লাভ করতে পারে এবং কোথায় আমাদের আরও বিনিয়োগ করা দরকার। আমাদের দেশের জলবায়ু, মাটি, পানি সবকিছু নিয়েই আপনাদের কাজ। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে টেকসই করতে গবেষণা অপরিহার্য। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাই কাজ করবেন, সেটাই আমি চাই। কারণ বিশ্বের সঙ্গে আমরা তাল মিলিয়ে চলব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ-কথা বলেন।

১১ এপ্রিল
* ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার-এর চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছেন, কেবল অবকাঠামো নয়, উন্নত ও মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ-কথা বলেন।

১২ এপ্রিল
* আগুনে পুড়িয়ে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, এই হত্যাকা-ের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, জড়িতদের কাউকে ছাড়ব না। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতেই হবে। আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা বরদাশত করা হবে না। গণভবনে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাকে হত্যা করা হয়েছে বোরকা পরে হাত-মুখ ঢেকে। ওকে আগুন দেওয়া হয়েছে। যারা নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে তারা জঘন্য কাজ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। এদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা ঘৃণিত অপরাধ।

১৩ এপ্রিল
* ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক রক্ত দিয়ে লেখা’। একাত্তরে ভারতের ১২ হাজার সৈনিক আমাদের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এক কোটির বেশি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এই ৪৮ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। ভারতের বিখ্যাত গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন’ (আইআইএমসি)-এর সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন আইআইএমসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথির বত্তব্যে এ-কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, দুই দেশের সাংবাদিক, শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী, খেলোয়াড়সহ সব খাতের মানুষের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়েছে। সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের বাইরে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ দিনে দিনে বাড়ছে। মেধাবীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ালে অভিন্ন লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে।
* পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন, দেশের নদ-নদীগুলো দখলমুক্ত করা এবং নাব্য রক্ষায় সরকার সচেষ্ট। ইতোমধ্যে সরকার এ-ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে এবং যা দৃশ্যমান। পানিসম্পদ রক্ষায় সরকারের যা যা করা দরকার, তার সবটুকুই করবে। নেত্রকোনার প্রধান নদী মগড়া পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৪ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। সমগ্র দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গণভবনে আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সকল কর্মের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাব। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। বাংলা নববর্ষ সবার জীবনকে সুন্দর এবং উদ্ভাসিত করে তুলবে এবং বাংলাদেশে তার সরকারের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলা নতুন বছর ১৪২৬-র নতুন সূর্য সবার জীবনকে সুন্দর করুক, উদ্ভাসিত করুক, সফল করুক সেটাই আমি কামনা করি। তিনি আরও বলেন, পুরাতন বছরকে পেছনে ফেলে আমরা নতুন বছরে পদার্পণ করছি। সমগ্র বাঙালি জাতিকে এই নববর্ষে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শুভ নববর্ষ!

১৬ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষার মান রক্ষায় যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আমরা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না, সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী চিকিৎসার সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রচলিত চিকিৎসা-ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চিরায়ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না এবং মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এগুলোর উন্নয়নের জন্য আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিদেশে এর চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চিরায়ত ওষুধেরও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

১৭ এপ্রিল
* মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। দেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে পালিত হয় নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, কুচকাওয়াজ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি পালনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবেও শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

১৮ এপ্রিল
* বিদেশি পর্যটকরা যাতে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নবম বাংলাদেশ ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্যসহ পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে বিদেশে চমৎকারভাবে তুলে ধরতে হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ আমাদের দূতাবাসগুলোকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বিদেশি পর্যটকরা আমাদের অতিথি। তারা যাতে নির্বিঘেœ এবং আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে পারে, আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়, তাও নিশ্চিত করতে বলেন রাষ্ট্রপতি। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

২১ এপ্রিল
* তথ্য-প্রযুক্তি খাতে প্রতিবেশী দেশগুলো কী করছে, তাতে নজর না দিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করতে তথ্য-প্রযুক্তিবিদদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সামিটের চতুর্থ আসর উদ্বোধন করতে এসে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তথ্য-প্রযুক্তিবিদদের উদ্দেশ্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশকে কীভাবে ডিজিটাইজড করতে হবে, এ বিষয়ে কোনো দেশেরই কোনো পরিকল্পিত রূপকল্প ছিল না। কোনো কোনো দেশ এটাকে অর্গানিক্যালি করেছে। প্রতিটি দেশের সমস্যা ও সম্পদ একেবারে আলাদা। তাই আপনাকে থাকতে হবে নির্দেশকের ভূমিকায়। আর আমরা তা সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছি। তাই আপনাদের প্রতি আমার বার্তা হলো, আপনারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করুন, নতুন প্রযুক্তি খুঁজুন। আপনারা কেউ অনুকরণ করবেন না, উদ্ভাবন করুন। আর এটাই আমার লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য।
২৪ এপ্রিল
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের কোথাও কোনো অস্বাভাবিক কিছু পায়, সঙ্গে সঙ্গে যেন দেশবাসী তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। আমরা জঙ্গিবাদ কঠোর হস্তে দমন করেছি। আমরা চাই না পৃথিবীতে এ-ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটুক। এসব ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, সেসব সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই, দেশকাল পাত্র নেই। জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। দেশবাসীর কাছে আহ্বান, এই সন্ত্রাসী ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে মানুষ যেন জড়িত না হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বোমা হামলায় নিহত শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির নাতি জায়ানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আরও বলেন, ওই ঘৃণ্য হামলায় শুধু জায়ান চৌধুরীই নয়, ৪০ জনের কাছাকাছি শিশুসহ প্রায় সাড়ে ৩০০ মানুষ মারা গেছে। এ-ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বোমা হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের কারণে এ-ধরনের ঘটনা ঘটছে, এর মধ্যে হামলাকারীরা কি অর্জন করছে জানি না। এই ছোট নিষ্পাপ শিশু তো কোনো অপরাধ করেনি? তারা কেন এভাবে জীবন দেবে? কিছুদিন পূর্বেই নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সরাসরি গুলিতে অনেক মানুষকে হত্যা করা হলো। সেখানেও নারী ছিল, শিশু ছিল। আমাদের ক্রিকেট টিমও ছিল। খুব অল্পের জন্য তারা বেঁচে গেছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মানুষের কোনো কল্যাণ আনতে পারেনি।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সব সময় ভালো থাকবে এবং এ-সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সেখানে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো থাকবে। গওহর রিজভী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম অডিটরিয়ামে আশুতোষ চক্রবর্তী স্মারক শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ-কথা বলেন। এর আগে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

২৮ এপ্রিল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা, ধর্ষণ ও নানা ধরনের সামাজিক অনাচার চলছেÑ এগুলোর বিচার যেন খুব দ্রুত হয়, এদের কঠোর শাস্তি হয়। যাতে এর কবল থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পেতে পারে। সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে ধনী, দরিদ্রের কোনো বৈষম্য থাকবে না। জনগণ মৌলিক অধিকারগুলো ভোগ করে নিজেরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রতিটি মানুষ ন্যায়বিচার পাক এবং সেই ব্যবস্থাটা যেন চালু হয়। কারণ, আমরা চাই না ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের কারণে, আমরা যেমন বিচার না পেয়ে কেঁদেছি আর কাউকে যেন এভাবে কাঁদতে না হয়। সবাই যেন ন্যায়বিচার পেতে পারে সেটাই আমরা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক মামলার দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রয়েছে, কেন যে আটকে রয়েছে তারা নিজেরাও জানে না। তাদের দোষটা যেমন কেউ জানে না, তেমনি কীভাবে আইনগত সহায়তা নিতে পারে তাও জানা নেই। সেই বিষয়টা দেখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমার মনে হয়, আইন মন্ত্রণালয় এ-ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে বেসরকারি সংস্থা, প্যানেল আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইডÑ এই ৩টি ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্তদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

PM4২৯ এপ্রিল
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ-ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের কোথাও এতটুকু জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের আলামত দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিন। আমরা এ-ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। নুসরাত হত্যাকা-সহ যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারাই এ-ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িতরা কে কোন দলের তা দেখা হবে না। যৌন নিপীড়ন যারা করবেন তাদেরও রেহাই নেই। অনেকেই কঠোর আইনের কথা বলেছেন। আইন রয়েছে। কিন্তু প্রয়োগে কঠোর আইন করতে হয় আমরা করব। তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থাই আমরা করব। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ, শ্রীলংকার গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ এবং এসব সন্ত্রাসী, যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আনীত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

Category:

নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গণচীনে তৈরিকৃত নৌবাহিনীর নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছেছে। এ-সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল আবু আশরাফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানান। জাহাজ দুটি আগমন উপলক্ষে নেভাল জেটিতে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক নাবিক উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর জন্য নবনির্মিত জাহাজ বানৌজা সংগ্রাম ও বানৌজা প্রত্যাশা-এর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১১ মিটার। জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। শত্রু বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে ক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি র‌্যাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, র‌্যাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত। জাহাজ দুটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিংসহ অন্যান্য সুবিধাদি রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়েনযোগ্য এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট। নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো।

পদ্মাসেতুর চেয়েও বড় স্প্যান বসছে পায়রা সেতুতে
পটুয়াখালীর দুমকির লেবুখালীতে নির্মাণাধীন পায়রা সেতুতে বসতে যাচ্ছে পদ্মাসেতুর থেকেও বড় স্প্যান। নান্দনিক এক্সটাডোজ ক্যাবল বক্স গার্ডার সেতুটিতে নদীর মাঝে মূল সেতু হবে ৬৩০ মিটার। এজন্য ২০০ মিটারের দুটি স্প্যান ও দু-পাশে দুটি স্প্যান ১১৫ মিটার করে হবে, যা দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মাসেতুর স্প্যানের থেকেও বড়। পটুয়াখালী-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর ‘পায়রা সেতু’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে দ্বার উন্মুক্ত হবে সর্বদক্ষিণের অর্থ-বাণিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়ন।
জানা যায়, চার-লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪৭০ মিটার (৪ হাজার ৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্যরে ১৯.৭৬ মিটার (৬৪.৮ ফুট) এক্সট্রা বক্স গার্ডার সেতুটির উভয়দিকে ৭ কিলোমিটার জুড়ে নির্মাণ করা হবে অ্যাপ্রোচ সড়ক। ব্রিজটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৬ কোটি টাকা। এছাড়াও সেতুটি নদীর তলদেশ থেকে ১৮ থেকে ৩০ মিটার উঁচু হবে। ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি। সেতুটি নির্মিত হলে খুলে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সম্ভাবনার দ্বার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গড়ে উঠবে কল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

Category:

জ্বালানি খাতে সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে

Posted on by 0 comment
PM

বাংলাদেশ-ব্রুনাই যুক্ত বিবৃতি

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ব্রুনাই গত ২৩ এপ্রিল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে সমন্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে।
যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার জোগান দিতে বাংলাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহসহ সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দুই দেশ জ্বালানি খাতে সমন্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। এতে বলা হয়, পেট্রোকেমিক্যাল, সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসান আল বলকিয়াহ সম্মত হয়েছেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৩৫তম বার্ষিকীতে সুলতান বলকিয়াহর আমন্ত্রণে ব্রুনাই দারুসসালামে তিন দিনের সরকারি সফর ২৩ এপ্রিল শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা বিনিয়োগের সম্ভাবনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, আইসিটি, জাহাজ নির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং, পর্যটন অবকাঠামো, ব্লু ইকোনমি এবং পাট শিল্পের মতো খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সম্মত হয়েছেন। ব্রুনাই দারুসসালাম বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের সুযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘হালাল ফুড মার্কেটে’ প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হালাল ফুড শিল্পে ব্রুনাইয়ের দক্ষতা প্রমাণিত।
পারস্পরিক চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে উভয় দেশ। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, হেলথ কেয়ার প্রফেশনাল নিয়োগ ও ওষুধ উৎপাদন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কার্যকর সুযোগ-সুবিধা দিতে আর্থিক কার্যক্রম জোরদারে দুদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতি উভয় পক্ষ জোর দিয়েছে। অভিন্ন স্বার্থ এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), কমনওয়েলথ এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অব্যাহত চেষ্টার প্রতি দুই নেতা সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এই সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তারা সম্মত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা প্রদান এবং তাদের প্রত্যাবাসন উদ্যোগের প্রতি ব্রুনাই দারুসসালাম সমর্থন দিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার জন্য ব্রুনাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে।
অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য সুলতানের সরকার এবং কক্সবাজারে ফিল্ড হাসপাতালে জরুরি ওষুধ ও স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহ এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ইয়াং ডি পারতুন অব ব্রুনাই দারুসসালামের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি লাভ এবং সামাজিক খাতে অসামান্য সাফল্য অর্জন করায় ব্রুনাইয়ের সুলতান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করা ও স্বীকৃতি লাভ করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নির্ধারিত যোগ্যতার মানদ- সফলভাবে পূরণ করায় অভিনন্দন জানান। ব্রুনাই দারুসসালাম খাদ্য ও কৃষি খাতে বাংলাদেশের সফলতা স্বীকার করেছে এবং কৃষি, মৎস্যচাষ এবং গবাদি পশু পালন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষ কৃষি ও খাদ্য পণ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনা অন্বেষণ করবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে সহযোগিতা করবে। নেতৃবৃন্দ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বীকার করে সর্বাধিক রপ্তানি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সক্রিয় বিনিময় উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তারা সক্রিয়ভাবে যথাযথ ব্যবস্থার অধীনে একটি অগ্রাধিকার বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করবেন এবং এ লক্ষ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। দুদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তারা এ-সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাদের সহযোগিতা জোরদার করার উপায় অন্বেষণ করার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারকরণে জনগণের সঙ্গে জনগণের ভাববিনিময়ের গুরুত্ব স্বীকার করে নেতৃবৃন্দ সফর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ছাত্র ও কর্মীদের আসা-যাওয়া, তথ্যবিনিময় এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রয়াসের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপকতর ও গভীর সহযোগিতা উৎসাহিত করার জন্য অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যেতে একমত হয়েছেন। উভয় পক্ষ দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে এবং অবিলম্বে বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক কল্যাণমূলক ক্ষেত্রে দুদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা ও সম্পর্কের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।
উভয় পক্ষ বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা অর্জন, জ্ঞানবিনিময়, শান্তি স্থাপন এবং মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে গভীর সহযোগিতা প্রদান উৎসাহিত করবে। পারস্পরিক কল্যাণে নতুন সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সব স্তরের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নেতৃবৃন্দ ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন আহ্বানকে স্বাগত জানান এবং বন্দর সেরি বেগওয়ান নগরীতে ২০২০ সালে দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় রয়েছেন। নেতৃবৃন্দ উভয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী শ্রমিকদের মূল্যবান অবদান স্বীকার করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে শ্রম সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খুঁজে দেখার জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে ব্রুনাই দারুসসালামের প্রশংসিত অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য সুলতানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সুলতানের অবদান ব্রুনাই দারুসসালামে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়াওয়াসান ২০৩৫-এর অধীনে ব্রুনাই দারুসসালামের কৌশলগত জাতীয় উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের জন্য সুলতানের প্রশংসা করেন।
সুলতান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী শান্তি, অভিবাসন, পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যাপক অংশগ্রহণসহ বাংলাদেশ সরকারের অবদান স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা প্রদর্শন করার জন্য সুলতান, ব্রুনাই দারুসসালামের ইয়াং ডি-পারতুয়ান ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিকটতম সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করার জন্য সুলতানকে আমন্ত্রণ জানান। ২২ এপ্রিল ইস্তানা নূরুল ইমানে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই নেতার নেতৃত্বে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরকালে নেতৃবৃন্দ কৃষিতে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা, মৎস্য ও পশুসম্পদ; তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ (এলএনজি); যুব এবং ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি ও শিল্প ক্ষেত্রে ৬টি স্মারকলিপি স্বাক্ষর করেন। নেতৃবৃন্দ উভয় দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত সফর সুবিধা চালুর বিনিময় নোট স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। দুই নেতা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ভবিষ্যতে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ব্রুনাইয়ের এম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের ইন্দেরা সামুদেরা বলরুমে ব্রুনাই দারুসসালামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাকে দেওয়া এক গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো বর্ণ, ধর্ম ও দেশ নেই। তারা সন্ত্রাসী এবং মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং, আমি তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
এদিকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য ৫টি দেশের সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২২ এপ্রিল সকালে ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমান এ ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব করেন। আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সিয়াকো)-এর সদস্য হবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ব্রুনাইয়ের সুলতান আশ্বস্ত করেন যে, তিনি বিষয়টি নিয়ে ‘অনুকূল বিবেচনা’ করবেন। ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও বক্তৃতা লেখক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্থান পায়। বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু প্রস্তাব করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার দেন এবং বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহযোগিতা গড়ে তোলা যেতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সুলতান উভয়ই বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক কর্মসূচি ও জ্ঞানবিনিময়ের মতো অস্ত্রশস্ত্রবিহীন ক্ষেত্রে সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। এ প্রসঙ্গে সুলতান বিশ্বজুড়ে সমস্যাক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়া গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ এবং চতুর্থবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। সুলতানের উদ্ধৃতি দিয়ে শহীদুল হক বলেন, এটি জনগণের রায় এবং বিজয়টি হলো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে সুলতান বলেন, ব্রুনাই ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ও সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফর একটি মাইলফলক। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির এক বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনাকালে শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের সুলতানকে তার স্ত্রীসহ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর আগে, সুলতান ব্রুনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় প্রোটোকল ভেঙে প্রাসাদের সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার তীব্র নিন্দা করে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রুনাইতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাকে দেওয়া এক গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীলংকার ৮টি স্থানে সংঘটিত বোমা হামলায় বহু লোক নিহত ও আহত হয়েছে। আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা হলো শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলংকায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডেও এ-ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তিনি জানান, তার সরকার শুধু সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কেবল জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেনি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সতর্ক রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদীদের চিহ্নিত করা মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছি। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসবাদী, দুর্নীতিবাজ ও মাদকাসক্তদের ঠাঁই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত
বাংলাদেশ ও ব্রুনাই ২২ এপ্রিল কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নূরুল ইমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইর সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
৭টি চুক্তির মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট। এগুলো হচ্ছেÑ কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড় সংক্রান্ত বিনিময় নোট।

বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। মূল্যবোধ, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং অনেক অভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্মানে ২২ এপ্রিল ব্রুনাইয়ের সরকারি বাসভবন ইসতানা নূরুল ইমানে রয়েল ব্যাঙ্কুয়েট হলে সুলতান আলহাজ হাসানাল বোলকিয়ার দেওয়া এক ভোজসভায় এ-কথা বলেন।

জামে আসর মসজিদ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের দুটি জাতীয় মসজিদের একটি বৃহত্তম জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ২২ এপ্রিল বিকালে মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করেন। শেখ হাসিনা এ-সময় দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও উন্নতির পাশাপাশি মুসলিম উম্মার শান্তি এবং ঐক্য কামনা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মসজিদের ২৯টি স্বর্ণের গম্বুজ এবং ১৯০ ফুট উঁচু ৪টি মিনারসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি এ-সময় মসজিদে অবস্থানরত মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাই দারুসসালামে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন।

Category:

প্রকাশ পেল সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলের ছবি

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ ডেস্ক: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রথম ব্ল্যাকহোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। গত ১০ এপ্রিল এই ছবি প্রকাশ করা হয়। ব্ল্যাকহোল ছায়াপথের দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাকহোলের ব্যাপ্তি ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার, যা পৃথিবীর আকারের চেয়ে ৩ মিলিয়ন গুণ বড়। বিজ্ঞানীরা এটাকে ‘দৈত্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্ল্যাকহোলটি ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ছবি তুলতে বিশ্বজুড়ে ৮টি টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক কাজের প্রস্তাবকারী নেদারল্যান্ডসের রেডবাউন্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেইনো ফালকে জানান, ব্ল্যাকহোলটি এমএইটিসেভেন নামের একটি ছায়াপথে পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের পুরো সোলার সিস্টেমের চেয়ে বড়। তিনি আরও বলেন, যেসব ব্ল্যাকহোল আছে বলে আমরা মনে করি সেগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে বড়। এটা সত্যিকার অর্থেই দৈত্যাকার, ব্ল্যাকহোলদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ব্ল্যাকহোলটি একটি আগুনের আংটির মতো, যার ভেতরের অংশটি কালো। ছায়াপথের বিলিয়ন বিলিয়ন তারার সমন্বয়ে যে আলো হবে তার চেয়ে ব্ল্যাকহোল থেকে আসা আলোর পরিমাণ অনেক। এ কারণেই পৃথিবী থেকে এত দূরে হওয়ার পরও তা দেখা যায়।

ব্ল্যাকহোলের ছবির পেছনে যার কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি
প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাকহোল’ বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তোলার পেছনে সব থেকে বেশি যার অবদান, তার নাম কেটি বাউম্যান। ২৯ বছর বয়সী এই নারী একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। অ্যালগরিদম পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাকহোলের ছবি তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন এই কেটি বাউম্যান।
নাসার প্রকাশ করা এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বৃত্তাকার কালো আভার চারদিকে এক উজ্জ্বল আগুনের বলয়। পৃথিবীর নানাপ্রান্তে বসানো ৮টি রেডিও টেলিস্কোপের এক নেটওয়ার্কের সাহায্যে এই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। একক টেলিস্কোপের সাহায্যে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তোলা সম্ভব ছিল না বিজ্ঞানীদের। কৃষ্ণগহ্বরটির দেখা মিলেছে এমএইটসেভেন নামের একটি বহু দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে। পৃথিবী থেকে এই কৃষ্ণগহ্বরের দূরত্ব ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে এবং এটির ভর সূর্যের চেয়ে ৬৫০ কোটি গুণ বেশি।
এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে এই আবিষ্কারের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। নিজের ল্যাপটপে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তৈরি করার পর নিজেই বিস্মিত হন কেটি বাউম্যান। নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে কেটি বাউম্যান ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে যখন এই ছবিটি প্রথম যখন দেখি তখন নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। মজার বিষয় হলো, কেটি বাউম্যান প্রথম যখন অ্যালগরিদমটি তৈরি করেছিলেন তিন বছর আগে, তখন তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে এমআইটি’তে ইভেন্ট হোরিজন টেলিস্কোপ প্রজেক্টে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। সামনেই কালটেক’স কম্পিউটিং অ্যান্ড ম্যাথামেটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন। তিন বছর ধরে এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারের গবেষক দলের অধীনে একটি প্রকল্পে কাজ করে এই সাফল্য লাভ করেন কেটি।
এই প্রকল্পে ২০০-র বেশি বিজ্ঞানী কাজ করলেও কৃষ্ণগহ্বরের ছবিটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক হিরো বনে গেছেন কেটি। টুইটারে তার প্রশংসায় ভাসছে মানুষ। অনেকেই তাকে অভিবাদন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Category:

মুজিবনগর দিবসের শপথ- বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। দেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক এদিন স্মরণে রাজধানীর পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে পালিত হয় নানা কর্মসূচি।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, কুচকাওয়াজ প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি পালনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবেও শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। তারা সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ ঢাকা কলেজ শাখা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
এর আগে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার গ্রামের আমবাগানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি পালিত হয়। মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সোয়া ১০টায় গার্ড অব আনার প্রদান, সাড়ে ১০টায় শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি আমির হোসেন আমু এমপি।

Category:

শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারে ঐকমত্য

Posted on by 0 comment
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১২ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা জানান। ১৩ এপ্রিল দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটান পারস্পরিক স্বার্থে তাদের দেশীয় বাজারে উভয় দেশের বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ভুটান বাংলাদেশের বাজারে দেশটির ১৬ পণ্যের শুল্ক এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে আর বাংলাদেশ চেয়েছে তাদের বাজারে ১০ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার’, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ-কথা বলেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের ১৬টি পণ্যের বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। শহীদুল হক বলেন, আজকের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাটি খুবই ইতিবাচক হয়েছে এবং আলোচ্য বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এগুলো কার্যকর হবে বলেও আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, বাংলাদেশের ১০টি পণ্যের কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, দুদেশই এটি কার্যকরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এখন এটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাজ করতে হবে।’ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে আলোচনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়। ট্রানজিটের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক এবং রেল যোগাযোগের বিষয়টি একটি বড় উদ্যোগ। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যদিও সকল দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তথাপি ভুটানের সংসদে এটি অনুসমর্থিত হয়নি। তবে, ভুটানের নতুন সরকার বলেছে এই উদ্যোগ সংক্রান্ত বিলটি তাদের সিনেটের উচ্চকক্ষে আলোচনার জন্য পুনরুত্থাপিত হবে এবং তারা এটি পাসের বিষয়ে আশাবাদী।’ ভুটানের সংসদে বিলটি অনুমোদিত হলে আলোচ্য ৪টি দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ঢাকা এবং থিম্পুর মধ্যে বৈঠকের পর স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ শিল্প, পর্যটন এবং জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-থিম্পুর সম্পর্ক ‘গভীর এবং ঐতিহাসিক’ কেননা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। ‘যে কোনো সম্পর্কের থেকেই এই সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর এবং বছর বছর আমাদের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই সম্পর্ক ক্রমেই গভীর এবং সম্প্রসারিত হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
শহীদুল হক বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের পর দুদেশের ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তখন থেকেই পর্যটন খাতে দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল গভীরই হয়নি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন ব্যবসা, বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুদেশের মধ্যে বৈঠকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যেহেতু এই বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছে ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এটি এই অঞ্চলে বাজারজাতকরণের বিষয়ে। আর বাংলাদেশ এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগেও আগ্রহী। এই বিষয়ে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে এবং আমরা আশা করছি, এই বিষয়ে শিগগিরই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, বলেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ শুরু হলে এই তিন দেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ভুটান তাদের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। এ-প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এই বিষয়ে খেয়াল রাখবেন, কেননা স্বাস্থ্য খাতে দুদেশের সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থী কোটা ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শহীদুল হক বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এ-সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে তিনি জানান। লোটে শেরিং, যিনি নিজেই একজন চিকিৎসক, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের অটিজম খাতে ব্যাপক অবদানেরও প্রশংসা করেন।
ঢাকা-থিম্পু ৫ চুক্তি সই : স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও থিম্পু ৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। গত ১৩ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দুদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন এবং ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে দি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। নৌ পরিবহন সচিব আবদুস সামাদ এবং ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাজকীয় ভুটান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম এবং ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিভাগের মধ্যে সমজোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিএআরসি’র নির্বাহী পরিচালক কবির ইকরামুল হক ও ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিপিএটিসির রেক্টর ড. এম আসলাম আলম এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। পাশাপাশি, দুদেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চিকিৎসকদের আগে ভালো মানুষ হতে হবে : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
চিকিৎসকরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করেন, আর তাই রোগীদের প্রতি মানবিক হতে হবে চিকিৎসকদের। প্রতিটি রোগীর প্রতি মনোযোগী হতে হবে। একজন ভালো চিকিৎসক হতে চাইলে সবার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং গত ১৪ এপ্রিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এই সাবেক ছাত্র এবং চিকিৎসক এ-সময় তার অতীত স্মৃতির কথাও বর্ণনা করেন। ডা. লোটে শেরিংয়ের ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগমনে সাবেক সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখে ডা. লোটে শেরিংকে বরণ করতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আয়োজন ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসকে।
১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবতরণের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা সভা ও মতবিনিময়ে যোগ দেন বেলা ১১টায়। প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বক্তৃতার বেশির ভাগ জুড়ে ছিল ডা. লোটে শেরিংয়ের ময়মনসিংহে অবস্থানকালীন স্মৃতি রোমন্থন। নগরীর বাঘমারা মেডিকেল বিদেশি ছাত্রাবাসের ওয়েস্ট ব্লকের তিন তলা ভবনের ২০ নম্বর কক্ষে থাকতেন ডা. লোটে। হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ড ও মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে ছিল পদচারণা। বক্তৃতায় উঠে এসেছে স্মৃতিমাখা সেসব দিনের কথা। চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেছেন এ-সময়। বলেছেন চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরির কথা। বাদ যায়নি চিকিৎসক হয়েও ডা. লোটে শেরিংয়ের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার নেপথ্য কাহিনির কথা। ডা. লোটে বলেন, পেশা ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন নি। তিনি বলেন, গত ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চাকরি না করে, দেশ না ছেড়ে ভুটানের মানুষের জন্য ভেবেছি, তাদের জন্য কাজ করেছি, চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আজ আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। কলেজ মিলনায়তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন। এ-সময় ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. টান্ডি দরজি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী লায়োনপু দিহেন ওয়াংমু, ডা. লোটের স্ত্রী ডা. উগেন ডেমা, বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্তী ডা. এনামুল রহমান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার ও বিএমএ সভাপতি ডা. মতিউর রহমান ভূইয়াসহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ডা. লোটে শেরিংকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা শেষে ডা. লোটে শেরিং যোগ দেন মেডিকেল কলেজের ২৮তম ব্যাচের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে ২ নম্বর গ্যালারিতে। এখানে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের আনন্দ ভাগাভাগিসহ গল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। স্মৃতিমাখা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্ধাহ্নভোজ শেষে ডা. লোটে স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

Category:

জটিল রোগের চিকিৎসা জেলা হাসপাতালে হবে

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কিডনি, ডায়াবেটিস, অগ্নিদগ্ধ, ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসাগুলো যাতে প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে করা যেতে পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার দেশের সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিক্ষার মান রক্ষায় যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। গত ১৬ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংগৃহীত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও জিপগাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ইদানীং কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি মাত্রায় দেখতে পাচ্ছি। সেজন্য ওই রোগগুলোর চিকিৎসা যেন দেশের প্রত্যেকটি জেলা হাসপাতালে করা যেতে পারে তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে নজর দিলেই হবে না। মানুষ যাতে অসুখে না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যবান থাকার জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু সায়েন্স ব্যাক গ্রাউন্ডের বদলে সব অ্যাকাডেমিক ব্যাকগাউন্ড থেকে নার্স-নিয়োগে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংশোধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নার্সিং একটি মহৎ পেশা। এ পেশায় নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে। প্রচলিত চিকিৎসা-ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চিরায়ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিকে মূলধারার ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ এখন উন্নতমানের ওষুধ করে, সেটা রপ্তানিও করে। আমাদের দেশে যেমন কিছু দেশজ ওষুধ আছে সেদিকেও কিন্তু যতœবান হতে হবে। সারাবিশ্বে এখন ভেষজ জিনিসের ভীষণ চাহিদা আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা, ইউনানী চিকিৎসা, ভেষজ চিকিৎসা বা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। এর ওপর গবেষণা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা যেন মানুষ নিতে পারে আমরা সেদিকে দৃষ্টি দেব।
শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিচ্ছি। তবে এখনও কিছু উপজেলায় চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। এ-বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। আর উপজেলা হাসপাতালে যাতে চিকিৎসাসেবা নির্বিঘœ হয় সেজন্য অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেলি মেডিসিনের মাধ্যমেও দেশজুড়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)-এর প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অর্থে কেনা অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নার্সদের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

Category:

গ্রীষ্মের ফলের পুষ্টিগুণ

Posted on by 0 comment

রাজিয়া সুলতানা

আনারস
PM2আনারস খুবই রসালো ও জনপ্রিয় একটি ফল। উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল। ভারতবর্ষে আগমন ১৫৪৮ খ্রিষ্টাব্দে। বর্তমানে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এর প্রধান উৎপাদন স্থান। গাছটি তেমন দীর্ঘজীবী নয়। খাটো কা-ে পাতা গুচ্ছবদ্ধ। গোটা একটি মঞ্জুরি ১০০-২০০ ফুল। সম্পূর্ণ মঞ্জুরিটিই মাংসল যৌগ ফলে রূপান্তরিত হয়। ফলের ওজন প্রায় ০.৫-৫ কেজি। পরিপক্ব ফল হতে সময় লাগে পাঁচ-ছয় মাস। সারা বছরই আনারস পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মে এর আধিক্য বেশি।
পুষ্টিগুণ
পরিপক্ব ফলে রয়েছেÑ
®    প্রায় ১৪ শতাংশ চিনি।
®    প্রোটিন।
®    জারক উৎসেচক ব্রমলিন।
®    পর্যাপ্ত সাইট্রিক এসিড।
®    ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি’।

তাজা ফল সুস্বাদু। জ্যাম, জেলি ছাড়াও টিনে ভরা রস ও টুকরা ফল বাজারজাত হয়।

কামরাঙা
PM3কামরাঙা টক-মিষ্টি, সুস্বাদু ফল। কামরাঙা সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (মালয় উপদ্বীপ থেকে ইন্দোনেশিয়ায়) উৎপন্ন ফল। এটি চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বাংলাদেশে বেশির ভাগ কামরাঙা বরিশাল বিভাগে ফললেও ইদানীং অন্যান্য এলাকায়ও এর চাষ হচ্ছে।

পুষ্টিগুণ
পুষ্টিগুণ বিচারে কামরাঙা উচ্চমানসম্পন্ন। কারণ এ ফলটি প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ। যা আমাদের দেহে তৈরি হয় না। কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাছাড়া ফলটি নানা খনিজ পদার্থ এবং ‘এ’, ‘বি’ ভিটামিনে ভরপুর। তবে কিছু কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে কামরাঙা কিডনি রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক।

সফেদা
PMএক প্রকার মিষ্টি ফল। সফেদা গাছ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ বৃক্ষ। এর আদি নিবাস মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল। পেটেনেস ম্যানগ্রোভ ইকো-অঞ্চলের উপকূলীয় ইউকাতানে এই গাছ প্রাকৃতিকভাবে বিস্তার লাভ করে। স্প্যানিশ উপনিবেশ আমলে এটি ফিলিপাইনে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মেক্সিকোতে এর ব্যাপক উৎপাদন হয়।
পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম সফেদায়Ñ
®    ৮৩ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি।
®    ০.৭ গ্রাম প্রোটিন।
®    ২১.৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট।
®    ০.০২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১।
®    ০.০৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২।
®    ৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’।
®    ০.৫ গ্রাম খনিজ।
®    ২৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।
®    ৯৭ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন।

সফেদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ, যা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি দেয়। ক্যালসিয়াম ও লৌহ হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখে। পেটের নানান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে সফেদা। ক্যারোটিন চোখের সুস্থতা রক্ষা করে ও রাতকানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। ওজন কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে স্থূলতাজনিত সমস্যা সমাধান হয়। সফেদা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেতে পারলে অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং বিষণœতা নিয়ন্ত্রণ হয়।

জামরুল
PM4হালকা সবুজ রঙের মিষ্টি ফল। লাল রঙের জামরুলও পাওয়া যায়। এই ফলটির আর একটি নাম হলো আমরুজ। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে সাদা জাম অথবা ম-ল হিসেবেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে জন্মে।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম জামরুলেÑ
®    জলীয় ৮৯.১ শতাংশ।
®    ক্যারোটিন আছে ১৪১ মাইক্রোগ্রাম।
®    ভিটামিন বি-১ আছে ০.১মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন বি-২ আছে ০.৫ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৩ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালরি শক্তি ৫৬।
®    প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৭ গ্রাম।
®    কার্বোহাইড্রেট ১৪.২ গ্রাম।
®    খাদ্যআঁশ ১.১ থেকে ১.৯ গ্রাম।
®    ফ্যাট ০.২ থেকে ০.৩ গ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ২৯ থেকে ৪৫.২ মিলিগ্রাম।
®    ম্যাগনেসিয়াম ৪ মিলিগ্রাম।
®    ফসফরাস ১১.৭ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ০.৪৫ থেকে ১.২ মিলিগ্রাম।
®    সোডিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম।
®    পটাশিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম।
®    কপার ০.০১ মিলিগ্রাম।
®    সালফার ১৩ মিলিগ্রাম।
®    ক্লোরিন ৪ মিলিগ্রাম।
®    আমিষ ০.৭ গ্রাম।
®    চর্বি ০.২ গ্রাম।
®    খনিজ পদার্থ ০.৩ গ্রাম।
®    খাদ্যশক্তি রয়েছে ৩৯ কিলোক্যালরি।

সহজলভ্য জামরুল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। জামরুলের উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমে দারুণ উপকারী। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ মানুষের দেহে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধা ঠেকিয়ে দিতে দক্ষ জামরুল। জামরুলে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধের উপাদান। ফাইবার ও পুষ্টি উপাদানের সম্মিলিত উপস্থিতি দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে দারুণ কার্যকরি। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর করোনারি রোগের ঝুঁকিও কমাতে জুড়ি নেই জামরুলের। মস্তিষ্ক ও লিভারের সুরক্ষায় জামরুল টনিক হিসেবে কাজ করে। ত্বকে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকায় এই ফল। লিভার আর কিডনির বিষ দূর করে বিপাকক্রিয়া সুষ্ঠু রাখতে যেন এক অব্যর্থ টোটকা এই জামরুল।

পেঁপে
PM5পেঁপে এমন একটি ফল, যা কাঁচা তথা সবুজ অবস্থায় সবজি হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়। এর অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে। এর ইউনানী নাম পাপিতা, আরানড খরবুজা। আয়ুর্বেদিক নাম অমৃততুম্বী। পেঁপে বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা, ব্রাজিল ইত্যাদি দেশে হয়।
পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে পাওয়া যায়Ñ
®    আমিষ ০.৬ গ্রাম।
®    স্নেহ ০.১ গ্রাম।
®    খনিজ পদার্থ ০.৫ গ্রাম।
®    ফাইবার ০.৮ গ্রাম।
®    শর্করা ৭.২ গ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৫৭ মিলিগ্রাম।
®    সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম।
®    পটাসিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ০.৫ মিলিগ্রাম।
®    খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি।

সুমিষ্ট পাকা পেঁপে রং, সুবাস আর স্বাদে অতুলনীয়। পেঁপে খেলে ওজন কমে, ত্বক পরিষ্কার হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর নানা উপকারী উপাদানে ভরপুর পেঁপে খেলে একদিকে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি চুল আর ত্বকের জন্যও উপকারী। খাবারে তাই পেঁপে রাখাটা জরুরি। এছাড়া এর যে এনজাইম থাকে, তা হজমে সহায়তা করে। পেঁপে ডায়াবেটিসে উপকারী। কারণ ডায়াবেটিস প্রতিরোধক উপাদান আছে পেঁপেতে। পেঁপেতে আছে ক্যারোটিনাইডস নামের উপাদান, যা চোখের জন্য উপকারী। এছাড়া চোখের মিউকাস মেমব্রেনকে সবল করতে ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে যে ধরনের উপাদান দরকার, পেঁপেতে তা অধিক পরিমাণে আছে। বিশেষ করে বেটা ক্যারোটিন, জিয়াক্সনাথিন ও লুটেইনের মতো উপাদান কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে এটি উপকারী।
আমাদের সব দেশি ফলই অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন। সব ফলের পুষ্টির কথা বলে শেষ করা যাবে না। এটা প্রকৃতির অপার দান। তবে প্রয়োজন জনসচেতনতার। জনগণ যদি ফলের সঠিক পুষ্টিগুণ জানে এবং এদের প্রয়োগ নিশ্চিত করেÑ তবে তারা আর ফলজনিত অপুষ্টিতে ভুগবে না।
সর্বোপরি বলা যায়, বাংলাদেশে পুষ্টি সমস্যা সমাধান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গ্রীষ্মের ফল তথা ফল বৃক্ষের কোনো তুলনা হয় না। ফল গাছ সংরক্ষণ, সুষম বণ্টন, এদের উন্নতি সাধন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক : শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি, শেরে বাংলা কৃষি ইউনিভার্সিটি, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১১০০
ৎধুরধংঁষঃধহধ.ংধঁ৫২@মসধরষ.পড়স

Category:

সুদানের প্রেসিডেন্ট গদিচ্যুত, ক্ষমতায় সেনাবাহিনী

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত ১১ এপ্রিল টিভিতে এক ঘোষণায় বলেন, একটি সামরিক কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদের এক অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করবে এবং তারপর নতুন সংবিধানের আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসান হলো। তাকে গদিচ্যুত করার খবর প্রচারিত হতে-না-হতেই রাজধানী খার্তুমসহ গোটা দেশের রাস্তাঘাটে বাঁধভাঙা উল্লাসে জনতার ঢল নামে। তারা নেচে-গেয়ে নানারকম বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।
গত ডিসেম্বর থেকেই বশিরের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ চলছিল এবং এ-সময় সহিংসতায় বেশ কিছু লোক নিহত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির আরও কিছু ইসলামপন্থি সেনাকর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সুদানের সর্বময় ক্ষমতা দখল করেন। তিনিই হচ্ছেন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাকে উৎখাতের চেষ্টা এর আগেও হয়েছে। তবে তা সফল হয়নি।
এবারের গণবিক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। তবে ধীরে ধীরে তা বশিরের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে পরিণত হয়। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ টিভিতে বলেন, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং জনগণ গরিব থেকে আরও গরিব হয়ে পড়ছিল। এই বিক্ষোভে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়া এক মাসব্যাপী কারফিউ এবং সব সীমান্ত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়। ৭৫ বছর-বয়স্ক বশিরকে গ্রেফতার করে গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে গোটা রাজধানী খার্তুমে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীরা ‘সরকারের পতন হয়েছে, আমরা জিতেছি’ বলে সেøাগান দিচ্ছে।
এদিকে, একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, খার্তুমের বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সামরিক অভ্যুত্থানে খুশি হয়নি। তাদের আশঙ্কা, অভ্যুত্থানের কারণে এই আন্দোলনের সুফল সাধারণ জনগণ পাবে না। গ্রুপটি অন্তর্বর্তী সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করছে। কারণ তারা বেসামরিক লোকদের দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চায়, সামরিক বাহিনীর লোকদের দিয়ে নয়। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

Category:

রক্তাক্ত শ্রীলংকা : ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসনের

Posted on by 0 comment

PMসাইদ আহমেদ বাবু: গত ২১ মে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডের প্রার্থনার সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সে-সময় শ্রীলংকার দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজধানী কলম্বোর কোচিকাডের সেন্ট অ্যান্টনিস চার্চ, পশ্চিমের উপকূল শহর নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ এবং পূর্বের বাত্তিকালোয়া শহরের চার্চে পরপর বিস্ফোরণ ঘটে। অন্তত ৮টি স্থানে পরপর বোমা হামলা হয়। ৩টি পাঁচতারা হোটেলÑ শাংগ্রি লা, দ্য সিনামন গ্র্যান্ড হোটেল এবং দ্য কিংসবেরি হোটেলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এই হামলার ঘটনার পর শ্রীলংকার সরকার কয়েক মিনিটের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা জন্য। অন্যদিকে, দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক পরিষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে। আর প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, ‘অবর্ণনীয় এই ট্র্যাজেডির পরও আমরা শ্রীলংকানরা ঐক্যবদ্ধ আছি।’
পরে শ্রীলংকায় ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এরপরই শহরের রাস্তায় নামে সশস্ত্র পুলিশ কমান্ডো। অপরাধ অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমান চলাচল। দুদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হামলার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে সন্দেহে সিরিয়া ও মিসরের নাগরিকসহ পুলিশ এখন পর্যন্ত ৭৬ জনকে আটক করেছে।
হামলার পর দেশজুড়ে জারি করা হয়েছিল কারফিউ। তবে তা ২২ এপ্রিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইন্সটগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরই ১৭ এপ্রিল শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি মৈত্রিপালা সিরিসেনা দেশটির পুলিশের প্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এনে পুলিশপ্রধানকে গ্রেফতারেরও দাবি উঠেছে।
শ্রীলংকার নিরাপত্তা বাহিনীগুলো নজরদারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, যিনি এ ঘটনার ত্রুটি খুঁজে দেখার জন্য সুপ্রিমকোর্টের একজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন।
দেশটির পুলিশ জানায়, মূলত টার্গেট ছিল খ্রিষ্টান, হোটেলের ভিনদেশের অতিথিরা। নিহত ছাড়াও যে ৫০০ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলায় নিহতদের অধিকাংশই শ্রীলংকার নাগরিক। এছাড়া ৩৯ জন বিদেশি নাগরিকও এ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে কলম্বো সরকার। নিহত বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ, মার্কিন, অস্ট্রেলীয়, তুর্কি, ভারতীয়, চীনা, ড্যানিশ, ডাচ, পর্তুগিজ ও বাংলাদেশের নাগরিক। নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৪৫ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল।
বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘ভারত আমাদের গোপন তথ্য দিয়েছিল; কিন্তু আমরা ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারিনি।’ একের পর এক বোমা হামলায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তিন দিন পর এই মন্তব্য করলেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী। ভারত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তদন্তকাজে শ্রীলংকাকে সহায়তা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকেও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। তারা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়।
পুলিশ নানা জায়গা থেকে ২৪ জনকে আটক করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৮৭টি বোমা ডেটোনেটর, যার একটি পরে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে।
ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় রক্তাক্ত লংকা। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলা সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে জানিয়েছে রয়টার্স। শোকে স্তব্ধ দেশটির লোকজন। এই হামলা কেন হলো, কীভাবে হলোÑ সবার মুখে মুখে শুধু একই জল্পনা।
শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ। এছাড়া ৭ শতাংশ খ্রিষ্টান, ৯ শতাংশ মুসলিম ও ১৩ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও রয়েছে। দেশটির খ্রিষ্টানরা এতদিন যাবতীয় সংঘাত ও জাতিগত সহিংসতার প্রকোপ থেকে মুক্ত ছিল, যার ইতি ঘটলো ২১ এপ্রিলের বোমা হামলায়।
চার্চ ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় ৯ আত্মঘাতী অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে একজন নারী সদস্য ছিল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৯ জন বিদেশি। আহত হয়েছেন ৫০০ জন। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান ওয়াইজেবর্ধনে জানিয়েছেন, ৮টি স্থানে পরপর বোমা হামলায় অংশ নেওয়া আটজনকে শনাক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। নিহত জঙ্গিরা স্থানীয় মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের (এনটিজে) সদস্য, নিহতদের মধ্যে তিন আত্মঘাতী বোমারু রয়েছে বলে জানায় দেশটির পুলিশ। শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে এই সংগঠনটি জড়িত রয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছিল শ্রীলংকার সরকার।
শ্রীলংকায় ১৪০ উগ্রপন্থির সঙ্গে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
হামলার জন্য দেশটির সরকার যখন স্থানীয় মুসলিম মৌলবাদী একটি সংগঠনকে দায়ী করছে, হামলার তিন দিন পরে ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তারা এ ঘটনার মূল হোতাসহ সাতজনের ছবিও প্রকাশ করে। ওই সাতজনের মধ্যে জাহরান হাশিম নামে এক ব্যক্তিও ছিলেন। তবে দায় স্বীকার করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনটি।
শ্রীলংকার সরকার বলছে, জাহরান হাশিম কলম্বোর সাংরি-লা হোটেলে সংঙ্গী ইলহামকে নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন এবং বোমা হামলার সময় সেখানে নিহত হন বলে জানানো হয়। জাহরান হাশিম অনেক আগে থেকেই ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য বিতর্কিত ছিলেন। এমনকি তার ব্যাপারে এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়েছিল। এদিকে, ৯ জন বোমারু এই হামলা চালিয়েছে বলে জানায় শ্রীলংকার সরকার। শ্রীলংকার অপরাধ অনুসন্ধানকারী ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ আরিয়ানন্দ ওয়েলিয়াঙ্গ বলেছেন, হামলাকারীদের দেহের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মনে হয়েছে, তারা সবাই আত্মঘাতী বোমারু ছিলেন। এর মধ্যে শ্রীলংকার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আত্মঘাতী তিনজনসহ ১৫ জন নিহত হন। দ্বীপদেশটিতে এই হামলায় জড়িত সন্দেহে ১০০ জনকে আটক করেছে। শ্রীলংকায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ‘গোয়েন্দা দপ্তরের একেবারে উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছে করেই গোয়েন্দা তথ্য লুকিয়েছিলেন। কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেননি।’
সরকারের প্রধান নিরাপত্তা শাখায় সমন্বয় না থাকায় হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। হামলা সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ১০ দিন আগে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েও রাষ্ট্রপতি পক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে ঘটনা জানান নি। হামলার পর তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাকে গোয়েন্দা তথ্য না দিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা, আইন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের হাতে। এই ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকেই দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। তার দাবি, বিক্রমাসিংহের আমলেই শ্রীলংকার গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বল হয়েছে।
সরকারের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় দেশটির ‘ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত’ বা এনটিজে নামক ইসলামপন্থি সংগঠনটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় এই হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে শ্রীলংকার পুলিশ।
ওই বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ২০১৪ সালে খেলাফত ঘোষণার আগে বিদেশের মাটিতে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আইএসের প্রচারমাধ্যমে আমাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বলছেন, শ্রীলংকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ও খ্রিষ্টানদের লক্ষ্যবস্তু করে যারা হামলা চালিয়েছেন, তারা সবাই আইএস সদস্য। হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের নাম হচ্ছেÑ আবু উবাইদাহ, আবু বাররা ও আবু মুখতার।
শ্রীলংকায় সহিংসতা নতুন নয়। সত্তরের দশকে বামপন্থি বিদ্রোহ বা আত্মঘাতী হামলাকারীদের ব্যবহার করেছে তামিল টাইগাররা। গৃহযুদ্ধের ধকল বইতে হয়েছে দেশটিকে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী সুলেমান বন্দরনায়েককে গোঁড়া বৌদ্ধরা হত্যা করেছিল। তার কন্যা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গাকেও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসাকেও বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছিল। তার পরিণতিতে লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম বা এলটিটিই প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণকে যেভাবে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে শ্রীলংকান সৈন্যরা হত্যা করেছিল, যেভাবে নিঃশেষ করা হয়েছে তার দলকেÑ সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ও দেখেছে দেশটির মানুষ। কিন্তু নতুন এই হামলার নির্মমতা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। শ্রীলংকায় ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা থাকলেও, খ্রিষ্টানরা বরাবরই সব ধরনের সহিংসতা এড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে এই ধর্মে যেহেতু সব গোত্রের মানুষই রয়েছে।
শ্রীলংকায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাস এমনিতেই খুব ভালো না। ২০১৮ সালে মার্চের সহিংসতা হয়েছিল সিংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে। শ্রীলংকার মুসলমানদের মসজিদ, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কট্টর বৌদ্ধদের হামলায় প্রচুর ক্ষতি সাধন হয়েছিল। শ্রীলংকা সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছিল। ফলে ২১ এপ্রিলের হামলার সাথে মুসলিম একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের কথা প্রকাশ হওয়ার পর স্বভাবতই অনেক মুসলিম উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। শ্রীলংকার মুসলমানরা এই হামলায় স্তম্ভিত ও লজ্জিত। এখন তাদের উপাসনালয়ে সরকার পাহারার ব্যবস্থা করেছে ওই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন শ্রীলংকার অল সিলন জামিয়াতুল ওলামা (এসিজেইউ) প্রধান রিজভী মুফতি।
তিনি বলেন, আমাদের খ্রিষ্টান ভাইবোনদের ওপর নৃশংস ও ন্যক্কারজনক এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরাও তাদের দুঃখে সমব্যথী। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষও এই কাজ করতে পারে না। ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে শত শত মুসলিম লিখছেন এই সন্ত্রাসের সাথে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।’ তারাও ব্যানার নিয়ে হামলার নিন্দা করছে, আর খ্রিষ্টানদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে।
শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান ওয়াইজেবর্ধনে জানিয়েছেন, বোমা হামলায় অংশ নেওয়া আটজনকে শনাক্ত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণে জড়িত ছিল ৯ জন আত্মঘাতী বোমারু। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে এরা প্রত্যেকেই স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনজেটি)-এর সদস্য। আত্মঘাতী জঙ্গির এই দলটির বেশির ভাগ সদস্যই উচ্চশিক্ষিত। মধ্যবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফলে এদের কেউ আর্থিকভাবে দুর্বল নয়। আর এটাই উদ্বেগের বিষয়। হামলাকারীদের মধ্যে বোমা হামলায় নিহত একজনকে আবদুল লতিফ মোহাম্মদ জামিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যিনি শ্রীলংকাতে ফিরে আসার আগে যুক্তরাজ্যে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছিলেন এবং বেশ কয়েকজনের বিদেশে যোগাযোগ ছিল। কেউ বিদেশে শুধু থেকেছে, কেউ বা পড়াশোনা করেছে।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শীর্ষ গবেষক শাফকাত মুনির বলেছেন, বিশ্বজুড়েই দেখা যাচ্ছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই প্রধানত এ ধরনের সহিংস সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে। ‘এটি একটি কমন প্যাটার্ন। উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের, পশ্চিমা দেশগুলোতে লেখাপড়া করা অনেক তরুণ যুবকদের সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।’
২০১৬ সালে বাংলাদেশে হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের মাত্র দুজন বাদে সবাই বিদেশে লেখাপড়া করেছিল। বাংলাদেশের পুলিশও বিভিন্ন সময় বলেছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় জড়িতদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া, ধনী ঘরের সন্তান। শ্রীলংকা নিয়ে এ-মুহূর্তে সতর্ক আন্তর্জাতিক মহল। দ্বীপরাষ্ট্রে পুনরায় হামলা হতে পারে, এই আশঙ্কার চীন ও মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের জনগণকে শ্রীলংকায় না যেতে পরামর্শ দিয়েছে।
নিহত ও আহত বিদেশিদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। কেবল বেড়ানোর জন্য শ্রীলংকায় যান তারা। তবে বেশিরভাগ লোক শ্রীলংকান ছিল, যদিও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে কমপক্ষে ৩৯ জন বিদেশিকেও হত্যা করা হয়েছে। শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলায় সেখানে সপরিবারে বেড়াতে যাওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির মেয়ে জামাই মশিউল হক চৌধুরী বোমা হামলায় গুরুতর আহত এবং তার আট বছরের নাতি জায়ান চৌধুরী নিহত হন।
শ্রীলংকার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন।  নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। শ্রীলংকায় যে ঘটনা ঘটলÑ সবচেয়ে দুর্ভাগ্য অনেকগুলো শিশু সেখানে মারা গেল। সেখানে আমাদের জায়ানকে হারাতে হয়েছেÑ এ জঙ্গি সন্ত্রাসের কারণে। আমরা জঙ্গিবাদ চাই না, আমরা শান্তি চাই। ভয়মুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত পৃথিবী চাই। প্রত্যেক মানুষেরই তার ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকার রয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি ধর্মের মানুষই চায় স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা। কিন্তু কিছু নরকের কীট সে-পথে বাধা। ধর্মের বিষবাষ্প ছড়িয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে, ওরা সমাজে ভীতি সঞ্চার করে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা বা মতবাদ জোর করে চাপিয়ে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। উগ্র ধর্মান্ধদের হিংসার বলি।
আমরা এই ঘটনায় হতাহত সবার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তাদের নিকটজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। শ্রীলংকা সরকার এবং জনগণের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী উভয়ের ব্যক্তিগত রেষারেষি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ওপর কালো ছায়া ফেলছে। নেতাদের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া; কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আর তাদের ব্যর্থতার মূল্য সাধারণ নিরাপত্তা মানুষ দিয়েছে নিজেদের জীবন দিয়ে।
পরিশেষে বলতে হয়, শ্রীলংকার এই ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার পেছনের কারণ সহজ-সরল না। জাতিগত হিংসার ইতিহাস এবং রাষ্ট্র কাঠামোতে বিরাজমান দ্বন্দ্বের আঙ্গিকে পর্যালোচনা করলে ঘটনার পেছনের ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা গভীর বিশ্লেষণ উঠে আশা সম্ভব। কোনো ঘৃণা নয়, বিদ্বেষ নয়, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মমত্ববোধÑ সেটাই হোক একমাত্র সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের চাওয়া।

Category: