Blog Archives

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে

Posted on by 0 comment

দলের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। এ জন্য আমরা আট বিভাগের জন্য ৮টি কমিটি করেছি। কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর। আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে, দলের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসঙ্গে বসেছি। সেইসঙ্গে আমরা আর একটি কাজ করতে চাই, ইতোমধ্যে আমাদের সভাপতিম-লীর মিটিং করেছি, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্যদের নিয়ে ৮টি বিভাগে পৃথক কমিটি গঠন করেছি। তিনি বলেন, কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। কোথায় কমিটি আছে বা না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় ক্ষমতাসীন সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এ লক্ষ্যেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা সরকারিভাবেও কমিটি করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। দলের পক্ষেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা একটা কমিটিও করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলামÑ আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এ-সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই বৈঠকে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিক তাকান দেখবেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যেটা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এবার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানায়। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে, তাদের সেবা করার জন্য মানুষ ভোট দিয়েছে।
বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাতের অবস্থান কী? যেহেতু সামরিক স্বৈরাচার ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করেছে একটা ব্যবসা। মনোনয়নের টিকিট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে; কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না। যার জন্য নির্বাচনে তাদের এই হাল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। আর বিএনপি নির্বাচন করেছে মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্য। মনোনয়ন বাণিজ্য করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে। যার জন্য তাদের এই হাল। বিএনপি-জামাত আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা হোক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এসবই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।
এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবার ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকলে এই উৎসবটা পালন করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা জাতির পিতার নেতৃত্বে যখন উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করে তখনই ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা ঘটে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সেই স্বাধীন রাষ্ট্র, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে যখন জাতির পিতা যাত্রা শুরু করেন, ঠিক সেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে এবং জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯টি বছর, প্রথমে ২১ বছর। এরপর আবার সাত বছর। এই জাতির জীবনে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। এ-সময়ে কাক্ষিত কোনো অগ্রগতি দেশের মানুষের জীবনে হয়নি।
তিনি বলেন, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করেছে তখনই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ’৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতা আসে আওয়ামী লীগ, এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। আমরা ৪০ থেকে ২১ শতাংশে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি।

Category:

গল্পটি জীবিত লাশের

Posted on by 0 comment

PMমোজাফ্ফর হোসেন: ‘মরা না জুটলি কেমনে বাড়ি যাই! লাশটা কেউ পেড়ি দাও, পায়ে পড়ি। আল্লা গো, এ তুমার কেমুন বিচার?’ বুক চাপড়াতে চাপড়াতে কাঁদে দু’জন মা। নির্মাণাধীন হাজী রহমত টাওয়ারের চৌদ্দতলায় ঝুলে আছে লাশটি। তৃতীয় দিনে পড়ল। প্রথম প্রথম পরিবারটির বেশ ক’টি দাবি ছিল। এখন দাবি একটাইÑখালি লাশটা চায় তাদের। দাফন-কাফনের যা খরচ হয় তার সবটাই জোগাবে তারা। লাশ নামাতে যদি কোনো খরচ হয়, তাও দিতে রাজি আছে লাশটির পরিবার। পরিবার বলতে আছে শুধু লাশের বৃদ্ধ মা, শাশুড়িÑসে আরও বৃদ্ধ, কমবয়সী বৌ আর কোলের মেয়েটা। এই হলো লাশটির গুষ্টিসুদ্ধ লোকজনÑগুষ্টিতে একজনই পুরুষ ছিল, তাও এখন প্রাণহীন ধড় নিয়ে ঝুলে আছে। এই পরিবারে পুরুষরা বরাবরই টেকেনি। ‘রাইডার্স টু দ্য সি’ নাটকটির মতো। তোমরা যারা নাটকটি পড়োনি, তাদের বলিÑসেখানে, একটি পরিবারে একজন বৃদ্ধ মা আর তার দুই মেয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেÑগুনে গুনে ন’জন পুরুষকে সাবাড় করে রাক্ষুসে সমুদ্র। বৃদ্ধ মা কাঁদতে কাঁদতে নির্বাক হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নিজেকে সান্ত¡না দেন এই বলে যে, তাকে আর কারও জন্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে হবে না। তিনি এখন সুখী, যেহেতু তার হারানোর আর কেউ থাকল না। গল্পটা এমনই মর্মস্পর্শী এবং একপেশে। রোমান্স আর সাসপেন্স বলতে ছিটেফোঁটাও নেই। কিন্তু আমার এই গল্পে কিছুটা হলেও বৈচিত্র্য আছে। ‘রাইডার্স টু দ্য সি’ নাটকটিতে একক ভিলেন সমুদ্র; কিন্তু এখানে আমরা ভিলেন হিসেবে কয়েকটি পক্ষকে খাড়া করতে পারি, চরিত্র কখনও কখনও নিজেই ভিলেন হয়ে আমাদের সামনে এসেছে। যারা অদৃষ্টবাদী তারা অদৃষ্টকেও দোষ দিতে পারেন।
ফিরে যাচ্ছি গল্পে। লাশটির বাবা মাটি কাটার কাজ করত। একদিন না খাওয়া শরীর নিয়ে মাটি কাটতে কাটতে হঠাৎই উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘খিদেয় শরীরটা প্যাঙটা হয়ি আসছি।’ পেটে হাত দিয়ে বসে পড়ল সে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওখানেই শেষ। নীল হয়ে যাওয়া শরীর দেখে কেউ কেউ সন্দেহ করছিলÑখিদে নয়, সাপের দংশনে মারা গেছে সে। সাপের দেখা কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেলেনি। তারপরও আপনারা সাপকেই ভিলেন হিসেবে ভাবতে পারেন, আর খিদেকে দায়ী করতে হলে, বের করতে হবে তার খিদের পেছনে দায়ী কারা? সেক্ষেত্রে আবার কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসার সম্ভাবনা আছে। অর্থাৎ ঘুরেফিরে সাপই দায়ী; কী বলেন?
লাশের ভাইটার শখ জাগল বাংলা সিনেমার নায়ক হবে। গরিবের ঘোড়ারোগ আর কি! কে যেন কবে মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল, ‘ছেলিটা দেখতি বোম্বের হিরু অক্ষয়ের মতোÑযেমনি গতর তেমনি সুরুত!’ পাকা আমে ঢিল মারল তার এক পড়ালেখা জানা বন্ধু। কোথা থেকে যেন সে আমদানি করলÑঅক্ষয় কুমার হোটেলে বাসন-কোসন মাজার কাজ করতে করতে নায়ক বনে গেছে! তারপর সে ক’দিন বাড়িতে থালাবাসন ভেঙে গাঁ ছাড়ল। সেই যে গেল আর ফেরেনি। বেচারা মা-টা টেলিভিশনে টেলিভিশনে কত সিনেমা দেখল, আজও ছেলের সন্ধান পেল না। এখনও ফিল্মের পোস্টার দেখলে তাকিয়ে দেখে, চেহারায় মিললে রাস্তায় লোকজন জড় করে নামটা জিজ্ঞেস করে। লাশটির ভাইটার নিরুদ্দেশের পেছনে নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না। একবার অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছে বলে খবর হয়েছিল, আর একবার শোনা গেল র‌্যাবের ভুল ক্রসফায়ারে পড়েছেÑওই শোনা পর্যন্তই, কোনো দফারফা হয়নি।
লাশের শ্বশুরটা গেছে ওপারেÑপরপারে নয়, অন্য এক নারীর হাত ধরে ভারতে। আর ফেরেনি। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কেউ পড়লেই পরিবার কান খাড়া করত; একবার একটা লাশের বর্ণনা হুবহু মিলেও গিয়েছিল, কিন্তু অন্য এক পরিবারের দাবি বেশি পোক্ত হওয়ায় লাশের পরিবার আর এগোতে পারেনি। আর লাশের দাদার সম্পর্কে যা শোনা যায় সবটাই শোনা কথা। সৌদিতে কাজ করতে গিয়ে বছর বছর আসার কথা থাকলেও আর আসেনি। সে নিয়ে আবার কত কেচ্ছা! কেউ বলে সৌদিতে চুরি করতে গিয়ে হাত কাটা গেছে, কেউ বলে ফিলিপাইনে এক নারীর সাথে প্রেম করে ধরা পড়েছিল, সৌদি আইনে যা হওয়ার তাই হয়েছে! শেষ আপডেট ছিল, তাও অবশ্য বছর পঁচিশেক আগে, এলাকার একটি ছেলে তাকে জেদ্দায় দেখেছে, একটি ফলের দোকানে কাজ করছে, বয়সের ভারে নতজানু; কিন্তু ছেলেটিকে সে চিনতে পারেনি, বাংলা বুঝতে পেরেছে; কিন্তু উত্তর দিয়েছে আরবিতে। দোকানের সহকর্মীদের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তারা বলেছে যে, বৃদ্ধ সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। হঠাৎ হঠাৎ আসে কিছুদিন কাজ করে আবার গায়েব হয়ে যায়।
লাশের বৌয়ের পেটেও একটা পুরুষ বাচ্চা ধরেছিল। অপুষ্টিতে কুঁড়ি অবস্থাতেই ঝরে গেছে। এখন এই দুই বংশ মিলে বাকি ছিল খালি লাশটা। তখন তো আর সে লাশ ছিল না! ছিল জলজ্যান্ত-শক্তসামর্থ্য পুরুষ। ঢাকায় ভবন নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে কাজ করত। এই শহরের প্রায় অর্ধশত বহুতল ভবনের ফিটফাট দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে তার অবদানের কথা কেউ না জানলেও তার জালি বৌটা জানে। জানে কারণ, লাশ আর তার সাঙ্গপাঙ্গ মিলে একটা একটা করে ভবন নির্মাণ করে আর লাশটা তার বৌয়ের কাছে সেই বাড়ির কত কেচ্ছা বনে! এ নিয়ে তাদের সংসারটাও চলছিল বেশ। অর্ধেক বস্তি গুঁড়িয়ে যে ভবন নির্মাণ হলো কিছুদিন আগে, সেখানেও কাজ করেছে লাশটা। নিজের ঘর ভেঙে অন্যের ঘর গড়াতে হাত লাগিয়েছে সে। কোলের মেয়েটার তখন বোল ফুটতে শুরু করেছে। বস্তিপাড়ার ছেলেবুড়ো যার কোলেই ওঠে, খানিকটা ভাষা, খানিকটা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে, এটা তার বাড়ি, বাবা তৈরি করছে যে! তারপর ও বাড়িটা হলে আরেক বাড়িতে হাত দিয়েছে লাশটা। মেয়েটা আস্তে আস্তে বুঝে নিয়েছে, শহরে তাদের মেলা বাড়ি; কিন্তু ওখানে থাকলে আর সব বাড়ি বানাবে কে? তার বাপের বাড়ির খিদা, মেলা বাড়ি চাই তার! তার মতো এত এত বাড়ির মালিক এই শহরে দুটো নেই। লাশটি বোঝায়, মেয়েটিও বোঝে। এমনই সম্পর্ক তাদের।
লাশের যেদিন জন্ম হয় বাংলাদেশের বয়স সেদিন পাঁচ মাস পূর্ণ হলো। লাশ যখন পেটে, লাশের বাবা তখন যুদ্ধে। লাশের মায়ের ফেঁপে ওঠা পেট দেখে কত মানুষের কত কথা! মা সব নীরবে সয়েছে আর আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছেছে। যুদ্ধফেরত বাবা এসে যেদিন সবার দিকে বন্দুক-নলা তাক করে ঘোষণা দিল : এ আমার সন্তান, আমার রক্ত, কার সাধ্য দেখি কথা বলে, সেদিন থেকে সবার মুখ বন্ধ। আর কোনো দিন সে মুখ খোলেনি। তবে গাঁয়ে এই মরার খবর পৌঁছালে কয়েকজন বয়স্ক মহিলা ইশপিশ করে কী যেন বলতে চেয়েছিল। সেও পরিষ্কার করে কোনো কিছু না। আপাতত তাদেরও শঙ্কা, গায়ে মাটি পড়বে তো!
মেয়েটি ঘাড়ের ব্যথাটা একটু প্রশমিত হলেই ফের তা বাড়িয়ে তুলছে বাবার দিকে তাকিয়ে থেকে। লাশের মা এখন যাকে পাচ্ছে তারই হাত পা ধরে বলছেÑ ‘স্যার, একটা ব্যবস্থা করেন না! ছেলি আমার শুকি গেল। আল্লা-মাবুদের নাম নি, ওর গায়ি ক’টা মাটি দেব গো সাহেব। ও সাহেব! দোহাই লাগে…।’ শাশুড়িরও জনে জনে একই আবদার। আর কচি বৌটা টাওয়ারের যেখান দিয়ে মিস্ত্রিরা নেমে আসে ওখানটায় চুপ করে বসে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, সে কারও জন্যে অপেক্ষা করছে যে যেকোনো সময় এই পথ ধরে নেমে আসতে পারে। এই মৃত জগতের সঙ্গে তার কোনোই লেনাদেনা নেই।
এই ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষের লোকজন আর এদিকটায় আসছে না। সাথের শ্রমিকরাও আপাতত কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। পুলিশি ঝামেলার কারণে লাশটি ছুঁয়েও দেখেনি তারা। প্রতিদিন জনতা জড় হচ্ছে, বদলাচ্ছে, থেকে যাচ্ছে শুধু চারটি চার বয়সের নারী আর ওই বাঁশের মাথায় বাদুড় ঝোলার মতো করে ঝুলে থাকা লাশটা।
পুলিশের লোকজন এসে তদন্ত করে গেছেন। তদন্ত মানে এটা-ওটা জিজ্ঞাসা। লাশটির সঙ্গে উপস্থিত মানুষগুলোর সম্পর্ক, তাদের বাড়ি কোন অঞ্চলে, লাশটি কত দিন থেকে এসব কাজ করছে, তাদের আর কে কে আছে, লাশটির ভালো নাম কী, তারা কাউকে সন্দেহ করছে কি না, সঙ্গের কারও সাথে তার বিবাদ ছিল কি নাÑএইসব দরকারি জিজ্ঞাসা! সাথের শ্রমিকরা আগেই জানিয়েছে যে, কাজ করতে করতে দশতলা থেকে পা ফসকে পড়ে গিয়ে নিচের আটতলার বাঁশের সঙ্গে গেঁথে গেছে। সব শুনে অফিসার পান চিবোতে চিবোতে মহাপ-িতের মতো বলেছেনÑ‘সেই!’ আর কোনো কথা তিনি বলেন নি। তারপর গাড়ি হাঁকিয়ে ফিরে গেছেন থানাতে। মালিকপক্ষের লোকজনের সাথে যা কথা হওয়ার ওখানেই হয়েছে। সরকারি পক্ষের আর কেউ আসেনি এদিকটায়। প্রথম দিনই লাশের শাশুড়ি গিয়েছিল থানাতে।
‘হুজুর, হেই আমাদের পেট চালাতুক। ওইটুকুন একটা মেয়ি। এখুন কী করি চলবি আমাদের? হাতে কুনো টাকাকড়িও নেই যে গাঁয় ফিরি যাব।’ পুলিশ শুনে বলেছেনÑ‘ঠিক আছে, হাজি রহমান সাহেবকে বলে কিছু টাকা নিয়ে দেব, যাও। ওদিকটাই থাকো। আমরা দেখছি কী করা যায়।’ তারপর তিন দিন হলো আর তাদের খোঁজ নেই। আজ সকালে আবার থানায় গিয়েছিল লাশের মা। এখন দাবি একটাইÑ‘হুজুর, ছেলিটা খালি নামানুর ব্যবস্থা করেন। নামি দেন, আমরা গাঁয়ির মানুষ গাঁয়ি চলি যাই। আর আপনাগো জ্বালাতন করবু না। মেলা কাজ আপনাদের। খালি একবার নামানুর হুকুমটা দেন।’ পুলিশ বুঝিয়ে বলেছেÑ‘অত ওপরে লাশ! চাইলেই তো আর নামানো যায় না। অনেক বন্দোবস্ত করতে হবে। আমাদের তো আর একটা কাজ না। আর তাছাড়া, আজকের আবহাওয়াটা বিশেষ সুবিধার না। তুমি যাও, একটু বাতাস হলে পড়েও যেতে পারে।’
দুপুর গড়িয়ে রাত নেমে এলো; বাতাস আর হয় না। পুলিশ মিথ্যে বলেনি, হালকা মেঘ আকাশে ছিল। একটা ঝটকা বাতাস হলে হতেও পারতÑকিন্তু হয়নি। ঝড়েরও দোষ না, শীতকালে এমন অল্পবিস্তর মেঘে সে চাইলেই আসতে পারে না। সবখানেই একটা নিয়ম আছে। মানুষের সুবিধে-অসুবিধে বুঝে সেই নিয়মের অদল-বদল হয় না। তবে এও ঠিকÑশীতকাল না হলে এতক্ষণ লাশের গন্ধে এখানে টেকা মুশকিল হয়ে পড়ত। রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। এ-বাঁশ সে-বাঁশ চুঁয়ে রক্ত খানিকটা মাটিতে এসে পড়েছে। লাশটির মা ওই কালো জায়গা আগলে বসে প্রলাপ বকছেÑ‘আমার তাজা ছেলিটা! আমার নিষ্পাপ ছেলিটার একি হাল হলু খুদা! এ কুন পাপের সাজা রে মাবুদ? আমার মতো আধমরা মানুষ থাকতি, ওমুন তাজা প্রাণ কেনে নিলি, মাবুদ রে?’
কাঁদতে কাঁদতে আর না খেয়ে খেয়ে নিচের মানুষগুলোরও প্রায় লাশের দশা। এ কয়দিনে কে বলবে কচি মেয়েটার বয়স বিশ না, চল্লিশ! বাচ্চাটাকে রাস্তার এ ও এটা-সেটা কিনে দেয়, সে তার বাপজান, মা, দাদি, নানি সবার জন্য ভাগ করে আর একটা একটা করে খায়। নানি তার মাথায় হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলেÑ ‘তোর বাপ আর আসবি না রে মুখপুড়ি! এখুন থেকি তোকে লোকের কাছে ভিক্ষি করিই খেতি হবি। কি পুড়া কপাল নি জন্মালি রে…! প্যাটেই মরি যেতি পারলিনি? এসব দেখার আগে আমার কেনে মরণ হলু না, মরি গেলি এই আমি মাগি তো বাঁচতাম।’
‘মরি গেলি কেউ বাঁচে না-কি নানি?’Ñবাচ্চা মেয়েটা পাকা বুড়ির মতো বলে।
‘বাঁচে বাঁচে, গরিব মরি গেলিই বাঁচে’Ñ কান্না মিশিয়ে উত্তর দেয় নানি।
চার দিনে পড়েছে। আজ বিকেলে ব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল। ওদিকে আবার এয়ারপোর্টে ডেডবডি এসেছে দেশের এক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সাবেক মন্ত্রীর। দেশ-বিদেশের যত ডাক্তার মিলেও আর শেষ রক্ষা করা গেল না। এ-পথ দিয়েই নিয়ে যাওয়া হবে তার মরদেহ। রাস্তাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা। দুদিনজুড়ে জানাজা হবে স্থানে স্থানে। দেশবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলে তবেই তার দাফন হবে। রাজধানীর পুলিশ-প্রশাসনের কত কাজ ওখানে! লাশের বৌ ওপরে ওঠার পথে মাথা রেখে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। মেয়েটির মাথা আটকে গেছে ওপরেই, এখন নিচে তাকালেই তার ব্যথা করছে ঘাড়জুড়ে। দুই বৃদ্ধা কুকুরের মতো জড় হয়ে জমে আছে। শৈত্যপ্রবাহ চলছে, চলবে আরও ক’দিন। এখন খালি বাড়ি ফিরতে চায় ওরা, কিংবা কোথাও ফিরতে চায় না আর। লাশ নিয়ে ওদেরও আর ভাবনা নেই।
গল্পটি আমি এখানেই শেষ করতে পারতাম, ইনফ্যাক্ট সেটাই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটা অল্পবয়সী ছোকরা এসে বাদ সাধল। ছেলেটির নাম মো. আব্দুল গণি। একালের ছেলের সেকেলে নাম। আব্দুল গণিকে চেনে না, এমন মানুষ এখন দেশে দুটো পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। আব্দুল গণি এক সাবেক রিকশাচালকের ছেলে। ওর বাবার নাম মীর আক্কাস আলী। বর্তমানে সিএনজি চালায়। থাকে মিরপুরে। আমি চাইলে বাড়ির নম্বরটাও বলে দিতে পারি; কিন্তু সেটার আর দরকার আছে বলে মনে করছি না। আব্দুল গণি পড়ছে মিরপুর বাংলা কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স। ছাত্র ভালোও না, খারাপও না। আবার মাঝামাঝি বলেও উল্লেখ করেনি কোনো শিক্ষক। ‘তয় নেক বান্দা’, আব্দুল গণির মাধ্যমিকের ধর্ম-শিক্ষক এক টেলিভিশনের টকশোতে স্কাইপিযোগে জানিয়েছেন। ভাবছেন, লাশের গল্পে আবার আব্দুল গণি এলো কি করে? এলো কারণ, গল্পের এ পর্বের নায়ক এই আব্দুল গণি। ও সেদিন ফিরছিল চিড়িয়াখানা থেকে, ডেটিং শেষ করে, বেশ খোশমেজাজে। মেয়েটির নামÑ? না থাক, অন্তত এই প্রাইভেসিটুকু থাকা উচিত! যাওয়ার সময় গিয়েছিল সিএনজিতে, ফিরবে লেগুনাতে। তার আগে একটু হালকা হওয়া দরকার। ঝুলে থাকা লাশটির নিচে গিয়ে দাঁড়াল। জল বিয়োগের মাঝপথে একটু উদাস হয়ে ওপরের দিকে ঘাড় তুলে তাকাল। কিছু একটা ঝুলে আছে। দু-তিনটা কাক বসে মাতামাতি করছে। একটা বিদঘুটে গন্ধ এতক্ষণে নাকে এলো। বেশি কিছু না ভেবে, জিপারটা আটকে পকেট থেকে পকেট-মারের কাছ থেকে সদ্য কেনা সিমফোনির স্মার্টফোনটা বের করে কয়েকটা ছবি তুলে নিল, সেলফি স্টাইলে নিজের মুখটাও নিয়ে নিল কায়দা করে। কোনো রকমে এলো ছবিটা। ভাবনাটা এলো লেগুনার চাপাচাপিতে। পকেট থেকে আবারও মোবাইলটা বের করে ফেসবুক ওপেন করে ছবিটা একটা ক্যাপশনসহ পোস্ট করে দিল। ক্যাপশনটা ছিল বেশ আবেগের, বাংলিশে লেখা-haire Shohor! Akta lash jhule ache, othocho karo kono mathabetha nai. Bechara এটা পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর তার নতুন একটা ক্যাপশন মাথায় এলো, এডিট করে দিল ক্যাপশনটি-Amra boli Shobvota toiri hoi mojurer ghame. Akhon dakchi mojurer lashe! এই ক্যাপশনসহ ছবি শেয়ার দেয় আব্দুল গণির বন্ধুতালিকায় থাকা প্রায় সকলে। সেখান থেকে আবার আরও অনেকে। সংবাদ হয়ে যায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে। কেউ কেউ গণির পোস্ট করা ছবি ও ক্যাপশন ব্যবহার করে। দুপুর তিনটার ঘটনা। সন্ধ্যে ৭টার মধ্যে লাশটির নিচে, ওপরে, ডানে, বামে ক্যামেরায় ভরে যায়। লাইভ টেলিকাস্ট হতে থাকে চ্যানেলগুলোতে। মনের মাধুরী মিশিয়ে রিপোর্ট করতে থাকেন সাংবাদিকরা। কয়েক সেকেন্ডে ঘটনাটা রাষ্ট্র হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আঞ্চলিক বিভাগেও খবরটি আসে। তবে তাদের খবরের বিষয় ছিল লাশটি নিয়ে নয়, একটি লাশ নিয়ে যে দেশজুড়ে মাতম তা নিয়ে। একটি সংবাদমাধ্যমে ছবির ক্যাপশন ছিল-A Hanging Body, Whole Country after it. আর একটা সংবাদমাধ্যম ডাবল মিনিং করে ক্যাপশন দিয়েছে-Bangladesh is Hunging with a Body.
লাশটির মা-বৌ-মেয়ে-শাশুড়ি বাড়ি ফিরছিল। তখন গোয়ালন্দ ফেরিঘাটে। একটি চায়ের দোকানে টেলিভিশনে বলতে শোনে। তারা বুঝে উঠতে পারে নাÑযাবে, না ফিরে যাবে। সামনে বা পেছনেÑকোনো দিকেই পা বাড়ানোর পর্যাপ্ত টাকা তাদের হাতে নেই। কিছুক্ষণের মধ্যে সাংবাদিকদের বায়োবীয় চোখ উদ্ধার করে তাদের। দেশবাসী ফেরিঘাট থেকে লাইভ দেখে মা-বৌ-মেয়ে-শাশুড়ির শুকনো চেহারা। ভয়ে ভয়ে তারা কথা বলে, যেন কিছু একটা অপরাধ হয়ে গেছে। এদিকে টেলিভিশনের টক শো নায়ক তখন আমাদের সেই আব্দুল গণি। গণিকে এই ঘটনার উদ্ধারকর্তা হিসেবে ডাকতে শুরু করেছে চ্যানেলগুলো। গণি জানিয়েছে, লাশটি নামানোর ব্যাপারে তৎপরতা শুরু করলে, একটি অজ্ঞাত মহল থেকে তাকে হুমকি দেয়া হয়। ফলে পুলিশ তার সিকুইরিটির ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে।
ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে লাশটির মা-বৌ-মেয়ে ও শাশুড়িকে। রাত দুটোয় পুলিশ ও র‌্যাব বাহিনীর উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লাশটি নামিয়েছেন। বিকাল থেকেই আনকাট লাইভ চলছে। কিছু কিছু চ্যানেল গিয়ে অবস্থান নিয়েছে নির্মিতব্য ভবনটির মালিকের বাসভবনের গেটে।
অবশেষে সরকারিভাবে লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরদিন লাশটির পরিবারের দাবি-দাওয়া নিয়ে বাম ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন, লেবার ইউনিয়নের একটা খ-াংশ রাজপথে দাঁড়িয়েছে। টকশোতে বুদ্ধিজীবীরা এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। এর আগে এ ধরনের যত ঘটনা ঘটেছে সেগুলো টেনে এনে এর ঐতিহাসিক ডিসকোর্স চলছে। লাশটির পরিবারের নারীগুলোকেও টেলিভিশনে ডাকা হয়েছে। মুখে পাউডার লাগিয়ে পর্দার সামনে কান্নাকাটি করছে তারা। সত্যিই কাঁদছে না-কি কাঁদতে হচ্ছে, সেটি বোঝা যাচ্ছে না। একসময় তাদের কান্না কেউ শোনেনি, এখন গোটা দেশবাসী শুনছে। তাই কান্নাটা যাতে ভালো দেখায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তাদের স্ক্রিপ্ট মুখস্ত করিয়ে সেটের সামনে আনা হচ্ছে। একেকটি চ্যানেলের স্ক্রিপ্ট আবার একেক রকম, একেক রকম এজেন্ডা তাতে। অত সব না বুঝে, হাতে কটা নগদ টাকা পেয়েই খুশি থাকতে হচ্ছে লাশটির পরিবারকে। সরকার থেকেও দুটো ছাগল দেয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। যেহেতু ভবনটি ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার। তাই বিরোধী দল এটিকে ইস্যু করে সরকার পতনের আন্দোলনে নামা যায় কি না, তা নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করছে। তারা বিবৃতি দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেÑএই সরকার মানুষ মারার সরকার। এদেশের জনগণ এমন সরকার চায় না। যে সরকার পরিকল্পনা করে মেহনতি মানুষকে হত্যা করে, সেই সরকারের পতন অনিবার্য। এরপরও যদি সরকার গদি থেকে স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ায়, তবে লাগাতার হরতাল কর্মসূচি দেয়া হবে।
এদিকে ক্ষমতাসীন দল থেকে বলা হচ্ছে, এই নির্মম-নৃশংস খুনের পেছনে বিরোধী দলের হাত আছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থামাতে তারা পরিকল্পনা করে শ্রমিকদের টাকা দিয়ে এই হত্যা করেছে। জনগণ এমন জালিম ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দলকে ভবিষ্যতে কখনোই ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, অচিরেই তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
আমরা আবার ফিরে যাব আব্দুল গণির কাছে। সে এখন ভীষণ খুশি, আবার অসুখীও। তার হাতে এখন স্যামসাং স্মার্টফোন। প্রেমিকাকেও কিনে দিয়েছে সেইম সেট। ফুলটাইম সিএনজিতে ঘোরে। সাবধানে থাকতে হয় তাকে, মাঝে মাঝেই হুমকি আসে উড়োভাবে। সে এখন নিজেকে ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই পরিচয়টা তার নামের সাথে কারা যেন একটু একটু করে জুড়ে দিয়েছে। শঙ্কামুক্ত ব্লগার আন্দোলনেও এখন তাকে ঘটা করে দাঁড়াতে হচ্ছে।
লাশটির পরিবারের শেষ অবস্থার কথা জানিয়েই গল্পটির ইতি টানছি। তারা এখন নিজ বসতভিটায়Ñসর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসার অবস্থায়। টাকা-পয়সা যা কিছু হয়েছিল, দুর্বৃত্তরা বাড়ি ঢুকে ছিনতাই করে নিয়েছে। অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করেছে লাশটির বৌকে, গণধর্ষণ। বাকি তিনজন নারী ধর্ষণের অনুপযুক্ত বলে মন খারাপ করে দৃশ্যপট ছেড়েছে নিরুপায় দুর্বৃত্তরা। এসব খবর অবশ্য জনসম্মুখে আসেনি। কারণ, কথিত দুর্বৃত্তরা এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে গায়েব করে দিয়েছে লাশটির পরিবারের অবশিষ্ট গল্প।

Category:

বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত ১০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে পণ্য রপ্তানি বাবদ অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছেÑ বাগেরহাটে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সিগঞ্জে আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন এবং কিশোরগঞ্জে কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার প্রতিবেদনে ১০টির কথা বলা হলেও বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর দাবি, ১০টি নয়; বরং মোট ১৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বেশির ভাগই বেসরকারি খাতের। এগুলো বাদে মোংলায় শিল্প হচ্ছে, মিরসরাইতে শিল্প হচ্ছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে মৌলভীবাজার এবং ফেনীও। সব মিলিয়ে ১৪টি অঞ্চল বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বেজা এ-মুহূর্তে ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় মোংলা সমুদ্রবন্দর ও মোংলা ইপিজেডের পাশে ২০৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চলটির উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লিমিটেড। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংযোগ সড়ক, ব্রিজ, সুপেয় পানি সরবরাহ লাইন, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে বেজা। এর অভ্যন্তরে সীমিত আকারে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। তবে শিল্প-কারখানা স্থাপন শুরু হয়নি এখনও।
বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ৩৫২ একর জমির ওপর অবস্থিত শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, যার পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ, উত্তরে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৪২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি খাতের আরেক অর্থনৈতিক অঞ্চল আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের মাধ্যমে এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে হোন্ডা মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ফিন্যান্স কমার্শিয়াল শাহ মোহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, আমাদের বিনিয়োগ প্রকল্প বেজার সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আছে, গ্যাসের জন্যও আবেদন করা আছে। দ্রুতই সংযোগ পাব বলে আশা করছি। গ্যাস-বিদ্যুৎসেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে পারলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে ৬৮ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মেঘনা ইকোনমিক জোন। যদিও এর জন্য ২৪৫ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৯৩ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অনুমোদিত শিল্প ইউনিট রয়েছে ১০টি। এরই মধ্যে পেপার অ্যান্ড পাল্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কেমিক্যাল প্লান্ট, ডাল ও আটা মিল স্থাপন করা হয়েছে সেখানে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠা করা আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন। প্রায় ৭৬ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে প্রায় ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এরই মধ্যে বেভারেজ, ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট পেপার ব্যাগ উৎপাদন শুরু হয়েছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে।
‘বে গ্রুপ’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বে ইকোনমিক জোন লিমিটেড’। মোট ৬৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গাজীপুর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে গাজীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত। ২০১৭ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত লাইসেন্স পায় এটি। উন্নয়ন ব্যয়সহ এই অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের সরাসরি বিনিয়োগে স্থাপিত হয়েছে খেলনাপণ্য তৈরির কারখানা ‘মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড’। এই কারখানার উৎপাদিত পণ্য এখন রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকায় ৮৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আমান ইকোনমিক জোন। উন্নয়ন ব্যয়সহ এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৩২ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। সেখানে স্থাপিত শিল্প-কারখানার মধ্যে আছে সিমেন্ট কারখানা, প্যাকেজিং এবং শিপ বিল্ডিং।
আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে শিল্প স্থাপন শুরু হয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে। এখন সিমেন্ট, প্যাকেজিং ও শিপ বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। গ্যাসের আবেদন করেছি, আশা করছি দ্রুত সংযোগ স্থাপন হবে। গ্যাস পাওয়া গেলে আরও অনেক বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে। অনেক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
সিটি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটি ইকোনমিক জোন লিমিটেড। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৮১ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর এটি অবস্থিত। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ হাজার ডলার।
জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দেশের সর্বপ্রথম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড) লিমিটেড। গত ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে এটি। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে তোলা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টনেজ (ডিডব্লিউটি) ক্ষমতাসম্পন্ন এই ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন। প্রকল্পটিতে সমুদ্রগামী জাহাজ মেরামত ও নির্মাণ শিল্পের বিকাশসহ বৈদেশিক বিনিয়োগের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১২ কোটি ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বলা হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন দুর্বলতা এখনও কাটেনি। ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলেও তা নিরবচ্ছিন্ন হয়নি। গ্যাস প্রাপ্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি অনেক অঞ্চলে। বেসরকারি খাতের যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে আছে পুরনো শিল্প এলাকা থেকে রূপান্তর হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এখনও শিল্প স্থাপন হয়নি।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিনিয়োগের জন্য প্রকৃত অর্থেই প্রস্তুত অর্থাৎ যেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধা সবচেয়ে দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, এমন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। এ-রকম ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলও যদি পুরোপুরি সক্রিয় করা যায়, তাহলে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। এ ধারাবাহিকতায় দ্রুতই ১০০টি অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

Category:

ক্রিকেটারের জন্য শুভকামনা প্রধানমন্ত্রীর

Posted on by 0 comment

PMঅনিন্দ্য আরিফ: গত ৩০ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ত্রিদেশীয় ও বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা। মাশরাফিদের শুভকামনা জানিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা মাথা ঠা-া রেখে খেলবে। কোনো রকম টেনশন নেবে না। লম্বা সময় সেখানে থাকতে হবে। মনোযোগ ধরে রাখবে। এক ম্যাচ হেরে গেলে পরের ম্যাচে জয়ের জন্য চেষ্টা করবে।’ বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জিতবে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা মিলিয়ে ৬০ জনের প্রতিনিধি দল গণভবনে উপস্থিত হয়েছিল।
প্রলম্বিত সফর। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে আড়াই মাস। এ-সময় ধৈর্যটা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসে একই টেবিলে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেছেন ক্রিকেটপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী। আলাপ করেছেন ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে। ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশেষ সুনাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
বিশ্বকাপ খেলার আগে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড করা হলেও ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৯ সদস্যের দল পাঠাচ্ছে বিসিবি। এই আসরের জন্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৫ জনের সঙ্গে আছেন ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বি, অফস্পিনার নাইম হাসান, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা ও পেসার তাসকিন আহমেদ। ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য প্রথমে ঘোষিত ১৭ সদস্যের দলে ছিলেন না তাসকিন ও ফরহাদ।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ মে ক্লন্টার্ফে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয়রা। একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল দুবার করে পরস্পরের মুখোমুখি হবে। সেরা দুই দল ফাইনাল খেলবে ১৭ মে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দু-সপ্তাহ পর বিশ্বকাপ লড়াইয়ে নামবে মাশরাফিরা। মূল লড়াইয়ের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ২৬ মে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ২৮ মে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ২ জুন। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
স্বপ্ন নিয়েই জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটের ১২তম আসরে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। টার্গেট দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার। আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। অধিনায়ক ক্রিকেটপ্রাণ মাশরাফি বিন মোর্তুজা। এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। এটা নিজেও বলেছেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’
বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহামুদ উল্লাহ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান, সাব্বির রহমান, রুবেল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, মোসাদ্দেক হোসেন।

Category:

বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

Posted on by 0 comment

PMআরিফ সোহেল: ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া; আর না খেলে প্রকৃতির কল্যাণে শিরোপার ভাগ পাওয়ার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। তবে প্রকৃতির কারণে মাঠে এমন ঘটনা নতুন নয়। খেলা নয়; প্রকৃতি নিজ দায়িত্বতে শিরোপা তুলে দেয় ভাগ্যবানদের। ঠিক তেমন এক বাধা ‘ফণী’ সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনালে। বাংলাদেশ-লাওস না খেলেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। বিষয়টি নিশ্চয়ই দু-দলের কাছেই অল্প-মধুর আমেজের।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়তে পারে; তা আগেই জানা ছিল। ফলে ৩ মে আদৌ ফাইনাল ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ওই সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল থেমে থেমে বৃষ্টি। তারপরও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রস্তুত ছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনাল আয়োজনে। গ্যালারিতে দর্শকও উপস্থিত হয়েছিল। বৃষ্টির টালবাহনা, বাতাসের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ওয়ার্মআপও করেছিল বাংলাদেশ এবং লাওসের ফুটবলাররা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে ম্যাচটি বাতিল করে দু-দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আয়োজকরা। উপস্থিত দর্শকরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়েই বাড়ি ফেরে।
ফাইনাল ম্যাচ বাতিলের আগে আয়োজকের অন্যতম প্রধান সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফণীর কারণে বাতিল করা হয়েছে। ফাইনালে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ও লাওসকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হচ্ছে।’ অবশ্য লাওস শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আশায় ছিল। ফাইনালের প্রাইজমানি ৪০ হাজার ডলার দু-দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
আসরে দুর্দান্ত খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে সেমিফাইনালেই নিজেদের পুরনো রূপে ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা লাওসও ছিল আপ টু দ্য মার্ক। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের দারুণ এক ফাইনালের অপেক্ষায় ছিল সবাই। পূর্বাভাষ থাকায় ফাইনালের নির্ধারিত সূচি ৩ মে পরিবর্তন করে ৪ মে নেওয়া হয়েছিল প্রথমে। পুনরায় আবার সূচি পরিবর্তন করে নিয়ে আসা হয় ৩ তারিখেই। কিন্তু তাতেও ফাইনাল হেরে গেছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কাছে। অবশ্য এই ম্যাচের জন্য যারা টিকিট কেটেছিলেন তারা টিকিটের অংশ দেখিয়ে অর্থ ফেরত পাবেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত ছয় জাতির এই আসর শুরু হয়েছিল ২২ এপ্রিল। ‘এ’ গ্রুপে অংশ নেয় লাওস, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল কিরগিজস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয়। শেষ ম্যাচে লাল-সবুজ ২-১ গোলের ব্যবধানে হারায় কিরগিজদের। সেরা দল বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় মঙ্গোলিয়ার। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় নিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অন্যদিকে সেমিফাইনালে কিরগিজদের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লাওসের মেয়েরা।

Category:

ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে — বর্ষীয়ান জননেতা শেখ আব্দুল আজিজ

Posted on by 0 comment

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সর্বশেষ সদস্য শেখ আব্দুল আজিজ গত ৮ এপ্রিল ৯০ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। উত্তরণ ২০১১ সালের মে মাসে তার এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিল। এটি উত্তরণ, জুন ২০১১ সংখ্যায় আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রয়াত এই জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি পুনঃমুদ্রণ করা হলো।

PMউত্তরণ ডেস্ক: শেখ আব্দুল আজিজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নেতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৭ সালে বিএ পাস করে ঢাকায় আগমন করেন ১৯৪৮ সালে। বঙ্গবন্ধু তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ’র ছাত্র হিসেবে শিক্ষারত থাকা অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের দাবির সমর্থনে আন্দোলন করতে গিয়ে কারান্তরীণ। মুসলিম ছাত্রলীগের তখন দু’ধারায় বিভক্ত নইমুদ্দিনপন্থিরা রক্ষণশীল আর মুজিবপন্থিরা অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল।
১৯৪৬ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ঘোষণা করেন। এটা ভারতবর্ষে কোথাও পালিত হয়নি, একমাত্র কলকাতা ছাড়া। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন বঙ্গীয় সরকারের চিফ মিনিস্টার, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী। কারণ ভারতবর্ষ তখন পরিচালিত হতো, ব্রিটিশ সরকার মনোনীত একদল ব্যক্তিদের হাতে। যার প্রধান থাকতেন ব্রিটিশ রাজা কর্তৃক মনোনীত একজন গর্ভনর। ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-তে কলকাতায় হিন্দু-মুসলমান ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সূত্রপাত হয়। শেখ আব্দুল আজিজ, ছাত্রজীবন থেকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পক্ষে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় ঘটে ১৯৪৬-এর কলকাতা দাঙ্গা প্রতিরোধ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে গিয়ে। থিয়েটার রোডে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নিবাস। এই বাসার নিচে বেঙ্গল রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন বঙ্গবন্ধু। সেখানে আলাপচারিতায় বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠতার সূচনা। বঙ্গবন্ধু বয়সে কিছুটা বড় থাকলেও একই ব্যাচের ছাত্র হওয়ার কারণে দু’জনের মধ্যে তুমি সম্পর্ক, যা বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
শেখ আব্দুল আজিজ, ১৯৫৩ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত একাধারে ২০ বছর বৃহত্তর খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন ও কেন্দ্রীয় কমিটির এক নম্বর সদস্য। এর আগে ১৯৪৯ সাল থেকে তিনি ছিলেন বৃহত্তর খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান। ১৯৫৪ সালে এমএলএ, ১৯৭০ সালে এমএনএ, ১৯৭৩ সালে এমপি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর তাজউদ্দিন সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী। অতঃপর বঙ্গবন্ধু সরকারে পর্যায়ক্রমে কৃষি, তথ্য ও বেতার এবং সবশেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।  বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর শেখ আব্দুল আজিজ গ্রেফতার হয়ে সামরিক আদালতে ৫ বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ৩ বছর জেল খেটেছেন। খন্দকার মোশতাক দুটি ঘটনায় শেখ আজিজের ওপর রুষ্ট ছিল। প্রথমটি হলো ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় খন্দকার মুশতাক তাকে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কথা বললে তা তিনি প্রকাশ্য সভায় ফাঁস করে দেন। দ্বিতীয়টি হলো মুশতাকের আগামাসি লেনের বাসায়, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সরকার উচ্ছেদ ও তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের যে বৈঠক হয়, তা তিনি বঙ্গবন্ধুকে জানিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ আব্দুল আজিজের কথা আমলে নেন নি এবং বঙ্গবন্ধু এ কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে জানালে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা হেসে উড়িয়ে দেন। শেখ আব্দুল আজিজ, মুক্তিযুদ্ধে নয় নম্বর সেক্টরের লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হলে তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। কর্মময় জীবনে আইনজীবী হিসেবে অতিবাহিত করেন এবং বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন। আগামী ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার একমাত্র জীবিত সদস্য শেখ আব্দুল আজিজের সাথে এসব নিয়েই কথোপকথন হয়।
উত্তরণ : আওয়ামী লীগ গঠনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করুন।
শেখ আব্দুল আজিজ : ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাজনের জন্য যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, সংখ্যাসাম্যে বঙ্গে হিন্দু-মুসলমান প্রায় সমান সমান হলেও বঙ্গে মুসলিম লীগ বিজয় লাভ করে, অর্থাৎ বঙ্গের হিন্দুদের একাংশ পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়। ভারতব্যাপী অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বঙ্গ ছাড়া কোথাও মুসলিম লীগ জয়লাভ করতে পারে নি। পাঞ্জাবের মুসলমানরা জয়লাভ করে বটে কিন্তু সেটা ছিল কংগ্রেস সমর্থিত এক ভারতের পক্ষের একটি স্থানীয় দল, সিন্ধুতে জয়লাভ করে মুসলীম লীগ বিরোধী জিয়ে সিন্ধ। বেলুচিস্তানে জয়লাভ করে কংগ্রেস সমর্থিত আব্দুল গাফফার খানের দল। ভারত ভাগের আগে শরৎ বসু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পৃথক সংযুক্ত বাংলা সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রূপরেখা প্রদান করেন। প্রথম এই প্রস্তাব সবাই মেনে নিলেও পরবর্তীতে জিন্নাহ ও গান্ধীজি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। ভারত বিভাজনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন ভারত ও পাকিস্তান সরকারের গভর্নর হতে চেয়েছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। কংগ্রেস সভাপতি জহরলাল নেহরু এই প্রস্তাব মেনে নিলেও জিন্নাহ তা মানেন নি। এটা মাউন্টব্যাটেনের আত্মসম্মানে আঘাত হানে। তিনি নেহরুর ইচ্ছামতো ভারত বিভাজন করার কারণে অযৌক্তিকভাবে বঙ্গের বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভারতে চলে যায়। মুর্শিদাবাদ জেলায় ৬০ শতাংশ ও বৃহত্তর খুলনা জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও জেলা দুটো ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলো। এই বিভাজনের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য র‌্যাডক্লিফ কমিশন তৈরি হলে, এই কমিশনে জিন্নাহ, ওয়াসিস নামে এক পাঞ্জাবি আইনজীবীকে নিযুক্ত করেন। যিনি শুনানির সময় উপস্থিত পর্যন্ত হননি। তখন বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে বাগেরহাট এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক। জনতার চাপে তিনি শুনানিতে অংশ নিয়ে খুলনাকে পাকিস্তান অংশে ফিরিয়ে আনতে পারলেও বনগাঁওয়ের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতে চলে যায়। জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান ও খাজা নাজিমুদ্দিনের এহেন ষড়যন্ত্র সফল হলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাংলা ভাগের বেদনায় সংক্ষুব্ধ মুসলিম লীগের অসাম্প্রদায়িক অংশের নেতারা ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির রোজ গার্ডেনে আওয়ামী (জনগণের) মুসলীম লীগ গঠন করে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানী কম শিক্ষিত লোক থাকলেও জনমুখী নেতা ছিলেন। আর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক শিক্ষিত জ্ঞানী ও ভালো বক্তা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তখন কারাগারে। তাকে যুগ্ম সম্পাদকের পদ দেয়া হয়।
উত্তরণ : বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়ন করুন।
শেখ আব্দুল আজিজ : বঙ্গবন্ধু ছাত্রজীবন থেকেই সংগ্রামী নেতা ছিলেন, জনগণের যে কোনো ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি তিনি সমর্থন দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন। তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। ফলে তার সুদৃঢ় নেতৃত্বের কারণে আওয়ামী লীগ অতি দ্রুত জনগণের দলে পরিণত হয় এবং তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। কিন্তু তার রাজনৈতিক দুর্বলতা ছিল, তিনি সংগ্রামী ছিলেন কিন্তু বিপ্লবী ছিলেন না। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি বৈপ্লবিক পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন নি। ফলে শত্রুরা ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পায়। বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে দুর্বল। তিনি মানুষকে অতিমাত্রায় বিশ্বাস করতেন। সারা জীবন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতবাদের প্রতি বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠন করার প্রয়োজন ছিল না। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু না করেও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব ছিল। ভুল পন্থার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ধারার রাজনীতি আজ বিশ্ববুক থেকে হারিয়ে গেছে। এমনকি লেনিনগ্রাদ, স্ট্রালিনগ্রাদের নামও পাল্টে গেছে।
উত্তরণ : জাতীয় চারনেতার মূল্যায়ন করুন।
শেখ আব্দুল আজিজ : মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার গঠনকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মানদ- নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ফলে সিদ্ধান্ত হয় আওয়ামী লীগের পদবি অনুযায়ী মন্ত্রিসভা হবে। তাজউদ্দীন আহমদ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এম মনসুর আলী সাংগঠনিক সম্পাদক, কামারুজ্জামান পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, খন্দকার মুশতাক দলের ভাইস প্রেসিডেন্টÑ এভাবে পদের বিবেচনায় মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ও বিপ্লবী নেতা ছিলেন মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ। দেশ স্বাধীন হলে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন কলকাতায় আমাকে তার বাসায় ডেকে পাঠান এবং স্বাধীন দেশে ফিরে এসে আমাকে মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত করেন।
উত্তরণ : জননেত্রী শেখ হাসিনার মূল্যায়ন করুন।
শেখ আব্দুল আজিজ : একজন নেতার কর্মযজ্ঞ চলাকালীন তার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তবে তিনি যা করতে চান তা ভালো ও সঠিক। একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনই তার লক্ষ্য।
উত্তরণ : বর্তমান আওয়ামী লীগকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন? শেখ আব্দুল আজিজ : আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো ও দিনবদলের সনদ খুবই ভালো। কিন্তু এসব বাস্তবায়নে দলকে কমিটেড হতে হবে। ধর্মগ্রন্থে ভালো ভালো কথা লেখা আছে। কিন্তু মানুষ কী এসব মেনে চলে? ধর্মমত অনুযায়ী যদি সব মানুষ পরিচালিত হতো তা হলে তো পৃথিবীতে অশান্তি থাকত না।
উত্তরণ : যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন?
শেখ আব্দুল আজিজ : আমি প্রথম কিছুদিন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে গোয়ালন্দ ফেরিঘাট দৌলতদিয়ায় স্থানান্তর করি। এতে ওই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
উত্তরণ : ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা কী?
শেখ আব্দুল আজিজ : তারা যেন একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়ে তোলে এবং তাদের হাতে যেন একটি সুখি-সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ নির্মিত হয়। যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : আনিস আহামেদ
প্রকাশ : উত্তরণ, প্রথম বর্ষ, সপ্তম সংখ্যা, ০১ জুন ২০১১

Category:

অর্থপাচারের দায়ে মামুনের ৭ বছর জেল

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: অর্থপাচারের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি পাচার করা ১২ কোটি টাকা অর্থদ-ও দেওয়া হয়েছে তাকে। গত ২৪ এপ্রিল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। এ-সময় আসামি মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানায় দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দ-ের পাশাপাশি মামুনের লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের হিসাবে থাকা পাচারকৃত ৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৩.৪৭ ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং, যা বাংলাদেশি ৬ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬২ টাকার সমান, রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাজেয়াপ্তের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণসহ বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির তফসিলসহ সকল বিবরণ সরকারি গেজেটে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে রাষ্ট্র আইন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করারও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। আসামিপক্ষে ছিলেন জাহেদুল ইসলাম কোয়েল, হেলাল উদ্দিন, আকবার হোসেন জুয়েল প্রমুখ আইনজীবী।

Category:

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সঠিক পথে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সঠিক পথে হাঁটছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার কর্তৃক বেশ কিছু উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে সংস্থাটি। উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। বর্তমান বিশ্বে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে ৭০ কোটির বেশি মানুষ। কিন্তু জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে স্থায়িত্ব উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূর করতে হবে। আর এটি করতে হলে ৬৮ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের নিচ থেকে বের করে আনা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন সভার শেষ দিনে দারিদ্র্য নির্মূল সংক্রান্ত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। গত ৮-১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সভায় ১৮৯টি সদস্যরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। সভায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় দারিদ্র্য বিমোচন। বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমান বিশ্বে আর দারিদ্র্য নয়। এখন দারিদ্র্য একেবারে বিদায় করার সময়। দারিদ্র্য বিমোচনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামতও চাওয়া হয়েছে এবারের বৈঠকে।
PMশুধু তাই নয়, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দারিদ্র্য সংখ্যা নির্মূল করতে প্রতিটি দেশে অ্যাকশন প্লান গঠনের আহ্বান জানানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। দারিদ্র্য নিরসনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বের ১৮৯টি দেশকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আট দিনব্যাপী বিশ্বব্যাংক-আইএমফের বসন্তকালীন বৈঠক শেষ হয়েছে। এবারের বৈঠকের শেষের দিন বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চ্যালেঞ্জের প্রতি আমরা মনোযোগ দিয়েছি। বর্তমান বিশ্বেও ৭০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের নিচে বাস করছে। এদের আয় বৃদ্ধিও সমৃদ্ধ অর্জন অপ্রতুল। এ জন্য তাদের তুলে আনতে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিতে নারী ও যুবকদের পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করছে।
এদিকে বসন্তকালীন বৈঠকে আলোচনায় গুরুত্ব পায় দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও বিশ্ব অর্থনীতি। সেখানে বলা হয়, এ-মুহূর্তে ৭০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। যাদের প্রত্যেকের গড় আয় প্রতিদিন ১৬১ টাকা (১ দশমিক ৯০ ডলার)। এই দারিদ্র্যের হার ১৯৯০ এবং ২০০০ দশকের চেয়ে বেশি। তবে এ দারিদ্র্যের সংখ্যা বেশি হচ্ছে সাব সাহারাতে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮ কোটি দারিদ্র্য মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনতে একমত পোষণ করেন বিশ্ব অর্থনৈতিক নেতারা। এ কাজটি সুন্দরভাবে সফল করতে প্রত্যেক দেশকে নিজস্ব কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান জরুরিভিত্তিতে প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্দার পূর্বাভাস বিরাজ করছে বলে আভাস দেওয়া হয়। এর ফলে নিম্নমানের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি তুলে ধরা হয় এ-মুহূর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পাওয়া বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার বিষয়কে। এ জন্য চাকরি বাজার কমছে ও ঋণ দুর্বলতা অব্যাহত আছে। আর নীতি অনিশ্চয়তার আস্থা নষ্ট হচ্ছে। সেখানে এসব সূচক পর্যালোচনা করে বলা হয়, এগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই উদ্বেগগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির দিকগুলো তুলে ধরে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মোকাবেলা হচ্ছে। ২০১৮ অর্থবছরে শেষ কোয়াটারে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বৈঠকে বাংলাদেশও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে PM2সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সহায়তা চাওয়ায় দেশে আধুনিকমানের শিক্ষা-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এছাড়া বড় প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান ছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। শিক্ষা খাতে সব বেশি সহায়তা এই বৈঠকে চাওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বব্যাংক এই বৈঠকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করতে। সেগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ব্যাংকিং খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, এ-মুহূর্তে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওই বৈঠকে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বসন্তকালীন সম্মেলন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জন অর্থমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেকে কথা বলেছেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। মোট অর্থের পরিকল্পনা নিরূপণ করেছে। বাংলাদেশ নিরূপণ করেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। সেখানে আরও বলা হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এ জন্য প্রতিটি দেশ এ-ধরনের রূপরেখা প্রণয়ন করলে এ-খাতে কত টাকার প্রয়োজন সেই হিসাব পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে এসডিজি বাস্তবায়নে সহজ হবে।

দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিশ্বে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই তালিকায় প্রথমে রয়েছে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই হারে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভারতেরও। অন্যদিকে দ্রুত প্রবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকা রুয়ান্ডার প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
এর আগে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক জানিয়ে ছিল বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশ। চলতি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, মালদ্বীপের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, নেপালের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, শ্রীলংকার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৈশ্বিকভাবে অর্থনীতি কিছুটা ধীরগতির হবে। চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও জাপানের মতো বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোর কারণে এই প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানে বছরে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দেবে আইএফসি
আইএমএফের পর এবার সুখবর দিল বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আইএফসি। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশে প্রতিবছর সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনশীল খাতগুলোতে বেকারদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের দুর্বল ব্যাংক মার্জারসহ আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। পুঁজিবাজার গতিশীল করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন সভায় বাংলাদেশের অনুকূলে কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেয় আইএফসি। সংস্থাটি মনে করে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বিশ্বের যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশের পেমেন্ট সবচেয়ে ভালো। এজন্য বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে আইএফসি বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সভা শেষে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে বলেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আরও কার্যকর করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশকে অবকাঠমো খাতে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এদিন বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক, আইএফসি, ভি-২০ গ্রুপের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশররফ হোসেন ভুঁইয়াসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর বিশ্বব্যাংক একটি স্ট্যাডি পেপার তুলে ধরেছে। সেখানে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও করণীয় সম্পর্কে বলা হয়। বলা হয়, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করতে হবে। এ জন্য দুর্বল ও ছোট ব্যাংকগুলোকে বড় ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার করতে হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। এটি কমিয়ে আনতে হবে। তবে এটিও স্বীকার করা হয় যে, সরকারি ব্যাংক অনেক সেবা দিচ্ছে কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়া। পাবলিক সেবা দিতে গিয়েও খেলাপির ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি সাংবাদিকদের আরও বলেন, বাংলাদেশে দুটি কৃষি ব্যাংক আছে। বর্তমান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ওই দুটি ব্যাংকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কারণ কৃষকদের সহায়তা করতে গিয়ে তাদের অনেক খেলাপি হচ্ছে। কিন্তু এই খেলাপির দিকে চিন্তা করে কৃষি খাতে সহায়তা বন্ধ, ঋণ ও বিদ্যুৎ এবং বীজ সময়মতো সরবরাহ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়াবে। তখন এই পণ্য আমদানি করতে হবে। তবে বর্তমানে কৃষি খাতে যা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ফেরত পাচ্ছি। এ-ধরনের সহায়তা না করলে বিপর্যয় দেখা দেবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমার মতে এই বিপর্যয়ের চেয়ে কৃষি ব্যাংকের খেলাপিই ভালো। কারণ এসব কাজ করতে হচ্ছে জনগণকে সামনে রেখে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ মোট ঋণের ৫ শতাংশের ওপরে যায়নি। তবে সার্বিকভাবে খেলাপির হার ১০ শতাংশ থাকলেও সেটি পাবলিক খাতের ব্যাংকের হিসাব ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি বলে মার্জার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জার করতে বলেছে। বৈঠকে আমি বলেছি, ব্যাংকের সংখ্যা কতটা সেটি বড় বিষয় নয়। কারণ অনেক ব্যাংকের সাইজ খুবই ছোট। তাদের মূলধন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর মূলধনের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা থেকে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। সেখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে। তবে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করার সুপারিশ মেনে নেওয়া হয়েছে। খেলাপি আদায়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এ-মুহূর্তে মার্জার করা হবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান খেলাপি ঋণের হিসাব পদ্ধতি ভুল।
এটি সঠিকভাবে করা হয় না। খেলাপি ঋণের সঠিক হিসাবটি করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা অডিট করে খেলাপি ঋণের সত্যিকার চিত্রটি আমাদের কাছে দেবে। এতে খেলাপি ঋণের পজিশন জানা যাবে। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মার্জার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্জার করতে আইন আছে কি না জানতে চাইলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন আছে। সেখানে এ-ধরনের বিধান না থাকলে সংশোধন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইন করে নেওয়া হবে। এদিকে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই বাজার আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে বলা হয়। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার কার্যকর করতে যে কৌশল আছে, তা হচ্ছে আর্থিক বছরের হিসাব। এটি করা হবে। তবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। একটি ভালো হলে অন্যটিও ভালো হবে। তবে স্বল্পমেয়াদে অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। এ জন্য বন্ড মার্কেটে যাওয়া হবে। পর্যাপ্ত বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে কর অর্থায়ন করা হবে। এদিকে, বসন্তকালীন সম্মেলনে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক অর্পনার সঙ্গে। বর্তমান তিনি ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার দায়িত্বে আছেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এরপর বৈঠকটি হয় আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে। এই দাতা সংস্থার বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশ এখন চেনে। আগে বাংলাদেশকে পরিচয় করাতে কষ্ট হতো। আইএমএফ সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করবেন বলে আশ্বস্ত করে। এরপর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জন অর্থমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেকে কথা বলেছেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। মোট অর্থের পরিকল্পনা নিরূপণ করেছে। বাংলাদেশ নিরূপণ করেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। অপর বৈঠক ভি-২০ আওতায় একটি ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করতে সকলে একমত পোষণ করেছেন।

Category:

প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশ গড়ে তোলা হবে

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অধিকতর গবেষণার জন্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তার সরকারও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। গত ১০ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ-কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা আরও ভালো করে গবেষণা করুন, যাতে আরও কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি উৎকর্ষতা লাভ করতে পারে। কোথায় কোথায় আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করা দরকার সেভাবেই আমাদের দেশের জলবায়ু, মাটি, পানি সবকিছু নিয়েই আপনাদের কাজ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে ও সব কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। কাজেই তারা পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং থাকবেও না। সেই সুযোগটা আমাদের করে দিতে হবে। তিনি বলেন, এদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৭৩ সালে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকারও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।
দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র গবেষণাই দিতে পারে আমাদের সেই পথ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট’ গঠন করেছি। এই ট্রাস্টের আওতায় প্রতিবছর বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশে অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। অতীতে দেখা গেছে, ট্রাস্ট ফান্ড না থাকার দরুন অনেক গবেষণা কর্মকা-ই অর্ধেক চলার পরে পরবর্তী সরকার এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেটা যেন আর না হয়।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় ছিল তখন সমস্ত স্কলারশিপ বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকে আধাআধি পড়ার পরই দেশে ফিরে আসলেন, আবার অনেকে অনেক কষ্ট করে বিদেশের মাটিতে থেকে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেন; কিন্তু তাদের চাকরি ছেড়ে দিতে হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকগণের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭১৩ ছাত্রছাত্রী ও গবেষকের মধ্যে ৮৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করেছি। বর্তমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সমগ্র বিশ্বে যে স্বীকৃতি আমরা আদায় করেছি, সেই পথ ধরেই ২০২০ সালে যেমন আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করব। এদেশে আর তখন হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না। তিনি সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার উল্লেখ করে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় ‘ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নেও সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আ ফ ম রুহুল হক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন।

Category:

জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ রোল মডেল

Posted on by 0 comment
আওয়ামী লীগের সেমিনার

আওয়ামী লীগের সেমিনার

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় বড় শক্তি ও দেশগুলোও তা দেখাতে পারেনি। তাই জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। গত ৩ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন সংগ্রাম করে এদেশে শান্তির ভিত রচনা করেছেন। দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শেখ হাসিনা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতার সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন করেছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশে যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শান্তির দর্শন’ মডেলটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ছয় স্তম্ভের এই মডেলটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সেমিনারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সোচ্চার অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বমানবতাকে নাড়া দিয়েছেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো অরাজকতা কিংবা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন বলে মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর। পাকিস্তানের মাধ্যমেই উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি-জামাতকে পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, এদের সময়েই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাইদের সৃষ্টি হয়েছে। একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও হয়েছে বিএনপি-জামাতের প্রত্যক্ষ মদদে। শেখ হাসিনা সাহসিকতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। তবে বিএনপি-জামাতের মতো অপশক্তি রাজনীতিতে থাকলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শঙ্কা থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসঊদ বলেন, গোটা বিশ্ব যখন জঙ্গিবাদ নিয়ে নাকানিচুবানি খাচ্ছে, বড় বড় রাষ্ট্রও যখন জঙ্গিবাদ দমনে প্রায় অক্ষমÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন শক্ত হাতে এসব দমন করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকারী নন, তিনি জাতির পিতার চিন্তা-চেতনারও উত্তরাধিকারী।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাংলাদেশকে এখন আগামী দিনের কথাই ভাবতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে; কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলেই এদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শান্তির দেশ, সমৃদ্ধির দেশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) একে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে শেখ হাসিনা এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতখানি ভূমিকা রেখে চলেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। এটিও সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়ক হলে এই একটি কারণে শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার পেতে পারতেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

Category: