Blog Archives

ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি

Posted on by 0 comment

সাইদ আহমেদ বাবু: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মোদির পক্ষে যে এতটা সমর্থন থাকবে, তা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ভাবনার অতীত ছিল। আগেরবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিজেপি তথা এনডিএ। মূলত, ভোটের এ লড়াইটা হয়েছে মোদির সঙ্গে ভারতের সম্মিলিত বিরোধী দলগুলোর। এই লড়াইয়ে শুধু মোদি জেতেন নি, তিনি ছুঁয়ে গেছেন ভারতের সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে ১৯৬৭ এবং ১৯৭২ সালে পরপর দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। এ দুবারেও একাই ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। এর আগে জওহরলাল নেহেরু পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। ২০১৯ সালে যা দেখা যাচ্ছে, জওহরলাল নেহরুর কংগ্রেসের মতোই মোদির বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে। ভারতজুড়ে বিজেপির ভোট শেয়ারে ঢেউ উঠেছে, যা প্রায় অবিশ্বাস্য।
গত ২৩ মে ভোট গণনায় দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে মোদিই হতে চলেছেন তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পরপর দুবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী হলেন। অর্থাৎ কোনো জোট বা শরিক দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে গেল কোনো দল। অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিই প্রথম, যিনি পরপর দুবার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসছেন। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এটা রেকর্ড। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় পর্বে শাসক দলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও রেকর্ড। ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস পরিবারের প্রতিনিধি অভিজাত রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে ‘চৌকিদার’ মোদিতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে আরও বিপুল বিক্রম নিয়ে জয়ী হলো নরেন্দ্র মোদির বিজেপি জোট। বলা যায়, এককভাবে মোদি ম্যাজিকে আস্থা রেখেছেন ৯০ কোটি ভোটারের ভারত। আবারও তার কাঁধেই থাকবে দেশের ভার। তার হিন্দুত্ববাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের মিশেলে ক্যারিশম্যাটিক মোদি ঝড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী শিবির। সাত-দফায় ৩৮ দিনের নির্বাচন শেষে গত ১৯ মে বুথফেরত জরিপেই আভাস মিলেছিল নিরঙ্কুশ জয় পাচ্ছে গেরুয়া শিবির মানে এনডিএ জোট। কিন্তু বাস্তবিক ফলাফল সেই আভাসকেও হার মানাল। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে তিনি বলেছেন, এটা তার বা তাদের দলের জয়ই শুধু নয়, দেশের জয়, গণতন্ত্রের জয়। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীদের টার্গেট ছিলেন তিনিই। কিন্তু তার উত্থান আটকাতে পারেন নি কেউই। উনিশের নির্বাচন নিঃসন্দেহে একটা বড় পরীক্ষা ছিল নরেন্দ্র মোদির। সেই পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উতরে গিয়ে মোদি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তার বিজয়রথের চাকা থামেনি; বরং তা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দুটো সেøাগান বিজেপি এবার জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করেছে। ‘ফির একবার, মোদি সরকার’ এবং ‘আব কি বার, তিন শ পার’। দেশের মানুষ বিনা বাক্যে সেই দুই সেøাগানকে সত্য করে তুলেছে। বিশ্বাস রেখেছে নরেন্দ্র মোদির ওপর। রচনা করেছে নতুন ইতিহাস।
বিতর্কিত নানা অধ্যায় ছাপিয়ে নিজেকে ‘চায়েওয়ালা’ পরিচয় দিয়ে পাঁচ বছর আগে ভোটের লড়াইয়ে জিতে দিল্লির মসনদে বসেছিলেন মোদি; এবার ভোটের আগে শাসক পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেকে ‘চৌকিদার’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। আগামী পাঁচ বছর মোদির বিজেপি সরকার ভারতের ভাগ্য বিধাতা, আর মমতার দুর্গ দখল করতে না পারলেও বড় ফাটল ধরিয়েছে বিজেপির গৈরিক বাহিনী।
ভূমিধস জয় পেয়েই সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে উচ্ছ্বসিত নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত আবারও জিতে গেল। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আমরা বেড়ে উঠেছি একসঙ্গে, সমৃদ্ধি এনেছি একসঙ্গে, একসঙ্গে থেকেই আমরা শক্তিশালী ভারত গড়ব, যা হবে সবার জন্য। ভারত আবারও জিতে গেল।’ মূলত, জাতীয়তাবাদের এই ট্রাম্পকার্ডই মোদির রাজনৈতিক মন্ত্র।
৯০ কোটি ভোটারের দেশ ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ১৯ মে। ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট ৭টি ধাপে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ৫৭০ আসনের লোকসভায় ১ হাজার ৮৪১টি রাজনৈতিক দলের ৮ হাজারেরও বেশি প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী চারজন। প্রসংগত, ১৯৫১-৫২ সালে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে সময় লাগে তিন মাস।
ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে এনডিএ জোট পেয়েছে ৩২১টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ পেয়েছে ১১০টি আসন। আর বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ২৮৮টি আসন। এদিকে, কংগ্রেস এককভাবে পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ১১১টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে বরাবরের মতো দখলে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা পেয়েছে ২৩টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ১৮টি আসন আর কংগ্রেস পেয়েছে ১টি আসন। বাম দলের আসন শূন্যের কোঠায়।
মনে রাখতে হবে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় ভারতের মতো বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোনো একটা কারণে হয় না। জয়ের পিছনে অনেক কারণ থাকে। হিন্দুত্ববাদের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয়তাবাদের প্রচারণা চালিয়ে গেছেন মোদি। ভোটের প্রচারে বিজেপি যেভাবে অত্যন্ত কৌশলীভাবে জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন এবং ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে, তার বিপরীতে বিরোধী দলগুলো কার্যকর বক্তব্য হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। একেবারে শুরু থেকেই মানুষের মনে বিজেপি যে প্রশ্ন তুলে ধরেছিল, তা ছিল নেতৃত্বের। ‘মোদি বনাম কে?’ এই প্রশ্ন তারা জনতার সামনে রেখেছিল। বিরোধীরা এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কী থাকবেন না, সেটা নিয়েই গোটা দেশে ভোট হয়ে গেল। বিরোধী শিবিরে মোদির কোনো একজন বিকল্প খুঁজে পাওয়া গেল না। বিজেপি তার প্রচারাভিযানে প্রকৃত সমস্যা আড়াল করতে মোদিকে ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি পুলওয়ামা-উত্তর পরিস্থিতি ও বালাকোট অভিযানের ঘটনায় জারিত জাতীয়তাবাদকে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছে। এবার মোদি ছাড়া আর কাউকেই মানুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবতে পারেনি। তার কঠোর নেতৃত্ব, দৃঢ়চেতা মনোভাব, ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং দেশের শত্রুদের শায়েস্থা করার হিম্মত অন্য কেউ দেখাতে পারেন, মানুষ তা বিশ্বাস করতে চায়নি। আর তা হয়নি বলেই সত্য হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সেøাগানটিও। বিজেপি তিনশ’ পার করেছে। ২০১৪ সালের তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মোদির বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল; কিন্তু মোদি এবং অমিত শাহ এমন এক কৌশল রচনা করলেন যে এই অসন্তোষ নির্মূল হয়ে গেল। পুলওয়ামা হামলার জবাবে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি জনগণের মাঝে জাতীয়তাবাদের আবেগকে আরও উসকে দিয়েছেন বলেই মনে করছে গণমাধ্যম। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বালাকোট আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও বদলে দিল। মোদির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’র সঙ্গে মিশে গেল হিন্দু রাষ্ট্রবাদ। মানুষ এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। বিপরীতে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি ভারতজুড়েই বিজেপির প্রতি মানুষকে আস্থা রাখতে সহায়তা করেছে। জোট গঠনেও প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন মোদি। যাদের জোটে নিয়েছেন তারা মোদির মতোই কট্টর ডানপন্থি। ভারতের পূর্বাঞ্চলে বিজেপিকে দৃঢ় করার কাজে মনোযোগ দেওয়াকেও জয়ের নিয়ামক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্যারিশমা এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে অটুট রইল। তিনিই বিজেপির পক্ষে তিনিই যে ভোট টানেন সেটা আবারও প্রমাণ হলো। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানেই তাকে ভোট দেওয়াÑ মোদির এই মন্তব্য কার্যকর হয়েছে, তা ভোটের ফলাফলেই প্রমাণিত। সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার, সব ধরনের আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে বিজেপি দল হিসেবে শক্তি অর্জন করেছে, তা এখন বিরোধীদের অতিক্রম করা যে খুবই কঠিন, যার প্রমাণ ভোটের প্রচারে মিলেছে।
বিরোধী দল যেভাবে ‘মোদি হটাও’ অভিযানে নামে, তাতে পুরো নির্বাচনটা মোদিকেন্দ্রিক হয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে ভারতের সেকুলার গণতান্ত্রিক বামপন্থি এবং আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে মুখে মোদি হটাও সেøাগান থাকলেও তারা মোদি ও এনডিএ’র বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর জাতীয় ঐক্য বা কোয়ালিশন গড়ে তুলতে পারেনি। বরং বিভিন্নভাবে ভোটযুদ্ধে পরস্পর প্রতিযোগিতা করে মোদি ও বিজিপির জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। শুধু মোদি হটাও সেøাগান তোলা হলো, আর সব বিরোধী নেতাই ভাবতে লাগলেন যে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন; কিন্তু কোনো বিকল্প কর্মসূচি নেই। এভাবে মোদি মোকাবিলা হয়? বিপরীতে মোদি সুকৌশলে ‘মোদি হটাও’কেই ভোটের প্রচারের হাতিয়ার করে দিলেন। কর্মহীনতা, কৃষকদের সমস্যা, রাহুল গান্ধীর তোলা ‘ন্যায়’-এর বিষয়, সব গুরুত্ব হারাল। দেখা যাচ্ছে, যেসব রাজ্যে মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সেসব রাজ্যেই মোদি ভোট পেয়েছেন বেশি। এবার মোদির জয়যাত্রার পেছনে তাই একদিকে যেমন আছে ‘মোদি’ নামক ব্যক্তির ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’, অন্যদিকে তেমনি আছে রাহুল গান্ধীর জোট না করার মানসিকতা।
ভারতের লোকসভা ভোটে জিতে প্রথমবার নিজের কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি। বারানসিতে মোদি বললেন, এবারের ভোটে অঙ্ক নয়, জিতেছে রসায়ন। কী সেই রসায়ন। প্রথম রসায়ন, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-সহ দলের কর্মীদের সম্পর্ক এবং পরিশ্রম। তাদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্কের রসায়ন। জাতীয়তাবাদ আর মেরুকরণের রসায়নেই সাফল্য এসেছে বলতে চেয়েছেন মোদি। এর পাশাপাশি মোদি এ দিন প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। তার মতে, এই জয় বিজেপি, এনডিএ বা মোদি-অমিত শাহের জয় নয়, এটা আসলে সারাদেশের লাখ লাখ বিজেপি কর্মীর কঠিন পরিশ্রমের জয়। তিনি আরও বলেন, দেশবাসী তথা বারানসির মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন ঠিকই; কিন্তু আমি একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী হিসেবেই নিজেকে দেখতে চাই। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পূজা দেন তিনি। তারপর একটি জনসভায় যোগ দেন। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দুজনই বারানসির ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
২০০২ সালের হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার সময়টা ছিল মোদির উত্থানের সবচেয়ে বড় অনুঘটক। সে-সময়ে হিন্দু দাঙ্গাবাজদের উসকে দিয়ে ৩ হাজার মুসলমানকে হত্যা ষড়যন্ত্রে মোদিকে জড়িয়ে অভিযোগ থাকলেও তাকে বাঁচিয়ে দেন আদভানি। তবু বিভিন্ন মহল থেকে মোদির পদত্যাগের দাবি ওঠে। কিন্তু ২০০২ সালে গুজরাটের নির্বাচনে মোদির জয় তাকে আবারও আলোচনায় আনে। মোদির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরে তখন থেকেই। বর্তমানে সেই মোদিই উন্নয়ন ও সুশাসনে দলীয় সামর্থ্যরে প্রতীক বনেছেন। বিপুল মধ্যবিত্ত তাকে সমর্থন জোগাচ্ছে। তার ‘আমিও পারি’ নীতি অনেকের মধ্যেই আশার সঞ্চার করেছে। হয়তো মোদির ওপর ভর করেই ভারত শাসনের স্বপ্ন দেখছে দলটি। নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি কর্মীদের শুভেচ্ছা জানালেন পূর্ব উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রিয়াঙ্কা বলেন, মানুষের রায় আমরা মেনে নিয়েছি।
মোদি ও বিজেপি কর্মীদের অভিনন্দন। দ্বিতীয়বার সরকার গড়ছে মোদি বাহিনী, শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। টুইট করে সাবেক রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘অভূতপূর্ব জয়ের জন্য মোদিকে অভিনন্দন।’
২০১৪ সালের তুলনায় যেসব রাজ্যে বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ গুজরাট, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, মধ্য প্রদেশ, দিল্লি, ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ। দেশের অন্যত্র বিজেপি বিরোধীরা আর দাবি করতে পারবে না যে বিজেপি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পেয়েছে। ১০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের হিসেবানুসারে, হিমাচল প্রদেশে ৬৯ শতাংশ, অরুণাচল প্রদেশে ৬৩ শতাংশ, গুজরাটে ৬২ শতাংশ, উত্তরাখন্ডে ৬১ শতাংশ, রাজস্থানে ৫৯ শতাংশ, মধ্য প্রদেশে ৫৮ শতাংশ, দিল্লিতে ৫৭ শতাংশ, হরিয়ানায় ৫৭ শতাংশ, কর্নাটকে ৫২ শতাংশ, উত্তর প্রদেশে ৫০ শতাংশ এবং ছত্তিসগড়ে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোট শেয়ার বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি, ২০১৪ সালে তারা এ রাজ্যে পেয়েছিল ১৮ শতাংশ ভোট, এবার তারা পেয়েছে ৩৯ শতাংশ ভোট। গত লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে দুটি আসন পেয়েছিল বিজেপি, এবার তারা ১৮টি আসনে পেয়েছে। এ রাজ্য থেকে মুছে যেতে চলেছে বামেরা।
কংগ্রেসের একমাত্র সুসংবাদ পাঞ্জাব এবং কেরালা। কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ২০টির মধ্যে ১৯টি আসনে এগিয়ে। একমাত্র এ রাজ্যেই দলীয় নেতৃত্বের হিসাব মিলেছে। ভোটের পুরোটা সময় কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলো মোদি-বিরোধী জোয়ার তৈরির চেষ্টা করলেও সেটি যে কাজে আসেনি তা দেখা যায় ফলাফলে। ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে তামিলনাড়–র একটি বাদে সবকটি আসনে এবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে পেতে হবে ২৭২টি আসন। সারাদেশে জয়ের বিপরীতে দক্ষিণের ৫টি রাজ্যের ৪টিÑ অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়– ও কেরালায় হারতে হচ্ছে বিজেপির। এসব রাজ্যের ৯১টি আসনের মধ্যে শেষ খবর পর্যন্ত বিজেপি জোটের অর্জন ৮টি আসন।
কংগ্রেসের জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ হলো, এবারের লোকসভা ভোটের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী ভারতের সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা হারাতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। এবারের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আরও একবার ব্যর্থ হলো কংগ্রেস। ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। যার ফলে গত লোকসভাতে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল কংগ্রেস।এবারও সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো কংগ্রেস।
ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত এমন একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছে, যা সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটির ৯০ কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। কোন দল জয়ী হয়েছে বা কোন দল পরাজিত হয়েছে, এ বিবেচনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেখানে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।

Category:

দিনপঞ্জি : জুলাই ২০১৭

Posted on by 0 comment

62২ জুন
* ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে উপকূলে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আমরা দেখেছি বিএনপি হাওরে গিয়ে ফটোসেশন করেছে; কিন্তু আমরা দুর্গত এলাকায় ফটোসেশন করতে আসিনি। আমরা এসেছি উপকূলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে এসেছি।

৪ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তার সরকার বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৭ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই সুন্দরবনের একটি এলাকা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

৭ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টে হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। জিয়া নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। আমি ও রেহানা দেশে ফিরতে চাইলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য একেএম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

৮ জুন
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইফতারে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গভবনে বিশিষ্টজনদের সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া এই ইফতারে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদও অংশ নেন।

১০ জুন
* গণভবনে বসেছিল পেশাজীবীদের মিলন মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। গণভবনের সবুজ চত্বরে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ইফতার মাহফিলে লেখক-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সব পেশাজীবীর আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে গণভবন চত্বর।

১৪ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় এমন কিছু না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য খারাপ নামে পরিচিত ছিল। আমরা এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উন্নয়নে রোল মডেলে পরিণত করেছি। কাজেই আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। সুইডেন যাওয়ার পথে লন্ডনে যাত্রাবিরতির পর বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ লন্ডনে স্ট্রোক পার্কে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে এ কথা বলেন।

১৫ জুন
* ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার বাধা দূর হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১০৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশে লেবার স্ট্যান্ডার্ড ও লেবার রাইট সংক্রান্ত যে বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১০৬তম সম্মেলনে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদকে জানিয়েছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় দ-প্রাপ্ত খুনিদের স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুই দেশে ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করার পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে ছবি সম্বলিত তথ্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
* ভারত, চীন ও রাশিয়ার সাথে চুক্তির ৭৪ শতাংশই আওয়ামী লীগ আমলে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সাথে চীনের ১০১টি সমঝোতা ও চুক্তি, ভারতের ১৩৪টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল এবং রাশিয়ার সাথে ২৮টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসবের ৭৪ শতাংশই আওয়ামী লীগের আমলে হয়েছে। বিএনপির আমলে হয়েছে ১৬ শতাংশ। জাতীয় পার্টির সদস্য একেএম মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত, চীন ও রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের মোট ২৬৩টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। ১৯৪টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে আওয়ামী লীগ আমলে। ৪২টি বিএনপি আমলে, ৯টি এরশাদ আমলে ও ৮টি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক আমলে হয়েছে।

১৭ জুন
* স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ সম্ভব। রাজধানীর ৯২টি ওয়ার্ডে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস কার্যক্রম উদ্বোধনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, যে যার অবস্থান থেকে নিজের বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে এই চিকনগুনিয়া রোগ হতে রেহাই পাওয়া যাবে।

১৯ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন টেবিল ঘুরে ঘুরে তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের কুশলাদি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ইফতারের আগে বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। মোনাজাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য এবং মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করা হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মওলানা মুফতি মহিউদ্দিন কাসেমী মোনাজাত পরিচালনা করেন।

২০ জুন
* সস্তা শ্রমের জন্য শিশুদের ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শিশুশ্রম বন্ধে এবং তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবক, নিয়োগকারী সংস্থা, সুধী সমাজ, গণমাধ্যম, শ্রম সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২৩ জুন
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাতেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে। এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবার সরকার গঠন করতে হবে। তাই দেশবাসীকে বলব, আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দিন। আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আধুনিক নিজস্ব স্থায়ী ১১ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশকে অগ্রযাত্রার পথ দেখাচ্ছে।

২৪ জুন
* সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, স্বশাসিত সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। অবসরকালে পাওয়া ছুটি নগদায়ন ভাতাসহ (লাম্প গ্র্যান্ট) সরকারি বেতন আদেশে উল্লিখিত সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ প্রজ্ঞাপনের ফলে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসরকালে পাওয়া সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা আয়করমুক্ত। আগামী ১ জুলাই থেকে যারা অবসরে যাবেন, তাদের সবাই এ সুবিধা পাবেন। সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরকালে লাম্প গ্র্যান্ট ছাড়াও অর্জিত ছুটি, গ্র্যাচুইটি, বীমা ভাতা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। ১ জুলাই থেকে এর কোনোটির ওপরই আয়কর প্রযোজ্য হবে না।

২৬ জুন
* যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উৎসবমুখর এদিনে বিভিন্ন হাসপাতাল, জেলখানা, শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

৩০ জুন
* সুইস ব্যাংকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর টাকা জমা রাখার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা রেখেছেÑ এমন খবর আমরা এখনও পাই নি। প্রমাণ পেলে, সে যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন

PMগাজী শাহাবুদ্দিন
নতুন যুগের সূচনা করা ‘সচিত্র সন্ধানী’র সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন ছেড়ে গেছেন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার প্রিয় অঙ্গন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগভোগের পর গত ৯ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গাজী শাহাবুদ্দিন ১৯৩৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই পত্র-পত্রিকা পড়ার নেশা ছিল। সেই নেশা থেকেই ‘সচিত্র সন্ধানী’র আত্মপ্রকাশ।
১৯৫৬ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত হয় সচিত্র সন্ধানীর প্রথম সংখ্যা। ডিমাই ওয়ান সিক্সটিন সাইজ পত্রিকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা আনুমানিক ৩২ থেকে ৪৮। ১ হাজার কপি ছাপা হয়। এবং সকাল ১০টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় সব কপি। এই সাফল্যের ওপর ভর করে পত্রিকাটি নিয়মিত করার চিন্তা করেন সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন। কিন্তু কাজ যত বাড়ছিল লেখাপড়ার সময় তত কমে আসছিল। এমনকি পরীক্ষার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে সোজা প্রেসে চলে যেতেন। পরদিন বাসায় ফিরে বলতেন, বন্ধুর বাসায় পড়তে গিয়েছিলাম। নটর ডেম কলেজে খুব কড়াকড়ি। সময় বের করা যায় না। এ জন্য সেখান থেকে বের হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন তিনি। এভাবে পত্রিকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চাশের দশকে প্রকাশনার শুরু। শুরুতে সচিত্র সন্ধানী ছিল কিছুটা রম্য ও কিছুটা কার্টুননির্ভর পত্রিকা। তারপর ধীরে ধীরে এই পত্রিকা বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির দর্পণ হয়ে ওঠে।

সংগীতজ্ঞ করুণাময় গোস্বামী
PM3একুশে পদকে ভূষিত সংগীতবিষয়ক লেখক ও নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী গত ৩০ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
ড. করুণাময় গোস্বামী একজন সফল শিক্ষক, লেখক এবং সৃজনশীল প্রতিভার মানুষ ছিলেন। তিনি নজরুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে এবং সংগীতবিষয়ক লেখক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। গবেষণা ও সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বাংলাদেশের মননশীল সাহিত্য চর্চার জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী ১৯৪৩ সালের ১১ মার্চ ময়মনসিংহের গোসাইন চান্দুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ১৯৬৪ সালে এমএ এবং ১৯৮৮ সালে ‘বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের স্থান’ শীর্ষক গবেষণাকর্মের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে তিনি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতায় যোগদান করেন এবং ২০০১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা
PM2দেশে ও প্রবাসে জনপ্রিয় সুইডেন প্রবাসী অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ২ নম্বর সেক্টরের মেলাঘর ইউনিটের প্রধান সৈয়দ শহীদুল হক মামা দীর্ঘ তিন মাস জীবনের সাথে লড়াই করার পর গত ৩০ জুন দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহার আল ওয়াকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগতে থাকা শহীদুল হক মামা ২৮ এপ্রিল কাতার এয়ারওয়েজে ঢাকা থেকে স্টকহোম আসার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কাতারের আল ওয়াকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে দুসপ্তাহ আগে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
’৭১-এর কুখ্যাত কসাই যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেওয়া দ্বিতীয় রাজসাক্ষী, মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় বীরত্বপূর্ণ সফল অপারেশন পরিচালনাকারী দুর্ধর্ষ গেরিলা কমান্ডার ও মামা বাহিনীর প্রধান।
তার জন্ম পুরনো ঢাকার নাজিরাবাজারে। বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর।

সংগীতজ্ঞ সুধীন দাস
PM4উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও নজরুল গবেষক সুধীন দাস গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী রাত ৮টা ২০ মিনিটে অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সুধীন দাস ১৯৩০ সালে কুমিল্লা শহরের তাল পুকুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংগীত জগতের অন্যতম অভিভাবক। তিনি ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে যোগ দেন।
সুধীন দাস জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে নজরুলের গানের মূল স্বরলিপি যোজনা শুরু করেন। এই প্রয়াসে তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী ও নজরুল সংগীতশিল্পী নীলিমা দাস।

Category:

মহাকাশে বাংলাদেশের ন্যানো স্যাটেলাইট

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশের জন্য গত ৪ জুন সাফল্যের একটি মাইলফলক হয়ে থাকল। তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। মধ্যরাত ৩টা ৭ মিনিটে একটি কার্গো রকেট মহাকাশে রওনা হয় বাংলাদেশের বানানো প্রথম ন্যানো স্যাটেলাইট ‘ব্র্যাক অন্বেষা’কে নিয়ে। ১০ সেন্টিমিটার কিউব আকৃতির ও এক কেজি ওজনের এই ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সিআরএস-১১ অভিযানের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের আগে নাসার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফ্লোরিডায় আমাদের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।’
বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের হেড অব কমিউনিকেশন্স সোহেল ইকবাল গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্র্যাক অন্বেষা’ সোমবার (আজ ৫ জুন) মহাকাশে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারে (আইএসএস) পৌঁছে যাবে। সেখান থেকে জুনের শেষ অথবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে স্থাপন করা হবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে। এ কক্ষপথটি হবে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে। কক্ষপথে স্থাপনের পর এই ন্যানো স্যাটেলাইট থেকে ডাটা পাঠানো হবে। বাংলাদেশে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মহাখালী ক্যাম্পাসের ছাদে স্থাপিত গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ডাটা রিসিভ করা হবে।
‘ব্র্যাক অন্বেষা’র গ্রাউন্ড স্টেশন ও লিগ্যাল ইস্যু নিয়ে কাজ করেছেন মো. মোজাম্মেল হক সৌরভ। তিনি জানান, ‘ব্র্যাক অন্বেষা’ থেকে প্রথম যে ডাটা রিসিভ করা হবে সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এটি বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে বিশেষ বিশেষ দিনে হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে শোনা যাবে। এই স্যাটেলাইটটিকে একটি স্পেস কার্গোর মাধ্যমে আইএসএস-এ পাঠানো হয়েছে।
সৌরভ জানান, এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোকে ন্যানো স্যাটেলাইট বানানো শেখাতে ২০০৯ সালে একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেয় জাতিসংঘের অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স; ২০১৩ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। এ প্রকল্পের ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় জাপানের কিউসু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিকে (কিউটেক)। এ প্রকল্পের আওতায় ৪টি দেশ এ প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট তৈরি করেছে।
এর আগে বাংলাদেশের ব্র্যাক অন্বেষা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারে পৌঁছানো ও ন্যানো স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে স্থাপন নিয়ে আপডেট পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’
ন্যানো স্যাটেলাইটটি তৈরির তিন কারিগর হচ্ছেনÑ রায়হানা শামস্ ইসলাম, আবদুল্লাহ হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মনোয়ার। তিনজনই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল (ইইই) বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তারা জাপানে মাস্টার্স করছেন। ৪ জুন স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের পর তারা ভিডিও পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভিডিওতে মাইসুন বলেন, এটি আইএসএস-এ পৌঁছানোর পর একে কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তারপর আমরা এটি থেকে সিগন্যাল পাওয়া শুরু করলেই পুরো কাজ সম্পন্ন হবে।

Category:

জাতীয় জাদুঘরে জামদানি মেলা

Posted on by 0 comment

জামদানির নামকরণ করা হয়Ñ জলপাড়, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, জুঁইবুটি, ময়ূরকণ্ঠী, কাউয়ার ঠ্যাঙপাড়, তেরছা, বাঘনলি, আবার কোনোটার নাম করা হয়েছেÑ পান্না-হাজরা, দুবলাজাল, বুটিজাল, জালার, কলারফানা, আদারফানা।

58উত্তরণ ডেস্ক: মসলিন বিলুপ্তির পর এই বাংলার প্রধান শিল্প হয় জামদানি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান হলে হারিয়ে যায় সেই সময়ের ঐতিহাসিক শিল্প মসলিন। তখন ব্রিটিশরা মসলিন কারিগরদের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেন। যাতে তারা আর এই শিল্পের প্রসার ঘটাতে না পারে। সে সময় এই শিল্পের কারিগররা মসলিন বুনন ছেড়ে কৃষিকাজে যুক্ত হন। এভাবেই ধ্বংস হয়ে যায় হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য মসলিন। তখন থেকে মসলিনের অনুপস্থিতিতে জামদানি হয়ে ওঠে এই বাংলার প্রধান শিল্প।
এই শিল্পও আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তবে অনেকে এই শিল্পকে ভালোবেসে এখনও আগলে রেখেছেন। তারা হাজারও কষ্টের মাঝে বুননে একেকটি জামদানিতে তুলে ধরছেন একেক কাহিনি। এসব কাহিনির নামও দেওয়া হয়েছে। যেমন কোনো জামদানির নামকরণ করা হয়Ñ জলপাড়, কলমিলতা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, জুঁইবুটি, ময়ূরকণ্ঠী, কাউয়ার ঠ্যাঙপাড়, তেরছা, বাঘনলি, আবার কোনোটার নাম করা হয়েছেÑ পান্না-হাজরা, দুবলাজাল, বুটিজাল, জালার, কলারফানা, আদারফানা। আরও আছেÑ সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, আঙুরলতা, ময়ূরপ্যাঁচপাড়। এমন সব বাহারি আর নজরকাড়া জামদানি এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না। নানা রঙের হরেক রকমের শাড়ি-পোশাকের ভিড়ে অজপাড়া-গাঁয়ের সেই ঐতিহ্যবাহী জামদানি দেখা ও কেনার সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় জাদুঘর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
তাদের যৌথ আয়োজনে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত ১৩ জুন জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টাশালী প্রদর্শনালয়ে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী জামদানি প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শুষেণ চন্দ্র দাশ। সভাপতিত্ব করেন বিসিকের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের জামদানি শিল্পকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়াতে বিসিকের মাধ্যমে ২০ একর জমির ওপর দৃষ্টিনন্দন জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও কারুশিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। সম্ভাবনাময় জামদানি শিল্পের বিকাশ ও বাস্তবায়নে বিসিককে আরও তৎপর হতে হবে বলে জানান তিনি। বরাদ্দকৃত সব প্লটেই যাতে গুণগতমানের জামদানি শিল্প স্থাপিত হয় সে বিষয়ে বিসিকের নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। এ সময় তিনি জামদানি কারুশিল্পী ছাড়া অন্য কেউ প্লট বরাদ্দ নিয়ে থাকলে তা বাতিল করে দ্রুত প্রকৃত জামদানি কারুশিল্পীদের মধ্যে বরাদ্দ প্রদানের জন্য বিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি ‘জামদানি শিল্পের সমস্যা ও এর সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে ১৬টি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দ্রুত প্রণয়ণের আহ্বান জানান তিনি।
জামদানি শাড়ি ও বস্ত্র প্রস্তুতকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। নিপুণ কারুকার্য ও বাহারি নকশার জামদানি শাড়ি ছাড়াও প্রদর্শনীতে আছেÑ থ্রি-পিস, টু-পিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, রুমাল, ওড়না, টেবিল ক্লথ ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শান্তি সমাবেশ
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি ও উগ্রবাদের ধারাবাহিকতায় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছে। তাই গত ১ জুলাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করতে হবে।
হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত শান্তি-সমাবেশে এসব কথা বলেন সংস্কৃতিকর্মী ও বিশিষ্টজনরা। গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিলÑ ‘জঙ্গিবাদ রুখে দাঁড়ায় বিশ্বমানবের রক্তধারা’।
প্রধান অতিথির বক্ত্যব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চেয়েছিল। তবে তারা সফল হয়নি। দেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে মনোজাগতিক পরিবর্তনের ব্যাপারে বেশি গুরত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ১ জুলাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষিত হলে সারাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা চর্চার পথ বিকাশ লাভ করবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চিরতরে মুছে দিতে সরকার, জনগণ ও সামাজিক শক্তিগুলোকে সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, তরুণদের বিপথগামিতা ঠেকাতে পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে হবে। সেদিন ফারাজের মতো তরুণ বন্ধুদের জন্য বীরের বেশে জীবন দিয়েছেন। তিনি তরুণদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন।
নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, আজকের এ দিনেও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর জোরাল কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। তাদের প্রতিবাদে নগর প্রকম্পিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি নেই।
অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, সংস্কৃতি সত্য ও সুন্দরের পক্ষে। এ শান্তি সমাবেশ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের শক্তির সম্মিলন। হলি আর্টিজানের জঙ্গিরা এই শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ভবিষ্যতে আর সুযোগ পাবে না।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ধর্মের নামে সারাবিশ্বে নিরীহ মানুষদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। ’৭১ সালেও এদেশে ইসলামের নামে মুসলিম নিধন হয়েছিল। অথচ ধর্মের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকে মানুষকে জাগ্রত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে বিদেশিদের ওপর সেদিন হামলা হয়েছিল। সরকারের জিরো টলারেন্সে জঙ্গিরা সফল হয়নি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মনুষত্বের জাগরণ ঘটিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জোটের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল আহসান খান, অভিনেতা আতাউর রহমান ও মহিলা পরিষদের সীমা মোসলেম। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আসাদ চৌধুরী, তারিক সুজাত। এ ছাড়া সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ অনেকে অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশের শুরুতে হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সবশেষে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে সমাবেশ শেষ হয়।

আব্বাস কিয়ারোস্তামি
আব্বাস কিয়ারোস্তামি এমন একটি নাম, যিনি নান্দনিকতা ও সৃজনশীলতার প্রশ্নে বরাবরই আপসহীন। তার চলচ্চিত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন দর্শক। তিনি চান, ছবি দেখে দর্শক চিন্তা করবে এবং চলচ্চিত্রের ভেতরে প্রবেশ করবে। শেষমেশ নিজেরাই ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে। তাই আব্বাসের চলচ্চিত্রগুলো রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মতো ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ ধরনের। আব্বাস কিয়ারোস্তামির নেতৃত্বেই ইরানি চলচ্চিত্রাঙ্গন পাল্টে গেছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রে ইরানি চলচ্চিত্রকে প্রভাবশালী ও স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছেন আব্বাস। চিত্রকলার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করে যোগ দেন ট্রাফিক পুলিশের চাকরিতে। কিছুদিন পর আবার পরীক্ষা দিয়ে চিত্রকলায় উত্তীর্ণ হন। যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। ১৯৬০-৬৯ এর মধ্যে তিনি ৫০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেন। বিজ্ঞাপনচিত্র বানাতে বানাতেই ক্যামেরার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। আরও বড় কিছু করার চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বানিয়ে ফেললেন জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্রেড অ্যান্ড অ্যালেই’। এরপর তার ধ্যান-জ্ঞান সবকিছুই ছিল চলচ্চিত্রে। হোক তা স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য কিংবা প্রামাণ্যচিত্র। আব্বাসের চলচ্চিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেনÑ পেশাদার অভিনেতা মানেই খারাপ কিছু তা আমি মনে করি না। তবে অপেশাদার অভিনেতা ব্যবহারের সুবিধা হলো, ছবিতে তারাই আমার চিত্রনাট্য ঠিক করে দেয়। আমি যেটা লিখি তা যদি তারা মুখে না-ই আনতে পারে বা ঠিক ভাবে বলতে না পারে তা হলে আমি ধরেই নিই, আমি যা লিখেছি তা ভুল। সাথে সাথে আমি চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনি। আব্বাস পরিচালিত সর্বশেষ ছবি ‘সার্টিফাইড কপি’ মুক্তি পায় গত বছর। এতে অভিনয় করে জুলিয়েট বিনোশি গত বছর কান উৎসবে সেরা অভিনেত্রী শাখায় পুরস্কার পান। আব্বাস এখন ‘দ্য এন্ড’ নামে একটি ছবি তৈরি করছেন। ছবি বানানোর পাশাপাশি আব্বাস কাজ করেছেন চিত্রকর, ইলাস্ট্রেটর, আলোকচিত্রী, ভিডিও সম্পাদক হিসেবে। সাহিত্যিক আর কবি হিসেবেও নিজ দেশে তার সুনাম আছে। আর চলচ্চিত্রকার হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘প্রিক্স রবার্তো রসোলিনি’ (১৯৯২), ‘ফ্রান্সিস ত্রুফো অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৩), ‘পিয়ার পাওলো প্যাসোলিনি অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৫), ইউনেস্কোর ‘ফ্রেডরিকো ফেলেনি গোল্ড মেডেল’ (১৯৯৭), গ্রিসের ‘গোল্ডেন আলেকজান্ডার অ্যাওয়ার্ড’ (১৯৯৯), ‘আকিরা কুরোসাওয়া অ্যাওয়ার্ড’ (২০০০), কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম উৎসবের ‘ওয়ার্ল্ড’স গ্রেট মাস্টার্স’ (২০০৭), ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভেলের ‘গ্লোরি টু দ্য ফিল্মমেকার অ্যাওয়ার্ড’ (২০০৮) ইত্যাদি। এ ছাড়া ২০০৫ সালে দ্য ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে অর্জন করেন ফেলোশিপ। কিয়ারোস্তামি নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলোÑ ‘ক্লোজআপ’ (১৯৯০), ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ’ (১৯৯৫) ‘টেস্ট অব চেরি’ (১৯৯৭), ‘দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস’ (১৯৯৯), ‘এবিসি আফ্রিকা’ (২০০১), ‘টিকেটস’ (২০০৫), ‘চাকান অন সিনেমা’ (২০০৭) প্রভৃতি। ‘ফাইভ’ (২০০৩) আব্বাস নির্মিত খুবই বিখ্যাত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আব্বাস কিয়ারোস্তামি ১৯৪০ সালের আজকের দিনে (২২ জুন) ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন।
নাজমুল হুদা বাচ্চু
প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু আর নেই। গত ৫ জুলাই ভোর ৪টা ২০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে গেছেন। তার স্ত্রী লিনা নাজমুল জানান, ঈদের দুদিন আগে পর্যন্ত নাজমুল হুদা বাচ্চু শুটিং করেছেন। ১ জুলাই শুটিং থেকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের মারিচা অ্যাপার্টমেন্টে নিজ ফ্ল্যাটে ফেরার পর জ্বর হয় তার। একই সাথে রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত কমে যায়। ঈদের দিন দুপুরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪ জুলাই বাচ্চুর হার্টে সমস্যা ধরা পড়ে। ৫ জুলাই বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে নাজমুল হুদা বাচ্চুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। নাটক-বিজ্ঞাপন ছাড়াও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র বিভিন্ন পর্বে নিয়মিত ছিলেন নাজমুল হুদা বাচ্চু। প্রবীণ এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছেÑ ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘রানওয়ে’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘ডাক্তার বাড়ী’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতী’, ‘সারেং বৌ’। প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।

Category:

বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা নেই

Posted on by 0 comment

নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাবে প্রধানমন্ত্রী

57উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনেও বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, লুটেরাদের সংগঠন বিএনপির ওপর জনগণের কোনো আস্থা নেই। এ দলটি কেবল হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই ক্ষমতা দখল করেছিল এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে কোনোকিছুই করেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে তারা শুধু নিজেদের পকেট ভারি করেছিল। সন্ত্রাস ও ভয়ভীতির রাজত্ব কায়েম করে কেবল নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ব্যস্ত ছিল। তাই বিগত দিনের মতো আগামী নির্বাচনেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে, আওয়ামী লীগকে আবারও নির্বাচিত করবে।
গত ১১ জুন সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ আজ যে উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে, নিশ্চয়ই তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে। বাংলাদেশের মানুষ আজ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে যে উন্নয়নটা পাচ্ছে সেটা প্রত্যেকটা মানুষ উপলব্ধি করে। একটা সরকারের ধারাবাহিকতা যে একান্তভাবে প্রয়োজন সেটাও আজ প্রমাণিত। তিনি বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলেছে। জনগণই বারবার ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। জনগণ কিছু পায়। আর অন্যরা ক্ষমতায় আসে শুধু নিজেদের আখের গোছাতে।
আওয়ামী লীগ, তাদের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শেখ হাসিনাকে কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছায় ¯œাত করেন। আর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
ওয়ান-ইলেভেনের সেই দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আমাকে রাখা হয়েছে ১১টি মাস। দোতলার নিচে পর্যন্ত নামতে দিত না। এমনকি অসুস্থ হলে ডাক্তারও দেখায় নি। কিন্তু আমি কখনও মনের জোর হারাই নি। তিনি বলেন, ছেলের বউয়ের অপারেশন, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা ছিল। সেজন্য আমি দেশের বাইরে যাই। অথচ এরপর আমাকে দেশে আসতে দেবে না। মামলা দেবে, ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে। এ খেলাই তারা খেলতে চেয়েছে। তিনি বলেন, সবাই মামলার ভয়ে পালায়। আমি সেখানে জোর করে ফেরত এসেছি মামলা মোকাবেলা করার জন্য। নির্দেশ ছিল কেউ যেন বিমানবন্দরে না যায় এবং তারা সংখ্যা বেঁধে দিয়েছিল। ১০-২০ জনের বেশি যেতে পারবে না। সকল বাধা উপেক্ষা করে কৌশলে বিমানবন্দরে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। তাদের যেটা উদ্দেশ্য ছিল, হাজার হাজার মানুষ থাকায় তারা সেটা করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, আমরা দেখেছি চেহারা। ভেতরে থাকলে এক চেহারা, বাইরে থাকলে আরেক চেহারা। আওয়ামী লীগ সব সময় তৃণমূলের দল। তৃণমূল কখন সিদ্ধান্তে ভুল করে না। জন্মলগ্ন থেকেই এ ধরনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Category:

ফাস্টিং (উপবাস) শরীরের নবজন্ম দেয়

Posted on by 0 comment

প্রয়োজন অনুযায়ী উপবাসের কারণে শরীরের অনেক জটিল সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়, এটা একটা ম্যাজিক যে শুধু উপবাসের কারণে অনেক রোগ দূর হয়ে যায়।

54আলমগীর আলম: মানুষের শরীরে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ যেমন জরুরি তেমনি শরীরের প্রয়োজনে উপবাস থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই উপবাস ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, থাকতে হবে শরীরের প্রয়োজনে। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে যে উপবাস রাখা হয় তা রোজা, যা সারাদিন কোনো ধরনের আহার ব্যতিত এবং পানিও পান নিষেধ। কিন্তু শরীর সুস্থ রাখার জন্য যে উপবাসের কথা বলা হচ্ছে, তা উপবাস থাকাকালীনও পানি পান করতে হবে, শরীরকে কখনও ডিহাইড্রেশন করা চলবে না এবং উপবাস থাকতে হবে ২৪ থেকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। প্রয়োজন অনুযায়ী উপবাসের কারণে শরীরের অনেক জটিল সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়, এটা একটা ম্যাজিক যে শুধু উপবাসের কারণে অনেক রোগ দূর হয়ে যায়।
বিশেষ করে পেটের অনেক রোগই উপবাসে দূর হয়, তেমনি মেটাবলিক সিস্টেম, ইউমিউনিটি সিস্টেমকে ঠিক করে ক্ষুদামন্দা, রক্তের ভারসাম্য বজায় রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে, সাথে শরীরে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে অত্যন্ত কার্যকর, রক্তের ভেতরের যত ধরনের বর্জ্য বাস করে তা বের হয়ে পড়ে, তাই এই উপবাসকে বলা হয় ডিটক্সিফিকেশন।

55উপবাসের নিয়ম
ক্স উপবাস করার নিয়ম হচ্ছে, ভোরে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান, তার দুই মিনিট পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান, তার দুই মিনিট পর আরও এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। ঠিক দুই ঘণ্টা পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান। এভাবে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতি দুঘণ্টা পরপর এই এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করে যেতে হবে। আর কোনো ধরনের খাবারের প্রয়োজন হবে না।
ক্স দ্বিতীয় দিনও সকাল থেকে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, এক চামচ মধু, একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে হবে প্রতি দুই মিনিট পরপর।
ক্স তৃতীয় দিনও একই পদ্ধতিতে পানি পান করে যেতে হবে। তিন দিনের উপবাস হচ্ছে একটি ভারসাম্যমূলক, চার দিনেরটা হচ্ছে যদি পেটের বেশি পরিমাণে অসুখ থাকে আর পাঁচ দিনের উপবাস হচ্ছে, যারা কোনো ক্রোনিক সমস্যায় ভুগছেন তারা পাঁচ দিন উপবাস করবেন। উপবাস শেষ করে পরের দিন আধাবেলা যে কোনো ফল খেয়ে কাটিয়ে স্বাভাবিক খাবারে ফিরে আসবেন। এতে শরীরের ডিটক্সিফিকেশন হয়ে যাবে, শরীর থেকে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে।

উপবাসের দরুণ যে সমস্যা হতে পারে
উপবাসের সময় প্রথম দিন একটু খারাপ লাগে, বিশেষ করে বিকেল থেকে মাথাব্যথা, শরীর গরম গরম ভাব, প্রচ- ক্ষুদা লাগে, এটি হচ্ছে চোখের খাদ্য নেশা, শারীরিক কোনো দুর্বলতা হবে না; কিন্তু ক্ষুদা লাগবে। দ্বিতীয় দিন আর কোনো সমস্যা হবে না, তৃতীয় দিন দুপুরের পর থেকে একটু দুর্বল লাগবে, অনেকের পাতলা পায়খানা হবে, কারও যদি পেটে আমাশয় থাকে তা হলে তা বেড়ে যাবে; কিন্তু ঘাবড়ানো যাবে না, এটা ডিটক্সিফিকেশনের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ, এই পেট পরিষ্কার হলে শরীর হালকা হবে এবং মূল কাজের কাজটি হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম দিন ও দুর্বল লাগবে; কিন্তু কোনো সমস্যা হবে না।

উপবাসের দরুণ তাৎক্ষণিক ফল
ক্স এই উপবাস শেষে দেখা যাবে শরীর হালকা হয়ে যাবে।
ক্স শরীরে কোনো ব্যথা থাকলে তা কমে আসবে।
ক্স পেটের কোনো অস্বত্বি থাকবে না।
ক্স শরীরে যে কোনো ব্যথাই থাকুক না কেন তা কমে আসবে।
ক্স আর্থারাইটিস থাকলে কমে আসবে।
ক্স ইউরিক এসিড কমে যাবে।
ক্স শরীরের ত্বকের রং বদলাবে, উজ্জ্বলতা বাড়বে।
ক্স ওজন কমবে ৩ থেকে ৫ কেজি, কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
ক্স রক্তের ভেতরে জমাট হয়ে থাকা নানান বর্জ্য বেরিয়ে আসবে, রক্ত দূষণমুক্ত হবে।
ক্স শরীর এসিডিক কন্ডিশন থেকে অ্যালকালাই কন্ডিশনে ফিরে আসে।

এসব হবে দৃশ্যমান আর অদৃশ্যে থাকবে শরীরে সেল গঠনের প্রক্রিয়া ঠিক হয়ে উঠবে, শরীরে মৃত সেল বেরিয়ে আসবে, নতুন সেল তৈরি হবে, রক্তের অভ্যন্তরে সুঠাম গঠন তৈরি হবে, বিশেষ করে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন, পেটের অভ্যন্তরে পরজীবীগুলো নতুন কাঠামোয় তৈরি হবে, শরীর এসিড কন্ডিশন থেকে অ্যালকালাই ফর্মে আসবে আর অ্যালকালাই পরিবেশে ক্যানসারের জীবাণু বাড়ে না বরঞ্চ মারা যায়, সাথে শরীরে বিষ-বেদনা কমতে শুরু করে। শরীরে টিউমারের বাড়ন্তভাব কমে আসবে, এলার্জি থাকলে কমবে, পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভবনা কমে আসবে। এই উপবাস অনেকটা নবজন্ম হিসেবে শরীরটাকে তৈরি করবে।
আর এই নবজন্ম শরীরটাকে যতœ নিতে হবে, যে যে কারণে অনেক সমস্যা বাধিয়ে শরীরকে রোগাকান্ত করে ফেলেছিলেন সেই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে শরীরের প্রয়োজনীয় যতœ নিতে হবে।
উপবাস হচ্ছে প্রাকৃতিক নিয়মে শরীরের শুদ্ধতা আনার একটি কার্যকর প্রক্রিয়া। তাই এটি করতে ইচ্ছাই যথেষ্ট, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর কোনো গুরুত্ব নেই, এই আধুনিক চিকিৎসকরা পরামর্শ দেবেন, খাবেন আর ওষুধ খাবেন; কিন্তু আমরা দেখেছি ওষুধ খেয়ে মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা অনেক কম। বিশেষ করে ক্রোনিক সমস্যাগুলোতে বলাই হয়Ñ যতদিন বেঁচে থাকবেন ওষুধেই বেঁচে থাকবেন। কিন্তু উপবাস এমনই একটি অস্ত্র, যা দিয়ে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিও দূর করা সম্ভব।
উপবাস বছরে তিন মাস অন্তর করা উত্তম, আর যারা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগছেন, একাধিক ওষুধে জীবনযাপন করছেন, তারা প্রথমে একসাথে তিন দিন উপবাস করে পরবর্তীতে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে শরীরকে অ্যালকালাই অবস্থায় ফিরিয়ে আনলে শরীরে একটা ম্যাজিক ঘটে যাবে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধ দ্বারা ঠিক করা যায় না। কোনো ধরনের ওষুধ ছাড়া সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনার শরীরের সবচেয়ে দামি একটা কাজ করতে পারবেন শুধু এই উপবাস দ্বারা। তাই ডাক্তারের কাছে না ছুটে বাসায় নিজেই চেষ্টা করে দেখুন।

লেখক : ভাইস চেয়ারম্যান, ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার, ঢাকা

Category:

বর্ষায় বিকল্প পদ্ধতিতে সবজি চাষ

Posted on by 0 comment

51রাজিয়া সুলতানা: সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। ঋতু চক্রের আবর্তে নয়নাভিরাম দৃশ্য নিয়ে আগমন ঘটে বর্ষার। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে এই মনোরম দৃশ্য কখনও কখনও প্রান্তিক কৃষকদের চোখেও ঝরায় শ্রাবণের ঝরনা ধারা। কারণ এ সময় নেমে আসে আগাম বন্যা, সাময়িক ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, দীর্ঘমেয়াদি বর্ষা, উপকূলীয় এলাকার জলাবদ্ধতা, সাইক্লোন, অতি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্ষায় প্রকৃতিনির্ভর কৃষকগণ ফসল অনেক সময়ই যথানিয়মে ঘরে তুলতে পারেন না। আবার কখনও বা আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় চাষাবাদই করতে পারেন না। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে হয়। ফলে কৃষকদের চাষাবাদের জন্য বিকল্প ভাবনায় যেতে হয়।
পাশাপাশি বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। ফসলের মাঠে গড়ে উঠছে শিল্প। আর শিল্পের জায়গায় হচ্ছে আবাসন। আবাসন হচ্ছে নাল জমিতেও। 52জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতভিটা তৈরি, অপরিকল্পিত চাষাবাদ, যোগাযোগের জন্য রাস্তা ও শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের কারণে দেশে মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার অব্যাহত খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তাই শুধু আবাদি জমির ওপর নির্ভর করা যাবে না। প্রয়োজন অব্যবহৃত উন্মুক্ত জায়গা ও পতিত স্থান শষ্য চাষের আওতায় আনা। এবং বর্ষাকালে প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদ পদ্ধতিকে অভিযোজিত করা। আর এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে মাটিই লাগে না। এমনকি সার, বালাইনাশক, কোনো প্রকার হরমোনও ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এই প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে সতেজ অর্গানিক শস্য। এই পদ্ধতির নামÑ ভাসমান চাষাবাদ বা হাইড্রোপনিক পদ্ধতি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় হাইড্রোপনিক একটি যুগোপযোগী উৎপাদন ব্যবস্থা। যার দ্বারা সহজে সতেজ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। এই পদ্ধতিতে খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়, পুকুর-দীঘি ও উন্মুক্ত জলাশয় মৎস্য চাষের পাশাপাশি শস্য চাষ করা সম্ভব। বছরজুড়ে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য ভাসমান চাষাবাদ পদ্ধতি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার টেকসই বিকল্পও হতে পারে।
ভাসমান পদ্ধতিতে স্থানীয় কৃষকরা সম্মিলিত উদ্যোগে জমির পানিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া কচুরিপানা, শ্যাওলা, দুলালীবন পচিয়ে সারি সারি কান্দি (আইল) তৈরি করে। পরে তার ওপর ফসল চাষ করেন। জলাভূমিতে প্রথমে কচুরিপানা এবং পর্যায়ক্রমে শ্যাওলা, কচুরিপানা ও দুলালীলতা স্তরে স্তরে সাজিয়ে ২ ফুট পুরু ধাপ বা ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। ধাপে জৈব উপকরণ দ্রুত পচাতে ব্যবহার করা হয় সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার। একেকটি ভাসমান ধাপ ৫০-৬০ মিটার দীর্ঘ ও দেড় মিটার প্রস্থে হয়। এই ধাপ চাষের উপযোগী করতে প্রায় সাত থেকে ১০ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়। ভাসমান পদ্ধতিতে সরাসরি বীজ বপন সম্ভব হয় না। তাই প্রতিটি বীজের জন্য এক ধরনের আধার তৈরি করতে হয়। এর নাম দৌল্লা। এক মুঠো করে টেপাপানা (ছোট কচুরিপানা), দুলালীলতার মধ্যে নারিকেল ছোবড়ার গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় দৌল্লা। সাধারণত নারীরাই দৌল্লা তৈরি করে থাকেন। এই দৌল্লার মধ্যে বিভিন্ন সবজির অঙ্কুরিত বীজ পুঁতে মাচানে বা শুকনো জায়গায় রাখা হয়। এর আগে ভেজা জায়গায় বীজ অঙ্কুরিত করা হয়। দৌল্লাগুলো এভাবে তিন থেকে সাত দিন সারি করে রাখা হয় এবং এরপর গজানো চারা ধাপে স্থানান্তর করা হয়। ধাপে স্থানান্তরের পাঁচ-ছয় দিন পর গজানো চারার পরিচর্যা শুরু হয়। এভাবে ভাসমান বা ধাপ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা দুভাবে লাভবান হয়। প্রথমত; ২০ থেকে ২২ দিনের পূর্ণবয়স্ক চারা পাইকারি বাজারে বিক্রি করে এবং দ্বিতীয়ত; ভাসমান পদ্ধতি ব্যবহার করেই মাটিবিহীন অবস্থায় উৎপাদিত শাক-সবজি বাজারে বিক্রি করে।
ভাসমান পদ্ধতি ব্যবহার করে অত্যন্ত সার্থকভাবে লাউ, কুমড়া, করলা, ঝিঙে, শিম, বরবটি, পেঁপে, বেগুন, বাঁধাকপি, টমেটো ও শসা উৎপাদন করা যায়। আবার কখনও কখনও কৃষকরা পুরনো ধাপ কিনে এর ওপর কুমড়া, শিম, পেঁপে, করলা, টমেটো, লাউ, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক বা সাদাশাকের চাষ করে থাকেন। ইতোমধ্যে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ প্রক্রিয়া বরিশাল বিভাগ থেকে সিলেট, যশোর, মানিকগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
শহরাঞ্চলেও মাটিবিহীন চাষাবাদ করা যায়। মাটির পরিবর্তে পানিতেই অবলীলায় জন্মানো যায় টমেটো, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, শসা, ক্ষীরা, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, গাঁদা, গোলাপ, অর্কিড, চন্দ্রমল্লিকা, বেগুন, বামন শিম, তরমুজ এবং ঘাস জাতীয় ফসল ইত্যাদি। এই পদ্ধতিতে সারাবছর বাড়ির ছাদে, আঙিনায়, বারান্দায়, খোলা জায়গায় পলি টানেল, টব, বালতি, জগ, বোতল, পাতিল, প্লাস্টিকের ট্রে, নেট হাউসে অনায়াসে সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদন করা যায়।
সাধারণত দুই উপায়ে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়Ñ সঞ্চালন পদ্ধতি এবং সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতি।
সঞ্চালন পদ্ধতিতে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদানগুলো যথাযথ মাত্রায় মিশ্রিত করে একটি ট্যাংকিতে নেওয়া হয়। এবং পাম্পের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে ট্রেতে পুষ্টি দ্রবণ সঞ্চালন করে ফসল উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পাম্পের সাহায্যে এই সঞ্চালন প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম বছর ট্রে, পাম্প এবং পাইপের আনুষঙ্গিক খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তী বছর থেকে শুধু রাসায়নিক খাদ্য উপাদানের খরচের প্রয়োজন হয়। ফলে দ্বিতীয় বছর থেকে খরচ অনেকাংশে কমে যায়। এ পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজিং লোহার ট্রের ওপর কর্কশিটের মধ্যে গাছের প্রয়োজনীয় দূরত্ব অনুসারে যেমনÑ লেটুস ২০ ী ২০ সেন্টিমিটার, টমেটো ৫০ ী ৪০ সেন্টিমিটার এবং স্ট্রবেরি ৩০ ী ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্বে গর্ত করতে হয়। উপযুক্ত বয়সের চারা স্পঞ্জসহ ওই গর্তে স্থাপন করতে হয়।
অন্যদিকে, সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে একটি ট্রেতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানগুলো পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে খাদ্য উপাদান সরবাহের জন্য কোনো পাম্প বা পানি সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে খাদ্য উপাদান মিশ্রিত দ্রবণ ও এর ওপর স্থাপিত কর্কশিটের মধ্যে ২-৩ ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে এবং কর্কশিটের ওপরে ৪-৫টি ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে, যাতে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গাছ তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কর্কশিটের ফাঁকা জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারে। ফসলের প্রকারভেদে সাধারণত দু-তিনবার এই খাদ্য উপাদান ট্রেতে যোগ করতে হয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্লাস্টিকের বালতি, পানির বোতল, মাটির পাতিল ইত্যাদি ব্যবহার করে বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং খোলা জায়গায় সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করতে পারে। এতে খরচ তুলনামূলক অনেক কম হবে।
হাইড্রোপনিক পদ্ধতির চারা উৎপাদনের জন্য যে স্পঞ্জ খ-টি ব্যবহার করা হয় তা সাধারণত ৩০ ী ৩০ সেন্টিমিটার সাইজের। এরপর ওই স্পঞ্জকে ২.৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ২.৫ সেন্টিমিটার প্রস্থ বর্গাকারে, ডট ডট করে কেটে নিতে হয় এবং এর মাঝে ১ সেন্টিমিটার করে কেটে প্রতিটি বর্গাকারে স্পঞ্জের মধ্যে একটি করে বীজ বপন করতে হয়। যেসব সবজির বীজ অতি ছোট যেমন লেটুস, ফুলকপি, ইত্যাদি গুলোকে স্পঞ্জে বপনের পূর্বে অঙ্কুরোদগমের জন্য নি¤œলিখিত পদ্ধতিগুলোর একটি অনুসরণ করা হয়। পদ্ধতিগুলো হচ্ছেÑ ১. পেট্রিডিসে রেটিং পেপার দিয়ে তাতে বীজ ভিজিয়ে রাখা ২. ছোট ট্রেতে বালি নিয়ে তাতে বীজ বসানের পর ভিজিয়ে দেওয়া এবং ৩. নারিকেলের ছোবরা ভালোমতো গুঁড়া ও পরিষ্কার করার পর তা ছোট ট্রেতে নিয়ে তাতে বীজ বসানোর পর ভিজিয়ে দেওয়া।
অঙ্কুরোদগমের জন্য সেগুলোকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়। মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় পানি দিতে হবে। বীজ বপনের আগে বীজকে ১০ শতাংশ ক্যালসিয়াম অথবা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হয়। বীজ বপনের পর স্পঞ্জকে একটি ছোট ট্রেতে রাখতে হয়। এই ট্রের মধ্যে পানি থাকবে ৫-৮ সেন্টিমিটার, যাতে স্পঞ্জটি পানিতে সহজেই ভাসতে পারে। চারা গজানোর দু-তিন দিন পর প্রাথমিক অবস্থায় ৫-১০ মিলিলিটার খাদ্যোপাদানে সংবলিত দ্রবণ একবার এবং চারা গজানোর ১০-১২ দিন পর থেকে চারা রোপণের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ১০-২০ মিলিলিটার দ্রবণ দিতে হবে। এখন জানা দরকার খাদ্যোপাদানে সংবলিত দ্রবণটি আসলে কিসের মিশ্রণ। মিশ্রণটি হলোÑ প্রতি ১ হাজার লিটার পানির জন্য পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট ২৭০ গ্রাম, পটাসিয়াম নাইট্রেট ৫৮০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট ১ হাজার গ্রাম, ম্যাগানেসিয়াম সালফেট ৫১০ গ্রাম, ইডিটিএ আয়রন ৮০ গ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট ৬.১০ গ্রাম, বরিক এসিড ১.৮০ গ্রাম, কপার সালফেট ০.৪০ গ্রাম, অ্যামনিয়াম মলিবটেড ০.৩৮ গ্রাম এবং জিংক সালফেট ০.৪৪ গ্রাম।
তবে জলীয় খাদ্য দ্রবণটি তৈরির সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রথমে স্টোক সলিউসান তৈরি করতে হবে। এই স্টোক তৈরি করার সময় ক্যালসিয়াম নাইট্রেটকে পরিমাপ করে ১০ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে দ্রবণকে স্টোক সলিউসান ‘এ’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং অবশিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্যগুলোকে একসাথে ১০ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে স্টোক সলিউসান ‘বি’ নামে নামকরণ করতে হবে। ১ হাজার লিটার জলীয় দ্রবণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে ১ হাজার লিটার পানি ট্যাংকে নিতে হবে। তারপর স্টোক সলিউসান ‘এ’ থেকে ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকের পানিতে ঢালতে হবে এবং একটি অধাতব দ-ের সাহায্যে নাড়াচাড়া করে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর স্টোক সলিউসান ‘বি’ থেকে আগের মতো ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকে নিতে হবে এবং আগের মতো অধাতব দ-ের সাহয্যে পানিতে স্টোক সলিউসানগুলো সমানভাবে মেশাতে হবে।
এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের পর দ্রবণের পিএইচ (অম্ল) মাত্রা ৫.৮ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে এবং ইসি (ক্ষার) মাত্রা ১.৫ থেকে ১.৯-এর মধ্যে রাখা দরকার। যদি পিএইচ-এর মাত্রা ৭.০-এর ওপরে হয় তবে আয়রন, ম্যাংগানিজ, মলিবডেনামসহ অন্যান্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অথবা ফসফরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিড দিয়ে পিএইচ-কে কাক্সিক্ষত মাত্রায় রাখতে হবে। আবার পিএইচ যদি ৫.৮-এর নিচে নেমে যায় তবে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড অথবা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দিয়ে পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ইসি-এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে জলীয় দ্রবণে খাদ্য উপাদানের উপস্থিতির সাধারণ মাত্রা ইসি ১.৫-২.৫ ফং/স-এর মধ্যে রাখতে হবে। ইসি-এর মাত্রা যদি ২.৫ ফং/স-এর ওপরে চলে যায় সেক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি যোগ করতে হবে। ইসি যদি ১.৫ ফং/স-এর নিচে চলে যায় তবে খাদ্যদ্রবণ যোগ করে ইসির মাত্রা ১.৫-এর ওপর রাখতে হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে পিএইচ ও ইসি মিটারের সাহায্যে পরীক্ষা করে পিএইচ এবং ইসি সমন্বয় করতে হবে। গাছের বৃদ্ধির পর্যায়ে ওপর থেকে সুতা বা শক্ত রশি ঝুলিয়ে গাছ সোজা ও খাড়া রাখতে হয়। মনে রাখতে হবে, আকস্মিকভাবে জলীয় খাদ্য দ্রবণের পিএইচ এবং ইসি পরিবর্তন করা যাবে না। সাধারণত দ্রবণের তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে হওয়া দরকার। যদি দ্রবণের তাপমাত্রা বেড়ে যায় তবে শ্বসনের হার বেড়ে যায়, ফলে অক্সিজেনের চাহিদাও দারুণভাবে বাড়ে। ফলে দ্রবণের অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। সাধারণত দুপুরে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, কাজেই এ সময় তাপমাত্রা কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চাষকৃত ফসলে বিভিন্ন পোকামাকড় আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এদের মধ্যে এফিড, লিফ মাইনার, থ্রিপস এবং মাকড় অন্যতম। প্রতিদিনের তদারকির মাধ্যমে এদের দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া অন্যান্য পরিচর্যা সাধারণ গাছের মতোই।
ভাসমান বা হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ছোট এবং বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিচ্ছন্নভাবে ফসল উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে এই ভাসমান চাষাবাদের ইতিহাস ৩০০ থেকে ৪০০ বছরের পুরনো। আমাদের সংগ্রামী পূর্বপুরুষরা জীবিকার প্রয়োজনে তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে চাষের নানা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। অথচ এ জাতীয় হাইড্রোপনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ভবিষ্যতের চাষাবাদ পদ্ধতি হিসেবে এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। এটা আমাদের সমৃদ্ধ জাতিসত্তার প্রমাণ বহন করে। দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পুষ্টি সমস্যা সমাধান, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব কৃষি ও রপ্তানিমুখী কৃষি পণ্য উৎপাদনে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চাহিদামাফিক অত্যন্ত টেকসই একটি প্রযুক্তিই হলো ভাসমান বা হাইড্রোপনিক পদ্ধতি। চাইলে আপনিও চেষ্টা করতে পারেন।

Category:

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাস

Posted on by 0 comment

আগামী বিশ্বকাপে নতুন মাত্রার বাংলাদেশকেই দেখার প্রত্যাশা ক্রিকেট সমর্থকদের। এখনও বাকি প্রায় দুই বছর। এ সময়ে আরও সমৃদ্ধ আত্মবিশ্বাসী টিম বাংলাদেশ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে তামিম-সাকিব-মুশফিকদের।

49আরিফ সোহেল: বাংলাদেশের জন্য এমন হিসাবটা প্রাপ্যই ছিল। কিন্তু নানা টানাপড়েনে তা নিয়ে চুলচেরা অঙ্ক কষতে হয়েছে ভক্তদের। ওমুক হারলে; তমুখ জিতলে তবেই হবে স্বপ্ন পূরণ এই ধন্ধে ছিলেন টিম বাংলাদেশের সমর্থকরা। তাও প্রায় দুই বছর। আইসিসিসিদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী র‌্যাংকিংয়ের সেরা আট সরাসরি আর বাকি চার দলের বাছাই লড়াইয়ের পর ১০ দল নিয়ে হবে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। ২০১৭ সালে জুন মাসে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ম্যাচ পর থেকেই সেই নিকাশ শেষ হয়ে গেছে। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন নিরাপদ। বিশ্বকাপ খেলছে সরাসরিই। চলছে তারই উদযাপন। আর তাতেই উচ্ছ্বাস-উৎসবের আমেজে রোমাঞ্চিত বাংলাদেশের ভক্তরা।
২০১৯ বিশ্বকাপ নিশ্চিত বাংলাদেশের। ৩০ সেপ্টেম্বর আইসিসির সর্বশেষ র‌্যাংকিং ঘোষণা করবে। তাতেই চূড়ান্ত হবে দল নির্বাচন। সর্বশেষ সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী আর যাই হোক, বাংলাদেশ কমপক্ষে থাকছে ৮ নম্বরে।
নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই নতুন করে নিজেদের চিনিয়েছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৬-এ চলে আসে বাংলাদেশ। শুধু কি তাই, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এই দুই-ই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন মাইলফলক। যদিও সেমিফাইনালে ভারতের সাথে পেরে ওঠেনি। কিন্তু তাতে কিÑ বাংলাদেশ খেলেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্বপ্নের সেরা চারে। যেখানে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলংকা-নিউজিল্যান্ডের মতো দলও দর্শকসারিতে হাততালি দিয়েছে।
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের দুই জয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৯ থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথেও পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছে। জুনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যবধান ১৫। বাংলাদেশ এখনও শ্রীলংকার চেয়ে এগিয়ে সপ্তম স্থানে। পয়েন্ট ব্যবধান ৩। তবে শ্রীলংকার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলার। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ন্যূনতম কোনো সুযোগ আর নেই। কারণ চলতি সিরিজে ভারতের কাছে প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশ একদম নিরাপদ অবস্থানে চলে এসেছে।
50৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ঘোষিত হবে স্বাগতিক দলসহ শীর্ষ আট দলের নাম। ১০ দলের আসরে বাকি দুটি দলকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে হলে পেরোতে হবে বাছাই পর্ব। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের পর খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। রয়েছে আয়ারল্যান্ডের সাথেও একটি ম্যাচ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উইন্ডিজ সব ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারবে না। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু আর কোনোভাবেই তাদের ১৭ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব নয়। ভারতের বিপক্ষে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ চলছে। সিরিজের আছে বাকি দুই ম্যাচ। এই দুই ম্যাচ জেতার সাথে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ৫টি ওয়ানডে জিতলেও ১৭ পয়েন্ট পাবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হবে ১৬ পয়েন্ট। তাতে বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে থেকে যাবে ৮-ই। মোদ্দাকথা বাছাই পর্ব নিয়ে ভাবনায় পড়তে হবে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাদের একটি সরাসরি অন্যটি বাছাই পর্বের বাধা ডিঙাতে হবে। তবে দু-দলেই বেশ কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শ্রীলংকা এক্ষেত্রে অনেক বেশি নিরাপদ অবস্থানে। শ্রীলংকার সব ম্যাচ হারতে হবে; ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব ম্যাচ জিততে হবে। তখন তাদের সমান পয়েন্ট হবে। সেক্ষেত্রে জটিলতর সমীকরণই ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য।
সেপ্টেম্বরের আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে ম্যাচ না থাকলেও টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আগস্ট মাসে বহুল প্রত্যাশিত দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা। তবে টিম অস্ট্রেরিয়ার সাথে ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তি নিয়ে ঝক্কি-ঝামেলা হওয়ায় এই সফর নিয়েও শঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী ১৮ আগস্ট ঢাকার উদ্দেশে বিমানে ওঠার কথা স্টিভ স্মিথদের। ভরসা এখনও প্রায় দেড় মাস সময় রয়েছে। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব সংকট তাদের আগেই সমাধান হয়ে যাওয়ার কথা। সংকট বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে। ক্রিকেটারদের প্রস্তাব না মানলে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বদলে আইপিএল, সিপিএল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলবেন। শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই নন; এ অবস্থানে অনড় অস্ট্রেলিয়ান সব ক্রিকেটার। ফলে বোর্ডের পক্ষে বিকল্প কোনো দলও তৈরি করা সম্ভব হবে না। এ জটিলতায় নানা সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি টিভি সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ চুক্তি, সব কিছু নিয়েই পেশাদার ক্রিকেটের আদর্শ অস্ট্রেলিয়ানরা এখন গভীর সংকটে।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে। সেই বিশ্বকাপে সরাসরি ৮টি দল খেলবে। মোট ১০ দলের টুর্নামেন্টের বাকি দুটি দল বাছাই পর্ব উতরে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। র‌্যাংকিংয়ের ৮ নম্বর দলও খেলবে সরাসরি। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে পাকিস্তানও সেই দলে যোগ দিয়েছে। আর ৭ নম্বর দল হিসেবে বাংলাদেশও খেলছে সরাসরি। আর একটি দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। সেখানে কাগজে-কলমের হিসাব যা-ই থাকুক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঢের এগিয়ে শ্রীলংকা।
বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন নতুন স্লোগানে উদ্বেলিতÑ আমরা এখন যেখানে সেখানে; যে কোনো দলের বিপক্ষে জিততে পারি। তাই আগামী বিশ্বকাপে নতুন মাত্রার বাংলাদেশকেই দেখার প্রত্যাশা ক্রিকেট সমর্থকদের। এখনও বাকি প্রায় দুই বছর। এ সময়ে আরও সমৃদ্ধ আত্মবিশ্বাসী টিম বাংলাদেশ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে তামিম-সাকিব-মুশফিকদের। আর যেখানে একজন ক্রিকেটবান্ধব প্রধানমন্ত্রীও তাদের পাশে থাকছেন সব সময়ই। আর জ্বালিয়ে রাখছেন খেলোয়াড়দের জন্য প্রত্যাশিত আলোর বাতিঘর।

Category:

গ্রহাণু পৃথিবীর জন্য আতঙ্ক!

Posted on by 0 comment

 

46অনিরুদ্ধ ব্রতচারি: ১৯৯৭ এক্সএফ ১১ নামের গ্রহাণুটি প্রবল বেগে এগিয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। ২০২৮ সালে পৃথিবীর কোনো শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারেÑ ঠিক এমন ভাবনায় আতঙ্কিত বিজ্ঞানীরা। বড় বিপদ দেখছেন পৃথিবীর। খুঁজছেন নিস্তারের পথ। হোক আজ, না হয় কাল। অবশ্য অন্যদল পরীক্ষা নিরীক্ষা গবেষণার পর নির্ভয় জানিয়েছেন। তারা বিজ্ঞান-প্রযুক্তির স্কেল মেপে প্রবলভাবে বলার চেষ্টা করছেন পৃথিবীর ক্ষতি করার মতো বিপুল সম্ভাবনা নেই এই গ্রহাণুর।
মহাবিশ্বে এখন গ্রহাণুর সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। এগুলো সারাক্ষণই পৃথিবীর আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। বিজ্ঞানের কঠিন হিসাব-নিকাশের যুগেও কোনো কোনো বিজ্ঞানীর দাবি, পৃথিবীর ধ্বংস আসন্ন করে তুলতে পারে ওই আছড়ে পড়া গ্রহাণুগুলো। এর বৈশ্বিক শক্তি বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলোকেও তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কারণ পৃথিবীর বুকে গ্রহাণুর আছড়ে পড়া কোনো কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রের গল্প নয়। যে 47কোনোদিন তা বাস্তবে ঘটতেই পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
একদল বিজ্ঞানী মনে করছেন, আজকের দিনে একটি সংঘর্ষই ছোট শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। ফলে আপাতত পৃথিবীর কাছে থাকা গ্রহাণুগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। মহাকাশে এমন ১ হাজার ৫০০-এরও বেশি গ্রহাণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যা পৃথিবীর খুব কাছে রয়েছে। তবে এদের মধ্যে অধিকাংশই বিপজ্জনক নয়। পৃথিবীর দিকে এদের ধেয়ে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।
নাসার দাবি এমন অনেক অচিহ্নিত গ্রহাণু রয়েছে, যা যে কোনোদিন ধেয়ে আসতে পারে পৃথিবীর দিকে। উল্লেখ্য, ১০৯ বছর আগে যে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিল, তা কিন্তু কোনো আগাম আভাস দিয়ে আসেনি। তাই এ বিষয়ে যে সতর্ক হওয়ার সময় এসে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।
৩০ জুন ছিল বিশ্ব ধূমকেতু দিবস। এ বিষয়টি নিয়েই ওইদিন  লুক্সেমবার্গে একটি সরল উপস্থাপনা দিয়েছেন ফিটজসিমোনস। এ দিনটি কেন ধূমকেতু দিবস তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। কুইনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালান ফিটজসিমোনস উপস্থাপনায় ১৯০৮ সালের পুরনো ঘটনা তুলে ধরেছেন। ওইদিন সাইবেরিয়ার টুংস্কাতে একটি গ্রহাণু এসে আছড়ে পড়েছিল। অবিশ্বাস্য ওই ঘটনায় টুংস্কার প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি নতুন গ্রহাণুর অপঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন। সচিত্র উপস্থাপনায় তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন নতুন গ্রহাণু পৃথিবীর ওপর আছড়ে পড়তেও পারে; নাও পারে। কারণ মহাকাশচারীরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে প্রায়ই দেখা যায় পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেক ধূমকেতু। কিন্তু এসব ধূমকেতুর বিচ্যুতির ফলে পৃথিবীতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তবে টুংস্কার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না সেই বিষয় নিয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেন নি এই বিজ্ঞানী।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে পৃথিবীর সাথে প্রায়ই ধাক্কা লাগে মহাকাশে থাকা বিভিন্ন ধূমকেতু-গ্রহাণুর। প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর ধরেই চলছে এমন সব ঘটনা। গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ গ্রহাণুর আয়তন প্রায় ১ কিলোমিটার। বারবার ধাক্কা-ঘর্ষণের ফলে বর্তমানে এই গ্রহাণুগুলোর আয়তন ১৪০ মিটারে কমে এসেছে। তারপরও এগুলোর বিচ্যুতির ফলে পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তবে ১০০ মিলিয়ন বছরে এ ঘটনাটি একবার হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে এ ঘটনাটি ঘটলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা।
১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বরের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেসওয়াচ প্রোগ্রামে জিম স্কট জানিয়েছিলেন, ঘটনা সময়সাপেক্ষ হলেও গ্রহাণু এক্সএফ ১১ ক্রমেই পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। আর তাতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রহাণু ১৯৯৭ এক্সএফ ১১-এর আকার সম্পর্কে বলা হয়েছিল এটি বড় ব্যাসের এক মাইল লম্বা। ওই সময় আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের মাইনর প্লেট সেন্টারকে সতর্ক করা হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে গবেষণা করার পরে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ব্রায়ান মার্সডেন ওই গ্রহাণুর কথা জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, এই গ্রহাণুটির সাথে ২০২৮ সালের ২৪ অক্টোবর পৃথিবীর সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে একদল বিজ্ঞানী হাতে-কলমে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন এই ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষাণিকটা ভুল রয়েছে। ব্রায়ান মার্সডেন জানিয়েছেন, কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ প্রকৃত দূরত্বে কিছু ভুল রয়েছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে এক্সএফ ১১ গ্রহাণুটি চাঁদের কাছাকাছি আসতে চলেছে। অর্থাৎ, পৃথিবীর দূরত্বে আসার সম্ভাবনা কম।
গ্রহাণু এক্সএফ ১১ নিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানীদের বিপরীতমুখী অবস্থানও। জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির এলিয়ানর হেলিন এবং কেনেথ লরেন্স বলেছেন, আগে যে ছবি পাওয়া গিয়েছিল তা দুর্ঘটনাবশত মিলেছিল। সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই। মার্সডেন এবং তার দল স্বীকার করেছেন যে তাদের দূরত্ব বিবেচনায় ভুল ছিল। হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ড্যান ড্যান ডব্লিউই বলেছিলেন, কোনো বিতর্ক ছিল না। আমরা কখনোই অসম্মতি দেখিনি। আমরা নিজেদের পরীক্ষায় দেখেছিলাম যে গ্রহাণুটি ৬০ হাজার মাইল দূরে চলে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সম্মিলিতভাবে বিশেষ পন্থা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা থেকে নিজের রক্ষা করা কঠিন। স্বাভাবিকভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই পৃথিবীতে। যার ফলে এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। আর এ ঘটনার জেরে বেড়ে চলেছে পৃথিবীর তাপমাত্রাও। ১০০ মিলিয়ন বছরে এ ঘটনাটি একবার হয়। এ বিষয়টিকে রোধ করতে গেলে রাজনীতিবিদ এবং স্পেস এজেন্সির সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ এতে প্রয়োজন পড়বে বিপুল অর্থের।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা বলছে, গ্রহাণুগুলোর অবাধ বিচরণ ৯ থেকে ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। ফলে সব গ্রহাণুই পৃথিবীর জন্য হুমকি নয়।
লেখক : বিজ্ঞানবিষয়ক প্রাবন্ধিক এবং সমাজকর্মী

Category: