Blog Archives

পাহাড় ধস ও ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গে

Posted on by 0 comment

জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা দুর্গত কোনো মানুষকে যেন এক বেলাও না খেয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

43সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। ইতিহাস বিবেচনা করলে বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। প্রাণহানি হয়েছে তবে দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে মানুষ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় গত ৩০ মে ২০১৭ সকাল পৌনে ৬টায় কক্সবাজারের টেকনাফে ১৩৫ কিমি বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’। ইংরেজি হচ্ছেÑ ‘স্টার অব দ্য সি’ বাংলায় ‘সাগরের নক্ষত্র’ বা ‘সাগরের তারা’। গত ১১ জুন থেকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নি¤œচাপের ফলে ধারাবাহিক বৃষ্টিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৫টি জেলার অন্তত ১২টি স্থানে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা, দুই সেনা সদস্যসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে শুধু রাঙ্গামাটিতেই মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের। নিহত সেনা সদস্যরা হলেনÑ মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহিন আলম। সব মিলে দেখা দিয়েছে পাহাড়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। এ সময়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে রাঙ্গামাটিতে ৩৪৩ মিলিমিটার এবং রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৩৯ মিলিমিটার। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, গাছপালা কেটে ফেলার পাশাপাশি পাদদেশ কেটে বসতি স্থাপনের কারণেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের পাহাড় মূলত মাটির, পাথরের ভাগ খুবই কম। তাই কোনো অংশ কেটে নিলে দ্রুত অন্য অংশে চাপ পড়ে। পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, রাশিয়া, কানাডা, ভারত এবং ব্রিটেন শোক জানিয়েছে। আইসিসি চেম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামে মাশরাফি-সাকিবরা। দুর্যোগ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক টিম দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যেকে যাতে ঘর বানাতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় মোরা উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল। ‘মোরা’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার সব নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সোমবার (২৯ মার্চ ২০১৭) মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ ২০১৭) সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি বয়ে যায়। সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সাথে জেলা-উপজেলার সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছিল। উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পর্যাপ্ত নৌযান প্রস্তুত রাখতে জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের সংকেত অনুযায়ী সমুদ্রে অবস্থানরত সব জাহাজ ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছিল। উপকূলীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলা ও দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবকদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কক্সবাজারে আঘাত হানার সময় বাতাসে এর গতিবেগ শুরুতে কম থাকলেও পরে সেই গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার। তবে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় পতেঙ্গায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার। সেন্টমার্টিন্সে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৪ কিলোমিটার এবং টেকনাফে ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। কক্সবাজারে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টেকনাফের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জমির ফসল এবং লবণ চাষিদের জমাকৃত লবণ নষ্ট হয়ে যায়। ঝড়ের সময় ঘরের দেয়াল, টিন ও গাছচাপা পড়ে এবং আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে; বিধ্বস্ত হয়েছে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। শেষ হওয়া মাত্রই ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চিকিৎসা ও ত্রাণ বিতরণ শুরু করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ ও ‘সমুদ্র খাদেম’। ৬ ঘণ্টা তা-ব চালানোর পর উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে মোরা। সময়মতো প্রস্তুতি গ্রহণ, উপকূলীয় লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং সাগরে ভাটার টান থাকায় জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ‘মোরা’ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা সব সময় সতর্ক। ঝড় আসলে কি কি করণীয়, এ ব্যাপারে একটি বই ছাপানো হয়েছে। বইটিতে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয়ভাবে কি করণীয় এ ব্যাপারে সব ধরনের গাইড লাইন দেওয়া রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উপকূলীয় মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। ভবিষ্যতে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের এমন কোনো পাহাড় নেই যেখানে ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়নি। কেন এমন ঘটনা। পাহাড়ের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। এমনও ঘটেছে যে, বড় একটি পাহাড় অপেক্ষাকৃত ছোট একটি পাহাড়ের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়েছে। ধস নেমে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময়জুড়ে বসবাসরত বাসিন্দারা এ ঘটনাকে কোনো দানবের আঘাত হিসেবেও অভিহিত করছে। যদিও বিষয়টি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞায় পড়ে না। এরপরও একযোগে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা শিহরণমূলক। এখন আকাশে মেঘ দেখলেই মানুষের মনে বড় ধরনের আতঙ্কের জন্ম নিচ্ছে। প্রশাসনও হয়েছে অধিকতর সজাগ। বৃষ্টি হোক আর না হোক আবারও ধসের আশঙ্কায় দলে দলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া জোরাল করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় ১৬০টি ভূমিধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। ২০০৭ সালের পর প্রতিবছর বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাসিন্দাদের অনাগ্রহের কারণে তা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বলে গত ১৩ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া মন্তব্য করেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে ভূমিধস ঠেকাতে মহাপরিকল্পনা নেওয়ার সময় এসেছে। এক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতের পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার জন্য প্রকল্প নিতে হবে। ভালনারেবল স্লোপগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার নিতে হবে। পানি দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ ক্যানেল করতে হবে। পার্বত্য এলাকায় যত্রতত্র রাস্তা বানানো এভয়েড করতে হবে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন রাস্তা করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিহার করতে হবে। ভূমিধস রোধে করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নির্বিচারে পাহাড় কাটা বন্ধ করা। নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা। জলাশয়, খাল ও নদী ভরাট বন্ধ করা। প্রাকৃতিক বনের গাছ কাটা বন্ধ করা। পাহাড়ের ঢালে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো চিহ্নিত করে পুনর্বাসনযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ঝুঁকি পরিহার এবং পুনর্বাসনযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের পুনর্বাসনের স্থান নির্ধারণ করেছে। এসব ব্যাপারে এ মাসের ভেতরেই তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং বিপজ্জনক পাহাড় কাটা অংশে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করা হলেও এসব অবৈধ কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বারে বারে এমন মর্মন্তুদ ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। দেশের মানুষের দাবি কঠোরভাবে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং আইনকানুন উপেক্ষার বিরুদ্ধে, প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
প্রকৃতিকে পরিমিত শাসন সভ্যতার ক্রমবিকাশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু তা অতি শাসনে রূপ নিলেই ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী প্রকৃতি মানুষের ওপর প্রতিশোধ নেবেই নেবে। প্রকৃতিকে ক্ষত-বিক্ষত ও রিক্ত না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটালে, আমাদের পরিবেশ হবে বাসযোগ্য এবং আমরা থাকব নিরাপদ ও সুরক্ষিত।
ত্রাণ কার্যক্রম : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আজ বিশ্বব্যাপী নন্দিত। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা দুর্গত কোনো মানুষকে যেন এক বেলাও না খেয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশের কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগও সাথে সাথে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যায় দুর্গত মানুষের পাশে।
গত ৩০ জুন সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। এ সময় কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল ও নগদ ১ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১৩২ মেট্রিক টন চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটি ২৯ জুন বিকেলে কক্সবাজার পৌঁছে। ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুবির রায় নন্দী, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রব্বানী চিনু উপস্থিত ছিলেন। টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, নগদ টাকা বিতরণ এবং দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ৩০ জুন সকাল ১০টায় শাহ পরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল, ২০০ পরিবারের মধ্যে নগদ ১ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এরপর জুমার নামাজের পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল ও ২০০ পরিবারকে নগদ ১ হাজার টাকা হারে প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৪ জুন দুপুরে বান্দরবান শহর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আশ্রয় নেওয়া ৫৩১ পরিবারের মাঝে ২ কেজি করে চাল, পাহাড় ধসে নিহত প্রত্যেক পরিবারের মাঝে নগদ ২০ হাজার টাকা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুর কাদের। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, পৌর মেয়র ইসলাম বেবীসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে অতিবর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ এবং ৮৫১ টন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। এমনকি গত ২৬ জুন নিজে ঈদ উৎসবে অংশ না নিয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গামাটি অঞ্চলে ছুটে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

Category:

যুক্তরাষ্ট্রে খালেদার উপদেষ্টা গ্রেফতার ও ৪ মাসের জেল

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দানকারী জাহিদ এফ সর্দার সাদী নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত ১৭ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল এফবিআই।
প্রায় ১০ বছর আগে ক্রেডিট কার্ড মেশিনে ব্যাংকের সাথে অর্থ প্রতারণা ও চেক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে জাহিদের বিরুদ্ধে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গ্রেফতারের সময় জাহিদের পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছে। ফ্লোরিডা পুলিশের সরবরাহকৃত নথি থেকে জাহিদ সাদীর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে সময় নিউজ টোয়েন্টিফোর নামে একটি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে। গ্রেফতারের পরপরই তাকে ফ্লোরিডার ওরলান্ডোর হাই-সিকিউরিটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহিদ সাদী ফ্লোরিডার ওরলান্ডোতে অবস্থানকালে গ্যাস স্টেশনের ব্যবসা করতেন। সে সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড চেক মেশিনের সুবিধা নেন তিনি। এ সময়ে ৫৪টি প্রতারণামূলক ট্রানজেকশন করেন জাহিদ।
ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মিডল ডিস্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডা কর্তৃক আনীত ইনডাইক্টমেন্টে অভিযোগ করা হয়েছে, জাহিদ সাদী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা চক্রান্ত করেছেন।
এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে ছয়জন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করারও অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ইসরায়েলি নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির কথিত সাক্ষাতের কথা বলে আলোচনায় আসেন। তবে সাফাদি নিজে কিংবা জাহিদ ওই কথিত সাক্ষাতের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যান, তখন জাতিসংঘের সদর দফতরের বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশের অন্যতম আয়োজক ছিলেন জাহিদ সাদী।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষর জালকারী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই সাবেক বিদেশ উপদেষ্টা দাবিদার জাহিদ ফারুক সরদার সাদীর চার মাসের জেল হয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলায় শাস্তি হওয়ার পর প্রবেশনের বিধি ভেঙে পালিয়ে থাকার দায়ে গত ২৭ জুন ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মিডল ডিস্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডার বিচারক গ্রেগরি এ প্রেসনেল তাকে এই সাজা দেন।
আদালতে আনা ইনডাইক্টমেন্টে অভিযোগ করা হয়েছে, জাহিদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ও চুরির আশ্রয় নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা, ফিফথ থার্ড ব্যাংক, ওয়াকোবিয়া ব্যাংক, ওয়াশিংটন মিউচ্যুয়াল ব্যাংক, সান ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্ট প্রায়োরিটি ব্যাংক, আরবিসি সেন্টুরা ব্যাংক প্রভৃতি।
ক্রিমিনাল হিস্টোরির ৯টি পয়েন্টের মধ্যে সাদীর বিরুদ্ধে আনীত পয়েন্টের ক্যাটাগরি চার। ২০০৯ সালের ৫ মার্চে প্রতারণা মামলায় প্রদত্ত ৪০ মাসের দ-সহ সাদীকে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২২৯ ডলার ৭৫ সেন্ট জরিমানা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করার কথা আদালতে স্বীকার করেন সাদী।

Category:

‘আগামী নির্বাচনে বিএনপির হ্যাটট্রিক পরাজয় ঘটবে’

Posted on by 0 comment

৭ জুনের আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের

41উত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপি এমন হাবভাব দেখাচ্ছে যেন তারা ক্ষমতায় আসবে! তারা যদি মনে করে ২০০১ সালে যা হয়েছে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তা হলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আগামী নির্বাচনে সবক্ষেত্রে ব্যর্থ বিএনপির হ্যাটট্রিক পরাজয় হবে, আর উন্নয়ন-অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক বিজয় ঘটবে। আমরা উন্নয়ন করেছি, আমরা অর্জন করেছি। সারা বিশ্বে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে প্রশংসিত ও সমাদৃত করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তৃণমূলের নির্বাচনে তার প্রমাণ দিয়েছে। ইনশাল্লাহ জাতীয় নির্বাচনেও আমরাই বিজয়ী হব।
গত ৭ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ জুন ৬-দফা দিবস উপলক্ষে যৌথভাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতারা এ কথা বলেন। ঢাকাসহ সারাদেশেই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়।
ঐতিহাসিক ৭ জুনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আজকে আমরা বলতে পারি ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় এই দেশে গড় আয় ছিল ৫০০ ডলার। সেই দেশে আজকে গড় আয় ১ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারের দিকে চলে গেছে। এরই নাম হচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তি। আজকে সারা পৃথিবী থেকে প্রশংসা এবং সমর্থন কুড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আপনাকে রক্ষা করতে পারি নাই। ঘাতকের নির্মম বুলেটে আপনি আজ টুঙ্গিপাড়ায় শায়িত আছেন। টুঙ্গিপাড়ার কবর থেকে বাংলার ১ কোটি মানুষের নেত্রী শেখ হাসিনাকে আপনি দোয়া করেন। আপনি দোয়া করেন আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে, যাতে আমরা আপনার অসমাপ্ত কাজটুকুকে আপনারই কন্যার নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। মনু মিয়াদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পারি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ২০১৮ সাল হবে জনগণের বছর। তারা ক্ষমতায় আসবে এমন একটা ভাব। তারা (বিএনপি) মনে করেছেন, ২০০১ সালে যা হয়েছে ২০১৯ সালেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এটা যদি মনে করেন, তা হলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাইকেল ফেডারেশন পর্যন্ত বিলুপ্ত করেছিল। সাইকেল ফেডারেশনের সাথে নির্বাচনের কি সম্পর্ক? বেগম জিয়ার পরামর্শে তারা সাইকেল ফেডারেশন পর্যন্ত সেদিন বাতিল করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব ওইদিন আর ফিরে আসবে না। ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আমরা বিজয়ী হব এবং বিজয়ের হ্যাটট্রিক করব। আপনারা নিজেদের ভুলে একবার ইলেকশন করেন নি। ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। ২০১৮ সালের আগামী নির্বাচনে কি হবে? আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না? তবে পরাজয়ে আপনাদের হ্যাটট্রিক হবে, এটা বলতে পারি। আর কি জবাব দেব? তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন করেছি। আমরা অর্জন করেছি। সারাবিশ্বে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে প্রশংসিত ও সমাদৃত করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তৃণমূলের নির্বাচনে তার প্রমাণ দিয়েছে। আমরা তৃণমূলে শতকরা ৯০টি আসনে বিজয়ী হয়েছি। ইনশাল্লাহ জাতীয় নির্বাচনেও আমরাই বিজয়ী হব।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং সাদেক খান প্রমুখ।

৬-দফা দিবস পালিত
নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবি দিবস উপলক্ষে ৭ জুন সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের নিয়ে জাতির প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয় আর বিএনপির হ্যাটট্রিক পরাজয় হবে। বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিয়ে মাঠে না নামা এবং দেশের হাওড়াঞ্চল ও দক্ষিণ উপকূলসহ কোনো অঞ্চলে দুর্যোগকালে জনগণের পাশে না থাকায় তারা (বিএনপি) জনগণের আস্থা হারিয়েছে। এ কারণেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হ্যাটট্রিক জয় হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

Category:

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত

Posted on by 0 comment

37সাইদ আহমেদ বাবু: একসময় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যে সূর্যাস্ত হতো না। পৃথিবীর উভয় প্রান্তেই ছিল তার সা¤্রাজ্য। তার শাসিত দেশগুলো নিয়ে রয়েছে কমনওয়েলথ ইউনিয়ন। এখনও বেশ কটি স্বাধীন দেশের রানিও ব্রিটেনের রানি। ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাঙালিসহ ভারতীয় উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর ধরে। ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের সূর্য ক্রমে অস্তমিত হতে হতে মাত্র ৪টি রাজ্য নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটেন আজ গভীর সংকটের সম্মুখীন। ক্ষত-বিক্ষত আর তছনছ হতে চলেছে তার দেশ ও মানুষ। ব্রিটেনের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। মুক্ত বাণিজ্য তাদের কাছে সন্দেহের বস্তু। অভিবাসন আপত্তিকর। শুল্ক এবং নানাবিধ বিধিনিষেধের বেড়া তুলে পণ্য, পুঁজি এবং শ্রমের অবাধ গতি নিয়ন্ত্রণই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ব্রিটেন ছিল ইউরোপের প্রবেশদ্বার। ব্রেক্সিট শিবিরের জয় এসেছে মূলত অভিবাসন বিরোধিতার ওপর ভর করে। আর্থিক মন্দা, সামাজিক সুরক্ষা বাবদ বরাদ্দে কাটছাঁট থেকে চাকরির অভাব, সব কিছুতেই দায় চাপানো হয়েছে অভিবাসীদের ওপর, যদিও ইতিহাস বলে অন্য কথা। দক্ষ অভিবাসীদের সামর্থ্য শুধু ব্রিটেনই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির পালেও হাওয়া জুগিয়েছে। ব্রিটেন উন্নত হয়েছে এদের শ্রমের ওপরই।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বহু মানুষের বাসস্থান যুক্তরাজ্যে। এসব কারণে যুক্তরাজ্যের বর্তমান নির্বাচন বাংলাদেশেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক, রুশনারা আলী পুনরায় বিজয়ে বাংলাদেশের মানুষ গৌরবান্বিত বোধ করছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা আশা করি, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণœ থাকবে এবং অদূর ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার হবে।
39বিলাতে নির্বাচনের সময় বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকে; কিন্তু তারা ভোটের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপের কথা আদৌ ভাবেন না। কেউ হেরে যাওয়ায় কারচুপির অভিযোগও তোলেন না। ভোট হতে পারে অবাধ ও নিরপেক্ষ। আবার ভিন্ন দল ক্ষমতায় গেলেও রাষ্ট্রীয় নীতি, পরিকল্পনা বদলে ফেলার মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটবে না। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদেরও সেই দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করতে হবে। অবশ্য বিলাতে গণতন্ত্র আজকের অবস্থায় আসতে বেশ কিছুটা সময় নিয়েছে, ব্রিটেনে নির্বাচনে একসময় যথেষ্ট দুর্নীতি হতো। এখন আর তা হয় না। ব্রিটেনে গণতন্ত্র পূর্ণতা পেতে পেরেছে চর্চার মাধ্যমে।
ব্রিটেনে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেন থাকবে কি থাকবে না সেটি নিয়ে। গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে ৫২ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করে। ফলে ব্রিটিশ সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিত্যাগের। ব্রিটেনে এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একটি বড় বিষয় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা।
ব্রেক্সিট ইস্যুতেই গণভোটের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে কপাল খুলে যায় তেরেসা মে’র। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে গত এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তেরেসা মে।
তেরেসা মে দেশবাসীর কাছে এই বিশ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন যে, জনমত জরিপে জেরেমি করবিনের (লেবার নেতা) করুণদশার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হবেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। পার্লামেন্টে এখনও সর্ববৃহৎ দল হলো টোরিরা। কিন্তু নির্বাচনে ১৭টি আসন দলটি হারিয়েছে। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরন এই আসনগুলো জিতেছিলেন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করছেন অনেক কনজারভেটিভ। পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, যা দিয়ে তিনি অনায়াসে আরও তিন বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারতেন; কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল কনজারভেটিভ পার্টিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করিয়ে শাসন-প্রশাসনে আরও সুদৃঢ় করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা মেইডেনহেডে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে মাইনরিটি সরকার গঠন করতে পারেন তিনি। যখন দেখা গেল তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছে, তখন তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যে কোনো কিছুর চেয়ে দেশের দরকার স্থিতিশীলতা। কনজারভেটিভরাই বেশি আসন জিতেছে। বেশি ভোটও। তাই আমাদের ওপরই এই স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব বর্তায়। আর এটিই আমরা করব।
যুক্তরাজ্যের এই নির্বাচন ঘিরে যা হলো তা দেখে নিন এক নজরেÑ
স্থানীয় সময় ৮ জুন, বৃহস্পতিবার, যুক্তরাজ্যে আগাম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯ জুন ফল প্রকাশে দেখা যায়, মোট ভোটার ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৬। ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট আসন ৬৫০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে সরকার গঠনের জন্য এককভাবে প্রয়োজন ৩২৬টি আসন। কেনসিংটন আসন ছাড়া সব আসনের ফল প্রকাশ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই। কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। মোট ভোট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৯১৮ (৪২.৪৫ শতাংশ)। লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬২টি আসন। মোট ভোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৪ (৩৯.৯৯ শতাংশ)। ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। মোট ভোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৩১৬ (০.৩১ শতাংশ)। লিবারেল ডেমোক্র্যাট পেয়েছে ১২টি আসন। মোট ভোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮টি (০.৫১ শতাংশ)। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩৫টি আসন। মোট ভোট পেয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ (৩.০৪ শতাংশ)। তেরেসার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২৬টি আসন, যা প্রাপ্ত আসন থেকে ৮টি কম।
উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন নর্থ আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন চলে যাওয়া উচিত। এই নির্বাচন ডাকা হয়েছিল সরকারকে নতুন ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য। ম্যান্ডেট তিনি পেয়েছেন, হারানো আসন, হারানো ভোট, হারানো কর্তৃত্বে। এবার তার চলে যাওয়া উচিত। আসতে দেওয়া উচিত এমন এক সরকার, যা সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় অংশ হয়ে আর না থাকার, তাতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা ক্ষীণ প্রায়। ইইউবিরোধী ব্রিটিশ রাজনীতিকরা ঘনীভূত সংকটের ভেতরের সত্যটি যদি আড়াল করতে চান, তবে বিপর্যয় অত্যাসন্ন। ব্রিটেনসহ ইউরোপের অধিবাসীরাও উদ্বিগ্ন আগামী দিনে কী আছে তাদের ললাটে, জানে না তারা।
ব্রিটেনের মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। গত নির্বাচনে ২৩২টি আসন পাওয়া দলটি এবার জয় পেয়েছে ২৬২টি আসনে। যা পার্লামেন্টে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যাবে, এমন নয়। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ছে। এর একটা কারণ হলো ব্রিটেন চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড সমবেত হয়ে একটি ইংরেজি ভাষাভাষী ইউনিয়নের মতো কিছু গড়তে। কেননা তাতে তার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হতে পারবে বেশি। কনজারভেটিভ নেতা চার্চিল তার হিস্ট্রি অব ইংলিশ স্পিকিং পিপুল বইতে এ রকম ইউনিয়ন গড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন বেরিয়ে গেল ২৭টি রাষ্ট্র আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

আবারও বাঙালি তিন কন্যার জয়
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে আবারও অভাবনীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও ড. রূপা হক। নির্বাচিত তিনজনই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টি থেকে নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তাদের বিজয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে আত্মহারা লন্ডনস্থ বাঙালি কমিউনিটি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’দের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লন্ডনে বাঙালির গর্ব রুশনারা আলী : পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে তৃতীয়বার তিনি নির্বাচিত হলেন। এবারে তিনি ৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে সরকারি দল কনজারভেটিভ পার্টির শার্লট চেরিকোকে হারিয়েছেন। তার মোট প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে ৪২ হাজার ৯৬৯ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট।
রুশনারা আলী ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি ১২ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দল থেকে হাউস অব কমন্সে সাফল্যের সাথে ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বরাবরই ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কঠোর প্রতিবাদ করে আসছেন। পরে ডেভিড ক্যামেরন তাকে বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী রুশনারা লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার পদের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।
টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক : বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি সেন্ট্রাল লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন লাভ করে টিউলিপ ২০১৫ সালে প্রথমবার হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হন। তখন তিনি ১ হাজার ১৩৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। এবারে তার জয়ের ব্যবধান সবাই অভাবনীয় হিসেবে দেখছেন। মূলত টিউলিপের আগে দীর্ঘদিন এই আসনে খ্যাতিমান ব্রিটিশ গ্ল্যামার জগতের তারকা গ্লেন্ডা জ্যাকসন এমপি ছিলেন। ফলে সংগত কারণে এই আসনের দিকে শুরু থেকেই সবার নজর ছিল। টিউলিপ ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিক বিষয়ে বিরোধী দল থেকে লেবার পার্টির ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রেক্সিট বিরোধী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত মুখ। এমনকি আমেরিকান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মার্কিন গণমাধ্যমের নজরে আসেন। তিনি কিংস কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মজীবনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ওই এলাকা থেকে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
ড. রূপা হক : সেন্ট্রাল লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে লেবার পার্টির দ্বিতীয় মেয়াদে হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হলেন ড. রূপা হক। তিনি এবারে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।
২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৭৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। ফলে বাঙালি কমিউনিটির পর্যবেক্ষকরা তার বিজয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু মেধাবী এই বাঙালি কন্যা বরাবরই ওই আশঙ্কার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবারে তিনি গতবারের তুলনায় জয়লাভ করেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেশায় একজন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তার আসনটিও ছিল বেশ আলোচিত এবং হাডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার জন্মস্থান বাংলাদেশে পাবনায়।
উল্লেখ্য, এবারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৫ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে ৮ জন ছিল লেবার পার্টির, ২ জন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক থেকে এবং অন্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’ টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং রূপা হককে পৃথক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৯ জুন রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় বাংলাদেশি তিন নারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আবদুল হামিদ জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাদের উজ্জ্বল সাফল্য কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এ কথা জানান।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হক পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের এই বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃত দিয়ে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, এই তিন কন্যার বিজয় আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি আশা করি, তারা যে বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছে তার আলোর বর্ণালী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।

Category:

ইউনূস-হিলারি যোগসাজশ : সিনেটরের চাঞ্চল্যকর চিঠি

Posted on by 0 comment

35উত্তরণ ডেস্ক: ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫১০-৬২৭৫
জুন ১, ২০১৭
মাননীয় রেক্স, ডব্লিউ টিলারসন
সেক্রেটারি
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট
ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২০
প্রিয় সেক্রেটারি টিলারসন :
সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে সেক্রেটারি ক্লিনটন ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের (সিজিআই) তহবিলে চাঁদা দানকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির তদন্ত বন্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদকে আইআরএস অডিটের হুমকি প্রদান করেন এই বলে, যেন, তিনি তার মাকে তদন্ত বন্ধে প্রভাবিত করেন। মে ১১, ২০১৭-তে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এটি নিশ্চিত করেন যে, মিসেস ক্লিনটন ২০১১-এর মার্চে তার অফিসে ফোন করে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের দাবি করেন। অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তারের নতুন প্রমাণগুলো এমন ধারণা দেয় যে, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে দেওয়া অনুদানে প্রভাবিত হয়ে সেক্রেটারি ক্লিনটন ও স্টেট ডিপার্টমেন্টকে এ ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করেছে।
আমি ইতোপূর্বেও আগস্ট ২০১৬-তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসকে দেওয়া আমার পত্রে যেমন জানিয়েছি, ফেডারেল আইন মোতাবেক নির্বাহী বিভাগের কর্মচারী সে বিষয়ে অযোগ্য বিবেচিত হবেন যে বিষয়ে তার সরাসরি বা অনুমিত আর্থিক স্বার্থ রয়েছে কিংবা সে ব্যক্তি জড়িত বা যুক্ত এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থ রয়েছে। অথবা তারা স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে যুক্ত এমন প্রতিষ্ঠান যদি না তিনি সে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন না করেন বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দ্বারা দায়মুক্তি লাভ না করে থাকেন। আবারও সেক্রেটারি ক্লিনটনের কর্মতৎপরতা যৌক্তিকভাবেই এ সন্দেহ উদ্রেক করে যে, তিনি এ সম্পর্কিত আইন ভঙ্গ করেছেন এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সততা সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ক্লিনটনদের সঙ্গে ইউনূসের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রপাত যখন ক্লিনটন ছিলেন আরকানসাসের গভর্নর। দশকের পর দশক ইউনূস ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের পতাকাবাহকের কাজ করেছেন এবং ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবেও ইউনূসের পক্ষে নোবেল কমিটির কাছে লবিং করেছেন, এবং ২০০৬-এ তাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিবেদন মোতাবেক ইউনূসের কোম্পানি ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভে অনুদান দিয়েছে অন্তত ১,০০,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ মার্কিন ডলার এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে এই অনুদানের পরিমাণ ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার। ক্লিনটনের সেক্রেটারি অব স্টেট নিয়োগ প্রাপ্তির পর ক্লিনটন-ইউনূস সম্পর্ক আরও জমাট বাঁধে। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের প্রতিবেদন মোতাবেক ইউনূস ও তার ব্যবসায়িক মিত্ররা ট্যাক্সপেয়ার ফান্ডে ১৩ মিলিয়ন ডলারের সুবিধা পেয়েছেন।
২০১১-তে বাংলাদেশ সরকার ইউনূসকে আইনভঙ্গ ও নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরস এ তার পদ থেকে অপসারণ করে। সে সময় থেকেই ইউনূস অ্যাসোসিয়েটস, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন, হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে ই-মেইল বিনিময় হয় বিষয়টি নিয়ে এবং মেরিল মিলসসহ স্টেট ডিপার্টমেন্টে আরও কিছু কর্মকর্তা সম্মিলিতভাবে ইউনূসের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। এই ই-মেইলগুলো প্রমাণ করে যে, সেক্রেটারি ক্লিনটন এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশন ইউনূসের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ই-মেইলগুলো আরও প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধে রীতিমতো চাপ প্রয়োগ করেন। সেই ই-মেইলগুলো এই পত্রে সংযুক্ত হলো।
প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদের বরাতে জানা যায়, ২০১০-২০১২ পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কয়েকটি মতবিনিময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মি. ওয়াজেদ পরিষ্কার স্মরণ করতে পারেন যে, প্রত্যেকটি বৈঠকে ইউনূসের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রম প্রসঙ্গটি অনিবার্যভাবেই উপস্থাপিত হতো এবং তা বন্ধে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হতো। এ বিষয়ে তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের নাম :

জেমস মরিয়ার্টি Ñ বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ড্যান মজেনা Ñ বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ড্যান ড্যানিলোজিক Ñ ডেপুটি চিফ অব মিশন বাংলাদেশ
রাজীব শাহ Ñ প্রশাসক, ইউএসএইড

মি. ওয়াজেদ সুনির্দিষ্টভাবে দুটি আলাপচারিতার কথা মনে করতে পারেন যাতে ডেপুটি চিফ অব মিশন জন ড্যানিলোজিক বলে, মি. ওয়াজেদ আইআরএসের অডিটের মুখোমুখি হতে পারেন যদি তিনি ইউনূসের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রম বন্ধে তার মাকে বোঝাতে ব্যর্থ হন। মি. ওয়াজেদ এও বলেন, কখনও কখনও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তারা ক্ষমা প্রার্থনার সুরেই বিষয়টি বারংবার উত্থাপন করতেন। আর এটিও পরিষ্কারভাবেই জানাতেন যে তারা কেবল স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ কর্তার বার্তা বাহকের ভূমিকা পালন করছেন। মি. ওয়াজেদ আরও জানান, ওই একই কর্মকর্তারা তাকে এও জানান ইউনূস নিজে সেক্রেটারি ক্লিনটন ও তার কার্যালয়ে কর্মরতদের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করছেন। আর সে কারণেই সেক্রেটারি ক্লিনটন ও তার কার্যালয় ইউনূসের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি মধ্যস্থ করতে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
যদি সেক্রেটারি অব স্টেট তার অবস্থানকে ব্যবহার করে একটি সার্বভৌম সরকার পরিচালিত স্বাধীন তদন্ত কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেন কেবল তার ব্যক্তিগত ও আর্থিক স্বার্থ যা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত সে কারণে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিদেশ নীতির পরিপন্থী এমন এটি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে তার অবস্থানকে পারিবারিক ফাউন্ডেশনের স্বার্থে ব্যবহার একই রকম অগ্রহণযোগ্য। এটি নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কোনো ভূমিকা ছিল কি-না প্রধানমন্ত্রী পুত্রকে তদন্ত বন্ধে আইআরএস অডিটের হুমকি প্রদানের।
প্রাক্তন সেক্রেটারি ক্লিনটন এবং তার কর্মচারীদের সঙ্গে ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধের হস্তক্ষেপের বিষয়টির সত্যতা নিরূপণে দয়া করে নি¤œবর্ণিত তথ্যগুলো সরবরাহ করুন :
১. স্টেট ডিপার্টমেন্টের কোনো কর্মকর্তা কি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মি. ওয়াজেদকে এমন ধারণা দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আইআরএস অডিট বা কোনো হয়রানির শিকার হতে পারেন। বিষয়টি সে রকম হলে দয়া করে এ বিষয়ে যোগাযোগের সমস্ত তথ্য উপস্থাপন করুন
২. বিষয়টি কি বিবেচনার জন্য ইন্সপেক্টর জেনারেল বা ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এ প্রেরণ করা হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে তবে কেন হয়নি?
৩. এই পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের ই-মেইলগুলোর অসম্পাদিত বা মূল কপি সরবরাহ করুন।
আমি ধারণা করি, আপনার জবাব এবং প্রাসঙ্গিক কিছু দলিল আনক্লাসিফায়েড। দয়া করে সমস্ত আনক্লাসিফায়েড দলিলপত্র সরাসরি কমিটিতে প্রেরণ করুন। নির্বাহী আদেশ ১৩৫২৬ বলে এই চাহিদাপত্রে কোনো দলিল গোপনীয় শ্রেণিভুক্ত হয়ে থাকলে আনক্লাসিফায়েড দলিলগুলো আলাদা করুন এবং তা সরাসরি কমিটিতে প্রেরণ করুন। এবং গোপনীয় দলিলপত্রের তালিকা সিনেট সিকিউরিটি অফিসে প্রেরণ করুন। যদিও এই কমিটি গোপনীয় তথ্যাদি ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্ত আইন ও বিধির সঙ্গে সম্মত। তবে এটি বাধ্যকর নয়, যে তারা নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার বা আদেশের দোহাই নিয়ে কোনো একপক্ষীয় দলিল গ্রহণ করবে।
এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে সহযোগিতার জন্য আপনাকে অগ্রিম ধন্যবাদ। দয়া করে পত্রের বিপরীতে এবং উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর তালিকাভুক্ত করে জুন ১৫, ২০১৭-এর মধ্যে প্রেরণ করুন। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে আমার কমিটি স্টাফ জোশ ফ্লিন ব্রাউনের সঙ্গে (২০২) ২২৪-৫২২৫-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার চার্লস ই-গ্রেসলি
চেয়ারম্যান
সিনেট কমিটি অব দ্য জুডিশিয়ারি
সিসি মাননীয় স্টিভ এ লিনিক, ইন্সপেক্টর জেনারেল স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

Category:

সচিবদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ১৭ দফা নির্দেশনা

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২ জুলাই সচিবালয়ে সচিব কমিটির বৈঠকে ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছেÑ
১. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড় ও টিলা অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশ রক্ষাসহ ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে আরও আন্তরিক হতে হবে। এবারের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
২. ঢাকা মহানগরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশ দূষণ রোধে রাজধানীর হাজারিবাগের ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় সে ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৩. বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ‘মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া’ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন, অংশীদারিত্বমূলক ব্লক বাগান ও স্ট্রিপ বাগান সৃজন করতে হবে।
৪. গ্রাম উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। যাতে গ্রামের মানুষ কাজের খোঁজে শহরে না আসে। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমাতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।
৬. উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়।
৭. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আরও বাড়াতে হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়ো না করে বছরের শুরু থেকেই বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮. বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের পেপার ওয়ার্ক সম্পন্ন করতে হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি কাজের গুণগতমানের সাথে কোনো আপস করা যাবে না।
৯. ফাস্ট ট্রাকভুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে আরও আন্তরিক হতে হবে।
১০. দক্ষ এবং যোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। ভালো কাজের পুরস্কার আর মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
১১. সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো থেকে সেবা পেতে জনগণকে যাতে ভোগান্তির শিকার না হতে হয় তার উদ্যোগ নিতে হবে।
১২. বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
১৩. আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করে সকলের ন্যায়সংগত পদোন্নতি এবং পদায়ন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৪. অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তা যারা দীর্ঘদিন চাকরি করবেন, প্রশিক্ষণে তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১৫. জঙ্গিবাদ দমন এবং মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
১৬. সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
১৭. কেবল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয়, দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগে সহকর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

Category:

এইটা আমার নিজের গল্প

Posted on by 0 comment

বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমাদের সেই ঘোর বিপদের দিনে, দুঃসময়ে আমার বাবার ভাইরা মানে আমার বাবার রক্ত পানি করা টাকায় মানুষ হওয়া চাচারা ‘টিনের চশমা’ পরে দারুণ উদাস হয়ে গেলে আমার নানা আর আমার নানি, আমার চার খালা, আমার চার মামারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।

33মাহবুব রেজা: আমার দু বছরের বড় ছিল রুমি।
কয়েকদিন ধরে ওকে খুব মনে পড়ছে আমার।
কত স্মৃতি আমাদের!
ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি আমি আর রুমি। একসঙ্গে খেলাধুলা। এক স্কুলে পড়াশোনা। স্কুলের নাম নারিন্দা গভ. হাই স্কুল।
বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমরা ছয় ভাই, এক বোন নানাবাড়ি চলে এলাম।
আজিমপুর কলোনি। দুই নম্বর বিল্ডিং। বি নম্বর ফ্ল্যাট। আমাদের বিল্ডিংয়ের পেছনে চায়না বিল্ডিং। আজিমপুর কলোনি থেকে আমি আর রুমি দুই ভাই একসঙ্গে বাসে চেপে ফুলবাড়িয়া নামতাম, তারপর সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে নবাবপুর, টিপু সুলতান রোড, যোগিনগর, বনগ্রাম, রেঙ্কিন স্ট্রিট ঘুরে ঘুরে স্কুলে যেতাম।
দুই ভাই মিলে কত গল্প করতাম।
কত কথা যে বলত রুমি!
স্কুল ফাঁকি দিয়ে রুমি আমাকে প্রথম গুলিস্তান হলে বাংলা সিনেমা দেখিয়েছিল। সিনেমার নাম সঙ্গিনী। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমাদের সেই ঘোর বিপদের দিনে, দুঃসময়ে আমার বাবার ভাইরা মানে আমার বাবার রক্ত পানি করা টাকায় মানুষ হওয়া চাচারা ‘টিনের চশমা’ পরে দারুণ উদাস হয়ে গেলে আমার নানা আর আমার নানি, আমার চার খালা, আমার চার মামারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।
আমাদের পাশে ছায়ার মতো লেগে রইলেন।
আমার খালারা, আমার মামারা নিজেরা কষ্ট করে, নিজেদের খাবার আমাদের মুখে তুলে দিয়েছিলেন। আমাদের নিদারুণ কষ্টের দিনে তারা আমাদের সব উজাড় করে দিয়েছিলেন।
নানার বড় সংসার।
তারপর আমরা একেক ভাই একেক আত্মীয়ের বাসায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইলাম।
তখন আমাদের অনেক অভাব।
তখন আমাদের অনেক অনটন।
তখন আমাদের অনেক দুঃসময়।
আমরা ভাইরা একেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে আমাদের খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হতো না। আমাদের তখন দেখা হতো কালে-ভদ্রে, ঈদ-টিদে।
সেই সব উৎসবে যখন আমাদের দেখা হতো তখন কেন যেন আমরা নিজেদের মধ্যে খুব একটা কথাবার্তা চালাচালি করতাম না। আমরা ভাইরা তখন কথা বলে সময় নষ্ট না করে একেকজন একেকজনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতাম।
বড় ভাই পড়াশোনার চেয়ে টিউশনিতে বেশি ব্যস্ত থাকত। কীভাবে দুটো বাড়তি পয়সা আয় করে ছোট ভাইদের দাবি মেটানো যায়। মেজ ভাইও টুকটাক কন্ট্রাক্টরির কাজ করে বড় ভাইকে সাহায্য করতে সচেষ্ট।
আমাদের তখন দুর্দিন।
আমাদের তখন হাহাকার।
১৯৮৪ সাল।
রুমি তখন কলেজে।
কি ঝলমলে সুন্দর দেখতে ছিল আমার ভাইটা!
ঝাঁকড়া চুল। পাকা গমের মতো গায়ের রং।
আমার বাবা-মার খুব নাকি আদরের ছিল রুমি!
একদিন কাউকে কিছু না বলে, একা একা অভিমান করে আমার ভাইটা হুট করে মরে গেল। আমি তখন আমার বড় খালার বাসায় থাকি। এক সকালে আমার মেজ ভাই ফ্যাঁকাসে মুখ নিয়ে খালার বাড়ি এসে আমাকে রিকশায় তুলে নিয়ে সোজা চলে গেল ঢাকা মেডিকেলে। পুরোটা রাস্তাজুড়ে আমার মেজ ভাই আমার সঙ্গে কোনো কথা বলল না। শীতের সকাল। ঠা-া বাতাস শরীরে এসে বুঝিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল।
আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এই সাতসকালে কেন মেডিকেলে?
জীবনে সেই আমার প্রথম আর শেষবারের মতো মর্গে যাওয়া।
ঠা-া মেঝেতে আমার বাবা-মার বড় আদরের সন্তান অবহেলায়-অযতেœ পড়ে আছে মর্গের ঠা-া মেঝেতে। রুমি শুয়ে কি আমাদের ওপর রাগ আর অভিমান করে এখানে এভাবে, এমন করে শুয়ে আছে? রুমির পাশে স্তূপ করে রাখা কয়েকটি দেব শিশু। ওদের শরীর কেমন নীল হয়ে আছে। আমি রুমিকে যত না দেখছিলাম তার চেয়ে বেশি বেশি চোখ আমার চলে যাচ্ছিল শিশুগুলোর দিকে। আমার মেজ ভাই পাগলের মতো কেঁদে যাচ্ছিল আর বলছিল, ‘রুমি রে তুই এইটা কি করলি? তুই এইটা কি করলি?’
আমার ঝাপসা দৃষ্টিতে রুমি আর দেব শিশুগুলো মিলেমিশে একাকার।
আহা রে!
আহা রে!
আহা রে!
আহা রে!
সেই সকালে আমি অভিশাপ দিয়েছিলাম নিজেকে।
আমাদের অভাবকে।
আমাদের দুঃসময়কে।
আমাদের দুর্দিনকে।
আমাদের হাহাকারকে।
আমাদের দীর্ঘ নিঃশ্বাসকে।
সেই সকালে আমি আরও অভিশাপ দিয়েছিলাম আমাদের এই রকমভাবে বেঁচে থাকাকে।
এভাবে বেঁচে থাকাকে কি কেউ বেঁচে থাকা বলে!

Category:

কবিতা

Posted on by 0 comment

32

Category:

বিশ্বের বৃহত্তম ‘নাকে খত’!

Posted on by 0 comment

27নিয়ামত শাহ: বীজগণিতের বাল্য সময়ের সমীকরণ অঙ্কটি কে কেমন পারিতেন তাহা জানি না। তবে একাত্তর সনে এই দেশের এক প্রকার মানবপ্রাণী মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের লড়াই’ বলিয়া সমীকরণ বিদ্যাটি ঝলকাইয়া তুলিয়াছিলেন। সেই সমীকরণ চলিয়াছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সেইকালের সোভিয়েত ইউনিয়নের বেলাতে। সমীকরণ চলিতেছে। আজকাল মার্ক জাকারবুর্গ ‘ফেসবুক’ নামক এক আশ্চর্যকল বসাইয়া ‘যে যাহা কহিতে পার’ খেল জমাইয়া তুলিয়াছেন। আমাদের এই উপমহাদেশেই নাকি ফেসবুক-বাকবাকুমের তড়বড় বড়ই বেশি। সকলেই লেখক। সকলেই বিশ্লেষক। সকলেই মন্তব্যকারী। সকলেই সকল বিষয়ে তাৎক্ষণিক সর্বোচ্চ বিশারদ।
দেশে এখন রাজনৈতিক ‘পরধানিয়া’ মানে প্রধান দুইটি দল। এখন ক্ষমতায় যাহারা তাহারাই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতৃত্বদানকারী। ইহাদের প্রধান প্রতিপক্ষওয়ালাদের আনুষ্ঠানিক জন্ম হইয়াছে বাংলাদেশের জন্মের কয়েক বছর পর। তবে তাহাদের ঔরস সূত্র বিচিত্র এবং বর্ণাঢ্য। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রকার বিরোধীবর্গ, উৎকট এবং বিকট তদানীন্তন ‘চৈনিক বাম’, দুর্গজেনারেলরা মিলিয়া-মিশিয়া এই প্রতিপক্ষের এক জমজমাট আসর জমাইয়াছে। তাহাদের জোট-ঘোঁট-নোটের খেল ঐ যুদ্ধাপরাধী আলবদর গোষ্ঠীর সহিত। এমনি পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতির ফল্গুতে চলিতেছে দুই বিপরীত ¯্রােতের উথাল-পাথাল মাতাল খেলা।
উহারা দেশ-বিদেশের সবাই এক হইয়া পঁচাত্তরে বীভৎস হত্যাকা-ে জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতাকে বধ করিয়া নির্বোধের মতো ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটিকেই বাংলা প্রান্তর হইতে মুছিয়া নিঃশেষিত করিবার সকল আয়োজন সম্পন্ন করিয়াছিল। সেনাদুর্গের সকল সম্পদ ব্যবহার করিয়া মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মেরুদ- ভাঙিয়া দিবার জন্য যথাসাধ্য সর্বপ্রকার অপকর্মে মত্ত হইয়া উঠিয়াছিল। না, তাহারা তাহা পারে নাই। বরং নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে নিজেরা জড়াইয়া পরাণ হারাইয়াছে।
একসময় জাতির পিতার কন্যা আসিয়া মুক্তিযুদ্ধের নৌকার হাল ধরিলেন কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। তারপর রাজপথের যুদ্ধে, কৌশলে, প্রতিপক্ষকে নানা কায়দায় দুর্বল করিয়া ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় আসীন করিলেন মুক্তিযুদ্ধের মর্মবস্তুর কিয়দংশকে। উহারা ততদিনে দেশের সংবিধানকে তছনছ করিয়া দিয়াছে। না হইলে সারাজাহানের মুসলিম উম্মার ধর্মকে শুধুমাত্র একটি ‘রাষ্ট্রের ধর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করিয়া ঐ রাষ্ট্রের অন্যান্য ধর্মের লোকদের কার্যত ‘রাষ্ট্রচ্যুত’ করিবার ইসলামবিরোধী অপকর্ম এই দেশে কেমন করিয়া সম্পন্ন হইল? সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের আরম্ভ কথাকে সংবিধানের ওপর বসাইয়া দিয়া অন্যান্য ধর্মের দেশবাসীকে ‘সংবিধানচ্যুত’ করা হইল কীভাবে? ইহাই গণতন্ত্র? দেশে এখন মতলববাজ ‘গণতন্ত্রীর’ সংখ্যা কম নহে। ডান-বাম-মধ্য সবখানেই। তথাকথিত আন্তর্জাতিক বিবেকবাজ আইনজ্ঞ রাজনীতিক দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোর দেখিলেই হৈ হৈ করিয়া ঝাঁপাইয়া পড়িবার ‘গণতন্ত্রী’ উপদেশ দিয়াছেন। এমন সংবিধানের শুরুতে ও ভিতরে বিরাজমান ‘গণতন্ত্রবিরোধিতা’ তিনি সহ্য করেন কীভাবে?
১৯৯৬-২০০১ সনের শেখ হাসিনার সরকার যেন আর ক্ষমতায় ফিরিতে না পারে সেজন্য শাহাবুদ্দিন-লতিফুর-আবু সাঈদের ট্রয়কা যে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের চক্করে দেশকে ফেলিয়া সাম্প্রদায়িক নৃশংসতার এক ভয়ঙ্কর কৃষ্ণ অধ্যায় গড়িয়াছিল, তাহার বিচার এই দেশে এখনও হয় নাই। একদিন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ঐ বিচার পূর্ণিমার উত্তরাধিকারীরা অবশ্যই করিবে।
উন্নত শির শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অবশেষটুকুর প্রকৃত বিনাশ ঘটাইবার জন্য দেশে আসিল অবনত শির মোসাহেবদের ২০০১-০৬ এর সরকার। তাহাতেও কাজ হইতেছে না দেখিয়া আনা হইল এক-এগারোর কার্যত দুর্গ সরকার। শান্তিদূত মহান দল গড়িয়া ক্ষমতা হাতে লইবে, এমত ভাবনায় বেহেশতি সুবাসে সৌরভে আমোদিত হইতে থাকিল। ইংরাজি তারকা পত্রিকার সম্পাদক ক্ষমতা-তারকা হইবার বাসনায় বুঁদ হইল। বাংলার মহা-আলোকিত পত্রিকা সম্পাদকের তখন দুর্গ আর সুশীলদের মধ্যে দৌত্যগিরির সে কী অ্যাক্রোবেটিক লম্ফ আর ঝম্ফ।
অর্থমন্ত্রী হইবার বাসনায় উদ্বেল ‘দেশপ্রিয়’ বাক্য ও বুলিবাগিশ অর্থনীতিবিদের ক্ষমতা খোয়াব তখন লা-জওয়াব পর্যায়ে উপনীত। কিন্তু তাহাতেও কাজ হইল না দেখিয়া ‘মইনদ্দিন-ফখরুদ্দিন’ শেষ পর্যন্ত ঐ শেখ হাসিনার সপক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতের কাছে হার মানিয়া লেজ গুটাইয়া মার্কিন মুল্লুকের মিয়ামি সৈকতে হাবু আর ডুবু পান করিতে থাকিল।
বাংলাদেশের রাজনীতির এইবার ঘটিল এক তাৎপর্যপূর্ণ উত্তরণ। পঁচাত্তরে যাহারা ভাবিয়াছিল মুক্তিযুদ্ধ শেষ, বাংলাদেশ ঢিশমিশ, তাহারা দেখিল বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ঢিসুম-ঢুসুম কাহাকে বলে! বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ধৃত অংশ বিচারিকভাবে মৃত হইয়া গেল। আর সিনাফুলানো বীরপুঙ্গব যুদ্ধাপরাধীরা দেখিল তাহাদের মহাবিক্রম কী করিয়া ক্রমে ক্রমে ফিন্টুশ হইয়া গেল! তবে ঐসব হিং¯্র বর্বরেরা সহজে ছাড়িল না।
তাহারা বিশাল অর্থভা-ার বাজারে নামাইল। এই দিকে ক্ষমতার প্রধান প্রতিপক্ষ দলটির সহিত গাঁটবন্ধনে সুপার গ্লু লাগিল। অপরদিকে গভীর সমুদ্রবন্দর বাগে আনিতে না পারিয়া মার্কিন মুল্লুকের বর্জ্য অধ্যাপক রাষ্ট্রদূতটি নির্লজ্জের মতো সুযোগ বুঝিয়া মাঠে নামিয়া গেল। আর যাহাই হোক, বঙ্গদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে রাখা যাইবে না। অতএব, যুদ্ধাপরাধী-কওমী শক্তিকে এক করো, আঘাত হানো। এক দফায় ব্যর্থ হইল। তারপর ২০১৪-এর নির্বাচন যেন না হইতে পারে সেইজন্য সকল পক্ষ মিলিয়া হানো চূড়ান্ত আঘাত। ধ্বংস আর ধ্বংস। রক্ত। না, তাহারা পরিল না। আমাদের জখমি সংবিধানের ঝিরিঝিরি ধারাটি বহমান রইল। এই দিকে আমাদের সমীকরণপন্থিরাও টাস্কা খাইয়া গেল। অনেকের বানাইয়া রাখা শেরওয়ানিতে তেলাপোকা বাসা বাঁধিল।
ইহার পর এক বছর প্রায় দৃশ্যত উহারা চুপচাপ থাকিল। কেহ কেহ ভাবিল উহারা শেষ। কিছুই করিতে পারিবে না। কিন্তু উহারা জানে না পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা আইএসআই কী জিনিস। এইবার আগুনে বোমা আর অবরোধ লইয়া উহারা মাঠে নামিল। যাত্রীদের পোড়াইয়া মারিল নাৎসি নৃশংসতায়। বিরোধী গণ-আন্দোলনে বিশ্ব নৃশংসতার সকল রেকর্ড ভাঙিল। বাংলার মানুষ উহাদের অবরোধ চুরমার করিয়া দিল। অবশেষে ধাক্কা-ধুক্কা খাইয়া, নাকানি-চুবানি ভক্ষণ করিয়া, উল্টাইয়া-পাল্টাইয়া গিয়া উহাদের কর্মসূচি লেজ গুটাইল। যদিও আজও উহাদের বেহাল ‘অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষিতভাবে এখনও বহাল রহিয়াছে।
আবারও উহারা কিছুকাল চুপচাপ রহিল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তখন ভয়ঙ্কর নব নব আঘাতের ফন্দি। জাপানি মারো, ইতালিয়ান মারো, পুরোহিত-পাদ্রি মারো, মাজার শরিফে আঘাত আনো, পীরকেবলা মারো, মন্দির ভাঙো, মাজার ভাঙো, প্যাগোডা ভাঙো কত কী! এবং একসময় নামিয়া আসিল জঙ্গি আক্রমণের অন্যতম বীভৎস ‘হলি আর্টিজান’ অপারেশন। বঙ্গবন্ধু-কন্যার শক্তিশালী নেতৃত্বের অটল ভূমিকায় সব কিছুই একসময় ফক্কিকার হইয়া গেল।
এইদিকে দেশ-বিদেশের নতুন-পুরাতন সব বন্ধুরাই বলে, ওহে ম্যাডাম গোলাপি, মগজ গরমে আর গজগজ নয়। ঠা-া মারুন। চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে নালিশ করিলে তিনি বলিলেন, শান্তির পথ ধরুন। দিল্লির দরবারে অভিযোগ জানাইলে তাহারাও বলে নির্বাচনের পথে আসুন।
আইএসআইয়ের পরামর্শে উহারা এখন কী করিবে জানি না। তবে দৃশ্যত ২০১৯ সনের নির্বাচনে নামিতে উহারা নীরব দৌড়-ঝাঁপ শুরু করিয়া দিয়াছে। তবে নির্বাচনে নামিবার পূর্বে উহাদের গরম রাজনীতিতে দলের যেসব লোকজন নানারূপ বিপদে পড়িয়াছে, তাহাদের কাছে মাফ চাহিয়া জনগণ, দেশ ও ইতিহাসের কাছে একটি বিশেষ কাজ করিতে হইবে ম্যাডামের নেতৃত্বে।
গুলশানের যে কার্যালয়ের সামনে উহারা শোক-সহমর্মিতার সৌজন্যপরায়ণ প্রধানমন্ত্রীকে ফিরাইয়া দিয়াছিল অসভ্য-অভব্যের মতো, সেই কার্যালয়ের সামনে হইতে কাজটি শুরু করিতে হইবে। কাজটি হইল ‘ইতিহাসের বৃহত্তম দৈর্ঘ্যরে নাকে খত’ কর্মসূচি। ইহা শেষ হইবে নয়াপল্টনে উহাদের কার্যালয়ের সম্মুখে। ম্যাডামের নেতৃত্বে তাহার ছোট-বড় বয়সী সকল নেতৃবৃন্দ ইহাতে শামিল হইবে। এই ‘মহা নাকে খত’ কর্মসূচি সম্পন্ন না করিলে নির্বাচনে যোগ দিবার প্রাথমিক নৈতিক যোগ্যতা তাহাদের ভাগ্যে জোটা ঠিক হইবে না। সমীকরণের সুশীল ও রাজনৈতিক প্রাণীদেরও এই কর্মসূচির সহিত সংহতি প্রকাশ মন্দ হইবে না।

Category:

বাংলাদেশ সুইডেন সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে

Posted on by 0 comment

25উত্তরণ ডেস্ক: সুইডেন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উন্নয়ন সহযোগী একটি দেশ। স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল সুইডেন। দেশটির সাথে বাংলাদেশের রয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক। বাংলাদেশি সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে সুইডেনের বাজারে। কিন্তু কখনও বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী এই ঘনিষ্ঠতম বন্ধু রাষ্ট্র সফরে যান নি। গত ১৪-১৬ জুন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা তিন দিন সুইডেনে দ্বিপক্ষীয় সফর করেন। এই সফর ছিল দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সরকারি সফর।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দিনের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-সুইডেনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সুইডেনের সহযোগিতার হাত আরও প্রশস্ত হওয়ায় এক নবতর সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। পরম বন্ধুত্বের উচ্চ শিখরে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ-সুইডেন সম্পর্ক। সব দিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফর ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
গত ১৪ জুন রাতে সুইডেন পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরকালে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন এবং সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাফের সাথে সাক্ষাৎ করেন। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তারা সম্পর্কের নতুন দুয়ার উন্মোচনের আশার কথা বলেন। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেয় সুইডেন।
সুইডিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শন : সুইডেন সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার টোবিয়াস বিলস্টর্মের সাথে বৈঠক করেন। সুইডেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাবেলা লোভিন এবং বিচার ও অভিবাসনমন্ত্রী মর্গান জোহানসন যথাক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গ্র্যান্ড হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পৃথক সাক্ষাৎ করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্যে সুইডিশ রাজার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা : পার্লামেন্ট পরিদর্শনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুইডেনের রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হলে রাজা কার্ল ষষ্ঠদশ গুস্তাভ তাকে স্বাগত জানান। সুইডিশ রাজার সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য বৈঠক হয়।
বৈঠক সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সুইডিশ রাজা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশ যে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে, শিশুমৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে রোল মডেল হয়েছে এ বিষয়গুলো দুজন আলাপ করেছেন। একই সাথে সুইডেন বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ নয়, উন্নয়নেও সহযোগিতা কাজ করবে বলে তারা একমত প্রকাশ করেছেন।
সুইডেনের রাজার উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, তারা শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগ নয়, দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাতেও অংশ নিতে আগ্রহী।
সুইডেনের রাজা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বলেও বৈঠক শেষে শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, রাজা এবং প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে বাংলাদেশ যে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক : রাজার সাথে বৈঠকের পর সুইডেন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত বৈঠক হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাবেলা লোভিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন।
যৌথ ঘোষণা : দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশ যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেয় সুইডেন।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, যৌথ ঘোষণার মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কীভাবে নতুন নতুন দিকে যাবে তা বলা হয়েছে। যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাস মোকাবিলায় দুই দেশ একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়েছে।
শহীদুল হক জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ সুইডেন। তারা উন্নয়নশীল দেশের সাথে টিম করে ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং এজন্য বাংলাদেশকে তারা বেছে নিয়েছে।
শহীদুল হক আরও বলেন, সুইডেন যে ছোট নগর/স্মার্ট নগরের ধারণা উন্মোচন করেছেÑ এ বিষয়ে এরা বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহযোগিতা করে থাকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ছোট নগর/স্মার্ট নগর উন্নয়নে সুইডেন অবদান রাখতে পারে বলে দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে।
অভিবাসন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার হোটেলে দেখা করতে আসেন সুইডেনের বিচার ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মর্গান জোহানসন। বৈঠকে সুইডেনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
বৈঠকে বিচার ও অভিবাসনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিরা আরও যাতে লিগ্যালি সুইডেনে আসতে পারে সে ব্যাপারে ‘দে উইল বি অলঅয়েজ ফেবারিভলি ডিসপোজড’।
বাণিজ্য সংলাপে অংশগ্রহণ : সফরের দ্বিতীয় দিন স্টকহোমে বাংলাদেশ-সুইডেন বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আয়োজনে ‘বাণিজ্য সংলাপে’ অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি উন্নয়নের নানা লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনী ব্যবসার ক্ষেত্রে অংশীদার হতে আমি সুইডেনের ব্যবসায় ও শিল্প খাতের নেতাদের জোরাল উৎসাহ দিতে চাই। একসাথে কাজ করে আমরা উভয় দেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারি।
সফরকালে এইচ অ্যান্ড এম কার্ল-জোহান পেরসন-এর সিইও এবং ইনভেস্টর জ্যাকব ওয়ালেনবার্গ-এর প্রেসিডেন্ট, ইনভেস্টর মার্কুস ওয়ালেনবার্গ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এবিবি সুইডেন জোহান সডারস্টর্ম-এর সিইও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সুইডিস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রোজেনব্যাড সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-সুইডেন বিনিয়োগ ফোরামের বাণিজ্য সংলাপে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি দুদেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ, ব্যবসা ও উদ্ভাবনী বাণিজ্যে আমাদের অংশীদার হতে সুইডেনের ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতৃবৃন্দকে জোরালভাবে উৎসাহিত করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিনিয়োগনীতি খুবই উদার। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। আমরা ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে এবং এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল জিটুজি ভিত্তিতে বিশেষভাবে চীন, ভারত ও জাপানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেক হাই-টেক পার্কও গড়ে তুলছি। আমি আমাদের উন্নয়ন প্রয়াসে অংশীদার হতে সুইডেনের কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জেনে আনন্দিত যে সুইডেন ও বাংলাদেশে অবস্থিত উভয় দেশের বাণিজ্য পরিষদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, এ পদক্ষেপ দুদেশের বাণিজ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকে বাংলাদেশ সুইডেন সম্পর্কের উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী উলফ পার্মের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংহতি প্রকাশ করে এবং ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ইউরোপের প্রথম সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় থেকে এ সম্পর্ক জোরদার থেকে জোরদার হয়ে বর্তমানে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তা গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের এ আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্য-বিনিয়োগের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আরও উৎসাহ জোগাবে। আমি বিশ্বাস করি, দুদেশের বিজনেস কমিউনিটি মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ও তথ্য ব্যবহারে এ সুযোগ কাজে লাগাবে। শেখ হাসিনা বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ একটি সফল দেশ এবং এ দেশ এখন বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারী দেশ। তৈরি পোশাক খাতের মতো অন্যান্য খাতেরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ওষুধ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৩টি দেশে রপ্তানি হয়।

Category: