Blog Archives

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

63-aউত্তরণ প্রতিবেদন:  সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন
সাবেক প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। গত ১৭ জানুয়ারি ভোরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ১৯ জানুয়ারি মরহুমের লাশ দেশে পৌঁছায়। ওই দিন সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ২০০৮ সালের ১ জুন থেকে ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি রুহুল আমিন ১৯৪২ সালের ২৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে এমএ এবং ১৯৬৬ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে জেলা ও দায়রা জজ হন। ১৯৯৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন রুহুল আমিন। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি মাহফুজুল
63-bঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২২তম আসামি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাহফুজুল বারী আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি সকালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য ছিলেন মাহফুজুল বারী। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাহফুজুল বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় গভীর শ্রদ্ধার সাথে ’৭৫-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কমিটির সাবেক এই সদস্যের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মাহফুজুল বারী পাকিস্তান বিমানবাহিনী সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ সালের নভেম্বরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সাথে মুক্তি পান। মুক্তিযুদ্ধে মাহফুজুল বারী ২ নম্বর সেক্টরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের প্রতিবাদে কলকাতা চলে যান। এরপর তিনি কানাডায় গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। এক মাস আগে তিনি দেশে আসেন। মাহফুজুল বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রামগতি থানা কেন্দ্রীয় সমবায়ের ও ডর্প’র প্রতিষ্ঠাতা এবং গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমান। একই সাথে তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান
63-cনরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (৭২) গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে রেখে যান। তিনি দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে নরসিংদীর আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কর্মবিরতি পালন করেন। আইনজীবীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কালোব্যাজ ধারণ করেন। বিকেলে বাদ আছর তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদী স্টেডিয়ামে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশ নরসিংদী শহরের রাঙ্গামাটিস্থ ঈদগাহ গোরস্তানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তার রুহের মাগফিরাত কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইস্পাহানির চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ
63-dদেশের অন্যতম পুরনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ ইস্পাহানি আর নেই। গত ২৩ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি মারা যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। চা, টেক্সটাইল, খাদ্য, পাট, শিপিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০০ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছে এমএম ইস্পাহানি গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আলী বেহরুজ ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

Category:

পুলিশ পদক পেলেন যারা

61উত্তরণ প্রতিবেদন: কনস্টেবল থেকে অ্যাডিশনাল আইজিÑ বাদ যায়নি কোনো পদমর্যাদাই। এবারের মতো এত সংখ্যক পদক অতীতে আর কখনও দেওয়া হয়নি। বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবা ও সাহসিকতার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রেকর্ড সংখ্যক ১৩২ পুলিশ সদস্য পদক পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এই মেডেল তুলে দেন। একসাথে এত সংখ্যক পদক দিতে পারায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও গর্বিত। পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও পদক তুলে দিয়েছেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গত ২৩ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ২৬ জনকে ২০১৬ সালের বিপিএম এবং ৪১ জনকে পিপিএম দেওয়া হয়। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ২৪ জন বিপিএম (সেবা) এবং ৪১ জন পিপিএম (সেবা) পেয়েছেন এবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদের বুকে ব্যাজ পরিয়ে শুরু করেন পদক প্রদান। রাজধানীসহ দেশব্যাপী জঙ্গি নির্মূলে যথেষ্ট দক্ষতা ও সাহসিকতার দরুন তাকে এই পদক প্রদান করা হয়। একই কারণে পদক লাভ করেছেনÑ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (বর্তমানে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি) শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র‌্যাব-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান, র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দ্রকার রফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার আমিনুল ইসলাম, র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ, র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাশিদুল ইসলাম খান রিপন পদক পেয়েছেন তার নিজ দফতর অটোমেশন ও ডিজিটালাইজড করার জন্য। রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে পদক প্রদান করা হয়েছে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যার মূল নায়ককে চিহ্নিত ও গ্রেফতারে বিশেষ অবদান রাখায়।
পদক তালিকায় আরও রয়েছেনÑ পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ডেভেলপমেন্ট) গাজী মোজাম্মেল হক, এআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মনিরুল ইসলাম, দিনাজপুরের সাবেক এসপি (বর্তমানে এআইজি-সংস্থাপন, পুলিশ সদর দফতর) রুহুল আমিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বগুড়ার এসপি আসাদুজ্জামান, সিরাজগঞ্জের এসপি মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ, নারায়ণগঞ্জের এসপি মঈনুল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি মোজাহিদুল ইসলাম, কুমিল্লার এসপি শাহ আবিদ হোসেন, সাতক্ষীরার এসপি আলতাফ হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ইঅ্যান্ডডি) সাইফুল ইসলাম, গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশিদ, ডিএমপির ডিসি (পিআর অ্যান্ড এইচআরডি) মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, চাঁদপুরের এসপি শামসুন্নাহার, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ইউএন অ্যাফেয়ার্স) শেখ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ, ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রাশিদুল ইসলাম খান, ঝালকাঠির এসপি সুভাষ চন্দ্র, রংপুরের এসপি মিজানুর রহমান, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ডিসি মাসুদ আহম্মেদ, ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, সিএমপির ডিসি (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসেন, র‌্যাব সদর দফরের উপ-পরিচালক (অপস) মেজর ইবনে মনজুরুল খালিদ, র‌্যাব-৮-এর মেজর আদনান কবির, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুল মনির, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ম-ল, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা, সিটিটিসির সোয়াতের এডিসি আশিক হোসেন, পুলিশের বিশেষ শাখা- এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপনীয়) জাহিদুর রহমান, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল জলিল, ডিএমপির গুলশান বিভাগের এডিসি আবদুল আহাদ, আইজিপির স্টাফ অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা, সিটি এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল রহমান ফকির, সিটিটিসির এসি জাহাঙ্গীর আলম, আহমেদুল ইসলাম, ডিবি উত্তরের এসি রবিউল করিম (মরণোত্তর), ডিবির এসি হাসান আরাফাত, ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এমএম মাহমুদ হাসান, সিটিটিসির সোয়াত টিমের এসি এসএম জাহাঙ্গীর হাছান, র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র এএসপি শাহেদা সুলতানা, পুলিশ সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি সোহান সরকার, এসএসএফের সিনিয়র এএসপি দেবাশীষ দাশ, এসএমপির এসি নূরুল হুদা আশরাফী, সিআইডির এএসপি আহমদ আলী, এসবির এএসপি শাওন শায়লা, পুলিশ সদর দফতরের এলআইসি শাখার নূরে আলম, র‌্যাব সদর দফতরের শাহনেওয়াজ রাজু, র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার এএসপি আখিউল ইসলাম, এএসপি নূর মোহাম্মদ আলী চিশতী, ডিএমপির এসি আতাউর রহমান খান, শাহজাহান কবীর, এসবির এএসপি সিরাজুল ইসলাম, ডিএমপির রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলম, গে-ারিয়া থানার ওসি কাজী মিজানুর রহমান, সিটির পরিদর্শক শফি উদ্দিন শেখ, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ অসীম উদ্দীন, সিটিটিসির পরিদর্শক মাহবুব-উর-রশীদ, ডিএমপির বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান (মরণোত্তর), ডিবি দক্ষিণের পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী, সিটিটিসির পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, বগুড়ার জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, নরসিংদী মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, ঢাকা কোর্টের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান, সিটিটিসির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের ভালুকার ওসি মামুন-অর-রশিদ, ডিএমপির তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান, রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিন ফকির, কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরশেদ জামান, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার ওসি মুক্তাদির হোসেন, যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন, ডিএমপির রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন, র‌্যাব-৬-এর ওয়ারেন্ট অফিসার জাকির হোসেন বেগ, সিটিটিসির এসআই সুজন কুমার কু-ু, ডিএমপির গুলশান থানার এসআই ফারুক হোসেন, নেত্রকোনা পুলিশ লাইনসের এসআই ফজলুল হক, পুলিশ সদর দফতরের এসআই আক্তারুজ্জামান, বিএমপির এসআই দেলোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই পরিমল চন্দ্র দাস, সিটিটিসির এসআই আবুল কালাম আজাদ, ডিবির ওয়ারী জোনাল টিমের এসআই মাহবুবুর রহমান সরকার, সিটিটিসির এসআই শেখ হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা সারোয়ার, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শহীদুল ইসলাম, বিএমপির কোতোয়ালি থানার এসআই জামাল হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সার্জেন্ট এখলাছ উদ্দিন, সিটিটিসির এসআই মোর্শেদ আলম, এপিবিএন-১ এর এএসআই শামীম মিয়া, সিটিটিসির এএসআই আবদুল হান্নান, বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান, ডিবি উত্তরের এএসআই মতিউর রহমান মতিন, র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার এএসআই গোলাম রাব্বানী, কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসের নায়েক নিকো চাকমা, জহিরুল ইসলাম (মরণোত্তর), আনসারুল হক (মরণোত্তর), টাঙ্গাইল গোয়েন্দা শাখার কনস্টেবল হৃদয় মাহমুদ শিকদার, ডিএমপির পিএমও উত্তরের কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস, ডিএমপির কল্যাণ ফোর্সের কনস্টেবল আনোয়ারুল ইসলাম, সিটিটিসির কনস্টেবল লাভলু জামাল, রামচন্দ্র্র বিশ্বাস, শাহজাহান আলী, মাহতাব উদ্দিন।

Category:

সেরা চলচ্চিত্র ইরানের ‘ডটার’

দেশীয় নির্মাতাদের মধ্যে ‘লালচর’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা নাদের চৌধুরী, ‘জন্মসাথী’ শিরোনামে নির্মিত প্রমাণ্যচিত্রের নির্মাতা শবনম ফেরদৌস, ‘প্যারালাল জার্নি’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাতা তারেক আজিজ নিশক ও ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা তৌকীর আহমেদ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেন।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৭

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৭

আবু সুফিয়ান আজাদ: গত ১২ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত উদযাপিত হলো রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৭। ১২ জানুয়ারি এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
উৎসবে বাংলাদেশসহ মোট ৬৭টি দেশ অংশগ্রহণ করে এবং ১৭৭টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁয়েস, স্টার সিনেপ্লেক্স ও আমেরিকান সেন্টার মিলনায়তনে এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। উৎসবে এশিয়ান কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন্স ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মস, নরডিক ফিল্ম সেশন এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকারস সেকশনে এই চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশসহ প্রায় ৭০টি দেশের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র সমালোচক, বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের গণ্যমান্য কর্মকর্তা, রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ এবং অন্যান্য চলচ্চিত্র সংসদের সদস্যসহ দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ।
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৭ এর অংশ হিসেবে আরও ৪টি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর যৌথভাবে জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স রুমে গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১৬ দিনব্যাপী এক চলচ্চিত্র বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশসহ ৮টি দেশের ২৭ তরুণ নির্মাতারা এই কর্মশালায় অংশ নেন।
এ ছাড়া গত ১৩-১৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগিতায় নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী এবং বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁয়েসের আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘চলচ্চিতে নারী’ শীর্ষক তৃতীয় ঢাকা আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সম্মেলনে চলচ্চিত্র পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ ও চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থিতি কীভাবে নারীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে এবং বিশ্ব বিনির্মাণে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা কীভাবে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন ফিপ্রেসির সভাপতি আঁলিনতাসকীয়ান, আইএফটিএ’র সভাপতি মার্কোওরসিনি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও নির্মাতা সামিয়া জামান, অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, ব্রিটেনের অভিনেত্রী ক্লেয়ার হুইসেলসহ দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক ও সমালোচক।
পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ১৫ জানুয়ারি দিনব্যাপী ‘বাংলা সিনেমার বিশ্বযাত্রা’ নিয়েও আলিয়ঁস ফ্রঁয়েসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। মোনাকোভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইমারজিং ফিল্ম ট্যালেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইইএফটিএ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশের যৌথ অংশগ্রহণে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সামিয়া জামানের সঞ্চালনায় সেখানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালকদের পথ দেখান বিদেশি নির্মাতা ও প্রযোজকরা। আইইএফটিএ’র সভাপতি মার্কোওরসিনি, অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ঘোষণা দেনÑ এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের কর্মশালায় তিন তরুণ নির্মাতাকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবেন।
উৎসবের অংশ হিসেবে এবারই প্রথমবারের মতো একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ও শিল্পাঙ্গন আর্ট গ্যালারি যৌথ আয়োজনে গত ৮ জানুয়ারি থেকে এই প্রদর্শনী শুরু হয়ে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। ইরানি তরুণ চিত্রশিল্পী সারাহ হোজ্জাতির ৩০টি চিত্রকর্ম নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর নাম ছিল ‘মাই ড্রিম ওয়ার্ল্ড’।
বিগত বছরগুলোর মতো এবারও এই আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়।
এই আয়োজনে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।
সেরা চলচ্চিত্র ইরানের রেজা মারকারিম পরিচালিত (ডটার), সেরা পরিচালক ইরানের পারভেজ শাহবাজি (মেলেরিয়া), সেরা অভিনেতা ইরানের ফরহাদ আসলানি (ডটার), সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার লাভ করেন প্যালেস্টাইনের মায়শা এলাদি (৩০০০ নাইটস), সেরা চলচ্চিত্র (স্পেশাল মেনশন)-এ বাংলাদেশের তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ পুরস্কার লাভ করে।
শিশুতোষ চলচ্চিত্রে ফিলিপাইনের মারিকেল সি কারিয়াগা পরিচালিত ‘পিতং কাবাং পালয় (সেভেন সাকস অব রাইস)’, দর্শক জরিপে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে ভারতের ববি শর্মা বড়–য়া পরিচালিত ‘সোনার বরণ পাখি (দি গোল্ডেন উইং)’, বেস্ট ফিচার ফিল্ম রাশিয়ান মিরবালা সালিমলি পরিচালিত ‘কিরমিজি বাগ (রেড গার্ডেন)’, ফিচার ফিল্ম (স্পেশাল মেনশন)-এ বাংলাদেশি নাদের চৌধুরী পরিচালিত ‘লালচর (দি রেড স্যান্ড)’, প্রামাণ্যচিত্রে নেদারল্যান্ডসের আন্নে ক্রিস্টিয়ান গিরারডট পরিচালিত ‘আইল্যান্ড অবদ দি মংকস’, প্রামাণ্যচিত্র (স্পেশাল মেনশন)-এ ইতালির মারকো জুইন পরিচালিত ‘লা সেডিয়া ডি কার্টন (দি স্পেশাল চেয়ার)’, স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রে ইরানের আলি মারদমি পরিচালিত ‘দি সিমেট্রি ম্যান’।
নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে সেরা ফিচার ফিল্ম নির্বাচিত হয় ইরানের ইডা পানাহানদে পরিচালিত ‘নাহিদ’, ফিচার ফিল্ম (স্পেশাল মেনশন)-এ জার্মানির ইমেন ইমেল বালচি পরিচালিত ‘অন্টিল আই লস মাই ব্রিথ’, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে নির্বাচিত হন সাইপ্রাসের মিরসিনি আস্টিডিডু পরিচালিত ‘সেমেল’, স্বল্পদৈর্ঘ্য (স্পেশাল মেনশন)-এ নেপালের ফাতেমী আহমেদী ও আস্মিতা শিরিস পরিচালিত ‘চন্দ্র’, সেরা প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার লাভ করে বাংলাদেশের শবনম ফেরদৌস পরিচালিত ‘জন্মসাথী’, প্রামাণ্যচিত্র (স্পেশাল মেনশন)-এ আর্জেন্টিনার নাটালিয়া ব্রুসটেইন পরিচালিত ‘ইএল টাইমপো সাসপেনডিডো (সাপেনডেন্ড টাইম)’।
স্বল্প ও মুক্তদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার লাভ করে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্যে সিরিয়ার আমির আল বারজাই পরিচালিত ‘জমন’, স্বল্পদৈর্ঘ্য (স্পেশাল মেনশন)-এ ভারতের শিবাপ্রসাদ কেভি পরিচালিত ‘আপুপানধাদি’ ও বাংলাদেশের তারেক আজিজ নিশক পরিচালিত ‘প্যারালাল জার্নি’, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র মিয়ানমারের সো আর্গার পরিচালিত ‘এ পলিটিক্যাল লাইফ’ ও নেপালের গণেশ পান্ডে ‘বাঘিয়াল বাচেকাহারু’ (নেপাল আর্থকোয়েক : হিরোস, সার্ভাইবারস অ্যান্ড মিরাকেলস)।
এশিয়ান ফিল্ম ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার (এফআইপিআরইএসসিআই জুরি অ্যাওয়ার্ড) লাভ করেন হুসাইন হাসান পরিচালিত ‘দি ডার্ক উইন্ড’, সেরা চিত্রগ্রাহক পুরস্কার (ইন্টারন্যাশনাল জুরি অ্যাওয়ার্ড) লাভ করেন তুরস্কের ছিবাহির শাহিন ও কুরসাদ উরেসিন (কোল্ড অব কালান্দার চলচ্চিত্র), সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার লাভ করেন ইরানের সাইত রুশদী (লাইফ অ্যান্ড এ ডে চলচ্চিত্র) এবং তুরস্কের রউফ (সুনার ক্যানার চলচ্চিত্র)।
দেশীয় নির্মাতাদের মধ্যে ‘লালচর’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা নাদের চৌধুরী, ‘জন্মসাথী’ শিরোনামে নির্মিত প্রমাণ্যচিত্রের নির্মাতা শবনম ফেরদৌস, ‘প্যারালাল জার্নি’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাতা তারেক আজিজ নিশক ও ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা তৌকীর আহমেদ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেন।
জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে আয়োজিত ২০ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এমপি। সমাপনী বক্তব্যে বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে জোর দেন মন্ত্রী। নিজের ইতিহাস ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

Category:

সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে দায়িত্ব পালন করুন

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চাই সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সাথে আপনারা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। আমি চাই আপনারা (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) অন্তত সেই দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করবেন।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যটাই হবে জনগণের সেবা করা। তাই উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করতে আসে না সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত গড়ে তুলব। কিন্তু এ দেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত ও অশিক্ষিত থাকে, তারা যদি রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, তা হলে সোনার বাংলাদেশ গড়া কখনোই সম্ভব না।
গত ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেশবাসীর দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি উপস্থিত ছিলেন। এলজিআরডি সচিব আবদুল মালেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদসবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ আইনটি পাসের ১৬ বছর পর গত ২৮ ডিসেম্বর ৫৯টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতার কারণে কুষ্টিয়া ও বগুড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এই নির্বাচনে। জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর প্রধানমন্ত্রী দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আরও বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন কাজ যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পঁচাত্তর-পরবর্তীতে এ দেশের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবেÑ এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছিল। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানতে পারে যে, সরকার জনগণের সেবা করে এবং জনগণ তার সুফল পায়। কাজেই আপনাদের ওপর এটাই দায়িত্ব থাকবে যে, প্রতিটি উন্নয়নের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং স্ব স্ব জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যাবলী খুঁজে বের করা। কি করলে জেলার আরও উন্নতি হতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তার সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নেই এবং স্থানীয় সরকার আইন পাস করি। তিনি বলেন, জেলা পরিষদে নির্বাচন এবারই প্রথম হলো। আমরা ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন পাস করি এবং সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বিধায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য জনসেবা করা। সে কারণেই আমরা সব সময় মনে করি ক্ষমতাটাকে যতটা সম্ভব বিকেন্দ্রিকরণ করতে পারব জনসেবাও তত নিশ্চিত হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

Category:

তীরন্দাজরা উড়ালেন লাল-সবুজের পতাকা

57আরিফ সোহেল: আসরের সূচনা হয়েছিল ২৭ জানুয়ারি। ১৫ দেশের তীরন্দাজরা নিশানা খুঁজতে ব্যস্ত। এ যেন অভিনব এক মিলনমেলা। উড়ছে ১৫ দেশের জাতীয় পতাকা। যেখানে সবাই সমান।
কিন্তু পদক নির্ধারণী শেষ দিনে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে উড়ছে শুধুই লাল-সবুজের পতাকা। উৎসবে উদ্বেলিত বাংলাদেশের আরচাররা। গ্যালারিতে উচ্ছ্বসিত দর্শক। গত ৩০ জানুয়ারি আরচারির ইতিহাসে দিনটি ছিল গৌরবময় একদিন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ইসলামি সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ৯টি স্বর্ণের মধ্যে ৬টি জিতেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। দলগত সব ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ের পাশাপাশি রিকার্ভ মহিলা এককে স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদ হীরা মণি।
শেষ দিনে শুরুতেই পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী আরচার হীরা মণি। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশকে।
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে হারিয়েছেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে হারিয়েছেন সহজেই। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭ পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেছেন।
কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে হারিয়ে আসরের শেষ ইভেন্টে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি। উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইরেক্টর খালিদ বিন আল শায়েখ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, আরচারি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামি সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৭টি দেশ অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান এবং ইরান নাম প্রত্যাহার করায় ১৫টি দেশ আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। মুসলিম কমিউনিটি বেসড টুর্নামেন্ট হলেও, আসরের জলুস বাড়াতে অংশ নিয়েছে নেপাল ও ভুটান। চমক হিসেবে অংশ নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া।

Category:

তিনি একজন নোবেলিস্ট!

উত্তরণ প্রতিবেদন: ব্যক্তি তার কর্মের দ্বারা সুনাম, পুরস্কার বা খেতাব অর্জন করে এবং মর্যাদার আসনে আসীন হয়। স্বদেশের মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করে এবং মৃত্যুতেও তিনি অমরত্ব লাভ করেন। পৃথিবীতে এসব মহৎ ও মহান মানুষের সংখ্যা কম নয়, যাদের অনেকেই প্রাতঃস্মরণীয়। আমাদের এই উপমহাদেশে বিগত একশ-দেড়শ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সমাজসেবা, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ওইসব গুণী মানুষের মুখাবয়ব/মুখচ্ছবি। এরা একেকজন মহামানব এবং এই পৃথিবীতে এদের আগমন শুধু নিজ দেশ বা দেশের মানুষ নয়; বরং দুনিয়ার সব মানুষের তথা সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের জন্য। এরা সমুদ্রের ন্যায় বিশাল অন্তরের অধিকারী এবং আকাশের মতো উদার। এরা বায়ু সমতুল্যÑ কারণ বায়ু যখন প্রবাহিত হয় তখন ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাত, আস্তিক-নাস্তিক, ভেদাভেদ না করে সবাইকে সমানভাবে তার উপকরণ বিলিয়ে দেয়। ‘পরের জন্য স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে, আপনার কথা ভুলিয়া যাও’Ñ কবির এই চরণগুলো কেবল ওইসব মহামানবের বেলায় প্রযোজ্য।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিষয়টি বিরাট। যিনি এই পুরস্কারে ভূষিত তিনি আরও বড়। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তনের পর আজ পর্যন্ত যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাদের কারও কারও বেলায় বিতর্ক আছে।
নোবেল পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর যে কোনোটিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেমন গর্বিত, দেশবাসীও তেমনি গর্বিত হয়। বাংলাদেশের সামনেও এরকম একটি মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছিল। আমরাও গর্ব অনুভব করেছিলামÑ যখন এ দেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক গ্রামীণ ব্যাংকের কর্ণধার যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানের সাথে শান্তিতে নোবেল খেতাবে ভূষিত হলেন।
আলোচ্য শান্তির খেতাবধারী ড. মোহাম্মদ ইউনূস অর্থশাস্ত্রের মানুষ। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেছেন। অধ্যাপনা ছেড়ে দিলেও অর্থনীতির ‘অর্থ’ ছাড়েন নি। এটি অবশ্য দোষের কিছু নয়। কিন্তু প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য মোচনে সরকারের আনুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত প্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে চড়া সুদে মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্র ঋণ নামের যে প্রকল্প চালু করলেন সেই ঋণ গ্রহণ করে হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যের কোনোই পরিবর্তন হয়নি; বরং সুদে-আসলে ক্ষুদ্র ঋণ বৃহৎ ঋণে পরিণত হতে থাকল। আর ঋণের বোঝা পরিশোধে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, ঘরের চালার টিন এমনকি বাস্তুভিটাও বিক্রি করতে হয়েছে। শোনা যায়, কেউ কেউ ঋণ পরিশোধ করতে শরীরের অঙ্গ পর্যন্ত বিক্রি করেছে। ঋণ শোধ করতে না পারায় পালিয়ে বেড়াতে হয়েছেÑ এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে মাইক্রোক্রেডিট প্রকল্প প্রণেতা বিরাট ব্যবসায়ী তথা পুঁজিপতি বনে গেছেনÑ অর্থাৎ মানি বিগেটস মানিÑ এই তত্ত্বের একজন শতভাগ সফল প্রয়োগকারী। আর এরই বদৌলতে নোবেল কমিটি তাকে শান্তির খেতাবে ভূষিত করলেন অর্থাৎ, শান্তিতে নোবেল লরেট।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় ফি-বছরই হয়। ব্যাংক, বীমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ এমনকি প্রায় সব স্তরের চাকরিজীবী নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্যোগকবলিত দুস্থ অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান-অনুদান প্রদান করে। কিন্তু ড. ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছেন অথবা ব্যক্তিগতভাবে ওইসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেনÑ এমন কথা কখনও শোনা যায়নি। অথচ তিনি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে ৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। ওই যে প্রবাদ আছে ‘টাকায় টাকা আনে’Ñ ওই ৩ লাখ ডলার তিনি বিনিয়োগ করেছেন, ঝানু ব্যবসায়ী যাকে বলে। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এর শাইলক আর কী।
ধরে নেওয়া যাক, শত্রুতার উদ্দেশ্য সেতুটি যেন শেখ হাসিনার আমলে না হয়Ñ শান্তির দেবতার পছন্দের দল (২০১৪ সালে) ক্ষমতায় এসে সেতুটি নির্মাণ করবে। আরও ধরে নিচ্ছি যে, তার দল ক্ষমতায় এলো কিন্তু সে পর্যন্ত তো সেতু নির্মাণ কয়েক বছর পিছিয়ে গেল অর্থাৎ, দেশের উন্নয়ন কয়েক বছর থেমে থাকল। শুধু তাই না, নির্মাণ ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়ে যেত এবং তাতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হতো। অবশ্য ক্ষতি যা হওয়ার ইতোমধ্যে তা হয়ে গেছে। কারণ ২০১০ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ শুরু করার কথাÑ শত ষড়যন্ত্র ও বিশ্বব্যাংকের হঠকারিতা নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি শুধু জননেত্রীর দৃঢ়তা, সাহসিকতা এবং দূরদর্শিতার কারণে, তবে পিছিয়ে দিয়েছে।
ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেনÑ কীভাবে পেয়েছেন বা পাওয়া যথার্থ হয়েছে কি-না সে প্রশ্ন কখনই উঠত না, যদি না পুরস্কার প্রাপ্তির পর উপর্যুক্ত অনভিপ্রেত কর্মকা-ে নিজেকে জড়িত করতেন।
লেখক : প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান, সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Category:

আকুপ্রেসার : বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা

53আলমগীর আলম: আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা। প্রত্যেক মানুষ নিজেই অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের রোগ নির্ণয়, নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এই পদ্ধতি অনুশীলন ও প্রয়োগের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে নিজ বা নিজেদের রোগ নির্ণয় করে তা নিরাময় করতে পারেন খুব সহজেই। মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডা. উইলিয়াম ফ্রিটজ জেরাল্ড একদল উদীয়মান চিকিৎসক নিয়ে আধুনিক গবেষণায় আজকের আকুপ্রেসারকে বিকাশিত করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন অনেক জটিল ও কঠিন রোগও শুধু আকুপ্রেসার দিয়ে নিরাময় সম্ভব, যা ওষুধে অনেক সময়ের প্রয়োজন পড়ে। আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি এমন একটি পদ্ধতি, যা অনেক কঠিন রোগ ও খুব সহজেই নিরাময় হয়ে যায়। আমাদের এই উপমহাদেশে ভারতের দেবন্দ্র ভোরা এই চিকিৎসা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছেন, এই আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতির প্রধান প্রতিপাদ্য ‘আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতে’। আমাদের দেশে এখন অনেক মানুষ আকুপ্রেসার করছেন, রয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
আকুপ্রেসার কি?
আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে হাতের এবং পায়ের বিশেষ কিছু পয়েন্ট রয়েছে, যা চাপ দিলে নির্দিষ্ট পয়েন্টের নির্দিষ্ট রোগ নিরাময় হয়ে যায়। ¯্রষ্টা তার মহান সৃষ্টিকে নিজে লালিত করেন, তাই প্রকৃতির অংশ হিসেবে মানুষ যেন তার স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায় জানা থাকে। তাই মানুষের সকল রোগের চিকিৎসা হাত ও পায়ের নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো দিয়ে রাখছে।
মানুষ প্রকৃতির সন্তান, এই প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির মধ্যে থেকেই প্রতিকূল অবস্থার সাথে লড়াই-সংগ্রাম করে বাঁচার অদম্য আকাক্সক্ষা মানুষকে বর্তমান অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। মানুষ তার প্রয়োজনে গাছপালা, লতাপাতা, লতা-গুল্ম, ফলমূল নিজের করে নিয়েছে, সেই সাথে তার আহারের জন্য ফলমূল অসুখ-বিসুখের জন্য নানান লতাপাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছে। প্রকৃতির নানান খেয়ালে নানান আঞ্চলিকতায় স্বাদ ভিন্নতার কারণে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্নতায় তার গঠন এবং কাঠামোগত কারণের ও একটি স্বতন্ত্রতা সৃষ্টি করেছে।
আকুপ্রেসারের ইতিহাস
সুশ্রুত সংহিতার মতে ভারতবর্ষে ৬ হাজার বছর আগে আজকের আধুনিক আকুপ্রেসার প্রচলন ছিল, মণিঋষিগণ তাদের রোগ নিরাময়ের জন্য এক গোপন বিদ্যা হিসেবে নিজের কাছে রাখত, মণিঋষির ভক্তকুল অসুস্থ হলে আকুপ্রেসারের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করতেন, সেই সাথে খাদ্যের প্রতুলতা এবং পথ্যের প্রাপ্তির জন্য ভক্তের থাকার স্থল বদলের নির্দেশ দিতেন, সেই আলোকে ভক্ত তার জন্য উপযোগী স্থান এবং উপযোগী পথ্য যেখানে আছে সেখানেই থাকতেন। পরবর্তীকালে এই আকুপ্রেসার শ্রীলংকায় গিয়ে আকুপাংচার নামধারণ করে চীনের ব্যাপক পরিচিতি পায়। আকুপ্রেসার বিভিন্ন জাতির কাছে বিভিন্ন নামে যা আকুপ্রেসার, রিফ্রেক্সোলজি, সুজোক, জোন থেরাপি ইত্যাদি নামে প্রসার পায়।
আকুপ্রেসার শরীরে কীভাবে কাজ করে?
এই চিকিৎসা পদ্ধতি শরীরে অবস্থিত বহুমাইল বিস্তিৃত ¯œায়ু দ্বারা যোগাযোগ ব্যবস্থায় জৈব বিদ্যুৎ তৈরি করার মাধ্যমে কাজ করে। মানুষের শরীরে রক্তের ধীর গতি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাধাই রোগ। মানবদেহ এক আশ্চর্য সুপার কম্পিউটার, এর প্রতিটি অঙ্গ একে অপরের সাথে মিলেমিশে শরীরটাকে ঠিক রাখার জন্য অবিরাম কাজ করে থাকে। এই যন্ত্রগুলো নিরলসভাবে কাজ করে তা শত বছরেরও বেশি টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এই আশ্চর্য কম্পিউটারটি চালানোর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো সুষম বিদ্যুৎ, যা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ ঠিক থাকে। তা না থাকলেই শরীরে নানান জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং রোগের উৎপত্তি শুরু হয়, যা জীবনের প্রাণহানির মূল কারণ।
আকুপ্রেসারের মাধ্যমে যে সমস্যাগুলো দূর করা যায়
* ঘাড়ের ব্যথা * স্পন্ডালাইসিস * কোমরের ব্যথা (লাম্বার) * আর্থারাইটিস * অস্ট্রোপ্রোসিস * হাঁটু ব্যথা * মাথা ব্যথা * সাইনাস * মাইগ্রেন * হার্টের সমস্যা * লিভারের সমস্যা * ফুসফুসের সমস্যা * অ্যাজমা * পুরুষ ও স্ত্রীতন্ত্রের জটিল সমস্যাগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করে * নার্ভের যে কোনো সমস্যা * প্যারালাইসিস * স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসন * উচ্চ রক্তচাপ * থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি।
আকুপ্রেসার করার সুবিধা
* এই চিকিৎসা নিজেই রোগ নির্ণয় করতে পারবে (হাতের তালুতে চাপ দিলে যেখানে ব্যথা অনুভব হবে বুঝতে হবে সেখানেই সমস্যা রয়েছে, সেই ব্যথা দূর করার জন্য আকুপ্রেসার করতে হবে)।
* হাতের তালুতে ও হাতের উপরিভাগেই সব সমস্যা সমাধান।
* বয়সের কোনো ব্যাপার নেই, সব বয়সী মানুষই আকুপ্রেসার করতে পারবে।
* কোনো খরচ নেই, কোনো রাসায়নিক ডায়াগনসিস লাগে না।
* সময়ের কোনো ব্যাপার নেই, যখন-তখন যে কোনো অবস্থাতেই আকুপ্রেসার করা যায়।
কীভাবে আকুপ্রেসার করবেন
পদ্ধতিগতভাবে আকুপ্রেসার হলো একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসা পদ্ধতি, এই চিকিৎসা পদ্ধতি জানা থাকলে নিজেই নিজের শরীরের অবস্থা জানা এবং অসুস্থ হলে তা থেকে নিরাময়ের জন্য এর চেয়ে সহজ এবং পরিপূর্ণ পদ্ধতি পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। যা মানুষের জন্য ¯্রষ্টার দেওয়া এক অন্যান্য স্বাস্থ্য রক্ষা পদ্ধতি। হাতের এবং পায়ের বিশেষ পয়েন্টে চাপ দিয়ে জানা যায়, বর্তমান শরীরের কী অবস্থা এবং কোনো জটিল বা জন্মগত রোগও আকুপ্রেসার দিয়ে নিরাময় সম্ভব।
শরীরে যে কোনো সমস্যাই থাক না কেন ক্রোনিক কিংবা একিইউট তা আকুপ্রেসার দ্বারা আপনার শরীরের জৈববিদ্যুৎ দ্বারা ধীরে ধীরে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। সেই জন্য নিজের হাতের তালুতে পয়েন্টগুলো লক্ষ্য করুন, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি পয়েন্টে ৫০টি করে চাপ দিন, চাপ হবে সহ্য ক্ষমতার মধ্যে এবং একটি চাপের সাথে আরেকটি চাপের মধ্যে ২ সেকেন্ডে সময় নিয়ে চাপ দিতে হবে। এতে কাজ হবে ভালো প্রতিদিন দুবেলা কমপক্ষে একটি প্রেসার দেওয়ার অন্তত্য ৮ ঘণ্টা পর আরেকবার চাপ দিতে হবে। সপ্তাহে ৬ দিন আকুপ্রেসার করতে হবে, একদিন বিরতি দিয়ে আকুপ্রেসার করতে হবে। চাপের ক্ষেত্রে একটু এদিক-ওদিক হলেও বুঝতে পারবেন যে, যেখানে ব্যথা অনুভব করবেন সেখানেই চাপ দেবেন। ছবিতে পয়েন্টগুলো দেওয়া আছে প্রয়োজন অনুযায়ী আকুপ্রেসার করুন।
সাবধানতা
* গর্ভবতী মায়েরা এই আকুপ্রেসার করবেন না।
* ভরা পেটে আকুপ্রেসার করা যায় না।
* দিনে দুবারের বেশি আকুপ্রেসার করা অনুচিত।
* একবারে ২০ মিনিটের বেশি আকুপ্রেসার করা যাবে না।
* একটি পয়েন্টে ২ মিনিটের বেশি আকুপ্রেসার করা যাবে না।

আমাদের দেশে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে আকুপ্রেসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম, যা মানুষ নিজে নিজেই প্রয়োগ করে নিজের শরীর সুস্থ রাখতে পারবে। যারা একাধিক রোগে ভুগছেন এবং একাধিক ওষুধ সেবন করছেন, তারা নিয়মিত আকুপ্রেসার করলে ওষুধ খাওয়া বাদ দিতে পারবেন, আর এমন কিছু সমস্যা রয়েছে তা ওষুধেও সারে না; কিন্তু আকুপ্রেসারে সারবে যেমনÑ ঘাড়, কোমর ও নার্ভের জটিল সমস্যাগুলো। তাই আকুপ্রেসার ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

লেখক : আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ, ন্যাচারোপ্যাথি সেন্টার
ফ্লাট : বি-৭, ৮৩ নয়া পল্টন (গাজী নীড়), ঢাকা

Category:

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’

51উত্তরণ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের মূল প্রতিপাদ্য ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শপথ নেওয়ার সময় মূল প্রতিপাদ্য ছিলÑ ফেইথ ইন আমেরিকা’স ফিউচার।
এর আগে এফডি রুজভেল্ট, বারাক হোসেন ওবামা, জর্জ ওয়াকার বুশ (জর্জ বুশ জুনিয়র), উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটন (বিল ক্লিনটন), রোনাল্ড উইলসন রিগ্যান ও কয়েকজন নেতা একের অধিক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকায় ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্প হচ্ছেন ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। আর ট্রাম্পের সরকার হয়েছে দেশের ৫৮তম সরকার।
বিশ্বের গতিধারা নির্ধারণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে শপথ নিলেন ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। শুরু হলো ট্রাম্প যুগ। এর মাধ্যমে দেশটির একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার আট বছরের শাসনামলের অবসান ঘটল। গত ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় তাকে শপথ পড়ান দেশটির প্রধান বিচারপ্রতি জন রবার্টস। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিধন্য বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ পাঠ করেন ট্রাম্প। ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ এই বাইবেল ছুঁয়েই শপথ নেন ষোড়শ মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন। শপথে তিনি দেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন। এ সময় ট্রাম্পের পাশে ছিলেন স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে তিক্ততা ভুলে সম্প্রীতির বাঁধনে জড়ালেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ গ্রহণের দিনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে ট্রাম্পের উদ্দেশে। পোপ ফ্রান্সিসও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা বার্তা, অভিনন্দন পাঠিয়েছেন। আপনার সাথে কাজ করার ইচ্ছে রইল।
ট্রাম্প টুইটে বলেছেন, আমাদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনব, সীমানা ফিরিয়ে আনব, সম্পদ ফিরিয়ে আনব, আমাদের স্বপ্ন ফিরিয়ে আনব।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ওয়াশিংটনে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ঠিক দুপুর ১২টা। ইংরেজিতে মাত্র ৩৫ শব্দের শপথ বাক্যের শপথ। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তা উচ্চারণ সম্পন্ন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বললেনI do solemnly swear (or affirm) that I will faithfully execute the Office of President of the United States, and will to the best of my ability, preserve, protect and defend the Constitution of the United States.
(আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে শপথ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দফতর পরিচালনা করব এবং সাধ্যের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিপালনে সচেষ্ট থাকব।)
আর এই শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্টের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার পদে স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। ট্রাম্পই প্রথম ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওভাল অফিসে পা রাখলেন। আর এর পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
অভিষেক বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এরপর বক্তৃতা শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও সেরা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা আবার জিততে শুরু করবে। এমনভাবে জিতবে, এর আগে কখনও এভাবে জেতেনি।
২০ জানুয়ারি বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ওয়াশিংটনের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
আমরা আমেরিকার জনগণরা দেশকে পুনর্গঠনে এক মহান জাতীয় প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছি। এই প্রচেষ্টায় আমরা আমেরিকা ও বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী পথচলা নির্ধারণ করব। আমরা হয়তো বাধার সম্মুখীন হব, বন্ধুর পথে পড়তে হবে; কিন্তু আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাবই।
এ সময় শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। বলেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা দায়িত্ব হস্তান্তরে নিজেদের মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
ট্রাম্প জনগণের উদ্দেশে বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানের বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। আমরা আজ ক্ষমতা কেবল এক প্রশাসন থেকে আরেক প্রশাসনে বদল করছি না, বদল করছি না এক দল থেকে আরেক দলের হাতে। আমরা আজ ওয়াশিংটন ডিসির হাতে থাকা ক্ষমতা আপনাদের, আমেরিকার জনগণের হাতে হস্তান্তর করছি।
রাজধানীতে দায়িত্ব পেয়ে কিছু মানুষ সুবিধা আদায় করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী নিজেদের দেখেছে কেবল, জনগণকে নয়। তাদের জয় ছিল তাদের, জনগণের নয়, তোমাদের নয়। আজ এই মুহূর্ত, এই উৎসব তোমাদের। এই আমেরিকা তোমাদের এবং এই দেশও তোমাদের।
ধনকুবের থেকে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া ট্রাম্প বলেন, কোন দল সরকার পরিচালনা করছে সেটা সত্যিই বিষয় নয়; বরং এটাই বিষয় যে জনগণের হাতে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি এই কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে যে, জনগণ এই দিন থেকে আবার শাসনভার পেয়েছে। আমাদের দেশ গঠনে অবদান রাখা নর-নারীরা আর ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবেন না।
এ সময় দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকরি বাজার নিয়েও কিছু কথা বলেন ট্রাম্প। প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এসব ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনেরও।
তিনি মাদক অপরাধ ও খুন-খারাপির বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই অপরাধ এখানেই থেমে যাবে এবং এখনই থামবে। আমরা এক জাতি। তাদের (বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি) ব্যথা আমাদের ব্যথা। তাদের স্বপ্ন আমাদের স্বপ্ন। তাদের সফলতা আমাদের সফলতা। ট্রাম্প আমেরিকানদের আনুগত্যের শপথ নিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, বহু শতক ধরে আমেরিকান শিল্পের খরচে বিদেশি শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছি আমরা। আমাদের সামরিক বাহিনীর বদলে বিদেশি সামরিক বাহিনীর জন্য অর্থ জোগান দিয়েছি। নিজেদের সীমান্ত অরক্ষিত রেখে অন্য দেশের সীমান্ত রক্ষা করেছি। আমেরিকার ভেতরে অবকাঠামো ভেঙে পড়লেও আমরা বিদেশে শত কোটি ডলার খরচ করেছি। এ কারণে অন্য দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, হারিয়ে গেছে আমাদের সম্পদ, সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাস।
এ সময় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়াসহ অব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট নানা সমস্যা-জটিলতার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। এই সমস্যাকে ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেসব এখন অতীত, এখন আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি।
ট্রাম্প জনগণের উদ্দেশে বলেন, আজ থেকে আমাদের এই ভূখ- নতুন লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। এই মুহূর্ত থেকে আমেরিকা আবার প্রথম হতে শুরু করবে। বাণিজ্য, কর, অভিবাসন, বৈদেশিক সম্পর্ক সবক্ষেত্রে আমরা এখন আমেরিকার কর্মী ও আমেরিকার জনগণের লাভ হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি বলেন, অন্য দেশের অপরাধ যেন আমাদের পণ্য নষ্ট না করে দেয়, আমাদের কোম্পানিগুলোকে হাতিয়ে না নেয়, আমাদের চাকরির বাজার ধ্বংস করে না দেয়, সেজন্য সীমান্ত রক্ষা করতে হবে। নিরাপত্তাই সমৃদ্ধি ও পরাক্রমশীলতার দিকে এগিয়ে দেবে।
প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চটি দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমার শরীরের শেষ শ্বাসটা থাকা পর্যন্ত আমি তোমাদের জন্য লড়ব এবং কখনোই তোমাদের মাথা নিচু হতে দেব না। আজ থেকে আমেরিকা আবার জিততে শুরু করবে, এমনভাবে জিতবে, আগে এভাবে জেতেনি। আমরা আমাদের চাকরি ফিরিয়ে আনব, আমাদের সীমান্ত ফিরিয়ে আনব, আমাদের সম্পদ ফিরিয়ে আনব এবং আমাদের স্বপ্ন ফিরিয়ে আনব।
এ সময় অবকাঠামো উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প।  তিনি আমেরিকানদের উন্নয়নে দুই নীতিতে এগোনোর কথা বলেন, ‘আমেরিকান কেনো, আমেরিকান ভাড়া করো।’
বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্কোন্নয়নে সে দেশগুলোর স্বার্থের দিকে তাকানোর কথাও বলেন ট্রাম্প। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আমাদের জীবনযাত্রা কারও ওপর চাপিয়ে দেব না।
তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরূদ্ধে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা আমাদের পুরনো জোটকে পুনরুজ্জীবিত করব এবং নতুন আরেকটি জোট গঠন করব। গোঁড়া ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সভ্য বিশ্বকে এক করে এটাকে দুনিয়া থেকে সমূলে উৎপাটন করব।
ট্রাম্প দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমেরিকা যখন ঐক্যবদ্ধ, তখন একে আর কেউ রুখতে পারবে না। এখানে কোনো ভয় থাকবে না। আমরা সুরক্ষিত এবং আমরা সবসময়ই এমন সুরক্ষিত থাকব। আমাদের যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী আছে, তেমনি ঈশ্বরও আমাদের সুরক্ষিত রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, কাছে থাকো, দূরে থাকো, শহরে থাকো, বন্দরে থাকো, পাহাড়ে থাকো, পর্বতে থাকো, সাগরে থাকো, মহাসাগরে থাকো, তোমরা শোনো, তোমরা কখনোই অবজ্ঞার শিকার হবে না। তোমাদের স্বর, তোমাদের প্রত্যাশা, তোমাদের স্বপ্ন আমাদের আমেরিকানদের লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
বক্তৃতার শেষ অংশে দৃঢ়তার সাথে ট্রাম্প বলেন, আমরা একসাথে আমেরিকাকে আবারও পরাক্রমশালী করে গড়ে তুলব। আমরা আমেরিকাকে আবারও সম্পদশালী করে গড়ে তুলব। আমরা আমেরিকাকে আবারও গর্বিত করব, আমরা আমেরিকাকে আবারও নিরাপদ বানাব এবং অবশ্যই, আমরা আমেরিকাকে আবারও ‘সেরা’ হিসেবে গড়ে তুলব। ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করুন, ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন।
Ñসাইদ আহমেদ বাবু

Category:

দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাব

2-8-2017 3-58-31 PM

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জনসভায় শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। জনসভায় লাখো মানুষের ¯্রােত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে রীতিমতো জনসমুদ্রে রূপ দিয়েছিল। সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন-সফলতা, অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি ক্ষমতার বাকি দুই বছর মেয়াদে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জাতির সামনে তুলে ধরেন।
ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তিতে রয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ যখন শান্তিতে থাকেন, তখন খালেদা জিয়ার মনে অন্তরজ্বালা শুরু হয়। যিনি (খালেদা জিয়া) এতিমের টাকা চুরি করে খায়, শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, তার কাছ থেকে রাজনীতি শিখতে হবে, গণতন্ত্রের ভাষা শিখতে হবেÑ এটা কখনোই দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, আমরা প্রমাণ করেছি আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। দেশের জনগণের কাছে যে ওয়াদা করি, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার। আমরা জাতির পিতার সেই লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে তার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশের প্রতিটি গ্রামকে নগর হিসেবে গড়ে তুলব। সমগ্র বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায়। আজকের ঐতিহাসিক এই দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞাÑ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা বাংলাদেশকে তার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব, দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টাম-লীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন প্রমুখ। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন জনসভা পরিচালনা করেন।
২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত জোটের দেশজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও নাশকতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার আন্দোলন মানেই মানুষ হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ আর নাশকতা। নির্বাচন ঠেকানোর নামে নির্বিচারে পুড়িয়ে তিনি মানুষ খুন করিয়েছেন। হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে ২০১৫ সালে আবার শুরু করলেন তা-ব। গুলশানের বাসা ছেড়ে গুলশানের অফিসে উঠলেন এবং খালেদা জিয়া বললেন, সরকার উৎখাত না করে উনি ঘরে ফিরবেন না। এরপরই উনি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করলেন। ২৩১ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করিয়েছেন খালেদা জিয়া।
সেই ভয়াবহ তা-বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু হত্যাযজ্ঞই নয়, আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত ২৯টি রেলের বগি, ১১টি লঞ্চে অগ্নিসংযোগ করেছে, ফিশপ্লেট উপড়িয়ে নাশকতা চালিয়েছে, ২৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে পর্যন্ত তারা হত্যা করেছে। এমনকি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আগুন দিয়ে শত শত কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। এটাই ছিল খালেদা জিয়ার আন্দোলন। কিন্তু জনগণ যখন তাদের প্রতিহত করা শুরু করল, জনগণের ধাক্কায় খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয় ছেড়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। যারা এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, জঙ্গিবাদ উসকে দেয়, নাশকতা চালায় তাদের মুখে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের কথা শুনতে চায় না।
আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি বাঙালির জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশ দিতেন, বাঙালি জাতি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তিনি বলেন, ইয়াহিয়া খান ফাঁসি দিয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বিশ্বজনমতের চাপে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কাছে নয়, ছুটে গিয়েছিলেন এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, তার প্রিয় জনগণের কাছে।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তবে বাংলাদেশ ২৫-৩০ বছর আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠত। দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে যখন বঙ্গবন্ধু গড়ে তুলছিলেন তখনই তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এর পরই শুরু হয় হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়ে মুক্তি দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। প্রতিরাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালান এবং হাজার হাজার সেনা অফিসারকে হত্যা করেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা কখনও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়নি। কারণ তারা বাংলাদেশে অবস্থান করলেও মনে-প্রাণে ছিল পাকিস্তানি। পরাজিত হানাদারদের পদলেহন করেই ক্ষমতায় থেকেছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, জাতির পিতা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে রূপরেখা দিয়েছিলেন। বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে দেশকে অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আমরা বাংলাদেশকে ঠিক সেভাবেই উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। এই সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে, যেখানে স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধিসহ প্রত্যেক ছেলেমেয়ে শিক্ষিত হবে, উন্নত জীবন পাবে, সবার মুখে হাসি ফুটবে। প্রতিটি গ্রামেই একটি নগর হিসেবে গড়ে উঠবে। গ্রামের মানুষও উন্নত জীবন পাবে। সমগ্র বাংলাদেশই হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার দেশ। বঙ্গবন্ধুর কাছে আমাদের অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞাÑ আমরা এই দেশকে তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবই ইনশাল্লাহ।

Category:

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলেন সংসদ সদস্য লিটন

47উত্তরণ প্রতিবেদন: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনকে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এমপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার অনিল সাহা ও নিকট আত্মীয় (স্ত্রীর বড় ভাই) বেতার জানান, সন্ধ্যে পৌনে ৬টায় সংসদ সদস্য লিটন তার দ্বিতল বাসভবনের নিচতলার বৈঠকখানায় বসে কতিপয় দলীয় কর্মীর সাথে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় তিন যুবক হেলমেট পরা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসার সামনে আসে। তাদের একজন বাইরের আঙিনায় ‘স্টার্ট’ দেওয়া মোটরসাইকেলে বসে অবস্থান করছিল। অন্য দুজন এমপি লিটনের সাথে কথা বলার অজুহাতে ঘরের ভেতরে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে আকস্মিকভাবে গুলি ছোড়ে। এরপরই তারা দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।
মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসারের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে লিটন একটু ডানপিটে স্বভাবের ছোটবেলা থেকেই। তার পিতা মরহুম আশরাফ আলী সরকার পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। মরহুম আশরাফ আলী সরকার ১৯৫০ সালে সুন্দরগঞ্জ থানা আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। পীরগাছা কলেজে পড়াকালীন সময়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। লিটনকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য তার পরিবার তাকে এইচএসসি পাসের পরেই সুইডেনে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য পাঠান। স্বৈরাচার এরশাদ হটাও আন্দোলন, ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা মার্কা নির্বাচন প্রতিরোধ আন্দোলন সর্বোপরি সুন্দরগঞ্জে রাজাকার শিরোমণি গোলাম আজম ঠেকাও আন্দোলন ও প্রতিরোধে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তরুণ রাজনৈতিক লিটন। ২০০৪ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জঙ্গিবাদ ও জামাত-শিবিরবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তিনি একটি মহলের রোষাণলে পড়েন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন, ওই কারণে তিনি মৌলবাদী চক্রের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের খুনিদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এক শোক বিবৃতিতে লিটনের মৃত্যুকে শোক প্রকাশ করে স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত দল এই খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ খুনিদের গ্রেফতারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ের ৪০ জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। খুব শিগগিরই খুনের প্রকৃত তথ্য জানা যাবে এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এলাকায় শান্তি নিশ্চিত করেছিল বলেই
জীবন দিতে হলো : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি-জামাত জোটের ভয়াল তা-ব ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকেও তার এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি। এটাই ছিল এমপি লিটনের বড় অপরাধ। অগ্নিসন্ত্রাস রুখে দিয়ে এলাকার মানুষের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছিল বলেই হয়তো তাকে এভাবে অকালে জীবন দিতে হলো। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর অবস্থা নিয়েছি, তেমনিভাবে অবশ্যই লিটন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। খুনিরা কেউই রেহাই পাবে না।
গত ২২ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সূচনা দিনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
হত্যাকারীদের আড়াল করা যাবে না : ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, যারা বিভ্রান্তির কুয়াশা সৃষ্টি করে এমপি লিটন হত্যাকারীদের আড়াল করতে চায় তাদের এই উদ্দেশ্য সফল হবে না। হত্যাকারী যে-ই হোক যত প্রভাবশালীই হোক তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে সরকার সংকল্পবদ্ধ।
আততায়ীর গুলিতে নিহত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন স্মরণে গত ২৮ জানুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ডিডব্লিউ ডিগ্রি কলেজ মাঠে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক কমিটি আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, লিটন হত্যাকা-ের পরিকল্পনা কারা করেছে, কে হত্যা করেছে, এত কিছু বুঝি নাÑ এটা বুঝি যে, লিটনের হত্যার বিচার হতেই হবে।
নাগরিক শোকসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি, রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি প্রমুখ।

প্রতিবেদন : সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল

Category: