Blog Archives

‘দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত তরুণেরাই আগামীর নেতা’

25উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে নিজেদের উদ্যোগে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ২১ অক্টোবর ঢাকার সাভারে শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তারুণ্যনির্ভর ৩০টি সংগঠনের হাতে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়ার সময় তাদের এই অভিধা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের দেখিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কে আমাদের ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। আমি তাদেরকে আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি।’
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেন, সারাদেশের তরুণ-তরুণীরা বিভিন্নভাবে কাজ করছে। আমরা চেষ্ট করছিলাম, কীভাবে এই স্বপ্নকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এরপর আমরা ইয়াং বাংলা প্রতিষ্ঠা করি। আমরা খুঁজে বের করি সেই সব তরুণ-তরুণীদের, যারা দেশের জন্য কাজ করছে। আমরা তাদের খুঁজে পেয়েছি। তারা যেভাবে দেশের জন্য কাজ করছে, আমি সজীব ওয়াজেদ জয়, তাতে অনুপ্রাণিত। এই তরুণদের দেখে, তাদের গল্প শুনে আনন্দ ও গর্ব লাগছে। আমি তাদের থেকে অনুপ্রাণিত। এই ছেলেমেয়েরা নিজের চিন্তায় বা চেষ্টায় কাজ করছে। প্রতিবন্ধী, মাদক ও মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে তারা কাজ করছে।
লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার জন্য জাতির জনককে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধে চেতনার বিপরীত দিকে হাঁটাকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আমরা লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। চার বছরেই নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছিলাম। সেই সময়ে আসে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এরপর স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি ক্ষমতায় আসে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে জয়ের মন্তব্য। আমাদের দেশের তরুণরা এখন দেশের জন্য কাজ করতে যেভাবে এগিয়ে আসছে, আগে সেটা দেখা যেত না। দেশের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব কি না, দেশকে এগিয়ে নিতে পারব কি না, সেই বিশ্বাস আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম। কারণ স্বাধীনতার চেতনা আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সমালোচনা করে জয় বলেন, তিনি বলেছিলেন, আত্মনির্ভরশীল হলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হোক, তারা সেটা চায়নি। কারণ তারা বাংলাদেশও চায়নি। আগে আমাদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে সুশীলরা কাজ করত। তারা বিদেশে ঘুরতে যেত। এটা তাদের একটা ব্যবসা ছিল। তারা কী করেছে? তারা টাকা পাচার করেছে।
বাংলাদেশের এখনকার অবস্থা তুলে ধরে জয় বলেন, এখন আমাদের শাইনিং স্টার বলা হচ্ছে। ‘নেক্সট ইলেভেন’ অর্থনীতির দেশের একটি আমরা।
উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জয় বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধিয়ে তারা সেই দেশ থেকে উদ্বাস্তু নিতে চায় না। পাশের দেশের মানুষের সাহায্য করতে চায় না।
অন্যদিকে ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছি। কারও কাছে এ জন্য হাত পাতি নাই। ১৭ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে এদেরকেও খাওয়াতে পারব।
এ প্রসঙ্গে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ আটকানোর কথাও বলেন জয়। বিশ্বব্যাংক ভেবেছিল, তারা পদ্মাসেতুতে অর্থ বন্ধ করলে বাংলাদেশ তাদের পা ধরবে, মাফ চাইবে। আজ দেখেন, বাংলাদেশ কোথায় চলে গেছে, কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই তা সম্ভবপর হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন ইউনূস
পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করতে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন। পদ্মাসেতু নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয় এখন সেই ফাঁদেই তাদের পা আটকে গেছে। তখন বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল এখন তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। তাই ষড়যন্ত্র যতই করেন না কেন কোনো কিছুতেই পদ্মাসেতু আটকে থাকেনি। নিজেদের টাকায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।
গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘রাজনীতিতে সত্য-মিথ্যা : পদ্মাসেতুর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তাই শত শত মিলিয়ন ডলার কামিয়ে তারা (বিএনপি) ক্ষমতা কিনতে পারেনি। তারা বরাবর ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। এখনও তারা সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বারবার অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করেছে। দেশ ও দেশের জনগণকে ভালোবাসে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগছে না। আমরা দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পেরেছি। এখন আর আমাদের বিদেশিদের ওপর ভরসা করতে হবে না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এ আরাফাত।
সেমিনারে জয় বলেন, নিজের দেশকে যারা ছোট করে দেখে তারা কখনও দেশের ভালো চায় না। আমাদের দেশে সুশীল সমাজ রয়েছে, তাদের মুখে কোনোদিন শুনেছেন বাংলাদেশের প্রশংসা। শোনেন নি। কারণ তারা নিজের দেশকে নিচে নামাতে পারলেই যেন বড় হয়ে যান। সব সময় তাদের মুখে সমালোচনা শুনবেন। নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে দেশের মানুষের প্রতিও ভালোবাসা থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে যে, আমরা এখন কারও চেয়ে কম নয়। আমরা এখন আত্মনির্ভরশীল জাতি। বিদেশিদের প্রভু মানার দিন শেষ হয়ে গেছে। সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকা- ও জীবনমানের উন্নয়ন করেছে তা আমাদের বারবার বলতে হবে। তারা অপপ্রচার করে সরকারের সব অর্জন ম্লান করার যে চেষ্টা করছে তাতে আমাদের উন্নয়নের কথা বারবার বলতে হবে। এতে তাদের মিথ্যা অপপ্রচার ঢাকা পড়ে যাবে। মিথ্যার মোকাবেলা করতে হলে উন্নয়ন কর্মকা- জোরগলায় তুলে ধরতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে ভালো আর কে খারাপ। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার শুরু হলে তাদের মিথ্যা কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। পদ্মাসেতু নিয়ে ইউনূসকে দিয়ে যে ষড়যন্ত্র করানো হয় তা এখন মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের সাথে আমাকেও জড়ানো হয়েছিল। আমেরিকার অ্যাম্বাসি আমাকে দুই বার হুমকি দিয়েছে, তোমার বিরুদ্ধে আমরা অডিট করব। আমি তখন জোরগলায় বলেছি, করো। তবে কিছু পাবে না। সৎ থাকলে জোরগলায় বলা যায় আর অসৎ হলে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। পার্থক্যটা এখানেই। এখন সেই আমেরিকা প্রমাণ পেয়েছে পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল সেই কর্মকর্তাই এখন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। তিনি দুদকের চেয়ারম্যানকে হুকুম দিয়েছিলেন, তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করার। দুদুকের চেয়ারম্যান যেন তার গোলাম। সেই সময় দুদকের চেয়ারম্যান তাকে বলে দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতএব তাদের গ্রেফতার করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, আমরা বিদেশিদের ওপর কখন থেকে নির্ভরশীল হলাম। যখন ’৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তখন থেকে আমরা বিদেশিদের গোলাম হয়ে যাই। তারা যা বলে তাই করি। কিন্তু এখন দিন বদল হয়েছে, এখন কিছু বলার আগে সাতবার চিন্তা করতে হয়। আমরা অঙ্ক করে দেখিয়ে দিয়েছি নিজেদের টাকায় কী করে পদ্মাসেতু করতে হয়। তারা নিজেরাই এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানে। ভালোবাসা দিয়ে আমরা মানুষের মন জয় করতে পেরেছি। কোনো ষড়যন্ত্র করে নয়। তারা (বিএনপি) যখনই কোনো অস্বাভাবিক সরকার আসত তাদের সঙ্গেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এখনও দেশে-বিদেশে তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। ১/১১-র সময়ও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রে তারা কিছু করতে পারেনি। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। তথাকথিত সুশীল সমাজের মতো ভালোবাসা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার চলে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছেÑ ভবিষ্যতে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আজ যারা উন্নত দেশ একদিন বিশ্ববাসী আমাদেরও সেই সব দেশের সঙ্গে নাম বলবে। দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বছরের বাজেট দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিবছর বাজেটের আকার বেড়েই যাচ্ছে। এই বাজেট জনগণের কল্যাণে দেশের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।

বাংলাদেশে চালু হলো পেপ্যালের কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেপ্যাল বাংলাদেশে চালু হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ফ্রিল্যান্স রেমিট্যান্স উপার্জনকারীরা বিদেশ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে তাদের পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এই সেবার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে জয় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি গত বছরে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এখন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জয় জুম সার্ভিসের প্রশংসা করেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যেকেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম হবে।
জুম কর্মকর্তারা বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি হলে ফ্রিল্যান্সাররা বিনা মূল্যে এই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে ১ হাজার মার্কিন ডলারের কম হলে সার্ভিস চার্জ হিসাবে ৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
জুম সার্ভিসের আওতায় যে কেউ এক সময়ে ১০ হাজার ডলার পাঠাতে পারবেন এবং গ্রাহকরা সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই সেবা নিতে পারবেন।
জয় বলেন, আইসিটি ডিভিশন বিদেশের আউট সোর্সিং সুবিধা লুফে নিতে ১৩ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন উপার্জন করছে। তিনি বলেন, সরকার দু-এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেট খরচ কমিয়ে দেওয়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের দাবি অনুযায়ী উচ্চ গতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।
জয় বলেন, ২০০৮ সালে ১ এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ছিল ৮০ হাজার টাকা। আমি বলেছিলাম এটি কমিয়ে ৮০০ টাকা করা হবে এবং আমি সেটি করেছি। বর্তমানে এর রেট হচ্ছে ৬০০ টাকা। তিনি বলেন, সরকার ইন্টারনেট ও সেল ফোন অপারেটরদের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। এ বছরের মধ্যে ফোরজি সার্ভিস চালু করা হবে। এক বছরের মধ্যে অন্তত নগর এলাকায় ফোরজি সার্ভিস চালু করার দাবি ছিল মোবাইল অপারেটরদের। তাদের সমস্যা ছিল ২৪টি। আমি ইতোমধ্যেই ২২টির সমাধান করে দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির এবং আইসিটি ডিভিশনের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তন্ময় আহমেদ

Category:

‘উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন’

৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা, বাংলামটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌচাক, রাজারবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ অংশের বাকি সব পথও খুলে দেওয়া হয়।

28উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলমান অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। ২০০৮ সালের পর ২০১৪ সালে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানোর কারণেই উন্নয়নের কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
গত ২৬ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থেকে লুটপাট আর দুর্নীতি করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই তাদের সৃষ্টি আর ক্ষমতার বাইরে থেকেও জ্বালাও-পোড়াও করে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষে বহুল প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য উš§ুক্ত হয়েছে। ৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা, বাংলামটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌচাক, রাজারবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ অংশের বাকি সব পথও খুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সকলের প্রতি অনুরোধ, ফ্লাইওভার ব্যবহারে যতœবান হবেন। ট্রাফিক রুল মেনে চলবেন। জাতীয় সম্পদ মনে রেখে সেটা ব্যবহার করবেন। ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে, কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। তার সরকার ইতোমধ্যেই রাজধানীতে ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে, যেগুলো ব্যবহারে মানুষের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আসার পাশাপাশি কর্মঘণ্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে পুরনো উন্নয়ন কর্মকা-গুলো পুনরায় চালুর সাথে সাথে অনেক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করে। তার সরকারের আমলেই দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার সাথে সাথে আমরা দেখছি, যারা আগে একটা গাড়ি ব্যবহার করত তারাই এখন একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছে। এর ফলে কিছুটা যানজট বৃদ্ধি পেলেও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি মানুষের সেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সূচক বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। যত উন্নয়ন হবে ততই মানুষের সবকিছু ব্যবহারের সক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
ঢাকা শহরের যানজট প্রশমনে তার সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিজয় সরণি ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি। হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণের কাজও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি একটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার। আমি মনে করি, এটি রাজধানীর যানজট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং মানুষের সময় বেঁচে গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ এতে ৩টি লেভেল ক্রসিং পার করা হয়েছে, তাই গাড়িগুলো খুব দ্রুত চলতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভার নির্মাণে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন সময় ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী এর নকশাতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সম্মানজনক অবস্থায় আছে। গোটা বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল।
ফ্লাইওভার উদ্বোধনকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং সৌদি আরব দূতাবাসের ইসলামি বিভাগের প্রধান সাদ আল খাতানি আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন মৌচাক এলাকায় বানানো অনুষ্ঠান মঞ্চে। মৌচাকে উপস্থিত সবাই ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় করেন।

‘দেশে কেউ আবাসনহীন থাকবে না’
একইদিন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কেউ আবাসনহীন থাকবে না। আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, প্রত্যেক মানুষের জন্য আমরা আবাসন ব্যবস্থা। আর এটা জাতির পিতার নির্দেশ। সরকার জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল দীর্ঘ ৯ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি। উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জরুরি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে প্রথমবারের মতো আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই না বস্তি থাকুক। এটা কোনো দেশের জন্য সম্মানজনক ব্যাপার নয়। তাছাড়া বস্তিতে যারা থাকে তারাও তো মানুষ। তাদেরও ভালোভাবে বাঁচার অধিকার আছে। তারা কেন মানবেতর জীবনযাপন করবে? এজন্যই আমরা বস্তিবাসীর জন্য ফ্লাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।
সবার জন্য পরিকল্পিত বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্লাট নির্মাণের পাশাপাশি ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে সরকারী কর্মচারী এবং সাধারণ লোকদের জন্য ২০২টি আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতীয় গৃহনির্মাণ কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) নিজস্ব অর্থায়নে মিরপুর-১১ তে ১০ একর জমির ওপর ­বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্লাট নির্মাণ করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহীত পদক্ষেপের ধারণা এবং জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২ একর জমির ওপর ৫টি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করে ৫৩৩ ফ্ল্যাট করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ একর জমির ওপর ৮০টি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করে ৯ হাজার ৪৬৭টি ফ্লাট তৈরি করা হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে এনএইচএ ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক শূন্য ৭ একর জমিতে ২৫৩টি ফ্লাট নির্মাণ করবে। এর মধ্যে ২০২ ফ্ল্যাট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ লোকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বাকি ৫১টি ফ্ল্যাট এনএইচএ’র কাছে থাকবে।

Category:

নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব

19

‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গণতন্ত্র ও নির্বাচন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃজন করতে শুরু করেন। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ প্রণয়ন করে দেশ পরিচালনা ও মানুষের অধিকার সংরক্ষণের সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বিধান নিশ্চিত করেন। এই সংবিধানে Executive, Legislative I Judiciary এমন কী বর্তমান সময়ের Media I Civil Society–সহ প্রতিটি বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা সন্নিবেশিত হয়, যার আলোকে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সকল সংস্থা গঠিত ও পরিচালিত হতে থাকে।
ক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ই ১৯৭২ সালে প্রণীত The Representation of the People Order-সহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যার অধীনে ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান সুসংগঠিত হয়ে উঠতে শুরু করে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তি ও তাদের এ দেশীয় দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। খুনিচক্রের এই ভয়াবহতম নৃশংসতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সকল মানুষ বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ক্স এই হত্যাকা-ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই, হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন। শুরু হয় স্বৈরশাসনের।
এই স্বৈরশাসক তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করেন এবং তার পক্ষে হ্যাঁ ভোট প্রদানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে তার নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বিচারে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে তোলে। প্রহসনের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলেন অপরদিকে সকল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যখন জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা দখলকারী অপর স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনকালের অবসান ঘটে।
১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম করে আসছিলেন স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটে। ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর কার্যকর প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হতে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের পর সাবেক স্বৈরাচারের রাজনৈতিক দল বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সক্ষম হয়। জনমানুষের নির্বিঘœ ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আবারও কলুষিত করে তোলেন। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়।
ক্স ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ঢাকা (মিরপুর ও তেজগাঁও) ও মাগুরার উপনির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নজিরবিহীন কারচুপি ও অন্যায় সংঘটিত হয় তা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা করে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন এই অবৈধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাজনৈতিক দল (যা বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত) ‘ফ্রিডম পার্টি’কে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে বিএনপি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সকল কিছুই ধ্বংস করে দেয়। ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে বেগম খালেদা জিয়া ৩০ মার্চ ১৯৯৬ ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই প্রথম দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরের কার্যকর পুনর্গঠন শুরু হয়।
একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার গুণগত পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে সম্মুখ পথে অগ্রসর হওয়া ছিল খুবই কষ্টকর। স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তির যড়যন্ত্রের ফলে ২০০১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক গৃহীত সকল উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়ে দেশকে আবারও পিছন দিকে ঠেলে দেয়।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় নির্বিচারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন সকল ভোটার বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এক নারকীয় তা-ব চালানো হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। অনেক নেতাকর্মীকে পঙ্গু এবং মারাত্মকভাবে জখম ও হত্যা করা হয়। অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন জনমনে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করা হয়, অপরদিকে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কেবলমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দেয়ার অপরাধে, ক্ষেত্রবিশেষে শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, খুলনাসহ দেশের প্রায় সকল জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ আওয়ামী নেতা-কর্মীদের ওপর এক বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করে।
ক্স  এ সময় শিশু পূর্ণিমা, রাজুফা, ফাতেমা, মাহিমাসহ অগণিত নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর নামে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন জনমানুষের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার ও অনেককে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়।
২০১০ সালে মহামান্য আদালতের নির্দেশনায় বিএনপি-জামাত কর্তৃক পরিচালিত নারকীয় তা-বের বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য একটি বিশেষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়Ñ
ক্স ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামাতের চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসী দ্বারা ৪৩ জেলায় ৬২টি স্থানে ৩৪২ জন শিশুকে ধর্ষণ, নির্বিচারে গণধর্ষণ, লুণ্ঠন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ জায়গায় নারী ও শিশু কন্যাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয় এবং জমি, বসতবাড়ি ও দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়া হয়।
ক্স বাগেরহাটের ফকিরহাটে বাবা-মা’র সামনে ১৩ বছরের একটি মেয়েকে ২২ জন ধর্ষণ করে হত্যা করে। কত বীভৎস ও পাশবিক হতে পারে তাদের নির্মমতা, তা এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে।
তদন্ত কমিশন অনুসন্ধানকালে ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনার সত্যতা পায়, যার মধ্যে ৩৫৫টি খুন এবং ৩ হাজারের ওপর ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা রয়েছে। বিএনপি-জামাতের এই বর্বরতা তাদের অবশিষ্ট শাসনকালেও অব্যাহত থাকে। ২০০৩-০৬ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি ও নির্বাচন-পরবর্তী পৈশাচিকতার বিষয়ে “A Rigged Election and an Illegitimate Government (Bangladesh Election 2001)Ó Ges ” এবং “Valley of Death”-সহ অনেক গ্রন্থে এর মর্মস্পর্শী বিবরণ রয়েছে, যা ঐ সময়কার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।
ক্স কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকায় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে জনমানুষকে এই নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
ক্স ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে একদিকে যেমন সারাদেশে ‘বাংলাভাই’-এর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা তার স্বরূপে আবির্ভূত হয়, অপরদিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো ছায়ায় বাংলাদেশ প্রায় একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০০১ সালের ন্যায় কারচুপির মাধ্যমে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে বিএনপি-জামাত জোট যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নিকৃষ্ট প্রহসন।
ক্স এমনকি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিশেষ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদানসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম অপব্যবহার করে বাংলাদেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়।
কিন্তু, আবারও ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোটের পতন ঘটে এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে (২০০১-০৬) নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং মহাজোটের অন্যান্য শরিক দল নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা করেন। এই রূপরেখায় নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনী আইন ও বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে মোট ৩০ দফা সুপারিশ করা হয়।
এই সব প্রস্তাব সকল প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়। প্রস্তাবসমূহের প্রতি দেশপ্রেমিক সকল নাগরিক ও সুশীল সমাজ অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। জনগণের দাবির মুখে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পেশ করতে আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করেন। তারপর সুদীর্ঘ সময় সরকার নানা কূটকৌশলের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির মহাসচিব এবং তাদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার সব রকম প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু দেশি-বিদেশি সকল চাপ উপেক্ষা করতে না পেরে একপর্যায়ে তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি কোনোরূপ ভ্রুক্ষেপই করেন নি। কারণ তারা জানতেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
ক্স ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত, যাকে প্রধান ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়Ñ
(১) নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামোগত বিষয়
(২) নির্বাচনের পদ্ধতিগত ও বিধিবিধানের বিষয় এবং
(৩) নির্বাচনকালীন অন্যান্য বিষয়াবলী। কিন্তু, জনরোষের মুখে ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে বিএনপি-জামাত জোটের এই অনীহা অব্যাহত থাকে।
অবশেষে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রবল জনমতের চাপে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৪ দল উপস্থাপিত দাবিসমূহকে সক্রিয় বিবেচনায় নেয়া হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত ৩০ দফাকে আরও পরিশীলিত করে সর্বমোট ২৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৩ দফার ওপর ভিত্তি করেই ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের প্রচলন নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের ব্যবহার বন্ধ; নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক প্রার্থীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরপরই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করা, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির তালিকা প্রণয়ন এবং সেখান থেকে মনোনয়ন প্রদান, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগসহ যে যে প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন কলুষিত হতে পারে তার বিভিন্ন সংস্কার সাধন করা হয়। বিএনপি-জামাত জোটের নির্দেশনায় প্রণীত ভৌতিক ভোটার তালিকা হতে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া হয়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়যুক্ত হয়ে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। শুরু হয় নতুন দিনের পথ চলা। ১৯৭১-৭৫ এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যে সকল জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল তা পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকে’ স্বরূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগসহ সকল স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি সাধনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে শুরু করে।
ক্স ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশনের জন্য স্থায়ী সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনমতো সকল ধরনের সংস্কার সাধন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক কথায় একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার তার প্রায় সকল কিছুই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমন কী সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বজন গ্রাহ্য ব্যক্তিদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের প্রক্রিয়া গৃহীত হয়েছে। একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে যে সকল গুণগত পরিবর্তন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেশ পরিচালনার সময়ে।
১৯৭২ সালের ঞযব জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ ড়ভ ঃযব চবড়ঢ়ষব ঙৎফবৎ (নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত) প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত ২-৩টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় সকল আইন বা অধ্যাদেশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯-১৬ এই সময়ের মাঝে সম্পাদিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রায় ৩২টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এ সকল কিছুরই একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা; অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনে আগ্রহী বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে একদিকে যেমন পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয় অপরদিকে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য (তফসিল ঘোষণার সময় হতে) ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের অংশগ্রহণে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি-জামাত জোট উক্ত সরকারে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ক্স নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং ঐ সময়ের বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, এমনকি তাদের পছন্দনীয় নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণেরও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের বিরাজমান সকল আইন-কানুনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিএনপি-জামাতের এই অশুভ জোট নির্বাচন বা নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণের পরিবর্তে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে সারাদেশে এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মেতে ওঠে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ভূলুণ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে তারা একদিকে যেমন নির্বাচনী কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করে অপরদিকে গণপরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের যানবাহন ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সারাদেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি সরাসরি গণমানুষকে লক্ষ করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে বহু মানুষ নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে ও অসংখ্য মানুষ মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।
বিএনপি-জামাত জোট এবং তাদের পূর্বসূরি স্বৈরশাসকদের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় সহজেই পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, এই অপশক্তি কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়।
ক্স বিএনপি ও জামাতের সমর্থন ও প্ররোচনায় ২০১৩ সালে হেফাজতিদের তা-ব, নির্বাচিত সরকার পতনের নীল নকশা; ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভ-ুল করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করার অপচেষ্টা এবং ২০১৫ সালের পেট্রল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে ও অর্থ-সম্পদ ধ্বংস করে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়া, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজকে ভ-ুল করা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং জনগণের ম্যান্ডেটের পরিবর্তে অন্য কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে জনগণের সহায় সম্পদ লুণ্ঠন করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও আইনের মাধ্যমে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশনে পরিণত করা হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান করা হয়েছে। এতদ্সত্ত্বেও যদি কোনো গোষ্ঠী বা সংস্থা দেশের সংবিধান বা বিরাজমান আইন-কানুনের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তা দেশের শান্তিকামী জনগণ কখনই মেনে নিবে না।

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর হতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ও তার পূর্বসূরি স্বৈরশাসক এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের শাসনকালে নানাভাবে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বারবার কলুষিত করা হয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করে সেই রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে তাকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াত-ই-ইসলামী এবং বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনিদের রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে, শুধু যে নির্বাচন ব্যবস্থারই ধ্বংস সাধন করা হয়েছিল তাই নয়, এই অপশক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেই নস্যাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে সকল বিষয়গুলি অতীব গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ
১. একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন।
২. নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা।
৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ।
৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা।
৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার/পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা।
৬. আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ।
৭. দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা।
৮. নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৯. নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১০. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। এবং
১১. নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
ওপরে বর্ণিত বিষয়সমূহ তখনই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদিত হতে পারে যখন প্রতিটি সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নির্বাচন প্রত্যাশী সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন (ঝবষবপঃরড়হ) করার ক্ষেত্রেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল আচরণও খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত অনুসরণযোগ্য।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম ২০০৮-এর নির্বাচনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে পরবর্তীতে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নির্বাচনী বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করে। প্রায় ১০ (দশ) লক্ষ নেতাকর্মী এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বদ্ধ পরিকর।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে পোলিং এজেন্টদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্য থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হলে নির্বাচনে জাল ভোট প্রয়োগের প্রবণতা প্রায় বন্ধ করা সম্ভব। বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা গেছে প্রধান দুই/একটি রাজনৈতিক দল ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টগণ হয় নির্বাচন কেন্দ্রে যান না অথবা নির্বাচন শুরু হওয়ার ২/১ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে এসে মনগড়া বিভিন্ন গুজব ছড়াতে থাকে। এ লক্ষ্যে যদিও নির্বাচন আচরণ বিধিমালা প্রণীত হয়েছে, তথাপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সর্তক হওয়া আবশ্যক।
সুষ্ঠু, অবাধ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা। এই দুটি বিষয়কে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন, যার সুফল আজকের নির্বাচন কমিশন।
ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ই-ভোটিং এর প্রবর্তন, নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে নানাবিধ আইন ও বিধি প্রণয়ন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা তৈরি, তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই, দেয়াল লিখন ও রঙিন পোস্টারের পরিবর্তে সাদা-কালো পোস্টারের প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় স্থাপন এবং নির্বাচন কমিশনকেই তাদের নিজস্ব জনবল নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ, প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল প্রদান, সাধারণ প্রশাসনের ওপর নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে তার সকল কিছুর মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগ কর্তৃক উপস্থাপিত ২৩ দফা। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইলেকশন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১টা

Category:

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় ফ্রিডম পার্টির ১১ জনের ২০ বছর কারাদণ্ড

30উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ২৯ অক্টোবর প্রায় তিন দশক আগে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা দুটি মামলায় বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার আবদুর রশীদসহ ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীর প্রত্যেককে ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলা দুটির এ রায় দেন।
১৯৮৯ সালে হত্যাচেষ্টার এ ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তখন গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। মামলা তদন্ত করে পুলিশ হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের দুই ধারায় অভিযোগপত্র দেয়।
রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের পর ১১ আসামির মধ্যে আটজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আসামিপক্ষ আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা আর তার কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ‘বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়’। একই আসামি ও ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
রায়ে আরও বলা হয়, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ফ্রিডম পার্টির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে। ফ্রিডম পার্টি গঠনের পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল রশীদ, ফারুকসহ অন্যরা শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আসামিরা সশস্ত্র অবস্থায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে হামলা চালায়। কিন্তু ভাগ্যের জোরে তিনি বেঁচে যান। আসামিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করতে ব্যর্থ হয়।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হামলার ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়রি করা হলেও পরে তা মামলায় রূপান্তর করা হয়। ওই এজাহার ছিল দুর্বল। কিন্তু মামলার তিন আসামি পরে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এসেছে যে, তারা বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে এবং সে অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
২৮ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্টের ওই ঘটনায় ২৯ অক্টোবর দুপুর ১২টায় ঢাকার আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলার এবং বিকেল ৩টায় নাজিমুদ্দিন রোডে স্থাপিত আদালতে বিস্ফোরক মামলার রায় ঘোষণা করেন একই বিচারক।
হত্যাচেষ্টা মামলার ১২ আসামির মধ্যে ১১ জনকে দুটি ধারায় ১০ বছর করে কারাদ- দেন বিচারক। দুটি সাজা পর্যায়ক্রমে চলবে। একই সাথে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। বিস্ফোরক মামলায় একই রায় ঘোষণা করেন বিচারক। দুই মামলায় সাজার মেয়াদ থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে। এ ছাড়া পলাতক তিন আসামির ব্যাপারে বলা হয়, তারা যেদিন আত্মসমর্পণ করবে অথবা গ্রেফতার হবে, সেদিন থেকে তাদের সাজার মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
রায়ে দ-প্রাপ্তরা : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ (পলাতক), জাফর আহমেদ মানিক (পলাতক), হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন (পলাতক), মিজানুর রহমান, শাহজাহান বালু, গাজী ইমাম হোসেন, খন্দকার আমিরুল ইসলাম কাজল, গোলাম সারোয়ার ওরফে মামুন, মো. সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল, সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ মুরাদ ও জর্জ মিয়া। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অন্য আসামি হুমায়ুন কবিরকে খালাস দেন আদালত। জামিনে থাকা মিজান, ইমাম হোসেন, কাজল রায়ের জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা একজন আসামি শাহজাহান বালু রায়ের সময় অনুপস্থিত ছিল। কারাগারে থাকা মামুন, সোহেল, মুরাদ এবং জর্জ মিয়াকেও হাজির করা হয়। রায়ের পর তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া : রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফ্রিডম পার্টির ১১ সদস্যকে দ- বিধি ১২০(খ) এবং ৩০৭ ধারায় ১০ বছর করে দুই ধারায় মোট ২০ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা অন্য মামলায় ১১ আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- দেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এই দুই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। খালাস পাওয়া হুমায়ুন কবির ওরফে কবিরের আইনজীবী এএসএম গোলাম ফাত্তাহ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রেক্ষাপট : এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। এ ঘটনায় বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম মামলা করেন, পরে তা মামলায় রূপান্তর হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফ্রিডম পার্টির সদস্য কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা করে এবং হামলাকারীরা সে সময় ‘কর্নেল ফারুক-রশীদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যায়। ওই মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেকউজ্জামান আদালতে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গঠিত দল ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলা চালিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
২০০৯ সালের ৫ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ফের বিচার কাজ শুরু হয়। ২৭ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার পর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলেও সাক্ষীরা হাজিরে বিলম্ব করায় বিচার কাজ ঝুলে যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান ও মেজর বজলুল হুদার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ দুই মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি রেজাউল ইসলাম খান ফারুক ও লিয়াকত হোসেন কালার মৃত্যু হলে তাদের নামও বাদ দেওয়া হয়।
এরপর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মামলার নথি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। তিনজন বিচারকের হাত ঘুরে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জাহিদুল কবির গত ১৬ অক্টোবর দুই মামলার যুক্তিতর্ক শুনে রায়ের জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। মামলাটি ৬৬ কার্যদিবস বিচার কাজ চলে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় মোট ১৯ বার চেষ্টা চালানো হয়। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে হামলার মামলাটিতে চলতি বছর ২০ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন আদালত।

Category:

নাটক জমাতে খালেদা জিয়া এখন অতি তৎপর

33রাজনৈতিক ভাষ্যকার: লন্ডনে পর্ব : নীরব কেন?
বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী খালেদা জিয়া দেশে এসে ব্যাপক রাজনৈতিক- সাংগঠনিক কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন। ১৫ জুলাই লন্ডন গিয়ে দেশে ফেরেন ১৮ অক্টোবর। বিদেশে তিনি নীরব ও নিশ্চুপ ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত না করে দল ও জোটকে কার্যত এতিম করে বিদেশ গিয়ে এতদিন নীরব ও নিশ্চুপ থেকে তিনি আসলেই রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। যদি ধরে নেওয়া যায় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তবে প্রশ্ন জাগবে দল-জোটের দুই নম্বর নেতা ও পুত্র তারেক রহমান মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে নেতা-কর্মীদেরও কিছু জানালেন না কেন? হেলথ বুলেটিন প্রকাশ করার ব্যবস্থা করলেন না কেন? দেশের মধ্যে মসজিদে দোয়া-দরুদ পড়ার আহ্বান জানালেন না কেন? এই কেন উত্তর পাওয়া যাবে লন্ডনে তার কাজের রেকর্ড, যা পত্রিকায় উঠেছে তা বিবেচনায় নিলে।
একটু খেয়াল করলেই স্মরণে আসবে যে, লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে খালেদা জিয়ার তৎপরতা সম্পর্কে মূলত দুটো খবর দেশবাসী সংবাদপত্রে পাঠ করেছে। একটি হচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসের সাথে সাক্ষাৎ এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ। এই সাক্ষাৎগুলো ছিল গোপনে। এত গোপনীয়তা সত্ত্বেও কীভাবে ঢাকার কাগজে প্রকাশ পেল কে জানে? এটা হতে পারে সাংবাদিকদের দক্ষতা। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন প্রচার আছে যে, বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকেই এই নিউজ দুটো সুকৌশলে সাংবাদিকদের দেওয়া হয়েছে। যাতে দল ও জোটের নেতাদের এমন মেসেজ দেওয়া যায় যে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সব দিক ম্যানেজ করতেই তিনি অসুস্থতার অজুহাতে লন্ডনে নীরবে-নিভৃতে অবস্থান করছেন।
তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের রাজনীতির সাথে সাংগঠনিক একটা বিবেচনাবোধও ছিল। এটা সকলেরই জানার মধ্যে ছিল যে, মা ও ছেলে কিংবা দলের এক ও দুই নম্বর নেতার মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক এবং এমনকি পারিবারিক বিষয়েও তীব্র মতভেদ রয়েছে। যা দলে নবীন ও প্রবীণের প্রতিনিয়ত বিরোধের ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এবারে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির কর্মতৎপরতা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, কর্মকা- পরিচালনা না করার জন্য দলটি যতই সরকারের ওপর দোষ চাপাক না কেন, গোড়ায় প্রবীণ-নবীন গ-গোল থাকার জন্যই দলটি এখন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে স্থবির ও ছত্রখান হয়ে আছে। দেশবাসী জানে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন বয়কট, নির্বাচন বয়কট, দুবার গৃহযুদ্ধ বাধানোর লক্ষে আগুন সন্ত্রাস সবই ‘ভাইয়া’-এর নীলনকশা প্রসূত কাজ। যার সবটা প্রবীণ নেতারা বাধ্য হয়ে মুখ বুজে মেনে নিয়েছিলেন। এই বিরোধ মীমাংসার জন্যই যে খালেদা জিয়া নিভৃতে-নীরবে লন্ডনে ছেলের কাছে আছেন, তা নেতা-কর্মীদের বিবেচনার মধ্যেই ছিল।
সর্বোপরি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা কথা বহুল প্রচারিত যে, বিএনপি হাইকমান্ড যখন নীরব থাকে, তখনই বুঝতে হবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের জাল বুনছে ওই দল। খালেদা জিয়া নীরবে তিন মাস থাকার সময় দেশে বড় যে কয়টি ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলোর মধ্যে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের আঁচড় খুঁজে পাওয়া যাবে। বিচার বিভাগ ক্যু, চালের মূল্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ ও শেখ হাসিনা হত্যা প্রচেষ্টার গুজব প্রকাশ সবই ছিল ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীলনকশা বিশেষ। এতসব ঘটনা যখন ঘটছিল, তখন বড় কোনো দলের নেতা কি চুপ থাকতে পারেন? কিন্তু নীরবে ছিলেন খালেদা জিয়া। মৌনতা ছিল দেশে কিছু একটা হচ্ছে এমনটা মা ও ছেলের মনে করার সিগন্যাল। যখন কিছুই হলো না, তখন দেশে ফিরে আসতেই হলো।

লন্ডন এয়ারপোর্ট পর্ব : তারেককে সামলানোর গল্প
যথারীতি তারেক রহমান তার পূর্ব লন্ডনের বাসা থেকে নিজেই ড্রাইভ করে মাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেন। এয়ারপোর্টে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে বাইরে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের তিনি কৈফিয়ত দেন এই বলে যে, ‘আমি আপনাদের সাথে মিটিং করতে পারিনি। আপ্যায়ন করতে চেয়েছেন, আমি অংশ নিতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলের ঐক্য বড় বিষয়। দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। মুরব্বিদের সম্মান দিতে হবে। তবে তরুণদের প্রাধান্য দিতে হবে। দলে অবশ্যই সিনিয়রদের প্রয়োজন আছে।’ তিনি পুত্র ও দলের দুই নম্বর নেতা তারেক রহমানের ‘খোঁজখবর রাখতে’ এবং ‘পাশে থাকতে’ লন্ডনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন তিনি ওই ধরনের কৈফিয়ত দিলেন? কেন জানালেন ঐক্যের আহ্বান? কেন লন্ডনের নেতা-কর্মীদের দলের উত্তরসূরিকে সামাল দিয়ে রাখতে বললেন? এ প্রশ্নগুলো পাশাপাশি রেখে উত্তর খুঁজলে বিএনপির অন্দরমহলের সব গল্প অনুধাবন করা যাবে। এটা তো ঠিক যে, তারেক রহমান দলের নেতা। ‘শিক্ষকও’ বটে! কেননা কিছুদিন আগ পর্যন্ত লন্ডনে ঘন ঘন মিটিং করে তিনি দেশের জন্ম ইতিহাস সম্পর্কে ছবক দিয়ে যাচ্ছিলেন। বিগত সময়ে গোপন স্থানে সালাহউদ্দিনকে বসিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণ নেতাদের উসকানি দিচ্ছিলেন। মাকে রাগিয়ে দিয়ে মুখ থেকে বের করেছিলেন, প্রবীণদের উদ্দেশ্যে ‘আঙ্গুল চোষা’ কথাটা। কিন্তু এমন একজন ‘ইতিহাসবিদ’ ও দল পরিচালক মায়ের যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এমন নীরব হয়ে গেলেন কেন? কেন এয়ারপোর্টে ভিডিও কনফারেন্সে মুখ খুললেন না? মাও ছেলেকে ফোকাস করার জন্য বলার চান্স দিলেন না কেন? মায়ের নির্দেশে কি তারেক চুপ ছিল? যে মাকে পরিচালনা করত রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেওয়ার পর থেকে তারেক, এখন পরিণত তারেককে কিছু বলতে দিলেন না কেন খালেদা জিয়া?
এসব কেন এর মধ্যেই আছে ঐক্য সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া এবং তারেককে দেখে রাখার কথাগুলো বলার গূঢ় রহস্য। সহজেই বুঝা যায় তারেক যাতে পূর্বের মতো দলের জন্য ক্ষতিকর কিছু না বলে এবং না করে সেই জন্যই লন্ডনের নেতা-কর্মীদের খালেদা জিয়া পাহারায় বসিয়ে রেখে এসেছেন। প্রবীণরাও যে এখন দলে প্রধান ভূমিকা রাখবেন, তাও বলে দিয়েছেন। এদিক পর্যালোচনায় নিয়ে বলা যায়, ক্যু-জাত দল বিএনপির ভেতরে এখন হয়েছে ক্যু। লন্ডনে নীরবে থেকে খালেদা জিয়া কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রচনা করতে বিদেশিদের ম্যানেজই করতে প্রয়াসী হন নাই, দলের ভেতরে তারেক জিয়ার ক্ষমতাকেও নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন গুজব এখন আছে যে, তারেকের মুখ ও পা (অর্থাৎ কিছু বলা ও কোথাও যাওয়া) তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন বিদেশিদের কথায়, যারা তারেককে একেবারেই পছন্দ করছে না। বালাই বাহুল্য এই গল্পের ফলাফল হচ্ছে, দলে খালেদা জিয়ার শক্ত অবস্থান আর তাতেই খালেদা জিয়া দেশে এসে এমনভাবে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই ক্যু টিকবে কতদিন! তারেক জিয়া কি সোজা পাত্র! প্রসঙ্গত মা হিসেবে খালেদা জিয়া নিশ্চয়ই ছোটবেলায় তারেককে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলেছেন। পরে ছোট ভাই কোকোর সাথে মনোমালিন্য যাতে দূর হয় সেই চেষ্টা করেছেন। প্রয়াত সাইফুর রহমানসহ অনেক প্রবীণ নেতাদের অপমানিত না করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। তখনই তারেক শোনেনি মায়ের কথা। আর এখন এতকাল পর তারেকের বয়স যখন মধ্য গগণে তখন কি শুনবে? কে জানে! কয়লা ধুলে তো কখনও ময়লা যায় না।

ঢাকা এয়ারপোর্ট পর্ব : ‘ফাইটার ফর ডেমোক্র্যাসি’
এয়ারপোর্ট থেকে খালেদা জিয়া নীরবেই বাসায় ফেরেন। এতদিন পর ফিরছেন, রাস্তায় নেতাকর্মীর জমায়েত তো হবেই। তাছাড়া যে ছিল রসদ। সংবাদ মাধ্যমে বেগম জিয়ার সম্বর্ধনায় ভাড়াটে লোক আনার অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়েছে। উক্তিটি এ রকম : ‘আমি দেড়শ লোকেরে দেড় লাখ টাকা দিছি।’ রসদ দিলে লোক জমায়েত কঠিন না। এই জমায়েতের ভেতর দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে, শান্তিপূর্ণ জমায়েত করলে সরকার কখনও বিএনপিকে বাধা দেবে না। কিন্তু জমায়েতিদের উদ্দেশ্যে কিছু না বলে খালেদা জিয়া সোজা গুলশানের বাসায় ‘ফিরোজা’য় চলে যান। লন্ডনে মুখ খুললেন অথচ ঢাকায় থাকলেন নীরব। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় থাকায় বলেই মনে হয়। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, যে দলের জন্ম ক্যু ও সামরিক শাসনের মধ্যে ডা-া প্রয়োগ করে, সেই দলের নেত্রী এখন ভয় পায় নিছক গ্রেফতারি পরোয়ানার।
সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, বিমানবন্দরে নেত্রীকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্র্যাসি’ বা ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করার পরিকল্পনা ছিল। বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুজ্জামান দুদু গদগদ হয়ে বলেছিলেন, ‘তিনি তো সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তাই এই উপাধি নেত্রীর প্রাপ্য।’ দেশবাসী জানে না, তিনি বা তার দল কবে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় এবং ওই ভোট যাতে ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠিত দল সেনাশাসক এরশাদের পক্ষে পড়ে, সেজন্য তিনি ১৯৮৬ সালে ভোট বয়কট করেছিলেন। তখন উপাধি বেছে নেওয়া হয়েছিল ‘আপসহীন নেত্রী’। আসলে তিনি এতটাই আপসহীন যে ১/১১-এর আর্মি ও নিরপেক্ষ সুশীল ব্যাকড তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দাসখত লিখে দুই ছেলেকে বাঁচাতে পাঠিয়েছিলেন বিদেশে। আর তখন গৃহবন্দি হয়ে ভয়ে পুরো দলকে করে রেখেছিলেন ফ্রিজবন্দি। গণতন্ত্রের জন্য তিনি সংগ্রাম করলেন কখন? জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি পাওয়ায় দলের না-কি খুব ইচ্ছে ছিল, এমন একটি উপাধি দেওয়ার। কিন্তু নেত্রী গ্রেফতারের ভয়ে দ্রুতই গাড়ি করে ঘরে ফিরে যাওয়ায় ওই উপাধি দেওয়া জমায়েত থেকে সম্ভব হয়নি।

মামলা পর্ব : অসহায়ত্ত ও ক্রন্দন
মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী দুবার দুই নাটক করেছেন। তিনি নিজেই মামলায় উকিলের ভূমিকায় নেমেছেন। মামলা হচ্ছে জিয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানার দুর্নীতি নিয়ে। কিন্তু তিনি দুর্নীতি যে হয়নি তা প্রমাণে একটুও চেষ্টা করেন নি। রাজনৈতিক কথা তোতা পাখির বুলির মতো বলে গিয়েছেন। ইতিহাসকে মিথ্যা ও বিকৃতভাবে উপস্থিত করতে যে বিএনপি ওস্তাদ, এটা ছিল তারই নাটক। প্রবাদ যাকে বলে, ধান ভাঙতে শিবের গীত। কাকে তিনি এসব শোনাতে চাইলেন, তা বুঝে ওঠা কষ্টকর। এর চেয়ে তিনি যদি কাগজপত্র দেখিয়ে বলতেন, ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকার এই হচ্ছে হিসাব, তবে কিন্তু সহজেই মানুষ বুঝে নিত, এই মামলা ভুয়া। শূন্যে তলোয়ার ঘুরালে যে লক্ষ্যভেদ হয় না, তা অন্তত দুবারের প্রধানমন্ত্রীর জানার কথা। ওই রাজনৈতিক গীত শুনে রসিকতা করে মানুষ বলে, খালেদা জিয়া বলতে পারতেন এই অঙ্কের টাকা তো হাতের ময়লা। এত কম টাকায় আমার ও তারেকের লোভ হবে কেন?
‘মাননীয় আদালত, আমি কার কাছে যাব?’ প্রথম দিন আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া কোর্টে এ কথা বলেন। তিনি ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পরের বছরই বিএনপির চেয়ারপারসন হন। তিনবার নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে একবার অবশ্য ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে ১২ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেছিলেন। জনরোষের ঠেলায় ‘আপসহীন নেত্রী’ তখন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এখন তিনি ‘ফাইটার ফর ডেমোক্র্যাসি’ উপাধি পেতে চাইছেন। এমন বায়োডাটা যার, তার তো জানার কথা রাজনৈতিক নেতাদের কার কাছে যেতে হয়। জনতার আদালত হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের সবচেয়ে বড় আদালত। যিনি সেই আস্থা হারান এবং জনবিচ্ছিন্ন হন, কেবল তিনিই বলতে পারেন, যাব কার কাছে? আর প্রবীণ নেতারা যেখানে ‘আঙ্গুল চোষা’, রাস্তায় নামতে পারে না, তরুণরা যেখানে ‘মুরব্বীদের সম্মান’ না করে রাস্তায় আগুন সন্ত্রাসী তৎপরতায় নামে আর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে উকিলরা যেখানে মারামারি করে; সেখানে তিনি অসহায়ত্ত প্রকাশ করবেন না তো কি করবেন! তিনি কাঁদবেন, না কি অন্য কেউ কাঁদবে! অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে যে দলের নেতা জনগণের ওপর ভরসা করতে পারেন না, তার কপালে যেমন তেমনি দলেরও দুঃখ আছে।

সুষমা সাক্ষাৎ পর্ব : ডিগবাজির খেলা
বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী খালেদা জিয়া তাড়াহুড়া করে দেশে ফিরে এসেছিলেন। এর কারণ যে মামলার জামিন নেওয়ার বিষয় ছিল না তা অবস্থা পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্যই দ্রুত চলে এসেছিলেন। বিগত নির্বাচনের আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সাথে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সৌজন্যতার বরখেলাপ করে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওটা ছিল চরম ভুল। সেবার যেমন ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকারের বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় প্রটোকল খালেদা জিয়া চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে ভঙ্গ করেছিলেন, আর এবার সেই ভুল শোধরাতে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও রীতিপ্রথা ভঙ্গ করে নিজে থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হোটেল সুটে গিয়ে দেখা করেছেন। এবারেও তিনি দেশের মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে প্রটোকল বহির্ভূতভাবে সুষমার কাছে ছুটে গিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কথাও আছে যে, লন্ডনে বিজেপির সাথে কথা হওয়ার ফলশ্রুতিতেই তিনি দ্রুত ঢাকা চলে এসেছিলেন। সাক্ষাতের আগে আগে বিএনপি মহলে অতি আগ্রহ ভাবটাই ছিল এর প্রমাণ। আর সাক্ষাতের পরপরই কিছুটা উল্লাস ভাবও দেখিয়েছিল বিএনপি।
কিন্তু খুব একটা সময় ব্যয় না করে বিএনপি আবারও দিল ডিগবাজি। মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, ‘আমরা কারও কাছে দয়াভিক্ষা করি না। আমরা এ কথা বিশ্বাস করি না, কেউ এসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেবে।’ দয়াভিক্ষা যদি না চায় বিএনপি, তবে লন্ডনে বিজেপির সাথে দেখা করল কেন? আর কেনই বা সাক্ষাতের জন্য দ্রুত ঢাকা চলে এলেন খালেদা জিয়া? এটা কি এন্টি-ভারত মুখোশটা নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে ধরে রাখার জন্য? না-কি পরাজিত বিদেশি মুরুব্বী পাকিস্তানকে বুঝ দেওয়ার উদ্দেশে? জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপি ভারতের সাথে ডিগবাজির খেলাই খেলে এসেছে। সবশেষে ২০০১ সালে গ্যাস দেওয়ার ওয়াদা করে ক্ষমতায় গিয়ে ভারতকে এ ব্যাপারে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। অনুপ চেটিয়া আর রাজখোর গংদের জন্য অভয়ারণ্য বানায় বাংলাদেশকে। এবারেও বিএনপি সেই ডিগবাজির খেলাই খেলতে চাইছে বলে তো মনে হচ্ছে।
রোহিঙ্গা পর্ব : নাটক জমানোর পাঁয়তারা
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি প্রথম থেকেই এলোমেলো হয়ে আছে। প্রথমে মনে করেছিল সরকার নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেবে না। তাই তারা বলতে শুরু করেছিল, সরকার ‘অমানবিক’ কাজ করছে। পরে রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে দেখে বলে জনমতের চাপে পড়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যখন মানবিকতার পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে থাকে, তখন বলে সরকার যদি ‘একটা কঠিন অবস্থান নিত যে একজনও রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে পারবে না, তবে মিয়ানমারের সাধ্য ছিল না তাদের বাংলাদেশে পাঠায়।’ পরে বলতে থাকে সরকার ব্যর্থ। খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়ে সরকারের ব্যর্থতার কথাই তুলে ধরেছেন। এর সাথে এটাও বলেছেন যে, বাংলাদেশ বেশিদিন রোহিঙ্গাদের রাখতে পারবে না। এসব কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে, দ্রুতই খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ইস্যুটিকে ব্যর্থতা হিসেবে ধরে নিয়ে প্রচারে নামবেন। প্রশ্ন হলো ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়া কি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সফল ছিলেন! যদি সফল হতো তবে এই অনুপ্রবেশের আগে ১ লাখ রোহিঙ্গা রয়ে গিয়েছিল কেমন করে আর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বিদেশে গেল কীভাবে!
ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিএনপি-জামাত জোট মনে করে এবং প্রমাণও করেছে যে রোহিঙ্গা থাকলে ওই জোটের লাভ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভোটার বানিয়েছিল এই জোট। আর রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে উগ্রজঙ্গি বানানোর উদ্দেশ্যে সশস্ত্র ট্রেনিং দিয়েছিল তো বিএনপির প্রধান পার্টনার জামাত। পরিকল্পিত এই দুই ধারার কাজের উদ্দেশ্য কি ছিল তাও আজ সুস্পষ্ট। জন্মের পর থেকে জামাতকে রাজনৈতিক দল করার অধিকার দিয়েছিল বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়া, যাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যায়। ক্ষমতা কুক্ষিগত চিরস্থায়ী করার জন্য ভোটার বাড়াও আর ‘বাংলাভাই’ ধরনের জঙ্গি সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মানুষ মারো, এটাই ছিল ও আছে বিএনপির নীতি ও কৌশল।
এই নীতি-কৌশল সামনে রেখে রোহিঙ্গাদের রিলিফ দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া যে নাটক করেছেন, তা কয়েকটি অঙ্কে বিভক্ত। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, পাাকিস্তানি আমল থেকেই দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতির মূলধারার আন্দোলন। মানবতাবোধ যে বাঙালি জাতি আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেখাতে পারছে, তা সেই ঐতিহ্য ধারণ করে আছে বলেই। দুর্গতদের মাঝে রিলিফ দেওয়া তাই আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু জাতি কখনও এমনটা দেখিনি যে, বিশাল গাড়িবহর নিয়ে আর অঢেল খানাপিনা করে রিলিফ বিতরণ করা হয়েছে। এ যেন খাজনার চাইতে বাজনা বড়। নাটকের এখানেই শেষ নয়। এক শিশুকে কোলো নিয়েছেন খালেদা জিয়া। গৃহবধূ থেকে সরাসারি চেয়ারপারসন হয়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর খালেদা জিয়া আজ পর্যন্ত কোনো গরিব শিশুকে কোলে নিয়েছেন বা কোনো মহিলাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, তা দেখেনি দেশের মানুষ। এবারে তিনি রোহিঙ্গা শিশুকে যখন কোলে নিলেন, তখন তার চোখ-মুখ ও শরীরের ভঙ্গি ছবিতে দেখেই বুঝা যায় নাটক জমানোর জন্যই তিনি এমনটা করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি নাটক করতে অফিসকেও বাসা বানিয়েছিলেন। আরও যে কত নাটক আছে! তবে এবারে আসর জমাতে চেয়েছিলেন, যাবার সময় গাড়িবহরে হামলা এবং ফেরার সময় খালি বাসে পেট্রল বোমা ফাটিয়ে। কিন্তু ‘ব্লেম গেম’ চালানোর খেলা এবার সূচনায়ই ফসকে যাবার উপক্রম হয়েছে। চট্টগ্রামের এক বিএনপি নেতার টেলিফোন সংলাপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার জন্য যে খালেদা জিয়া যে কোনো নাটক করতে পারেন, তা এবারেও প্রমাণ করলেন।

নাটকের পরের অঙ্কে কী আছে?
লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর চলমান নাটকের আরও একটি পর্ব কেবল বাকি আছে। এই পর্বটি দলের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত। এবারে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি দলটি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে বিধি অনুযায়ী দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। এমনিতে এখন খালেদা জিয়া গাড়ি-বাড়ির জাতীয় পতাকা ও সুযোগ-সুবিধা হারিয়েছেন। তাই ভেতরে ভেতরে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ তথা অরাজকতা অস্থিরতা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে অবৈধ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার নীলনকশা কার্যকর করতে চাইলেও তা পারা সম্ভব নয় বলে বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় বুঝে নিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা জোরদার করবে মনে হচ্ছে। দলটি হয়তো দ্রুতই দেবে সহায়ক সরকারের রূপরেখা। অবশ্য ‘মহাশক্তিধর’ যুগ্ম মহাসচিব তীর্র্যক ভঙ্গিতে এবং মহাসচিব ফখরুল ইসলাম তো তো করে বলেছেন, তারা সহায়ক নয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবে না। এই অস্থিরতা কিসের লক্ষণ। আবার সহায়ক সরকারের তথাকথিত রূপরেখাও দিচ্ছেন। আসলে বিএনপি কোনো অবস্থানেই স্থির থাকতে পারছে না।
এই লক্ষ্য রূপরেখা নিয়ে নানা কথা দলটির পক্ষ থেকে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ না করার শর্তে ছুটিতে থাকবেন প্রস্তাবটাও অপশন হিসেবে বিএনপি মহল থেকে সুকৌশলে প্রচার করা হচ্ছে। তথাকথিত আন্দোলন আর সেই সাথে যড়যন্ত্র-চক্রান্ত যখন কার্যকর হচ্ছে না, এক ও দুই নম্বর নেতা যখন গ্রেফতারের রিক্স নিয়ে অপারগ, তখন জামাতকে সাথে রেখে বিএনপি কি কৌশল ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিএনপি ইতোপূর্বে বাধ্য হয়ে দুবার নির্বাচনে গিয়ে বিরোধী দলে থাকার রিক্স নিয়েছে। তৃতীয়বার কি নেবে? নেওয়ার সম্ভবনাই বেশি। কারণ গাড়ি-বাড়িতে পতাকা তুলতে না পারা আর সুযোগ-সুবিধা হারাবার শোক যে ম্যাডামকে ভুলতেই হবে!

Category:

দুর্নীতিতে জিয়া পরিবার বিশ্বে তৃতীয় : ফক্স নিউজ

38উত্তরণ প্রতিবেদন: বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক পরিবারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে জিয়া পরিবার। তালিকার শীর্ষস্থানে আছে সদ্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়া পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি নওয়াজ শরিফের পরিবার। ফক্স নিউজ পয়েন্ট এবং র‌্যাংকার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এই তথ্য জানিয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্বে সেরা দুর্নীতিবাজ ১০ রাজনৈতিক পরিবারের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
র‌্যাংকার-এর হিসাব অনুযায়ী নওয়াজ শরিফ পরিবারে অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার। আর তৃতীয় স্থানে থাকা জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২৫০ কোটি ডলার, বাংলাদেশি টাকায় ২০ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ট্যাক্স হ্যাভেন দেশগুলোতে তারা এই টাকা পাচার করেছেন।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। জিয়া পরিবারের পরেই তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো প্রশেনকোর পরিবার। পেত্রো ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ২৪০ কোটি ডলার। পঞ্চম স্থানে আছেন নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সানি অবাচা।
ফক্স নিউজ ফোর এবং র‌্যাংকার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, বিশ্বজুড়ে অফশোর র‌্যাংকিং-এর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেন বিষয়ে গবেষণা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরা কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে, সেটা তদন্ত করতে গিয়েই প্রতিষ্ঠান দুটি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তালিকায় তৃতীয় থাকা জিয়া পরিবারকে রিপোর্টে ‘বাংলাদেশের প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক পরিবার’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, এই পরিবার দীর্ঘ ১৩ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মেয়াদে পরিবারটি লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ত্যাগের আগে পর্যন্ত এই পরিবারের অন্তত ২০ জন সদস্য বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশে সম্পদ পাচার করেছে।
জিয়া পরিবারের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে ফক্স নিউজ পয়েন্ট তারেক জিয়াকে উল্লেখ করেছেন। তবে, বেগম খালেদা জিয়া, শামীম ইস্কান্দার, আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত), সাঈদ ইস্কান্দার (প্রয়াত)-এর নামে বিদেশে প্রচুর অবৈধ অর্থ এবং সম্পদ আছে বলে ফক্স নিউজ পয়েন্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। যে ১৫টি দেশে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদ রয়েছে যেগুলো হলোÑ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, সৌদি আরব, কুয়েত, বারমুডা, কেম্যান আইসল্যান্ড, বাহামা এবং ব্রুনাই। অধিকাংশ অর্থই বেনামে বিভিন্ন অফশোর ব্যাংকে গচ্ছিত। কিছু কিছু অর্থ বিনিয়োগও করা আছে।
গত দুবছর ধরে এসব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত আইনি সীমাবদ্ধতার জন্য কিছুই করা সম্ভব হয়নি।

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তারেক রহমান : এফবিআই
তারেক জিয়া সম্পর্কে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। যুক্তরাজ্যের কাছে পাঠানো এক গোপন বার্তায় তারেক জিয়াকে উগ্রবাদী জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক এবং মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে সর্বোচ্চ নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এফবিআই বলেছে, ‘এই ব্যক্তিটি যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’
বিভিন্ন দেশের সন্দেহভাজন, উদ্বেগজনক এবং ভয়ঙ্কর ব্যক্তিদের সম্পর্কে এফবিআই আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে। এর আগে দাউদ ইব্রাহিম, পারভেজ মোশাররফসহ অনেক বিষয়েই এফবিআই সতর্কবার্তা দিয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারকেও ২০০৩ সালে শায়খ আবদুর রহমান, বাংলাভাই সম্পর্কে এফবিআই সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
এফবিআই তার সতর্কবার্তায় তারেক জিয়াকে ‘পলিটিক্যাল টেররিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে ‘রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই ব্যক্তি বল প্রয়োগেই বিশ্বাস করে।’ এফবিআই পূর্বাভাস দিয়েছে, ‘তারেক জিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা করেছে।’ এই পরিকল্পনার কিছু নমুনা এফবিআই যুক্তরাজ্যকে দিয়েছে।
এফবিআই তার গোপন বার্তায় বলেছে, ‘বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে তাকে বাদ দেওয়ার জন্য বারংবার অনুরোধ করার পরও তারা অনুরোধ শোনেনি। ২০০৭ সালে আর রাজনীতি করবেন না, এই মুচলেকা দিয়েই তিনি দেশত্যাগের অনুমতি পান। কিন্তু কার্যত তিনিই এখন বিএনপির মূল নেতা। বিএনপি তাকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। সমস্যা হলো, তার চিন্তাগুলো রাজনীতি মনস্ক নয়; বরং সন্ত্রাস মনস্ক।’
এফবিআই রিপোর্টে বলেছে, ‘একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চিন্তা কখনও সুস্থ রাজনৈতিক চিন্তা হতে পারে না। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে তারেক জিয়া, এরকম একটি ঘৃণ্য পরিকল্পনায় তার সব রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি ব্যয় করছে।’
এফবিআই মনে করছে, ‘লন্ডন থেকে তারেক জিয়া এমন কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং মদদ দিচ্ছে, যারা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক। অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধ না হলে সন্ত্রাসবাদই লাভবান হবে।’
এফবিআই জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশে বড় ধরনের কিছু সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর জন্য ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা নিয়ে তারেক এগুচ্ছে। যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে, এ অঞ্চলে সন্তাসবাদের ঝুঁকি বাড়বে। এজন্য এখনই এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের মনোযোগী হওয়া উচিত।’ উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে তারেক জিয়া এফবিআই’র বিপজ্জনক ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। লাল তালিকাভুক্ত এ ধরনের ব্যক্তিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, এফবিআই’র নজরদারিতে থাকে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রেস

কোকোকে হত্যা করেছে তারেক
মালয়েশিয়ার আদালতে মামলা
‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার বড় ভাই তারেক জিয়ার নির্দেশে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত কয়েকজন বাঙালি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।’
এরকম একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে মালয়েশিয়ার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন জনৈক আবদুল হামিদ ওমর। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক। নিজেকে তিনি কোকোর ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে দাবি করেছেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার দরখাস্তে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, মালয়েশিয়ায় কোকোর দুজন বন্ধু আবদুল্লাহ নাভিদ এবং শিফাত হোসাইনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে, কোকোর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশেই তারেক এই হত্যাকা- সংঘটিত করেছেন।
বেগম জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরে মারা যান। বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে ইউনিভার্সিটি মালায়া মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মৃতদেহ ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রায় দুই বছর ১০ মাস পর অভিযোগ উঠেছে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, হত্যাকা-। মামলার বাদী আবদুল হামিদ ওমর একজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী। তিনি আরজিতে অভিযোগ করেন যে, আরাফাত রহমান কোকো ২৭৫ কোটি রিঙ্গিত সম্পদের মালিক। অধিকাংশ সম্পদেরই নমিনি ছিল তার বড় ভাই তারেক জিয়া। কোকোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে আমার অফিসে বসেই কোকোর সাথে তার বড় ভাইয়ের টেলিফোনে কথা কাটাকাটি হয়। কোকোকে তারেক বেশ কিছু টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠাতে বলে। কিন্তু এত টাকা এ মুহূর্তে পাঠানো সম্ভব নয় বলে টেলিফোনে জানান তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ঝগড়ার পর কোকো তার যাবতীয় সম্পত্তির নমিনি তার স্ত্রী শর্মিলা রহমানের নামে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপারে একজন ভালো আইনজীবী দেখার জন্যও কোকো আমাকে অনুরোধ করে।
ওমরের অভিযোগ, এই ঝগড়ার দুদিন পর আরাফাত রহমান কোকোর বাসায় পাঁচজন বাঙালি যায়। কোকোর স্ত্রী শর্মিলা আহমেদের সামনেই তারা বাংলাদেশে আন্দোলনের জন্য টাকা প্রয়োজন বলে জানায়। তারা বলে ‘ভাইয়া’ তাদের পাঠিয়েছে। তারা এও হুমকি দেয় যে টাকা না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। ওমর তার আরজিতে বলেছেন, এই বাঙালিরা স্থানীয় বিএনপির নেতা বলে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা আমাকে জানায়। আমি পুলিশে খবর দিতে চাইলেও শর্মিলা আমাকে বারণ করে।
ওমর অভিযোগে বলেছেন, কোকোর মৃত্যুর খবর শুনেই আমি হাসপাতালে যাই। সেখানে আমি বেশ কিছু বাঙালি দেখি। কান্নারত শর্মিলা আমাকে বলে ওরাই কোকোর মৃত্যুর জন্য দায়ী। কিন্তু শাশুড়ি এবং পরিবারের নির্দেশে শর্মিলা তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য কারও বিষয়ে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেন নি।
অভিযোগে ওমর আরও বলেছেন, কোকোর মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যে তারেক অ্যাটর্নির মাধ্যমে কোকোর সব টাকা-পয়সা সরিয়ে নিয়েছে। কোকোর স্ত্রীও এখন লন্ডন প্রবাসী বিধায় আমি এই মামলা করলাম।
সূত্র : বাংলা ইনসাইডার

Category:

সবার আগে বাংলাদেশ

17

ঢাকায় সুধী সমাবেশে সুষমা স্বরাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশ সবার আগে। ভারত সব প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাংলাদেশকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত ২৩ অক্টোবর সকালে বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে নতুন চ্যান্সারি ভবন ও ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন।
সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশীদের ভারত সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ইংরেজি ও হিন্দিতে দেওয়া ২০ মিনিটের বক্তৃতা দর্শক শ্রোতারা তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে উপভোগ করেন। বাংলাদেশের প্রতি ভারত সরকারের অগ্রাধিকার নীতি বুঝাতে সুষমা হিন্দিতে বলেন, ‘পড়শি পেহেলে লেকিন বাংলাদেশ সবচে পেহেলে।’
ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সারি কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয় শংকর, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী প্রমুখ। ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
সুষমা স্বরাজ দুদিনের ঝটিকা সফরে ২২ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা আসেন এবং ২৩ অক্টোবর দুপুরে নয়াদিল্লি ফিরে যান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দুজন দাদা আর দিদির সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলেছি।’ বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ক অসাধারণ। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো সমাধান হবে। দুই পক্ষই বন্ধুত্বের মেজাজে সঠিক পথে কাজ করছে। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি দুই দেশ মিলে সব বিষয় ইমানদারির সাথে মিটিয়ে ফেলব। ইতোমধ্যে আমরা সমুদ্রসীমা আর স্থল সীমান্ত নিয়ে বিরোধী শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি করেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি দিয়েছেন, যা দিনে দিনে সহযোগিতার হাত ধরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগামীতে এই সম্পর্ক বৃহত্তর উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছবে, আমি নিশ্চিত।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছরে জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। প্রতিবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভারত সফরে যাচ্ছেন। এ বছর ১৪ লাখ বাংলাদেশিকে ভিসা দেওয়া হতে পারে। ২০১৬ সালে ছিল সাড়ে ৯ লাখ আর ২০১৫ সালে সাড়ে ৭ লাখ।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের তরুণ সমাজই বড় শক্তি ও সম্পদ। তরুণদের ওপর বেশি বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। তরুণরাই হলো ভবিষ্যৎ। ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ সজাগ ও সচেতন। তিনি সব সময় বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে থাকেন।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই নির্দেশ দেন। যার ফলশ্রুতিতে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভারত যেতে পারছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সময়ে দুদেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ আর্থিক ৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১০ কোটি টাকার অনুদানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী দুই বছরে ১১০ কোটি টাকার অনুদানে ৬০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৭১ কোটি টাকার অনুদানে ১৫টি প্রকল্প ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের ছাত্রীরা মনোজ্ঞ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত বিভাগকে কম্পিউটার, বই ও শিক্ষা সরঞ্জাম উপহার দেন সুষমা স্বরাজ।

ঝুলে থাকা ইস্যুর নিষ্পত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সাথে কাজ করবে ভারত। ভারত চায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা ফিরে গেলে রাখাইনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। সেখানে দ্রুত আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটালে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত ২২ অক্টোবর বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপির সাথে যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে এ কথা বলেন।
দুদিনের সফরে গত ২২ অক্টোবর দুপুর পৌনে ২টায় ঢাকায় এসে বিকেলে স্থানীয় একটি হোটেলে জেসিসি’র বৈঠকে যোগ দেন সুষমা স্বরাজ। বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে পৃথক বিবৃতি দেন।
মাহমুদ আলী তার বিবৃতিতে বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। দুই দেশের সম্পর্ক আজ এক ঐতিহাসিক নতুন উচ্চতায় উপনীত। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সংযোগ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এ জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানাই। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ও এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ রাখতে হবে ভারতকে।
মাহমুদ আলী তার বক্তৃতায় নিরাপত্তা, সহযোগিতা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ, রেল, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে মাহমুদ আলী বলেন, গত ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়াদকালেই তিস্তা চুক্তি সই হবে বলে জানান।
সুষমা স্বরাজ তার বক্তব্যে ঝুলে থাকা অনিষ্পন্ন ইস্যুর নিষ্পত্তির কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সেগুলো জানি। সেগুলোর সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজ আমরা সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছি। আমরা যৌথ উদ্যোগ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে ঘৃণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করে সমাজকে রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছি। নিরাপত্তা ছাড়াও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতি সাধন করেছি।
বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ব্যাপক সহযোগিতা চলছে। ভারত এখন ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে সরবরাহ করছে। সিলিগুঁড়ি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম পণ্য নেওয়া হবে। একটি এলএনজি টার্মিনালও স্থাপিত হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুষমা স্বরাজ বলেন, রাখাইন থেকে আসা লাখ লাখ মিয়ানমারের নাগরিককে মানবিক সহায়তার জন্য ভারত সরকার অপারেশন ইনসানিয়াত চালু করেছে। সিদ্ধ চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল, চা, দুধ, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ব্যাপকতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জনগণের কল্যাণ আর সংযম বিবেচনা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছি। এটা পরিষ্কার যে, বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা ফিরে গেলেই রাখাইনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। সেখানে দ্রুত আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। ভারত আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। যাতে রাখাইনে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া যায়। আমরা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সমর্থন করি।
জেসিসির বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ভারতের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ছাড়াও পররাষ্ট্র, নৌ পরিবহন, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ইআরডি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন। অন্যদিকে সুষমা স্বরাজের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর, ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেগুলো হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি।
২২ অক্টোবর দুপুরে কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে বিশেষ বিমানযোগে এসে পৌঁছলে সুষমা স্বরাজকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। সেখানে কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় করেন তারা।
২৩ অক্টোবর সকালে সুষমা স্বরাজ বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করেন। ভারত সরকারের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। দুপুরে বিশেষ বিমানযোগে নয়াদিল্লি ফিরে যান।

Category:

41

Category:

মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে গেছে পাকিস্তান : দি ইকোনমিস্ট

47উত্তরণ ডেস্ক: স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলতে শুরু করেছে। দি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতাকালীন বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্পের অবদান ছিল মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে শিল্পের অবদান ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গত অর্থবছরের হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৫৩৮ ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ১ হাজার ৪৭০ ডলার। এটা পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারই আভাস দিচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট আদমশুমারির ফলাফল প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সেখানে তারা দেখিয়েছে, দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ২০ কোটি ৭৮ লাখ, যা আগের থেকে ৯০ লাখ বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাদের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৪-৫ শতাংশ। তবে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বর্তমানে পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার এক দশক ধরে ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত দুই বছরে তা ৭ শতাংশের ওপরে দাঁড়িয়েছে। যে দেশটি একসময় কাপড়ের সংকটে ভুগত, সেই দেশ এখন ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। যদিও কাজের পরিবেশ এখনও উন্নত নয়, তারপরও আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। যুদ্ধে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা, রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ১৯৭০-এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ নিহত এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার মাথাপিছু হিসাবে বেড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু জিডিপিও ক্রমান্বয়ে কমে গেছে।

Category:

হাইড্রোজেন বোমায় ধ্বংস হতে পারে বিশ্ব!

পৃথিবীর ৩টি শক্তিশালী বোমার মধ্যে হাইড্রোজেন বোমা সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি নিউট্রন ও পারমাণবিক বোমার চাইতে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী। সাধারণভাবে একেকটি পারমাণবিক বোমার একেক ধরনের ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে।

45অনিরুদ্ধ অনিন্দ্য: ঘটনা উত্তর কোরিয়ায়। ফাটিয়েছে ‘হাইড্রোজেন বোমা’। তাই নিয়ে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলো নড়েচড়ে বসেছে। ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেরই ঘুম হারাম। বিশ্ববাসীর জন্যও যা যথেষ্ট উদ্বেগের। তবে উত্তর কোরিয়ার জন্য এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও কমপক্ষে ৬টি পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করেছে। সঙ্গে হুমকিও দিয়েছে। তবে এবারের ঘটনা আর্বতিত-বিবর্তিত হচ্ছে সভ্যতা ধ্বংসের পরিক্রমায়।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সর্বশেষ উত্তর কোরিয়া যে হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেÑ তা ছিল সবচেয়ে সফল এবং সবচেয়ে শক্তিশালী। ওই পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন চীনের কিছু এলাকাতেও ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। জরিপ অনুযায়ী রিক্টার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৬.৩ এবং তা আঘাত করেছে ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার নীচ পর্যন্ত। উত্তর কোরিয়ার কিলজু এলাকায় যে পরীক্ষাটি করেছে; তা ছিল একটি ভয়ানক শক্তিশালী এক হাইড্রোজেন বোমা। ভূগর্ভে যে ধরনের কম্পন সৃষ্টি হয়েছে তাতে মনে হয় আগের যে কোনো পরীক্ষার চেয়ে বস্তুটি অনেক শক্তিশালী ছিল। উত্তর কোরিয়ার দাবিÑ তারা যে হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করেছে তা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও বহন করা যাবে। এই পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের হুমকি-ধমকি এবং নিষেধাজ্ঞায় দেশ সংকটে পড়লে; তারা চুপ করে বসে থাকবে না। জাপানের আসাহি টিভির খবরে বলা হয়েছেÑ এই ঘটনায় কমপক্ষে ২০০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার কিলজু এলাকায় ফাটানো অধিক শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমায় এই অঞ্চলের একটি আস্ত পর্বত ধসে গিয়েছে। এই এলাকার চাপ সামলাতে না পেরে পাঙ্গি-রি এলাকার টানেল ভেঙে পড়েছিল। তাতে চাপা পড়ে কমপক্ষে ১০০ জন টানেলকর্মী এবং পরবর্তীতে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আরও ১০০ লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বসভার সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হুমকি-ধমকি দিলেও এখন আলোচনার পথেই সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ বিশ্বসভায় ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পরপরই কিমের দেশে ট্রাম্পবিরোধী বিশাল মিছিল হয়েছে। সেখানে তারা হাইকমান্ডের নির্দেশ পেলে আগ্রাসনকারী মার্কিনীদের খতম করার অঙ্গীকার করেছে।
নানামুখী প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া বিস্ময়করভাবে দ্রুতগতিতে পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারে এগিয়ে যাচ্ছে। যা সারাবিশ্বের জন্যই এক অশনিসংকেত। এই নিয়ে এখন সারাবিশ্বে চলছে তোলপাড়। পৃথিবীর ৩টি শক্তিশালী বোমার মধ্যে হাইড্রোজেন বোমা সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন। এটি নিউট্রন ও পারমাণবিক বোমার চাইতে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী। সাধারণভাবে একেকটি পারমাণবিক বোমার একেক ধরনের ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। কোনোটি গাছপালার কোনো ক্ষতি করে না, শুধু প্রাণী ধ্বংস করে। আবার কোনোটি প্রাণী-গাছপালা সব কিছুই ধ্বংস করে দেয়। এ ধরনের বোমা বিস্ফোরণের ফলে নির্দিষ্ট অঞ্চল তো বটেইÑ এমন কি আশপাশের বহু এলাকাও হয়ে ওঠে বসবাসের অযোগ্য। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় প্রশান্ত মহাসাগরের এনিউইটা দ্বীপে। এরপর ১৯৫৩ সালে এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন)। তাদের দেখাদেখি ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং চীনও হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সেখানে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার নামও। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও চীনের কাছে হাইড্রোজেন বোমা আছে। সেখানে এখন নতুন করে যুক্ত হতে পারে উত্তর কোরিয়ার নামও। উপমহাদেশের শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকলেও তাদের থার্ম-নিউক্লিয়ার অর্থাৎ হাইড্রোজেন বোমা নেই বলেই ধারণা করা হয়। এসব দেশের বাইরে ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। থাকতে পারে হাইড্রোজেন বোমাও। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল তা কখনও স্বীকার করেনি। পারমাণবিক বোমা আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি দেশ প্রায় ২ হাজার বার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ১৯৬২ সালে সাবেক সেভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে হাইড্রোজেন বোমা ব্যবহারে সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। কিন্তু বিশ্ব রক্ষায় অন্যান্য দেশ এগিয়ে আসায় তা থেমেছিল। বরং বিশ্ব শান্তিচুক্তির সম্পাদনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। ফলে ১৯৬৩ সালে বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ভূমিতে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা নিষিদ্ধের ব্যাপারে একটি চুক্তি সম্পাদন করে। পরবর্তীতে সেখানে অন্যান্য পরাশক্তির দেশও শামিল হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯০ সালে ভূগর্ভে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে রাশিয়া হওয়ার পর আর কখনও তারা পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় নি। তবে ১৯৯১ সালে যুক্তরাজ্য, ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৯৯৬ সালে চীন এবং ফ্রান্স শেষবারের মতো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল। তবে দুঃখের বিষয় গেল দশকে কোল্ড ওয়ারের সময় পরাশক্তির রাষ্ট্রগুলো তাদের অস্ত্র ভা-ারে আরও পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইড্রোজেন বোমাটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, যার ওজন ১ দশমিক ২ মেগাটন বা ১২ লাখ টন। তবে অনেক ছোট আকৃতির হাইড্রোজেন বোমাও বিধ্বংসী হতে পারে। আর ছোট আকৃতির হাইড্রোজেন বোমা সহজেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা যায়। এখানেই সবচেয়ে ভয়ের কথা। ধারণা করা হয়, ৬ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার কাছে আছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোরিয়ানদের পক্ষে সহজেই চীন, রাশিয়া ও আলাস্কায় আঘাত হানা সম্ভব। হাইড্রোজেন বোমা আসলে থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা নামেও পরিচিত। নক্ষত্রের যে প্রক্রিয়ায় আলো তৈরি হয়, হাইড্রোজেন বোমা ঠিক সেই প্রক্রিয়ায় কাজ করে। হাইড্রোজেন বোমায় নিউক্লিয়াস একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ৪টি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসকে সংযুক্ত করে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠন করে। এই একীভূতকরণের সময় প্রচ- তাপ সৃষ্টি হয়। এর ভেতরে একটি এটমবোমাও থাকে। বিস্ফোরণের আগে বোমার ভেতরে ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই একে ধরে রাখে। মূল বোমাটি বিস্ফোরণের আগেই ভেতরে থাকা এটম বিস্ফোরিত হয়। ফলে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এই তাপমাত্রাতেই ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম মিলে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। তাতে তাপমাত্রা হাজার গুণ বেড়ে যায়। এই বিস্ফোরণে শুধু হিলিয়ামই উৎপন্ন হয় না, সাথে সাথে নিউট্রনও উৎপাদিত হয়। হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণে লাখ লাখ ডিগ্রি তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়। কারণ দুটি বিস্ফোরণই প্রায় একই সময়ে ঘটে। পরমাণু বিজ্ঞানীরা হাইড্রোজেন বোমার অন্য নাম ‘থার্মোনিউক্লিয়ার ডিভাইস’। এটি দ্বিতীয় প্রজন্মের আণবিক বোমা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত আণবিক বোমাগুলোকে বলা হয় প্রথম প্রজন্মের, যেখানে ছিল একটিমাত্র বিস্ফোরণ ব্যবস্থা। আর দ্বিতীয় প্রজন্মের হাইড্রোজেন বোমায় থাকে দুটি বিস্ফোরণ ব্যবস্থা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত আণবিক বোমাটি ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শক্তি নির্গত করেছিল। অন্যদিকে হাইড্রোজেন বোমায় দুটি বিস্ফোরণ ব্যবস্থা থাকায় আরও বেশি এলাকাজুড়ে এর ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে দিতে পারে। মূলত ফিউশন ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়ে থাকে। প্রচ- তাপ উৎপাদনের কারণে হাইড্রোজেন বোমা পরমাণু পেতে নিউক্লিয়ার চেইন তৈরি করে। এই কারণে একে তাপ প্রয়োগিক পারমাণবিক অস্ত্রও বলা হয়ে থাকে। হাইড্রোজেন বোমা কখনও কখনও হাজার গুণ শক্তিশালী হয়ে থাকে। একবার বিস্ফোরণের পর তাপ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে পারমাণবিক বিচ্ছুরণ বেড়ে যায়। সেই সাথে এর শক্তি এবং ধ্বংস ক্ষমতাও বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসে মাত্র দুবার পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফাটানো হয়েছিল। ১৯৪৫ সালের ৬ এবং ৯ আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ‘লিটল বয়’ আর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামে দুটি পরমাণু বোমা ফেলেছিল আমেরিকা। ওই পরমাণু হামলায় প্রায় ২ লাখ লোক মারা যায়। আহত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। এখনও এই দুই অঞ্চলে বংশানুক্রমে অন্ধত্ব, বধিরতা ও পঙ্গুত্বের মতো নানা ধরনের জটিল অসুখ দেখা দেয়। অর্থাৎ, ৭২ বছর পরও পারমাণবিক বোমার রেশ কাটেনি। সেই তুলনায় হাইড্রোজেন বোমা পারমাণবিক বোমার চেয়ে কমপক্ষে ১০ গুণ ভয়ঙ্কর। কখনও কখনও এটি ১ হাজার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ-পরবর্তী ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুযায়ী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকি শহরে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার চেয়ে ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী। উত্তর কোরিয়ার হাইড্রোজেন বোমায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প নিয়ে যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে আন্তর্জাতিক বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া নিয়ে ক্রমশ সামরিক উন্মাদনার দিকে না এগিয়ে কূটনীতির পথে এই সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। তবে পুতিন কিমের দেশের নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেনÑ গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির দাবি করেও সাদ্দাম বাঁচতে পারেননি। তার পরিবারের লোকদেরও মরতে হয়েছিল। দেশটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুতিন কোয়িরাকে সমীহ করেই বলেছেনÑ আমরা জানি উত্তর কোরিয়ার হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আলোচনা দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব।
‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’Ñ সারাবিশ্বে এই স্লোগান ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকলেও পৃথিবীতে অনেক দেশই নানাভাবে যুদ্ধ বাধিয়ে রাখছে। আর যুদ্ধ জয়ের জন্য প্রমত্ত হয়েই অমানবিক কাজ করেছে। যেমনÑ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা দিয়ে আঘাত হেনেছিল। যা মানব সভ্যতার জন্য ‘কালিমা’ হয়ে রয়েছে। একটি সুসংবাদ তারপরও থাকলে বিশ্বে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করা হলেও এখন পর্যন্ত হাইড্রোজেন বোমার ব্যবহার হয়নি। আর ভয়াবহ সংবাদÑ হাইড্রোজেন বোমা পৃথিবীকে নিয়ে যাবে ধ্বংসের কাছাকাছি।

Category: