Blog Archives

দিনপঞ্জি : ফেব্রুয়ারি ২০১৭

Posted on by 0 comment

60১ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী মহান গ্রন্থমেলা উদ্বোধন।
* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন প্রাঙ্গণে দুদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব উদ্বোধন।
* রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়েছেন র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাব দাবি করেছে, অভিযানে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আইটি শাখার প্রধান মোহাম্মদ আশফাক-ই আজম ওরফে আপেলসহ চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে তারা। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলোÑ মাহবুবুর রহমান ওরফে রমি, শাহিনুজ্জামান ওরফে শাওন ও আশরাফ আলী।
* বিটিআরসির ২০১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকরা আবেদনের দিন থেকে আগের ৬০ দিনের সিডিআর পাবে। এতে থাকবে সব ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল এবং এসএমএসের তথ্য। কলগুলোর সময়, তারিখ, স্থায়িত্বও জানাতে হবে। আবেদনের সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসব তথ্য দিতে হবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে।

২ ফেব্রুয়ারি
* জালিয়াতির মামলায় সিলেটের বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ১৪ বছর করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। নগরী সংলগ্ন তারাপুর চা-বাগানের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির জন্য তাদের কারাদ- দেওয়া হয়। সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এ দিন বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতে ৪টি পৃথক ধারায় এই রায় ঘোষণা করেন।

৩ ফেব্রুয়ারি
* সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, সে আওয়ামী লীগের যত বড় নেতাই হোক। সম্প্রতি চাঁদপুরের হাইমচরে একটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে বানানো মানব সেতুতে হাঁটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এদিন দুপুরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে তুলকাই সেতুর উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিকে নিয়ে বিএনপির দ্বিমত প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতারা একে অপরকেই বিশ্বাস করেন না। তাই তাদের সম্পর্কে মন্তব্য না করাই শ্রেয়।

৪ ফেব্রুয়ারি
* জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও ইসলামী ছাত্রশিবির ছেড়ে ‘ইসলামী সমাজ’ নামের একটি কালো তালিকাভুক্ত সংগঠনে ভিড়ছে উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী লোকজন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্বল্পশিক্ষিত। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে। তারা জানতে পেরেছে, ইসলামী সমাজ নামের এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিল আবদুল জাব্বার নামের এক জামাত নেতা। আর বর্তমানে সংগঠনের আমির পদে থাকা হুমায়ূন কবির একসময় ছাত্রশিবিরের নেতা ছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম নগরে অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশ এসব তথ্য পেয়েছে।
* মাসব্যাপী ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামল। এবারের মেলায় ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ এসেছে, যা গতবারের চেয়ে ৮ কোটি টাকা বেশি। আর পুরো মাসে মেলায় বিক্রি হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
* বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত অভিভূত সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্ট্রম। ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-সুইডেন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখা চিঠিতে তিনি এ কথা জানান। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ ও সুইডেন উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠে। ফলে বাংলাদেশ যে দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করেছে তাতে আমি অত্যন্ত অভিভূত।

৫ ফেব্রুয়ারি
* জঙ্গিবাদের সমাধান সামনে রেখে শিক্ষায় সংস্কার হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উগ্রবাদ ও সশস্ত্র সংঘাত বিশ্বে মানবাধিকার, শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। উদ্ভাবন, সমঝোতা এবং দূরদর্শী নীতির দ্বারা এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সমাধান সামনে রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা উপকরণ সংস্কার করা হচ্ছে। রাজধানীর হোটেল রেডিসনে ৯টি দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন বিষয়ক ‘ই-নাইন’ ফোরামের তিন দিনব্যাপী মন্ত্রী পর্যায়ের ১১তম সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ই-৯ এর জন্ম দিল্লিতে ১৯৯৩ সালে।

৬ ফেব্রুয়ারি
* বিমান, ড্রোন, গ্লাইডারসহ উড়তে সক্ষম সব যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত আইন ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিল-২০১৭’ পাস হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, এই কর্তৃপক্ষ ‘যে যন্ত্র বায়ুম-লে ভর করিয়া ভাসিতে পারে, যাহাতে বদ্ধ বা মুক্ত বেলুন, এয়ার শিপ, ঘুড়ি, ড্রোন, গ্লাইডার এবং উড্ডয়নরত সকল যন্ত্র’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
* দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নতিতে ‘অসাধরণ ভূমিকা’ রাখার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল কমিউনিটি ক্লিনিক। বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের মতে, স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। এর মূলে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক ধারণা। এটি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করেছে। ফলে নবজাতক ও শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, প্রজনন হার নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে ১০টি সূচকে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

৭ ফেব্রুয়ারি
* বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের ঘটনায় জড়িত ৫৫ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ব্যাপক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থপাচারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ী রয়েছে, সে একাই যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৯ ডলার। পাচারকৃত ওই অর্থ ফেরত আনতে সে দেশে মামলা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা করতে যাচ্ছে এনবিআর।

৮ ফেব্রুয়ারি
* রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শিক্ষাকে মুনাফা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ১৬তম সমাবর্তনে ভাষণের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইউনিভার্সিটির আচার্য আবদুল হামিদ প্রতিটি ইউনিভার্সিটিতে বিশ্বমান ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করে দেশপ্রেমিক ও শিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষা নয়, সৃজনশীল ও আলোকিত মানুষ তৈরির জন্য উচ্চ শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই মান নিশ্চিত করতে হবে।
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সশস্ত্র বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, তার সরকার চায় না দেশে এমন কিছু ঘটুক যাতে চলমান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। আমরা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধশালী, শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো কর্মকা- সহ্য করা হবে না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ২০১৬-১৭ কোর্সের গ্রাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে শেখ হাসিনা কমপ্লেক্স, ডিএসসিএসসি, মিরপুর সেনানিবাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

৯ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেই মারামারি, কাটাকাটি, বোমাবাজি, খুন-খারাবি হচ্ছে। সেখানেই অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এই অস্ত্রটা তৈরি করে কারা? আর লাভবান কারা হয়? রণক্ষেত্র বানাচ্ছে আমাদের মুসলমানদের জায়গাগুলো, রক্ত যাচ্ছে মুসলমানদের। আর এই অস্ত্র তৈরি করে, অস্ত্র বিক্রি করে কারা লাভবান হচ্ছে সেটা সবাই একটু চিন্তা করে দেখবেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ করে দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মকা- জোরদারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য তিনি ওলামা-মাশায়েখসহ ইসলামী চিন্তাবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলন ও শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
* প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশের সব ধর্মের লোক স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়। তিনি বলেন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন এই দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বহাল থাকবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে যাতে অন্য ধর্মের সমস্যা না হয় সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। আবার সংখ্যালঘুরা যাতে শান্তিতে বসবাস ও সুন্দরভাবে ধর্ম পালন করতে পারেন সেদিকে সকলের দৃষ্টি দিতে হবে। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার জয়পুর গ্রামে শচীঅঙ্গন ধামের ৩৬তম বার্ষিক উৎসব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

১০ ফেব্রুয়ারি
* আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, হতাশায় বিএনপি এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। বেপরোয়া গাড়ির চালকের মতো তারা যে কখন রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে, তার কোনো ঠিক নেই। ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উদ্যোগে ‘যুবজাগরণ লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

১১ ফেব্রুয়ারি
* বাংলাদেশি ওষুধসামগ্রী আন্তর্জাতিকমানের বলে অভিহিত করে এর প্রশংসা করেছেন শ্রীলংকার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন। তিনি বলেন, এ দেশের ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রীলংকায় বিনিয়োগ করলে আরও ভবিষ্যৎ দেখতে পাবে। ঢাকায় শ্রীলংকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএলবিসিসিআই) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিবিসিসিআই) আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে শ্রীলংকার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসেকারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
* ঘুষ-দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের কপালে কলঙ্ক লাগিয়ে পদ্মাসেতু প্রকল্পের ঋণচুক্তি বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক সেই অভিযোগ কেবলই গালগল্প। ওই অভিযোগ উত্থাপনের ছয় বছরের মাথায় অবশেষে কানাডার এক আদালত থেকে এমন রায়ই এসেছে। পদ্মাসেতু প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ পেতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ সাধার অভিযোগ থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) দায়ের করা মামলায় ১০ ফেব্রুয়ারি অন্টারিওর একটি আদালত রায় দিয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন মতে, এসএনসি-লাভালিন গ্রুপ ইনকরপোরেশনকে ঘিরে কথিত একটি বিদেশি বড় দুর্নীতির মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক তিন নির্বাহীকে খালাস দিয়েছেন অন্টারিওর আদালত।

১২ ফেব্রুয়ারি
* পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মিথ্যা, গালগল্প কানাডার আদালতের এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সততার শক্তি ছিল বলেই বিশ্বব্যাংকের ওই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছিলেন তিনি। গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৭তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত দরবারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এতকাল পরে আজকে তারা স্বীকার করেছে, কোর্ট বলে দিয়েছে; এখানে তো কোনো দুর্নীতি হয়ই নাই, বরং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে অভিযোগ করেছে, তা ভুয়া, মিথ্যা ও আষাঢ়ে গল্প।’ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানুষের ‘মানমর্যাদা’ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
* ১ হাজার ৬৮৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) অকার্যকর করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচার এবং বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি করে কারখানায় ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি
* মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির সব ওষুধ এবং ১৪টি কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে এসব কোম্পানি গোপনে ওষুধ তৈরি বা বিক্রি করছে কি-না এবং কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালককে প্রতি তিন মাস পরপর আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৩ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন। এ ছাড়া যেসব কোম্পানির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) নীতিমালা মেনে ওষুধ উৎপাদন করার লাইসেন্স আছে, তাদের উৎপাদিত ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য রায়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি
* শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাসহ নতুন পাঁচ নির্বাচন কমিশনারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনাররা আজ শপথ গ্রহণ করেছেন। তাদের সবাইকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
* জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা (টেকনোলজি নিউট্রালিটি) দিতে বলেছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এক সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ পরামর্শ দেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন সব প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি বিষয়ে আইসিটি উপদেষ্টাকে জানাতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীসহ এই বিভাগের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
* পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। একই সাথে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ যারা পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদের সবারই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ডেকে স্পিকারের কাছে জবাবদিহিতা করারও দাবি জানিয়েছে এই জোটটি। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ১৪ দলের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
* প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার শপথ নেন। সুপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বেলা ৩টায় প্রথমে শপথ নেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা। এরপর পর্যায়ক্রমে চার নির্বাচন কমিশনার শপথ নেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

১৬ ফেব্রুয়ারি
* বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, এ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা এক পাকিস্তানি লেখকের বই বাংলাদেশে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বইটির নাম হচ্ছে ‘ক্রিয়েশনস অফ বাংলাদেশ : মিথস এক্সপ্লোডেড’। সচিবালয়ে বাংলাদেশ সফররত ভারতের বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

১৭ ফেব্রুয়ারি
* খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হতে পারবে না বলে বিএনপির হুশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবেই। জার্মানির মিউনিখে ১৭ ফেব্রুয়ারি জার্মান আওয়ামী লীগের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সত্যি কোর্টের কাছে এভিডেন্স থাকে চুরি করেছে, তা হলে শাস্তি হবে।

২০ ফেব্রুয়ারি
* সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
* ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রাধিকার কোটার পূরণ না হওয়া পদ সংরক্ষণের নিয়ম এককালীন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩৫তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার পূরণ না হওয়া পদগুলো ৩৬তম বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের শূন্য পদের সাথে যোগ করে তা পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।

২২ ফেব্রুয়ারি
* সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনার মামলায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মাহমুদ ফাইজুল কবীর এ রায় দেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি
* রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গাজীপুরের সালনায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপির যেসব নেতাকর্মী আগুন-বোমা অপরাধে যুক্ত, যারা এতে অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং যারা এসব হামলা অনুমোদন দিয়েছে, যত দিনই লাগুক না কেন তাদের শাস্তি পেতেই হবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন। জয় বলেন, যেভাবে আমরা ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনেছি, আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার এই আগুন-বোমা নিক্ষেপকারী অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনবে। তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই জানেন যে, কানাডার একটি আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে অভিহিত করেছে। ২০১৩-১৫ সালে বিএনপির আগুন-বোমা সন্ত্রাসের সময় হাসপাতালের একটি বার্ন ইউনিট দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখে আমি আঁতকে উঠেছি। এই ভয়াবহ দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়। এই আগুন-বোমা রাজনীতি হতে পারে না; এটা ছিল স্পষ্টই সন্ত্রাসবাদ।

২৫ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বাজারে আটকে না থেকে বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পোশাকেরও তো বৈচিত্র্য আছে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের পোশাক মানুষ ব্যবহার করে। কোন দেশে কোন পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর প্রত্যেক সিজনের সাথে সাথে রঙের বৈচিত্র্যও আছে, সেগুলো দেখে তা আনতে হবে। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দ্বিতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিট ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি
* আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী ড. জয়া সেনগুপ্ত। আর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আঞ্জুম সুলতানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপনির্বাচনে আবদুল মতিন ভূঞাকে দল সমর্থিত একক প্রার্থী করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।
* রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলের পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপের মধ্যে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ চার আসামিকে ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার বাকি দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান আসামিদের উপস্থিতিতে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি
* মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ২৮টি কোম্পানির তিন প্রকারের ওষুধের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২২টি কোম্পানির এন্টিবায়েটিক (পেনিসিলিন ও সেফালোস্পেরিন গ্রুপ) এবং বাকি ৬টি কোম্পানির হরমোন ও ক্যানসার জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
* ইউরোপের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি কসোভোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি
* রংপুরে চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কোনিও হোসিও হত্যা মামলায় জেএমবির রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুনসহ (৩০) পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যরা হলেনÑ জেএমবি সদস্য ইসহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব ও সাখাওয়াত হোসেন। রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবু সাঈকে নামে এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
ম  আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

59a উত্তরণ প্রতিবেদন: শহীদ কামারুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা জামান
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সহধর্মিণী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মা জাহানারা জামান আর নেই। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রোববার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে জাহানারা জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
হাজার হাজার মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বামী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরের পাশে সমাহিত হলেন তার সহধর্মিণী সমাজসেবী জাহানারা জামান। নগরীর শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সর্বস্তরের হাজারো মানুষের ঢল নামে। এরপর কাদিরগঞ্জ পারিবারিক গোরস্তানে স্বামীর কববের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাহ হাদিউজ্জামান
59bযশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামান পরলোকগমন করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নওয়াপাড়া পীরবাড়ি মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
’৭১-এর গণপরিষদ সদস্য, পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন রাজনীতিপ্রাণ পুরুষ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন আদর্শবান রাজনীতিক। কিশোর বয়সে হাদী থেকে আজকের সত্তরোর্ধ্ব আদর্শিক রাজনীতিবিদ শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন একজন নির্লোভ নিরঙ্কারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও বলিষ্ঠ তেজদীপ্ত নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে ১৯৬৬ সালে টগবগে যুবক শাহ হাদিউজ্জামান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক প্রচারণা চালান শাহ হাদিউজ্জামান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রদেশিক পরিষদের এমপি হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ওই প্রদেশিক পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ শাহ হাদিউজ্জামান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শাহ হাদিউজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিএলএফ (বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্সে) যোগ দিয়ে ভারতের কালছি নদীর পাড়ে দেরাদুন পর্বতে গেরিলা ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি যশোর-৪ আসন থেকে আরও চারবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা পাঁচবারের সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শাহ হাদিউজ্জামানকে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহ হাদিউজ্জামান।

Category:

বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

Posted on by 0 comment
57

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রথম বাংলাদেশ সফর

বাংলাদেশ সরকার দুই রাষ্ট্র… প্যালেস্টাইন একটা রাষ্ট্র হবে, ইসরায়েল একটা রাষ্ট্র হবে; এই যে বহু আগে গৃহীত যে সিদ্ধান্ত, তার প্রতি পুনরায় সমর্থন ব্যক্ত করে।

রাজীব পারভেজ: প্রতিটি ফিলিস্তিনের চোখে বাংলাদেশ এক প্রিয় নাম। কারণ গোটা বিশ্বে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে দেশ ইসরায়েলকে তার পাসপোর্টে নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এ কথা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিটি সদস্য জানে। এজন্য বাংলাদেশকে এরা সবাই যেমন একনামে চেনে, তেমনি প্রতিটি ফিলিস্তিনি গভীর ভালোবাসার টানে জীবনে একবার অন্তত বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে চায়। কিন্তু দখলদার ইসরায়েলের দমন-পীড়ন ও নানা বাধানিষেধ  ও বৈরিতার কারণে আপাতত সেই আশা পূরণ হওয়ার নয়।
মহান ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘ শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তিনি সেখানে দেওয়া তার বিখ্যাত ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার একহাতে জলপাইয়ে পাতা (শান্তি), অন্যহাতে ফিলিস্তিনের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ধারণ করে আছে। আমার হাত থেকে জলপাই পাতাটিই নিন।’ এর অর্থ হলো, ‘আমাকে অস্ত্র ধরতে বাধ্য করবেন না। এর পরেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশই পিএলও-কে স্বীকৃতি দেয়। আসলে আপনি ফিলিস্তিনকে সমর্থন করছেন মানে ন্যায়বিচারকে সমর্থন করছেন। যখন ইসরায়েলকে সমর্থন করছেন তখন শয়তানকে সমর্থন করছেন। এখন গোটা বিশ্বে এটি পরিষ্কার হয়ে গেল, কে শয়তান আর কে ফেরেস্তা। কার আধিকার কে হরণ করছে। কে দখলদার আর কে এর ভুক্তভোগী।’
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন সরকারিভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে আলজিয়ার্স শহরে নির্বাসনে ঘোষিত একটি রাষ্ট্র, যেখানে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) ও প্যালেস্টাইন জাতীয় পরিষদ (পিএনসি) একপাক্ষিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ১৯৮৮ ঘোষণার সময়ে কোনো অঞ্চলেই পিএলও’র নিয়ন্ত্রণ ছিল না, যদিও তারা যে অঞ্চলগুলো দাবি করেছিল আন্তর্জাতিকভাবে সেগুলো ইজরায়েলের দখলে ছিল। আরবরা দাবি করেছিল, ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ দ্বারা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন বিভাগ যেভাবে প্রস্তাবিত হয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিন ভূখ- ছাড়াও ইসরায়েল শাসনাধীন অঞ্চলও ছিল এবং জেরুজালেমকে ঘোষিত রাষ্ট্রের রাজধানী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
গত ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার পক্ষ থেকে সমর্থন অটুট থাকার কথা জানান। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের নিন্দাও জানানো হয় বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন দিয়ে আসছে। কোনো স্বার্থের ভিত্তিতে নয়, সংবিধানে বলা আদর্শের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামে বাংলাদেশের এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাবেও বাংলাদেশ সমর্থন দিয়েছিল। সফরে শেখ হাসিনার সাথে মাহমুদ আব্বাসের একান্তে আলোচনার পর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়, যাতে দুই দেশের যৌথ কমিশন গঠনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
বাংলাদেশ সরকার দুই রাষ্ট্র… প্যালেস্টাইন একটা রাষ্ট্র হবে, ইসরায়েল একটা রাষ্ট্র হবে; এই যে বহু আগে গৃহীত যে সিদ্ধান্ত, তার প্রতি পুনরায় সমর্থন ব্যক্ত করে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য বাংলাদেশের যে ‘চিরন্তন’ সমর্থন আছে, তাও অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয় এবং নতুন করে সেটেলমেন্ট হওয়ার যে উদ্যোগ ইসরায়েল নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিন্দা জানান। শেখ হাসিনা এর আগেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। কয়েক বছর আগে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের নেতা ইয়াসির আরাফাতের গভীর বন্ধুত্বের কথাও মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠকে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ইয়াসির আরাফাতের যে সমর্থন, তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ও ইয়াসির আরাফাতের যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল, সে বিষয়টিও এবারকার বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
গাজায় বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশ
গত বছরে ফিলিস্তিন অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বরতা, হত্যাযজ্ঞ ও আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানায় বাংলাদেশ। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতা ও জীবননাশী সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে মর্মাহত হয়। বিমান হামলায় মর্মান্তিকভাবে বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানিয়ে গাজায় বেসামরিক লোকজনের ওপর নৃশংসতা বন্ধে উভয়পক্ষকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। আরব অঞ্চলের শান্তি পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে জাতিসংঘ গৃহীত প্রস্তাবনার সাথে বাংলাদেশ একমত পোষণ করে। এজন্য চলমান সমস্যা সমাধানে আগের মতো শান্তি প্রক্রিয়া পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে সংলাপে বসার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস করে ইসরায়েল কর্তৃক প্যালেস্টাইনি ভূমি দখল অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র পাবে ফিলিস্তিনি জনগণ।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরোচিত অমানবিক, বীভৎস বিমান ও মর্টার হামলা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতিসংঘ কূটনীতিক তৎপরতা চালালেও তাতে তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়া বিশ্ব শান্তির জন্য এক অশনিসংকেত। তা ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ আন্তর্জাতিকমহলের আহ্বান উপেক্ষা করে এই হামলা অব্যাহত রাখার যে ঘোষণা ইসরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান দিয়েছেন তা বিশ্বের শান্তি রক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। অব্যাহত হামলার কারণে ফিলিস্তিনের গাজায় এখন মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়। যা বিপন্ন মানবতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে। ওই এলাকার জনগণ আরও হামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করে মানবেতর ও আতঙ্কের মাঝে দিনাতিপাত করে। হাসপাতালগুলো লাশের সারি আর আহতদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে। যা বিশ্ব বিবেককে তখন নাড়া দিয়েছে।
সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিবৃতি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ এবং বামপন্থি কমিউনিস্ট পার্টি থেকে শুরু করে, ডানপন্থি ইসলামি দলগুলো সবাই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানায়। ‘গাজায় হত্যা বন্ধ কর’, ‘শিশু হত্যা বন্ধ কর’, ‘স্টপ কিলিং ইন গাজা’, ‘স্টপ কিলিং ইন চিলড্রেন’Ñ এসব প্লাকার্ড হাতে বাংলাদেশে এবং বিভিন্ন দেশের মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ স্লোগান দিয়ে শহরের রাস্তার পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এবং সরকার প্রথম থেকেই সর্বদা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণকে বাংলাদেশি সরকার ও জনগণ সবসময় সম্মানের চোখে দেখে।
১৯৮০-র দশকে ফিলিস্তিনের জন্য বাংলাদেশি যোদ্ধারা
১৯৮০-এর দশকে ফিলিস্তিনের হয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়ায়ে শরিক হতে স্বেচ্ছায় ছুটে গেছিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। তাদের এই অবদান ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে মোটেও নগণ্য নয়। অন্যায়-অবিচার, জুলুম-হত্যা আর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনের পাশে। তখনকার চরম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের সাথে অস্ত্র হাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়া থেকে শুরু করে অস্ত্র-রসদ বহন এমনকি পাহারার কাজও করেছিল এসব বাংলাদেশি যুবকরা। ইউএস লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এর তথ্যমতে, প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি যুবক সে সময় প্যালেস্টাইনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের সাথে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। অনেক তরুণ যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্যও যুদ্ধে অংশ নেন। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি সাহসী তরুণ প্রাণ শাহাদাৎবরণ করেন।

Category:

রাশিয়ার চেখভ স্টুডিও’র বাংলাদেশে নাট্যভ্রমণ

Posted on by 0 comment

56আবু সুফিয়ান আজাদ: নাটকে যে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করা হয় তা মূলত সমাজেরই ঘটে যাওয়া কোনো না কোনো ঘটনার অংশ। ফ্যান্টাসিনির্ভর নাটকও আমাদের ভাবনার বা চেতনার বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ নাটক আমাদের আচার-ব্যবহার, অভ্যাস, কৃষ্টি থেকে শুরু করে সমাজের মানুষগুলোর ভাবনা-চেতনাও তুলে ধরে। মঞ্চনাটক মানুষের বিনোদনের অতি প্রাচীন একটি মাধ্যম। নৃত্যকলার পাশাপাশি কাহিনিনির্ভর নৃত্য বা নাট্যকলার চর্চা এই বাংলায়ও অতি প্রাচীন। আজ থেকে প্রায় ১২০০ বছর আগে অষ্টম শতকের পাল শাসকের সময় বাংলায় যে সমাজ বা সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল সে সময়ও নাট্যকলার প্রচলন ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন। বহু আগেই হয়েছে সংস্কৃতি আদান-প্রদানের সূচনা। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠী যেমন বিভিন্ন দেশে গিয়ে তুলে ধরে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি, তেমনি আবার ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে ভিনদেশি নাট্য সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয় আমাদের দেশে কিংবা ভিনদেশি নাট্য সম্প্রদায়ও আমাদের দেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে।
গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হলো সে ধরনের একটি আয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে রাশিয়ার প্রখ্যাত নাট্যদল ‘চেখভ স্টুডিও’ তাদের দুটো প্রয়োজনসহ নাট্যদক্ষ শিল্পী-শিক্ষক নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হলো চেখভ ও গাংচিল এবং ভল্লুক শিরোনামের রাশিয়ার চেখভ স্টুডিওর দুটি নাটক।
নাটকটিতে অনেকগুলো ত্রিভূজ প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ পায়। স্কুলশিক্ষক মেদভেদেস্কো ভালোবাসে খামারবাড়ির তত্ত্বাবধায়কের মেয়ে মাশাকে। এদিকে মাশা ভালোবাসে কনস্তানতিনকে। আবার কনস্তানতিন ভালোবাসে নিনা জারেচনায়াকে। কিন্তু নিনা ভারোবাসে ত্রিগোরিনকে। পলিন যে ইলিয়া শামরায়েভের স্ত্রী, তার আবার ডাক্তার ডনের সাথে প্রেম। কনস্তানতিনের প্রতি মাশার ভালোবাসার কথা যখন সে ডর্নকে জানায়, তখন ডর্ন অসহায়ের মতো হ্রদটিকেই দোষারোপ করে প্রত্যেকের মনে প্রেম জাগিয়ে তোলার জন্য।
ভল্লুক নাটকটি নির্দেশনায় ছিলেন যৌথভাবে ভøাদিমির বাইচার ও তাতিয়ানা ফেদিয়ুশিনা। অভিনয়ে ছিলেন মারিনা সুভোরোভা, সেরগেই ফাতিয়ানভ, ইউরি গলিশেভ। ভল্লুক নাটকটির মাধ্যমে নির্মাতা একজন নারীর মনে নীতির প্রতি যে ভালোবাসা সেটা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। নাটকের এলেনা আইভানভলা নারী চরিত্রটি স্বামী বিয়োগের পর তার স্বামীর আলোকচিত্রের দিক তাকিয়ে কাটিয়ে দেন অনেকগুলো দিন। মানসিক এই করুণ অবস্থার ভিতরেই শুরু হয় উটকো ঝামেলা। প্রতিবেশী ভূস্বামী গ্রিগরি আইভানোভিচ আসে স্বামীহারা এলেনা আইভানভার কাছে তার স্বামীর গ্রহণ করা ঋণের টাকা পরিশোধ করার প্রস্তাব নিয়ে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ক্ষুব্ধ গ্রিগরি আইভানোভিচ অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে পোপোভাকে ডুয়েল লড়তে আহ্বান জানায়। পোপোভাও আগ্রহের সাথে লড়তে রাজি হয়। কিন্তু সে জানে না কীভাবে বন্দুক চালাতে হয়, তাই ভদ্র মহিলা আগন্তুককে অনুরোধ করে সে যেন তাকে বন্দুক চালনা শিখিয়ে দেয়। সুন্দরী বিধবার সাহসের তারিফ করে গিগেরি তাকে দেখিয়ে দেয় কীভাবে বন্দুক চালিয়ে গুলি করতে হয়। এই শেখানোর সময়েই সে ভদ্র মহিলার কোমর ধরে গভীর আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়। সবশেষে দেখা যায়, শিক্ষক ও ছাত্রী হাতে পিস্তল ধরে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে প্রগাঢ় চুম্বন করছে। আর এই দৃশ্য দেখে বিশ্বস্ত চাকর লুকা যে তার বাড়িওয়ালীকে রক্ষা করতে এসেছিল সে হতভম্ব হয়ে একেবারে পাথর বনে যায়।
নাটক দুটির মাধ্যমে লেখক গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে ভল্লুক নাটকটিতে মারণাস্ত্র হাতে নিয়েও মানুষের যে প্রকৃত গুণ বা গুণ হওয়া উচিত, সে ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তা সত্যি অসাধারণ। এই নাটকটির মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়Ñ অস্ত্র নয়, ভালোবাসাই সকল বিবাদ মীমাংসার মাধ্যম।
এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন, ৯ ফেব্রুয়ারির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আইভানোভিচ ইগনাতভ।

Category:

প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উৎপাদন এবং সম্ভাবনা

Posted on by 0 comment

54রাজিয়া সুলতানা: কৃষি খাত বর্তমান সরকারের সাফল্যাঙ্কের অন্যতম মাইলফলক। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দিন দিন কমছে আবাদযোগ্য জমি। কিন্তু তারপরও বাড়ছে কৃষি উৎপাদন। এর মধ্যে স্বাধীনতার পর এ দেশে শুধু ধানের উৎপাদনই বেড়েছে ৩ গুণের বেশি। হেক্টরপ্রতি ধানের বাম্পার ফলনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। মোট ধান উৎপাদনে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং পরিশ্রমী কৃষক ও মেধাবী কৃষিবিজ্ঞানীদের যৌথ প্রয়াসেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ফলে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কোনো চাল আমদানি করেনি। বরং শ্রীলংকায় চাল রপ্তানি শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৬৭টি ধানের জাত, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ১৪টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। আর ১১৫টি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ পর্যন্ত ব্রি ও বিনার বিজ্ঞানীরা মোট ১৫টি প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে লবণসহিষ্ণু ৯টি, খরাসহিষ্ণু ২টি ও বন্যাসহিষ্ণু ৪টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন তারা। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। এর নাম ব্রি৬২ ও ব্রি৬৪। জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের চালে কেজিপ্রতি ২৪ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে, যা থেকে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ শরীরের চাহিদার ৪০ শতাংশ জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে ব্রি’র গবেষকরা গোল্ডেন রাইস নামের ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ একটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবিত এসব জাতের মধ্যে হাইব্রিড ধানের ধরন রয়েছে ৪টি। উন্নত জাতের ধানের মধ্যে ৮ থেকে ৯ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে ৭-৮টি জাত। ৮টি জাতের উৎপাদনক্ষমতা ৬-৭ টনের বেশি। হেক্টরপ্রতি ৫ টন উৎপাদন হয় ১২টি জাতের। ৩ টনের বেশি উৎপাদন হয় মাত্র ৩টি জাতে।
তিন মৌসুমে চাষাবাদেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিপুলভাবে চাষাবাদ শুরু না হলেও খরাসহিষ্ণু, বন্যাসহিষ্ণু, লবণাক্ততাসহিষ্ণু, শীতসহিষ্ণু ধানের জাত ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ফলন, জীবনকাল ও বীজের মান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঠিক রাখা হয়েছে। আর এজন্য ধান গবেষণায় কৃষকের আস্থা ও বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে ব্রি। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আশার বাণী নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-এর সহায়তায় বন্যাসহিষ্ণু বিনাধান-১১ ও বিনাধান-১২ উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ জলমগ্ন থাকলেও স্বাভাবিক ফলন দিতে সক্ষম। গবেষকরা জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যাসহিষ্ণু ধানের নতুন এই জাতটি চাষ করা হলে প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ বন্যাকবলিত এলাকা ধান চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। উল্লিখিত জাত দুটির রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেক কম। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ৪৪ বছরে বোরো চাষের উপযোগী ধান চাষের জমি কমেছে। কিন্তু বেড়েছে ধানের উৎপাদন। ব্রি’র উফশী আধুনিক ধানের জাত (শীতকালীন) ৮২ শতাংশ, গ্রীষ্মকালীন ৩৬ শতাংশ এবং প্রতিস্থাপিত আমনের বর্ষাকালীন ধান চাষ হচ্ছে ৪৭ শতাংশ এলাকায়। ব্রি’র উফশী আধুনিক জাত প্রতিবছর ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে ১৯৭০-৭১ উৎপাদন বছরে যেখানে দেশে ধান হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টন, সেখানে ২০১২-১৩ উৎপাদন বছরে তা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টনে। এ বৃদ্ধি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ উৎপাদন বছরে পৌনে ৪ কোটি টনে গিয়ে পৌঁছেছে। ২০১৫-১৬ উৎপাদন বছরে ৪ কোটি টন ছাড়িয়ে গেছে।
উফশী এবং হাইব্রিড স্পর্শকাতর হওয়ায় বাংলাদেশে মৌসুম ভেদে নাবী, আগাম, স্বল্পমেয়াদি, লবণসহিষ্ণু, খরাসহিষ্ণু, জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাতের ধানের চাষাবাদের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। প্রবর্তন হচ্ছে নতুন নতুন শস্য বিন্যাস। গুঁড়া ইউরিয়ার পরিবর্তে গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার বাড়ছে। আবিষ্কার ও ব্যবহার হচ্ছে ধান বপন, রোপণ, মাড়াই-ঝাড়াইয়ের কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্রসহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতির।
১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ব্রি নাম ধারণ করে। ব্রি’র মাধ্যমেই বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাস ও কৃষি মনস্তত্ত্ব বদলে যায়। কৃষি গবেষণার সূচনাপর্বে ধানের উৎপাদন ছিল হেক্টরে ১ টনের কাছাকাছি। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে প্রতিহেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হতো ২ টন। এখন উৎপাদন হচ্ছে হেক্টরপ্রতি ৪ টনেরও বেশি।
২০২১ সালে বাংলাদেশ ৫০ বছরে পা রাখবে। সুবর্ণজয়ন্তীর এই লগ্নে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে আমরা কোন অবস্থানে দেখতে চাই, সেটাই বস্তুত ভিশন ২০২১-এর মূল কথা। নতুন সহ¯্রাব্দে পদার্পণের পর ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এক নিরাপদ বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়। জাতিসংঘ যেমন মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)-এ ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করা শুরু করে, বাংলাদেশও তেমনি এই বৈশ্বিক উন্নয়ন শোভাযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে অংশ নিতে ভিশন ২০২১-এর ব্যানার নিয়ে এগিয়ে এসেছে। স্বদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এক মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মেলে ধরতে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বর্তমান সরকার।
বাংলাদেশ শুধু ডিজিটালের দিকেই এগোচ্ছে না। খাদ্য উৎপাদনসহ কৃষিতেও এগিয়ে যাচ্ছে তাল মিলিয়ে। বহুমুখী সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও এ খাতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪ কোটি টন চাল উৎপাদন। দুই বছর আগেও এই উৎপাদন ছিল সাড়ে ৩ কোটি টনের নিচে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মাননাপত্র দিয়ে সম্মান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফরকারী পরিচালক রোনি কোফিম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পক্ষে ২০ মে ২০১৫ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে সম্মাননাপত্রটি হস্তান্তর করেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড্যাভিড জে স্কোরটন স্বাক্ষরিত সম্মাননাপত্রে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে, খাদ্য উৎপাদনে স্বাবলম্বিতা অর্জনে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানকে সমর্থন জানানো হয়।
বর্তমান সরকার তার সুপ্রসারিত টেকসই কৃষিনীতির ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলছে। সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ অনুয়ায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও বর্তমান জনগণবান্ধব সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
একই গাছে ৬ মাসে দুবার ধান
জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী উদ্ভাবিত এক গাছে দুবার ধান ফলনের জিন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। একই জমিতে একবার ধান চাষ করলে দুবার ফসল পাওয়া যাবে। প্রথমবার ধান কাটার পর ওই গাছেই পুনরায় ধান হবে। মাত্র ছয় মাসেই কৃষকের ঘরে ফসল উঠবে দুবার। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে ড. আবেদ পরীক্ষামূলকভাবে এই ধান চাষ শুরু করেছেন। জানা গেছে, একটি ক্ষেতে প্রথমে বোরো ধানের চারা রোপণ করে পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যার ১৩০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উচ্চতার গাছে প্রথমবারের মতো ফসল (ধান) বেরিয়ে আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ওই ধান কেটে ফেলতে হয়। ক্ষেতে নতুন করে চাষাবাদ ছাড়াই পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে পরবর্তী ৫২ দিনের মাথায় দ্বিতীয়বার ফলন মেলে। প্রথমবার ধান কেটে নেওয়ার পর দেখা যায় প্রতিহেক্টরে ৬ দশমিক ৪ টন এবং দ্বিতীয়বার ৩ টন উৎপাদিত হয়।
কৃষির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- ও জীবন-জীবিকার ধারা। নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে অর্থনীতির নতুন এক দিগন্ত প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ঋদ্ধজ্ঞান-মেধা, কৃষকের শ্রম-ঘাম, যথাযথ তদারকি, সর্বোপরি সরকারের সদিচ্ছায় ধান উৎপাদনের এই রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। আর এতে পাল্টে গেছে জাতীয় জিডিপির গ্রাফ। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুসারে শুধু কৃৃষি খাতে জিডিপির অবদান ২১ শতাংশ। আর কৃষিশ্রমে ৪৮ শতাংশ। কৃষির অনুষঙ্গ বিভাগে সামগ্রিক পরিসংখ্যান ৫৬ শতাংশ। পরিশেষে বলতেই হয়, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যত অর্জন আছে, তার মধ্যে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো।

Category:

বদলে গেছে শহর-গাঁও উন্নয়নের সোনার নাও

Posted on by 0 comment

বদলে গেছে গ্রামীণ বাজারের চেহারাও। প্রত্যন্তাঞ্চলের মুদি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে শ্যাম্পু, সুগন্ধি সাবানসহ প্রসাধন সামগ্রী। গ্রামের মানুষ এখন আগাছা অথবা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজে না, টুথপেস্ট-ব্রাশ না হলেও অন্তত টুথ পাউডার ব্যবহার করে।

51রায়হান কবির: জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন হলো দেশের সকল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-দর্শন থেকে উৎসারিত এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলনীতি দ্বারা অঙ্কুরিত হয়েছে। বাংলাদেশের ৭২ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। কাজেই একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতি-রাষ্ট্র গঠনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন অপরিহার্য। নীতিগতভাবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সকল মানুষের উন্নয়নÑ তথা সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন আওয়ামী লীগের জন্মলগ্নে গৃহীত খসড়া ম্যানিফেস্টোর শুরুতেই বলা হয়েছেÑ ‘সামাজিক অবস্থা মতামত ও নারী-পুরুষ নির্ব্বশেষে পাকিস্তানের সমগ্র জনসাধারণের ধর্ম্ম সভ্যতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু জীবনের সমান অধিকার ও সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে।’ জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ সমগ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের সংগ্রাম করে আসছে। পরবর্তীতে যা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন অতঃপর স্বাধীনতার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেনÑ
‘আমি সেন্টিমেন্টালি বাংলাদেশের মানুষের সাথে এ্যাটাচ্ড্। কথাটা তোমাদের পরিষ্কার বলে দেবার চাই। তোমরা সকলে জান যে, প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য আমি রাজনীতি করি নাই। তোমরা সকলে জানতা, ইচ্ছা করলে আমি বহু আগে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম। এ প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে কাঁটা বলে মনে হয়। আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তা হলে আমি শান্তিতে মরতে পারবো নাÑ পারবো নাÑ পারবো না। আমার জীবন বৃথা হয়ে যাবে। আমার যৌবন কারাগারের অন্তরালে কাটিয়ে দিয়েছি এ দেশের মানুষের জন্য। আমি ওদের কাছে থাকতে চাই, ওদের সাথে সাথে মরতে চাই, এর বেশি আমি আর কিছু চাই না।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের নির্মম বুলেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন হারিয়ে বিদেশে নির্বাসন জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছিলেনÑ
‘বঙ্গবন্ধু ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করে দিতে চাই। আমার আর কিছু পাবার নেই। সব হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি আপনাদের ভালবাসা নিয়ে। পাশে থেকে বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।
আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি। শোষণের মুক্তি। বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। আজ যদি বাংলার মানুষের মুক্তি না আসে, তবে আমার কাছে মৃত্যুই শ্রেয়। আমি আপনাদের পাশে থেকে সংগ্রাম করে মরতে চাই।’
বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলার মানুষের মুক্তি, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব তথা অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি আজ বিশ্ববাসীর কাছে রোলমডেল। বাংলার মানুষের মুখে আজ হাসি ফুটেছে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাঙালি জাতিকে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বিজয় এনে দিয়েছেন। একটি উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছেন আজ তা বাস্তবায়নও করছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চেহারা। নিকট অতীতেও বাংলাদেশের নগর অর্থনীতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির মধ্যে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান ছিল। গ্রামীণ জনপদ ছিল দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার, পশ্চাৎমুখিতা, সুবিধাবঞ্চিত, অভাব-অনটন ও দুঃখ-দুর্দশা ক্লিষ্ট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়Ñ ‘দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান কৌশল হবে কৃষি ও পল্লী জীবনে গতিশীলতা। হতদরিদ্রের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিস্তৃত করা হবে।’ একই সাথে ইশতেহারে পল্লী উন্নয়নে নাগরিক সুযোগ-সুবিধার পরিধি বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও ঘোষণা করা।
বাংলাদেশের জনগণের নিকট করা আওয়ামী লীগের সে অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকৃতার্থেই, বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যের হার বিস্ময়করভাবে হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার এখন ২২.৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নি¤œবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো মানুষ আজ না খেয়ে থাকে না। খাওয়ার অভাব নায়Ñ মঙ্গা নাই, খড়া নাইÑ মারাত্মক কোনো দুর্যোগও নাই। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘হতদরিদ্রের হার কমাতে বাংলাদেশ যে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে, তা পুরো বিশ্বকেই আশাবাদী করে তুলেছে।’
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে ৩০ পদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। টেলিমেডিসিন প্রকল্পের আওতায় ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও যে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭১.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্যকার্ড বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনপদের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নেতৃত্বে অটিটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপের ফলে অটিজমের মতো মানবিক স্বাস্থ্য সমস্যাটিও বিশ্বসমাজের দৃষ্টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। অটিস্টিক শিশুদের সুরক্ষায় ২২টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
চা-শ্রমিকদের অনুদান ১০ কোটি থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ কোটি করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার, ঘরে ফেরা কার্যক্রম, দুস্থ ভাতাসহ ১৪৫টি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুবিধা পাচ্ছেন। সম্প্রতি ১০০টি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উদ্বোধন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখেরও বেশি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহায়ন কর্মসূচিসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার পরিবার পুনর্বাসন করার কাজ চলছে।
১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার বয়স্কভাতা, বিধবা ও দুস্থ নারী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অধীনে চলতি বছর ১৪২টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি বাবদ ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। হিজড়া এবং বেদে সম্প্রদায়ের জন্য ৬০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় শিক্ষার হার ৬৫ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। আর সেখানে বর্তমান শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে ৭১ শতাংশে উন্নীত করেছে। গত সাত বছরে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ২৪৩ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। শহরের নামি-দামি স্কুলে লেখাপড়া করা ধনি পরিবারের সন্তান এবং গ্রামের স্কুল পড়–য়া অতি দারিদ্র্য পরিবারের সন্তান একই দিনে, একই সাথে নতুন বই পাচ্ছে। বিদ্যালয়বিহীন ১ হাজার ১২৫টি গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ২৬ হাজার ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়েছে। ৩৫ হাজার ৫০০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীরাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের কল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তিগত জ্ঞানার্জন করে নিজেকে যুগোপযোগী করে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। এখন গ্রামের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের অবাধ সুযোগ পাচ্ছে। তারা শহরে শিক্ষার্থীদের সাথে সমান তালে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। তারা শহরের বড় বড় পদে চাকরি করছে। বড় বড় ব্যবসায় নিয়োজিত হচ্ছে। তাদের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা।
দেশে কৃষি পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে কৃষি খাতের উন্নয়নে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বহুকৌণিক পদক্ষেপের ফলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে কৃষি ব্যবস্থায়। দেশে কৃষি খাতে অর্জিত হয়েছে ব্যাপক অগ্রগতি। কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের সাধারণ কৃষক শ্রেণির আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩ গুণ। শাক-সবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ। বর্তমানে বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে নবম এবং আলু উৎপাদনে অষ্টম স্থানে এবং মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ হিসেবে স্বীকৃত। ৪ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনার ফলে অতিরিক্ত প্রায় ২১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২৭টি কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সারাদেশে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। গত আট বছরে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার কৃষি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্গাচাষিদের জন্য কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি গ্রামবাসী কৃষকের আছে নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপার্জন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্পেরও ব্যাপক প্রসার ঘটছে। গ্রামে-গঞ্জে সম্প্রসারিত হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। হাঁস-মুরগির পোল্ট্রি ফার্ম থেকে শুরু করে মৎস্য চাষ এমনকি গাড়ির বডি পর্যন্ত এখন গ্রামে তৈরি হচ্ছে। পোল্ট্রি ফার্ম ও ডেইরি ফার্ম, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের ফার্ম এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের মাধ্যমে উপার্জনের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে গ্রামাঞ্চলে। পুরুষের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে স্বল্প পুঁজির নারী উদ্যোক্তা। এসব ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কল্যাণে গ্রামের কর্মহীন নারীরাও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের সচ্ছলতা আনছেন গ্রামের মহিলারা। গ্রামের মেয়েরা এখন সাইকেল চালিয়ে স্কুল-কলেজে যায়।
বদলে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের চেহারাÑ বদলে গেছে জীবনযাত্রার মান, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা। কুঁড়েঘরের জায়গায় এসেছে টিনের ঘর, টিনের ঘরের জায়গায় পাকা দালান। প্রায় প্রতি বাড়িতেই রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে উৎপাদনÑ পণ্য বিপণনও হয়েছে সহজতর। প্রত্যন্ত, দুর্গম এলাকার গ্রামও এখন পাকা সড়ক দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে শহরের সাথে। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোতে যেখানে প্রয়োজনীয় তেলের অভাবে কুপিবাতিও জ্বলত না, সেসব ঘরে এখন পল্লী বিদ্যুৎ অথবা সৌরবিদ্যুতের আলো ঝলমল করছে। বিদ্যুতের সাথে গ্রামে পৌঁছে গেছে টেলিভিশন, কম্পিউটার, রেফ্রিজারেটরসহ আধুনিক ইলেকট্রনিক সামগ্রীও। যে গ্রামে ডাকচিঠি, টেলিগ্রাম, মানিঅর্ডার পৌঁছাতে অনেক দিন লেগে যেত, সেই গ্রামের অতি সাধারণ মানুষও এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। দেশের প্রত্যন্তাঞ্চলে নেটওয়ার্ক বিস্তার হওয়ায় মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহারের সংখ্যা ১৩ কোটি ছাড়িয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩৯ লাখেরও বেশি। আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে ১ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ৫ হাজার ডিজিটাল সেন্টার নির্মাণ করে ২০০ প্রকার সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০৯টি উপজেলাকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রামে বসে শিক্ষিত যুবকরা আউটসোসিংয়োর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তেই টাকা লেনদেন করতে পারছে শহর ও গ্রামের মানুষ। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে গ্রামের স্বল্প-শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের মতামত পোস্ট করে বিশ্বায়নের গতিধারায় যুক্ত হচ্ছে। গ্রামের মানুষ এখন ইন্টারনেট ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বড় গ্রাহক। মফস্বলে পৌঁছে গেছে ই-কমার্সের সুবিধা।
বদলে গেছে গ্রামীণ বাজারের চেহারাও। প্রত্যন্তাঞ্চলের মুদি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে শ্যাম্পু, সুগন্ধি সাবানসহ প্রসাধন সামগ্রী। গ্রামের মানুষ এখন আগাছা অথবা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজে না, টুথপেস্ট-ব্রাশ না হলেও অন্তত টুথ পাউডার ব্যবহার করে। চিপস্, কোল্ড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, ফ্রুট ড্রিংকস এমনকি মিনারেল ওয়াটারও পাওয়া যায় গ্রামের দোকানে। এমনকি গ্রামের বাজারে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, মোবাইল ফোনসহ অত্যাধুনিক বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রীও পাওয়া যায়।
আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। এসব প্রবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগই গ্রামের বাসিন্দা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত এসব প্রবাসী শ্রমিকদের উপার্জিত অর্থ পাল্টে দিচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চেহারা। এখন গ্রামে গ্রামে নির্মিত হচ্ছে কয়েকতলা পাকা ভবন। যেখানে থাকছে বৈদ্যুতিক সংযোগসহ শহুরে জীবনের মতো আধুনিক-উন্নত নানা সুযোগ-সুবিধা। বাড়িতে বাড়িতে রয়েছে মোটরসাইকেল; এমনকি কোথাও কোথাও বিলাসবহুল গাড়িও।
গ্রামের গরিব মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যেখানে থাকবে বাজার, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, নিরাপদ পানি, সৌরবিদ্যুৎ, গবাদিপশু রাখার স্থান। গ্রামে আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণে ‘পল্লী জনপদ’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সম্পূর্ণরূপে পাল্টে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতিÑ সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও সচ্ছলতার উচ্ছলতায় ভরে উঠবে গ্রামীণ জীবন।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে একটি আধুনিক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে ডিজিটাল সেবা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোসহ সকল খাতের সাফল্যের সুবিধা ভোগ করছে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। বাংলার আকাশে-বাতাসে তাই ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছেÑ
বদলে গেছে শহর-গাঁও
উন্নয়নের সোনার নাও।

Category:

পদ্মার চরে আধুনিক ক্রীড়াপল্লী গড়ার ঘোষণা

Posted on by 0 comment
49

রোলার স্কেটার ‘হৃদয়’ ছুঁয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর

আরিফ সোহেল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোলার স্কেটার ‘হৃদয়ের’ মাথায় অকৃত্রিম মমতায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। দল চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ হতে পারেনিÑ কষ্ট নিয়েও ছলছল চোখে মমতার সেই নির্যাস অবগাহন করলেন হৃদয়ও। এই দৃশ্য রোলার স্কেটিং আঙিনার অভ্যাগতদের গভীরভাবে স্পর্শ করছিল। কারণ হৃদয়ের গর্বিত অর্জনে বুক উঁচিয়ে বাঙালি জাতি। ৩৯ দেশের আসরের ছয় শতাধিক খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে ১৬ বছরের হৃদয়ই জয় করেছেন সেরার রাজমুকুট। পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নিরুদ্বিগ্ন দীন ইসলাম হৃদয় গ্রহণ করছেন ১ লাখ টাকার চেক। দৃশ্যপট ২৪ ফেব্রুয়ারির ২০১৭। ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন নবনির্মিত শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স।
টুর্নামেন্টে কোনো বিভাগেই শিরোপা জিতেনি বাংলাদেশ। চতুর্থ আসরে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে শিরোপা জিতেছে ভারত। একইভাবে উভয় ইভেন্টে রানার্সআপ ইরান। বাংলাদেশের হৃদয়রা আসরে চতুর্থ। তবে হৃদয় 50জিতেছেন। তার অর্জনে গর্বিত গোটা বাঙালি জাতি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও আবেগ-আপ্লুত না থেকে পারেন নি। এর আগে সকালে ‘শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার্সআপ ইরান দলের অধিনায়কদের হাতে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. জাহিদ আহসান রাসেল, আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ, রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক রোলবল ফেডারেশনের সভাপতি পেনিয়া কাবিঙ্গে, সাধারণ সম্পাদক রাজু ডাবাদে এবং বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আসিফুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল নানা আয়োজন। নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা হাতে ৩৯ দেশের খেলোয়াড়রা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে। এরপর শেখ রাসেলকে নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি গানের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম মুজিব, শেখ হাসিনা, শেখ কামালসহ পরিবারের সদস্যদের নানা বিরল ছবি বড় পর্দায় ভেসে ওঠে। তার সাথে বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে ‘ও আলোর পথযাত্রী’ গানের সাথে দলগত নৃত্য সামগ্রিক আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ অমর একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেছেন, সমাপনী অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের মাঝে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। সেই পদ্মার চরেই আমরা একটি উন্নতমানের ক্রীড়াপল্লী গড়ে তুলব, যেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা আয়োজন এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমনকি একটি অলিম্পিক কমপ্লেক্সও আমরা তৈরি করতে চাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, রোলবল বাংলাদেশে খুব পরিচিত নয়। উদ্যোগ নিতে হবে, খেলাটি যেন আরও পরিচিতি পায়। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। যুবসমাজ যেন খেলাধুলার প্রতি আরও সম্পৃক্ত হয়, সেজন্য আমরা প্রত্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম এবং জেলাগুলোতে স্টেডিয়ামের সাথে সাথে সুইমিংপুল নির্মাণসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। খেলাধুলার প্রতি যেন ছেলেমেয়েরা আরও আগ্রহী হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই খেলাধুলার মাঝে আমি মনে করি, একটা দেশের খেলোয়াড়দের সাথে অন্য দেশের খেলোয়াড়দের মতবিনিময়ের সুযোগ হয়, বন্ধুত্বের সূচনা হয়। ট্র্যাক থ্রি ডিপ্লোমেসির এই সময়ে খেলাও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।
স্কুল পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেখান থেকে পারদর্শিতা অর্জন করে আমাদের আগামী দিনের খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। আমরা মনে করি, যুবসমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা একান্তভাবে জরুরি।
খেলাধুলায় ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোলবলে মেয়েদের অংশগ্রহণ নারীর ক্ষমতায়নে তার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশকে মনে রাখার আহ্বান জানান।
রোলবলের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। এর আগে এতগুলো দল কখনও অংশ নেয়নি। এই আসরকে সামনে রেখে ক্রীড়াবান্ধব বর্তমান সরকার বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছিল। প্রায় ২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করে জাতির পিতার ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নামে ‘শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স’সহ ক্রীড়াঙ্গনের স্থায়ী আবাসনগুলোর ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছিল খেলোয়াড়দের জন্য।
বাংলাদেশে এর আগে আইসিসি বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ ক্রিকেট, দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের মতো বড় আয়োজন হলেও দলীয় সংখ্যাগত দিক থেকে সব টুর্নামেন্টকে ছাড়িয়ে গেছে চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ।
বাংলাদেশের গর্ব হৃদয় প্রথম ম্যাচে হংকংকে একাই উড়িয়ে দিয়েছিলেন ৯ গোল করে। পরের প্রতিটি ম্যাচে পারফর্ম করা হৃদয়ের হাত ধরেই টানা ছয় জয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বকাপের শেষ চারে। অথচ পাঁচ-ছয় বছর আগেও জীবন-জীবিকার প্রয়োজন তিনি বাদাম বেচতেন। সেমিফাইনালে ইরানের কাছে হেরে শেষ হয় বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। বাংলাদেশের মেয়েরাও মন্দ করেনি। বিদায় নেয় প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স এবং মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে।
১৭ ফেব্রুয়ারি ‘জাগো বাঙালি জাগো’ গানের তালে তালে বর্ণিল উদ্বোধনী আয়োজন উদ্দীপ্ত করেছে উপস্থিত দর্শকদের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও কেউ ভাবেনি বাংলাদেশ বিশ্বকাপে এত ভালো খেলবে। বরং প্রতিটি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে স্বপ্নের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন লাল-সবুজের সূর্যসন্তানরা।
বাংলাদেশের ভারতীয় কোচ সুনীল ধাগে বলেছেন, বিশ্বের ৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ। ইরান গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। নিয়মিত অনুশীলন করলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।
রোলবল স্কেটিং ভারতে শুরু হলেও বর্তমানে ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

Category:

আষাঢ়-এর তৃতীয় দিন…

Posted on by 0 comment

ব্রাসেলসের বর্ষা-বিধৌত এই একটানা একঘেয়েমিতে। সকাল সকাল ভিনদেশের বর্ষণ-সংগীত শুনে প্রথম প্রতিক্রিয়া হলোÑ আরে, এ যে একেবারে আমাদের বর্ষার মতন! সেটা অবশ্যি বলেছি টাইমিংটা মিলে যাওয়াতে।

45মালেকা পারভীন: বাংলা বারো মাসের নাম এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলতে পারলেও জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে তা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়, আমি নিশ্চিত, পহেলা বৈশাখ ছাড়া আর কোনোটাই আপনি সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। বুকে হাত দিয়ে বলুন, পারবেন? তাও পারতেন না যদি চৌদ্দ আর পনের এপ্রিলের ঝামেলাটা অনেক ঝুট-ঝামেলার পর ওইভাবে না মিটিয়ে ফেলা হতো। মিটিয়ে ফেলাতে ভালোই হয়েছে। বাঙালিত্ব প্রমাণের ন্যূনতম ট্রিকটা আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে না বলে সোজা জিবের আগায় সদা প্রস্তুত আছে বলা যায়। অনায়াসে।
তবে আমি আপনার থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছি। না, বলছি না যে আমি বলতে পারব ইংরেজি প্রতিমাসের মাঝামাঝি ঠিক কোন তারিখে (চৌদ্দ, পনের নাকি ষোল) বাংলা মাসগুলোর একেকটার প্রথম দিন শুরু হয়। অনেকবার খাতা-কলম ব্যবহার করে মুখে-মগজে মুখস্থ করতে চেয়েছি। সফলতা ধরা দেয়নি বুড়ো মস্তিষ্কের ‘গ্রে সেলগুলো’ তাদের কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেনি বলে। তাই বলে হাল ছেড়ে দিইনি একেবারে। বাঙাল হয়ে জন্মেছি, অথচ বারোটা বাংলা মাসের দিনক্ষণ বলতে পারব নাÑ এটা কোনো কাজের কথা নয়, মশায়। নিজেকেই বলি। আর তার সামান্য চেষ্টা হিসেবে আমি আষাঢ়স্য প্রথম দিবসের জন্য নির্ধারিত জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের তারিখটা ভালো করে জেনে নিয়েছি। তাই আমার আশপাশের সবাই যখন জ্যৈষ্ঠের চাঁদিফাটা গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে বলতে থাকে, কবে যে বৃষ্টি নামবে, আর কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘায়িত করে এই ভেবে, কবে যে ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ গানটা কেউ গুনগুনিয়ে উঠবে, আমি তখন খানিকটা ভাব দেখিয়ে বলি, ক্ষান্ত দিন, জনাবে আলা, জুনের পনের তারিখটা তো আগে আসতে দিন। তারপর না হয় ওইসব গান-ফান-বাজনা-বাদ্যির আসর-টাসর বসানো যাবে…
আজ আষাঢ়-এর তৃতীয় দিন এখানে এই ব্রাসেলসে। সকালে অফিসে আসার সময় দেখেছি, আবহাওয়া ভীষণ মনমরা। ডিজমাল ওয়েদার অ্যাট ইটস পিনাকল। এ অবশ্য এ শহরের জন্য নতুন কিছু না। পারলে সারাক্ষণই মুখ বেজার করে রাখে। ধনীর দুলালীর আদুরেপনা আর কি! একটা সময় এমন অবিরল ঝিরঝির ধারায় বৃষ্টি ঝরতে লাগলো যে সেই একহারা বৃষ্টি-ঝরা দেখতে অফিস-রুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম। চুপচাপ, একা একা, শুধু নিজেকে নিয়ে। আর নির্নিমেষে এই বারি-পতন দেখতে দেখতে একসাথে একটার পর একটা কত যে কথা, কত রকমের স্মৃতি যে এই বেচারির মনে পড়ে গেলো! মনের জানালার আবছা ক্রুশ-কাটা পর্দায় ভেসে উঠলো কিছু মনে থাকাÑ বেশিরভাগ ভুলে যাওয়া মানুষের মুখ-নাম-পরিচয়, আর কত কত জায়গার ছবি আর দৃশ্যাবলি যেখানে আমি কখনও কোনো এক হারিয়ে ফেলা আর কখনও খুঁজে না পাওয়া সময়ের কাছে জমা রেখে এসেছি আমার লাজুক পায়ের নরম-কঠিন চিহ্ন সকল। সেই জায়গাগুলো আরও অনেক কিছুর সাথে মিশে গেছে রূপসা নদীর রুপালি ঢেউ হয়ে, সান্তাহার স্টেশনের ট্রেন লাইনের পাথর-বিছানো সমান্তরালে, কোনো এক সবুজ ধান ক্ষেতের সিঁথিকাটা আইল ধরে, আরেক নাম-না-জানা গোরস্তানের (গোরস্তানের কি বিশেষ কোনো নাম থাকে?) ভেতর গজিয়ে ওঠা রহস্যময়ী সূর্যমুখী গাছটার সবুজ পাতায় আর হলুদ পাপড়িদলে, বিটিভির নাটক দেখার আনন্দ-আয়োজনে আর এরকম অসংখ্য পরতে পরতে ‘মায়া-মমতায় জড়াজড়ি করি’ থাকা সাদাকালো ছবি-ভর্তি অ্যালবামের মাঝে থেকে যখন-তখন ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাওয়ার ঘোর অন্ধকারে!
যাক, থাক ওসব মন-উচাটন আকুলি-বিকুলিপনা। বরং ফিরে আসি আজ আষাঢ়স্য তৃতীয় দিবসে। ব্রাসেলসের বর্ষা-বিধৌত এই একটানা একঘেয়েমিতে। সকাল সকাল ভিনদেশের বর্ষণ-সংগীত শুনে প্রথম প্রতিক্রিয়া হলোÑ আরে, এ যে একেবারে আমাদের বর্ষার মতন! সেটা অবশ্যি বলেছি টাইমিংটা মিলে যাওয়াতে। বলতেই হচ্ছে, স্থান-কাল ভেদে বৃষ্টি তার নিজস্ব চরিত্র ধারণ করে। আমি এমনটাই দেখেছি। আপনিও দেখেছেন। মনে করার চেষ্টা করে দেখুন। আচ্ছা, মনে করুন, লন্ডন-এর ছিঁদকাদুনে ছিপছিপে বৃষ্টির কথা। সেখানকার বৃষ্টির এমন বিশ্রী চেহারা যে কাব্য করা আর সাহিত্য সাধনা দূরে থাক, বিরক্তিতে রীতিমতো আপনার হাত কামড়াতে ইচ্ছে করবে আমার মতন। আমি জানি, কারণ আমার এমনটা হয়েছে। দু-একবার হাত নয় অবশ্য, আঙুল কামড়েছি, যারপরনাই বিরক্তিতে ত্যক্ত হয়ে… কিছু করার নাই, কোথাও যাওয়ার নাই… শুধু জানালার পাশে বসে নীরবে বৃষ্টির পতন দেখে যাওয়া আর অহেতুক আলসেমিতে ঢুলে পড়া অথচ হাতে জমে আছে কত কাজ… এমন যে তার কায়াশ্রী তাকে না যায় ধরা, না যায় ছোঁয়া। অথচ দেখুন, কেমন তার যন্ত্রণার মাত্রা! অসহ্য!
অথচ আমার একজন প্রিয় কলাম লেখক-সাংবাদিক ভাই বেশ আয়েশ করে বলেন, আমার এই ব্লিক অ্যান্ড বিষণœ ওয়েদারই ভালো লাগে ভীষণ। কেমন একটা মনমরা মগ্নতায় অবশ হয়ে থাকে চারপাশের সবকিছু। এরকমই ভালো লাগে আমার। সব সময়। আরও ভালো লাগে এমন অদ্ভুত মিসটেরিয়াস মেলানকলি মোমেন্টসে এক মাগ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি হাতে নিয়ে জানালার পাশে রকিং চেয়ারটায় বসে বাইরে অন্ধকারে অপলক তাকিয়ে থাকতে। ব্যাপারটা একবার তোমার কল্পনার ক্যানভাসে তুলে নাও, দেখবে কেমন এক নামহীন ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে গেছে তোমার সারাটা মনোজগৎ! কেমন এক সুতীব্র বিহ্বলতায় আচ্ছন্ন আর অবশ হয়ে গেছে তোমার সমগ্র অস্তিত্বের চারপাশ!
আপনি এত সুন্দর ইংরেজি লেখেন, আর এখন দেখছি, না মানে শুনছি, বাংলাতেও কম যান না… আমার কথা শুনে তার বিদগ্ধ কপাল সামান্য কুঁচকে গেল। যদিও মুখের স্মিত হাসিটি অমলিন।
হুম, তুমি একবার ওই দৃশ্যপটটা ক্যানভাসে তুলে নাও, তোমার মনের ক্যানভাসে, ইজেলটা বাম হাতে শক্ত করে ধরে এবার আঁকতে থাকো, যা যা তোমার ভাবতে ইচ্ছে করে। প্রায় সময় এমন বৃষ্টি-ধোয়া মেঘলা দিনে আমার ভেতরে একরকম তোলপাড় হয়, আলোড়ন ওঠে… নীরব শব্দহীন সে তোলপাড়Ñ অথচ আমার ভেতরটা কেমন দুমড়ে-মুচড়ে যায়! আচ্ছা, বলতো, এটা কি আমার কোনো রোম্যান্টিক ভাবালুতা? তোমার ভাবীর এমন অভিযোগ প্রায় শুনতে হয় আমাকে। কিন্তু কি জানো, বৃষ্টি-ছোঁয়া একেকটা অন্ধকার দিন আমাকে যে কী ভীষণ ভালো লাগায় মোহমুগ্ধ করে রাখে! আমি তোমাকে ঠিক উপযুক্ত কোনো ভাষায় তা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলতে পারব না। ইনফ্যাক্ট, যে এটার অনুভবের ভেতর দিয়ে না গেছে, তাকে ঠিক কথার মারপ্যাঁচে তা কখনোই বোঝানো সম্ভব না… আর সেরকম একটা কবি-মনও থাকতে হয়, কি বলো?
প্রশ্নের মতো কিছু একটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সাংবাদিক ভাই কেমন এক ঘোরলাগা ভাবনায় চুপ মেরে গেলেন, সম্ভবত আরও কিছু বলার জন্য মনে মনে খানিকটা গুছিয়ে নিতে। আর আমি এটাও জানি, তিনি আমার কাছ থেকে কোনো উত্তর শুনতে চাননি। যেহেতু আমার মতো ধৈর্যশীল শ্রোতা সবসময় তার কাছে আসে না, তিনি তাই তার মনের আগলটাই আজ খুলে দিয়েছেন আমার সামনে। কেননা, কোনো এক কথার ফাঁকে তিনি একবার বলে উঠেছিলেন, সবাই তো কেবল নিজের কথা বলতে চায়। শোনার লোকের সংখ্যা হাতেগোনা। কেমন একটা প্যারাডক্স, দেখো! আমাদের দুটা কান আর একটা মুখ, অথচ এগুলোর ব্যবহার ঠিক বিপরীত সূত্র মেনে।
কিন্তু আমার ধৈর্যও একসময় বিদ্রোহ করতে চায়। মনে মনে বলিÑ আপনিও তো কম যাচ্ছেন না। যে বিষয়ের সমালোচনা করছেন, সেই একি দোষে আপনি নিজেও দুষ্ট। আমাদের সমস্যাটা তো এখানেই। আমার এই সত্যি কথাগুলো তাকে বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমার বরাবরের যে চেপে যাওয়া স্বভাব, আমি চুপ করে থাকি। ব্যাপারটা তিনি খেয়াল করেন।
তুমি আমার কথায় বিরক্ত হচ্ছো না তো? স্যরি, এই বৃষ্টি-ভাবালুতায় এমনভাবে পেয়ে বসলো আর তোমার মতো এমন একজন মনোযোগী নীরব শ্রোতা পেয়ে গেলাম যে চারপাশের সবকিছুই যেন ভুলে গেলাম। আচ্ছা, বাদ দাও। এবার তোমার কথা বলো। তোমার টেক্সট করা ওই কবিতাটা কিন্তু আমার এখনও বেশ মনে আছে। মনে পড়ছে না? যেখানে তুমি এক ঘন বর্ষণের রাতে ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়ে গেলে আর ওই সময় তোমার অস্তিত্বটাকে তুলনা করতে চাইলে হঠাৎ গর্তে আটকা পড়ে যাওয়া একটা ইঁদুরের সাথে যে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ফ্যান্টাস্টিক! অসাধারণ! তুমি কবিতাটা চালিয়ে যাও, ঠিক আছে?
তার কথা কিছুতেই শেষ হতে চায় না। আমাকে কিছু বলার জন্য বারবার বললেও আমি কিছুতেই তার কাছ থেকে সেই মওকা আদায় করতে পারি না। নিজেকে আমার সত্যি সত্যি তখন ওই ইঁদুরটার মতো অসহায় লাগে। আমি একটু পিটপিট করে তার দিকে তাকাইÑ আমাকে একটু বলার সুযোগ দিন আর না হলে বিদায় বলে যাই? অথচ আমারও বলার ছিল, আমি নিজেও বৃষ্টি-কাতর একজন মানুষ। আর বৃষ্টি বা বর্ষাকে রোমান্টিকতার চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে গিয়েছেন যে কবিগুরু তার প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমি হঠাৎ করে অসহিষ্ণু হয়ে উঠি। যেন আমি ভীষণই বিরক্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত এই বর্ষা-বয়নে। চটজলদি হুমায়ূন আহমেদের কথাও আমার মনে পড়ে যায়। আরও অনেক কিছুই মনে পড়ে যায়। তেইশ বছর আগে কোনো এক বিভাগীয় শহরে ঝুম বৃষ্টি নামা জুন মাসের এক সিক্ত দুপুরের কথা। কলেজ-পোস্ট অফিসের এক চিলতে বারান্দায় গাদাগাদি করে দাঁড়ানো অনেক ছেলেমেয়ের ভিড়ে শুধু একজনকেই ভালো লেগে যাওয়া আর বৃষ্টি শেষ হওয়া মাত্র ভেজা বাতাসের সুরভির সাথে পলকে তার উধাও হয়ে যাওয়া। পেছনে ফেলে যাওয়া এক দীর্ঘশ্বাসের মেঘ-মল্লার। চিরদিনের জন্য।
যা হোক, বর্ষা-বন্দনায় সংক্রামিত আমার নিজেকে আমি সামলে নিলাম আর বরষণ-¯œাত বিষণœ আবহাওয়ার মাঝে সকল আনন্দ খুঁজে পাওয়া সাংবাদিক ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। আমার পরিকল্পনা ব্যর্থ হলো। কারণ তিনি পরম মমতায় আমার সামনে বাড়িয়ে দিয়েছেন এক মাগ ধোঁয়া ওঠা গরম কফির সুচতুর প্রলোভন। অবিকল তার বর্ণনার মতন। নিজ হাতে কফি মেশিন থেকে বানানো সেই কফির মন এলোমেলো করা সুবাস আমার নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে যায়। আর আমি কিছুতেই এই ট্যানটালাইজিং টেম্পটেশন থেকে নিজেকে রক্ষা করার সহজলভ্য কোনো উপায় খুঁজে পাই না আমার চারপাশে। নিজেকে এ সময় মমের ‘লাঞ্চন’ গল্পের সেই অমানানসই চরিত্রটির মতো মনে হয়, যাকে এক অজ্ঞাত কারণে কখনই আমার নায়িকা বলতে ইচ্ছে হয় না।
একবারে আমার কেবল এক মাগ কফিই ভালো লাগে… ভাই। এর সাথে আর অন্য কিছু না। না বিস্কুট, না বাদাম। আমার একটু ঢং করে বলতে সাধ হয় যখন দেখি সাংবাদিক ভাই উপুড় হয়ে টেবিলের ড্রয়ার খুলে তার ফুড স্টকে আমাকে অফার করার মতো কিছু আছে কি-না তা খোঁজার চেষ্টা করছেন। আমি মুখে যদিও কিছুই বলি না; কিন্তু তিনি আমার মনোভাব পড়ে ফেলেন এবং আবার সোজা হয়ে বসে তার লম্বা মাগটা টেবিল থেকে হাত বাড়িয়ে টেনে নেন।
দেখো, ওই মেঘ-মেদুরকাল-নীলাভ শান্ত আকাশটার দিকে তাকাও আর তোমার সম্পূর্ণ দৃষ্টিটা মেলে দিয়ে ভাবতে চেষ্টা করো ছোপ ছোপ কালি ছিটানো নীল রঙে ডোবানো মেঘগুলো একেকটা কিসব কবিতা বলে যায়… কীসব কবিতা… আহ্!
আহ্, মরি, মরি… সাংবাদিক ভাইয়ের অফিসে এসেছিলাম কুশলবিনিময়ের ছুতায় দুমাস আগে জমা দেওয়া আমার লেখাটার ব্যাপারে খোঁজ নিতে। এখন বৃষ্টি-শিকলে আটকা পড়ে কী করিÑ কোথায় পালাই অবস্থা। তিনি আমার মনের হাল বোঝার ধারেকাছেও যেতে চাইলেন না। তার মতো করে বলে যাচ্ছিলেন যা যা তার মনের রাস্তায় মিছিল করে আসছিল প্রজাপতি-রঙিন অথবা দাবার বোর্ডের সাদাকালো ছক আঁকা জ্যামিতিক রেখার ছাতা মাথায়…
আমি শুনছিলাম, আর শুনছিলাম, আর ভাবছিলাম দেবো নাকি একবার মনের পাখনাটা মেলে? ওই যে ব্রাসেলসের কর্মস্থলে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে যেমন যেমন বৃষ্টি-ভাবনা এসে আমার মনের জানালায় ভিড় করে সেসব আনন্দের বর্ণমালা… কিছুটা শেয়ার করি তার সাথে, যদি সুযোগ পাই। হয়তো ভালোই লাগবে তার। হয়তো না। তারপরও বলি। এই মনোটোনাস মনোলগের মিজারি থেকে অ্যাট লিস্ট মুক্তি পাওয়া দরকার…
আমি এপাশ ফিরে দেয়ালের দিকে মুখ করে তাকাই আর আমার আচরণ যেন হঠাৎ কেমন এক অদ্ভুত চেহারা ধারণ করে! জানিনা কেন, ব্রাসেলসের বিরহী আকাশের সময়ে-অসময়ে মুখ কালো করে কান্না-ঝরানো বৃষ্টির ওপর একপ্রস্থ রাগ এসে জমা হয় আর আমি বলতে থাকি, হয়তো মনে মনে, অথচ দেখুন, আমাদের দেশের বৃষ্টি দেখুন… কেমন মনকাড়া ভঙ্গিমায় সমস্ত চরাচরজুড়ে মোহনীয় মায়া ছড়িয়ে ঝলমলে রিমঝিম করতে করতে ছলাত ছলাত করতে করতে কলকল টলমল করতে করতে তার রাজসিক আগমন। দু-কূল ছাপিয়ে নিজে তো নীপবনে নৃত্য করবেই, সাথে আপনাকেও নাচিয়ে ছাড়বে… সোনার চাঁদবদনী তুমি নাচো তো দেখি! সেই বৃষ্টিÑ সংগীতের মাঝে মাঝে যদি আবার গুরুগম্ভীর মেঘ-রাজ ডেকে ওঠেন, বাজিয়ে দেন বজ্রস্বরে তার তীক্ষè কণ্ঠÑ নিনাদ, তা হলে আপনার বর্ষা-উদযাপন সম্পূর্ণ হলো ষোল কলায়।
আর ইউরোপের বৃষ্টির এমন হাস্যকর একই সাথে বিরক্তি-উৎপাদক চেহারা যে আপনি তা দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে মুখ লুকাতে ব্যস্ত হয়ে যাবেন। যাবেন না, বলছেন? যখন বৃষ্টির বদলে আপনার মাথায় পাতা ছাতার ওপর একরাশ ঘ্যানঘ্যানানো অসহ্যপনা ঝরে পড়বে আর শরীরে এক ধরনের ব্যাখ্যাতীত চিটচিটে অনুভূতির অস্বস্তি টের পাবেন, তখনই বুঝতে পারবেন ইউরোপের বৃষ্টি-বেদন কতটা… যাহ্ আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আর এমন যে এমন, কোনো শব্দ নেই, কোনো আওয়াজ নেই… শুধু ঝরছে আর ঝরছে আর ঝরছে। আপনি তাকে দিব্য চোখে দেখছেন, আপনার পরনের কাপড়ও অল্পস্বল্প ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সে যে এসেছিল তার চিহ্নস্বরূপ, অথচ কুহেলি মরীচীকার মতো থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ কোনো বৃষ্টি হলো যদি তারে আপনার মতো করে কাছে না পেলাম? যদি তারে নাই পাইকো আপনার মতো করে, তাহলে কি কিছু পাওয়া হয়? ধ্যাৎ!
আজ অবশ্য ব্রাসেলস-এর বৃষ্টি সামান্য ভেল্কি দেখালো। না, ঠিক, দেখালো না, শোনালো। মুহূর্তের জন্য কিছু একটা শুনিয়ে দিলো… ওই ধরুন গিয়ে ইউরোপিয়ান মেঘের ডাক। খুবই ভদ্র কায়দায়, পাছে কেউ যাতে শুনে না ফেলে এমন ভাবে চুপিসারে! আমিও শুনতে পেতাম না যদি আমার কান অমন খাড়া না থাকত। আমি তো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এই ইউরোপিয়ান বৃষ্টির ভেলকিবাজি দেখছিলাম একটু সতর্ক চোখ-কান মেলে-খুলে। দেখতে চেয়েছিলাম নতুন করে, আমাদের বর্ষার যাদুময় সৌন্দর্যের কাছে তা ঘেঁষতে পারে কিনা। পারবে না, কখনোই না। প্রশ্নই আসে না। তবে এর আগে আর একদিন ওই ডাক শুনেছিলাম বেশ ভয়ঙ্করভাবেই। এখানে আসার পর সেবারই প্রথম এমনটা হলো। বেশ চমকে উঠেছিলাম দফায় দফায় ওরকম গর্জন শুনে। আসলে এখানে এই ব্রাসেলসে বৃষ্টির একটানা নিরানন্দ নিঃশব্দ ধারাবাহিক পতন দেখে দেখে চোখ যতটা সয়ে গেছে, অমন হুঙ্কার শুনে তো এই বেচারা কানজোড়া অভ্যস্ত নয়। সে কারণেই ওরকম হতভম্ব দশা। শুধু আমার না, যাদের সাথেই বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছি, যারা অর্থাৎ আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে থাকা দেশি ভাই-ব্রাদার, প্রত্যেকেই একই কথা বলেছে। বুঝতে পারছেন তো, এই বৈদেশেও আমরা বৃষ্টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করার অবকাশ পাই।
আর বৃষ্টি-বিলাসী আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাই কোথায় গেলেন, জানেন? কফি খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি তাকে বলতে চেয়েছিলাম কদিন আগে এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করা মমের অসাধারণ ‘রেইন’ গল্পটার কথা। কিছু তর্কবিতর্কের সুযোগ ছিল। সাবডিউড প্যাশন আর উচ্চকিত নৈতিকতা নিয়ে একটা দারুণ আড্ডার সূচনা হতে পারত। তারপর তা বেড়ে প্রসারিত হতো ই-মেইল আর টেক্সট মেসেজে… ইশ, এমন একটা জমজমাট সাহিত্যিক আসর শুরু করেও শেষ করতে পারলাম না। মনে হলো, মনে হলো এর জন্য ওই বেহায়া বৃষ্টিটাই দায়ী। কারণ তা আমাকে এমনভাবে ভিজিয়ে দিয়েছিল যে সাংবাদিক ভাইয়ের সামনে ভদ্র-সভ্যভাবে বসে থাকাই দায় হয়ে উঠেছিল। আমার ভীষণ আড়ষ্ট লাগছিল যে! আর তা ছাড়া মিস থম্পসনের মতো এত দুর্বিনীত দুঃসাহসের বর্ষণও আমার ওপর কখনও অকৃপণভাবে ঝরে পড়েনি। আমি যে আমার মধ্যে গুটিয়ে থাকা এক চিরকালের শুঁয়োপোকা যে কেবল একছিটে বৃষ্টির আলতো পরশেই মিইয়ে যায়, চুপসে যায় লজ্জাবতী লাজুকলতার সরলতায়… তা না হলে হয়তো…

Category:

বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জীবনাবসান

Posted on by 0 comment

33উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মহান জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের অন্যতম সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টরের সাব-কমান্ডার অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, বর্ষীয়ান রাজনীতিক শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৪টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে তার নিজ জেলায় তিন দিনের শোক পালিত হয়।
প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিদেশি দূতাবাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানগণ।
এর আগে, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঝিগাতলার বাসভবনে সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে বর্ষীয়ান এ নেতার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে মিশনের ভক্তবৃন্দ, বাংলাদেশ পূজা পরিষদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার আদশ সাইকি, পলিটিক্যাল সেক্রেটারি রাজেশ উকি প্রমুখ।
জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব : গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংসদীয় গণতন্ত্রের আজীবন পূজারী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে তার প্রতি সর্বসম্মত শোক জানায় জাতীয় সংসদ। অধিবেশনের শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শেষকৃত্য অনুষ্ঠান : ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সুরঞ্জিতের মরদেহ রাখা হয় ল্যাবএইডের হিমঘরে। পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নেওয়া হয় সিলেটে। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল মরদেহের সাথে সিলেট গমন করেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সুরঞ্জিতের মরদেহ রাখা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে। ভাটি বাংলার প্রাণপুরুষ হিসেবে খ্যাত সিলেটের কীর্তিসন্তান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে সকাল থেকেই নামে জনতার ঢল। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় তার কফিন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সুরঞ্জিতের নিজ জেলা সুনামগঞ্জে। সুরঞ্জিতের মরদেহ হেলিকপ্টারে সুনামগঞ্জে পুলিশ লাইনস পৌঁছার পর প্রথমে ডিসির কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্মৃতিস্তম্বের পাশে রাখা হয়। সেখানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে সম্মান জানান সর্বস্তরের মানুষ। তার মরদেহ নির্বাচনী এলাকা শাল্লার শাহিদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায় আড়াইটায়। বিকেল ৪টায় দিরাই হেলিপ্যাড থেকে নেওয়া হয় জগন্নাথ জিউড় আখড়ায় ধর্মীয় রীতিনীতি শেষে আওয়ামী লীগ কর্যালয়ের সামনে গার্ড অব অনার দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় দিরাই ঐতিহসিক বালুর মাঠে। এরপর বিকেলে হাজারও শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে আনোয়ারপুর নিজ বাসভবনে তার শেষকৃত্যা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
বর্ণাঢ্য জীবন : সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৬ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তর ও পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে আইনে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ল’ পাসের পর কিছুদিন তিনি আইন পেশায়ও যুক্ত ছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্র রাজনীতির ছেড়ে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পিকিং ও মস্কো ধারায় দুই টুকরা হলে মওলানা ভাসানীকে ত্যাগ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে ন্যাপ থেকে জয়ী হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
পরে ন্যাপের ভাঙনের পর গণতন্ত্রী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন। পঞ্চম সংসদের সদস্য থাকাকালেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে সুরঞ্জিত ভোটে হেরে গেলেও পরে হবিগঞ্জের একটি আসনে উপনির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন তিনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।
২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুরঞ্জিত। কিন্তু ব্যক্তিগত সহকারীর দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে পরের বছর ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে তার মন্ত্রিসভায় রেখে দেন। এপিএস’র অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সুরঞ্জিত সেনকে নির্দোষ ঘোষণা করলে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।
২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন তিনি। ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের একজন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তিনি আবারও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি পুনরায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন একজন জনদরদি ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদÑ প্রকৃতপক্ষেই তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। বৃহৎ সিলেট অঞ্চলের তথা সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সিংহ পুরুষ। যার ফলশ্রুতিতে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সুনামগঞ্জের একটি আসন থেকে মোট সাতবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সারাজীবন ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, তিন জোটের রূপরেখা প্রণয়ন, বিএনপি-জামাত জোটের দুঃশাসন-বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেন তিনি। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অগ্রজ। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের মূলনীতিসমূহ বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন দৃঢ় সংকল্পবব্ধ, আপসহীন নেতৃত্বের অন্যতম পৃথিকৃৎ। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি আধুনিক প্রগতিশীল উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিক। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে দেশবাসীর ন্যায় ‘উত্তরণ’ পরিবারও গভীর শোকাহত।

Category:

রেকর্ড গড়ল বইমেলা : বিক্রি ৬৫ কোটি টাকার

Posted on by 0 comment

এবারের মেলায় ৩ হাজার ৬৪৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বই নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গতবার বই প্রকাশ হয়েছিল মোট ৩ হাজার ৪৪৪টি।

41মাসুদ পথিক: এবারের অমর একুশে মেলায় মোট বই বিক্রি হয়েছে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার। বিক্রিতে অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে বইমেলা। গতবার মোট বিক্রি ছিল ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকার। বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
অন্যবারের মতো বইমেলায় বাংলা একাডেমির বই ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩০৬ টাকার বই বিক্রি করেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় এই বিক্রি ২২ লাখ টাকা বেশি।
জালাল আহমেদ বলেন, গতবার পুরো মেলায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায়, এবার বইমেলায় মোট ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।
বাংলা একাডেমির স্টলে দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি
এ বছর অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমির স্টলে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলার ২৭ দিনে এসব বই বিক্রি হয়। ২০১৬ সালে বিক্রিত বইয়ের তুলনায় যা ২২ লাখ টাকা বেশি।
২৮ ফেব্রুয়ারি মেলার শেষ দিনের বিক্রি নিয়ে বাংলা একাডেমির বই বিক্রিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।
মেলার শেষ দিনে এক অনুষ্ঠানে কবি শামীম আজাদ ও লেখক অনুবাদক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকার চেক, পুষ্পস্তবক, সনদ এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য ৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, ২০১৬ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭ এবং ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক স্টল/প্যাভেলিয়ন সজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ প্রদান হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত সব প্রকাশককে ২৫ হাজার টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বইমেলায় ৩,৬৪৬টি নতুন বই
এবারের মেলায় ৩ হাজার ৬৪৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বই নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গতবার বই প্রকাশ হয়েছিল মোট ৩ হাজার ৪৪৪টি। মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত যে, এর চেয়ে বেশিসংখ্যক বই বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। অনেক প্রকাশক তাদের নতুন সব বইয়ের তথ্য না দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে কত নতুন বই এসেছে এই তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এবার নতুন বইয়ের স্টলে নতুন বই প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকায় প্রকাশকদের পক্ষ থেকে তাদের ভালো ও মানসম্মত বই তথ্যকেন্দ্রে বেশি দিয়েছেন। এ ছাড়া এবার আমরা বাংলা একাডেমির একটি কমিটিকে দিয়ে প্রাপ্ত সব বইয়ের মান প্রাথমিকভাবে নিরূপণের চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, নতুন ৩ হাজার ৬৪৬টি বইয়ের মধ্যে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন। এটি নিঃসন্দেহে আশার কথা। এক বছরের গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে ৮৫৮টি মানসম্পন্ন বইয়ের প্রকাশ সহজ কথা নয়। এবার মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মোড়ক উন্মোচন’ মঞ্চ স্থাপন করা হয়। প্রত্যেক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য এবার ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়। এবার মোট ৮৬৭টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
মেলায় কবিতার জয় এবারও
পর্দা নামলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার। গত ২৮ দিনে এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি বই প্রকাশ হয়েছে কবিতার। বিগত বছরগুলোতেও এ চিত্র দেখা গেছে।
বাংলা একাডেমির পরিচালক (জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া বইমেলায় এ পর্যন্ত মোট বই প্রকাশ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৬টি।
এগুলোর মধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ১২২টি। তার প্রায় অর্ধেকে রয়েছে, গল্পের বই ৫২০টি, উপন্যাস ৫৭৬টি, প্রবন্ধ ১৬৮টি, গবেষণাধর্মী ৮৭টি, ছড়ার ১১৭টি, শিশুতোষ ১১৮টি, জীবনী ৭১টি, রচনাবলী ৭টি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৯৭টি।
এ ছাড়া নাটকের ১৭টি, বিজ্ঞান ৩৮টি, ভ্রমণ ৬৯টি, ইতিহাস ৪১টি, রাজনীতি ১৭টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্যবিষয়ক ২৮টি, কম্পিউটার বিষয়ক ৬টি, রম্য/ধাঁধার বই ১৭টি, ধর্মীয় ১০টি, অনুবাদ ১৮টি, অভিধান ২টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ৩৪টি ও অন্যান্য ৪৬৬টি বই বেরিয়েছে।
বাঙালি তবলাবাদক সন্দীপ দাস গ্র্যামি জিতলেন
ছয়বার বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু এবারও গ্র্যামির মঞ্চে শিকে ছিড়ল না সেতারবাদক অনুষ্কা শঙ্করের। ভারতীয় হিসেবে বিশ্বসেরা সংগীতের মঞ্চে একমাত্র গ্র্যামিটি পেলেন তবলাবাদক সন্দীপ দাস। চিনা-আমেরিকান বেহালাবাদক ইয়ো-ইয়ো মা’র ‘সিং মি হোম’ অ্যালবামে যৌথভাবে কাজ করে এই পুরস্কার পেলেন সন্দীপ।
ওয়ার্ল্ড মিউজিক ক্যাটগরিতে এলো এই পুরস্কার। একই ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছিল অনুষ্কা শঙ্করের ‘ল্যান্ড অফ গোল্ড’ও। কিন্তু বিচারকদের মন জয় করে সেরার তকমা ছিনিয়ে নেয় ‘সিং মি হোম’ই।
ঘরে ফেরার বিভিন্ন রূপ সংগীতের মাধ্যমে এই অ্যালবামে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে সন্দীপ ছাড়াও আছে সারাবিশ্বের বহু জাঁদরেল সংগীতশিল্পীদের সুর।
পুরস্কার পেয়ে খুশি সন্দীপ বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে তা আমাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। কারণ প্রত্যেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে মিলিত হয়েছে। এভাবেই আমরা সংগীত তৈরি করতে থাকব আর ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে থাকব।
জ্ঞানালোক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান
জ্ঞানী-গুণী মানুষের সম্মিলনীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হলো জ্ঞানালোক পুরস্কার।
জাতি গঠন ও একটি ইতিহাস সচেতন আলোকিত সমাজ গড়ে তোলায় যারা নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন; কিন্তু নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এমন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ‘জ্ঞানালোক’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
২০১৫ সালের জন্য যুগ্মভাবে এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও বিজ্ঞানী ড. পূরবী বসু এবং বিশিষ্ট প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানকে। ২০১৬ সালের জন্য জ্ঞানালোক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয় গবেষক সংগ্রাহক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানকে।
জ্ঞানালোক পুরস্কারে ভূষিত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম। গুণীজনদের অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করেনÑ অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব, অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, লায়লা হাসান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। সভাপতিত্ব করেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ।
বাংলা ভাষা চর্চার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘বাংলা বি’
সেপ্লিং বি-এর আদলে বাংলা ভাষায় নির্মিত প্রথম অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ‘বাংলা বি’ যাত্রা শুরু করেছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গুগল প্লে স্টোরে এটি আত্মপ্রকাশ করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আনুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেন। উপাচার্য দফতর সংলগ্ন লাউঞ্জে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলা বি’-এর চার নির্মাতা শরীফ সিরাজ, রেজওয়ানুল ইসলাম, মাশরুর অনিক, অম্লান ঐতিহ্য প্রমুখ।

Category: