Blog Archives

পরিবেশ দূষণ ও টিনএজার স্বাস্থ্য

Posted on by 0 comment

39অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি আমোদ-প্রমোদের সময় হট্টগোলের প্রভাব কেমন হুমকি হতে পারে টিনএজারদের জন্য তা লক্ষ্য করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রায় লক্ষ কোটি টিনএজারেরও বেশি কিশোর-কিশোরী শ্রুতিহানির ঝুঁকিতে, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের অনিরাপদ ব্যবহার, যেমনÑ স্মার্ট ফোন এবং বিভিন্ন কনসার্টে, সংগীত সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে, স্পোর্টিং ইভেন্টের প্রচ- হট্টগোলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের, শিক্ষা ও চাকরি সব কিছুর বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনে শ্রুতিহানি। মধ্যআয় ও উচ্চআয় দেশগুলোতে বিশেষত সমীক্ষা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেখা গেছে টিনএজার ও তরুণ ১২-৩৫ বছর বয়সী যারা এদের ৫০ শতাংশ ব্যক্তিগত শ্রবণযন্ত্রের শব্দের কারণে এবং ৪০ শতাংশ প্রমোদের সময় হট্টগোলের জন্য শ্রুতি ভয়ানক বিপদের সম্মুখীন হয়। শব্দের অনিরাপদ মাত্রা হলো ৮৫ ডেসিবেল (ডিবি)-এর ওপরে শব্দ ৮ ঘণ্টা শোনা বা ১০০ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ ১৫ মিনিট শোনা।
বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদে দৈনন্দিন যেভাবে মুখোমুখি হচ্ছে তরুণরা, এতে শ্রুতিহানি ঘটা খুব স্বাভাবিক। একবার শ্রুতিহানি ঘটলে তা আর ফিরে আসে না। সহজ কিছু নিয়ম পালন করলে জীবনকে নিরাপদে ও শ্রুতিশক্তিতে বিপদে না ফেলে উপভোগ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক ডা. ইবিএন ক্লানের মন্তব্য। নিরাপদ শ্রুতি নির্ভর করে শব্দের তীব্রতা, প্রবলতা, স্থিতিকাল ও পৌনঃপুনিকতার ওপর। উচ্চ ধ্বনির মুখোমুখি হলে সাময়িক শ্রুতিহানি ঘটে বা কানে ঝিনিঝিনি শব্দ বাজে। তবে উচ্চধ্বনি দীর্ঘায়িত হলে, নিয়মিত এর খুব উচ্চমাত্রা

হলে এতে কানের সংজ্ঞাবহ কোষগুলো স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, অপূরণীয় শ্রুতিহানি ঘটে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
* কর্মস্থলে শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ হতে পারে ৮৫ ডেসিবেল, মাত্র ৮ ঘণ্টা দিনে। ক্লাব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যান্ড সংগীত, কনসার্টে শব্দ হয় খুব জোরে অনেকক্ষণ, একে কমাতে হবে আর স্থিতিকাল হতে হবে অনেক কম। যেমনÑ সেসব স্থানে শব্দ হয় ১০০ ডেসিবেল, তা ১৫ মিনিটের বেশি হলে নিরাপদ নয়।
* টিনএজার ও তরুণরা তাদের ব্যক্তিগত শ্রবণযন্ত্রের শব্দ কমিয়ে, ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করে শ্রুতি সুরক্ষা হতে পারে। যেখানে বিনোদন বা প্রমোদ কেন্দ্রে অনেক কোলাহল সেখানে কানে ছিপি লাগাতে পারে, কম সময় থাকতে পারে, শ্রুতি বিরতি নিতে পারে, নিরাপদ শ্রুতিমান মেনে চলতে পারে। শ্রুতিহানির বিপদ সংকেতগুলো সম্বন্ধে অবহিত হতে পারে এবং শ্রুতি চেকআপ নিয়মিত করতে পারে।
* আমোদ-প্রমোদের সময় উচ্চশব্দ, জোরে মাইক চালানো, অকারণ হট্টগোল এসব ব্যাপারে আইনবিধি প্রয়োগ করতে পারে সরকার, জনগণকে এমন হট্টগোলের ক্ষতিকর দিক সম্বন্ধে জানাতে হবে।
* মা-বাবা, শিক্ষক, চিকিৎসক কিশোর তরুণদের নিরাপদ শ্রুতির ব্যাপারে শিক্ষা দিতে পারেন। বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকরা নিরাপদ নয়েজ মান-সম্মান জানিয়ে শব্দের ভলুম কমাতে পারেন, স্থায়িত্ব কমাতে পারেন, ইয়ার প্লাগ সরবরাহ করতে পারেন।
নিরাপদ শ্রুতি উদ্যোগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে, ‘শ্রুতি যাতে নিরাপদ হয়’ এই উদ্যোগের লক্ষ্য এটি। অনিরাপদ শ্রবণের বিপদ এবং নিরাপদ শ্রুতি বজায় রাখার ভালো দিক জনগণকে জানাতে হবে। তরুণ ও তাদের মা-বাবাদের এই বিপদ সম্বন্ধে অবহিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে, সরকারকে বিধিব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, শ্রুতিশক্তির পরিচর্যা হবে এই উদ্যোগের মূল বিষয়।

Category:

১২টি ভাষায় একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এই গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে। সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। প্রথমে আবদুল লতিফ গানটি সুরারোপ করেন। তবে পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে, ১৯৫৪ সালের প্রভাতফেরিতে প্রথম গাওয়া হয় আলতাফ মাহমুদের সুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটি এবং এটিই এখন গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তার ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই গানটি মোট ১২টি ভাষায় গাওয়া হয়। বাংলাসহ বাকি ১১টি ভাষা হলোÑ মালয় (মালয়েশিয়া), আরবি (লেবানন), জার্মান (জার্মানি), নেপালি (নেপাল), হিন্দি (ভারত), ফরাসি (ফ্রান্স), স্পেনীয় (ভেনেজুয়েলা), রুশ (রাশিয়া), ইংরেজি (যুক্তরাষ্ট্র), চীনা (হংকং) ও ইতালীয় (ইতালি)। গেয়েছেন ওই ভাষাভাষী দেশের শিল্পীরা।

Category:

আওয়ামী লীগ সব এলাকায় সমান উন্নয়ন করে

Posted on by 0 comment
33

সান্তাহারে সাইলো উদ্বোধন শষেে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: লাখো মানুষের ¯্রােত উপচে পৌঁছেছে বগুড়ার সান্তাহার স্টেডিয়ামে। পরিণত হয় মহাসমুদ্রে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশের মানুষ অনেক কিছু পায়। খাদ্যাভাব থাকে না, মানুষের রোজগার বাড়ে প্রত্যেক মানুষের উন্নয়ন হয়। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। আর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এলে শুধু লুটপাট সন্ত্রাস আর মানুষ হত্যা। মানুষের উন্নয়নের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করলে তিনি দেশের ও মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন। তিনি আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বগুড়ার মানুষ নৌকাতেই ভোট দেবেনÑ এ দৃঢ় বিশ্বাস তিনি রাখেন। তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। মানুষ হত্যা করেছে। তারা কখনোই মানুষের মঙ্গল চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আওয়ামী লীগ ইসলামের নামে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। ইসলামের নামে অরাজকতা ও সন্ত্রাস যাতে না হয় সে জন্য প্রতিটি জেলা, উপজেলায় মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা গ্রহণ করে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বগুড়ার সান্তাহার স্টেডিয়াম মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন। এর আগে তিনি সান্তাহারে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক বহুতল খাদ্যগুদামের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এটা অত্যাধুনিক সাইলো। এ অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষক যাতে নিজেদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় সে জন্য এই সাইলোতে দুই থেকে তিন বছর খাদ্য মজুদ রাখা যাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত অত্যাধুনিক সাইলো আর নেই।
সান্তাহারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রথম শেখ হাসিনা ভাষণ দিলেন। দুপুর ১২টায় তিনি হেলিকপ্টারযোগে সান্তাহারে অবতরণ করেন। এরপর নবনির্মিত সাইলোতে গিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপিসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এই সাইলোতে যে ১০০টি সোলার প্যানেল স্থাপিত হয়েছে তা দিয়ে ৩৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। খাদ্য সংরক্ষণের পর যে বিদ্যুৎ বেঁচে যাবে তা যোগ হবে পাওয়ার গ্রিডে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সাইলো রেস্ট হাউসে বিশ্রাম ও জোহরের নামাজ আদায়ের পর ২টা ৫০ মিনিটে তিনি স্টেডিয়ামে সভাস্থলে পৌঁছেন। এরপর তিনি ডিজিটাল বটম চেপে নবনির্মিত ১০টি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বগুড়া প্রেসক্লাবসহ ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। এসব প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে ৩১৭ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলার সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের সড়ক পাকা করা হবে। যাতে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হয়। প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের সার্বিক ব্যবস্থা ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।
আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী মৃধার সভাপতিত্বে ও রাগেবুল আহসান রিপুর পরিচালনায় এই জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, এসএম কামাল হোসেন, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সামসুল আলম রেজা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মাহমুদ আল স্বপন এমপি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, আওয়ামী লীগ নেতা শামসুর রহমান শরিফ, টি জামান নিকেতা, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক সাধন মজুমদার প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। জাতির পিতা দেশের মানুষের সুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। গড়তে চেয়েছিলেন সুখী সমৃদ্ধ একটি দেশ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ফের কুচক্রী মহল বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের ধারা রুদ্ধ করে দেয়। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে কমিউিনিটি ক্লিনিক। যাতে গ্রামের মানুষ সেবা পায়। বিএনপি ক্ষমতায় এসেই তা বন্ধ করে দেয়। ২ হাজার ৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পুনরায় চালু করে কমিউনিটি ক্লিনিক। গ্রামের সাধারণ মানুষ এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সার ৩০ ধরনের ওষুধ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রতিবছর জানুয়ারি মানে বিনা পয়সার পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়। যাতে বর্তমান প্রজন্ম শিক্ষিত হয়ে ওঠে। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি শাসনামলের মানুষের দুঃসহ জীবনের চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় গোপালগঞ্জের কোনো উন্নয়ন করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো অঞ্চল বিশেষের উন্নয়ন বিশ্বাস করে না। প্রতিটি এলাকার সুষম উন্নয়ন করা হচ্ছে। বগুড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজ বগুড়ার রাস্তাঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ সান্তাহারে দেশের প্রথম সাইলো উপহার দেওয়া হলো। এ অঞ্চলের কৃষকের আর কোনো অভাব থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকায় স্কুলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উন্নতমানের স্কুল নির্মাণ করা হবে। কেউ যেন বেকার না থাকে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ নানা কর্মকা- হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বছর জানুয়ারি মাসে ৩৬ কোটি ২৩ লাখ বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। যা পেয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ শিক্ষার্থী। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশের গর্ব। তারা যাতে ভালোভাবে থাকে সেজন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের যে এলাকায় এখন মানুষের কিছুটা দরিদ্রতা আছে সেখানে ১০ টাকা কেজি দরে ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য কাজ করে। ফসলের বহুমুখীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে শীতের সবজি শুধু শীতে পাওয়া যেত বর্তমানে শীত-গ্রীষ্ম বলে কোনো কথা নেই। সকল মৌসুমেই সকল সবজি ও ফসল পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে দেশ ছেয়ে যায়। বিএনপির দুর্নীতির প্রমাণ বিদেশেও প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি যে টাকা পাচার করেছে তা ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে খাদ্য রপ্তানি শুরু করেছে। কৃষকের ঘরে এখন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। দেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ দেশে মোবাইল ফোন এনেছে যে মোবাইল ফোন এখন দেশের প্রতিটি মানুষ ব্যবহার করে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। বিএনপি শুধু জানে অত্যাচার করতে আর দুর্নীতি করতে।

Category:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

Posted on by 0 comment

31উত্তরণ প্রতিবেদন: উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’; ডিজিটাল বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে নতুন এক উচ্চতায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ তৈরির কাজ। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ তৈরির ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৮৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর অ্যান্টেনা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়াও কমিউনিকেশন ও মডিউল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। একই সাথে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজও প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে। উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বিটিআরসি। ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ এবং সেবা পরিচালনার জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৩১৫ দশমিক ৫১ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিডার্স ফাইন্যান্সিং ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দেবে এই স্যাটেলাইট। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সারাদেশে টেলিফোন সংযোগ নেওয়া যাবে, যা তথ্যপ্রযুক্তির সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম করবে। এটি চালু হলে বিদেশি স্যাটেলাইট ছাড়াই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম মূল্যে সম্প্রচার ও যোগাযোগ সেবা দেওয়া যাবে। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের সাথে একটি চুক্তি সই করে। প্রতিষ্ঠানটিকে এ জন্য বাংলাদেশ সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি ১ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। ইতোমধ্যে ৬৯৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাজে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করায় বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আকাশে উড়লে এই অর্থ সাশ্রয় হবে। এর পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-গবেষণা, ই-লার্নিং, ভিডিও কনফারেন্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ‘ট্রান্সপন্ডার লিজের’ মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে এবং ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে বিনিয়োগের অর্থ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্যাটেলাইটের নির্মাতা কোম্পানি ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেসের সাথে চুক্তি হয়েছে ফ্যালকন-৯ মহাকাশযানের মালিক মার্কিন কোম্পানি স্পেস এক্সপ্লোরেশান টেকনোলজিস কর্পোরেশন বা স্পেসএক্স-এর সাথে। ফ্যালকন-৯ হল একুশ শতকের সবচেয়ে আধুনিক মহাকাশ যান। নাসার সাথে কাজ করা স্পেসএক্স মূলত সবচেয়ে আধুনিক স্যাটেলাইটগুলো এখন মহাকাশে পাঠিয়ে থাকে। স্পেসএক্স-এর সাথে থ্যালাসের চুক্তি স্বাক্ষর ছিল এই প্রকল্পের একটি বড় পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পরিকল্পিত সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উড়ানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে এই স্লট। এখানেই উড়বে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে থ্যালাসের কাছ থেকে ফ্রান্সে স্যাটেলাইটটি বুঝে নেবে বিটিআরসি। পরে তা নিয়ে যাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে এবং সেখানেই ফ্যালকন-৯ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করবে। যার মাধ্যমে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ পৌঁছে যাবে নতুন এক উচ্চতায়।
ম  তন্ময় আহমেদ

Category:

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা

Posted on by 0 comment

25 24

Category:

সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হবে রিজার্ভের টাকায়

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: রিজার্ভের টাকা দিয়ে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থেকে প্রতিবছর ২ বিলিয়ন ডলার করে নিয়ে পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল গঠন করা হবে। সরকার জনস্বার্থে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এই টাকা ব্যবহারে পৃথক আইন ও কাঠামো তৈরি হবে। তারপর বোঝা যাবে কত টাকা সুদ হবে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে অনেক প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত পূরণে ব্যবহার করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ধরনের তহবিল আছে। বিদেশি সহায়তায় যে প্রকল্প নেওয়া হয় তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাচিং ফান্ড (সরকারি বরাদ্দের অংশ) থাকে। কোনো বিদেশি ব্যাংক আমাদের লোন দিল এবং বলা হলো এর সাথে সরকার সমপরিমাণ ডলার দেবে, তখন এটার সাপোর্ট দেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, এই তহবিলের বহুমুখী ব্যবহার হতে পারে। সরকার জনস্বার্থে যে কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করতে পারবে। এটা থেকে অবকাঠামো নির্মাণও করা যাবে। জরুরি প্রয়োজনেও ব্যবহার করা যাবে। তহবিলের বিস্তারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নীতিগত সম্মতির পর এটার ওপর আইন তৈরি করে কাঠামো তৈরি হবে, তখন এটা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। তখন এটার বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

Category:

কানাডা ফেডারেল কোর্ট : বিএনপি সন্ত্রাসী দল

Posted on by 0 comment

উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণাদি অত্যন্ত যতেœর সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি।

22উত্তরণ ডেস্ক: নতুনদেশ ডটকম (কানাডা) : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে কানাডার ফেডারেল কোর্ট।
বিএনপির সদস্য হওয়ার কারণে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জুডিসিয়াল রিভিউর আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে বিচারক এই মন্তব্য করেন।
কানাডা সরকার বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি বলে আবেদনকারীর বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেও বলেন, তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এটি কানাডার গভর্নর কাউন্সিল ঠিক করে। তার সাথে রাজনৈতিক ইস্যু জড়িত থাকে। আমি এই যুক্তি গ্রহণ করছি না। কানাডা তালিকাভুক্ত করেনি বলেই ইমিগ্রেশন অফিসার বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে ইমিগ্রেশন অফিসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন নাÑ এমন কোনো যুক্তিও এই মামলায় আসেনি। ফেডারেল কোর্টের বিচারক হেনরি এস ব্রাউন গত ২৫ জানুয়ারি এই রায় দেন। জুডিসিয়াল রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি, বিএনপির পরিচালিত লাগাতার হরতাল এবং হরতালকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সম্প্রতি এই রায়ের লিখিত কপি প্রকাশ পেয়েছে। নতুনদেশ ডটকমের হাতে তার একটি কপিও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে ঢাকার মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি ফেডারেল কোর্টে এই জুডিসিয়াল রিভিউর আবেদন করেন।
রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করে ২৮ এপ্রিল ২০১৫ তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেয়া হলেও ১৬ মে ২০১৬ সালে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সদস্য হওয়ায় তাকে কানাডায় প্রবেশের অনুপোযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে বলা হয়Ñ ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল, লিপ্ত আছে বা লিপ্ত হবে এটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে।’ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কানাডার ক্রিমিনাল কোডের ধারা তুলে ধরে বলেন, ‘বিএনপির ডাকা হরতাল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিএনপি কর্মীদের হাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আমি লক্ষ্য করেছি, অতীতে কোনো কোনো ঘটনায় বিএনপির নেতৃত্ব নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা করেছে। কিন্তু বিএনপির দাবি-দাওয়া সরকারকে মানতে বাধ্য করতে লাগাতার হরতালের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা প্রমাণ করে এটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বাইরে চলে গিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আবেদনকারী কানাডায় প্রবেশাধিকার পাওয়ার অনুপোযুক্ত। কেননা এই দলটি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল, আছে বা ভবিষ্যতে লিপ্ত হবেÑ এমনটি ভাববার যৌক্তিক কারণ আছে।
জুডিসিয়াল রিভিউর নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারক হেনরি এস ব্রাউন বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল, আছে বা ভবিষ্যতে লিপ্ত হবে’Ñ ইমিগ্রেশন অফিসারের এই ভাবনা যৌক্তিক কি-না তা পর্যালোচনা করতে এই জুডিসিয়াল রিভিউর আবেদন করা হয়েছে। ‘বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যলিপ্ত ছিল, আছে বা লিপ্ত হবার লিপ্ত হবে’ তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছেÑ এই মর্মে ইমিগ্রেশন অফিসার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। কানাডার আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের যে সংজ্ঞা দেয়া আছে তার আলোকে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি এই উপসংহারে পৌঁছেছেন।
সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিসারের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বিচারক বলেন, এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে বিএনপির হরতাল ডাকাকে বিবেচনায় নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিসার। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই ধরনের হরতাল ডাকার পেছনে সুনির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্য ছিল এবং তা হচ্ছে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকা- ব্যাহত করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এই হরতালে বিএনপি কর্মীদের দ্বারা অব্যাহত সন্ত্রাস সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। বিচারক বলেন, যে তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট অফিসার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই সব তথ্যপ্রমাণই এই বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করে।
বিচারক তার মন্তব্যে বলেন, বিএনপি নেতৃত্ব হরতালে সহিংসতাকে নিরুৎসাহিত করেছে তার সামান্যই প্রমাণ পাওয়া যায়। কখনও কখনও তারা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের নিন্দা করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে সন্ত্রাসী কাজের জন্য সরাসরি তাদের দায়ী করার পরই তারা কোনো কোনো ঘটনার নিন্দা করেছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে বিএনপি এখনও একটি বৈধ রাজনৈতিক দল। তারা পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কাজের নির্দেশনা দিচ্ছে, সন্ত্রাসী কাজ করছে বা পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছেÑ এমন একটি ভাবমূর্তি তাদের স্বার্থের অনুকূলে নয়। কিন্তু তাদের লাগাতার হরতাল এবং হরতালে অব্যাহত সহিংসতা আমাকে যৌক্তিকভাবেই বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে যে, তারা তাদের কর্মীদের সহিংসতা থেকে নিবৃত্ত করার উদ্যোগ না নিয়ে কৌশল হিসেবে হরতালে সহিংসতার নিন্দা করেছে। হরতালে সহিংসতাই এর সততার প্রমাণ দেয়।
বিচারক বলেন, আবেদনকারীর বক্তব্য আমলে নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাও বাংলাদেশের রাজনীতিকে একটি ‘সহিংস বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই অভিমতের সাথে আমি একমত পোষণ করি। আমার তথ্য হচ্ছে বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উভয়েই জনগণ এবং সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহিংস কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কিন্তু দুটি রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অসদাচারণ বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচেনা থেকে দায়মুক্তি দেয় বলে আমি মনে করি না। তিনি বলেন, এই মামলায়ও ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন কি-না’ সেই প্রশ্ন বিবেচনায় এসেছে। উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণাদি অত্যন্ত যতেœর সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর ‘বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি। বিচারক বলেন, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত প্রদানকারী অফিসারের বিশ্বাস করার যৌক্তিক যে বিএনপি হরতালের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনা করেছে।
‘বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সন্ত্রাস বা সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে।’ কিন্তু এই বক্তব্য বিবেচনায় নেননি আদালত। তিনি সরকার পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সরকার পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য দিয়েছেন যে, বিএনপি নেতৃত্ব একবারই সন্ত্রাসের নিন্দা করেছেন যখন বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি তার কর্মীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নিন্দা করেছে তার কোনো প্রমাণ এই আদালতের সামনে নেই।

Category:

২০৫০ সালে প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ ৩ দেশের একটি হবে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

পিডব্লিউসির গবেষণা

উত্তরণ ডেস্ক: উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা কয়েক বছর ধরেই নানাভাবে শোনা যাচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) বলছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীর্ষ ৩টি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ।
পিডব্লিউসি প্রকাশিত ‘২০৫০ সালে বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ যেভাবে বদলাবে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ৩৪ বছরে ৩টি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় ৫ শতাংশের বেশি হবে। এ ৩টি দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। বাকি দুটি দেশ হলো ভারত ও ভিয়েতনাম।
একটি দেশের অর্থনীতি কতটা বড় ও শক্তিশালী, সেটি নির্ধারণে সর্বস্বীকৃত দুটি উপায় আছে। একটি হলো ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে জিডিপির আকার, অন্যটি হলো বাজার বিনিময় হারের (এমইআর) ভিত্তিতে জিডিপির আকার। দুই হিসাবেই বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে পিডব্লিউসির গবেষণায়।
পিডব্লিউসি বলছে, পিপিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ এখন ৩১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এ হিসাবে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৮, আর ২০৫০ সালে ২৩। আগামী ৩৪ বছরে ধারাবাহিকভাবে যে ৩২টি দেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, তাদের নিয়ে পিডব্লিউসি এ হিসাব তৈরি করেছে। এ ছাড়া এমইআর ভিত্তিতে ২০৫০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে।
তবে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছে পিডব্লিউসি। এর একটি হলো কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ বা অভিশাপ দুটোই নিয়ে আসতে পারে। তরুণদের যথেষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি করতে না পারলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।
ধারাবাহিকভাবে ৫ শতাংশের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অর্থনৈতিক সংস্কারে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে পিডব্লিউসির প্রতিবেদনে। এ ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করার বিষয়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
চীনের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসার বিষয়টিকে আগামী ৩৪ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে পিডব্লিউসি। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও উচ্চ মজুরির কারণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা চীন থেকে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় সরিয়ে নেবে।
জিডিপির বিপরীতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও আগামী ৩৪ বছরে বাড়বে বাংলাদেশে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ দেশে জিডিপির বিপরীতে বিনিয়োগ হবে গড়ে ২৩ শতাংশ। ২০২৫-পরবর্তী এ বিনিয়োগ বেড়ে ২৫ শতাংশের বেশি হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে আগামী ৩৪ বছরে সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। পিপিপির হিসাবে এখনই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি চীন, ২০৩০ সালে এমইআরের হিসাবেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে চীন। ২০৫০ সালে পিপিপির হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বড় অর্থনীতির দেশ হবে ভারত।
পিডব্লিউসির হিসাবে যে ৩২টি দেশের অর্থনীতির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এরা এখনই বিশ্ব জিডিপির ৮৫ শতাংশের জোগান দেয়। একই সাথে আগামী ৩৪ বছরে জি সেভেনভুক্ত ৭টি দেশের হাত থেকে ‘ইমার্জিং সেভেন’ভুক্ত ৭টি দেশের হাতে চলে আসবে। ইমার্জিং সেভেনভুক্ত ৭টি দেশ হলোÑ চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, রাশিয়া, মেক্সিকো ও তুরস্ক। আর জি সেভেনভুক্ত ৭টি দেশ হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, কানাডা ও ইতালি।
আগামী ৩৪ বছরে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ায় চলে আসবে বলে পিডব্লিউসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

Category:

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন

Posted on by 0 comment

‘সার্বজনীন অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ প্রদানকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু বস্তুত শিক্ষা যে একটি মৌলিক অধিকার, সেই অঙ্গীকারকেই সংবিধানসম্মত অলঙ্ঘনীয় বিধানে পরিণত করেন।

19নূহ-উল-আলম লেনিন: বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষাদর্শন এবং শিক্ষাভাবনা তার রাজনৈতিক দর্শন থেকেই উৎসারিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক মতাদর্শ, দার্শনিক বীক্ষা এবং সমাজচিন্তাসহ জীবনের সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ। তিনি কেবল বাঙালির জন্য একটা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যেই তার চিন্তা এবং আজীবনের সংগ্রামকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি। এই রাষ্ট্রটির চরিত্র কেমন হবে, কেমন হবে এর রূপ কাঠামো, রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের লক্ষ্যও তিনি স্থির করে দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর এই রাষ্ট্রদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার অনেক আগেই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা-সমাজভাবনা এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তার নানা বক্তৃতায়, কথায় ও ঘোষণার মাধ্যমে আমরা জেনেছি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, প্রথমে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ এবং তারপর ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না ‘মুক্তি’ ও ‘স্বাধীনতা’ শব্দ দুটির গভীর অর্থ-ব্যঞ্চনা বুঝেই বঙ্গবন্ধু তা চয়ন করেছিলেন। স্বাধীনতার অর্থ সহজবোধ্য। কিন্তু ‘মুক্তি’? বঙ্গবন্ধুই সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন আমাদের সংগ্রাম অর্থনৈতিক মুক্তির। মানুষে মানুষে ভেদ-বৈষম্য অব্যাহত থাকলে, শোষণ-বঞ্চনা অসাম্য অব্যাহত থাকলে এবং আমরা দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ ১৯৭৪ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ‘সোনার বাংলা’ গড়তে হলে আমার ‘সোনার মানুষ’ চাই। নিরক্ষরতার অভিশাপ দূর করে প্রতিটি মানুষকে শিক্ষিত করতে না পারলে, সোনার মানুষ গড়া যাবে না।
১৯৭০ সালের যে নির্বাচনে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে নিরঙ্কুশ রায় দিয়েছিল, সেই নির্বাচনের আগে রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দেন সেখানেই তিনি তার শিক্ষা-ভাবনা স্পষ্ট করে তুলে ধরেন :
“সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। ১৯৪৭ সালের পর বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এটা ভয়াবহ সত্য। আমাদের জনসংখ্যার ৮০ জন অক্ষর জ্ঞানহীন। প্রতিবছর ১০ লক্ষেরও অধিক নিরক্ষর লোক বাড়ছে। জাতির অর্ধেকেরও বেশি শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শতকরা মাত্র ১৮ জন বালক ও ৬ জন বালিকা প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। জাতীয় উৎপাদনের শতকরা কমপক্ষে ৪ ভাগ সম্পদ শিক্ষা খাতে ব্যয় হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কলেজ ও স্কুল শিক্ষকদের, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। নিরক্ষরতা অবশ্যই দূর করতে হবে। ৫ বছর বয়স্ক শিশুদের বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাদানের জন্য একটা ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষার দ্বার সকল শ্রেণীর জন্য খোলা রাখতে হবে। দ্রুত মেডিক্যাল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দারিদ্র্য যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য মেধাবী ছাত্রদের অভিশাপ হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।”
[বঙ্গবন্ধুর ভাষণ : নবেল পাবলিকেশন, সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, পৃ. ২৮, ১৯৮৯]
মুক্তিযুদ্ধের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু ১৯৭০-এর নির্বাচনে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি বিস্মৃত হননি। ১৯৭০-এর নির্বাচনটি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে। কাজেই এই নির্বাচনী ওয়াদায় তিনি তার সামগ্রিক শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাচিন্তা প্রকাশ করতে পারেনি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭২ সালে প্রণীত হয় আমাদের সংবিধান। সংবিধানে রাষ্ট্রের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়। সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে বলা হয় ৮। (১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাÑ এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।
চার জাতীয় মূলনীতিতে বলা হয়, মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়যুগ সাম্যবাদী সমাজ লাভ, … প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে … সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা … বিলোপ করা হইবে। এই রাষ্ট্রীয় নীতিসমূহে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রদর্শনই প্রতিফলিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে একটি ন্যায়ানুগ সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণ এবং মানবসত্তার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটি শিক্ষিত জাতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের বিকল্প নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২-এর সমাজ বাস্তবতা, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় রেখেই তার শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাভাবনা অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদেÑ
১৭। রাষ্ট্র
(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য,
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য,
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
‘সার্বজনীন অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষা’ প্রদানকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু বস্তুত শিক্ষা যে একটি মৌলিক অধিকার, সেই অঙ্গীকারকেই সংবিধানসম্মত অলঙ্ঘনীয় বিধানে পরিণত করেন। কেবল সংবিধানে লেখা-ই নয়, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২-৭৩ সালে তৎকালে বিদ্যমান সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করেন। ফলে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা লাভ করে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক লক্ষ শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতার সুযোগ পেয়ে এক নতুন মানবিক জীবনের অধিকারী হয়। এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন।
গোটা পাকিস্তানি আমলে একাধিক গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছিল। ১৯৬২, ’৬৪ এবং ’৬৯ পর্যন্ত দফায় দফায় এসব শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বুকের রক্ত দিয়ে ছাত্রসমাজ লড়াই করেছে। ফলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কোনো শিক্ষানীতিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর করতে পারেনি। ’৬২-তে ছিল শরীফ কমিশনের রিপোর্ট, ’৬৪ এবং পরবর্তী কয়েক বছর চেষ্টা হয়েছে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দিতে। এমনকি ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে আইউবের পতনের পর নতুন সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান যে ব্যক্তি কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ মাড়ায় নি, যার কোনো ডিগ্রি ছিল না, সেই বিমান বাহিনী প্রধান নূর খানের নেতৃত্বেও একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। ছাত্রসমাজের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের মুখে নূর খানের শিক্ষা কমিশন অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। শরীফ শিক্ষা কমিশন ও হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনÑ দুটোরই মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এক। পাকিস্তানের মতো বহুজাতিক রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন ভাষায় (উর্দু) অভিন্ন ধর্ম ও অভিন্ন পাকিস্তানি জাতীয়তাবোধে গড়ে তোলা। ওই দুই কমিশনেরই দৃষ্টিভঙ্গি বা দর্শন ছিলÑ ‘একটি সাধারণ ভাষা-ধর্মবোধ ও পাকিস্তানি ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সৃষ্টির মাধ্যমে একটি পাকিস্তানি নেশন তৈরিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে কাজে লাগান। এক কথায় সে সময়ের সরকারগুলোর শিক্ষাদর্শনের সারৎসার হলো : “যে সমস্ত আদর্শ পাকিস্তানের জন্ম দিয়েছে ঐগুলির সংরক্ষণের ব্যাপারে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে মৌলিক ভূমিকা গ্রহণ করিতে হইবে এবং আমরা যে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি, এ ধারণাকেও জোরালো করিতে হইবে।” শরীফ কমিশন অভিমত দেয় শিক্ষা হচ্ছে পণ্যবিশেষ, যার ক্রয়ক্ষমতা আছে, সে-ই শিক্ষার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ তারা সর্বজনীন শিক্ষার বিরোধী ছিল।
সংবিধান প্রণয়নের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন। কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শনই প্রতিফলিত হয়।
“বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সুস্পষ্টবোধ শিক্ষার্থীর চিত্তে জাগ্রত করে তাকে সুনাগরিকরূপে গড়ে তোলাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।”
এই কমিশন দুই বছর নিরন্তর কাজ করে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায় বলেছেন, “… শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শিক্ষা-স্তরের সর্বাঙ্গীন ব্যবস্থাকে স্পর্শ করে একটি বৃহৎ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে নিষ্ঠা ও ধৈর্য সহকারে। কার্জন ও স্যাড্লার কমিশনের পর এত চমৎকার অনুপুক্সক্ষ প্রতিবেদন এই উপমহাদেশে তৈরি হয়েছে বলে আমার জানা নেই।…
এই শিক্ষা কমিশনের সুপারিশের বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার চৌম্বক দিকগুলো হলো : “(১) ……… সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ………….. সালের মধ্যে প্রবর্তন করা; (২) মাধ্যমিক শিক্ষা-স্তরেÑ সুসমন্বিত কল্যাণধর্মী ব্যক্তিজীবন ও সমাজ জীবনযাপনের জন্য সচেতন কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ, সৎ ও প্রগতিশীল জীবন সৃষ্টির সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন করা; (৩) দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রয়াসে প্রয়োজনীয় মধ্যম স্তরের কর্মকুশল দক্ষ ও কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মী সরবরাহ করা; (৪) মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চশিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলা; (৫) প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার স্তরকে প্রাথমিক শিক্ষা-স্তরে উন্নীত করা।”
এভাবেই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন ও শিক্ষাভাবনাকে ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের শিক্ষানীতি। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ভেতর দিয়ে কেবল ক্ষমতার রদবদলই ঘটেনি। জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বে সামরিক শাসক গোষ্ঠী আমাদের সংবিধানের মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতি এবং রাষ্ট্রের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক রূপকে পর্যন্ত পাল্টে দেয়। বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষাদর্শন তথা কুদরাত-এ-খুদা কমিশনও বাতিল করা হয়। পুনর্মুষিকোভব-এর মতো বাংলাদেশ আবার পাকিস্তানি ভাবাদর্শের কারাগারে আবদ্ধ হয়।

Category:

শহীদ মিনারের অবমাননা করলেন খালেদা জিয়া

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: একুশে ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ২৭ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মিছিল কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে তাকে ফুল দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে পুষ্পাঞ্জলি রেখে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন, সেখানে উঠে হুড়োহুড়ি করে মূল বেদীতে উঠে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার দলের অন্য নেতারা।
তাদের বাধা দিয়ে থামাতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্বরত রোভার স্কাউটসের সদস্যরা। হুড়োহুড়ির এই ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে বিএনপির কয়েকজনকে শ্রদ্ধার ফুলও পদদলিত করতে দেখা যায়। কালো ব্যাজ বুকে নিয়ে খালেদা জিয়া তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

Category: