Blog Archives

দিনপঞ্জি : ডিসেম্বর ২০১৬

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: ১ ডিসেম্বর

61* স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের নকশাসহ পুরো আগারগাঁও এলাকার মূল নকশা বুঝে পেয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটির আর্কাইভে রক্ষিত ৮৫৩টি নকশা সংসদ ভবনে এসে পৌঁছে।

৩ ডিসেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার আগে জাতির কাছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। একটি দলের প্রধান হিসেবে উনি বিগত নির্বাচনে না আসার ভুল সিদ্ধান্ত নেন। তার নির্দেশে সারাদেশে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়। এখন উনি প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আগে জাতির কাছে মানুষ হত্যার জবাব দিক, পরে প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে। তাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে বলেছেন, মহান আল্লাহতালা যতদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন মৃত্যুকে ভয় করবেন না। গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হাঙ্গেরি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

৫ ডিসেম্বর
* একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে পলাতক রাজাকার ইদ্রিস আলী সরদারকে মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে এই রায় দেন। এটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৭তম মামলার রায়।
* গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, মহান এই নেতার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
৬ ডিসেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চলমান গতি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে আমাদের রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারব। তিনি বাসাবাড়িসহ সর্বত্র অহেতুক বিদ্যুৎ ও গ্যাস অপচয় না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

৭ ডিসেম্বর
* বাংলাদেশে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সাথে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করায় তাদের সাজা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দেন।

৮ ডিসেম্বর
* মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলার ওই পাঁচ আসামি হচ্ছেনÑ শামসুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া, নেসার আলী, ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেন।

৯ ডিসেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে। সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন ও রোকেয়া পদক-২০১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন জানিয়ে বলেন, আজকের দিনে সকলকে অভিনন্দন জানাই এবং সকলের কাছে আমি আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্য দোয়া চাই। আজ তার জন্মদিন। দোয়া করবেনÑ সে যে কাজ করে যাচ্ছে তাতে যেন সফল হয়। এ দেশের অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান, তাদের জীবনকে অর্থবহ করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে পুতুল। আমি আপনাদের কাছে তার জন্য দোয়া চাই।

১০ ডিসেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করে তাদের মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করতে হবে। যেহেতু ২০১৭ সালে জিএফএমডি বৈশ্বিক পর্যালোচনায় প্রবেশ করছে, সেহেতু আমাদের অবশ্যই অভিবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে এবং কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেক অভিবাসীর মর্যাদা এবং নিরাপদে তাদের চলাফেরা ও কাজ করার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নবম গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি)’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

১১ ডিসেম্বর
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিল্পপতিদের (উদ্যোক্তাদের) স্ব স্ব কারখানায় কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অধিকসংখ্যক নারী ও প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগসহ শ্রমিকদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একটা কারখানা করলাম আর শুধু পয়সা কামাই করব, এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে একটু উদ্যোগী হতে হবে। দক্ষ কর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। উন্নয়ন সহযোগীগণ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগ যোগ্যতা বৃদ্ধি ও শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ঢাকা সামিট অন স্কিলস, এমপ্লয়াবিলিটি অ্যান্ড ডিসেন্ট ওয়ার্ক-২০১৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
* ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জাতীয় পার্টির এমপি আবদুল হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, অপহরণসহ ৬টি অভিযোগ সংবলিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আদেশ দেন।
* মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রিয়াজউদ্দিন ফকির ও ওয়াজউদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ পাঁচ অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।

১২ ডিসেম্বর
* আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে আইন করা হবে।
* স্বাভাবিক অবসরের বয়স ৫৯ বছর হলেও যদি সশস্ত্র বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা বাহিনী প্রধানের (সেনা, নৌ ও বিমান) দায়িত্ব লাভ করেন, তবে দায়িত্ব লাভের পরবর্তী চার বছর তিনি সেই পদে বহাল থাকতে পারবেন। অবশ্য সংশ্লিষ্ট প্রধান স্বেচ্ছায় পদ ছাড়তে পারবেন কিংবা জনস্বার্থে মেয়াদের আগেই সরকার তাদের বিদায় দিতে পারবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান (নিয়োগ, অবসর এবং বেতন ও ভাতাদি) আইন, ২০১৬’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

১৪ ডিসেম্বর
* কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ না দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট। এরই মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলে তাও বাতিল করতে বলা হয়েছে। একই সাথে অনুরোধ জানানো হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ না দেওয়ার। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে সুপ্রিমকোর্টের মনোগ্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
* সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরে সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। সময়মতো এ বিষয়ে সুসংবাদ দেওয়া যাবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

১৫ ডিসেম্বর
* নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ হাজার ৪৭৮ সিনিয়র স্টাফ নার্সের যোগদান সম্পন্ন হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে যোগদান উপলক্ষে নিজ নিজ কর্মস্থলে জেলার সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় ১০ হাজার নার্স নিয়োগের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বিপুলসংখ্যক নার্স নিয়োগ দেয় সরকার।
* ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারত ও রাশিয়ার বীর যোদ্ধারা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি মহান ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বীর যোদ্ধারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এক সংবর্ধনায় এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের ২৯ এবং রাশিয়ার ৫ যোদ্ধা সস্ত্রীক বাংলাদেশের ৪৬তম বিজয় উৎসবে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন। বিজয় উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ধন্যবাদ জানান।

১৯ ডিসেম্বর
* একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান পলাতক অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে মারা গেছে। একাত্তরে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যার মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে গত ৩ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মান্নানসহ কিশোরগঞ্জের চার রাজাকার সদস্যের মৃত্যুদ-ের রায় দেন, আরও একজনকে দেওয়া হয় আমৃত্যু কারাদ-।

২০ ডিসেম্বর
* ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিহতের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রচেষ্টায় বিএসএফের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ফলে সীমান্তে নিহতের ঘটনা কমে এসেছে। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে চোরাচালান, মাদক ও নারী-শিশু পাচারসহ সীমান্ত অপরাধ বহুলাংশে কমেছে। পিলখানার বিজিবি সদর দফতরে বিজিবি দিবসের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
২১ ডিসেম্বর
* বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতের উন্নয়নে আর্থিক, নীতিনির্ধারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এমডিজির মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হবেÑ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ দেশ আমাদের। তাই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসাথে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
* মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার ছয় আসামির বিরুদ্ধে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের বিরুদ্ধে গত ২৯ মে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর একই মামলার ছয় আসামির মধ্যে মো. রঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতারের পর কারাগারে রাখা রয়েছে। পলাতক আসামিরা হলেনÑ আবদুল জব্বার, মো. জাফিজার রহমান, আবদুল ওয়াহেদ, মমতাজ আলী বেপারী ও আজগর হোসেন খান। এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সুনির্দিষ্ট ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

২৪ ডিসেম্বর
* প্রতিবছরের মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণা সমাজ থেকে দূরীভূত হলে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’ স্থানীয় সময় ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সভায় উপস্থিত সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করেন।

২৫ ডিসেম্বর
* দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও দৃঢ় করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বড়দিন উপলক্ষে বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

২৯ ডিসেম্বর
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি, জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট-জেডিসি এবং প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার ফলের অনুলিপি গ্রহণ করে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আরও বলেন, এই সনদ শিশুদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে, আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

৩১ ডিসেম্বর
* ডটবাংলা ডোমেইন-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Category:

বিজয়ের ৪৫ বছর : বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে পরাজিত পাকিস্তান

Posted on by 0 comment

59উত্তরণ ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৯ লাখ টন। ওই সময় দেশের ৮৮ শতাংশ মানুষই ছিল দরিদ্র। মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১২৯ মার্কিন ডলার। নবগঠিত সরকার প্রথম বাজেট দেয় মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। অর্থনীতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং তৎকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ আদৌ টিকবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বিশ্বের নামকরা অর্থনীতিবিদরা।
সেই বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে। কেউ বলছেন, এশিয়ান টাইগার। কেউ বলছেন, ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভের’ সদস্য। বিজয়ের ৪৫ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ কমপক্ষে দুই ডজন আন্তর্জাতিক সূচকে বর্তমানে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি গর্ব করার মতো। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ব্যবসায় পরিবেশ, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ। এমনকি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারতও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেনের মতে, আর্থিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় বেশি উন্নতি করেছে। তবে গড় আয়ুষ্কাল, পুষ্টি, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নের মতো সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। পাকিস্তানের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ তাদের দেশের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন সমস্যা। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশের ধারাবাহিকতার অভাব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেলগুলো এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। পাকিস্তান এ ধরনের কোনো কিছু উদ্ভাবন করতে পারেনি। আবার বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন মডেলগুলোকে (ক্ষুদ্রঋণ, বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রম, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) যেভাবে গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের সমাজে সেই মানসিকতা নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা পাকিস্তানে হয়নি। যে কারণে সামগ্রিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের পেছনে পড়েছে পাকিস্তান।
গত আট বছরের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। কৃষি উৎপাদনে দেশটি পেছনে হাঁটছে। বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর আগে এক দশক ধরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশের আশপাশে ওঠানামা করেছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। গত অর্থবছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে বাংলাদেশের। এর সিংহভাগ এসেছে পোশাক রপ্তানি থেকে। রপ্তানি আয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও এখন পাকিস্তানের চেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। পাকিস্তানের রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার।
ব্যবসায় পরিবেশ, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পেছনে পড়েছে পাকিস্তান। জাতিসংঘের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে পাকিস্তানের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আমেরিকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গ্লোবাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বৈশ্বিক উদ্যোক্তা সূচক-২০১৬-এ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণেও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০১৬-এর তথ্য অনুসারে ১১৮টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯০। পাকিস্তানের অবস্থান ১০৭। নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অগ্রগতির নানা সূচকে বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০১৫-তে সার্বিক বিবেচনায় নারী উন্নয়নে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে ৬৪ নম্বরে। এই তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৪ নম্বরে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি সূচকে ১৪২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ১৪১তম অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস গত ৭ জুন বার্ষিক বিশ্ব শান্তি সূচক প্রকাশ করেছে। ওই সূচকে বিশ্বের ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৩তম। যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম। জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগের জনসংখ্যা বিভাগ কর্তৃক ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টাস : ২০১৬ রিভিশন শীর্ষক বিশ্ব জনসংখ্যাবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সূচকে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭তম। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ১২৬-এ।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ পত্রিকা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গণতন্ত্র সূচক-২০১৫ প্রকাশ করে। এতে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম। যেখানে পাকিস্তানের অনেক আগে রয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের অবস্থান ১১২-তে। ২০১৪ সালের মানব উন্নয়ন রিপোর্টেও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২ আর পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৪৬।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মারসার বৈশ্বিক মানব পুঁজি সূচকে ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ওয়ার্ল্ড জাস্টিসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, তাদের প্রকাশিত স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থা সূচকে বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৩তম। যেখানে পাকিস্তান রয়েছে ৮৫তম স্থানে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৭তম। যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান ৮৮। সেভ দ্য চিলড্রেন তাদের ওয়েবসাইটে ১৭তম বার্ষিক মাতৃসূচক প্রকাশ করেছে। এ সূচকে বিশ্বের ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩০তম, আর পাকিস্তান ১৪৯। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন নিউ ইকোনমিকস ফাউন্ডেশন গত ৩০ জুলাই সুখী দেশ সূচক প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সবার শীর্ষে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গত মে মাসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গড় আয়ুতে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানের চেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ বর্তমানে ডিজিটাল বিশ্বে আলোচিত নাম। ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা হচ্ছে অনলাইনে। আলীবাবা, উবারের মতো অনলাইন সেবাদাতা অনেক বৈশ্বিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসছে। জ্বালানি শক্তির আধুনিক সংস্করণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

Category:

বিজয়ের মাসে সাফল্যে অর্জনে মুখরিত ক্রীড়াঙ্গন

Posted on by 0 comment

57আরিফ সোহেল: জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের হাতে গড়া ঢাকা আবাহনী লিমিটেড তিন মৌসুম পর আবারও ঢাকা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছে। লিগভিত্তিক আসরে নীল-আকাশি শিরিবের এটা পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জয়। ঢাকা আবাহনী লিমিটেড সর্বশেষ শিরোপা তুলেছিল ২০১১-১২ মৌসুমে। ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ মৌসুমে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা আবাহনী। ঢাকা আবাহনীই একমাত্র দল যারা এই লিগে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে। ৯ আসরের মধ্যে এবারই প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রয়াত শেখ কামালের অনুসারীরা।
২২ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। ২৯ ডিসেম্বর নিজেদের শেষ খেলায় রহমতগঞ্জকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ম্যাচ শেষে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ বাফুফের কর্মকর্তারা ট্রফি তুলে দিয়েছেন।
বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টুয়েন্টি ২০১৬ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। ফাইনালে তারা রাজশাহী কিংসকে ৫৬ রানে পরাজিত করে। ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ১৭.৪ ওভারে ১২০ রান তুলে অলআউট হয়ে গেছে। ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত। ম্যাচে প্রত্যাশিতভাবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। মালিকানার কারণে পরিবর্তিত নামে ঢাকার এটা তৃতীয় শিরোপা। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস শিরোপা জিতেছিল। ওই দুবছরই ঢাকার নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবারও বিপিএলে উল্লেখ্যযোগ্য বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন।
এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
58হংকংয়ে এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ফাইনালে জিমি-আশরাফুলরা শ্রীলংকাকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে হাসান জুবায়ের নিলয়, আশরাফুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান রানা বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেছেন। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ ২০১৭ সালের এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। এবারও আসরে টপ ফেভারিট ছিলেন জিমিরা। আসরে অংশ নেওয়ার আগে ইউরোপে বেশ কিছুদিন অনুশীলন করেছেন জিমি-আশরাফুলরা। ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আঙিনায় সাফল্য এনে দেওয়া সূর্যসন্তানদের সংবর্ধিত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। শিরোপা জয়ী দলের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, এয়ার ভাইস মার্শাল মাসিউজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিওএ মহাসচিব শাহেদ রেজা, ইস্তেখাবুবুল হামিদ, খাজা রহমত উল্লাহ, শফিউল্লাহ আল মনির এবং ক্রীড়া পরিষদের সচিব (যুগ্ম সচিব) অশোক কুমার বিশ্বাস।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
কিরগিজস্তানকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬, বিজয়ের মাসে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আসরের ফাইনালে কিরগিজস্তানকে ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জাবির-রাশেদরা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম সেটে ২৫-২২ এবং দ্বিতীয় সেটে ২৫-২৩ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তানকে। পরের ম্যাচটি টেকনিক্যাল কারণে আর খেলতে পারেনি টুর্নামেন্টের টপ ফেভারিট কিরগিজস্তান। পাঁচ জাতির এই আসরের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও তোফায়েল আহমেদ এমপি। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সালমান এফ রহমান, ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।
মুস্তাফিজ আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার
আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন বাংলাদেশ ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম কোনো ক্রিকেটার আইসিসির বর্ষসেরা কোনো বিভাগে পুরস্কার জিতলেন। তিনি বিশ্ব কাঁপানো পেসার মুস্তাফিজ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পারফরমেন্স বিবেচনায় মুস্তাফিজকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই সময়ে তিন ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৮ উইকেট। ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। তবে গত বছর উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় লাগিয়ে দিয়েছেন।
গত বছর টি-টোয়েন্টি দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান। ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২২ উইকেট শিকার করেন। ওয়ানডে ও টেস্টেও অভিষেক হয় একই বছর। ৯ ওয়ানডে খেলে ২৬ উইকেট নেন। আর দুই টেস্ট খেলে নেন ৪ উইকেট। এ বছর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই খেলা হয়নি মুস্তাফিজের। গত বছর এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সব ম্যাচ খেলতে পারেন নি। ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর চ্যাম্পিয়ন দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল মাতিয়ে খানিক ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে ঠিক হয়ে আবার ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলে জুলাইয়ে ইনজুরিতে পড়েন। তারপর করা হয় কাঁধে অস্ত্রোপচার। সেই থেকে চলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস পর আবার কোনো ম্যাচে খেলেন। সেটি জাতীয় দলের হয়ে।
জাতীয় দলের হয়ে আবার খেলায় মুস্তাফিজ যেমন স্বস্তি পান। তেমনিভাবে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও মুস্তাফিজকে আবার বল হাতে দেখে আনন্দ পান। এমন আনন্দের দিনে সুখবর মিলে। দেশের হয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হন মুস্তাফিজ।

Category:

শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আরও ৯ উপজেলা

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: দেশের আরও ৯ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। উপজেলাগুলো হচ্ছেÑ ফরিদপুর, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, যশোর, চাঁদপুর ও নাটোরের সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, বরিশালের বাউফল ও সিলেটের ছাতক।
সূত্র জানায়, এই ৯ উপজেলার শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এখানে সব বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পালনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও আগস্টে বিদ্যুৎ বিভাগের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল দেশের ২৮ জেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আরও ৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। উপজেলাগুলো হচ্ছেÑ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, নারায়ণগঞ্জের বন্দর, নরসিংদীর পলাশ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা। এই উপজেলার যেসব বাড়িতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নেওয়া কর্মপরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০০ এবং ২০৩০ সালে ৪০০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ক্ষমতাবর্ধন করা হবে। এজন্য সরকারের ২০২১ সাল পর্যন্ত ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংস্থান করতে হবে। অতীতে বিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। দাতা সংস্থা বছরের পর বছর ঘুরিয়ে প্রকল্প বাতিল করত। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে সরে এসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অনেক ব্যাংকই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কাছে আসছে। সরকার বলছে এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা নয়।
সরকারের পরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুনে আরও ৭৫টি উপজেলা এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ৬৯টি উপজেলার শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। এভাবে মোট ৪৬৫টি উপজেলার শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। যদিও সরকার বলছে, শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে ২০২১ সালে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য ৩৫ হাজার কিলোমিটার লাইন স্থাপন করতে হবে।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন:
55মাহবুবুল হক শাকিল। কবি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী। রাজনীতিক। সাবেক তুখোড় মেধাবী এই ছাত্রনেতার জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। বড় হয়েছেন ময়মনসিংহে। পড়েছেন ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর করেছেন কবি শাকিল। স্কুলজীবনেই ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। শাকিল ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতি ছিলেন। নব্বইয়ের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শাকিল আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন।
তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। ২০০১-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই’তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ শুরু করেন শাকিল, এরপর তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান। ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব ও পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিআরআই’র সাথে সবসময় গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট থেকেছেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাহবুবুল হক শাকিল, মৃত্যু অবধি তিনি এই পদেই দায়িত্বরত ছিলেন। নিজ দলের বাইরে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও তিনি সজ্জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনেও পরিচিত নাম মাহবুবুল হক শাকিল।
২০১৫ একুশে বইমেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ প্রকাশিত হয়। ২০১৬ বইমেলায় প্রকাশ হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মন খারাপের গাড়ি’। ২০১৭-এর একুশে বইমেলায় কবির আরেকটি বই প্রকাশের কথা রয়েছে এবং একটি গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হতে পারে।
২০১৬-এর ৬ ডিসেম্বর শাকিল মাত্র ৪৮ বছর বয়সে অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ সহকারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রীবর্গসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও সুহৃদ স্বজন শোক প্রকাশ করেছেন।
শাকিলের বাবা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক এবং মা স্কুলশিক্ষক নুরুন্নাহার।

Category:

স্লিম হতে চাইলে বেশি করে পানি পান করুন

Posted on by 0 comment

54অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী: ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে দেখানো হয়েছে, যারা প্রতিদিন পানি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়েছেন, তাদের যেমন দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ কমেছে তেমনি চর্বি, চিনি, নুন ও কোলেস্টেরোল গ্রহণও কমে। ১৮ হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা নিবন্ধাকারে প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব হিউম্যান ডায়েটেকিস অ্যান্ড নিউট্রিশনে।
গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক প্রতিদিন ৪.২ কাপ পরিমাণ পানি পান করেন, যা হলো মোট পানি গ্রহণের ৩০ শতাংশ মাত্র, বাকি আসে অন্যান্য পানীয় যেমনÑ চা, কপি, ফলের জুস ও খাদ্য থেকে।
অংশগ্রহণকারীদের গড় ক্যালোরি গ্রহণ ছিল ২ হাজার ১৫৭ ক্যালোরি, তবে ১২৫ ক্যালোরি এলো কোমল  পানীয় থেকে এবং ৪৩২ ক্যালোরি এলো ডেজার্ট, প্যাস্ট্রি, ¯œ্যাকসের মতো খাদ্য থেকে। তবু যারা প্রতিদিন এক, দুই বা তিন কাপ পানি গ্রহণ বাড়ালেন, এদের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ কমলো ৬৮-২০৫ ক্যালোরি এবং নুন গ্রহণ কমলো ৭৮-২৩৫ মিলি কম। চিনি গ্রহণ কমলো ৫-১৬ গ্রাম। কোলেস্টেরোল গ্রহণ কমলো ৭-১২ মিলিগ্রাম। পরিবর্তনটি বেশি হলো পুরুষদের মধ্যে।
বাড়তি পানি নানাভাবে সহায়ক হলো। পানি পান করে তৃপ্তির অনুভব বেশি করে এলো, এতে কমলো অতিভোজন। এবং কোমল পানীয় যাতে বাড়তি চিনি রয়েছে, সেসব পানীয় গ্রহণও কমলো। পানি পান প্রতিদিন করা যায় নানা উপায়ে। প্রতিবার টয়লেটে যাবার আগে, ঘুম থেকে উঠে এবং প্রতিবেলা আহারের কিছু আগে।
টিনএজে কী করে সুস্থ থাকা যাবে
টিনএজে যেসব অভ্যাস আমরা করি, সেগুলো বয়স্ক হলেও কী প্রভাব ফেলে শরীরের ওপর?
উত্তরটি হ্যাঁ বাচক। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ৬৫ শতাংশ ঘটে হৃদরোগ, ক্যানসার ও স্ট্রোকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগ প্রতিরোধযোগ্য। অনেকগুলো আচরণ বা অভ্যাস, যা এসব রোগ কালক্রমে ঘটায়, সেগুলো শুরু হয় তরুণ বয়সে। যেমন কিশোর বয়সে ধূমপান শুরু করে বয়স হওয়ার পর্যন্ত চালালে বয়স্ক হলে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ক্যানসার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।
তাই সুস্থ থাকতে হলে কী করা উচিত?
ক্স তামাক তামাকজাত যে কোনো দ্রব্য পরিহার। ধূমপান বর্জন। অন্যে ধূমপান করলে সেই ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ না করা।
ক্স নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
ক্স স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
ক্স সব সময় গাড়িতে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে হবে।
ক্স মদ্যপান বা নেশা করে গাড়ি ড্রাইভ খুব বিপদ। যে গাড়ির ড্রাইভার মদ্যপান বা নেশা করে সে গাড়িতে চলা ঠিক না।
ক্স সুরক্ষা শিরোবর্ম পরতে হবে, মোটরবাইক চড়ার সময় হেলমেট, খেলার সময়ও সুরক্ষাবর্ম পরতে হবে।
ক্স কখনও একা সাঁতার কাটা যাবে না।
ক্স মনে খুব দুঃখবোধ হলে, নিজের ক্ষতি করার ভাবনা এলে মা-বাবা ও চিকিৎসকের সাথে আলাপ করতে হবে।
ক্স যেসব পরিস্থিতি বা স্থানে ভায়োলেন্স বা মারামারি হয় এবং দৈহিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে সেসব পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে।
ক্স ডাক্তারকে নিয়মিত দেখাতে হবে।

Category:

বিজয়ের মাসে ডটবাংলা ডোমেইন জয়

Posted on by 0 comment

53সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর: এ বছরের বিজয় দিবস পেয়েছে অন্য একটি মাত্রা। বাংলা ভাষার জন্য একটি চমৎকার খবর নিয়ে। এ বছরের বিজয় দিবস থেকে শুরু হলো ডটবাংলা ডোমেইনের নিবন্ধন। আমাদের বর্ণমালার এক নতুন ডিজিটাল স্বীকৃতি। আগে ইন্টারনেটে বাংলা লেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু ডোমেইন নাম বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা বাংলায় লেখার সুযোগ ছিল না। এর মাধ্যমে সেই সুযোগটি তৈরি হলো। এখন থেকে ওয়েব ঠিকানা কেবল ইংরেজিতেই নয়, রাখা যাবে বাংলাতেও। অর্থাৎ কেবল রোমান হরফে নয়, লেখা যাবে বাংলা বর্ণমালাতেও। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক তথ্য পেতে সুবিধা হবে। বাংলা ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণের কাজও আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। তবে এ অর্জনটি শুধু বাংলা লেখার সুবিধা নয়। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট বিশ্বে বাংলাদেশকে বাংলা ভাষার প্রধান রক্ষক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কারণ এখন থেকে সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষিদের এই ডোমেইন শুধু বাংলাদেশের কাছ থেকেই কিনতে হবে। এটি বাংলা ভাষার যাত্রায় একটি বড় অর্জন এবং এটি চালু করা আওয়ামী লীগ সরকারের একটি বৃহৎ এবং ঐতিহাসিক সফলতা।
এ বিষয়টি জাতির শুধু আওয়ামী লীগের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত ছিল। প্রথম কারণটি হলো প্রযুক্তিবান্ধব সরকার হিসেবে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান ও শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প। আর তার অতীতে রয়েছে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ও তার দল আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চে তার প্রথম গ্রেফতার। এরপর সরকার ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে, চুক্তির মাধ্যমে তাকে সহ ভাষা আন্দোলনের অন্য নেতৃবৃন্দের কারামুক্তিই ছিল রাষ্ট্রের কাছে বাংলা ভাষার প্রথম দাফতরিক স্বীকৃতি।
’৫২-র ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে, শহীদের আত্মাহুতিকে তিনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে উজ্জীবিত রেখেছিলেন। ভাষাকে তিনি আমাদের স্বাধিকারের প্রসঙ্গের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। আর বাঙালির স্বাধিকারের সাথে জড়িয়ে যাওয়া ছিল ভাষাটির ভবিষ্যতে সগৌরবে বেঁচে থাকার শক্তিশালী মন্ত্র।
স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৭২-এর সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় দেওয়া জাতিসংঘের ভাষণ ছিল বাংলার প্রথম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ। আর তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারি।
সর্বশেষ অর্জনটিও এলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। ২০১০ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিনি বাংলা বর্ণমালার আরেক স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রামের ঘোষণা দেন। ঘোষণা দেন তার সরকার বাংলায় কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থাৎ, ডটবাংলা ডোমেইন। সোজা কথায়, এই ডোমেইন চালু হলে ওয়েব অ্যাড্রেস হবে বাংলা বর্ণমালাতেই। এর আগে তার নির্দেশনায় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে বাংলা ডোমেইন স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় সংসদের এ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। তার ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করে, সেটা পাঠানো হলো অনুমোদনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেন গত ৩ ফেব্রুয়ারি। তারপরই তিনি ঘোষণা দেন। এরপর কাজ শুরু হয় ডোমেইনের আন্তর্জাতিক অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠন আইক্যান (ওঈঅঘঘ)-এর সাথে। বিটিআরসি’র তত্ত্বাবধানে ডটবাংলা স্ট্রিং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড বা বিটিসিএল সব রকম যাচাই-বাছাই করে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতা সেরে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ডটবাংলা ডোমেইনের জন্য আইক্যানের (ওঈঅঘঘ) কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠায়। ২০১৬ সালের জুনে অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আইক্যানের সাথে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন। আর গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইক্যানের বোর্ডসভায় ডটবাংলা ডোমেইন বরাদ্দের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, গত ৪ অক্টোবর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থা আইয়ানা (ওঅঘঅ) ডটবাংলা ডোমেইন বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয়, এবং বাংলা ভাষার প্রথম কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন হিসেবে অনুমোদন পেল ডটবাংলা ডোমেইন।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীরা বিশ্বাস করে বাংলা ভাষা আমাদের রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রাচীর। সেই চেতনায় ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলেছে বাংলা ভাষা। আরও যাবে বহুদূর। আলোকবর্তিকা হিসেবে থাকবে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা বর্ণমালা।

লেখক : তথ্য প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কুষ্টিয়া জেলা শাখা

Category:

পূর্বাভাস জানাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অ্যাপ

Posted on by 0 comment

52উত্তরণ ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং নিরাপদ নৌ ও বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে সময়মতো ও অপেক্ষাকৃত নিখুঁত পূর্বাভাস জানাতে আবহাওয়া অধিদফতর একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। গত ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ‘একসেস টু রিয়েল টাইম ডিজিটাল ওয়েদার ইনফরমেশন’ সেবা উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ‘বিএমডি ওয়েদার অ্যাপ’ ব্যবহার করে যে কোনো জায়গা থেকে দেশের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।
অ্যানরয়েড ফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। দেশের ৪২টি স্থানে স্থাপিত স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া যন্ত্রের সাথে এই অ্যাপটি সরাসরি সংযুক্ত। আবহাওয়া অধিদফতরের ডপলার রাডার এবং আবহাওয়া স্যাটেলাইটের সর্বশেষ তথ্য যে কোনো সময় এই অ্যাপ ব্যবহার করে পাওয়া যাবে। অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সর্বশেষ বাতাসের তাপ, চাপ, গতি, বৃষ্টির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে।
এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় সর্তকবার্তা, ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, গতিপথ, ভূমিকম্প, কৃষি আবহাওয়া, হাইড্রোলজি, শৈত্যপ্রবাহ, খরা সম্পর্কিত তথ্যও খুব সহজেই ব্যবহারকারী জানতে পারবে।
সময়মতো এবং অপেক্ষাকৃত নিখুঁত আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সর্তকবার্তা প্রচারের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ ও বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এই অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।
অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে স্টোরের সার্চ বক্সে BMD Weather App লিখলে বাংলাদেশের এই আবহাওয়া অ্যাপটি পাওয়া যাবে। এরপর অ্যাপাটি ইন্সটল করে নিতে হবে।
অ্যাপটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Category:

জামদানির স্বত্ব বাংলাদেশের

Posted on by 0 comment

50রাজিয়া সুলতানা: পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে ‘জামদানি’ শব্দটি উচ্চারিত হলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের নাম। কারণ জামদানি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। ২০১৬ সালে দেশের কৃষ্টি-ইতিহাসের অনুষঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র জামদানি আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের কাছ থেকে জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেকেশন বা জিআই পণ্য তথা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই, এটি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একটি গৌবরময় সাফল্য। বিশ্ব দরবারে স্বতন্ত্র মহিমায় সমুজ্জ্বল অভিজাত তাঁতবস্ত্র হিসেবে জামদানি এ দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক।
২০১৬ সালের ৫ আগস্ট জিআই নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশের জামদানির জন্ম, উৎপাদন, বিস্তার এবং বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর তাদের নিজস্ব জার্নালে ২৬ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে। আশঙ্কা ছিল ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জামদানির জিআই নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ থেকে এর আগে ‘উপাধ্যায় জামদানি’ নামের একটি শাড়ির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু ‘জামদানি’ নামে নিবন্ধন চেয়ে কেউ দাবি করেনি।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জামদানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছিল আজারবাইজানে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউনেস্কো ইন্টেলিজেবল কালচারাল হেরিটেইজ বাংলাদেশের জামদানিকে আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্বীকৃতি দিয়েছে। বাউল সংগীতের পর এই তালিকায় জামদানি বাংলাদেশের দ্বিতীয় পণ্য। বুনন, রং ও নকশা, মান-বৈচিত্র্য আর ঐতিহ্য বিবেচনায় জামদানি অর্জন করেছে এই স্বীকৃতি। এটা বর্তমান সরকারের এক বিরল কৃতিত্ব। জামদানি এখন বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক গৌরবময় স্মারক।
২০১৩ সালে জামদানিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো নিজস্ব ও অবিকৃত পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে পেয়েছে জিআই মেধাস্বত্বের আলাদা স্বীকৃতি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) এই জিআই স্বত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ শুধু জামদানি শাড়ির জিআই পায়নি, পেয়েছে জামদানি শিল্পের সুনির্দিষ্ট নকশা যেসব পণ্যের ওপর করা হয়, তার সব কটির স্বত্ব। যেমন জামদানির কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, রুমাল, পর্দা, কুর্তা থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সরঞ্জাম।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ১৬ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে বলা হয়েছে, ‘নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিককরণের ব্যবস্থা, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ অর্থাৎ, আমাদের সংবিধানেও কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কুটির শিল্পের গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। দেশের ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের দ্রুত উন্নয়নে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মকা- বাস্তবায়নের নীতি সহায়তাসহ সম্ভাব্য অন্যান্য সহায়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দেশের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্মকা-ের পাশাপাশি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নিজস্ব শিল্প-ভাবনা ও আভিজাত্যের প্রতীক জামদানি শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করে আসছে। জামদানি যেখানে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত এক ধরনের পরিধেয় বস্ত্র। প্রাচীনকালের মসলিনের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙালি নারীদের অতি জনপ্রিয় বস্ত্র। জামদানি নামের উৎপত্তি অনেকটাই অজানা। একটি মত অনুসারে ‘জামদানি’ ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। ফার্সি ‘জামা’ অর্থ কাপড়, আর ‘দানি’ অর্থ বুটি। সেই অর্থে জামদানি অর্থ বুটিদার কাপড়। আরেকটি মতে, ফারসিতে ‘জাম’ অর্থ এক ধরনের উৎকৃষ্ট মদ এবং ‘দানি’ অর্থ পেয়ালা। জাম পরিবেশনকারী ইরানি সাকির পরনের মসলিন থেকে জামদানি নামের উৎপত্তি ঘটেছে।
জামদানি শিল্পের জুড়ি মেলা ভার। প্রথমত, এর রয়েছে বৈশিষ্ট্যমূলক জ্যামিতিক প্যাটার্নের ধারাবাহিকতা, যা ইরানি প্রভাবে প্রভাবিত। আবার এর মোটিফ, যা বুননের সময়েই কাপড়ে খুব সুন্দরভাবে গেঁথে যায়। মুসলমানরাই ভারত উপমহাদেশে জামদানির প্রচলন ও বিস্তার করেন। গবেষকরা মনে করেন, মসলিন ও জামদানি বস্ত্রে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। চতুর্দশ শতাব্দীতে বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলাদেশ পরিভ্রমণের সময় সোনারগাঁও এলাকাস্থিত সুতিবস্ত্রের প্রশংসা করেছেন। ঐতিহাসিক টেলরের জামদানির বর্ণনা দিয়েছেন। তার বর্ণনানুসারে স¤্রাট জাহাঙ্গীর এবং আওরঙ্গজেবের আমলেও জামদানির যথেষ্ট কদর ছিল।
আবহমান কাল থেকে হাতে তৈরি কারুকার্জ খচিত এই জামদানি বাঙালি নারীর স্বপ্নের শাড়ি। বাঙালিদের পাশাপাশি ভারতীয় এবং রূপে মুগ্ধ হয়ে এখন পশ্চিমা নারীরাও জামদানির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামদানি শাড়ি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। প্রায়ই তাকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশজ ঐতিহ্যের ধারক জামদানি শাড়ি পড়তে দেখা যায়। আমাদের নারী, মন্ত্রী, নেত্রীসহ অভিজাতমহলেও জামদানির প্রতি গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সর্বোপরি জামদানি বাংলাদেশের একটা ব্র্যান্ড। ফ্যাশন মহলে বাংলাদেশের পরিচিতি মসলিন জামদানির দেশ হিসেবেই।
জামদানির জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামে। এই এলাকার তাঁতিরা পরে ছড়িয়ে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপসী, কাজীপাড়া, গন্দর্বপুর, বারগাঁও, সোনারগাঁ, মুরগাকুল, মৌকুলি, তালতলা, খাদুন প্রভৃতি এলাকায়। বিভিন্ন জেলার তাঁতিরা নোয়াপাড়া এসে জামদানি বোনা শিখেছেন, এখনও শিখছেন। এসব তাঁতিরা সাধারণত উত্তরাধিকার বা পরিচিতদের সূত্র ধরে আসে। তবে নোয়াপাড়া থেকেই জামদানি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জেলাতে। উল্লেখযোগ্য জেলাগুলো হলোÑ কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকার মিরপুর, ধামরাই, তিতাবাড়ি, বাজিতপুর, জঙ্গলবাড়ি প্রভৃতি এলাকা মসলিনের জন্য সুবিখ্যাত। জন্মস্থান নোয়াপাড়ায় প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জামদানির হাট বসে। যেখানে প্রতি শাড়িতে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিয়ে বিক্রি করেন তাঁতিরা। ৫ হাজার টাকা বাজার দরের একটা শাড়ি হাটে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়ও কিনতে পাওয়া যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের বাতাস, পানি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর অদ্ভুত রসায়নই বিস্ময়কর কাপড় তৈরির অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এখানকার করোজ্জ্বল রোদে জামদানির সুতায় আসে বিরল এক ঔজ্জ্বল্য, যা পাওয়া যায় না পৃথিবীর অন্য কোথাও। যুতসই আবহাওয়া-পরিবেশ এখানকার তাঁতিদের মধ্যে তৈরি করেছে অবিশ্বাস্য কর্মোদ্দীপনা।
জামদানি শাড়ির মূল আকর্ষণ এর নকশা বা মোটিফে। জ্যামিতিক ডিজাইনের নকশা দেখলেই বোঝা যায় এটি জামদানি শাড়ি। এই নকশা সাধারণত কাগজে এঁকে নেওয়া হয় না। জামদানির শিল্পীরা নকশা আঁকেন সরাসরি তাঁতে বসানো সুতায় শাড়ির বুননে বুননে। আবার কখনও কখনও তারা ফরমায়েশি কাজও করেন। তখন হয়তো তারা ডিজাইনারের নির্দেশনা মেনে শাড়ির রং নির্ধারণ করেন। কিন্তু নকশা তো সেই আদি প্যাটার্ন বজায় রেখেই হবে। তারা এমনি পারদর্শী যে মন থেকেই চিন্তা করে ভিন্ন ভিন্ন নকশা আঁকেন। প্রচলিত বেশ কিছু পাড়ের নকশার মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পাড় হচ্ছে করলা পাড়। এ ছাড়া ময়ূর প্যাঁচ, কলমিলতা, পুঁইলতা, কচুলতা, গোলাপচর, কাটিহার, কলকা পাড়, কাঠ পাড়, আঙুরলতা ইত্যাদি। শাড়ির জমিনে গোলাপ ফুল, জুঁই ফুল, পদ্ম ফুল, তেছরী, কলার ফানা, আদার ফানা, সাবুদানা, মালা ইত্যাদি নকশা বোনা হয়। এই নকশা তোলার পদ্ধতিও বেশ মজার। শিল্পীদের মুখস্থ করা কিছু বুলি রয়েছে। এসব বুলি ওস্তাদ সাগরেদকে বলতে থাকে, আর সাগরেদ তা থেকেই বুঝতে পারে যে ওস্তাদ কোন নকশাটি তুলতে যাচ্ছেন।
শীতলক্ষ্যা নদীর অববাহিকার নারীরা জামদানি শাড়ি বোনার জন্য তৈরি করেন এক বিশেষ ম-। বস্ত্র ইতিহাসে সূক্ষ্মতম কাপড় মসলিনের এক অনন্য বংশধর এই জামদানি দেশের ক্ষয়িষ্ণু তাঁতশিল্পকে এখনও পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড় করে রেখেছে। মসলিনের পঞ্চম তনয়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে জামদানি। মসলিন জড়িয়ে আছে মিসরের পিরামিডের গায়ে। ঢাকার জাদুঘরে, মোগল স¤্রাজ্ঞী নূরজাহানের আঁকা ছবির ক্যানভাসে এবং বিশেষভাবে ঢাকাই জামদানি সাবলীলভাবে দৃশ্যমান। এখানকার সশিক্ষিত গ্রামীণ নারী-পুরুষ কারিগররাই এই জামদানি বস্ত্রবয়ন বিজ্ঞানের ধারক ও বাহক। তবে জামদানি শাড়ির ধরন নকশা ও বুননরীতি আলাদা। জামদানি শাড়িতে পাইড় (পাড়) এবং শরীরের ভিন্ন ভিন্ন নকশা ব্যবহার করা হয়। পাড়ের কাজের মাঝে রয়েছে কলকা, ইন্দুর, বেলজিয়াম, শাল, হাপাইলক্ষী, যাদু, পাইড়, কুইলতা, ডরিং, দুবলা, নকশি পাতা, বেল পাতা, কাউয়ার ঠেঙ্গি, কচুপাতা, পুল, মাদলি, পানশি, দুই কয়লা, দুবলাজাল, মদন, করলা, ইঞ্চি, আম, মালা এবং ময়ূর খেস পাইড় ইত্যাদি। শরীরের কাজের ধরন এবং নামগুলো বৈচিত্র্যময়। শরীরের কাজের নামগুলো হচ্ছেÑ শাপলা ফুল, পাতিজাল, শিঙ্গাড়া ফুল, ইয়ারিং ফুল, হাজার বুটি, পুরাতন বুটি, তুরুম ফুল, জুঁইবুটি, ইসকাবুটি, বকুল ফুল, কদম ফুল, দুবলাজাল, হাপাইলক্ষী ফুল, গাছতেছড়ি, পোনাফুল, টগরজুঁই ফুল, চিরাবুটি, সন্দেশ ফুল, হাপলাজাল, চিনিবাসনজাল, ছিদার জাল, ডাপজাল, করাতেছড়ি, সাবুদানাতেছড়ি, পানতেছড়ি, কচুপাতাতেছড়ি, গুটফোলা, তেপাতিছেটা, বুন্দিছিটারজাল, রিংজাল, জংলিতেছড়ি, যাদুরবুটি, মুরালীতেছড়ি, মেদ্দা ফুল, বাঘেরনলী ফুল, ছলমতেছড়ি, বাইনতেছড়ি, পানজাল, আমিত্তিফুল, গোলাপ ফুল ইত্যাদি।
বিসিকের জরিপ অনুযায়ী দেখা যায়, ১৯৬৫ সালে জামদানি শিল্পের ইউনিট ছিল ১ হাজার ১৭৩টি। তাঁতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৪টি এবং কারিগর নিয়োজিত ছিল ৪ হাজার ২২৮ জন। তখন গড়ে প্রতিটি জামদানি ইউনিটে ১ দশমিক ৭টি করে তাঁত, ৩ দশমিক ৮ জনের কর্মসংস্থান এবং ১ হাজার ৯৯৪ টাকা বিনিয়োগ ছিল। নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার ১৪টি এবং সিদ্ধিরগঞ্জের ১টি, মোট ১৫টি গ্রামে ২০০২ সালের জরিপে দেখা যায়, জামদানি ইউনিট সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫২৮টি, চালু তাঁত ছিল ২ হাজার ৫১৯টি এবং এ কাজে নিয়োজিত ছিলেন ৫ হাজার ৬৬৯ কারিগর। সর্বশেষ জরিপে জামদানি এই সংখ্যা এবং কর্মসংস্থান লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির সাথেও জামদানি শিল্পের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। দেশীয় বাজার ছাড়াও রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও জামদানি খাতের রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ। ওই খাতে উৎপাদিত পণ্য আরও মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্যময় করতে বর্তমান সরকার সেবা-সহায়তা আরও প্রসারিত করেছে। সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়েই এই শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের সব সম্ভাবনাকে আমাদেরই আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে হবে।
নবীন কারিগররা অধিকাংশ নকশাই বুনতে জানেন না, বর্তমান জামদানি শাড়ির পাড়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে করলা পাইড়, কনকা, করলা, ইঞ্চি ও মদন পাড় অধিকাংশ শাড়িতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। শাড়ির শরীরে চলতি সময়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছেÑ সন্দেশ, আমৃত্তি, জুঁই, ছিদার, গোলাপ ফুল ও চিরাবুটি নকশা। নকশিকাঁথা বা জামদানি উপযোগিতা সূচি পদ্ধতি, মোটিফ ও শিল্পমান প্রভৃতি ছাড়াও গুণগ্রাহীদের বিশেষভাবে মোহিত করেছে এর বিষয় নির্বাচন। যেখানে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে সুজলা-সুফলা গ্রাম বাংলার নির্ভেজাল চিত্র।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জামদানিকে ঘিরে শীতলক্ষ্যা অববাহিকায় গড়ে ওঠা জনপদে কারিগরদের লোকায়ত অভিজ্ঞতা ও জামদানি বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতাই বাংলাদেশের প্রামাণ্য দলিল। জামদানি শাড়িকে শুধু বাণিজ্য বিবেচনায়ই বিস্তৃত করা ঠিক হবে না। কারণ শীতলক্ষ্যা অববাহিকার জনপদে এই জামদানি সভ্যতা পৃথিবীর চলমান ইতিহাসে এক অনন্য অসাধারণ নথি। কারণ আন্তর্জাতিকভাবেই জামদানি একতরফাভাবে বাংলাদেশের গৌরব আর মর্যাদার একক পণ্য হিসেবেই স্বীকৃত।

Category:

বাল্যবিবাহ আইনের বিরোধিতাকারীদের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেই

Posted on by 0 comment

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

47উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাল্যবিবাহ আইনটি ‘অত্যন্ত বাস্তবসম্মত’ দাবি করে বলেছেন, ১৮ বছর বয়সের আগে আদালত ও পরিবারের অনুমতি নিয়ে বিয়ের বিষয় সংবলিত বাল্যবিবাহ আইনটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত চিন্তা থেকে করা হয়েছে। সব কিছু বিবেচনা করে ও বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আইনটি করা হয়েছে। যারা এর বিরোধিতা করছে তাদের গ্রাম-গঞ্জের সামাজিক-পারিবারিক বাস্তবতা সম্পর্কে কোনোই ধারণা নেই। ঢাকা শহরে বাস করে গ্রামের অবস্থা জানা যায় না।
গত ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বাল্যবিবাহ আইনে সংযুক্ত এই বিধানের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, অত্যন্ত বাস্তবসম্মত একটা চিন্তা এটি। যেটা সম্পর্কে বিরোধিতাকারীদের কোনো ধারণা নেই। ঢাকা শহরে বাস করে গ্রামের অবস্থা জানা যায় না। গ্রামে যার একটা উঠতি বয়সী মেয়ে আছে সে জানে প্রকৃত বাস্তবতা কী।
শেখ হাসিনা বলেন, বাল্যবিবাহ আইন নিয়ে ঘাবড়ানো কিংবা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে। যারা কোনো দিন গ্রামে বাস করেনি, গ্রামের সমাজ সম্পর্কে জানে না, শুধু একবার গেলাম আর দেখলাম, কথা বললামÑ এসব করে সমাজ সম্পর্কে জানা হয় না। দিনের পর দিন গ্রামে বসবাস করলে গ্রামের বাস্তব অবস্থা ও গ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সেটা উপলব্ধি করা যায়, জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব কিছু বিবেচনা করে এই বাল্যবিবাহ আইনটি করেছি। বাস্তবতাকে সামনে রেখেই করা হয়েছে। কিছু কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ে অনেক কথা বলছে। যারা কথা বলছেন তারা কিন্তু একটানা দু-চার বছর গ্রামে বসবাস করেন নি। তাই এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিছু বিষয় আছে, সে বিষয়গুলো নিয়ে তারা কখনও ভাবে না। যেহেতু বাস্তবতা থেকে তারা অনেক ঊর্ধ্বে। রাজধানীতে বসবাস করে, রাজধানীর পরিবেশ তারা দেখেন। বাস্তব অর্থে গ্রামীণ অবস্থা সম্পর্কে তারা জানে না।
যুক্তি উপস্থাপন করে সরকার প্রধান বলেন, প্রত্যেক আইনেই যদি কোনো অনাকাক্সিক্ষত অবস্থার সৃষ্টি হয়, তা হলে সেখানে কি করণীয় তার একটা সুযোগ অবশ্যই দিতে হবে। সেটা যদি না দেওয়া হয় তা হলে এই সমাজের জন্য অনেক বড় একটা বিপর্যয় নেমে আসবে। তিনি বলেন, আমরা ১৮ বছর বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। কিন্তু আপনারা চিন্তা করেন, একটা মেয়ে যে কোনো কারণেই হোক যদি ১৩-১৪ বছর বয়সে প্রেগনেন্ট (গর্ভবতী) হয়ে গেল, তাকে এ্যাবরসন করানো গেল না। যে শিশুটি নেবে সেই শিশুটির অবস্থানটা কোথায় হবে? তাকে কি সমাজ গ্রহণ করবে? তাকে কি বৈধভাবে নেবে? বাস্তবতা হচ্ছে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, এ রকম যদি কোনো একটা ঘটনা ঘটে তা হলে কি হবে? যে শিশুটার জন্ম হলো তার কি হবে? যে মেয়েটা সন্তান জন্ম দিল তার অবস্থাই বা কি হবে? এ ধরনের যদি কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে সেখানে যদি বাবা-মা এবং কোর্টের মতামত নিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তা হলে মেয়েটা বেঁচে গেল। আর যে বাচ্চাটা হলো সেও বিধাতা পেল। এই শিশুটি একটা ভবিষ্যৎ পেল।
তিনি বলেন, ওয়েস্টার্ন কান্ট্রির (পশ্চিমা বিশ্বে) অনেক দেশে ১৪ বছর বিয়ের বয়স। কোথাও আছে ৯ বছর বিয়ের বয়স। সেই সব জায়গায় বিশেষ করে ইউরোপ-ইংল্যান্ড-আমেরিকায় টিনএজ মাদারের সংখ্যা অসংখ্য। এটা একটা সামাজিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। কারণ এই সমস্ত বাচ্চা মেয়েরা ১২-১৩-১৪ বছরে মা হয়ে যায়। কারণ তারা কিন্তু এ্যাবরসন করাতে চায় না। বাচ্চাটাকে যদি লেখাপড়া করাতে হয়, তা হলে ওই দেশে কিন্তু প্রশ্ন করে না বৈধ সন্তান না অবৈধ সন্তান। বাবা-মায়ের নাম কী এটা কিন্তু জিজ্ঞেস করবে না। কিন্তু আমাদের দেশে আগে জিজ্ঞেস করবে বাপের নাম কি, মায়ের নাম কি? বাচ্চাকে বিয়ে দিতে গেলে ছেলে হোক মেয়ে হোক, অবৈধ সন্তান বিয়ে হবে না। চাকরি দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়েস্টার্ন কান্ট্রিতে এটা কোনো বিষয় না। আমাদের দেশে এটা নেই। বাবা-মা অবৈধ সন্তান জন্ম দেওয়া মেয়েটাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, ভবিষ্যতে মেয়েটাকে পতিতালয়ে যেতে হবে। আমাদের এখানে যারা বাল্যবিবাহ আইন নিয়ে কথা বলছেন, তারা কি এই বাস্তবতাটা চিন্তা করেন? তারা তো এই বাস্তবতা চিন্তা করেন না বলেই নানা কথা বলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দুইটা এনজিও করে পয়সা কামায়। আমি যতক্ষণ সরকারের আছি, আমি মনে করি এটা আমার দায়িত্ব যে, সমাজে সেই সন্তানটাকে জায়গা করে দেওয়া। এ কারণেই বাল্যবিবাহ আইনে এই বিশেষ বিধানটা আমি রেখেছি। এটা অত্যন্ত একটা বাস্তবসম্মত চিন্তা, যেটা সম্পর্কে এনাদের (বিরোধিতাকারী) কোনো ধারণা নেই। আমরা এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি।

Category: