Blog Archives

মহাফেজখানা

Posted on by 0 comment

39

Category:

কবিতা

Posted on by 0 comment

24

Category:

১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

Posted on by 0 comment

47উত্তরণ প্রতিবেদনঃ প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কখনই কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা দাতাগোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করবে না। কারণ বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত উন্নয়নের জন্য কারও ওপর নির্ভরশীল নয়।
বিশ্বব্যাংকের পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর অবহেলা করা যায় না। এসব আন্তর্জাতিক সংস্থাÑ যারা কথায় কথায় মিথ্যা দোষারোপ করে তাদের কাছে নতজানু করে রাখতে চায়, তারা সে শিক্ষাটা পেয়ে গেছে। আর কেউ এভাবে মাথা নিচু করে চলার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারবে না।
এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে স্বাধীনতা পদক ২০১৭-তে ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেনÑ গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শামসুল আলম বীরউত্তম, স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নাজমুল হক, মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী (মরণোত্তর), শহীদ এনএম নাজমুল আহসান (মরণোত্তর), শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ (মরণোত্তর), চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যাপক ডা. এএইচএম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী (মরণোত্তর), সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রফেসর ড. এনামুল হক ও নৃত্যকলায় ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল, সমাজকল্যাণে খলিল কাজী (ওবিই), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও অধ্যাপক প্রয়াত ড. ললিত মোহন নাথ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রশাসনে প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং স্বাধীনতা পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে অধ্যাপক ড. এনামুল হক নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। আর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন।
মরণোত্তর পদকের ক্ষেত্রে শহীদ মো. নাজমুল হকের পক্ষে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম হক, সৈয়দ মহসিন আলীর পক্ষে স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি, শহীদ এনএম নাজমুল আহসানের পক্ষে ছোট ভাই এমএন সদরুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের পক্ষে কন্যা সুফিয়া খাতুন, মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শীর পক্ষে পুত্র গোলাম ইয়াজদানী কোরায়শী এবং অধ্যাপক প্রয়াত ড. ললিত মোহন নাথের পক্ষে স্ত্রী আরতি নাথ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদক বিজয়ীদের সাথে ফটোসেশনেও অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Category:

এবারও বিশ্বের ১১০তম সুখী দেশ বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্কঃ গত বছরের মতো এবারও বিশ্বে ১১০তম সুখী দেশ বাংলাদেশ। ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমারের মতো দেশ রয়েছে বাংলাদেশের পরে। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন্স নেটওয়ার্কের (এসডিএসএন) আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী সুখী দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নরওয়ে আর সবচেয়ে কম সুখী দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
২০১২ সাল থেকে ১৫৬টি দেশেও ওপর জরিপটি চলে আসছিল। এবার ১৫৫টি দেশের ওপর জরিপ হয়েছে। প্রতিটি দেশের ১ হাজার নাগরিকের কাছে তাদের জীবন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এবং শূন্য থেকে দশের একটি পয়েন্ট তালিকায় নম্বর দেওয়ার জন্য বলা হয়। যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন, সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, দাতব্য সেবা এবং দুর্নীতিহীনতা। দশের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪ দশমিক ৬০৮ পয়েন্ট। জরিপে দেখা গেছে, যেসব দেশে বৈষম্য বা ভেদাভেদ কম, সেখানকার মানুষ বেশি আনন্দে থাকে। বিশেষ করে যেসব দেশে সামাজিক সহায়তা বেশি, বিপদে সমাজ বা রাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া যায়, সেসব দেশের নাগরিকরাই বেশি সুখী।
নরওয়ের পরে শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। সুখী দেশ বাছাইয়ের এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১৪ নম্বরে। গত বছর তারা ছিল ১৩ নম্বরে। যুক্তরাজ্য রয়েছে ১৯ নম্বরে। গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ২৩তম। চীনের অবস্থান ৭৯। গত বছর ছিল ৮৩। আর প্রতিবেশী দেশ ভারত রয়েছে ১২২তম অবস্থানে যদিও গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ১১৮তম। তালিকায় সবচেয়ে নিচে থাকা ৫টি দেশ যথাক্রমেÑ রুয়ান্ডা, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, বুরুন্ডি ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
এসডিএসএন’র পরিচালক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা জেফ্রে স্যাকস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সাধারণ মাপকাঠিতে সুখী হলো সেই দেশগুলো যাদের সমৃদ্ধির মধ্যে ভালো রকমের ভারসাম্য আছে। এর অর্থ সমাজে চূড়ান্ত পর্যায়ের আস্থা রয়েছে, অসমতা কম এবং সরকারের আত্মবিশ্বাস আছে।
ওই তালিকায় বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্য থেকে সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অষ্টম অবস্থানে রাখা হয়েছিল।
‘হ্যাপি প্ল্যানেট ইনডেক্স ২০১৬’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৮ দশমিক ৪। একটি দেশের নাগরিকদের সন্তুষ্টি, গড় আয়, পরিবেশের ওপর প্রভাব ও বৈষম্যÑ এই চার মানদ- বিবেচনায় নিয়ে সুখী দেশের সেই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে, সুখী দেশ নিরূপণ করতে গিয়ে জাতিসংঘ ও নিউ ইকোনমিক ফাউন্ডেশন আলাদা মানদ- ব্যবহার করেছে। সুখী দেশ হিসেবে দুই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আলাদা আলাদা অবস্থানের পেছনে মানদ-জনিত ভিন্নতাকেই কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Category:

বিএনপির রাজনীতি : শুধুই বাকোয়াজ

Posted on by 0 comment

বিএনপির অপকর্ম দেশের সীমা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও এর সমালোচনা হচ্ছে। তাদের কুকর্ম নিয়ে আদালত রায় দিচ্ছেন। সাম্প্রতিককালে কানাডার আদালত দলটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

44আশরাফ সিদ্দিকী বিটুঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১০ বছর পেরুতে চলল ক্ষমতার বাইরে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়। এরপর থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। সেই সংসদে তাদের উপস্থিতিও ছিল সমালোচিত, খালেদা জিয়া মাত্র ১০ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তখন বিএনপি রাজপথে তেমন সরব হতে পারেনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো অসাংবিধানিক দাবি নিয়ে কিছুদিন কথা বলে, উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালের দাবিতেও সভা-সমাবেশ করে। কিন্তু যৌক্তিক কোনো আন্দোলন যাতে জনমানুষের সমর্থন আছে সেরকম কোনো কিছু করতে পারেনি। রহস্যজনক ব্যাপার হলো, ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিরোধিতা শুরু করে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা অপচেষ্টা এবং বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করে। জামাতের সাথে তাদের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য, যা ঐতিহাসিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্টও। এজন্য বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করেছে এবং তাদের দলের বড় নেতাও যুদ্ধাপরাধের অপরাধে আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ফাঁসির দ- পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে যখন জামাত নেতা কাদের মোল্লার বিচারের রায় দেন তখন থেকে জামাত সারাদেশে সহিংসতা শুরু করে, তারপর ফেব্রুয়ারি শেষে রাজাকার শিরোমণি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর দ-াদেশ দেওয়ার পর সহিংসতা আরও বাড়ে। সারাদেশে অভাবনীয় তা-ব চালায়। সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে পবিত্র মসজিদের মাইক দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাতের অন্ধকারে মানুষ পুড়িয়ে মারে, রাস্তা কেটে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়া বক্তৃতা দেন। বিএনপি আর জামাত মিলে হেফাজতকে সামনে আনে। হেফাজতের মাধ্যমে মে মাসে ঢাকার মতিঝিলে তা-ব চালায়, বায়তুল মোকাররমে হাজার হাজার কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকাবাসী আরও সন্ত্রাস তা-ব থেকে রক্ষা পায়। তবে বছরজুড়ে সারাদেশে বিএনপি-জামাতের সহিংসতা চলতে থাকে, ৪০০-এর বেশি লোককে হত্যা করা হয়। বাসে-ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। বিএনপির রাজনৈতিক কমর্সূচি জঙ্গিরূপ ধারণ করে। পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলে থাকার সময়ে পুরো সময়টায় জনগণের কাছে না গিয়ে, বিদেশি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিএনপি খুব বাড়িয়ে দেয়। যদিও তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
দশম জাতীয় সংসদের প্রাক্কালে ২০১৩ সালের শেষে বিএনপি ও তাদের জোট অবরোধ দেয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরে শুধু ডিসেম্বরের শেষ ১৬ দিনে সহিংসতা চালিয়ে ৩৪ জনকে হত্যা করে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করার পরও বিএনপি নির্বাচনে আসেনি; বরং নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে পেট্রলবোমায় নিরীহ মানুষ, শিশু, বাসযাত্রী, নারী হত্যা করে। হাজার হাজার গাড়িতে আগুন দেয়। নির্বাচন কমিশনে দল হিসেবে জামাতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় জামাতের সহিংসতা আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়, যাতে পূর্ণ প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেয় বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতি এমন সহিংস তা-ব কখনও দেখেনি। রাতের অন্ধকারে মানুষ হত্যা, যানবাহনে আগুন দিতে গিয়ে বিএনপি-জামাতের কয়েকশ নেতাকর্মী হাতেনাতে ধরা পড়ে। নির্বাচনে না এসে বিএনপির এই সন্ত্রাস, পেট্রলবোমায় মানুষ হত্যা কোন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে চেয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা বিএনপি দিতে পারেনি। শুধু জামাত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে বিএনপিও নির্বাচনে এলো না। নির্বাচনের দিন হতে শুরু করে পরের কয়েক মাস আবারও সহিংসতা চালায়, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে। রাতের আঁধারে হামলা চালিয়েও কোনো ফল হলো না। আর বড় বড় নেতারা আল-কায়দার মতো লুকিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠাতে থাকেন। মানুষের জীবন বিপন্ন এবং দেশের ক্ষতি করে নির্বাচনে না এসে বিএনপি দেশবাসীর কাছে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। জনমানুষের জন্য কল্যাণকর কর্মসূচি বিএনপি দিতে পারেনি। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হন, যদিও তাদের ঢাকা ও লন্ডনের নেতৃত্ব নিয়ে দোটানা দলকে আরও বির্পযস্ত করে। সঠিক নেতৃত্ব না থাকলে দলের ও দেশের দুটোরই ক্ষতি হয়, যার প্রমাণ আজকের বিএনপি।
২০১৪ সালের পরের মাসগুলো শুধু বাক্সবন্দি ব্রিফিং করে কাটিয়ে দিয়ে ২০১৫ সালের শুরু থেকেই আবার তা-ব সহিংসতা শুরু করে, যা ৯২ দিন ধরে চলে। খালেদা জিয়া লোকজন নিয়ে আরাম-আয়েশ করে অফিসে বসে থাকেন। মানুষ হত্যার হোলিখেলায় তিনি যেন আদিম সুখ পেলেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু আদালতে হাজিরা দিয়ে পরাজিত সৈনিকের বেশে ঘরে ফেরেন। শত শত মানুষ পুড়িয়ে মারল অথচ কোনো সমবেদনা নেই। উল্টো তাদের দলের কর্মী যারা বোমা হামলা করতে ও বানাতে গিয়ে নিহত হলো তাদের ক্ষতিপূরণ দিল। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি, বিএনপির হলো সেই দশা। ধর্মের কথা তাদের কানে গেল না। জনগণ দেখল ক্ষমতার জন্য বিএনপির সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির নমুনা।
মুখে ইসলামের কথা বলে ফেনা তুললেও বিএনপি যে ক্ষমতার জন্য স্খলনের শেষ সীমায় নামতে পারে তার প্রমাণ হলো ইসরায়েল লিকুদ পার্টির নেতার সাথে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের বৈঠক, যা ইসরায়েলের নাগরিক নিজেই সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলেছেন। আন্দোলনে ব্যর্থ হলেও আসলে তলে তলে তাদের ষড়যন্ত্র যে অব্যাহত ছিল তা আসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে জাতির সামনে চলে আসে। সরকার হটানো ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। লন্ডনে বসে তারেক রহমান নানা ষড়যন্ত্র করেও ব্যর্থ হয়। অর্থপাচারের মামলায় তারেকের সাত বছর জেল ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা হলে, আরও চুপসে যায় বিএনপি। কিন্তু গলাবাজি কমে না। মিথ্যার বেসাতিই তো তাদের রাজনীতি।
শুধু পার্টি অফিসে বসে হুমকি-ধমকি যে ‘বাকোয়াজ’ তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। সম্মেলন হলে দল চাঙ্গা হবে এমন ধোঁয়া তুলে সম্মেলন করে কয়েক মাস পর জাম্বু সাইজ কমিটি দিল, এতে যুদ্ধাপরাধীদের বংশধরদের জায়গা দিয়ে পুনর্বার মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করল। জিয়াউর রহমান যেমন যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছিল, খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার পর তাদের বংশধরদের পুনর্বাসন করেছে। বিএনপির রাজনীতি যে শুধু আওয়ামী লীগ-বিরোধীদের ক্লাব এটাও পুনরায় স্পষ্ট হলো। বুঝতে কারও বাকি রইল না যে বিএনপি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে কোনো বিশ্বাস নেই। আজ যখন সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাদের আহাজারি চলে তখন সবাই বুঝে, এখানেও তাদের দূরভিসন্ধি রয়েছে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কদিন অযথা মাতামাতি করল। অথচ তাদের সুপারিশকৃত নাম থেকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রধান কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হলে বিএনপির খেদোক্তির শেষ নেই। কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি-জামাতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে নাÑ এটাই স্বাভাবিক। আমাদের স্মরণে আছে, যুদ্ধাপরাধীদের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধীরাই তাদের আপনজন! এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বলে কদিন মাঠ গরম করার ব্যর্থচেষ্টা করল, একেক নেতা একেক কথা বললেন। ঠিকই আবার সম্প্রতি হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিল। কয়েকজন নেতা বলা শুরু করলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই। সহায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের কোথাও নেই। এ নিয়ে প্রস্তাব দিলেই কি বা না দিলেই কি যায় আসে। উদ্ভট এমন ভাবনা বিএনপির দ্বারাই সম্ভব। ২০৩০ নিয়ে রূপরেখা তো একটা দিয়েছিল, যা আওয়ামী লীগের রূপকল্পের অনুকরণেই করা। উদ্ভট-অবান্তর প্রস্তাবনা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন গত হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এখন স্পষ্ট, সেক্রেটারি বা অন্য সিনিয়র নেতা এক কথা বলেন, আবার নয়াপল্টন থেকে আরেক কথা বলা হয়। মনে হয় নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস নেই। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়, আবার নতুন কমিটির সভায় অনেকে উপস্থিতই থাকেন না। এমাজউদ্দীন যদি এক কথা বলেন, ফখরুল তা আবার ডিনাই করেন। পত্রিকায় খবর বের হয়, খালেদা জিয়া জেলে গেলে দল কি করে চলবে! আবার মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি হলেও নির্বাচন করতে পারবে। অবস্থাদৃষ্টে কারও কাছে এটা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, বিএনপির ভেতরেই অনেকে খালেদা জিয়াকে আর চান না। আবার অনেকে তো তারেকের ঘোরতর বিরোধী।
বিএনপির অপকর্ম দেশের সীমা ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও এর সমালোচনা হচ্ছে। তাদের কুকর্ম নিয়ে আদালত রায় দিচ্ছেন। সাম্প্রতিককালে কানাডার আদালত দলটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেন। আদালতের রায়ের বলা হয়, ‘বিএনপির ডাকা হরতাল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিএনপি কর্মীদের হাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু বিএনপির দাবি-দাওয়া সরকারকে মানতে বাধ্য করতে লাগাতার হরতালের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা প্রমাণ করে এটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বাইরে চলে গেছে।’ সারাদিন সাধু সাজার ভান করলেও বিশ্বে ঠিকই প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল। বিএনপি হয়তো ভুলে গেছে, মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ, মুখে মধু আর কর্মে অসাধু হয়ে রাজনীতি করা বড়ই কঠিন।
এদেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা যে বিএনপি-জামাত আর নতুন কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। জিয়ার সময় থেকে উগ্র-ইসলামপন্থি, স্বাধীনতাবিরোধী ধর্ম ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে ইসলামিকরণের নামে জঙ্গিবাদের জন্ম হয়। আশির দশকে ও নব্বইয়ের শুরুতে অনেকে তালেবানিদের সাথে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে সেই ধরনের উগ্ররাষ্ট্র ব্যবস্থা চালুর নাম করে জঙ্গি কর্মকা- চালাতে শুরু করে। বিএনপি জামাতকে সাথে নিয়ে এসবকে আরও উসকে দেয়। ফলে দেশের জঙ্গিবাদের প্রবল উত্থান হয়। যদিও বিএনপি-জামাত জোট সরকার তা অস্বীকার করে, এখনও করে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় খালেদা জিয়া জঙ্গিদের অস্তিত্বই স্বীকার করেননি। বীণা সিক্রি বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের উৎখাতে শেখ হাসিনার সাফল্যের প্রশংসা করেছিলেন। বিএনপি যখন জঙ্গিদের জন্য কাঁদে তখন মনে হয়, সন্তান হারানোর ব্যথা তাদের অন্তরে। আর সরকারকে দোষারোপ করে আদতে তাদের জঙ্গি কানেশনকে ঢাকতে চায়। শাক দিয়ে কিন্তু মাছ ঢাকা যায় না।
এ সময়ে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে গত কয়েক বছরে জনগণ তো আসেনি, তাদের নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়েছে। মুখে বুলি আওড়ানো ছাড়া কোনো কিছুই করা সম্ভব নয়। কারণ আন্দোলন সফল করার মতো কোনো জনভিত্তি বিএনপির নেই। সরকার কাউকে আন্দোলনের নামে দেশের ক্ষতি করতে দিক তা দেশবাসীও চাইবে না। সুষ্ঠু আন্দোলন করে মানুষকে তাদের দিকে ধাবিত করার মতো সক্ষমতা বিএনপির আগেও ছিল না, এখনও নেই।
নানান বিষয়ে উল্টাপাল্টা বলে সময় কাটানোই বিএনপির বর্তমান রাজনীতি। কারণ আগামী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের কিছু করণীয় নেই। কোনো ইস্যু নেই যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, ইস্যুকে পুঁজি করার মতো সামর্থ্যও নেই। তবে যদি আবারও সহিংসতার চেষ্টা করে আর তাদের ফেরার পথ থাকবে না, জনগণকে সাথে পায়নি, পাবেও না। জামাতের সঙ্গ না ছাড়লে আরও জনবিচ্ছিন্ন হবে, আর জামাত বা অন্য প্রভুদের কথায় যদি আগামী নির্বাচনে না আসে, তাদের নিবন্ধন তো বাতিল হবেই, অগস্ত্য যাত্রাও কেউ ঠেকাতে পারবে না।

Category:

পাট পণ্যের উৎসবমুখর মেলা

Posted on by 0 comment

43বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় মার্চ মাসে ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে ঘটা আয়োজনে উদযাপিত হলো জাতীয় পাট দিবস। ১০ দিনব্যাপী উৎসবে কৃষ্টি-ঐতিহ্যের সোনালি আঁশ পাট এবং পাটজাত পণ্যের দুর্লভ প্রদর্শনীর উৎসবমুখর মেলা নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে পাট দিবসের নানা ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। ৬ মার্চ পাট দিবসকে ঘিরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৪ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। যেখানে উৎসাহী জনতা বিপুল সমাগমে মেলা আঙিনায় জমজমাট পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পাট দিবসকে সামনে রেখে ৪ মার্চ বিকেলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙি নৌকায় পাট ভরে হাতিরঝিলে এক মনোরম নৌ-শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। গত ৫ মার্চ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের পাটের তৈরি একটি ক্যানভাসে চিত্রাঙ্কন করা হয়। এতে অংশ নেন চারুকলার ২০০ শিক্ষার্থী। পাট দিবসে ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এবং দেশের সব জেলা-উপজেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়। পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুট ডাইভারসিফিকেশন মাশন সেন্টারের (জেডিপিসি) আয়োজনে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ৯ থেকে ১৩ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বসেছিল বহুমুখী পাটপণ্যের জমকালো মেলা। এই মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলার পাট বিশ্বমাত’। ৯ মার্চ পাট মেলার উদ্বোধন করেন কৃষ্টিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পাট দিবস ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার হচ্ছে। যে শাড়িটা পরে এসেছি, এটা পাটের তৈরি, যে ব্যাগটা ব্যবহার করছি, সেটাও পাটের তৈরি। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে পাটের বহুমুখীকরণ করে যাচ্ছি। পাট থেকে উন্নত তন্তু, পলিথিনের মতো হালকা উন্নতমানের পাটের ব্যাগ, ঔষধি গুণসম্পন্ন চায়ের মতো পাট পাতার পানীয়, পাটের বস্ত্র, ব্যাগ, নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ব্যবহারে সুবিধা ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা ২০১৩’ কার্যকর হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাটকে অবহেলা করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রাজিয়া সুলতানাঃ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকার বৃহৎ পাটকল আদমজী জুটমিল বন্ধ করে দেয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামাত আন্দোলনরত পাট শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা করে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পাট খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেন। পাট বিষয়ে সারাদেশে আয়োজিত রচনা প্রতিযাগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে (যুক্তফ্রন্ট সরকার) তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং তিনি ‘জুট মার্কেটিং করপোরেশন’ গড়ে তোলেন। এই পাটের রপ্তানি, উৎপাদন, বিপণন ও গবেষণা কার্য বৃদ্ধির জন্য তিনি কাজ করেন।
স্টলগুলোতে ছিল মনোমুগ্ধকর বেড কভার, কুশন কভার, সোফা কভার, কম্বল, পর্দা, টেবিল রানার, টেবিল ম্যাট, কার্পেট, ডোরম্যাট, শতরঞ্জি, পরিধেয় ব্লেজার, ফতুয়া, কটি, শাড়িসহ শো-পিস এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারযোগ্য বহুবিধ পাটপণ্য সামগ্রী, যা দেশি ক্রেতা থেকে শুরু করে বিদেশিদেরও মন কেড়ে নিচ্ছে। এবার সরকার দিবসটিকে উপজীব্য করে সেরা পাটচাষি, সেরা পাটবীজ উৎপানকারী, বেসরকারি সেরা পাটকল, সেরা কাঁচা পাট রপ্তানিকারক, সেরা পাটসুতা রপ্তানিকারক, সেরা বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক, সেরা উদ্যোক্তা, সেরা পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ আট ক্যাটাগরিতে এবং পাটসংশ্লিষ্ট গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য দুজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে গবেষকদের কর্ম প্রেরণায় খোরাক জোগাবে এবং দেশকে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে।

Category:

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দিনে বিএনপি নীরব কেন?

Posted on by 0 comment

প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালিত

জাতীয় সংসদে স্বীকৃতির পর এবারই প্রথম ২৫শে মার্চ জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ। মশাল প্রজ্বালন, আলোর মিছিল, বিভীষিকাময় সেই কালরাতের স্মৃতিচারণ আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।

41

গত ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবসে ঢাকেশ্বরী মাঠে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখছেন সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ছবি : সাজ্জাদ হোসেন জীবন, উত্তরণ

উত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তখনই পাকিস্তানিরা বই লিখে গণহত্যার চিত্রকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের যদি কেউ বিকৃত করে থাকে, সেটা জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া করেছেন। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা কেউই ব্যাহত করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস সম্পর্কে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান জানতে চেয়ে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বলে নিজেদের দাবি করে, আমি সেই ঘোষক দাবিদার দলকে (বিএনপি) জিজ্ঞেস করতে চাই, ২৫শে মার্চের এই গণহত্যা দিবসে আপনাদের কর্মসূচি কী? আমি জানতে চাই আপনারা এই নৃশংস হত্যাকা-ের দিনে নীরব কেন? আমি জানতে চাই আজকের এই দিনে গণহত্যার বিষয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কি? বাংলাদেশের জনগণ এসবের উত্তর বিএনপির কাছ থেকে জানতে চায়। তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
ভয়াবহ ২৫শে মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর লালবাগের আজাদ অফিস মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতারা এসব কথা বলেন।
মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
জনসভায় ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, গণহত্যা দিবসে বিএনপি নীরব কেন? কারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মদদ দেয়, আলবদর শত্রুদের সাথে মিত্রতা করে। কারা মুক্তিযুদ্ধকে মানে নাÑ এটা জাতির সামনে পরিষ্কার। তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না, ’৪৭ সালের পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণা লালন করে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের ভেতরে ভেতরে কাউয়া আছে। কাউয়া পঁচাত্তরেও ছিল, একাত্তরেও ছিল। কাউয়া এখনও আছে। ক্ষমতার ¯্রােতে এসব কাউয়ারা ঢুকে যায়। আর কিছু কিছু নেতা দল ভারী করার জন্য এসব কাউয়াদেরও লিস্টে নাম লেখায়। তবে আমাদের কাউয়ার দরকার নেই।
‘২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে যুদ্ধ হতো কি-না সন্দেহ আছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, এই তথ্য ফখরুল সাহেব কোথায় পেলেন? জিয়াউর রহমান নিজেই বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। ফখরুল সাহেব আপনি তো যুদ্ধই করেন নাই, স্বাধীনতার পক্ষেই ছিলেন না। আপনারা কি করে জানলেন জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাঙালি জাতি স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন?
প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালিত
জাতীয় সংসদে স্বীকৃতির পর এবারই প্রথম ২৫শে মার্চ জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ। মশাল প্রজ্বালন, আলোর মিছিল, বিভীষিকাময় সেই কালরাতের স্মৃতিচারণ আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে ২৫শে মার্চ ভয়াল কালরাত্রি স্মরণে নানা অনুষ্ঠানমালা। রাতে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও নতুন প্রজন্মের হাতের মশাল আর হাজারও প্রজ্বলিত মোম থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোতে আলোকিত হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা। আলোর মিছিল করে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গণহত্যা দিবসের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। দিবসটি পালনে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে ২৫শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ছিল প্রচ-। পাকি হন্তারকদের ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে পরাজিত পাকিস্তানের নতুন ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, একাত্তরের ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। একাত্তরের গণহত্যার কথা এখনও অস্বীকার করে পাকিস্তান। বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও মর্যাদার ইতিহাস প্রতিষ্ঠার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে পাকিস্তানের মিথ্যাচারের জবাব দিতেই ২৫শে মার্চের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রয়োজন।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মধ্যে ছিল গণহত্যার ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক গীতিনাট্য/সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সরকারের উদ্যোগে ২৫শে মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রাঙ্গণে ‘রক্তাক্ত ২৫ মার্চ : গণহত্যা ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসব অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করেন।
এদিকে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এ উপলক্ষে জগন্নাথ হলে ওইদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হল প্রাঙ্গণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শহীদদের স্মরণে স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শন, সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যানুষ্ঠান, রাত ৮টায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি, রাত ১১টায় মশাল প্রজ্বালন, ১১টা ৫৯ মিনিটে গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন।
পাকিস্তানে গণহত্যা দিবস পালিত
যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ২৫ মার্চ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সকালে চ্যান্সারিতে এক আলোচনার আয়োজন করা হয়। সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে, বিশেষ করে ২৫শে মার্চ কালরাতে শাহাদাতবরণকারীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালি ছাত্র, যুবকসহ আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত হামলা ও নৃশংস হত্যাকা-ের কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর এই বর্বরতা ও নৃশংস গণহত্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংঘটিত অন্য যে কোনো গণহত্যার চেয়ে ভয়াবহ। গত ২৫ মার্চ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আলোচনা সভায় হাইকমিশনার তারিক আহসান ২৫শে মার্চ রাতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বিনা প্ররোচনায় বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার পরই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

Category:

জঙ্গিবিরোধী অভিযান : অপারেশন ‘টোয়ালাইট’

Posted on by 0 comment

38উত্তরণ প্রতিবেদন: ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ ব্লিডিংয়ে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হয় ৯ জঙ্গি। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পাইকপাড়ায় অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক তামিম আহম্মেদ চৌধুরী। এ সময় তার সাথে ধানমন্ডির তওসিফ হোসেন ও যশোরের ফজলে রাব্বী নিহত যায়, যারা ছিল তামিমের সহযোগী। ২০১৬-এর ২ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষক মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম। ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরে অভিযানের সময় আত্মঘাতী হয় নব্য জেএমবির সংগঠক তানভীর কাদেরী। সেখান থেকে আটক করা হয় জঙ্গি মারজান, তানভীর কাদেরী ও বাসারুজ্জামানের স্ত্রী এবং তানভীরের ১৪ বছর বয়সী এক ছেলেকে। সে বছরের ৮ অক্টোবর একই দিন তিন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির সংগঠক আকাশসহ সাতজন। ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর আশকোনায় অভিযানের সময় এক নারী ও কিশোর জঙ্গি আত্মঘাতী হয়েছে। র‌্যাবের অভিযানে আশুলিয়ায় আত্মঘাতী হয় নব্য জেএমবির সংগঠক সরোয়ার জাহান এবং গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে নিহত হয় চারজন।
২০১৭ সালেও জঙ্গিবিরোধী কর্মকা- ও অভিযান অব্যাহত থাকায় জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। মার্চ মাসেই ১০০-এর বেশি জঙ্গি গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের অবস্থা জানান দিতে এরা আত্মঘাতী হচ্ছে, আসলে দুর্বলতা ঢাকতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে বলে মত দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ আগের মতো এরা বিস্তৃত হয়ে কোনো হামলা করতে পারছে না। তাই এমন আত্মঘাতী ব্যবস্থা। যদিও অনেক উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তৎপরতা বিদ্যমান রয়েছে। ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকু-ে ১৯ ঘণ্টার অভিযানে চার জঙ্গিসহ পাঁচজন নিহত হয়। এ ছাড়া ১৭ মার্চ আশকোনায় ও ১৮ মার্চ খিলগাঁওয়ে একজন করে জঙ্গি নিহত হয়। ২৫ মার্চ রাত আড়াইটায় সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর কমান্ডো বাহিনীও অংশ নেয়। অপারেশন টোয়ালাইট  নামক অভিযানের মধেই বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশসহ ছয়জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। প্রায় ৮৭ ঘণ্টার এই অভিযানে বাড়ির ভেতরে থাকার চার জঙ্গিই নিহত হয়। ৭৮ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ২৯ মার্চ মৌলভীবাজার ও কুমিল্লায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।
মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট ও নাসিরপুর গ্রামে যে দুটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পুলিশ ঘিরে রেখেছে সেই দুই বাড়ির মালিক সাইফুর রহমানের শ্যালক মীজানুর রহমানকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৯ মার্চ দুটি বাড়ি ঘেরাও করার সময়ই মীজানুরকে গ্রেফতার করা হয়। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় একটি বাড়ি এবং খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুর গ্রামের একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা। দুটি আস্তানাতেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-বিস্ফোরক আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে নাসিরপুর গ্রামের একটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে  ২৮ মার্চ গভীর রাত থেকে ঘিরে রাখার পর ঘরে ২৯ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’। শেষ হয় ৩০ মার্চ বিকেলে। এ অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাথে আছে সোয়াত। নাসিরপুর জঙ্গি আস্তানা ঘিরে দুদিনের অভিযান শেষে ভিতরে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন ৭-৮টি লাশের অংশ দেখা গেছে। ২৯ মার্চ রাত দেড়টায় শহরের বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলিতে দোতলা একটি বাড়ি ‘জঙ্গি আস্তানা’ হিসেবে শনাক্ত করে ঘিরে ফেলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ভোরে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুর গ্রামে আরেকটি জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত হয়।

Category:

অনবদ্য আয়োজনে ‘জয় বাংলা’ কনসার্ট, তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: আতশবাজি, লেজার শো আর মূল উপাদান গান। সেখানেও দৃপ্ত কণ্ঠের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ছোঁয়া। বঙ্গবন্ধুর সে ভাষণকে উপলক্ষ্য করে আয়োজিত কনসার্ট ‘জয় বাংলা’র সূচিও সাজানো হয়েছিল দেশের ব্যান্ড আর নানামাত্রিক চমকপ্রদ পরিবেশনার মাধ্যমে।
গত ৭ মার্চ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার আয়োজনে হয়ে গেল কনসার্টটি। এর পর্দা ওঠে বরেণ্য সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নির্দেশনায় অর্কেস্ট্রায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর ব্যান্ড আরবোভাইরাসের অংশগ্রহণে শুরু হয় কনসার্টের আনুষ্ঠানিকতা। নেমেসিস এসেছিল কিছুটা ভিন্ন সেটআপে। রাত ৮টার মঞ্চ মাতিয়েছে হেভি মেটাল ব্যান্ড ক্রিপটিক ফেইট। এরপর ছিল শিরোনামহীন। আয়োজনে অন্যতম এবং সবচেয়ে বড় চমক ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক নানা ঘটনার পরিবেশনা  ‘রঙিন বঙ্গবন্ধু’। এটা মঞ্চায়ন করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট। এ ছাড়া ছিল ‘গর্জে ওঠো বাংলাদেশ’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী।
জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে নাটক
‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’
কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনার গল্প অবলম্বনে বুনন থিয়েটারের প্রযোজনায় অচিরেই মঞ্চে আসছে নতুন নাটক ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’। আগামী ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নতুন এই নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনাকে উপজীব্য করে নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনন জামান। নির্দেশনা দিয়েছেন শুদ্ধমান চৈতন। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেনÑ আনন জামান, তুষার কান্তি দে রাজন, আশরাফুল আলম বিলাস, উচ্ছ্বল হাসান, আবু ফাহিম, শাত-ইল রাস, আবিদ হাসান নির্ঝর, অমিত চৌধুরী, তুষার সোহাগ, হাজেরা আক্তার কেয়া, আয়েশা আক্তার কাকন, মারিয়া বিনতে লতিফ, নন্দদুলাল, রুদ্র বাউল, লাল হোসেন, জিহাদুল ইসলাম।
জেলের ভেতর জাতীয় চার নেতাকে নির্মম খুন ও তৎপরবর্তী ক্যান্টনমেন্ট ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন প্রযোজনা ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’ নাটকের গল্প এগিয়েছে। নাটকের শুরুতেই দেখা যায়Ñ এক মহান রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে গদি দখল করা খুনি রাষ্ট্রপতি জেলের ভেতর হত্যাকৃত চার নেতার লাশ গোরস্তানে বয়ে এনেছে। উদ্দেশ্য রাতের আন্ধারিতে কবরে ছেপে দেওয়া। গোরস্তানের আদি ভৌতিক আবহে খুনি রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি হয় জেলখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ড, খুনি রিসালদার ও চার নেতার ছায়া শরীর।
কাহিনির মধ্যভাগে যুক্ত হয় এক খুনি মেজরÑ যে মেজর অন্ধকার হলেই লাশভরা ট্রাক নিয়ে পথে নামে গোরস্তান দেখলেই ছেপে দেয়। সে নয়খানি ট্রাকে শতখানি দ্রোহঠাসা সেনার লাশ গোরস্তানের ছায়ায় সারি করে রেখে রাষ্ট্রপতির সাথে যুক্ত হয়। খুনি রাষ্ট্রপতি আর মেজর একসাথে কৌশল নির্মাণ করে চলে লাশ ছেপে দেওয়ার জন্যÑ বাদসাধে বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর মুর্দা ফকির। সে দীঘল সাদা আলখেল্লার প্রান্ত উড়িয়ে লাশ আগলে দাঁড়ায়Ñ মুখে ঠোঁটে এক কথা তারÑ ‘এ লাশ কবরে যাবে না’। একে একে অভিনীত হয় সেনা বিদ্রোহ দমনের নামে ক্যান্টনমেন্টের হত্যাকৃত সেনাদের দীর্ঘশ্বাস ও নিগূঢ় হত্যার গোপন কথকতা। নাটকটির অভিনয় নির্মাণে নির্দেশক মূল অভিনয় মঞ্চ থেকে একটি রক্তবর্ণ গালিচা দর্শক সারির মধ্যভাগ পর্যন্ত রেখে একটি কাঠগড়ার সেট স্থাপন করা হবেÑ যা দর্শক অভিনেতার দূরত্ব ঘুচিয়েÑ দর্শক-শ্রোতাকে নাট্যস্থিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।

Category:

উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট দিন

Posted on by 0 comment

ফরিদপুর, মাগুরা ও লক্ষ্মীপুরে জনসভা

33উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ফরিদপুরের বিশাল জনসভায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কার কোনো বিকল্প নেই। নৌকা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকায় ভোট দিলে বাংলার মানুষ কিছু পায়। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ভাষা পেয়েছে, ’৭০ সালে নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুন।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ছেলেমেয়েও যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তিতে না জড়ায়, সে জন্য বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
লাখো লাখো মানুষের প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে অচিরেই বৃহত্তর ফরিদপুরকে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বড় বিভাগকে ভেঙে আমরা নতুন বিভাগ তৈরি করেছি। ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করা হয়েছে। তেমনি ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর নিয়ে বর্তমান সরকারের পৃথক বিভাগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরিবের বন্ধু আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামাত জঙ্গিবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে। নৌকায় ভোট দিলেই মানুষ কিছু পায়। নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই এ দেশের মানুষ ১৯৪৮ সালে যে রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই ভাষার মর্যাদা পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস করেছে। আওয়ামী লীগই শহীদ মিনার গড়ে তুলেছে। 35সত্তরের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলার মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চাইলে জনতা দুই হাত তুলে তার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চাই। একই সাথে নৌকা মার্কার জন্য মানুষের কাছে ভোটও চাইবেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ আমাদের পথ নয়। ইসলাম এটি সমর্থন করে না। আত্মহননের পথও ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম, পবিত্র ধর্ম। অথচ ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি এমপি ও আবদুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কায়সার, ফরিদপুর কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক মোল্যা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খোন্দকার, জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আক্কাস হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিব-ই-মিল্লাত এমপি ও শেখ হেলাল এমপিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জনসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণও উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বক্তব্যে ফরিদপুরবাসীকে বঞ্চিত ও অবহেলিত আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরবাসী বঞ্চিত ও অবহেলিত। আমি ফরিদপুরবাসীর জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একে একে ১ হাজার ৩৫ কোটি লাখ টাকা ব্যয়ে শেষ হওয়া ফরিদপুরে ১৯টি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ৪২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অচিরেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। মানুষের কল্যাণ ও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফরিদপুর চিরদিনই অবহেলিত ছিল।
জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়েই ফরিদপুর জেলার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশাল এ জনসভায় ফরিদপুর সদর আসনের এমপি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে ঘোষণা দিলে জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
একগুচ্ছ প্রকল্প উপহার ফরিদপুরবাসীকে : ফরিদপুর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরের ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পল্লীকবি জসীম উদ্্দীন সংগ্রহশালা নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণ প্রকল্প, শিশু একাডেমি নির্মাণ প্রকল্প, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নির্মাণ প্রকল্প, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়া ঘাট হতে বিল মামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদের ওপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ থেকে ৫০ শয্যায় মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস নির্মাণ প্রকল্প, বিএসটিআই ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ভাঙ্গা থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নির্মাণ প্রকল্প, সদর উপজেলা হতে বাখু-া জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চর নিখুর্দি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গি কমিনিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ প্রকল্প এবং ৩৩/১১ কেভি হাড়োকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র প্রকল্প।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : কুমার নদ পুনঃখনন প্রকল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আলফাডাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণ প্রকল্প, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস নির্মাণ প্রকল্প, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মাণ প্রকল্প, ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মাল্টি পারপাস হল নির্মাণ প্রকল্প, সালথা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প এবং সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নির্মাণ প্রকল্প।
মাগুরায় বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
মাগুরায় জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে পুনর্বার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের (বিএনপি-জামাত জোট) ভোট চুরির অপরাধে জনগণ পদত্যাগে বাধ্য করেছিল, যারা নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছে, যারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে নাÑ তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে আবারও ধ্বংস করে দেবে। তাই উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বার্থে সবাই আওয়ামী লীগের পতাকাতলে শামিল হোন, আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারী, যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি বলেন, আমার জীবনের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। মাত্র একদিনে আমরা নিঃস্ব-রিক্ত ও এতিম হয়ে গেছি। আমার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জনকে হত্যা করেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমিও যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে বাবার মতোই আমার বুকের রক্ত দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। গত ২১ মার্চ বিকেলে মাগুরা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে আগামী নির্বাচনে পুনর্বার নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ করা। আপনারা বারবার নৌকায় ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আপনারা উন্নয়নের মুখ দেখছেন। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের আরও দ্রুত উন্নয়ন করব, দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার পাশপাশি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিময়, কল্যাণকর ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশপ্রেম নিয়ে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের যখন উন্নয়ন হয় তখনই দেশের একটি শ্রেণি আছে তাতে বাধা দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের কাছে বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই আমাদের সব উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ করে দেয়, সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারোর কাছে মাথানত করি না, কাউকে ভয় পাই না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ কু-ুর পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আবদুর রহমান এমপি, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াহাব, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, পারভীন জাহান কল্পনা, মহিলা আওয়ামী লীগের সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার ও অপু উকিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্মল রঞ্জন গুহ, যুবলীগের আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের এসএম জাকির হোসেন, স্থানীয় নেতা এএফএম আবদুল ফাত্তাহ, মুন্সী রেজাউল হক, রুস্তম আলী, হাজী গোলাম মাওলা, আবু নাসির বাবলু, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, শফিকুজ্জামান বাচ্চু, খুরশিদ হায়দার টুটুল প্রমুখ। এ ছাড়া জনসভায় বৃহত্তর খুলনার বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণও উপস্থিত ছিলেন।
একগুচ্ছ প্রকল্প উপহার মাগুরাবাসীকে : মাগুরা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার উন্নয়নে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাগুরা হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলার মঘি ইউপি অফিস থেকে আন্দোলবাড়িয়া সড়কে ফটকি নদীর ওপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার ব্রিজ, সদর উপজেলার জিসি-ইছাখাদা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সড়ক, মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতিঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন মাগুরা ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মাগুরা টেক্সটাইল মিলস, আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র ও মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
এ ছাড়া মাগুরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শালিখা উপজেলার বুনাগাতী থেকে বেরোইলপলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকি নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, একই উপজেলার বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকি নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ চার-লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাই-টেক পার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
লক্ষ্মীপুর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নৌকা, নূহ নবীর কিস্তি। বিপদে নৌকা মানুষকে রক্ষা করে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত করতে চাই, শান্তি নিরাপত্তা আনতে চাই। আওয়ামী লীগের কাছে কখনও চাইতে হয় না, এ ভরসাটা রাখবেন।
প্রায় ২০ বছর পর সফরে এসে গত ১৪ মার্চ বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামাত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমাদের লক্ষ্যই হলো দেশের উন্নয়ন করা। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। তারা ক্ষমতায় আসলে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে। কারণ তারা দেশে ত্রাসের রাজনীতি করে। ক্ষমতায় গিয়ে তারা দুর্নীতি ও লুট করে। আর বিরোধী দলে গিয়ে মানুষ হত্যা করে। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে বসে ও তার এক কুলাঙ্গার ছেলে বিদেশে বসে হুকুম দিয়েছে, আর তাদের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, হত্যা ও নির্যাতন করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়ন চায় না। নিজের ক্ষমতা জন্য দেশের মানুষকে হত্যা করেছে। আন্দোলনের ২০১৫ সালে ৯৩ দিন পর্যন্ত মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। ২৭১ জন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ১ হাজার ১৮০ জন মানুষকে বোমা মেরে আহত করেছে। ২ হাজার ৯৩টি বাস-ট্রাক আগুনে পুড়েছে। এ ছাড়া ৭০টি সরকারি অফিসে আগুন লাগিয়েছে। আরও আগুন লাগিয়েছে লঞ্চসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোতে। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতের কাছ থেকে এক ফোঁটা পানিও আনতে পারেনি। তারা কোনো স্থল চুক্তি করতে পারেনি, শান্তিচুক্তি করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে সব কিছু করেছি।
তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে না। ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে শত শত কোরআন শরিফ আগুনে পুড়িয়েছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে। বগুড়ায় মসজিদের কোরআন তেলওয়াতকালে এক কৃষক লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন করেছে। যারা এরকম করে তারা কিসের ধর্মে বিশ্বাস করে? নিরীহ মানুষকে যারা হত্যা করে তারা জান্নাতে নয়, দোযখে যায়। উন্নয়নের অঙ্গীকার করে লক্ষ্মীপুরবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও নৌকায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি তো সব হারিয়েছি। বাংলাদেশে এসেছি দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে। আমি বাবার মতো, আমার পরিবারের মতো, আপনাদের কল্যাণে নিজের জীবন বিলিয়ে দেব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট দেবেন তো? এ সময় জনসভায় উপস্থিত লাখো জনতা দুহাত তুলে এবং সেøাগান দিয়ে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২০ বছর পর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণ প্রদান ছাড়াও ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহিলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন এমপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মহাসচিব এমএ আউয়াল এমপি, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান এমপি, অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা এমপি, পৌর মেয়র আবু তাহের, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, শহিদ ইসলাম পাপুল, মো. শাহজাহান, অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, আনোয়ার খান, আবুল কাসেম, অধ্যাপক মামুনুর রশিদ, যুবলীগ নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু, ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন লোটাস প্রমুখ। এর আগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জেলা পর্যায়ে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে বক্তব্য রাখেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ইসলামের উন্নয়নের আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামি কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করব। আমরা একদিন দেশের সব মানুষকে বিনা পয়সায় ঘরবাড়ি করে দেব। আমরাই দেশে বিনা পয়সায় বই বিতরণ করছি। আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমরাই বর্গাচাষিদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করি। ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন দিয়েছি। উপবৃত্তির টাকা যাবে এসব মোবাইল ফোনে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের কেউ লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন করেনি। বিএনপি লক্ষ্মীপুরের জন্য কিছুই করেনি। আমি আজ আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পসমূহের তালিকা পড়ে শোনান। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য যা যা করার সবই করবেন বলেও আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্মীপুরে তার দলের ৩৩ নেতাকর্মীকে বিএনপি-জামাত নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে দুশতাধিক। জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী ঘর থাকতে পারেনি। এখানে বিএনপির নির্যাতন থেকে মুক্তিযোদ্ধারাও বাঁচতে পারেনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে এলাকার মানুষকে উন্নয়নের অগ্রগতির কথা জানতে চান। তিনি বলেন, বিএনপি এখন একটি নালিশী দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপি আগামী নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। তাই বিভিন্ন অজুহাত তুলে জনগণের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের ধারাকে ম্লান করার জন্য শুধু নালিশ করে যাচ্ছে। তাই তিনি বিএনপিকে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এলাকার সকল সড়কের উন্নয়ন করার জন্য। তাই তিনিও তার দফতরের কর্মকর্তা প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : জনসভায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে ১০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী হাট নৌবন্দর, লক্ষ্মীপুর রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত লক্ষ্মীপুর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সদর উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ভবন, কমলনগর উপজেলা পরিষদ ভবন ও অডিটরিয়াম, লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ ভবন, মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মাণ ও কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রাণী হাসপাতাল। এ ছাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীতকরণ, মজুচৌধুরীর হাটে প্রশাসনিক ভবন ও নাবিক নিবাস, সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, খাদ্য গোডাউনের নতুন গোডাউন নির্মাণ, রামগঞ্জে ১৩২/১৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক গ্রিডলাইন উপকেন্দ্র নির্মাণ, পিয়ারাপুর ও চেউয়াখালী সেতু, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় নৌবন্দর, পৌর আধুনিক বিপণি বিতান রামগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর কমপ্লেক্স ভবন, লক্ষ্মীপুর পৌর আজিমশাহ হকার্স মার্কেট, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, পুলিশ লাইন্স মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, শহর সংযোগ সড়কে সেতু নির্মাণ, রায়পুর ও কমলনগরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর। তিনি দেশের অব্যাহত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দেশের মানুষকে আগুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী বিএনপি-জামাতকে পরিহার করে নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের আগামী নির্বাচনসমূহ বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

Category: