Blog Archives

‘বিশ্বের অর্থনৈতিক সামরিক কেন্দ্রবিন্দু হবে চীন’

44উত্তরণ ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হবে চীন। তিনি বলেছেন, চীন এখন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। তিনি চীনকে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ারও অঙ্গীকার করেন। গত ১৮ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং এসব কথা বলেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, কারণ দেশটি এখন বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। নিজস্ব সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চীন যেভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করেছে তাতে অন্য দেশও এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করেন শি। কিন্তু চীন অন্য কোনো দেশের আদর্শকে গ্রহণ করবে না বলেও উল্লেখ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এই কংগ্রেসের মাধ্যমে শি জিনপিং আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি অনেক ক্ষমতাও পাবেন। পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি পার্টির প্রধান হতে পারেন। প্রতি পাঁচ বছরে একবার এই কংগ্রেস বসে। এবারের কংগ্রেসে ৩ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে। কংগ্রেস শেষ হওয়ার পরই কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
২০৫০ সালের মধ্যে চীন বিশ্বের সেরা শক্তিধর দেশ হয়ে উঠবে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমা ধাঁচে গণতন্ত্র ফেরানোর কোনো আগ্রহ চীনের নেই। স্বাধীনতার দাবিতে বেশ কয়েকটি প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কঠোর হাতে তা দমন করা হবে।
শি বলেন, বিশ্বের নতুন সামরিক বিপ্লব উন্নয়নের প্রবণতা ও জাতীয় নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে চীনা বাহিনীর ২০২০ সাল নাগাদ মোটামুটি অস্ত্রের আধুনিকায়ন বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে, তথ্যায়ন নির্মাণ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে, কৌশলগত সামর্থ্য উন্নতি হবে। সামরিক তত্ত্ব বাহিনীর সাংগঠনিক আকার, সামরিক ব্যক্তি আর অস্ত্র ও সরঞ্জাম এই ৪টি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন এগিয়ে যাবে যাতে ২০৩৫ সালে মোটামুটি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। এ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের প্রথম শ্রেণির বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হবে। শি জিনপিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করে বলেন, দুর্নীতি করে কেউ রেহাই পাবে না। চীন মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে শি বলেন, চীনা নেতৃত্বকে খাটো করে এমন কোনো বৈদেশিক রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করা হবে না।

Category:

পূর্ব এশিয়া ভূ-রাজনীতির চলমান উত্তেজনা

Posted on by 0 comment

59সাইদ আহমেদ বাবু: পূর্ব এশিয়া হলো এশিয়া মহাদেশের একটি অংশ। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে থাকে। এটি এশিয়া মহাদেশ ও আমেরিকা মহাদেশের সংযোগস্থল বিধায় বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যা প্রায় ১.৩ বিলিয়ন। এটি পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এর উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া। উত্তর-পশ্চিমে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান। পশ্চিমে তাজিকিস্তান, পাকিস্তান। দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত। দক্ষিণে নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনাম। পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান অবস্থিত। চীনের সাথে মোট ১৪টি রাষ্ট্রের সীমান্ত রয়েছে।
বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার জলসীমায় রাজত্ব করেছে, তার বিশাল নৌবহর এমনভাবে এখানকার জলসীমা দাপিয়ে বেড়িয়েছে যে মনে হতো, তার রাশ টানার মতো কেউ নেই।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় সমুদ্রপথে। ফলে সব দেশই চায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। হ্যাঁ, বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কার্যত সমুদ্রপথে বৈশ্বিক যোগাযোগের পাহারাদারের কাজ করছে। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন নৌ-শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি।
নতুন এক নৌ-শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে উল্টে দিচ্ছে। চীন তার মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তার নৌ-শক্তিও ক্রমেই বাড়ছে, আবার তার হাতে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই বলে বলীয়ান হয়ে চীন পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সংকুচিত করেছে। হলুদ সমুদ্র (Yellow Sea) থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনী তার আশপাশের সমুদ্রসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তির উপস্থিতিকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সামরিক স্থাপনার এক ছড়ানো-ছিটানো নেটওয়ার্ক ও বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে। চীন পরবর্তীকালে এই ঘাঁটিকে সামরিক আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের একটি অংশ সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী, বেইজিংয়ের নৌ-শক্তি প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আরও আগ্রাসী অবস্থান নেবে। কিন্তু তারা যে চীনের সৃষ্ট কৃত্রিম দ্বীপের কাছাকাছি নজরদারি করার জন্য জাহাজ পাঠিয়েছে, তাতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ সংযোগ পথ স্থাপনের জন্য এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।
চীনের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, উত্তর-পূর্বে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের সমন্বিত একটা বেষ্টনী এবং দক্ষিণে মালাক্কা প্রণালি, যেখানে চীনের কোনো প্রভাব নেই ও আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়াা নেশন্স) দেশসমূহের অবস্থান, যে দেশগুলো চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখলেও আমেরিকার বন্ধুত্বকে প্রাধান্য দেয়। এই বাধা উপেক্ষা করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের জন্য চীন উত্তর কোরিয়ার ‘রাজীন’ সমুদ্রবন্দর, যা পুরো বছর বরফমুক্ত থাকে, তার আধুনিকায়ন করছে। ভারত মহাসাগরে প্রবেশের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বেলুচিস্থানে ‘গোয়াদার’ সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। যাতে প্রয়োজন হলে সড়কপথে পাকিস্তান হয়ে ‘গোয়াদার’ বন্দরের মাধ্যমে চীনের বাণিজ্য উপকরণ পার্সিয়ান গালফ, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণে আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহে পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত চীনের দ্বীপ ‘হাইনানে’ তারা বড় সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে। চীনের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমেরিকা ২০২০ সালের মধ্যে তার সামরিক শক্তি বিশেষ করে নেভাল ফোর্সের ৬০ শতাংশ মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মাথায় অবস্থিত ডারউইন বন্দরে আমেরিকা ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা নতুনভাবে মোতায়েন করছে। এই অঞ্চলে চায়না রুখো নীতির আওতায় আমেরিকার কাছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী জায়গায় বিশাল দেশ ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব বহু দিনের পুরনো। এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের যে চাবিকাঠি তার মূল ভিত্তি হচ্ছে জাপান। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোরিয়ান পেনিনসোলা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে যে কোনো সংকটে ওকিনাওয়া সামরিক ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ চীন সাগরের সেনকাকু দ্বীপের মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি চীন-জাপান সম্পর্কে নতুন করে চিড় ধরছে। তবে চীনের সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ব্যাপক প্রসার, বিস্তার ও আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে এ অঞ্চলের সব রাষ্ট্রেরই সন্দেহ এবং ভয় আছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের অবস্থান যে অন্যদিকে তা চীনের উপলব্ধিতে আছে।
কোরিয়া দ্বীপ রাষ্ট্রটি উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি ভাগে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্র পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। কোরিয়া দ্বীপটি উত্তর-পশ্চিমে চীন দ্বারা আবদ্ধ। আর উত্তর-পূর্বে রাশিয়া দ্বারা আবদ্ধ এবং কোরিয়া প্রণালি দ্বারা জাপান থেকে পৃথক। দক্ষিণে-পূর্ব চীন সাগর দ্বারা তাইওয়ান থেকে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ এবং এই দেশটির ওপর চীনের প্রভাব বেশি।
উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির পরিম-লে সমাজতান্ত্রিক ও মার্কসবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়া এখন আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষ অর্থাৎ মহাশক্তিধর রাষ্ট্রবর্গ দেশটির কর্মকা-ে উৎকণ্ঠিত।
একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া বিশ্ব দরবারে জানান দিচ্ছে যে, বৃহৎ শক্তিবর্গ যদি মারণাস্ত্র নির্মাণ করতে পারেÑ তাহলে আমরা কেন তা পারব না। তারা জানিয়ে দিচ্ছে শত্রুর কাছে মাথানত করার ন্যূনতম সুযোগ উত্তর কোরিয়ার নেই। বিশ্বব্যাপী নতুন করে যুদ্ধের দামামা শোনা যাচ্ছে। চলছে রণ-হুঙ্কার। একদিকে পরাশক্তি ও বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা, অন্যদিকে নব্য পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়া। বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখনও বিষয়টি বাকযুদ্ধ মনে হলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট রয়েছে। তারপরও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উত্তর কোরিয়া একাট্টা। দেশটির এক পাশে শক্তিধর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যদিকে রয়েছে শক্তিশালী জাপান। এ দুই শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও হাইড্রোজেন বোমাসহ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে আমেরিকা তার মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছে। অর্থাৎ, পীত সাগরে মিত্র দেশের সমন্বয়ে সামরিক মহড়ার আগে পরে উত্তর কোরিয়া তার উদ্ভাবিত মারণাস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রেখে শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি প্রদান করছে।
চীন ও রাশিয়া মনে করে যে, উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ আতঙ্কে ব্যস্ত রাখতে চায়। আমেরিকাসহ তার মিত্ররা ভালো করে জানে উত্তর কোরিয়াকে চটালে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। তাই উত্তর কোরিয়ার হাঁকডাক নীরবে হজম করে যাচ্ছে মার্কিন মিত্ররা।
কারণ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভা-ার রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও উত্তর কোরিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। এখন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রহর গুনছে। ১২৫টি সাবমেরিন বহর, সেনা ও গোলন্দাজ ডিভিশনের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর দক্ষতাও চোখে পড়ার মতো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে তার দেশ ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। দুদেশের মধ্যে যখন বাকবিত-া চরম আকার ধারণ করেছে তখন ট্রাম্প যুদ্ধ-প্রস্তুতির কথা বললেন।
ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা দ্বিতীয় অপশনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আমরা যদি তা বেছে নিই তাহলে তা হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক। যদি আমাদের সামরিক ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে ছাড়ব।
২০০৬-এর পর এ নিয়ে দেশটির ওপর অষ্টমবারের মতো অবরোধের প্রস্তাব আনা হলো।
যদিও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পিয়ং ইয়ং-কে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। কয়লা, সীসা, তৈরি পোশাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী এবারের অবরোধের তালিকায় রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অবরোধের প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১৫ ভোট, আর বিপক্ষে একটিও না।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ জারির জন্যে এই বৈঠকের আহ্বান জানায় আর তাতে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ চীনও সম্মতি জানালো।
পিয়ং ইয়ং সম্প্রতি যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা। আর ক্রমাগতই তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার বিষয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল।
কোরীয় উপদ্বীপে আপাতত যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা দেখা না গেলেও উভয় পক্ষের হুমকি-পাল্টা হুমকি প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ববাসী।
জাপান হলো পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এটি জাপান সাগর, চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার পূর্বে অবস্থিত। জাপানের উত্তর-পূর্বে চীন সাগর এবং দক্ষিণে তাইওয়ান অবস্থিত। জাপানের বৃহৎ ৪টি দ্বীপ হলোÑ হনসু, হোক্কাইডো, কিনসু এবং শিকোকো। জাপানের জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ মিলিয়ন এবং জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড মনে করেন, রাশিয়াকে হটিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সম্ভবত চীন হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩টি বড় সামরিক হুমকি হলোÑ রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া।
এ মুহূর্তে চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের সামর্থ্য খর্ব করা এবং মিত্র দেশগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
চীনের সাথে চলতি বছর এই দুটি দেশের যথাক্রমে দক্ষিণ চীন সাগর ও ডোকলাম উপত্যকায় ভূখ- নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। গত বছর আফ্রিকার জিবুতিতে চীন প্রথমবারের মতো তার বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায় আরও এক ডজন এমন ঘাঁটি স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

Category:

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত

Posted on by 0 comment

37সাইদ আহমেদ বাবু: একসময় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যে সূর্যাস্ত হতো না। পৃথিবীর উভয় প্রান্তেই ছিল তার সা¤্রাজ্য। তার শাসিত দেশগুলো নিয়ে রয়েছে কমনওয়েলথ ইউনিয়ন। এখনও বেশ কটি স্বাধীন দেশের রানিও ব্রিটেনের রানি। ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাঙালিসহ ভারতীয় উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর ধরে। ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের সূর্য ক্রমে অস্তমিত হতে হতে মাত্র ৪টি রাজ্য নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটেন আজ গভীর সংকটের সম্মুখীন। ক্ষত-বিক্ষত আর তছনছ হতে চলেছে তার দেশ ও মানুষ। ব্রিটেনের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। মুক্ত বাণিজ্য তাদের কাছে সন্দেহের বস্তু। অভিবাসন আপত্তিকর। শুল্ক এবং নানাবিধ বিধিনিষেধের বেড়া তুলে পণ্য, পুঁজি এবং শ্রমের অবাধ গতি নিয়ন্ত্রণই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ব্রিটেন ছিল ইউরোপের প্রবেশদ্বার। ব্রেক্সিট শিবিরের জয় এসেছে মূলত অভিবাসন বিরোধিতার ওপর ভর করে। আর্থিক মন্দা, সামাজিক সুরক্ষা বাবদ বরাদ্দে কাটছাঁট থেকে চাকরির অভাব, সব কিছুতেই দায় চাপানো হয়েছে অভিবাসীদের ওপর, যদিও ইতিহাস বলে অন্য কথা। দক্ষ অভিবাসীদের সামর্থ্য শুধু ব্রিটেনই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির পালেও হাওয়া জুগিয়েছে। ব্রিটেন উন্নত হয়েছে এদের শ্রমের ওপরই।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বহু মানুষের বাসস্থান যুক্তরাজ্যে। এসব কারণে যুক্তরাজ্যের বর্তমান নির্বাচন বাংলাদেশেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক, রুশনারা আলী পুনরায় বিজয়ে বাংলাদেশের মানুষ গৌরবান্বিত বোধ করছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা আশা করি, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণœ থাকবে এবং অদূর ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার হবে।
39বিলাতে নির্বাচনের সময় বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকে; কিন্তু তারা ভোটের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপের কথা আদৌ ভাবেন না। কেউ হেরে যাওয়ায় কারচুপির অভিযোগও তোলেন না। ভোট হতে পারে অবাধ ও নিরপেক্ষ। আবার ভিন্ন দল ক্ষমতায় গেলেও রাষ্ট্রীয় নীতি, পরিকল্পনা বদলে ফেলার মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটবে না। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদেরও সেই দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করতে হবে। অবশ্য বিলাতে গণতন্ত্র আজকের অবস্থায় আসতে বেশ কিছুটা সময় নিয়েছে, ব্রিটেনে নির্বাচনে একসময় যথেষ্ট দুর্নীতি হতো। এখন আর তা হয় না। ব্রিটেনে গণতন্ত্র পূর্ণতা পেতে পেরেছে চর্চার মাধ্যমে।
ব্রিটেনে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেন থাকবে কি থাকবে না সেটি নিয়ে। গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে ৫২ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করে। ফলে ব্রিটিশ সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিত্যাগের। ব্রিটেনে এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একটি বড় বিষয় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা।
ব্রেক্সিট ইস্যুতেই গণভোটের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে কপাল খুলে যায় তেরেসা মে’র। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে গত এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তেরেসা মে।
তেরেসা মে দেশবাসীর কাছে এই বিশ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন যে, জনমত জরিপে জেরেমি করবিনের (লেবার নেতা) করুণদশার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হবেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। পার্লামেন্টে এখনও সর্ববৃহৎ দল হলো টোরিরা। কিন্তু নির্বাচনে ১৭টি আসন দলটি হারিয়েছে। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরন এই আসনগুলো জিতেছিলেন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করছেন অনেক কনজারভেটিভ। পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, যা দিয়ে তিনি অনায়াসে আরও তিন বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারতেন; কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল কনজারভেটিভ পার্টিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করিয়ে শাসন-প্রশাসনে আরও সুদৃঢ় করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা মেইডেনহেডে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে মাইনরিটি সরকার গঠন করতে পারেন তিনি। যখন দেখা গেল তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছে, তখন তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যে কোনো কিছুর চেয়ে দেশের দরকার স্থিতিশীলতা। কনজারভেটিভরাই বেশি আসন জিতেছে। বেশি ভোটও। তাই আমাদের ওপরই এই স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব বর্তায়। আর এটিই আমরা করব।
যুক্তরাজ্যের এই নির্বাচন ঘিরে যা হলো তা দেখে নিন এক নজরেÑ
স্থানীয় সময় ৮ জুন, বৃহস্পতিবার, যুক্তরাজ্যে আগাম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯ জুন ফল প্রকাশে দেখা যায়, মোট ভোটার ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৬। ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট আসন ৬৫০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে সরকার গঠনের জন্য এককভাবে প্রয়োজন ৩২৬টি আসন। কেনসিংটন আসন ছাড়া সব আসনের ফল প্রকাশ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই। কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। মোট ভোট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৯১৮ (৪২.৪৫ শতাংশ)। লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬২টি আসন। মোট ভোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৪ (৩৯.৯৯ শতাংশ)। ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। মোট ভোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৩১৬ (০.৩১ শতাংশ)। লিবারেল ডেমোক্র্যাট পেয়েছে ১২টি আসন। মোট ভোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮টি (০.৫১ শতাংশ)। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩৫টি আসন। মোট ভোট পেয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ (৩.০৪ শতাংশ)। তেরেসার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২৬টি আসন, যা প্রাপ্ত আসন থেকে ৮টি কম।
উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন নর্থ আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন চলে যাওয়া উচিত। এই নির্বাচন ডাকা হয়েছিল সরকারকে নতুন ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য। ম্যান্ডেট তিনি পেয়েছেন, হারানো আসন, হারানো ভোট, হারানো কর্তৃত্বে। এবার তার চলে যাওয়া উচিত। আসতে দেওয়া উচিত এমন এক সরকার, যা সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় অংশ হয়ে আর না থাকার, তাতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা ক্ষীণ প্রায়। ইইউবিরোধী ব্রিটিশ রাজনীতিকরা ঘনীভূত সংকটের ভেতরের সত্যটি যদি আড়াল করতে চান, তবে বিপর্যয় অত্যাসন্ন। ব্রিটেনসহ ইউরোপের অধিবাসীরাও উদ্বিগ্ন আগামী দিনে কী আছে তাদের ললাটে, জানে না তারা।
ব্রিটেনের মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। গত নির্বাচনে ২৩২টি আসন পাওয়া দলটি এবার জয় পেয়েছে ২৬২টি আসনে। যা পার্লামেন্টে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যাবে, এমন নয়। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ছে। এর একটা কারণ হলো ব্রিটেন চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড সমবেত হয়ে একটি ইংরেজি ভাষাভাষী ইউনিয়নের মতো কিছু গড়তে। কেননা তাতে তার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হতে পারবে বেশি। কনজারভেটিভ নেতা চার্চিল তার হিস্ট্রি অব ইংলিশ স্পিকিং পিপুল বইতে এ রকম ইউনিয়ন গড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন বেরিয়ে গেল ২৭টি রাষ্ট্র আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

আবারও বাঙালি তিন কন্যার জয়
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে আবারও অভাবনীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও ড. রূপা হক। নির্বাচিত তিনজনই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টি থেকে নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তাদের বিজয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে আত্মহারা লন্ডনস্থ বাঙালি কমিউনিটি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’দের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লন্ডনে বাঙালির গর্ব রুশনারা আলী : পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে তৃতীয়বার তিনি নির্বাচিত হলেন। এবারে তিনি ৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে সরকারি দল কনজারভেটিভ পার্টির শার্লট চেরিকোকে হারিয়েছেন। তার মোট প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে ৪২ হাজার ৯৬৯ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট।
রুশনারা আলী ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি ১২ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দল থেকে হাউস অব কমন্সে সাফল্যের সাথে ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বরাবরই ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কঠোর প্রতিবাদ করে আসছেন। পরে ডেভিড ক্যামেরন তাকে বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী রুশনারা লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার পদের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।
টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক : বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি সেন্ট্রাল লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন লাভ করে টিউলিপ ২০১৫ সালে প্রথমবার হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হন। তখন তিনি ১ হাজার ১৩৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। এবারে তার জয়ের ব্যবধান সবাই অভাবনীয় হিসেবে দেখছেন। মূলত টিউলিপের আগে দীর্ঘদিন এই আসনে খ্যাতিমান ব্রিটিশ গ্ল্যামার জগতের তারকা গ্লেন্ডা জ্যাকসন এমপি ছিলেন। ফলে সংগত কারণে এই আসনের দিকে শুরু থেকেই সবার নজর ছিল। টিউলিপ ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিক বিষয়ে বিরোধী দল থেকে লেবার পার্টির ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রেক্সিট বিরোধী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত মুখ। এমনকি আমেরিকান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মার্কিন গণমাধ্যমের নজরে আসেন। তিনি কিংস কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মজীবনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ওই এলাকা থেকে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
ড. রূপা হক : সেন্ট্রাল লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে লেবার পার্টির দ্বিতীয় মেয়াদে হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হলেন ড. রূপা হক। তিনি এবারে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।
২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৭৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। ফলে বাঙালি কমিউনিটির পর্যবেক্ষকরা তার বিজয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু মেধাবী এই বাঙালি কন্যা বরাবরই ওই আশঙ্কার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবারে তিনি গতবারের তুলনায় জয়লাভ করেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেশায় একজন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তার আসনটিও ছিল বেশ আলোচিত এবং হাডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার জন্মস্থান বাংলাদেশে পাবনায়।
উল্লেখ্য, এবারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৫ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে ৮ জন ছিল লেবার পার্টির, ২ জন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক থেকে এবং অন্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’ টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং রূপা হককে পৃথক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৯ জুন রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় বাংলাদেশি তিন নারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আবদুল হামিদ জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাদের উজ্জ্বল সাফল্য কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এ কথা জানান।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হক পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের এই বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃত দিয়ে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, এই তিন কন্যার বিজয় আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি আশা করি, তারা যে বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছে তার আলোর বর্ণালী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।

Category:

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার

Posted on by 0 comment

38সাইদ আহমেদ বাবু: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলন। গত ২০ মে থেকে দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৫৫টি মুসলিম দেশসহ যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। মুসলিম দেশগুলোর প্রাধান্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশগ্রহণ করায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই সম্মেলন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ৫৬ জন আরব ও মুসলিম নেতা ইতিহাসের প্রথম এ ধরনের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব-আমিরাতের আমির, বাহরাইনের বাদশাহ, ব্রুনাইয়ের সুলতান, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বেনিন, লেবানন, মৌরিতানিয়া, তিউনেশিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক ও নাইজারের প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, আলজেরিয়া পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান ও উগান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়।
শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য বলা  হচ্ছেÑ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, সহিষ্ণুতা ও সৌহার্দ্যরে সম্প্রসারণ এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টা জোরদার করা। বৈশ্বিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এ সম্মেলনের শেষের দিকে বিশ্ব নেতারা একত্রিত হয়ে রিয়াদে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গ্লোবাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
মুসলিম দেশগুলোর জন্য এ শীর্ষ সম্মেলন তখনই ফলদায়ক হবে যখন মুসলিম নেতৃত্ব তাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো একতাবদ্ধভাবে সমাধান করে সম্ভাবনাসমূহকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু ঐক্য সৃষ্টির বদলে যদি এ সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের মধ্যে  বিভাজন সৃষ্টি করে, তা হলে পুরো চেষ্টাটি ব্যর্থ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করে।
প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য সৌদি আরবকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে তার প্রমাণ ট্রাম্পের সফরের প্রথম দিনই মিলেছে। এদিন সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্র তার এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তি সই করেছে। ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা সৌদি আরব এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে, বিশেষ করে ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে এবং ইরান সম্পর্কিত যে হুমকি সৌদি আরবের সীমান্তের চারদিকে অবস্থান করছে সেই বিষয়ে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব ইসলামি দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে রেওয়াজ অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দিয়েছেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ট্রাম্পকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদের নামে চালু করা পদকটি সৌদি আরবের বন্ধুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া হয়। এর আগে যেসব বিদেশি ব্যক্তিত্ব এই পদক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
নানান জটিলতা পেরিয়ে বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর রাষ্ট্রের শীর্ষপদে আসীন হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের মুখে বহুবার শোনা গেছে মুসলিমবিরোধী মন্তব্য। মুসলিমদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম বিদেশ সফর করলেন মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব থেকে। সৌদি বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই ট্রাম্পপক্ষীয় ব্যক্তিরা বলেছিলেন, ট্রাম্পের এই সফরের উদ্দেশ্য তার বর্তমান ইসলামবিরোধী ভাবমূর্তি পাল্টে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ঠিকঠাক করা।
সফরের দ্বিতীয় দিনে ৪০টি মুসলিম দেশের নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প।
এদিন সৌদি আরবের রাজধানী শহর রিয়াদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের সমস্ত মুসলিম নেতাদের উদ্দেশে বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এর পাশাপাশিই তিনি বলেছেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোকেও একসাথে কাজ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, জঙ্গিদের আক্রমণে বিধ্বস্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশ। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের জন্য কেন একটি ধর্মের মানুষ বিশ্বের নজরে খারাপ হবে? এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কিংবা কোনো সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই নয়। এটি শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
এই লড়াইয়ে সমস্ত ধর্মের মানুষকে একজোট হওয়ার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মুসলিমদের ও এই জোটে শামিল হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনের জন্য সব সময়ই সব দেশকেই সাহায্য করবে। সব দেশ জোটবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশের উচিত নয় জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে তাদের দেশে জায়গা না পায়, তা নিশ্চিত করতে বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারত, রাশিয়া, চীন ও অস্ট্রেলিয়া সন্ত্রাসবাদের শিকার, যেমন শিকার আমেরিকা ও ইউরোপও। এসব দেশে বারবার বর্বর হামলা ঘটনা ঘটেছে। অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সয়েছেন এসব দেশের মানুষরা।
তবে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে বলেছেন তিনি। তার কথায়, সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখান থেকেই শান্তি শুরু হতে পারে। আর সে জন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে আমরা সন্ত্রাসকে পরাস্ত করে তার জঘন্য আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করতে পারি।
মুসলিম দেশগুলোর প্রতি তার আহ্বান, সন্ত্রাস দমনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সন্ত্রাসের পতাকা বহনকারীদের নিজের দেশে জায়গা দেবেন না। জঙ্গিরা যাতে তাদের মাটিতে ঘাঁটি না গাড়তে পারে, তা নিশ্চিত করা এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের দায়িত্ব।

বিশ্বে শান্তি স্থাপনে শেখ হাসিনার ৪ প্রস্তাব
আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিটে অংশ নিয়ে বিশ্বে শান্তি স্থাপনে তার ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম প্রধান অর্ধশতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাদরে গ্রহণ করে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার প্রস্তাব প্রথমত; আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত; সন্ত্রাসী ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর প্রতি অর্থের জোগান বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত; ইসলামি উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি দূর করতে হবে। আর চতুর্থত; সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বের করতে হবে, যাতে সকল পক্ষই তাদের নিজ নিজ সাফল্যের দিকটি নিশ্চিত করতে পারে।
আরব ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলন আয়োজন করেছে সৌদি আরব। আর সে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব ফোরামে এসব প্রস্তাব তুলে ধরলেন শেখ হাসিনা।

Category:

কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা : শঙ্কিত বিশ্ববাসী

Posted on by 0 comment

54সাইদ আহমেদ বাবু: হাইড্রোজনে বোমার পরীক্ষার মধ্য দয়িে উত্তর কোরয়িার নতো কমি জং উন বশ্বিকে এটাই স্মরণ করয়িে দলিনে যে আর্ন্তজাতকি সম্প্রদায়রে হুমক,ি চাপ, ভাবনা নয়িে তার তমেন মাথাব্যথা নইে। তাই বশ্বিনতোদরে বুড়ো আঙুল দখোতে র্কাপণ্য করনে নি তনি।ি অন্যদকিে যুক্তরাষ্ট্ররে একদম পটেরে মধ্যে আঘাত হানা যায় এমন সব অস্ত্র আবষ্কিার করছে উত্তর কোরয়িা। রাজধানী পয়িংইয়ংয়ে দলরে এক সমাবশেে তনিি এ কথা বলছেনে। উত্তর কোরয়িাকে তনিি দায়ত্বিশীল পরমাণু শক্তধির দশে বলওে উল্লখে করনে। উত্তর কোরয়িার প্রতষ্ঠিাতা কমি ইল সাংয়রে ১০৫তম জন্মর্বাষকিী উপলক্ষে আয়োজতি অনুষ্ঠানে সামরকি প্রর্দশনীতে সাবমরেনি থকেে উৎক্ষপেণযোগ্য ব্যালাস্টকি মসিাইল প্রথমবাররে মতো জনসমক্ষে তুলে ধরা হয় বশ্বিরে যে কোনো জায়গায় লক্ষ্যবস্তুকে র্টাগটে করার উদ্দশেে এই ক্ষপেণাস্ত্র ব্যবহার সম্ভব। এ ছাড়া, দুই কোরয়িার অভ্যন্তরীণ বষিয়ে হস্তক্ষপে করার বরিুদ্ধে তনিি আমরেকিাকে হুঁশয়িার করে দনে।
উত্তর কোরয়িা এ মুর্হূতে পৃথবিীর একটি রহস্যময় দশেরে নাম। কন্ডোলসিা রাইস দশেটকিে ‘স্বরৈতন্ত্ররে আবাসভূম’ি বলে মন্তব্য করছেলিনে। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্ররে তৎকালীন প্রসেডিন্টে র্জজ ডব্লউি বুশ দশেটকিে শয়তান চক্ররে অংশ বলছেলিনে। আর ফ্রাঙ্কো ও সথি রোজনে কছিুটা কৌতুক করে বলছেলিনে, দশেটি পয়িংইয়ংয়রে অসর্মথনরে ফল।
যুক্তরাষ্ট্ররে প্রসেডিন্টে বারাক ওবামা উত্তর কোরয়িাকে বশ্বিে ‘কবররে হুমক’ি বলে অভহিতি করছেনে। তনিি বশ্বিকে উত্তর কোরয়িার ব্যাপারে কোনো ছাড় না দওেয়ার পক্ষে মত দয়িে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক হতে পরার্মশ দয়িছেনে। এ ছাড়া বারাক ওবামা উত্তর কোরয়িাকে যুক্তরাষ্ট্ররে র্সাবভৌমত্বরে জন্য হুমকি বলে মনে করনে। উত্তাল বশ্বি রাজনীতরি পরমি-লে সমাজতান্ত্রকি ও র্মাকসবাদী ভাবধারায় বশ্বিাসী কমউিনস্টি শাসতি এই দশেটি পারমাণবকি সক্ষমতা র্অজন করে আমরেকিার মাথাব্যথা বাড়য়িে দয়িছেে অনকে আগইে। ২০০৬ সালে পয়িংইয়ং প্রথম নউিক্লয়িার পরীক্ষা চালায়। কন্তিু তখন থকেইে কোনো ব্যবস্থা না নওেয়ার কারণে উত্তর কোরয়িার মলিটিাররি আকার আর আগ্রাসন কবেল বড়েইে চলছে।ে পারমাণবকি অস্ত্র ও ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষার জরেে ২০০৬ সাল থকেইে উত্তর কোরয়িার ওপর বভিন্নি নষিধোজ্ঞা আরোপ করে জাতসিংঘ।
র্মাকনি যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরয়িার দুই ভয়ঙ্কর ‘পাগলাট’ে শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমি জং উনরে মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তজেনা এবং যুদ্ধংদহেী মরণাস্ত্র প্রর্দশনীতে অস্বস্ততিে পুরো বশ্বি। উত্তর কোরয়িা এবং যুক্তরাষ্ট্ররে নজিস্ব সামরকি শক্তি নজরিবহিীনভাবে বাড়ানোর ক্ষত্রেে অনমনীয় ও হঠকারী মনোভাবরে ফলে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তজেনায় এ দুদশেরে মধ্যে যে কোনো মুর্হূতে প্রবল যুদ্ধ বধেে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল।
কমি জং উনরে আণবকি কারখানায় হামলা করার জন্য ট্রাম সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।ে কনে উত্তর কোরয়িার ওপর হামলা করার জন্য প্রসেডিন্টে ট্রাম প্রস্তুত। উত্তর কোরয়িার অপরাধ প্রসেডিন্টে কমি জং-আন রাজধানীতে বশিাল সামরকি মহড়া ও পরমাণু বোমা বানানোর পর তা পরীক্ষা চালয়িে যাচ্ছনে।
যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরয়িার বরিুদ্ধে আগ বাড়য়িে সামরকি হামলা চালানোর বকিল্পটি হাতে রাখলওে এখন র্পযন্ত দশেটকিে র্অথনতৈকিভাবে এবং নষিধোজ্ঞা দয়িে চাপে রাখার বশে কছিুদনি ধরইে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরয়িা সর্ম্পক ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছ।ে এর জন্য কোরয়িার একরে পর এক ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষাকইে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৮ এপ্রলি পশ্চমি প্রশান্ত মহাসাগরে কোরীয় উপদ্বীপরে দকিে পাঠানো হয়ছেে যুক্তরাষ্ট্ররে বমিানবাহী রণতরী ইউএসএস র্কাল ভনিসন। উত্তর কোরয়িায় উসকানমিূলক ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষার জবাব দতিইে ওই যুদ্ধজাহাজ সখোনে যাচ্ছে বলে জানয়িছেলি যুক্তরাষ্ট্র।
বশিষেজ্ঞরা মনে করনে, ওই এলাকায় কোনো ধরনরে সামরকি ব্যবস্থা কখনও যুক্তরাষ্ট্র নলিে উত্তর কোরয়িা এর যে জবাব দবেে তাতে দক্ষণি কোরয়িা এবং জাপানসহ ওই অঞ্চলে উপস্থতি র্মাকনি সনোবহরে ব্যাপক হতাহতরে ঘটনা ঘটব।ে
যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরয়িার মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণরে হুমকতিে অনকেইে আশঙ্কা করছনে আরকেটি যুদ্ধরে। প্রশ্ন উঠছেে : এবাররে যুদ্ধওে কি উত্তর কোরয়িাকে সর্মথন দবেে বশ্বিরে দ্বতিীয় পরাক্রমশালী রাষ্ট্র চীন? নাকি চীন র্দুবল থাকবে যুক্তরাষ্ট্ররে প্রত?ি এমন প্রশ্নও রয়ছেে অনকেরে মন।ে
অতীত ব্যাখ্যা করতে গলেে দখো যায় উত্তর কোরয়িার একমাত্র কূটনতৈকি মত্রিরে নাম চীন। আর এই চীন অনকে অনকে বছর যাবত উত্তর কোরয়িাকে সাহায্য-সহযোগতিার হাত বাড়য়িে দয়িে এসছে।ে বভিন্নি যুদ্ধরে ময়দানে চীনকইে সবার আগে পাশে পয়েছেে উত্তর কোরয়িা।
তবে এবার উত্তর কোরয়িার মাথার ওপর থকেে যনে সহযোগতিার হাত সরছে চীনরে।
উত্তর কোরয়িাকে আবারও বশ্বিরে দকিে ফরিয়িে আনতে এখন সবাই চীনরে দকিইে তাকয়িে আছ।ে এসব ঘটনা দখেইে চীন ও এই দুই দশেরে সর্ম্পক নয়িে নতুন করে ভাবছে বলে মনে করছনে অনকে।ে চীন কোন দকিে যায় চীনরে ওপর নর্ভির করবে আগামী দনিরে যুদ্ধ।
উত্তর কোরয়িার ক্ষপেণাস্ত্র ও পারমাণবকি পরীক্ষার হুমকরি জবাবে যুক্তরাষ্ট্ররে একটি সাবমরেনি দক্ষণি কোরয়িায় পৗেঁছছে।ে এতে কোরয়িা উপদ্বীপে নতুন করে উত্তজেনা সৃষ্টি হয়ছে।ে
জাতসিংঘ নরিাপত্তা পরষিদরে প্রস্তাবরে পরপিন্থী যে কোনো পদক্ষপেরে সব সময় বরিোধতিা করে চীন। এ অবস্থায় উত্তর কোরয়িাকে আর্ন্তজাতকি আইন মনেে চলার আহ্বান জানয়িছেে চীন। সইে সাথে সব পক্ষকে শান্ত থাকার পাশাপাশি যে কোনো সংঘাত এড়য়িে চলার পরার্মশ দয়িছেে বইেজংি। প্রসেডিন্টে ট্রাম্প যে কোনো মূল্যে কোরয়িায় পরমাণু নরিস্ত্রীকরণরে ওপর গুরুত্বারোপ করনে। উত্তর কোরয়িার পরমাণু অস্ত্ররে পরীক্ষা ঠকোতে নতুন করে অবরোধ দওেয়ার প্রস্তুতি নচ্ছিে যুক্তরাষ্ট্র। এ বষিয়ে জাতসিংঘ নরিাপত্তা পরষিদরে প্রতি আহ্বান জানয়িছেনে র্মাকনি প্রসেডিন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উত্তর কোরয়িার বরিুদ্ধে একক পদক্ষপে নওেয়ার বরিুদ্ধে আমরেকিাকে হুঁশয়িার করছেে রাশয়িা। পয়িংইয়ং-এর পরমাণু তৎপরতার জবাবে আর্ন্তজাতকি আইনরে লঙ্ঘন ঘটে এমন কোনো ব্যবস্থা নওেয়া উচতি হবে না বলওে আমরেকিাকে হুঁশয়িার করে দয়িছেে রাশয়িা।
সংকত নরিসনরে জন্য দ্বমিুখী প্রস্তাব দয়িছেে চীন। প্রথমত, উত্তর কোরয়িাকে পারমাণবকি ও ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করতে হব।ে অন্যদকিে দক্ষণি কোরয়িা ও যুক্তরাষ্ট্ররে যৌথ সামরকি মহড়া বন্ধ করতে হব।ে দ্বতিীয়ত, সব পক্ষকে আলোচনার টবেলিে আসতে হব।ে এর লক্ষ্য হব,ে কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবকি অস্ত্র মুক্তকরে শান্তচিুক্তি সই, যা ৬০ বছররে পুরনো কোরয়িার ওয়ার র্আমস্টিাইস অ্যাগ্রমিন্টেকে প্রতস্থিাপন করব।ে
যদি ট্রাম সরিয়িা ও কোরয়িা দুটি ইস্যুতইে বড় ধরনরে অঘটন ঘটয়িে ফলেতে পারনে। যদি তনিি যুদ্ধ আরম্ভ করনে বশ্বিরে যত ক্ষতি হবে তার চয়েে বশেি ক্ষতি হবে আমরেকিার এ যুদ্ধে চীন ও রাশয়িা একসাথে মোকাবলো করলে তা সামলানোর ক্ষমতা ও মনোবল এখন আমরেকিার নইে। এ যুদ্ধে আমরেকিার পরাজয় হবে বলে মনে হয়। তাতে আমরেকিার একক সুপার পাওয়ার র্মযাদা রক্ষাও কঠনি হতে পারে।

Category:

‘আমরা অনেক যুদ্ধ দেখেছি, এখন শান্তি চাই’

Posted on by 0 comment

59সাইদ আহমেদ বাবু: বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে ১৭৭৬ সালে। ২ জুলাই ব্রিটেনের শাসন থেকে আলাদা হওয়ার জন্য ভোট দেয় দেশটির দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস। দুদিন পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কিন্তু আলাদা হতে ব্রিটেনের সাথে চূড়ান্ত সই ২ আগস্টে অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যেক বছর ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে দেশটি। এরপর গেল ২৪০ বছরের ইতিহাসে জর্জ ওয়াশিংটন থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব পেয়েছে দেশটি।
আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান। দেশটির আইনসভা দু’কক্ষের। নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং এর সদস্য সংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সিনেট এবং এর সদস্য সংখ্যা ১০০। ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮। ১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিমকোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।
প্রায় ২৩০ শতাব্দী আগে প্রণীত আমেরিকার সরকার ব্যবস্থা সারাবিশ্বের প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিনীদের জীবনের সাথে এটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মার্কিন সরকারব্যবস্থা শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে। মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন এবং এগুলোকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় গঠিত। ফেডারেল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসি।
আমেরিকা সরকারের একটি মূলনীতি হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এ ব্যবস্থায় লোকরা তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসন করে। মার্কিন গণতন্ত্র বেশ কিছু আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশ হওয়ায় এখানে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বের মানুষেরই আগ্রহ রয়েছে। তা ছাড়া ৪৪ জনের প্রত্যেকেই বিশ্বের সামগ্রিক রাজনীতি ও অর্থনীতির পালাবদলের ভূমিকায় আলোচিত এবং সমালোচিত। এদের অনেকেই দেশের সীমানা পেরিয়ে, পৃথিবীর ইতিহাসে স্বমহিমায় উজ্জ্বল-আলোচিত-সমালোচিত। বিশ্বজুড়ে বিতর্কিতও হয়েছেন অনেক প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রয়েছে নানারকম ঘটনা।
জনগণকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। নাগরিকদের আইনি শাসনব্যবস্থায় বাস করার জন্য সম্মত হতে হবে। মতামত ও ধারণার মুক্ত আদান-প্রদানে কোনো বাধার সৃষ্টি করা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সরকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং এর ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসবে।
এই আদর্শগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমেরিকার সরকারব্যবস্থা ৪টি উপাদান দিয়ে গঠন করা হয়েছে। ১. জনগণের সার্বভৌমত্ব ২. প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ৩. ক্ষমতার পরীক্ষা ও ভারসাম্য (ঈযবপশং ধহফ ইধষধহপবং) এবং ৪. ফেডারেলবাদ, যেখানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার পর ১৭৮৯ সালে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন জর্জ ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবাদপুরুষ জর্জ ওয়াশিংটন দুই দফায় ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট।
ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদের কারণে আব্রাহাম লিঙ্কন এখনও জগদ্বিখ্যাত, তেমনি টমাস জেফারসন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিন দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাদের তালিকায় সবার আগে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের নাম; এ ছাড়া জন এফ কেনেডি, রোনাল্ড রিগ্যান এখনও অনুসরণীয় আদর্শ।
কুখ্যাত হয়ে আছেন এমন প্রেসিডেন্টের সংখ্যাও কম নয়। রিচার্ড নিক্সন, যিনি কি-না কেলেঙ্কারির জন্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গৃহযুদ্ধের জন্য দায়ী ফ্রাঙ্কলিন পিয়ের্স, আর আব্রাহাম লিঙ্কনের অমর কীর্তি ধ্বংস করার কুখ্যাতি রয়েছে অ্যান্ড্রু জনসনের। এ ছাড়া বিতর্কিত নীতিসহ বিভিন্ন কারণে সবচেয়ে আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ হিসেবে নাম জর্জ ডব্লিউ বুশের।
পাশ্চাত্যের ভোট ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে রোল মডেল হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। ১৮০০, ১৮২৪, ১৮৭৬, ১৮৮৮ সালের নির্বাচনসহ ২০০০ সালেও অভিযোগ উঠে কারচুপির।
এবারের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে জনমত জরিপের ব্যবধান বেশ আলোচিত শেষ বেলায়। এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেÑ ১৮৭৬, ১৯১৬, ১৯৪৮, ১৯৭৬ সালের মূল নির্বাচনে মাত্র কিছু ভোটের ব্যবধানে হেরে যেতে হয়েছে একজনকে। এমনকি ২০০০ সালের নির্বাচনে বুশের সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ।
কংগ্রেসের যৌথ সেশনে ট্রাম্পের প্রথম ভাষণ
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর, প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের যৌথ সেশনে ভাষণ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাজ নয়। আমার কাজ হলো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করা। যুক্তরাষ্ট্রকে মহান করে তুলতে আগের প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্র সকল দেশের অধিকারকে সম্মান করে। যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে আরও বেশি কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বক্তব্যের শুরুতেই ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর বিদ্যমান হুমকি ও এক ভারতীয় নাগরিকের বর্ণবাদী হামলায় নিহতের ঘটনার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সত্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের আলো ছিল প্রতিটি মার্কিন প্রজন্মের হাতে। এ আলো এখন আমাদের হাতে। আর এটি আমরা সারাবিশ্বকে আলোকিত করার কাজে ব্যবহার করব। আমি আজ এখানে ঐক্যশক্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছি। আর এটি আমার হৃদয় থেকে উৎসারিত।
তিনি বলেন, নীতির কারণে আমরা বিভক্ত জাতি হতে পারি কিন্তু বিদ্বেষ ও খারাপের বিরুদ্ধে আমরা সবাই একতাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মহত্বের এক নতুন অধ্যায় এখন থেকে শুরু হছে। একটি নতুন জাতীয় অহঙ্কার আমাদের দেশজুড়ে বয়ে যাছে। অসম্ভব স্বপ্নগুলো আমাদের হাতের মুঠোয় আসতে যাছে। আমরা নব আমেরিকান উদ্দীপনা দেখতে পাছি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ভুল আমি আর বরদাশত করব না। একের পর এক আমরা বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছি। এর বিপরীতে উপেক্ষা করেছি আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে।
যুক্তরাষ্ট্রকে, সন্ত্রাসবাদ থেকে বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। এজন্য মুসলিম মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া অভিবাসন আইন সংস্কার ও মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর সুরক্ষায় তার নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেন ট্রাম্প। মার্কিনীদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, মজুরি বৃদ্ধি আর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অভিবাসন আইনের ইতিবাচকভাবে সংস্কার জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কর্মসংস্থান সংকোচনের জন্য দায়ী ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে আমরা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছি। বিনিয়োগে নারীদের আকৃষ্ট করতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সহায়তায় একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। ট্রাম্প এদিন ন্যাটো সম্পর্কে তুলনামূলক নমনীয় মনোভাব তুলে ধরেন। একই সাথে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে বিশ্বের সাথে আরও সরাসরি, মজবুত ও অর্থবহ সম্পৃক্ততা। বিশ্বে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক গড়ে উঠবে। ন্যাটোর প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। তবে অংশীদারদের অবশ্যই অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। সামরিক ব্যয়ের ন্যায্য অংশ তাদের দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আজ সাবেক শত্রুর বন্ধু। আমরা শান্তি চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য, গন্তব্য।
তিনি বলেন, ৯ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পালিত হবে। সে দিনটিতে দাঁড়িয়ে আমরা আজকের দিনটাকে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন হিসেবে দেখব। আমরা অনেক যুদ্ধ দেখেছি, এখন শান্তি চাই। ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিময় ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Category:

আরাকান এখনও ‘মগের মুল্লুক’

Posted on by 0 comment

উগ্রবাদীদের দমনের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জানমাল-সম্ভ্রমের ওপর হামলা মিয়ানমারের ভাবমূর্তিতেও কলঙ্ক লেপন করছে। মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কা-জ্ঞানহীন অভিযানের অবসান হওয়া উচিত।

27রাজীব পারভেজ: বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য অঞ্চলটি কয়েক দশক ধরেই আলোচিত। দেশটির সীমান্তে সম্প্রতি অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ৯ সদস্য। এর পরই সন্ত্রাসী ধরার নামে আরাকানে অভিযানের নাম করে হাজারও নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের বাড়িঘরে দেওয়া হয় আগুন, নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষকে। যা এখনও অব্যাহত। সীমান্তে হামলার জন্য স্থানীয় সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে অভিযুক্ত করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
রোহিঙ্গা কারা!
রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মিয়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং মংডু, কিয়ক্টাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা এলাকায় এদের বাস। বর্তমান মিয়ানমারের রোহিং (আরাকানের পুরনো নাম) এলাকায় এই জনগোষ্ঠীর বসবাস। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস, মগ ও রোহিঙ্গা। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগের মুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে মগদের। একসময় তাদের দৌরাত্ম্য ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।
বার্মিজদের দখল
১৭৮৫ সালে বার্মিজরা আরাকান দখল করে। এরপর ১৭৯৯ সালে ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ বার্মিজদের গ্রেফতার এড়াতে এবং আশ্রয়ের নিমিত্তে আরাকান থেকে নিকটবর্তী চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলে আসে। বার্মার শোষকরা আরাকানের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং একটা বড় অংশকে আরাকান থেকে বিতাড়িত করে মধ্য বার্মায় পাঠায়। যখন ব্রিটিশরা আরাকান দখল করে তখন যেন এটি ছিল একটি মৃত্যুপুরী। ১৭৯৯ সালে প্রকাশিত ‘বার্মা সা¤্রাজ্য’তে ব্রিটিশ ফ্রাঞ্চিজ বুচানন-হ্যামিল্টন উল্লেখ করেন, ‘মুহাম্মদ (স.)-এর অনুসারীরা’, যারা অনেকদিন ধরে আরাকানে বাস করছে, তাদের ‘রুইঙ্গা’ বা ‘আরাকানের অধিবাস’ বলা হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, কৃষি কাজের জন্য আরাকানের কম জন-অধ্যুষিত এবং উর্বর উপত্যকায় আশপাশের এলাকা থেকে বাঙালি অধিবাসীদের অভিবাসন করার নীতি গ্রহণ করেছিল ব্রিটিশরা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাকে আরাকান পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিল। আরাকান ও বাংলার মাঝে কোনো আন্তর্জাতিক সীমারেখা ছিল না এবং এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধও ছিল না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জাপানিদের দখল
১৯৪২ সালের ২৮ মার্চ, মিয়ানমারের মিনবিয়া এবং ¤্রক-ইউ শহরে রাখাইন জাতীয়তাবাদী এবং কারেইনপন্থিরা প্রায় ৫ হাজার মুসলমানকে হত্যা করে। ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এতে উপ-কমিশনার ইউ য়ু কিয়াও খায়াং-ও নিহত হন, যিনি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জাপানিরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ বার্মায় আক্রমণ করে। ব্রিটিশ শক্তি পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যায়। ফলে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বৌদ্ধ রাখাইন এবং মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে ব্রিটিশপন্থিদের সাথে বার্মার জাতীয়তাবাদীদেরও সংঘর্ষ হয়। জাপানিদের আক্রমণের সময় উত্তর আরাকানের ব্রিটিশপন্থি অস্ত্রধারী মুসলমানদের দল বাফার জোন সৃষ্টি করে। রোহিঙ্গারা যুদ্ধের সময় মিত্রপক্ষকে সমর্থন করেছিল এবং জাপানি শক্তির বিরোধিতা করেছিল, পর্যবেক্ষণে সাহায্য করেছিল মিত্রশক্তিকে। জাপানিরা হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করেছিল। এই সময়ে প্রায় ২২ হাজার রোহিঙ্গা সংঘর্ষ এড়াতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলায় চলে গিয়েছিল। জাপানি এবং বার্মাদের দ্বারা বারংবার গণহত্যার শিকার হয়ে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে চলে আসে।
যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা
১৯৪৭ সালে রোহিঙ্গারা মুজাহিদ পার্টি গঠন করে, যারা জিহাদি আন্দোলন সমর্থন করত। মুজাহিদ পার্টির লক্ষ্য ছিল আরাকানে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তারা জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে ১৯৬২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। নে উইন তাদের দমনের জন্য দুই দশকব্যাপী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। উল্লেখযোগ্য একটি অভিযান ছিল ‘কিং ড্রাগন অপারেশন’, যা ১৯৭৮ সালে পরিচালিত হয়। ফলে অনেক মুসলমান প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বার্মিজ জান্তা
প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বার্মা শাসন করছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা বার্মিজ জাতীয়তাবাদ এবং থেরাভেদা বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে। আর এর ফলেই তারা রোহিঙ্গা, চীনা জনগোষ্ঠী যেমনÑ কোকাং, পানথাইদের (চীনা মুসলিম) মতো ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে ব্যাপকভাবে নির্যাতন করে থাকে। কিছু নব্য গণতন্ত্রপন্থি নেতা যারা বার্মার প্রধান জনগোষ্ঠী থেকে এসেছেন তারাও রোহিঙ্গাদের বার্মার জনগণ হিসেবে স্বীকার করেন না। বার্মার সরকার রোহিঙ্গা ও চীনা জনগোষ্ঠীর মতো ক্ষুদ্র জাতিসত্তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গার উসকানি দিয়ে থাকে এবং এই কাজ তারা অতি সফলতার সাথেই করে যাচ্ছে।
রাখাইনে ২০১২ সালের দাঙ্গা
মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে ২০১২ সালে সবচেয়ে বড় দাঙ্গা হয়। এতে প্রাণ যায় বহু মানুষের। জীবন বাঁচাতে তখনও বাংলাদেশে পালিয়ে আসে অনেক রোহিঙ্গা। অন্যান্য বার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ছাড়ার বিষয়ে কড়াকড়ি না করলেও এবার তারা রয়েছে সতর্কতায়। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা কড়া পাহারা দিচ্ছেন। যাতে কেউ পালাতে না পারে। অন্যদিকে চলছে গণহত্যা। সর্বশেষ কোনো হিসাব প্রকাশ না করলেও সপ্তাহখানেক আগে দেশটির সরকার বলেছে ৬৯ রোহিঙ্গা অভিযানে নিহত হয়েছে। আর আটক করা হয়েছে তিন শতাধিক। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি বলেই আভাস দিচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
রোহিঙ্গাদের ধর্ম
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মূলত ইসলাম ধর্মের অনুসারী। যেহেতু বার্মা সরকার তাদের পড়াশোনার সুযোগ দেয় না, তাই অনেকেই মৌলিক ইসলামি শিক্ষাকেই একমাত্র পড়াশোনার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ গ্রামেই মসজিদ এবং মাদ্রাসা (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষরা জামাতে এবং মহিলারা বাড়িতেই প্রার্থনা করে থাকে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় ‘বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রত্যাশিত জনপদ’ এবং ‘বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু’। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং দুটির বেশি সন্তান না নেওয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসারে, ১৯৭৮ সাল থেকে মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে এবং তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং তাদের অধিকাংশের বার্মার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাদের ওপর বিভিন্ন রকম অন্যায় ও অবৈধ কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জমি জবরদখল করা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা এবং বিবাহের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও উত্তর রাখাইন রাজ্যে গত দশকে বাধ্যতামূলক শ্রমিকের কাজ করা কমেছে, তারপরও রোহিঙ্গাদের রাস্তার কাজ ও সেনাক্যাম্পে বাধ্যতামূলক শ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে।
১৯৭৮ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘নাগামান’ (ড্রাগন রাজা) অভিযানের ফলে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সরকারিভাবে এই অভিযান ছিল প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেসব বিদেশি অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই সেনা অভিযান সরাসরি বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলছিল। ফলে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। ১৯৯১-৯২ সালে একটি নতুন দাঙ্গায় প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। তারা জানায়, রোহিঙ্গাদের বার্মায় বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদান করতে হয়। এ ছাড়া হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের স্বীকার হতে হয়। রোহিঙ্গাদের কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করতে হতো।
২০০৫ সালে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে; কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ
জাতিসংঘের ভাষ্যমতে, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হলো রোহিঙ্গারা। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া মানুষগুলো সেনাবাহিনী আর স্থানীয়দের নৃশংস হামলা থেকে জীবন বাঁচাতে ছুটছে সীমান্তে। কেউ কেউ রাতের আঁধারে বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে পৃথককারী নাফ নদী পার হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। তবে, এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
এই সংকট শুরুর পর থেকেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দিলে এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হবে না। এই সংকট সমাধান করতে হবে মিয়ানমারকে। আর এজন্য বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সাথে একাত্ম হয়ে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে বাধ্য করতে হবে মিয়ানমারকে। তবেই হবে এর সমাধান।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কিছু রোহিঙ্গা মানবিক কারণে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অনেকেই প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে আবার মিয়ানমারেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা করে যৌথভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া আর কোনো অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে নতুন করে নিবন্ধনের চিন্তা আপাতত নেই সরকারের।
যেসব দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত নেই, সেসব দেশে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেবেই দেবে। ধর্মান্ধতা, রক্ষণশীলতা, গোঁড়ামি প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে পাকিস্তানের আজকের নাজুক অবস্থা দৃশ্যমান। আমাদের দেশের মানবতা লঙ্ঘনকারী যুদ্ধাপরাধী ও তাদের প্রশ্রয়দাতারা অতি উৎসাহে রোহিঙ্গাদের পক্ষ নিয়ে জোরগলায় কথা বলছেন। যারা ১৯৭১ সালে মানবতা লঙ্ঘন করেছে, রাজনীতির ফায়দা হাসিল করার জন্য অগ্নিতে মানুষ জীবন্ত দগ্ধ করতে দ্বিধা করে না, তারা মানবতার দোহাই দিলে তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। বিএনপি দিশাহারা হয়ে পরস্পর-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ সম্পর্কে।
এটি ঠিক মিয়ানমার বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের সাথে আমাদের অনেক অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তবুও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ চুপ থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টা জাতিসংঘের নজরে আনতে হবে। বাংলাদেশ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা সমস্যার মীমাংসা করেছে। এ সমস্যারও সমাধান হবে, তা মানুষ আশা করতেই পারে। এটি যত না গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মিয়ানমারের জন্য। এর ব্যত্যয় ঘটলে একটি নতুন গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের অভ্যুদয় অধরাই থেকে যাবে।
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সেনা অভিযানের ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দলে দলে পালাচ্ছেন। অনেকেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিজিবি সদস্যরা মিয়ানমার সীমান্তে তীক্ষè নজর রাখলেও অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ক্ষেত্রে কতটা সাফল্য অর্জিত হবে, তা নিশ্চিত নয়। সমস্যাটা মানবিক হলেও দুটি কারণে বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশে আগে থেকেই অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
পরিশেষে বলা যায়, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সক্রিয় হলে একদিকে যেমন জাতিগত সংঘাতের ইতি ঘটানো সম্ভব, তেমনি বাংলাদেশও রক্ষা পাবে অনাকাক্সিক্ষত সমস্যা থেকে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান শুধু অমানবিক নয়, অবিবেচনাপ্রসূত বললেও কম বলা হবে। আমরা রোহিঙ্গাদের এক ক্ষুদ্র অংশের জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদচর্চার বিরোধী। তবে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায়, সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে তাদের দূরতম সম্পর্কও নেই। উগ্রবাদীদের দমনের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জানমাল-সম্ভ্রমের ওপর হামলা মিয়ানমারের ভাবমূর্তিতেও কলঙ্ক লেপন করছে। মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কা-জ্ঞানহীন অভিযানের অবসান হওয়া উচিত। উগ্রবাদীদের পায়ের তলার মাটি কেড়ে নিতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে মিয়ানমার সরকার আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলবেÑ এই আশাবাদ রইল।

Category:

সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

54

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাম্পকে সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাম্পকে সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

উত্তরণ ডেস্ক : গণমাধ্যমের জরিপ ও সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে অবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৯ নভেম্বর ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। এতে বিপুল জয় পান ট্রাম্প। কোনো প্রার্থীর জয়ের জন্য ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে দরকার ছিল ২৭০ ভোট। কিন্তু মোট ২৯০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন পান ২১৮ ইলেক্টোরাল ভোট। পরাজয় মেনে নিয়ে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান হিলারি। নির্বাচনে জয়ের পর এক র‌্যালিতে সব মার্কিনীর প্রেসিডেন্ট হওয়ার অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেবেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট পদের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা। রিপাবলিকানদের এই ভূমিধস বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বহু শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। দর বেড়েছে শুধু রুশ শেয়ারবাজারের। পড়ে গেছে মেক্সিকোসহ কয়েক দেশের মুদ্রার মান। পেশোর দাম কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ পর্যায়ে পৌঁছে।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকার মাটিতে থাকা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি নথিবিহীন অভিবাসীকে দেশত্যাগে বাধ্য করবেন তিনি।
ট্রাম্পের জয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বনেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাম্পকে সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের চির প্রতিদ্বন্দ্বী রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্পকে। তিনি দুদেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক সংলাপ’ প্রত্যাশা করেছেন। দুদেশের সম্পর্কের উন্নয়নে তিনি ট্রাম্পের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগেরিনি বলেন, ট্রাম্পের জয়ের পর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র একসাথে কাজ করে যাবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক আশা করেন। জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রেসিডেন্টকে। তিনি আশা করেন, এর মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বহাল থাকবে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইদিরিম, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠন হামাস, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুর্তেতে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ট্রাম্পের জয়ে বিশ্ব একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোটারের মধ্যে ৫৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রিপাবলিকান ট্রাম্প আলাবামায় ৯, আরকানসাসে ৬, ফ্লোরিডায় ২৯, জর্জিয়ায় ১৬, আইডাহোতে ৪, ইন্ডিয়ানায় ১১, আইওয়াতে ৬, কানসাসে ৬, কেনটাকিতে ৮, লুইজিয়ানায় ৮, মিসিসিপিতে ৬, মিসৌরিতে ১০, মন্টানায় ৩, নেব্রাস্কায় ৫, নর্থ ক্যারোলিনায় ১৫, নর্থ ডাকোটায় ৩, ওহাইওতে ১৮, ওকলাহোমায় ৭, সাউথ ক্যারোলিনায় ৯, সাউথ ডাকোটায় ৩, টেনেসিতে ১১, টেক্সাসে ৩৮, ইউটাহতে ৬, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৫ এবং ওয়াইওমিংয়ে ৩টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৫, কলোরাডোতে ৯, কানেটিকাটে ৭, ডেলাওয়ারে ৩, হাওয়াইতে ৪, ইলিনয়ে ২০, মেরিল্যান্ডে ১০, ম্যাসাচুসেটসে ১১, নিউজার্সিতে ১৪, নিউ মেক্সিকো ৫, নিউইয়র্কে ২৯, অরেগনে ৭, রোড আইল্যান্ডে ৪, ভারমন্টে ৩, ভার্জিনিয়ায় ১৩, ওয়াশিংটনে ১২ ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পান।
ভোটের প্রাথমিক ফল প্রকাশের শুরু থেকেই ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে লড়াই চলছিল। তবে পরে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়, হোয়াইট হাউসের উত্তরসূরি হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগেই হিলারির সমর্থকদের মুষড়ে পড়তে দেখা যায়। কাঁদতে দেখা যায় অনেক সমর্থককে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু দিকে বেশির ভাগ জরিপেই এগিয়ে ছিলেন হিলারি। তবে নির্বাচনের দিন কয়েক আগে হিলারি-ট্রাম্প হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মেলে। একপর্যায়ে দু-একটি জরিপে এগিয়েও যান ট্রাম্প। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষকের রায় ছিল হিলারির পক্ষেই। কিন্তু সব হিসাব উল্টে দিয়ে অবিশ্বাস্য চমক দেখালেন ট্রাম্প।
২০১৫ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানোর পরপরই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ধনকুবের ট্রাম্প। ওই সময়েই মেক্সিকানদের ‘ধর্ষক ও সন্ত্রাসী’ বলে আলোচনায় চলে আসেন। ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন ট্রাম্প দলের সবচেয়ে বড় দাতা ও তহবিল সংগ্রাহকে পরিণত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি অনুসারী আছে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন হারালেও ট্রাম্পের আশ্চর্যজনক বড় শক্তি ছিল শ্রমিক অধ্যুষিত শহর এবং ছোট কাউন্টিগুলো। হিলারি ফ্লোরিডার হিস্পানিক ভোটারদের বড় সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডার বড় মহানগরী এলাকার ভোটে জয়ী হয়েছেন ট্রাম্প। তিনি পেনসিলভানিয়ার খনি শ্রমিক অধ্যুষিত কাউন্টি ও মধ্য-পশ্চিম শিল্প এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। একসময় ডেমোক্র্যাটিক ঘাঁটি বলে পরিচিত কিছু এলাকাতেও জয়ী হয়েছেন তিনি। এসব গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ট্রাম্প। ভোটে ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ ভোটার, পুরুষ ও কলেজ ডিগ্রি নেই এমন ভোটারদের সাথে জোট করেছেন। অন্যদিকে হিলারির ভোটারদের মধ্যে রয়েছে নারী, সংখ্যালঘু ও কলেজ গ্র্যাজুয়েটরা। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিনীদের প্রায় ৮৮ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ হিলারিকে সমর্থন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন ভোরে বার্কলে ও ওকল্যান্ড শহরে কয়েকশ মানুষ রাস্তায় নেমে ‘ট্রাম্প আমার প্রেসিডেন্ট নয়’ বলে স্লোগান দেয়। পিটসবার্গ, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড ও ওরেতেও বিক্ষোভ হয়। পেনসিলভেনিয়া থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন থেকে ওয়াশিংটন স্টেটÑ সব জায়গায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
– অনিল সেন

Category:

বিশ্বজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, বিপন্ন মানবতা

Posted on by 0 comment

অনিল সেন:

49সন্ত্রাসী হামলায় আবার রক্তাক্ত ফ্রান্স : নিহত ৮৪
আট মাসের মাথায় আবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হলো ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসের পর এবারের ঘটনাস্থল ভূমধ্যসাগর তীরের নয়নাভিরাম অবকাশ শহর নিস। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ এই ঘটনাকে ‘অনস্বীকার্য সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্স।
গত ১৪ জুলাই রাতে বাস্তিল দিবসের আতশবাজির প্রদর্শনী দেখে ঘরে ফিরছিল হাজারও মানুষ। তাদের ওপর আচমকা ঝড়ো গতিতে একটি ভারী ট্রাক তুলে দেন এক যুবক। পিষে ফেলেন অনেক মানুষকে। গুলিও ছুড়ছিলেন ওই চালক। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। ট্রাকটিও থেমে যায়। এই হামলায় নিহত হন ৮৪ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক। হামলাকারীর নাম মোহাম্মদ লাউইজ বুলেল (৩১)। তিনি তিউনিসীয় নাগরিক, তবে বৈধভাবেই নিস শহরে বসবাস করতেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালস বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি একজন ‘সন্ত্রাসী’ ছিলেন। ইসলামি কট্টরপন্থার সাথে তার যোগসাজশ ছিল।
ফ্রান্সে গত দেড় বছরে এটি বড় ধরনের তৃতীয় সন্ত্রাসী হামলা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই ‘সন্ত্রাসী’ হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দেন। ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা এবং মৌলিক রাষ্ট্রীয় আদর্শ ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের’ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে প্রতিবছর ১৪ জুলাই জাতীয় দিবস পালন করে ফ্রান্স। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের বাস্তিল দুর্গ গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। সে কারণেই দিনটি বাস্তিল দিবস হিসেবে পরিচিত। ফরাসি মূল্যবোধের ওপর আঘাত করাই এই দিনে হামলার উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ।
প্যারিস হামলার ক্ষত এখনও শুকায়নি। আট মাস আগে গত ১৩ নভেম্বর সেখানে উপর্যুপরি কয়েকটি জঙ্গি হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল ফরাসি সরকার। তার মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়। সেই জরুরি অবস্থা বহাল থাকা অবস্থায়ই পর্যটন শহর হিসেবে খ্যাত নিসে হামলা হলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, পোপ ফ্রান্সিস, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার নিন্দা জানান। এ ছাড়া নিন্দায় সোচ্চার ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, স্পেন ও সুইডেন। প্যারিস হামলার পর জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বলেছে, ফ্রান্সসহ যেসব দেশ তাদের বিরুদ্ধে ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধ চালাচ্ছে, সেখানে হামলার ওপর জোর দেবে তারা। ইরাকের সরকারি এবং কুর্দি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আইএস-বিরোধী জোটের হয়ে বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে ফ্রান্স। ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের দমনের লক্ষ্যে আফ্রিকায়ও সেনা পাঠিয়েছে দেশটি। এর আগে এ কথা উল্লেখ করে আফ্রিকাসহ অন্যত্র ফরাসি স্বার্থের ওপর জঙ্গি হামলা হয়েছে।
তবে নিসে হামলার পরও ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে অনমনীয় থাকার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে আমরা আরও জোরদার কার্যক্রম চালাব। আমরা এ দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠবই। কারণ, আমাদের দেশ ঐক্যবদ্ধ। ফ্রান্সেই মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাদের বেশির ভাগই আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসী। তাদের বড় অংশ সামাজিক ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর এবং মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। ফ্রান্সে ইসলামি জঙ্গিবাদের বিস্তারের জন্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই পশ্চাৎপদতা ও বিচ্ছিন্নতার বোধ অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা : ১০৪ সেনাসহ নিহত ২৯০
তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেনাবাহিনীর একাংশ গত ১৫ জুলাই রাতে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে রাস্তায় নামে। তবে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আহ্বানে হাজারও মানুষ রাজপথে নেমে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যদের সাথে রাজপথে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্য ১০৪ জন। অন্যরা পুলিশ ও বেসামরিক লোক। আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩ হাজার সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম সেদিন বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টার সমাপ্তি ঘটেছে। বিদ্রোহ পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। বরখাস্ত করা হয়েছে ৫ জেনারেল ও ২৯ কর্নেলকে। অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারী হিসেবে সেনাবাহিনীর তৃতীয় ডিভিশনের কমান্ডার জেনারেল এরদাল ওজতুর্ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। তার সাথে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক ভালো বলেই ধারণা করা হতো। তবে ভিন্নমত দমন, ইসলামপন্থি বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে তিনি সেনাবাহিনীসহ অনেকের কাছে অজনপ্রিয় হয়েছেন।
রাজধানী আঙ্কারা ও প্রধান শহর ইস্তাম্বুলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরদোয়ান তখন ছিলেন রাজধানী থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে। অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যরা আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটি দখল করে সেখান থেকে ‘গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার’ লক্ষ্যে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া সামরিক আইন ও সান্ধ্য আইন জারি করেন। জনগণকে ঘরে থাকতে আহ্বান জানান এবং পুরো পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
অভ্যুত্থান চেষ্টা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সিএনএনের তুর্কি ভাষার চ্যানেলে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনের ফেসটাইটম অ্যাপের মাধ্যমে চ্যানেলে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। এতে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে ‘গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান’ প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান। এরপর থেকেই দাবার ঘুঁটি উল্টে যেতে থাকে। সাধারণ মানুষ ও এরদোয়ানের দলের সদস্য ও সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসতে থাকেন। তারা দেশের জাতীয় পতাকা হাতে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে দেন। প্রথম দিকে সেনাসদস্যরা জনতার দিকে অস্ত্র তাক করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে থাকেন। বিভিন্ন জায়গায় জনতার সহায়তায় অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় কয়েক স্থানে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে অভ্যুত্থানকারীদের মারধর করে জনতা। পরিস্থিতি যখন প্রায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে অবস্থানকারী সেনাসদস্যদের ঘেরাও করে জনতা। পুরো বিমানবন্দর তখন জনতার নিয়ন্ত্রণে। সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেন এবং তার অনুগত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী করেন এরদোয়ান।
এবারের সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার আগে অন্তত চারবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে তুরস্কে। এর মধ্যে ১৯৬০, ১৯৭১ ও ১৯৮০ সালে তিন দফা অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করেছিল এবং সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বিভিন্ন ‘প্রস্তাব’ দিয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত ও তার দলকে নিষিদ্ধ করে।
মিউনিখ হামলায় নিহত ১০
জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। ২২ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মিউনিখের এই শপিং সেন্টারে এ হামলা চালায় ইরানি বংশোদ্ভূত এক তরুণ। হামলাকারী তরুণের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও পরে তারা নিশ্চিত হন। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এফপি।
পুলিশ হিউবার্টাস আন্ড্রেই জানান, হামলাকারী সম্ভবত নিজের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার না করলেও আইএস উল্লাস প্রকাশ করেছে। পুলিশও হামলায় কারা জড়িত সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের খোঁজে মিউনিখজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ।
জার্মানিতে চার দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় হামলা। গত ১৮ জুলাই আফগান এক তরুণ দেশটির বাভারিয়ায় একটি ট্রেনে কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। এতে ট্রেনের ৪ যাত্রী আহত হন। ঠিক চার দিন পর এবার হামলা মিউনিখের শপিং সেন্টারে। শপিং সেন্টার থেকে কমপক্ষে ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হন। এদের মধ্যে শিশু ও কিশোর রয়েছে। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর মৃতদেহও রয়েছে বলেও দাবি করেছে জার্মান পুলিশ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, কমপক্ষে তিন হামলাকারী মিউনিখের ওই শপিং সেন্টারে হামলা চালায়। কিন্তু পরে জানানো হয়, পিস্তল নিয়ে হামলা করে এক তরুণ। হামলার পর সে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে। সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃতদেহটি পাওয়া যায় অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারের প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে। তার সাথে একটি লাল ব্যাকপ্যাক ছিল।
কাবুল হামলায় নিহত ৬১
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলায় নিহত হয়েছেন ৬১ জন এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনটির কথিত বার্তা সংস্থা আমাক জানিয়েছে, আইএসের দুই যোদ্ধা বিস্ফোরক বেল্ট পরে শিয়াদের সমাবেশে আত্মঘাতী হামলা করেছে। কাবুলের দেহ মাজাং স্কয়ারে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের দাবিতে সংখ্যালঘু হাজারা জাতিগোষ্ঠীর হাজারও মানুষ জড়ো হয়েছিল। হাজারা অধ্যুষিত এলাকা এড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন চলে যাওয়ায় মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছিল। উল্লেখ্য, হাজারারা মূলত শিয়া মুসলিম।
তালেবান এই হামলার নিন্দা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইলে বলেছে, তারা এই হামলা করেনি। বিবিসি।

Category:

দুদেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রার সূচনা

Posted on by 0 comment
62

শেখ হাসিনার সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ সফর

উত্তরণ প্রতিবেদন: ঢাকা-রিয়াদের মধ্যে নতুন মাত্রার সূচনা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে একজোট হয়ে কাজ করার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ। এ ছাড়া সৌদি আরবের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরাল হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা।
সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ থেকে ৭ জুন পাঁচ দিনব্যাপী সৌদি আরব সফর করেন। সৌদি আরব সফরকালে বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয় আলোচনা হয়েছে। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের মধ্য দিয়ে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
আশির দশক থেকেই বাংলাদেশের ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সৌদি আরবের সখ্য গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের কারণেই যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে সৌদি আরবে জোর তৎপরতা চালিয়ে আসছিল জামাতে ইসলামী। বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখার জন্য সৌদি আরবের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছিল দলটি। তবে এই সফরের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হলো, জামাতের প্রতি মনোভাব পাল্টে গেছে সৌদি আরবের।
উইকিলিকসের প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে একাধিকবার জামাতে ইসলামী সৌদি আরবের হস্তক্ষেপ আশা করেছিল। এ ছাড়া রাজনৈতিক সংকট সমাধানে বিএনপিও সৌদির মধ্যস্থতা চেয়েছিল। তবে সৌদি আরব তাতে সাড়া দেয়নি।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেছেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে এ মুহূর্তে গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে। অতীতে কখনও আমরা এত ভালো সম্পর্ক দেখি নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সৌদি বাদশাহর পক্ষ থেকে দেওয়া সম্মানে আমরা অভিভূত। প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি বাদশাহর ব্যক্তিগত জেট ৭৪৭ দিয়ে মদিনা শরিফে নিয়ে যাওয়া হয়। এটা একটা বিরল সম্মান বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরকালে সেদেশে শ্রমবাজার উন্মুক্তের বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য দেয় বাংলাদেশ। কেননা সৌদি আরবে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছে। দেশটিতে শ্রমবাজারে আধা দক্ষ ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ সৌদিতে আরও বেশি হারে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়। দেশটির শ্রমমন্ত্রী মুফরেজ বিন সাদ আল হাকবানির সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও ৫ লাখ জনশক্তি নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। এ ছাড়া বাংলাদেশের কর্মীদের ব্যাপক প্রশংসাও করেছেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক ছাড়াও চিকিৎসক, শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
সৌদি আরব সফরকালে ৫ জুন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠকে সৌদিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সন্ত্রাস প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেছেন দুই নেতা। ইসলাম ধর্মের নামে বিভিন্ন দেশে দেশে যারা সন্ত্রাসবাদ কায়েম করছে, তাদের প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ প্রভাবশালী দেশ হিসেবে বিবেচিত। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব। তাদের পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যকোনো দেশ সাধারণত কিছু করতে পারে না। তাই বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের গভীর সম্পর্কের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও বাংলাদেশের প্রভাব বাড়বে বলে আশা করছেন কূটনীতিকরা।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে আইএস বিরোধী সামরিক জোটের বিষয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ। আইএসবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব একযোগে কাজ করবে। আইএসবিরোধী জোটে থেকে সন্ত্রাস প্রতিরোধে ইনফরমেশন বিনিময়, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কাজে যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ মুহূর্তেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, সৌদি আরবে পবিত্র মসজিদ রক্ষার জন্য অতীতের মতো ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সৌদি জোটে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ায় সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গত বছর শেখ হাসিনাকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। ওই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই সৌদি আরব সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের মধ্য দিয়ে সেখানকার শ্রমবাজার, বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহযোগিতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েও সফর হয়েছে। এবারের সফরের সময়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক হওয়ার জন্য একটি চুক্তিও সই হয়েছে।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বিন আল জুবায়েরের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন মাহমুদ আলী। সে সময় দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। সৌদি আরবে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সে অনুযায়ী গত ৩ থেকে ৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব সফর করেন।
উল্লেখ্য, সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরবের বাদশা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সৌদি আরব সফর। এর আগে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী সরকার গঠনের পর ওই বছরই এপ্রিল মাসে সৌদি আরবে সরকারি সফর করেন। সে সময় প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহর সাথে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। তারই ধারাবাহিকতায় সৌদি সরকার পরবর্তীকালে সেদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য ইকামা পরিবর্তন ও অবৈধ শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমার লক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এবার প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিনিধি দলে ছিলেন। এ ছাড়া ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সৌদি আরব সফর করেন।

Category: