Blog Archives

শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর

36উত্তরণ ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করতে আগামী বছরের শুরুতে ঢাকায় ইউএই দূতাবাসে একজন শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান গত ২৬ অক্টোবর আবুধাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ তথ্য জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির বাজার পুনরায় উল্লেখযোগ্য হারে শুরুর আভাস মিলেছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের অপরাধমূলক কর্মকা- বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালের আগস্ট থেকে দেশটিতে জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ইউএইতে নারী কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে গত ২৬ অক্টোবর শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করে দেশটির ১৪টি পেশায় প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
তিন দিনের ইউএই সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে দেখা করেন দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর পায়রায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পোর্ট ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগে বাধা দূর করতে ইউএইর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব-আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল বাধা দূর করতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ অক্টোবর দুবাইয়ে জাবেল প্যালেসে ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান। এদিকে, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান
ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিক নিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও চট্টগ্রামে টেকনাফ থেকে মিরেরসরাই পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ম্যারিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইউএইর উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমিকরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছে। জবাবে মাকতুম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুবই আন্তরিক ও কর্মঠ উল্লেখ করে ইউএইর প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু জটিলতা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিলতা নিরসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর সম্পদে ভরপুর সামুদ্রিক এলাকাগুলোতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
৩ চুক্তি স্বাক্ষর
২৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, দ-িত বন্দিবিনিময় এবং ঢাকায় ইউএই দূতাবাস নির্মাণে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দুই চুক্তি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইউএইর অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং অন্য চুক্তিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তির আওতায় উভয় দেশ আলোচনার মাধ্যমে আসামি হস্তান্তর করতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি আছে, এক্ষেত্রেও সেভাবেই হয়েছে। এটি একটি মানবিক চুক্তি, উভয় দেশের স্বার্থই রক্ষিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুসমর্থনের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে বলেও জানান তিনি। অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তিটি করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার রোধে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য। উভয় দেশের আস্থার পরিবেশ উন্নতিতে এ দুটি চুক্তি হয়েছে।
সমুদ্রসীমা বিরোধ নিরসনে হাসিনার প্রশংসায় ম্যার্কেল
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল।
গত ১৬ অক্টোবর ইতালির মিলানে দশম আসেম সম্মেলন শুরুর আগে এক বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রশংসা করে জার্মান চ্যান্সেলর এই মন্তব্য করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব বিজন লাল দেব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্মেলন শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন জার্মান চ্যান্সেলর।
বৈঠকে শেখ হাসিনা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ম্যার্কেলের কাছে তুলে ধরেন। ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ২২৬ শতাংশ বাড়ানোর কথাও বাংলাদেশের পোশাকের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ইউরোপের দেশটির সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন তিনি।
জার্মান চ্যান্সেলর সরকারের এই পদক্ষেপগুলোতে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে বিজন লাল দেব জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থিতিশীলতা নিয়ে নিজের সন্তোষের কথাও তুলে ধরেন ম্যার্কেল। আসেম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খা ছিয়াং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল বলখিয়াহর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।
গ্রিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : আসেম সম্মেলনের ফাঁকে ১৬ অক্টোবর গ্রিক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও সামারাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, টানা দুই মেয়াদে এবং মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আন্তোনিও সামারাস। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের প্রশংসাও করেন।

Category:

গড়ে তোলা হচ্ছে দেশব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক

Posted on by 0 comment

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
57দেশব্যাপী একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোকে কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মজবুত অবকাঠামো। স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করছে বর্তমান সরকার। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের ৩২তম সভা এবং আঞ্চলিক কমিটির ৬৭তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং ও ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন দিক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পরই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জনগণের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ সুগম করি। প্রণয়ন করা হয় যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি। এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ, রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আর চালু করা হয়েছে ই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের স্তরগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, টারসিয়ারি ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং উভয়মুখী রেফারেন্স পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি, যা বিশ্বে অনন্য। এজন্য বাংলাদেশ ২০০১ সালে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার মজবুত অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সকল পর্যায়ের হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। নির্মাণ করেছি নতুন নতুন জেনারেল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। সরকার নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ এবং নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে। আর ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি বিভাগেই জনবল বাড়ানো হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিকল্পিত পরিবার নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সার্বিক কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হলে সন্তানও স্বাস্থ্যবান হয়। এভাবেই সুস্থ জাতি গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। তাই নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জীবনমান সহায়ক নানামুখী সেবা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতিসংঘের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্ব কৌশলপত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা দেশব্যাপী মা ও শিশুর নিবিড় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের ‘কমিশন অন ইনফরমেশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অন উইমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হেলথ’-এর ১১টি সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই ইলেকট্রনিক নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নি¤œআয়ের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ফলে দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশে পোলিও ও কুষ্ঠরোগ নির্মূল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যানথ্রাক্স, নিপাহ, ডেঙ্গু ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আর সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি, অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছি। আর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি গতিশীল ওষুধশিল্প গড়ে উঠেছে। দেশে ওষুধের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশই দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে সরকার। দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও সেবা প্রদানের মাত্রার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ শতাংশ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রতিমাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। দেশে অনূর্ধ্ব ১২ মাস বয়সের শিশুদের সকল টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ শতাংশ। অনূর্ধ্ব ৫ শিশুর কম ওজন হার ১৯৯০ সালের ৬৬ শতাংশের তুলনায় হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ৩৬.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অনূর্ধ্ব ৫ শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৭১ শতাংশ কমে এমডিজি ৪ অর্জিত হয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের প্রতিলাখে জীবিত জন্মে ৫৭৪ থেকে কমে ১৯৪ হয়েছে। ৪৫ শতাংশ এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ এআরভি পাচ্ছে। ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পাচ্ছে এবং ৮০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নে সরকারের সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভূয়সী প্রশংসা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবায় অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একত্রিত হয়ে কাজ করলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় আমরা জয়ী হতে পারব। সুস্বাস্থ্য বিলাসিতা নয়, এটি একটি বিনিয়োগ।

Category:

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অঙ্গীকার

Posted on by 0 comment

৩৬ দফা যৌথ ইশতেহার

53নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে (জেসিসি) বৈঠকের যৌথ ইশতেহারে তিস্তা ও ফেনীর পানি বণ্টনের পাশাপাশি দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার কথা উঠে এসেছে। বাণিজ্য বাড়াতে আরও সক্রিয় হওয়ার অঙ্গীকারও করেছে দুই দেশ। দুই দেশ একমত হয়েছে নতুন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে। ট্রানজিটের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগাম কোনো অঙ্গীকার স্থান পায়নি ৩৬ দফার ওই যৌথ ইশতেহারে।
প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম ‘যৌথ পরামর্শ কমিশনের’ (জেসিসি) তৃতীয় বৈঠক গত ২০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির নেহেরু ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জেসিসি বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট দুই দেশ। উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের জেসিসি বৈঠকে অংশগ্রহণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি আনবে। সিদ্ধান্ত হয় ঢাকা ও দিল্লির জ্বালানি, বাণিজ্য ও নৌ পরিবহন সচিবরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন। সমুদ্রসীমা মামলার রায়ের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তিকে স্বাগত জানান উভয় দেশ। এতে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসম্পদ আহরণে সহযোগিতার পথ খুলেছে বলে মন্তব্য করা হয় যৌথ ইশতেহারে।
তিস্তা ও পানি ব্যবস্থাপনা : তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জন্য উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়েছে এবারের জেসিসি বৈঠকে। ভারতের প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ক্ষতিকর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে আগের প্রতিশ্রুতি পুনরায় জানিয়েছে ভারত। এজন্য ৩৮তম জেআরসি বৈঠকের জন্য উভয়ের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টিপাইমুখ হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রকল্প বিষয়ে গঠিত জেআরসির সাব-গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
সীমান্ত হত্যা ও ব্যবস্থা : সীমান্ত চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়, ১৯৭৪ এর চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরিত প্রটোকলের ভারতীয় অনুসমর্থন প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্ত সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। সীমান্ত হত্যা সম্পর্কে ইশতেহারের আরেক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে ভারতের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এ সংখ্যা অবশ্যই শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে বলে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে বাকি থাকা বেড়া দেয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা এবং ‘যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্ল্যান’ (সিবিএমপি) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও একমত হয়েছে ঢাকা ও দিল্লি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী মাস অক্টোবর থেকে নিয়মিত দুই দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ডিসি ও ডিএমরা বৈঠক করবেন এবং আগামী বছরের শুরুতে ভারতে সীমান্ত এলাকার সব জেলা প্রশাসক (বাংলাদেশ) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারত) নিয়ে কনফারেন্স আয়োজন করা হবে। ফুলবাড়ি-বাংলাবান্ধা বন্দর ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ভারত।
নিরাপত্তা : নিরাপত্তা সংক্রান্ত অধিকতর সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায় ভারত। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূ-খ- ব্যবহার করে অন্য দেশে বিশেষত ভারতে কোনো জঙ্গি তৎপরতা চালানোর সুযোগ থাকবে না বলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ : বাণিজ্য সম্পর্কে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে বিদ্যমান প্যারা-ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই তালিকা পর্যালোচনা করতে ভারত রাজি হয়েছে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক জোন’ স্থাপনের কথা প্রস্তাব করেছে ঢাকা। নয়াদিল্লি একে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০১৫-এর মার্চে শেষ হতে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি পুনঃস্বাক্ষরের জন্য আলোচনা শুরুর। এ ছাড়া উভয় দেশের স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সমন্বিত চেকপোস্টগুলোর কর্মঘণ্টা ও দিবস পুনর্বিন্যাসের। কারণ, এখন দুই দেশের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাত দিনের মধ্যে তিন দিনই বন্ধ থাকে বাণিজ্য। তেগামুখ-দেমাগিরি এবং সাবরুম-রামগড়ে নতুন স্থল শুল্ক স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুল্ক বন্দরগুলোতে থাকা পণ্যের তালিকা পর্যালোচনা করবে ভারত। বাংলাদেশের বিএসটিআই ও ভারতের বিআইএস-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেট ও ল্যাবের একটি তালিকা ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন ৪টি সীমান্ত হাট স্থাপনের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে আরও ৪টি সীমান্ত হাট অনুমোদন করা হয়েছে। আরও সীমান্ত হাট স্থাপনের জন্য প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় ঋণ প্রস্তাব : লাইন অব ক্রেডিট হিসেবে ভারতের দেওয়া ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের প্রায় ৭৫২ মিলিয়নের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ঋণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ট্রানজিট ও কানেকটিভিটি : ট্রানজিটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগাম কোনো অঙ্গীকার স্থান পায়নি যৌথ ইশতেহারে। ত্রিপুরায় খাদ্য পরিবহনের সুযোগের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারত। বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকলের আওতায় সাশ্রয়ী নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ আছে। কোস্টাল শিপিংয়ের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ নিয়ে আগামী অক্টোবর মাসে ঢাকা নৌ পরিবহন সচিবদের বৈঠক ও পরীক্ষামূলক বাংলাদেশ-ভারত জাহাজ চলাচলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রানজিটের প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারত বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে বৈঠকে। ইশতেহারের একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আশুগঞ্জে অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দরের ডিটেইল প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে রেল কন্টেইনার ডিপোর ডিপিআর তৈরিও ভারত সরকার শুরু করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আখাউড়া-আশুগঞ্জ রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ নিয়েও আলোচনা করেছেন। অন্য আরেকটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, উভয় দেশ জল বিদ্যুৎ, পানি ব্যবস্থাপনা ও কানেকটিভিটি বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। বিসিআইএম’র অর্থনৈতিক করিডোর ও বিমসটেক সচিবালয়ের বিষয়ে আশাবাদী দুই দেশ।
জ্বালানি সহযোগিতা : বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতার বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হয়েছে। সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে জ্বালানি বিষয়ে জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্যাপিং পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারতের উত্তরাংশ থেকে অন্য অংশে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য পরিকল্পনা নিতে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ছয় মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা স্টিয়ারিং কমিটিকে দিয়েছে জেসিসি। ইশতেহারে বলা হয়েছে, রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাওয়া কোম্পানির কাজে সন্তুষ্ট জেসিসি। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের প্রস্তাবে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত।
নতুন খাত : বাংলাদেশ ও ভারত সমুদ্রসম্পদ আহরণের জন্য ব্লু ইকোনমিসহ বেশ কিছু নতুন খাতে সহযোগিতায় একমত হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মেরিটাইম, মৎস্য, সমুদ্র বিজ্ঞান, জোতির্বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্য, পাট ও বস্ত্র খাতে নতুন সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
জনগণের মধ্যে যোগাযোগ : দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ঢাকা-শিলং বাস সার্ভিস, মেত্রী এক্সপ্রেসে এসি কোচ সংযোজন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে মেত্রী এক্সপ্রেস সপ্তাহে দুবারের স্থানে তিনবার চলাচল করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে ইয়ুথ ডেলিগেশন হিসেবে ১০০ তরুণ যাবে ভারতে।
প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধি : বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে, শিক্ষক, কাস্টমস, নির্বাচন কমিশন ও রাজস্বের কর্মকর্তাদের ভারতে আইটিইসিতে প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা, বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সঙ্গে ভারতের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেসিসি। সিদ্ধান্ত হয়েছে উভয় দেশে কূটনীতিকের সংখ্যা বাড়ানোর।

Category:

বিমসটেক সচিবালয় উদ্বোধন সহযোগিতার নবযাত্রা

Posted on by 0 comment

51ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের’ (বিমসটেক) স্থায়ী সচিবালয় উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সচিবালয় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অংশীদারিত্বের এক অনবদ্য প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমসটেকের কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশে কোনো আঞ্চলিক জোটের প্রধান কার্যালয় হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিমসটেকের সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। সকালে বিমসটেকের সচিবালয়ে পৌঁছেই তিনি ফলক উন্মোচন করেন। এরপর বক্তৃতা শেষে তিনি চার টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের ডেটা কার্ড অবমুক্ত করেন। এগুলো উদ্বোধনী দিন থেকেই জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে বিক্রি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিমসটেকের মহাসচিব সুমিত নাকান্দালা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বক্তব্য রাখেন।
ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিমসটেক প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অন্যতম ক্ষেত্র। সংস্থাটি এ অঞ্চলের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে এক অনন্য প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
১৯৯৭ সালের ৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিআইএসটি-ইসি) গড়ে তোলা হয়। সে বছরই মিয়ানমার সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এর নতুন নাম হয় বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন (বিআইএমএসটি-ইসি)। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ও ভুটান সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে এই জোটের নাম হয় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক)। ১৯৯৭ সালে সহযোগিতার ৬টি ক্ষেত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে আরও ৮টি নতুন ক্ষেত্র যোগ হওয়ায় বিমসটেক এখন উন্নয়ন এবং অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৪টি খাতের ওপর জোর দিচ্ছে। খাতগুলো হলোÑ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, পরিবহন ও যোগাযোগ, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অপরাধ দমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলে সহযোগিতার লক্ষ্যে চিহ্নিত ১৪টি ক্ষেত্র এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কাক্ষিত অগ্রগতি অর্জনের জন্য আমাদের সময়োপযোগী ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের এই জোটের লক্ষ্য অর্জনে নিজের চিন্তাধারা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ চ্যালেঞ্জকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করার মাধ্যমেই আমাদের সব অর্থনৈতিক অর্জন অর্থবহ করা সম্ভব।
কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর প্রাধান্য দেওয়ার তাগাদা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনসংখ্যার সিংহভাগই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো কৃষি খাত।
বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন বিষয়ক কাঠামো চুক্তি কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি বিমসটেকের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র-মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য তা অত্যন্ত অপরিহার্য। বিমসটেকের আওতাধীন হিমালয় বেসিন অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে হাইড্রো-কার্বন প্রাপ্তির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। এ ছাড়া নিরাপত্তা, পর্যটন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। বিমসটেক সচিবালয় স্থাপনের জন্য বাংলাদেশকে নির্বাচিত করায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৭ সালে বিমসটেকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর সময়ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকায় গর্ববোধ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, আবার আমাদের সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ঢাকায় স্থাপিত হলো বিমসটেক সচিবালয়। আমি মনে হয় একজনই আছি। আমার সাথীরা সবই নতুন।
বিমসটেক সচিবালয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করছে সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত জোটের সর্বশেষ সম্মেলনে ঢাকায় স্থায়ী এই সচিবালয় স্থাপনের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

Category:

বাংলাদেশ সফরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ বলে অভিহিত করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

Posted on by 0 comment

49জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশে দুদিনের সফর শেষে গত ৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। আবে তার এই সফরকে ঢাকা-টোকিও সম্পর্কে একটি ‘বিশেষ বছর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো। ১৪ বছরের মধ্যে এটাই জাপানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরের মাত্র চার মাস পর তিনি এ সফর করেন। ১৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে আবে ও তার স্ত্রী আকি আবে বন্ধুপ্রতীম দুদেশের মধ্য অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের বিশেষ গুরুত্বারোপের লক্ষ্যে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকা আসেন।
৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় গণভবনের শিমুল কনফারেন্স হলে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্তে প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক করেন। এরপর শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দুই প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব কর্মসূচি ও বিগ-বি উদ্যোগসহ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য পদে জাপানকে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। জবাবে বন্ধুতার প্রতি ত্যাগ স্বীকারের এ উদার দৃষ্টান্ত দেখানোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অব্যাহত জোরালো সহযোগিতার মাধ্যমে জাপান নিজেকে পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে প্রমাণ করেছে। জাপান ও জাপানের জনগণের অকুণ্ঠ সহযোগিতার কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ ঘোষণায় সই করেন। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে যে দুটি ব্যাঘ্রশাবক দেওয়া হবে, সেগুলোর ছবির অ্যালবাম শিনজো আবের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে শিনজো আবে জাপানে তৈরি দুই দেশের মুদ্রাসংবলিত একটি স্মারক শেখ হাসিনাকে উপহার দেন। ওই স্মারকে বাংলাদেশের মুদ্রার এক পিঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে। দুপুরে বিমানবন্দরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিনজো আবে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে তিনি ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে শেখ সায়মা হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেয়ার আগে শিনজো আবে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আয়োজিত জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দেন। শীর্ষ বৈঠক শেষে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে প্রথমে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং পরে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন শিনজো আবে। শীর্ষ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ এর আগে দুবার (১৯৭৯-৮০ ও ২০০০-২০০১ সাল) নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। কয়েক বছর আগে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ২০১৬-১৭ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য নতুন করে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সালে 50দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধু জাপানও একই গ্রুপ থেকে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গোষ্ঠীসংহতি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে তখন থেকেই পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাই। মুক্তিযুদ্ধে জাপান সরকার এবং সে দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহমর্মিতা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জাপানের অব্যাহত ও বলিষ্ঠ সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীসংহতি ও ঐক্যের স্বার্থে আমি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ থেকে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী পদে জাপানের প্রার্থিতার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি দেশ স্থায়ী সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে। আর নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী পদে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দুই বছর পরপর বিভিন্ন দেশ নির্বাচিত হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক যখন নতুন পর্যায়ে উন্নীত হতে যাচ্ছে, সে সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত এ সম্পর্ককে আরও নিবিড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ বলে অভিহিত করেন। বঙ্গোপসাগরীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সহায়তার আওতায় ইতোমধ্যে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন দেওয়া হয়েছে। এ সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) উদ্যোগ। শিনজো আবে বলেন, এ সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক সুফলের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তিনি বলেন, গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় জাপান-বাংলাদেশ সমন্বিত অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছিলাম। আজকের আলোচনায় আমরা এই অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি।
এদিকে শীর্ষ বৈঠকের আগে হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, জাপানের নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ। জাপানের মন্দাক্রান্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে। আর সে কারণেই বাংলাদেশ সফর করছি। জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শিনজো আবে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, ইতোমধ্যেই তা আবেনোমিকস বলে পরিচিতি পেয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। জেট্রো চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিরোয়োকি ইশিগে এতে সূচনা বক্তব্য দেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী আকিয়ে আবে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় নার্সিং কলেজে যান। সেখানে তিনি প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশ ত্যাগের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় এ ইনস্টিটিউটে পৌঁছলে ঢাবির উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তাকে স্বাগত জানান। তিনি সেখান থেকে ঢাকা ত্যাগের জন্য বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ১০টায় তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বিদায় জানান।

Category: