Blog Archives

ঐতিহ্যবাহী আনন্দমুখর নৌকাবাইচ

PM2আরিফ সোহেল: “ছিপখান তিন-দাঁড়-/তিনজন মাল্লা/চৌপর দিন-ভোর/দেয় দূর-পাল্লা!…” মোহনীয় ছন্দে বাঁধা এই কবিতার সঙ্গে বাংলাদেশের নৌকা মাঝিদের দুঃখকথা গভীরভাবে জড়িত। আবার সেই নৌকাই বাঙালিদের বিপুল আনন্দ-বিনোদনের অন্য নাম। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ-উৎসব আয়োজনের সংস্করণের অন্যতম একটি নৌকাবাইচ। সেখানেও এই নৌকা। নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অপরিচ্ছেদ্য অংশ।
লাল-সবুজের এই দেশে হাজার বছরের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে আছে নৌকাবাইচ। যার আবেশ ছড়ায় ঢাকার হাতিরঝিল-বুড়িগঙ্গা থেকে শুরু নড়াইল-ফরিদপুরের মধুমতিতেও। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ছন্দায়িত নৌকাবাইচ আমুদে বাঙালিদের বিপুলভাবে উদ্বেলিত ও আনন্দিত করে।
বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছেÑ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মেসোপটেমিয়ার লোকেরাই নৌকাবাইচের প্রচলন করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২০০০ বছর আগে ওই অঞ্চলের লোকেরা ইউফ্রেটিস নদীতে এক ধরনের নৌকাবাইচের আয়োজন করত। এর কয়েক শতাব্দী পর মিসরের নীল নদে নৌকা চালনা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর ছড়িয়ে পড়তে থাকে এর প্রসার। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়। ১৯০০ সাল থেকে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় নৌকাবাইচ অন্তর্ভুক্ত আছে। শুধু বাংলাদেশই নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকা ও নৌকাবাইচ মিশে রয়েছে।
নৌকার সঙ্গে বাইচ শব্দটির সর্ম্পক জুড়ে দিয়ে আমরা বিনোদনের খোরাক পেয়েছি। বাইচ শব্দটি ফার্সি; বাজি বিবর্তনে বাইচ শব্দের সৃষ্টি। এর অর্থ বাজি বা খেলা। এই অঞ্চলে নৌকাবাইচ শব্দটির বুৎপত্তি বিবেচনা করে ধারণা করা হয় মধ্যযুগের মুসলমান নবাব, সুবেদার, ভূস্বামীÑ যাদের নৌবাহিনী ছিল, তারা এই প্রতিযোগিতামূলক বিনোদনের সূচনা করেছিলেন। জনশ্রুতি আছেÑ জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে মাঝিমাল্লারা নৌকাবাইচের সূচনা করে। অন্যদিকে অনেকেই মনে করেনÑ পীরগাজীকে কেন্দ্র করে নৌকাবাইচের যাত্রা শুরু। আঠারো শতকের শুরুর দিকে কোনো এক গাজীপীর মেঘনা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়েছিলেনÑ তার কৃপা পেতে অন্য পাড়ের ভক্তরা সারিসারি নৌকায় একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে এসেছিল। এ থেকেই নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়েছিল। তবে ইতিহাসে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুসলিম শাসনামলে বিশেষ করে নবাব-বাদশাহদের রাজত্বকালে নিয়মিত হয়ে উঠেছিল নৌকাবাইচ। তাই অনেকে মনে করেন, নবাব-বাদশাহদের নৌবাহিনী থেকেই নৌকাবাইচের হাতেখড়ি।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের নৌকা দেখা যায়। বাইচের নৌকার গঠন কিছুটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। প্রতিযোগিতার নৌকা হয় সরু ও লম্বাটে। কারণ সরু ও লম্বাটে হওয়ার নৌকা দ্রুত চলতে সক্ষম, যা প্রতিযোগিতার উপযোগী। বাইচের নৌকাটি রঙে-ঢংয়ে নন্দিতভাবে দর্শকের সামনে যথাসম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশের অঞ্চল ভেদে বাইচের নৌকা সাধারণত আলাদাই হয়। বিশেষ করে কারুকার্য ও গঠনের দিক থেকে। ঢাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ এ অঞ্চলগুলোতে বাইচের জন্য সাধারণত কোশা নৌকা ব্যবহৃত হয়। এর গঠন সরু এবং লম্বায় প্রায় ১৫০-২০০ ফুট পর্যন্ত হয়। টাঙ্গাইল ও পাবনায় নৌকাবাইচে সরু ও লম্বা ধরনের ছিপ জাতীয় দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌকা ব্যবহৃত হয়। লম্বায় ১৫০-২০০ ফুট পর্যন্ত হয়। এর সামনের দিকটা পানির সাথে মিশে থাকে আর পেছনের অংশটি পানি থেকে প্রায় ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমিরিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বাইচের জন্য সারেঙ্গী নৌকা ব্যবহৃত হয়। এটিও সরু। লম্বায় ১৫০-২০০ ফুট। তবে এর প্রস্থ একটু বেশি ৫-৬ ফুট পর্যন্ত। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপে বাইচের জন্য জাহাজের মতো দেখতে সাম্পান ব্যবহৃত হয়। এর দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০০-১২৫ ফুট; মাঝখানে ৮-৯ ফুট প্রশস্ত। আর বাইচে বিভিন্ন নামের নৌকা ব্যবহত হয়। বাইচের নৌকাগুলোর নাম হচ্ছেÑ অগ্রদূত, ঝড়ের পাখি, পঙ্খিরাজ, ময়ূরপঙ্খী, সাইমুন, তুফান মেল, সোনার তরী, দ্বীপরাজ।
অঞ্চল ভেদে পোশাকের ভিন্নতা থাকলেও বাইচে ব্যবহৃত নৌকার মধ্যখানে থাকেন নৌকার নির্দেশক। ৭, ২৫, ৫০ বা ১০০ জন মাঝির প্রতিযোগিতায় শামিল হতে পারে এক একটি দলীয় নৌকা। মাঝিরা সার বেঁধে বৈঠা ঠেলে নৌকা চালান। মাঝিদের বৈঠা টানাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং অনুপ্রাণিত করতে গলুইয়ে একজন পরিচালক থাকেনÑ যাকে বলা হয় গায়েন। তিনি গানছন্দে মাঝি-মাল্লাদের উদ্বীপ্ত করেন। সঙ্গে অনবরত বাজিয়ে চলেন কাঁসি। আগে যাওয়ার জন্য মাঝিদের উৎসাহিত করতে কখনও কখনও শব্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। এছাড়া এই সময় দেহ ও মনের উত্তেজনার বশেই গানের মধ্যেÑ হৈ, হৈয়া এ-ধরনের শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। বৈঠার টানের সঙ্গে গানেও সমবেত সুর তোলেন মাঝিমাল্লারা। কোনো কোনো বাইচের সময় ঢোল-তবলারও ব্যবহার দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন ধরনের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় দীর্ঘকাল থেকেই। এর মধ্যেÑ ড্রাগন বোট রেস, বোয়িং বোট রেস, সোয়ান বোট রেস, কাইয়াক ও কেনিয় বোট রেস খুবই জনপ্রিয়।
এক সময়ে বছরের নানা সময়ে কখনও পদ্মায়; কখনও যমুনা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতিতে নৌকাবাইচ প্রাচীন সংস্কৃতি জাগিয়ে তোলে। বাংলাদেশের বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা এলাকাতেই নৌকাবাইচের প্রচলন ও উপস্থিতিটা চোখে পড়ার মতো। দেখা যেত নদীর দু-ধারে হাজার হাজার জনতার বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নৌকার সাইরদারের কণ্ঠে অবিরাম গান। প্রমত্তা নদীবক্ষে সংগীতের তাল-লয়ে মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছন্দময় প্রতিযোগিতায় আন্দোলিত হয়ে উঠত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আবেগ-উত্তেজনার নৌকাবাইচ হয়ে উঠত আপামর মানুষের নির্মল আনন্দের খোরাক। নদীমাতৃক বাংলাদেশে সেখানেই নৌকাবাইচ হয়ে উঠত প্রাণোচ্ছল ক্রীড়াসঙ্গী। ছিল বর্ষার দিগন্ত পানির রাজ্যে নৌকা দৌড় হাজার বছরের বাঙালির নদীমাতৃক সভ্যতার এক অনন্য লোকসংস্কৃতি। কিন্তু সেদিনের উৎসবমুখর নৌকাবাইচ আজ হুমকির মুখে।
নৌকা দৌড়ের উৎসব একটি অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন লোকজ উৎসব। হাওর অঞ্চলে এই উৎসবের উদ্ভব হলেও এর ব্যাপ্তি বাংলার সর্বত্রই ছিল। নগর সংস্কৃতির আগ্রাসনের কারণে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের লোকায়ত নৌকাবাইচের মতো গ্রামীণ ধ্রুপদী ক্রীড়া। এমন কী হারিয়ে যাওয়ার এই ধাবমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে।
নৌকাবাইচকে উৎসাহিত করতে ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার লক্ষে প্রতিবছর জাতীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশন। এই প্রতিযোগিতার দূরত্ব কম-বেশি ৬৫০ মিটার। অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মোগল-সুবেদারদের বুড়িগঙ্গায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের নৌকাবাইচকে কাঠামোর মধ্যে আনতে বাংলাদেশ বোয়িং ফেডারেশন গঠিত হয়। এছাড়া দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে লোকায়িত ঐতিহ্যের নৌকাবাইচের পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই ফেডারেশন সম্পৃক্ত থাকে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-প্রতিষ্ঠান থেকে নানা দিবসে নৌকাবাইচের আয়োজন করে বাঁচিয়ে রাখা অবিরাম চেষ্টা চলছে। ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোও নানা উৎসবকে মাতিয়ে তুলতে নৌকাবাইচের আয়োজন করছে। নাগরিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হাতিরঝিলেও বসছে নৌকাবাইচের উৎসব। উপচে পড়ছে দর্শক। আর তাতেই স্বপ্ন বেঁচে থাকছে অনন্তকাল।

Category:

তিন মোড়লে বন্দী ক্রিকেট নান্দনিকতা

Posted on by 0 comment

ক্রিকেট বলতেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশ। কিন্তু সেখানেও মোড়লগিরি ক্রিকেটে নাভিশ্বাস তুলছে। ক্রিকেট তিন মোড়ল অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের কাছে চোখ-মুখ বাঁধা পড়ে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে তার নান্দনিকতা ও জৌলুস। অথচ আইসিসি ‘মন্ত্রতত্ত্ব’ বাতিল করেছে অনেক আগেই। মাঠে বসে ক্রিকেটে যারা প্রাণ উজাড় করছেন নিজের অর্থ ও সময়; তারাও হাঁপিয়ে উঠছেন বনেদিপনায়। কারণ মাঠের খেলার চেয়েও মোড়লরা অতিব্যস্ত টেবিলের খেলায়। ক্রিকেটের নিয়ন্তা আইসিসিও তাদের কাছে জিম্মি; তাদের তাঁবেদার। অনেকটা হুকুমের দাস। মোড়লরা যেভাবে চায়- অনেক সময় মাঠে ঘটেও তাই। ফলে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-শ্রীলংকা-দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্রিকেট। আইসিসির তিন ‘শক্তিধর’ দেশের প্রস্তাবই
যেন ক্রিকেটের সব প্রস্তাব।

PMf আরিফ সোহেল: ঘটনা পুরনো। ২০১৪ সালের কথা। আইসিসির সভায় টেস্ট ক্রিকেটকে ‘আকর্ষণীয়’ করার নামে প্রস্তাব করেছিল নতুন এক পদ্ধতির। টেস্ট ক্রিকেটে স্থায়ী প্রথম ১০টি দল টেস্ট খেলতে পারে। মোড়লদের প্রস্তাবিত পদ্ধতি ছিল  টপ-৮ সরাসরি খেলবে টেস্ট ক্রিকেট। আইনটা দ্বি-স্তরবিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট। র‌্যাংকিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার কথা বলা হয়েছিল। এই ‘আশঙ্কা’ নিয়ে তোলপাড় ছিল ক্রিকেটের দেশে দেশে। প্রকারান্তরে ৮টি দল নিয়ে খেলার কথা বলে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট-পাগল জাতিকে ‘টেস্ট’ আঙ্গিনার সাবলিল সৌরভের বাইরে রাখার ফন্দি-ফিকির করেছিল। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যখন অবস্থান ক্রমাগত দৃঢ় করছিল, ঠিক তখনই সংস্কারের নামে ক্রিকেটের তিন মোড়লের এই অদ্ভুত প্রস্তাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চক্রান্তের স্বীকারে পরিণত হতে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশ ওই দ্বিচারিত প্রস্তাব মেনে নেয়নি। তাতেই রক্ষা। অবশ্য তিন মোড়ল ছড়ি ঘুরাতে অন্য একটি নিয়মকে উসকে দিয়েছিল সেই সময়ে। বলেছিলÑ বড় দেশ চাইলে ছোট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো সিরিজ আয়োজন করতে পারবে। দেখানো হয়েছিল আর্থিকভাবে লাভবান হবার অসমৃণ পথও। অর্থাৎ আয় বাড়ার সঙ্গে বড় দলের সঙ্গে খেলার টোপঘোরা কৌশলও বাতলে দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে আইসিসি সেসব প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি। যেখানে বাংলাদেশও প্রতিবাদের সারথি হয়েছিল। তিন মোড়লদের বিপক্ষে এ অবস্থান নিলেও ক্রিকেট কিন্তু তাদের গ-ির বাইরে আসতে পারেনি। যার সর্বশেষ প্রমাণ ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আম্পায়ার ধর্মসেনার অভিনব সিদ্ধান্ত; তা আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে। অনেকেই সরাসরি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেনÑ এবারের বিশ্বকাপে তিন মোড়লের অভ্যন্তরীণ কু-সন্ধি হয়েছিল। যার ফলে ঘুরে-ফিরে; সব সমীকরণ ছাপিয়ে তিন মোড়লই সেমিফাইনালে উঠেছিল। তারা মোড়লত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হেরেছে; উল্টোভাবে প্রয়োজনে জিতেছে। কীভাবে করেছে তা বোকা ক্রিকেট-অবুঝ সমর্থকও লজ্জা পেয়েছে। কীভাবে ভারত ইংল্যান্ডের কাছে গ্রুপ পর্বে হেরেছে কিংবা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের ছকগুলো চোখের সামনে ভাসিয়ে নিনÑ আর বলার প্রয়োজন হয় না।
২০১৪ সালে আইসিসির সভায় সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রে আইসিসির হৃৎপি- বলে বিবেচিত এ দুই কমিটিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড স্থায়ী সদস্যপদ পেয়েছিল। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে মূল ক্ষমতাধর করা হয়েছিল। এদের অপসারণের সুযোগ ছিল না। ফলে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই তিন সদস্যই নিতে পারত। এটিই ক্রিকেট দুনিয়ায় ‘বিগ থ্রি’ বা ‘তিন মোড়ল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া সভায় আরও যে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছেÑ স্বাধীন চেয়ারম্যান নীতি। এখন থেকে সদস্য বোর্ডের সভাপতি থেকে কেউ আইসিসির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এ বিষয়টি নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন শশাঙ্ক। উদাহরণ হিসেবে বলেছিলেনÑ ভারতীয় বোর্ডের প্রধান যদি একই সঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যানও হয়, এতে নিরপেক্ষভাবে তার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব হবে না। ভারতীয় বোর্ডের প্রধান ভারতের স্বার্থই তো দেখবেন। ২০১৪ সালে এই কমিটির অংশীদার এন শ্রীনিবাসন, ওয়ালি এডয়ার্ডস ও জাইলস ক্লার্ক (তিনজন যথাক্রমে বিসিসিআই, সিএ ও ইসিবি প্রধান) মিলে আইসিসির রাজস্বনীতিতে বিতর্কিত সংশোধনী এনেছিলেন।
২০১৬ সালে ২০১৪ সালের গৃহীত ‘মোড়লগিরি’র সংশোধন করে আইসিসি। নির্বাহী এবং অর্থ-বাণিজ্য সংক্রান্ত আইসিসির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এ দুই কমিটি থেকেও তিন প্রধানের স্থায়ী সদস্যপদ প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীকালে জুনে অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় বোর্ডের সভায় গোপন ব্যালট ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান। দুবছর মেয়াদি আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান কোনো বোর্ডের কোনো ধরনের পদে থাকতে পারবেন না। আবার চাইলেও সবাই এই পদে নির্বাচনও করতে পারবেন না। মনোনয়নের যোগ্যতা হিসেবে আইসিসির বোর্ড পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, পাশাপাশি পূর্ণ সদস্য ১০ দেশের কমপক্ষে দুটির সমর্থন থাকতে হবে। আইসিসিতে তিন প্রধানের ‘খবরদারি’র যে সুযোগ তৈরি হয়েছে ২০১৪-এর সংশোধনীতে, সেটি দূর করে ২০১৬ সালে। কিন্তু নিয়ম রহিত হলেও ক্রিকেটে এখনও তিন মোড়লে সাম্রাজ্যই অধিষ্ঠিত।
পাশাপাশি ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ঘিরে ন্যক্কারজনক কর্পোরেট বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বনেদি ক্রিকেট বোর্ডগুলো লাখো ডলারের ফায়দা লুটতে বাজিকরদের অনাবিল সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে উন্মাদনা আর ম্যাচ ফিক্সিং (পাতানো খেলা), যা ক্রিকেটকে ক্রমাগত কলুষিত করছে। জুয়া আর ম্যাচ ফিক্সিং শুধু ক্রিকেটকেই আঘাত করছে এমনটাও নয়, তাতে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের ক্রিকেটীয় ভালোবাসা ও আবেগ। আর ক্রিকেটাররা ক্রমেই পরিণত হচ্ছেন টাকার পুতুলে, যাদের নিজের মতপ্রকাশের ওপরেও শর্ত আরোপ করে কর্পোরেট কোম্পানি আর কর্পোরেট ক্রিকেট বোর্ড। এলিট ক্রিকেট বোর্ডসমূহ নিজেদের এই বনেদি প্রস্তাবনায় তাদের উচ্চাভিলাষ আর বাণিজ্যের চিন্তাটাকেই তুলে ধরেছে। এই বনেদি তত্ত্ব আর কর্পোরেট প্রভাবে ক্রমেই নিষ্প্রভ হচ্ছে নান্দনিক ক্রিকেটের জৌলুস, যার ভাগশেষ কর্পোরেট ক্রিকেট! যেখানেও সত্যসিদ্ধভাবে তিন মোড়লের ভূমিকা থাকছে অনিবার্যভাবেই। সামান্য টাকার লোভে যেখানে দেশি বোর্ড বিক্রি হয়ে যায়; সেখানে আইসিসিকে দোষ দিয়ে আর কী লাভ। এটা তো জানা কথা, আইসিসির বর্তমান আয়ের সিংহভাগই আসে এই তিন মোড়ল দেশÑ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ড থেকে।
প্রাণের টানে ক্রিকেটের টানে ক্রিকেটকে তিন মোড়লের খপ্পর থেকে বাঁচাতে বারবার সোচ্চার হয়েছে নিরেট সমর্থকরা। সেখানে বাংলাদেশও বাদ যায়নি। লাল-সবুজের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লে-কার্ড নিয়ে কয়েক হাজার ক্রিকেটপ্রেমীরা মানববন্ধন করে তিন মোড়লের আধিপত্য বিনাশে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে। ২০১৭ সালের ২-৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে তিন দিনব্যাপী সভা শেষে আইসিসি জানিয়েছিল ‘বিগ-থ্রি’ নীতি বাতিল করে নতুন একটি সুষম অর্থনৈতিক বণ্টন পদ্ধতিতে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির সংবিধানে কিছু সংশোধনী এনে তা পাস করা হয়েছে। ওই বছরই এপ্রিলে আইসিসির পরবর্তী সভায় আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড পূর্ণ সদস্য করা হয়েছে। আর ২০১৯ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান এহসান মানিকে আইসিসির অর্থ-বাণিজ্য কমিটির প্রধান করার মধ্য দিয়ে তিন মোড়লের ক্ষমতা কিছুটা কমানোর স্বপ্ন-জাগানিয়া পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা হয়েছিল। কারণ অর্থ-বাণিজ্য কমিটিই আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্টের বাজেট প্রণয়ন ছাড়াও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থ বণ্টনের দায়িত্ব পালন করে। উল্লেখ্য, গত ১০ বছর ধরে এই তিন দেশের বাইরে মাত্র একজন কর্মকর্তা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সাবেক প্রধান অ্যালান আইজ্যাক (২০১১-১২) অর্থ-বাণিজ্য কমিটিতে ছিলেন। তবে শীর্ষপদে মোড়লদের বাইরে কেউ বসতে পারেন নি। পিসিবি প্রধান এহসান মানি ১৭ বছর পর এই পদে ফিরলেন। কিন্তু তা খেলার মাঠে-অভ্যন্তরে কখনোই প্রমাণিত হয়নি। তা ছিল কাগুজে। অনেকে ধারণা করেছিল এর মধ্য দিয়ে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড তিন মোড়লের দীর্ঘ এক দশকের শাসনের ক্ষমতা কমবে। বরং মোড়লভুক্ত দেশের সঙ্গে অন্য দেশের খেলা মানেই আম্পায়ার, থার্ড আম্পায়ারÑ সবাই বনেদি দলের প্রতি অনুকম্পায় আগুয়ান সদস্য। ছোটদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে তাদের আইনও বাধে না।
PMf2দীর্ঘ পথপরিক্রমায় হয়তো কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে মোড়লদের। তারপরও বিশ্ব ক্রিকেটে চলছে ‘তিন মোড়লের’ প্রাধান্য। আর সে-কারণেই নানা সমীকরণ অভ্যন্তরীণ ‘খেলা’ শেষে ক্রিকেটের তিন সম্পদশালী দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছানোটা কোনো বিস্ময়কর ঘটনা ছিল না। এবারের টুর্নামেন্টের সম্প্রচার থেকে ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ২০১৬-২৩ সম্প্রচার চুক্তির আওতায় ২০১৯ ও ২০১৩ বিশ্বকাপ হচ্ছে মূল ইভেন্ট। সেখান থেকে অর্জিত অর্থ থেকে ৯৩টি সহযোগী বা জুনিয়র ক্রিকেট দেশ আইসিসি থেকে পাবে মাত্র ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড। অথচ ভারত একাই পাবে ৩২০ মিলিয়ন পাউন্ড। এর বাইরেও বিগ থ্রি’র আলাদাভাবে রয়েছে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের সম্প্রচারের লোভনীয় চুক্তি। অন্যদিকে দলগত আয় কম থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোকে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ধুঁকতে হচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে খেলোয়াড়দের সরে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সাফল্যের কারণে এসব খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন।
ক্রিকেট মানেই প্রথমত ভারত। তারপরও উঠে আসে অস্ট্রেলিয়ার নাম। আর প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলেও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট আধিপত্য শুরু থেকেই। যেখানে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা-পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলো বরাবরই অপাঙ্তেয়ই থেকে যায়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয়কে অনেকেই স্রেফ আম্পায়ারের মহাকারচুপি হিসেবেই দেখেছেন। এবারও ফাইনালসহ অনেক ম্যাচেই বিস্ময়কর সব সিদ্ধান্ত গেছে মোড়লদের পক্ষে। লজ্জার মাথা খেয়ে আম্পায়াররা বড়দের পক্ষে আঙ্গুল তুলেছেন।
মোদ্দা কথা, মোড়লরা বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের উন্নতি সহ্য করতে পারছে না। পাশাপাশি ক্রিকেটকে আরও কী করে পুরোপুরি বাণিজ্যনির্ভর করে ফেলা যায়, তা নিয়েও মোড়লদের মাথা হরদম ঘুরছে। কারণ ক্রিকেট বর্তমানে কেবল খেলার মাঝে আটকে নেই, এটি এখন একটি বড় বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন। যেখানে একজন ক্রিকেটারও পণ্যের বিজ্ঞাপন করছেন। কখনও নিজেও পণ্যে পরিণত হচ্ছেন। বিজ্ঞাপনে বিজ্ঞাপিত হচ্ছে পুরো দলও। ফলে তিন মোড়লদের কাছে ক্রিকেট তার নান্দনিকতার আকর্ষণ হারাচ্ছে প্রতিক্ষণ। বাঙালিদের কাছে ক্রিকেট মানেই আবেগের কথারেণু। যাদের রক্তে ক্রিকেট, তারা বরাবরই তিন মোড়লের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এবার বিশ্বকাপ চলাকালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিয়েছে। তাদের একজন অনিন্দ্য আরিফ তার স্ট্যাটাসে ফাইনাল ম্যাচের পর লিখেছেনÑ ‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর মানা যায় না। এবার লড়াই হোক মোড়লগিরির বিপক্ষে। নিপাত যাক বনেদি ক্রিকেটের চক্রান্ত। জয় হোক বিশুদ্ধ ক্রিকেটের।’ আমাদের কথাও তাই।

Category:

সাকিব-মোস্তাফিজে বাংলাদেশ রঙিন

Posted on by 0 comment

আরিফ সোহেল: বিশ্বকাপের বাংলাদেশ = সাকিব + মোস্তাফিজ। শুনতে কি খারাপ লাগছে। হিসাব-নিকাশ-সংখ্যাতত্ত্বে তাই তো প্রমাণ করে। সাকিবের সঙ্গে মোস্তাফিজের মেলবন্ধনে বিশ্বকাপে আলোকিত বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যান বলছেÑ সাকিব বিশ্বকাপরে ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ৫ ফিফটিতে ৬০৬ রান করেছেন। নিয়েছেন ১১ উইকেট। এক কথায় অবিশ্বাস্য পারফরমেন্স। সেই খুশির দিগন্ত মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে, যখন ভাবছেন বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করেছে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে। বাংলাদেশ যদি সেমিফাইনালে যেত, সাকিবের রানটা নিশ্চিত আরও বাড়ত। হয়তো বাড়ত উইকেট সংখ্যা। কাটার মোস্তাফিজও আরও ভেলকি দেখানোর সুযোগ পেতেন। শুধু তাদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বলই হতো না। করতে পারতেন আরও অনেক অনেক রেকর্ড।
সংখ্যাতত্ত্বে বৃত্তায়নে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ৮ ম্যাচে পেয়েছেন ২০ উইকেট। এর মধ্যে শেষ দুই ম্যাচে ৫ উইকেট করে নিয়েছেন ১০ উইকেট। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বিরল ও গৌরবের। প্রথম খেলতে নেমেই লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন। হতাশার বোলিংয়ে মোস্তাফিজ যা একটু খুশির উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। মোস্তাফিজ লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠালেন তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে।
এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন সাকিব আল হাসানের উত্থান। টেস্ট ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ওডিআই বা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে সাকিব শীর্ষ অলরাউন্ডারের আসনেই আসীন ছিলেন। থাকবেন সামনেও। সাকিবের আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একই আসরে ৫০০ রান ও ১০ উইকেট কেউ কখনও নিতে পারেন নি। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিবই প্রথম এই বিরল কৃতীর অধিকারী হলেন। বিশ্বকাপটি হয়তো চার বছর পরপর হাতবদল হবে; কিন্তু সাকিব আল হাসানের রেকর্ড সহজে ভাঙবে বলে মনে হয় না। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছেন। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বললেন, ‘ব্যক্তিগত পারফরমেন্সের কথা যদি বলেন, খুবই খুশি। যে ধরনের ইচ্ছা, মন-মানসিকতা নিয়ে এসেছিলাম, সেদিক দিয়ে আমি খুশি, তৃপ্ত। তবে দল সেমিফাইনালে গেলে আরও ভালো লাগত।’
সাকিব আল হাসান যথারীতি আপন আলোয় আলোকিত। শেষ ২ ম্যাচে ৫টি করে উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজ সামনে এগিয়ে এসেছেন। নইলে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপটা যেন একাই খেললেন সাকিব! প্রথম ২ ম্যাচে ফিফটি। পরের ২ ম্যাচে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ৬০৬ রানের সঙ্গে ১১ উইকেট। অবশ্য শ্রীলংকার বিপক্ষে বৃষ্টিভাসির গল্পটা সাকিব-মোস্তাফিজকে কিছুটা হতাশ করেছে। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে গেলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়ার দাবিটা নিশ্চিতভাবেই আরও জোরালো হতো সাকিবের।
৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে সাবিক-মোস্তাফিজদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট দলের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও সামগ্রিক পারফরমেন্সে আমি খুশি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিকেট ভালোবাসেন। ক্রিকেট দলের খোঁজ নিয়মিত রাখেন অভিভাবকের মতোই। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কিন্তু খেলা দেখেছি। অনেক রাত পর্যন্ত। অফিসিয়াল কাজ যেমন করেছি, খেলাও দেখেছি। হয়তো একবার দেখতে পেরেছি, একবার পারিনি। যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলা দেখেছি। আমি তো আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাব, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কিন্তু এসেছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে।’
ক্রিকেটপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করেছে, ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও আছে। আমরা যে এতদূর যেতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কিছু খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমানÑ এরা বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না। খেলা এমন একটা জিনিস, অনেক সময় কিন্তু ভাগ্যও লাগে। সব সময় যে সবকিছু ঠিকমতো হবে, একই রকম হবে, সেটা নয়। ক্রিকেটাররা সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পেরেছে, আমি এটার প্রশংসা করি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত, তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের ছেলেরা খেলতে পেরেছে। তাদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব তো আমি দেখি না। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ কিন্তু ভালো করছে। এগিয়ে যাচ্ছে।’
দেশে ফিরে মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপে সাকিব-মোস্তাফিজ আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ এর বাইরে যাননি। সামগ্রিকভাবে দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে বলেছেন, ‘তারপরও দলের পারফরমন্সে ইতিবাচক অনেক দিকই আছে। বিশেষ করে সাকিব অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। মোস্তাফিজও কম যায়নি। বিশ্বকাপে অনেক ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন।’ তাদের সঙ্গে অধিনায়ক মুশফিক ও সাইফউদ্দিনের কথাও উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে অনেকের মুখেই তালা লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। কারণ অনেক বোদ্ধা বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করে বলেছিলেন, ‘সাকুল্যে বাংলাদেশ একটি ম্যাচে জিতবে।’ কিন্তু সাকিব-মোস্তাফিজ-মুশফিক-সাইফউদ্দিনে বিশ্বকাপে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পারফরমেন্স দেখে শচীন-মিয়াদাদ-ভনরা বেজায় মুগ্ধ। তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেনÑ বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের নতুন একটি অধ্যায়ের নাম। তারা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।

Category:

বিশ্বকাপ ক্রিকেট স্বপ্নরঙিন হাতছানি

Posted on by 0 comment

PddMআরিফ সোহেল: অর্জনের রেকর্ডবুকে বাংলাদেশের আরেকটি নতুন অধ্যায় রচিত হলো। বহুজাতিক আসরে শিরোপা না পাওয়ার কষ্ট শেষ। বিশ্বকাপ ক্রিকেট মিশন শুরুর আগে ক্রিকেটপাগল বাঙালিদের কাছে এ এক বড় প্রাপ্তি। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলও এক ফুৎকায় উড়ে গেছে বাংলাদেশের কাছে। ধারাবাহিক পারফরমেন্সে উদ্বেলিত-উজ্জীবিত বাংলাদেশকে ঘিরে নতুন স্বপ্নের ঘুড়ি উড়তে শুরু করেছে।
দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ভাস্বর বাংলাদেশ এখন বিশ্বকাপ ক্রিকেটালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যেই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ খেলাই ছিল স্বপ্নারাধ্যের মতো। সেই বাংলাদেশই এখন অনেকের কাছে নতুন ‘শ্রীলংকা’। ঠিক ১৯৯৬ সালে শ্রীলংকার অবিকল দল বলার চেষ্টা করছেন। নতুন ফরমেটের বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত এহেন কথা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। এমন কী পঞ্চম বিশ্বকাপেই শিরোপা জয়কে অসম্ভব দেখছেন না কেউ কেউ!
কেন তার অনেকগুলো যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এক্সপার্টরাÑ
এক. প্রথমত গত বিশ্বকাপের দুর্দান্ত ফর্ম। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ।
দুই. স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়।
তিন. ধারাবাহিক দলীয় পারফরমেন্স। গত দেড় বছরে ২৭ ওয়ানডের ১৭টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এ-সময় বিবেচনায় দল হিসেবে তৃতীয় বাংলাদেশ। তাদের ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড আর ভারত।
চার. ক্রিকেটপ্রাণ মাশরাফি বিন মর্তুজার বুদ্ধিদ্বীপ্ত বোলিং আর চৌকস অধিনায়কত্বে দলের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার ঈর্ষণীয় গুণ।
পাঁচ. ১৯৯৮ সালে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার ২২ বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়ের অনুপ্রেরণা।
ছয়. বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেটার। উল্লেখ্য, সদ্য প্রকাশিত আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে সাকিব বিশ্বকাপে এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে যাচ্ছেন।
আয়ারল্যান্ড পর্ব শেষ করে বিশ্বকাপ ক্রিকেট মঞ্চে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ দল। ৩০ মে পর্দা উঠেছে ক্রিকেটের মহা-আয়োজনের। ব্রিটিশ রাজ প্রাসাদের মলচত্বরে হয়ে গেছে ১২তম বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের জমকালো উদ্বোধন। ১ জুন থেকে মাঠের লড়াই শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ ২ জুন। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়। শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দু-দফা হারিয়ে বাংলাদেশ শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। তাই এক্সপার্টরা মাশরাফির বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন। সম্প্রতি সময়ে দারুণ খেলছে বাংলাদেশ। এই আসরে প্রাপ্তি-অর্জন বড্ড কাজে লাগবে বিশ্বকাপে। বিশেষ করে পেসারদের গুঁড়িয়ে-উড়িয়ে হুক-পুলের অভিজ্ঞতা ইংলিশ কন্ডিশনে খুব কাজে লাগবে। ওয়ানডেতে তামিম, মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহর পাশাপাশি লিটন, সৌম্য, মোসাদ্দেক, মিরাজ, জায়েদের ওপরও এখন নির্ভরতা খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে অভিজ্ঞতা আর সৌরভময় তারুণ্যের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে অপ্রতিরোধ্য।
ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে দারুণ খেলছে। তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আলাদাভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বকাপে এবার অন্যরকম বাংলাদেশকে দেখা যাবে। ধারাবাহিকতা থাকলে তাদের সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত।’
ভারতের সাবেক ওপেনার ও ধারা বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া বলেছেন, ‘এশিয়ায় ভারতের পর দাপুটে দল হিসেবে এখন পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশকেই মনে করে ক্রিকেটপ্রেমীরা। আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ নকআউট পর্বে উঠবে; মানে সেমিফাইনাল খেলবে।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম মাশরাফির বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলংকার প্রচ্ছন্ন ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ঠিক শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশ দলে এখন শুরুতে ঝুঁকি নেওয়ার মতো ক্রিকেটার আছে, আছে তাদের সামর্থ্যও। আবার পরে ধরে খেলার ক্রিকেটারের সংখ্যাও কম নয়। এবারের বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যে কোনো দলকেই ভড়কে দিতে পারে।
অন্যদিকে বাইরে থেকে বাংলাদেশ দলের শক্তি হয়ে দারুণ বোলিং-ব্যাটিং-ফ্লিডিং করছেন কোচ স্টিভ রোডস। তার মন্ত্রের উজ্জীবনী সুধা পান করে সিনিয়র-জুনিয়র সব ক্রিকেটাররাই দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছেন। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ী দলের কোচ স্টিভ রোডস মনে করেন, পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের বাইরেও বাংলাদেশ শক্তি সঞ্চয় করেছে।
পরিসংখ্যানও আদরে কাছে টেনে নিয়েছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ১৯ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে দুটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আর এশিয়া কাপ। ৩টি টুর্নামেন্টেরই ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছে একটিতে। এ-সময়ের নিষ্কণ্টক পরিসংখ্যানে ৩৫ ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের জয় ২৪টিতে। ৩৩ ম্যাচে ভারতের জয় ২২টিতে। শ্রীলংকার দেড় বছরে ২৬ ওয়ানডে খেলে জিতেছে মাত্র ৬টি ম্যাচে।
বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড প্রস্তুতিটা দারুণ এবং সুচারুভাবেই সম্পাদন করেছেন মাশরাফিরা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক আসরে শিরোপা জয়ের সঙ্গে টোটাল দল হিসেবে বাংলাদেশের ড্রেস রিহার্সসোসের আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত হয়েছে। এই আসরে ওপেনিং সংকট থেকে পরিত্রাণ, রান তাড়া করে জয়, চাপের মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার কৌশল, আশা জাগানিয়া ব্যাটিং এবং সব মিলিয়ে পেশাদার টিম বাংলাদেশ হয়ে ওঠার প্রেরণা পেয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরুর আগে এক আসরে একগুচ্ছ প্রাপ্তি বাংলাদেশকে নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিত করেছে।
কাটলো শিরোপা জয়ের অর্বাচীন গেরো। গত এক যুগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ছয়-ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে সেই অমানিশার আঁধার কেটেছে আয়ারল্যান্ডে এবং তা দুর্দান্তভাবেই।
দুয়ারে বিশ্বকাপ; কিন্তু প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের উৎসব এখনও চলছে। মাশরাফি-সাকিবরা উদযাপনে রং ছড়াতেই আয়ারল্যান্ড থেকে ছুটি পেয়েই দেশে ছুটে এসেছেন। প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে। কথা বলেছেন মিডিয়ার সঙ্গে; বিশ্বকাপ আর ত্রিদেশীয় জয় ইতিহাস নিয়ে। বাংলাদেশ তার ক্রিকেটাতিহাসে ২০০৯ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছিল। এশিয়া কাপে ২০১২ ও ২০১৬ সালেও বাংলাদেশ ফানালিস্ট। কিন্তু এই ৩টিতেই ফাইনালে নাকাল বাংলাদেশ। ২০১৮ সালেও ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ ও নিদাহাস ট্রফিতে ফাইনালে উঠেও জয় থেকেছে সোনার হরিণ হয়েই। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, যে ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালেও ভারতের কাছেই হেরেছিলেন মাশরাফিরা। স্মৃতির ক্যানভাসে ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হারের গল্পটাও ভেসে ওঠে।
তিন জাতি ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৬১ রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে, ৪০ বল হাতে রেখে। পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৪৭ রান বাংলাদেশ টপকে গেছে ৫ উইকেট এবং ১৬ বল হাতে রেখে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯৩ রানের টার্গেটও স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে এবং ৪২ বল হাতে রেখে। এরপর বৃষ্টিবিঘিœত ফাইনাল ম্যাচে ২৪ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০। অর্থাৎ ওভারপ্রতি রানের নামতা গুনতে হয়েছে ৮.৭৫। যদি ৫০ ওভারে এই রানরেট বিবেচনা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল প্রায় ৪৩৮! এই ম্যাচেও বাংলাদেশ সৌম্য-মোসাদ্দেকের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৭ বল হাতে রেখেই শিরোপা জয় করে।
দীর্ঘ দেড় মাসব্যাপী বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে এবার ১০ দলের সবাই একে অন্যের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। পয়েন্ট টেবিলের সেরা চার উঠবে সেমিফাইনালে। টাইগারদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৮টি ভেন্যুতে ঘুরে ঘুরে বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বের ৯ ম্যাচ খেলবে মাশরাফি-সাকিবরা। সেখানে স্বপ্ন-সম্ভাবনা উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ সেমিফাইনালও খেলতে পারে’ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের এই মুখবাক্যকে লাল-সবুজের অনুরাগীরা স্পটলাইন হিসেবে ধারণ করে বসে আছে।

Category:

ক্রিকেটারের জন্য শুভকামনা প্রধানমন্ত্রীর

Posted on by 0 comment

PMঅনিন্দ্য আরিফ: গত ৩০ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ত্রিদেশীয় ও বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা। মাশরাফিদের শুভকামনা জানিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা মাথা ঠা-া রেখে খেলবে। কোনো রকম টেনশন নেবে না। লম্বা সময় সেখানে থাকতে হবে। মনোযোগ ধরে রাখবে। এক ম্যাচ হেরে গেলে পরের ম্যাচে জয়ের জন্য চেষ্টা করবে।’ বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জিতবে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা মিলিয়ে ৬০ জনের প্রতিনিধি দল গণভবনে উপস্থিত হয়েছিল।
প্রলম্বিত সফর। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে আড়াই মাস। এ-সময় ধৈর্যটা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসে একই টেবিলে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেছেন ক্রিকেটপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী। আলাপ করেছেন ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে। ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিশেষ সুনাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
বিশ্বকাপ খেলার আগে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড করা হলেও ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ১৯ সদস্যের দল পাঠাচ্ছে বিসিবি। এই আসরের জন্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৫ জনের সঙ্গে আছেন ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বি, অফস্পিনার নাইম হাসান, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা ও পেসার তাসকিন আহমেদ। ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য প্রথমে ঘোষিত ১৭ সদস্যের দলে ছিলেন না তাসকিন ও ফরহাদ।
আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ মে ক্লন্টার্ফে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয়রা। একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৭ মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল দুবার করে পরস্পরের মুখোমুখি হবে। সেরা দুই দল ফাইনাল খেলবে ১৭ মে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দু-সপ্তাহ পর বিশ্বকাপ লড়াইয়ে নামবে মাশরাফিরা। মূল লড়াইয়ের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ২৬ মে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ২৮ মে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ২ জুন। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
স্বপ্ন নিয়েই জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটের ১২তম আসরে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। টার্গেট দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার। আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। অধিনায়ক ক্রিকেটপ্রাণ মাশরাফি বিন মোর্তুজা। এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। এটা নিজেও বলেছেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।’
বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহামুদ উল্লাহ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান, সাব্বির রহমান, রুবেল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, মোসাদ্দেক হোসেন।

Category:

বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

Posted on by 0 comment

PMআরিফ সোহেল: ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া; আর না খেলে প্রকৃতির কল্যাণে শিরোপার ভাগ পাওয়ার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। তবে প্রকৃতির কারণে মাঠে এমন ঘটনা নতুন নয়। খেলা নয়; প্রকৃতি নিজ দায়িত্বতে শিরোপা তুলে দেয় ভাগ্যবানদের। ঠিক তেমন এক বাধা ‘ফণী’ সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনালে। বাংলাদেশ-লাওস না খেলেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। বিষয়টি নিশ্চয়ই দু-দলের কাছেই অল্প-মধুর আমেজের।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়তে পারে; তা আগেই জানা ছিল। ফলে ৩ মে আদৌ ফাইনাল ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ওই সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল থেমে থেমে বৃষ্টি। তারপরও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রস্তুত ছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনাল আয়োজনে। গ্যালারিতে দর্শকও উপস্থিত হয়েছিল। বৃষ্টির টালবাহনা, বাতাসের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ওয়ার্মআপও করেছিল বাংলাদেশ এবং লাওসের ফুটবলাররা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে ম্যাচটি বাতিল করে দু-দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আয়োজকরা। উপস্থিত দর্শকরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়েই বাড়ি ফেরে।
ফাইনাল ম্যাচ বাতিলের আগে আয়োজকের অন্যতম প্রধান সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফণীর কারণে বাতিল করা হয়েছে। ফাইনালে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ও লাওসকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হচ্ছে।’ অবশ্য লাওস শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আশায় ছিল। ফাইনালের প্রাইজমানি ৪০ হাজার ডলার দু-দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
আসরে দুর্দান্ত খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে সেমিফাইনালেই নিজেদের পুরনো রূপে ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা লাওসও ছিল আপ টু দ্য মার্ক। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের দারুণ এক ফাইনালের অপেক্ষায় ছিল সবাই। পূর্বাভাষ থাকায় ফাইনালের নির্ধারিত সূচি ৩ মে পরিবর্তন করে ৪ মে নেওয়া হয়েছিল প্রথমে। পুনরায় আবার সূচি পরিবর্তন করে নিয়ে আসা হয় ৩ তারিখেই। কিন্তু তাতেও ফাইনাল হেরে গেছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কাছে। অবশ্য এই ম্যাচের জন্য যারা টিকিট কেটেছিলেন তারা টিকিটের অংশ দেখিয়ে অর্থ ফেরত পাবেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত ছয় জাতির এই আসর শুরু হয়েছিল ২২ এপ্রিল। ‘এ’ গ্রুপে অংশ নেয় লাওস, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল কিরগিজস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয়। শেষ ম্যাচে লাল-সবুজ ২-১ গোলের ব্যবধানে হারায় কিরগিজদের। সেরা দল বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় মঙ্গোলিয়ার। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় নিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অন্যদিকে সেমিফাইনালে কিরগিজদের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লাওসের মেয়েরা।

Category:

খেলা-পুরস্কার ছাপিয়ে স্পটলাইটে মমতাময়ী শেখ হাসিনা

Posted on by 0 comment

4-9-2019 7-11-16 PMঅনিন্দ্য আরিফ দিব্য: গত ৪ এপ্রিল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। আবেগঘন মুহূর্ত। সে এক বিরল দৃশ্য। বালিকাদের ফাইনালে হেরে কাঁদছে টেপুগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট মেয়েরা। থামছে না তাদের কষ্টের কান্না। ব্যর্থ সবাই। ট্রফি আনতে মঞ্চে গিয়েও গড়িয়ে পড়ছিল তাদের অশ্রু। আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কী করবেন ভেবেÑ কান্না থামাতে তাদের মমতাময়ী মায়ের আদরে বুকে টেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনে ফাইনাল ম্যাচের জম্পেশ উত্তেজনার মোহ-মুগ্ধতা ছাপিয়ে গেল এ ঘটনায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে ছাত্রীরা পেল মায়ের স্নেহ। ভুলে গেল ট্রফি না পাওয়ার বেদনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আদর ও ভালোবাসায় রাঙিয়ে দিলেন। মেয়েদের গলায় পদক পরিয়ে বুকে টেনে নিলেন। মুছে দিলেন চোখের পানি। বড় পর্দায় ভেসে এই আবেগঘন দৃশ্য পুরো স্টেডিয়ামকে উদ্বেলিত করল। প্রধানমন্ত্রী সান্ত¦না দিলেন; দিলেন এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও। এবার বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে যথাক্রমে সিলেটের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়মনসিংহের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ৩ লাখ, রানার্সআপ দলকে ২ লাখ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ১ লাখ টাকা করে প্রাইজমানি ও ট্রফি দেওয়া হয়। এ-সময় টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সেরাদের হাতেও অর্থ ও ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ স্কুল টুর্নামেন্টের ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। এ-সময় বিপুল করতালী দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। তিনি স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বসে খেলা উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিতে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন প্রমুখ।
বালক বিভাগের ফাইনালে হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সালমান আহমেদের দেওয়া একমাত্র গোলে রংপুর বিভাগের নীলফামারীর দক্ষিণ কানিয়ালখাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারায়। অন্যদিকে জান্নাতুল মাওয়ার একমাত্র গোলে ময়মনসিংহের পাঁচরুখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লালমনিরহাটের টেপুরগাড়ি বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়েছে।
পুরস্কারপর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের মেধা-মননের যথার্থ বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় আগ্রহী করে তুলতে অভিভাবক-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা ফুটবলসহ খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে এবং তাদের শরীর স্বাস্থ্য এবং মন ভালো থাকবে। তারা শৃঙ্খলা শিখবে এবং আগামী দিনে এই বাংলদেশকে তারা নেতৃত্ব দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছি। যার ফলে এখন খেলাধুলায় আমাদের ছেলেমেয়েরা পারদর্শিতা দেখাচ্ছে। আমাদের নারী অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ এবং জাতীয় দলের ৫০ খেলোয়াড়ের মধ্যে ৩৬ জন খেলোয়াড়ই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব গোল্ডকাপ আন্তঃবিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে এসেছে। তারা ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের অবস্থান করে নিচ্ছে। এজন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ এএফসি কাপে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ফুটবল আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, মাঠে-ঘাটে এবং গ্রাম পর্যায়েও এই খেলা চলে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই ফুটবল দল গঠিত হয়। বিশেষ করে আমি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছি যেখানে আমার দাদা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও ফুটবল খেলতেন। আমার ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালও ফুটবল খেলত। এখন আমার নাতি-নাতনীরাও ফুটবল খেলছে। তিনি বলেন, আমার ছেলেমেয়ে জয় এবং পুতুলের ছেলেমেয়েরা এমনকি শেখ রেহানার ছেলে ববির সন্তানেরাও ফুটবল খেলার সঙ্গে জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এত বিশাল সংখ্যায় টুর্নামেন্ট, এত খেলোয়াড় নিয়ে পৃথিবীর আর কোনো দেশ আর কখনও আয়োজন করতে পেরেছে কি না সন্দেহ। সেজন্য তিনি যারা এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকে যারা খেলাধুলায় অত্যন্ত পারদর্শিতা দেখাচ্ছে, আগামীতে তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও সম্মান দেশের জন্য বয়ে আনবে। আমাদের দেশে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের যেন আরও উন্নতি হয় আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাই সারাদেশের প্রত্যেক উপজেলায় আমরা একটা করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করে দিচ্ছি। ছেলেমেয়েরা যাতে সব সময় খেলাধুলাটা অনুশীলন করতে পারে, সেজন্য এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি। উল্লেখ্য, এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ৬৫ হাজার ৭৯৫টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ ছাত্র এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ৬৫ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের ১১ লাখ ১৬ হাজার ৯০০ ছাত্রী অংশ নিয়েছে। কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টে এতগুলো দল ও খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ বিশ্বে নতুন ইতিহাস।
খেলাপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং রাসার্সআপসহ যারা অংশগ্রহণ করেছেন, সকল শিক্ষার্থী-খেলোয়াড় এবং অবিভাবকÑ সকলকে আমি অভিনন্দন জানাই। আজকে একটি দল শিরোপা জিতেছে, আগামীতে হয়তো অন্য কেউ আসবে; কিন্তু এই প্রতিযোগিতা সুন্দরভাবে যেন চলতে পারে তার ব্যবস্থাটা নিতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এবং আজকের যারা শিশু তাদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ আমরা গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে তারা যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, সুন্দর জীবন পায় এবং জীবনের সাফল্য অর্জন করে।

Category:

এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ : চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

Mfdআরিফ সোহেল: আবারও প্রমাণিত হয়েছে বাঙালি মেয়েরা এই অঞ্চলের ফুটবলে অনবদ্য। তারা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে। ৩ মার্চ ২০১৯ শেষ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে হারলেও ফিলিপাইন এবং স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে মূলপর্বে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ অনায়াসে জিতে চীনও মূলপর্ব নিশ্চিত করেছিল। শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতার। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। এর আগে ২০১৮ সালেও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলেছিল মেয়েরা। অবশ্য গতবার দ্বিতীয় রাউন্ড ছিল না। প্রথম পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে খেলেছে। থাইল্যান্ডে গিয়ে মূলপর্বে প্রত্যাশিত সাফল্য স্পর্শ করতে পারেনি নারী ফুটবলাররা। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে আসর শেষ করেছিল বাংলাদেশ।
এটা সত্যি, এশিয়া অঞ্চলে অনেক দলের কাছে বাংলাদেশ এক বিভীষিকার নাম হলেও শীর্ষ দলগুলোর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। মিয়ানমারের মাটিতে চীন যেন মারিয়ামান্দাদের সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে। তারপরও ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে মূলপর্বে যাওয়াটই বড়প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তারপরও শীষ্যদের বাহবা দিয়েছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করায়। বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে যে-রকম নির্দেশনা ছিল সেভাবেই মেয়েরা খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলকিপার রুপনার ভুলে একটা গোল খেয়ে যাই। তারপরও মেয়েরা বাকিটা সময় চেষ্টা করে গেছে।’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে ৮ দলের মূলপর্ব। যেখানে খেলা নিশ্চিত করেছে ৬ দল। গতবারের সেরা ৩ দল উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাশাপাশি সরাসরি খেলছে স্বাগতিক থাইল্যান্ড। আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে চীন ও বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে সেখানে।
সূচনা ম্যাচে ফিলিপিনকে ১০-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি আসরের প্রথম ম্যাচে তহুরা খাতুনের হ্যাটট্রিকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে ফিলিপিনসকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আর ১ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে জয় পায় ১-০ গোলে। বাংলাদেশের জন্য এই আসরে মিয়ানমারই ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ।
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে ৮ দলের চূড়ান্ত লড়াই। এই লড়াইটি আবার বিশ্বকাপের বাছাই পর্বও। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই। এই আসরের সেরা ৩ দল সরাসরি খেলবে আগামী অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে। চতুর্থ দলের সামনেও থাকবে সুযোগ। সেক্ষেত্রে প্লে-অফ খেলতে হবে তাদের। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বে, নাম লেখানোর পর এখন বাংলাদেশের সামনেও আশা জাগানিয়া স্বপ্ন বিশ্বকাপ মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার।
নারী ফুটবল দলের কোচ ছোটন মনে করেন, ‘মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অভ্যুত্থানটা ঘটেছে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে। কারণ ক্রীড়াবান্ধব সরকার এই টুর্নামেন্টে খেলা স্কুলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে এখান থেকে ভালো ভালো ফুটবলার বেরিয়ে আসছে।’
জাতীয় কিংবা বয়সভিত্তিকÑ বাংলাদেশের মেয়েদের সব রকমের ফুটবলে একের পর এক সাফল্য আসছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সিনিয়ররা খেলেছে সাফের ফাইনালে।
স্বপ্না, মারিয়া, আঁখিদের খেলায় মনরাঙানো নৈপুণ্য-স্কিল রয়েছে। এক সময়ের জাপানের কাছে ২৪-০ গোলে হারা বাংলাদেশ উঠে গেছে অন্য উচ্চতায়। দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, আসিয়ান অঞ্চল, এশিয়ার মধ্যাঞ্চলের দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে ভয় পায় না তারা।

Category:

আগমনী বার্তাহীন বিপিএল

2-6-2019 8-36-53 PMঅনিন্দ্য আরিফ: বিপিএল কতটা জমেছে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তামিম-সাকিব-রিয়াদ-মাশরাফিরা কেমন করলেন! আসরের নতুন প্রতিভা কাকে খুঁজে পাওয়া গেল। সাদামাটাভাবে এটাই এখন জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য মৌলিক বিষয়। কারণ দু-তিনজন বাদ দিলে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খুব একটা আলো ছড়াতে পারেন নি এবারের আসরে। বরং বিদেশিতেই মশগুল থাকতে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি অবশ্য মনে করেনÑ বিপিএলে ভালো না করেও জাতীয় দলে অনেকেই ভালো করবেন। তবে নতুন তারকাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি; যা মাশরাফির মতো অনেককেই হতাশ করেছে।
তরুণদের পারফরম্যান্স ভালো নয়Ñ বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘বিপিএল কিন্তু এখন আর ছোট কোনো টুর্নামেন্ট নয়। আগের পর্যায়ে নেই এটি। আমি নিজেও এটি খেলতে চাপ অনুভব করি। সিনিয়র যারা আছে, তারা সবাই চাপ অনুভব করে। আমি নিশ্চিত সাকিবও চাপ অনুভব করে। এখানে তরুণদের জন্য চাপটা আরও অনেক বেশি। তবে বিপিএলে যারা ভালো করেনি তারা জাতীয় দলে পারফরম করবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তাদের নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আছে। আমার বিশ্বাস, নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচ থেকেই তারা ঘুরে দাঁড়াবে।’
বিপিএলের ষষ্ঠ আসর ইতোমধ্যে লীগ পর্ব শেষ করেছে। সাত দলের মধ্যে থেকে চার দলের শিরোপা লড়াই শেষে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ের পর ক্রিকেটপ্রেমীরা খুঁজে পাবে আনন্দ-বেদনার ঠিকানা। জয়ী দলের সমর্থকরা যখন ঢোল-বাদ্যে নেচে গেয়ে উঠবেন; আর তখন হার নিয়ে আরেক পক্ষকে কষ্ট-কান্নায় ভাসতে হবে। সেই অপেক্ষা ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
রংপুর রাইডার্সকে নিয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএল তার দল চূড়ান্ত পর্বের শীর্ষ দল। স্বাভাবিক কারণেই দল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অধিবেশনের শুরুতে সংসদে যোগ দিতে পারেন নি নড়াইল-২ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। চূড়ান্ত পর্ব শুরুর গ্যাপে বিপিএল চলাকালেই তিনি সংসদ অধিবেশে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন পরই শুরু হয়েছিল বিপিএলের জমজমাট লড়াই। মাশরাফি বিপিএলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রংপুর রাইডার্সকে। তার নেতৃত্বে গত আসরে রংপুর বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবারও বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মাশরাফির সমর্থকরা। ৩ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া সংসদের মুলতবি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি। ৩০ জানুয়ারি অধিবেশন শুরুর দিনে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদের যাত্রার শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। এরপর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।
সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা বিপিএল নিয়ে বলেন, তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি বাড়াতে হবে। তাদের প্রতিভা আছে কিন্তু মানসিক শক্তি কম। মানসিকভাবে শক্ত হলে মাশরাফির মতে এরাই পরিণত হবে বিশ্বমানের ক্রিকেটারে।
নিজের ১৮ বছরের ক্যারিয়ারসিদ্ধ ক্রিকেটঋদ্ধ মাশরাফি বলেন, বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের মূল পার্থক্য মানসিক শক্তিতে। বিদেশিরা যেটা করে, যা প্রয়োগ করে, সেটা পরিষ্কার চিন্তা থেকে করে। আমরা করি দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে। এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে এ বিষয়টা নিয়ে আমার কথা হয়েছে। সেও বলেছে। মানসিক দিকটাতে উন্নতি ঘটাতে পারলে এই তরুণরাই বিশ্বমানের ক্রিকেটারে পরিণত হবে।
নিজের বোলিং সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, বেশির ভাগ সময়ই আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিই। যা হওয়ার হবে। তবে টার্গেট থাকে জায়গামতো বল ফেলার। একজন বোলারের জন্য এটিই গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় বল ফেলে যাওয়া। বাকিটা কিন্তু আপনার হাতে নেই। অনুশীলনে ওভাবেই করি বলগুলো এক জায়গায় পড়ছে কি না সেটা অনুশীলন করি।
প্রতিবছরের মতো এবারও বিপিএলের জমজমাট মঞ্চ মাতিয়ে রাখছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা, আর দেশের তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেও থেকে যাচ্ছেন আড়ালে। গত ৫টি বিপিএল ও চলমান ষষ্ঠ বিপিএলের লিগ পর্ব শেষে সেই দৃশ্যই দেখা গেছে। তবে মাশরাফি মনে করেন, এক বছর পরপর বিপিএল আসে, এই টুর্নামেন্টটা সহজও না।
কথা উঠেছে বরাবরের মতো ঢাকার মন্থর উইকেটে বিপিএল কতটা কার্যকর, তা নিয়েও। সেখানে মাশরাফির ভাষ্যÑ বিশেষ করে ঢাকায় যেহেতু সবচেয়ে বেশি খেলা হয় সেহেতু ঢাকার উইকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে ব্যাটসম্যানদের। আমি কখনই দেখি না কাজটা সহজ। শুধু তা-ই নয়, আছে বিদেশি ক্রিকেটার-প্রীতির অভিযোগও। জয়ের খোঁজে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিরা স্বভাবতই বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে স্থানীয় তারকারাও অনেক সময় থেকে যান সাজঘরে, একাদশের বাইরের খেলোয়াড় হিসেবে। মাশরাফি বলেন, স্থানীয় ক্রিকেটাররা যদি বেশি সুযোগ পায়, যদি আরও একটা টি-২০ ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট হয়, তাহলে তরুণরা সুযোগ পাবে। তখন ওরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হবে।
চলতি আসরের হিসাব-নিকাশটা একটু এলেবেলেই ছিল। দারুণ দল হওয়ার পরও এবার খুলনা টাইটান্স ছিল লিগ টেবিলের একেবারে তলানীতে। আর ঢাকা ডায়নামাইটসের সমান পয়েন্ট থাকার পরও ৫ নম্বর দল হিসেবে হিসেবে ছিটকে পড়েছে রাজশাহী কিংস। ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট ছিল দুই দলেরই। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকায় ঢাকা উঠেছে শেষ চারের লড়াইয়ে। এখানে ঢাকাকে এলিমিনেটর ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের তিনে থাকা চিটাগং ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের বিপক্ষে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দল। প্রাথমিক পর্বের শীর্ষ দুই দল রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে ওঠার জন্য পাচ্ছে দুটি সুযোগ।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থেকে বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলা আগেই নিশ্চিত করেছিল রংপুর ও কুমিল্লা। নিজেদের শেষ ম্যাটচা ছিল তাই দু-দলের জন্যই কোয়ালিফায়ারের পোশাকি মহড়া।
এবারের আসরে রংপুর রাইডার্স ১২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮টি জয় পেয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে শীর্ষে থেকে। রবিন লিগে সমান পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়াও জায়গা করে নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় আসনে। চট্টগ্রাম ভাইকিংস ১৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে তৃতীয়। ঢাকা ডায়নামাইট এবং রাজশাহী কিংসের পয়েন্ট সমান হলেও নিট রান রেটে ভাগ্য খুলেছে সাকিবদের ঢাকার। খুলনার পয়েন্ট মাত্র ১২ ম্যাচে ৪।
গতবারের মতোই আসরের ফরম্যাট। সেরা চার দলের মধ্যে প্লে-অফ লড়াই, ম্যাচ ৩টি। একটি এলিমিনেটর, একটি প্রথম কোয়ালিফায়ার এবং একটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। তারপর সেরা দুই দলকে নিয়ে ফাইনাল। দর্শক-সমর্থকদের অনেকেই এই ম্যাচগুলো মাঠে গিয়ে দেখেছেন। অপেক্ষায় রয়েছে আরও ম্যাচ দেখার। এলিমিনেটর এবং প্রথম কোয়ালিফায়ারের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি। প্রথম ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইট উড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম ভাইকিংসকে। আর প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া। ওই দিন মাশরাফির রংপুর তাদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি।  অবশ্য মাশরাফিদের এখনও সুযোগ থাকছে ফাইনালে খেলা।
বিপিএলের ম্যাচগুলো এবার ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে  অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর বিপিএলের শেষ চারের লাইনআপের জন্য পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়ানো ষষ্ঠ অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত। যা আসরটিকে মাতিয়ে রেখেছে শেষ পর্যন্ত।

Category:

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও বিএনপির পরাজয় প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে এবং বিএনপির কেন পরাজয় ঘটেছে, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
ঊঢ়ৎড়ঃযড়স অষড় ফেসবুক স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট বলছে ভয়ভীতির কথা। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নিই, আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ বিএনপির এই আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সঙ্গে সমানতালে গলা মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু কথা বলতে চাই।’
বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে জয় লিখেছেন, ‘তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যধিক। তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের” অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল, কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।’
বিএনপির উদ্দেশে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ না-কি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের জন্য সর্বোচ্চ না। কারণ, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। তখন যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার পেছনে আছে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ।’
আওয়ামী লীগ জয় পাওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘প্রথম কারণটি খুবই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার অর্ধেক করা হয়েছে। মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, তা এখন দৃশ্যমান।’
জয় বলেন, ‘আমাদের সুশীল সমাজ সব সময়ই বলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের ভোটাররা না-কি পরিবর্তন চায়। এসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায়Ñ আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, এমনকি ধনী ব্যবসায়ীও হন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সুফল আপনিও পাচ্ছেন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে, যাদের আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?’
দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচার কিন্তু গত বছর শুরু হয়নি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম। জনগণের কাছে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করিনি। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, যা উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে, তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে আছে আমাদের দলের ভিশন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিশ্রম। যার কৃতিত্ব আমাদের দলীয় মন্ত্রী, সাংসদ, কাউন্সিলরসহ সবার। যখন আমাদের বিরোধী পক্ষ ও সুশীল সমাজ ব্যস্ত ছিল সমস্যা ও নালিশ নিয়ে, আমরা ব্যস্ত ছিলাম জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুশীল সমাজের একটি বড় অপপ্রচার হচ্ছে, নতুন ভোটাররা রাজনৈতিক দল নিয়ে মাথা ঘামায় না ও তাদের বেশির ভাগই না-কি পরিবর্তন চায়। তারা বুঝতে পারেনি যে এই নতুন ভোটাররা আমাদের আমলের উন্নয়নের মধ্যে বড় হয়েছে, যা তাদের জীবনকে করেছে আরও সহজ ও উন্নত। তারা কেন আমাদের ভোট দেবে না?’
আওয়ামী লীগের জনমত জরিপের কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে এবার কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোনো জরিপ আসেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে কিন্তু তারা ঠিকই একের পর এক জরিপ প্রকাশ করছিল, দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অবস্থা কত খারাপ। আসলে বাংলাদেশে খুব কম ব্যক্তি বা সংগঠনই সঠিকভাবে জনমত জরিপ করতে পারে। হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের ওপর পড়াশোনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি, তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সঙ্গে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি, নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।’
জরিপ বিষয়ে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে আমাদের জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি, আওয়ামী লীগ পাবে ৫৭ থেকে ৬৩ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে ১৯ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট। তাহলে আমরা ৭২ শতাংশ ভোট কীভাবে পেলাম? আমাদের জরিপের জন্য স্যাম্পল নেওয়া হয় ৩০০ আসন থেকে। অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে। কিন্তু ভোট দেওয়ার হার কখনোই ১০০ শতাংশ হয় না, আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছিল ২৯৮টি আসনে। ২৯৮টি আসনে ১০ কোটি ৩৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ ৮ কোটি ২৮ লাখ। আওয়ামী লীগ পেয়েছে প্রায় ৬ কোটি ভোট। ১০ কোটি ৩৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি মানে ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের জরিপের সঙ্গে এই বিষয়টি মিলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট কেন এত কম ভোট পেল? কিছু যৌক্তিক কারণে। বিএনপির চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে দ-িত হয়ে জেলে আছেন। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনও দ-িত আসামি, আছেন দেশের বাইরে পালিয়ে। তাদের সংগঠনের অবস্থা করুন। তার থেকেও বড় আরেকটি কারণ আছে, যা আমাদের সুশীল সমাজ সহজে বলতে চায় না। যেই কারণটি বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি।’
বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘জনমত জরিপগুলো থেকে খেয়াল করেছি যে, বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যে অগ্নিসন্ত্রাস চালায়, তারপর থেকেই তাদের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের আগে জরিপগুলোয় বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রিয়তায় ১০ শতাংশ পিছিয়ে থাকত। কিন্তু রাজনীতির নামে সন্ত্রাসবাদের কারণে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যবধান ৩০ শতাংশ হয়ে যায়, আর তারপর থেকেই বাড়তেই থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া তাদের আত্মঘাতী নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কমতি ছিল পরিষ্কারভাবেই। তার ওপর তারা তারেক রহমানের মাধ্যমে নিজেদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়। আর মানুষের মনে ভেসে ওঠে হাওয়া ভবন আমলের দুর্নীতি ও সহিংসতার দুঃসহ সব স্মৃতি। তারেক রহমান আবার মনোনয়ন দেন একাধিক চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীকে। এর মাধ্যমে কি তাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে, না কমবে?’ বিএনপির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থকদের তারা ইঙ্গিত দেয় যে তারা নির্বাচন থেকে সরে আসবে। আপনি যদি মনে করেন আপনার দল নির্বাচনেই আসবে না, তাহলে কি আপনি ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন? এই কারণে তাদের নিজেদের সমর্থকদেরও ভোট দেওয়ার হার কম ছিল, যার ফলশ্রুতিতে তারা ভোট পায়ও কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বার্তাই ছিল আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই বার্তা গ্রহণ করেনি। কারণ, তারা নিজেরাই দেখেছে কীভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে।’
ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেন নি। কারণ, তিনি জানতেন, তিনি কোনো আসন থেকে জিততে পারবেন না। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম একটি নয়, দুটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতোই, তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি, তারা কীভাবে দুটি আসনে জেতে?’
স্ট্যাটাসের শেষে জয় বলেন, ‘সত্য আসলে বেশি জটিল না। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণেরা, দেখছে কীভাবে শেখ হাসিনার মতো একজন ডাইনামিক নেত্রী দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বিরোধী পক্ষের শত অপবাদ, অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি কোনো কাজে আসেনি। কারণ, দিন শেষে মানুষ তাকেই বেছে নেয়, যে তাকে উন্নত জীবন দিতে পারবে।’
ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ফেসবুক স্টেটাসে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশ সময় ১২ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে তিনি এই স্টেটাস দেন।

Category: