Blog Archives

এখনও ষড়যন্ত্র চলছে : ওবায়দুল কাদের

সিরিজ বোমা হামলা প্রতিবাদ দিবস


উত্তরণ প্রতিবেদন: ভুলের চোরাবালিতে আটকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি নিজেরাই শূন্য হয়ে আছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নেতিবাচক ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি ভুলের চোরাবালিতে এসে নিজেরাই নিজেদের শূন্য করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ বিএনপিকে শূন্য করতে চায়নি।
গত ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী’ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ তাদের আধিপত্য একচ্ছত্র করে দেশকে রাজনীতি শূন্য করার পরিকল্পনা করছেÑ বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খুনের রাজনীতি, হত্যার রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি বাংলাদেশে আপনারাই (বিএনপি) শুরু করেছিলেন। দেশে সিরিজ বোমা হামলা, বাংলাভাইয়ের রাজনীতি আপনারাই শুরু করেছিলেন। আজ কোন সাহসে সন্ত্রাসের রাজনীতির কথা বলেন?
মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের দেখলে মনে হয় শিল্পী জয়নুলের আঁকা বিখ্যাত সেই কাদা মাটিতে আটকেপড়া গরুর গাড়ির মতো। কাদায় আটকেপড়া গাড়ির মতো বিএনপি আজ আটকে আছে। ওই কাদা থেকে বেরোতে হলে আপনাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে। নেতিবাচক রাজনীতি, খুনের রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি, জঙ্গিবাদের রাজনীতি, দুর্নীতিবাজ পৃষ্ঠপোষকের রাজনীতি, লুটপাটের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে নেই। আপনি নির্বাচিত হয়েও নিজের আসন শূন্য করে দিয়েছেন, আপনি তো শূন্য হবেনই। ফখরুল সাহেব বলেছেন আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতি শূন্য করে দিচ্ছে! যিনি নিজেই নির্বাচিত হয়ে আসন শূন্য করে দেন, তিনি কত বড় শূন্য ভেবে দেখ। কত বড় ফাঁপা বেলুনের মতো শূন্য তা ভেবে দেখতে হবে।
এবারের কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে অস্থিরতার বিষয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কি ভুলে গেছে সেই হাওয়া ভবনের লুটপাট, দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা? আজকে বলেন দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক তো আপনারা (বিএনপি)। যেমন আজকের এই ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা, সারাদেশের ৬৩ জেলায় জঙ্গিবাদী এই সিরিজ বোমা হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন আপনারা। তিনি                     বলেন, অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলাম; কিন্তু বিএনপি ভুলতে দিবে না। পাঁচবার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে আজ দুর্নীতির কথা বলেন, লজ্জা                 করে না? একটুও লজ্জা করে না, লজ্জা শরমের                  মাথা কি খেয়েছেন?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এখনও চলছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখনও ষড়যন্ত্র চলছে, এখনও বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ আছে। রক্তের গন্ধ আমরা পেয়েছি বারে বারে। আপনাদের (বিএনপি) প্রাইম টার্গেট বিশ্বে জনপ্রিয় ও জননন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনা। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য বিএনপির দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দেয় দাবি করে তিনি বলেন, কত দেউলিয়া হয়ে গেছে এই দল। এই দলের নেতৃত্বের দুর্ভাগ্যে বেগম জিয়ার জন্য আন্দোলন হয়নি। এ ধরনের বুলি, এ ধরনের ফাঁকা কথা, এ ধরনের বক্তব্য তারাই দিতে পারে যাদের রাজনীতি, যাদের আন্দোলন ভুলের চোরাবালিতে আটকে পড়েছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম এমপি, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি প্রমুখ।

Category:

১৫ আগস্ট কারবালার পুনরাবৃত্তি যেন ৩২ নম্বরে

PM3উত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই খুনি, যে দলটি খুনিদের মদত দিয়েছে ও পুরস্কৃত করেছে, খুনি যুদ্ধাপরাধীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে, সেই দলটিকে খুনিদের দল ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে? আর কোনো দিন ওই হায়েনাদের হাতে দেশ যেন চলে না যায় সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল সেটা যেন সফল না হয়, এটাই তার সরকারের লক্ষ্য; বরং জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন সেটাই যেন সফল হয়।
গত ৩০ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
১৫ আগস্টের হত্যাকা-কে কারবালার পুনরাবৃত্তি অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু চিন্তা করে দেখুন, যেভাবে পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী-শিশুকে হত্যা করেছিল- ১৫ আগস্ট ঠিক একই রকমের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। কারবালার প্রান্তরে যেভাবে নির্মম হত্যাকা- চলে যেন কারবালার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল ৩২ নম্বরে। একাত্তরের যে জাতি বুকের রক্ত দিয়ে নিজেদের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলÑ তারাই পঁচাত্তরে বিশ্বের কাছে একটি খুনি জাতি হিসেবে পরিচিত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে বিএনপি নেতারা নতুন সাফাই গাইতে শুরু করেছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, ’৭৫ সালে বিএনপির তো জন্মই হয়নি। তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যায় বিএনপি কীভাবে জড়িত হলো? কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এই হত্যাকা-ে সম্পৃক্ত ছিলেন। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই খুনি এবং খুনের সঙ্গে জড়িত- তার পক্ষে তো সাফাই গাওয়ার কিছু নেই। আর এটাও তো সবার জানা, আদালতই জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান কেবল বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতই ছিলেন না, এই হত্যার বিচার যাতে না হয় সেই ব্যবস্থাও করেছিলেন। ইনডেমনিটি দিয়ে হত্যাকা-ের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। খুনিদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃতও করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই ঘটনা তদন্তে স্যার টমাস উইলিয়ামের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল এদেশে আসতে চাইলেও জিয়াউর রহমান অনুমতি দেননি, তাদের ভিসাও দেননি। বিএনপি খুনিদের দল না হলে কেন তদন্তে আসতে দেয়নি? কেন ইনডেমনিটি দিয়ে বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল? কেন খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল?
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই ১৫ আগস্টের খুনিদের মদত দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে। যেভাবে জিয়াউর রহমান খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন, সেভাবে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে খুনিদের পুনর্বাসন করেছেন। এরশাদও খুনিদের মদত দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। এমনকি খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খুনি কর্নেল রশিদ ও বজলুল হুদাকে সংসদ সদস্য করে সংসদকে কলঙ্কিত করেছিলেন। রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতাও বানিয়েছিলেন। তাহলে বিএনপি যে খুনিদের দল নয়Ñ এটা তারা বলেন কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী হয়ে খালেদা জিয়া যেভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন, তাহলে সেই দল খুনিদের না হয় কীভাবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে ১১ হাজার কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দেন। যুদ্ধাপরাধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেন, অনেককে মন্ত্রীও করেন। ঠিক একইভাবে খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেন। অর্থাৎ জিয়া যেভাবে গণহত্যাকারী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের মন্ত্রী করেন, খালেদা জিয়াও সেভাবেই রাজাকার আলবদরদের হাতে শহিদের রক্তরঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। খুনিদের হাতে যারা এভাবে জাতীয় পতাকা তুলে দেয় আর মন্ত্রী বানায়Ñ তারা খুনির দল ছাড়া আর কী?
সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী খোন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হন। দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের যেসব বড় বড় নেতা খুনি মোশতাকের সঙ্গে গিয়েছিলেনÑ তারাও কোনো না কোনোভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তারা পরে জিয়ার সঙ্গেও গেছেন। তারাও বেইমান ও মোনাফেক। তাদের অনেকে এখনও বেঁচে আছেন, বড় বড় কথাও বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার নৃশংসতম ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে কেঁদেও ফেলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে কালিমালিপ্ত দিন। নিজের জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে যিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন- সেই বঙ্গবন্ধুকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হলো! আর হত্যা করল কি না এই বাংলাদেশেরই মানুষ- যাদের বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দিরা গান্ধী ও ফিদেল কাস্ত্রোসহ অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কখনও বিশ্বাস করতে পারেন নি, এভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাকে হত্যা করতে পারে। যারা হত্যা করেছিল, তারা সবাই কিন্তু আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। মেজর ডালিম, ডালিমের বউ ও শাশুড়ি তো দিন-রাত এই বাড়িতেই পড়ে থাকতেন। বঙ্গবন্ধু ঘুণাক্ষরেও বিশ্বাস করতে পারেন নি এরা তাকে হত্যা করতে পারে? এভাবে বেইমানি মোনাফেকি কেউ করতে পারে? সেই কলঙ্কজনক ইতিহাসই রচিত হয়েছিল বাংলাদেশে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন, দুর্নীতি-লুটপাট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলাসহ দুঃশাসনের বিবরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির জন্মটাই হচ্ছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। তাদের এই চরিত্রটা এতটুকু বদলায় নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হয়েছে তখনই, যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দল ক্ষমতায় এসেছে। পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন কখনই চায়নি; বরং এই স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং পরাজিত শক্তি পাকিস্তানকে খুশি করতে এদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করেছিল।
১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে দেশের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে তার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৃত্যু হাতে করে দেশে ফিরেছি। আর দেশে আসার পর যখন দেশের মানুষের উন্নয়ন করতে পেরেছিÑ তখনই ভেবেছি দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে। বাবা-মা, ভাই সবাইকে হারিয়েছি, তাই হারানোর ভয় নেই। কোনো চাওয়া-পাওয়ারও কিছু নেই। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করেছিÑ তাই কোনো কিছুতে ভয় পাইনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষ একটা শোকই সহ্য করতে পারে না। আর আমরা এতগুলো শোককে সহ্য করে চলেছি। সেই শোক আর ব্যথা-বেদনা নিয়েই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছি যেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। তাদের জীবন এতটুকু উন্নত হলেও বাবার আত্মা শান্তি পাবে। ৪৪ বছর হলো বঙ্গবন্ধু আমাদের ছেড়ে গেছেন। কিন্তু তার দেশের মানুষ এখন শান্তিতে রয়েছে, ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পায় না। এখনও আরও অনেক কাজ করতে হবে। দেশটাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন মহানগর নেতা আখতার হোসেন ও আজিজুল হক রানা।

Category:

দেশবাসীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: লাখো শোকার্ত মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তার প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। সেদিন বিদেশে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন
PM2সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এরপর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান, যেখানে ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত তার মা, ভাই, পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়দের দাফন করা হয়। তিনি কবরস্থানে সকাল সাড়ে ৭টায় তার পরিবারের সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এখানে ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। দেশের সকল মসজিদে ১৫ আগস্টের শহিদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। আওয়ামী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে ও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
গত ১৫ আগস্ট সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তার সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী বেদীর পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পবিত্র সূরা ফাতেহা পাঠ, পিতা বঙ্গবন্ধু, মাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শোক দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শোক দিবসের শ্রদ্ধা জানান। পরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বেলা ১১টায় সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা শরিক হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ মাহফিলের মোনাজাতে অংশ নেন।

Category:

ভিশন-২০৪১-এর সহযোগী হতে আগ্রহী সিউল

Posted on by 0 comment

PMfউত্তরণ প্রতিবেদন: লি  নাক-ইয়োন বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে সিউল সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারার প্রশংসা করে লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় এবং দেশটি বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে এর উন্নয়ন সহযোগী হতে চায়। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন ব্রিফিংয়ে এ-কথা জানান। লি বলেন, যদিও কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বস্ত্র খাতের মধ্য দিয়ে শুরু করেছে, এখন এ সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা তুলে ধরে বলেন, বৈঠক অনেক ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও বেশি শক্তিশালী হবে। গত ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী                 শেখ হাসিনা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া সকল বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য কোরিয়ার পক্ষে খুব বেশি ঝুঁকে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে আমরা আপনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া সকল বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে ওভেন গার্মেন্টস, ওষুধ, নিটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফ্রোজেন ফুড ও সিরামিক সামগ্রী আমদানি করতে পারে। জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। প্রেস সেক্রেটারি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে বাংলাদেশকে ‘সম্ভাবনাময় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। লি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হিসাবে বাংলাদেশের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে টেক্সটাইল, ট্যানারি ও পাদুকা কারখানাসমূহে কোরিয়ার যথেষ্ট বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্মরণ করি যে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আমার প্রথম মেয়াদে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ করেছিল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া এখানে জিটুজি এবং পিপিপি মডেলের অধীনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’-এ বিনিয়োগ করতে পারে। ওটা বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ কেন্দ্র। তিনি বলেন, কোরিয়া ১.৬১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের ১২তম অর্থনীতি। তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কোরিয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া স্বাস্থ্য, আইসিটি, শিক্ষা, পানি বিশুদ্ধকরণ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল                 কো-অপারেশন এজেন্সি-কোইকা আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ তিনি ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস)-এর জাতীয় মহাসড়কে করিডরগুলোর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার উন্নতির জন্য কোরিয়ান তহবিলের প্রশংসা করেন।
ঢাকা-সিউল ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত : বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা ও সিউলের মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ১৪ জুলাই বিকেলে শেখ হাসিনা ও লি নাক-ইয়োনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ইনস্ট্রুমেন্টগুলো স্বাক্ষর হয়। এগুলো হলোÑ এক. কোরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। দুই. বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষে কোরীয় ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলোপসেন্ট অথরিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। তিন. বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে দুদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

Category:

শোকের মাস আগস্ট, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ১ আগস্ট : শোকের মাসের প্রথম প্রহরে (৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট) ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের আলোর মিছিল। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষক লীগের রক্তদান কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।
৩ আগস্ট : বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের উদ্যোগে পৃথক দুটি আলোচনা সভা।
৪ আগস্ট : ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা।
৫ আগস্ট : সকাল ৮টায় ধানমন্ডি আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণ এবং এবং সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহিদ শেখ কামালের জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।
৮ আগস্ট : সকাল ৮টা ৩০ মিনেটে বঙ্গমাতা শহিদ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের শ্রদ্ধার্ঘ্য অপর্ণ, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
৯ আগস্ট : বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতির পিতার ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের আলোচনা সভা।
১০ আগস্ট : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভা।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : সূর্য উদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা অর্পণ (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যোগদান)। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচিতে তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। দুপুরে অস্বচ্ছল দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ। বাদ আছর বাংলাদেশ             মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
১৬ আগস্ট : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনায় অংশ নেবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ।
১৭ আগস্ট : ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা।
২১ আগস্ট : ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ বেদীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ পরিষদের আলোচনা সভা।
২২ আগস্ট : বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের  আলোচনা সভা।
২৩ আগস্ট : বাংলাদেশ তাঁতী আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা।
২৪ আগস্ট : নারী নেত্রী বেগম আইভি রহমানের স্মরণে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। এতে অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।
২৫ আগস্ট : কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের আলোচনা সভা।
২৬ আগস্ট : বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২১ আগস্ট উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা।
২৭ আগস্ট : বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের আলোচনা সভা।
২৮ আগস্ট : বাংলাদেশ কৃষক লীগের আলোচনা সভা।
২৯ আগস্ট : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণের দাবিতে মহিলা শ্রমিক লীগের মানববন্ধন।
৩০ আগস্ট : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা।
৩১ আগস্ট : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আলোচনা সভা।

Category:

জনগণই আমার আসল পরিবার আমার আপনজন

Posted on by 0 comment
সিটিজিএন’কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সিটিজিএন’কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার শুধু একটাই কাজÑ তা হচ্ছে জনগণকে উন্নত জীবন দেওয়া। দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি। তার লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া।
চীনের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি ভাষার চ্যানেল সিটিজিএন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। চীন সফরকালে দেওয়া সাক্ষাৎকার গত ৬ জুলাই চ্যানেলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সিটিজিএন’র এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইম ম্যাগাজিনে ২০১৮ সালের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার বহন করছেন তিনি। ১৯৭৫ সালে পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দেশের উন্নয়নে কাজ করতে ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ফিরে আসেন। তিনি চেয়েছেন তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘আমার বাবা কী করতে চেয়েছিলেন তা যখনই ভাবি তখনই আমি তার ডায়েরি পড়ি। সেটা আমার অনুপ্রেরণা। আমার বাবা সবসময় জনগণের কথা ভাবতেন। কারণ তারা ছিল খুবই গরিব। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ছিল গরিব। এই জনগণের জন্যই বাবা আত্মনিয়োগ করেন। তিনি জনগণের দুঃখ-কষ্ট জানতেন। তাদের উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে আমরা দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি। তিনি আমাকে জনগণের জন্য আত্মনিয়োগ করতে বলেছিলেন।’
সিটিজিএন’র সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি তো বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় এবং একজন ক্ষমতাধর নারী।’ প্রধানমন্ত্রীর বিনয়ী জবাব, ‘আমি অনুভব করি জনগণের সেবা করতে হবে আমাকে। অবশ্যই জনগণও আমাকে ভালোবাসে। আপনি জানেন, আমি আমার বোন ছাড়া পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। তবে জনগণই আমার আসল পরিবার। তারা আমার আপনজন।’
বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সদ্য সমাপ্ত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে ব্যবসার নানা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এখন আসলে পৃথিবীটা গ্লোবাল ভিলেজ তথা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। এখানে কেউ একা চলতে পারে না। আমাদের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ আর জীবনমান উন্নয়ন করতে আমি সবসময়ই আঞ্চলিক সংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীন ও প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কী করে আরও বেশি সহযোগিতা বাড়ানো যায় সে-বিষয়ে কাজ করছি। সত্যি বলতে কি, চীন তো আমাদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেই যাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চীনের অনেক কোম্পানিই আমাদের সঙ্গে কাজ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য আরও নতুন পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার মিলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেটাকে বলা হয় বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর। তিনি আশা করেন, এই চুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী চীনের অর্থনৈতিক উন্নতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। চীনের উন্নতির ফলে তার প্রতিবেশীরাও লাভবান হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভীষণ সন্তুষ্ট। এটা ভিন্ন ধরনের এক সন্তুষ্টি। আমার প্রতিবেশী যথেষ্ট উন্নতি করছে। আমরা চীনের কাছ থেকে শিখতে পারি এবং একযোগে কাজ করতে পারি। সত্যি কথা বলতে কি, ৭০ বছর আগে যখন চীনের পুনর্জন্ম হয়, তখন কী অবস্থা ছিল তা কল্পনাও করা যায় না। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই চীন উন্নতি করেছে। এটা গর্ব করার মতো বিষয়। আমি অবশ্যই বলব যে এটা অসাধারণ অর্জন।’

Category:

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: অবশেষে রাজধানীর চাঁনখারপুলে স্থাপিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে’র সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক চালু হয়েছে। গত ৪ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় ১৮ তলাবিশিষ্ট এই বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপি। তিনি ইনস্টিটিউটের লবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। গত বছর ২৪ অক্টোবর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এই ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুবিধার পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই ইনস্টিটিউটের সেবাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম, জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরুদ্দিন আহমেদ। এরপর হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ও বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। পরিদর্শন শেষে একটি উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। আলোচনায় দেশের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগুনে পোড়া চিকিৎসার লক্ষ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ থেকে রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়া হবে। এই ইনস্টিটিউটে আরও পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল। ১৮ তলাবিশিষ্ট ইনস্টিটিউটের মাটির নিচে তিনতলা বেজমেন্ট। সেখানে গাড়ি পার্কিং ও রেডিওলজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভাগ রাখা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটটিতে ৫০০টি শয্যা, ৫০টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার ও অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড রয়েছে। ভবনটিকে ৩টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। একদিকে থাকছে বার্ন ইউনিট, অন্যদিকে প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট আর অন্য ব্লকটিতে একাডেমিক ভবন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকছে।

Category:

৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলিবর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছর সশ্রম কারাদ- এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এ আদেশ দেন। এ সময় মোট ৫২ আসামির মধ্যে ৩৩ জন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজন আসামি মারা গেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ২৫ বছর পর এ রায় দেওয়া হলো।
মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন : জেলার ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান, পৌর বিএনপির সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, শামসুল আলম, শহিদুল ইসলাম অটল, রেজাউল করিম শাহীন ও আজিজুর রহমান শাহীন। এর মধ্যে আটজন কারাগারে আছেন। জাকারিয়া পিন্টু পলাতক।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন : আমিনুল ইসলাম (পলাতক), আজাদ হোসেন ওরফে খোকন, ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান শিমু, আনিসুর রহমান সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, মো. রবি (পলাতক), মো. এনাম, আবুল কাশেম হালট (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন (পলাতক), মামুন (পলাতক), সেলিম, কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও একেএম ফিরোজুল ইসলাম পায়েল।
এছাড়া ১০ বছর করে সাজা প্রদান করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা রন রিয়াজী (পলাতক), আজমল হোসেন ডাবলু, মুক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, হুমায়ুন কবির দুলাল, তুহিন বিন সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামূল কবির, জামরুল (পলাতক) ও বরকতকে।
মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাবার সময় ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে দুর্বৃত্তরা ট্রেনে তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নামে একটি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের হওয়ার পরের বছরে এ মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিল। কিন্তু আদালত ঐ রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে। পরে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে গত ৩০ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ জন নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। গত ২ জুলাই এ মামলার আরও দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করে। অন্যদিকে পুলিশ ওইদিন রাতেই এ মামলার আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৩৩ জন আসামি জেলহাজতে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ১৪ জন এবং মারা গেছে পাঁচজন। এ মামলায় আদালতে ১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবনার পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা ও অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনাইন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম গেদা ও অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট একেএম শামসুল হুদা।
পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা বলেন, রায় ঘোষণার পর বিচারক আদালতে উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের গ্রেফতারের পর থেকে রায়ের কার্যকারিতা শুরু হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, এ রায়ে সন্তুষ্ট নন তারা। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত রায় দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, রায় নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কোনো কর্মসূচিও নেই। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবিলা করা হবে।
আনন্দ মিছিল : এদিকে রায় ঘোষণার খবরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ঈশ্বরদী শহরে পৃথক দুটি আনন্দ মিছিল বের করে। চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্যতম সাক্ষী সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও এ রায় প্রমাণ করে যে দেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায় যথার্থ। এতে সাধারণ মানুষের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা ফিরে আসবে।

Category:

‘জনবান্ধব উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট’

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হবে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উন্নয়নের গতিধারা ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবই।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৯ জুন বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা এবং ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করে বলেন, অতীতের সকল সরকারের আমলের বাজেট ছিল বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর। উন্নয়ন বাজেটও ছিল বিদেশনির্ভর। কিন্তু আমরা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিবার বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছি বলেই এবারের বাজেটে বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ। আর উন্নয়ন বাজেটও আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। এর মাধ্যমে আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং আত্মমর্যাদাশীলতা প্রমাণ করেছে। প্রতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও আমাদের অন্যতম সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধির আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশেরÑ শিরোনামে এবার ৫ লাখ ২৩ লাখ ১৯০ কোটি টাকার সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। গত ১০ বছরে সারাদেশেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের হিসাব অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জনে যে ২০টি দেশ অবদান রাখছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।
টানা দুই মেয়াদে দেশের উন্নয়ন-সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মানুষের গড় আয়ু ৬৫ থেকে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় ৫৪৩ থেকে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি, ৪৫ ভাগ দারিদ্র্যকে ২১ ভাগের নিচে নামিয়ে আনতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, দারিদ্র্যের হার আগামীতে ১৬-১৭ ভাগে নামিয়ে আনব।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। মূল্যস্ফীতি আমরা ৫ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যখন একটি দেশের প্রবৃদ্ধি উচ্চহারে বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতি নিচে থাকেÑ সেই অর্থনীতির সুফল দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করে থাকে। এ-কারণে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন সমৃদ্ধ, বাজেটের জিডিপির ৫ ভাগ ঘাটতিও সহনীয়।
আগামী ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংসদ নেতা বলেন, ওই সময়ের মধ্যে মাথা পিছু আয় ২ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রতিটি মানুষ উপকৃত হবে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে। কওমি মাদ্রাসাকে মূল শিক্ষার ধারায় ফিরে এনেছি। এরাও শিক্ষা শেষে দেশে-বিদেশে চাকরির পাবে। কারণ এরাও এদেশেরই সন্তান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়াতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যুব সমাজের উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব অত্যন্ত যুগোপযোগী। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে শতকরা ২ ভাগ প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, এতে প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে। তিনি বলেন, দেশের মোট শ্রম শক্তির বড় অংশই কৃষি খাতে নিয়োজিত। এক দশকে কৃষি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি এবং এ খাতে ব্যাপক সাফল্যে এসেছে। ২ কোটি ৮ লাখ কৃষক কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণের ভর্তুকি পাচ্ছে। ব্যাপক গবেষণার কারণেই দেশের কৃষি খাতে ফসলের উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়েছে।
প্রতি গ্রামে শহরের আধুনিক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দেশের সকল জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন দেশের ৯৩ ভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
দেশের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি, মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে দ্রুত রেল, নৌসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রামে দ্রুতগামীর ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে তার সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়েছি। এখন ফোর-জি চলছে, ফাইভ-জি আনার পরিকল্পনা চলছে। আর দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনা খাত তৈরি পোশাক খাতে ১ ভাগ প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওই শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা (সামরিক স্বৈরশাসক) ক্ষমতায় থেকে শুধু নিজেরা দুর্নীতি করেনি, দুর্নীতিকে সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান বা নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের প্রচেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা যুগোপযোগী। আর ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। কারণ ব্যাংকে উচ্চহারে সুদ থাকলে শিল্প খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিকশিত হয় না। আর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য অনেক প্রণোদনা রয়েছে, যা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে বর্তমান সরকারের আমলে প্রস্তাবিত এই প্রথম বাজেট অত্যন্ত জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম বাজেট। এই বাজেট দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন চায়। দেশের মানুষের কল্যাণ ও দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবই ইনশাল্লাহ।
কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষের অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ আসে। কিন্তু এই অপ্রত্যাশিত অর্থটা কোনো কাজে লাগানো যায় না। তাদের যদি একটা সুযোগ দেয়া হয়, যেন এই টাকাটা মূল ধারায় চলে আসে এবং সেটা জনগণের কাজে দেবে। কোথায় গুঁজে রাখবে বা বিদেশে পাচার করছে সেটাও একটু খতিয়ে দেখা দরকার। সেজন্য সুযোগটা দেয়া হচ্ছে। তবে যদি দেখি সেখানে দুর্নীতি বাড়ছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব এবং সেটার সুযোগ আছে। দুর্নীতিটা কখনও প্রশ্রয় দেব না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে।

Category:

৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের গত ৩০ জুন অধিবেশনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বাজেট পাস হয়। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম বাজেট।
৩০ জুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয় সকাল ১০টায়। দুপুরে অর্থমন্ত্রী বাজেট পাস করার জন্য উপস্থাপন করেন। সংসদে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। এ ব্যয় মেটাতে অনুদান ব্যতীত আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় ধরা হয় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। অনুদানসহ ঘাটতি ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা এবং অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ধরা হয়।
নতুন বাজেটে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এছাড়া কর ব্যতীত আয় ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বাজেটে। বাজেটের সামগ্রিক ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাস : নতুন অর্থবছরের বাজেট ব্যয়ের বাইরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সংযুক্ত দায় মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৮ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। সংযুক্ত তহবিলের দায়ের মধ্যে ট্রেজারি বিলের দায় পরিশোধ, হাইকোর্টের বিচারপতি ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বেতনও অন্তর্ভুক্ত।
মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব : বাজেটের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ৪৮৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব এবং ৫৯টি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে আসা দাবি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। আলোচনা শেষে সব প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
প্রসংগত, ১৩ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর মোট ২৫৫ জন সংসদ সদস্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নেন।

জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে অভিহিত করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে এই বাজেট। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটের ২০টি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এফসিসিসিআই আরও বলেছে, তারা বাজেট নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করবে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রস্তাব পরে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির দ্রুত রোগমুক্তির জন্য আরোগ্য কামনা করা হয়। গত ১৫ জুন দুপুরে মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে এফবিসিসিআিই। ওই সময় সংগঠনটির সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম মূল বক্তব্য পাঠ করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট, জমি ও শিল্পে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত বাজেটের একটি ভালো দিক। এ কারণে যে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি হলে বেসরকারি খাত বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, অবকাঠামো তহবিল, অবকাঠামো বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। তবে হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা ও সঠিক অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি থাকবে না। ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বৃদ্ধি পাবে না। ব্যবসা সহজীকরণের কোনো বাধা থাকবে না। এতে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং করের আওতা বৃদ্ধি পাবে।

Category: