Blog Archives

সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয়

Posted on by 0 comment
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা

উত্তরণ প্রতিবেদন: দ  ক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিয়ে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেটে তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে গুরুত্ব দিয়ে একটি দ্রুতবর্ধমান অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। এজন্য তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথাই শুধু বলেন নি, জাপানকে অনুকরণের বিষয়টি তুলে এনেছেন। তার আশা, হয়তো জাপানের অগ্রগতির কৌশল রপ্ত করতে পারলে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বদরবারে অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। অর্থমন্ত্রীর স্বপ্ন অনেক। সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে তার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। তিনি বলছেন, ‘সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’। এমন উদ্দেশে তিনি নিয়েছেন কিছু পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থের সংস্থান করতে তিনি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছেন। এমন কী রাজস্ব আদায়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে তার বাজেট বক্তৃতায়। একই সঙ্গে তিনি সহনীয়ভাবে ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে রাজস্ব প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেছেন। যেমনটি তিনি তার বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সমন্বয় সাধন ঘটিয়েছেন। অনন্য উপস্থাপনায় বাজেটকে তুলে ধরার বিষয়টিও ছিল প্রশংসনীয়। তবে শারীরিক অসুস্থতায় তিনি কিছুটা হোঁচট খেয়েছেন। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাজেট বক্তৃতার কিছু অংশ সংসদে পড়ে শোনান।
মোট ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুসহ নানা প্রস্তাব করেছেন। অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ এবারে বিস্তৃত হয়েছে। তবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও তা বাড়ান নি। জীবনযাত্রার ব্যয় মিটিয়ে এই সীমা ৫ লাখ টাকা হওয়ার সুপারিশ করেছিলেন অনেকেই। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের মুনাফার কর দ্বিগুণ করেছেন। মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূরক শুল্ক দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়বে। মোবাইল কোম্পানির ন্যূনতম কর বাড়ানো হয়েছে। সব ধরনের রপ্তানি কর বাড়ানো হয়েছে ৪ গুণ। ৫০ কোটি টাকার সম্পদের ওপর সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। এভাবে অন্যান্য খাতেও কর বাড়িয়ে তিনি রাজস্ব বাবদ মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন। তার প্রস্তাবিত ব্যয় বরাদ্দ মেটাতে রাজস্ব আদায়ে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে কারদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আয়কর খাতে এনবিআর’র মোট আদায় ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। যদিও সরকারি প্রকল্পের ভ্যাট বাদ দিলে আয়কর থেকে এখনও বেশি আদায় হয়ে থাকে। এবারে গ্রামাঞ্চলেও আয়কর কর্মকর্তারা হানা দেবেন, এমন আভাসও রয়েছে। দেশীয় শিল্পে বিশেষত হালকা মাঝারি শিল্পে কিছুটা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃষি, তৈরি পোশাকসহ কিছু খাত পাচ্ছে প্রণোদনা। তবে দেশকে ভারী শিল্পসমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের চাহিদার বিষয়টি অনুধাবন করেছেন, সে আলোকে কিছু কর্মপরিকল্পনাও দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়
আসছে অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে ছিল ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অধীন আয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবার ফি, হাসপাতালের টিকিট মূল্য, সেতুর টোলসহ বিভিন্ন খাত থেকে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যয়ের খাত
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ কোট টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা বা ৩১.৪৬ শতাংশ, যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন খাতে ৬৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, বৃহত্তর যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৩.৬৩ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ২০২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সুদ পরিশোধ বাবদ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০.৯১ শতাংশ। নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ০.২৪ শতাংশ।

ঘাটতি
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। ঋণের অর্থের এই পরিমাণ বিদায়ি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ঋণের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। এবার বৈদেশিক উৎস থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা আগের ঋণের কিস্তি পরিশোধে খরচ হবে। ফলে সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে।

সম্পূরক বাজেট
বাজেট উপস্থাপনার শুরুতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও রাজস্ব আয় প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম হবে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত আহরিত রাজস্বের পরিমাণ ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি ব্যয় হয় বার্ষিক বরাদ্দের ৪৪.৪ শতাংশ। সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। মূল লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল লক্ষ্যের চেয়ে ২২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সর্বমোট সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ ব্যয় ২২ হাজার ৩২ কোটি টাকা হ্রাস করে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা হতে ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয়ের প্রাক্কলন হ্রাস করা হয়েছে ১৬ হাজার ৩২ কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি অর্থায়ন
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। মূল বাজেটে ঘাটতির বিপরীতে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের প্রাক্কলন ছিল ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ১৮৪ কোটি টাকায়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সূত্র হতে অর্থায়ণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

Category:

‘দলকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে’

Posted on by 0 comment

আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মুজিব আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে বলে জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতি অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের নাম এখনও সমুজ্জ্বল। আওয়ামী লীগের শিকড় এতই গভীরে প্রোথিত যে, শত ষড়যন্ত্র করে কেউ উপড়ে ফেলতে পারেনি; বরং আওয়ামী লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছেÑ আওয়ামী লীগ ততই শক্তিশালী হয়েছে। তাই গত ৭০ বছরের ইতিহাসে উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের নামই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগকে হীরার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর যত আঘাত এসেছে, ততই দলটি উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই বারবার আঘাত ও নির্যাতনের পরও শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলেই বারবার আঘাত আসা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তা ধরে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তাই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মুজিবাদর্শে দীক্ষিত হতে হবে, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।
গত ২৪ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে। এই মীরজাফর তো গালিতেই পরিণত হয়েছে। এরপর ২০০ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখ-। ২০০ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই ২০০ বছর আগে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ইতিহাসবিদ-কলামিস্ট বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত। সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
আওয়ামী লীগের জন্মদিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে দেশের মানুষের কল্যাণ, মুক্তি, স্বাধীনতা ও সকল অর্জনের ইতিহাস জড়িত। একটি দেশের জন্য আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিশাল আত্মত্যাগ করেছেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নেই যে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এত আত্মত্যাগ যেটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে বারবার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ হচ্ছে হীরের টুকরার মতো। হীরাকে যতই টুকরো করা হয় ততই উজ্জ্বল হয়, তেমনি আওয়ামী লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে ততই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ও উজ্জ্বল হয়েছে। যত বেশি আঘাত এসেছে আওয়ামী লীগ ততবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মনে রাখতে হবে, এ দলটির উত্তরসূরিরা যেভাবে আত্মত্যাগ করে গেছেন, সকলকে তাদের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, উচ্চমানের চিন্তা-ভাবনা করবে, আর সাধারণভাবে জীবনযাপন করবে। যে কোনো মহৎ অর্জনের পেছনে বড় ত্যাগের ঘটনা জড়িত আছে। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতি মেনে কাজ করে যাচ্ছি বলেই দেশ আজ উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হয়েছে।
বারবার নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ প্রদানের জন্য ভোটারসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। বারবার নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলেই আমরা দেশের এত উন্নয়ন করতে পেরেছি। তাই আমরা কোনো অহমিকা করব না, দেশের মানুষ সারাবিশ্বে যেন মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারেÑ সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও জনগণের দলে পরিণত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, মওলানা ভাসানী যখন আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাপ করেছিল, তখন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন। দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে জাতির পিতা মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহণ করেন এবং সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়ে তিনি দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন, গোটা জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের শোষণ-বঞ্চনার কথা বলেছেন, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণে সংগ্রাম করে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশসেবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা দেশকে শুধু উন্নতিই করছি না, আমরা শত বছরের পরিকল্পনা দিয়েছি। আগামী ১০০ বছরের জন্য ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছি। আমরা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০৭১ সাল পর্যন্ত আমরা কেউ বেঁচে থাকব না। তবুও আগামী প্রজন্মের জন্য ও দেশের উন্নয়নে আমরা এক শ’ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, পাকিস্তান রচিত হয়েছিল সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প দিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বে। সেই সাম্প্রদায়িকতাকে পরিহার করে অসাম্প্রদায়িক মন্ত্রে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশে এমন একটি পরিবার নেই যেই পরিবারে আওয়ামী লীগ নেই। এ কারণেই ২১ বছর ধরে নানা চক্রান্ত করেও কেউ আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করতে পারেনি।
আরেক আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল। একটি স্বাধীনতা, অন্যটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, আর তার কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের মধ্যে ৩৮ বছরই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আজ বটবৃক্ষ। সমস্ত ষড়যন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে জনগণের হৃদয় জয় করে আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে, যাচ্ছে এবং যাবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরেই বাংলাদেশের মানুষকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ চিরদিন ছিল, আছে এবং থাকবে। আওয়ামী লীগ শুধু গরিবদের নয়, পুরো জনগণের আস্থার দলে পরিণত হয়েছে। সাহসের সময় সাহস, সংযমের সময় সংযম এবং বিনয়ের সময় বিনয় দেখিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে শক্তিশালীভাবে টিকে আছে। সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা দুবার ফাঁসির মঞ্চে গেছে, ৪ হাজার ৩৬৮ বার কারাগারে গেছেন এদেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য। পাকিস্তানের কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার সাহস পায়নি। হত্যা করেছে মুশতাক ও জিয়া। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের নাগরিক নয়, পাকিস্তানের নাগরিক। জিয়ার পিতা-মাতার কবরও পাকিস্তানে। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে জিয়াকে ’৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পোস্টিং দেয়া হয়। মুশতাক ও জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি বলেই ইনডেমনিটি দিয়েছিল।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, দেশে কোটি কোটি মানুষের আস্থার বড় পরিবার হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরিবার। চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতন সহ্য করেছে; কিন্তু কখনও বেইমানি কিংবা মাঠ ছেড়ে চলে যায়নি। ১৯৬৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের বাসায় গিয়ে আমার কান ধরে বলেছিলেন, মনসুর আলীর পুত্র কেন ছাত্র ইউনিয়ন করবে? আজ থেকে তুই (নাসিম) ছাত্রলীগ করবি। সেই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ছাত্রলীগে যুক্ত হয়ে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছি, আমৃত্যু থাকব।
সূচনা বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ আমাদের শপথ নিতে হবে যে কোনো মূল্যে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে। নেতৃত্বে সততা বজায় রেখে আমাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সব সময় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই আদর্শের পতাকা আমাদেরই বহন করতে হবে।

Category:

জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত ভারসাম্যপূর্ণ ও গণকল্যাণমুখী

Posted on by 0 comment
আওয়ামী লীগের বাজেট প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগের বাজেট প্রতিক্রিয়া

উত্তরণ প্রতিবেদন: আ ওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও গণকল্যাণমুখী’ উল্লেখ করে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন সব সময়ই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমরা গ্রহণ করেছি। এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নতুন সরকার নতুন স্পিরিট নিয়ে, নতুন উদ্যম নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে। দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার
বাজেট এটা। তবে বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনাকে মনগড়া, গতানুগতিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত ১৫ জুন রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি ১০ বছর ধরে বাজেট সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ করেছে, ঠিক একই মন্তব্য এবারও করেছে। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মিথ্যাচার ও অপপ্রচার শুরু করেছে। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতির নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাজেটের বিস্তৃতি অনুধাবনের ক্ষমতা নেই। তবে আওয়ামী লীগ বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রমণ করে প্রতিবছরই যেভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়, এবারও তা করা হবে বলে তিনি জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট এক বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়নি। আর এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। বাজেট নিয়ে হতাশার কিছু নেই। বাজেটে কোথাও নেগেটিভ কোনো বিষয় নেই। এ বাজেট একটি অনন্য সাধারণ দলিল। এ বাজেট নেতিবাচক তাদের দৃষ্টিতে যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করে। যুক্তিসংগত প্রস্তাব গ্রহণের মতো উদারতা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত দেশ গঠনের সব উদ্যোগ ও লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর বাজেট এটি। ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ বাজেট বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট। তিনি বলেন, এ বছরের বাজেটও দলের ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটেছে। এ বাজেটের বিস্তৃতি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বাজেটে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন, ২১০০ সাল ডেল্টা প্লানের বিস্তৃতি রয়েছে। সময়োপযোগী এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বাজেটে বেসরকারি খাতকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের আয়ের ওপর প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাজেট শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বাজেট নয়, এটি একটি মানবিক বাজেট। প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে প্রস্তাবিত এই বাজেটে। তিনি বলেন, তারুণ্যের শক্তি দেশের সমৃদ্ধি। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ দলের নির্বাচনী ইশতেহারকে বাস্তবায়নের জন্য গ্রামে সকল নাগরিক সুবিধা বাড়ানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত এ বাজেট বাস্তবায়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, দেশের সম্পদ জনকল্যাণে ব্যয় হয়। আর সেজন্যই দেশ উন্নয়নের সকল সূচকে কাক্সিক্ষত উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। নব উদ্যম, নব উদ্যোগের এবারকার বাজেট। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে সাফল্যের সম্ভাবনাময় বাজেট এটা। দেশকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট এটা। এই বাজেট দেশের জনগণের জন্য অনন্য এক সাফল্যের দলিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সরকার এ বাজেট নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে টানা ১১টা বাজেট দিয়েছে। আর ১০ বাজেটের ফসল হিসেবে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাজেট সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Category:

২ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড এডিপি অনুমোদন

Posted on by 0 comment

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য উন্নয়ন বাজেটে প্রথমবারের মতো রেকর্ড ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে এত বেশি এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেই হিসাবে এটি রেকর্ড। স্থানীয় সরকার বিভাগকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রায় ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার এডিপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি অনুমোদন করেছিল সরকার। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৮০ হাজার কোটি টাকা। গত ২১ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেন এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ খুঁজতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এটি রেকর্ড এডিপি অনুমোদন। এবারই প্রথম ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে এডিপি অনুমোদন হলো। অনুমোদিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রয়েছে। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেশনের ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস ৭ হাজার ৮২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস ৫ হাজার ৩১০ কোটি টাকা রয়েছে। সুতরাং মোট ১ হাজার ৫৬৪ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তাসহ এডিপির সর্বমোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকল্প-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বিদ্যমান বিভিন্ন নীতিমালার আলোকে অগ্রাধিকার খাতসমূহে পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস তথা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ইত্যাদিসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একুশ শতকের উপযোগী একটি উন্নত দেশ করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এদিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকাশিত দুর্নীতি বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি এক্সসাইটেড। প্রকল্পে তিন টাকার বালিশ তুলতে পাঁচ টাকা হলো কেন? বিষয়টি তদন্ত করতে রূপপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) টিম পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কেনাকাটায় নিয়ে দুটো তদন্ত চলছে। একটা পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডাব্লিউডি) অন্যটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আমরাও আইএমইডিকে দিয়ে তদন্ত করাব। রূপপুরে টিম যাবে। এই টিম কি তথ্য দেওয়া তা প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হবে। এর পরেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারব। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন থেমে থাকবে না। দেশের উন্নয়ন চলবে। আমাদের দেশের সকল উন্নয়ন ধরে রাখব।
এডিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া মাঝপথে এ অর্থবছরের বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে ধরা হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মাসেতু ও পদ্মাসেতুতে রেলসংযোগসহ গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন (জুলাই-থেকে) ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ-সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৭ হাজার ৩০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ, ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।
অন্যান্য মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে এমএ মান্নান বলেন, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চাইলে টাকার কোনো সমস্যা নেই। কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি চাহিদার কথা আমাদের বোঝাতে পারলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের গবেষণা ও পাটে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। আমরা এই দুটো বিষয়ের উন্নয়নে কাজ করব। কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক বরাদ্দের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিবহন খাতে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মাসেতু ও পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া, অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।
এছাড়া, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতের বরাদ্দ হচ্ছে শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনতে জন প্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া, পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬, জেডিসিএফ প্রকল্প একটি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে ৮৯টি। অন্যদিকে সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২ এবং বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এছাড়া, বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৪১টি।
এডিপি’র বিভিন্ন প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের নামে অহেতুক ও অতিরিক্ত জমি নেওয়া যাবে না। ফসলি জমিতে হাত দেওয়া যাবে না। যেসব প্রকল্প সমাপ্ত হচ্ছে না, সেগুলো কেন হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। প্রয়োজনে সহায়তা দিয়ে হলেও শেষ করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

Category:

দেশের জন্য কাজ করায় আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে

Posted on by 0 comment

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরের পর এত বড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে এটা কখনও আমি ভাবিনি, চাইওনি। এটা চিন্তাতেও ছিল না। দেশের জন্য কাজ করতে এবং গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে দেশে ফিরেছিলাম। এজন্যই দিনের পর দিন সংগ্রাম করেছি। কেননা, গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণœ হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হোক, গত ৩৮ বছরে এমন কোনো কাজ আমি করিনি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনও করেনি। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, কাজ করেছি দেশের মানুষের জন্য।
গত ১৭ মে ছিল বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দিনটিতে সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। এ-সময় তিনি আরও বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এই দেশটা যেন আবারও স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের হাতে না যায়। কেউ যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্কুল-জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তারপর কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিতে তখনও ছাত্রলীগেরই সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতি ছাত্র-রাজনীতি থেকেই শুরু। তবে কখনও কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, পোস্ট চাইওনি কখনও। আমরা পদ সৃষ্টি করে এবং সবাইকে পদে বসানো এই দায়িত্বটাই পালন করতাম। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে দেশের জন্য কাজ করার কারণেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এ-কারণেই শুধু দেশে নয় গোটা উপমহাদেশে আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। দেশবিরোধীরা পঁচাত্তরের পর স্বাধীনতার চেতনা ব্যাহত করেছে। যারা স্বাধীনতা ও দেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে তারা ক্ষমতায় থাকার কারণে যে আদর্শ নিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, যারা বারবার চেয়েছে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু আওয়ামী লীগের মতোই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। আজকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে দল মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখতে পেয়েছি এবারের নির্বাচনে। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণরা সবাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এর কারণ হলোÑ আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য স্নান করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা। নইলে ক্ষমতায় থাকলে সাধারণত মানুষের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।
কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই মানুষের ভোট আমরা পেয়েছি। জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দুটোই বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণœ হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হোক, গত ৩৮ বছরে এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনও করিনি। আমরা যতবার ক্ষমতায় এসেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি, তত মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে কী পেলাম, না পেলাম সেই চিন্তা করি না। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।
টানা ৩৮ বছর দলের সভাপতি থাকা বোধহয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘না’ বলে ওঠেন। তারা শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনিই সঠিক নেতা, আপনার হাতেই দেশ ও দল নিরাপদ। আপনাকেই এ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হবে।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে, এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে যখন ফিরেছিলাম (১৯৮১ সালের ১৭ মে), সেদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। ফ্লাইটটি বাংলার মাটি ছুঁয়েছে, ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ এসেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এত মানুষের ঢল যে এইটুকু পথ আসতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লেগে গিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সেই নির্মম ঘটনার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে, জুলাই মাসের ৩০ তারিখে ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে আমি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। রেহানা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কলেজে গেলাম। সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম, কামাল, জামাল, রাসেল। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শুনলাম, আমাদের কেউ নেই, আমরা নিঃস্ব। আমাদের দেশেও আসতে দেওয়া হলো না। দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসব। আমি জানি না কী করব, কোথায় থাকব, কই যাব। অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি। তবু সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আসতেই হবে।
বঙ্গবন্ধুই রাজনৈতিক আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতির কাজ করে যেতাম আব্বার আদর্শ নিয়ে। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন। বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। আমরা কখনও টানা দুই বছরও আব্বাকে জেলের বাইরে পাইনি। এ নিয়ে আমাদের কোনো হা-হুতাশ ছিল না। আমার মা খুব চিন্তাশীল ছিলেন, তিনি বাসাও দেখতেন, বাইরেও দেখতেন। সাংসারিক কোনো ঝামেলা তিনি আব্বাকে দিতে চাইতেন না। আমাদের দাদা-দাদি, চাচারা পারস্পরিক সহযোগিতা করতেন। কাজেই এমন একটি পরিবেশ থেকে আমরা উঠে এসেছি, যে মাথাতেই ছিল দেশের জন্য কিছু একটা করে যেতে হবে।
দেশে ফেরার পরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফেরার পর থেকেই পদে পদে বাধা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারাই তখন ক্ষমতায়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ১৯টি ক্যু হয়েছিল। এক সামরিক শাসকের মৃত্যুর পর আরেক সামরিক শাসক এলো। আমরা আওয়ামী লীগ কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য একটার পর একটা সংগ্রাম করেই গেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক ধারা আর ব্যবস্থা ছাড়া দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় ছাড়াও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তা সত্ত্বেও দলকে টিকিয়ে রাখতে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ঠিক যেভাবে গড়ে উঠেছিল, ঠিক সেভাবেই আজ বাংলাদেশের এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। যেভাবে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি তা আমরা দেখতে পাই এবারের নির্বাচনে। আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ বলে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমি জানি না, যখনই একটা কাজ সফলভাবে করি, তখন শুধু আমার এটাই মনে হয় যে, নিশ্চয় আমার আব্বা-আম্মা বেহেশত থেকে দেখছেন।
সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর বিদেশে নির্বাসিত থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আসার আগে বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।
এরপর থেকে তিনি টানা ৩৮ বছর বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠনের আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক টার্ম ও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে টানা তিনবার মিলিয়ে বাংলাদেশে ইতিহাসে চার টার্ম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

Category:

উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণে জাপান পাশে থাকবে

Posted on by 0 comment
PddM

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণে জাপানের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। গত ২৯ মে রাজধানী টোকিওতে জাপান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকের পর শিনজো আবে ও শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ’ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তির পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। এ লক্ষ্য পূরণে জাপান আমাদের পাশে থাকবে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী আবে আমাকে নিশ্চিত করেছেন।
জাপান এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। ’৭২ সাল থেকে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি প্রকল্পের ৩৬ হাজার কোটি টাকার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর এবং ২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থই দিচ্ছে জাপান। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য ‘বিশেষ জায়গা’ রয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। জাপানের ঐতিহাসিক উন্নয়ন থেকে তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ‘স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলতে পারি, সেই কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এখন আমরা সঠিক পথ ধরেই এগিয়ে চলেছি।’
জাপানের সঙ্গে করা আড়াইশ’ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তির অর্থে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১), বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্প (২), জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২) ও মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে (৫) অর্থায়ন করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, জাপান সব সময় আমাদের পাশে আছে।
শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করার বিষয়ে কিছু নতুন ধারণা (আইডিয়া) নিয়ে আলোচনা করেছি। সম্ভাব্য যেসব ক্ষেত্র থেকে দুই দেশই লাভবান হতে পারে, সেগুলো নিয়ে কাজ করার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বিষয়ে শিনজো আবের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপান সহায়তা দেবে বলে শিনজো আবে নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও দুজনের আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ’ জাপান একে অপরের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আড়াই বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করায় শিনজো আবেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে টেকসই ও দ্রুত সমাধানের উপায় খোঁজার বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

Category:

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ওবায়দুল কাদের

Posted on by 0 comment

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। গত ১৫ মে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফিরে নিজের শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি। জনগণের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি উল্লেখ করে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে বিমানবন্দরে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওবায়দুল কাদের বেরিয়ে এলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং পরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ-সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগ ভরা কণ্ঠে তার চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলা হয় মাদার অব হিউম্যানিটি। আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল। তার সুস্থতা কামনার জন্য বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানার কাছেও অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও দলের সব নেতাকর্মীসহ যারা তার খোঁজখবর রেখেছেন, সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেছেন, সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার দলের সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে-সময় আমি তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম।
গত ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচ- ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। ওই রাতেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডা. ফিলিপ কোহ’র নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ২০ মার্চ ওই হাসপাতালে তার বাইপাস সার্জারি করেন মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ২৬ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেও চিকিৎসকরা ‘চেকআপের জন্য’ আরও কিছুদিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।

Category:

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Posted on by 0 comment

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ ৮ হাজার দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে গত ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মোদি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছাড়াও ৮ হাজার অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ ঠাঁই পেয়েছেন। নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পর এ দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। এর কিছুক্ষণ আগেই নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তার একটি তালিকা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত হওয়ার আগে বিকাল ৫টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে হাজির হন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাদের মোদির বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। ২৩ মে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় মেয়াদে এনডিএ জোট সরকারের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে ২৮ মে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী নতুন মেয়াদে নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মন্ত্রিসভায় নতুন একজন যোগ দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম সেরা চমক এ রাজ্যেই। একই সঙ্গে বিজেপির নতুন জায়গা করে নেওয়া উড়িষ্যা ও উত্তর-পূর্বের মতো অঞ্চলগুলো থেকে প্রতিনিধি সংযোজন হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং জেটলি সত্যিই না থাকলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার কিছু পরিবর্তন মূলত আনা হবে জোটের কয়েকজনকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য; যেমনÑ নিতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড এবং আকেলি দল রয়েছে এ তালিকায়। বিহারে বিজেপির শক্তিশালী মিত্র নিতিশ কুমার ওই রাজ্যে দলটিকে বিরাট বিজয় অর্জন করতে ভূমিকা রাখেন। সেই অধিকারে তিনি মন্ত্রিসভায় দুটো পদ চেয়েছেন।
শপথ গ্রহণকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি ৩০ মে সকালে মহাত্মা গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নয়াদিল্লি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদসহ প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধান ও দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনসহ রেকর্ড ৮ হাজার অতিথির যোগ দেন। কংগ্রেসপ্রধান রাহুল গান্ধী, ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়ালও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রথমে থাকার কথা বললেও নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ এনে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

মোদির নতুন মন্ত্রিসভা
নরেন্দ্র মোদি Ñ প্রধানমন্ত্রী, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি দফতর ও মহাকাশ দফতর; প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ; নীতিন গড়করি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী; ডিভি সদানন্দ গৌড়া সার ও রাসায়নিক; নির্মলা সীতারমন অর্থমন্ত্রী ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী; রামবিলাস পাসোয়ান ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন; নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রাম উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ; রবি শঙ্কর প্রসাদ আইন ও বিচার বিষয়ক, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি; হারসিমরাত কাউর বাদল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প; থাওয়ার চাঁদ গেহলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন; ড. এস জয়শঙ্কর পররাষ্ট্রমন্ত্রী; রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক; অর্জুন মুন্ডু আদিবাসী; স্মৃতি ইরানি নারী ও শিশু কল্যাণ ও বস্ত্র, ডা. হর্ষবর্ধন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূ-বিজ্ঞান বিষয়ক; প্রকাশ জাভাদেকর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার; পিযুষ গয়াল শিল্প ও বাণিজ্য এবং রেলমন্ত্রী; ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত; মুখতার আব্বাস নাকভি সংখ্যালঘু; প্রহ্লাদ জোশি পার্লামেন্ট, কয়লা ও খনি; ড. মহেন্দ্র নাথ পান্ডে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা; অরবিন্দ গুপত সাওয়ান্ত ভারি শিল্প ও সরকারি উদ্যোগ; গিরিরাজ সিং প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য; গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জলবিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) দায়িত্ব পেয়েছেন ৯ জন। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাংওয়ার; পরিসংখ্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ; আয়ুর্বেদ, যোগ ব্যায়াম ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানী, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি (এওয়াইইউএসএইচ) বিষয়ক এবং প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক; উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি ও মহাকাশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং; যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু; সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল; বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং; গৃহায়ন ও শহর বিষয়ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরি এবং জাহাজ চলাচল এবং রাসায়নিক সার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মনসুখ এল মান্দাভিয়া।
এছাড়া আরও ২৪ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেনÑ ইস্পাত বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাগনসিং কুলাস্তে; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার কুবে; পার্লামেন্ট বিষয়ক ও ভারী শিল্প ও সরকারি প্রকল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভি কে সিং; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৃষাণ পাল; ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দানভি রাওসাহেব দাদারাও; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পার্শ্বোত্তম রুপালা; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামদাস আদাওয়ালে; গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী নিরঞ্জন জ্যোতি; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব কুমার বালিয়ান; মানবসম্পদ উন্নয়ন, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ধত্রে সঞ্জয় শ্যামরাও; অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর; রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী অঙ্গাদি সুরেশ চান্নাবাসাপ্পা; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়; জলবিদ্যুৎ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রত্তন লাল কাটারিয়া; পররাষ্ট্র ও পার্লামেন্ট্রারি অ্যাফেয়ার্স প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরন; আদিবাসী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেণুকা সিং সারুতা; বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ; খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামেশ্বও তেলি; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।

আবদুল হামিদ-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক
দুই উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত। গত ৩১ মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ওই আয়োজনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ-সময় তিস্তার পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তারা আলোচনা করেন। মোদি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে দিল্লির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই সাক্ষাতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এসব তথ্য জানান। মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৯ মে ভারতে যান রাষ্ট্রপতি হামিদ।
জয়নাল আবেদিন জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন, ভারতের জনগণ মোদির প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকেও মোদিকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে আসতে পারেননি। তবে তিনি এবং বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে এবং সেজন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও এদিন আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের জনগণ যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী, সে-কথা রাষ্ট্রপতি বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের জনগণের লাইফলাইন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, মোদির নতুন সরকারের অধীনে আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
বৈঠকে মোদি বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। সেজন্য যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এ সমস্যা সমাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতও মনে করে এটা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কৃতি, জনগণের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ, ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ।

Category:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১৯ মে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। টিভি চ্যানেলগুলো ঐদিন থেকেই ফ্রিকোয়েন্সি পাবে। চুক্তিতে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তিন মাস ‘ফ্রি ফ্রিকোয়েন্সি’ পাবে। এরপর ফ্রিকোয়েন্সির ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে এই ভাড়া কত হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করেনি স্যাটেলাইট কোম্পানি। ১৯ মে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের বর্ষপূর্তি ও সেবা বিপণন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অপূর্ণতা ছিল, আমাদের একটি স্যাটেলাইট ছিল না, সেটি আমরা পেরেছি। এখন সাশ্রয়ী মূল্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার এবং ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, স্যাটেলাইটের এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি, যেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। আমাদের ছেলেরাই এটি পরিচালনা করছে। বিদেশিদের খুব বেশি দিন প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়াররাই স্যাটেলাইট পরিচালনা করতে পারবেন। গাজীপুরে প্রায় ১৩ একর জায়গার ওপর ৫ একরজুড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০ ট্রান্সপন্ডার রয়েছে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি বিদেশি বা প্রতিবেশী দেশের কাছে ভাড়া দেওয়া হবে। উৎক্ষেপণের পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত এর তদারক করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তবে এখনই বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারই এটি পরিচালনায় সক্ষম হচ্ছেন।
১৯ মে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) সঙ্গে যমুনা টিভি, সময় টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় টিভি, বাংলা টিভি ও মাই টিভি এবং সোনালী ব্যাংক স্যাটেলাইটের সেবা নেওয়ার জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেÑ সময় টিভি, ডিবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এনটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় বাংলা ও বৈশাখী টিভি। বাকি টেলিভিশনগুলোও অল্পদিনের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিভিশনগুলোর খরচ কমে যাবে তেমনি দুর্গম এলাকাতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

Category:

নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ

Posted on by 0 comment

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গণচীনে তৈরিকৃত নৌবাহিনীর নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছেছে। এ-সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল আবু আশরাফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানান। জাহাজ দুটি আগমন উপলক্ষে নেভাল জেটিতে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক নাবিক উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর জন্য নবনির্মিত জাহাজ বানৌজা সংগ্রাম ও বানৌজা প্রত্যাশা-এর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১১ মিটার। জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। শত্রু বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে ক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি র‌্যাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, র‌্যাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত। জাহাজ দুটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিংসহ অন্যান্য সুবিধাদি রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়েনযোগ্য এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট। নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো।

পদ্মাসেতুর চেয়েও বড় স্প্যান বসছে পায়রা সেতুতে
পটুয়াখালীর দুমকির লেবুখালীতে নির্মাণাধীন পায়রা সেতুতে বসতে যাচ্ছে পদ্মাসেতুর থেকেও বড় স্প্যান। নান্দনিক এক্সটাডোজ ক্যাবল বক্স গার্ডার সেতুটিতে নদীর মাঝে মূল সেতু হবে ৬৩০ মিটার। এজন্য ২০০ মিটারের দুটি স্প্যান ও দু-পাশে দুটি স্প্যান ১১৫ মিটার করে হবে, যা দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মাসেতুর স্প্যানের থেকেও বড়। পটুয়াখালী-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর ‘পায়রা সেতু’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে দ্বার উন্মুক্ত হবে সর্বদক্ষিণের অর্থ-বাণিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়ন।
জানা যায়, চার-লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪৭০ মিটার (৪ হাজার ৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্যরে ১৯.৭৬ মিটার (৬৪.৮ ফুট) এক্সট্রা বক্স গার্ডার সেতুটির উভয়দিকে ৭ কিলোমিটার জুড়ে নির্মাণ করা হবে অ্যাপ্রোচ সড়ক। ব্রিজটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৬ কোটি টাকা। এছাড়াও সেতুটি নদীর তলদেশ থেকে ১৮ থেকে ৩০ মিটার উঁচু হবে। ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি। সেতুটি নির্মিত হলে খুলে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সম্ভাবনার দ্বার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গড়ে উঠবে কল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

Category: