Blog Archives

শেখ হাসিনার বৈশ্বিক নেতৃত্ব

Posted on by 0 comment

বিশ্বশান্তি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ

‘দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি।’

09ড. আব্দুল মোমেন: প্রাণঘাতী যুদ্ধ-বিগ্রহ আর অযুত মানুষের হত্যাযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে শান্তির অন্বেষায় ১৯৪৫ সালে যে বিশ্ব সংস্থাটির জন্ম, সেই জাতিসংঘ পরিপূর্ণারূপে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছে কি-না তা এখনও বিশ্বজুড়ে একটি আলোচ্য বিষয়। তবুও সাবেক মহাসচিব দ্যাগ হ্যামার্শ্যল্ড-এর ভাষায় বলতে হয়, ‘জাতিসংঘ আমাদের স্বর্গে নিতে না পারলেও নরক থেকে দূরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।’ পৃথিবীর নানা অঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ বিষয় ও সমস্যার ওপর আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ যেমন জাতিসংঘ আয়োজন করে চলেছে, তেমনি সংস্থাটি অন্তত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এই পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছেÑ এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আশার কথা হচ্ছে, এই যে জাতিসংঘের নিরলস প্রয়াসের কারণেই আজ পৃথিবীতে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে, প্রসূতি মায়েরা অধিক হারে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, লাখ লাখ শিশু স্কুলে যাচ্ছে এবং কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার ভয়াল চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। তবে এই অর্জন সম্ভব হতো না, যদি বৈশ্বিক নেতৃত্বের গতিশীলতা, দৃঢ়সংকল্প ও প্রয়াস না থাকতÑ যারা স্ব-স্ব দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ইস্পাত কঠিন সংকল্প নিয়ে কাজ করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন। তেমনি এক নেতৃত্ব জাতিসংঘের স্বীকৃৃতিসহ সারা পৃথিবীতে সুশাসনের জন্য নিজের দেশের সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। নিজের দেশসহ সারা পৃথিবীতেই নিরাপত্তা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্তি এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য এই নেতৃত্ব বিশ্বসভায় অগ্রসর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। সেই নেতৃত্ব আর কেউ নন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও আজ ন্যায় ও সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রতীক বলে খোদ জাতিসংঘই বলছে বাংলাদেশ ও দেশটির নেতা শেখ হাসিনার কথা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সুশাসন ও মানবতার প্রতি বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার এই সংকল্প? কেন তিনি নিজের দেশের মানুষ এবং বিশ্বের জন্য দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত? কেন তিনি বৈষম্যহীন এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি ‘সোনার বাংলা’ গঠনের স্বপ্নে বিভোর? কেন তিনি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বে সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রবাদমুক্ত পৃথিবী উপহার দিতে প্রয়াসী? কেন তিনি নিজের দেশ এবং পৃথিবীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ? জাতি, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ এবং দেশের সীমারেখা নির্বিশেষে কেন তিনি একটি সহনশীল ও নিরাপদ বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন? কেন দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘ সনদের আলোকে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতি এতটা আস্থাশীল হয়ে বৈশ্বিক শান্তির পতাকা বয়ে বেড়াতে তিনি সদা তৎপর? এ প্রশ্নগুলো গভীরভাবে ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।
শেখ হাসিনা এমন একটি সমাজের মানুষ যেখানে সুদূর অতীত থেকেই, ১৪৯২ সালে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার বা ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপীয় শিল্প বিপ্লবেরও আগে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কবি চ-ীদাসের ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’, কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’Ñ এসব লেখায় আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য পাই। চ-ীদাসের এ দর্শনতত্ত্ব বাঙালির মনন ও মানসের এতটাই গভীরে প্রোথিত যে তা শতাব্দীর পর শতাব্দী উচ্চারিত হয়েছে। মানবতাই সবার ঊর্ধ্বেÑ তেমনি এক আলোকিত পরিম-ল থেকে উঠে এসেছেন শেখ হাসিনা। তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন, দেশ ও মানবতার জন্য আত্মত্যাগ যাদের অপরিসীম। তার পিতা সারাটা জীবন অতিবাহিত করে গেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য যাকে জেল খাটতে হয়েছে জীবনের দীর্ঘ সময়। তিনি চেয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র যেখানে সকলের জন্য সমানাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তার স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ যার মূল ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা; যেখানে থাকবে না ক্ষুধা-দারিদ্র্য, শোষণ এবং অবিচার। এহেন একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে যখন বঙ্গবন্ধু আত্মনিয়োগ করেছেন তার সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যা করে পরাজিত পাকিস্তানিদের দোসর এদেশীয় ঘাতকচক্র। ওই ভয়াল হত্যাকা-ে শেখ হাসিনা কেবল তার পিতাকেই নয়, হারান পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে; এমনকি তার ৯ বছরের ছোট্ট শিশু ভাইকেও রেহাই দেয়নি খুনিরা। শুধু তিনি নিজে এবং তার ছোট বোন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
মানুষের জন্য শেখ হাসিনার জীবনসংগ্রাম এখানেই শেষ নয়, তিনি এ পর্যন্ত ২৩ বার প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রেই তার প্রিয় রাজনৈতিক সহকর্মীদের অনেকেই নিহত বা আহত হয়েছেন; নয় তো পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে, প্রিয় সহযোদ্ধাদের হারিয়েও শেখ হাসিনা দমে যাননি। তার লড়াই-সংগ্রাম চলছে। সারাবিশ্বে আর কোনো দেশে এমন একজন নেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি নিজের সর্বস্ব হারিয়েও দেশের আপামর জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং একটি উন্নত-সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন। দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে তিনি কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।
এতে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই যে দেশ ও বিশ্বপরিম-লে শেখ হাসিনা আজ গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অনেকগুলো প্রস্তাব আনে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন এবং সকল জাতিসত্তার অব্যাহত উন্নয়ন ও মুক্তি। উদাহরণস্বরূপ, তারই নেতৃত্বে ও তারই আনীত প্রস্তাবের কারণে জাতিসংঘে আজ ‘উন্নয়নের অধিকার’ একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের কল্যাণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার কল্যাণেই আজ জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বা ‘ঈঁষঃঁৎব ড়ভ চবধপব’ চালু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জোরালভাবে অনুসৃত হচ্ছে।
কেন এই শান্তির সংস্কৃতি এতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক? এর মূলনীতি হচ্ছে এমন একটি আবহ সৃষ্টি করা যার মাধ্যমে পরমত সহিষ্ণুতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা যায়Ñ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা এবং নৃ-গোষ্ঠীগত পরিচয় নির্বিশেষে। কেননা, শান্তির সংস্কৃতি বিশ্বাস করে যে, অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা থেকেই সর্বপ্রকার বিরোধ, সহিংসতা ও যুদ্ধের উৎপত্তি। তাই সকলের মাঝে যদি পারস্পরিক সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধাবোধ সৃজন করা যায়, তা হলেই আমরা যুদ্ধহীন ও সংঘাতমুক্ত এক পৃথিবী গড়তে পারব। তা হলেই সম্ভব হবে স্থায়ী উন্নতি, সমৃদ্ধি ও শান্তি অর্জনÑ জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যও তাই। আশার কথা এই যে বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা অনুসৃত শান্তির সংস্কৃতি আজ বিশ্বজুড়ে, সকল জাতির মাঝেই ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ আজ সর্বোচ্চ সৈন্যদাতা রাষ্ট্র। যুদ্ধ আক্রান্ত রাষ্ট্রে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শান্তিরক্ষীরা সুরক্ষিত থাকে সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। বিশ্বে তিনিই একমাত্র নেতা যিনি এমনকি বড়দিনের ছুটির মাঝেও জাতিসংঘ মহাসচিবের অনুরোধে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তিরক্ষী প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। শান্তিরক্ষী প্রেরণে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেননি। এটি কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে ১ লাখ ৩৮ হাজার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে জাতিসংঘ সারা পৃথিবীতে শান্তি রক্ষা করতে সমর্থ হচ্ছে যেসব সৈন্যের অনেকেই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তারা প্রকৃত অর্থেই শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের দাবিদার।
শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে দুটি যুগান্তকারী প্রস্তাব আনে ২০১২ সালে, যা  সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্বসভায় গৃহীত হয়। এর প্রথমটি ছিল অটিজম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত, আর দ্বিতীয়টি জনগণের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, সবারই অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, কারোরই বাদ পড়ার কথা নয়। মানবতা ও উন্নয়নে সবাই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে। তাই অটিজমে আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবন যন্ত্রণা ও বঞ্চনার বিষয়টি যখন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উত্থাপন করেন, বাংলাদেশ দ্রুত এ বিষয়টি বিশ্বসভায় উত্থাপন করে এবং বিশ্বনেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সমর্থন আদায় করে।
অটিজম এবং প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত অনেকগুলো বড় বড় সভা আহ্বান করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ এবং তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পরপরই মহাসচিব তা সাধারণ পরিষদে সেগুলো প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রসহ সবকটি জাতিসংঘ সংস্থার কর্মকা-ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্বটি অবশ্যই বাংলাদেশের এবং দেশটির নেতা শেখ হাসিনার।
বিগত ৪০ বছরের জাতীয় ও বৈশ্বিক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে শেখ হাসিনা জানেন যে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের প্রধানতম চ্যালেঞ্জগুলো হবে জলবায়ু পরিবর্তন, বেকারত্ব, আর্থিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য এবং এগুলো থেকে উদ্ভূত হাজারও সমস্যা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন এই চ্যালেঞ্জগুলো তখনই মানুষ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে। একেই তিনি বলছেন জনগণের ক্ষমতায়ন। এটি সম্ভব হলে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি, সক্ষমতা এবং কার্যকরিতার সাথে মানুষ কাজ করতে পারবে, ফলে সবাই সমভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে পারবে। তাই জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতি তিনি এতটা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা যাবে? বিষয়টিকে তিনি ৬টি আন্তঃসংযুক্ত চলকের দ্বারা বিশ্লেষণ করেছেনÑ প্রথমত; মানুষের ক্ষমতায়ন হবে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্তি সম্ভব হলে, দ্বিতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে যাতে করে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান বা উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করে স্বাবলম্বী হবে, তৃতীয়ত; তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হতে পারে বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের মাধ্যমে, চতুর্থত; সন্ত্রাস নির্মূল করে একটি নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন করা যাবে, পঞ্চমত; এতদিন যারা উন্নয়ন ও মূল জীবনধারার বাইরে ছিল, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতায়ন করা যাবে এবং সর্বোপরি, তাদের ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ও শাসন ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে।
শেখ হাসিনার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ ধারণাটি জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নেতৃবৃন্দের মধ্যেও অনুরণিত হয়েছে। ২০১২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ‘রিও+২০ বিশ্ব সম্মেলনে’ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ‘যেমন ভবিষ্যৎ চাই’ শীর্ষক দলিল গ্রহণ করেন যার মধ্যে শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালা এবং তার সাথে জড়িত আদর্শ অনুসৃত হয়। উক্ত সম্মেলনে দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যার মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা অর্জন। সম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাব যা, ‘20130 Agenda for Sustainable WorldÕ বা ÔSDGs’ নামে পরিচিত সেটির মূল ভিত্তিই ছিল রিও+২০ তে অনুসৃত শেখ হাসিনার জনগণের ক্ষমতায়ন তত্ত্ব। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘে গ্রহণ করেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের যথার্থভাবেই শেখ হাসিনা প্রণীত জনগণের ক্ষমতায়ন নীতিমালার আলোকে সবার অন্তর্ভুক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, সুশাসন ইত্যাদি নির্ধারিত হয়।
তার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ কর্তৃক উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ই এসডিজি-র ১৭টি লক্ষ্য এবং ১৬৯টি উদ্দেশের মাঝে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভিবাসন ও উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ-সমতা, শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার, জলসম্পদের আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, নীল অর্থনীতি (সাগর ও মহাসাগর), বিশ্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, পারস্পরিক সহযোগিতা, এলডিসি ইস্যু ইত্যাদি।
জাতিসংঘের সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি, তা মূলত সম্ভব হয়েছে দেশটির নেতা শেখ হাসিনার উন্নয়ন চিন্তা এবং জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে তার অবিচল প্রতিজ্ঞার কারণেই। সম্পদের ব্যাপক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কেবল নেতৃত্বের বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা এবং সঠিক দিক-নির্দেশনার কারণেই বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এককালে যে দেশকে বলা হয়েছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Bottomless Basket), যার ‘সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই’ বিশ্ব মোড়লেরা দেখেনি, সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ ৬.৩ শতাংশ, তাও আবার এক নাগাড়ে সাত বছর ধরে। চরম দারিদ্র্য ১৯৯১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে তা কমে এসেছে ২২.৪ শতাংশেরও নিচে। একই সাথে নবজাত শিশু মৃত্যুর হার ৭৩ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সর্বাধিক জনঅধ্যুষিত ও স্বল্প আয়তনের এক দেশের জন্য এই সাফল্য একেবারে কম নয়।  আর এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কেবল শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।
দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিরোধিতা এবং নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যও শেখ হাসিনা তার দৃঢ় ও আপসহীন সিদ্ধান্তের দ্বারা দেশকে উন্নয়নের পথে যেভাবে পরিচালিত করেছেন, তার কল্যাণেই বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, অথচ পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটি ছিল খাদ্য ঘাটতির মধ্যে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা এবং তার দেশবাসী বিশ্বসভায় সাধুবাদ পেতেই পারেন। আর তারই প্রমাণ আমরা দেখি যখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ এবং ‘নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল নক্ষত্র’। আমেরিকার প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষায় বাংলাদেশ হচ্ছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার আলোকবর্তিকা’ আর গোল্ডম্যান শ্যাক্স তাদের গ্লোবাল অবস্থানে বাংলাদেশকে এন-১১ তে উন্নীত করেছে, যার অর্থ হচ্ছে ১১টি অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ।
দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশের সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একাধিক পদকে ভূষিত করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য এমডিজি-৪ পুরস্কার (২০১০)। সাউথ-সাউথ পুরস্কারে তিনি ভূষিত হন ২০১৩ সালে, দেশজুড়ে ১৩ হাজার ৮০০ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে সফলভাবে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির সংযোগের আওতায় নিয়ে আসার স্বীকৃতিস্বরূপ। ২০১৪ সালে তাকে সাউথ-সাউথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোতে নেতৃত্বের দূরদর্শিতার স্বাক্ষর হিসেবে। ২০১৫ সালে তিনি জাতিসংঘ কর্তৃক দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন, এগুলো হচ্ছেÑ জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব মোকাবিলায় সফলতার জন্য ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার এবং টেলিযোগাযোগ খাতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার পুরস্কার বা ‘আইটিইউ অ্যাওয়ার্ড’।
২০০০ সালে যখন জাতিসংঘে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ঘোষণা প্রদান করা হয় তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আবার ২০১৫ সালে যখন ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা (এসডিজি) হয় তখনও তিনি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে নেতৃত্বদান করেন। তিনি বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন সংক্রান্ত এ দুই মাইলফলক ঘোষণার সময় নিজের দেশের নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তার দেশ সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে মর্মে ২০০০ সালের সম্মেলনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সেই যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে। ২০১৫ সালের সম্মেলনে আবার যখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেন (যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে) তখন শেখ হাসিনা বিশ্বসভায় এই প্রতিশ্রুতি দেন যে তার দেশ এই লক্ষ্যমাত্রাও যথাসময়ে পূরণ করবে। শুধুু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি তিনি, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। এ হবে এমন এক বাংলাদেশ যেখানে সবাই পাবে সমানাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুষম উন্নয়নের সুযোগ। যেখানে সমৃদ্ধি ও শান্তির মাঝে বাস করবে দেশের প্রতিটি মানুষ। সেই স্বপ্নই দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ ২ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল বাজারে পরিণত হবে এ দেশগুলো। তা সত্ত্বেও এ দেশগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এ দেশগুলোর প্রতিবছর ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে। বর্তমানে বৈদেশিক সাহায্য স্কিমের আওতায় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রসমূহ বছরে ১৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে যায় মাত্র ৩৮ থেকে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অর্থ পর্যাপ্ত নয়। সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোার জন্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সাউথ-সাউথ দেশগুলোর অর্থ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীদের একটি ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহল কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে। সম্প্রতি চীন সাউথ-সাউথ সহযোগিতার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও

‘আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন।’

বেশি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।
শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সক্ষম হয়। এ কথা আজ সারাবিশ্ব জানে যে, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণ তাদের বুকের রক্ত দিয়েছে। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পৃথিবীর সব জাতির মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়াসে সেই দিনটিকে জাতিসংঘ সম্মানিত করেছে, যা আজ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশে পালিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আইনের শাসনে প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র-আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।
শেখ হাসিনার শাসনের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) বাংলাদেশে কয়েকটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। এর প্রথমটি ছিল ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের সমস্যা গঙ্গা নদীর পানির বণ্টনের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় যে ঐতিহাসিক ঘটনা সেই সময়ে ঘটে সেটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। যে সমস্যার আবর্তে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচলে সেই সময় পর্যন্ত ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনা সেই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটান বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে। পৃথিবীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে শান্তি প্রতিষ্ঠার এমন নজির বিরল। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই সাহসী দুই চুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করেছে। সম্প্রতি কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভারতের সাথে অর্ধশতক ধরে ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন ৬৮ বছর আগের ‘সীমান্ত নির্ধারণ চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ফলে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার পেয়েছে দীর্ঘদিন ভাগ্যবিড়ম্বিত থাকা উভয় দেশের ছিটমহলবাসী। প্রকৃত অর্থেই শেখ হাসিনা শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জন্য। আশার আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন বিশ্বের শত কোটি নিপীড়িত মানবতার জন্য।
আধুনিক বিশ্বে বাংলাদেশ আরও একটি কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে, তা হলোÑ একটি শক্ত, সৃজনশীল ও পরিশ্রমী অভিবাসী শ্রমিকদের দেশ হিসেবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ বাংলাদেশের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিক রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। একই সাথে নিজেদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা স্বদেশে পাঠিয়ে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তবে এসব প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে থাকে অজ¯্র দুঃখগাঁথা, বঞ্চনা আর প্রতারণা কাহিনি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ন্যায্য বেতনটুকু থেকেও বঞ্চিত হন। অথচ এই প্রবাসীরাই মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। আবার আজ তারা সেই বিদেশে থেকেও নিজের দেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে রাখছেন ব্যাপক অবদান। সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আয় রেখেছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। দেশে বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি। ৯০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর দেশের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ নির্ভর করে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই অভিবাসী শ্রমিক এবং বিদেশে অবস্থানরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের স্বীকৃতি প্রদান করেছে; তাদের সুরক্ষা এবং দেশে তাদের বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করেছ নানামুখী পদক্ষেপ। প্রবাসে তাদের সমস্যা সমাধানে নিদের দেশের সরকারি প্রতিনিধি/কূটনীতিকদের যেমন তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন ঠিক তেমনি বিশ্বসভায় তিনি এই দাবি তুলেছেন যে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে হোস্ট কান্ট্রি বা শ্রমিকদের অবস্থানকারী রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক। তাদেরই এটি নিশ্চিত করা কর্তব্য যাতে তাদের দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের কেউ শোষণ, নির্যাতন বা কোনোরকম বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার হতে না হয়। একই সাথে উন্নত দেশগুলোরও এ বিষয়ে যতœবান হওয়া উচিত যাতে তাদের দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং সেই সব সংগ্রামী শ্রমজীবী জনতা যেন কোনো প্রকার শোষণ, নির্যাতন বা প্রতারণার শিকার না হন।
দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার আদায়ে এতটা সোচ্চার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কণ্ঠস্বর হতে পারে বলেই হয়তো বাংলাদেশ গত ৬টি বছরের জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে এবং বিভিন্ন কমিটিসমূহের নির্বাচনে জয়লাভ করে নির্বাচিত হয়েছে। বস্তুত, এ সময়ের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচনেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়নি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের কথা ভেবে, বাংলাদেশ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ওইসব নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারও করে নিয়েছে। বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তথা বিশ্ব নেতৃত্বের আস্থা এবং প্রগাঢ় ভরসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে এসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে।
জাতিসংঘের সেকেন্ড কমিটির চেয়ার হিসেবে অধিকাংশ বিতর্কেই বাংলাদেশ সকল সদস্যকে মতৈক্যে নিয়ে আসতে পেরেছে। পিস বিল্ডিং কমিটি (পিবিসি) বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) চেয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাংকে জাতিসংঘ কমিটিসমূহের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশে। সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের চেয়ার হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ ও করণীয় চিহ্নিতকরণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। জাতিসংঘের ব্যুরো সদস্য এবং এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা (আইপিএও) প্রণয়নে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখে; শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন ফান্ড যেমন ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা কমিশন ইত্যাদির চেয়ার হিসেবে ওইসব অঙ্গ সংগঠনের কর্মপরিকল্পনায় ইস্তাম্বুল কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ভূমিকা পালন করে।
সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটির ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ উক্ত কমিটির প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মতৈক্যের অর্জনে সফল হয়। ‘মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বন্ধু’ রাষ্ট্রসমূহের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবসানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসের সাথে উটের জকি ও দাস হিসেবে শিশুদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে সোচ্চার জনমত গড়ে তোলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন ও তাদের উদ্ধার পরবর্তী পুনর্বাসনের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সার্ক সম্মেলনে ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘের ‘ফ্রেন্ডস অব মিডিয়েশন’, ‘ফ্রেন্ডস অব ইনএ্যলিনেবল্ রাইটস অব প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রেন্ডস অব নো ফুড ওয়েস্ট, নো ফুড লস’ ইত্যাদি ভূমিকায় মানবতার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতিসংঘ সদনের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
বস্তুতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বর্তমানে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। কেবল সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবেই নয়, সক্ষমতার সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকারী দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের সুনাম আজ জাতিসংঘে ব্যাপক। জাতিসংঘের ‘হি অ্যান্ড শী’ প্রোগ্রামের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও বাংলাদেশের নাম চলে আসে সবার আগে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘শিক্ষাই সর্বাগ্র’ শীর্ষক প্রকল্পে এবং মহাসচিবের স্বাস্থ্যরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মহাসচিবের নেতৃত্বে শান্তিরক্ষী নিয়োগ সংক্রান্ত সিনিয়র পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের নীল হেলমেট প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত আঞ্চলিক রিভিউ কমিটির ঢাকা কনফারেন্সের আয়োজন করে বাংলাদেশ, ২০১৪ সালে এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দান করে। প্রতি ১০ শান্তিরক্ষীর মধ্যে একজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নীল হেলমেট, বর্ম ও তলোয়ার চালানো এবং পুলিশের একটি নারী ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
জলবাযু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জকে বিশ্ববাসীর সামনে যথার্থভাবে তুলে ধরতে তিনি সদা সচেষ্ট থেকেছেন। তিনিই একজন নেতা যিনি এ বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে বারংবার তুলে ধরেছেন যে, পরিবেশ দূষণকারী না হয়েও স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ-রাষ্ট্রসমূহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে রয়েছে। কেবল বাগাড়ম্বর বা উচ্চবাচ্য না করে এ বিষয়টি তিনি কর্মপরিকল্পনার মধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কীভাবে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগুনো যায় তা নিজে তদারক ও কাজ করে চলেছেন। আজ সম্পদের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত দুটি ফান্ড গঠন করেছে। তাই সংগত কারণেই জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তাকে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কেননা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য তিনিই বিশ্বের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর; এবং পরিবেশ নীতিমালা গঠনের ক্ষেত্রে জোরাল ভূমিকা রেখেছেন। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছেন তিনিই। তার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়েই জাতিংঘে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ের দায়িত্ব বিষয়ক রাষ্ট্রদূত’ ফোরাম (Ambassadors with Responsibility to Climate Change-ARC) এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বন্ধু’ (Friends of Climate Change-FCC) গঠন করা হয়েছে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষণার পরই আমরা দেখতে পাই যে অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই জটিল ইস্যুতে এগিয়ে আসছেন।
যুদ্ধ-বিগ্রহ, ভয়াল বন্যা, অনাবৃষ্টি, ক্ষরা, নদীভাঙন ইত্যাদি নানা কারণে সাম্প্রতিককালে দেশে দেশে যে হারে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বা নিজ দেশে কাজ হারিয়ে দেশান্তরী হয়ে পড়ছে জীবিকার তাগিদে, কিংবা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় খুঁজছে বিভিন্ন দেশে তখন সেই সব কঠিন সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে, যারা হয়তো কোনোভাবেই এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়।
শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে তিনি পিছপা নয় এক কদমও। তার অক্লান্ত প্রয়াসের ফলে বাংলাদেশের কর্মজীবী জনসংখ্যার মাঝে আজ নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্বে ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। আজ বাংলাদেশে সরকার প্রধান একজন নারী। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সংসদ উপনেতাও নারীÑ নারীর ক্ষমতায়নের এ এক অনবদ্য সংযোগ। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সেই গুটিকয়েক রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম যেখানে বছরের শুরুতে দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে ৩২৬ মিলিয়ন বই বিতরণ করা হয় বিনামূল্যে। বাংলাদেশ সেই রাষ্ট্র যেখানে এনজিওরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সাথে সমান তালে অংশগ্রহণ করে। তাই বাংলাদেশ আজ তার উদ্ভাবনী সুশাসন প্রক্রিয়া এবং যুক্তির নিরখে চলার জন্য বিশ্ব দরবারে সম্মানিত। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়ায়, সন্দেহ বা বিস্ময়ের কোনো অবকাশই নেই যে, সেই বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনা, আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিম-লে শান্তি ও ন্যায্যতার এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার ওপরে।
জয়তু বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান
* জনগণের ক্ষমতায়ন মডেল : অস্থিরতা, সহিংসতা, পরমত অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য এবং ব্যাপক জন-অসন্তোষের ক্ষেত্রে এই মডেল বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
* কালচার অব পিস : বিগত সময়ে সরকারের থাকাকালীন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা প্রচলন করা হয়। জাতিসংঘের ভিতরে ও বাইরে এই ধারণা ব্যাপক সমর্থন লাভ করে; কেননা এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যা সমগ্র জাতিসংঘ ব্যবস্থার মাঝে অনুরণিত হয়।
* শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (পিস কিপিং) : শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা সর্বজনবিদিত ও স্বীকৃত। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিম-লে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। তার গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সমাদৃত বাংলাদেশ।
* শান্তি বিনির্মাণ (পিস বিল্ডিং) : তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তি বিনির্মাণের বিষয়টি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে। স্বল্পদিন হলো এ সংক্রান্ত কমিশন গঠিত হয়েছে, যা ইউএন পিস বিল্ডিং কমিশন নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এর গুরুত্বপূর্ণ মিটিংসমূহে সভাপতিত্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের আলোচনায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে।
* বহুমাত্রিক নেতৃত্ব : নানামুখী জাতীয় ও বৈশ্বিক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা নন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অবিচল নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটি এবং অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থায় সভাপতি এবং সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে। বিগত ছয় বছরে বাংলাদেশে কোনো একটি নির্বাচনেও পরাজিত হয়নি। সকল দেশ ও তাদের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং তার নেতা শেখ হাসিনা।
* সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মডেল দেশ : জাতিসংঘ মহাসচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কেবল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যেই নয়, অনেকগুলো উন্নত দেশের চেয়েও বাংলাদেশের এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাফল্য ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে এর সফল বাস্তবায়ন তদারক ও মূল্যায়ন করে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
* ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের সুরক্ষা ও নেতৃত্ব দান : বর্তমানে বাংলাদেশ ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের নেতা ও মুখপাত্র। তাই জাতিসংঘ তথা আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের নেতৃত্বও বাংলাদেশেরই। সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশ এই পদে নির্বাচিত হয়; বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাই বাংলাদেশকে এই পদে আসীন করেছে। এলডিসি রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থরক্ষায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
* ভিন্ন জীবনের মানুষের সমস্যাকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই জাতিসংঘের সকল রাষ্ট্রের কাছে আজ অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও অটিজম সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের সমস্যাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব পৃথিবীর সব কটি রাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছে। বিষয়টির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের নাম আজ সব দেশ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
* জলবায়ুর ঝুঁকি আক্রান্তদের সমস্যায় নেতৃত্ব : জাতিসংঘের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সক্রিয়ভাবে কাজ করে দেখিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঝুঁকি কতটা। এ সমস্যার কারণ খুঁজে আর কোনো মানুষ যেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরণার্থী না হয়, বাস্তুচ্যুত না হয় তার ব্যবস্থা করার জন্য জোরাল দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্পদশালী দেশগুলো সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর পরিবেশের এই দশা করেছে, যদিও তাদের অবিমৃষ্যকারিতার ফল পেতে হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো, যারা হয়তো কোনোভাবে এই ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু’র কারণে উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য দায়ী নয়। অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। বাংলাদেশ মনে করে, এই অবস্থা হতে উত্তরণের দায় এবং দায়িত্ব উভয়ই উন্নত বিশ্বকে নিতে হবে। হয় তাদের এসব নানান প্রক্রিয়ায় করা পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হবে; অথবা তাদের এমন কাজ করতে হবে যাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ না বাধে বা মানুষ নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়। জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা তদারকি (সিভিএম) গঠন করেছে বাংলাদেশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর প্রতিষ্ঠা করেন জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে।
* আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ আইনি সমাধান : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা নিয়ে প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল সেই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে (International Tribunal on the Law of the Seas-ITLOS) যাওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেন, তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার ওপর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারও তাদের আইনগত ন্যায্য পাওনা পেয়েছে। কোনো সংঘাত বা যুদ্ধ ছাড়াই এহেন বিরোধ নিষ্পত্তির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।
* জাতিসংঘের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকারের সুরক্ষা : অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার জন্য নিরলস কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত জাতিসংঘ কমিটিতে তিনি যথার্থভাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং তার পক্ষে সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়ছেন। অভিবাসী শ্রমিকের মানবাধিকার,  কাজের পরিবেশ, বেতন ও নিরাপত্তা এসব বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
* সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশনের কণ্ঠস্বর : সাউথ-সাউথ সংক্রান্ত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ। আর সাউথ-সাউথের কণ্ঠস্বর হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এই রাষ্ট্রসমূহের সাফল্য ব্যাপক, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দৃশ্যমান।
জাতিসংঘ সনদের মূল লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন
* প্রথমত : সহিষ্ণুতার চর্চা এবং ভালো প্রতিবেশী হিসেবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান;
* দ্বিতীয়ত : আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সাথে একতাবদ্ধ থাকা;
* তৃতীয়ত : এই নীতির প্রতি অবিচল থাকা যে শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবে করা হবে না, একমাত্র সামষ্টিক স্বার্থ ছাড়া;
* চতুর্থত : বিশ্বের সকল মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহকে কাজে লাগানো;
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সনদের এসব মূলনীতির আলোকে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শন্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।

Category:

৭ই মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা দেবে

Posted on by 0 comment

মেমোরিয়াল ট্রাস্টের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

36উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভয়াবহ অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নাশকতা, জঙ্গিবাদসহ অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদা পেয়েছে। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।
গত ১২ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশে করে বলেন, আজ নতুন প্রজন্মের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা বীরের জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই আমরা প্রত্যেকে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আজও জাতিকে মাথা উঁচু করে চলার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শত্রুকে মোকাবিলা করার অনুপ্রেরণা দেয়। যুগ যুগ ধরে তাই বঙ্গবন্ধুর এই যাদুকরি কালজয়ী ভাষণ জাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।
মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর কালোত্তীর্ণ ভাষণ : প্রস্তুতি ও প্রভাব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাসুরা হোসেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী হাশেম খান ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই বজ্রনির্ঘোষ ৭ই মার্চের ভাষণের রঙিন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ জাতিকে পথ দেখিয়ে গেছে। এই ভাষণের প্রত্যেকটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই আমাদের সেই চেতনাটা এনে দেয়। মাথা উঁচু করে পথ চলার মনোবল দেয়। যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করার, শত্রুকে দমন করার পথ শেখায়। তাই এই ভাষণের আবেদন কোনোদিন শেষ হবে না, শেষ হয়নি। ভাষণটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই ভাষণের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার কারণে একটি প্রজন্ম সত্য জানা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কালজয়ী এই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ঐতিহাসিক এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের পথের দিশারী, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। যুগ যুগ ধরে এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে, যার আবেদন আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। এই আবেদন কখনও শেষ হয় না, হবেও না। একটি মাত্র ভাষণে বঙ্গবন্ধু দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, যা সত্যিই এক বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, পরাজিত পাকিস্তানের সাথে সংস্কৃতিসহ কোনো কিছুতেই এদেশের সাথে মিল ছিল না। তারা শুধু এদেশকে শোষণ, শাসন করছিল। তাই বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই এদেশকে স্বাধীন করতে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করে গেছেন। আর ৭ই মার্চের একটি মাত্র ভাষণে স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আর তার পথ বেয়েই আসে আমাদের স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের আগে পাকিস্তানিরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু একটা কিছু বলবেন, যার সূত্র ধরে তারা এদেশে গণহত্যা চালাবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর যাদুকরী এই ভাষণে পাকিস্তানিরাও ভিরমি খেয়ে যান। বঙ্গবন্ধু তার কালজয়ী ভাষণে একদিকে যেমন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করলেন, অন্যদিকে শত্রুরা এ ব্যাপারে সবকিছু বুঝতেই পারল না। পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ যুগ যুগ ধরে কোনো জাতিকে অনুপ্রেরণা বা নতুন করে উজ্জীবিত করতে পারেনি, যেটি এখনও করে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।
বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষণ দেওয়ার আগে থেকে দলের নেতাসহ অনেকে অনেক পয়েন্ট লিখে দিচ্ছে, বলছে এটি না বললে হবে না। বস্তায় বস্তায় কাগজ জমা পড়তে লাগল ৩২ নম্বরে। কিন্তু আমার মায়ের দূরদৃষ্টির কোনো তুলনা হয় না। যখনই কোনো বড় কিছু ঘটনা ঘটে, তার আগে আমার মা বঙ্গবন্ধুকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগেই এদেশের নাম বাংলাদেশ, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ সবই নির্ধারণ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা হিসেবে ওই সময় পাশে থেকে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পরামর্শ প্রদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ দেওয়ার আগে আমার মা পিতা বঙ্গবন্ধুকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে নিয়ে ঘরে গেলেন। আমি তখন বঙ্গবন্ধুর মাথার কাছে বসা। মা বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘তোমাকে অনেকেই অনেক কথা বলবে। সামনে লাখ লাখ মানুষ থাকবে। তাই কারোর কোনো কথা শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষের জন্য তোমার যা মনের কথা সেটিই ভাষণে বলবে।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ঠিকই এক যাদুকরী ভাষণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং গেরিলাযুদ্ধের জন্য যা যা করার তারই সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনে আমাদের স্বাধীনতা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা পরবর্তী ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসবের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন ’৮১ সালে দেশে ফিরে আসি তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে নির্যাতনসহ জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, পরাজিত শত্রুরা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়, চেতনাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলে। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলে। ওই সময় একটি প্রজন্ম জানতেই পারেনি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের পদলেহন করে স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা দেশবাসী দেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের নতুন প্রজন্মের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয়ী বীরের জাতি। আমরা মাথা নত করে চলব না। সারাবিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে চলব। বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক সেই ভাষণে সেই পথই আমাদের দেখিয়ে গেছেন। আমার বিশ্বাস, দেশের নতুন প্রজন্ম বারবার জাতির জনকের সেই কালজয়ী ভাষণটি শুনে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।
মূল প্রবন্ধে লেখক-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, কালোত্তীর্ণ শিল্পকর্ম ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর অপূর্ব বাগ্মীতার এক অমর কীর্তি। এই ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, স্বাধীনতার প্রেরণা। একটিমাত্র ভাষণে বঙ্গবন্ধু চিরদিনের পদানত থাকা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতাকামী জনগণকে জাগ্রত করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আজও দেশের মানুষের কাছে সর্বজনীন প্রতীক। ভাষণটি শুনলে আজও দেশের মানুষ অনুপ্রাণিত হয়।

জাতির পিতার জন্মদিন শিশু দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী
যতদূর পার শিক্ষা অর্জন কর
শিশু-কিশোরদের মন দিয়ে পড়াশোনা করা, মা-বাবা ও শিক্ষকদের কথা শোনা এবং বড়দের মান্য করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমরা যতদূর পারো শিক্ষা অর্জন করবে। শিক্ষা হবে তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই শিক্ষা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তোমরা এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ গড়ে তুলবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, মেধা-জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিগত জ্ঞানÑ সব দিকেই তোমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতাও চেয়েছিলেন এদেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষিত হোক। আমরা সেই চেষ্টা করছি। প্রত্যেকটা শিশুর মাঝে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে, তা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিশু রাফিয়া তুর জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিশু ও মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে শিশু ঋত্বিক জিদান। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভাই ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ৫৪ বছর বয়সে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে ১০ বছর বয়সে। আজ তাদের ছবির দিকে তাকিয়ে ভাবি, বাবা বেঁচে থাকলে আজকে দেখতে কেমন হতেন। রাসেল বেঁচে থাকলে দেখতে কেমন হতো!
জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে শিশুদের এগিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। শিশু-কিশোররাই হবে সোনার বাংলা গড়ার প্রধান শক্তি।
শিশু সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী হাতের লেখা ও ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে শিশু ও মহিলা অধিদফতরের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর গোপালগঞ্জের শিশু শিল্পীরা ‘শুধু তোমার জন্য’ শীর্ষক কাব্য নৃত্য গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও দর্শক এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র আয়োজিত দিনব্যাপী গ্রন্থ মেলার উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা : বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে আসেন। ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ধীর পায়ে সমাধি সৌধের বেদীর দিকে এগিয়ে যান। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি গোটা জাতির পক্ষ থেকে স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ বেদী পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর পবিত্র ফাতেহা পাঠ করেন। তারা বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

Category:

৫১ প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Posted on by 0 comment

25উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা ১৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছি। আমরা ২০১৬ সালে ১৬০০০ মেগাওয়াট, ২০২১ সালে ২৪০০০, ২০৩০ সালে ৪০০০০ ও ২০৪১ সালে ৬০০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী দেশে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা যেসব প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আমি দেশবাসীসহ সবার দোয়া চাই, সহযোগিতা চাই। যেসব এলাকায় কাজ হবে, সেই এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ উন্নত হচ্ছে। দেশের কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। কেউ গৃহহারা থাকবে না, সবাই পেট পুরে খেতে পারবে। শিক্ষা-চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে একযোগে ৫১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন সার্ভিস চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
গণভবনে মূল অনুষ্ঠানস্থলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় ৯০টি গ্রামে ৬ হাজার পরিবারের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভি চট্টগ্রাম লিমিটেড, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ার ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট লাকধানাভি বাংলা পাওয়ার লিমিটেড, গাজীপুরের কড্ডার ১৫০ মেগাওয়াট বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ারজেন লিমিটেড ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি (এসটি ইউনিট) বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সাথে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে নবনির্মিত শেখ কামাল সেতু ও শেখ জামাল সেতু এবং সিলেট সড়ক জোনে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ইবিবিআইপি) আওতায় নবনির্মিত ১৬টি সেতু একযোগে উদ্বোধন করেন। রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালিং ব্যবস্থাসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত দ্বিতীয় রেললাইনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধনসহ নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সোনাকান্দা পানি শোধনাগারেরও উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া জয়পুরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনসহ এই জেলার বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। গোপালগঞ্জের প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জবাসীকে তার মা-বাবা-ভাইসহ স্বজন হারানো স্বজন বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়ার মানুষের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। সব হারানোর পরও তারাই আমাকে বুকে টেনে নেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালে আমরা কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করব, সেই পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা ২০১৬ সালে ১৬০০০ মেগাওয়াট, ২০২১ সালে ২৪০০০, ২০৩০ সালে ৪০০০০ ও ২০৪১ সালে ৬০০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। দোয়া করবেন, এই লক্ষ্যমাত্রা যেন অর্জন করা যায়। তিনি বলেন, ১০০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে এরই মধ্যে ৭৬ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। যেসব এলাকায় গ্রিডলাইন নেই, সেখানে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে পানি শোধনাগারের উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হবেন। পানি শোধন করতে অনেক খরচ হয়।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুয়াকাটা এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। যেহেতু আমি সেখানে বহু আগে গিয়েছিলাম, সে সময়েই এটিকে একটি উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা করি। প্রকল্পগুলো উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পয়েন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় করেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শুরুর তাগিদ দেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, ভৈরব থেকে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, কুমিল্লা থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের সাথে সংযুক্ত ছিলেন।
সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অতীতের চেয়ে
আমি এখন অনেক সতর্ক : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন বিস্ময়। সবদিক দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে অতীতের চেয়ে এখন আমি অনেক সতর্ক আছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করা বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞান ও গবেষকদের মাঝে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এ বছর ৫০ জন এমএস, ১৬০ জন পিএইচডি, ১১ জন পোস্ট ডক্টোরাল স্টুডেন্ট এবং গবেষককে দেশে-বিদেশে উচ্চ শিক্ষা-গবেষণার জন্য ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও কেউ যেন বিজ্ঞান গবেষণার জন্য ফেলোশিপকে বন্ধ করতে না পারে সে জন্য সরকার বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপকে ট্রাস্টে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে, এটাই আমরা চাই। মানুষ হত্যা, ছাত্র-ছাত্রী কলেজ-স্কুলে যেতে পারবে না অথবা বোমা হামলার শিকার হবে, শিশুদের হত্যা করা হবেÑ এই দৃশ্য আমরা দেখতে চাই না। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট। আগে যারা বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত, মনে করত বাংলাদেশ ভিক্ষা চেয়ে চলবে। এখন তারা দেখছেÑ না, বাংলাদেশ তা নয়। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী, আমাদের চেয়েও বেশি মেধাবী। তারা এই যুগের ডিজিটাল বাচ্চা হিসেবে বড় হচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ছাড়া, শিক্ষিত জাতি ছাড়া এদেশ কোনো দিন উন্নত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশে ৫০ জন এমএস, ৬০ জন পিএইচডি, দেশে ১০০ জন পিএইচডি এবং ১১ জন পিএইচডি উত্তর গবেষণা ফেলোশিপ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদেশে ৩৭ জন এমএস, ৩০ জন পিএইচডি এবং দেশে ৩৮ জন পিএইচডি ও ৮ জন পিএইচডি উত্তর কোর্সে গবেষণা কার্যক্রম শেষ করেছেন। সরকার ‘জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৭২ তরুণ গবেষকের মধ্যে ৩১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফেলোশিপ দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৪৩৮ গবেষককে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়া হবে।

Category:

জাপানি ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র কপি হস্তান্তর

বঙ্গবন্ধুর লেখা আরও দুটি নোটবুক পাওয়া গেছে : প্রধানমন্ত্রী

50উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে লেখা আরও দুটি স্মৃতিচারণামূলক নোটবুক খুঁজে পাওয়া গেছে, যা তিনি ৬-দফা ঘোষণার পর কারাগারে বসে লিখেছিলেন। গত ২ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনীর জাপানি ভাষার অনুবাদক কাজুহিরো ওয়াতানাবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে এ তথ্য জানান শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-এর বাংলা বিভাগের প্রধান কাজুহিরো ওয়াতানাবে জাপানি ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। কাজুহিরো ওয়াতানাবে বাংলা থেকে সরাসরি জাপানি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী অনুবাদ করেছেন। ৬০০ পৃষ্ঠার জাপানি সংস্করণটি প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা ‘আশাহি শোতেন’। প্রয়াত জাপানি লেখক তাকাশি হায়াকাওয়ার লেখা ‘আমার বাংলাদেশ’ এবং তাদামাসা ফুকিউরার লেখা ‘রক্ত ও কাদা ১৯৭১’ নামে দুটি বই এর আগে বাংলায় অনুবাদ করেছেন কাজুহিরো ওয়াতানাবে। তিনি জাতির পিতার আরেক কন্যা শেখ রেহানার জন্যও বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র জাপানি সংস্করণের একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
কাজুহিরো ওয়াতানাবে সাক্ষাৎকালে পুরো সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলায় কথা বলেন। জাতির পিতার আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় অনুবাদ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় সে দেশের নাগরিকগণ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার নিজের লেখা কয়েকটি বই জাপানি ভাষায় অনুবাদের জন্য কাজুহিরো ওয়াতানাবেকে দেবেন বলে জানান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Category:

পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডে জিয়া আর গ্রেনেড হামলায় খালেদা জড়িত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণ সভায় প্রধানমন্ত্রী

13উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার জন্য সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দায়ী করে বলেছেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সাথে যেমন জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল, ঠিক তেমনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও পুত্র তারেক রহমানরা জড়িত। এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচার হতেই হবে, নইলে আবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। শুধু ২১ আগস্টই নয়, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পাঁচ বছরে এবং ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদেরও বিচার করা হবে। খুনিরা কেউ রেহাই পাবে না। জড়িতদের শাস্তি পেতেই হবে।
গত ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভয়াল-বীভৎস ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, যারা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে একটি দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেÑ তারা আর যা-ই হোক গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের কল্যাণে বিশ্বাস করতে পারে না। মানুষকে খুন করেই এরা (বিএনপি-জামাত জোট) আনন্দ পায়, খুনের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশের মানুষের ভালো হোক, সুখে থাকুক তা তারা চায় না।
ভয়াল ২১ আগস্ট উপলক্ষে ওই দিন দুপুরের পর থেকেই হামলার স্থল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হামলায় শহীদের পরিবার এবং দীর্ঘ ১১ বছর ধরে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত ও পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা আহতদের উপস্থিতিতে সেখানে রীতিমতো আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১১টি বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের চোখে-মুখে ওই ভয়াল হামলার বীভৎসতার আতঙ্কের ছাপ ছিল স্পষ্ট। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসেই প্রথমে সেখানে স্থাপিত শহীদদের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদ, জাতীয় চার নেতা, ২১ আগস্টের শহীদসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সুফী সুলতান আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর পর ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতারাও শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও অসীম কুমার উকিলের পরিচালনায় আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের পরিবার এবং পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা আহত নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলেন। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের কান্নায় পুরো অনুষ্ঠানের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর সবার শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার জড়িত তার নানা উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও শোক র‌্যালির কর্মসূচি করছিলাম। সেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমাবেশে আমরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলাম। আমাকে হত্যার জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, যে গ্রেনেড যুদ্ধে ব্যবহার হয়, সেই গ্রেনেড দিয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা চালিয়ে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হলো। গ্রেনেডের স্পিøন্টারে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে, পঙ্গুত্ব নিয়ে শত শত নেতাকর্মী জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে তৎকালীন সরকার সকল আলামত একে একে ধ্বংস করে দেয়। সিটি কর্পোরেশনের পানির গাড়ি এনে রক্তগঙ্গা বইয়ে যাওয়া স্থানগুলো ধুয়ে সব আলামত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড সংরক্ষণ না করে সেগুলোও ধ্বংস করা হয়। শুধু তাই নয়, আক্রান্তদের উদ্ধার না করে উল্টো আহতদের যাতে হাসপাতালে নিতে না পারে এবং ঘাতকরা নির্বিঘেœ পালিয়ে যেতে পারে সে জন্য হামলার পর পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এমনকি ওই হামলার সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের দেশের বাইরে চলে যেতেও সহায়তা করেছিল তখনকার জোট সরকার।
হামলার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জোট সরকারের নানা কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা বলতে শুরু করে আওয়ামী লীগ নিজেরাই এ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে নিজেই মেরেছি! আমি আবার গ্রেনেড মারতে শিখলাম কবে? আসলে নিজেরা অপকর্ম করে অপরের কাঁধে দোষ চাপাতে বরাবরই ওস্তাদ বিএনপি নেত্রী। গ্রেনেড হামলার পর প্রতিবাদ-সমাবেশ এমনকি সংসদেও আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
২১ আগস্টের হামলা পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে সংসদে বিএনপির নেতারা বলেছিল, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর যে পরিণতি হয়েছে, আমারও না-কি একই পরিণতি হবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কেন আমি না-কি কোনোদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। বিএনপি নেত্রী ও দলটির নেতাদের কথায় প্রমাণ হয়, আগে থেকেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সরকারে থেকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। ২১ আগস্টের আগে ১৭ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ৬৩টি জেলায় একসাথে পাঁচ শতাধিক স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা।
তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আহত আইভি রহমানকে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসার নামেও অনেক রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন সিএমএইচে দেখতে যান, তখন আইভি রহমানের ছেলে-মেয়েদের পাশের ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে রহস্য কী ছিল, আমরা তা জানি না। দেখতে যাওয়ার সময় ছেলে-মেয়েদের সান্ত¡না না দিয়ে উল্টো ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হলো কেন? এর জবাব কে দেবে?
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশীদরা সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছে যে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে তারা জিয়াউর রহমানের সাথে দেখা করেছিল। এ সময় জিয়াউর রহমান তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলে তাদের (বঙ্গবন্ধুর খুনি) সাথে সে (জিয়া) থাকবে। তাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সাথে যেমন জিয়া জড়িত ছিল, তেমনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সাথে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও পুত্ররা জড়িত। শুধু ২১ আগস্টই নয়, বিএনপি-জামাত জোট সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড-বোমা ও গুলি করে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া এমপি, আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপিসহ অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল।

আইভি রহমানকে শ্রদ্ধায় স্মরণ
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বনানীতে আইভি রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোনাজাত, ফাতেহা পাঠ, কোরআনখানি, মিলাদ ও আলোচনা সভা।
প্রয়াত আইভি রহমানের গুলশানের বাসভবনে গত ২৪ আগস্ট বাদ আসর জিল্লুর রহমান, আইভি রহমান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বনানী কবরস্থানে আইভি রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমান গুরুতর আহত হন। ২৪ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা যান।
ভৈরবে স্মরণসভা : আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২৪ আগস্ট সকালে স্মরণসভা হয়েছে। ভৈরব উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগের একাংশের উদ্যোগে জিল্লুর রহমান পৌর মিলনায়তনে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তারা ১১ বছরেও এই হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্মরণসভা শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৬টায় ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সাড়ে ৬টায় আইভি রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Category:

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শেখ হাসিনা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়াই লক্ষ্য

Posted on by 0 comment

25(c)উত্তরণ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সাথে আমরা গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি। আর এর মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ব্রিটেনের আরও সহায়তা কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবুও ব্রিটেনের কাছ থেকে আরও সহায়তা আমাদের প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনগণের জন্য ব্রিটেন তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাজ্যে ছয় দিনের সফরের চতুর্থ দিন গত ১৫ জুন বিকেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) যুক্তরাজ্য শাখার কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপিদের জন্য এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমপি কিথ ভাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্লামেন্ট ভবনে পৌঁছলে হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ তাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে ব্রিটেনকে বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটেন দুদেশের পারস্পরিক কল্যাণে একসাথে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে সব ধর্মের মানুষ তার মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সকল আর্থ-সামাজিক খাতে ভালো অগ্রগতি লাভ করছে। আমরা নেপাল, ভুটান ও ভারতের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছি এবং বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি।
বাংলাদেশে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, চিরদিনের জন্য এ অঞ্চল থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করার একটি অভিন্ন লক্ষ্য আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, আমি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে আমরা সকল সমস্যা সমাধান করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য নির্মূল এবং জনগণকে সকল মৌলিক সুবিধা প্রদান করা। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমিকরা যাতে তাদের কর্মস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ পায় সে লক্ষ্যে সরকার যতœ নিতে শুরু করেছে। দারিদ্র্য হার হ্রাসের লক্ষ্যে সরকারের প্রয়াসের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য হার ইতোমধ্যে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে এবং আমরা আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই।
প্রথমবার নির্বাচিত ব্রিটিশ এমপিদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু আপনারা ভাগ্যবান যে আপনারা গণতন্ত্র ব্যবস্থা উপভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাও ওয়েস্টমিনিস্টার ধরনের গণতন্ত্র অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। এটি একটি কঠিন কাজ। তা সত্ত্বেও আমরা এ লক্ষ্যে ক্রমান্বয়ে অগ্রগতি লাভ করছি।
টিউলিপ সিদ্দিকের এমপি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিউলিপ যখন জন্ম নেন তখন তিনি লন্ডনেই ছিলেন। আমার এখনও মনে আছে যে আমি প্রথমবার তাকে ‘টিউলিপ’ ফুলের মতোই দেখেছিলাম। এখন সে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য। গর্বে আমরা বুকটা ভরে যায়। আমি তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ আইটি খাতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন গ্রামগুলো ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।
প্রথমবার যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টে নির্বাচিত হওয়ায় অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন এলাকা থেকে লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হওয়া একটি বিরাট সম্মানের বিষয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বেশ কিছু সংখ্যক নারী নির্বাচিত হওয়ায় আমরা গর্বিত। আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সরকারের সর্বোচ্চ ৫টি পদে নারী রয়েছেন। টিউলিপ বলেন, আমরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং তিনি গত নির্বাচনে সফল হওয়ার ব্যাপারে আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। স্বাগত বক্তৃতায় কিথ ভাজ একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহসের সাথে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, তাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) এ অনুষ্ঠানে পাওয়া বিরাট সম্মানের বিষয়। তিনি অন্যদের জন্য নিজেই অনেক নজির স্থাপন করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি অ্যান মেইন বক্তৃতাকালে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. আবদুল হান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রুশনারা আলী, ড. রূপা হক, জিমি ফিটজপ্যাট্রিক, ব্যারোনেজ পলা উদ্দিনসহ প্রায় ৩০ এমপি এবং সিপিএ যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু টাগি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রথমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত টিউলিপ সিদ্দিক গত ১৬ জুন স্থানীয় সময় দুপুরে হাউস অব কমন্সে ভাষণ দেন। এ সময় হাউস অব কমন্সে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানাসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লন্ডনে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে
উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এবং যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ও যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে জনগণের জীবনমান উন্নত করে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগ বাড়িয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার ইতোমধ্যে ‘বিসিআইএম ইকোনমিক করিডর’ (বিসিআইএম-ইসি) নামক যৌথ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। লন্ডনের পার্ক লেন হোটেলে গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের সাথে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। বিশিষ্ট লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসী বাংলাদেশি ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দেওয়া মানপত্র পড়ে শোনান। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র বেশ কয়েকটি কপি পাওয়ার পর অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের কিছু সদস্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নের লেবার দলীয় এমপি এবং বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকী, কার্ডিফ সেন্ট্রালের লেবার দলীয় এমপি জো স্টিভেনস, ইলফোর্ড নর্থের লেবার দলীয় এমপি ওয়েস স্ট্রিং, ইলফোর্ড সাউথের লেবার দলীয় এমপি মাইক গেপস এবং সুতন ও চিপের রক্ষণশীল দলের এমপি পাউল স্কাউলি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, ঝিনাইদহের আওয়ামী লীগ সাংসদ নবী নেওয়াজ, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে অন্যান্য শহীদ, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। দারিদ্র্যকে এ অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর বিরুদ্ধে সকলকে একযোগে লড়াই চালাতে হবে। তিনি বলেন, কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবনাটা সঠিক হবে না। আমাদের প্রতিবেশীদের নিয়েও ভাবতে হবে। ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নকে সরকারের বড় ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে একের পর এক সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মিয়ানমার-ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেও আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা রুজুর মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছি এবং এ আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বাঙালি জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে।
স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পটভূমি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিটমহলবাসীর সমস্যা সমাধানে এ উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, ছিটমহলবাসীর বহু বছরের পুরনো সমস্যা সমাধানে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৬ মে নয়াদিল্লিতে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এই চুক্তি অনুমোদন করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বর্বরোচিত হত্যাকা-ের পর পরবর্তী সরকারগুলো এ চুক্তি কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে ভারতের পার্লামেন্ট বহু প্রতীক্ষিত এ চুক্তি অনুমোদন করত এবং ছিটমহলবাসীর ভোগান্তির অবসান হতো। তিনি বলেন, ছিটমহলবাসীর এ সমস্যা সমাধানে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারও সাহস করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ভারতের সাথে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর এবং কয়েক দশকের পুরনো পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি বলেন, তার সরকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ও আইসিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৭ শতাংশে গ্রাস করেছে। চরম দারিদ্র্যের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই সরকারি ঘোষণা দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে গত ছয় বছরে ৫ কোটি মানুষ নি¤œবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের দ্রুত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে আমরা দেশে ২০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন ৩ কোটি ৮২ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার সরকার নেপালে ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টন চাল পাঠিয়েছে এবং আরও ১ লাখ টন চাল পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণে উৎসাহিত হয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ব্যাপারে সব সময় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজের জন্য কিছু চান না। তার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে দেশবাসীর কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি দেশের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। এ ব্যাপারে দেশবাসীর ভালোবাসা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রগতির পথে অনেক বাধা আসবে। কিন্তু আমরা এসব প্রতিবন্ধকতা ভেঙে এগিয়ে যাব। শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমাদের চিরকালের অভ্যাস ¯্রােতের বিপরীতে নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা এ ¯্রােতের বিপরীতে নৌকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। আমাদের ঝড়-তুফানের মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ রয়েছে। আমাদের উভয় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিএনপি-জামাত চক্রের হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও ও নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব বর্বরোচিত কর্মকা-ের হোতা এখন লন্ডনে বসবাস করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ নারী-শিশু ও পুরুষকে হত্যা করেছে তারা কখনও রেহাই পাবে না। এসব জঘন্য অপরাধীর অবশ্যই বিচার করা হবে।

খালার কাছ থেকে ফুলের তোড়া
নেব কল্পনাও করিনি : টিউলিপ
অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির এমপি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিক বলেছেন, তিনি মঞ্চে তার খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ফুলের তোড়া নেবেন এ কথা কখনও কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও এটা স্বপ্নে দেখিনি যে, মঞ্চে এসে আমি আমার খালার কাছ থেকে ফুলের তোড়া নিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের সমর্থন ছাড়া তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হতে পারতেন না। মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে আবেগাপ্লুত টিউলিপ বলেন, ‘আপনারা অনেক করেছেন। আপনাদের সমর্থন, ¯েœহ ও ভালোবাসা ছাড়া আমি এ অবস্থানে আসতে পারতাম না।’
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেবার পার্টির এই এমপি বলেন, তিনি ৭ মে’র নির্বাচনে ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তার এই নির্বাচনী আসনে বাঙালি ভোটার রয়েছেন ১ হাজার। নির্বাচনে বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত অন্য দুই পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারা আলী ও ড. রূপা হকের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, তিনি গর্বিত যে, যুক্তরাজ্যের এবারের নির্বাচনে তিনজন বাঙালি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন এবং এ সময় তিনি প্রথম সিলেট ও পরে ঢাকা যাবেন।
অন্যান্য ব্রিটিশ এমপি অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা ব্রিটিশ অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক অবদানেরও প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ হাউস অব কমান্সের সদস্যরা ‘জয় বাংলা’ বলে অনুষ্ঠানে তাদের বক্তৃতা শেষ করেন। অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যেক খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত ছয় বছরে দেশ এভাবে এগিয়ে যাবে এটা কেউ কল্পনা করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও উন্নয়নের মতো প্রত্যেক খাতে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু করতে হবে।

Category:

বাংলাদেশ আগামীতে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে : প্রধানমন্ত্রী

Posted on by 0 comment

56(C)উত্তরণ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আগামীতে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে। গত ২৮ মে তেজগাঁওয়ে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশার-এ এল-৪১০ পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমানের অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগামীতে নিজেদের উদ্যোগে যুদ্ধবিমান তৈরি করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। শিগগিরই রাশিয়া থেকে লোন প্রটোকলের আওতায় ওয়াই এ কে-১৩০ অ্যাডভান্সড জেট ট্রেইনার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ইতোপূর্বে রাশিয়া থেকে ৩টি এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার ক্রয় করা হয়েছে। একই প্রটোকলের আওতায় সম্প্রতি আরও ৫টি এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারের মধ্যে ৪টি অন্তর্ভুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই আরেকটি অন্তর্ভুক্ত হবে। এ ছাড়া একটি এমআই-১৭১-ই হেলিকপ্টার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন হয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক অনুসন্ধান এবং উদ্ধার কর্মকা- গতিশীল করতে বিমান বাহিনীতে দুটি আগাস্তা ওয়েস্ট ল্যান্ড হেলিকপ্টার সংযোজিত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ ও এই বাহিনীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিমানবাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৌশলগত দিক থেকে একটি সুদৃঢ়, শক্তিশালী ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, বিমানবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের আকাশসীমার অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের বন্ধু হতে হবে। পরিশ্রম, পেশাগত দক্ষতা ও সততার বিকল্প নেই। তাই সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে আপনাদের প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনে মনোনিবেশ করতে হবে। জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় সংগ্রহ করা এই বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিমান বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ যতœ নেবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন বিমান বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আগে পরিবহন বিমানের বৈমানিকরা প্রথমে পিটি-৬ ও টি-৩৭ বিমানে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ নিতেন, পরে নিতেন পরিবহন বিমান চালনার প্রশিক্ষণ। এতে প্রশিক্ষণ ব্যয় বেড়ে যেত। এল-৪১০ বিমানের অন্তর্ভুক্তির ফলে এ ব্যয় কমে আসবে। অবতরণের ক্ষেত্রে এ বিমানে বেশি সুবিধা থাকায় দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে।
বিমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, টহল, আকাশপথে জরিপ ও প্যারা ট্রুপিং পরিচালনার পাশাপাশি বিমানবাহিনীর সার্বিক পরিবহন সামর্থ্যকে বিশ্বমানে পৌঁছে দেবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে প্রশিক্ষণের অবকাঠামোগত সুদৃঢ় ভিত্তি। মান ও দক্ষতায়ও আমরা কোনোভাবে পিছিয়ে নেই। তাই আমি আপনাদের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। কোনোরকম বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়া গত ২০ বছরে জাতিসংঘ মিশনে আমাদের বৈমানিকগণ প্রায় ৫০ হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা সম্পন্ন করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় পেশাগত অর্জন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে পৌঁছলে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মাদ ইনামুল বারী ও বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর এয়ার অফিসার্স কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে বিমানবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড-অব-অনার প্রদান করে। তিনি অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং উইং কমান্ডার রাশেদ আহমেদ সিদ্দিকের হাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ তুলে দেন। পরে তিনি চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি ৩টি নতুন এল-৪১০ পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমানের অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে কেক কাটেন এবং একটিতে আরোহণ করে এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

Category:

বিএনপি-জামাত দেশ ও মানবতার শত্রু

Posted on by 0 comment

চাঁপাইয়ের বিশাল জনসভায় শেখ হাসিনা
21উত্তরণ প্রতিবেদন:  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ধ্বংস-খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতির ধারক-বাহক বিএনপি-জামাত জোটকে ‘না’ বলার এবং পরিহার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করে তাদের দল আর নয়, তাদের ভোট বা সমর্থন আর নয়। এদেরকে ‘না’ বলুন, পরিহার করুন। দেশের উন্নয়ন, প্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোন। ধ্বংসের রাজনীতি পরিহার করে উন্নয়নের রাজনীতিতে শামিল হোন। বাংলাদেশের মাটিতে আর ধ্বংসের রাজনীতি চলবে না, খুনের রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না।
গত ১৬ মে বিকেলে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামাত মানেই ধ্বংস, সন্ত্রাস, খুন-খারাবির রাজনীতি। এরা ধ্বংস, খুন ছাড়া মানুষের ভালো করতে জানে না। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানুষ খুন ছাড়া অন্য কিছু শেখেনি। দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত দেশের ও মানবতার শত্রু। যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে তাদের ক্ষমা নেই। এদের ধরিয়ে দিন। এদের উপযুক্ত শিক্ষা ও শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার আর সাহস না পায়।
ভারতের পার্লামেন্টে দুদেশের স্থল সীমান্ত চুক্তির বিল পাস হওয়াকে বর্তমান সরকারের বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য উল্লেখ্য করে বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর ভারতের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বড় সফলতা। শুধু এই চুক্তিই নয়, ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চুক্তির মাধ্যমে আমরা ভারত থেকে পানির হিস্যাও আদায় করেছি। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এসব কিছুই করতে পারেনি। বিএনপি মুখে ভারত বিরোধিতা করলেও ক্ষমতায় থাকতে সে দেশের তোষামোদি, চাটুকারী করে। ভারত ছাড়াও মিয়ানমারের কাছ থেকে আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। কিন্তু বিএনপি পারে না কেন?
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকের সংসদ সদস্য পদে বিজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সফলতা অর্জন করেছি। কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতি আর মানুষ খুন ছাড়া আর কিছুই শেখেনি। সরকারি কোষাগার থেকে ভাতা নিয়ে খালেদা জিয়া তার ছেলেদের সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ড্রাগ গ্রহণ শিখিয়েছেন। মানিলন্ডারিংয়ের কারণে তার ছেলেকে লন্ডনে এখন লুকিয়ে থাকতে হয়। এটাই হচ্ছে বিএনপি আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য। আমরা দেশের উন্নয়ন করি, আর তারা দেশকে ধ্বংস করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এখন এগিয়ে যায়, তখনই বিএনপি-জামাত দেশকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লাগে। এরা দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু। তিনি ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে বলেন, ছিটমহলবাসীরা এখন নাগরিকত্বসহ সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। বিদ্যুৎসহ যা যা লাগে তার সবই দেওয়া হবে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এই প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা সদরটিতে যেন মানুষের ঢল নেমেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি-জামাত জোটের ৯২ দিনব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ, ভয়াল সন্ত্রাসের বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি অবহেলিত সীমান্তবর্তী এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।
আগামীতেও ‘নৌকা’ মার্কায় সমর্থনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানেই সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর মানুষ খুন। আর আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর প্রগতি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই দেশ ধ্বংস হয়। এরা ক্ষমতায় থাকলেই হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের সময় সারাদেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ মঈনুদ্দীন ম-লের সভাপতিত্বে বিশাল এ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি, ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, আবদুল ওদুদ বিশ্বাস এমপি, গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এমপি, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুছ এমপি, গোলাম রাব্বানী এমপি, জিয়াউর রহমান, অ্যাডভোকেট শামসুল হক, রুহুল আমিন, আবদুল কাদের, আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যক্ষ আতিকুল আলম, মাসুদুর রহমান, ফায়জার রহমান কনক প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-এ-এলাহী, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক প্রমুখ।

শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন
বেলা সোয়া ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জর মেজবাহুল হক নতুন স্টেডিয়ামে নির্মিত হেলিপ্যাডে নেমে সার্কিট হাউসে উপস্থিত হলে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বেলা ১টায় শহরের মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত ‘শেখ হাসিনা সেতু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এলজিইডির বাস্তবায়নে ৫৪৬ দশমিক ৬০ মিটার দীর্ঘ প্রিস্টেড গার্ডার ‘শেখ হাসিনা’ সেতুটি (দ্বিতীয় মহানন্দা সেতু) নির্মাণের ফলে জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ৯টি ইউনিয়নের ৫ লাখ লোক স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর জেলা শহরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হলেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী এই সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরে আধুনিকমানের এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলো।
বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা সদরে স্থাপিত যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (যুব ভবন), বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির নবনির্মিত চক্ষু হাসপাতাল ভবন, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের চারতলা ভিতবিশিষ্ট দ্বিতল (দ্বিতীয়) একাডেমিক ভবন এবং গোমস্তাপুরে নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করেন। একই সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের ১০০ থেকে ২৫০ শয্যা উন্নীতকরণ, কানসাট-রোহনপুর-ভোলাহাট সড়ক উন্নয়ন, পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে আলাতুলী এলাকা রক্ষা প্রকল্প এবং আমনুরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার উন্নয়নে তার সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে একটি উন্নতমানের বাস টার্মিনাল, নবনির্মিত শেখ হাসিনা সেতুর সাথে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সেতুর সংযোগ সড়ক, পর্যটন কেন্দ্র, শিশুপার্ক, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ ছাড়াও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের আবাসন ও তাদের মধ্যে খাস জমি বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

Category:

দক্ষিণ-দক্ষিণ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে

Posted on by 0 comment

আফ্রো-এশীয় শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
48(c)উত্তরণ ডেস্কঃ  বিশ্বের দক্ষিণ-দক্ষিণ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। তিনি গত ২২ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে আফ্রো-এশীয় শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।
এদিকে, ২৬ এপ্রিল গণভবনে ইন্দোনেশিয়ার সফর নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়া সফরের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২২ থেকে ২৩ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান-আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে আমি আমার বক্তব্যে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করি। দারিদ্র্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাই। এ ছাড়া, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ অভিবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
আফ্রো-এশীয় শীর্ষ সম্মেলনে বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আফ্রো-এশীয় শীর্ষ সম্মেলনের পথিকৃৎদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এশিয়া-আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের পথ যারা প্রশস্ত করে দিয়ে গেছেন এ সম্মেলনের ৬০তম বার্ষিকীতে সেই বিচক্ষণ নেতাদের স্মরণ করছি আমি। তারাই বিশ্বকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনের সুতায় গেঁথে গেছেন। তারা লড়াই করে গেছেন উপনিবেশবাদ, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, আমার বাবা সবসময়ই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে কোনো যুদ্ধ, সংঘাত ও ধ্বংস থাকবে না। তিনি বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের জন্য লড়েছিলেন। একই সাথে মানবতার কল্যাণ ও শান্তির জন্য বিশ্বের সবগুলো রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় উৎসাহী ছিলেন। এ প্রত্যয়ে থেকেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব জিডিপির প্রায় অর্ধেকের মতোই আসে দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলো থেকে। এখান থেকেই আসে অর্ধেকের মতো অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং এখানেই পরিচালিত হয় অর্ধেকেরও বেশি বিশ্ববাণিজ্য। তারপরও দক্ষিণ-দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলোর টেকসই উন্নয়ন অর্জন এবং এসব রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা স্থাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা নাজুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজেদের উন্নয়নের মডেল শান্তি ও উন্নয়নের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, বিশেষত নারী, যাদের ক্ষমতায়ন দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা দারিদ্র্যের হার দূরীকরণে দারুণ অভিজ্ঞতা লাভ করছি। ২০১০ সালে যেখানে আমাদের দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ ছিল, সেখানে এখন ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডার আলোকে কিছু পরিবর্তনযোগ্য লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি ৩টি উন্নয়ন ইস্যুতে গুরুত্ব দেব। প্রথমত, ক্ষুধা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে; দ্বিতীয়ত, সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার মোকাবিলা করতে হবে এবং তৃতীয়ত, ঘনিষ্ঠ ও টেকসই সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তার সরকারের নেওয়া নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সরকার সব রকমের সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছে। সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম বা জাতি নেই। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তাদের বর্বর কা- চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি; উন্নয়ন বাড়াতে, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায়, সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং মানব পাচার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিমেয়। তিনি বলেন, শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ইতি টানতে আমার সরকার ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করিয়েছে। শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ-বিশ্ব গড়তে এ অঞ্চলের নেতাদের একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান। এর আগে, ২২ এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় জেসিসিতে আফ্রো-এশীয় শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এশিয়া ও আফ্রিকার ৩৪টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ ১০৫টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নেন। ছয় দিনের সম্মেলনের তিন দিন হয় এ শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকে সকাল ১০টার পর সম্মেলনস্থল জেসিসিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেঘবতী সুকর্নপুত্রীর সাথেও। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল মাহমুদের সাথে।২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় দুই ঘণ্টার প্লেনারি সেশন-৪ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মিসরের প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম মেহলাব এ সেশনে যৌথভাবে সহ-সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ এপ্রিল সকাল ১০টায় ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে তিন দিনের ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে ২৩ এপ্রিল দেশে ফেরেন।

Category:

আন্দোলনে চরম ব্যর্থ খালেদা জিয়া

Posted on by 0 comment

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

58উত্তরণ প্রতিবেদনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদারদের মতোই গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামাতকে সাথে নিয়ে তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। আর মানুষ পুড়িয়ে মারা গণহত্যার শামিল। এটি জঙ্গিবাদী কর্মকা-। তবে ৮১ দিনের অবরোধের পরও তিনি আন্দোলনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই ব্যর্থতা থেকে উনি আর উঠে আসতে পারবেন না। নাগরিক সমাজের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যাদের বিবেক আছে, তারা কীভাবে মানবতাবিরোধী ও মানুষ হত্যাকারী বিএনপি-জামাতকে সমর্থন দেয়, ভোট দিতে পারে? যারা নিজেদের সমাজের জ্ঞানী-গুণী ও বিবেকবান বলে দাবি করেন, তারা কী করে এই অপশক্তির পাশে দাঁড়ায়, পক্ষে কথা বলে? এতটুকু মনুষ্যত্ব থাকলে গণহত্যায় জড়িত বিএনপি-জামাতকে তারা সমর্থন করতেন না, এদের সঙ্গও ছেড়ে দিতেন। গত ২৭ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অবরোধ-হরতালের নামে বিএনপিসহ ২০ দলের নাশকতা, নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জনগণ শান্তি চায়। তাই আর কাউকেই দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। এদেশে আর জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। কারও নাম উল্লেখ না করে চলমান সংকট নিরসনে বিএনপির সাথে সংলাপের প্রস্তাবকারী নাগরিক সমাজের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন, কথায় কথায় জেহাদ ঘোষণা করেনÑ তারা কীভাবে এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের (খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান) পক্ষে কথা বলেন? তারা কী একবারও পেট্রলবোমায় দগ্ধ মানুষের যন্ত্রণা দেখতে গিয়েছেন, উপলব্ধি করেছেন? তাদের মানবতাবোধ জাগ্রত হয় হত্যাকারীদের পক্ষে। হত্যাকারীদের মানবতা নিয়েই তারা সোচ্চার হন।
স্বাধীনতা দিবসে খালেদা জিয়ার জাতীয় স্মৃতিসৌধে না যাওয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে শহীদ মিনার এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে না গিয়ে খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন, তিনি একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর। আর কারা কারা স্মৃতিসৌধে যাননি, সেটিও হিসাব করতে বলব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা বলেন, তাদের নেত্রী নাকি অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। তাকে তো কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেনি! উনি তো নিজেই কার্যালয়ের ভেতরে তালা মেরে বসে আছেন। বিএনপি নেত্রী অফিস থেকে বের হচ্ছেন না। তার কথা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা না করে সেখান থেকে তিনি বেরও হবেন না। সেই চেষ্টাও তিনি আগে করেছেন। গ্রেনেড মেরে আমাকে হত্যার চেষ্টাও করেছেন, পারেন নি। আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, কেউ তাকে মারতে পারে না। উনি তো আর খোদার ওপর খোদকারি করতে পারেন না।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মৃত্যুভয়কে আমি পরোয়াও করি না। আল্লাহ যতটুকু কাজ দিয়েছেন, সেই মানুষের কল্যাণ ও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন না ঘটানো পর্যন্ত কাজ করেই যাব। যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ মানুষের সেবা করেই যাব। খালেদা জিয়ার সাধ্য নেই আমাকে বিরত রাখার। তিনি বলেন, লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ আমরা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। ইনশাআল্লাহ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।
সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর এমপি। সভা পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও অসীম কুমার উকিল।

৭ই মার্চের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
জঙ্গি নেত্রী খালেদাকে শাস্তি পেতেই হবে
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর বোমা হামলা, তাদের হত্যা করা আমরা বরদাশত করব না। শুধু দুর্নীতির মামলা নয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলাও হয়েছে। হুকুমের আসামি তিনি। আজ যারা দেশে মানুষের রক্ত নিয়ে খেলছেন তাদের শাস্তি বাংলার মাটিতে হবেই হবে। একজন খুনির যে শাস্তি, সেই শাস্তি একদিন তাকে (খালেদা) পেতেই হবে। গত ৭ মার্চ বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। হরতাল-অবরোধে নাশকতাকে জঙ্গিবাদী তৎপরতা আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসীÑ এদের কোনো ক্ষমা নেই। বাংলাদেশ জঙ্গিদের দেশ নয়। বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। আজ যারা বোমা মারে, গ্রেনেড হামলা করে, হত্যাকা- চালায়, তারা জঙ্গি। জঙ্গিদের যে শাস্তি আন্তর্জাতিকভাবে দেওয়া হয়, সে শাস্তি তাদেরও পেতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলার মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা নাÑ এটা জাতির পিতা বলে গেছেন। খালেদা জিয়াকে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আপনার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাংলার মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার অনেক আশা ছিল, বোমা মেরে মানুষ খুন করবেন আর কেউ এসে ওনাকে ক্ষমতায় বসাবে। কিন্তু কেউ আসে না। এত যে আশা ছিল বিদেশ থেকে কেউ এলে তারা ওনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, তারাও স্পষ্ট বলে দিয়েছে, এখানে জঙ্গিবাদ কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষ খুন করা বন্ধ করতে বলেছে। কাজেই আপনার আছে কে আর? কয়েকটা সন্ত্রাসী? সন্ত্রাসী দিয়ে উনি দেশের ক্ষমতায় যাবেন? সন্ত্রাসী নিয়ে আন্দোলন সফল করবেন? বাংলাদেশের মানুষ এখনও সজাগ। বাংলাদেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে।
জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, শান্তিতে বিশ্বাসী, বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী সব মানুষকে বলব, ওই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সবাই সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ান। খালেদা জিয়া জঙ্গিদের নেত্রী, ওই জঙ্গি নেত্রীর স্থান বাংলাদেশে হবে না। শাস্তি তাকে পেতেই হবে। ৭ই মার্চে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে মানুষের জন্য। আর সেই মানুষগুলোকে আজকে খালেদা জিয়া পুড়িয়ে হত্যা করছেন। এ পর্যন্ত অনেক মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন, হাজারের ওপরে মানুষকে পুড়িয়ে আহত করেছেন। এ ধ্বংসযজ্ঞ কার স্বার্থে, কিসের জন্য? খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় আসামি। উনি কোর্টে যাবেন না, মানুষ হত্যা করবেন। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন আর সেটি আমরা সহ্য করব? এটি কোনো দিন সহ্য করব না। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। আমরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর উনি ওখানে অফিসের মধ্যে বসে থেকে হুকুম দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। জনগণের কাছে এটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট। আর যারা এটি ঢাকার চেষ্টা করবেন, যারা নাশকতাকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তারাও সমানভাবে দোষী। তারাও পার পাবেন না। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওনার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, ৬৭ দিন সেটির তারিখ পড়েছে। মামলাটা হলো দুর্নীতির। এতিমদের টাকা উনি লোপাট করেছেন। সে মামলা আমার দেওয়া নয়। সেটি দিয়েছিল ওনার প্রিয় মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন গং। ৬৭ দিনের মধ্যে তিনি হাজির হয়েছেন মাত্র সাত দিন। শেষবার যখন কোর্টে গেলেন, তিনি লাঠিসোঁটা, গাড়িবহরসহ গিয়েছেন, যেন কোর্টকে ভয় দেখাবেন। আমার প্রশ্ন, ওনার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে যে দুর্নীতি করেন নাই, তবে কোর্টে গিয়ে মামলা মোকাবেলা করেন না কেন? আসলে তিনি নিজে জানেন কিভাবে এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। কাজেই মামলা চললেই শাস্তি অবধারিত। সে ভয় তার মধ্যে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘর ছেড়ে ওনার অফিসে বসে থাকার কী মানে আমরা জানি না, কী রহস্য আমরা জানি না। উনি অফিসে বসে কী বিপ্লব করছেন? তিনি এই যে আন্দোলনের ডাক দেন, অবরোধের ডাক দেন, তার এই ডাক কেউ মানে না। হরতাল-অবরোধ কেউ গ্রহণ করে নাই। কারণ জঙ্গি নেত্রীর নির্দেশ এ দেশের মানুষ মানবে না। আমি বাংলার মানুষদের ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই।
সমাবেশ পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি সহযোগী সংগঠনের হারুন অর রশিদ, মোল্লা মো. আবু কাওসার, অধ্যাপক অপু উকিল, বদিউজ্জামান সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ।

জামালপুরে কৃষক সমাবেশ
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘মায়ে পুতে মিল্লা দেশটা খাইলো গিল্লা’। তিনি গত ১৮ মার্চ বিকেলে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী হাইস্কুল মাঠে কৃষক হত্যা দিবস উপলক্ষে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুখে ম্যাকাপ মেরে, মাথায় চুল ফুলিয়ে জনগণের সামনে আসেন। স্বামী ও ছেলের মৃত্যুতে তার চোখে পানি আসে না। অথচ ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়ার সময় তার চোখে পানির অভাব ছিল না। মন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকাবস্থায় খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এখন তিনি গুলশান দলীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় বন্দী থেকে তার দলীয় লোকজন দিয়ে একের পর এক পেট্রলবোমা ও গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। এজন্য একদিন তাকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলামÑ আপনারা (দেশবাসী) নৌকায় যদি ভোট দেন তা হলে দেশে সার-তেলের কোনো অভাব হবে না। আপনারা আমাদের কথা রেখেছেন। তাই শেখ হাসিনার সরকারও আপনাদের কথা রেখেছেন। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে দেশে পর্যাপ্ত সার-তেলের পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ সরবরাহ দিচ্ছি। কৃষক আজ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৪ বছর। দীর্ঘ এই চার দশকের বেশি সময় পরও দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। আমরা বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য সংরক্ষণে রেখেই খাদ্য রপ্তানি করছি। আলু, চিংড়ি, সবজি রপ্তানি করছি। ইতোমধ্যে মুরগির মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবহেলিত ভুট্টা এখন খাদ্য ঘাটতির অভাব পূরণ করছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ থেকে পুরো মার্চ মাসজুড়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সরাসরি নির্দেশে কৃষক ন্যায্য মূল্যে সার চাওয়ার অপরাধে জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মকসু মিয়া, আতিক, টুকু, কবির হোসেনসহ ১৮ কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ গুলি হত্যা করে। কৃষক দিবস স্মরণে এবার ১৮ মার্চ ২০১৫-তে নিহত কৃষক কবির হোসেনের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ফুলকুচা ইউনিয়নের জাজরাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. মোতাহার হোসেন মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মির্জা আজম এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা, বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ চৌধুরী, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, আতিকুল হক সহিদ, জাবেদ মোশাররফ রূপক, নূরুননবী ভোলা, জামালপুর জেলা কৃষকলীগ সভাপতি সৈয়দ মোখলেসুর রহমান জিন্নাহ ও সাধারণ সম্পাদক হরমুজ আলী হিরু।

বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে সর্বসম্মতিক্রমে আবদুল হাই এমপি সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ঝিনাইদহ সাইদুল করিম মিন্টু। এ ছাড়াও সহ-সভাপতি পদে শফিকুল ইসলাম অপু ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৫ মার্চ ওয়াজির আলি হাইস্কুল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয়  কার্যকরী সদস্য অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোস, মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, এসএম কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, নবী নেওয়াজ এমপি, আনোয়ারুল আজিম আনার এমপি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান।

মেহেরপুর
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেহেরপুর পৌর পার্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেয়াজান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন। সম্মেলনে অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি সভাপতি এবং এমএ খালেক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

খুলনা
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক এমপি, শ্রী সুভাষ বোস, এসএম কামাল হোসেন। সম্মেলনে শেখ হারুন অর রশীদ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি পুনর্নির্বাচিত হন।

লক্ষ্মীপুর
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গোলাম ফারুক পিন্টু সভাপতি ও অ্যাড নূর উদ্দিন নয়ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, সুজীত রায় নন্দী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম।

নড়াইল
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পী এসএম সুলতান মঞ্চে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী সুভাষ বোসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, এসএম কামাল হোসেন। সম্মেলনে শ্রী সুভাষ বোস সভাপতি এবং নিজাম উদ্দিন খান নিলু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বাগেরহাট
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগেরহাট খানজাহান আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, তালুকদার আবদুল খালেক এমপি, এসএম কামাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান টুকু। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ডা. মোজাম্মেল হোসেন এবং কামরুজ্জামন টুকু সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হন।

যশোর
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম মিলন সভাপতি এবং শাহীন চাকলাদার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শ্রী সুভাষ বোস, মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, এনামুল হক শামীম, এসএম কামাল হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।

সাতক্ষীরা
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি শহীদ রাজ্জাক পার্কে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন অধিবেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি, এসএম কামাল হোসেন। সম্মেলনে মুনসুর আহমেদ সভাপতি এবং নজরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Category: