Blog Archives

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল : কিংবদন্তি সংগীতকার

2-6-2019 8-50-11 PMমাসুদ পথিক: আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি। শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার মৃত্যুতে, সংগীত ও শিল্পাঙ্গনে। তার অকালে চলে যাওয়া সহকর্মীসহ অনেক ভক্ত স্রোতা মেনে নিতে পারছেন না। অনেকেই শোকে স্তব্ধ।
বাংলাদেশের এই সংগীত ব্যক্তিত্বের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫৬; ঢাকা। মৃত্যু ২২ জানুয়ারি ২০১৯ (৬৩ বছর); ঢাকা।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর গাওয়া বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে তার নিয়মিত গান করা। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এবং আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংগীতকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে। অনেক গান মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। তার মধ্যে কিছু গান হলোÑ
১. সব কটা জানালা খুলে দাও না (সাবিনা ইয়াসমিন)
২. সেই রেল লাইনের ধারে (সাবিনা ইয়াসমিন)
৩. আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি (এন্ড্রু কিশোর)
৪. আমার বুকের মধ্যেখানে (এন্ড্রু কিশোর ও                  সামিনা চৌধুরী)
৫. আম্মাজান আম্মাজান (আইয়ুব বাচ্চু)
৬. পড়ে না চোখর পলক (এন্ড্রু কিশোর)
৭. যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে (খালিদ হাসান মিলু                   ও কনকচাঁপা)
৮. তুমি মোর জীবনের ভাবনা (এন্ড্রু কিশোর)
৯. চিঠি লিখেছে বউ আমার (মনির খান)
১০. আমার দুই চোখে দুই নদী (সামিনা চৌধুরী)
১১. একাত্তরের মা জননী (আগুন ও রুনা লায়লা)
১২. জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে (এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা)
১৩. আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন (এন্ড্রু কিশোর)
১৪. আমি জীবন্ত একটা লাশ (কুমার বিশ্বজিৎ)
১৫. অনেক সাধনার পরে (খালিদ হাসান মিলু                       ও কনকচাঁপা)
‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘আয় রে মা আয় রে’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে, ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’Ñ এমন বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা এই শিল্পী।
তিনি প্রেমের জন্য লিখেছেনÑ ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘ভাড়া কইরা আনবি মানুষ’, ‘প্রেমের তাজমহল’সহ আরও বহু জনপ্রিয় গান। ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক ছিলেন বুলবুল। তার ছেলে সামির আহমেদ।
বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুলবুল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।
গত ২২ জানুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। জাতীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দেশবরেণ্য এই শিল্পীর মরদেহ শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Category:

এক আদর্শ সংস্কৃতিবান রাজনীতিবিদ

1-15-2019 6-58-37 PMনূহ-উল-আলম লেনিন:

এক
অকালেই চলে গেলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ক্যানসারাক্রান্ত স্ত্রীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই জানা গেল, তার শরীরে এই কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে। কোনো চিকিৎসাই তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারল না। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রত্যাশিত এক শূন্যতার সৃষ্টি করে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন সভাপতিম-লীর সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য। রাজনৈতিক প্রোফাইলে নিঃসন্দেহে এগুলো বড় মাপের সাফল্যের দ্যোতক। কিন্তু তাকে কী রাজনৈতিক পদাধিকারকারীর ছকে ফেলে মাপা যথার্থ হবে? আশরাফ তো তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন ‘ক্ষমতার চেয়ে ইন্টেলেক্ট’ এবং দাম্ভিকতার চেয়ে বিনয়, সর্বোপরি অর্থ-বিত্ত-সম্পদের চেয়ে সততার মূল্য কত বেশি। এই গুণগুলো আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে সত্যিই দুর্লভ। আশরাফ আমার চেয়ে বয়সে সামান্য ছোট হলেও, সে আমাদের প্রজন্মেরই একজন ছিলেন। এ জন্য আমি গর্বিত।
আমাদের প্রজন্মে পোড়খাওয়া অনেক ত্যাগী নেতা ছিলেন। প্রতিভার ঔজ্জ্বল্যও ছিল। কিন্তু ক্রমশ তাদের সংখ্যা কমে আসছে। আর যারা এখনও সক্রিয় আছেন, তারাও ঔজ্জ্বল্য হারাচ্ছেন। বাজার রাজনীতির ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তারা কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে যাচ্ছেন। হ্যাঁ, তাদের কারও কারও অর্থ-বিত্ত-সম্পদ বেড়েছে, চোখ ধাঁধানো জৌলুস বেড়েছে, ক্ষমতার দম্ভ তাদের অতীতকে কালো চাদরে ঢেকে দিয়েছে। কিন্তু আশরাফ ছিলেন এর মধ্যে ব্যতিক্রম। দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, ক্ষমতার দম্ভ, অহঙ্কার এবং নির্বোধের মতো অতিকথনের মালিন্য তাকে স্পর্শ করেনি। সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন তিনি, অর্থ-বিত্ত-সম্পদের প্রতি নির্লিপ্তি এবং স্বজন পোষণের প্রতি সচেতন ঔদাসীন্য তাকে তার নিকটজনেরও অনেকের কাছে অপ্রিয় করে তুলেছিল।
উচ্চ শিক্ষিত স্ত্রী শীলা এবং একমাত্র কন্যা রীমা লন্ডনেই চাকরি করতেন। শেষের দিকে শীলা লম্বা সময় নিয়ে বাংলাদেশে এসে থাকতেন। কিন্তু একমাত্র কন্যাটি কখনোই পিতার ‘ক্ষমতা’ দেখা বা তার কাছ থেকে অংশীদারিত্ব নেওয়ার জন্য আগ্রহী ছিল না। বরং আশরাফ বেশ তৃপ্তির সাথে বলতেন, ‘আমার মেয়েই আমার ইনসিওরেন্স।’ আমার ভরসা।
সৈয়দ নজরুল ইসলামের যেমন ঢাকায় কোনো জমিজমা বা স্থায়ী বাসস্থান ছিল না, তেমনি সৈয়দ আশরাফেরও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। যখন সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী ছিলেন না, তখন থাকতেন ছোট ভাইয়ের বাসায়। কখনও বা ভাড়া বাসায়। মন্ত্রিপাড়ার ব্রিটিশ আমলে নির্মিত যে বাসাটিতে থাকতেন, সেটিও ছিল একেবারেই সেকেলে, আটপৌরে এবং অতি সাধারণ সামান্য আসবাবপত্রে সজ্জিত। ছোট বোনটি এসে মাঝে মাঝে এসে বড় ভাইয়ের কাছে থাকতেন। তার জন্য আলাদা কোনো কক্ষের ব্যবস্থা ছিল না। দোতলার বসার ঘরটিতেই বোন একটা অস্থায়ী তক্তপোষ ফেলে থাকতেন। আমি অন্য কোনো মন্ত্রী বা নেতার যাপিত জীবনে এ ধরনের নজির পাইনি।

দুই
শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাই ও ভ্রাতৃবধূদের হারিয়ে একেবারে ‘একা’ হয়ে পড়েছিলেন। ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে তার দুর্দিনের দিনগুলো কেটেছে। একপর্যায়ে রেহানাকে বিয়ে দিয়ে তিনি একদিকে কিছুটা নিশ্চিন্তবোধ করেন। অন্যদিকে আরও একা হয়ে পড়েন। উদ্বাস্তু জীবনের প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে শেখ হাসিনা প্রবাসেই রাজনৈতিক কর্মকা-ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। লন্ডনে তখন তার সহায় হয়ে ওঠেন সৈয়দ আশরাফ। আশরাফ উচ্চ শিক্ষার্থে লন্ডনে গিয়েছিলেন আগেই। ইংল্যান্ডে এবং ইউরোপে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লেবার পার্টির স্যার টমাস উইলিয়ামস, আয়ারল্যান্ডের সাবেক মন্ত্রী ও শান্তিতে নোবেল জয়ী শন ম্যাকব্রাইড এবং ব্রিটিশ এমপি জেফরি টমাস প্রমুখের নেতৃত্বে ইউরোপের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গড়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। লন্ডন ও ইউরোপ প্রবাসী বঙ্গবন্ধুর অনুরাগী বিশিষ্টজনকে এই কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা হয়। এই সামগ্রিক কর্মকা-ে শেখ হাসিনার সঙ্গী ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। শেখ হাসিনা ও আশরাফের কাছ থেকে সেই দুঃসময়ের অনেক দুঃখ-যন্ত্রণা এবং কষ্টের কথা আমরা অনেকেই কম-বেশি শুনেছি। সেই সময় থেকেই, ভাইহারা শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফের মধ্যে তার ভাইকে ফিরে পেয়েছিলেন। দুজনের এই ভাই-বোনের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন থাকলেও, আশরাফের মৃত্যু পর্যন্ত তা অটুট ছিল। ’৭৫-এ ভাই হারানোর পর শেখ হাসিনা আরেকবার তার ভাইকে হারালেন।

তিন
শেখ হাসিনার প্রেরণায় সৈয়দ আশরাফ লন্ডনের পাট চুকিয়ে নব্বইয়ের দশকে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৯৬-এর নির্বাচনে আশরাফ তার পিতার আসন, কিশোরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের কাউন্সিলে তিনি দলের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
১৯৯৭ সালে আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করি। ঐ বছরই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হই। ২০০২ সালে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে কালেভদ্রে আশরাফ বক্তব্য রাখতেন। কিন্তু তার সংক্ষিপ্ত এবং পয়েন্টেড বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ বিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম, একজন বুদ্ধিদীপ্ত পরিশীলিত সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদকে। একটু একটু করে তার সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
বস্তুত, ১/১১-এর পরেই সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সময় থেকে তিনিও জাতীয়ভাবে পরিচিতি লাভ করেন। ১/১১-এর বৈরী পরিবেশে শেরেবাংলা নগরে আশরাফের সংসদ সদস্য ভবনটি আমাদের কর্মকা-ের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হয়ে যান। সৈয়দ আশরাফ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। জরুরি অবস্থার সুবাদে উচ্চাভিলাষী সামরিক কর্মকর্তাগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ প্রলম্বিত, বিকল্প রাজনৈতিক দল/প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা প্রচার করে প্রধান দুই দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা প্রভৃতি অপতৎপরতা শুরু করে। ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করার ষড়যন্ত্র কার্যকর হতে চলছে। ২০০৭ সালের প্রথম দিকে শেখ হাসিনা কিছুদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি দেশে ফিরে আসার পথে সরকার ঘোষণা করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে কোনো ঢাকাগামী বিমান তাকে বহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন, যে কোনো উপায়েই হোক তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেনই। শেখ হাসিনার অনমনীয় মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপের নিন্দার ঝড় ওঠার পর একপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন।
ইতোমধ্যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বিপুলসংখ্যক রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়। সৈয়দ আশরাফ সেই দুর্দিনে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ান। কিন্তু দলের মধ্যেই তথাকথিত সংস্কারবাদী নেতারা পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে দলে সংস্কারের নামে মাইনাস টু ফর্মুলা কার্যকর করার উদ্যোগ নেন। শেখ হাসিনা পাল্টা উদ্যোগ নিয়ে নিজেই ‘সংস্কার প্রস্তাব’ দিতে বলেন। শেখ হাসিনার এই উদ্যোগের ফলে সংস্কারবাদী নেতারা প্রমাদ গুনেন।
ঠিক এই সময়টিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ সৈয়দ আশরাফকে ডেকে অবিলম্বে দেশত্যাগ করতে বলেন। কিংকর্তব্যবিমূঢ় আশরাফ নেত্রীকে সব খুলে বলেন। তিনি সাময়িকভাবে লন্ডনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যাওয়ার আগের রাতে আমার কলাবাগানের বাসায় বসে তাকে ভুল বোঝা হবে ভেবে আশরাফ অঝোরে কেঁদেছিলেন। যাওয়ার আগে বলেছিলেন, লেনিন ভাই, আমি স্থায়ীভাবে যাচ্ছি না। আমি শিগগিরই ফিরে আসব।
সৈয়দ আশরাফের অনুপস্থিতিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। সংস্কারবাদীরা এতে উৎসাহিত হন। পরিস্থিতি কিছুটা নাজুক হয়ে ওঠে। এই পটভূমিতে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। দলে সৃষ্টি হয় নেতৃত্বের শূন্যতা। ইতোমধ্যে বিএনপি-তেও সংকট ঘণীভূত হয়। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার বেশ কিছুদিন পর খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। বিএনপি-র সংস্কারবাদীরা দলের মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বের আলাদা কেন্দ্র গড়ে তোলে। বিএনপি কার্যত ভাগ হয়ে যায়।
কিন্তু আওয়ামী লীগে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। শেখ হাসিনাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করায় দেশবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় গভীর আবেগ। ফলে সংস্কারবাদী বলে কথিত নেতাদের ওপর সামরিক কর্তৃপক্ষের চাপ থাকলেও তাদের দিয়ে দলে আনুষ্ঠানিক ভাঙন সৃষ্টি করতে তারা ব্যর্থ হয়। বিচার প্রহসনের বিরুদ্ধে কর্মীদের সাহসী ভূমিকা এবং আন্দোলন প্রবল জনমত গড়ে উঠতে সহায়তা করে। সরকার আকস্মিকভাবেই রাজনৈতিক তৎপরতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

চার
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভেতরে ভেতরে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নোবেল জয়ী ড. ইউনূসের দল গঠনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। তিনি দল করবেন না ঘোষণা দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ফেরদৌস কোরেশী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ইব্রাহিম প্রমুখের সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট দল গঠনের উদ্যোগে তেমন কোনো সাড়া না পাওয়ায়, তারাও নিষ্প্রভ হতে থাকেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সেনাবাহিনীর অভিযান, শিক্ষক ও ছাত্রদের গ্রেফতার প্রভৃতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাবাহিনীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেকুলার গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা চলতে থাকে।
লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানা আওয়ামী লীগ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে, শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই সময় শেখ রেহানার সাথে আমারও কথা হয়। তিনি জানান, শিগগিরই সৈয়দ আশরাফ ঢাকায় ফিরে যাবে। লন্ডনে থাকাকালে সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার সাথে যোগাযোগ রাখার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজা আলী, যিনি ২০০৮-এর নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। পর্দার অন্তরালে নানামুখী তৎপরতা চলতে থাকে। সৈয়দ আশরাফ লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান দৃঢ়ভাবে দলের হাল ধরেন। জেল থেকে শেখ হাসিনার প্রেরিত নির্দেশনা ও পরামর্শমতো দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়। সৈয়দ আশরাফ ফিরে আসায়, তিনি আবার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংস্কারবাদীরা হতোদ্যম হয়ে পড়ে। আশরাফ আমার বাসায় বসেই একটি অঘোষিত কোর টিম গঠন করেন। জেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, সেকুলার গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে লিয়াজোঁ এবং কূটনৈতিকমহলে যোগাযোগের জন্য দায়িত্ব ভাগ করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, যারা এই সকল কাজে যুক্ত থাকবেন, তারা প্রকাশ্য মিটিং-মিছিলে আপাতত বেশি যাবেন না। আশরাফ সুনির্দিষ্টভাবে আমাকে বললেন, আপনারা তো গোপন তৎপরতার ওস্তাদ। যে যাই বলুক, আপনি নিজেকে এক্সপোসড করবেন না।
১/১১-এর এই পর্যায়টিতে আমরা বহুমুখী গোপন তৎপরতা চালিয়েছি। ইতিহাসের সকল সত্য সব সময় প্রকাশ করা যায় না। এমন অনেক কাজ, ঘটনা ও ব্যক্তি থাকেন, যাদের কথা কোনোদিনই প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। আত্মপ্রচারবিমুখ সৈয়দ আশরাফ এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিলেন। এমন অনেক স্পর্শকাতর বিষয় আছে, যা আমরা তৃতীয় কারও কাছেই প্রকাশ করতে পারব না। এটা কোনো বাহাদুরি নেওয়ার বিষয় নয়। এটাই হলো সত্যনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

পাঁচ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করে। যদিও তখনও সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষিত হয়নি। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতার ওপর পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের জন্য আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। জিল্লুর রহমান সাহেবের বাসায় সভাপতিম-লীর বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়। ওয়ার্কিং কমিটিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্ত সেই সভায় নেওয়া হয়নি। ইচ্ছে করেইÑ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে জিল্লুর রহমান ও আশরাফ বিরত থাকেন। এই সভার পর আরও ছোট আকারে জিল্লুর রহমান সাহেবের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়। সেখানে নেত্রীর পরামর্শ আমাদের জানানো হয়। আমি নেত্রীর ওই পরামর্শের আলোকে একটি লিখিত প্রস্তাব ওয়ার্কিং কমিটিতে উত্থাপনের কথা বলি। আমাকে প্রস্তাবটি লিখতে বলা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ার্কিং কমিটিতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিত সভা আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরও সিদ্ধান্ত হয়, জিল্লুর রহমান সাহেব জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলবেন এবং তাদেরও ঐক্য প্রক্রিয়ায় শামিল করবেন।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ধানমন্ডি ৩/এ-এর সভানেত্রীর কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে আমি লিখিত প্রস্তাব পাঠের অনুমতি চাই। এক প্যারা পাঠের পরই একজন অতি উৎসাহী তৎকালীন মধ্যম স্তরের সংস্কারবাদী নেতা আমাকে বাধা দেন। তিনি আমার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রস্তাব পাঠ বন্ধ হয়।
সভাপতি অন্য কারও কোনো প্রস্তাব আছে কি না জানতে চান। কেউ কোনো কথা বলেন না। সৈয়দ আশরাফ সাজেদা আপাকে বলেন, অন্য কারও যেহেতু কোনো প্রস্তাব নেই, তাহলে আমরা লেনিন ভাইয়ের প্রস্তাব শুনতে পারি। বাধাদানকারী নেতা বলেন, এটা যদি তার ব্যক্তিগত প্রস্তাব হয়, তাহলে তিনি পাঠ করতে পারেন। সভাপতি সাজেদা চৌধুরী আমাকে প্রস্তাব পাঠ করতে বলেন। প্রস্তাবটির ভাষা ব্যক্তিগত ছিল না। ছিলÑ ‘এই সভা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যে…। ইত্যাদি। প্রস্তাবের মূল কথা ছিল, ‘মুক্ত শেখ হাসিনাকে ছাড়া আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন হতেও দেবে না।’ প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার সাহস তখন কারও ছিল না। সমস্বরে কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যগণ এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানায়।
কার্যনির্বাহী সংসদ বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত এবং তারিখ নির্ধারণ করে। বর্ধিত সভার আগে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সকল জেলা কার্যালয়ে (তখনও প্রকাশ্য সমাবেশ নিষিদ্ধ) ঘরোয়া সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, নির্বাহী সংসদে গৃহীত এই প্রস্তাবটি বর্ধিত সভায় উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
জেলায় জেলায় ঘরোয়া সমাবেশের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ওপর অর্পিত হয়। পর্দার অন্তরালে তখন নানা ঘটনা ঘটছে। সব কিছু আমার পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। আশরাফও কিছু বলছেন না। এদিকে জেলায় জেলায় সমাবেশের কোনো তারিখ তিনি ঘোষণা করছেন না। ব্যক্তিগতভাবে আমি এ বিষয়ে কথা বলেও কোনো সদুত্তর পেলাম না। আমার মনে হলো, এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমি সভাপতিম-লীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ করে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখি।
চিঠি পাঠানোর দু-তিন দিন পর দেখি দৈনিক সমকাল ও জনকণ্ঠ আমার প্রস্তাব ছেপে দিয়েছে। একেবারেই বিব্রতকর পরিস্থিতি। স্বভাবতই আশরাফ আমার ওপর ক্ষুব্ধ হবেন। আমি তার সাথে দেখা করি, আমি যে সংবাদপত্রে ওই প্রস্তাব পাঠাইনি তা জানাই। আশরাফ আমাকে বিশ^াস করেন। তিনি প্রতিবাদলিপি পাঠাতে বলেন। জনকণ্ঠ আমার প্রতিবাদ ছাপায়। পরে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. রাজ্জাক আমাকে জানান, তোফায়েল আহমেদের (তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য) কাছ থেকে তিনি আমার প্রস্তাবের ফটোকপি নেন এবং তিনিই বিষয়টি পত্রিকায় ফাঁস করে দেন। এটা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি। পরবর্তীতে আশরাফ অবশ্য আমাদের জানান, বর্ধিত সভা বিঘিœত হতে পারে আশঙ্কা করেই তিনি জিল্লুর রহমান সাহেবের সাথে কথা বলেন, জেলার সমাবেশ আপাতত না করার চিন্তা করেছেন। এগুলো বর্ধিত সভার পর জেলার সমাবেশ করা হবে।
আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাটি ছিল রাজনীতিতে টার্নিং পয়েন্ট। জেলা থেকে আমন্ত্রিত ছাড়াও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বর্ধিত সভায় যোগদান করেন। বর্ধিত সভা বিপুল উদ্দীপনার সাথে মুক্ত শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না, হতেও দেবে নাÑ এই ঘোষণা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে।
কিছুদিনের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়। শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে মুক্তি পান। শেখ হাসিনা তার কানের চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। নির্বাচনের তফসিল ও তারিখ ঘোষিত হয়। প্রকাশ্য রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ শুরু করে। মাসাধিক পর শেখ হাসিনা চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন।

ছয়
ইতোমধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ধারণা ছিল আশরাফ আর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকবেন না। কিন্তু দলের সভানেত্রী সৈয়দ আশরাফকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে বলেন। ব্যতিক্রমী হলেও সৈয়দ আশরাফ পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুঃসময়ে বিশ^স্ততার সাথে দায়িত্ব পালনের নজির স্থাপন করায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সৈয়দ আশরাফকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রেখে দেন।
শেখ হাসিনার অসম সাহসী প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব এবং তার সাথে সৈয়দ আশরাফের মতো সৎ, বিশ^স্ত এবং বুদ্ধিদীপ্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিল বলেই ১/১১-এর সংকট উত্তরণ এবং ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের কাউন্সিলে আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সাত
আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে কজন আছেন, যে বা যারা রাজনীতির বাইরে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করেন, আড্ডা দেন? আশরাফ লন্ডন গিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে। কিন্তু সেখানে তার শিক্ষা সমাপ্ত হয়নি। দৃশ্যত তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাস। বড় কোনো ডিগ্রি তার নেই। অথচ ইংরেজি সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য এবং বিশ^সাহিত্যে তার অবাধ বিচরণ আমাদের বিস্মিত করেছে। শেক্সপিয়র থেকে গ্যাটে, তলস্তয় থেকে রবীন্দ্রনাথ সর্বত্র ছিল তার স্বচ্ছন্দ বিচরণ। বিশ^ ইতিহাস, ইউরোপীয় রেনেসাঁ, চিত্রকলা ও স্থাপত্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সব কিছুতেই সমান উৎসাহ ছিল। আমার মতে, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন আমাদের দেশে বিরলপ্রজ এক সুশিক্ষিত, ধীশক্তিসম্পন্ন, সৎ, নিষ্ঠাবান মার্জিত রুচির সংস্কৃতিবান রাজনৈতিক নেতা।
দোষেগুণে মানুষ ছিলেন তিনি। দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজে তার এক ধরনের নির্লিপ্ততা ছিল। জনারণ্যেও যেন একা থাকতে পছন্দ করতেন। কিন্তু তার দেশপ্রেম, সততা, বিশ^স্ততা এবং শেখ হাসিনার প্রতি তার আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি প্রায়শ বলতেন, ‘আমার বাবা কোনো দিন বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ^াসঘাতকতা করেন নি। আমিও শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ^াসঘাতকতা করতে পারি না।’ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তা প্রমাণ করেছেন। বিশ^স্ত ও অনুগত ছিলেন; কিন্তু স্তাবক বা আত্মমর্যাদাহীন অন্ধ ভক্তিবাদী ছিলেন না।

Category:

জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভা সদস্যদের শ্রদ্ধা

1-15-2019 5-48-28 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। গত ৯ জানুয়ারি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছলে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বেদির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে অনার গার্ড প্রদান করে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহিদের আত্মার শান্তি ও দেশের সাফল্য কামনায় ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন। এতে অন্যদের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শেখ হেলালউদ্দিন এমপি, মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি ও শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং তিন বাহিনীর প্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা প্রবেশ করেন বঙ্গবন্ধু ভবনে। সেখানে বসে তারা মাজার কমপ্লেক্স মসজিদে আয়োজিত মিলাদ-মাহফিলে অংশ নেন।
টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এদিন ভোরে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হন টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা এনা পরিবহনের ৩টি লাক্সারি কোচে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে পৌঁছেন বেলা সোয়া ১টার দিকে। পরে জোহরের নামাজ শেষে বেলা ১টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নতুন মন্ত্রিসভা সদস্যদের নিয়ে আবারও জাতির পিতার সমাধিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন।

Category:

পরলোকে ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু

11-6-2018 6-18-39 PMফারুক শাহ্: ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। গত ১৮ অক্টোবর সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি।
তার স্বজনরা জানান, সকালে ধানমন্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
মৃত্যুর আগে এই রকস্টারের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তাকে ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট বলা হয়ে থাকে। আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেও তার গান ও গিটারের ছয় তারের সুর বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে ধ্বনিত হবে আজীবন। ব্যান্ড দল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং প্লে­ব্যাক শিল্পী।
আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজোয়ার কানাডায় পরিসংখ্যান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। দুজনেই দেশে আসেন বাবাকে শেষ দেখা দেখতে।

আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা
১৯ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে কিংবদন্তি ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারও মানুষ অংশ নেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। জাতীয় ঈদগাহে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় জানাজা হয় তার গানের স্টুডিও মগবাজারে ‘এবি কিচেন’-এর সামনে। এরপর তৃতীয় জানাজা হয় চ্যানেল আই কার্যালয়ের সামনে। তৃতীয় জানাজা শেষে ব্যান্ড সংগীতের এ কিংবদন্তির মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপিসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে আসেন সংগীত ও অভিনয় ভুবনের অনেক তারকা। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শুনে স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে যান তার শুভানুধ্যায়ী ও ভক্ত-অনুসারীরা।

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় বাচ্চু
অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। ২০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর চৈতন্যগলি কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
দেশবরেণ্য ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রয়াত শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সংসদে শোক
দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর বিকেলে অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সদ্যপ্রয়াত ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপিত ও গৃহীত হয়।

Category:

নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: শোকে বিহ্বল জাতি

Posted on by 0 comment

8রায়হান কবির: গত ১২ র্মাচ নপোলরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রভিুবন বমিানবন্দরে বাংলাদশেরে বসেরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার একটি উড়োজাহাজ বধ্বিস্ত হওয়া ২৬ বাংলাদশেসিহ ৪৯ জনরে মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বাংলাদশে। ঘটনার পরপরই সঙ্গিাপুর থকেে প্রধানমন্ত্রী শখে হাসনিা নপোলরে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে জরুরি পদক্ষপে নওেয়ার আহ্বান জানান। র্দুঘটনাস্থলে ছুটে যান নপোলরে প্রধানমন্ত্রী খাড়গা প্রসাদ র্শমা অলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপা, বাংলাদশেরে রাষ্ট্রদূত মাশফি বনিতে শামসও। পরদনিই সফর সংক্ষপ্তি করে সঙ্গিাপুর থকেে দশেে ফরিে আসনে প্রধানমন্ত্রী শখে হাসনিা। স্মরণকালরে এই ভয়াবহ বমিান র্দুঘটনায় হতাহতরে প্রতি শোক জানান রাষ্ট্রপত,ি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদরে স্পকিার, সংসদে বরিোধী দল জাতীয় র্পাটসিহ অন্যান্য রাজনতৈকি দল।
জানা গছে,ে গত ১২ র্মাচ ফ্লাইটটি বাংলাদশে সময় সাড়ে ১২টার দকিে ঢাকার হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতকি বমিানবন্দর থকেে রওনা দয়িে দুপুর ২টা ২০ মনিটিে কাঠমান্ডু বমিানবন্দরে পৗেঁছায়। অবতরণরে সময় বমিানটতিে আগুন ধরে যায়। এরপর বমিানবন্দররে কাছইে একটি ফুটবল মাঠে বধ্বিস্ত হয় এট।ি বএিস ২১১ নম্বর ফ্লাইটটতিে ৪ ক্রুসহ প্লনেটতিে আরোহী ছলিনে ৬৭ জন। ৬৭ যাত্রীর মধ্যে বাংলাদশেি ৩২ জন, নপোলি ৩৩ জন, একজন মালদ্বীপরে এবং একজন চীনরে নাগরকি ছলিনে। তাদরে মধ্যে পুরুষ যাত্রীর সংখ্যা ছলি ৩৭, মহলিা ২৮ ও ২ জন শশিু ছলি।
প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, প্লনেটি অবতরণরে সময় বমিানবন্দররে র্পূব পাশে আছড়ে পড়।ে বকিট শব্দে রানওয়তেে র্স্পশ করতইে আগুন ধরে যায়। কয়কেশ’ মটিার সামনে গয়িে র্পূবপাশরে একটি মাঠে গয়িে থাম।ে এ সময় দাউ দাউ করে আগুন ছড়াতে দখো যায়। কয়কে মনিটি পরই সখোনে ছুটে যায় দমকল ও সনোবাহনিীর টমি।
র্দুঘটনার পর দনি গত ১৩ র্মাচ বসোমরকি বমিান পরবিহন ও র্পযটনমন্ত্রী একএেম শাহজাহান কামালসহ সভিলি এভয়িশেনরে র্ঊধ্বতন র্কমর্কতারা নপোল গমন করনে। এ সময় নপোলরে সভিলি এভয়িশেনরে সঙ্গে বঠৈক করনে বমিানমন্ত্রী। নপোলরে রাজধানী কাঠমান্ডুতে ১৩ র্মাচ সন্ধ্যায় এ বঠৈক অনুষ্ঠতি হয়। এরপর র্দুঘটনাস্থল পরর্দিশন করনে তনি।ি এ ঘটনায় বাংলাদশে বসোমরকি বমিান চলাচল র্কতৃপক্ষ তনি সদস্যবশিষ্টি একটি তদন্ত কমটিি গঠন করা হয়। বাংলাদশেরে ইতহিাসে এই প্রথমবাররে মতো কোনো এয়ারলাইন্সরে ফ্লাইট এমন ভয়াবহ র্দুঘটনার শকিার হয়।

রাষ্ট্রীয় শোক পালন
নপোলরে ত্রভিুবন বমিানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সরে উড়োজাহাজ র্দুঘটনায় নহিতদরে স্মরণে গত ১৫ র্মাচ একদনিরে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করে বাংলাদশে। এদনি সকাল থকেে সারাদশেে সব সরকার,ি আধা-সরকার,ি স্বায়ত্তশাসতি, বসেরকারি প্রতষ্ঠিান ও ভবনে এবং বদিশেে বাংলাদশেরে সব মশিনে জাতীয় পতাকা র্অধনমতি রাখা হয়। এছাড়া ১৫ র্মাচ দশেরে সব মসজদি, মন্দরি, র্গীজা, প্যাগোডাসহ সকল র্ধমীয় প্রতষ্ঠিান ও উপাসনালয়ে দোয়া এবং র্প্রাথনার র্কমসূচি পালতি হয়।

কফনিে ফরিে এলো ২৬ জনরে লাশ
কফনিবন্দি হয়ে দশেে ফরিে আসে নপোলে বমিান র্দুঘটনায় নহিত ২৬ বাংলাদশেরি লাশ। গত ১৯ র্মাচ ফরিে আসে র্দুঘটনায় নহিত ২৩ জনরে লাশ। এদনি বকিলেে র্আমি স্টডেয়িামে তাদরে জানাজা অনুষ্ঠতি হয়। হাজার হাজার মানুষ অংশ ননে তাত।ে লাশ দখেে কান্নায় ভঙেে পড়নে সখোনে উপস্থতি থাকা সকলইে। পুরো এলাকায় শোক নমেে আস।ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামদিরে পক্ষ থকেে নহিতদরে কফনিে ফুল দয়িে শ্রদ্ধা জানান তার সামরকি সচবি এবং প্রধানমন্ত্রী শখে হাসনিার পক্ষ থকেে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগরে সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরবিহন ও সতেুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদরে এমপ।ি এরপর পরবিাররে কাছে মরদহে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে সকালে নপোলে বাংলাদশে দূতাবাসরে কাছে ২৩ বাংলাদশেরি মরদহে হন্তান্তর করে নপোল র্কতৃপক্ষ। এরপর দূতাবাসরে আঙনিায় কফনিগুলো সারবিদ্ধ করে রাখা হয়। সকাল ৯টায় প্রথম জানাজা হয়। সকাল সোয়া ৯টায় বমিানবন্দরে নওেয়ার জন্য গাড়তিে তোলা হয় কফনিগুলো। সব আনুষ্ঠানকিতা শষে করে নপোলরে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লাশবাহী ৬১-২৬৪০ নম্বররে বশিষে র্কাগাে বমিানটি দশেটরি ত্রভিুবন বমিানবন্দর থকেে ঢাকার উদ্দশ্যেে রওনা হয়। এরপর পরচিয় শনাক্ত হওয়ার গত ২২ র্মাচ দশেে ফরিে আরও ৩ বাংলাদশেরি লাশ।
লাশ হয়ে ফরিলনে যারা : বধিস্ত হওয়া বমিানরে পাইলট আবদি সুলতান ও কো-পাইলট পৃথুলা রশদি, কবেনি ক্রু খাজা হোসনে মোহাম্মদ শফি ও শারমনি আক্তার নাবলিা। যাত্রীরা হচ্ছনেÑ হুরুন নাহার বলিকসি বানু, এসএম মাহমুদুর রহমান, সাংবাদকি ফয়সাল আহমদে, বলিকসি আরা মতিু, নাজয়িা আফরনি চৌধুরী, আখতারা বগেম, রকবিুল হাসান, রফকিুজ্জামান, সানজদিা হক, অনরিুদ্ধ জামান, হাসান ইমাম, তামারা প্রয়িন্ময়ী, তাহারা তানভীন শশী রজো, মনিহাজ বনি নাসরি, আঁখি মন,ি এফএইচ প্রয়িক, উম্মে সালামা, মতউির রহমান ও মো. নুরুজ্জামান। পরচিয় শনাক্ত হওয়ার গত ২২ র্মাচ দশেে ফরিে আসে নপোলে বমিান র্দুঘটনায় নহিত নজরুল ইসলাম, আলফিুজ্জামান, পয়িাস রায়রে মরদহে।

আহতদরে চকিৎিসায় মডেকিলে টমি
আহত ১০ বাংলাদশেরি মধ্যে ছয়জনকে দশেে এনে চকিৎিসা করানো হচ্ছ।ে তাদরে ঢাকা মডেকিলে কলজে হাসপাতালরে র্বান ও প্লাস্টকি র্সাজারি ইউনটিে চকিৎিসা দওেয়া হচ্ছ।ে এরা হচ্ছনেÑ শাহরনি আহমদে মুমু, মহেদেী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার র্স্বণা, আলমুন নাহার অ্যান,ি রাশদে রুবায়তে ও শাহনি ব্যাপারী। বাকি চারজন সঙ্গিাপুর, নপোল ও ভারতে চকিৎিসাধীন। এদকিে নপোলে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ র্দুঘটনায় আহতদরে চকিৎিসার জন্য ১৩ সদস্যরে একটি মডেকিলে র্বোড গঠন করছে।ে ১৮ র্মাচ দুপুরে ঢাকা মডেকিলে কলজে হাসপাতালরে প্রশাসনকি ভবনরে সমেনিার কক্ষে আয়োজতি এক সংবাদ সম্মলেনে স্বাস্থ্য অধদিফতররে মহাপরচিালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানান।

ক্যাপ্টনে আবদিরে পাশইে চরিনদ্রিায় শায়তি স্ত্রী আফসানা
র্দুঘটনাকবলতি বমিানরে ক্যাপ্টনে আবদিরে মৃত্যুর খবরে ‘স্ট্রোক’ে আক্রান্ত স্ত্রী আফসানা গত ২৩ র্মাচ রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টটিউিট অব নউিরো সায়ন্সেসে অ্যান্ড হসপটিালে চকিৎিসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করনে। স্বামীর মৃত্যু খবরে অসুস্থ হয়ে ছয়দনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশষেে না ফরোর দশেে চলে যান তনি।ি এদনি বকিলেে উত্তরা ১৩ নম্বর সক্টেররে গাউছুল আজম জামে মসজদিে আফসানার জানাজা অনুষ্ঠতি হয়। বাদ আসর জানাজা শষেে মরদহে নওেয়া হয় বনানী কবরস্থান।ে সখোনে স্বামী আবদি সুলতানরে ঠকি পাশরে কবরে দাফন করা হয় আফসানাক।ে বাবা-মাকে হারয়িে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে ক্যাপ্টনে আবদিরে একমাত্র ছলেে তানজবি বনি সুলতান মাহি (১৪)।

Category:

বাংলাদেশ বন্ধু আসমা জাহাঙ্গীর পরলোকে

Posted on by 0 comment

3-4-2018 8-06-51 PMউত্তরণ ডেস্কঃ বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী আসমা জাহাঙ্গীর পরলোক গমন করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। গত ১১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পাকিস্তানের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বাবা মালিক গোলাম জিলানী ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। মরহুমার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের জীবনকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে যেসব পাকিস্তানি নির্যাতিত বাঙালির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন আসমার বাবা তাদের একজন। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তি দাবিতে জেনারেল ইয়াহিয়াকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন মালিক গোলাম জিলানী। এ জন্য তাকে কারাবরণ করতে হয়।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো ৬৯ বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা দেয়। তাদের মধ্যে যে ১৩ পাকিস্তানি ছিলেন, তাদের একজন আসমার বাবা মালিক গোলাম জিলানী। ওই সময় বাবার সম্মাননা সনদ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর।

Category:

প্রয়াতজন : শোক ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

3-4-2018 7-59-47 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ ওবায়দুল কাদেরের মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তিনি চার পুত্র, ছয় কন্যাসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ওবায়দুল কাদেরের মায়ের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যু সংবাদ শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া ৩টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তার লাশ বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
জানাজা শেষে মরহুমার কফিনে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ ছাড়াও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
সাবেক মেয়র ঝন্টু স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১২ সালে রংপুর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর প্রথম মেয়র নির্বাচিত ঝন্টু।

রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ ইউসুফ
জীবন সায়াহ্নে গুরুতর অসুস্থ থাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সেই নিঃস্ব সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং এক সময়ের তুখোড় বাম রাজনীতিক মোহাম্মদ ইউসুফ পরলোক গমন করেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। অকৃতদার এই ত্যাগী নেতা দুই ভাই, দুই বোন এবং অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোহাম্মদ ইউসুফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যগণ। ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদ জোহর রাঙ্গুনিয়া হাই স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
এই মুক্তিযোদ্ধার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭৩ সালে কর্ণফুলী পাটকলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে। ওই সময় থেকেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত একটানা ২০ বছর শ্রমিক নেতা হিসেবে কাজ করে গেছেন জনকল্যাণে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শুধুই কাজ করেছেন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কল্যাণে। নিজের আর্থিক ভিত্তি গড়ার চেষ্টা করেন নি। রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন আর শ্রমজীবী মানুষের রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ ইউসুফের নিজের সংসারও করা হয়ে ওঠেনি। ২০০১ সালে পক্ষাঘাতে আক্রান্তের পর থেকে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

প্রবীণ আইনজীবী আদুর রব চৌধুরী
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সিএসপি আবদুর রব চৌধুরী (৮৪) গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় ঢাকার গুলশানে নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
রব চৌধুরীর পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে বাসাতেই তার মৃত্যু হয়। রব চৌধুরী ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। বেলা ২টায় সুপ্রিমকোর্ট ভবন এবং বিকেল ৪টায় গুলশান এলাকায় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Category:

চট্টলার গণনায়ক মহিউদ্দিন চৌধুরীর চির বিদায়

Posted on by 0 comment

53উত্তরণ প্রতিবেদন: চট্টলা বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিদায় নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক, গণমানুষের নেতা চট্টলা দরদি মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নক্ষত্রের বিদায় হলো।
অত্যন্ত সম্মোহনী শক্তির অধিকারী মহিউদ্দিন চৌধুরী সহজেই যে কাউকে আপন করে নিতে পারতেন। তার আতিথেয়তা থেকে কেউ বঞ্চিত হতে পারত না। চশমা হিলের তার বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে না খেয়ে ফিরতে পারতেন না কেউ।
রাউজানের গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রেল বিভাগে পিতার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে নোয়াখালীতেও শিশুকাল অতিবাহিত করতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকে প্রতিবাদী ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। সামাজিক ত্যাগ-তিতিক্ষা, মানুষের অসহায়ত্ত ও কষ্ট তাকে নাড়া দিত। তাই তো ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন নেওয়ার পরও তিনি নিজের জীবনকে জড়িয়ে ফেলেছেন মানুষের দাবি আদায়ের সংগ্রামে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়েছিলেন। একাধিকবার কারাবরণসহ হুলিয়া নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছেন। তিনি পত্রিকার হকার, চা-দোকানদার, রেডিও মেকানিকের কাজ করেছেন জীবনের চলার পথের কঠিন বাস্তবতায়। চশমা হিলের বাসা থেকে নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন ঐতিহাসিক আলোচিত গ্র্যান্ড হোটেল ও দারুল ফজল মার্কেটের আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘিরে ছিল তার প্রধান বিচরণকেন্দ্র।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ’৭১-এর ২ মার্চ তারই নেতৃত্বে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়েছিল লালদীঘিতে। একপর্যায়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি হয়ে আগরতলা ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সপরিবার হত্যার পর তাকে চলে যেতে হয়েছে কলকাতায়। সেখানে অনেক কষ্টে জীবন পার করতে হয়েছে তাকে।
মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হয়েছেন ১৯৯৪ সালে। পরপর তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করেছেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি মেয়র হজ কাফেলার মাধ্যমে প্রতিবছর হাজিদের হজে নিয়ে যেতেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও বিদেশে তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভারত ও থাইল্যান্ডে তার পরিচিত অনেক চিকিৎসক ছিলেন। তার সুপারিশ নিয়ে অনেক রোগী যেতেন। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে ভিসা পেতেও তার শরণাপন্ন হতেন রোগীরা। বেওয়ারিশ লাশের দাফন করতে তিনি ছুটে যেতেন লোকজনের বাড়িতে। শিশিরের মতো ভেজা তার রাগ-অভিমানের মহিউদ্দিন চৌধুরী তার দাবি ও লক্ষ্য অর্জনে ছিলেন কঠোর। চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে দলমত নির্বিশেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের দরদি ও আপসহীন নেতা।

মহিউদ্দিনের বাসভবনে শোকার্ত শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ও গোটা দেশ একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছে। জীবদ্দশায় মহিউদ্দিন চৌধুরী দলের জন্য, চট্টগ্রামের জন্য যে ভূমিকা রেখে গেছেন সে আদর্শ ধরে রাখার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলশহর চশমা হিলের বাসভবনে প্রবেশের পর ড্রয়িংরুমে টাঙ্গানো ছবিগুলো একেক করে প্রত্যক্ষ করেন। যেখানে রয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছবি, তার (প্রধানমন্ত্রী) ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের বেশ কিছু ছবি। এসব ছবি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী কিছুটা আবেগাপ্লুত হন। এরপর তিনি সরাসরি মহিউদ্দিনের বেডরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। বেডরুমে মহিউদ্দিন পরিবারের ১৫ সদস্যকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছিলেন পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহিউদ্দিন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশে বসেন মহিউদ্দিনের স্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন, জ্যেষ্ঠপুত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কনিষ্ঠপুত্র বোরহানুল হাসান সালেহীন, তিন কন্যা, জামাতা ও তিন নাতি-নাতনি।
ঘরোয়া পরিবেশের এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিট সময় কাটান। বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন তার পুত্র-কন্যাদের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মাইলে মরিতে হইবে, আমাদেরকেও একে একে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমাকে ছেড়ে একে একে সকলে চলে যাচ্ছেন। এটা আমার জন্য বেদনার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মা’সহ অন্য সদস্যদের হত্যা করার পর আমরা দুবোন বিদেশে ছিলাম। আমাদের হাতে ছিল সামান্য পরিমাণ ডলার। আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমরা আজকের অবস্থানে আসতে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আজীবন মানুষের সঙ্গে ছিলেন। তৃণমূল থেকে তিনি উঠে আসেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে থেকে জীবনের শেষ মুহূর্তটি সম্পন্ন করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তিনি মহিউদ্দিনের পুত্র-কন্যাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছে। দলের জন্য, দেশের জন্য ও চট্টগ্রামের জন্য তিনি অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তার আদর্শ ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল ৩টার পর প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিনের বাসভবনে পৌঁছলে গেটে তাকে অভ্যর্থনা জানান বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন ও পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। মহিউদ্দিনের বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২৩ বিকেল থেকেই ষোলশহর এলাকা, মেয়র গলি ও চশমা হিলকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পদপিষ্টে নিহত পরিবারদের আর্থিক সহায়তা : মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলার পর প্রধানমন্ত্রী বাসভবন প্রাঙ্গণে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১০ পরিবারের সদস্যদের নগদ ৫ লাখ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার মেজবানির অনুষ্ঠানে নগরীর রীমা কনভেনশন সেন্টারে প্রচ- ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ১০ জন প্রাণ হারান। তারা সকলেই সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সদস্য। ওই কনভেনশন সেন্টারে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য মেজবানির আয়োজন করা হয়েছিল গত ১৮ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ইচ্ছে ব্যক্ত করলে তাদের মহিউদ্দিনের বাসভবন প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি পরিবারের হাতে সাহায্যের নগদ টাকা হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি প্রশাসনকে নিহত ১০ পরিবারের সকলের বায়োডাটা তার কাছে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এমপি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এমপি গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। ছায়েদুল হকের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে এসএম রায়হানুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের খ্যাতনামা আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলাধীন পূর্বভাগ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা মরহুমা মেহের চান্দ বিবি ও পিতা মরহুম আলহাজ মোহাম্মদ সুন্দর আলী। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬-দফায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বাধীনতা-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থিত লেম্বুছড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর একাধারে সপ্তম থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদীয় কাজে তার অভিজ্ঞতা ব্যাপক।

সুন্দরগঞ্জের এমপি গোলাম মোস্তফা পরলোকে
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ (৭২) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা সিএমএইচএ মারা গেছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবন শেষ করে রাজনীতির পাশাপাশি এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ চ-িপুর তহুরুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন আদর্শ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৩৩ বছর থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠ হয়ে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৪নং চ-িপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল অনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে যান। ওই দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ নিয়ে বিশেষ হেলিকপ্টার গাইবান্ধায় অবতরণ করলে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

Category:

বাঙালির বন্ধু ফাদার মারিনো রিগনের জীবনাবসান

11-7-2017 7-43-43 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগন মারা গেছেন। ইতালির ভিচেঞ্চায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার ভাগ্নি মারতা আলেসান্দ্রো জানিনের বরাত দিয়ে প্যারিস প্রবাসী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবীশঙ্কর মৈত্রী জানিয়েছেন।
২০১৪ সাল থেকে তিনি ইতালির ভিচেঞ্চায় বিশেষ যতেœ ছিলেন। তার আর বাংলাদেশে ফেরা হলো না। ফাদার রিগনের ভাগ্নি মারতা জানিন ইতালির ভিল্লভেরলা থেকে শোক সংবাদটি জানান। ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশে বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে বাগেরহাটের মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন বসবাস করেন তিনি। ধর্মের গ-ি পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা ও দুস্থ নারীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
বাংলা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে গবেষণার পর তা ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন ফাদার মারিনো রিগন। তার হাত দিয়ে ইতালীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের ৩৫০টি গান, জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের অনেক কবিতা। ফাদার রিগনের ইতালীয় ভাষায় অনূদিত রবীন্দ্রকাব্যের একাধিক গ্রন্থ ফ্রেঞ্চ, স্পেনিশ ও পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত হয়। ১৯৯০ সালে তিনি ইতালিতে রবীন্দ্র অধ্যয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। ফাদার রিগন বাংলার নকশী কাঁথাকেও তুলে ধরেছেন ইতালির বিভিন্ন শহরে। তার প্রতিষ্ঠিত শেলাবুনিয়া সেলাই কেন্দ্রের উৎপাদিত নকশী কাঁথার ৪টি প্রদর্শনী হয় ইতালির বিভিন্ন শহরে।
ফাদার রিগনের কর্মপরিধির বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষামূলক কার্যক্রম। তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য তিনি বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছিলেন।
১৯৮৬ সালে ফাদার রিগনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের একটি নৃত্যনাট্যের দল ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ মঞ্চায়ন করে ইতালিতে। ২০০১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ইতালি নিয়ে যেতে চান। তখন তিনি তার স্বজনদের শর্ত দিয়েছিলেন যে, ইতালিতে তার যদি মৃত্যু হয় তাহলে মরদেহটি বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। তিনি উন্নত চিকিৎসায় ইতালি যান।

শিলা ইসলামের প্রয়াণ
11-7-2017 7-43-19 PMআওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সহধর্মিণী শিলা ইসলাম (৫৭) আর নেই। গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় লন্ডনের এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ইউসিএলএইচ ইনিভার্সিটি কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ক্যানসার রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক মেয়ে রিমা ইসলামসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত শিলা ইসলামকে গত এপ্রিলে জার্মানির একটি হাসপাতালে কেমোথেরাপিসহ ক্যানসারের কয়েক ধাপের চিকিৎসা করা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন নিয়ে আসার পর সেন্ট্রাল লন্ডনের হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তার মেয়ে রিমা ইসলাম ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। শিলা ইসলামের জন্ম ও পড়াশোনা লন্ডনে। তিনি লন্ডনের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। শিলা ইসলাম লন্ডনের একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। সৈয়দ আশরাফ ও শিলা ইসলামের একমাত্র মেয়ে রিমা ইসলাম লন্ডনে থাকেন। তিনি লন্ডন এইচএসবিসি ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। শিলা ইসলামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার পবিত্র রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শোক প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।

Category:

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে

03

জেলহত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা এবং তাদের সহায়ক সরকারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে হবে। কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোনো ভাবনার সরকার হবে না। এ নিয়ে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা করা হবে না, সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপি বুঝতে পেরেছে তাদের মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ আগামী নির্বাচনেও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাই তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে।
গত ৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যে রাখতে গিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র করা হলে, আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী কর্মকা-, জ্বালাও পোড়াও করলে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। এসব যারা ফের করবে তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা হবে।
স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি অংশ নেননি। তার পরিবর্তে সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অন্য কোনো পন্থায় নির্বাচন হবে না। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিল, খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। এখন তিনি কোন মুখে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করেন?
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপিও বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। আদালতের মাধ্যমে হেনস্থা করা হচ্ছে খালেদা জিয়া ও বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি তো (খালেদা জিয়া) কোর্টকে হেনস্থা করছেন। ১৪৩ বার সময় নিয়েছেন। আপনার ভাষায় বলতে চাই, আপনিই আদালতকে হেনস্থা করছেন। আদালত আপনাকে হেনস্থা করছে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের বলছি লিখে রাখুন। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ২০১৯ সালে বিজয়ের মাসে এই নির্বাচন হবে। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আওয়ামী লীগ আন্দোলনে চ্যাম্পিয়ন। আমরা মার খেয়ে মাঠে থেকেছি। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ নয়। বিএনপিকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি সাহস থাকে আগামী নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনের মাঠ থেকে পালাবেন না। দেখব জনগণ কাকে চায়। মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে। খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতারা সিরিয়াল মিথ্যাবাদী হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের মিথ্যার জবাব আগামী নির্বাচনে বাংলার জনগণ দেবে।
বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোনো ভাবনার সরকার হবে না। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। আপনারা (বিএনপি) আসলে আসবেন, না আসলে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার করুন। আপনাদের সাথে কোনো কথা হবে না। এরা একাত্তরের ও পঁচাত্তরের খুনি। খুনিদের সাথে কোনো আলোচনা হবে না। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী কর্মকা-, জ্বালাও পোড়াও করলে ছাড় দেওয়া হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার হবে। স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপিকে অপশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সব অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকা-ের নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নইলে কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি জানিয়ে তিনি বলেন, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) অস্ত্রোপচারের পর ওনার যতটুকু বিশ্রামে থাকার কথা ছিল উনি তা ছিলেন না। তিনি চাপ নিয়ে কাজ করেছেন। উনি এ রকম জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন নি এমনটা ঘটেনি। উনি অসুস্থতার কারণে আসতে পারেনি।

জেলহত্যা দিবস পালিত
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করল কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি। পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার আদর্শ বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় এবং শহীদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গত ৩ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করে দেশবাসী। দিবসটির প্রতিটি অনুষ্ঠানেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের আগামী নির্বাচনসহ সর্বক্ষেত্রে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় তিন নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের সিনিয়র মন্ত্রী-নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর পুত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৮টায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতা শহীদ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোমেন আমু এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় চার নেতার মধ্যে এএইচএম কামারুজ্জামানকে রাজশাহীর কাদিরগঞ্জে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সেখানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং শাখা কমিটিসমূহ এবং বিভিন্ন দল ও সংগঠন জাতীয় চার নেতাসহ ১৫ আগস্টের নিহত শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালোব্যাজ ধারণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগার স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধাঞ্জলি
পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। পরে কারা অধিদফতরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আইজি প্রিজন ইকবাল হাসান পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি ও সাহারা খাতুন এমপি। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং কারা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

Category: