Blog Archives

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

61(a)উত্তরণ প্রতিবেদন: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন (৭৭) আর নেই। গত ১১ মে ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে হালুয়াঘাটসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রমোদ মানকিন ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রমোদ মানকিন জাতীয় সংসদে ময়মনিসংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারবার। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এক গারো খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রমোদ মানকিন। স্কুলশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন প্রমোদ মানকিন। মেঘালয় শিববাড়ি শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজার বাংলাদেশির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের ভোটে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯-১৪ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুর দিকে প্রমোদ মানকিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে তাকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে আবারও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রমোদ মানকিনকে। গত বছর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর থেকে প্রমোদ মানকিনই মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করে আসছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশে মানবাধিকার সমন্বয় কাউন্সিল, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সোসাইটি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মানবাধিকার কমিশন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং গোবরাকুড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে গারো নেতা জোয়াকিম আশাক্রার মেয়ে মমতা আরেংয়ের সাথে তার বিয়ে হয়। স্ত্রী ছাড়াও পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন তিনি।
বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগম
62(b)সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম আর নেই। গত ২৩ মে সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি ছিলেন নারী জাগরণে এক আলোকবর্তিকা। তিনি নেই এটা অবশ্যই শোকের। কিন্তু আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করতে চাই। একজন পরিপূর্ণ মানুষের জীবন তিনি যাপন করেছেন। একজন শিক্ষিত-সচেতন মানুষের যে দায়িত্ব তা অনগ্রসর নারী সমাজেও তিনি পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। নূরজাহান বেগম সাম্প্রতিককালে নারী জাগরণের পথিকৃৎ। নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব তিনি। উপমহাদেশের প্রথম নারীবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকার এই সম্পাদক ব্যক্তিত্ব তার সাংবাদিকতা দিয়ে ঘরের চার দেয়ালে আবদ্ধ নারীদের জাগিয়ে তুলেছিলেন। নারী সমাজের অগ্রগতিতে পত্রিকাটির ভূমিকা ঐতিহাসিক। পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে নূরজাহান বেগম এদেশের নারী সমাজের শিক্ষা, অগ্রগতি ও নারী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রেখেছেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগের এক মাস আগে কলকাতা থেকে ‘সাপ্তাহিক বেগম’ প্রকাশিত হয়। বেগম সুফিয়া কামাল এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। আর নূরজাহান বেগম ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এর তিন বছর পর তিনি পিতা ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সাথে কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। সেই সময় থেকে তার সম্পাদনায় বেগম পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ দীর্ঘ সময়ে বেগম-এর উদ্দেশ্যর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের নারিন্দার ৩৮ শরৎগুপ্ত রোডের বাসায় নেওয়া হয়। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্মৃতি ভবনের খোলা আঙিনায় বেলা আড়াইটার পর তার প্রথম জানাজা হয়। এরপরে বিকেল ৪টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এক ঘণ্টা রাখার পরে বিকেলে গুলশান ১ নম্বর জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নূরজাহান বেগম ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রপথিক। নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে জাতি এক মহীয়সী নারীকে হারাল। উপমহাদেশের নারী জাগরণে যিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর খালেদা একরাম
63(a)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর খালেদা একরামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রফেসর খালেদা একরামের মৃত্যুতে জাতি এক বরেণ্য শিক্ষাবিদকে হারালো। তিনি ছিলেন বুয়েটের প্রথম নারী উপাচার্য।
প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত উপাচার্যের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। গত ২৩ মে রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিৎিসাধীন অবস্থায় প্রফেসর খালেদা একরাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫।
উল্লেখ্য, এই শিক্ষাবিদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ তহবিল (ত্রাণ ও কল্যাণ) থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
আসফার হোসেন মোল্ল্যা
63(b)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুরের কালিগঞ্জ থেকে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আসফার হোসেন মোল্ল্যার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গত ১৩ মে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কালিগঞ্জ তথা গাজীপুরবাসী এই আওয়ামী লীগ নেতার অবদান আজীবন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

Category:

সাংসদ ক্যাপ্টেন মজিবুর রহমান ফকির পরলোকে

Posted on by 0 comment

06উত্তরণ ডেস্ক: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গত ২ মে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। মৃত্যুর সময় মজিবুর রহমান ফকির তার স্ত্রী ডা. নাসিমা আনোয়ার ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের মৃতুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মজিবুর রহমান এমপির প্রথম জানাজা বাদজোহর ময়মনসিংহ ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তখন মোজাফফর আলী ফকির সেখানে পুলিশে চাকরি করতেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, আনন্দমোহন কলেজে এইচএসসি পাস করে ১৯৬৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৮-৬৯ এর আইয়ুব-বিরোধী গণ-আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
২০০১ সালে প্রথমবার তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ১ লাখ ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন গৌরীপুরবাসী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনেও তিনি ময়মনসিংহ-৩ আসনের (গৌরীপুর) এমপি হিসেবে বিজয়ী হন।

Category:

প্রয়াতজনদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদনঃ

47 প্রেম ও দ্রোহের কবির চির বিদায়
মানুষের হৃদয়ের কথা যার কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে তিনি কবি রফিক আজাদ। প্রেম-বিরহে, আনন্দে-বিষাদে, বিদ্রোহে, বিপ্লবে যার কবিতা বারবার মানুষকে প্রবল আন্দোলিত করেন, তিনি কবি রফিক আজাদ। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। চলে গেছেন শূন্যতার ওপারে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতি, দেশের মানুষের দুঃখ-সুখ যেন তার কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। সময়, সাম্প্রতিক বঞ্চনা, কষ্ট ও দ্রোহ রফিক আজাদের কবিতার আশ্রয়ে মানুষের মুখে মুখে মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয়েছে।
রফিক আজাদের মৃত্যুশোকে কাতর অগ্রজ কবি সৈয়দ শামসুল হক বললেন, রফিক ষাটের দশকের উজ্জ্বলতম কবি। দেশের প্রধান কবিদের মধ্যে অন্যতম, অগ্রগণ্য। এই শূন্যতা কোনোভাবে পূরণীয় নয়। তিনি কবিতায় বলেছিলেন, ‘চলে যাব সুতোর ওপারে’। আজ তিনি সুতোর ওপারে চলে গিয়েছেন। তার পেছনে রেখে গেলেন আমাদের অশ্রু আর অশ্রুমাখা তার অমর পঙ্ক্তিগুলো। তার এই কবিতাগুলো আমাদের বাংলা সাহিত্যের সম্পদ হয়ে থাকবে।
গত জানুয়ারিতে ব্রেইন স্ট্রোকের পর রফিক আজাদকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে তাকে আনা হয় বিএসএমএমইউ’তে। এরপর এই হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন তিনি। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ১৪ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত কবির মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। এরপর বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হয় কবির মরদেহ। সেখানে বেলা ১টা পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
47(b)নিউরোসার্জন রশিদ উদ্দিন
দেশের প্রথম নিউরোসার্জন রশিদ উদ্দিন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ মার্চ রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি এমেরিটাস অধ্যাপক রশিদ উদ্দিনের ‘বড় ধরনের’ স্ট্রোক হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। ২০ মার্চ সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে জানাজা এবং নরসিংদীর গ্রামের বাড়িতে তার বাবাকে দাফন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক রশিদ উদ্দিন সেখানে নিউরো সার্জারি বিভাগ চালু করেন। এই চিকিৎসক কয়েক দশক ধরে রোগীদের আস্থায় ছিলেন। সত্তরে তিনিই ছিলেন একমাত্র নিউরোসার্জন। সে সময় গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার বিষয়টি পাকিস্তানি সেনারা জেনে যাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে তাকে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানান কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তখন তিনি আগরতলা যান। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে রশিদ উদ্দিন বিএসএমএমইউয়ে (তৎকালীন আইপিজিএমআর) নিউরো সার্জারি বিভাগ চালু করেন। তার উৎসাহেই ঢাকা মেডিকেল কলেজেও নিউরো সার্জারি বিভাগ খোলা হয়।

অনিল সেনের মাতৃবিয়োগ
‘উত্তরণ’-এর প্রতিবেদক অনিল সেনের মাতা কুসুমবালা সেন গত ২৮ মার্চ সকাল ১০টায় নিজ গৃহ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভবেরভিটা গ্রামে পরলোক  গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। সাত সন্তানের মাতা কুসুমবালা সেনের দাহ ওইদিন রাতেই সম্পন্ন হয়। অনিল সেনের মাতার মৃত্যুতে উত্তরণ সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন ও উত্তরণ-এর সকল কর্মী গভীরভাবে শোকাহত। আমরা স্বগীয় কুসুমবালার পারলৌকিক শান্তি কামনা করছি।

Category:

প্রয়াতজনদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

জননেতা এনামুল হক মোস্তফা শহীদ
63(a)  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ১৯৭০-এর প্রাদেশিক নির্বাচন, ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-চুনারুঘাট আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম
63(b)সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম আর নেই। তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদুল ইসলাম। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা পরিচালনা করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে তিনি অংশ নেন। এ ছাড়া ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে তিনি জোরাল ভূমিকা রাখেন। মাহমুদুল ইসলাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ও এসআর পালের জুনিয়র ছিলেন। ১৯৩৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন মাহমুদুল ইসলাম। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। রংপুর জেলা বারে আইন পেশা শুরু করার পর তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭২ সালে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল ছিলেন তিনি। মাহমুদুল ইসলামই বাংলাদেশের প্রথম আইনজীবী যিনি সাংবিধানিক গবেষণামূলক বই লেখেন; সংবিধান বিষয়ে তার লেখা বইটি হচ্ছে ‘কন্সটিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ’। এর বাইরে লিখেছেন ‘ল অব সিভিল প্রসিডিউর’ ও ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব স্ট্যাটিউটস অ্যান্ড ডকুমেন্ট’।

বাংলার শেকড় সন্ধানী মোহাম্মদ যাকারিয়া
63(c)ইতিহাসবিদ, প্রতœতাত্ত্বিক, অনুবাদক, পুঁথিসাহিত্যের গবেষক, সাহিত্যিক, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসক না-কি একজন ভালো বাবা। এসব অভিধাই আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার নামের আগে যোগ হতে পারে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৯৭ বছরের কর্মময় জীবনের সমাপ্তি টেনে চলে গেলেন তিনি। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯২২ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া যাকারিয়া ১৯৪৬-৪৭ সালে অনুষ্ঠিত অবিভক্ত বাংলার শেষ বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ডেপুটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ১৯৪৮ সালে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব ও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, পরে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে ১৯৭৬ সালে অবসর নেন। আ ক ম যাকারিয়ার মৃত্যুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গভীর শোক প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে একুশে পদক পাওয়া যাকারিয়া মূলত প্রতœতাত্ত্বিক হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন।

Category:

প্রয়াতজনদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

aaaমুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানী জেনারেল জ্যাকব
aaa    50 aaaএকাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়ে নিজ হাতে দলিলের খসড়া লিখেছিলেন যিনি, বাংলাদেশের বন্ধু সেই ভারতীয় জেনারেল জেএফআর জ্যাকব আর নেই।
কিছুদিন অসুস্থতার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল গত ১৩ জানুয়ারি সকালে দিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে পূর্ব পাকিস্তানের রণাঙ্গনে সরাসরি যোগ দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ঢাকা দখলের মূল পরিকল্পনায় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি ছিলেন ভারতীয় সেনানায়করাও। জেনারেল জ্যাকব তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় চিফ অব স্টাফ।
‘সারেন্ডার ইন ঢাকা, বার্থ অব এ নেশন’ এবং ‘অ্যান ওডেসি ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস’ বইয়ে জ্যাকব লিখে গেছেন সেইসব আগুনঝরা দিনের কথা, যে পথ ধরে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এএকে নিয়াজী ঢাকার তখনকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুক্তিযুদ্ধে ‘এস ফোর্স’-এর অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার কেএম সফিউল্লাহ বলেন, জেএফআর জ্যাকবের সহযোগিতাতেই ঢাকায় পাকিস্তান বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর আত্মসমর্পণপত্রের খসড়া তৈরি এবং এ সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা ঠিক করা হয়। জ্যাকব একজন দক্ষ সেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তানি বাহিনীর বিপর্যয়ের শুরুতেই জ্যাকব তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী কখন, কোথায় ও কীভাবে আত্মসমর্পণ করবে সেটাও ঠিক করেছিলেন তিনি। জ্যাকব বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সফল হতে হলে এর ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা দখল করতে হবে আগে। তাই নিজস্ব পরিকল্পনা অনুসারেই ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডকে রণাঙ্গনে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি, যদিও সেনা সদরদফতর তার পরিকল্পনাকে উচ্চাভিলাষী বলেছিল।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অগ্রসরমান ভারতীয় সেনা কন্টিনজেন্ট শত্রুর প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিয়ে দ্রুততার সাথে ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়, যা ভেঙে দেয় পাকিস্তানি সৈন্যদের মনোবল। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মূল লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। শত্রুর অবস্থানের তথ্য আগেভাগে জানিয়ে ও বিপদসংকুল জলাভূমিগুলো এড়ানোর পথ দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় সেনাদের অগ্রযাত্রায় গতি সঞ্চার করেন। জ্যাকব ফার্জ রাফায়েল জ্যাকবের জন্ম ১৯২৩ সালে। ১৯৪১ সালে ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ সরকারের অধীন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নাম লেখান জ্যাকব। তিন যুগের সৈনিক জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশ নেন জ্যাকব। সাহসিকতার জন্য পেয়েছেন নানা পদক। গোয়া ও পাঞ্জাবের গবর্নরের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা জানানোর উদ্যোগ নিলে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ আরও ৮৩ জনের সাথে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা নেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব।
সম্মাননা নেওয়ার পর ভারতের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে স্যালুট দেন। দর্শকসারি জয় বাংলা সেøাগানে মুখরিত হয়ে উঠলে তিনিও বলেনÑ ‘জয় বাংলা’।
এর আগে ২০০৮ সালের মার্চে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন জ্যাকব। সে সময় ভারতীয় হাইকমিশনে এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অসাধারণ বীরত্বের সুবাদেই স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ¯্রফে তুমুল দেশপ্রেম পুঁজি করেই একটা শক্তিশালী নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে 51 copyএনেছে তারা। আমরা তাদের সাহায্য করেছি, আমরা তাদের সহযোদ্ধা। কিন্তু তাদের লড়াইটা তারা নিজেরাই লড়েছে। চেতনার পুরোটা ঢেলে দিয়েই তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক শোকবার্তায় স্বাধীনতাযুদ্ধে জেনারেল জ্যাকবের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, বাঙালি জাতি তাকে চিরকাল মনে রাখবে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শোক : বাংলাদেশের মুক্তির লড়াইয়ে অবদান রাখা ভারতের সেনা কর্মকর্তা জেএফআর জ্যাকবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতি তার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
এক শোক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের এক অকুতোভয় সেনানীকে হারালাম। মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল জ্যাকবের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ মাহবুব হোসেন
51-bঅর্থনীতিবিদ মাহবুব হোসেন (৭১) আর নেই। বাংলাদেশ সময় গত ৩ জানুয়ারি দিবাগত রাত পৌনে ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের কেভেল্যান্ড কিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রিডো বাইপাস সার্জারি ও ভাল্ভ পরিবর্তনের জন্য প্রায় এক মাস আগে সেখানে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যান দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে যাওয়া এই অর্থনীতিবিদ।
মৃত্যুর আগে মাহবুব হোসেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালকের উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিচালক, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সামাজিক গবেষণা বিভাগের পরিচালক ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মাহবুব হোসেন স্ত্রী পারভিন হোসেন, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে তানভীর হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, বড় মেয়ে শাওন হোসেন বায়োটেকনোলজিস্ট ও ছোট মেয়ে শারমিন ব্র্যাক ইপিএলের পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
বাবা ডা. কোবাদ আলী মালিতা ও মা ফাতেমা জোহরার ঘরে ১৯৪৫ সালে ভারতের নদীয়া জেলায় জন্ম নেন মাহবুব হোসেন। সেখান থেকে ¯œাতক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ¯œাতকোত্তর ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এশিয়ান সোসাইটি ফর এগ্রিকালচার ইকোনমিস্টের নির্বাচিত সভাপতি হয়েছিলেন অধ্যাপক মাহবুব হোসেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল নলেজ অ্যাডভাইজরি কমিশনের সদস্য, বাংলাদেশ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা-বিষয়ক বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
১৯৯১ সালের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের উন্নয়ন-বিষয়ক যে টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, মাহবুব হোসেন তার দারিদ্র্য বিমোচন-বিষয়ক কমিটির সভাপতি ছিলেন।
ফরেন পলিসি (এফটি) ২০১৩ সালে বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতে মাহবুব হোসেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি উৎপাদন বিষয়ে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তাকে চিহ্নিত করে। খাদ্যনীতি-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইফপ্রি, ইরি, এফএও থেকে তার গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত তার একক ও যৌথভাবে মোট ১২টি বই এবং ২০০-এর মতো প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সবুজ বিপ্লবের প্রভাব, সেচপাম্পের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে একাধিক গবেষণাধর্মী বই এবং গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন মাহবুব হোসেন। ১৯৭৩ সাল থেকে দেশের ৬৫টি গ্রামের পরিবর্তন বিষয়ে মাহবুব হোসেন একটি চলমান গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশ ও বিশ্বের চাল উৎপাদন এবং চালের অর্থনীতি নিয়ে তিনি নিয়মিত গবেষণা করছিলেন।
মাহবুব হোসেনের মৃত্যুতে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, উন্নয়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে বিশ্বের যে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের সুগভীর ধারণা ছিল, ড. মাহবুব হোসেন ছিলেন তাদের অন্যতম। সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তার জীবনটাই ছিল এক সাফল্যগাথা।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নূরুল ইসলাম
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূরুল ইসলাম আর নেই। গত ২২ জানুয়ারি রাত ৮টায় রাজধানীর রায়েরবাজারের মিতালী রোডের বাসায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ২৩ জানুয়ারি বাদ জোহর চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জের নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। আওয়ামী লীগের এই নেতা ছিলেন অবিবাহিত। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নূরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের পর দলে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিলে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান নূরুল ইসলাম। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালি জাতির স্বাধিকার-স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার সময় নূরুল ইসলাম হাতে পোস্টার লিখে রাজপথে হয়ে ওঠেন পোস্টার নূরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নূরুল ইসলাম এটেম্পট টু মার্ডার মোনায়েম খান মামলার ১ নম্বর আসামি ছিলেন। যে মামলায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন ২ নম্বর আসামি। নূরুল ইসলাম বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ হারাল একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগ্রামী নেতাকে। বিবৃতিতে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজ
52পঁচাত্তর-উত্তর আওয়ামী লীগের অন্যতম সংগঠক, স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ১/১১-পরবর্তী সময়ের সাহসী সৈনিক, পুরনো ঢাকার কৃতী সন্তান ভাষাসৈনিক একুশে পদকপ্রাপ্ত মরহুম পিয়ারু সরদারের সুযোগ্য সন্তান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ গত ২৩ জানুয়ারি পরলোক গমন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন এমএ আজিজ।
প্রয়াত রাজনীতিক এমএ আজিজ স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বাদ মাগরিব বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম জানাজা এবং বাদ এশা বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। দুটি জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানেই ছিল শোকার্ত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঢল। বর্ষীয়ান রাজনীতিক এমএ আজিজের মৃত্যুর খবরে তার পুরান ঢাকার নিজ বাসভবনে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে ওই বাসভবনে গিয়ে প্রথমেই এমএ আজিজের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রয়াত এই নেতার দোতলার বাসায় গিয়ে সেখানে শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না ও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে গণভবনে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে এমএ আজিজের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন নেতাকে হারাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকা-ের পরবর্তী দুঃসময়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করতে এমএ আজিজের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মরহুমের সাহসী ভূমিকার কথা জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
আজিজের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, হাজি মো. সেলিম এমপিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে গত আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এমএ আজিজ। ১৯৮৭ সালে মোজাফফর হোসেন পল্টুর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। ২০০৩ সালে সম্মেলনে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগরের সভাপতি নির্বাচিত হলে ওই কমিটিতে সহ-সভাপতি হন আজিজ। ২০০৭ সালে মোহাম্মদ হানিফ মারা যাওয়ার পর এমএ আজিজকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১২ সালে কাউন্সিল হলেও নতুন কমিটি গঠিত না হওয়ায় এমএ আজিজ আগের মতোই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এমএ আজিজের বাবা পুরান ঢাকার বিলুপ্ত পঞ্চায়েতের নেতা পেয়ারু সরদার ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় প্রথম শহীদ মিনার তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন। তার বড় ছেলে উমর বিন আবদুল আজিজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

পরলোকে সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদ
53-aনির্ভীক সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি আলতাফ মাহমুদ (৬২) আর নেই। গত ২৪ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
আলতাফ মাহমুদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ঢাকায় ডিআরইউ ও জাতীয় প্রেসকাবে দু’দফা জানাজা শেষে হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায় পাঠানো হয়। সেখানে দু’দফা জানাজা শেষে তার লাশ বাবার কবরের পাশে গত ১৫ জানুয়ারি দাফন করা হবে হয়। জানাজা শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও মামুনুর রশীদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ এবং জাতীয় প্রেসকাবসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে প্রয়াত এই সাংবাদিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দৈনিক ডেসটিনির নির্বাহী সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ সাংবাদিকতায় আসেন গত শতকের সত্তরের দশকে। তিনি দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক খবরের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। এ ছাড়া অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে (ডিইউজে) পাঁচবার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন আলতাফ মাহমুদ। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন নেতা।

পরলোকে একাত্তরের যোদ্ধা জেনারেল কৃষ্ণা রাও
53-bএকাত্তরের বন্ধু ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কেভি কৃষ্ণা রাও (৯২) পরলোকগমন করেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। গত ৩০ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর দিল্লির সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জেনারেল কৃষ্ণা নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে সন্ত্রাস দমনে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত একটি মাউন্টেন ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন ব্রিগেড ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অংশ নিয়ে সিলেট তথা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল শত্রুমুক্ত করতে ভূমিকা রাখে। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে পদক পান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের বন্ধু, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অন্যতম শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল কেভি কৃষ্ণা রাওয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল রাওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি প্রয়াত জেনারেলের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

Category:

প্রয়াতজনের প্রতি শ্রদ্ধা

উত্তরণ প্রতিবেদন

গোলাম আকবর চৌধুরী পরলোকে
54  জাতীয় সংসদে উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক গোলাম আকবর চৌধুরী (৮৬) আর নেই। গত ২৩ নভেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র আইমান আকবর, শাহাদাত আকবর, সাজিদ আকবর এবং এক কন্যা সামা রহমানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ওই দিন বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি জানাতে বিকেলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গুলশানের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোলাম আকবর চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। প্রচারবিমুখ গোলাম আকবর চৌধুরী মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলেরও সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদান করে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সদস্যপদ লাভ করেন এবং ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে এবং শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচন ও ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

চিত্রশিল্পী আসমা কিবরিয়া আর নেই
bbদেশের নারী চিত্রশিল্পীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন আসমা কিবরিয়া। আধুনিক ভাবনার সাথে স্বতন্ত্র শৈলীর অঙ্কনে উদ্ভাসিত হতো তার ক্যানভাস। সেই চিত্রপট সহজেই মুগ্ধ করত শিল্পানুরাগীদের। শিল্পী পরিচয়ের বাইরে তার আরেক পরিচয় ছিল সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী। গত ৯ নভেম্বর সকালে থেমে গেল জ্যেষ্ঠ এই নারী শিল্পীর জীবনের পথচলা। ওই দিন সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। বাদ আসর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গুলশান আজাদ মসজিদে। এরপর বাদ মাগরিব বনানী কবরস্থানে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সেখানেই স্বামীর কবরে তাকে দাফন করা হয়। আসমা কিবরিয়ার মৃত্যুর সংবাদে শিল্প ও সংস্কৃতি ভুবনে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিশেষ করে চিত্রশিল্পীরা যেন হারালেন তাদের আপনজনকে। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন সমাজসেবী ও গুণী শিল্পীকে হারাল। ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া আসমা চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন নিউইয়র্কের উন আর্ট স্কুল ও ওয়াশিংটনের কোরকোরান স্কুলে। ওয়াশিংটনে সমসাময়িক মার্কিন শিল্পীদের সাথে কাজের সূত্র ধরে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলায় প্রভাবিত হন তিনি। তার কাজ নিয়ে ব্যাংককসহ বিভিন্ন শহরে এ পর্যন্ত ১০টি একক প্রদর্শনী হয়েছে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভা শেষে ফেরার সময় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়া। কিবরিয়া ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শান্তির জন্য নীলিমা’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। ২০০৭-০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই কর্মসূচি চালিয়ে নিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও তার অভিযোগ ছিল। শাহ এএমএস কিবরিয়া ও আসমা কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ আর মেয়ে নাজলী কিবরিয়া বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক।

সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেমের ইন্তেকাল
aaসীতাকু-ু আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম আর নেই। গত ২৪ নভেম্বর দুপুর ২.৩৫ মিনিটে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নানিল্লাহি … রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যুতে সীতাকু-ুর সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেন।
২৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর সীতাকু-ু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদে আসর নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তির জন্ম সীতাকু-ুর দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬৬-এর ৬-দফা আন্দোলনসহ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণাপত্রটি ছলিমপুর ওয়ারলেস সেন্টারে এলে অপারেটর আবদুর গাফ্ফারের সহযোগিতায় সাবেক মন্ত্রী এমআর সিদ্দিকী ও জহুর আহম্মদ চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। ১৯৭৫ সালে সীতাকু-ু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি হাল ধরেন।
১৯৮৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সফলভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তির সীতাকু-ুর ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

Category:

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শোক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি পৃথক পৃথক শোক বিবৃতিতে সম্প্রতি পরলোকগত কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক দেবীদ্বার উপজেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জানে আলম, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শোক বিবৃতিতে তিনি পরলোকগতদের পবিত্র রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তাদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং দেশ ও জনগণের সেবায় তাদের আত্মত্যাগের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Category:

খালেদা বিদেশে বসে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছেন

জেলহত্যা দিবসের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

3উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে রাজনীতিতে পরাজিত ও আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশ দিয়ে দেশে গুপ্তহত্যা শুরু করেছেন। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রসহ গুপ্তহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, যারা গুপ্তহত্যা করছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, এদের লিংক, মুরব্বি ও বড় ভাইদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবই দেব।
গত ২ নভেম্বর অপরাহ্নে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় সভাপতির বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে এই জনসভা লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি ও তুমুল করতালি দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। প্রধানমন্ত্রী তার ৩০ মিনিটের ভাষণে সম্প্রতি সংঘটিত দুই বিদেশি নাগরিকের হত্যাকা-সহ মুক্তমনা লেখক, প্রকাশকদের হত্যাকা-ের বিষয় উল্লেখ করে এসব ঘটনার সাথে বিএনপি-জামাত জোটের সম্পৃক্ততার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত চার জাতীয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার যোগ্য চার সহকর্মীর আত্মদান আমরা ব্যর্থ হতে দেই নি। বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার হয়েছে। আমরা তাদের আরাধ্য কাজÑ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। জাতির জীবন থেকে ২১টি বছর হারিয়ে গেলেও ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত-ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো মহল বলছে, দেশে আইএস (ইসলামিক স্টেট) ও জঙ্গি-সন্ত্রাসী আছে, জেএমবি আছে। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী যা আছে তা বিএনপি-জামাতের মধ্যেই আছে। আমরা শক্তহাতে সন্ত্রাস-জঙ্গি দমন করছি। সন্ত্রাসী যে দলেই হোক, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না, হতে দেব না। জয় দেশের জনগণেরই হবে, কোনো খুনি-সন্ত্রাসীর হবে না। তিনি বলেন, যখন আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি, রায় কার্যকর হচ্ছে, তখন এই খুনিদের রক্ষার জন্যই এসব গুপ্তহত্যা চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা যা বলি তা করি। এ দেশের মানুষ স্বাধীনচেতা। ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে কখনোই মাথা নত করে না। গুপ্তহত্যা, খুন যা করা হোক না কেন এ দেশের মানুষকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। দেশের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সাধ্য কারও নেই। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, দেশের উন্নতি-শান্তি-প্রগতি চান তারা সকলেই গুপ্তহত্যাকারী খুনিদের খুঁজে বের করতে সরকারকে সহযোগিতা করুন। কোনো অপশক্তিই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। আমরা তা করতে দেব না। দেশের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বাংলার জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।
বিদেশিসহ সব হত্যাকা-ের বিচারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়, তখনই অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। এখন গুপ্তহত্যা চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছে বিএনপি-জামাত। বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে তারাই এখন গুপ্তহত্যা শুরু করেছে। এসব হত্যাকা-ের সাথে জড়িত যাকেই ধরা হয়, তারা শিবিরের অথবা ছাত্রদল-বিএনপির লোক। যখনই দেশের মানুষ স্বস্তিতে তখনই এই হত্যাকা-। তিনি বলেন, আমার লাখো শহীদের রক্তে রাঙা পতাকা তাদের (যুদ্ধাপরাধী) হাতে দিয়েছিল জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা সাজাপ্রাপ্ত তাদের কেবিনেটে বসিয়েছিল।
4প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে খালেদা জিয়ার মানুষ পুড়িয়ে হত্যার রাজনীতি প্রতিহত করেছে। ঘৃণাভরে মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। উনি অবরোধ দিয়েছিলেন, এখনও তা প্রত্যাহার করেন নি। এখনও তার ডাকা অবরোধ বহাল রয়েছে। কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। তিনি বলেন, মানুষ হত্যা করেও কোনো কিছু করতে না পেরে নাকে খত দিয়ে খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরে গেছেন। এবারও উনি পরাজিত হবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই উন্নয়নের পথে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বাংলার জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শহীদ জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি, যুব মহিলা লীগের অধ্যাপিকা অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
জেলহত্যা দিবসে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার
প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। নেতৃবৃন্দের স্মরণে তিনি সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শেখ হাসিনা প্রথমে সকাল প্রায় ৭টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ক্যাপটেন মনসুর আলীর পুত্র স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, রেলমন্ত্রী মুবিজুল হক এমপি, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বনানী কবরস্থানে শহীদ জাতীয় নেতৃবৃন্দের কবরে  শ্রদ্ধাঞ্জলি ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার নেতার স্মৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
জেলহত্যার সাথে খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এমপি। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩ নভেম্বর সকালে জাতীয় চার নেতার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নাসিম বলেন, অতীতে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেও তারা কেউ এর বিচার করেনি। আইনের শাসনের কথা বলে সবাই পক্ষান্তরে খুনিদের লালন-পালন করেছে। খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফিরে দলের হাল ধরেন ও ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যা মামলার বিচার করেন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশারাফুল ইসলাম এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আছাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Category:

মহিলা শ্রমিক লীগের তিন নেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ

Posted on by 0 comment

63(b)মহিলা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা (৫০), প্রচার সম্পাদক রেখা নাসের (৫৪), সদস্য আফরোজা ইসলামের (৫০) মৃত্যুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জ্ঞাপন ও রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রওশন জাহান সাথী এক শোক বিবৃতিতে মহিলা শ্রমিক লীগের পরলোকগত এই তিন নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেছেন, সংগঠনের প্রতি তাদের অবদান ও আত্মনিবেদন ছিল অনুকরণীয়। সংগঠনকে সমৃদ্ধ করতে এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামই ছিল তাদের ধ্যান, জ্ঞান, ব্রত। তাদের মৃত্যুতে সংগঠন একনিষ্ঠ কর্মী হারিয়েছে।

Category:

বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর ইন্তেকাল

Posted on by 0 comment

62উত্তরণ প্রতিবেদন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এমপি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি কিডনি ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মহসিন আলীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল সড়কের দরজি মহলে এক মুসলিম পরিবারে। ১৯৬৯ সালে স্কুলের ছাত্র থাকাকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ও সিলেট বিভাগ সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
১৯৮৩ সালে মহসিন আলী প্রথম পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর আরও দুবার নির্বাচিত হয়ে টানা ১৮ বছর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একই আসন থেকে তিনি আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় মহসিন আলীকে শেষ বিদায়
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মৌলভীবাজারে তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় দুদফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংসদ ভবনে মহসিন আলীর মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ মন্ত্রী ও এমপিরা। তার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছালে সেখানে জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মান। পুলিশের একটি চৌকস দলের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মরদেহ হেলিকপ্টারে তার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়। দুপুরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে হজরত শাহ মোস্তফার (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে মা-বাবার পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় তাকে। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে রুহুল আমীন হাওলাদার এমপি ও মসিউর রহমান রাঙ্গা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) পক্ষ থেকে মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে মরহুমের রাজনৈতিক সহকর্মী ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল মাঠে জানাজা শেষে হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) মাজার প্রাঙ্গণে মা-বাবার কবরের পাশে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে মহসিন আলীর দাফন সম্পন্ন হয়। জেলা পুলিশ প্রশাসনের একটি চৌকস দল মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীর মরদেহ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বিউগল বাজিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক প্রকাশ কান্তি চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

Category: