Blog Archives

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে

Posted on by 0 comment

দলের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। এ জন্য আমরা আট বিভাগের জন্য ৮টি কমিটি করেছি। কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর। আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে, দলের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসঙ্গে বসেছি। সেইসঙ্গে আমরা আর একটি কাজ করতে চাই, ইতোমধ্যে আমাদের সভাপতিম-লীর মিটিং করেছি, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্যদের নিয়ে ৮টি বিভাগে পৃথক কমিটি গঠন করেছি। তিনি বলেন, কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানো। কোথায় কমিটি আছে বা না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় ক্ষমতাসীন সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এ লক্ষ্যেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা সরকারিভাবেও কমিটি করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। দলের পক্ষেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা একটা কমিটিও করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলামÑ আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এ-সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই বৈঠকে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিক তাকান দেখবেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যেটা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এবার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানায়। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে, তাদের সেবা করার জন্য মানুষ ভোট দিয়েছে।
বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাতের অবস্থান কী? যেহেতু সামরিক স্বৈরাচার ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করেছে একটা ব্যবসা। মনোনয়নের টিকিট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে; কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না। যার জন্য নির্বাচনে তাদের এই হাল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। আর বিএনপি নির্বাচন করেছে মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্য। মনোনয়ন বাণিজ্য করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে। যার জন্য তাদের এই হাল। বিএনপি-জামাত আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা হোক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এসবই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।
এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবার ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সকলে এই উৎসবটা পালন করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা জাতির পিতার নেতৃত্বে যখন উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করে তখনই ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা ঘটে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সেই স্বাধীন রাষ্ট্র, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে যখন জাতির পিতা যাত্রা শুরু করেন, ঠিক সেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে এবং জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯টি বছর, প্রথমে ২১ বছর। এরপর আবার সাত বছর। এই জাতির জীবনে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। এ-সময়ে কাক্ষিত কোনো অগ্রগতি দেশের মানুষের জীবনে হয়নি।
তিনি বলেন, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করেছে তখনই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ’৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতা আসে আওয়ামী লীগ, এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। আমরা ৪০ থেকে ২১ শতাংশে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি।

Category:

ব্যাপকভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপনের আহ্বান

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-33-03 PM

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আর যেন বাংলার মাটিতে খুনি-সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধী, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে। তারা আর যেন দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার যেন সমুন্নত থাকে। বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা মানেই বঙ্গবন্ধু। তাই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ২০২০-২১ ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ আমরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন।
নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। ওই নির্বাচনে ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বিএনপি ওই নির্বাচনে মাত্র ২৮ আসন পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ আসনে মেজরিটি পেয়ে সরকার গঠন করে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামাত জোট ঠেকাতে চেয়েছিল; কিন্তু জনগণ তাদের প্রতিহত করেছিল। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনের সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ দেশে ধারাবাহিক যে অসামান্য উন্নতি করেছে, অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয়েছে, প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, তৃণমূল পর্যন্ত জনগণ উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করেছে বলেই দেশের জনগণ বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।
সরকারপ্রধান প্রশ্ন রেখে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বিএনপি এবারও নির্বাচনে গেছে। আর নির্বাচনের আগে জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা তারা (বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্ট) দেখাতে পারেনি। কারণ হত্যা-দুর্নীতির কারণে তাদের নেতারা জেলে কিংবা বিদেশে পলাতক। নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জামাত একটি আসনও পায়নি। নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে যারা (বিএনপি-জামাত-ঐক্যফ্রন্ট) ৮০০ প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, তারা নির্বাচনে ভোট পাবে কী করে?
অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করতে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। অথচ স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই নির্বাচন নিয়ে এমন এক পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যাতে প্রার্থীরা খুব কম খরচে নির্বাচন করতে পারেন, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতারাই যেন নির্বাচিত হতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই পদ্ধতিতে ছিল সরকারি খরচে একটি মাত্র পোস্টার হবে, সেখানে সব প্রার্থীর ছবি ও মার্কা থাকবে। নির্বাচন অর্থ ও লাঠির কাছে জিম্মি না হয় সেই জন্যই এ পদ্ধতি চালু করেছিলেন। এ পদ্ধতিতে দুটি নির্বাচনও হয়েছিল। যদি জাতির পিতা নির্বাচনের এই পদ্ধতি কার্যকর করে যেতে পারতেন তবে মাঠের জনপ্রিয় নেতারাই নির্বাচিত হতে পারতেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সামরিক স্বৈরাচারের আমলে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ’৭৫-পরবর্তী সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয় জেনারেল জিয়া। হ্যাঁ-না ভোট, রাষ্ট্রপতি ভোটের নামে অবৈধভাবে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে গঠিত দলকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী দেখানো হয়। কারণ সংবিধান সংশোধন করে জেনারেল জিয়া অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করতে ওই এক-তৃতীয়াংশ আসনেরই প্রয়োজন ছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ভাঁওতাবাজি করে মূলত জিয়াউর রহমান কারফিউ গণতন্ত্র দিয়েছিল। জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখল, জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তী জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলেও এসব করা হয়। আর সামরিক স্বৈরাচারের আমলেই ঋণখেলাপি সংস্কৃতি, ঘুষ, দুর্নীতি ও ছাত্রদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিয়ে বিপথে ধাবিত করা হয়। এই ধারা ’৯৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
নির্যাতিন ও নিপীড়িত বাঙালির মনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি নির্যাতন ও নিপীড়ন সইতে সইতে তারা ভুলেই গিয়েছিল তাদের অধিকারের কথা। বঙ্গবন্ধু তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি আন্দোলনের জন্য জেলে গেছেন। তিনি নির্যাতিত বাঙালির মনে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, খোকা নামের সেই ছোট্ট শিশুটির (বঙ্গবন্ধু) নাম আজ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তার একটিই কারণ, তিনি (বঙ্গবন্ধু) একটি জাতিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছেন। গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে একটি দেশকে স্বাধীন করেছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর একটিই লক্ষ্য ছিল গরিব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আর এ লক্ষ্য অর্জনেই বঙ্গবন্ধু আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য বাঙালি জাতিকে সাহসী করে তুলেছিলেন।
আগামী বছর জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২০-২১ একটি বছর ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালন করব। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশের ইউনিয়ন পর্যন্ত ব্যাপকভাবে পালন করা হবে। জন্মশতবার্ষিকী পালনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। মুজিবের বাংলাদেশকে আমরা তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবই ইনশাআল্লাহ।

Category:

‘আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না’

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-14-05 PM

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে বারবার অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কেউ আওয়ামী লীগকে শেষ করতে পারেনি। কারণ এই আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলার জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত। এটা দ্বারা প্রমাণিত হয়, যারা প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জনগণের অধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে, তাদের শেষ করা যায় না। আর যারা উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তাদের গোড়ায় মাটি থাকে না। ক্ষমতা ছাড়া তাদের অস্তিত্বই থাকে না, এটা এখন প্রমাণিত।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত ২৭ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। বাঙালির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। এই আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়া। কিন্তু পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলার মানুষের সঙ্গে এমনভাবে প্রোথিত, এত চেষ্টায়ও এই সংগঠনকে শেষ করতে পারেনি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও জাতির কল্যাণ ও উন্নতি হয়, তা প্রমাণিত। আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী দল ক্ষমতায় থাকলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না, তাও প্রমাণিত। কারণ তারা এদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে না।
জাতির পিতার আদর্শের পথ ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার জন্য দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। গত এক দশকে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ কোনোদিন ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে পালন করব, স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আমিরুল হক মিলন ও এসএম কামাল হোসেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা বাঙালিকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করে রেখেছিল। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা কেন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে দেবে? তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশ মানেই ভিক্ষুকের দেশ, খরা-বন্যা-প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে অবহেলা করত। কিন্তু গত ১০ বছরে দেশের সেই চিত্র পাল্টে গেছে। গোটা বিশ্বে আর কেউ বাংলাদেশকে এখন অবহেলার চোখে দেখে না। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা মহাকাশ জয় করেছি, বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি, স্থায়ী সীমান্ত নিশ্চিত করেছি। অর্থাৎ মহাকাশ থেকে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বিচরণ করতে পারি, সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। কিন্তু পঁচাত্তর-পরবর্তী যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেরা ভোগবিলাস করেছে, নিজেরা অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে চলুক তা তারা চায়নি।
বক্তৃতার শুরুতেই বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আমলে সামরিক বাহিনী, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে পাকিস্তান কর্তৃক বাঙালিকে বঞ্চিত করার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। বলেন, পাট, চা, তামাক থেকে শুরু করে সব অর্থকরী ফসল আমরা উৎপাদন করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতাম, আর সেসব নিয়ে যেত পাকিস্তানিরা। তিনবার রাজধানী পরিবর্তন করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। কখনও করাচি, কখনও রাওয়ালপিন্ডি, কখনও ইসলামাবাদ। এই পরিবর্তনে যত টাকা খরচ হতো, আমাদের দিতে হতো; কিন্তু ভোগ করত তারা। পাকিস্তানের কিন্তু ছিল মরুভূমি। আমাদের অর্থ নিয়ে তারা মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিল, আর আমাদের তারা মরুভূমিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম-আন্দোলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের এই বৈষম্যনীতির অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের শেষ সৈন্য বিতাড়ন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, ওয়ারলেসের মাধ্যমে এই ঘোষণা কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। ওয়ারলেসের এই বার্তার কথা পাকিস্তান জানার পর তাকে ৩২ নম্বর থেকে ধরে নিয়ে গেল। তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হলো, তাকে ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতা পেলাম। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর কাছে ৯৬ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে। আন্তর্জাতিক চাপে ইয়াহিয়ার পতন হলো, ভুট্টো রাষ্ট্রপতি হলেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেলেন। ১০ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে এলেন। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে তিনি আমাদের সংবিধান দিলেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ ছেড়ে গেল। পৃথিবীর কোনো দেশে মিত্রবাহিনী ফেরত যাওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশ একমাত্র ব্যতিক্রম। এটা সম্ভব হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন স্বাধীনচেতা নেতৃত্ব এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মতো স্বাধীনচেতা নেতৃত্বের কারণে।
’৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকেই জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭০ সালের নির্বাচন নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু জানতেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির হাতে ক্ষমতা দেবে না, পরবর্তীতে যুদ্ধ অনিবার্য। সে-কারণেই বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই যুদ্ধের সময় অস্ত্র কোথায় থেকে আসবে, ট্রেনিং কে দেবে, শরণার্থীদের আশ্রয় কে দেবে, দেশের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা কেমন হবে তা আগে থেকেই ঠিক করে রেখে গিয়েছিলেন। আন্দোলনকে পাকিস্তানিরা যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যায়িত করতে না পারে সেজন্য বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ২৫ মার্চ আক্রান্ত হওয়ার পরই বঙ্গবন্ধু ওয়ারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে কাজ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১২৬টি দেশ থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি এনেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রচেষ্টায় প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র থেমে ছিল না। একে একে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়। ব্যাংক লুট করা হয়, পাটের গুদামে আগুন দেয়া হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা এ জন্য হাত করে আমাদের কিছু লোককেও। রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে সর্বহারা কিছু কমিউনিস্টও যেন একাকার হয়ে গেল। স্বাধীনতাবিরোধী এবং পাকিস্তানকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ ষড়যন্ত্রের কারণেই বাঙালির জীবনে ১৫ আগস্ট ঘটেছিল।
বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাঙালিকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার নেতৃত্ব-নির্দেশনায় বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পরপর বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেছিলেন; কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে পরাজিত শক্তি বাঙালি জাতিকে নিঃশেষ করে ফেলার চেষ্টা চালায়। এরপর ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান তা মুছে ফেলা হয়েছিল, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার নেতৃত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পারেনি। কারণ সত্যকে মিথ্যা দিয়ে কখনও ঢেকে রাখা যায় না। ’৭৫-পরবর্তী ২১ বছর স্বাধীনতাবিরোধীরা সরাসরি বা সরাসরি নয়, এভাবে ক্ষমতায় ছিল। তখন দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। ঋণখেলাপি সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করে অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে। তোষামোদি, খোশামোদি, চাটুকারের দল সৃষ্টি করা হয়েছিল।
বাকশাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। বাঙালির বিজয় তারা মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হলেও একাত্তরের পরাজিত শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী এবং মুক্তিযুদ্ধে যেসব দেশ পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল তাদেরও ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক প্লাটফরমে নিয়ে এসে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন। অনেকে তাকে বাকশাল বলতেন। এর মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন। ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে ১৯টি জেলার পরিবর্তে সকল মহকুমাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জেলা গভর্নর পদও সৃষ্টি করেছিলেন।
তিনি বলেন, ধাপে ধাপে যখন দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই বাঙালির জীবনে নেমে আসে ১৫ আগস্ট। ওইদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যাতে ভবিষ্যতে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য শিশু রাসেলসহ সবাইকে হত্যা করা হয়। মাত্র ১৫ দিন আগে আমরা দুবোন বিদেশে যাওয়ায় আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৬টি বছর আমাদের দেশে আসতে দেয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, মার্শাল অর্ডিন্যান্স দিয়ে এবং প্রতিরাতে কারফিউ দিয়ে যারা দেশ চালায় সেখানে গণতান্ত্রিক ধারা থাকে কীভাবে? সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ১৯টি ক্যু’র মাধ্যমে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার ও সৈন্যকে হত্যা করা হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছে তারা। দেশের মানুষের ভোটের ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ২১টি বছর ধরে তারা এভাবে দেশ চালিয়েছে। দেশের কোনো উন্নয়ন তারা করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। জনগণ তখন সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল ভোগ করে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করেছে বলেই দেশ এখন অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এদেশের যা কিছু অর্জন, তা সবই এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। তাই সারাদেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই যে দেশের মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নতি করতে পারে তা আজ প্রমাণিত হয়েছে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে, ক্ষমতা ছাড়া অনেকের (বিএনপি-জামাত) অস্তিত্বও টিকে থাকে না। দেশকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক পথকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Category:

হাঁটছেন, কথা বলছেন স্বাভাবিক এখন চিকিৎসকের ফলোআপে

Posted on by 0 comment

4-9-2019 6-12-02 PMআরিফ সোহেল: হেঁটে হেঁটে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়িয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। কারও সাহায্য ছাড়াই হেঁটে গিয়ে চড়লেন গাড়িতে। আগমুহূর্তে স্বভাবসিদ্ধ নেতার মতো আবার হাত নাড়লেন। এমন এক আবেগঘন পরিবেশেই ওবায়দুল কাদের দীর্ঘ এক মাস পার করে হাসপাতালের চৌহদ্দির বাইরে গেলেন। এ-সময় সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেসা। ছিল আওয়ামী লীগের অসংখ্য স্থানীয় এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নেতাকর্মীরা।
গত ৫ এপ্রিল বিকাল ঠিক সোয়া ৩টায় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল ছেড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আরও কিছুদিন তিনি সেখানে অবস্থান করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ সূর্যফোটা ভোরে হঠাৎ করেই শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের। সময়ক্ষেপণ না করে তাকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। প্রথমে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা বলেছেনÑ ‘ঠিক মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি বেঁচে এসেছেন।’ এনজিওগ্রামে হার্টে ৩টি ব্লক ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎকসক দেবি প্রসাদ শেঠিকে ডেকে পাঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার পরামর্শক্রমে ৪ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামির নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়েছে গত ২০ মার্চ। প্রায় সাত দিন আইসিইউ’তে ছিলেন এই জনপ্রিয় নেতা। ২৬ মার্চ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।
৩ এপ্রিল ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. ফিলিপ কোহ খোলামেলা প্রথম দফা কথা বলেছিলেন। এ-সময় বোর্ডের অন্য সদস্যরাও তার সঙ্গে ছিলেন। ডা. আবু নাসার রিজভী বোর্ডের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদেরের সব প্যারামিটারসগুলো দিন দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে। উনার কিডনি এখন খুব স্ট্যাবল আছে। ইনফেকশন অনেক কমে গেছে। ওবায়দুল কাদেরের ব্লাড টোন এখন ১২ হাজারে চলে এসেছে, ইউরিন আউটপুটও ভালো আছে। হার্ট কন্ডিশন, প্রেসার এবং হার্টবিট খুব ভালো আছে। মেডিকেল বোর্ড গত ৪ এপ্রিল ওবায়দুল কাদেরের গায়ে যে আর্টিফিসিয়াল ডিভাইসগুলো আছে সেগুলো খুলে ফেলে।
এর আগে ১ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি জানিয়েছিলেন, সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কেবিনে তিনি ভালোই আছেন। ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। কথা বলছেন। তার রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসও বেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কথা বলছেন। হালকা হাঁটাচলা করছেন। তাকে পাশে থেকে ছায়া দিচ্ছেন সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেসা। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এবং নিওরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী ও মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি তার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। সেতুমন্ত্রীকে আপাতত নিয়মিত চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে তার জন্য একটি বাসা ভাড়া করা হয়েছে। সেখানে থেকে তিনি ফলোআপ সেবা নেবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী-জনপ্রিয় নেতা উজ্জীবনী প্রাণশক্তিতে জেগে উঠছেন। বাংলাদেশের অসংখ্য গুণগ্রাহী তার জন্য অধীর অপেক্ষায়। অপেক্ষায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও।

Category:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অভিনন্দনপত্র

2-6-2019 8-22-43 PMগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের-চেতনাদৃপ্ত রাষ্ট্রনায়ক : দেশরতœ শেখ হাসিনা

আজ আমাদের গর্বের দিন। যে ঐতিহাসিক উদ্যানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে মুক্তির শপথ নিয়েছিল বাংলার মুক্তিকামী মানুষÑ সেই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানাই আমাদের প্রাণপ্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে। মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে আপনি কতবার পেয়েছেন জীবনের জয়গান। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আপনি বারবার উড়িয়েছেন সৃষ্টির পতাকা। উত্তাল সাগরে প্রগাঢ় অন্ধকারে বাঙালির বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে অভিবাদন। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে আপনি সেই উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা আজ বিশে^র বিস্ময়। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ দেশ নির্মাণের ব্রত নিয়েÑ সতর্ক প্রহরীর মতো আপনি জেগে থাকেন বলে বাংলাদেশ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নবাহু আপনি এই দেশমাতৃকাকে তার আপন সত্তায় ফিরিয়ে এনেছেন। আপনি বলেছিলেন, এই মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেÑ আপনি এও বলেছিলেন, এই মাটিতে বিচার হবে বঙ্গবন্ধুর ঘৃণিত খুনিদের। কথা দিয়ে কথা রাখার রাজনৈতিক সংস্কৃতি আপনি ফিরিয়ে এনেছেন। আপনার আলোকসঞ্চারী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সৎ সাহসী নেতৃত্বের বিভায় উদ্ভাসিত আজ বাংলাদেশ। জনগণ তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন তারা স্বাধীনতাবিরোধী-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবিনাশীÑ চিরভাস্বর।
আপনার প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের গুণে কেবল জল-স্থল নয় অন্তরিক্ষেও আজ আমাদের গৌরবময় বিচরণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে আজ আমরা অহংকার বোধ করি। মৃত্যুর মুখে পতিত দশ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আপনি আজ ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত। যতদূর প্রসারিত বঙ্গোপসাগর তার চেয়েও বড় স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশকে আরও একটি নতুন শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আপনার গৃহীত ডেল্টা প্ল্যান নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ^াসী করেছে। আজ আপনি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, আপনার উচ্চতা আজ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ^ নেতৃত্বের কাতারে। বিশ^ শান্তির জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাবিত আপনার শান্তি-মডেল আগামী প্রজন্মের জন্যেও এই সত্যকে তুলে ধরেÑ ‘তোমার জন্য এনেছি আমার আজন্ম সূর্যোদয়’।
আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল দিন ফিরে পেয়েছি। হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহনকারী একটি জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য উন্মুখÑ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে বঙ্গবন্ধু এনে দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি উজ্জ্বল পতাকা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল সেই গৌরবের কালÑ একটি জাতি আঁতুড়ঘরে পথ হারিয়ে ফেলেছিল।
আপনি সেই দেশ, সেই জাতিকে স্পর্ধিত সাহস, আত্মবিশ^াস ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিশে^র বুকে আমরা আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। বাঙালির এই নবযাত্রায়, সীমার মাঝে অসীমের আহ্বানে আপনার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রায় ১৭ কোটি প্রাণ সমস্বরে এই সত্য বাণী উচ্চারণ করবÑ ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
আপনারই হাত ধরে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব।

প্রিয় নেত্রী,
আপনার জয়, বাঙালির জয়।
আপনার কল্যাণ হোক, মঙ্গল হোক। দীর্ঘ হোক আপনার কর্মময় জীবন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর পক্ষে
ওবায়দুল কাদের এমপি
সাধারণ সম্পাদক

Category:

জনগণকে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করব

2-6-2019 8-20-31 PM

সোহরাওয়ার্দীর বিজয় মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দলমত নির্বিশেষে পুরো দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আসুন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ আমাদের প্রতি যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও জনগণের সেই আস্থা-বিশ্বাসের মর্যাদা আমরা রক্ষা করব। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব।
টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের জনগণ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, সেটি রক্ষা করে জনগণের সেবা করা আরও কঠিন। সেই কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে। দেশের জনগণ রায় দিয়েছে শান্তি ও উন্নয়নের স্বপক্ষে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার জন্য রায় দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয়োৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ জনগণ ভোট দিয়েছে, তাদের সেই ভোটের সম্মান যাতে থাকে সেটি অবশ্যই আমরা মাথায় রেখে সার্বিকভাবে সুষম উন্নয়ন করে যাব। নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদের এটা মনে রাখতে হবে। দেশের মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ করা আমাদের কর্তব্য। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, সেটি রক্ষা করে জনগণের জন্য কাজ করা আরও কঠিন। সেই কঠিন কাজের দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটের সম্মান যেন থাকে সেটা আমাদের নির্বাচিতদের মনে রাখতে হবে। আমরা সুষম উন্নয়ন করে যাব, জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাব। আমাদের ওয়াদা, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত করব। জনগণকে দেয়া আমাদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তরুণদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দেশ গড়তে জনগণ রায় দিয়েছে। মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশ গড়ে তোলার রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি সেই অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের মানুষ। দেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে প্রয়োজনে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সেই মর্যাদা আমরা রক্ষা করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে হলেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই।
এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে এ বিজয়ের সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের বিজয়োৎবের বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, তাঁতি লীগের খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অভিনন্দনপত্রটি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন। পুরো সমাবেশ পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এ সময় মূলমঞ্চে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।
বেলা আড়াইটায় বিজয় উৎসবের সময় নির্ধারণ থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই উৎসবস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে জনস্রোত নামে। বেলা ১২টার মধ্যেই জনসভাস্থলসহ চারদিক লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। রাজধানীর প্রতিটি অলিগলি থেকে বাদ্য-বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে বিজয়োৎসবে মাতোয়ারা হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক আসতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এবং কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ সেøাগানের সঙ্গে ঢাকঢোলের বাদ্যে মুখর হয়ে আসা লাখো মানুষকে দুপুরে গানে গানে মাতিয়ে রাখেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা।
বেলা আড়াইটায় বিজয় সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই পুরো উদ্যান ছাপিয়ে জনস্রোত শাহবাগ থেকে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মাজার, কাঁটাবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ আশপাশে এলাকাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে চতুর্দিক প্রায় এক বর্গকিলোমিটার জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে যেমন গণজোয়ার উঠেছিল তেমনি গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিজয়োৎসবের সমাবেশে।
বেলা ৩টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে এবং পেছনের ব্যানারে সাজানো দলের এবারের ইশতেহারের মলাটের রঙে সুদৃশ্য ও নান্দনিক সুবিশাল মঞ্চে উপস্থিত হন তখন ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক ঘটনার সাক্ষী ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বৈঠাসহ ছোট-বড় ৪০টির বেশি নৌকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছিল সমাবেশের মাঠ।
নির্বাচনের আগে এবং বিজয়ের পরে চার শিল্পী যখন গানটি শুরু করেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ তখন জনসমুদ্র থেকেও ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা, জয় বাংলা, জিতল আবার নৌকা’ গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালে পুরো উদ্যান প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক গানের তালে তালে নেচে-গেয়ে পুরো সমাবেশকে মাতিয়ে তোলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনসহ পুলিশ-বিজিবি, আনসারসহ সকল সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ভোটার ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নিশ্চয়ই একটা কথা উপলব্ধি করেছে, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সব সময় বিজয় অর্জন করে, এ নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সকল রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে অর্থবহ করায় ধন্যবাদ জানান। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ব্যাপার। যখন দায়িত্ব পেয়েছি জনগণের সেবা করার, দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য আমাদের সরকার সুষমভাবে কাজ করে যাবে। প্রত্যেকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আর দেশের প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সকলের তরে, সকলের জন্য আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, বিপুল বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। তাই বর্তমান সরকার সবার জন্য কাজ করবে। সেখানে কোনো দলমত দেখা হবে না। যারা ভোট দিয়েছেন বা যারা ভোট দেননি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাইÑ আওয়ামী লীগ সবার জন্য কাজ করবে। উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। মা-বোন, নারীদের, তরুণ প্রজন্মকে যারা প্রথম ভোট দিয়েছে, কামার, কুমার, জেলে, কৃষক, শ্রমিক, মজুর সর্বস্তরের মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আপনারা নৌকা মার্কার পক্ষে রায় দিয়ে আমাদের সুযোগ দিয়েছেন আপনাদের সেবার করার। জনগণের এ রায় অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রার রায়। আমরা জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। যে কোনো ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
দেশকে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসা শেখ হাসিনা বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমাদের এটাই মূল লক্ষ্য যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। যেখানে দেশের সকল মানুষের সহযোগিতা চাই। ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানাই, আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা একটি উন্নত ও সুন্দর সমাজ পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যেমন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবেই আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্য যা যা করার দরকার করব। প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। তৃণমূলে মানুষের জীবন উন্নত করব। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।
পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ছয় বছর নিজের নির্বাসিত জীবনযাপন এবং দেশে ফিরে মানুষের গণতান্ত্রিক ও ভোট-ভাতের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে বাংলাদেশ তা উদযাপন করবে ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ সেটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশ থেকে যেমন দুর্নীতি দূর করতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ করতে হবে, যেখানে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এদেশের মাটিতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদকের কোনো স্থান হবে না।
দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি এদেশের মানুষের জন্য। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও এদেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছি। আমার জীবনে ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়ার নেই। কী পেলাম বা না পেলাম সেটি বড় কথা নয়, দেশের মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা। তাই বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। সবাই চিকিৎসা পাবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্য। দেশের জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করব। আরও আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
কবি সুকান্তের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। বলেন, ‘তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

Category:

নির্বাচনে অগ্নিসন্ত্রাসীদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে

1-15-2019 6-48-33 PM

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: সদ্যসমাপ্ত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণ নিজেদেরই খুঁজে বের করতে বিএনপি-জামাত জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণ তাদেরই (বিএনপি) খুঁজে বের করতে হবে। যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনে জয়ী হবে? যাদের নীতি ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা, তারা জেতার আশা করেই বা কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষ কখনও এটা মেনে নেয়নি, নেবেও না। এ কারণেই জনগণ ওদের ভোট দেয়নি।
নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিশাল পরাজয়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সব আন্দোলনেই ব্যর্থ হয়েছে। আর আন্দোলনে যারা ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা কখনই জয়ী হতে পারে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত। বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনও এই খুনি, অগ্নিসন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য দেশের মানুষকে আরও সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের চেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনেই সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। ওই নির্বাচনে কোথাও ৯০ ভাগ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। সে নির্বাচনেও জনগণ নৌকাকেই বেছে নিয়েছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করে আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা সবার মনে রাখা উচিত।
গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচনে তারা (বিএনপি) নমিনেশন দিল কাকে? যেখানে উচ্চ আদালত থেকে একটি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জনই নমিনেশন পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের কখনও ভোট দেবে না; ভোট তারা দিতে চায়ও না, দেয়নিও। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং, অগ্নিসন্ত্রাসে মানুষ হত্যা করাই যাদের নীতি তারা জেতার আশা কীভাবে করে? বাংলাদেশের মানুষ কখনই তা মেনে নেয়নি। মেনে নেবে না। নিতে পারে না।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির ব্যর্থতার কারণ কী? আমি বলব, সেটা বিএনপিকেই ভেবে দেখতে হবে। নির্বাচন বানচাল ও সরকার উৎখাত আন্দোলনের নামে তারা সন্ত্রাস, নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তারা ৫০০ মানুষকে হত্যা করেছে। তাদের হাত থেকে গাছপালাও রক্ষা পায়নি। তাদের সেই অগ্নিসন্ত্রাস আর এত অপকর্মের পরও তারা কীভাবে মানুষের ভোট পাবে?
তিনি বলেন, তাদের আন্দোলনই ছিল মানুষ খুন করা। এই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করাটা দেশের মানুষ পছন্দ করেনি। তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আর তারা যে আন্দোলনের নামে অবরোধ ডেকেছিল সেটা এখনও তুলে নেয়নি। অর্থাৎ সেটা এখনও আছে। তবে দেশের মানুষই সেটাকে গ্রাহ্য করেনি, করছে না।
বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েও কিন্তু তারা (বিএনপি-জামাত) সফল হতে পারেনি। কারণ বাংলাদেশের জনগণ তা রুখে দাঁড়িয়েছিল। জনগণ আমাদের পাশে ছিল। সেই নির্বাচনে আবার আমরা সরকার গঠন করি। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোটের আন্দোলন কি ছিল আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, এটা কখনই মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তখন জনগণই তাদের প্রতিরোধ করেছিল। যার ফলে সরকার উৎখাতের ঘোষণা, তাদের আন্দোলন, তাদের ধর্মঘট আজ পর্যন্ত কিন্তু প্রত্যাহার করা হয়নি। সেটাও অব্যাহত আছে। কিন্তু জনগণ সেটাকে আর কোনো ধর্তব্যেই নেয়নি। এভাবে তাদের সকল আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আর আন্দোলন যাদের ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা কখনও জয়ী হতে পারে না, এটাই বাস্তবতা। আর সেটা প্রমাণ হয়েছে ২০১৮ সালের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বিএনপির ব্যর্থতার কারণটা কি?
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী কেউ বাদ যায়নি তাদের সেই অগ্নিসন্ত্রাস থেকে। তাদের এই অপকর্ম থেকে তারা কীভাবে আশা করতে পারে, জনগণ তাদের ভোট দেবে? যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করে। শুধু মানুষ না, তাদের এই রুদ্ররোষ থেকে গাছপালা, পশুপাখিও রেহাই পায়নি। এমন কোনো অপকর্ম নেই তারা করেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে বিএনপি নেত্রী এখন কারাগারে বন্দী। তার পুত্রকে বানিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন! সে (তারেক রহমান) হলো দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি মামলার আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, মানিলন্ডারিং মামলায় যেখানে এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে সেই মামলারও সাজাপ্রাপ্ত আসামি রিফিউজি বিদেশে পালিয়ে আছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির এমন কোনো নেতা তাদের দলে নেই বা দেশের ভেতরে যাকে তারা তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বানাতে পারল না? তারা বানাল একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে।
নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির জন্য বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যও একটি কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নির্বাচনের সময় কী করেছে? প্রার্থী নির্বাচন কীভাবে করেছে? সেটা নিয়ে তো রীতিমতো মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এক আসনে তিন থেকে পাঁচজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনয়ন দেয়ার পরও তারা যত বেশি টাকা দিয়েছে তারা দলের প্রতীক পেয়েছে। সকালে হয়তো একজন এক পরিমাণ টাকা দিল, তাকে মনোনয়ন দিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল তার থেকে আরেকটু কেউ বেশি টাকা দিয়েছে, তখন আবার তাকে প্রতীক দেয়া হলো। দুপুর গড়াতে পারল না বিকেলে এসে দেখা গেল আরেকজন আরও বেশি টাকা দিল, তখন আবার আরেকটা চিঠি পেল। তখন বলা হলো, আগের সব বাদ, ইনি আছেন। এই হলো বিএনপির নমিনেশনের ট্রেড বা বিজনেস। মনে হলো নমিনেশন তারা অকশনে দিয়েছিল।
উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরী নমিনেশন পেলেন না। যে যত টাকা দিতে পারল সে নমিনেশন পেল। ইনাম নমিনেশন পেলে জেতার হয়তো একটা সম্ভাবনা ছিল। ধামরাই যেখানে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান, আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম, জিয়াউর রহমান নমিনেশন পাবে, নমিনেশন পেলে সে তো জিতবেই। কিন্তু তাকে না দিয়ে যে বেশি টাকা দিতে পারল তাকে নমিনেশন দিল। ঠিক সেভাবে নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার। তাকে মনোনয়ন দিল না। সেখানে যে টাকা সাপ্লাই দিতে পারল তাকে তারা নমিনেশন দিয়েছে। চট্টগ্রামে মোর্শেদ খান, তাকে নমিনেশন দিল না, যে ভালো টাকা দিতে পারল সে পেল নমিনেশন।
শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, যখন সিট (নির্বাচনী আসন) অকশনে দেয়া হয় তখন তারা নির্বাচনে জেতে কীভাবে? আমি ছোট ছোট কয়েকটা উদাহরণ দিলাম। কারণ এদের মধ্যে অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের দুঃখের কথা নিজেরাই বলে গেছেন। এর মধ্যে একজন আমাদের দলে যোগদানও করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এসব তথ্য একেবারে যারা বঞ্চিত তাদের মুখ থেকেই পেয়েছি। আরেকটা কাহিনি শুনলাম, কেউ যদি ভাইয়ার (তারেক রহমান) সঙ্গে কথা বলতে চায় তখন ভাইয়া না-কি আবার খালি ফোন নাম্বার বদলায়। সেজন্য তার সঙ্গে কথা বলতে হলে আবার পাউন্ডে সেখানে পেমেন্ট করতে হবে। আমাদের কোনো এক দেশের অ্যাম্বাসিতে একজন প্রার্থী গিয়ে হাজির। সেখানে গিয়ে বলছে, সে নমিনেশন নিয়ে এসেছে, নমিনেশন সাবমিট করবে। সেখানে অ্যাম্বাসি বলেছে, আমরা তো নমিনেশন নিতে পারি না, রিটার্নিং অফিসার সে দেবে অথবা আপনি অনলাইনে পাঠাতে পারেন। তখন উনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, আমি লন্ডনে এতগুলি টাকা দিলাম, এত পয়সা দিলাম। আমাকে বলা হলো, এখানে নমিনেশন দেয়া যাবে আর এখন আপনারা বলছেন, দেয়া যাবে না। সে খুব ক্ষোভের চোটে তার দুঃখের কথা বলে কত দিল কি দিল, সব বলে-টলে চলে গেল। যারা নমিনেশন নিয়ে এই ধরনের ট্রেড করেছে বা অকশনে দিয়েছে। তারা কি করে আশা করে তারা জয়ী হবে? কি করে আশা করে?
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ আর ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এই মোট ২৯টা বছর এই দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। অনেক কষ্ট পেয়েছে এদেশের মানুষ। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা জাতির আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। আমরা জাতির পিতার নীতি অনুসরণ করে আমাদের দেশ পরিচালনা করে থাকি। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনে শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালাও অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিয়েছি বলেই বাংলাদেশ এত দ্রুত উন্নয়ন করতে পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, মাত্র ১০ বছরের মধ্যে যদি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা উন্নত করতে পারি, তাহলে অতীতে যারা এই ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কেন পারে নাই? এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় প্রশ্ন। তার কারণ একটাই। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেনি। যেখানে ’৭৫-র ১৫ আগস্ট তারা জাতির পিতাকে হত্যা করে এই বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অর্জন মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তাদের চক্রান্ত তাদের ষড়যন্ত্রের ফলেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশ অগ্রসর হতে পারেনি। যখন জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এদেশের উন্নতি হয়েছে। মানুষের উন্নতি হয়েছে। এই উন্নয়নটা একেবারে গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বড় সার্থকতা। যে কারণে আজকে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। যার ফলে আমরা আবার দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এবং ভোটারসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

Category:

‘গণরায়ের সম্মান আমাদের দিতে হবে’

1-15-2019 5-50-12 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাদের (নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের) সব কাজ বুঝে অগ্রসর হতে হবে। পুরনোদের সফলতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে আমি কঠোর নজরদারিতে রাখব। কে কী করে আমি তা দেখতে চাই। কারও বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা কর্তব্যে অবহেলা সহ্য করা হবে না।
গত ৮ জানুয়ারি রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুনদের মন্ত্রী বানিয়েছিÑ এর মানে এই নয় যে পুরনোরা ব্যর্থ ছিলেন। পুরনোরা সফল ছিল বলেই দেশ আজ অনেক দূর এগিয়েছে। নতুনদের বানিয়েছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার জন্য। তিনি বলেন, নতুনদের জায়গা (মন্ত্রিসভা) দেওয়া হয়েছে এ জন্য যে, যাতে তারা সব কাজ বুঝে এবং পরবর্তীতে কাজ করতে পারে। আর পুরনোদের সফলতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম করে রেখে যেতে চাই। আমার পরিষ্কার কথা সে জন্য আমরা পরিবর্তন এনেছি। আমার বয়স ৭০-এর ওপরে হয়ে গেছে, কখন মরে যাই তার ঠিক নেই। তাই আমরা নতুন প্রজন্মের ওপর দায়িত্ব দিয়ে দেখতে চাই তারা কেমন পারে। যদিও নিউ জেনারেশনের (নতুন প্রজন্ম) কারোরই বয়স এখন কম নয়, কাজেই তাদের সবাইকে বিষয়গুলো জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং তারপর কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রথমে নবনির্বাচিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপদেষ্টা পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাম্প্রতিক কর্মকা- সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এখন কূটনীতিকদের কাছে অভিযোগ করছে। নির্বাচনের দিন অনেক কূটনীতিক সিলেট ও ঢাকার অনেক কেন্দ্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি তাদের বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচনের ফলাফল এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল প্রায় এক। কেননা ভোটাররা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে প্রথমে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য জানা ও বোঝার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সবাইকে বলবÑ আগে জানতে হবে, বুঝতে হবে, তারপর কাজ করতে হবে এবং কথা বলতে হবে। কারণ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করে রেখে যেতে চাই। তারপর আপনারা দায়িত্ব কমিয়ে নিতে পারবেন।
নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে নির্বাচন করে টানা তৃতীয় দফা সরকার গঠন করলামÑ টানা ১০ বছর একসঙ্গে মন্ত্রী ছিলেন, তাদের জায়গায় নতুনদের আনার চেষ্টা করেছি। একই সঙ্গে যেসব জেলার কখনও মন্ত্রী হয়নি সেসব এলাকায় মন্ত্রী করার চেষ্টা করেছি। স্বাভাবিকভাবে মানুষ ধারণা করে এলাকায় মন্ত্রী দিলে সে এলাকার উন্নয়ন হয়। যদিও আমরা সমানভাবে সারাদেশে উন্নয়ন করছি। তিনি বলেন, তরুণ ভোটার ও মহিলাদের প্রচুর সমর্থন পেয়েছি। আমরা যখন সার্ভে করেছি তখন দেখেছি তরুণ ভোটার ও মহিলাদের ভোটের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে। তখন আমরা ভেবেছি তাদের কীভাবে আকর্ষণ করা যায়। কী কাজ করলে তারা ভোট দিবে সে চিন্তা থেকেই আমরা এভাবে মন্ত্রিসভা সাজিয়েছি। নির্বাচন যদি অঙ্কের মতো করে করা যায় তাহলে হার-জিতের বিষয়টা বোঝা যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আবার সেই যুদ্ধাপরাধী, অগ্নিসন্ত্রাসীরা ক্ষমতায় আসবে কি না তা সিদ্ধান্তের বিষয় ছিল। এইবার নির্বাচনী প্রচারে আমি যেটা দেখেছি তা হলোÑ সর্বশ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নৌকার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ, নৌকার গণজোয়ার। সিডিউল ছাড়াও আমি জনসভা করেছি। নির্বাচনের আগে ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে বক্তব্য শুনেছি তা হলো নৌকার প্রতি আগ্রহ। তারা চেয়েছে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসুক।
বিএনপির এমন পরাজয়ের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেসব আসনে তারা জিতবে সেসব আসনে তারা মনোনয়ন দেয়নি। বহু আসন ছিল যেখানে যোগ্য লোক ছিল তাকে মনোনয়নই দেওয়া হয়নি। তারা টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়ে যোগ্য লোকটাকে সরিয়ে দিয়েছে। শুনেছি মালয়েশিয়া থেকে দুজন লোক এসে টাকা দিয়ে মনোনয়ন নিয়ে নিয়েছে। নিজেদের দোষেই তারা হেরেছে। অন্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য শুধু করেনি, মনোনয়ন তারা অকশনে দিয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, একসময় বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যেত না, ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করতে দেওয়া হতো না। আজ আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, জাতির পিতা হত্যার বিচার করেছি। রাজনৈতিকভাবে আমাদের সম্পূর্ণভাবে উল্টোভাবে চালানো হচ্ছিল। সেখান থেকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে পুনরায় পরিচালিত করছি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এদের আর রাজনীতিতে ঠাঁই হওয়া উচিত না। এদের আর ক্ষমতায় আসা উচিত না। এরা ক্ষমতায় এলে দেশ ধ্বংস করে মানুষের ক্ষতি করত। বিএনপি-জামাত যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারত তাহলে তারা গণহত্যা ঘটিয়ে দিত। পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালে যা করেছিল, তারা তাই করত। তারা গণহত্যা শুরু করত, এটাই বাস্তবতা।
এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী দিনগুলোর ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার জনগণ এটা বুঝতে পেরেছে বলেই আমাদের ভোট দিয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে দিত না এবং শত শত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা চাকরি হারাতেন।
জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের শাসনামলে যে পরিমাণ জ্বালাও পোড়াও হয়েছে, আগুন সন্ত্রাস হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ হয়েছেÑ এরপর আর সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের ভোট দিবে? তাই মানুষ বিএনপি নেতাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মানুষ তাদের বিশ্বাস করেনি। মানুষের মধ্যে আরেকটা শঙ্কা ছিল তারা বিজয়ী হলে কে হবে তাদের প্রধানমন্ত্রী। আবার একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে করা হলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এসব নিয়ে তাদের ভোটাররা শঙ্কায় ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আশঙ্কা যাই হোক তারা ক্ষমতায় আসেনি। ক্ষমতায় আসলে তারা গণহত্যা শুরু করে দিত। সে জায়গা থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। কারণ ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে তারা কী পরিমাণ রেপ (ধর্ষণ) করেছিল তার হিসাব নেই। এবার এলেও তাই করত। আওয়ামী লীগের জয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সিডিউলের বহু আগেই আমি জরিপ চালিয়ে দেখিয়েছি বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কম। এরপর আমরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা দিয়ে জরিপ চালিয়ে এবং নানা সূত্রের রিপোর্ট দেখে প্রার্থী দিয়েছি। যে কারণে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছে। জনগণের গণরায়ের সম্মান আমাদের দিতে হবে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবই ইনশা আল্লাহ।

Category:

রাজধানীতে গণসংযোগ : নৌকায় ভোট দিন

PMসরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগে ঢাকা মহানগরীর একাধিক স্থানে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণসহ নৌকা মার্কার পক্ষে জোয়ার তুলেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। জনসংযোগকালে নেতারা ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন’ শিরোনামে লিফলেট ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করেন। নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির দেওয়া সাত-দফা দাবিকে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন।
গত ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে গণসংযোগের উদ্বোধন এবং শান্তিনগর কাঁচাবাজারে গণসংযোগকালে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যারা আন্দোলনে রাজপথে নামবে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে। সেখানে যদি শয়তানও থাকে তাদের সঙ্গেও ঐক্য হবে’ বিএনপির জনসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, শয়তানের সঙ্গে জোট করে তারাই যারা নিজেরাই শয়তান আর বিএনপির সাত-দফা দাবির কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী। কাজেই এসব অবাস্তব দাবি এই সময়ে, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি, এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিতে পারত না। অসংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারে না।
বিএনপি-জামাতের সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশে আবারও নাশকতা ও সহিংসতা করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তেমনি জনগণকে সঙ্গে নিয়েও আমরা তাদের প্রতিহত করব।
একই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপির নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ওয়ারী থানার ৩টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, এসএম কামাল হোসেন, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনু চৌধুরী প্রমুখ। এই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্য নির্বাচনী প্রচার টিম রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ হোসেন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সাত্তার, ড. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের গণসংযোগ কর্মসূচি ২ অক্টোবর রাজধানীর রাসেল স্কোয়ার, পল্টনের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ কয়েকটি এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রাসেল স্কোয়ারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি আবার নাশকতা করে, ২০১৪ সালের মতো বোমা-সন্ত্রাস করে অথবা সহিংসতার আগুন ছড়ায়, এর জন্য আমরা জনগণকে সতর্ক করে দেব যে দেশে এখন শান্তি আছে। বিএনপি এই শান্তিকে নষ্ট করতে চায়, পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ নেই। বিএনপি এখন আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে সেজন্য আমরা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেব, সতর্ক করিয়ে দেব। গণসংযোগের সময় সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ।
সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেটে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্য সবাই প্রস্তুত। বিএনপিও প্রস্তুত। কিন্তু এবার ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। এবার সারাদেশে নৌকার জোয়ার। সেই জোয়ার থামানোর জন্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে বিএনপি। সেখানেও যদি ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রতিদিন বিএনপি নেতারা আবল-তাবল বকছেন।  স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এমপির সভাপতিত্বে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় মহানগর নেতারা।
৫ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচির গাবতলীতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়নে মানুষ সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন করছে তা গত ১০০ বছরেও কেউ দেখেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হবে না। এ কারণে দেশের মানুষ বিএনপিকে চায় না। ধানের শীষ এখন সাপের বিষ।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি প্রমুখ। এদিকে রাজধানীর খিলগাঁওতে দলের পক্ষে গণসংযোগ করেন ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় স্থানীয় এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে গোপনে নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি আন্দোলন নয়, বোমা-সন্ত্রাস ও সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এসব করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। নাশকতা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট করেছে বিএনপি। এর আগে মানবিক মূল্যবোধ ছিল, খালেদা জিয়া কোনো বিপদে পড়লে চলে যেতেন শেখ হাসিনার কাছে। কুমিল্লার হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে দেখতে গিয়েছেন। খালেদার সন্তান মারা যাওয়ায় দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আচরণ করেছেন দেশবাসী তা জানে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিক টিম ৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ চালিয়ে নৌকায় ভোট চেয়ে নগরবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন। বিকেলে ইস্কাটন রোডে রমনা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় নেত্রী মারুফা আক্তার পপিসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং দোকানে দোকানে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
৯ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, রায় নিয়ে বিএনপি সহিংসতা, নাশকতার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামপুরে দলের নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের এসব নির্দেশনা দেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনগণের মাঝে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন তিনি। এ সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

Category:

ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে সাধুবাদ জানালেও অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা হলে তা মোকাবেলায় চরম ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেন, এখানে খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিবাদ, জাতির পিতার খুনি, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নরা মিলে ঐক্য করেছে। এখানে স্বার্থ ছাড়া তো রাজনীতি নেই। সবাই মিলে এক জায়গায় হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে দেখেন সেটাই বিষয়। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে। নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষমতা সরকার ও আওয়ামী লীগের রয়েছে। খুনি, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসীরা এক হয়েছে। এখানে রাজনীতি কোথায়? আমি তো রাজনীতিটা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি দেখছি, কয়েকটা স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে।
২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার পুনর্বার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ বেঁচে আছি বাংলাদেশের মানুষকে আর আন্দোলনের নামে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার হতে দেব না। এ ধরনের ঘটনা যদি কেউ করার চেষ্টা করে তা মোকাবেলায় যা যা করার প্রয়োজন হবে তার সবই করা হবে। অতীতের মতো দেশের জনগণই যে কোনো ধরনের অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতাকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে, রুখে দাঁড়াবে।
গত ২২ অক্টোবর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আগামী নির্বাচনের অঙ্গীকার কী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেটা প্রমাণ করার দরকার ছিল যে আমরা উন্নয়ন করতে পারি, সেটা আমরা করেছি। আমরা দিনবদল করতে পেরেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত। আমার লক্ষ্য, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেটুকু বাকি আছে আরেকবার ক্ষমতায় এলে সেটুকু আমরা করতে পারব এ বিশ্বাস আমার আছে। অন্তত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটুকু করতে পারব, এ বিশ্বাস আমার আছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরেফিরে আগামী নির্বাচন, বিরোধী জোটের ঐক্য, নির্বাচনকালীন সরকারসহ রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাস্যোজ্জ্বলভাবেই সব উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও তার ওপর আস্থা রাখবে বলেও দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী এমপি উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, দলের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপিসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে প্রস্তুত সরকার ও আওয়ামী লীগ : নির্বাচনের প্রাক্কালে নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চিরাচরিত বিষয়। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছি। তার কারণ জনগণই আমাদের কাছে মূল শক্তি। জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আমার আছে। তাই আমার বিশ্বাস, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হব। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনভাবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন না থাকে। আর ধারাবাহিকতা না থাকলে তো কিছু লোকের সুবিধা হবে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যে সময় তারা নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা দেবে, ঠিক সে-সময়েই নির্বাচন হবে। আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের কেউ চেষ্টা করলে তা মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। কেউ ফের অগ্নিসন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করলে দেশের জনগণ আবারও তাদের রুখে দেবে। দেশের জনগণকে আমি আহ্বান জানাব, এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান।
স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার সকলের : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। রাজনীতিতে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলারও স্বাধীনতা আছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে, সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা) সেখানে যুক্ত হয়েছেন, তারা কেমন? দেশের মেয়েদের প্রতি কেমন মনোভাব সেটাও সবাই দেখেছেন। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাদ-িত, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারী, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের লালন-পালন ও পুরস্কৃতকারীরা এক হয়েছেন। ড. কামাল হোসেনরা তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। অনেকেই (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের) আওয়ামী লীগে ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগ থেকে চলে গিয়ে জোট করেছে আওয়ামী লীগেরই বিরুদ্ধে। এখন তো ইমার্জেন্সি নেই, মার্শাল ল’ নেই। গণতান্ত্রিক ধারায় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। রাজনীতিকে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গিÑ সেটাও দেখতে হবে। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না। বরং ভালোই হয়েছে সব ধরনের লোক মিলেই একটা জোট হয়েছে। বাংলাদেশ মানুষ এটাকে কীভাবে দেখছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে করুন। এখানে অসুবিধার তো কিছু নেই।
ঐক্যফ্রন্টের মোট দাবি কত দফায় দাঁড়ায় দেখি : ঐক্যফ্রন্টের সাত-দফা দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে তারা পাঁচ-দফা দাবি দিল। পরে আবার হলো সাত-দফা। আগামী নির্বাচনের আগে তাদের দাবি মোট কত দফায় দাঁড়ায় তা আগে দেখি। আর সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা কোনো চিঠি পাইনি। ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন কার সঙ্গে ঐক্য করেছেন? দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের দ-প্রাপ্ত আসামি, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মানিলন্ডারিং মামলার দ-িত আসামি যে দলটির নেতৃত্ব দেয় (বিএনপি), সেই দলের নেতৃত্ব মেনে তিনি ঐক্য করেছেন। যিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার নামে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়েছিলেন, তিনিও (ব্যারিস্টার মইনুল) এই ঐক্যে রয়েছে। ড. কামাল হোসেন যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদর-আলশামস, যারা (বিএনপি-জামাত) পুড়িয়ে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে এক হয়েছেন। খুনি, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, জঙ্গিগোষ্ঠীদের সঙ্গে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এখানে রাজনীতি কোথায়? এখানে তো রাজনীতি নেই, এটা স্বার্থান্বেষীদের নিয়ে এই ঐক্য। তিনি আরও বলেন, ড. কামাল হোসেন যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই কামাল হোসেনই ’৭২-এর সংবিধান নিয়ে আপত্তি আছে বলে জানিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন নিজেকে সংবিধানের প্রণেতা বলেন। তাকে জিজ্ঞেস করেন তো, ’৭২-এর সংবিধান নিয়ে তিনি আপত্তি করেন কি না? তিনি বলেন, মানুষ আমাকে চাইলে ভোট দেবে, না চাইলে দেবে না। আমরা যেটুকু করার ছিল করেছি। দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলাম তা করেছি। তবে দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস রয়েছে। আমার শক্তিও দেশের জনগণ।
মইনুল ইংরেজি খাবার খেতে শিখলেও ব্যবহার শেখেনি : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের একজন নারী সাংবাদিক সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে বার-এট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা ও ভাষা শিখতে পারেন নি। সেই আমলে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া কম কথা না। কিন্তু তিনি গিয়ে শিখলেন ইংরেজদের খাবার খাওয়ার কায়দা। ইংরেজ খাবার ছাড়া তিনি খেতে পারতেন না। তার অবস্থাটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হওয়ার মতো। তিনি ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেন নি, কথা বলা শিখেন নি। এটাই হলো বাস্তবতা, এই হলো সেই লোক।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, একজন নারী সাংবাদিককে তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা অত্যন্ত জঘন্য, বাজে। তার বাচনিক ভঙ্গি, অ্যাটিচিউড সবই খারাপ। তার কাছে মানুষ কী আশা করবে? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তো তিনি পাকিস্তানের দালালি করেছেন। ইত্তেফাকের সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা। এর জন্যও তিনি কম দায়ী নন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি মোশতাক যে দল করেছিল, সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্যারিস্টার মইনুলের। উনি কিন্তু পরে একটা দলও করেছিলেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি যারা, তাদের নিয়ে তিনি দল করেছিলেন। ইত্তেফাকেও তো মার্ডার করে ভাইকে (বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের যে জমি, সেটা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। তাদের জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে মামলা আছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে দেখেন। তার (ব্যারিস্টার মইনুল) আসলে গুণের শেষ নেই।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বাবা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুসম্পর্কের সুবাদে মইনুল হোসেনের জীবনের অনেক তথ্যই জানেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উনি সেই আমলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। এইটা তো কম কথা না। তিনি ব্যারিস্টারি পাস করে সাহেব হয়ে ফিরলেন। তিনি আর বাংলাদেশি খাবার খেতে পারেন না, তার সাহেবি খাবার দরকার। মানিক কাকা (তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া) আমার মায়ের কাছে এসে আফসোস করে বলেন, ছেলে তো ইংরেজ খাবার ছাড়া কিছু খায় না। সেই যুগে মানিক কাকা ছেলের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি রাখলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে মইনুল হোসেন ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেন নি, অ্যাটিকেট শিখেন নি, কথা বলা শিখেন নি। এসব কথা সবার জানার কথা না। আরও জানি, এখন বলব না, পরে বলব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগের কারণ নেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কোনো পরামর্শ বা আন্তর্জাতিক চাপ নেই উল্লেখ করে বলেছেন, কে সমর্থন করল কী করল না কিংবা বাইরের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে আমি রাজনীতি করি না। আমার রাজনীতি দেশের জন্য, জনগণের জন্য। দেশের জনগণের ভোটের শক্তির ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আমার জোর হচ্ছে, আমার দেশের জনগণ। আর সঠিক সময়েই আগামী নির্বাচন হবে। আমার প্রত্যাশা সব দলই নির্বাচনে আসবে। তবে অসংখ্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে, সেটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আইন নিয়ে ভয় তাদেরই আছে যাদের অপরাধী মন। কারও যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এ-রকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান সরকার এবং দলের নেতা-মন্ত্রীদের নামে মিথ্যা সংবাদের ফাইল প্রস্তুত করে রেখেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করবেনÑ তারাই এই আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন। যারা ন্যায় ও সত্যের পথে রয়েছেন তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ভবিষ্যতে অপরাধ করার মানসিকতাও যাদের নেই তাদেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যতদিন ক্ষমতায় আছি সাংবাদিকদের কোনো ভয় বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আর শয়তানের সঙ্গেও যারা (বিএনপি) জোট করতে চায়, তারা নিজেরা কি তা সবাই জানে। এদেশের মানুষ শয়তানদের কখনও ভোট দেবে না, ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ৩ অক্টোবর বিকেলে গণভবনে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে এই সম্মেলনের বিভিন্ন দিক ও সাফল্যগুলো তুলতে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী এমপি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রায় সোয়া ঘণ্টাব্যাপী দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, আগামী নির্বাচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দেশকে নিয়ে নানা মহলের ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক নানামুখী তৎপরতা এবং দেশকে নিয়ে তার আগামী দিনের পরিকল্পনা ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের অসংখ্য প্রশ্নের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসিমুখে সবগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেন।
আবার যেন ক্ষমতায় আসি বিশ্বনেতাদের প্রত্যাশা : জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের পর আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের কোনো পরামর্শ কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনীতি কিংবা নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতারা তাকে কোনো পরামর্শ দেননি। তবে বিশ্বের বড় বড় দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান যার সঙ্গেই কথা বলেছি, তারা বলেছেন, তারা চান আগামীতেও যেন আমাদের সঙ্গে দেখা হয়। যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আমি যেন পুনরায় ক্ষমতায় আসি। তখন আমি তাদের বলে আসিনি, আপনারা একটু আসেন আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যান। আমি তাদের জবাব একটাই দিয়েছি, দেশের মানুষ যদি ভোট দেয় তবে আছি, না দিলে নাই। ক্ষমতা থাকলে লক্ষ্মী, যায় বালাই। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কী হবে না হবে, তা নিয়েও কোনো কথা হয়নি। বরং আমিই তাদের বলেছি যে, আমাদের দেশে আগে নির্বাচন নিয়ে কী হতো, মিলিটারি ডিক্টেটর থাকতে নির্বাচন বলতে কী হতো। তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের জানিয়েছি আমাদের দেশে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা, নির্বাচনী পরিবেশের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, সেটা আমরাই করেছি। আমাদের সরকারের আমলে ৬ হাজারের ওপরে নির্বাচন হয়েছে, কয়টা নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি? বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা তো সেখানে হস্তক্ষেপ করিনি। তিনি বলেন, সিলেটে আমরা হেরে গেছি সামান্য ভোটে। বিএনপি থাকলে তো সিল মেরেই নিয়ে নিত। আমরা তো সে পথে যাইনি। কাজেই, আমাদের ওপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দেশের উন্নয়ন করি মনের টানে, নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করি না। জনগণের স্বার্থে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আমরা রাজনীতি করি। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। কারণ একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়, দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যায়। পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারীদের নিয়ে এত মায়াকান্না কেন? আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে এবং দেশের মানুষও ভোট দেবে। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে কোন দল আসবে, আর কোন দল আসবে না। নির্বাচনে আসা বা না আসা সেই দলটির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সেই সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না। তবে আমাদের আশা, সব দলই নির্বাচনে আসবে।
এ সময় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার চেষ্টা ছিল, সবাই অংশ নিক। কিন্তু সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে পুড়িয়ে মানুষ মারা হলো। আপনারা যাদের নির্বাচনে চাইছেন, তারা শত শত মানুষকে নিষ্ঠুর কায়দায় পুড়িয়ে মেরেছে। আর যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, এতিমের টাকা পর্যন্ত মেরে খায়, তাদের জন্য এত কান্নাকাটি কেন? তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তাদের পরিবার কেমন আছে, আহত দগ্ধ মানুষগুলো কেমন আছে কেউ কি খোঁজ নিয়েছেন?
এ সময় সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তাদের পরিবার কেমন আছে একটু খোঁজ নিন। অনেক মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন। যাদের কারণে মানুষের এই অবস্থা, তাদের জন্য মায়াকান্নার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ আছে, মামলা আছে। ওই সব অভিযোগ-মামলার সাক্ষী দিতে এফবিআই পর্যন্ত প্রস্তুত রয়েছে। খালেদা জিয়া, তার ছেলে, তার দলের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন, আমাদের উদ্বেগ দেখবে কে? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দুজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে বা যারা ভিকটিমাইজ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে? আর তাদের কীভাবে কম্পোনসেট করবেন। ওই জায়গায় একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। তিনি বলেন, আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। তারপর এটা অনলাইনে ছিল। এটা সকলের সঙ্গে আলোচনাও হয়ে গেছে। এরপর এসে হঠাৎ এত উদ্বিগ্ন হয়ে গেলেন কিসের জন্য? আমার সেটাই প্রশ্ন?
তিনি বলেন, কারও যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এ-রকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেফতার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। আপনারা সাংবাদিকরা যাদের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের জন্য কি করতে পেরেছেন? আর আপনারা এখন উদ্বিগ্ন। এটা নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠককে আমি এমন এমন মানুষ দেখেছি, তারা লেখা তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা আমার বিরুদ্ধে চালাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যত দিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে স্পষ্ট বলব, যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনো অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না; তাদের উদ্বেগ হওয়ার তো কিছু নাই। সেখানে আইনের যেটা দেয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছেÑ তাই দেয়া আছে। সেখানে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের ট্র্যাক করার জন্য। এখন ট্র্যাক করার পর তো বসে থাকা যাবে না। তাকে তো ধরতে হবে। কারণ সে তো আমাদের জন্য বসে থাকবে না। সারাবিশ্ব এটাই করে। তাই উদ্বিগ্ন তারা বেশি হবে, যারা এতদিন ধরে খুব তৈরি-টৈরি হয়ে আছে। নির্বাচনের সিডিউল এলে যারা আমাদের ভালো করে ঘায়েল করার জন্য মিথ্যা ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা ভাবছে যে এ-রকম একটা মিথ্যা নিউজ করব, এই আইন থাকলে তো তা মাঠে মারা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওখানে (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) একটা জিনিসের ল্যাপস (ঘাটতি) আছে। একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিত বলে আমি মনে করি। সেটা হলোÑ যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, যে সাংবাদিক লিখবে বা যে পত্রিকা বা মিডিয়ায় তা প্রকাশ করবে তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতিপূরণ হবে সেটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ইংল্যান্ডে আছে।
সম্প্রতি বিবিসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনারও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্মরণ করে দেখুন, বিবিসি একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিল। পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আর বিবিসির টপ টু বটম সবাইকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আমি যখন বন্দী। আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ করা হলো, পরে সেটা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ওই পত্রিকার কোনো সাজা হলো না। কিন্তু তার সম্মান তো নষ্ট হলো। তাদের তো এই লজ্জা হয় না যে একটা মিথ্যা তথ্য দিল, তাতে সমাজে তার সম্মান নষ্ট হলো। যার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা লেখা হলো তার তো সব গেল। পদ্মাসেতু নিয়ে যারা বড় বড় হেডলাইন লিখেছে, তারা তো এখনও সমাজে বুক উঁচু করে চলছে। কিন্তু পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে যে হেয়প্রতিপন্ন হলো; অসম্মান হলো তাদের কে দেখবে?

Category: