Blog Archives

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ : বর্তমান নেতৃত্বের এক বছর

Posted on by 0 comment

28উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলরদের ভোটে টানা অষ্টমবার সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি এবং প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের এমপি। কার্যনির্বাহী সংসদেও স্থান পায় এক ঝাঁক নতুন মুখ। নতুন নেতৃত্ব গত এক বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা, জেলা কর্মীসভা, জেলা কমিটি অনুমোদন, কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশন, সবগুলো উপ-নির্বাচনে জয়লাভ, জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনসহ সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পালনীয় দিবস ও নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত চিত্র উত্তরণ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
• গত ৮ নভেম্বর ২০১৬, দুপুর ২টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভা চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
• ৯ নভেম্বর ২০১৬, সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ মূলতবি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা।
• জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ যাতে প্রয়োজনের সময় সংগঠনের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
• দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিটি নিশ্চিত করার জন্য একটি তথ্যভা-ার তৈরি করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আরও গতিশীল করার লক্ষে জেলা/উপজেলার দলীয় কার্যালয়ের স্থায়ী/অস্থায়ী ঠিকানা ও ফোন নম্বর। জেলা/উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নাম, আবাসিক ঠিকানা ও ফোন নম্বর। জেলা/উপজেলার প্রচার, উপ-প্রচার, দফতর, উপ-দফতর, তথ্য ও গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের নাম ও ফোন নম্বর সংগ্রহ এবং তাদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
• ১ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক জরুরি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হয়।
• ৪ জানুয়ারি ২০১৭, সন্ধ্যা ৬টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বিকেল ৪টায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
• ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ১১টায় খুলনা ইউনাইটেড ক্লাব অডিটরিয়ামে (খুলনা সিটি কর্পোরেশন ভবন সংলগ্ন) খুলনা বিভাগের অন্তর্গত সকল জেলা/মহানগরসমূহের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, দল সমর্থিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ, সকল উপজেলা কমিটি ও জেলা সদরের পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দল সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দল মনোনীত পৌর মেয়রগণের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রংপুর জেলা স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে রংপুর বিভাগের অধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসমূহের এক যৌথ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি যৌথসভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, দুপুর ২টায় কক্সবাজার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, দুপুর ৩টায় জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে ‘ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর-পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে রাজশাহী বিভাগের অধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসমূহের এক যৌথ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৪ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাফিয়া খাতুন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক নির্বাচিত হন।
• ১১ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আকতার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল নির্বাচিত হয়েছেন।
• ১৯ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী বাংলাদেশ তাঁতী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং শ্রী খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
• ১ এপ্রিল ২০১৭, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিসেস এ্যলিসন ব্লেইক আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় পরিদর্শন করেন।
• ২ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১২ এপ্রিল ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ এপ্রিল ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান। অতঃপর সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় অঞ্চলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে আওয়ামী লীগ।
• ২২ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় কিং অব চিটাগাং-এ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় কিং অব চিটাগাং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৫ মে ২০১৭, বিকেল ৩টায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
• ৬ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৭ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কর্মশালাটি ৭, ৮ ও ৯ মে ২০১৭ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ মে ২০১৭, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা। সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সকল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দফতর ও উপ-দফতর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
• ২১ মে ২০১৭, আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর বিভাগ, তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এবং প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় সকল জেলা আওয়ামী লীগের দফতর ও উপ-দফতর সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
• ২২ মে ২০১৭, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক জরুরি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হয়।
• ২১ মে ২০১৭, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইনজীবীদের নতুন সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ’ গঠিত হয়।
• ২৩ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৪ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৫ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩১ মে ২০১৭, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ধানমন্ডিস্থ প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।
• ২১ জুন ২০১৭, বিকেলে ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
• ২ জুলাই ২০১৭, মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ৩ জুলাই ২০১৭, সিলেট জেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ৮ জুলাই ২০১৭, বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৩ জুলাই ২০১৭, সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ জুলাই ২০১৭, সকাল ১০টায় বরিশাল বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ ও ২১ জুলাই ২০১৭ যথাক্রমে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে যশোর জেলা শাখার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানকল্পে জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ জুলাই ২০১৭, বিকেল ৪টায় রংপুর টাউন হল মাঠে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
• ৩০ জুলাই ২০১৭, সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১০ আগস্ট ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লী ও সম্পাদকম-লীর এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৮ আগস্ট ২০১৭, উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এদিন আওয়ামী লীগের আরেকটি দল জামালপুর ও নওগাঁ জেলায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করে।
• ২৯ আগস্ট ২০১৭, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানার নেতৃত্বে এই মেডিকেল টিম কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় আশ্রয়রত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করে।
• ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা শাখার এক প্রতিনিধি সভা বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজার সফরে যান। ইতোমধ্যে তিনি একাধিকবার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন এবং ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক টিম সেখানে ত্রাণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।
• ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে রিকশা-ভ্যান বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
• ৩ অক্টোবর ২০১৭, বিকেল ৪টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরের সকল দলীয় সংসদ সদস্যগণের সাথে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, দল যদি করেন তা হলে দলের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যারা মানবেন না তারা দল থেকে সরে দাঁড়াবেন। পকেট ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের দলে নেবেন না। শৃঙ্খলা যে মানে না তাকে আওয়ামী লীগে রাখার দরকার নেই। তিনি বলেন, প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সকলের থাকতে পারে। কিন্তু অসুস্থ রাজনীতির প্রতিযোগিতা করবেন না। কর্মীর সংখ্যা এখন কমে গেছে, সবাই এখন নেতা। পোস্টার লিফলেট লাগানোর লোক নেই। ঘরের ভিতর ঘর, মশারীর ভিতর মশারীÑ সহ্য করা হবে না। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন বিএনপি নেই। এ দলটি এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা আন্দোলনের ডাক দেয়, আন্দোলন হয় না। তাই বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার বা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমি ভয় পাই, যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগকে কাটছে, আওয়ামী লীগ অন্তর্কলহে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণ না হয়, তা হলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা নিজেদের ক্ষতি না করি তা হলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে।
প্রতিনিধি সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের অর্জনের কারণেই জনগণ নৌকায় ভোট দেবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেন, জাতির বৃহৎ স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতীত ভুলে গিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে এবং সরকারের উন্নয়নের চিত্র তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
গ্রন্থনা : রায়হান কবি

Category:

‘জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত’

13

যে সংসদ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করেন, সেই সংসদকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে, এমনকি এমপিদের ক্রিমিন্যালও বলা হচ্ছে। সংসদকে হেয় করে কথা বলা হচ্ছে, এর অর্থ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, সব কিছু সহ্য করা যায়; কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা সহ্য করা যায় না। আর আমাকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। আইয়ুব-ইয়াহিয়া, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া দেখেছি। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে সেজদা দেই, আর অন্য কারও কাছে মাথা নত করি না। জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত, জনগণের শক্তিই বড় শক্তিÑ এটা সবাই মনে রাখবেন। পাকিস্তানের কথা বলে হুমকি দেওয়ার বিচারের ভার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম।
প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন। যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্বা। দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা তো উচ্চ আদালতের দায়িত্ব না। সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলাও তো আদালতের কাজ না। প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সাথে এসব সংরক্ষিত নারী এমপিও তো ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির তো উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া। বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী এমপি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এই পদে থাকব না।
২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণের কিছু অসংগতি তুলে ধরে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপির ফরমায়েশি রিপোর্ট দেওয়া বিচারপতি জয়নুল আবেদনের দুর্নীতির তদন্ত দুদক যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখলেন। কিন্তু তদন্ত করা যাবে না কেন? একজন দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করা তো প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। এটা তো সংবিধান পরিপন্থী, লঙ্ঘনের শামিল। গণপরিষদের সদস্যদের করা আইন প্রধান বিচারপতির পছন্দ নয়, উনার পছন্দ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জারি করা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল! বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই কী তার জুডিসিয়াল কাউন্সিল পছন্দ? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এ কোন ধরনের দাবি? বিএনপি আমলে অনেক বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, ভুয়া সনদধারীকে বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করে গেছে। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল হলে তো কারোরই বিচার হবে না।
আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহত নেতাকর্মীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করে বলেন, হঠাৎ করেই দেখছি উচ্চ আদালত থেকে নানা কথাবার্তা বলা হচ্ছে, লেখা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে সংসদ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করেন, সেই সংসদকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে, এমনকি এমপিদের ক্রিমিন্যালও বলা হচ্ছে। সংসদকে হেয় করে কথা বলা হচ্ছে, এর অর্থ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। তিনি বলেন, পুরো দায়িত্বই যেন নিতে চাইছেন।
তিনি বলেন, একটি আইন পাস করতে গেলে অনেক পর্যায় পার হতে হয়। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন পাস করা হয়। আর আদালত এক খোঁচায় তা বাতিল করে দেয়। এত সংসদ সদস্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা তাদের কারোরই কোনো জ্ঞানবুদ্ধি নেই, জ্ঞানবুদ্ধি আছে শুধু এক বা দুজনের? অন্য বিচারকরা স্বাধীনভাবে মতামত তুলে ধরতে পেরেছে কি না, এটা নিয়েও কথা আছে। ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, তা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে না। তারা আদালতকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
‘সংসদ কতদিন চলবে তা ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়’Ñ প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে এ দাবি অসত্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাবিনেটে সংসদ কতদিন চলবে তা নিয়ে কখনই কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় না। সংসদ সম্পর্কে এতটুকু ধারণা থাকলে এ কথা বলতে পারতেন না। ক্যাবিনেট নয়, স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংসদ কতদিন চলবে, কি কি বিষয়ে আলোচনা হবে। এমন বহু অবান্তর কথা বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় ভালো করে পড়ছি এবং অসংগতিগুলো নোট নিচ্ছি। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সময় এলে নিশ্চয় সব কিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ দেশের জনগণের কাছে। পাঁচ বছর পরপর আমাদের জনগণের আদালতের সামনে দাঁড়াতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে না আসে সেই দায়িত্ব কার? এটা তো ওই রাজনৈতিক দলেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিএনপি তো সবসময় উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উত্তরপাড়া তাকে কোনো সাড়া দেয়নি। আর ড. কামাল হোসেন তো কোনোদিন সরাসরি ভোটে জিততে পারেন নি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আবার বড় বড় কথা বলেন কীভাবে? নির্বাচনী আইনেই রয়েছে কোনো আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।
দেশবাসীর ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা। যে পাকিস্তান এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র সেই দেশটিকে নিয়ে তুলনা করার বিচারের ভার দেশের জনগণের। কারণ, জনগণের আদালতই হচ্ছে সব বড় আদালত। স্বাধীনতা ভালো; কিন্তু তা বালকের জন্য নয়। বালকসুলভ আচরণ ভালো নয়। রাজাকার-আলবদর কিংবা শান্তি কমিটির সদস্যরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়; আমরা তা প্রমাণ করেছি।
‘কয়েকটা ফ্লাইওভার বা রাস্তা হলেই উন্নয়ন হয় না’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা ফ্লাইওভার কিংবা রাস্তা নয়, আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করেছি। দেশের মানুষ দুবেলা খেতে পারছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কি চোখে পড়ে না আমাদের প্রধান বিচারপতির। সারাবিশ্বে আমরা দেশের সম্মান নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতা দখল করলেই কি উন্নয়ন হবে? সেই অবস্থা আর নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে তার বিচার হবে। জনতার আদালত সবচেয়ে বড় আদালত, মনে রাখবেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা এ হামলার সাথে জড়িত। আমাকেসহ পুরো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতেই যুদ্ধক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীরা যে গ্রেনেড ব্যবহার করে, তা আমাদের সমাবেশে ব্যবহার করা হলো। হামলার পর পিন্টুর ভাই ও কারারক্ষীকে বিমানে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়।
তিনি বলেন, ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। ওই বাড়িতে সে দীর্ঘদিন থেকে কি করছিল? ১ আগস্ট ওই বাড়ি ছেড়ে তারেক রহমান ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যায়। হামলার আগের দিন ২০ আগস্ট রাতে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে কয়েকটি বড় বাক্স-পেঁটরা নামানো হয়। কিছু সময় পর সেগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কি ছিল তাতে? সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাকের গায়ে না লেগে গ্রেনেডটি যদি ভেতরে পড়ত তবে আমরা কেউ-ই বাঁচতে পারতাম না। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন, মোহাম্মদ হানিফসহ নেতারা মানববর্ম রচনা করে আমাকে রক্ষা করেছেন।

Category:

বাংলাদেশের যা কিছু মহৎ অর্জন আওয়ামী লীগই তা করেছে

Posted on by 0 comment
09

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতি যা কিছু পেয়েছে এবং বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। তাই অতীতে বার বার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে, ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে বলেই বার বার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করার পরও কেউ সফল হয়নি। যতবার এই দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই আওয়ামী লীগ আরও দৃঢ় উজ্জ্বলতর হয়ে জনগণের সামনে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত ও শক্তিশালী হয়েছে। তাই যতই ষড়যন্ত্র হোক, আঘাত আসুক, নীতি-আদর্শ নিয়ে পথ চলা আওয়ামী লীগের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি, পারবেও না ইনশাআল্লাহ।
গত ২৩ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় এতই গভীরে যে, ইস্কান্দার মির্জা থেকে শুরু করে ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া বার বার আওয়ামী লীগকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তারা পারেন নি। ওপরের নেতারা মাঝে মাঝে কিছু ভুল করেন; কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা কখনও ভুল করে না। তাই আগামীতেও আওয়ামী লীগের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সততা নিয়ে রাজনীতি করার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
11বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে একজন নেত্রী ইফতারের সময় প্রতিদিনই অজ¯্র মিথ্যাচার করে চলেছেন। অথচ উনি ক্ষমতায় থাকতে দেশের জন্য কিছুই করেন নি। বরং নিজেদের বিলাস-ব্যসনে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ভোগ বিলাসেই মত্ত থেকেছে। দেশের মানুষের কথা ভাবে নি। দেশকেও কিছু দিতে পারে নি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শুধু দলের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশে অনেকেই মন্ত্রী হওয়ার লোভে দল ত্যাগ করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমার চাওয়া-পাওয়া বা হারাবার কিছু নেই। যে দেশের জন্য আমার বাবা-মা ও ভাইরা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই দেশের মানুষের জীবনের ভাগ্যের পরিবর্তন, কল্যাণ ও হাসি ফোটানোই আমার রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগকে জনগণের অধিকার আদায়ে চার চারটি সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আত্মোৎসর্গ করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সেই ইতিহাস নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবই ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে একাত্তরের গণহত্যাকারী, পরাজিত স্বাধীনতা-বিরোধীদের ক্ষমতায় পুনর্বাসন করেন জেনারেল জিয়া। জিয়া যেমন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টা-মন্ত্রী বানিয়েছেন, তার স্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। আর এইচএম এরশাদও কম যাননি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দেওয়া ছাড়াও এক খুনিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী পর্যন্ত করিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ধারায় ফিরে আসে।
আলোচনা সভায় ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই সারাবিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম অগ্রসর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগ চার চারটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনা যদি প্রধানমন্ত্রী না হতেন তবে কোনোদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। স্বপ্নের পদ্মা সেতু কোনোদিনই হতো না। তিনি বলেন, দেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আজ হতাশ। তাই অগ্রযাত্রা রুখতে ষড়যন্ত্র করছেন।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীন পতাকা আমাদের দিয়ে গেছেন, তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে তা গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে পতপত করে উড়ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা যে ‘পতাকা তারে দিয়েছ, বহিবার শক্তি দাও তারে’।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, পৃথিবীর সব শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। আর সারাদেশের মানুষের কণ্ঠে এখন একই আওয়াজÑ ‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’। ২০১৯ সালে আগামী নির্বাচনেও খালেদা জিয়াকে পরাজিত করে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। শুরুতেই আওয়ামী লীগের ৬৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে দলের জন্য আত্মত্যাগকারীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবং উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, ২৩ জুন সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করেন। এ সময় আকাশে শ্বেত কপোত ও বেলুন উড়ানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষও এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের    ২০তম জাতীয় সম্মেলন
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ জুন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সম্মেলনের নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। একই সাথে বর্তমান কমিটির মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। গত ৯ জানুয়ারি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ২৮ মার্চ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মার্চের শেষ দিক থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আর এ জন্য গত ২০ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে ১০ ও ১১ জুলাই পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সম্মেলনের তারিখ ফের পেছানো হয়েছে।
বৈঠকে খুলনা মহানগর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পিরোজপুর, বরিশাল ও নড়াইলসহ প্রায় ১০টি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন উপ-কমিটির কাজের অগ্রগতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নাসিম এমপি, এইচটি ইমাম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ওবায়দুল কাদের এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আকতারুজ্জামান, আবদুর রহমান, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।
৬-দফা দিবস পালন
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই জিতবে আর পরাজিত হবে অপশক্তি। একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আর এই অপশক্তিকে মদদ জোগাচ্ছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। এখনও তার মদদে দেশে বিভিন্ন স্থানে হত্যাকা- ঘটছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন কখনই পূরণ হবে না। ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে ৭ জুন বিকেলে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের যৌথভাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস পালন করা হয়। এদিন সকালে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, জাতির পিতার ৬-দফা কর্মসূচির মধ্যে দেশের স্বাধীনতার বীজ লুক্কায়িত ছিল। ভারত-পাকিস্তানের তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পরই বঙ্গবন্ধু মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেন, ৬-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু ৩৫ দিনে ৩২টি জনসভা করেছেন। এর মধ্যে তাকে আটবার গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যের প্রতি বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল। বঙ্গবন্ধুর সেই দৃঢ়চেতা মনোবল আজও তাকে বাংলার মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের কারান্তরীণ থাকা অবস্থাতেও বঙ্গবন্ধু দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধের স্বাক্ষর রাখেন। কারাগারের পাশে তার জন্য খোঁড়া কবর দেখে ভীত না হয়ে বলেছেনÑ মৃত্যুর পরে বাঙালির কাছে বাংলার মানুষের কাছে তার মৃতদেহ যেন পৌঁছে দেওয়া হয়। জীবন দিয়ে দেশকে আর দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন বঙ্গবন্ধু। আজ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র আজ বদলে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশ্ব নেতারা জি-৭ সম্মেলনেও তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, যে জঙ্গিবাদ আজ বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ করছে, সেই চ্যালেঞ্জে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জিতব আর তারা হারবে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে হরতাল পালন করতে গিয়ে মনু মিয়ারা যে রক্ত দিয়েছেন, ত্রিশ লাখ শহীদ যে রক্ত দিয়েছে তা আমরা বৃথা যেতে দেব না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, বাংলাদেশ না হলে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হতো না। বাংলার মানুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান বিলুপ্ত করা ছিল সময়ের প্রয়োজন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ৬-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু দেশের প্রতিটি জেলায় গিয়ে জনমত তৈরি করেছেন। তাকে জেল-জুলুমসহ নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাহস, ধৈর্য আর নেতৃত্বের দৃঢ়তার কাছে কারোর তুলনা ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ৬-দফা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, ৪৫ বছর আগে দেশ স্বাধীন হলেও এখনও পাকিস্তানিদের পেতাত্মারা রয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির পর পাকিস্তানের কর্মকা-েই তার প্রমাণ মেলে। ৪৫ বছর পরে এখনও যুদ্ধ থামেনি। এখনও একাত্তরে পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তাই দেশবিরোধী শক্তির বিপক্ষে এখনও আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। খালেদা জিয়ার মদদে যেসব গোষ্ঠী এখনও দেশে জঙ্গি কর্মকা- পরিচালনা করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, আহমদ হোসেন, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
আইটি সেক্টরে ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে
গত ৬ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। ১৯৯৬ সালে আমি যখন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী ৩টি লাইসেন্স দেওয়া যেত, মোরশেদ খানের শুধু লাইসেন্স ছিল। আর কাউকে লাইসেন্স দেওয়া যেন না যায়, তাই মোরশেদ খান মামলা করে রেখেছিলেন। তখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান ছিলেন। অনেকবার আমার কাছে এসেছিলেন। উনি (ইউনূস) ছিলেন ৪ নম্বর আবেদনকারী। উনার একটা অভ্যাস ছিল, উনি মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের দিয়ে চিঠি পাঠাতেন। আমাকে একদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, নাসিম ভাই আপনি ইউনূস সাহেবকে লাইসেন্স দিয়ে দেন, তদ্বিরে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আমি উনাকে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দিলাম। সেই লাইসেন্সের বদলে উনি নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, অনেকে উচ্চাভিলাষী বাজেট বলে ঠাট্টা করেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত, উচ্চাকাক্সক্ষা না থাকলে, বড় হওয়ার ইচ্ছে না থাকলে কেউ বড় হতে পারে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা কেউই রুখতে পারবে না। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামাতের ছত্রছায়ায় দেশে টার্গেট কিলিং হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে এই হত্যাকা-। আর খালেদা জিয়ার আঁচলতলে রয়েছেন হত্যাকারীরা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ‘এমনিতেও ম্যাট্রিক পাস করেন নি, বায়োমেট্রিক পাসও তিনি করেন নি।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, তার মোবাইল নেই। শুনেছি, তিনি ল্যান্ডফোনে কথা বলেন। তা হলে তিনি তো এনালগ সিস্টেমেই রয়ে গেছেন। এখন তিনি যদি নতুন করে সিম কেনেন, তা হলে তাকে ভ্যাট-ট্যাক্স ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করে কিনতে হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কারণে অপরাধ কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হচ্ছে। ২ লাখ ৫০ হাজার নারীকে আমরা আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আইসিটি ডিভিশন থেকে ৪৫ লাখ মানুষ ২০০ ধরনের সেবা গ্রহণ করছে। ২ লাখ তরুণকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসানসহ দলের অন্যান্য নেতা।

Category:

খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করছেন

Posted on by 0 comment

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১০ ও ১১ জুলাই

26উত্তরণ প্রতিবেদন: ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন’-এর নামে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আরেকটি ২১ আগস্টের মতো তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন কি-না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হাসিনাবিহীন নির্বাচনের কথা বলে উনি (খালেদা জিয়া) আরও ষড়যন্ত্রের ঘোট পাকাচ্ছেন কি-না? এ ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ নেই। উনি তো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। আরেকটি ২১ আগস্টের মতো আবারও গ্রেনেড হামলা আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন কি-না কে জানে। তবে রাখে আল্লাহ মারে কে। শকুনের দোয়ায় কখনও গরু মরে না। আল্লাহ যতদিন জীবন রেখেছেন, ততদিন দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাব। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে এ ব্যাপারে রুখতে পারবে না। গত ২০ মার্চ রাতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সভাপতির সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯ মার্চ বিএনপির সম্মেলনে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যেরও জবাব দেন। ‘ঢাকার বাইরে আন্দোলন সফল হয়েছে’Ñ খালেদা জিয়ার এমন দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে আন্দোলনের নামে অনেক মানুষকে হত্যা করতে পেরেছেন, এটাই কী তার বড় তৃপ্তি? ওই সময় ১৫-১৬টি জেলায় বিএনপি-জামাত জোট তা-ব চালিয়েছে। শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরে এখন উনি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন! আসলে এরা মানুষ নয়, মানুষ নামের অমানুষ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুতেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুুর রহমানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। সভায় গত ২৮ মার্চ নির্ধারিত আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পিছিয়ে আগামী ১০ ও ১১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে দলের পক্ষ একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও দলগতভাবে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় সম্মেলন করতে বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়।
সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ২০৩০ সাল নাগাদ ভিশন ঘোষণা এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার অঙ্গীকারের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন অনেকেই আমাদের নীতি ও ভিশন অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামাত জোট নির্বিচারে দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে। পরে আন্দোলনের নামে আবারও শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ওই সময়ের বীভৎস দৃশ্য কল্পনাও করা যায় না। একজন জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা অতীতে কখনও দেশের মানুষ দেখেনি। এরা হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ ছাড়া আর কিছু বোঝে না।
হাসিনাবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগের কিছু ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরেন। ওই হামলার আগেও বিএনপি নেত্রীসহ তার দলের নেতারা কী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন? ২১ আগস্ট ঘটনার আগে বিএনপি কয়েকজন নেতা প্রকাশ্য হুমকি দিলেন, ১৫ আগস্ট বাপ যে পথে গেছে আমাকেও সেই পথে যেতে হবে! এরপর বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) বললেন, আমি প্রধানমন্ত্রী কেন কোনোদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। আমার অস্তিত্ব থাকবে না এটা জেনেই উনি এ কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী এখন অন্য কোনো পথ নেই। তাই হাসিনাবিহীন নির্বাচনের কথা বলে এখন উনি আবারও ঘোট পাকাচ্ছেন। আবারও আমাকে হত্যার মতো কোনো ষড়যন্ত্র করছেন কি-না কে জানে। কিন্তু আমি এসবে পরোয়া করি না। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাব। আর দেশের জনগণের দোয়াও আমার সাথে আছে। তাই শকুদের দোয়ায় কখনও গরু মরবে না।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই কেবল দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন করতে পারে না কেন? আমরা গত সাত বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছি, গত ২১ বছরেও তারা পারেনি কেন? এসব বিষয়গুলো একটু বিচার করুন।

‘ইউপি নির্বাচনেও বিএনপি জনসমর্থন পাচ্ছে না’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা কোনো আন্দোলন নয়। এটি মানুষ হত্যা। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন এবং মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কারণেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিএনপি জনসমর্থন পাচ্ছে না। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, তখন সরকারকে হেয় করা ও ব্যতিব্যস্ত রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাইরে থেকেও দেশের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।
গত ২৭ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির ‘গরজ নেই’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, যার যার প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। সেই নির্বাচনেও তাদের খুব একটা গরজ দেখছি না। কেমন যেন একটা ভাসাভাসা ভাব। বিএনপি কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের নির্বাচনী কর্মকা-টা কোথায়? কেবল নালিশ করা! তো নালিশ করে কী হচ্ছে! নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়।
তিনি বলেন, বিএনপি কাদের কাছে নালিশ করে! এক ব্রিটিশ এমপির কাছে নালিশ করেছে। খোঁজ নিয়ে দেখুন, তাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিএনপির কাউন্সিলেও এই এমপি এসেছিলেন। মানে রতনে রতন চেনে।
দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনায় নানা প্রতিকূলতা ও বাধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাজিত শক্তি, পঁচাত্তরের খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের দোসররা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা মেনে নেবে নাÑ এটিই স্বাভাবিক। এ কারণেই তারা দেশের এই অগ্রযাত্রায় বাধাও দেবে। তাদের বাধা মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। জাতির জনক বলেছিলেন, বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারবা না। বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ২১ বছর যারা দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল, তারাও পারেনি। ভবিষ্যতেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দলের নেত্রী স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন। কিন্তু তার মুখটা খুবই করুণ, মুখে হাসিও ছিল না। থাকবে কী করে, তার পেয়ারের লোকগুলোর একে একে ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। তার মুখে তো হাসি থাকতে পারে না। বক্তব্যের শুরুতে বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে এই সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৮ সালেই বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জনের জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু করেন। এরপর তিনিই ধাপে ধাপে আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তিসংগ্রামের দিকে নিয়ে গেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, আহমদ হোসেন, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ। পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও অসীম কুমার উকিল।

‘দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সরকার সততা দিয়ে মোকাবিলা করেছে। আসলে সততাই বড় শক্তি। সততা থাকলে জোর গলায় কথা বলা যায়, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। ষড়যন্ত্র দূর করেই পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারছি, ওই একই কারণে। এই পদ্মা সেতু নির্মাণ বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব ও চ্যালেঞ্জ ছিল। গত ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, এখনও দেশে ষড়যন্ত্র যে কমে গেছে তা নয়। পরাজিত শক্তিরা এখনও তাদের পুরনো প্রভুদের ভুলতে পারেনি। দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে সবভাবেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র সবভাবেই হয়েছেÑ মানুষ পুড়িয়ে, সম্পদ ধ্বংস করেও দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি-জামাত। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে নাকে খত দিয়েই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ঘরে ফিরতে হয়েছে। নির্বাচন বানচাল ও আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত জোটের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নয়, খুন-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি-দুর্নীতি-এতিমের টাকা মেরে খাওয়া এসবই হচ্ছে বিএনপির নীতি। তারা এখনও পরাজিত পাকিস্তানের পুরনো প্রভুদের ভুলতে পারে না। খালেদা জিয়া বলেছিলেনÑ বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে না হটিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না। এজন্য তিনি ৯২ দিন ধরে নিজ অফিসে বসে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন, দেশের সম্পদ ধ্বংস করলেন। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে খেললে আল্লাহও যে নারাজ হন, তা খালেদা জিয়ার ভাবা উচিত ছিল। এ কারণেই তাকে নাকে খত দিয়েই ঘরে ফিরে যেতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিময় উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এভাবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা কারোর কাছে হাত পেতে নিতে দারিদ্র্য পালন নয়, সত্যিকারভাবেই দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। বঙ্গবন্ধু একটি কথা বলতেনÑ ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। তাই আমরা কারোর কাছে হাত পেতে চলতে চাই না, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। স্বাবলম্বী জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলব। আর পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবÑ আজকের দিনে এই হোক আমাদের শপথ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাতের চরিত্রই হচ্ছে অপরাধী-খুনিদের রক্ষা করা, মদদ দেওয়া এবং তাদের নিয়ে চলা। খুন ও অপরাধমূলক কর্মকা- করা। তারা তো দেশের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারে না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে, এটাও বোধহয় তাদের পছন্দ না। তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে গেছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারা দেশে বাংলাভাই ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করে। ক্ষমতায় থাকতে ৫টি বছর দেশে দুঃশাসন চালিয়েছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অর্থপাচার, এতিমের টাকা মেরে খাওয়াসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টারকে তারা হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট দিনে-দুপুরে আমাকে হত্যার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে ২২ মানুষকে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করতে জিয়াউর রহমান হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেছে। একমাত্র বিমান বাহিনীতেই ৬৬৮ সামরিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করা হয়। জেনারেল জিয়া একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের হাতে রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে। জেনারেল জিয়া ও খালেদা জিয়ার আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও স্বাধীনতা-বিরোধীদের পুনর্বাসনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন জিয়া। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও একই কাজ করেছেন।
২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিময়, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমাদের কাছে একটি পরিসংখ্যান এসেছে যে, দেশের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ গৃহহীন রয়েছে। আমি নির্দেশ দিয়েছি সবার জন্য একটি টিনের ঘর হলেও করে দিতে হবে। দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, এখন তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমরা করে যাচ্ছি।
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন এমপি, সতীশ চন্দ্র রায়, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ। সভার শুরুতেই জাতির পিতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

‘বিএনপি শুধু মানুষ খুন করতে জানে’
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, নাটকটা ভালোই হয়েছে। চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন দুই আসামি! একজন এতিমের টাকা চুরি করা মামলার আসামি (খালেদা জিয়া), আরেকজন তো (তারেক জিয়া) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। তার নাম ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। তারা জনগণকে কী দেবে?
যুদ্ধাপরাধীদের মতো আগুন সন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য একদিন খালেদা জিয়ারও বিচার বাংলার মাটিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর জন্ম ভারতে, আর মনেপ্রাণে পাকিস্তানি। উনি দেশে আগুন দিয়ে মানুষ মারে, আর তার হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। তাই উনি তার পেয়ারের পাকিস্তানে গেলেই তো পারেন, দেশে থেকে কেন জনগণকে যন্ত্রণা দিচ্ছেন? তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে ৯২ দিন ধরে অফিসে থেকে বিএনপি নেত্রী প্রায় আড়াইশ মানুষকে পুড়িয়েছেন, হত্যা করিয়েছেন। কী অপরাধ ছিল এসব নিরীহ মানুষের? এর জবাব একদিন খালেদা জিয়াকে দিতে হবে। তার বিচারও বাংলার মাটিতে একদিন হবে। আর যতই বাধা আসুক না কেন আমরা সেই বাধাকে অতিক্রম করতে পারব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন সে পথ ধরে তার স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভার আয়োজন করে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি একপর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেনÑ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এনামুল হক শামীম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, নগর আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার, মহিলা আওয়ামী লীগের সাবিহা খাতুন, যুবলীগের ওমর ফারুক চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা মো. আবু কাওছার, শ্রমিক লীগের সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার এবং ছাত্রলীগের সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন। জনসভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের প্রদত্ত রায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার ক্ষমতা দখলকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল মানুষের জন্য কী করবে? যার (বিএনপি) জন্মই অবৈধ পন্থায় অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে। এদের কাছে দেশবাসী কিছু আশা করে না। বাস্তবে এরাই দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি শুধু মানুষ খুন করতে জানে। তারা নাকি নির্বাচন হতে দেবে না। আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে প্রায় আড়াইশ মানুষকে পুড়িয়েছে, হত্যা করেছে। মায়ের সামনে, বাবার সামনে ছোট্ট শিশুকেও রেহাই দেওয়া হয়নি আগুনের আন্দোলন থেকে।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উনি নাকি সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরে যাবেন না। এই বলে ৬৮ জনকে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ৯২ দিন ধরে অবস্থান করে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন। এখনও আগুনে দগ্ধরা দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। কেন তাদের পোড়ানো হলো সেই জবাব খালেদা জিয়াকে দিতে হবে। মানুষ পুড়িয়ে উনি আন্দোলন করেন। সেই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বন্ধ করার আন্দোলন। কিন্তু দেশের জনগণ তার সেই আগুন সন্ত্রাসের আন্দোলন সমর্থন করেনি; বরং দেশের জনগণই তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করেছেন।
জিয়া-খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতা ও গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল, তাদের বিচার শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তাকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর পাল্টে যায় সবকিছু। যাদের এদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাদের ফিরিয়ে আনা হয়, যেসব যুদ্ধাপরাধী কারাগারে বন্দী ছিল তাদের মুক্তি দিয়ে পুনর্বাসিত করেন জেনারেল জিয়া। জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, খেতাবও নেন। নিজেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও দালালি করেছেন ওই পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের। আর তাই জেনারেল জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের হাতে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা তুলে দেন, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এদেশের বিরোধিতাকারীদের হাতে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও পতাকা তুলে দিয়েছেন। এরপর বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল লুটপাট-দুর্নীতি, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দেশে। ২১টি বছর এমন ষড়যন্ত্র চলেছে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটাকে ধ্বংস করার সব রকম ষড়যন্ত্র চলেছে এই ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখন এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। ’৭৫ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন তারা প্রতিবছর ৭ই মার্চের এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং অনেককে জীবনও দিতে হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা। এই ঘোষণা আসলে তিনি দিয়ে আসছিলেন ১৯৪৮ সাল থেকেই। তারপর ধাপে ধাপে জাতিকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, ৪৫টি বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি জনগণকে উজ্জীবিত করে যাচ্ছে। পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ নেইÑ যে ভাষণটি এত বছর ধরে মানুষ শুনছে, যার আবেদন এখনও এতটুকুও কমেনি। আজকে সারাবিশ্বে এই ভাষণ স্বীকৃত। তিনি বলেন, আজকে বিশ্বের অনেক দেশ এই ভাষণটি শুনতে চায়। ইতোমধ্যে ১২টি ভাষায় এই ভাষণ অনুবাদ করেছি এবং আরও অন্যান্য ভাষায় পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা অনুবাদ করে দিচ্ছি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে। অথচ এই ভাষণকে জিয়াউর রহমান, মুশতাক, এরশাদ ও খালেদা জিয়া বারবার নিষিদ্ধ করতে চেষ্টা করেছে।
দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করে গেছেন, সেই আদর্শ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ করে আমরা দেশকে গড়ে তুলব। যত বাধাই আসুক না কেন, সেই বাধাকে আমরা অতিক্রম করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভবনে সর্বস্তরের মানুষের ঢল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর, সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৫তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগত খ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এবার ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে জাতীয়করণের দাবি উঠেছে সর্বত্র।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে ওই দিন প্রথম প্রহর থেকেই সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে মাইকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিনাশী ভাষণÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন
30আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নিয়মিত সম্মেলন না হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় না। আবার সাংগঠনিক ভিতও শক্ত থাকে না।  আগামীতে যাতে নিয়মিত সব কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের আন্তরিক হতে হবে। গত ২২ মার্চ ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ উপনেতা ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রহমান এমপি, এসএম কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার প্রমুখ। সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহাকে সভাপতি ও সৈয়দ মাসুদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। নতুন সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সৈয়দ মাসুদ হোসেন ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

Category:

জিয়া-এরশাদ অবৈধ রাষ্ট্রপতি

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সেনাপ্রধান থেকে জিয়াউর রহমান এবং এইচএম এরশাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালতের অবৈধ ঘোষণা করার কথা তুলে ধরে বলেছেন, জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদকে আর সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না। সর্বোচ্চ আদালতই তাদের শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল করেছে। এ কারণে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়া-এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বলা আদালত অবমাননার শামিল। গত ২৬ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ড এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে ত্রিপক্ষীয় জরুরি বৈঠকে সভাপতির সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জেনারেল জিয়া সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিল। এটাই সর্বোচ্চ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
51আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, এর কৌশল নির্ধারণেই এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি দ্বৈত রাজনীতি করে। একবার বলে বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন করবে না, আবার স্থানীয় সবগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো এখন থেকে দলীয়ভিত্তিতে নিজ নিজ মার্কা নিয়ে হবে। এবার দেখি বিএনপি নির্বাচনে না এসে কি করে, নির্বাচনে না এসে যায় কোথায়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা না করা তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জন্ম থেকেই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। শুধু গণতন্ত্রই নয়, দেশের স্বাধীনতাতেও বিশ্বাস করে না বিএনপি। আর দলটির জন্মও হয়েছিল হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। ‘কারাগারে এই প্রথম দুজনকে একসঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে’Ñ একজন সাংবাদিকের এমন লেখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, হয়তো উনি দেশের ইতিহাস জানেন না বা পড়েননি। জেনারেল জিয়া একদিনে এক থেকে দেড়শ মানুষকে প্রহসনের বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অংশ অধিকাংশ সামরিক অফিসারকে এই জিয়া শেষ করে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার থেকেও নিরাপদ দেশ। অথচ এই বাংলাদেশে খালেদা জিয়া জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল, অস্ত্র চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত করেছিল।
দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যখন একটু সুখে-শান্তিতে থাকে, তখনই বিএনপি ও তাদের দোসররা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরা ৯২ দিন ধরে নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কী বীভৎস ও বিকৃত মানসিকতা বিএনপি নেত্রীর। উনি মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে তার জিঘাংসা চরিতার্থ করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন মুসলমান কী আরেকজন মুসলমানকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে? অথচ খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সুইসাইড বোমা হামলা করে মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যাই তো গুনাহর কাজ। একজন মুসলমান কীভাবে এমন গুনাহর কাজ করে। কীভাবে মসজিদে সুইসাইড বোমা হামলা করে মুসলমানদের হত্যা করে? এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণœ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে এমন কোনো কাজ যেন কেউ করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সচেতন করতে আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সন্ত্রাসী-জঙ্গি ও আইএস আছেÑ এ কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দলীয়ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, উপ-মহাদেশের মধ্যে যে কয়টি বৃহৎ ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্যতম। আগে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভিত্তিতে হতো, তবে সব রাজনৈতিক দলই শক্তিশালী হতো। গণতন্ত্রও বিকশিত হতো। কারণ দলীয়ভিত্তিতে নির্বাচন হলে প্রার্থীরা নিজেদের স্বার্থের পরিবর্তে ভোটারের স্বার্থ আগে দেখে। এতে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের কল্যাণ হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী, বিকশিত এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারেÑ এ লক্ষ্য নিয়েই দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছি। আমরা গণতন্ত্রকে অধিক নিশ্চিত করতে চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল রয়েছে এবার সবার জন্যই একটা ভালো সুযোগ, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে পাশে থাকবে চীন : সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
গত ২৬ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ দূত ও দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার চিয়ান ফেং জিয়াংয়ের নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ’৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সন্ত্রাস নির্মূলে অতীতেও চীন বাংলাদেশের পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর দাবি করে আশরাফ বলেন, খুব শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন। সোনারগাঁও হোটেলের বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এম জমির, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল প্রমুখ।
চীনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ডিরেক্টর জেনারেল ইয়ান ঝিবিন, ডিরেক্টর ইয়ান রিঢং, ভাইস মিনিস্টারের সচিব লিও ইয়াং ঝি, কমিউনিস্ট পার্টির সহ-সম্পাদক টান উই, পার্টির রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিহি প্রমুখ।
এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে চীনের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকার করে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন
আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক দল নয়
একটি অনুভূতি : সৈয়দ আশরাফ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি অনুভূতি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আদর্শের জন্য জীবন দিতে পারে। আবার দলের নেতাকর্মীরা নেত্রীর জন্য জীবনও দিতে পারে। তিনি গত ১১ নভেম্বর শেখ ফজলুল হক মনি অডিটরিয়ামে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটা ভাগ্যবান রাজনৈতিক দল। কারণ এই পবিত্র মাটিতে (গোপালগঞ্জ) জন্ম নিয়েছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আবার এই মাটিতেই তিনি শায়িত আছেন। এই মাটি বীরের মাটি। সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম এমপি বলেছেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তি একত্রিত হয়ে আবার একটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে রাজাকার, আলবদর ও যুদ্ধাপরাধীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় কেন্দ্রীয় আওযামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, কৃষি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, উম্মে রাজিয়া কাজল এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুর রহমান এমপি, এনামুল হক শামীম, এসএম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্যা মোহাম্মদ আবু কাওসার, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদুল হক বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে চৌধুরী এমদাদুল হককে সভাপতি ও মাহাবুব আলী খানকে সাধারণ সম্পাদক করে গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
যতদিন একটা যুদ্ধাপরাধীও থাকবে ততদিন
বিচার চলবে : শেখ সেলিম
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেছেন, যতদিন একটা যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলবে। গত ১২ নভেম্বর রাজবাড়ী শহীদ খুশী রেলওয়ে ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। দুপুর ২টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি আরও বলেন, ’৭১-এর পরাজিত শক্তির বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মুক্তিযুদ্ধের চতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষ স্বাধীনতা-বিরোধীদের সাথে হাত মেলাতে পারে না। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটি করেছেন। তিনি কখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করেন না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিটি উন্নয়নে রয়েছে আওয়ামী লীগের অবদান। এখন আমরা একটি বিশেষ সময় পার করছি। ’৭১-এর পরাজিত ঘাতকরা দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কাজ করে চলেছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার জন্যই ওই সময় দেশে জঙ্গিবাদের জন্ম দেয় বিএনপি সরকার। জেএমবি-হরকাতুল জিহাদ তাদের সৃষ্টি। এই সাত বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে বিগত ৪০ বছরেও সেই উন্নয়ন হয়নি।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুল হাকিম এমপির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আহমেদ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান এমপি, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুর রহমান এমপি, একেএম এনামুল হক শামীম, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি কামরুন্নাহার চৌধুরী লাভলী প্রমুখ।
বিকেলে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি পদে জিল্লুল হাকিম এমপি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী কেরামত আলী এমপিকে ঘোষণা করেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। পরপর দুই মেয়াদে তারা বহাল থাকলেন।

গোপালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার নামে লন্ডন গিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে তার সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের কোনো শক্তি এদেশে থাকবে না।
শেখ ফজলুল হক মনি অডিটরিয়ামে গত ১০ নভেম্বর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও শহর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদুল হক, উম্মে রাজিয়া কাজল এমপি, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার, কাজী লিয়াকত আলী, হাসমত আলী সিকদার চুন্নু, বিএম হাসান কবির ছানু, এসএম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
পরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে কাজী লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রফিকুল ইসলাম মিটু এবং শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে হাসমত আলি সিকদার চুন্নু ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসএম নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের শক্তি হলো জনগণ। এই জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস, নাশকতা সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করা হবে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে গত ৯ নভেম্বর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে আরও বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না। সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, একজন খুনির সাথে বসে আলোচনা করে কোনো সুফল আসতে পারে না। যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যে রাজি রয়েছে।
এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উম্মে রাজিয়া কাজল এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুর রহমান এমপি, এনামুল হক শামীম, এসএম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ীমী লীগের সভাপতি শেখ আবদুল হালিম। পরে শেখ আবদুল হালিমকে সভাপতি ও আবুল বসার খায়েরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

Category:

২৫ ও ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের সম্মেলন

Posted on by 0 comment

শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি ঝঞ্ঝাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ২৮তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। গত ৮ মে সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এই তারিখ ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। সম্মেলনকে সফল করার জন্য সকল জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে ঘোষণা অনুযায়ী ২৮ মে ঢাকা মহানগর উত্তর, ৩০ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ২৫ মে মুন্সিগঞ্জে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ জুন খাগড়াছড়ি, ২ জুন রাঙ্গামাটি, ৩ জুন বান্দরবান, ৪ জুন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা, ৬ জুন খুলনা জেলা, ৭ জুন খুলনা মহানগর, ৮ জুন মাগুরা, ১৩ জুন নোয়াখালী, ১৫ জুন পঞ্চগড়, ১৬ জুন গাইবান্ধা, ১৭ জুন লালমনিরহাট, ২০ জুন মৌলভীবাজার, ২১ জুন সুনামগঞ্জ, ২৫ জুন চাঁদপুর, ৪ জুলাই সিলেট মহানগর এবং ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সকল জেলা শাখা কাউন্সিলের তালিকা কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০১১ সালের ১০ জুলাই।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ১৯৯৬ সালের ৬-দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১১-দফা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্বাধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের উদ্দেশে ছাত্রলীগ মুজিব বাহিনী গঠন করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ বিজয় লাভে ভূমিকা পালন করে স্বাধীনতা পরবর্তী ’৭৫, ’৯০, ’৯৬, ২০০৬-০৮ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগের প্রধান নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংগঠনটির প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলে এর সভাপতি দবিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক খালেক নেওয়াজ খান মনোনীত হন। ২০১১ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতির পদে বদিউজ্জামান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদকের পদে সিদ্দিকী নাজমুল আলম নির্বাচিত হন।

Category:

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের চীন সফর

Posted on by 0 comment

41(C)উত্তরণ প্রতিবেদন:  চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গত ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফর করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া। প্রতিনিধি দল সেখানে ১০ দিন অবস্থান করে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সফরকালে তারা বেইজিং, সাংহাই ও কুম্বিং সফরে যান। এসব স্থানে তারা কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরসূচি অনুযায়ী আওয়ামী লীগের এ প্রতিনিধি দলটি প্রথমে কুম্বিং যান। সেখানে তারা পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর তারা যান চীনের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। সেখানে তৃণমূল পর্যায়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন। এ ছাড়া প্রতিনিধি দলটি বেইজিংয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। চীন সফরে যাওয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলটি কমিউনিস্ট পার্টির ট্রেনিং কলেজসহ কিছু ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করেন।

Category:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাসের তারিখ

Posted on by 0 comment

১৯৪৯
33(C)হ     ২৩ জুন     : ঢাকার কেএম দাস লেনের কেএম বশির হুমায়নের বাসভবন ‘রোজ গার্ডেন’-এ আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
হ     ২৪ জুন          : সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আরমানিটোলা মাঠে দলের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
হ     ১৫ আগস্ট   : দলের প্রথম সাপ্তাহিক মুখপত্র ইত্তেফাক প্রকাশিত হয়।
১৯৫০
হ     ০১ জানুয়ারি    : শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার।
হ     ২৪ জানুয়ারি    : হোসেন সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা। সভাপতি মানকি শরীফের পীর এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক ওসমানী।
১৯৫২
হ     ২৬ জানুয়ারি    : নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। কারাবন্দী শেখ মুজিব ১৯৫২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। মেডিকেলে প্রিজন সেলে থাকা অবস্থায় বাইরের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার দিক-নির্দেশনা দেন।
হ     ৩১ জানুয়ারি    : তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত।
হ     ১৬ ফেব্রুয়ারি    : শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলে হস্তান্তর।
হ     ২১ ফেব্রুয়ারি    : ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলি। রফিক, সালাম, জব্বার, বরকত ও অহিউল্লাহ শহীদ।
হ     ২২ ফেব্রুয়ারি    : প্রতিবাদ মিছিলে আবার গুলি, সফিকুর রহমান শহীদ।
১৯৫৩
হ     ০৯ জুলাই    : ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল অধিবেশন। ভাসানী সভাপতি, শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।
হ     ১৪ নভেম্বর    : ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত এবং ২১ দফার খসড়া গৃহীত।
হ     ০৪ ডিসেম্বর    : যুক্তফ্রন্ট গঠিত। স্বায়ত্তশাসন, ভাষা এবং বাঙালি অধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ২১ দফা ঘোষণা করা হয়।
১৯৫৪
হ     ০৮ মার্চ    : প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচনে ২১-দফার পক্ষে নিরঙ্কুশ রায়, যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয়। মুসলিম লীগের ভরাডুবি।
হ     ১৯ এপ্রিল    : পাকিস্তান গণপরিষদ কর্তৃক বাংলা ও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা।
১৯৫৫
হ     ২১-২৩ অক্টোবর : পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
১৯৫৬
হ     ০২ মার্চ    : গণপরিষদে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান পাস।
হ     ৬ সেপ্টেম্বর    : পূর্ব বাংলার এবং ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা গঠন।
১৯৫৭
হ     ১৮ মার্চ    : আওয়ামী লীগ থেকে মওলানা ভাসানীর পদত্যাগ।
হ     ৩১ মে    : মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে শেখ মুজিব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
হ     ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার।
হ     ০৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ থেকে ০৭ অক্টোবর ১৯৫৮ : আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকাল।
হ     ৭ অক্টোবর    : পাকিস্তানের মার্শাল ল’ জারি। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। শেখ মুজিবুরসহ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার।
১৯৫৮
হ     ০৭ অক্টোবর    : পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি, সংবিধান বাতিল। শেখ মুজিবসহ বহু নেতা গ্রেফতার। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ।
১৯৫৯
হ     ৭ ডিসেম্বর    : শেখ মুজিবের মুক্তিলাভ। গোপনে সহকর্মীদের কাছে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রকাশ।
১৯৬২
স্বাধীনতার লক্ষ্যে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক প্রস্তুতির সূচনা। এ লক্ষ্যে ছাত্র-যুব নেতাদের নিয়ে গোপন নিউক্লিয়াস গঠন।
হ     ৩০ জানুয়ারি    : সোহরাওয়ার্দী গ্রেফতার। প্রতিবাদে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সূচনা।
হ     ০৭ ফেব্রুয়ারি    : শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ধরপাকড়।
হ     ২৪ জুন    : আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করে ৯ নেতার ঐতিহাসিক বিবৃতি।
হ     ১৭ সেপ্টেম্বর    : শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট-বিরোধী আন্দোলন, দুজন নিহত।
হ     ০৪ অক্টোবর    : রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবিত না করে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কেএসপি প্রভৃতি দল মিলে এনডিএফ বা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন।
১৯৬৩
হ     ০৫ ডিসেম্বর     : বৈরুতে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু।
১৯৬৪
হ     ১৪ জানুয়ারি    : সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
হ     ১৬ জানুয়ারি    : শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দাঙ্গাবিরোধী প্রতিরোধ। ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ ইশতেহার প্রচার।
হ     ২৫ জানুয়ারি    : এনডিএফ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবন। শেখ মুজিব মূল উদ্যোক্তা। এনডিএফ-পন্থিদের দল ত্যাগ।
১৯৬৬
হ     ০৫ ফেব্রুয়ারি    : লাহোরে শেখ মুজিবের ৬-দফা দাবি উত্থাপন।
হ     ১৮ মার্চ    : আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে ‘আমাদের বাঁচার দাবি ৬-দফা কর্মসূচি’ অনুমোদন। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।
হ     ২০ মার্চ    : আইয়ুব খানের হুমকি : ৬-দফা নিয়ে চাপাচাপি করলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেওয়া হবে, গৃহযুদ্ধ হবে।
হ     ০৮ মে    : শেখ মুজিব ও তাজউদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার।
হ     ০৭ জুন         : ৬-দফা ও বন্দী মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগের দেশব্যাপী হরতাল। ১০ জন নিহত।
হ     ১৭ জুন    : ইত্তেফাক পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষিত।
১৯৬৭
হ     ২২ জুন    : রেডিওতে সরকারের রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ ঘোষণা।
১৯৬৮
হ     ১৭ জানুয়ারি    : ১৯৬৬ সালের ৮ মে কারাবন্দী শেখ মুজিবকে ঢাকা জেল থেকে মুক্তি দিয়ে জেলগেটে আবার গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক।
হ     ১৮ জানুয়ারি    : শেখ মুজিবকে ১নং আসামি করে ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব এবং অন্যান্য’ মামলা দায়ের। এ মামলাটিই ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবে পরিচিত।
হ     ১৯ জুন    : আগরতলা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু।
হ     ডিসেম্বর    : ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (দুই গ্রুপ), এনএসএস (একাংশ) ও ডাকসুর নেতৃত্বে আন্দোলনের লক্ষ্যে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের উদ্যোগ।
১৯৬৯
হ     ০৮ জানুয়ারি    : গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আইয়ুব শাহীর পতনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগসহ ৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠন।
হ     ১০ জানুয়ারি    : ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক ৬-দফাভিত্তিক ১১-দফা কর্মসূচি প্রণয়ন ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা।
হ     ১৭-২০ জানুয়ারি    : ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্রদের প্রথম বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। পুলিশি হামলা। ২০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদ নিহত।
হ     ২৪ জানুয়ারি    : ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান। স্কুলছাত্র মতিউরসহ কয়েকজন নিহত। কারফিউ ভঙ্গ।
হ     জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি : শেখ মুজিবের মুক্তি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাতিল ও ১১-দফা দাবিতে সারাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের বিস্তৃতি।
হ     ২২ ফেব্রুয়ারি    : শেখ মুজিবের নিঃশর্ত মুক্তি, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার।
হ     ২৩ ফেব্রুয়ারি    : রেসকোর্স ময়দানের লক্ষ লক্ষ মানুষের গণসংবর্ধনায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক শেখ মুজিব ‘বঙ্গবন্ধু’ অভিধায় ভূষিত।
হ     ২৫ মার্চ    : আইয়ুব খানের পতন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণ, সামরিক আইন জারি।
হ     ০৫ ডিসেম্বর    : সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবসে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা, ‘এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ’।
১৯৭০
হ     ০৭ ডিসেম্বর    : পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। ৩০০ আসনের জাতীয় পরিষদে পূর্ব বাংলার ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৬৭টি আসনে জয়লাভ।
হ     ১৭ ডিসেম্বর    : পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন। ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের ২৮৮ আসন লাভ।
হ     ০৩ জানুয়ারি    : রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভায় জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের (এমএনএ ও এমপিএ) ৬-দফা ও স্বাধিকারের নামে শপথ গ্রহণ। এই শপথ অনুষ্ঠানে ‘আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া হয়।
১৯৭১
হ     ০১ মার্চ    :  ইয়াহিয়া কর্তৃক ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা।
Ñ ইয়াহিয়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। ‘জয় বাংলা, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরÑ বাংলাদেশ স্বাধীন কর, তোমার আমার ঠিকানাÑ পদ্মা মেঘনা যমুনা, জাগো জাগো বাঙালি জাগো’ প্রভৃতি স্লোগানে সারাদেশ আন্দোলিত। কারফিউ জারি।
হ     ০২ মার্চ    : বঙ্গবন্ধুর হরতাল-ধর্মঘট আহ্বান। ৩ মার্চ জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা।
Ñ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রথম ‘জাতীয় পতাকা’ উত্তোলন।
হ     ০৩ মার্চ    : পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জনসভায় ‘স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার’ ঘোষণাপত্র পাঠ, জাতীয় পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত হিসেবে ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশন।
হ     ০৭ মার্চ    : রেসকোর্স ময়দানের ১০ লাখ লোকের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
Ñ বঙ্গবন্ধু অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ১০-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হ     ০১ থেকে ২৫ মার্চ     : বাংলাদেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক শিল্প-কারখানা, পরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কিছু পরিচালিত হয় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। এই সময়কালে বঙ্গবন্ধু ৩৫-দফা নির্দেশনা প্রদান করেন।
Ñ বঙ্গবন্ধু অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ১০-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হ     ১৬ মার্চ    : ইয়াহিয়া খানের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনা শুরু। আলোচনার নামে কালক্ষেপণের কৌশল নিয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
হ     ২৩ মার্চ    : আলোচনা কার্যত ভেঙে যায়। বঙ্গবন্ধু ৩২নং বাসভবনে নিজ হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
হ     ২৫ মার্চ    : রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর সামরিক অভিযান এবং রাজধানী ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে।
হ     ২৬ মার্চ    : পঁচিশে মার্চ রাত ১২টার কিছু পরে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তৎকালীন ইপিআরের ওয়ারলেসযোগে বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রচারিত হয়।
Ñ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা মাইকিং করে এবং লিফলেট আকারে বিতরণ করা হয়।
Ñ বেলা সোয়া ২টায় চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গমন করেন এবং সেখান থেকে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ করেন। ৩০ মার্চ দুপুরে বিমান হামলার পূর্ব পর্যন্ত কালুরঘাটের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু থাকে।
Ñ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদেশে শুরু হয় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ।
Ñ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মিয়ানওয়ালি কারাগারে নিঃসঙ্গ অবস্থায় বন্ধী করে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুকে বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র।
Ñ ২৬ রাত ৮টায় রেডিও-টেলিভিশনে ইয়াহিয়া খান এক ভাষণে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান ভাঙার চেষ্টার জন্য দায়ী করেন এবং তাকে পাকিস্তানের শত্রু ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগকে বে-আইনি ঘোষণা করা হয়।
হ     ১০ এপ্রিল    : বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ (এমএনএ, এমপিএ) এক সভায় মিলিত হয়ে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’ গঠন করেন। গণপরিষদ বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করেন।
Ñ ‘গণপরিষদ’ একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করে। তারা বঙ্গবন্ধুকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। ১১ এপ্রিল কর্নেল ওসমানীকে সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করা হয়।
হ     ১৭ এপ্রিল     : বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ এবং নবগঠিত সরকার শপথ গ্রহণ করে। বৈদ্যনাথতলার নামকরণ হয় ‘মুজিবনগর’। মুজিবনগরকে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
হ     মার্চ-ডিসেম্বর     : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সহযোগিতায় বাংলাদেশে ব্যাপক গণহত্যা, গণধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ফলে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হন। প্রায় ৩ লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারায়। ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। পরাজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ডিসেম্বর ব্যাপক সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
Ñ মুক্তিবাহিনী দখলদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা থেকে পাকিস্তান বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে।
হ     ০৪ ডিসেম্বর    : পাকিস্তান ভারতের ওপর বিমান আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
হ     ০৬ ডিসেম্বর    : ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
Ñ ভাতরীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথ কমান্ড গড়ে তুলে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করে।
হ     ১৬ ডিসেম্বর    : ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
১৯৭২
হ     ০৬ জানুয়ারি    : পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভ।
হ     ১০ জানুয়ারি    : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। পূর্বাহ্নে দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তার বৈঠক। বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় ভাষণদানÑ ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অপরিবর্তনীয়, পাকিস্তানের সাথে পূর্বতন সম্পর্ক আর পুনঃপ্রতিষ্ঠার নয়।’
হ     ০৮ এপ্রিল    : আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু দলীয় প্রধান নির্বাচিত।
হ     ২৯ আগস্ট    : দালাল আইন সংশোধন। সর্ব্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ- ও সর্বনি¤œ সাজা তিন বছর।
হ     ১০ অক্টোবর     : বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বশান্তি পরিষদের সর্বোচ্চ সম্মান জুলিও কুরি পদক দান।
হ     ০৪ নভেম্বর    : গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন।
হ     ১১ নভেম্বর    :  আওয়ামী যুবলীগ গঠন।
হ     ৩০ নভেম্বর    : বাংলাদেশকে জাতিসংঘে সদস্যপদ দানের প্রশ্নে সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মত প্রস্তাব।
১৯৭৩
হ     ০৭ মার্চ    : বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত। নির্বাচনে ৩০০-এর মধ্যে আওয়ামী লীগ দলের ২৯২টি আসন লাভ।
হ     ১৬ মার্চ    : বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ।
হ     ২৩ মে    : ঢাকায় এশীয় শান্তি সম্মেলন। বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক দান।
হ     ১৪ অক্টোবর    : আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদলীয় ঐক্যজোট ঘোষণা।
হ     ১৮ জানুয়ারি    : শেখ মুজিব কর্তৃক আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কাউন্সিলের উদ্বোধন। দলীয় প্রধানের পদ পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানান।
১৯৭৪
হ     ২০ জানুয়ারি    : কামারুজ্জামান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত এবং জিল্লুর রহমান দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নির্বাচিত।
১৯৭৫
হ     ২১ জানুয়ারি    : আওয়ামী লীগ সংসদীয় কমিটির সমাপনী সভায় জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান।
হ     ২৫ জানুয়ারি    : সংসদে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি ও জাতীয় দল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত। শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট।
হ     ২৬ জানুয়ারি    : সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মনসুর আলী যথাক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা।
হ     ২৪ ফেব্রুয়ারি    : প্রেসিডেন্ট কর্তৃক বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে নতুন জাতীয় দলের ঘোষণা। শেখ মুজিবর রহমান নতুন জাতীয় দলের চেয়ারম্যান।
হ     ২৫ এপ্রিল    : বাকশালে যোগদান করে আতাউর রহমান খানের বিবৃতি।
হ     ০৬ জুন    : জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রÑ এই চার মূলনীতি নিয়ে বাকশালের সংবিধান ঘোষিত। দলের কার্যকরী ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত। মনসুর আলী সাধারণ সম্পাদক, জিল্লুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মনি ও আবদুর রাজ্জাক সম্পাদকবৃন্দ নির্বাচিত। দলের ৫টি অঙ্গ সংগঠন হলোÑ ১. জাতীয় কৃষক লীগ ২. জাতীয় শ্রমিক লীগ ৩. জাতীয় মহিলা লীগ ৪. জাতীয় যুবলীগ  ৫. জাতীয় ছাত্রলীগ।
হ     ০৭ জুন    : বাকশালের অফিসে প্রেসিডেন্টের অভিবাদন গ্রহণ ও দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।
হ     ১৫ আগস্ট    : খুব ভোরে সামরিক বাহিনীর একদল নরপশুর হাতে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যগণ নিহত হন। খন্দকার মুশতাক আহমেদের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বগ্রহণ। দেশে সামরিক আইন জারি।
হ     ২৩ আগস্ট    : সামরিক আইনের অধীনে নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহমেদ, আবদুস সামাদ আজাদ, কামারুজ্জামান ও কোরবান আলীসহ ২০ জন গ্রেফতার।
হ     ০৬ সেপ্টেম্বর    : জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ ও আবদুর রাজ্জাক গ্রেফতার।
হ     ০৩ নভেম্বর    : সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহমেদ এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা।
১৯৭৭
হ     ০৪ এপ্রিল    : আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অধিবেশনে জোহরা তাজউদ্দিন আহ্বায়িকা।
১৯৭৮
হ     ০২ মে    : প্রেসিডেন্ট পদে জিয়া ও ওসমানীসহ ১১ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল।
১৯৭৯
হ     ২১ জুন    : বাংলামটরের কাছে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ।
হ     ২২ জুন    : আওয়ামী লীগের (মালেক) ডাকে ঢাকায় আংশিক হরতাল, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা, মারপিটে ৭০ জন আহত, ৯৮ জন গ্রেফতার।
১৯৮১
হ     ১৬ ফেব্রুয়ারি    :  শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ (মালেক)-এর সভানেত্রী নির্বাচিত।
হ     ১৭ মে    : আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
হ     ১২ জুন    : শেখ হাসিনার কাছে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি হস্তান্তর।
হ     ১৯ সেপ্টেম্বর    : আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত।
হ     ০২ আগস্ট    : আওয়ামী লীগ থেকে মহিউদ্দীন-রাজ্জাকসহ ৬ জনকে অব্যাহতি।
১৯৮২
হ     ২৪ মার্চ    : জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল।
১৯৮৩
হ     ২৮ নভেম্বর    : ১৫ ও ১৭ দলের অবস্থান ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ব্যাপক উত্তেজনা, গুলি, টিয়ারগ্যাস। সকল রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ। সান্ধ্য আইন জারি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া নিরাপত্তামূলক হেফাজতে।
১৯৮৪
হ     ১৪ সেপ্টেম্বর    : সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী সমাবেশে শেখ হাসিনার ভাষণে ’৭৫-এর পর সকল সরকারকে অবৈধ আখ্যাদান।
১৯৮৭
হ     ০৩ জানুয়ারি    : শেখ হাসিনা পুনরায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত।
হ     ১১ নভেম্বর    : বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা গৃহে অন্তরীণ। বহু গ্রেফতার। পূর্ণদিবস হরতাল পালিত।
হ     ১১ ডিসেম্বর    : ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি।
১৯৮৮
হ     ২৪ জানুয়ারি    : চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৮ দলের মিছিলে গুলিতে ৯ জন নিহত।
১৯৯০
হ     ০৩ জানুয়ারি    : সিলেটে শেখ হাসিনা, ‘ভাত ও ভোটের অধিকারের জন্যেই ৭-দফার সংগ্রাম’।
হ     ২৭ জানুয়ারি    :  পটুয়াখালীতে শেখ হাসিনা, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্যেই আমাদের সংগ্রাম’।
হ     ০৬ ডিসেম্বর    : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান। এরশাদের পতন। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
১৯৯১
হ     ২৫ ফেব্রুয়ারি    : পান্থপথে এক বিশাল সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিলে মানুষ গণতন্ত্র পাবে, অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে।’
হ     ২৮ ফেব্রুয়ারি    : সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক অদৃশ্য শক্তির গোপন আঁতাতের মাধ্যমে নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে।’
হ     ০৮ মার্চ    : আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনা সর্বসম্মতভাবে সংসদীয় দলের নেত্রী নির্বাচিত হন।
হ     ২১ মার্চ    : সরকারিভাবে শেখ হাসিনাকে বিরোধী দলের নেত্রী ঘোষণা করা হয়।
হ     ১০ এপ্রিল    : আওয়ামী লীগের সাংসদদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘এরশাদকে শিগগিরই কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে।’
হ     ১১ এপ্রিল    : বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আনা কৃষি ঋণ সুদ মওকুফের প্রস্তাব নাকচ।
হ     ০১ জুলাই    : জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ‘সময়ের চাহিদা অনুসারে সংসদীয় সরকার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
: শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
হ     ৩০ জুলাই    : মহিউদ্দিন আহমদ ও আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
হ     ১৫ ফেব্রুয়ারি    : গোলাম আযম ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত।
১৯৯২
হ     ০১ মার্চ     : একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সমাবেশে জাহানারা ইমাম বলেন, ‘গোলাম আযমের বিচার করা আমাদের জন্য ফরজ কাজ।’
হ     ০৭ মার্চ    : শেখ হাসিনাসহ ১০০ সংসদ সদস্যের গোলাম আযমকে গণ-আদালতে বিচারের দাবির সাথে একাত্ম ঘোষণা।
হ     ২৭ মার্চ    : স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা ‘সরকার যদি গণরায় বাস্তবায়ন না করে তা হলে জনতাই এ-রায় কার্যকর করবে।’
হ     ১৬ এপ্রিল    : ট্রাইব্যুনাল করে গোলাম আযমের বিচার। Ñ শেখ হাসিনার প্রস্তাব।
১৯৯৩
হ     ২৪ জানুয়ারি    : চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সভায় গুলি ও বোমা হামলা। আহত ৫০।
হ     ০১ ডিসেম্বর    : বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ জনসভায় শেখ হাসিনা, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’
হ     ২৩ সেপ্টেম্বর    : শেখ হাসিনার ট্রেন অভিযাত্রা। ঈশ্বরদী, নাটোরে ব্যাপক সন্ত্রাস, গুলি, বোমা। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আহত শতাধিক। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে বলে শেখ হাসিনার দাবি।
১৯৯৪
হ     ২৫ ডিসেম্বর    : শেখ হাসিনা মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন ত্যাগ করেন।
হ     ২৮ ডিসেম্বর    : জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, এনডিপি, জামাতের সদস্যদের একযোগে পদত্যাগ।
১৯৯৬
হ     ১৫ ফেব্রুয়ারি    : বিরোধী দলবিহীন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত।
হ     ৩০ মার্চ     : বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন।
হ     ১২ জুন    : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন।
হ     ০২ অক্টোবর    : ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দায়ের।
হ     ১২ নভেম্বর    : সংসদে ইনডেমনিটি বাতিল বিল পাস।
১৯৯৭
হ     ০১ জানুয়ারি    : ঐতিহাসিক বাংলা-ভারত পানিবণ্টন চুক্তি কার্যকর। পানিপ্রবাহ ছিল ৮২ হাজার কিউসেক। আগের বছর এ সময়ে পানি ছিল ৪২ হাজার কিউসেক।
হ     ১২ মার্চ    : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু।
হ     ২১ এপ্রিল    : বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু।
হ     ০২ ডিসেম্বর    : সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৯৮
হ     ১০ ফেব্রুয়ারি    : খাগড়াছড়িতে শান্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণের প্রথম পর্ব শেষ। প্রধানমন্ত্রীর সন্তু লারমাকে শান্তির প্রতীক গোলাপ ফুল প্রদান। বেলা ১২টা ৫২ মিনিটে শান্তিবাহিনীর ফিল্ড কমান্ডার ঊষাতন তালুকদারের নেতৃত্বে ৪৫৬ সশস্ত্র সদস্যসহ ৭৩৯ বিদ্রোহীর অস্ত্র সমর্পণ; নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তারা ৪৫৬টি অস্ত্র তুলে দেন।
হ     ১২ সেপ্টেম্বর    : প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বেসরকারি খাতে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র খুলনা বার্জ মাউন্টেড পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন।
হ     ০৪ নভেম্বর    : জেলহত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত।
১৯৯৯
হ     ১৬ মার্চ    : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বঙ্গবন্ধু চেয়ার উদ্বোধন।
হ     ০১ এপ্রিল    : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনেটর জর্জ মিশেল ইউনেস্কোর ১৯৯৮ সালের হুপোবেইনি শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত।
হ     ২৩ জুন    : শেখ হাসিনা কর্তৃক আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তীসহ ৮টি দেশের নিমন্ত্রিত রাজনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন।
হ     ০২ আগস্ট    : প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সম্মানসূচক সেরেস পদক লাভ।
হ     ১৯৯৬-২০০১    : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলÑ
Ñ বিএনপি আমলে খাদ্য উৎপাদন ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টনে উন্নীতকরণ। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার পথে দেশ। শেখ হাসিনার জাতিসংঘের ‘সেরেস’ পুরস্কার অর্জন।
Ñ ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়।
Ñ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি বন্ধ। পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর।
Ñ শেখ হাসিনার ইউনেস্কোর হুফে বয়েনি শান্তি পুরস্কার লাভ।
Ñ যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন।
Ñ নারীর ক্ষমতায়ন। স্থানীয় সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন প্রথা চালু। পিতার সাথে মাতার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা। প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মুদ্রাস্ফীতি ১.৪৯ শতাংশে নামিয়ে আনা। ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
২০০১
হ     ৩১ মার্চ    : ‘এদেশে রাজাকারদের ঠাঁই হবে না।’ Ñ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন ও মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মহাসমাবেশে শেখ হাসিনা।
হ     ১৭ মে    : শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দু’দশক উপলক্ষে পল্টনে ছাত্রলীগ সমাবেশে শেখ হাসিনাকে ‘দেশরতœ’ উপাধি প্রদান।
হ     ১৭ জুলাই    : প্রধান উপদেষ্টা সমক্ষে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন কিছু করা সমীচীন হবে না।’
হ     ২৩ জুলাই    : ‘নির্দলীয় সরকার আমাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরে নিয়েছে।’ Ñ শেখ হাসিনা। ইশতিয়াক আহমদ ও হাফিজউদ্দিন খানের উপদেষ্টা নিয়োগে তিনি তাদের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলেন।
হ     ০৮ আগস্ট    : ‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারানোর জন্য অতি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র চলছে।’ Ñ মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে শেখ হাসিনা।
হ     ২৭ আগস্ট    : ২৯৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা।
হ     ০১ অক্টোবর    : সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ চারদলের বিপুল বিজয়।
২০০২
হ     ২৬ ডিসেম্বর    : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।
২০০৪
হ     ২১ আগস্ট     : বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তাকে এবং তার অনুগামীদের হত্যার উদ্দেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। কানের পর্দা ফেটে গিয়ে আহত হন শেখ হাসিনা।
২০০৫
হ     ১৫ জুলাই    : ১৪ দলের ২৬ দফা রূপরেখা ঘোষণা : ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। প্রতিরক্ষা বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনস্ত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল কমিশনকে সহায়তা দেবে। ঋণখেলাপি ও ঋণখেলাপিদের জামিনদারও নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ এবং কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে তার স্বার্থ জড়িত আছে কি-না সে সম্পর্কে বিবরণ দিতে হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য যোগ্যতা এবং কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড আছে কি-না সে তথ্যসহ আনুষঙ্গিক তথ্যাদি মনোনয়নপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের ধর্মের সর্বপ্রকার অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করতে হবে।
২০০৬
হ     ১৬ এপ্রিল    : সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগ পাঁচ প্রতিনিধির নাম দিয়েছে : তোফায়েল আহমেদ, সংসদ সদস্যগণÑ আবদুল জলিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফরুল্লাহ।
হ     ৩০ অক্টোবর    : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধিরা বঙ্গবভনে। ১১-দফা প্রস্তাব ও নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান। অবরোধ স্থগিত।
হ     ০২ নভেম্বর    : মধ্যরাতে বঙ্গভবনে নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক। সকালে তফসিল ঘোষণা। মনোনয়নপত্র দাখিল ১০ ডিসেম্বর, ২১ জানুয়ারি ভোট। উপদেষ্টারা জানতেন না।
হ     ০২ ডিসেম্বর    : ভোটার তালিকায় ১.২২ কোটি ভুয়া নাম। অত্যধিক ব্যালট, কেরানির ভুল নির্বাচনের ফলকে গ্রহণযোগ্য করবে না। Ñ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট।
হ     ১০ ডিসেম্বর    : প্রধান উপদেষ্টা সেনা মোতায়েনের পক্ষে জাতির উদ্দেশে তার বক্তব্য রাখেন।
: সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রাষ্ট্রপতি অন্যায় করেছে Ñ শেখ হাসিনা।
২০০৭
হ     ০৩ জানুয়ারি    : মহাজোটের নির্বাচন বর্জন। রাষ্ট্রপতির প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি।
হ     ১২ জানুয়ারি    : ড. ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
হ     ২৬ জানুয়ারি    : জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ জারি : মিছিল, সভা-সমাবেশ, হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও, ধর্মঘট, লকআউট ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
হ     ১৮ এপ্রিল    : হাসিনার দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞা। শেখ হাসিনার কোনো বক্তৃতা বা মন্তব্য যেন টেলিকাস্ট বা ছাপানো না হয় তার জন্য পরবর্তী আদেশ সাপেক্ষে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলেছে এক মেজরের বার্তা। দ্যা ডেলিস্টার এই সংবাদের সাথে উল্লেখ করে যে বিবিসি বাংলা সার্ভিসে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
হ     ২৫ এপ্রিল    : শেখ হাসিনার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। খালেদার দেশ ত্যাগে কোনো চাপ বা চলাচলে কোনো বাধা নেই।
হ     ০৬ মে    : শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে অনুমতি পেয়েছেন ১০ নেতা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজপথে লাখো জনতা।
হ     ০৭ মে    : ‘আমাকে আসতে বাধা দিয়ে যে ভুল করা হয়েছে, আশা করি এমন ভুল আর হবে না।’ Ñ দেশে ফিরে শেখ হাসিনা।
হ     ১৬ জুলাই    : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কারান্তরীণ থাকেন। চিকিৎসা শেষে ৪ ডিসেম্বর স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।
২০০৮
হ     ০৭ জুন    : ৭ জুন থেকে ৩০ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৬-দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা ও ১৫ থেকে ৩০ জুন জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
হ     ১২ ডিসেম্বর    : শেরাটনের উইন্টার গার্ডেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ’ উপস্থাপন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
হ     ২৯ ডিসেম্বর     : নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৪টি আসন লাভ করে।
২০০৯
হ     ০৬  জানুয়ারি     : জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ।
হ     ২৪ জুলাই    : আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০১০
হ     ১২ জানুয়ারি    : বিশ্বখ্যাত ‘ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক ২০০৯’-এ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।
২০১২
হ     ১৪ মার্চ    : মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইটলসের রায়ে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
হ     ১৯ জুন    : ছোট বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ ও এর ইংরেজি সংস্করণ ‘ঞযব টহভরহরংযবফ গবসড়রৎবং-’এর মোড়ক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা। ৯ জুলাই গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসবে তিনি বলেন, ‘জাতির সম্পদ জাতির হাতে তুলে দিলাম।’
হ     ১০ আগস্ট    : দেশের প্রথম ডিজিটাল কোরআন শরিফ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হ     ১৪ অক্টোবর    : টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি উদ্বোধন করেন তিনি।
হ     ১৭ ডিসেম্বর    : সাধারণ অধিবেশনের সভায় ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব পাস হয়।
হ     ২৯ ডিসেম্বর    : আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০১৩
হ     ০৪ আগস্ট    : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসাধারণের জন্য খুলে দেন স্বপ্নের কুড়িল ফ্লাইওভার।
হ     ১৮ আগস্ট    : গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশি পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহায়তায় বিজ্ঞানী মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল গবেষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয় যুগান্তকারী এ সফলতা।
হ     ২৩ সেপ্টেম্বর    : দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে  ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ পুরস্কার লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী।
হ     ০২ অক্টোবর    : পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হ     ১১ অক্টোবর    : রাজধানীতে নির্মিত দেশের বৃহত্তম ফ্লাইওভার ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়াল সেতু’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
হ     ২১ নভেম্বর    : আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন।
২০১৪
হ     ০৫ জানুয়ারি    : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।
হ     ১২ জানুয়ারি    : তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
২০১৫
হ     ৫ জানুয়ারি    : বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে অবরোধ-হরতালের নামে পেট্রোলবোমা, গান পাউডার, ককটেল, অগ্নিসংযোগ এবং গোলাগুলি করে টানা ৯০ দিনে ১৪০ মানুষকে হত্যা, ৩৫০ মানুষকে অগ্নিদদ্ধ করা এবং ১ হাজার ৫০০ মানুষকে আহত করার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সফলভাবে পরিচালনা করে।
হ     ২৯ মে    : সমুদ্র বিজয়, ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসহ জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে নেতৃত্ব দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক কমিটি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেন।
সংকলন : সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল

Category:

মানুষের ভাগ্য ও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাশত করা হবে না

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
50উত্তরণ প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের নামে দেশের মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সহ্যেরও সীমা আছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াতের হাত ধরে অবরোধের নামে মানুষ খুন করা হবে, আর আমরা তা নীরবে সহ্য করব এটা হবে না। দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে যা যা করণীয় সরকার তা করবে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো সময় আছে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করুন, নতুবা জনগণ ক্ষেপে গেলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। মানুষের ভাগ্য ও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর বরদাশত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের নামে কারা বোমা মারছে, বোমা তৈরি করছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিন। তাদের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন আর রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের নেত্রী। আমরা আর তাকে জনগণের শান্তি বিনষ্ট করতে দেব না। সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবাজদের আন্দোলনে দেশের জনগণ সাড়া দেবে না। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরে, জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালিয়ে দেশের এই অগ্রযাত্রাকে কেউ ব্যাহত করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এই জনসভার আয়োজন করে। বিএনপি-জামাত জোটের আহূত ‘হরতাল-অবরোধ’ উপেক্ষা করে লাখো মানুষের ঢল নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ঢাকা মহানগর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক, সাধারণ মানুষ এই জনসভায় যোগ দেন। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। গোটা মহানগরী মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকেই রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হন। ওইদিন দুপুর সাড়ে ৩টায় যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে পৌঁছেন, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। উপচেপড়া মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।
বিশ্ব ইজতেমার মধ্যেও অবরোধ প্রত্যাহার না করায় খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব ইজতেমা হয়ে গেলো, হাজার হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেয়। বিশ্বের মুসলমানদের দ্বিতীয় জমায়েত এটা। জামাত ধর্মের নামে রাজনীতি করে আর উনি (খালেদা জিয়া) ইসলামের ধ্বজা ধরে থাকেন। তা হলে ইজতেমার সময় অবরোধ কেন করেন? সহ্যেরও একটা সীমা থাকে। ইসলামের প্রতি সামান্য দরদ থাকলে খালেদা জিয়া অবরোধ বহাল রাখতে পারতেন না। তবে উনি অনেক চেষ্টা করেছেন, মুসল্লিদের ঠেকাতে পারেন নি। আওয়ামী লীগসহ দেশের জনগণ পাহারা দিয়েছে, যাতে মুসল্লিদের আসা-যাওয়াতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়ার পরিবারসহ সকল অফিসারের পরিবারকে ফিরিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধের গেরিলারা ঢাকায় এসেছিলেন। খালেদা জিয়াকে আনতে গেলে উনি জানান, পরদিন যাবেন; কিন্তু পরদিনই উনি পালিয়ে গেলেন, পাকিস্তানি আর্মি অফিসার আসলাম বেগের আতিথেয়তা নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে চলে গেলেন উনি। যাওয়ার সময় জিয়াকে ম্যাসেজ দিয়ে যান, যুদ্ধ করে কিছু হবে না। তুমি পাকিস্তানে চলে যাও, আমিও যাব। এখানেই শেষ নয়। দেশে কিছু অঘটন ঘটার আগেই উনি পালিয়ে যান, আত্মগোপনে থাকেন। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ও হঠাৎ করেই উনি তিন দিন লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন। পরে এরশাদ সাহেব পূর্বাণী হোটেলের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। ১৯৮৬ সালেও সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা বলে তিন দিন উনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার পালানো বা আত্মগোপনে থাকার পেছনে সব সময় একটা ষড়যন্ত্র থাকে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিডিআর বিদ্রোহের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের দুই ঘণ্টা আগে উনি (খালেদা জিয়া) ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। বিদ্রোহ ঘটার দুই ঘণ্টা আগে উনি পালালেন কেন? আসলে উনি যখনই ষড়যন্ত্র করেন, তার আগে আত্মগোপনে চলে যান। এর ধারাবাহিকতায় এবার উনি খাট, সোফা, গদি নিয়ে উঠলেন গুলশান কার্যালয়ে। পত্রিকায় বেরিয়েছেÑ কয়েক দফা উনি গদি পরিবর্তনও করেছেন। নিজে পালাবেন আর বলবেন অবরুদ্ধÑ এটা কেমন রাজনীতি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নকারীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সর্বোচ্চ দুটি পদে আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যদি বৈধই না হতো, তা হলে এতগুলো দেশের ভোট বাংলাদেশ পেতো না। তিনি বলেন, সারাবিশ্ব বুঝে না, বুঝেন শুধু উনি (খালেদা জিয়া) আর উনার কুলাঙ্গার পুত্র (তারেক জিয়া), যে মুচলেকা দিয়ে গিয়েছিল আর রাজনীতি করবে না বলে। ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন খুলে মানুষ হত্যা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারÑ সবই করেছে। মানি লন্ডারিং মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। যেমন মা তেমনই তার পুত্র! দেশের মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার শুরু করেছে। লন্ডনে বসে দেশের মানুষ হত্যা করছে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এমপি, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশাররফ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আমল প্রমুখ। জনসভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত
যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গত ১০ জানুয়ারি পতাকা উত্তোলন, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শেখ হাসিনা পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর বিভিন্ন দল ও সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।

ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না আওয়ামী লীগ : সৈয়দ আশরাফ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, জেনারেল জিয়া ও পরবর্তীতে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক বাহিনীর পোশাক পরে ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল গঠন ও ক্ষমতায় আসীন হলেও আওয়ামী লীগ কখনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। গত ১৪ জানুয়ারি নরসিংদী মোছলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট আসাদোজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও নরসিংদী সদরের এমপি লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীম, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ প্রমুখ। প্রধান অতিথির ভাষণে সৈয়দ আশরাফ বলেন, পৃথিবীতে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছে। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি অগাধ বিশ্বাস আছে বলেই। সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু বীরপ্রতীককে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূইয়াকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। গত ৮ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত প্রথম পর্বের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। খালেদ জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি নাটক করছেন। আপনি যদি সত্যিকারের অসুস্থ হয়ে থাকেন, তা হলে আমাকে বলেন। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়ে কথা দিচ্ছি, মেডিকেল বোর্ড পাঠিয়ে আপনাকে সুস্থ করে তুলব। আগামী নির্বাচনে আপনাকে পরাজিত করে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে মোহাম্মদ নাসিম এমপি আরও বলেন, আপনি একাই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতি যখন মাঠে নামে, তখন ভাববেন ওই বাহিনীর পতন অনিবার্য। আপনার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। আপনার পেছনে আপনার কোনো নেতাকর্মী এখন আর নেই। কেউ আপনার ডাকে আর সাড়া দেবে না। আওয়ামী লীগ আন্দোলনের ভয় করে না। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান এমপি, সদস্য এসএম কামাল হোসেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ এমপি, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়–য়া, ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের নাজমুল হক প্রধান এমপি, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত প্রমুখ।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
যারা আন্দোলনের কথা বলে সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে না। জনগণকে নিয়ে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। গত ১৭ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কথা বলেন।
মানিকগঞ্জ বিজয় মেলা মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন আহম্মেদ। সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল হুদা সেলিমের উপস্থাপনায় প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। অতিথি ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপি, সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মমতাজ বেগম এমপি। প্রধান অতিথি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, দেশকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের হাত থেকে রক্ষা করে আরও এগিয়ে নিতে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জয়ের ধারা ধরে রাখতে হবে। আর সে জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরও বেশি করে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। প্রধানবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ১৪ দল নেতা নাজমুল হক প্রধান এমপি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক প্রধান। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলারদের ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

Category:

উৎসবমুখর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক

53বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল দেখে মনে হয়, বগুড়া বিএনপির নয়, এটা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে দেশে মার্শাল ল’ জারি হতো, তা হলে আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন করা সম্ভব হতো না। আর সেই নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার সহযোগী মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকা- চালিয়েছেন। এসব ঘটনার জন্য বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম বিচার করা দরকার।
বগুড়া জিলা স্কুলে মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গত ১০ ডিসেম্বর তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের ট্রেন ফেল করেছে। ট্রেন চলে গেছে, নির্বাচনের ট্রেনের জন্য ২০১৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি যত আন্দোলনের হুমকি দিক, পাঁচ বছরের একদিন আগেও কোনো নির্বাচন হবে না। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যাটট্রিক করবেন ইন্নশা আল্লাহ। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এমপি,কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবর রহমান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মজিবুর রহমান মজনু প্রমুখ।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি বলেছেন, ’৭১-এ দেশ স্বাধীনের জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লড়েছিলাম, এখন দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়ে যাচ্ছি। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী কাউন্সিল অধিবেশনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির 54আহমেদ। দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দলীয় পতাকা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ত্রি-বার্ষিক এ কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ এমপি। আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, সাবেক মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এমপি, আবদুল মান্নানসহ জেলা নেতারা। সন্ধ্যায় সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় কাউন্সিল। এতে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বেনজির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান নির্বাচিত হন। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এ কমিটি ঘোষণা করেন। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে ৩৫০ কাউন্সিলর তাদের নেতা নির্বাচিত করেন।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খালেদা জিয়া কস্মিনকালেও আন্দোলন জমাতে পারবেন না। তাই বিএনপিও আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসবে না। দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ২০ ডিসেম্বর পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, কার্যকরী সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন, গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, খন্দকার আজিজুল হক আরজু এমপি, আবদুল কুদ্দুস এমপি, পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, আবদুল হামিদ মাস্টার, মকবুল হোসেন এমপি, সেলিমা বেগম স্বপ্না এমপি, আবুল কালাম আজাদ বাবু, চন্দন চক্রবর্তী, আবদুল হামিদ মাস্টার, ফজলুল হক মন্টু, জাহাঙ্গীর কবির রানা, খ ম হাসান কবির আরিফ, মিজানুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক টুকু এবং দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ বাবু। এদিকে, সম্মেলনে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি সভাপতি পুনর্নির্বাচিত, এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স সাধারণ সম্পাদক এবং রেজাউল রহিম লাল সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। রাতে সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনজনের নাম ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাতকে রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নৈরাজ্যকারীদের এদেশে আর কোনো হত্যাকা- চালাতে দেওয়া হবে না। রাজাকার জামাতকে সঙ্গে নিয়ে এদেশে নৈরাজ্য ও তা-ব চালাতে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। মোহাম্মদ নাসিম গত ২৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা খাইরুজ্জমান লিটন এমপি, মির্জা আজম এমপি, আবদুল ওয়াদুদ এমপি, গোলাম মোস্তফা এমপি, গোলাম রব্বানি এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নওগাঁ জেলা সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন, থাকবেন। শেখ হাসিনা জনগণের সমর্থন নিয়ে আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক করবেন। পক্ষান্তরে, খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। খালেদা জিয়া জামাতকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। নওগাঁ নওজোয়ান মাঠে গত ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বর্তমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক এমপি সভাপতি ও সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম ফজলে রাব্বী বকুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আবদুল মালেক এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, মো. ইসরাফিল আলম এমপি, মো. ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, সাবেক এমপি শাহীন মনোয়ারা হক, সাবেক এমপি ওহিদুর রহমান, মরহুম জননেতা আবদুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দীন জলিল জন প্রমুখ।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অতীতেও অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং অনেকে আওয়ামী লীগের মাথা কেটে ফেলতে চেয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং তারাই ইতিহাসের আস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে সেই সংগ্রামে তৃণমূল নেতৃকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে জেলার মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একাব্বর হোসেন এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি এবং উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর খান মেনু, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান ফারুকসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় রানি ভিক্টোরিয়া। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে বিএনপি দেশি ও বিদেশিদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, তবে মনে রাখতে হবে ২০১৯ সালের একদিন আগেও জাতীয় নির্বাচন দেওয়া হবে না। আর সেই নির্বাচনেও জিতে শেখ হাসিনা হ্যাটট্রিক করবেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে উদ্বোধনী বক্তা মোহাম্মদ নাসিম এমপি এসব কথা বলেন। অতিথির বক্তব্যে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজাকার, আলবদরের দল নয়। আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমার বাবাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাই আমাদের শরীরে রাজাকার, আলবদরের রক্ত নেই। এটাই আমাদের আত্মশুদ্ধতা। সম্মেলনে দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. ফারুক খান এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষিত হয়। সভাপতি পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসাদুজ্জামান আসাদ নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গত ৩০ ডিসেম্বর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ পালনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দলের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার ব্যর্থ আন্দোলনের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম এমদাদুল বারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি সভাপতি এবং আল-মামুন সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম তাজুল ইসলাম এমপি, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক এমপি, নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী প্রমুখ।

Category: