Blog Archives

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সমস্যা অমানবিক ষড়যন্ত্র

এ-কথা সর্বজন স্বীকৃত যে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি মানবিক সমস্যা। এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ ন্যায়সংগত একমাত্র সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গারা যে দেশের নাগরিক, সেই মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন। এই সমস্যাটি উপেক্ষা করা বা জিইয়ে রাখা কেবল বাংলাদেশের জন্যই সংকট ডেকে আনবে না, মিয়ানমার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও একটি বিস্ফোরক উপাদান হিসেবে সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ইচ্ছে করলেও সংকটের উপায় থেকে বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোও রক্ষা পাবে না।
সম্প্রতি আমরা লক্ষ করছি, দেশের ভিতরে ও বাইরের কিছু অপশক্তি এই মানবিক সমস্যাটিকে নিয়ে অমানবিক নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। রোহিঙ্গাদেরও এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। অতীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশ ভূখ-ে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে এবং আরাকান অঞ্চলের রোহিঙ্গাদের নিয়ে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সংগঠিত করার কাজে যেমন মদত জুগিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যও নানারকম ফন্দিফিকির করেছে। আরাকান লিবারেশন আর্মি, আরাকান আর্মি (এএ), আরাকান লিবারেশন ফ্রন্ট (এএলপি), আরাকান লিবারেশন পার্টি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা ফোর্স, আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এআরএনও), ইউনাইটেড স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব আরাকান মুভমেন্ট, ডেমোক্রেটিক পার্টি অব আরাকা, মুসলিম লিবারেশন ফ্রন্ট অব বার্মা, রোহিঙ্গা ইন্ডিপেন্ডেস ফোর্স, রোহিঙ্গা ইন্ডিপেন্ডেস ফোর্স, রোহিঙ্গা ইসলামি ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, লিবারেশন মিয়ানমার ফোর্স প্রভৃতি নামে সশস্ত্র গ্রুপগুলো বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রামে হেড কোয়ার্টার করে অস্ত্র চোরাচালানি, ড্রাগ চোরাচালানিসহ নানারকম সমাজবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছিল। ঐ সময়ের জোট সরকারের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ২০০৯ সরকার গঠনের পর জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হস্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সকল রকম বে-আইনি সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ করে দেয়। অস্ত্র চোরাচালানি, ড্রাগ চোরাচালানির মতো অপরাধকে জিরো টলারেন্স নিয়ে মোকাবিলা করা হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তকে শান্তির সীমান্ত হিসেবে স্থিতিশীল রাখার জন্য দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশের ভেতরে মিয়ানমার-ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কোনো ইসলামি গ্রুপ যাতে ঠাঁই না পায়, বাংলাদেশের ভূ-খ- ব্যবহার করার সুযোগ যাতে তারা না পায়, তা নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশের এই অবস্থানের ফলে যেমন ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপই দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তেমনি মিয়ানমারেরও কয়েকটি বামপন্থি বিদ্রোহী গ্রুপ, যেগুলো বাংলাদেশের (বান্দরবান) দুর্গম অরণ্য ও পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়ত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিতাপের বিষয় মিয়ানমার, না বাংলাদেশের প্রস্তাব, না কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবÑ কারও প্রস্তাবই গ্রহণ করেনি। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোকে সেদেশে পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট একটি গ্রুপকে সেদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও, দেশে ফিরে যেতে একজন রোহিঙ্গাও রাজি হয়নি। উপস্থিত জাতিসংঘ, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে ব্যর্থ মনোরথ হন।
রোহিঙ্গারা নিজ দেশে যাতে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য সেদেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার, এখনও সেই নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এজন্য মিয়ানমারই দায়ী। তাদেরই তাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
বাংলাদেশ জোর করে কাউকে মিয়ানমারে ঠেলে দিতে পারে না। এই মানবিক সমস্যাটির সমাধানের জন্য আরও বহুমুখী ধৈর্যশীল প্রচেষ্টা যেমন চালাতে হবে, তেমনি অনির্দিষ্টকাল এজন্য অপেক্ষা করার মতো সময় আমাদের নেই।
দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণ থাকার পর হঠাৎ করেই ২০১৭ সালে মিয়ানমার তার দেশের জাতিগত সংখ্যালঘু লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। প্রবল বন্যা স্রোতের মতো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে। সে-সময়ে বিএনপি ও দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওদের কথায় নয়, একান্ত মানবিক কারণে এ মানুষগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা একবেলা খেয়ে হলেও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করব।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমস্যাটিকে তুলে ধরেছেন। সমস্যাটির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিকÑ সকল বিকল্পগুলো ব্যবহার করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কোনো কোনো শক্তিধর দেশ, অযাচিতভাবে মিয়ানমার আক্রমণের জন্যও বাংলাদেশকে প্ররোচিত করেছে। প্রকাশ্যেই প্রধানমন্ত্রী এসব উদ্ভট তত্ত্ব ও উসকানিমূলক বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘কোনো দেশের এক ইঞ্জি জমির প্রতি আমাদের লোভ নেই। আমরা শান্তিতে বিশ^াসী।’ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে পাঁচ-দফা প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি কমিশন করেছিল। কফি আনান কমিশনকে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী সেদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। তা সত্ত্বেও কফি আনান কমিশন যে সুপালিশ করে, বাংলাদেশ তার প্রতিও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে।
আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, বিএনপিসহ কোনো কোনো মহল এখন সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার ধুয়া তুলে পানি ঘোলা করার চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে সন্দেহভাজন কিছু দেশি-বিদেশি এনজিও’র তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতি সম্প্রতি আকস্মিকভাবেই রোহিঙ্গাদের একটি বিশাল সমাবেশও নানা সন্দেহ-সংশয় এবং প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এদের শক্তির উৎস কোথায়? এই দুঃসাহস তারা কোথা থেকে পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নিরাপত্তার যে ব্যবস্থা সরকার করেছে, ব্যবস্থাপনায় যে অতিমানবিক সাফল্য শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন, তা বিশ^ব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তারপরও কেন এই ষড়যন্ত্র? কারা তারা? ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে কর্মরত সন্দেহভাজন ৪১টি এনজিও-র তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে তা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সময় এসেছে কঠোর হওয়ার। সময় এসেছে সমস্যা সমাধানে নতুন ও বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর অখ-তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল তেমনি নিজের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে থাকে। আমরা তাই আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেই রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে যা কিছু করণীয় করব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বাংলাদেশস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে বাংলাদেশের এই নীতি অবস্থানের কথাই দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে চীনের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকেও এই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ৫-দফা সমাধানসূত্রই বাংলাদেশের রোহিঙ্গা-নীতি-কৌশলের দিক-নির্দেশনা।

Category:

দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত দেশবাসী হুঁশিয়ার

Posted on by 0 comment

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের সীমা পেরিয়ে দেশ এখন ‘উন্নয়নশীল’-এর কাতারে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে যাবে। আগামী পাঁচ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচ বছরের মধ্যে পদ্মাসেতু চালু হবে। ঢাকায় মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মংলাসহ একাধিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম কর্ণফুলির তলদেশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ (টানেল) এবং গভীর সমুদ্র বন্দর প্রভৃতি চালু হলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় তার ইতিবাচক প্রভাব, বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নশীল’ হতে ‘উন্নত’ দেশের সোপানে পৌঁছে দেবে। আশা করা যায়, ২০৩০ সালে মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে।
এসব সম্ভাবনা কোনো তত্ত্বকথা বা অনুমাননির্ভর ভবিষ্যৎ বাণী নয়। আমরা চর্মচোখেই দেখতে পাচ্ছি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন ঘটছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এক শ্রেণির রাজনৈতিক এবং বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি আছে, যারা বাংলাদেশের উন্নতি দেখতে চায় না। অতীতে দেশ চালাতে ব্যর্থ এবং বর্তমানে জনগণের আস্থা অর্জনে অক্ষম হতাশ রাজনৈতিক শক্তি, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ঠেকাতে চায়। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ নিঃশেষিত হবে। শত চেষ্টা করেও তারা সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসতে পারেনি। এখন তারাই মরিয়া হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।
সম্প্রতি ‘পদ্মাসেতু’তে শিশু বলি লাগবে বলে গুজব রটানো, ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি, শিশু ও নারী ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা প্রভৃতি ঘটনা দেশে একটা অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা বলে প্রতিভাত হয়। গুজব ছড়িয়ে উসকানি দিয়ে নানা জায়গায় নিজেদের হাতে আইন তুলে নেওয়া, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং চরম অসহিষ্ণুতা সৃষ্টির একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র সচেতন দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না।
এ-কথা একজন দুগ্ধপোষ্য শিশুও বুঝতে পারে, পরাজিত শক্তিগুলো চুপচাপ বসে থাকবে না। তারা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে শত চেষ্টা করেও মাঠে নামাতে পারেনি। মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। আর সে কারণেই জনগণের শক্তিতে গণ-আন্দোলনে তাদের কোনো বিশ^াস নেই।
দেশবাসী ভুলে যায়নি, অতীতেও সামাজিক গণমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়, তাদের বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়েছে। এমন কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে চাঁদে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুখ দেখা গেছে বলে প্রচার এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘরে, থানায় আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সরকার কঠোর হাতে এসব অপশক্তিকে প্রতিরোধ করেছে। মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছে।
এবার ষড়যন্ত্রের আরও সুবিস্তৃত জাল বিছানো হয়েছে। তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য মোক্ষম সময় বেছে নিয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বিদেশে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজ ছাড়াও চোখের চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই সপ্তাহের মতো লন্ডনে অবস্থান করবেন জেনেই, চক্রান্তকারী অপশক্তি তৎপর হয়ে ওঠে। তারা ভেবেছে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে, কোনো অপশক্তি অসাংবিধানিক পন্থায় হস্তক্ষেপ করার অজুহাত পাবে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারবে।
দৃশ্যত ছেলেধরা, অপহরণ, যৌন নিপীড়ন বা পদ্মাসেতুতে শিশু বলির গুজবে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা চোখে পড়বে না। কিন্তু বাংলাদেশের তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, রাজনৈতিক মহলের পরিকল্পনা, অর্থ এবং সংগঠিত ক্যাডারদের লেলিয়ে দেওয়া ছাড়া এ-ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা দু-একটি হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে বহুমুখী আক্রমণ এবং অপতৎপরতা স্বতঃস্ফূর্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেও শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। পরাজিত শক্তির কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হবে না। তবুও সাধু সাবধান! দেশের শত্রুদের খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আমরা তাই গুজবে কান না দেওয়া, আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পাশাপাশি যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সদাসতর্ক ও হুঁশিয়ার থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

Category:

কার স্বার্থে বাজেট?

Posted on by 0 comment

একাদশ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়ে গেছে। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এটাই প্রথম বাজেট। অন্যদিকে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপিও প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ করলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আকারের এই বাজেট। যেমন বেড়েছে ব্যয় বরাদ্দ, তেমনি সম্ভাব্য আয়ের উৎস। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিশাল বাজেট কার স্বার্থে?
এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর হলো, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। কিন্তু আমাদের এই উত্তরে অনেকেই সন্তুষ্ট হবেন না। তারা হতে পারেন ডান-বাম মিলিয়ে বিরোধী দলের। আবার নাগরিক সমাজেরও অনেকের মনে এই প্রশ্নটি থাকা স্বাভাবিক।
বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় মৌলিক কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। বিভিন্ন খাতওয়ারি আলোচনায় জনপ্রতিনিধিগণ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি যেমন জানিয়েছেন, তেমনি এই বাজেট কতটা জনবান্ধব তারও অনুপুঙ্খ আলোচনা করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে সংসদ সদস্যগণ বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার পর যার যার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাব ইত্যাদি তুলে ধরেছেন।
সংসদের ভিতরে-বাইরে, বাজেট নিয়ে যেসব সমালোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ ১. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা ২. ঋণখেলাপিদের বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ ৩. ধানের দাম ৪. মাথাপ্রতি আয় বাড়ার পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য এবং ৫. দুর্নীতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তৃতা এবং বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ভাষণে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ‘উট পাখি’ নয়। কোনো সমস্যা বা প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা নেই আওয়ামী লীগের। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আছে বলেই মানুষ যেমন আওয়ামী লীগের কাছে বেশি প্রত্যাশা করে, তেমনি আওয়ামী লীগকেই তাদের ভরসাস্থল মনে করে।
‘কালো টাকা’ সমস্যাটি নতুন নয়। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা Ñ সামরিক ও বেসামরিক স্বৈরাচার এই উত্তরাধিকারটি জনগণের ওপর চাপিয়ে গেছে। কালো টাকা ও দুর্নীতির দায়ে যেখানে একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) আইনের বিচারে দ-প্রাপ্ত হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র মানিলন্ডারিংয়ের দায়ে এফবিআই-এর সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দ-প্রাপ্ত হয় এবং যেখানে তাদের (কোকো-তারেক) পাচার করা টাকা বিদেশে ধরা পড়ার পর সেখানকার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার মতো ঘটনা ঘটে; বুঝতে হবে কালো টাকা, পাচার ও দুর্নীতির উৎস কোথায় ছিল, তার শেকড় কত গভীরে। খেলাপি সংস্কৃতি এবং দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগ অতীতের উত্তরাধিকার হিসেবেই পেয়েছে। তবে দুর্নীতির ব্যাপারটি আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেই ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা ঘোষণা করেছে। একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেই মানুষ বুঝতে পারবে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কোনো ফাঁকা কথা বলেন নি।
বাংলাদেশের মাথাপ্রতি আয় ২ হাজার ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। প্রবৃদ্ধি ও মাথাপ্রতি আয় একদিকে যেমন একটি দেশের সম্পদ বৃদ্ধি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরিচায়ক, অন্যদিকে এই দুটি সূচক বাড়লেই তার অংশীদারিত্ব যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পাবে, তা কিন্তু স্বতঃসিদ্ধ নয়। এখানেই রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকা বিচার্য। আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনা কেবল সম্পদ সৃষ্টিই নয়, সম্পদের সুষম বণ্টনের নীতিতে বিশ্বাসী। সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য নির্মূলে এই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গা শব্দটি নির্বাসিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ক্রমবর্দ্ধমান হারে হতদরিদ্র মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ধনী-দরিদ্র্যের আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ‘কল্যাণ অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
উত্তরণ-এর চলতি সংখ্যাটি আমরা একটু ভিন্নভাবে সাজিয়েছে। বাজেট কার স্বার্থে? Ñ এই প্রশ্নের সরাসরি ও সহজবোধ্য তথ্য পরিসংখ্যান এবং গ্রাফিক্স দিয়ে পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আমাদের এই উদ্যোগের ফলে বাজেট নিয়ে উত্থাপিত সকল প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব পাওয়া যাবে। মোদ্দা কথা বাজেট জাতীয় স্বার্থে। জাতীয় স্বার্থ-হতদরিদ্র মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে; এগিয়ে যাবে।

Category:

আওয়ামী লীগ চিরজীবী হোক

Posted on by 0 comment

৭০ বছর অতিক্রম করল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ তৎকালীন পরপদানত পূর্ববাংলা তথা পাকিস্তানের রাজনীতির দৃশ্যপট বদলেরও সূচনালগ্ন হিসেবে চিহ্নিত। আওয়ামী লীগের জন্ম ছিল পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক ধরনের শাসন-শোষণ এবং মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক-স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য ফল। ১৯৪৬ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে বাংলার মুসলমানদের ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল মুসলিম লীগ। মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জজবা যেমন মানুষকে সাময়িকভাবে হলেও সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শে আচ্ছন্ন করেছিল, তেমনি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে বাঙালি মুসলমান এক ধরনের সামাজিক মুক্তি, উন্নত-জীবন ব্যবস্থা ও ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখেছিল। বলাবাহুল্য, দেশভাগ কেবল বাংলার মুসলমানরাই চায়নি, বাঙালি উচ্চবর্ণের হিন্দু, জমিদার, মহাজন, অভিজাত, মধ্যবিত্তরাও দেশভাগ চেয়েছিল। তারা শরৎবসু-হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অখ- স্বাধীন বাংলার বিরোধিতা করেছে। বর্ণ, হিন্দু ও হিন্দু মহাসভা এবং জনসংঘের নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বে বেঙ্গল কংগ্রেসও বাংলায় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভয়ে বাংলা ভাগের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করে।
বাঙালির নিজস্ব জাতি-রাষ্ট্রের ধারণাটি কী হিন্দু কী মুসলমান কারও মনেই দাগ কাটতে পারেনি। অনিবার্য হয় বাংলা ভাগ।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগোষ্ঠীর মোহমুক্তি ঘটতে শুরু করে। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের এবার জাতিগত নিপীড়ন, বৈষম্য ও শোষণের মাত্রা এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে, পূর্ব বাংলার মানুষ বুঝতে পারে তারা ইসলামের নামে, ধর্মের নামে নতুন এক ঔপনিবেশিক শাসনের ফাঁদে আটকা পড়েছে। রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অস্বীকৃতি এবং বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি, তাদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন ধারার প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বাংলার জনগণকে ক্রমশ সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শগত আচ্ছন্নতা কাটাতে সাহায্য করে।
কিন্তু এই কাজটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়নি। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালির জাতীয় জাগরণ এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ভাষা সংগ্রামের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়Ñ আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কীর্তি। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় কেবল নয়, একটি আত্মমর্যাদাশীল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামান তাদের জীবন দিয়ে সেই অঙ্গীকারের মূল্য পরিশোধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ গ্রহণের সেই ষড়যন্ত্র ’৭৫-এর ট্র্যাজেডি সৃষ্টি করে। তা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতির পিতার অঙ্গীকার ও স্বপ্ন জয়ের পথে অকুতোভয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ৭০ বছরের মাথায় বাংলাদেশ আজ বহুলাংশে সেই স্বপ্ন জয় করে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ। দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে পা বাড়িয়েছে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে আওয়ামী লীগ ৭০ বছরের গৌরব ও সাফল্যের জয়গানে মুখরিত হবে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগের জন্ম এবং সংগ্রাম ও নেতৃত্ব ছাড়া ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব যেমন সম্ভব ছিল না, তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের সুখী সুন্দর জীবনের স্বপ্নও কোনোদিন পূরণ হতো না। আওয়ামী লীগের ৭০ বছর পূর্তির এই দিনে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দের স্মৃতির প্রতি নিবেদন করছি শ্রদ্ধাঞ্জলি। অভিনন্দন জানাচ্ছি প্রিয় দেশবাসীকে। যাদের রক্তে, শ্রমে, ঘামে, আত্মত্যাগ ও অবদানের ফলে ছোট্ট চারাগাছ থেকে আওয়ামী লীগ আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে, আমরা সেই জানা-অজানা লাখ লাখ আওয়ামী লীগ কর্মী, নেতা, সংগঠক এবং সমর্থকদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা ও উষ্ণ অভিনন্দন। অভিনন্দন জানাই, গভীর সংকটকালে, নেতৃত্বের শূন্যতার বৈরী পরিবেশে জীবনকে বাজি রেখে যে নেত্রী ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন এবং আওয়ামী লীগকে জনসমর্থনপুষ্ট অপ্রতিদ্বন্দ্বী বৃহৎ দলে পরিণত করেছেন, সেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে। আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের জীবনের ৩৫ বছরই জননেত্রী শেখ হাসিনা দলটির হাল ধরে থেকেছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে বর্তমানে অনন্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আজকের দিনে দেশবাসীর ঐকান্তিক কামনাÑ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। অপ্রতিরোধ্য আওয়ামী লীগ কেবল অতীত বর্তমান নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের নির্মাতা। আওয়ামী লীগ চিরজীবী হোক।

Category:

বিএনপি : বিনোদনের জন্য একটি ‘কৌশলগত’ পার্টি

Posted on by 0 comment

PMনূহ-উল-আলম লেনিন: গাধা না-কি পানি ঘোলা না করে খায় না। বাজা দলের অর্থাৎ বিএনপি’র অবস্থা হয়েছে তাই। অবশেষে দলটি ‘বিশ^াসঘাতক’ এবং ‘বেইমান’ হিসেবে নিজেদের নাম লেখালো বিএনপি। পাঠক, ভুল বুঝবেন না, ওই দুটি বিশেষণ আমরা ব্যবহার করিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা প্রকাশ্যেই গণমাধ্যমের কাছে গত ২৮ এপ্রিলও ঘোষণা করেছিলেন, বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করলে এবং জাতীয় সংসদে যোগদান করলে তারা ‘বিশ^াসঘাতক’ ও ‘বেইমান’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংসদ অধিবেশনেও যোগদান করেন।
অথচ এর আগে ২৭ এপ্রিল বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণ করায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিএনপি তাদের নির্বাচিত ছয় সদস্যের শপথ গ্রহণ ও সংসদে যোগদান নিয়ে গত প্রায় চার মাস যাবত মেলোড্রামা মঞ্চস্থ করে আসছে। ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার মতো কোনো অবস্থাতেই এই ‘অবৈধ’ পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণার পাশাপাশি, তারা সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লাগামহীন অপপ্রচার চালিয়েছে। বলেছে, সরকার বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, ভয়-ভীতি এবং প্রলোভন দেখাচ্ছে। অথচ ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের গুশলান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের কাছে বললেন, কোনো চাপ বা প্রলোভন নয়, কৌশলগত কারণে দলীয় চার এমপি শপথ নিয়েছেন।
বেচারা নিধিরাম সরদার! এই চারজন যে শপথ নেবেন তার বিন্দু বিসর্গও তিনি বা তথাকথিত নীতি-নির্ধারক স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ জানতেন না। শপথ গ্রহণকারী বিএনপি দলীয় এমপিগণ বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে শপথ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারা শপথ নিয়েছেন।’ রাতে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এই বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করেন।
বস্তুত দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই শপথ নিতে অনড় ছিলেন বিএনপি থেকে বিজয়ী পাঁচ সদস্য। সরকারের চাপে নয়, বিএনপি দলীয় ঐক্য রক্ষার জন্য এই পাঁচ সদস্যের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি কৌতুকের সৃষ্টি করে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ ফোরাম দলের স্থায়ী কমিটি। স্থায়ী কমিটি আগেই শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ২৯ এপ্রিল, স্থায়ী কমিটির অজ্ঞাতে, তাদের মতামত না নিয়েই তারেক রহমান একক সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হন। অন্যথায় না-কি দলে বিভেদ সৃষ্টি হতো, দল ভেঙে যেত। কয়েকদিন আগেই মির্জা ফখরুল, মোশাররফ ও গয়েশ^র গং জোরের সাথে বলেছেন বিএনপি যৌথ নেতৃত্বেÑ যৌথ সিদ্ধান্তে চলে।
কিন্তু হায়, এ কি হলো? বিএনপি স্টাইলের গণতন্ত্রের মুখে চুন-কালি মেখে দিয়ে দুর্নীতির জন্য দ-প্রাপ্ত, খুনের আসামি এবং পলাতক বলে বিবেচিত তারেক রহমান বুড়ো-ধাড়ি নেতাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং তাদের ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করে বিএনপির শ্যাম ও কুল রক্ষার চেষ্টা করলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা এজন্য অপমানিতবোধ করেছেন, তেমনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যফ্রন্ট’ ও ২০-দলীয় জোটের নেতারাও এই সিদ্ধান্তে হতভম্ব হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট ও নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না প্রকাশ্যেই গণমাধ্যমের কাছে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের ‘বিএনপি জিজ্ঞেসও করেনি। এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঐক্যের পরিপন্থী।’ ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটি পদ্ধতিগতভাবে ভুল।’ ৩০ এপ্রিল প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, ‘সিদ্ধান্তটি ইউটার্ন ও চমক সৃষ্টি করেছে।’ আবার সাথে সাথে এ-কথাও বলেছেন, ‘ভয়াবহ দানব-কে পরাজিত করার জন্যই শপথ নেওয়া হয়েছে।’ (প্রথম আলো, ১ মে ২০১৯)।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী বিএনপি থেকে নির্বাচিত শপথ গ্রহণকারী পাঁচ সদস্যেরই দায়িত্ব ‘ভয়াবহ দানব’কে পরাজিত করা। দলের মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এ-ব্যাপারে কোনো দায়িত্ব নেই। অদ্ভুত যুক্তি বটে!
প্রশ্ন হলো এই পাঁচজন সদস্যের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে এত নাটকীয়তার কেন প্রয়োজন হলো। কেন এত পানি ঘোলা করা হলো। কেনই বা দলের মহাসচিব শপথ নিলেন না?
এর উত্তর খুব সহজ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের অনিবার্য আনুষ্ঠানিক ভাঙন ঠেকাতে সংসদে যোগদানে ইচ্ছুক সদস্যদের চাপের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে দৃশ্যত বিএনপির ঐক্য আপাতত রক্ষা পেলেও বাস্তবে তো বিএনপি ইতোমধ্যেই একাধিক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য এবং দলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য, নেতা-কর্মী বিএনপি নেতৃত্ব অর্থাৎ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি তাদের আস্থা হারিয়েছেন।
বিএনপি বস্তুত আইসিইউ’তে। দেশের ও দলের স্বার্থ নয়, খালেদা-তারেকের কাছে তাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক স্বার্থই বড়। খালেদা-তারেক তাদের কৃত অপরাধের জন্য, পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতির জন্য দেশের প্রচলিত আইনে আদালতের বিচারে দ-প্রাপ্ত আসামি। বিএনপি মুখে যত বড় বড় বুলিই আওড়াক না কেন, তাদের রাজনীতির একমাত্র এজেন্ডা খালেদা-তারেককে মুক্ত করা। একজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার শীর্ষে থেকে বিদেশ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া জিয়া অরফানেজের অর্থ অর্থাৎ এতিমের টাকা আত্মসাৎ করার মতো গর্হিত অপরাধ করার পরও তাকেই দলের প্রধান রেখেছে বিএনপি। রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে প্যারোলে বিদেশে গিয়ে চুটিয়ে রাজনীতি করছেন তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধেও মানিলন্ডারিংসহ দুটি মামলায় কারাদ- দেওয়া হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় উচ্চ আদালতের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি। খালেদা কারাগারে বিধায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা হয়েছে হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় দ-প্রাপ্ত এবং আইনের চোখে পলাতক তারেক রহমানকে। তিনি লন্ডনে বসে স্কাইপে দলীয় স্থায়ী কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং তথাকথিত স্থায়ী কমিটির তোয়াক্কা না করে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। গত সাধারণ নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিএনপি ৭০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তারেক রহমান এই সুযোগে মনোনয়ন প্রার্থীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এজন্য ইংল্যান্ডে তারেক ও তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।
দলটি এখন এমনই দেউলিয়া যে, নীতি-নৈতিকতা এবং স্বীকৃত রীতি-পদ্ধতির ধার না ধেরে, এই দুই ‘অপরাধী’কেই দলের কা-ারি করতে বাধ্য হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটিতে অনেক প্রবীণ নেতা থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্য থেকে কাউকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে ভরসা পায় না খালেদা পরিবার এবং তাদের বংশবদ স্থায়ী কমিটি গং। পুরো দলটিই এখন খালেদা-তারেকের কাছে জিম্মি।
এ-কারণে দলের মধ্যে পুঞ্জিভূত হয়ে উঠছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতৃত্বের শূন্যতা, কাপুরুষতা, কোনো ঝুঁকি গ্রহণে অনীহা এবং পারস্পরিক আস্থাহীনতা দলটিকে অনিবার্য বিলুপ্তি বা ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সংসদে যোগদান করা না করা নিয়ে মির্জা ফখরুলের ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরস্পর-বিরোধী বক্তব্য প্রকাশ, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উষ্মা প্রকাশ এবং শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ প্রমাণ করেছে বিএনপি এখন একটি লোক হাসানোর ‘বিনোদন পার্টিতে’ পরিণত হয়েছে। ‘কৌশলগত’ কারণে মির্জা ফখরুলের শপথ না নেওয়া আবার কৌশলগত কারণে অন্য পাঁচ সদস্যের শপথ গ্রহণ বিএনপিকে দেশবাসীর সামনে হাস্যোস্পদ করে তুলেছে। বিএনপি এখন আর কর্মসূচি এবং আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকছে না। হয়তো শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বিএনপি একটি ‘কৌশলগত’ দল।
জাপানে হারিকিরি বলে আত্মহননের একটি প্রথা চালু আছে। বিএনপি এখন সেই হারিকিরির মতো আত্মহননের পথ ধরেছে। অন্যদিকে, সার্কাস পার্টির ক্লাউনের মতো জনগণের চিত্ত বিনোদনের জন্য নানারকম কসরত বা ‘কৌশল’ প্রদর্শন করে চলেছে। আর এসব কারণে বিএনপির বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সম্প্রতি স্বয়ং মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, সংসদে যোগদানের বিষয়ে বিএনপি প্রথমেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভুল করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকাশ্যেই ফখরুলের সমালোচনা করেছেন। ওয়ান ইলেভেনের পর বিদ্রোহী বিএনপির পাল্টা কমিটির মহাসচিব মেজর হাফিজ দলীয় সংসদ সদস্যদের শপথের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে প্রকাশ্যেই মতামত দিচ্ছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন।
দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, দিশাহীন বিএনপি-কে অনিবার্য ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

Category:

জঙ্গিবাদ ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার

Posted on by 0 comment

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার থেকেই উগ্রপন্থা ও ধর্মীয় মৌলবাদের সৃষ্টি। প্রাচীন ও মধ্যযুগেও ধর্ম নিয়ে হানাহানি, রক্তপাত এবং ধ্বংসযজ্ঞ কম হয়নি। ভিন্ন ধর্মমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং জোর-জবরদস্তির কারণে সেমেটিক ৩টি ধর্মের প্রবর্তক, ইসলামের দৃষ্টিতে যারা ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ তথা নবী, তাদের কম মূল্য দিতে হয়নি। হযরত মুসা (আ.) (মোজেস) ইহুদি ধর্মের প্রবর্তক। তার মাধ্যমে আসমানি কিতাব তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট, হযরত ঈসা (আ.) (যিশু খ্রিষ্ট)-এর মাধ্যমে ইঞ্জিল শরীফ বা বাইবেল তথা নিউ টেস্টামেন্ট এবং শেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। অন্য নবী ও মহামানবদের কথা বাদ দিলাম। এই তিনজনকে অসহিষ্ণুতা ও প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। হযরত মুসাকে তার ধর্মমতের জন্য ফেরাউন শাসকরা মিসর থেকে প্যালেস্টাইনে চলে যেতে বাধ্য করে। হযরত ঈসা বা যিশু খ্রিষ্টকে ইহুদি উগ্রবাদীরা তার ধর্মমতের জন্য জেরুজালেমে ক্রুশিফাইড করে হত্যা করে। হযরত মুহম্মদ (সা.)-কে তার ধর্মমতের জন্য মক্কার কোরাইশদের হাতে নানাভাবে নিগৃহীত হতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত হিযরত করে মদিনায় আশ্রয় নিতে হয়।
ইসলামের নবী হযরত মুহম্মদ তাই তার যুগান্তকারী মদিনা সনদে এবং মৃত্যুর আগে বিদায় হজের বাণীতে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মের নামে সকল প্রকার জবরদস্তি না করার কথা বলেন।
যিশু তার জীবন দিয়ে প্রতিহিংসা ও উগ্রপন্থার বিরোধিতা করেছেন। অথচ যেমন উগ্রপন্থি খ্রিষ্টান এবং তাদের অধীনস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নমূলক কর্মকা-ের জন্য বারবার ইহুদিদের প্যালেস্টাইন ও জেরুজালেম থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে; তেমনি ইউরোপের খ্রিষ্টান ধর্মযাজক ও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিহিংসা ও আধিপত্যবাদী নীতির কারণে ২০০ বছরব্যাপী (১০৯৫ থেকে ১২৯২ খ্রিষ্টাব্দ) মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘ধর্মযুদ্ধ’ বা ক্রুশেডে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতেই স্পেন থেকে মুসলমান শাসনের অবসান ঘটে। স্পেনের নতুন খ্রিষ্টান রাষ্ট্রশক্তি অতীতের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য স্পেনে দীর্ঘদিন পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালায়, ইতিহাসে যা ‘ইনকুইজেশান’ হিসেবে পরিচিত। ইনকুইজিশন কেবল মুসলমানদের ওপরই নয়, ইহুদি ও শুদ্ধির নামে খ্রিষ্টানদের একটি অংশের ওপরও চলে বর্বর নির্যাতন, রক্তপাত।
দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের শুরুর আগেই হিটলার এবং তার অনুগামীরা জার্মানি ও ইউরোপের দেশে দেশে সেমেটিসিজম বা ইহুদিদের নির্মূলের নামে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে। মানবেতিহাসে যা হলোকাস্ট হিসেবে কলঙ্কিত হয়ে আছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে শঙ্করাচার্যের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তি অষ্টম শতাব্দীতে ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের নামে বৌদ্ধদের ওপর নির্মূল অভিযান চালায়। তেমনি মধ্যযুগের শুরুতে দখলদার মুসলমান শাসকরাও বৌদ্ধ ও হিন্দুদের ওপর সমভাবেই নির্যাতন চালিয়েছে। অতঃপর দীর্ঘ মুসলমান শাসনামলে শাসকরা তাদের স্বার্থেই পুরাতন নির্মূল অভিযান বন্ধ করে। হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপিত হয়। কিন্তু আবার উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকে নতুন করে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হাজার হাজার হিন্দু মুসলমানের রক্তের ধারায় সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়। ইসলামের নামে ‘পাকিস্তান’ এবং হিন্দু প্রাধান্যের ভারত ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিভাজনের সবচেয়ে বড় নজির হয়ে আছে।
কিছু তাতেও সাম্প্রদায়িকতার এবং উগ্র ধর্মান্ধতার অবসান ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ফাঁদ ভেঙে অভ্যুদয় ঘটে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ নামক জাতি-রাষ্ট্রের।
কিন্তু ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বিশ ও একুশ শতাব্দীতেও মানব সভ্যতার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংকট হিসেবে আজও হিংসা ও রক্তপাতের প্রধান কারণ হয়ে আছে। সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতনের পর ইরানে ইসলামি বিপ্লব ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারীদের প্রবলভাবে উৎসাহিত করে। অতঃপর আফগান প্রপঞ্চ। নাইন ইলেভেন, আফগানিস্তানে বিন লাদেন ও তালেবানি হিংস্রতা, পাকিস্তানের মদদে জঙ্গিবাদী মৌলবাদের উত্থান, মধ্যপ্রাচ্যে সেকুলার রাষ্ট্রগুলোকে পদানত করে মার্কিন ও পশ্চিমা মদদে মুসলমান মৌলবাদী-জঙ্গিবাদীদের উত্থান, সর্বশেষ ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার নামে মধ্যযুগীয় ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ প্রয়াস বিশ^ব্যাপী অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধটা মুসলমান মুসলমানে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও উগ্র জঙ্গিবাদীদের টার্গেট ভিন্ন মতাবলম্বী মুসলমান এবং অন্য ধর্মের নিরীহ মানুষ। মুসলমান জঙ্গিবাদের উত্থান বিশ^ব্যাপী শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্যাদাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। কেবল মুসলমান নয়, খ্রিষ্টান জগতেও অসহিষ্ণু মৌলবাদী-সন্ত্রাসী শক্তির উত্থান ঘটেছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা ও হত্যাকা-, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশে^র দেশগুলোতেও মুসলমান বিদ্বেষ সভ্যতাকে কলঙ্কিত করছে।
প্যালেস্টাইনে জায়নবাদী আধিপত্য মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে আছে। সর্বশেষ প্রতিশোধকামী আইএস-এর সহায়তায় শ্রীলংকায় খ্রিষ্টান গির্জায় ও হোটেলে হামলা এবং তিন শতাধিক মানুষ হত্যা ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।
জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ এবং ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকায় আমাদের দেশ এই বিপদ থেকে অনেকটাই মুক্ত। কিন্তু তারপরও মৌলবাদ-জঙ্গিবাদের বিপদ এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের কারসাজি শেষ হয়ে যায়নি। প্রতিটি ধর্মের মর্মবাণীকে রক্ষা, সভ্যতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকারকে সুসংহত করতে হলে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক শক্তিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পবিত্র ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও ভাবাদর্শগত সংগ্রামকে আরও সুসংহত করতে হবে।

Category:

স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র

Posted on by 0 comment

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর : “জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার”-এ বছর বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল প্রথম ৫টি দেশের অন্যতম হবে বাংলাদেশ। এ বছর দেশজ উৎপাদন ৭.৩ শতাংশ হবে বলে অভিমত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়াবে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। আমাদের দেশের ‘খুৎ’ সন্ধানী এবং ‘সংশয়বাদী’ বিশেষজ্ঞগণ অবশ্য এ ব্যাপারে এখনও মুখ খুলেন নি। ধারণা করি তারা বসে নেই। প্রবৃদ্ধির হার-এর এই ভবিষ্যদ্বাণীটি যে ‘কল্পনাপ্রসূত’ অথবা ‘ভুল তথ্যের’ ওপর করা এটি যদি তারা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তারা যেমন মহলবিশেষের বাহবা পাবেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের হাতে অপপ্রচারের একটা মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিতে পারবেন।
কিন্তু না, তাদের এই দুরাশা পূরণ হবে না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যারা ওয়াকিবহাল তাদের মতে বাংলাদেশ তার সমস্ত প্রতিকূলতা এবং বৈরী পরিবেশ সত্ত্বেও উন্নয়নের বৈতরণী পার হতে চলেছে। সত্তরের দশকে, বঙ্গবন্ধুর আমলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ দুজন প্রতিনিধি, জাস্ট ফা’ল্যান্ড ও পারকিনসন্স রীতিমতো তাদের গবেষণা গ্রন্থে মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি টেস্ট কেস।’ তারা আরও বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ উন্নয়নের বৈতরণী পার হতে পারে, তাহলে তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশের পক্ষেই তা সম্ভব হবে।’ কথাটির কেবল ব্যঙ্গ বিদ্রƒপই ছিল না, তারা প্রায় নিশ্চিত ছিলেন অপ্রতুল সম্পদ ও বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে উন্নয়নের বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ দারিদ্র্যের অভিশাপ নিয়ে বিশ্বের দরবারে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে জাতিসমূহের করুণা যাচ্ঞা করবে।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এবং তাদের এই মন্তব্যের ৪৪ বছর পর বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে জাস্ট ফা’ল্যান্ড ও পারকিনসন্সের আশঙ্কা বা ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন খোদ মার্কিন মুল্লুকের কর্তৃত্বাধীন বিশ্বব্যাংকই বলছে বাংলাদেশ এখন আর দরিদ্র দেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে যে আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছিল, ইতোমধ্যেই তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের মাথাপ্রতি আয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
কেবল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সূচকেই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গড় আয়ুষ্কাল, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎপ্রাপ্তিসহ অন্যান্য সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। বলা হয়ে থাকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন পাকিস্তান ও ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ‘মিরাক্যাল ইকোনমি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ, অর্থনীতি ও সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশে এই মিরাক্যাল সম্ভব হয়েছে প্রধানত ৩টি কারণে। প্রথম কারণ; পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে আমাদের আত্মপ্রকাশ। দ্বিতীয়ত; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী এবং সাহসী নেতৃত্ব এবং তৃতীয়ত; বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ়চিত্ত ডায়নামিক নেতৃত্ব।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে যদি নৃশংসভাবে হত্যা করা না হতো, তাহলে উন্নয়ন দৌড়ে বাংলাদেশ দুই দশক আগেই মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেত।
বঙ্গবন্ধু হত্যা কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়; এই হত্যাকা-ের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ-বিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে। তারা হত্যা করেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বাঙালি জাতির উন্নয়নের স্বপ্ন-সাধনাকে। আমাদের জাতীয় জীবন থেকে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর ২১টি বছর এবং ২০০১-০৮ পর্যন্ত আরও ৮টি অর্থাৎ, ২৯টি বছর অপচয় হয়ে গেছে। হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি ২০০৪ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড বৃষ্টিবর্ষণ করলেও, অলৌকিকভাবে সেদিন তিনি বেঁচে যান। ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আত্মাহুতি দেন।
২০০৯ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুফল কাজে লাগাচ্ছে। স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন এই অবিভাজ্য প্রক্রিয়ায় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে নতুন এক পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বাংলাদেশ এখন এক উত্তরণকালীনÑ দারিদ্র্য থেকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে। এই পথে বিজয় আমাদের অনিবার্য।

Category:

জনকের শততম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

১৭ মার্চ। বাঙালির ইতিহাসের অনন্য দিন। মধুমতি কণ্ঠলগ্ন বাইগার নদীর তীরে আজ থেকে ৯৯ বছর আগে মহাকাশ থেকে অন্যরকম সূর্যোদয় হয়েছিল। সূর্য যেমন মহাকাশে স্থির থেকে শত কোটি বছর ধরে আলো বিকিরণ করে চলেছে; তেমনি ৯৯ বছর আগে টুঙ্গিপাড়ায় যে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছিল, অনাগত কাল ধরে তার কীর্তিগাথা মানবেতিহাসে জ্বলজ্বল করে আলো বিচ্ছুরণ করবে। এই গ্রহ যতদিন থাকবে, এই দেশ- বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন সেই ‘খোকার’ নাম উচ্চারিত হবে; ইতিহাসে যিনি শেখ মুজিবুর রহমান। মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু। চেতনায় জাতির পিতা।
এ এক পরমাশ্চর্য বসন্তের দিন। আর কোনো জাতির জীবনে এমন অবিনাশী বসন্ত আছে কি না জানি না। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চও বসন্তদিন ছিল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছিল বসন্তকালের অষ্টম দিবস। আর ২৬ মার্চ- আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা দিবস, সে-ও বসন্তদিন। ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্ত যৌবনের প্রতীক। বসন্ত ভালোবাসার প্রতীক। বসন্ত সুন্দরের প্রতীক। বসন্ত ফুল ফোটার কাল। প্রকৃতি ও মানুষ, দুই-ই বসন্তে ভিন্নমাত্রা অর্জন করে। সেই বসন্তদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন। এই বসন্তে আমার এই কবিতায়ই হোক তার বন্দনাÑ

মুজিব মানেই বসন্ত উৎসব

তুমি আসবে বলে বাংলাদেশ হাজার বছর
প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছে।

তুমি আসবে বলে মানসসরোবর হাজার নদীতে
পবিত্র জল ঢেলে বিধৌত করেছে গঙ্গা-ঋদ্ধির পুণ্যভূমি।
তুমি আসবে বলে অঙ্গ বঙ্গ সমতট হরিকেল পুণ্ড্র কি বরেন্দ্র মিলে
সৃষ্টি করেছে সমুদ্রস্নাত বিস্ময় ব-দ্বীপ।

তুমি আসবে জেনে চর্যাগীতিকার ‘ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলি’
আর অলৌকিক ভক্তিগীতি ও মঙ্গলকাব্যে এলো মানব বন্দনা। তোমার মুখে বুলি
যোগাতে অপভ্রংশ ছেড়ে জন্ম নিল নিজ মাতৃভাষা। সে ভাষার
মানরক্ষায় আব্দুল হাকিম করেন ক্ষুব্ধ উচ্চারণ – ‘যেজন বঙ্গেত জন্মি হিংসে
বঙ্গবাণী সেজন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

তুমি আসবে জেনে গুরুদেব রবীন্দ্র ঠাকুর আগাম জানিয়ে দেন
সে শুভ সংবাদ : ঐ মহামানব আসে দিকে দিকে রোমাঞ্চ জাগে…।
তুমি আসবে জেনে ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে…।’

তোমার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে গুনতে
বিংশ শতাব্দীর উনিশটি নিস্ফল বসন্ত পেরিয়ে গেল
অবশেষে তুমি এলে বিশতম বসন্ত প্রভাতে
মধুমতি তীরে।

তারপর বাকি ইতিহাস। এই বসন্তেই ঢাকার রাজপথে
রক্তজবা ফোটে ভাষার দাবিতে – ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।’
তোমার আহ্বানে আবার দিব্যক জাগে মুক্তির সংগ্রামে। আর এই বসন্তেই
তুমি বজ্রনির্ঘোষে এনে দিলে বাঙালির প্রিয় স্বাধীনতা।

আর এভাবেই বাঙালির বসন্তদিন হয়ে গেলো তোমার জন্মোৎসব
আমাদের ভাষার উৎসব
আমাদের স্বাধীনতার উৎসব
বাঙালির বসন্ত মানেই স্বাধীনতা; স্বাধীনতা মানেই শেখ মুজিব
শেখ মুজিব মানেই আমাদের ভালোবাসা, আমাদের বসন্ত উৎসব।

Category:

একাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রারম্ভ : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে স্থিতিশীল করতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। একাদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার ভাষণে এ-কথা বলেন। প্রায় একই কথা বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের একাধিক অনুষ্ঠানে। তারা উভয়েই দলমত নির্বিশেষে দেশবাসী, দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সিভিল সমাজের প্রতি এই জাতীয় ঐক্যের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োচিত এই ‘জাতীয় ঐক্যের আহ্বান’কে দেশের চিন্তাশীল মানুষ, শান্তিকামী সাধারণ নাগরিকগণ, উদ্যোক্তা শ্রেণি, ব্যবসায়ী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পটভূমিতে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তবে যেমন মহামান্য রাষ্ট্রপতি তেমনি দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে শেখ হাসিনা সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতদ্বৈধতা থাকবে, নির্বাচনে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে এবং মতবৈচিত্র্যও থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নেÑ কেউ কারও প্রতিপক্ষ হতে পারে না। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে? বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে জাতীয় স্বার্থের অন্য কোনো অর্থ, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থাকতে পারে না।
তবে, আমাদের এই মন্তব্যকে অনেকে অতি সরলীকরণ মনে করতে পারেন। বিএনপি-জামাতের সহিংস কর্মকা-, ষড়যন্ত্র এবং পদে পদে বাধাদান সত্ত্বেও গত ১০ বছরে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি থেমে থাকেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি-জামাত চক্রকেই কেবল নয়, তারা জাতিকে বিভক্ত করার যে ষড়যন্ত্রমূলক নেতিবাচক সহিংস রাজনীতি করেছে, তাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। বস্তুত, নির্বাচনের ফলাফলের ভেতর দিয়েই এক ধরনের জাতীয় ঐকমত্যের অভিপ্রকাশ ঘটেছে। দেশবাসী বিপুলভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও মহাজোটকে বিজয়ী করেছে। সংসদে এককভাবেই আওয়ামী লীগের দুই-তৃতীয়াংশের অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যত বিরোধী দল বিশেষত বিএনপি-জামাত চক্র ওয়াশআউট হয়ে গেছে।
তবুও ‘জাতীয় ঐক্যের’ আহ্বান কেন? ঐক্যের উপযোগিতা কোথায়? প্রথমত, ঐক্যের বিষয়টি সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে বিচার করা যায় না। ঐক্যের মূল প্রেরণা হচ্ছে দেশে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সংঘাতময় রাজনীতির (ঈড়হভষরপঃরহম চড়ষরঃরপং) অবসান ঘটানো। ঐক্য মানে এ-ও নয় যে, সকল বিষয়ে সকল দলকে একমত হতে হবে অথবা বিরোধী দল তার ভূমিকা ছেড়ে সরকারের আনুগত্য করবে। গণতন্ত্রে বিরোধী দলও সরকারের অংশ। অংশীদারিত্বটা নেতির নেতিকরণের অর্থাৎ সরকারের কোনো কাজ জনগণের বা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে বিরোধী দল সেটা ধরিয়ে দেবে এবং ইতিবাচক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার পক্ষকে সেই কাজ থেকে অর্থাৎ ভুল থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে। উভয় পক্ষকেই এখানে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রাখার জন্য একমত হতে হবে। আর যদি তারা একমত না হন, সেক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে জনগণ। ভুলের প্রশ্নে শেষাবধি রায় দেবে জনগণÑ এ জন্যই নির্বাচন ব্যবস্থা।
একাদশ জাতীয় সংসদ কিন্তু সে-রকম রায়ই দিয়েছে। বিরোধী দলের উচিতÑ জনগণের রায় মেনে নিয়ে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সর্বোপরি স্থিতিশীলতার জন্য পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা। সংসদে অংশগ্রহণ করা। কেবল সংখ্যা দিয়েই সংসদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখা যায় না। সত্য, ন্যায় ও শ্রেয়োবোধ দিয়ে সরকারকে তার ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদই হচ্ছে যথার্থ স্থান, যেখানে খোলা মনে আলোচনা-সমালোচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি সংসদে ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার সুযোগ নেওয়াও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। দেশবাসী চায় শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক ধারায় বিরোধী যে সকল বিষয়ের সমাধানের একটা ঐতিহ্য গড়ে তোলায় ভূমিকা পালন করুক।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বিরোধী দলগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগ গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে যাবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Category:

বিজয়ী বাংলাদেশ, বিজয়ী শেখ হাসিনা : প্রাণঢালা অভিনন্দন

নতুন ইতিহাস গড়লেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ তাকে চতুর্থবার বিজয়ের বরমাল্য পরাল। গত ৭ জানুয়ারি, চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তিনি এবং তার মন্ত্রিসভা। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এটাই একমাত্র নজির। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার মন্ত্রিসভা গঠিত হলো। আমরা বঙ্গবন্ধু-কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ভেতর দিয়ে দেশে কার্যকর বিরোধী দল বলে কিছু আর রইল না। ঐক্যফ্রন্ট মুখ রক্ষার মতো সম্মানজনক ভোট ও আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। বস্তুত বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামাত গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যফ্রন্ট যে কটি আসনে জয়লাভ করেছে, তা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচায়ক হবে। ’৭৩-এর নির্বাচনেও এর বেশি আসন তৎকালীন বিরোধী দলের ছিল না। বিরোধী দলের ভূমিকা কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার না করে, যে ৭-৮ জন জয়লাভ করেছে পার্লামেন্টে দক্ষতার সাথে ভূমিকা রাখলে, তারাই জনগণের একাংশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন। আমরা মনে করি, বিরোধী দলের নির্বাচিত সদস্যগণ অবিলম্বে শপথগ্রহণ করবেন এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তার মধ্যেই সমগ্র বাঙালি জাতির সুখী সমৃদ্ধ উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা মূর্ত হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা ও নতুন সরকারের কাছে এখন জনপ্রত্যাশা পূরণের বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিগত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একদিকে যেমন রয়ে গেছে বাস্তবায়নাধীন বিশাল সব মেগা প্রজেক্ট, অন্যদিকে নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের কর্তব্য। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি, জননেত্রী শেখ হাসিনা এসব কর্তব্য পালনে সক্ষম হবেন। তার প্রাজ্ঞ, দক্ষ ও যাদুকরি নেতৃত্ব অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশের সোপান অবধি এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার শক্তির উৎস বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। দেশবাসী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তাকে ও আওয়ামী লীগকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করেছে। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান শেখ হাসিনা আজ তাই অপ্রতিরোধ্য এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। অতএব কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো বাধাই তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা থেকে বিরত রাখতে বা তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না। এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বাংলাদেশে একটা নতুন ধারার জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি এবং বাম ধারার দলগুলোকে বুঝতে হবে গতানুগতিক নেতিবাচক রাজনীতি আর মাঠ গরমের কর্মসূচি দিয়ে তারা জনগণের মন জয় করতে পারবে না। সবাইকে তাই জাতিকে আর বিভক্ত না করে মৌলিক প্রশ্নে ঐকমত্য সৃষ্টির আন্তরিক চেষ্টা চালাতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অভিন্ন ভাষায় ধারণ করতে হবে। জাতির পিতাকে নিয়ে বিতর্কের চির অবসান ঘটাতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির ভূমিকাকে সমুজ্জ্বল করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও সাম্প্রদায়িকতাকে চিরদিনের জন্য পরিহার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী জামাতের সাথে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দলমতের মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। বাংলার মাটিতে জামাতের যুদ্ধাপরাধেরও বিচার সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ধন বৈষম্য হ্রাস, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে যদি সকল দলমতের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলেই বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন সাধন সম্ভব হবে।
দুর্বল ও ছত্রভঙ্গ বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর নয়। বিরোধী দলের দুর্বল অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগের দায়িত্ব ও কর্তব্য কার্যত শতভাগ বেড়ে গেছে। আওয়ামী লীগকেই উদ্যোগ নিয়ে একটা সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ দেশ স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ। কাজেই দেশের প্রতি দায়িত্বও আওয়ামী লীগের বেশি। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো আরেকটু শক্তিশালী হলে তাদের সাথে আওয়ামী লীগ এই জাতীয় কর্তব্যভার কিছুটা ভাগ করে নিতে পারত। আমরা আশা করব, জনগণের পর্বত প্রমাণ প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়েই ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী আমরা শেখ হাসিনার পৌরোহিত্যে পালন করতে পারব। আওয়ামী লীগের কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, অতীতের মতো ২০১৮ সালেও বাংলাদেশের জনগণ রায় দিতে ভুল করেনি।

Category: