Blog Archives

অব্যাহত সাফল্য অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা সাফল্যগাথা ২০০৯-২০১৬

Posted on by 0 comment

32 33 34 35 36 37 38 39 40 41

Category:

ফিরে এসেছে রুপালি ইলিশ

52রাজিয়া সুলতানা : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুপারমুনের মতো ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে চলেছে রুপালি ইলিশ। একসময় উচ্চমূল্যের কারণে ইলিশ আলোচনায় এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটনা ঘটছে উল্টো। বাঙালির কাছে দুষ্প্রাপ্য রুপালি ইলিশ এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। রয়েছে একেবারে ক্রয়সীমার মধ্যে। তাই বিপুল ইলিশ আহরণের রেকর্ড নিয়ে এখন বিস্তর আলোচনা। আলোচনা দাম কমে যাওয়ায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ইলিশ সংগ্রহের পরিমাণ ইতোমধ্যেই ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে, যা ভোজনরসিক বাঙালিদের কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো; নতুন রাষ্ট্রীয় রেকর্ড।
মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ টনের কম ইলিশ সংগ্রহ করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ইলিশ ধরা পড়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন।
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই চিরায়ত সত্যই বাঙালির ঐতিহ্যময় কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি। আর বলতে দ্বিধা নেই মাছের রাজা ইলিশ। ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই ইলিশ মাছ নিয়ে সারাদেশে হাহাকার কম হয়নি। নি¤œ মধ্যবিত্তরা বটেই; মধ্যবিত্তরাও উৎসব আয়োজনে খাদ্য তালিকায় ইলিশ রাখত যোগ-বিয়োগের সমীকরণটা ঠিক রেখে। অথচ সেই ইলিশই এখন বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে নি¤œবিত্ত মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের কার্যকর উদ্যোগে।
বাংলা আশ্বিন মাস ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত মৌসুম। ডিম ছাড়ার জন্য উপকূলীয় এলাকার মা ইলিশ এ সময়ে মিঠা পানির পদ্মা-মেঘনায় চলে আসে। এ সময় ইলিশ মাছ ধরলে মাছের বংশ বৃদ্ধি হতে পারে না। বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান প্রকল্প’ প্রতি বছর এই সময়ে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। এই আইন অমান্যকারীদের কাঠোর শাস্তির বিধান ইলিশ জেলেদের নিবৃত্ত করেছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরার বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বরাবরই ছিল। তবে ২০১১ সালে মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে প্রধান প্রজনন মৌসুম নির্দিষ্ট এবং নিষেধাজ্ঞাও কড়াকড়িভাবে বলবৎ করা হয়।
ইলিশের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত নির্ধারিত ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার সীমানা হচ্ছে মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী থেকে হাইতকান্দী পয়েন্ট, তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন থেকে পশ্চিম সৈয়দ আওলিয়া পয়েন্ট, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালি পয়েন্ট ও কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া থেকে গ-ারমারা পয়েন্ট। আর ২৭টি জেলা হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলা। এসব জেলার সব নদ-নদী ছাড়াও দেশের সমুদ্র উপকূল ও মোহনায় ১২ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। মা ইলিশ ধরা ছাড়াও বাজারজাত, পরিবহনের ক্ষেত্রেও থাকে নিষেধাজ্ঞা।
বাঙালির খাবারের তালিকায় ইলিশ মাছ সম্প্রতি দুর্লভ হয়ে উঠেছিল। অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় চড়া দাম হয়েছিল ইলিশের। ইলিশের সাম্প্রতিক দাম মানুষের কাছে কল্পনার মতো। সরকারের উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আহরণে সহায়তা করেছে। মা ইলিশ এবং জাটকা রক্ষার জন্য বছরের ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, একটি ইলিশ একবারে গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ ডিম ছাড়ে। তাই ক্রমে বাড়ছে ইলিশ আহরণের পরিমাণ। এখন যে দেড়-দুই কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে, তার বয়স যথাক্রমে দুই ও চার বছর। তার মানে চার বছর ধরে ইলিশ রক্ষায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, দেশের জনগণ তার সুফল পেতে শুরু করেছে। সব মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশ মাছে ভরে যাবে।
ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-ইতিহাসের সাথে মিশে রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই মাছের উৎপাদন বাড়লে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ইলিশ বিচরণের জন্য জলাভূমি শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এজন্য ইলিশের ওপর নির্ভরশীল এবং ইলিশ উৎপাদন এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে দায়িত্ব নিতে হবে।
উন্নয়ন এবং উৎপাদনবান্ধব বর্তমান সরকার ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ১৪টি জেলার ৭৬টি উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। মোট বরাদ্দ হয় ৭ হাজার ১৩৪ টন চাল আর অভিযান পরিচালনার জন্য ৪ কোটি টাকা। আইন অনুযায়ী, এই সময়ে কেউ মাছ ধরলে তাকে ন্যূনতম এক বছর বিনাশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া হয়। জেলেরা কষ্ট করে হলেও নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখছে। মৌসুমে একজন সাধারণ জেলে প্রতিদিন প্রায় ২-৩ হাজার টাকা আয় করছেন। উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ ও জাটকা ধরা বন্ধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোকে দূষণমুক্ত ও গভীরতা বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ইলিশের বিচরণও নিশ্চিত করতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে ইলিশ রক্ষার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। না হলে জেলেরা ন্যায্য মূল্য পাবে না।
ইলিশ মাছ দুই ধরনের। এক মিষ্টি পানির ইলিশ। অন্যটা হলো সমুদ্রের লোনা পানির ইলিশ। এদের মধ্যে মিষ্টি পানির ইলিশই পুষ্টিকর। ইলিশ মাছে ভালো ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি। ইলিশ মাছে পলি আনস্যাচুরেটেড এবং মনো আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য সব সময়ই উপকারী। তবে মাঝারি সাইজের ইলিশই সবচেয়ে পুষ্টিকর। ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছের মধ্যেই একমাত্র পলি ও মনো আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ মাছ আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। আবার ছোট ইলিশও ততটা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ নয়। এই মাছে একেবারে প্রোটিন নেই। মাঝারি সাইজের ইলিশে প্রচুর প্রোটিন, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ রয়েছে। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে ২২.৩ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। ইলিশের সেলেনিয়াম অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে। এ ছাড়া ইলিশে রয়েছে ক্যালসিয়াম আর আয়রনের পুষ্টিগুণও। ইলিশ মাছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই রয়েছে।
আমরা শুধু ইলিশের স্বাদের ওপর গুরুত্ব দেই। কিন্তু ইলিশের পুষ্টিমানও অসাধারণ। এতে ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান আছে, যা শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী। এটি মস্তিষ্কের বুদ্ধি বিকাশে খুবই উপকারী। হার্টের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, প্রজননতন্ত্র গঠন ও বিকাশে সাহায্য করে। এটি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশে পোলট্রি ও সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। মাছও ক্রমে সেই উন্নয়নের মহাসড়কে পা রেখেছে। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ইলিশের ক্ষেত্রে তেমন এক বিপ্লবের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। আশা করছি, জামদানি শাড়ির পর রুপালি ইলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন স্থান দখল করবে।

লেখক : কৃষিবিদ, গবেষক এবং সমাজকর্মী

Category:

খুনি কাশেম ফাঁসির অপেক্ষায়

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাশেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের রায়ে।
36উত্তরণ প্রতিবেদন: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বদর বাহিনীর কমান্ডার, চট্টগ্রামের বাঙালি খান, জামাতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন গত ৩০ আগস্ট।
আইনি লড়াইয়ে সর্বশেষ ধাপ পার হওয়ার ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামাতে ইসলামীর এই নেতার মৃত্যুদ- কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। সামনে এখন ফাঁসির দড়ি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ৩০ আগস্ট এক শব্দের এই রায় ঘোষণা করেন। সকাল ৯টা ১ মিনিটে এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, রিভিউ পিটিশন ইজ ডিসমিস। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেনÑ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান। এই ঘোষণার সাথে সাথেই এজলাস কক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের সকল উদ্বেগের অবসান ঘটে। কারণ, বহাল রইল জামাত নেতা মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদ-ের চূড়ান্ত রায়।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া প্রাণদ-ের সাজাই তাতে বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। অবশেষে রিভিউয়ের রায়েও তা বহাল রাখা হয়েছে।
মীর কাশেমের মামলাটি চূড়ান্ত রায় হলো আপিল বিভাগের সপ্তম মামলা। ৬টি রায়ের মধ্যে ৫টিতে জামাতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামাতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হওয়ার পর দুই পক্ষেই রিভিউ আবেদন করেছে। শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামাত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
যে অভিযোগে প্রাণদ- : অভিযোগ-১১ : ১৯৭১ সালে ঈদুল ফিতরের পরের যে কোনো একদিন মীর কাশেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রাম শহরের কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। তাকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
বদর কমান্ডার থেকে শীর্ষ নেতা : আসামি মীর কাশেম আলী আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান ছিলেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাশেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামাতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এই মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মীর কাশেমকে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের খান সেনাদের সাথে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হওয়া ‘বাঙালি খান’ হিসেবে, যিনি সে সময় জামাতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতায় ছাত্রসংঘের বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে গঠিত সশস্ত্র আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে মীর কাশেম যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান, তা উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের রায়ে।
সাবেক এমপি সাখাওয়াতের মৃত্যুদ-, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদ-
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি ও জামাতের সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদ- ও সাতজনকে আমৃত্যু কারাদ-ের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১১ আগস্ট বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।
আমৃত্যু কারাদ- পাওয়া সাতজন হলেনÑ মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এমএ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও মো. আবদুল খালেক মোড়ল। দ-িত আটজনের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক। ১০ আগস্ট রায় ঘোষণার সময় কারাবন্দি দুজনকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এই মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন মোট ৯ জন। এক আসামি লুৎফর রহমান মোড়ল গত মে মাসে কারাবন্দি অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাকে মামলার কার্যক্রম থেকে বাদ দেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাখাওয়াত হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বা গুলি করে মৃত্যুদ- কার্যকর করতে হবে। তবে কারাবন্দি আসামি সাখাওয়াত ও বিল্লাল ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করতে পারবেন। পলাতকরা আপিল করতে চাইলে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি পলাতকদের গ্রেফতারে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিতেও বলা হয় রায়ে।
দ-প্রাপ্ত যশোরের কেশবপুরের ওই আট রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ৫টি অভিযোগের ওপর বিচার সম্পন্ন করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অভিযোগ নম্বর-২-এ অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদ- ও বাকি সাতজনকেই আমৃত্যু কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে আনা অভিযোগ নম্বর-৪-এ অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক আসামি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-ের সাজা পেয়েছেন।
৭৬৮ পৃষ্ঠা রায়ের সারাংশ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম।
যে অভিযোগে যত সাজা মৃত্যুদ- পাওয়া অভিযোগ : ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা করেন অভিযুক্ত আট রাজাকার। সাক্ষ্য প্রমাণে এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আটজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয় রায়ে। এই অভিযোগে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদ- ও অন্য সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদ- দেওয়া হয়।
৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, সাখাওয়াতের নেতৃত্বে কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ করে নির্যাতন ও খুন করা হয়। সাখাওয়াত, মো. ইব্রাহিম, এমএ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার ও মো. আবদুল খালেক মোড়লের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সাখাওয়াতকে মৃত্যুদ- ও বাকি চারজনকে অমৃত্যু কারাদ-ে দ-িত করা হয়।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজা : এই আট রাজাকারের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, এমএ আজিজ সরদার ও আবদুল আজিজ সরদারের বিরুদ্ধে আনা ১ নম্বর অভিযোগ ছিল ধর্ষণের। অভিযোগে বলা হয়, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামের এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন এই চার রাজাকার। বিচারে এই অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকেই ২০ বছর করে কারাদ-ের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন করেন সাখাওয়াত হোসেন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, মো. ইব্রাহিম হোসাইন ও মো. আবদুল খালেক মোড়ল। মো. ইব্রাহিম হোসাইনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ১০ বছর করে কারাদ-ে দ-িত করেন ট্রাইব্যুনাল। ৫ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের সোর্স কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন করেন সাখাওয়াত হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসাইন, এমএ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার ও মো. আবদুল খালেক মোড়ল। এই অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে বলে রায়ে পাঁচজনকেই ১৫ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়।
এক নজরে সাখাওয়াত : কেশবপুর থানার হিজলডাঙা গ্রামের মৃত ওমর আলী ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন। এলাকায় তিনি মাওলানা সাখাওয়াত হিসেবেই অধিক পরিচিত। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া সাখাওয়াত ১২ বছর বয়সেই যোগ দেন জামাতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘে। ১৯৬৯ সালে ফাজিল ও ১৯৭২ সালে কামিল ডিগ্রি নেন এই রাজাকার। ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ থেকে এমএ পাস করার পর শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে। ১৯৮১ সালে অ্যাকাউনট্যান্ট জেনারেল (এজি) অফিসে চাকরি নেন সাখাওয়াত। পাঁচ বছর পর জামাতে ইসলামীর সদস্য হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামাতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে যশোর-৬ আসন থেকে এমপি বনে যান এই রাজাকার নেতা। এরপর জামাত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালেও এমপি হন। মাওলানা সাখাওয়াত নামে বেশি পরিচিত এই রাজনীতিবিদ বিভিন্ন সময় এলডিপি ও পিডিপির রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে সাখাওয়াত যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কেশবপুরে রাজাকারের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সহাযোগী হিসেবে দ-িত সাত রাজাকার নানা অপকর্ম পরিচালনা করেন একাত্তরে।
গ্রন্থনা : রাজীব পারভেজ

Category:

সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য

Posted on by 0 comment

২০১৪-১৫ দুই বছর

35উত্তরণ ডেস্ক: গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি এদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বার্থে সবসময়ই অত্যন্ত সক্রিয়। চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এবং যথাযথ সমন্বিত উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলসমূহ অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে এবং জাতীয় আয় ও বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে নি¤œ আয় থেকে নি¤œ মধ্য আয়ের দেশে। এ ছাড়াও কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করায় সারাবিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য আজ প্রমাণিত। এই সাফল্য ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে বর্তমান সরকার রূপকল্প (ভিশন) ২০২১ অর্জনে বদ্ধপরিকর।
গত দুই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- ও অগ্রগতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নি¤েœ তুলে ধরা হলোÑ
অর্থ, বাণিজ্য ও পরিকল্পনা
গত দুবছরে গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৩ শতাংশ। এ ছাড়া মাথাপিছু আয় বেড়ে ১,৪৬৬ মার্কিন ডলার, রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধাদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করে ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৫ শতাংশ।
বর্তমানে ১৯৬টি দেশে ৭২৯টি পণ্য রপ্তানি করে আয় হচ্ছে ৩১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ  WTO তে LDC কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকা পালন করছে।
গত দুবছরে ৬২টি একনেক বৈঠকে ৪,২৯,৮০৪.৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনের সাথে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন (২০১৬-২০২০) করা হয়েছে।
শিক্ষা
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি ও বেতন মওকুফ সহায়তা হিসেবে ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীকে ৮৮০.২৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার তিন বছর আগেই ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের অংশ হিসেবে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৩.১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৭.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে ২০.০৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২.২৩ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ৫ হাজার ৪৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন
মানুষের গড় আয়ু ৭০.৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হারও কমে প্রতি লাখে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজসহ ১২টি সরকারি মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০টি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ৩০০ চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। মোবাইল ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর গত দুই বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১৮টি উৎপাদন নলকূপ, ৩৪টি পানি শোধনাগার, ১৯টি উচ্চ জলাধার, ৭৪৩ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ লাইন, ৮ হাজার ৪০৩টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন, ১৯০টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন-পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছে।
কৃষি, খাদ্য ও শিল্প
২০১৪-১৫ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে ৩৮৪.১৮ লাখ মেট্রিক টন। খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য ১৭২.১৯ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নসহ হাওড় অঞ্চলে কৃষিযন্ত্র সরবরাহের জন্য ১০.৬০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত দুই বছরে খরা, বন্যা, লবণাক্ততা সহনশীলসহ রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল ৬৪টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।
২০১৫ সালে মোট খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ই শ্রীলংকায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রথম অন্য দেশে চাল রপ্তানি করেছে। সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আওতায় ১১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। সান্তাহার সাইলো ক্যাম্পাসে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন Multistoried Warehouse নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬.২৩ শতাংশ। লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৫.৪৮ লাখ মেট্রিক টন মৎস্য ও চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ Blue Growth Economy-তে বাংলাদেশকে Pilot Country হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ৫৮.৬ লাখ মেট্রিক টন ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫২ লাখে উন্নীত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত দুই বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (গ্রিড কানেকটেড) ১০,২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১১,৯৫২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ৮,১৭৭ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩২১ কিলোওয়াট আওয়ার হতে বর্তমানে ৩৭১ কিলোওয়াট আওয়ারে উন্নীত হয়েছে। দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২৭০০+ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে এবং সাথে সাথে বিকল্প উৎস হিসেবে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চিহ্নিত করা হয়েছে।
সড়ক-সেতু, রেল, নৌ ও স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামো
পদ্মা সেতুর মূল সেতু নির্মাণ এবং নদীশাসনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি সার্ভিস এরিয়া, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ২৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৯২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার চারলেনে উন্নীতকরণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি মহাসড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি-আলীকদম মহাসড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর ওপর কাজীর বাজার সেতু, মাদারীপুরে সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সুনামগঞ্জে সুরমা সেতু, বিরুলিয়া ও আশুলিয়া সড়কে বিরুলিয়া সেতু, আড়িয়াল খাঁ সেতু, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু কলাতলী সেতুসহ বেশ কিছু সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হতে চলেছে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ৮০ কিলোমিটার চারলেনের কাজ।
রেলপথের উন্নয়নে ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নসহ লাকসাম-চিকনিআস্তানা ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিগন্যালিংসহ টঙ্গী-ভৈরব বাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি মিটার গেজ ও ১৭০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
পায়রা বন্দরের মূল অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ৬ হাজার একর জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। সীমিত আকারে পায়রা বন্দরের কাজ শুরু করার জন্য ১,১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদি উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালের ৪টি জেটিতে কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের মধ্যে এবং চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে দুটি নতুন রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার (উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম) সড়ক, ৪৩ হাজার ২৫০ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে এলজিইডি বর্তমানে ৭৭৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মগবাজারে-মৌচাক সমন্বিত ফাইওভার প্রকল্পের অধীন ৮.২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে চার লেনবিশিষ্ট একটি ফাইওভার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গত দুবছরে ৬৮৮.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৪৩৯ ছাত্রছাত্রী/গবেষককে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন নির্ধারিত ঠিকাদারের সাথে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জেলা/উপজেলা পর্যায়ে ১৮ হাজার ১৩০টি সরকারি অফিসে কানেক্টিভিটি স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটান আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাবান্ধা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা, ভূমিহীনে
ভূমিদান এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন
পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ২৪,১৫,০০০। দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩১৮টি কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৮,৩৪,৯৬০। এসিডদগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগী ১,৫০,০৫০। আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ঋণ কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৬১,৮৭৪। নারী ও শিশু উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের ফলে দুস্থ মহিলারা ভাতা পেয়ে আসছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০.১২ লাখ। বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭.২২৫ লাখ। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লাখ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫০,০০০।
উপবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় জুন ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিমাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আরওএসসি) প্রকল্পের অধীনে দরিদ্র পরিবারের ৩.৯০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগসহ ভাতা পাচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি স্কুল দিবসে উচ্চশক্তি ও পুষ্টি গুণসম্পন্ন বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। ৪৯ হাজার ৫৫৯টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার ৪৫৭ একর খাস জমির বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ২৫৪টি গুচ্ছগ্রামে ১০ হাজার ৭০৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
দেশের জনগণকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮টি উদ্ভাবনী উদ্যোগের অন্যতম ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এ ছাড়াও দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘চরজীবিকায়ন কর্মসূচি-২’, ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি’, ‘পল্লী জনপদ (উন্নত আবাসন) সৃজন’, ‘ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অব দি পুওরেস্ট (ইইপি)’, ‘মিল্কভিটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ’, ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’ প্রতিষ্ঠাকরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক খামারের সংখ্যা ১৮.৭২ লাখ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদানে সুবিধাভোগীরা অনলাইনের মাধ্যমে ২,৫৭৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় এই অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিআরডিবির আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৮টি সমিতি ও দল গঠন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেচ কার্যক্রমের আওতায় সদস্যদের মাছে ১৮ হাজার ৮৬০টি গভীর নলকূপ, ৪৪ হাজার ৫২৩টি অগভীর নলকূপ, ১৯ হাজার ৪০৫টি শক্তিচালিত পাম্প এবং ২ লাখ ৭৩ হাজার হস্তচালিত পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বিএআরডি) ৮৮টি প্রশিক্ষণ, অবহিতকরণ এবং কর্মশালা সংগঠনের মাধ্যমে ৩ হাজার ৬৫১ অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। চরজীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার ২.৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ পরোক্ষ উপকৃত হচ্ছেন।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জনপ্রশাসন ও কর্মসংস্থান
বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারী আইন এবং পদায়ন/বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মকৃতিভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সকল ক্যাডার কর্মকর্তার ডাটাবেইজ প্রস্তুত, পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন ও যুগোপযোগীকরণ করা হয়েছে। সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৪, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা ২০১৪ এবং জনপ্রশাসন পদক প্রদান নীতিমালা ২০১৪ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের ১ লাখ ১০ হাজার ৫৮৫টি পদ সৃজন, ৫৭ হাজার ৫৩২টি পদ সংরক্ষণ, ১১ হাজার ৩৬৫টি পদ স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ হাজার ৩১২ জনকে নিয়োগ প্রদান, ২ হাজার ১৫৮ জন নিয়োগের সুপারিশ এবং ৩ হাজার ৯৮৩ জনের নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
আইন : আদালতে এখন ভয়েস রেকর্ডারের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। উচ্চ ও নি¤œ আদালতের দৈনন্দিন কার্য তালিকা ও মামলার সর্বশেষ তথ্য, পরবর্তী ধার্য তারিখসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। ২০১৪-১৫ সময়কালে ৪৮টি আইন, ১৫২টি চুক্তি এবং ৬৫১টি সংবিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন প্রণয়নের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন ও বিধিমালার নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১০টি মামলা আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
পররাষ্ট্র : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় তাকে ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ চিন্তাবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ Women in Parliament (WIP) Global Forum Award ২০১৫ পুরস্কারে ভূষিত হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ (Tree of Peace) পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘের Millennium Development Goals (MDGs) অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৪ সালে Commonwealth Parliamentary Association (CPA)-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন, Inter-Parliamentary Union (IPU)-এর প্রেসিডেন্ট Committee on the Elimination of Discrimination Against Women (CEDAW)-এর সদস্য International Mobile Satellite Organization (IMSO)-এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, UNICEF Excutive Board, International Labour Organization (ILO)-এর গভর্নিং বডি এবং ITU Council-এর সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৫-এ UNESCO বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে UNESCO Category II  স্ট্যাটাস প্রদান করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় BIMSTEC-এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে ২২টি উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পরিবেশ ও বন : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত Champions of The Earth পুরস্কারে ভূষিত হন। সুন্দরবন এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড লাইভলিহুড সিকিউরিটি (এসইএলএস) প্রজেক্টের মাধ্যমে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়ুবর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠাসহ দেশের উপকূলীয় জেলাসমূহে প্রায় ২ লাখ হেক্টর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। ৫ লাখ পরিবারকে সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ৭২ শতাংশ শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপনসহ ৮ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন এবং ১৫ লাখ উন্নত চুলা বিতরণ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আবাসন সমস্যার সমাধানে উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (তৃতীয় পর্ব), পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক শহরে মধ্যবিত্তের জন্য প্রায় ৯০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করছে। এ ছাড়া জাতীয়
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদফতর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার নিরসন এবং নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে বিক্রয়ের জন্য ৮ হাজার ৮৮১টি ফ্যাট নির্মাণ করছে। রাজধানীর কুড়াইল এলাকায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫ হাজার ফ্যাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূর্বাচলে দেশের সর্বোচ্চ ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র : ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত Land Boundary Agreement ১৯৭৪ (মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি) অনুসমর্থন দলিল বিনিময়ের মাধ্যমে কায্যকর হয়েছে। ১ আগস্ট ২০১৫-কে অঢ়ঢ়ড়রহঃবফ ফধু হিসেবে নির্ধারণপূর্বক উভয় দেশের মধ্যে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন হয়। ফলে অপদখলীয় ভূমিসহ বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের ভূখ- হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রম দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসন হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর আধুনিকায়ন ও সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫২৭টি বর্ডার অপারেশন পোস্ট (বিওপি)-এর অতিরিক্ত ৮০টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রদান করা হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট : বস্ত্র ও পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের জন্য পাট আইন ২০১৫, পাটনীতি ২০১৫, বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন ২০১৫ ও বস্ত্রনীতি ২০১৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’-এর আওতায় ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ‘বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। বিমানবাহিনী ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ‘Upgradation of Agro-Meteorological Services’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৭টি কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। ‘Improvement of Digital Mapping System of Survey of Bangladesh (Revised) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারে ৬টিPermanent GNSS/GPS Station, Digital Mapping Unit (DMU) স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সমগ্র দেশের অপৎরধষ চযড়ঃড়মৎধঢ়যু সম্পন্নকরণসহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত, উপকূল ও সুন্দরবন এলাকার জন্য Satellite image ক্রয় করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক : সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৮ হাজার টাকায় এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৬৭৬ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক সর্বনি¤œ ১৮ হাজার  টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ’ প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। ‘জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্ম : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় গত দুই বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা, ১০ লাখ ২৯ হাজার কিশোর-কিশোরীকে সহজ কোরআন ও নৈতিকতা শিক্ষা এবং ৩৮ হাজার ৪০০ নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিকে অক্ষরজ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দুস্থ পুনর্বাবসনের লক্ষ্যে মোট ৪২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও খেলাধুলার প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের ফলে ক্রিকেট আজ বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছে। ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টি বাংলাদেশ ২০১৪ ও এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১৪-এর সফল আয়োজন করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে এবং বিশ্ব হকি লীগের প্রথম পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশের দরিদ্রতম ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৭১৮ জনকে প্রশিক্ষণ শেষে অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের দরিদ্রতম ২০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

Category:

সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হউন

Posted on by 0 comment

আওয়ামী লীগের সেমিনার
43আনিস আহামেদঃ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে নিশ্চিহ্ন করতে মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। গত ১৯ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। সেমিনারের শুরুতে বিএনপি-জামাত জোটের আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
সেমিনারে সৈয়দ আশরাফ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সব অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেকেই আওয়ামী লীগ ও সরকারকে ডিফেন্ড করে। মনে হয় যেন এক ঢিলে দুই শত্রু মারার চেষ্টা করেন। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এখানে কাউকে ছোট করা, রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করাÑ সেটি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার অন্তরায় হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় শতভাগ আন্তরিকতা ও জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে তা নিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও নেবেন। বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও অত্যন্ত সতর্ক ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, আজ মধ্যপ্রাচ্যে এ অবস্থা কেন? এটা এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা। বাংলাদেশে ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার পিছনে বিদেশি শক্তির পৃষ্ঠপোষক আছে। এরা চায় বাংলাদেশেও শিয়া-সুন্নী বা মুসলমান বা হিন্দুদের মধ্যে একটা বিভাজন হোক। এটা আমরা কোনোমতেই গ্রহণ করতে পারি না। তিনি বলেন, তাদের সংকীর্ণ ধর্মীয় গোষ্ঠীর কারণে সারাবিশ্ব আজ আতঙ্কিত। কেউ আজকে নিরাপদ নেই। তাই আমরা যে সন্ত্রাস মোকাবিলা করছি, সারাবিশ্বকে সেটিই মোকাবিলা করতে হবে। তবে আমরা চাইÑ সমগ্র অসাম্প্রদায়িক শক্তি আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হোন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন। তা হলে আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবই ইনশাআল্লাহ।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য কিন্তু মানুষ ও সভ্যতা ধ্বংস করে বিএনপি কী পাবে? ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি নেত্রী ও তার কুপুত্র ব্যর্থ। এ দুজনের সম্মিলনে যে পার্টি চলছে, একজন চেয়ারম্যান আরেকজন কো-চেয়ারম্যান। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এরা মানুষকে কী দেবে? বিএনপি নেত্রী ও তার পুত্রকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিকৃত-উন্মাদ রাজনীতির ধারক একজন দেশে বসে, অন্যজন বিদেশে। তাদের সম্মিলিত শক্তি দ্বারা বাংলার মানুষের কী হবে? তারা দেশকে কী দেবেন?
আসলে ডাক্তার ভুল করলে একটা রোগী মারা যায়। আর রাজনৈতিক নেতা ভুল করলে হাজার নেতা মারা যায়। হিটলার এর বড় প্রমাণ। একই সাথে লাদেন, আইএস এবং অন্যরা। এই অবস্থায় বিএনপির ওইখানে যারা আছেন, তাদের কাছে প্রশ্নÑ সম্মেলনে এ নেতৃত্বের হাত থেকে উনারা কী পাবেন?
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চক্রান্ত করার জন্য লন্ডন থেকে কয়েকবার পাকিস্তান এসেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, খালেদা জিয়া লেডি লাদেন। আর তার ছেলে (তারেক রহমান) দাউদ ইব্রাহিমের মতো একজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর সাথে ওঠাবসা করতে পারে। আমাদের কাছে তথ্য আছে তিনি কয়েকবার লন্ডন থেকে পাকিস্তান এসেছেন। তার কাজই হলো পাকিস্তানি ভাবধারা বাস্তবায়ন করা। কাজেই এদের কাছ থেকে কিছু আশা করা সম্ভব নয়। তবে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি থেকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু তা না হলে আমাদের আবারও অবশ্যই দৃঢ় ও শক্তভাবে দমন করতে হবে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ’৭৫-এর পর প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামাতিদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এখনও প্রশাসনকে পুরোপুরি জামাতমুক্ত করা যায়নি। আর তৃণমূলের নির্বাচনকে সামনে রেখে জামাতিরা কৌশলে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতা চালাচ্ছে। এদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।
ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। সন্ত্রাস-নৃশংসতার শিকার শুধু ভিকটিমরাই তা নয়, আমাদের গোটা সমাজ ব্যবস্থার ওপরেই হয়েছে। তাই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নিয়েই চলতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, সন্ত্রাসের এখন বহুমাত্রিকতা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং পেট্রলবোমা ও আগুনবোমা সন্ত্রাসের পাশাপাশি সাইবার সন্ত্রাসও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সাইবার সন্ত্রাস। সরকারকে অনুরোধ করব, এটি আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি-না, তা তদন্ত করে খুঁজে বের করুন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থানকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ উল্লেখ করেন, ভাবাদর্শ ও     চেতনাগতভাবেই আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটি বাংলার মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে এসেছে। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সূচনালগ্নে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই কায়েীগোষ্ঠীর দেশের মানুষকে লড়াইয়ে শামিল করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্জিত হয়।
তিনি সংবিধানে চার মূলনীতি স্থাপন করে ‘সেকুলার’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর খুনিচক্র ও সামরিক শাসকচক্র এদেশে পাকিস্তানি ভাবধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালায়। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের একমাত্র ভরসাস্থল।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধের ও বাহাত্তরের সংবিধানের মূল ভিত্তির ওপর দেশকে প্রতিষ্ঠা করার নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও অবিচল নেতৃত্ব দানের কারণে তাকে ২১ বার হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
শেখ হাসিনার সাহসী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্বের গুণেই তার শাসনামলে ১৫ আগস্টের খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

Category:

ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের ৬ বছরের অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্য (২০০৯-১৫)

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক

39ক. রূপান্তরিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের কর্মকাণ্ড
*     ২০০৯-১৫ সালে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৮৪ পরিবারের মধ্যে ১৪,৮১,২০৫.৭০০ মেট্রিক টন ভিজিএফ খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে ৩,০৯,৮৩১ মেট্রিক টন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে ৪,৯৭,৪১৭ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে ১৫,০৩,২০২ লাখ টাকা গৃহ বাবদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে ৯,৯৭,৩০ টাকায় ২৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭৪ পিস কম্বল ক্রয় করে বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৯ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে     টিআর কর্মসূচির    ৮ লাখ ১৪ হাজার ১৩১টি প্রকল্পে ১১৯৮ কোটি ২০ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
*    ২০০৯-১৫ সালে কাবিখা কর্মসূচির ১ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬টি প্রকল্পে ৮৬২ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ২৬৭ টাকা এবং ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।

খ. উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমাপ্তকৃত প্রকল্প
*    ২০০৮-১০ সালে সিডর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যারাক/ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯৩৪২.৬১ লাখ টাকায় ৭২৪টি ব্যারাক হাউসে ৭ হাজার ২৪০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০১০-১৩ সালে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আইলা বিধ্বস্ত জেলাসমূহে ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৯৮১১.৮২ লাখ টাকায় ১০ হাজার ৩টি ঘূর্ণিঝড় সহনীয় গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০১০-১২ সালে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় খুলনা বিভাগের আইলা বিধ্বস্ত জেলাসমূহে ২৩৪৭.৯৮ লাখ টাকায় ১ হাজার ৯৭৩টি ঘূর্ণিঝড় সহনীয় গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০১০-১২ সালে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বরিশাল বিভাগের আইলা বিধ্বস্ত জেলাসমূহে ২২৭৭.৮০ লাখ টাকায় ১ হাজার ৯৫২টি ঘূর্ণিঝড় সহনীয় গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০১১-১৪ সালে ১০২৪.৩৬ লাখ টাকায় ৭টি নবজীবন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও ৫৮টি  আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত করা হয়েছে।
*    অক্টোবর ২০১২ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের আইলা বিধ্বস্ত জেলাসমূহে ২৪৪৮.৩২ লাখ টাকায় ৮০টি প্যাকেজে মোট ৩ হাজার ৯১৩টি ঘূর্ণিঝড় সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০০৮-১০ সালে বন্যাপ্রবণ ও নদী ভাঙন এলাকায় ৩৪০৪.৮০ লাখ টাকায় ৭৪টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
*    জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৪ সালে ৩২১ লাখ টাকার প্রকল্পে ১৭৬.১৬ লাখ টাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলায় টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের জন্য দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
*    ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ১৯,৯৭৮ লাখ টাকায় ১৩টি জেলার ৬০টি উপজেলায় ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

গ্রন্থনা : শেখ মো. ফারুক শাহ

Category:

মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের উদ্বোধন

Posted on by 0 comment

25উত্তরণ প্রতিবেদন: বহু প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের একাংশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উড়াল সড়কের সাতরাস্তা থেকে রমনার হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকা ত্যাগ করার পর উড়াল সড়কের এই অংশটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী সাতরাস্তা অংশে উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করে উড়াল সড়কের ওপর দিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল প্রান্তে পৌঁছান। এরপর অফিসার্স ক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর দিনভর যানবাহন চলাচল করে। উৎসুক মানুষের অনেকেই দেখতে আসেন উড়াল সড়কটি।
৩০ মার্চ চালু হওয়া উড়াল সড়কের অংশটির দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটারের কিছু বেশি।
টঙ্গী ডাইভারশন সড়ক ব্যবহার করে চলাচলকারী যানবাহনগুলো এখন উড়াল সড়ক ও নিচের সড়ক দুটিই ব্যবহারের সুবিধা পাবে। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, এই উড়াল সড়কটি ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। বাকি ৬ কিলোমিটারের কাজ শেষ না হওয়ায় এর পুরো সুফল পাচ্ছে না মানুষ। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুনে বাংলামটর থেকে মৌচাক অংশ এবং মৌচাক-আবুল হোটেল অংশ ডিসেম্বরে চালু করা যাবে। আর এফডিসিমুখী পথটির কাজ শেষ হয়নি বলে এই অংশটি অব্যবহৃত থাকছে।
উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি। অথচ চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। ব্যর্থ হওয়ার ফলে সময় ও ব্যয় দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) ঋণ এবং সরকারের নিজস্ব অর্থ মিলিয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উড়াল সড়কে ওঠানামার জন্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, রমনা (হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল-সংলগ্ন রাস্তা), বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও শান্তিনগর মোড়ে লুপ বা র‌্যাম্প রাখা হয়েছে।
বর্তমানে এই উড়াল সড়ক প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। ৩০ মার্চ উদ্বোধন করা অংশটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও দেশীয় নাভানা কনস্ট্রাকশন। প্রকল্পের অন্য দুই অংশের ঠিকাদার চীনের এমসিসিসি ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের বাকি অংশ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রূপকল্প অনুযায়ী আমরা ঢাকা মহানগরীকে একটি বিশ্বমানের মেট্রোপলিটন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার (উড়াল সড়ক) নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য ঢাকাবাসীর, ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে এর নির্মাণের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল এবং হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্রুতগামী উড়াল সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচএম মুতাইরি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এমএ মালেক এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন।

Category:

জমি কমলেও চাল উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণ : গম ১২.২৫, ভুট্টা ৭৫৭, পাট ১৫, আলু ১০.৯

60১৯৭১ থেকে ২০১৫। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দরিদ্র দেশ থেকে নি¤œ-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এই ৪৪ বছরের পরিক্রমায় এ দেশে ধানসহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩ থেকে ৭৫৭ গুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই সময়ে দেশের প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিবিএসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৪ বছরে দেশের ধান চাষের জমি ১৮ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ গুণ।
তবে কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকে ফসলের উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে সার, কীটনাশক ও সেচের পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে। একে দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন অনেক কৃষিবিজ্ঞানী।
শুধুই কি ধান? অন্য ফসলেও উৎপাদন বৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছরে দেশের আলু চাষের জমি সাড়ে ৫ গুণ বেড়েছে, আর ফলন বেড়েছে ১০ দশমিক ৯০ গুণ। এই সময়ে গমের উৎপাদন বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ গুণ। ভুট্টার ফলন বৃদ্ধির হার তো রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ৭৫৭ গুণ। আর এই ফসলের জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ধানের জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির উপযোগী জাত উদ্ভাবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। খাদ্যশক্তির জন্য শুধু চালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা ১৯৯৯ সালে দেশে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিই। ভুট্টায় ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ডি’ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ভুট্টা ও গম মিলিয়ে যে আটা হয় তা দেশের মানুষের বড় অংশের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। এভাবে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যাতে মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটায় সেদিকে মনোযোগ দিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।
তবে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ও রপ্তানি দ্রব্য পাটের চিত্র ধান, গম ও ভুট্টার মতো নয়। বরং উল্টো চিত্রই দেখা যায়। ৪৪ বছরে দেশে পাট চাষের জমির পরিমাণ কমেছে ২৫ শতাংশ। তারপরও উৎপাদন বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।
দেশের দানাদার ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই বিপুল অগ্রগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক মাহবুব হোসেন বলেছেন, দেশের ধান-গম-ভুট্টার উৎপাদন বাড়ার সাথে কৃষকের পরিশ্রম ও উদ্যোগের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবনের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে বাজারে এসব কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ায় কৃষক কৃষিতে বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছেন।
জমির পরিমাণ না বাড়ার পরও ফসলের উৎপাদন এত বাড়ার উত্তরও বিবিএসের পরিসংখ্যানেই রয়েছে। ১৯৭০ সালে দেশের ফসলি জমিতে গড়ে একটি ফসল হতো। ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জমিতে বছরে গড়ে প্রায় দুটি ফসল হয়। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ একর জমিতে লবণাক্ততার কারণে এখনও একটি ফসল হয়। দেশের হাওর এলাকায়ও বছরে একটির বেশি ফসল হয় না। দেশের বাকি এলাকায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল হয়ে থাকে।
উৎপাদনের সাথে বিপদও বাড়ছে : কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে অন্য বিপদের কথাও বলছেন। তাদের মতে, পঞ্চাশের দশকে দেশের বেশির ভাগ ফসলের চাষ হতো স্থানীয় জাত দিয়ে। ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে উন্নত জাতের ধানের চাষ শুরু হয়। উফশী জাত রাসায়নিক সার, কৃত্রিম সেচ ও কীটনাশকনির্ভর হওয়ায় ধান চাষে খরচের পরিমাণও বেড়ে যায়। আর উফশী ধানের চাষ বাড়ার সাথে সাথে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশে ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন এবং অন্য সব রাসায়নিক সার মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ২১ লাখ টন।
স্বাধীনতার সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশের ধান চাষের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক বদলও হয়েছে। ৪৪ বছর আগে দেশের বেশির ভাগ ধান উৎপাদিত হতো প্রকৃতিনির্ভর আমন ও আউশ থেকে। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ ফসল আসত বোরো থেকে। আর এখন দেশের ৫৫ শতাংশ চাল আসে বোরো থেকে। বোরোর মোট উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ।
৪৪ বছরে দেশে বর্ষার পানিনির্ভর আউশের চাষ কমেছে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে। আর আমনের চাষ কমেছে ৪৪ শতাংশ। তারপরও এই সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ গুণের বেশি।
ধানের এই উৎপাদন বাড়ার জন্য চাষি ও বিজ্ঞানীদের অবদানকে সবার আগে রেখেও বাংলাদেশের মাটিরও বিশেষ গুণের কথা বলেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন। তার মতে, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে এসে প্লাবনভূমিতে ফেলে। বন্যায় ওই পলি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে যায়। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ওই উর্বর পলি বাংলাদেশের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার বিজ্ঞানীরা ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৪টি উচ্চফলনশীল (উফশী) ও ৪টি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে ১৪টি জাত লবণাক্ততা, বন্যা ও খরাসহিষ্ণু। এ ছাড়া বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা ১৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার ৪টি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু জাত।

দেশে মধ্যবিত্তের সামর্থ্য বাড়ছে
বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সামর্থ্য বাড়ছে। প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে। সচ্ছল বা উচ্চবিত্তের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। ফলে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এফএমসিজি) জন্য বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার। এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) গবেষণায়।
রাজধানীর গুলশানে গত ২২ অক্টোবর গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডি এশিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ভোগ্যপণ্যের বাজার হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অবস্থানকে তুলে ধরতে গবেষণাটির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ : অনাবিষ্কৃত ভোগ্যপণ্যের বাজার, যা কেউ দেখেনি’। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির ভোক্তাদের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। ২ হাজারের বেশি দেশীয় ভোক্তার ভোগের ধরন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় কমপক্ষে ৫ হাজার মার্কিন ডলার, তাদেরই এই গবেষণার জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে এই ভোক্তাশ্রেণির স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ, আরামদায়ক পণ্য ক্রয়ের সামর্থ্য আছে।
বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ে করা এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে আছে। ভিয়েতনামে এমন মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশটির মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৮ শতাংশ ও থাইল্যান্ডে ৫৯ শতাংশ। আশাবাদী হওয়ার মতো বিষয় হচ্ছে, জনসংখ্যার অনুপাতে এখনও কম হলেও বাংলাদেশে প্রতিবছর সাড়ে ১০ শতাংশ হারে মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা ৩ গুণ বেড়ে ৩ কোটি ৪০ লাখ হবে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের মতো দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি সম্পর্কে বলা হয়েছে, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮১ শতাংশ মনে করেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ৭১ শতাংশ মধ্যবিত্ত বিশ্বাস করেন আগামী এক বছরে তাদের আয় বাড়বে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি ক্রমবর্ধমান ভোক্তাশ্রেণি দামি ব্র্যান্ডের পণ্য ও সেবা নিতে ইচ্ছুক; কিন্তু একই সাথে তারা বাজেট নিয়ে সচেতন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৮০ শতাংশই ভোগ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভালো ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেয়। তাই বাংলাদেশি ভোক্তাদের মন জয় করতে হলে ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের মানের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গবেষণায়।
গবেষণা প্রতিবেদনটির সহরচয়িতা জারিফ মুনির বলেন, বাংলাদেশের বাজার এশিয়ার অন্যান্য দেশের বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গতিশীল; কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বেশির ভাগ বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানের নজরে আসেনি। যেসব প্রতিষ্ঠান এ বাজারে অবস্থান নিতে আসবে, তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির সুযোগ পাবে।
গবেষণায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই শ্রেণির ৬৮ শতাংশ ভোক্তার হাতে ইন্টারনেটযুক্ত স্মার্টফোন রয়েছে। নগদ অর্থের চেয়ে মোবাইল ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য পরিশোধে এই শ্রেণির ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ৮১ শতাংশ মধ্যবিত্ত অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। পণ্য সম্পর্কে জানতে এই শ্রেণির ৬৬ শতাংশ প্রথমে অনলাইনে খোঁজ করে।
আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভোক্তাশ্রেণিকে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার, যাদের মাসিক আয় ১৫০ ডলার বা তার কম, তাদের বলা হচ্ছে বটম অব দ্য পিরামিড; ১৫১ থেকে ২৫০ ডলার আয় করা পরিবারকে অ্যাসপিরেন্ট বা আগুয়ান শ্রেণি; ২৫০ থেকে ৪০০ ডলার আয় করা পরিবারকে বিকাশমান মধ্যবিত্ত; ৪০১ থেকে ৬৫০ ডলার আয়কারী পরিবারকে স্থিতিশীল আর ৬৫০ ডলারের বেশি আয় করা পরিবারকে সচ্ছল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। এই গবেষণার জন্য শুধু শেষের দুটি শ্রেণিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ দুটি শ্রেণির নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আরামদায়ক ও বিলাসী পণ্য কেনার সামর্থ্য আছে।
আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বরিশালের মতো শহরেও বাড়বে। মধ্যবিত্ত লোকদের এই সংখ্যা বৃদ্ধিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ হবে মূলত ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় শহরকে কেন্দ্র করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশের পূর্বাঞ্চলে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার ধরতে এ সময় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ২০২০ থেকে ২০২৫Ñ এই পাঁচ বছরে মধ্যবিত্তদের সংখ্যা অন্যান্য বড় শহর ও অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ লাখ বা এর বেশি মধ্যবিত্ত পরিবার আছে বাংলাদেশের ৩৬টি শহরে, ২০২৫ সালে তা এমন শহরে সংখ্যা দাঁড়াবে ৬১টি। ৩ লাখের বেশি মধ্যবিত্ত থাকবে এমন শহরের সংখ্যা বেড়ে ৩৩টি হবে ২০২৫ সালে।
ভোগ্যপণ্য কেনা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পারিবারিক প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি জানিয়েছেন, পরিবারের চাহিদা পূরণ না করে নিজের চাহিদা পূরণকে কখনোই প্রাধান্য দেন না তারা। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, একজন মধ্যবিত্ত বাংলাদেশি অ্যাপলের সর্বশেষ সংস্করণের একটি আইফোন কেনার চেয়ে পরিবারের জন্য রেফ্রিজারেটর কেনাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারে এমন মানসিকতার মধ্যবিত্ত আছেন ৩৮ থেকে ৫৭ শতাংশ।
এফএমসিজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বাজারে সফল হতে হলে তাদের এ দেশের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই গবেষণায়। এশিয়ার সম্প্রসারণশীল অন্যান্য বাজারের তুলনায় এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি গৃহস্থালি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আধুনিক মাধ্যম যেমন সুপার মার্কেট ও চেইন শপের চেয়ে প্রথাগত পদ্ধতিতে কেনাকাটায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। পণ্যের ব্র্যান্ড মূল্য নিশ্চিতেও এফএমসিজি কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই গবেষণায়।

বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ তরুণ কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্ট
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের মধ্যে বেকার বেশি। প্রাথমিক বা এর নি¤œস্তরের শিক্ষা নিয়েছেন এমন তরুণসমাজের মধ্যে বেকারত্ব সবচেয়ে কম। প্রতি ১০০ উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীর মধ্যে বেকারত্বের হার ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক বা এর কম শিক্ষিতদের ৫ শতাংশের কিছু বেশি বেকার আছেন। এর মানে হলো স্বল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাই এ দেশে বেশি কাজ পান। এটি হলো বাংলাদেশের যুবসমাজের বেকারত্বের চিত্র। তবে সুখবর হলো সারাবিশ্বে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যে হারে বেকারত্ব রয়েছে, বাংলাদেশের এর চেয়ে কম। বাংলাদেশি যুবশক্তির সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ বেকার। সারাবিশ্বে এই হার ১৩ শতাংশের বেশি।
সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিশ্ব যুব কর্মসংস্থান প্রবণতা, ২০১৫ (গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইয়ুথ) শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
আইএলও বলছে, এই যুবশক্তিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবেÑ এমন ২৮টি দেশের একটি তালিকা দিয়েছে আইএলও। সেই তালিকায় বাংলাদেশ আছে। এ দেশগুলোর জন্য আইএলও পাঁচ বছরের জন্য প্রায় দেড়শ কোটি ডলারের কর্মসূচি নিয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। যুব কর্মসংস্থান একদিকে বাংলাদেশসহ এসব দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সম্ভাবনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই তালিকায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, নেপাল ও সামোয়াÑ এই ৬টি দেশ রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোতে (এসডিজি) যুবশক্তির কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্কুল টু ওয়ার্ক ট্রানজিশন সার্ভিসকে (এসডব্লিউটিএস) ভিত্তি ধরে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে আইএলও। এসডব্লিউটিএসে মোট ২৮টি দেশের ওপর সমীক্ষা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে। আইএলওর প্রতিবেদনে ১৫-১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে এমন শীর্ষ ৯টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ দেশের কিশোর-কিশোরীদের ১৬ দশমিক ৭ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে তারা প্রায়ই শারীরিক অসুস্থতা ও দুর্ঘটনার শিকার হয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে থাকে ভিয়েতনামের কিশোররা। সেখানে এই হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এই তালিকায় আরও আছে টোগো, ব্রাজিল, উগান্ডা, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও জ্যামাইকা।
আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত তরুণদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ বা অনিশ্চিত কর্মসংস্থানে নিয়োজিত আছেন। আর তরুণীদের মধ্যে এই হার ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ। তাদের বেশির ভাগই গৃহস্থালির কাজে সহায়তা করেন; কিন্তু স্থায়ী কোনো কাজ করেন না। তাই তাদের এ ধরনের কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। এই হিসাবে ইউরোপের তরুণ-তরুণীরা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। আর আফ্রিকার যুবসমাজের মধ্যে এ ধরনের কাজ করার প্রবণতা বেশি।
২৫-২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা কর্মজগতে প্রবেশ করে তাদের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট কি-না, এমন ২৫টি দেশের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে আইএলওর প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের এ বয়সী প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ-তরুণীই স্থায়ী কিংবা সন্তোষজনক কাজ করেন। আইএলওর তালিকায় থাকা ২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে রাশিয়া, ভিয়েতনাম, মাদাগাস্কার ও ইউক্রেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাবিশ্বের ২০ কোটি ১৬ লাখ বেকারের মধ্যে মধ্যে ৭ কোটি ৩৪ লাখই তরুণ-তরুণী।

Category:

নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি মাছ উৎপাদন

Posted on by 0 comment

60ড. একেএম আজাদ শাহ: শুকিয়ে মাছ সংরক্ষণ একটি অতি প্রাচীন ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। শুঁটকিকরণ একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সূর্যালোক এবং বাতাসের মাধ্যমে মাছ থেকে পানি বা জলীয় অংশ অপসারণ বা হ্রাস করে মাছকে শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। মাছের দেহে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পানি থাকে। সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের জন্য শুঁটকিতে পানির পরিমাণ খুব দ্রুত ১৬-১৮ শতাংশে কমিয়ে আনতে হয়। শুঁটকিকরণের ফলে মাছের দেহের পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীবসমূহ জন্মাতে বা বৃদ্ধি পেতে পারে না। ফলে শুঁটকিতে আর পচন ঘটে না। তবে সব ধরনের মাছ শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। যেমনÑ ইলিশ মাছসহ যেসব মাছে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব মাছ এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায় না।
আমাদের দেশে শুঁটকি মাছ একটি জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান। শুঁটকি মাছের কাক্সিক্ষত স্বাদ ও গন্ধ ছাড়াও এটি অত্যন্ত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য। শুঁটকি মাছে সাধারণত ৬০-৮০ শতাংশ আমিষ এবং ৮-২০ শতাংশ তৈল বা চর্বি থাকে। শুঁটকি মাছের তেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা-৩ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী যেমনÑ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা হ্রাস করে, উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে এবং শর্করা বিপাকে সাহায্য করে ইত্যাদি। শুঁটকি মাছ সহজে পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণ করা যায়। দেশে ও বিদেশে শুঁটকি মাছের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে।
আমাদের দেশে সাধারণত সূর্যালোকে মাছ শুকানো হয়। ছোট মাছের বেলায় মাছ প্রথমে ভালো করে ধুয়ে লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে পরে পানি ঝরিয়ে বাঁশের চাটাই বা মাদুরের ওপর মাছগুলো বিছিয়ে সূর্যালোকে শুকানো হয়। কড়া রোদে দু-তিন দিনের মধ্যে শুঁটকি তৈরি হয়ে যায়। বড় মাছের বেলায় নাড়িভুঁড়ি, পাখনা ও আঁইশ ফেলে দিয়ে ভালো করে ধোয়া হয়। ধারালো ছুরি দিয়ে লম্বালম্বিভাবে মাছগুলোকে চিরে দেওয়া হয়। এরপর লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে পরে পানি ঝরিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাঁশের র‌্যাক তৈরি করে মাছগুলোকে ঝুলিয়ে শুকানো হয়। শুকনো মাছ পলিথিনের ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়।
সূর্যালোকে শুকানো মাছের গুণাগুণ অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু মাছকে খোলা আকাশের নিচে শুকানো হয়, তাই বিভিন্ন ধরনের মাছি ও পোকামাকড় শুঁটকিতে ডিম পাড়ে, যা পরবর্তীতে গুদামজাত করার সময় পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয় এবং শুঁটকির ক্ষতি করে। পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য শুঁটকিতে নানা প্রকার ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও উন্মুক্ত স্থানে অতিরিক্ত সূর্যালোকে শুঁটকিকরণের ফলে মাছের দেহে উচ্চমাত্রায় চর্বির জারণ (lipid oxidation) ঘটে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কটু গন্ধের সৃষ্টি হয়। এসব কীটনাশক মিশ্রিত অথবা চর্বির জারণকৃত শুঁটকি মাছ খেলে মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব যেমনÑ অকাল বার্ধক্য, হৃদরোগ, ক্যানসার এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এসব কারণে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে উৎপাদিত শুঁটকি মাছের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।
নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি মাছ উৎপাদনে করণীয় বিষয়সমূহÑ
ক্স শুঁটকি তৈরির সময় অবশ্যই তাজা মাছ ব্যবহার করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বাসি বা পচা মাছ ব্যবহার করা উচিত নয়।
ক্স মাছের নাড়িভুঁড়ি, আঁইশ, পাখনা ইত্যাদি ফেলে দিয়ে পরিষ্কার পানি দ্বারা ধুয়ে নিতে হবে।
ক্স শুঁটকি তৈরির সময় সর্বদা স্বাস্থ্যসম্মত বিধি অনুসরণ করা উচিত। ব্যবহার্য সব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে ও পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। এতে ক্লোরিন পানি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
ক্স মাছ শুকানোর আগে লবণ দ্রবণে চুবিয়ে নিলে মাছে মাছি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।
ক্স মরিচ ও হলুদের পোকামাকড় প্রতিরোধী গুণ রয়েছে বিধায় ০.৩ শতাংশ মরিচ ও ০.১ শতাংশ হলুদের গুঁড়া একসাথে মাছে মাখিয়ে দিয়ে শুকাতে হবে। মরিচ ও হলুদমাখা শুঁটকি উৎপাদনের পর সহজে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
ক্স শুঁটকি করার সময় মাছকে মাছি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার  জন্য স্বচ্ছ পলিথিন বা জাল দিয়ে ঢেকে শুকানো উচিত।
ক্স শুঁটকি মাছ সঠিকভাবে শুকানো উচিত, যাতে পানির পরিমাণ ১৫-২০ শতাংশের বেশি না থাকে। পানির পরিমাণ এর চেয়ে বেশি হলে শুঁটকির গুণগতমান দ্রুত নষ্ট হয়।
ক্স মাছ শুকানোর সময় পোকামাকড়ের দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ রোধ করার জন্য সোলার টেন্ট ড্রায়ার ব্যবহার করা উচিত। এটি শুকানোর মাত্রাকেও ত্বরান্বিত করে।
ক্স গুদামজাতকালে শুঁটকির জারণক্রিয়া রোধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট যেমনÑ ভিটামিন-ই, ইঐঞ (Butylated hydroxy toluene), BHA (Butylated hydroxy anisol) ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ক্স উন্মুক্ত স্থানে শুঁটকি মজুত বা গুদামজাত করা উচিত নয়। বায়ু নিরোধক পাত্রে শুঁটকি গুদামজাত করা উচিত। এ ছাড়া বায়ু নিরোধক পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুকিয়ে মাছ সংরক্ষণ একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ শুকানোর ফলে উৎপাদিত শুঁটকি মাছের গুণগতমান অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব হয় না। নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

লেখক : সহযোগী প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
গ্রন্থনা : মো. রশীদুল হাসান

Category:

৭৫ শতাংশ তরুণ বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী

Posted on by 0 comment

41উত্তরণ ডেস্ক: ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম। ৭৫ শতাংশ তরুণ মনে করেন আগামী ১৫ বছরে দেশ আরও সমৃদ্ধি অর্জন করবে। আর ৬০ শতাংশের ধারণা, দেশ সঠিক পথেই চলছে। এই তরুণরাই দেশের নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী। এক জরিপ রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কাউন্সিলে এই জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহকারী প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর টমাস ডোহেথি বলেন, ২০১৩ সালে এ রকমই এক জরিপ রিপোর্টে পাকিস্তানের ৯৪ শতাংশ তরুণ জানিয়েছিলেন, তাদের দেশ সঠিক পথে চলছে না।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিতে এই জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ‘নেক্সট জেনারেশন বাংলাদেশ : ২০১৫ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও এ দেশের তরুণরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চান। ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) যৌথভাবে এই গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, তরুণদের এই আশাবাদের বিপরীতে উদ্বেগও আছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অবকাঠামো এবং দুর্নীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে এসব বিষয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জরিপে তরুণদের ৫৪ শতাংশ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ৪১ শতাংশ দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৩৯ শতাংশ বিদ্যুৎ সংকট, ৩৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, ৩২ শতাংশ ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং ৩২ শতাংশ বেকারত্বকে প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক এসব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তারা দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে চান। তরুণরা দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ চান। নিলসেন কোম্পানি (বাংলাদেশ) পরিচালিত এই গবেষণায় ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫ হাজার তরুণ ও যুবকের ওপর জরিপ চালানো হয়। ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই জরিপ চলে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা ছিল সমান। তাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ ছিলেন গ্রামীণ জনপদের, ২০ শতাংশ শহুরে এবং বাকিরা উপ-শহর বা আধা-শহরের বাসিন্দা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ১৫টি ইন-ডেপ্টথ ইন্টারভিউ এবং ১৮টি ফোকাস গ্রুপভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তরুণদের নিয়ে এ ধরনের জরিপ বাংলাদেশে এটাই প্রথম। সময়ের আলোকে তরুণ প্রজন্মের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে এই জরিপে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’স (এসডিজি’স)-এর ব্যাপারে করা এ জরিপ ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে চলমান ধারাবাহিক গবেষণারই অংশ। দেশের তরুণ সমাজের মর্যাদা, আকাক্সক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২০১০ সালে প্রকাশিত রিপোর্টের ‘ফলো-অন’ এই জরিপ রিপোর্ট। এ বছরের এই গবেষণা রিপোর্টে তরুণ প্রজন্মের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছেÑ সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্য।
গবেষণা রিপোর্টে আরও বলা হয়, তরুণরা সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার শীর্ষ ৫টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বেকারত্ব, ৫৪ শতাংশ দারিদ্র্য, ৩০ শতাংশ অধিক অর্থ চাহিদা, ২৯ শতাংশ বন্ধুদের চাপ এবং ২২ শতাংশ রাজনৈতিক বিশ্বাসকে তরুণদের সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রিপোর্ট বলছে, ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৪৮ শতাংশ তরুণের কোনো আয় ছিল না। সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সহিংসতার কারণে অনেক তরুণই আংশিক বেকারত্বের শিকার। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যাশিত চাকরি পাচ্ছেন না। গত ১২ মাসে ৬২ শতাংশ তরুণ কোনো আয় করতে পারেন নি।
গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, শুধু শিক্ষাই বেকারত্বের সমাধান নয়। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাগ্রহণ শেষে চাকরির প্রস্তুতির সময় তরুণরা বুঝতে পারেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বেশি প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক এবং আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্বিকভাবে এ দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন দেখে একটি গণতান্ত্রিক, সাম্যবাদী ও সবুজ বাংলাদেশের। যেখানে থাকবে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সুশাসন, চাকরির নিশ্চয়তা, গণতন্ত্র, পরিবেশ ও সাম্যবাদী অবস্থা।
তরুণ প্রজন্মের এসব উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আকাক্সক্ষা দেশের নীতি-নির্ধারণী বিষয় ও পরিকল্পনা নথিতে অন্তর্ভুক্তি হোকÑ এই গবেষণায় তরুণদের মনোভাবের সেই প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যগুলো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নথি, যেমনÑ সপ্তম পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা (এসএফওয়াইপি) ও বার্ষিক অনুষ্ঠান নথি যেমনÑ বার্ষিক উন্নয়ন অনুষ্ঠানেও (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শুধু রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাই পূরণ হবে না; বরং বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের সাথে সংগতি রেখে এসডিজির বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, ৯৮ শতাংশ যুবক মনে করেন দেশ পরিচালনায় সৎ ও দায়িত্বশীল সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ৯৬ শতাংশ তরুণ নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং কর্মসংস্থানের ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছেন ৯৫ শতাংশ তরুণ। জরিপে ১৬ শতাংশ শহুরে এবং ২৮ শতাংশ গ্রামীণ যুবক বলেছেন, পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রিপোর্ট উপস্থাপনের পর গবেষণার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় তিন তরুণ প্যানেল আলোচকও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটি যুব কর্মসূচি একটিভ সিটিজেনের সদস্য মোসাব্বের আলী চিশতি তার আলোচনায় তরুণদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তাদের যথাযথ শিক্ষা, যোগ্যতা এবং সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই গবেষণার তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বীরেন শিকদার প্যানেলের তরুণ সদস্যদের কাছ থেকে তাদের কাজ ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জেনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও গবেষণার সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা গেলে সব ক্ষেত্রে সমান স্টান্ডার্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দেশজুড়ে তরুণ নারী ও পুরুষদের একসাথে কাজের মাধ্যমে এসডিজি’স বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেপুটি ব্রিটিশ হাইকমিশনার মার্ক ক্লেটন বলেন, এই গবেষণা প্রতিবেদনে এক ঝলকে এ দেশের তরুণ সম্প্রদায়ের ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে। উন্নত জীবন ও দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে তাদের আশার কথা শুনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। তবে, এ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, দারিদ্র্যকে পরাভূত করে একটি সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের জন্য চাকরি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সব ধরনের উদ্যোগের ব্যাপারে এখনও বাধা রয়েছে। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহকারী প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর টমাস ডোহেথি বলেন, এ দেশের ৮৭ শতাংশ তরুণ আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। এতে প্রমাণিত হয়, এ দেশের তরুণদের ওপর গণতন্ত্রের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ডেপুটি ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে প্যানেলে তিন তরুণ উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশজুড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের সাথে তাদের মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনতে তারা দেশজুড়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারক, তরুণ ও অন্যদের সাথে সম্পর্ক তৈরিতে খুবই আগ্রহী ছিলেন। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ও ইউল্যাবের উপাচার্য ইমরান খানের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করা হয়। এ গবেষণার একটি সারাংশ ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড ও ইউল্যাবের ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়া যাবে। এ মাসের শেষের দিকে গবেষণার সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালক বারবারা উইকহ্যাম।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপ
সরকারের সমর্থন বেড়েছে
42নির্বাচনের বিষয়ে দেশে রাজনৈতিক বিভাজন অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থন বেড়েছে। দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লোকজনের মনোভাব ইতিবাচক, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা আশাবাদী। তবে তাদের কাছে দুর্নীতি এখনো সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রবিষয়ক মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গত ২৩ মে থেকে ১০ জুন ১৮ থেকে বেশি বয়সের ২ হাজার ৫৫০ নারী-পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক পুরুষ। বাংলাদেশের ৭টি বিভাগে পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ গ্রামে এবং ২৬ শতাংশ থাকেন শহরে। গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ও কনসোর্টিয়াম ফর ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্রসেস স্ট্রেনদেনিংয়ের সহায়তায় আইআরআই নিয়েলসন-বাংলাদেশকে দিয়ে জরিপটি চালিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে জরিপ চালিয়ে আসছে আইআরআই।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্দলীয় সংস্থা আইআরআই ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে। মার্কিন সিনেটর এবং ২০০৮ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য জন ম্যাককেইন এখন আইআরআইয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
গত মে ও জুনে পরিচালিত আইআরআইয়ের এই জরিপ থেকে বেরিয়ে এসেছে, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির পর গত দেড় বছরে সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া লোকজনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৭ শতাংশ। দেশের সম্ভাবনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে ৬২ শতাংশ মনে করছেন, দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এ ছাড়া ৭২ শতাংশ মনে করেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক, ৬৮ শতাংশের মতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো এবং ৬৪ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে।
আইআরআইয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়েও জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), আদালত, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাজের প্রতি যথাক্রমে ৮৬, ৭৬, ৭৩, ৫৯, ৮৩ ও ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক সমর্থন দিয়েছেন। উত্তরদাতাদের ৪৬ শতাংশ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকা-কে সমর্থন করেছেন। আবার ৪৬ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকা-। বিরোধী দলের কাজের বিরোধীদের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ আর সমর্থকের সংখ্যা ৪১ শতাংশ।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করেন উত্তরদাতাদের ৪৮ শতাংশ। আর ২০ শতাংশ মনে করেন স্থিতিশীলতা থাকবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তরদাতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন ও বিরোধিতার হার ৬০ ও ২৯ শতাংশ। বিএনপির প্রতি এই হার যথাক্রমে ৪২ ও ৪৬ শতাংশ। আর জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি এই হার একই, যথাক্রমে ২৫ ও ৬০ শতাংশ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, অর্থনীতি সুদৃঢ়করণ, নিরাপত্তা জোরদার, জাতি গঠন, জাতিগত সহিংসতা রোধ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমনÑ প্রশ্ন করা হলে সব সূচকেই উত্তরদাতারা আওয়ামী লীগকে এগিয়ে রেখেছেন।

দারিদ্র্য বিমোচন : তিন বছর আগেই এমডিজি লক্ষ্য অর্জন
43দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) অন্যতম হলো দারিদ্র্য নিরসন। এমডিজি অর্জনের নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই এ লক্ষ্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
এমডিজির মেয়াদের শেষ বছর ২০১৫ সালে এসে দেশের দারিদ্র্য হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে। বর্তমানে ৩ কোটি ৯২ লাখ লোক এখনো উচ্চ দারিদ্র্যরেখার নিচে বসবাস করে। আর এদের মধ্যে নি¤œ দারিদ্র্যরেখার নিচে বসবাস করে ২ কোটি ৪ লাখ লোক।
এমডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এ প্রতিবেদনে এমডিজির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি কতটা, সে বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনে এখনও বাংলাদেশের সামনে ৩টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলে বিদ্যমান দারিদ্র্য পকেট; আয়বৈষম্য দূর করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হওয়ায় তা দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এমডিজিতে বার্ষিক দারিদ্র্য বিমোচনের হার ১ দশমিক ২০ শতাংশ মানে রাখার লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বছরে গড়ে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ মানে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে।
সামগ্রিক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন বলেছেন, দারিদ্র্য নিরসনের শেষ পর্যায়ে এসে গতি কমে যায়। তখন বিশেষ কিছু কর্মসূচি নিতে হয়। দারিদ্র্য নিরসনে পাইলটভিত্তিক যেসব সফল প্রকল্প বা কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলো দেশব্যাপী বিস্তার করা উচিত। এ ছাড়া সমাজের বিশেষ শ্রেণি যেমন প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। কারণ, তারা দরিদ্র থাকলে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হবে না। এ ছাড়া আয়বৈষম্য দূর করতে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের কাছ থেকে সম্পদ করের মতো সৃজনশীল প্রত্যক্ষ কর আদায় করা যেতে পারে। আদায় করা কর দারিদ্র্য নিরসনের কাজে লাগাতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুমৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অর্জন বেশ ভালো। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শিশুমৃত্যু হ্রাসে এমডিজির লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতি ১ হাজার শিশু জন্ম নেওয়ার পর বয়স পাঁচ বছর হওয়ার আগেই ১৫১ শিশু মারা যেত। ২০১৩ সালেই এভাবে শিশুমৃত্যুর হার কমে ৪১ হয়েছে। ১৯৯০ সালে প্রতি ১ হাজার নবজাতকের মধ্যে ৯৪ জন মারা যেত। ২০১৩ সালে তা ৩২ জনে নেমে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচি সাফল্য, পানিবাহিত রোগ হ্রাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে নবজাতক ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে।
মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য এমডিজিতে যে লক্ষ্য রয়েছে, তাতেও বাংলাদেশ সফল হয়েছে। জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে প্রতি ১ লাখ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ৫৭৪ জন মা মারা যান। ২০১৩ সালে প্রতি ১ লাখ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ১৭০ জন মা মারা যান। এমডিজির মেয়াদকালে প্রতিবছর গড়ে ৩ শতাংশ হারে মাতৃমৃত্যু কমানোর লক্ষ্য রয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ হারে কমিয়েছে। গর্ভধারণ থেকে নবজাতক জন্মের পর ২৮ দিন পর্যন্ত গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মায়ের মৃত্যুকেই এখানে মাতৃমৃত্যু হিসেবে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে এইডস বা এইচআইভি রোগ ছড়ানোর হার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। এটা মহামারি আকার ধারণ করার সীমার নিচে। এটা এমডিজির এ সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি ১ লাখ লোকের মধ্যে ৪৩৪ জন, ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৭৭।
এমডিজি অর্জনে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিবছর ৩০০ কোটি ডলার উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১৭৪ কোটি ডলার পেয়েছে।
সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ যথেষ্ট উন্নতি করেছে। লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ভালো করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান জাতীয় সংসদে ২০ শতাংশ প্রতিনিধি নারী, যারা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জিইডির সদস্য শামসুল আলম বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাথমিক শিক্ষায় নিবন্ধন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য হ্রাস, শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুসহ এমডিজির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে। এমডিজি পরবর্তী যে উন্নয়ন আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সাফল্যগুলো উদাহরণ হিসেবে আসবে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু কমেছে ৭৩.৬১ শতাংশ
44বিশ্বে শিশুমৃত্যুর হার ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর ২০১৫ সালে এসে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমেছে ৭৩.৬১ শতাংশ। ১৯৯০ সালের দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রতিবছরে ১ কোটি ২৭ লাখ। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ৫৯ লাখে নেমে এসেছে। এই প্রথম বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যু হার ৬০ লাখের নিচে পৌঁছেছে। যদিও বিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৬ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে প্রতিদিন। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ গত ৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে প্রতি ১ হাজারে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ছিল ১৪৪। ২০১৫ সালে সেই হার দাঁড়িয়েছে ৩৮-এ। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুহার কমেছে ৭৩.৬১ শতাংশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং নেপাল সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করেছে। যদিও তা এমডিজির চতুর্থ লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি।
বিশ্বের মোট ১৯৫টি দেশের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। ‘দ্য লেভেলস অ্যান্ড ট্রেন্ডস ইন দ্য চাইল্ড মর্টালিটি রিপোর্ট-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরিতে ইউনিসেফ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক অধিদফতর সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনের এক অংশে বলা হয়, ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রতিহাজারে প্রসবকালীন শিশুমৃত্যু হার ছিল ৪৪ জন। ২০১৫ সালে সেই হার এখন ৪৮ জন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার রোধে বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের মতে, সফল টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভিটামিন ‘এ’ সম্পূরক ওষুধের সফল ব্যবহারের কারণে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর প্রতি ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয় সাব-সাহারার আফ্রিকার দেশগুলোতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ সংখ্যা প্রতি ১০ জনে ৩ জন।
এর মধ্যে জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে ৪৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় প্রতিবছর বিশ্বে ১০ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। জন্মের পর প্রথম সপ্তাহে মারা যায় ২০ লাখ শিশু। জরিপে অন্তর্ভুক্ত নি¤œ আয়ের ১২টি দেশের মধ্যে যে ১০টি দেশ শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে এনেছে তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই আফ্রিকার দেশ।
তবে সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কারণ, শিশুমৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশের নিচে নামিয়ে আনার ব্যাপারে জাতিসংঘের লক্ষ্য এখনও অর্জিত হয়নি। ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক গীতা রাও গুপ্তা বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে শিশুমৃত্যু হার কমানোর ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে অনেক বড় অর্জন। কিন্তু এখনও অনেক শিশু এমন সব রোগে মারা যাচ্ছে, যা আসলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এখনও আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৬ হাজার শিশু প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই অপুষ্টি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাদের অন্তত ৪৫ শতাংশই এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। সাহারা মরুভূমির আশপাশের দেশগুলোর শিশুরাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, লাইবেরিয়া, মালাওয়ি, নেপাল এবং তাঞ্জানিয়ার মতো কয়েকটি নি¤œ আয়ের দেশে শিশুদের জীবনরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জোরাল অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
এসব দেশে সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৫ সালের আগেই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত দুই দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগগুলোর কারণে প্রায় ৯ কোটি শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, কার্যকর এবং সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং অব্যাহত রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কারণে বিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়েছে।
তবে ইউনিসেফের উপ-প্রধান গীতা রাও গুপ্তা হুশিয়ার করে বলেছেন, আরও দ্রুত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব না হলে সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি নির্ধারিত শিশুমৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ২০২৮ সালের আগে অর্জন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৪ নম্বর লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার পূরণের মাধ্যমে বিশ্বসম্প্রদায় এই ট্র্যাজেডি এড়াতে পারে এবং তার জন্য হাতে সময় আছে আর মাত্র দুই বছর। অবশ্যই, ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গীতা রাও বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আমাদের আরও ৩৫ লাখ শিশুর জীবন বাঁচাতে হবে। সুতরাং, এক্ষেত্রে আমাদের জরুরিভিত্তিতে সফলতা অর্জনের গতি বাড়াতে হবে।

বিশ্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক
বাংলাদেশ ১০৭, পাকিস্তান ১২৬
45(b)প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট পেয়ে ১০৯ থেকে ১০৭-এ উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর ৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ৫ দশমিক ৬৮ ও ৫ দশমিক ৬১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেও এই ৩টি দেশ তালিকার শীর্ষে ছিল। সূত্র ব্লুমবার্গ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বিশ্বের ১৪০টি দেশের উৎপাদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ২০১৫-১৬ সালের জন্য এই তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট ১১৩টি বিষয়কে বিবেচনা করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা সূচকে সংশ্লিষ্ট দেশের অবকাঠামো, নতুন রীতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির পরিবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, নীতি সহায়তা এবং যেসব বিষয়গুলোর অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার বিষয়টি নির্ধারণ করে এবং যার মাধ্যমে একটি দেশের সম্ভাবনার বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি করা যায় সেটিকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা সূচকে সবচেয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে নেদারল্যান্ডসের। ৫.৫০ পয়েন্ট পেয়ে ৮নং অবস্থান থেকে ৫নং-এ উঠে এসেছে ইউরোপের এই দেশটি। তবে বড় ধরনের অবনমন হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের। আগের ৫৭নং থেকে ১৮ ধাপ পিছিয়ে তালিকার ৭৫ নম্বরে নেমে এসেছে ব্রিকসভুক্ত এই দেশটি। ৪.৩১ পয়েন্ট পেয়ে ৭১ থেকে ৫৫নং-এ উঠে এসেছে ভারত। ৩.৪৫ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার ১২৬ নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান সর্বনি¤েœ। আমাদের আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ৩.৩২ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার ১৩১ নম্বরে রয়েছে। ২.৮৪ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার সর্বনি¤েœ রয়েছে গায়না।
বিবিএসের পর্যবেক্ষণ
কৃষিতে নারী ও পুরুষের মজুরিবৈষম্য কমেছে
45(a)দুই বছর ধরে দেশে নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য ১০ শতাংশ হারে কমছে। সাত বছর আগেও দেশে নারী শ্রমিকরা পুরুষের অর্ধেকেরও কম মজুরি পেতেন। চলতি বছরের মে মাসের মজুরির হিসাবে এই পার্থক্য ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কৃষি মজুরি হিসাবে পুরুষ যদি ১০০ টাকা পান, নারী পান ৭৫ টাকা। সাত বছর আগে একই কাজের জন্য নারী পেতেন ৪৮ টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ কৃষি মজুরিবিষয়ক জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত মে মাসে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, কৃষি খাতে পুরুষের গড় মজুরি দিনের খাবার ছাড়া ৩২২ টাকা ও খাবারসহ ৩০০ টাকা। আর নারীদের মজুরি খাবার ছাড়া ২৪৪ টাকা ও খাবারসহ ২২৫ টাকা। বিবিএসের মজুরি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে পুরুষরা সবচেয়ে বেশি মজুরি পান কক্সবাজার জেলায়, দিনে ৪২৮ টাকা। ওই জেলার নারীরা পান ৩২৫ টাকা। নারীরা সবচেয়ে কম মজুরি পান নীলফামারী জেলায়, ১৬৩ টাকা। আর পুরুষরা সবচেয়ে কম মজুরি পান চুয়াডাঙ্গায়, ২১৩ টাকা।
এ ব্যাপারে পরিসংখ্যান ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক ও কৃষি শাখার প্রধান বিধান বড়াল বলেছেন, গ্রামীণ পুরুষের একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রবাসী শ্রমিক এবং দেশের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে ও শিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। ফলে কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ ও মজুরি দুটিই বাড়ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিধারণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের (এফপিএমইউ) ২০১৫ সালের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনেও কৃষিতে নারীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির ‘জাতীয় খাদ্যনীতি ও কর্মপরিকল্পনা এবং দেশীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর ধরে ধারাবাহিকভাবেই মজুরিবৈষম্য কমলেও ২০১৩-১৪ সালে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১০ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে একজন পুরুষ দৈনিক মজুরি দিয়ে ৯ কেজি এবং নারীরা ৬ কেজি চাল কিনতে পারেন। এফপিএমইউর রিপোর্ট ২০১৫ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে নারী শ্রমিকের দক্ষতা ও চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও গ্রামীণ পুরুষের বড় অংশ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে রূপান্তর এবং পুরুষ শ্রমিকদের অন্য খাতে স্থানান্তরের কারণে গ্রামে কৃষি-মজুরের সংকট দেখা দিচ্ছে। ওই শ্রমের ঘাটতি নারীরা পূরণ করে কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। খাদ্যনীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) ২০১৪ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে কৃষি খাতের কাঠামোগত বদলের কারণে গ্রামীণ নারীদের মজুরিবৈষম্য কমে আসছে বলে তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিবিএসের সর্বশেষ ২০১০ সালের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৫৬ লাখ। এর মধ্যে নারী প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ। এক দশক আগেও নারীদের এই সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ। অর্থাৎ, ১০ বছরের ব্যবধানে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন ৬৭ লাখ নারী। তবে, এক দশক ধরে প্রতিবছর কৃষিকাজে ৪ শতাংশ হারে কৃষি শ্রমিক বাড়লেও তা মূলত নারীনির্ভর। আর পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে সাড়ে ৩ শতাংশ।

বাজেট স্বচ্ছতায় এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
46বাজেট স্বচ্ছতায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। আন্তর্জাতিক বাজেট মূল্যায়নবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল বাজেট পার্টনারশিপ (আইবিপি) ‘ওপেন বাজেট সার্ভে-২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। আইবিপির নিজস্ব ওয়েবসাইটে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে একই বিষয়ে সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সমীক্ষা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৫৬। সেখানে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ভারতের প্রাপ্ত স্কোর ৪৬। ভারতের এই স্কোর সমীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশ্বের দেশগুলোর গড় স্কোর ৪৫-এর চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের স্কোর ১০০-এর ভেতর ৪৩, আফগানিস্তানের ৪২, শ্রীলংকার ৩৯ এবং নেপালের স্কোর ২৪। সমীক্ষায় বিশ্বের মধ্যে ৮৮ স্কোর নিয়ে ১ নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। সুইডেন, সাউথ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেকে অর্জন করেছে ৮০ স্কোর। এ ছাড়া ব্রাজিল ৭৭, রাশিয়া ৭৩ স্কোর পেয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির স্কোর মাত্র ১৪।
সমীক্ষায় দেশগুলোর বাজেটের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে ৩টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে ১০৯টি সূচক মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রধান তিন সূচক হচ্ছেÑ জনগণের অংশগ্রহণ, আইন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ন এবং নিরীক্ষণ ব্যবস্থাপনা।
বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল বর্ণনা করা হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ২৩। যদিও এক্ষেত্রে ভারতের স্কোর আরও খারাপ অর্থাৎ ১৯। আইন বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে স্কোর ৪৯ এবং একে সীমিত উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে নিরীক্ষণ ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট ভালো করা বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭৫। ভারতেরও এক্ষেত্রে স্কোর ৭৫।
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে কাজ করা ১০২টি রিসার্চ এবং সিভিল সোসাইটি সংস্থার মাধ্যমে এই সমীক্ষা সম্পাদিত হয়েছে।

Category: