শোনা যায়, কর্নেল রশীদ আর ডালিম সেই সময় ঢাকায় ছিল

উত্তরণ প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশের ওপর নারকীয় ভয়াল গ্রেনেড হামলার জন্য আবারও তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সহযোগিতা না থাকলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারত না। আজ যারা গণতন্ত্রের কথা বলে, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি দলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করা- এটা কোন্ ধরনের গণতন্ত্র ছিল?
পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ করে ওই গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুজাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো আমার বাবার (বঙ্গবন্ধু) পথ ধরেই এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। এদেশের মানুষের জন্য কাজ করছি। বারবার মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখেছি। গ্রেনেড-বোমা-বুলেট দিয়ে বারবার আমাকে হত্যাচেষ্টা হয়েছে। বারবার আমার সামনে মৃত্যু এসে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ্ একটা কাজ দেয়, সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাঁচিয়ে রাখে। আল্লাহর রহমতে নেতাকর্মীরা আমাকে বারবার বাঁচিয়েছেন।
গত ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার সপ্তদশ বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভয়াল এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারসহ ওই সময়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যুক্ত থাকা এবং ঘাতকদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হামলার দিন রাতেই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চারজনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার মধ্যে কারারক্ষী তাজউদ্দিনও ছিল। সেই সঙ্গে শোনা যায়, কর্নেল রশীদ আর ডালিম (বঙ্গবন্ধুর খুনি) সেই সময় ঢাকায় এসেছিল এবং তারা খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার তত্ত্বাবধানেই ছিল। কারণ গোয়েন্দা সংস্থা, ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশ অফিসার সবাই এর মধ্যে জড়িত ছিল। তখনকার সরকার এদের রক্ষা করতে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। যখন জানলো যে গ্রেনেড হামলায় আমি মরি নাই, বেঁচে আছি। তখন তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপির সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্তের মূল অনুষ্ঠানে প্রথমে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, গ্রেনেড হামলায় আহত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিণের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদ, ১৫ আগস্টের সকল শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোনের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ওই দিনের ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে এ-ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণত পুলিশ এগিয়ে আসে সাহায্য করতে, যারা আহত তাদেরকে রক্ষা করতে। এইখানে দেখা গেল উল্টো। বরং আমাদের নেতাকর্মী দূরে যারা ছিল, তারা যখন ছুটে আসছে আহতদের বাঁচাতে, তাদেরকে আসতে দেয়া হয়নি বরং টিয়ারগ্যাস মারা হয়েছে। ওই গ্যাসেও তো অনেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মানেটা কী? যারা আক্রমণকারী, তাদেরকে রক্ষা করা, তাদেরকে রেসকিউ করার জন্যই এই টিয়ারগ্যাস মারা, লাঠিচার্জ করা। একটা সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে, তাহলে এই রকম ঘটনা ঘটতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকার গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়া নামের দরিদ্র একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। একটা ‘কাহিনি তৈরি করে’ তার পরিবারকে লালনপালন করা হবে এই আশ্বাস দিয়ে। অথচ আর্জেস গ্রেনেড সংগ্রহ করা বা গ্রেনেড মারার মতো লোক সংগ্রহ করার সামর্থ্যই (সেই জজ মিয়ার) ছিল না। পাশাপাশি ওই সময় মগবাজারের আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করাসহ আওয়ামী লীগের কর্মীদের গ্রেফতার করে তাদের দিয়ে স্বীকার করানোর পরিকল্পনা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ওই দিনের ভয়াল ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আপনারা জানেন, একটা গ্রেনেড পাওয়া গেল জেলখানার ভেতরে দেয়ালের সঙ্গে। সেটা আবার আমাদের কোনো কোনো স্বনামধন্য পত্রিকা ডায়াগ্রাম এঁকে দেখাল যে জেলখানার পাশের কোনো এক বাড়ি থেকে ওই গ্রেনেড ছুড়ে মারাতে ওটা ওখানে পড়েছে! জেলখানার পাশে এমন কোনো বাড়ি নেই যেখান থেকে গ্রেনেড মারলে ওই জায়গায় এসে পড়বে।
তিনি বলেন, আসল কথা হলো এরা অনেক ক্রিমিনাল জোগাড় করেছিল। তার মধ্যে কিছু জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সে-সময় প্রত্যেকের হাতে যে গ্রেনেডগুলো ছিল, সবাই সেগুলো মারতেও পারেনি। রমনা হোটেলের সামনে ওখানে একটা গলিতে একটা পড়ে পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটা আলামত পাওয়া যায়। পরে তারা নিশ্চয় (কারাগারে) ঢুকে গিয়েছিল এবং একজন কারারক্ষী এর মধ্যে জড়িত ছিল।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের নানা অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আক্রমণকারীদের রক্ষা করার জন্য সেদিন ভয়াবহতার মধ্যেই পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে। সব আলামত সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি দিয়ে ধুয়ে নষ্ট করা হয়েছে। একটা গ্রেনেড অবিস্ফোরিত থেকে যায়, সেটিও সংরক্ষণের কথা বলায় একজন অফিসারকে ধমকানো হয়। পরে তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা না থাকলে তো এমন হতে পারে না।
শেখ হাসিনা বলেন, গ্রেনেড হামলার পর চারদিকে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে একজন বিচারককে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করেছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামাত জোট। সেই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা’ এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে! তিনি বলেন, পাশের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এসে দিনেদুপুরে এভাবে এত গ্রেনেড যদি শহরের ভেতরে মেরে যেতে পারে, তাহলে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থারা কী করছিল? তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল? তাহলে তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে কীভাবে? আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সশস্ত্র বাহিনী, আমাদের বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি), আমাদের পুলিশÑ তারা কী করছিল? এভাবে তারা (তৎকালীন সরকার) সমস্ত দৃষ্টিটা অন্যদিকে ঘোরাবার চেষ্টা করল।
সেদিন আহতদের চিকিৎসা নিতেও যে বাধা দেয়া হয়েছিল, সে-কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিএনপিমনা ডাক্তার, তারা কেউ মেডিকেল কলেজে ছিল না। জালাল (ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন) সেটা আমাকে বলল। আর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আহতকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বলেছে এখানে ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসা নিতে পারবে না। সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিএনপিমনা কোনো একটা ডাক্তারও সেদিন চিকিৎসা করেনি। আমাদের ডাক্তার রোকেয়া সেদিন আইভি রহমানসহ প্রায় ৭০ জনকে নিজে একা অ্যানেসথেসিয়া দিয়েছে। এমনকি গ্রেনেড হামলায় নিহতদের লাশ মেডিকেল কলেজ থেকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিতেও গড়িমসি করা হচ্ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে ঘিরে থাকলে কর্তৃপক্ষ ভোররাতে লাশ দিতে বাধ্য হয়।
সে-সময় বিএনপি-জামাত জোট সরকারের নানা ‘অপতৎপরতার’ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরে আমি শুনেছি, ওখানে ডিজিএফআইয়ের একটা অফিসার না-কি ছিল ডিউটিরত। যখন এই গ্রেনেড হামলা হয়, সে হেডকোয়ার্টারে ফোন করে। তখন তাকে ধমক দেয়া হয়। আর দু-একজন পুলিশ অফিসার, তারা ওখানে ছিল। তারা জানত না। তারা হয়তো পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফোন করেছে। তাদেরকেও ধমক দিয়ে বলা হয়Ñ এগুলো তোমাদের দেখা লাগবে না। তোমরা ওখানে কী কর? সরে যাও। তখন এসব কারা করেছে?
গ্রেনেড হামলার পর সংসদে ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলতেও বাধা দেয়া হয়েছিল, সে ঘটনাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা শোক প্রস্তাব সংসদে আমরা দিতে চাইলাম, সেটা প্রত্যাখ্যান করা হলো, নিল না। আমরা যারা কথা বলতে চেয়েছি, আমাদের কোনো মাইক দেয়া হলো না। খালেদা জিয়া নিজে দাঁড়িয়ে বললÑ ‘উনাকে (শেখ হাসিনা) আবার কে মারবে? উনি তো নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে!’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় সংসদে দাঁড়িয়ে জবাবে আমি বললাম, আমার হাতে তো কোনো ভ্যানিটি ব্যাগও ছিল না, কিছুই ছিল না। আর আমি কবে এই আর্জেস গ্রেনেড মারায় এক্সপার্ট হয়ে গেলাম তা তো জানি না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কি সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম ওখানে? আইভি রহমানসহ সবাইকে না-কি আমি গ্রেনেড হামলা করে মেরেছি! এই ধরনের কথা বলেন তিনি (খালেদা জিয়া)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গণতন্ত্রের কথা বলে, সেদিন (২১ আগস্ট) একটা দেশে যে ঘটনা ঘটল এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? প্রকাশ্য দিবালোকে একটা জনসভায় যারা আর্জেস গ্রেনেড মারতে পারে? ঘটনার আলামত ধ্বংস করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার পর সেখানে যে রক্ত, পায়ের জুতা, মানুষের সব কিছু পড়ে আছে। সেখানে একটা গ্রেনেড তখনও ফাটেনি। সেই গ্রেনেডটাও পড়ে আছে সেখানে। সেটা যখন উদ্ধার করা হলো, একজন আর্মি অফিসার সে নিয়ে বলল, এটাকে তো রাখতে হবে আলামত হিসেবে। তাকে ধমক দেয়া হলো। তার ওপর অনেক নির্যাতনও করেছে, কেন সে এই কথা বলল। পরে সেই গ্রেনেডটাও ধ্বংস করে দেয়া হলো। সব আলামত ধ্বংস করতে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি দিয়ে পানি ছিটিয়ে সব ধোয়া শুরু করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলো। আমরা সেটার প্রতিবাদ করলাম। সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ডাকলাম। মুক্তাঙ্গনে সভা হওয়ার কথা ছিল, অনুমতি দেয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আওয়ামী লীগ অফিসের সামনেই করব। পোস্টার করা হলো, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আমরা দিলাম। কিন্তু তারা (সরকার) মধ্যরাতে মুক্তাঙ্গনে করার অনুমতি দিল। তখনই সন্দেহ হলো কেন এত রাতে অনুমতি দিল? তাছাড়া আমাদের সমাবেশ করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে আর্জেস গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করবে, তা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশ্ন রেখে বলেন, গ্রেনেড হামলায় মানুষ মারা কোন ধরনের গণতন্ত্র ছিল? যদিও এর আগেই খালেদা জিয়া বক্তৃতা দিয়ে তার (শেখ হাসিনা) নাম ধরেই বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও কোনোদিন আমি হতে পারব না।’ এর আগে কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজির বোমা পুঁতে আমাকে হত্যা প্রচেষ্টার আগেও খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘১০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না!’
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, তারা গুম-খুনের কথা বলে। তাদের হারিছ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আরও কে কে গুম হয়েছে বলে বেড়ায়। পরে বিদেশে খোঁজ পাওয়া যায়। কেউ ভারতে, কেউ লন্ডনে তারা নিজেরা নিজেদের গুম করে রাখে। দুর্ভাগ্য, এটাও এদেশে ঘটে।
২১ আগস্টের কথা স্মরণ স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাবেশ শেষ করা মাত্র একজন ফটোগ্রাফার এসে তাদের ছবি নিতে অপারগতার কথা জানাতেই তিনি থমকে দাঁড়ালেন। মাইকটি তিনি হাত থেকে রাখতেও পারেননি তখনই গ্রেনেড হামলা শুরু হয়ে যায়। গ্রেনেড বিস্ফোরিত হবার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হানিফ ভাইসহ কয়েকজন ঘিরে ফেলেন। তিনি বারবার ওঠার চেষ্টা করলেও তারা শেখ হাসিনাকে ছাড়েননি এবং তার চশমাটি ছিটকে পড়ে যায়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, হামলার পরে আমি দেখলাম আমার গায়ে শুধু রক্ত আর রক্ত। অর্থাৎ ঐ যে গ্রেনেডের স্পিøন্টারগুলো সব এসে আঘাত করছে হানিফ ভাইয়ের মাথায় ও গায়ে। যেহেতু সে ধরে রেখেছে, তার রক্তে আমার শরীর ভেসে যাচ্ছে। ৩টি গ্রেনেড ফোটার পর কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার। মনে হচ্ছে যেন এর শেষ নেই, কেয়ামতের মতো। চারদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। জানি না আল্লাহ্ কীভাবে হাতে তুলে আমাকে বাঁচাল। আমার গায়ে একটাও স্পিøন্টার লাগেনি। কিন্তু আওয়াজে ডান দিকের কানে আর শুনতে পাচ্ছিলাম না।
তিনি আরও বলেন, যখন আমি গাড়িতে উঠতে যাব, দরজাটা খুলে মাহবুব দাঁড়ানো (২১ আগস্ট শহিদ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা), তখনই গুলি এলো এবং সেই গুলিতে মাহবুব মারা গেল। আরও কয়েকটি গুলি এসে গাড়িতেও লাগল (বুলেট প্রুফ গাড়ি)। তিনি বলেন, হামলার পর পুলিশ আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে না এসে বরং আক্রমণকারীদের রক্ষা করতে এবং রেসকিউ করতেই টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা না থাকলে এ-ধরনের ভয়াল গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারত না। তারা জড়িত ছিল বলেই আলামত ধ্বংস, খুনিদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা, জজ মিয়ার নাটকসহ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply