এআই, আইওটি ও রোবোটিকসে দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছি

উত্তরণ প্রতিবেদন: তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবার আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও রোবোটিকসে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে সিআরআই’র আয়োজনে ‘ডিজিটাল ফিউচার অন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ-কথা বলেন।
আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের আইসিটি বিভাগের এলআইসিটি প্রকল্প থেকে রোবোটিকস, আইওটি ও এআই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার এগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এ-বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষণ ও রিসার্চ ফ্যাসিলিটি করে দিলে এক্সপার্টিজের দিক থেকে আমরা অন্য দেশের চেয়ে এগিয়ে যাব। এসব বিষয় নতুন, খুব বেশি বিশেষজ্ঞ নেই। নিজেদের উদ্যোগে রিসার্চ করলে এসব সেক্টরে আমাদের সম্ভাবনা আছে। এ-সময় দেশেই সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘নগদ’কে ‘পরিচয়’ অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘১ মিনিটে নগদ অ্যাকাউন্ট’ চালুর সেবা উদ্বোধন করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এ-সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র এবং থার্ড ওয়েব টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে এক সময় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে ৩-১০ কর্মদিবস লাগত। দিন, ঘণ্টার ব্যবধান দূর করে মাত্র এক মিনিটে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা নিয়ে এসেছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা নগদ। পরিচয় অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নগদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক মিনিটের মধ্যে ফেস অথেনটিকেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করতে পারে। নগদের এই পদ্ধতির কারণে ভুয়া গ্রাহক শঙ্কা থাকবে না। দেশের সবচেয়ে কম ক্যাশ-আউট চার্জ এখন নগদে। প্রতি হাজারে নগদের ক্যাশ-আউট চার্জ ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। পাশাপাশি নগদ গ্রাহক প্রতি ১০০০ টাকা ক্যাশ-ইন করলে প্রতি হাজারে ৫ টাকা (০.৫%) ক্যাশ-ব্যাক দিচ্ছে। একই অনুষ্ঠানে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএলের ল্যান্ডফোনের সংযোগ ফি লাগবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযাগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেন, বিটিসিএল ল্যান্ডফোনে মাসিক ভাড়া ১৮০ টাকা আগেই তুলে দেওয়া হয়েছে ও ১৫০ টাকায় সারামাস কথার সুযোগ আগেই দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে যারা নতুন সংযোগ গ্রহণ করবেন এবং পুনঃসংযোগ নেবেন, তাদের কোনো ফি দিতে হবে না, তারা বিনামূল্যে সংযোগ নিতে পারবেন। ল্যান্ডফোনে সংযোগ ফি মওকুফের সুযোগ কতদিন থাকবে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামী এক বছর এ সুযোগ থাকবে এবং আজ থেকে কার্যকর হবে। তবে পুনঃসংযোগের ক্ষেত্রে বকেয়া দিতে হবে। আজকের সিদ্ধান্তের ফলে বহুজন এটাকে ব্যবহার করবে। এখন ল্যান্ডফোন থেকে মোবাইল ফোনে কথা বললে মাত্র ৫২ পয়সা খরচ হবে।

‘কিছু কিছু দূতাবাস বাংলাদেশে নতজানু সরকার চায়’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বাংলাদেশে অবস্থিত কিছু কিছু দূতাবাস এদেশে নতজানু সরকারকে ক্ষমতায় চায়, যারা তাদের হুকুম অনুসারে চলবে। ঐ সকল দেশের সরকার নয়, বরং ঐ দেশগুলোর এখানে থাকা দূতাবাসগুলো এ-ধরনের ষড়যন্ত্রে অংশ নিচ্ছে। গত ২৫ অক্টোবর ‘ইয়াং বাংলা উইথ সজীব ওয়াজেদ’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ-কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভি প্রচার করে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশের ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ নিয়ে বেশ কিছু দূতাবাস কথা বলেছে দেখছি। এই সুনির্দিষ্ট কিছু দূতাবাস সব সময় আমাদের সবক দেওয়ার চেষ্টা করে। যখনই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভালোর দিকে যাচ্ছে, তখনই কিছু কিছু শ্রেণি কিছু কিছু দূতাবাস (ষড়যন্ত্র করে)। আমি দেশের কথা বলব না শুধু এদেশে থাকা তাদের দূতাবাস এখানে বসে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে। বিশেষত মার্কিন দূতাবাস। আর তাদের উদ্দেশ্য কী? তারা কিন্তু একটি শক্তিশালী সরকার চায় না। তারা চায় একটা ছোটখাটো সরকার থাকবে, যাদের তারা হুকুম করবে আর সেই সরকার দূতাবাসের হুকুমে চলবে।
তিনি তার অভিজ্ঞতা উপস্থিত তরুণদের সঙ্গে জানাতে গিয়ে বলেন, যখনই মার্কিন দূতাবাসের কোনো অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছি, ওখানে জামাত এবং যুদ্ধাপরাধী থাকবেই। তারা (মার্কিন দূতাবাস) দাওয়াত করবেই। মার্কিন দূতাবাস হয়ে গেছে জামাতের ঘাঁটি, যুদ্ধাপরাধীদের ঘাঁটি। আর তারা এদের সঙ্গে মিলে সব সময় ষড়যন্ত্র করতে থাকে। আমরা কি চাই এমন একটা নতজানু সরকার, যারা দূতাবাসের হুকুম অনুসারে চলবে, এমন সরকার কি আমরা চাই? অনুষ্ঠানে তরুণদের দেশ গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শোনেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে থাকা তরুণদের দেশ গঠনের পথে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন বাধা এবং সেই বাধা উতরে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরামর্শও গ্রহণ করেন তিনি।

‘ই-গভর্ন্যান্স সূচকে শীর্ষ ৫০-এ আসব’
জাতিসংঘ ডিজিটাল ই-গভর্ন্যান্স সূচকে বাংলাদেশ শীর্ষ ৫০-এ আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ইনডেক্সের ১১৫ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫০ ধাপ উন্নতি করে দুই অঙ্কে আসব আমরা। এটাই আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা। ২০ অক্টোবর রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে ই-গভর্ন্যান্স মাস্টারপ্ল্যান রিপোর্ট প্রকাশ ও এটুআইয়ের ৩টি নাগরিকসেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিসংঘের আইসিটি ইন্ডিকেটর ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ইনডেক্সের সেরা ৫০-এর মধ্যে আসতে চাই আমরা। গত কয়েক বছরে আমরা ৪০-৫০ ধাপ এগিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা কেন আরও ৫০ ধাপ এগোব না? এই উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে অনলাইনে সরকারি সেবাপ্রাপ্তি, বিল পরিশোধ ও গ্রামীণ উৎপাদনকারীর পণ্য শহরের ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মিউনিসিপ্যালিটি সার্ভিসেস সিস্টেম একপে, একসেবা ও একশপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply