‘আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ১১ লাখ রোহিঙ্গা’

‘এই ডায়ালগে যেসব সুপারিশ করা হবে তা এ-অঞ্চলের প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, সহযোগিতা জোরদারে এবং সর্বোপরি এ-অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। এতে অর্জিত সাফল্য থেকে এই অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোও শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং উপকৃত হবে, এই আমার বিশ্বাস।’

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত এই সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাটা জরুরি। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
গত ১১ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ-অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ-অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গেলে আমি মনে করি এই সমস্যার (রোহিঙ্গা) আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টা অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। আর বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এ-অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক।
এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পরও সংঘাতে না জড়িয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমরা তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে ঝগড়া করছি না। বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মিয়ানমারকে সহযোগিতার চেষ্টা করছি। এই সমস্যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)’ তিন দিনব্যাপী এই যৌথভাবে ডায়ালগের আয়োজন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সামির স্মরণ এবং বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আবদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা ও পরিবেশিত হয়। বৈশ্বিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও ধারণা বিনিময়ের এই আয়োজনে ৫০ দেশের দেড় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে, পরস্পরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বা ‘জিরো-সাম গেম’ বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের ‘নীল অর্থনীতি’ বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা এ-অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। আমি আরও মনে করি, সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে ‘নীল অর্থনীতির’ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক।
এ-অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পদাঙ্ক- ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মেনে চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথেই আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদকপাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মাছসহ সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ও নানাবিধ দূষণ এই এলাকার সামুদ্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। শুধু বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর নয়, বিশ্বের সব সাগর-মহাসাগরই আজ এ-ধরনের বহুবিধ সমস্যায় আক্রান্ত।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবছর বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোয় যোগ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য। দূষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। তিনি বলেন, শেখ এসব সমস্যা সমাধানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করার জন্য আমি সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ মনে করে, এই সহযোগিতা হতে হবে সবার অংশগ্রহণমূলক ও সবার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেমনিভাবে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-১৯’ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, এই ডায়ালগে যেসব সুপারিশ করা হবে তা এ-অঞ্চলের প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, সহযোগিতা জোরদারে এবং সর্বোপরি এ-অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। এতে অর্জিত সাফল্য থেকে এই অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোও শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং উপকৃত হবে, এই আমার বিশ্বাস।
এই অঞ্চলের দেশগুলোর ‘কমন এনিমি’ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু। কাজেই আমাদের সকল কাজের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের দারিদ্র্য দূর করে তাদের সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করা। জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে এর প্রভাবে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এর ফলে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদী ভাঙনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ সঙ্গে নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হয়।
তার সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠনসহ বেশ কিছু অভিযোজন ও প্রশমনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শতবর্ষব্যাপী ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১’ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ একটা ব-দ্বীপ। তাই এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ও যথাযথ ব্যবহার করার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য।
ভৌগোলিক কারণে ভারত মহাসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্থান দিয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে, যা এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিসমূহের জ্বালানি ও রসদের জোগান দেয়। বিশ্বের কন্টেনার শিপমেন্টের অর্ধেক এবং সমুদ্রবাহিত তেল বাণিজ্যের শতকরা ৮০ ভাগ অতিক্রান্ত হয় ভারত মহাসাগর দিয়ে। বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের শতকরা ১৬ দশমিক ৮ ভাগ ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের শতকরা ২৭ দমমিক ৯ ভাগ এই মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন সাগরসমূহে অবস্থিত। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে সারাবিশে^র শতকরা ২৮ ভাগ মৎস্য আহরিত হয়। এই বিপুল সম্পদের উৎস ও কৌশলগত কারণে ভারত মহাসাগর বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিবেচনায় বর্তমান শতক ‘এশিয়ার শতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধির স্বার্থে শান্তি-সৌহার্দ্য বজায় রাখা আবশ্যক। বাংলাদেশের বহির্বাণিজ্যের শতকরা ৯০ ভাগই সমুদ্রপথে হয়ে থাকে। এই সমুদ্র বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সমুদ্রসীমার বিশাল এলাকা বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্পদের উৎস। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই সম্পদের সদ্ব্যবহার অনেকাংশে নির্ভর করে এ-অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর। তিনি বলেন, গ্যাস ছাড়াও ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিপুল মৎস্য, খনিজ ও অন্যান্য সম্পদ আছে। সুষ্ঠু ও পরিবেশসম্মত পরিকল্পনা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সম্পদ এই এলাকার দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ তার সমগ্র ভূ-খণ্ডে যে পরিমাণ সম্পদ উৎপাদন করে, তার প্রায় সমপরিমাণ সম্পদ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্য থেকে আহরণ করা সম্ভব। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত মহাসাগরকে ঘিরে মোট ৪০ উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান। সেখানে বাস করে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আছে ছয় দেশ। আরও কয়েকটি দেশ যেমন নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যদিও বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত নয়, তবুও তাদের অর্থনীতিতে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী ও নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনীতি ও তাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন এই সাগর ও মহাসাগর দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই সাগর ও মহাসাগরের সম্পদ, পরিবেশ, বাস্তুসংস্থান সরাসরি এই দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply